Al-Haqqah

আল-হাক্কাহ: 13

69:13
টেক্সট কপি
69 আল-হাক্কাহ Al-Haqqah · 52 আয়াত الحاقة

মূল আরবি

فَإِذَا نُفِخَ فِى ٱلصُّورِ نَفْخَةٌ وَٰحِدَةٌ

English Translations

Sahih International

Then when the Horn is blown with one blast

Muhsin Khan

Then when the Trumpet will be blown with one blowing (the first one),

Taqi Usmani

Then, once the Trumpet will be blown for the first time,

Abul Ala Maududi

So when the Trumpet is blown with a single blast

Pickthall

And when the trumpet shall sound one blast

Yusuf Ali

Then, when one blast is sounded on the Trumpet,

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

অতঃপর যখন সিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে- মাত্র একটি ফুঁৎকার।

রাওয়াই আল-বায়ান

অতঃপর যখন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে- একটি মাত্র ফুঁক।

শাইখ মুজিবুর রহমান

যখন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে, একটি মাত্র ফুৎকার,

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

অতঃপর যখন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে ---একটি মাত্ৰ ফুঁক ,

ফাতহুল মাজীদ

যখন শিংগায় ফুঁৎকার দেওয়া হবে-একটি মাত্র ফুঁৎকার।।

মুখতাসার

১৩. যখন নিয়োজিত ফিরিশতা শিঙ্গায় প্রথম ফুৎকার দিবেন যা হবে দ্বিতীয় ফুৎকার।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

১৩-১৮ নং আয়াতের তাফসীর এখানে আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের ভয়াবহতার বর্ণনা দিচ্ছেন। সর্ব প্রথম ভয়ের কারণ হবে শিংগায় ফুৎকার দেয়া। এতে সবারই অন্তরাত্মা কেঁপে উঠবে। তারপর পুনরায় শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে, যার ফলে আসমান ও যমীনের সমস্ত মাখলূক অজ্ঞান হয়ে পড়বে, তবে আল্লাহ যাঁকে চাইবেন তিনি অজ্ঞান হবেন না। এরপর সূরে ফুৎকার দেয়া হবে, যার শব্দের কারণে সমস্ত মাখলূক তাদের প্রতিপালকের সামনে দাঁড়িয়ে যাবে। এখানে ঐ প্রথম ফুৎকারেরই বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এখানে গুরুত্ব আরোপের জন্যে একথাও বলে দিয়েছেন যে, এই উঠে দাঁড়িয়ে যাওয়ার ফুৎকার মাত্র একটি।

কেননা, যখন আল্লাহ তা'আলার হুকুম হয়ে গেছে তখন না এর কোন ব্যতিক্রম হতে পারে, না তা টলতে পারে, না দ্বিতীয়বার আদেশ প্রদানের প্রয়োজন হতে পারে, না তাগীদ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে। ইমাম রাবী’ (রঃ) বলেন যে, এর দ্বারা শেষ ফুৎকারকে বুঝানো হয়েছে। কিন্তু প্রকাশমান উক্তি ওটাই যা আমরা বলেছি। এ জন্যে এর পরেই বলেছেনঃ পর্বতমালা সমেত পৃথিবী উৎক্ষিপ্ত হবে এবং চামড়ার মত ছড়িয়ে দেয়া হবে। যমীন পরিবর্তন করে দেয়া হবে এবং কিয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে। আসমান প্রত্যেক ভোলার জায়গা হতে ফেটে যাবে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “আকাশ উন্মুক্ত করা হবে, ফলে ওটা হয়ে যাবে বহু দ্বার বিশিষ্ট।” (৭৮:১৯) হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, আকাশে ছিদ্র ও গর্ত হয়ে যাবে এবং ওটা ফেটে যাবে।

