Al-Isra
আল-ইসরা: 79
17 আল-ইসরা Al-Isra · 111 আয়াত الإسراء
মূল আরবি
وَمِنَ ٱلَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِۦ نَافِلَةً لَّكَ عَسَىٰٓ أَن يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَّحْمُودًا
English Translations
And from [part of] the night, pray with it [i.e., recitation of the Qur’ān] as additional [worship] for you; it is expected that your Lord will resurrect you to a praised station.
And in some parts of the night (also) offer the Salat (prayer) with it (i.e. recite the Quran in the prayer), as an additional prayer (Tahajjud optional prayer Nawafil) for you (O Muhammad SAW). It may be that your Lord will raise you to Maqaman Mahmuda (a station of praise and glory, i.e. the highest degree in Paradise!).
And during the night, wake up for Salāh of tahajjud , an additional prayer for you. It is very likely that your Lord will place you at Praised Station.
And rise from sleep during the night as well- this is an additional Prayer for you. Possibly your Lord will raise you to an honoured position.
And some part of the night awake for it, a largess for thee. It may be that thy Lord will raise thee to a praised estate.
And pray in the small watches of the morning: (it would be) an additional prayer (or spiritual profit) for thee: soon will thy Lord raise thee to a Station of Praise and Glory!
বাংলা অনুবাদ
আর রাত্রির কিছু অংশে তাহাজ্জুদ পড়, ওটা তোমার জন্য নফল, শীঘ্রই তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রশংসিত স্থানে উন্নীত করবেন।
আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় কর তোমার অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে। আশা করা যায়, তোমার রব তোমাকে প্রশংসিত অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করবেন।
আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ কায়েম করবে; এটা তোমার এক অতিরিক্ত কর্তব্য; আশা করা যায় তোমার রাব্ব তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে।
আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করুন, এটা আপনার জন্য অতিরিক্ত। আশা করা যায় আপনার রব আপনাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে।
এবং রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ কায়েম কর, এটা তোমার জন্য এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায় তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে।
৭৯. হে রাসূল! আপনি রাতে উঠুন এবং তার কিছু অংশে সালাত আদায় করুন। যাতে আপনার সালাতটুকু আপনার মর্যাদা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বেশি ভূমিকা পালন করে। এ আশায় যে, আপনার প্রতিপালক যেন আপনাকে কিয়ামতের দিন তার ভয়াবহতা থেকে মানুষকে মুক্তি দেয়ার জন্য সুপারিশকারী হিসেবে পুনরুত্থান করেন। যা আপনার জন্য মূলতঃ মহা সুপারিশের অধিকার হবে যার প্রশংসা পূর্বাপর সকলেই করবে।
তাফসীর
17:78
আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ [১] আদায় করুন, এটা আপনার জন্য অতিরিক্ত [২]। আশা করা যায় আপনার রব আপনাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে [৩]।
