Table of Contents
ভূমিকা
ইসলামের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআনে উল্লেখ রয়েছে যে, আল্লাহ প্রথমে জমিন বা মাটি সৃষ্টি করেছেন, এরপর সেই জমিনের উপর পর্বত স্থাপন করেছেন। এটি সূরা হা-মীম আস-সাজদা (৪১:১০)-এ “من فوقها” অর্থাৎ “উপর থেকে” শব্দটি দ্বারা বর্ণিত হয়েছে, যা আক্ষরিক অর্থে বোঝায় যে পর্বতগুলো মাটির উপরে এমনভাবে গেঁথে দেয়া হয়েছে যেন পেরেকের মতো তা উপর থেকে নিচের দিকে ধাক্কা দিয়ে বসানো হয়েছে। তবে, আধুনিক ভূতত্ত্ব এবং ভূতাত্ত্বিক গবেষণা অনুসারে, পর্বতের সৃষ্টি এমনভাবে হয়নি, বরং এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি প্রক্রিয়ার ফল। পর্বতগুলো কোনো “উপর থেকে” গেঁথে দেয়া বস্তু নয়; বরং তারা টেকটোনিক প্লেটের ভৌগলিক গতিশীলতার ফলে মাটির অভ্যন্তর থেকে উদ্ভূত হয়েছে। এই বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা কোরআনে বর্ণিত পর্বত সৃষ্টির ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত এবং এতে কোরআনের লেখকের ভূতাত্ত্বিক জ্ঞানের অভাব প্রতীয়মান হয়। এই বিষয়টি এই আলোচনায় পরিষ্কার করা হবে।
কোরআনে যা বলা হয়েছে
আসুন এই সম্পর্কে করআনের আয়াতের আরবি এবং বাঙলা অনুবাদ দেখি, [1]
وجعل فيها رواسي من فوقها
(যমীন সৃষ্টির পর) তার বুকে তিনি সৃদৃঢ় পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, যমীনকে বরকতমন্ডিত করেছেন আর তাতে প্রার্থীদের প্রয়োজন মুতাবেক নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্য সঞ্চিত করেছেন চার দিনে।
— Taisirul Quran
তিনি স্থাপন করেছেন অটল পর্বতমালা ভূপৃষ্ঠে এবং তাতে রেখেছেন কল্যাণ এবং চার দিনে ব্যবস্থা করেছেন খাদ্যের – সমভাবে, যাঞ্চাকারীদের জন্য।
— Sheikh Mujibur Rahman
আর তার উপরিভাগে তিনি দৃঢ় পর্বতমালা স্থাপন করেছেন এবং তাতে বরকত দিয়েছেন, আর তাতে চারদিনে প্রার্থীদের জন্য সমভাবে খাদ্য নিরূপণ করে দিয়েছেন।
— Rawai Al-bayan
আর তিনি স্থাপন করেছেন অটল পর্বতমালা ভূপৃষ্ঠে এবং তাতে দিয়েছেন বরকত এবং চার দিনের মধ্যে [১] এতে খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন সমভাবে যাচঞাকারীদের জন্য।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
কোরআনে পাহাড় পর্বত সম্পর্কে আরো বলা আছে, পৃথিবী যেন নড়াচড়া না করে সেই কারণে আল্লাহ পাহাড় পর্বত দিয়ে পৃথিবীকে আটকে দিয়েছেন [2] –
তিনি আকাশমন্ডলী নির্মাণ করেছেন স্তম্ভ ছাড়া যা তোমরা দেখছ। তিনি পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন দৃঢ়ভাবে দন্ডায়মান পর্বতমালা যাতে পৃথিবী তোমাদেরকে নিয়ে নড়াচড়া না করে আর তাতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সকল প্রকার জীবজন্তু, আর আমিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করি, অতঃপর তাতে উদ্গত করি যাবতীয় কল্যাণকর উদ্ভিদ।
— Taisirul Quran
