Al-Haqqah
আল-হাক্কাহ: 32
মূল আরবি
ثُمَّ فِى سِلْسِلَةٍ ذَرْعُهَا سَبْعُونَ ذِرَاعًا فَٱسْلُكُوهُ
English Translations
Then into a chain whose length is seventy cubits insert him."
"Then fasten him with a chain whereof the length is seventy cubits!"
Thereafter, fasten him with a chain the measure of which is seventy hands.”
then fasten him with a chain, seventy cubits long.
And then insert him in a chain whereof the length is seventy cubits.
"Further, make him march in a chain, whereof the length is seventy cubits!
বাংলা অনুবাদ
তারপর ওকে শিকল দিয়ে বাঁধ- সত্তর হাত দীর্ঘ এক শিকলে,
‘তারপর তাকে বাঁধ এমন এক শেকলে যার দৈর্ঘ্য হবে সত্তর হাত।’
পুনরায় তাকে শৃংখলিত কর সত্তর হাত দীর্ঘ এক শৃংখলে।
‘তারপর তাকে শৃংখলিত কর এমন এক শেকলে যার দৈর্ঘ্য হবে সত্তর হাত’,
পুনরায় তাকে বেঁধে ফেলো এমন শিকল দ্বারা যার মাপ সত্তর হাত লম্বা।
৩২. অতঃপর তাকে সত্তর হাত লম্বা শিকলে প্রবিষ্ট করো।
তাফসীর
69:25
‘তারপর তাকে শৃংখলিত কর এমন এক শেকলে যার দৈর্ঘ্য হবে সত্তর হাত’ [১] ,
[১] অর্থাৎ ফেরেশ্তাদেরকে আদেশ করা হবে, এই অপরাধীকে ধর এবং তার গলায় বেড়ি পরিয়ে দাও। অতঃপর তাকে সত্তর গজ দীর্ঘ এক শিকলে গ্রথিত করে দাও। এ শিকল সংক্রান্ত এক বর্ণনা হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যদি এ শিকলের একটি গ্রন্থি আসমান থেকে দুনিয়াতে পাঠানো হয় তবে (অতি ভারী হওয়ার কারণে) রাতের আগেই যমীনে এসে পড়বে। যদিও আসমান ও যমীনের মাঝের দূরত্ব পাঁচশত বছরের পথ। আর সেটা যদি শিকলের মাথার অংশ হয় (অর্থাৎ আরো বড় ও ভারী হয়) তারপর যদি তা জাহান্নামে ফেলা হয় তবে সেটা তার নিম্নভাগে পৌঁছতে চল্লিশ বছর লাগবে”। [তিরমিয়ী: ২৫৮৮, মুসনাদে আহমাদ; ২/১৯৭]
[সূরা আল-হাক্কাহ (৬৯): আয়াত ১৯ থেকে ৩৪] পূর্ণ পৃষ্ঠা
কিয়ামতের দিন মানুষের আমলনামা তিনবার পেশ করা হবে। এর মধ্যে প্রথম দুইবার হবে বিতর্ক এবং ওজর-আপত্তি পেশ করার জন্য। আর তৃতীয়বার আমলনামাসমূহ উড়ে হাতে আসবে; তখন কেউ তা ডান হাতে গ্রহণ করবে এবং কেউ তা বাম হাতে গ্রহণ করবে। (এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: এটি সহীহ নয়, কারণ হাসান (বসরী) আবু হুরায়রা থেকে সরাসরি শোনেননি।) 'তোমাদের কোনো গোপন বিষয়ই গোপন থাকবে না' অর্থাৎ তিনি তোমাদের আমলের প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত। ইবনে শাজারা বলেন, এখানে 'খাফিয়াহ' অর্থ হচ্ছে 'খাফিয়্যাহ' (গোপন আমল), যা তারা মানুষের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখত।
অন্য মতে বলা হয়েছে: আল্লাহর কাছে কোনো মানুষই গোপন থাকবে না, অর্থাৎ প্রতিটি মানুষই হিসাবের সম্মুখীন হবে। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস বলেন: মুমিন থেকে কাফের এবং সৎকর্মশীল থেকে পাপাচারী আলাদা করা অস্পষ্ট থাকবে না। আবার কেউ বলেছেন: তোমাদের কোনো লজ্জাস্থান আবৃত থাকবে না, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (মানুষকে হাশরের ময়দানে নগ্নপদ ও উলঙ্গ অবস্থায় সমবেত করা হবে)। আসিম ব্যতীত কুফাবাসী ক্বারীগণ 'ইয়া' যোগে 'লা ইয়াখফা' পাঠ করেছেন, কারণ 'খাফিয়াহ' শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ হওয়াটি প্রকৃত নয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: 'আর যারা জুলুম করেছিল, মহানাদ তাদেরকে পাকড়াও করল' [সূরা হুদ: ৬৭]।
আবু উবাইদ এই কিরাআতটি পছন্দ করেছেন, কারণ এখানে ক্রিয়া এবং স্ত্রীলিঙ্গ বিশেষ্যের মাঝে অব্যয় ও বিশেষ্য (যার-মাজরুর) ব্যবধান তৈরি করেছে। অন্যান্য ক্বারীগণ 'তা' দিয়ে পাঠ করেছেন এবং আবু হাতেম 'খাফিয়াহ' শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ রূপের বিবেচনায় এটি পছন্দ করেছেন। [সূরা আল-হাক্কাহ (৬৯): আয়াত ১৯ থেকে ৩৪]অতঃপর যার আমলনামা তার ডান হাতে দেওয়া হবে, সে বলবে, ‘নাও, আমার আমলনামা পড়ে দেখ। (১৯) আমি নিশ্চিত ছিলাম যে, আমাকে আমার হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে।’ (২০) সুতরাং সে থাকবে সন্তোষজনক জীবনযাপনে, (২১) সুউচ্চ জান্নাতে, (২২) যার ফলসমূহ অবনমিত থাকবে।
(২৩)(বলা হবে) তোমরা বিগত দিনগুলোতে যা করেছিলে, তার বিনিময়ে তৃপ্তির সাথে আহার করো ও পান করো। (২৪) পক্ষান্তরে যার আমলনামা তার বাম হাতে দেওয়া হবে, সে বলবে, ‘হায়, আমাকে যদি আমার আমলনামা না দেওয়া হতো! (২৫) আর যদি আমি না জানতাম আমার হিসাব কী! (২৬) হায়, মৃত্যুই যদি শেষ হতো! (২৭) আমার ধন-সম্পদ আমার কোনো উপকারে আসল না। (২৮)আমার ক্ষমতাও ধ্বংস হয়ে গেল।’ (২৯) (ফেরেশতাদের বলা হবে) ‘ওকে ধরো এবং ওর গলায় বেড়ি পরিয়ে দাও। (৩০) তারপর ওকে নিক্ষেপ করো প্রজ্বলিত আগুনে। (৩১) এরপর তাকে শৃঙ্খলিত করো এমন এক শিকলে যার দৈর্ঘ্য সত্তর গজ। (৩২) নিশ্চয় সে মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখত না, (৩৩)এবং সে অভাবগ্রস্তকে অন্নদানে উৎসাহিত করত না।’ (৩৪)(১).
দেখুন খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৬১।