[১] تهجد শব্দটি নিদ্ৰা যাওয়া ও জাগ্রত হওয়া এই পরস্পর বিরোধী দুই অর্থে ব্যবহৃত হয়। [ফাতহুল কাদীর] আয়াতের অর্থ এই যে, রাত্রির কিছু অংশে কুরআন পাঠসহ জাগ্রত থাকুন। কেননা به এর সর্বনাম দ্বারা কুরআন বোঝানো হয়েছে। [ফাতহুল কাদীর] আর কুরআন পাঠসহ জাগ্রত থাকার অর্থ সালাত পড়া। এ কারণেই শরীআতের পরিভাষায় রাত্রিকালীন সালাতকে “তাহাজ্জুদ” বলা হয়। সাধারণতঃ এর অর্থ, এরূপ নেয়া হয় যে কিছুক্ষণ নিদ্ৰা যাওয়ার পর যে সালাত পড়া হয় তাই তাহাজ্জুদের সালাত। হাসান বসরী বলেনঃ এশার পরে পড়া হয় এমন প্রত্যেক সালাতকে তাহাজ্জুদ বলা যায়। [ইবন কাসীর] তবে প্রচলিত পদ্ধতির কারণে কিছুক্ষণ নিদ্ৰা যাওয়ার পর পড়ার অর্থেই অনেকে তাহাজ্জুদ বুঝে থাকেন।
সাধারণতঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম শেষ রাত্রে জাগ্রত হয়ে তাহাজ্জুদের সালাত পড়তেন। তাই এভাবে পড়াই উত্তম হবে। তাহাজ্জুদের সালাতের ব্যাপারে বহু হাদীসে অনেক ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। এক হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “রমযানের সাওমের পর সবচেয়ে উত্তম হলো আল্লাহর মাস মুহররামের সাওম আর ফরয সালাতের পর সবচেয়ে উত্তম সালাত হলো, রাতের সালাত”। [মুসলিমঃ ১১৬৩]
[২] نافلة শব্দের আভিধানিক অর্থ অতিরিক্ত। এ কারণেই যেসব সালাত, দান-সদকা ওয়াজিব ও জরুরী নয়- করলে সওয়াব পাওয়া যায় এবং না করলে গোনাহ নাই, সেগুলোকে নফল বলা হয়। আয়াতে নামাযে তাহাজ্জুদের সাথে نافلة শব্দ সংযুক্ত হওয়ায় এটাই বোঝা যায় যে, তাহাজ্জুদের সালাত বিশেষভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর জন্যে নফল। অথচ সমগ্র উম্মতের জন্যেও নফল। এজন্যেই কোন কোন তফসীরবিদ এখানে نافلة শব্দটিকে উম্মতের ওপর তো শুধু পাঁচ ওয়াক্ত সালাতই ফরয; কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর তাহাজ্জুদও একটি অতিরিক্ত ফরয।
অতএব, এখানে نافلة শব্দের অর্থ অতিরিক্ত ফরয। নফলের সাধারণ অর্থে নয়। [তাবারী] আবার কোন কোন মুফাসসির বলেন, এখানে نافلة শব্দটি তার সাধারণ অর্থ অতিরিক্ত অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে, তখন অর্থ হবেঃ আপনার যাবতীয় পূর্ব ও পরের গুণাহ মাফ হয়ে যাওয়ার কারণে আপনার জন্য তাহাজ্জুদের সালাত অতিরিক্তই রয়ে গেল। [ইবন কাসীর] আপনার উম্মাতের জন্য সেটার প্রয়োজনীয়তা হলো, গোনাহ মাফ পাওয়া। কিন্তু আপনার জন্য তা মর্যাদা বৃদ্ধি কারক। কিন্তু নফল হওয়া সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাজ্জুদ ত্যাগ করতেন না। এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছিলেন যে,
أَفَلا أَكُونُ عَبْداً شكُوراً
অর্থাৎ “আমি কি কৃতজ্ঞ বান্দা হবো না? [মুসলিমঃ ২৮১৯]
[৩] আলোচ্য আয়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মাকামে মাহমুদের ওয়াদা দেয়া হয়েছে। মাকামে মাহমুদ শব্দদ্বয়ের অর্থ, প্রশংসনীয় স্থান। এই মাকাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্যেই বিশেষভাবে নির্দিষ্ট-অন্য কোন নবীর জন্যে নয়। এর তাফসীর প্রসঙ্গে বিভিন্ন উক্তি বর্ণিত আছে। সহীহ হাদীস সমূহে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, এ হচ্ছে “বড় শাফা আতের মাকাম”। [ফাতহুল কাদীর]। হাশরের ময়দানে যখন সমগ্ৰ মানব জাতি একত্রিত হবে এবং প্রত্যেক নবীর কাছেই শাফাআতের দরখাস্ত করবে, তখন সব নবীই শাফা’আত করতে অপারগতা প্রকাশ করবেন।
তখন কেবল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামাই সমগ্ৰ মানবজাতির জন্যে শাফাআত করবেন। এ সম্পর্কে দিন লোকেরা দলে দলে বিভক্ত হবে। প্রত্যেক উম্মত তার নিজের নবীর কাছে যাবে। তারা বলবে, হে অমুক (নবী)!! আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য শাফা’আত করুন। হে অমুক (নবী)!! আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য শাফা’আত করুন। (কিন্তু তারা কেউ শাফা’আত করতে রাযী হবেন না)। শেষ পর্যন্ত শাফা’আতের দায়িত্ব এসে পড়বে নবী (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর। আর এই দিনেই আল্লাহ তাকে মাকামে মাহমুদে দাঁড় করাবেন। [বুখারীঃ ৪৭১৮]