তিনি আকাশমন্ডলী নির্মাণ করেছেন স্তম্ভ ব্যতীত, তোমরা এটা দেখছ। তিনিই পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন পবর্তমালা যাতে এটা তোমাদেরকে নিয়ে ঢলে না পড়ে এবং এতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সর্ব প্রকার জীব-জন্তু এবং আমিই আকাশ হতে বারি বর্ষণ করে এতে উদ্ভব করি সর্বপ্রকার কল্যাণকর উদ্ভিদ।
— Sheikh Mujibur Rahman
তিনি খুঁটি ছাড়া আসমানসমূহ সৃষ্টি করেছেন, যা তোমরা দেখছ, আর যমীনে স্থাপন করেছেন সুদৃঢ় পাহাড়, যাতে তা তোমাদেরকে নিয়ে হেলে না পড়ে, আর তাতে ছড়িয়ে দিয়েছেন প্রত্যেক প্রকারের প্রাণী; আর আসমান থেকে আমি পানি পাঠাই। অতঃপর তাতে আমি জোড়ায় জোড়ায় কল্যাণকর উদ্ভিদ জন্মাই।
— Rawai Al-bayan
তিনি আসমানসমূহ নির্মাণ করেছেন খুঁটি ছাড়া—তোমরা এটা দেখতে পাচ্ছ; তিনিই যমীনে স্থাপন করেছেন সুদৃঢ় পর্বতমালা যাতে এটা তোমাদেরকে নিয়ে ঢলে না পড়ে এবং এতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সব ধরণের জীব-জন্তু। আর আমরা আকাশ হতে বারি বর্ষণ করি তারপর এতে উদ্গত করি সব ধরণের কল্যাণকর উদ্ভিদ।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
এই সম্পর্কে কোরআনে আরো বলা হয়েছে, পৃথিবীতে পাহাড় বা পর্বত হচ্ছে পেরেক সদৃশ। দেয়ালে কিছু আটকে রাখতে যেমন পেরেকের প্রয়োজন হয়, পৃথিবীকে আটকে রাখতেও আল্লাহ পেরেক অর্থাৎ উপর থেকে মেরে দিয়েছেন। কোরআনে পেরেকের উপমা দিয়ে বোঝানো হয়েছে, পাহাড় পর্বতগুলো উপর থেকে স্থাপিত [3] [4] –
(আমি যে সব কিছুকে দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করতে সক্ষম তা তোমরা অস্বীকার করছ কীভাবে) আমি কি যমীনকে (তোমাদের জন্য) শয্যা বানাইনি?
— Taisirul Quran
আমি কি পৃথিবীকে শয্যা (রূপে) নির্মাণ করিনি?
— Sheikh Mujibur Rahman
আমি কি বানাইনি যমীনকে শয্যা?
— Rawai Al-bayan
আমরা কি করিনি যমীনকে শয্যা
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
আর পর্বতগুলোকে কীলক (বানাইনি)?
— Taisirul Quran
এবং পর্বতসমূহকে কীলক রূপে নির্মাণ করিনি?
— Sheikh Mujibur Rahman
আর পর্বতসমূহকে পেরেক?
— Rawai Al-bayan
আর পর্বতসমূহকে পেরেক ?
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
তাফসীর বা আয়াতের ব্যাখ্যা
এবারে আসুন তাফসীরগ্রন্থ থেকে দেখে নেয়া যাক, ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে আল্লাহ আগে জমিন বানালেন, এরপরে পাহাড়কে উপর থেকে স্থাপন করে দিলেন জমিনকে স্থির করার জন্য [5]
এ ব্যাপারে একটি হাদীস উল্লেখ করা যায়, হাদীসটি নিম্নরূপ-
