Al-Isra
আল-ইসরা: 76
17 আল-ইসরা Al-Isra · 111 আয়াত الإسراء
মূল আরবি
وَإِن كَادُوا۟ لَيَسْتَفِزُّونَكَ مِنَ ٱلْأَرْضِ لِيُخْرِجُوكَ مِنْهَا ۖ وَإِذًا لَّا يَلْبَثُونَ خِلَـٰفَكَ إِلَّا قَلِيلًا
English Translations
And indeed, they were about to provoke [i.e., drive] you from the land [i.e., Makkah] to evict you therefrom. And then [when they do], they will not remain [there] after you, except for a little.
And Verily, they were about to frighten you so much as to drive you out from the land. But in that case they would not have stayed (therein) after you, except for a little while.
And they were likely to harass you in the land, so that they could expel you from there, and in that case, they will have not lived (there) after you, but a little.
They were bent upon uprooting you from this land and driving you away from it. But were they to succeed, they would not be able to remain after you more than a little while.
And they indeed wished to scare thee from the land that they might drive thee forth from thence, and then they would have stayed (there) but a little after thee.
Their purpose was to scare thee off the land, in order to expel thee; but in that case they would not have stayed (therein) after thee, except for a little while.
বাংলা অনুবাদ
তারা তোমাকে যমীন থেকে উৎখাত করতে চেয়েছিল যাতে তারা তোমাকে তাত্থেকে বের করে দিতে পারে, সেক্ষেত্রে তারা এখানে তোমার পরে খুব অল্পকালই টিকে থাকত।
আর তাদের অবস্থা এমন ছিল যে, তারা তোমাকে যমীন থেকে উৎখাত করে দেবে, যাতে তোমাকে সেখান থেকে বের করে দিতে পারে এবং তখন তারা তোমার পরে স্বল্প সময়ই টিকে থাকতে পারত।
তারা তোমাকে দেশ হতে উৎখাত করার চূড়ান্ত চেষ্টা করেছিল তোমাকে সেখান হতে বহিস্কার করার জন্য। তাহলে তোমার পর তারাও সেখানে অল্পকালই টিকে থাকত।
আর তারা আপনাকে দেশ থেকে উৎখাত করার চূড়ান্ত চেষ্টা করেছিল, আপনাকে সেখান থেকে বহিস্কার করার জন্য; তাহলে আপনার পর তারাও সেখানে অল্পকাল টিকে থাকত।
তারা তোমাকে দেশ হতে উৎখাত করার চূড়ান্ত চেষ্টা করেছিল তোমাকে সেখান হতে বহিষ্কার করার জন্য; যদি তাই করত তাহলে তোমার পর তারাও সেথায় অল্প সময়ই অবস্থান করত।
৭৬. কাফিররা শত্রুতার মাধ্যমে আপনাকে বিরক্ত করে মক্কা থেকে বের করার উপক্রম করেছে। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে বের করার ক্ষেত্রে তাদেরকে প্রতিরোধ করেছেন। ফলে আপনি নিজ প্রতিপালকের আদেশেই সেখান থেকে হিজরত করেছেন। যদি তারা আপনাকে বের করে দিতো তাহলে তারা আপনাকে বের করার পর সামান্যক্ষণও সেখানে থাকতে পারতো না।
তাফসীর
