Maryam
মারইয়াম: 49
19 মারইয়াম Maryam · 98 আয়াত مريم
মূল আরবি
فَلَمَّا ٱعْتَزَلَهُمْ وَمَا يَعْبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ وَهَبْنَا لَهُۥٓ إِسْحَـٰقَ وَيَعْقُوبَ ۖ وَكُلًّا جَعَلْنَا نَبِيًّا
English Translations
So when he had left them and those they worshipped other than Allāh, We gave him Isaac and Jacob, and each [of them] We made a prophet.
So when he had turned away from them and from those whom they worshipped besides Allah, We gave him Ishaque (Isaac) and Ya'qub (Jacob), and each one of them We made a Prophet.
So, when he went away from them and what they worshipped besides Allah, We blessed him with IsHāq (Isaac) and Ya‘qūb (Jacob) and We made each one of them a prophet,
Thereupon Abraham dissociated himself from his people and the deities they worshipped instead of Allah, and We bestowed upon him Isaac and Jacob and made each of them a Prophet;
So, when he had withdrawn from them and that which they were worshipping beside Allah, We gave him Isaac and Jacob. Each of them We made a prophet.
When he had turned away from them and from those whom they worshipped besides Allah, We bestowed on him Isaac and Jacob, and each one of them We made a prophet.
বাংলা অনুবাদ
অতঃপর সে যখন তাদেরকে আর তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদের ‘ইবাদাত করত তাদেরকে পরিত্যাগ করল, তখন আমি তাকে দান করলাম ইসহাক্ব আর ইয়া‘কূব আর তাদের প্রত্যেককে নবী করলাম।
অতঃপর যখন সে তাদেরকে এবং আল্লাহ ছাড়া যাদের তারা ইবাদাত করত তাদের সবাইকে পরিত্যাগ করল, তখন আমি তাকে দান করলাম ইসহাক ও ইয়া‘কূব এবং তাদের প্রত্যেককে নবী করলাম।
অতঃপর সে যখন তাদের থেকে এবং তারা আল্লাহ ব্যতীত যাদের ইবাদাত করত সেই সব হতে পৃথক হয়ে গেল তখন আমি তাকে দান করলাম ইসহাক ও ইয়াকূব এবং প্রত্যেককে নাবী করলাম।
অতঃপর তিনি যখন তাদের থেকে ও তারা আল্লাহ্ ছাড়া যাদের ‘ইবাদাত করত সেসব থেকে পৃথক হয়ে গেলেন, তখন আমরা তাকে দান করলাম ইসহাক ও ইয়া’কুব এনং প্রত্যেককে নবী করলাম।
অতঃপর সে যখন তাদের হতে ও তারা আল্লাহ ব্যতীত যাদের ইবাদত করত সে সকল হতে পৃথক হয়ে গেল তখন আমি তাকে দান করলাম ইস্হাক ও ইয়া‘কূব এবং প্রত্যেককে নাবী করলাম।
৪৯. যখন তিনি তাদেরকে ও আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া তারা যেগুলোর ইবাদাত করতো সেগুলোকে পরিত্যাগ করলেন তখন আমি তাঁকে নিজ পরিবার হারানোর বিকল্প মিলিয়ে দিলাম। আমি তাঁকে তাঁর ছেলে ইসহাক এবং তাঁর নাতি ইয়াকূবকে দিলাম। উপরন্তু আমি এঁদের প্রত্যেককে নবীও বানিয়ে দিলাম।
তাফসীর