পাহাড় কখন সৃষ্টি করা আল্লাহ তা’আলা জমিন সৃষ্টি করলেন, কিন্তু তা ভীষণভাবে কাঁপছিল। অতঃপর জমিনের উপর পহাড়কে স্থাপন করা হলো। এতে জমিন স্থির হয়ে গেল। ফেরেশতাগণ আরজ করলন- হে আমাদের রব! পাহাড় থেকে ভারি শক্ত আর কোনো বস্তু কি সৃষ্টি করেছেন? উত্তর দিতে নিশ্চয় তা হলো লৌহ। তারপর তারা আবার প্রশ্ন করলেন, হে আমদের রব! লৌহ থেকে মারাত্মক কি কোন বস্তু সৃষ্টি করেছেন? উত্তর দিলেন, নিশ্চয় তা হলো আগুন। ফেরেশতাগণ পুনরায় প্রশ্ন করলেন, হে আমাদের রব! আগুন থেকে অধিকতর মারাত্মক কোনো বস্তু কি সৃষ্টি করেছেন? উত্তর করলেন, তা হলো পানি। আবার প্রশ্ন হলো যে, হে আমাদের রব, পানি থেকে মারাত্মক কোনো জিনিস সৃষ্টি করেছেন? আল্লাহ বলেন, হ্যাঁ বাতাস। তারপর প্রশ্ন হলো বাতাস হতে তীব্রতর কোনো বন্ধু কি সৃষ্টি করেছেন? উত্তরে বললেন, বনী আদম যারা ডান হাতে এমনভাবে দান করবে যে, বাম হাতে তা জানবে না । এ হাদীসটির উপর ভিত্তি করে সকল দার্শনিকগণ ঐকমত্যে পৌঁছেছেন যে, জমিন সৃষ্টির পরই পাহাড়ের সৃষ্টি হয়েছে । হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, প্রথম পাহাড়ের নাম আবূ কায়েস। এ হাদীসটিকে হাকিম সহীহ বলেছেন ।

পাহাড় সম্পর্কে হাদিসের ভাষ্য
সহিহ হাদিসের বর্ণনা অনুসারে, আল্লাহ পৃথিবীর মাটি সৃষ্টি করেন শনিবার এবং এর উপর পর্বত বসান রবিবার দিন , যা আধুনিক বৈজ্ঞানিক তথ্যের সাথে সাংঘর্ষিক। কারণ আধুনিক বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুসারে পাহাড় পরে এসে স্থাপিত হয়েছে, এমন ধারণা সত্য নয়। [6] [7] –
সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
অধ্যায়ঃ ৫২। কিয়ামাত, জান্নাত ও জান্নামের বর্ণনা
পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি
পরিচ্ছদঃ ১. সৃষ্টির সূচনা এবং আদাম (আঃ) এর সৃষ্টি
৬৯৪৭-(২৭/২৭৮৯) সুরায়জ ইবনু ইউনুস ও হারূন ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) ….. আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরে বললেন, আল্লাহ তা’আলা শনিবার দিন মাটি সৃষ্টি করেন এবং এতে পর্বত সৃষ্টি করেন রবিবার দিন। সোমবার দিন তিনি বৃক্ষরাজি সৃষ্টি করেন। মঙ্গলবার দিন তিনি বিপদাপদ সৃষ্টি করেন। তিনি নূর সৃষ্টি করেন বুধবার দিন। তিনি বৃহস্পতিবার দিন পৃথিবীতে পশু-পাখি ছড়িয়ে দেন এবং জুমুআর দিন আসরের পর জুমুআর দিনের শেষ মুহূর্তে অর্থাৎ আসর থেকে নিয়ে রাত পর্যন্ত সময়ের মধ্যবর্তী সময়ে সর্বশেষ মাখলুক আদাম (আঃ) কে সৃষ্টি করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৯৭,ইসলামিক সেন্টার ৬৮৫১)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৫৩/ কিয়ামত, জান্নাত ও জাহান্নামের বিবরণ
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ২. সৃষ্টির সূচনা এবং আদম (আঃ) এর সৃষ্টি
৬৭৯৭। সুরায়জ ইবনু ইউনুস ও হারুন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরে বললেন, আল্লাহ তাআলা শনিবার দিন মাটি সৃষ্টি করেন। রোববার দিন তিনি এতে পর্বত সৃষ্টি করেন। সোমবার দিন তিনি বৃক্ষরাজি সৃষ্টি করেন। মঙ্গলবার দিন তিনি আপদ বিপদ সৃষ্টি করেন। বুধবার দিন তিনি নূর সৃষ্টি করেন। বৃহস্পতিবার দিন তিনি পৃথিবীতে পশু-পাখি ছড়িয়ে দেন এবং জুমুআর দিন আসরের পর তিনি আদম (আলাইহিস সালাম) কে সৃষ্টি করেন। অর্থাৎ জুমুআর দিনের সময়সমূহের শেষ মুহূর্তে (মাখলূক) আসর থেকে রাত পর্যন্ত সময়ের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি সৃষ্টি করেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