৭৬-৭৭ নং আয়াতের তাফসীর বর্ণিত আছে যে, ইয়াহূদীরা রাসূলুল্লাহকে (সঃ) বলেছিলঃ “আপনার শাম দেশে (সিরিয়ায়) চলে যাওয়া উচিত। ওটাই হচ্ছে নবীদের দেশ। আপনার উচিত এই মদীনার শহরকে ছেড়ে দেয়া।” ঐ সময় এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। একথাও বলা হয়েছে যে, তাবুকের ব্যাপারে এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। ইয়াহুদীরা যে তাঁকে বলেছিলঃ “আপনার শাম দেশে চলে যাওয়া উচিত। কেননা, ওটাই হচ্ছে নবীদের বাসভূমি ও হাশরের যমীন। আপনি যদি সত্য নবী হন তবে সেখানে চলে যান। কিছুকাল তিনি তাদের এই কথাকে সত্য মনে করেই ছিলেন। তাবুকের যুদ্ধ দ্বারা তাঁর নিয়ত এটাই ছিল। কিন্তু তাঁবুকে পৌঁছার সাথে সাথেই সূরায়ে বাণী ইসরাঈলের এই আয়াতগুলি অবতীর্ণ হয়।
এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবীকে (সঃ) মদীনায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। আর বলেনঃ “মৃত্যু পর্যন্ত তোমাকে এই মদীনাতেই থাকতে হবে এবং এখান থেকেই দ্বিতীয়বার উঠতে হবে।” কিন্তু এর সনদ ও সমালোচনা মুক্ত নয়। আর এটা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান যে, এই ঘটনাটি সঠিক নয়। (কিন্তু এটা দুর্বল উক্তি। কেননা, এইটি মক্কী আয়াত। আর মদীনা নবীর (সঃ) বাসভূমি পরে হয়েছিল)তাঁবুকের যুদ্ধ ইয়াহুদীদের উপরোক্ত কথা বলার কারণে সংঘটিত হয় নাই; বরং আল্লাহ তাআলার নির্দেশ বিদ্যমান রয়েছে। তিনি বলেছেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “তোমরা তোমাদের আশে পাশের কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা কর।” (৯:১২৩) অন্য আয়াতে রয়েছেঃ “যারা আল্লাহর উপর এবং কিয়ামতের উপর বিশ্বাস করে না এবং তাঁর রাসূলের হারামকৃত জিনিসকে হারাম মনে করে না ও সত্যকে কবুল করে না এইরূপ আহলে কিতাবের বিরুদ্ধে তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদ কর, যে পর্যন্ত না তারা লাঞ্ছিত অবস্থায় জিযিয়াকর দিতে সম্মত হয়।
এই যুদ্ধের আরো কারণ ছিল এই যে, যে সব সাহাবী (রাঃ) মূতার যুদ্ধে শহীদ হয়ে ছিলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁদের প্রতিশোধ গ্রহণের ইচ্ছা করেছিলেন। এ সব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন। যদি উপরোক্ত ঘটনা সঠিক হয় তবে ওরই উপর ঐ হাদীসকে স্থাপন করা হবে যাতে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “মক্কা, মদীনা ও সিরিয়ায় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। ওয়ালীদ (রঃ) তো এর ব্যাখ্যায় লিখেছেন যে, সিরিয়া দ্বারা বায়তুল মুকাদ্দাসকে বুঝানো হয়ে থাকে। তাহলে সিরিয়া দ্বারা তাবুককে বুঝাবে না কেন? এরূপ বুঝানো তো সম্পূর্ণরূপে পরিষ্কার ও সঠিক। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।
একটি উক্তি এও আছে যে, এর দ্বারা কাফিরদের এ সংকল্পকে বুঝানো হয়েছে, যে সংকল্প তারা মক্কা হতে রাসূলুল্লাহকে (সঃ) তাড়িয়ে দেয়ার ব্যাপারে করেছিল। আর এটা হয়েছিলও বটে। যখন তারা তাঁকে মক্কা থেকে বিদায় করে দেয়, তারপর তারাও সেখানে বেশী দিন অতিবাহিত করতে পারে নাই। ইতিমধ্যেই আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহকে (সঃ) তাদের উপর জয়যুক্ত করেন। মাত্র দেড় বছর পরেই বিনা প্রস্তুতি ও ঘোষণাতেই আকস্মিকভাবে বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়ে যায় এবং তাতে কাফিরদের ও কুফরীর মাজা ভেঙ্গে পড়ে। তাদের শরীফ ও নেতৃস্থানীয় লোকেরা কচুকাটা হয়। তাদের শান শওকত মাটির সাথে মিশে যায়।