অপর এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি আযান শুনার পর বলবে “আল্লাহুম্মা রাব্বা হাযিহিদ দাওয়াতিত তাম্মাতি ওয়াস সালাতিল কায়েমাহ, আতি মুহাম্মদানিল ওয়াসিলাতা ওয়াল ফাদীলাহ ওয়াব’আসাহু মাকামাম মাহমুদানিল্লাযী ওয়াদতাহ্” তার জন্য আমার শাফা’আত হালাল হয়ে যাবে। [বুখারীঃ ৪৭১৯]
অন্য এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত তিনি এ আয়াতে مَقامٌ مَحْمُود “মাকামে মাহমুদ তথা প্রশংসিত স্থান” সম্পর্কে বলেছেনঃ “এটা সে স্থান যেখান থেকে আমি আমার উম্মাতের জন্য শাফা’আত করব। ” [মুসনাদে আহমাদঃ ২/৪৪১, ৫২৮]
[سورة الإسراء (17): آية 79] পূর্ণ পৃষ্ঠা
"রাতের ফেরেশতা এবং দিনের ফেরেশতাগণ" - এটি একটি হাসান সহীহ হাদিস। এটি আলী ইবনে মুশহির আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা ও আবু সাঈদ (রা.) থেকে এবং তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "একাকী নামাজের তুলনায় জামাতে নামাজের সওয়াব পঁচিশ গুণ বেশি এবং ফজরের নামাজে রাতের ফেরেশতা ও দিনের ফেরেশতাগণ একত্রিত হন।" আবু হুরায়রা (রা.) বলতেন: "তোমরা চাইলে (কুরআনের এই আয়াতটি) পাঠ করো: 'নিশ্চয়ই ভোরের কুরআন পাঠ প্রত্যক্ষ করা হয়'।" এই অর্থের কারণেই ইমাম মালিক ও ইমাম শাফেয়ী বলেছেন: ফজরের নামাজ অন্ধকারের শেষ ভাগে (তাগলিস) আদায় করা উত্তম।
ইমাম আবু হানিফা বলেছেন: অন্ধকার এবং ফর্সা হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে নামাজ আদায় করা উত্তম, তবে যদি তা সম্ভব না হয় তবে অন্ধকার থাকতে পড়ার চেয়ে ফর্সা হওয়ার পর (ইসফার) পড়া অধিক শ্রেয়। কিন্তু এটি নবী (আলাইহিস সালাম)-এর অন্ধকার থাকতে নিয়মিত নামাজ আদায়ের আমলের পরিপন্থী এবং এতে রাতের ফেরেশতাদের সাক্ষ্য প্রদানের সুযোগও নষ্ট হয়। আল্লাহ অধিক জ্ঞাত। সপ্তম- কতিপয় আলেম নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "রাতের ফেরেশতা ও দিনের ফেরেশতারা তাতে উপস্থিত থাকেন" দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে, ফজরের নামাজ রাতের বা দিনের নামাজের অন্তর্ভুক্ত নয়।
আমি বলি: এই যুক্তি অনুসারে আসরের নামাজও রাতের বা দিনের নামাজের অন্তর্ভুক্ত হবে না, কারণ সহীহ হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অত্যন্ত স্পষ্টভাবে আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনায় বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে রাতের ফেরেশতা এবং দিনের ফেরেশতারা পালাক্রমে যাতায়াত করেন এবং তারা আসর ও ফজরের নামাজের সময় একত্রিত হন।" এটি সুবিদিত যে আসরের নামাজ দিনের অংশ, ঠিক তেমনি ফজরের নামাজকেও রাতের অংশ ধরা যেত, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়; বরং রোজা এবং ঈমানের বিধানের প্রমাণ অনুযায়ী আসরের মতোই এটিও দিনের অংশ, আর এটি অত্যন্ত স্পষ্ট। [সুরা আল-ইসরা (১৭): আয়াত ৭৯]এবং রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করুন, যা আপনার জন্য অতিরিক্ত বিধান; আশা করা যায় আপনার প্রতিপালক আপনাকে প্রশংসিত স্থানে অধিষ্ঠিত করবেন (৭৯)।এতে ছয়টি মাসআলা রয়েছে: প্রথমটি- আল্লাহ তাআলার বাণী: (রাতের কিছু অংশে) এখানে 'মিন' অব্যয়টি আংশিকতা প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।
আর 'ফাতাহাজ্জাদ' শব্দে 'ফা' অব্যয়টি একটি উহ্য বাক্যাংশের অনুগামী, অর্থাৎ: জাগ্রত হোন এবং তাহাজ্জুদ পড়ুন। (বিহি) অর্থাৎ কুরআনের মাধ্যমে। তাহাজ্জুদ শব্দটি 'হুজুদ' থেকে নির্গত এবং এটি বিপরীতার্থক শব্দাবলির অন্তর্ভুক্ত। বলা হয়: 'হাজাদা' মানে সে ঘুমিয়েছে, আবার 'হাজাদা' মানে সে রাত জেগেছে। কবি বলেছেন:
দ্রুততম চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায়, অতঃপর একইভাবে কোনো ব্যক্তি দৌড়ে আসবে, এমনকি কোনো ব্যক্তি হেঁটে আসবে, শেষ পর্যন্ত তাদের সর্বশেষ ব্যক্তিটি তার পেটের ওপর ভর দিয়ে হেঁচড়ে আসবে। সে বলবে: হে আমার প্রতিপালক, আপনি আমাকে ধীরগতি করে দিলেন। তিনি বলবেন: মূলত তোমার আমলই তোমাকে ধীরগতি করেছে। অতঃপর আল্লাহ সুপারিশ করার অনুমতি দেবেন। প্রথম সুপারিশকারী হবেন জিবরাঈল, অতঃপর আল্লাহর বন্ধু ইবরাহীম, অতঃপর মুসা অথবা তিনি বললেন ঈসা। এরপর তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে দাঁড়াবেন। যে বিষয়ে তিনি সুপারিশ করবেন, তাঁর পরে অন্য কেউ তেমন সুপারিশ করতে পারবে না।
আর এটিই হলো সেই প্রশংসিত স্থান (মাকামুল মাহমুদ) যার প্রতিশ্রুতি আল্লাহ তাঁকে দিয়েছেন: "হয়তো আপনার প্রতিপালক আপনাকে প্রশংসিত স্থানে অধিষ্ঠিত করবেন" (সূরা আল-ইসরা, আয়াত ৭৯)। অতঃপর এমন কোনো প্রাণ নেই যে জান্নাতের একটি ঘর এবং জাহান্নামের একটি ঘরের দিকে তাকাবে না। আর এটিই হলো আক্ষেপের দিন। জাহান্নামীরা জান্নাতের সেই ঘরটি দেখতে পাবে এবং বলা হবে: তোমরা যদি নেক আমল করতে! আর জান্নাতীরা জাহান্নামের ঘরটি দেখতে পাবে এবং বলা হবে: যদি আল্লাহ তোমাদের ওপর অনুগ্রহ না করতেন! অতঃপর ফেরেশতাগণ, নবীগণ, শহীদগণ, নেককারগণ এবং মুমিনগণ সুপারিশ করবেন এবং আল্লাহ তাদের সুপারিশ কবুল করবেন।
এরপর তিনি বলবেন: আমি সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। অতঃপর তিনি তাঁর রহমতের মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে পূর্বের সমস্ত সৃষ্টির চেয়েও অধিক সংখ্যক লোককে বের করে আনবেন, এমনকি যার মধ্যে সামান্য কল্যাণ অবশিষ্ট আছে এমন কাউকেই তিনি সেখানে রেখে দেবেন না।অতঃপর আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) পাঠ করলেন: "হে অপরাধীরা! কিসে তোমাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করল? তারা বলবে: আমরা নামাযীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না" (সূরা আল-মুদ্দাসসির, আয়াত ৪২) থেকে তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: "এবং আমরা বিচার দিবসকে অস্বীকার করতাম" (সূরা আল-মুদ্দাসসির, আয়াত ৪৬)। তিনি বললেন: তোমরা কি এদের মধ্যে কল্যাণকর কাউকে দেখছ?
না, যার মধ্যে সামান্য কল্যাণ আছে এমন কাউকেই তিনি সেখানে ছেড়ে দেবেন না। যখন আল্লাহ সেখান থেকে আর কাউকে বের না করার সিদ্ধান্ত নেবেন, তখন তিনি তাদের চেহারা ও গায়ের রঙ পরিবর্তন করে দেবেন। তখন একজন মুমিন ব্যক্তি আসবে এবং সুপারিশ করবে। তাকে বলা হবে: যে কাউকে চিনতে পারে সে যেন তাকে বের করে আনে। সে এসে দেখবে কিন্তু কাউকে চিনতে পারবে না। তখন জাহান্নামের এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে বলবে: ওহে অমুক, আমি অমুক। সে বলবে: আমি তোমাকে চিনি না। তখন তারা আর্তনাদ করে বলবে: "হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এখান থেকে বের করে দিন, অতঃপর আমরা যদি পুনরায় তা করি তবে আমরা নিশ্চয়ই যালিম হব" (সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত ১০৭)।
তিনি বলবেন: "তোমরা ধিকৃত অবস্থায় এখানেই পড়ে থাকো এবং আমার সাথে কোনো কথা বলো না" (সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত ১০৮)। যখন তিনি এই কথা বলবেন, তখন জাহান্নাম তাদের ওপর রুদ্ধ করে দেওয়া হবে এবং সেখান থেকে কোনো মানুষ আর বের হতে পারবে না।ইবনুল মুনযির ইবনে জুরাইজ থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: এবং আপনি মাছওয়ালার (ইউনূস আ.) ন্যায় হবেন না
। তিনি বলেন: ইউনুস (আ.) যেভাবে রাগান্বিত হয়েছিলেন, তেমনটি করা।আবদুর রাজ্জাক, আহমাদ তাঁর 'কিতাবুয যুহদ' গ্রন্থে এবং ইবনুল মুনযির কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: এবং আপনি মাছওয়ালার ন্যায় হবেন না
।
তিনি বলেন: তিনি যেমন তাড়াহুড়ো করেছিলেন তেমন করবেন না এবং তিনি যেমন রাগান্বিত হয়েছিলেন তেমন রাগান্বিত হবেন না।