আর ওর সামনে থাকবে এবং ফেরেস্তাগণ ওর প্রান্তদেশে থাকবেন, যে প্রান্তদেশ তখন পর্যন্ত ভেঙ্গে পড়েনি। তাঁরা দরজার উপর থাকবেন এবং আকাশের দৈর্ঘ্যের মধ্যে ছড়িয়ে থাকবেন। তাঁরা পৃথিবীবাসীদেরকে দেখতে থাকবেন।এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ কিয়ামতের দিন আটজন ফেরেশতা তাদের প্রতিপালকের আরশকে ধারণ করবে তাদের ঊর্ধ্বে। এর দ্বারা হয় তো আরশে আযীমকে উঠানো উদ্দেশ্য অথবা ঐ আরশকে উঠানো উদ্দেশ্য যার উপর কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা লোকদের ফায়সালার জন্যে অধিষ্ঠিত থাকবেন। সঠিকতার কথা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই জানেন।হযরত আব্বাস ইবনে আবদিল মুত্তালিব (রাঃ) বলেন যে, এ ফেরেশতাগণ পাহাড়ী বকরীর আকৃতি ধারণ করবেন।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) বলেন যে, তাঁদের চক্ষুর এক প্রান্ত হতে অপর প্রান্তের ব্যবধান হবে একশ বছরের পথ।মুসনাদে ইবনে আবী হাতিমে হযরত জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আমাকে অনুমতি দেয়া হয়েছে যে, আমি তোমাদের কাছে আরশ বহনকারী ফেরেশতাদের মধ্যে একজন ফেরেশতা সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করবো। ঐ ফেরেশতার স্কন্ধ ও কানের নিম্ন ভাগের মধ্যকার ব্যবধান এতোটা যে ওর মধ্যে উড়ন্ত পাখী সাতশ বছর পর্যন্ত উড়তে থাকবে। (এ হাদীসের সনদ খুবই উওম এবং সমস্ত বর্ণনাকারীই নির্ভরযোগ্য। এটাকে ইমাম আবু দাউদ (রঃ) ও স্বী সুনানে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) এরূপই বলেছেন) হযরত সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রঃ) বলেন যে, আটজন ফেরেশতা দ্বারা ফেরেশতাদের আটটি সারিকে বুঝানো হয়েছে।

আরো বহু গুরুজন হতে এটা বর্ণিত আছে।হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, সমুন্নত ফেরেশতাদের আটটি অংশ রয়েছে। প্রতিটি অংশের সংখ্যা সমস্ত মানুষ, জ্বিন, শয়তান এবং ফেরেশতার সমান।এরপর ঘোষণা করা হচ্ছেঃ কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে ঐ আল্লাহর সামনে পেশ করা হবে যিনি গোপনীয় ও প্রকাশ্য সব কিছুই অবগত আছেন। তিনি প্রকাশমান জিনিস সম্পর্কে যেমন পূর্ণ অবহিত, অনুরূপভাবে গোপনীয় জিনিস সম্পর্কেও তিনি পূর্ণ ওয়াকিফহাল। এ জন্যেই মহান আল্লাহ্ বলেনঃ সেই দিন তোমাদের কিছুই গোপন থাকবে না। হযরত উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেনঃ “হে জনমণ্ডলী! তোমাদের হিসাব নেয়া হবে এর পূর্বেই নিজেরাই নিজেদের হিসাব নিয়ে নাও।

আর তোমাদের আমলসমূহ ওযন করা হবে। এর পূর্বেই তোমরা তোমাদের আমলসমূহ অনুমান করে নাও, যাতে কাল কিয়ামতের দিন তোমাদের জন্যে সহজ হয়ে যায়, যেই দিন তোমাদের পুরোপুরি হিসাব নেয়া হবে এবং তোমাদেরকে মহাপ্রতাপান্বিত আল্লাহর সামনে পেশ করা হবে।” মুসনাদে আহমাদে হযরত আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন জনগণকে তিনবার আল্লাহ্ তা'আলার সামনে পেশ করা হবে। প্রথম দু’বার তো ঝগড়া, তর্ক-বিতর্ক ও ওযর-আপত্তি চলবে। কিন্তু তৃতীয়বারে আমলনামা উড়ানো হবে। ঐ আমলনামা কারো ডান হাতে আসবে এবং কারো বাম হাতে আসবে।” (এ হাদীসটি সুনানে ইবনে মাজাহতেও রয়েছে।

