Al-Isra
আল-ইসরা: 67
17 আল-ইসরা Al-Isra · 111 আয়াত الإسراء
আরবি
وَإِذَا مَسَّكُمُ ٱلضُّرُّ فِى ٱلْبَحْرِ ضَلَّ مَن تَدْعُونَ إِلَّآ إِيَّاهُ ۖ فَلَمَّا نَجَّىٰكُمْ إِلَى ٱلْبَرِّ أَعْرَضْتُمْ ۚ وَكَانَ ٱلْإِنسَـٰنُ كَفُورًا
English Translations
And when adversity touches you at sea, lost are [all] those you invoke except for Him. But when He delivers you to the land, you turn away [from Him]. And ever is man ungrateful.
And when harm touches you upon the sea, those that you call upon besides Him vanish from you except Him (Allah Alone). But when He brings you safely to land, you turn away (from Him). And man is ever ungrateful.
you face a hardship at sea, vanished are those whom you used to invoke, except Him (Allah). Then, once He brings you safe to the land, you turn away (from Him); man is so ungrateful.
When a calamity befalls you on the sea, all those whom you invoke forsake you except Him. But when He delivers you safely to the shore you turn away from Him, for man is indeed most thankless.
And when harm toucheth you upon the sea, all unto whom ye cry (for succour) fail save Him (alone), but when He bringeth you safe to land, ye turn away, for man was ever thankless.
When distress seizes you at sea, those that ye call upon - besides Himself - leave you in the lurch! but when He brings you back safe to land, ye turn away (from Him). Most ungrateful is man!
বাংলা অনুবাদ
সমুদ্রে যখন বিপদ তোমাদেরকে পেয়ে বসে, তখন তাঁকে ছাড়া অন্য যাদেরকে তোমরা (উপাস্য ভেবে) আহবান কর তারা (তখন তোমাদের মন থেকে) হারিয়ে যায়। অতঃপর তিনি যখন তোমাদেরকে স্থলে এনে বাঁচিয়ে দেন, তখন তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও। মানুষ হল বড়ই অকৃতজ্ঞ।
আর যখন তোমাদেরকে সমুদ্রে বিপদ স্পর্শ করে, তখন তিনি ছাড়া যাদেরকে তোমরা ডাক, তারা (তোমাদের মন থেকে) হারিয়ে যায়; অতঃপর তিনি যখন তোমাদেরকে রক্ষা করে স্থলে আনেন, তখন তোমরা বিমুখ হয়ে যাও। আর মানুষ তো খুব অকৃতজ্ঞ।
সমুদ্রে যখন তোমাদেরকে বিপদ স্পর্শ করে তখন শুধু তিনি ছাড়া অপর যাদেরকে তোমরা আহবান কর তারা তোমাদের মন হতে উধাও হয়ে যায়। অতঃপর তিনি যখন স্থলে ভিড়িয়ে তোমাদেরকে উদ্ধার করেন তখন তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও; বস্তুতঃ মানুষ বড়ই অকৃতজ্ঞ।
আর সাগরে যখন তোমাদেরকে বিপদ স্পর্শ করে তখন শুধু তিনি ছাড়া অন্য যাদেরকে তোমরা ডেকে থাক তারা হারিয়ে যায়; অতঃপর তিনি যখন তোমাদেরকে উদ্ধার করে স্থলে আনেন তখন তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও। আর মানুষ খুবই অকৃতজ্ঞ।
সমুদ্রে যখন তোমাদেরকে বিপদ স্পর্শ করে তখন কেবল তিনি ব্যতীত অপর যাদেরকে তোমরা আহ্বান করে থাক তারা অন্তর্হিত হয়ে যায়; অতঃপর তিনি যখন তোমাদেরকে উদ্ধার করে স্থলে আনেন তখন তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও। মানুষ অতিশয় অকৃতজ্ঞ।
৬৭. হে মুশরিকরা! সাগরে তোমাদের কোন বিপদাপদ ঘটলে যখন তোমরা নিজেদের ধ্বংসের আশঙ্কা করো তখন আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের ইবাদাত করতে তারা তোমাদের অন্তর থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় এবং তোমরা একমাত্র আল্লাহকে স্মরণ করে তাঁর নিকটই ফরিয়াদ করে থাকো। অতঃপর যখন তিনি তোমাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থা থেকে রক্ষা করে নিরাপদে পৌঁছিয়ে দেন এবং তোমরা স্থলভাগে পৌঁছে যাও তখন তোমরা তাঁর তাওহীদ ও তাঁকে এককভাবে ডাকা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে তোমাদের মূর্তিগুলোর দিকে ফিরে যাও। বস্তুতঃ মানুষ আল্লাহর নিয়ামতসমূহকে সহসাই অস্বীকারকারী।
