Al-Isra
আল-ইসরা: 63
17 আল-ইসরা Al-Isra · 111 আয়াত الإسراء
মূল আরবি
قَالَ ٱذْهَبْ فَمَن تَبِعَكَ مِنْهُمْ فَإِنَّ جَهَنَّمَ جَزَآؤُكُمْ جَزَآءً مَّوْفُورًا
English Translations
[Allāh] said, "Go, for whoever of them follows you, indeed Hell will be the recompense of [all of] you - an ample recompense.
(Allah) said: "Go, and whosoever of them follows you, surely! Hell will be the recompense of you (all) an ample recompense.
He (Allah) said, “Go then, for whoever of them follows you, the Hell shall be the recompense of you all, a full recompense.
Thereupon He retorted: "Be gone! Hell shall be the recompense - and a most ample one - of whosoever of them who follows you.
He said: Go, and whosoever of them followeth thee - lo! hell will be your payment, ample payment.
(Allah) said: "Go thy way; if any of them follow thee, verily Hell will be the recompense of you (all)- an ample recompense.
বাংলা অনুবাদ
আল্লাহ বললেন, ‘যাও, তাদের মধ্যে যারা তোমাকে মেনে চলবে, জাহান্নামই হবে তোমাদের সকলের প্রতিফল, পূর্ণ প্রতিফল।
তিনি বললেন, ‘যাও, অতঃপর তাদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে, জাহান্নামই হবে তোমাদের প্রতিদান, পূর্ণ প্রতিদান হিসেবে’।
(আল্লাহ) বললেনঃ যা, জাহান্নামই তোর এবং তাদের সম্যক শাস্তি যারা তোর অনুসরণ করবে।
আল্লাহ্ বললেন, ‘যাও, অতঃপর তাদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে, নিশ্চয়ই জাহান্নামই হবে তোমাদের সবার প্রতিদান, পূর্ণ প্রতিদান হিসেবে।
আল্লাহ বললেন: ‘যাও, তাদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে, জাহান্নামই হবে তোমাদের সকলের প্রতিফল, এটাই পূর্ণ প্রতিদান।
৬৩. তখন তার প্রতিপালক তাকে বললেন: তুমি ও তোমার অনুসারীরা চলে যাও। যা মনে চায় তোমরা তাই করো। তবে জাহান্নামই হবে তোমার ও তাদের প্রতিদান। আর এটাই হবে তোমাদের আমলের পরিপূর্ণ যথেষ্ট প্রতিদান।
তাফসীর
৬৩-৬৫ নং আয়াতের তাফসীর ইবলীস আল্লাহ তাআলার কাছে অবকাশ চায়, তিনি তা মঞ্জুর করে নেন। ইরশাদ হয়ঃ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তোকে অবকাশ দেয়া হলো। তোর ও তোর অনুসারীদের দুষ্কর্যের প্রতিফল হচ্ছে জাহান্নাম, যা পূর্ণ শাস্তি। তোর আহবান দ্বারা তুই যাকে পারিস বিভ্রান্ত কর অর্থাৎ গান, তামাশা দ্বারা তাদেরকে বিপথগামী করতে থাক। যে কোন শব্দ আল্লাহ তাআলার অবাধ্যতার দিকে আহ্বান করে সেটাই শয়তানী শব্দ। অনুরূপভাবে তুই তোর পদাতিক ও অশ্বারোহী বাহিনী দ্বারা যার উপর পারিস আক্রমণ চালা। শব্দটি শব্দের বহুবচন। যেমন শব্দের বহুবচন এবং শব্দের বহু বচন এসে থাকে।
ভাবার্থ হচ্ছেঃ হে শয়তান! তোর সাধ্যমত তুই তাদের উপর তোর আধিপত্য ও ক্ষমতা প্রয়োগ কর। এটা হলো আমরে কী, নিদের্শ সূচক আমর নয়। শয়তানদের অভ্যাস এটাই যে, তারা আল্লাহর বান্দাদেরকে উত্তেজিত ও বিভ্রান্ত করতে থাকে। তাদেরকে পাপকার্যে উৎসাহিত করে। আল্লাহ তাআলার অবাধ্যতার কাজে যে ব্যক্তি সওয়ারীর উপর চলে বা পদব্রজে চলে সে শয়তানের সেনাবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত। এইরূপ মানবও রয়েছে এবং দানবও রয়েছে; যারা শয়তানের অনুগত। যখন কারো উপর শব্দ উঠানো হয় বা কাউকে আহবান করা হয় তখন আরববাসী বলেঃ (আরবি) অর্থাৎ অমুক ব্যক্তি অমুক ব্যক্তিকে সশব্দে আহবান করেছে।
আল্লাহ তাআলার এই নিদের্শ এখানে এই অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। এটা ঘোড়া দৌড়ের ‘জালব’ নয়। ওটাও এর থেকেই নির্গত হয়েছে (আরবি) শব্দটিও এর থেকেই বের হয়েছে। অর্থাৎ শব্দ উচ্চ হওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ হে ইবলীস! তুই তাদের ধন-মালে ও সন্তানসন্ততিতেও শরীক থাক। অর্থাৎ তুই তাদেরকে তাদের মাল আল্লাহর অবাধ্যতার কাজে খরচ করাতে থাক। যেমন তারা সূদ খাবে, হারাম উপায়ে মাল জমা করবে এবং হারাম কাজে তা ব্যয় করবে। হালাল জন্তুগুলিকে তারা হারাম করে নেবে ইত্যাদি। আর সন্তান সন্ততিতে তার শরীক হওয়ার অর্থ হলোঃ যেমন ব্যভিচারের মাধ্যমে সন্তানের জন্ম হওয়া, বাল্যকালে অজ্ঞতা বশতঃ পিতা-মাতারা তাদের সন্তানকে জীবন্ত প্রোথিত করা, তাদের ইয়াহূদী, খৃস্টান, মাজুসী ইত্যাদি বানিয়ে দেয় সন্তানদের নাম আবদুল হারিস, আবদুশশামস, আবদে ফুলান (অমুকের দাস) ইত্যাদি রাখা।