হযরত আব্দুল্লাহ (রাঃ)-এর মাধ্যমেও এই রিওয়াইয়াতটি ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন এবং হযরত কাতাদাহ (রঃ) হতেও মুরসালরূপে এরকমই রিওয়াইয়াত)

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

অতঃপর যখন শিংগায় [১] ফুঁক দেয়া হবে ---একটি মাত্ৰ ফুঁক [২] ,

[১] হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো যে, صور কী? জবাবে তিনি বললেন, “শিং এর আকারে কোন বস্তুকে বলা হয় যাতে ফুঁক দেয়া হবে।” [তিরমিয়ী: ২৪৩০, আবু দাউদ: ৪৭৪২]

[২] পবিত্ৰ কুরআনের কোথাও কোথাও এ দুই শিঙ্গায় ফুঁক দেয়ার কথা ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় ফুৎকারের সময় গোটা বিশ্ব-জাহানের লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়ার যে অবস্থা সূরা আল-হাজ্জের ১ ও ২ আয়াতে, সূরা ইয়াসীনের ৪৯ ও ৫০ আয়াতে এবং সূরা আত-তাকভীরের ১ থেকে ৬ পর্যন্ত আয়াতে বর্ণিত হয়েছে তা তাদের চোখের সামনে ঘটতে থাকবে। পক্ষান্তরে সূরা ত্বা-হার ১০২ থেকে ১১২ আয়াত, সূরা আল-আম্বিয়ার ১০১ থেকে ১০৩ আয়াত, সূরা ইয়াসীনের ৫১ থেকে ৫৩ আয়াত এবং সূরা ক্বাফ এর ২০ থেকে ২২ আয়াতে শুধু শিংগায় দ্বিতীয়বার ফুৎকারের কথা উল্লেখিত হয়েছে।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-হাক্কাহ (৬৯): আয়াত ১৩] পূর্ণ পৃষ্ঠা

মহান আল্লাহর কিতাব। মাকহুল বর্ণনা করেন যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার সময় বলেছিলেন: (আমি আমার রবের কাছে প্রার্থনা করেছি তিনি যেন একে আলীর কান বানিয়ে দেন)। মাকহুল বলেন: এরপর আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে যা কিছু শুনেছি তা কখনও ভুলিনি, বরং তা সংরক্ষণ করেছি। আল-মাওয়ার্দি এটি উল্লেখ করেছেন। আল-হাসান থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে যা আস-সা'লাবি উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: যখন "এবং সচেতন কান তা যেন সচেতনভাবে গ্রহণ করে" অবতীর্ণ হলো, তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (হে আলী!

আমি আমার রবের কাছে প্রার্থনা করেছি তিনি যেন একে তোমার কান বানিয়ে দেন)। আলী বললেন: আল্লাহর কসম, এরপর আমি আর কিছুই ভুলিনি এবং আমার পক্ষে ভুলে যাওয়া সম্ভবও ছিল না। আবু বারযাহ আল-আসলামি বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলীকে বলেছিলেন: (হে আলী! আল্লাহ আমাকে আদেশ করেছেন তোমাকে নিকটবর্তী করতে এবং দূরে না রাখতে, আর তোমাকে শিক্ষা দিতে যাতে তুমি তা স্মরণ রাখতে পারো; আর তোমাকে স্মরণে রাখা আল্লাহর ওপর একটি হক বা প্রাপ্য অধিকার)। ‌‌[সূরা আল-হাক্কাহ (৬৯): আয়াত ১৩]অতঃপর যখন শিঙ্গায় একটি মাত্র ফুঁক দেওয়া হবে (১৩)ইবনে আব্বাস বলেন: এটি হলো কিয়ামত কায়েম হওয়ার জন্য প্রথম ফুঁক, ফলে তখন কেউ অবশিষ্ট থাকবে না বরং সকলে মারা যাবে।