তাদের বড় বড় নেতারা বন্দী হয় তাই, মহান আল্লাহ বলেনঃ এই অভ্যাস প্রথম যুগ থেকেই চলে আসছে। পূর্ববর্তী রাসূলদের সাথেও এইরূপ ব্যবহার করা হয়েছিল যে, কাফিররা যখন তাদেরকে ত্যক্ত বিরক্ত করে এবং দেশান্তর করে দেয় তখন তারাও রক্ষা পায় নাই। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন করে দেন। তবে আমাদের রাসূল (সঃ) ছিলেন রহমত ও করুণার রাসূল, ফলে কোন সাধারণ আসমানী আযাব ঐ কাফিরদের উপর আসে নাই। যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “(হে নবী (সঃ)! আল্লাহ এরূপ নন যে, তুমি তাদের মধ্যে থাকা। অবস্থায় তাদেরকে শাস্তি প্রদান করবেন।” (৮:৩৩)
আর তারা আপনাকে দেশ থেকে উৎখাত করার চূড়ান্ত চেষ্টা করেছিল, আপনাকে সেখান থেকে বহিস্কার করার জন্য; তাহলে আপনার পর তারাও সেখানে অল্পকাল টিকে থাকত [১]।
[১] এটি একটি সুস্পষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী। সে সময় এটি তো নিছক একটি হুমকি মনে হচ্ছিল। কিন্তু দশ বারো বছরের মধ্যেই এর সত্যতা অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণ হয়ে গেলো। এ সূরা নাযিলের দেড় বছর পর মক্কার কাফেররা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিজের জন্মভূমি থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য করলো। তারপর বদরের যুদ্ধে মক্কার কাফেরদের চরম বিপর্যয় ঘটলো, তাদের নেতারা মারা গেল। [ইবন কাসীর] তারপর ৮ বছরের বেশী সময় অতিবাহিত হতে না হতেই তিনি বিজয়ীর বেশে মক্কা মুয়াযযামায় প্রবেশ করলেন। তারপর দু’বছরের মধ্যেই সমগ্র আরব ভূখণ্ড মুশরিক শূন্য করা হলো। এরপর যারাই এ দেশে বসবাস করেছে মুসলিম হিসেবেই বসবাস করেছে, মুশরিক হিসেবে কেউ সেখানে টিকতে পারেনি।
[সূরা আল-ইসরা (১৭): আয়াত ৭৬] পূর্ণ পৃষ্ঠা
এবং মহান আল্লাহর বাণী: "তবে আমি অবশ্যই আপনাকে ইহজীবনের দ্বিগুণ ও পরজীবনের দ্বিগুণ শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাতাম।" অর্থাৎ যদি আপনি তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়তেন, তবে আমি আপনাকে দুনিয়ার জীবনে দ্বিগুণ শাস্তি এবং আখেরাতে মৃত্যুর পর দ্বিগুণ শাস্তি আস্বাদন করাতাম। ইবনে আব্বাস, মুজাহিদ ও অন্যান্যরা এ কথা বলেছেন। এটি চরম সতর্কবাণী। কোনো ব্যক্তির মর্যাদা যত উচ্চ হয়, অবাধ্যতার ক্ষেত্রে শাস্তিও তত ভয়াবহ হয়। মহান আল্লাহ বলেন: "হে নবীর পত্নীগণ! তোমাদের মধ্যে কেউ যদি প্রকাশ্য অশ্লীল কাজ করে, তবে তাকে দ্বিগুণ শাস্তি দেওয়া হবে।" কোনো জিনিসের 'দিফ' (দ্বিগুণ) হলো তার সমপরিমাণ দুই গুণ।