উপরে বর্ণিত তাফসীরে জালালাইন গ্রন্থের যেই হাদিসটি উল্লিখিত হয়েছে, আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানী হাদিসটি তাহক্বীক করে জইফ বলেছেন, কিন্তু এই হাদিসটি বহু তাফসীর গ্রন্থে এবং হাদিস গ্রন্থে পাওয়া যায়। আসুন হাদিসটি পড়ে দেখা যাক, [8] [9]

ব্যাখ্যা : আল্লাহ তা’আলা যখন সর্বপ্রথম কা’বার জমিন সৃষ্টি করলেন এবং সেটাকে উত্তপ্ত ও এর চতুস্পার্শে বিস্তৃত করলেন তখন সেটি পানির উপর একটি থালা বা ফলকের মতো হলো। তারপর সে জমিনটি খুব নাড়াচাড়া ও আন্দোলিত হওয়া শুরু করল। এমনকি মালায়িকাহ্ বলে উঠল, এ জমিন দ্বারা মানবজাতি উপকৃত হতে পারবে না। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা পাহাড় সৃষ্টি করে তা জমিনে স্থাপিত করলেন, যাতে করে জমিন তার নিজ স্থানে স্থির হয়, তার স্থান থেকে নাড়াচাড়া না করে । এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা আল কুরআনে বলেন, وَأَلْقَى فِي الْأَرْضِ رَوَاسِيَ أَنْ تَمِيدَ بِكُمْ) অর্থাৎ “এবং তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন, যাতে পৃথিবী তোমাদেরকে নিয়ে আন্দোলিত না হয় ।” (সূরাহ্ আন্ নাহল ১৬ : ১৫)

আলেম ওলামাদের বক্তব্য
আসুন একই বক্তব্য বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেম মিজানুর রহমান আযহারীর থেকে শুনি,
এবারে আসুন আরেকজন আলেমের কাছ থেকে ভূমিকম্পের কারণ এবং অন্যান্য বিষয়াদি সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক,
আসুন এবারে মিজানুর রহমান আজহারীর কাছ থেকে পৃথিবীতে ভূমিকম্প হওয়ার কারণ জেনে নেয়া যাক,
প্রখ্যাত ইসলামিক আলেম এবং আধুনিক যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকিহ শায়েখ মুহাম্মদ ইবন সালিহ ইবন উসাইমিন তার রমযান মাসের ৩০ আসর গ্রন্থেও একই কথা উল্লেখ করেছেন [10] –

পাহাড় পর্বত সম্পর্কে বিজ্ঞানের ভাষ্য
আধুনিক ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞানের মতে, পৃথিবীর পৃষ্ঠের উপর পর্বতসমূহ কোনো পেরেকের মতো উপর থেকে বসানো নয়; বরং ভূত্বকের অভ্যন্তর থেকে ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার ফলে গঠিত। পৃথিবীর ভূত্বক আসলে একাধিক টেকটোনিক প্লেট দ্বারা গঠিত, যা ধীরে ধীরে ক্রমাগত নড়াচড়া করে। যখন দুটি প্লেট পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, তখন একটি প্লেট অন্যটির নিচে সরে যায় (যাকে সাবডাকশন বলে), কিংবা উভয়ই উপরের দিকে ঠেলে উঠে আসে। এই সংঘর্ষ ও চাপের ফলে ভূত্বক ভাঁজ হয়ে উঁচু হয়, আর তাতেই পর্বতমালা গঠিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ভারতীয় প্লেট ও ইউরেশীয় প্লেটের সংঘর্ষের ফলে প্রায় ৫০ মিলিয়ন বছর আগে হিমালয় পর্বতমালার সৃষ্টি শুরু হয়েছিল, যা এখনো ধীরে ধীরে প্রতি