"নুফিখা" (ক্রিয়াটি) পুংলিঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করা বৈধ হয়েছে কারণ "নাফখাহ" (ফুঁক) শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ হওয়া প্রকৃত নয়। কেউ কেউ বলেছেন: এই ফুঁকটি হলো শেষ ফুঁক। তিনি বলেছেন: "একটি মাত্র ফুঁক" অর্থাৎ যার পুনরাবৃত্তি করা হবে না। আল-আখফাশ বলেন: ক্রিয়াটি "নাফখাহ" শব্দের ওপর আপতিত হয়েছে যেহেতু এর আগে কোনো রফ' (পেশ) বিশিষ্ট বিশেষ্য ছিল না, তাই একে পেশ দিয়ে "নাফখাহ" বলা হয়েছে। আর কর্মপদ (মাফউল) হিসেবে নসব (যবর) দিয়ে "নাফখাতান" পাঠ করাও বৈধ। আবু আস-সিমাল এভাবেই পাঠ করেছেন। অথবা বলা যায়: এখানে কেবল ক্রিয়াটি সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে, যেমনটি বলা হয়: "একটি প্রহার করা হয়েছে"।

আয-যাজ্জাজ বলেন: "ফিস-সুরি" (শিঙ্গায়) অংশটি নায়েবে ফায়েল (উহ্য কর্তার স্থলাভিষিক্ত) হিসেবে কাজ করছে। ‌‌[সূরা আল-হাক্কাহ (৬৯): আয়াত ১৪]এবং পৃথিবী ও পর্বতমালাকে উত্তোলন করা হবে এবং সেগুলোকে এক চূর্ণনে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়া হবে (১৪)মহান আল্লাহর বাণী: (এবং পৃথিবী ও পর্বতমালাকে উত্তোলন করা হবে) অধিকাংশ ক্বারীর কিরাআত অনুযায়ী মীম বর্ণে তাসহীফ (হালকা উচ্চারণ) সহ পাঠ করা হবে, অর্থাৎ সেগুলোকে তাদের নিজ স্থান থেকে উঠানো হবে। (অতঃপর সেগুলোকে চূর্ণ করা হবে) অর্থাৎ সেগুলোকে গুঁড়ো গুঁড়ো করে ফেলা হবে এবং ভেঙে ফেলা হবে। (একটি মাত্র চূর্ণনে) "দাক্কাতান" শব্দটিতে নসব (যবর) ছাড়া অন্য কিছু পড়া বৈধ নয় কারণ "ফাদুক্কাতা" ক্রিয়ার ভেতরের সর্বনামটি রফ' (পেশ) অবস্থায় আছে।

আল-ফাররা বলেন: এখানে "ফাদুকিকনা" (স্ত্রীলিঙ্গ বহুবচন) বলা হয়নি কারণ তিনি সমস্ত পাহাড়কে একটি সমষ্টির মতো এবং পৃথিবীকে একটি সমষ্টির মতো গণ্য করেছেন। এরই অনুরূপ হলো: "নিশ্চয় আসমানসমূহ ও পৃথিবী উভয়ই মিশে ছিল" [আম্বিয়া: ৩০], এখানেও বহুবচন ব্যবহার করা হয়নি। আর এই চূর্ণ করা হলো ভূমিকম্পের মতো, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "যখন পৃথিবী তার প্রবল কম্পনে প্রকম্পিত হবে" [যিলযাল: ১]। কেউ বলেন: অতঃপর সেগুলোকে চূর্ণ করা হবে...(১). দেখুন খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ২৮২