আবার কখনো 'দিফ' শব্দের অর্থ অংশ বা প্রাপ্যও হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "প্রত্যেকের জন্যই দ্বিগুণ রয়েছে" অর্থাৎ অংশ রয়েছে। সূরা আল-আরাফে এ বিষয়ে আলোচনা অতিক্রান্ত হয়েছে। [সূরা আল-ইসরা (১৭): আয়াত ৭৬]এবং তারা আপনাকে এ দেশ থেকে উৎখাত করার জন্য চূড়ান্ত চেষ্টা করেছিল আপনাকে সেখান থেকে বহিষ্কার করার উদ্দেশ্যে; কিন্তু তেমনটি হলে আপনার (চলে যাওয়ার) পর তারা সেখানে অল্পকালই টিকে থাকত। (৭৬)এই আয়াতটি সম্পর্কে বলা হয়েছে যে এটি মাদানী, যেমনটি সূরার শুরুতে অতিক্রান্ত হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: ইয়াহুদিরা মদিনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবস্থানে ঈর্ষান্বিত হয়ে বলেছিল: নবীরা কেবল শাম (সিরিয়া) দেশেই প্রেরিত হয়েছেন।
আপনি যদি নবী হন তবে সেখানে চলে যান। আপনি যদি সেখানে যান তবে আমরা আপনাকে সত্য বলে মেনে নেব এবং আপনার ওপর ঈমান আনব। তাদের ইসলাম গ্রহণের আকাঙ্ক্ষায় নবীজীর অন্তরে এই বিষয়টি রেখাপাত করল। তিনি মদিনা থেকে এক মঞ্জিল পথ সফর করলেন, তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করেন। আব্দুর রহমান ইবনে গানম বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাবুক যুদ্ধে বের হয়েছিলেন এবং তাঁর উদ্দেশ্য ছিল কেবল শাম দেশ। তিনি যখন তাবুকে অবতরণ করলেন, তখন নাযিল হলো: "এবং তারা আপনাকে এ দেশ থেকে উৎখাত করার জন্য চূড়ান্ত চেষ্টা করেছিল..." অথচ এই সূরাটি আগেই পূর্ণ হয়েছিল।
এরপর তাঁকে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়। আবার বলা হয়েছে যে, এটি মক্কী আয়াত। মুজাহিদ ও কাতাদাহ বলেন: মক্কাবাসীরা তাঁকে বের করে দেওয়ার যে পরিকল্পনা করেছিল, সে প্রেক্ষাপটে এটি নাযিল হয়েছে। তারা যদি তাঁকে বের করে দিত, তবে তাদের আর অবকাশ দেওয়া হতো না। কিন্তু আল্লাহ তাঁকে হিজরতের নির্দেশ দিলেন এবং তিনি বেরিয়ে গেলেন। আর এই মতটিই অধিকতর সঠিক। কারণ সূরাটি মক্কী এবং এর আগের আয়াতগুলোতে মক্কাবাসীদের কথা বর্ণিত হয়েছে, ইয়াহুদিদের কোনো উল্লেখ সেখানে নেই। আর "জমিন থেকে" বলতে মক্কার জমিন বোঝানো হয়েছে। যেমন আল্লাহর বাণী: "আমি এই জমিন ত্যাগ করব না" অর্থাৎ মিশরের ভূখণ্ড।
এর প্রমাণ হলো আল্লাহর বাণী: "আর কত জনপদ ছিল যারা আপনার জনপদ— যা আপনাকে বহিষ্কার করেছে— তার চেয়েও শক্তিশালী ছিল" অর্থাৎ মক্কা। এর অর্থ হলো: সেখানকার অধিবাসীরা তাঁকে বের করে দেওয়ার সংকল্প করেছিল, তাই জনপদের প্রতি সম্বন্ধ করে বলা হয়েছে "তোমাকে বহিষ্কার করেছে"। আবার বলা হয়েছে যে, কাফেররা সবাই মিলে জোটবদ্ধ হয়ে তাঁকে আরবের ভূখণ্ড থেকে উৎখাত করতে চেয়েছিল, কিন্তু আল্লাহ তা প্রতিহত করেন। আর যদি তারা তাঁকে বের করে দিত—(১). দ্রষ্টব্য: খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ১৭৩।(২). দ্রষ্টব্য: খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ২০৫।(৩). দ্রষ্টব্য: খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ২৪১ ও পরবর্তী।(৪).
দ্রষ্টব্য: খণ্ড ১৬, পৃষ্ঠা ২৩৫।(৫). মূল পাণ্ডুলিপিতে "ইলাইহিম" আছে, যা অনুলিখনজনিত ত্রুটি।