তাফসীর
আল্লাহ তাবারাক ওয়া তাআলা বলছেনঃ বান্দা বিপদের সময় তো আন্তরিকতার সাথে তাদের প্রতিপালকের দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং অনুনয় বিনয়ের সূরে তাঁর কাছেই প্রার্থনা করে থাকে। কিন্তু যখনই মহান আল্লাহ তাদেরকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করেন, তখনই সে মুখ ফিরিয়ে নেয়। মক্কা বিজয়ের সময় যখন আবু জেহেলের পুত্র ইকরামা (রাঃ) আবিসিনিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছায় বেরিয়ে পড়েন এবং একটি নৌকায় আরোহণ করেন তখন ঘটনাক্রমে সমুদ্রে ঝড় তুফান শুরু হয়ে যায় এবং প্রতিকূল বায়ু নৌকাকে পাতার মত হেলাতে থাকে। ঐ সময় ঐ নৌকায় যত কাফির ছিল তারা একে অপরকে বলতে থাকেঃ “এই সময় আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ কোনই উপকার করতে পারবে না। সুতরাং এসো, আমরা তাকেই ডাকি।” তৎক্ষণাৎ ইকরামার (রাঃ) মনে খেয়াল জাগলো যে, সমুদ্রে যখন একমাত্র তিনিই উপকার করতে পারেন ,তখন এটা স্পষ্ট কথা যে, স্থলেও তিনি উপকারে লাগবেন। তখন তিনি প্রার্থনা করতে লাগেনঃ “হে আল্লাহ! আমি অঙ্গীকার করছি যে, যদি আপনি আমাকে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করেন তবে আমি সরাসরি গিয়ে মুহাম্মদের (সঃ) হাতে হাত দিবো। নিশ্চয়ই তিনি আমার উপর দয়া করবেন।” অতঃপর সমুদ্র পার হয়েই তিনি সরাসরি রাসূলুল্লাহর (সঃ) খিদমতে গিয়ে হাজির হন এবং ইসলাম গ্রহণ করেন। পরবর্তী কালে তিনি ইসলামের একজন বড় বীর পুরুষরূপে খ্যাতি লাভ করেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন ও তাঁকে সন্তুষ্ট রাখুন।তাই মহান আল্লাহ বলেনঃ “তোমাদের অভ্যাস তো এই যে, সমুদ্রে যখন তোমরা বিপদে পতিত হও, তখন আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য মাবূদদেরকে তোমরা ভুলে যাও এবং আন্তরিকতার সাথে একমাত্র আল্লাহকেই ডাকতে থাকো। কিন্তু যখনই তিনি ঐ বিপদ সরিয়ে দেন তখনই তোমরা আবার অন্যদের কাছে প্রার্থনা শুরু করে দাও। সত্যি মানুষ বড়ই অকৃতজ্ঞ যে, সে আল্লাহর নিয়ামত রাশির কথা ভুলে যায়, এমন কি অস্বীকার করে বসে। হাঁ, তবে আল্লাহ তাআ’লা যাকে বাঁচিয়ে নেন ও ভাল হওয়ার তাওফীক দান করেন সে ভাল হয়ে যায়।”
আর সাগরে যখন তোমাদেরকে বিপদ স্পর্শ করে তখন শুধু তিনি ছাড়া অন্য যাদেরকে তোমরা ডেকে থাক তারা হারিয়ে যায় [১]; অতঃপর তিনি যখন তোমাদেরকে উদ্ধার করে স্থলে আনেন তখন তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও। আর মানুষ খুবই অকৃতজ্ঞ।
[১] অর্থাৎ যখন বিপদাপদ দেখা দেয়। তখন তারা আল্লাহ ছাড়া অন্য যাদের ইবাদত করে তাদেরকে ভুলে যায়। তারা তখন তাদের মন থেকে হারিয়ে যায়। একমাত্র আল্লাহকেই তারা ডাকতে থাকে। মক্কা বিজয়ের পর ইকরিমা ইবন আবি জাহল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পালিয়ে হাবশা চলে যাচ্ছিল। সাগরের মাঝে তার নৌকা প্ৰচণ্ড ঝড়ের কবলে পড়ে যায়। তখন নৌকার সবাই একমাত্র আল্লাহকে ডাকার জন্য একে অপরকে পরামর্শ দিতে থাকে। আর ঠিক তখনি ইকরিম নিজ মনে বলছিল যে, যদি সাগর বক্ষে আল্লাহ ব্যতিত আর কেউ রক্ষা করার না থাকে তা হলে ডাঙ্গাতেও তিনিই একমাত্র রক্ষক। হে আল্লাহ! আমি অঙ্গীকার করছি যে, যদি এ বিপদ থেকে বেঁচে যাই। তবে অবশ্য ফিরে গিয়ে মুহাম্মাদের হাতে হাত রেখে ঈমান আনিব। তাকে আমি অবশ্যই রহমদিল পাব। তারপর তারা যখন সমুদ্র বক্ষ থেকে বের হলো তখনি তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ফিরে আসলেন এবং ঈমান আনলেন। আর তার ইসলাম ছিল অত্যন্ত সুন্দর। [মুস্তাদরাকে হাকেমঃ ৩/২৪১-২৪২]