বছরে প্রায় ৫ মিলিমিটার হারে উঁচু হচ্ছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ভূতাত্ত্বিক প্রমাণ অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়া কয়েক কোটি বছর ধরে চলে এবং সময়ের সঙ্গে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে পর্বতসমূহ ধীরে ধীরে নিচু হয়ে যায়। সুতরাং, পর্বতের সৃষ্টি কোনো “উপর থেকে পেরেকের মতো স্থাপন” নয়; বরং এটি পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ ভূতাত্ত্বিক গতিশীলতার একটি প্রাকৃতিক ফলাফল। এই বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা কোরআনের বর্ণনার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক এবং কোরআনের লেখকের ভূতাত্ত্বিক জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে।
বিশ্বের প্রধান পর্বতমালার গঠনকাল, বয়স এবং বৈশিষ্ট্য
এবারে আসুন, দেখে নেয়া যাক পৃথিবীর পাহাড় পর্বতগুলোর ঠিক কবে উদ্ভব হয়েছে সে সম্পর্কে জেনে নিই। ইসলামের দাবী হচ্ছে, আল্লাহ তা’আলা শনিবার দিন মাটি সৃষ্টি করেন এবং এতে পর্বত সৃষ্টি করেন রবিবার দিন। কিন্তু পর্বতসমূহের বয়সকাল হিসেব করলে দেখা যায়, এক একটি পাহাড় বা পর্বত এক একটি সময়ে উদ্ভব হয়েছে। এমনকি, এখনো অনেক পাহাড় পর্বতের উদ্ভব ঘটে চলছে। হিমালয় পর্বতের উঁচুটা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বৈজ্ঞানিক তথ্যগুলো ইসলামের দাবীর সাথে সরাসরিই সাংঘর্ষিক।
| পর্বতমালা | অবস্থান | গঠনকাল (যুগ) | আনুমানিক বয়স | গঠনের কারণ | বিশেষ বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|---|---|---|
| হিমালয় | দক্ষিণ এশিয়া (ভারত, নেপাল, তিব্বত) | কাইনোজোয়িক (Paleogene–Neogene, ~৫০–৬০ মিলিয়ন বছর আগে) | ~৫০ মিলিয়ন বছর; স্থানভেদে উত্থান ~০.৫–১০ মিমি/বছর | ভারতীয় প্লেটের সাথে ইউরেশীয় প্লেটের মহাদেশ-মহাদেশ সংঘর্ষ | বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট (~৮,৮৪৯ মিটার); সংঘর্ষ চলমান |
| আলপস | ইউরোপ (ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া প্রভৃতি) | কাইনোজোয়িক (Alpine orogeny, ~৬৫–২.৬ মিলিয়ন বছর আগে) | মূলত ~৬৫–২.৬ মিলিয়ন বছর | আফ্রিকান/আড্রিয়াটিক প্লেট ও ইউরেশীয় প্লেটের সংঘর্ষ | বহু হিমবাহ; ইউরোপের বহু প্রধান নদীর উৎস |
| অ্যান্ডিজ | দক্ষিণ আমেরিকা (চিলি, পেরু, বলিভিয়া প্রভৃতি) | প্রধানত জুরাসিক–ক্রেটেশিয়াসে শুরু; কাইনোজোয়িকে সক্রিয় | ~১০০ মিলিয়ন বছর (আঞ্চলিকভাবে ভিন্ন) | নাজকা প্লেটের দক্ষিণ আমেরিকান প্লেটের নিচে সাবডাকশন | পৃথিবীর দীর্ঘতম ভূখণ্ডীয় পর্বতমালা (~৭,০০০–৮,০০০ কিমি); বহু সক্রিয় আগ্নেয়গিরি |
| রকি পর্বত | উত্তর আমেরিকা (যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা) | লারামাইড অরোজেনি (~৮০–৫৫ মিলিয়ন বছর আগে) | ~৫৫–৮০ মিলিয়ন বছর | অভ্যন্তরভাগে স্বল্প-কোণ সাবডাকশনজনিত কম্প্রেশন ও উত্তোলন | বিস্তৃত উচ্চভূমি ও ন্যাশনাল পার্কসমূহ; প্রখ্যাত ফ্রন্ট রেঞ্জ |