মোট কথা, যে কোন ভাবে শয়তানকে তাতে সঙ্গী করে নিলো। এটাই হচ্ছে সন্তান-সন্ততিতে শয়তানের শরীক হওয়া।সহীহ মুসিলমে বর্ণিত আছে যে, মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ “আমি আমার বন্দাদেরকে একনিষ্ঠ একত্ববাদী করে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর শয়তান এসে তাদেরকে বিভ্রান্ত করে দেয় এবং হালাল জিনিসগুলিকে তারা হারাম বানিয়ে নেয়।সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমাদের কেউ যখন তার স্ত্রীর কাছে যাওয়ার ইচ্ছা করবে তখন যেন সে পাঠ করেঃ (আরবি) অর্থাৎ “হে আল্লাহ! আমাদেরকে আপনি শয়তান হতে রক্ষা করুন এবং তাকেও শয়তান হতে রক্ষা করুন যা আপনি আমাদেরকে দান করবেন।” এর ফলে যদি কোন সন্তান আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে টিকে যায়, তবে শয়তান কখনো তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।”এরপর আল্লাহ তাআলা বলেনঃ হে শয়তান!
যা, তুই তাদেরকে মিথ্যা ওয়াদা-অঙ্গীকার দিতে থাক। কিয়ামতের দিন এই শয়তান তার অনুসারীদেরকে বলবেঃ “আল্লাহ তাআলার ওয়াদা ছিল সব সত্য, আর আমার ওয়াদা ছিল সব মিথ্যা।” তারপর মহান আল্লাহ বলেনঃ “আমীর মু'মিন বান্দারা আমার রক্ষণাবেক্ষণে রয়েছে। আমি তাদেরকে বিতাড়িত শয়তান হতে রক্ষা করতে। থাকবো। আল্লাহর কর্মবিধান, তাঁর হিফাযত, তাঁর সাহায্য এবং তার পৃষ্ঠপোষকতা তাঁর মুমিন বান্দাদের জন্যে যথেষ্ট।মুসনাদে আহমাদে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ ‘মু'মিন শয়তানকে এমনভাবে আয়ত্তাধীন করে ফেলে যেমন কেউ কোন জন্তুকে লাগাম লাগিয়ে দিয়ে আয়ত্তাধীন করে থাকে।”
আল্লাহ্ বললেন, ‘যাও, অতঃপর তাদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে, নিশ্চয়ই জাহান্নামই হবে তোমাদের সবার প্রতিদান, পূর্ণ প্রতিদান হিসেবে।
[সূরা আল-ইসরা (১৭): আয়াত ৬৩] পূর্ণ পৃষ্ঠা
(অতঃপর তারা ইবলীস ব্যতীত সবাই সিজদা করল; সে বলল, ‘আমি কি তাকে সিজদা করব যাকে আপনি মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন?’) অর্থাৎ মাটি থেকে। আর এটি একটি অস্বীকৃতিসূচক প্রশ্ন। আদম (আলাইহিস সালাম)-এর সৃষ্টি সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা সূরা আল-বাকারাহ ও আল-আনআমে ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। (সে বলল, ‘আপনি কি মনে করেন?’) অর্থাৎ ইবলীস বলল। আর এখানে ‘কাফ’ অক্ষরটি সম্বোধনের জন্য তাকিদ (দৃঢ়তা) স্বরূপ। (এই সেই ব্যক্তি যাকে আপনি আমার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন) অর্থাৎ আপনি তাকে আমার ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। সে আগুনের সারসত্তাকে মাটির সারসত্তার চেয়ে উত্তম মনে করেছিল এবং সে জানত না যে সকল সারসত্তা মূলত সদৃশ।
আর এই আলোচনাটি আল-আরাফে ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। আর এখানে "হাযা" (এই) শব্দটি "আ-রাআইতাকা" ক্রিয়া দ্বারা মানসুব (কর্মকারক) হয়েছে এবং "আল্লাযী" (যাকে) তার বিশেষণ। আর "ইকরাম" (সম্মান প্রদান) হলো প্রশংসনীয় সকল গুণের একটি সমষ্টিবাচক নাম। এখানে বাক্যের একটি অংশ উহ্য রয়েছে, যার মর্মার্থ হলো: "আমাকে এই ব্যক্তি সম্পর্কে সংবাদ দিন যাকে আপনি আমার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন; কেন তাকে শ্রেষ্ঠত্ব দিলেন অথচ আমাকে আপনি আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন আর তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন?" শ্রোতার জানা থাকার কারণে তা উহ্য রাখা হয়েছে। আবার বলা হয়েছে: এখানে কোনো কিছু উহ্য মানার প্রয়োজন নেই; বরং এর অর্থ হলো—আপনি কি দেখছেন এই ব্যক্তিকে যাকে আপনি আমার ওপর সম্মানিত করেছেন?