| উরাল | রাশিয়া (ইউরোপ–এশিয়ার সীমারেখা) | দেরি প্যালিওজোয়িক (কার্বনিফেরাস–পার্মিয়ান, ~৩৫০–২৫০ মিলিয়ন বছর আগে) | ~২৫০–৩৫০ মিলিয়ন বছর | ইউরেশীয়/পূর্ব ইউরোপীয় ও সাইবেরিয়ান/কাজাখস্তানীয় প্লেটসমূহের সংঘর্ষ | ইউরোপ–এশিয়া ভৌগোলিক সীমারেখা হিসেবে স্বীকৃত |
| আরাভাল্লি | ভারত (রাজস্থান, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ) | প্রোটেরোজোয়িক অরোজেনি (~১.৬–১.৮ বিলিয়ন বছর আগে); বেজমেন্ট শিলা আর্কিয়ান (~৩.২–৩.৫ বিলিয়ন বছর) | মূল অরোজেনি ~১.৬–১.৮ বিলিয়ন বছর | প্রাচীন মহাদেশীয় সঙ্ঘর্ষ/বহুঅরোজেনিক চক্র | পৃথিবীর প্রাচীনতম ভাঁজ-বেল্টগুলোর একটি; আজ অধিকাংশ অংশ ক্ষয়ে সমতল |
| জাগ্রোস পর্বত | ইরান, ইরাক | মূলত মাইওসিনে উত্থান ত্বরান্বিত (~২৫–৫ মিলিয়ন বছর আগে); বিকাশ চলমান | ~২০ মিলিয়ন বছর (উত্থান চলমান) | আরবীয় প্লেট ও ইউরেশীয় প্লেটের সংঘর্ষে ভাঁজ–থ্রাস্ট বেল্ট | বিশ্বখ্যাত তেল ও গ্যাস ভাণ্ডার; স্পষ্ট ভাঁজ-প্রবণতা |
| আতলাস পর্বত | মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া | কাইনোজোয়িক; প্রধান ভাঁজ গঠন অলিগোসিন–মাইওসিনে (~৩৭–২৪ মিলিয়ন বছর আগে) এবং নব্য-উত্থান | ~২৫–৪০ মিলিয়ন বছর (আঞ্চলিক ভিন্নতা) | আফ্রিকান প্লেট–ইউরোপীয় প্লেটের সন্নিকরণ ও অভ্যন্তরভাগে সংক্ষিপ্তকরণ | মাগরিব অঞ্চলের “ব্যাকবোন”; উচ্চ মালভূমি ও উপত্যকা শ্রেণি |
উপসংহার
পাহাড় পর্বতের উৎপত্তি এবং সময়কাল সম্পর্কে ইসলামিক মিথোলজিতে যা বর্ণিত আছে, তা নিতান্তই শিশুসুলভ পৌরাণিক রূপকথা মাত্র। আধুনিক বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের সাথে ইসলামের এই হাস্যকর রূপকথার গল্প মোটেও সামাঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসব শিশুতোষ রূপকথা ছোট বাচ্চাদের শোনানো যেতে পারে, কিন্তু এগুলোকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করলে যেই সমস্যাটি দেখা যায় তা হচ্ছে, বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি মানুষের দূরত্ব তৈরি হয়, মানুষ ক্রমশ কূপমণ্ডূক ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন হয়ে ওঠে। তাই এইসব গল্পকে পুরনোদিনের রূপকথা হিসেবে গ্রহণ করে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়াটি আমাদের সকলের জন্য জরুরি।
- কোরআনে পাহাড়কে “জমিনের উপর স্থাপিত”, “দণ্ডায়মান”, “কীলক/পেরেক” এবং “পৃথিবীকে নড়াচড়া থেকে রক্ষা করার” উপমা দেওয়া হয়েছে— উদ্ধৃত আয়াত ও তাফসীরগুলো এই দাবিকে সঠিকভাবে রিপ্রেজেন্ট করছে।
- আধুনিক ভূতত্ত্ব মতে পাহাড়ের প্রধান গঠনপ্রক্রিয়া হলো প্লেট টেকটোনিক্সের সংঘর্ষ, সাবডাকশন, ভাঁজ-থ্রাস্ট বেল্ট ইত্যাদি; হিমালয়, অ্যান্ডিজ, আলপস, রকি ইত্যাদির উদাহরণ, বয়স ও গঠনের ব্যাখ্যা মূলত সঠিক।
- সহীহ মুসলিমের “শনিবার মাটি, রবিবার পাহাড়, ইত্যাদি” হাদিস, তাফসীরে জালালাইন/অন্যান্য তাফসীরে জমিন–পাহাড় সৃষ্টির ক্রম বহু প্রখ্যাত আলেমের কাছে স্বীকৃত বর্ণনা।
- প্রথমে কোরআনের প্রাসঙ্গিক আয়াত, তারপর তাফসীর, এরপর সহীহ/দুর্বল হাদিস, সমসাময়িক আলেমদের বক্তব্য, এবং সবশেষে আধুনিক ভূতত্ত্ব ও টেকটোনিক ব্যাখ্যা—এই লজিকাল সিকোয়েন্স খুব পরিষ্কার এবং পাঠককে ধাপে ধাপে “দাবি → ব্যাখ্যা → বৈজ্ঞানিক রিয়ালিটি” পর্যন্ত নিয়ে যায়।
- “উপর থেকে পেরেকের মতো গেঁথে দেওয়া” ধারণার সাথে “নিচ থেকে প্লেট টেকটোনিক্সের মাধ্যমে উত্তোলন”–এর কনট্রাস্ট দেখিয়ে যে কনফ্লিক্ট দেখানো হয়েছে, তা যুক্তিগতভাবে কনসিস্টেন্ট; তবে “শিশুসুলভ পৌরাণিক রূপকথা”–ধরনের শব্দচয়ন কিছু পাঠকের কাছে দ্রুত কনক্লুশন মনে হতে পারে, যদিও প্রবন্ধের টোন অনুযায়ী ইচ্ছাকৃত।
- কোরআন, ক্লাসিকাল তাফসীর (তাফসীরে জালালাইন), সহীহ মুসলিম, তিরমিযী, মিশকাত, সমসাময়িক ফকিহ ইবনে উসাইমিন, এবং বিভিন্ন বাংলা তর্জমা–—এসব ইসলামী উৎস ভালোভাবে সাইট করা হয়েছে; হাদিসের নম্বর, অধ্যায়, প্রকাশক ইত্যাদিও উল্লেখ থাকায় যাচাই করা সহজ।
- ভূতাত্ত্বিক অংশে তুমি হিমালয়, অ্যান্ডিজ, আলপস, রকি, উরাল, আরাভাল্লি ইত্যাদির গঠনকাল, টেকটোনিক কনটেক্সট, বয়স, এবং বিশেষ বৈশিষ্ট্য টেবিল আকারে উপস্থাপন করেছ; যদিও বেশিরভাগ তথ্যের জন্য আলাদা বৈজ্ঞানিক রেফারেন্স (প্রাইমারি ভূতাত্ত্বিক টেক্সট/পেপার) যোগ করলে প্রবন্ধটি আরও একাডেমিক হবে।
- টেকটোনিক প্লেট, সাবডাকশন, মহাদেশ-সংঘর্ষ, অরোজেনি, পর্বতের বয়স–—এসব ধারণা আধুনিক ভূতত্ত্বের মেইনস্ট্রিম সায়েন্সের সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে ব্যবহার করা হয়েছে; বিশেষত হিমালয়ের গঠন, উচ্চতা বৃদ্ধি, সাবডাকশন–মডেল ইত্যাদি অংশ বিজ্ঞানের মানদণ্ড মেনে লেখা।
- তবে “এই সবই প্রমাণ করে কোরআনের লেখকের ভূতাত্ত্বিক জ্ঞানের অভাব”–ধরনের কনক্লুশন দর্শন/ধর্মতত্ত্বিক ক্লেইম, যা বৈজ্ঞানিক ডেটা–নির্ভর হলেও শেষ পর্যন্ত ব্যাখ্যাগত/হের্মেনিউটিক্যাল জাজমেন্ট—এখানে চাইলে তুমি “সম্ভবত” বা “যৌক্তিকভাবে বলা যায়” টাইপ নরমার শব্দ ব্যবহার করলে একাডেমিক টোন আরও শক্ত হবে।
- কোরআনের আয়াত → তাফসীর → সহীহ ও দুর্বল হাদিস → সমসাময়িক আলেমের বক্তব্য → আধুনিক ভূতত্ত্ব → তুলনামূলক টেবিল → উপসংহার—এই স্ট্রাকচার অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং পাঠক-শিক্ষামূলক; ধর্মীয় দাবিকে প্রবন্ধটির লেখক “ধর্মের উৎস” দিয়েই প্রথমে বেঁধে ফেলেছে।
- রেস্পন্সিভ SVG ডায়াগ্রাম, ভিডিও এমবেড, হাইলাইটেড মার্কিং, এবং টেবিল–—এসব ভিজ্যুয়াল উপাদান লেখার যুক্তি ও শিক্ষামূল্য অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে; Shongshoy–স্টাইলের ইউএক্স দৃষ্টিকোণ থেকেও খুব শক্তিশালী সেকশন।
- কিছু জায়গায় “শিশুসুলভ”, “হাস্যকর রূপকথা”, “কূপমণ্ডূক” ইত্যাদি শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে—যা প্রবন্ধের টোন অনুযায়ী ইচ্ছাকৃত হলেও, এক purely একাডেমিক রিভিউ দৃষ্টিকোণ থেকে এগুলোকে “নর্মেটিভ/ইমোশনালি চার্জড” ভাষা ধরা হবে; Facts ও Logic আগেই যথেষ্ট শক্তিশালী, তাই এ ধরনের শব্দ না থাকলেও যুক্তি দাঁড়ায়।