আমি অবশ্যই তার সাথে এমন এমন আচরণ করব। ইবনে আব্বাসের মতে (আমি অবশ্যই তাদের ওপর কর্তৃত্ব স্থাপন করব) শব্দটির অর্থ হলো: আমি অবশ্যই তাদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করব। আল-ফাররাও অনুরূপ কথা বলেছেন। মুজাহিদ বলেন: আমি অবশ্যই তাদেরকে পরিবেষ্টন করে ফেলব। ইবনে যায়েদ বলেন: আমি অবশ্যই তাদেরকে পথভ্রষ্ট করব। এই অর্থগুলো পরস্পর নিকটবর্তী, অর্থাৎ—আমি প্রলোভন ও পথভ্রষ্টতার মাধ্যমে তার বংশধরদের সমূলে নির্মূল করব এবং তাদের ধ্বংস করব। আরবদের থেকে বর্ণিত আছে: পঙ্গপাল যখন শস্যক্ষেতের সমস্ত শস্য খেয়ে শেষ করে ফেলে, তখন তারা "ইহতানাকিল জারাদুয যারআ" শব্দটি ব্যবহার করে।
আবার বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো—আমি অবশ্যই তাদেরকে যেখানে ইচ্ছা চালিত করব এবং যেদিকে চাইব নিয়ে যাব। এটি তাদের এই প্রবাদ থেকে এসেছে: "আমি ঘোড়ার গালে লাগাম পরিয়েছি" যখন ঘোড়ার মুখে লাগাম লাগানো হয়। প্রথম অভিমতটি এর কাছাকাছি, কারণ পঙ্গপাল মূলত তার তালু বা মুখ গহ্বর দিয়েই শস্য সাবাড় করে। জনৈক কবি বলেছেন:আমি আপনার নিকট এমন এক দুর্ভিক্ষের অভিযোগ করছি যা আমাদের ওপর সীমালঙ্ঘন করেছে … কষ্টের ওপর কষ্ট চাপিয়ে আমাদের দুর্বল করে দিয়েছে।তা আমাদের ধন-সম্পদ গ্রাস করেছে এবং সবকিছু মূলোৎপাটন করেছে। (সামান্য কয়েকজন ব্যতীত) অর্থাৎ যারা সংরক্ষিত (নিষ্পাপ); তাঁরাই যাদের কথা আল্লাহ তাঁর এই বাণীতে উল্লেখ করেছেন: "নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের ওপর তোমার কোনো আধিপত্য নেই।" ইবলীস মূলত ধারণার বশবর্তী হয়ে একথা বলেছিল, যেমনটি আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আর ইবলীস তাদের ব্যাপারে তার ধারণা সত্য প্রমাণ করল।" অথবা সে মানুষের প্রকৃতি থেকে এটি বুঝতে পেরেছিল যে তাদের মধ্যে কুপ্রবৃত্তির সংমিশ্রণ রয়েছে, অথবা সে ফেরেশতাদের সেই উক্তির ওপর ভিত্তি করে এটি বলেছিল: "আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে?" হাসান বসরী বলেন: সে এই ধারণা করেছিল কারণ সে আদম (আলাইহিস সালাম)-কে প্ররোচনা দিয়েছিল এবং তাঁর মধ্যে কোনো দৃঢ় সংকল্প খুঁজে পায়নি।
[সূরা আল-ইসরা (১৭): আয়াত ৬৩]আল্লাহ বললেন, ‘তুমি যাও; অতঃপর তাদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে, তবে নিশ্চয়ই জাহান্নামই হবে তোমাদের সকলের প্রতিফল—এক পূর্ণাঙ্গ প্রতিফল।’ (৬৩)(১). দেখুন: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৬১, ২৭৯ এবং খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ১৬৮ ও ১৭১।(২). দেখুন: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৬১, ২৭৯ এবং খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ১৬৮ ও ১৭১।(৩). অর্থাৎ শেষ করে দিয়েছে বা গ্রাস করেছে।(৪). দেখুন: খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ২৯১।(৫). দেখুন: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৬১, ২৭৯ এবং খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ১৬৮ ও ১৭১।