- পর্বতমালা–টেবিলের প্রতিটি সারির জন্য আলাদা গবেষণা-রেফারেন্স (উদাহরণ: USGS, Geological Society, standard geology textbooks) দিলে সেকশনটি এক ধাপ উপরে উঠে যেত; এখন টেবিলটি বাস্তবসম্মত হলেও একাডেমিক citation দৃষ্টিকোণ থেকে “secondary, unsourced summary” মনে হতে পারে।
- ভূতত্ত্ব অংশে ২–৩টি নির্দিষ্ট সায়েন্টিফিক সোর্স (যেমন USGS factsheets, “Press & Siever – Earth”, “Tarbuck & Lutgens – Earth Science” টাইপ টেক্সটবুক, বা রিভিউ পেপার) যোগ করো—বিশেষ করে হিমালয়, অ্যান্ডিজ, আরাভাল্লি ও উরাল অংশে ছোট ফুটনোট রেফারেন্স দিলে প্রবন্ধটি peer-review–স্টাইল গ্র্যাভিটি পাবে।
- উপসংহার অংশে “শিশুতোষ পৌরাণিক কাহিনি” ইত্যাদি জাজমেন্টাল শব্দের বদলে “মিথোলজিক্যাল ন্যারেটিভ”, “ক্লাসিকাল ধর্মীয় কসমোলজি”, “প্রাক-বৈজ্ঞানিক বিশ্বদৃষ্টি”–এর মতো একাডেমিক টার্ম ব্যবহার করলে একই বার্তা আরও প্রফেশনাল ও দুর্বলতাহীনভাবে পৌঁছে যাবে।
- “কোরআনের লেখকের ভূতাত্ত্বিক জ্ঞানের অভাব প্রতীয়মান হয়”–এর মতো লাইনগুলোকে একটু নরম করে “এটি আধুনিক ভূতত্ত্বের সাথে মিল খায় না; বরং প্রাক-বৈজ্ঞানিক যুগের প্রচলিত ধারণাকেই প্রতিফলিত করে বলে মনে হয়”—এই ফর্মে লিখলে opponent–এর কাছে counter করা কঠিন হবে এবং টেক্সট আরও কুলহেডেড লাগবে।
| তথ্যগত সঠিকতা | ৯ / ১০ |
| যুক্তির গুণমান | ৮.৫ / ১০ |
| উৎস-ব্যবহার | ৮ / ১০ |
| সামগ্রিক স্কোর | ৮.৫ / ১০ |
চূড়ান্ত মন্তব্য: সামগ্রিকভাবে এটি একটি তথ্যসমৃদ্ধ, শক্তিশালী ও ভালভাবে সংগঠিত সমালোচনামূলক প্রবন্ধ, যেখানে কোরআন–হাদিস–তাফসীর–সমসাময়িক আলেম–ভূতত্ত্ব–টেকটোনিক্স–পর্বতমালার বয়স—সবকিছুকে ধারাবাহিকভাবে সাজিয়ে দেখানো হয়েছে যে ইসলামি বর্ণনা আধুনিক ভূতত্ত্বের সাথে মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক। কিছু ভাষা আরও একাডেমিক করলে এবং টেবিল/ডায়াগ্রামের পাশে কয়েকটি স্ট্যান্ডার্ড জিওলজি রেফারেন্স যোগ করলে এটি সহজেই “রেফারেন্স লেভেল” আর্টিকেল হিসেবে দাঁড়াতে পারে।
তথ্যসূত্রঃ
- কোরআন ৪১ঃ১০ ↩︎
- কোরআন ৩১ঃ১০ ↩︎
- কোরআন ৭৮ঃ৬ ↩︎
- কোরআন ৭৮ঃ৭ ↩︎
- তাফসীরে জালালাইন, সপ্তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৬১ ↩︎
- সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী), হাদিস নম্বরঃ ৬৯৪৭ ↩︎
- সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বরঃ ৬৭৯৭ ↩︎
- তিরমিযী শরীফ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন, পৃষ্ঠা ৮৩ ↩︎
- তাহক্বীক মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদিস একাডেমী, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৭১৬-৭১৭ ↩︎
- রমযান মাসের ৩০ আসর, শায়েখ মুহাম্মদ ইবন সালিহ ইবন উসাইমিন, পৃষ্ঠা ২০ ↩︎