৪৯-৫০ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা বলছেন যে, হযরত ইবরাহীম খলীল (আঃ) পিতামতা, আত্মীয় স্বজন, দেশ ও গোত্রকে আল্লাহর দ্বীনের উপর উৎসর্গ করেছিলেন। এই সব থেকে তিনি পৃথক হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি নিজেকে তাদের থেকে মুক্ত ও পৃথক বলে ঘোষণা করেন। ফলে আল্লাহ তাআলা তাঁকে দান করেন ইসহাককে (আঃ) এবং ইসহাককে (আঃ) দান করেন ইয়াকূবকে (আঃ)। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তিনি ইয়াকূবকে (আঃ) অতিরিক্ত রূপে দান করেন।” (২১৪ ৭২) আর একটি আয়াতে আছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “ইসহাকের (আঃ) পিছনে ইয়াকূবকে (আঃ) দান করেন।” (১১:৭১) সুতরাং হযরত ইসহাক (আঃ) ছিলেন হযরত ইয়াকুবের (আঃ) পিতা।
যেমন সূরায়ে বাকারায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমরা কি হাজির ছিলে যখন ইয়াকূবের (আঃ) মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়। তখন সে তার পুত্রদেরকে বলেঃ আমার পরে তোমরা কার ইবাদত করবে? উত্তরে তারা বলেঃ আমরা ইবাদত করবো আপনার মাবুদের এবং আপনার পিতৃ পুরুষ ইবরাহীম (আঃ), ইসমাঈল (আঃ) এবং ইসহাকের (আঃ) মাবুদের।” (২:১৩৩) সুতরাং এখানে ভাবার্থ হচ্ছেঃ আমি তার বংশক্রম চালু রেখেছি। তাকে আমি পুত্র দান করেছি এবং পুত্রকে পুত্র দান করেছি এবং এভাবে তার চক্ষু ঠাণ্ডা রেখেছি। এটা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান যে, হযরত ইয়াকুবের (আঃ) পর তাঁর পুত্র হযরত ইউসুফ (আঃ) নবী হন।
এখানে তার কথা উল্লেখ করা হয় নাই। কেননা, হযরত ইউসুফের (আঃ) নুবওয়াতের সময় হযরত ইবরাহীম (আঃ) জীবিত ছিলেন না। এই দুজন অর্থাৎ হযরত ইসহাক (আঃ) ও হযরত ইয়াকুবের (আঃ) নুবওয়াত তার জীবদ্দশায় তাঁর সামনেই ছিল। এই জন্যেই এই অনুগ্রহের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহকে (সঃ) প্রশ্ন করা হয়েছিলঃ “সর্বাপেক্ষা উত্তম ব্যক্তি কে? উত্তরে তিনি বলেছিলেনঃ “আল্লাহর নবী ইউসুফ (আঃ), তার পিতা আল্লাহর নবী ইয়াকূব (আঃ), তার পিতা আল্লাহর নবী ইসহাক (আঃ) এবং তাঁর পিতা আল্লাহর নবী ও খলীল ইবরাহীম (আঃ)।” অন্য শব্দে রয়েছেঃ “কারীম ইবনু কারীম, ইবনু কারীম, ইবনু কারীম ইউসুফ ইবনু ইয়াকূব, ইবনু ইসহাক, ইবনু ইবরাহীম।
(সবারই উপর শান্তি বর্ষিত হোক)।”মহান আল্লাহ বলেনঃ তাদেরকে আমি দান করলাম আমার অনুগ্রহ এবং তাদেরকে দিলাম সমুচ্চ খ্যাতি। সারা দুনিয়াবাসী আজ তাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তাঁদের সবারই উপর আল্লাহর দুরূদও সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর তিনি যখন তাদের থেকে ও তারা আল্লাহ্ ছাড়া যাদের ‘ইবাদাত করত সেসব থেকে পৃথক হয়ে গেলেন, তখন আমরা তাকে দান করলাম ইসহাক ও ইয়া’কুব এনং প্রত্যেককে নবী করলাম [১]
[১] পূর্ববতী বাক্যে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর উক্তি বর্ণিত হয়েছে যে, আমি আশা করি, আমার পালনকতাঁর কাছে দোআ করে আমি বঞ্চিত ও বিফল মনোরথ হব না। বাহ্যতঃ এখানে গৃহ ও পরিবারবর্গ ত্যাগ করার পর নিঃসঙ্গতার আতঙ্ক ইত্যাদি থেকে আত্মরক্ষার দো'আ বোঝানো হয়েছিল। আলোচ্য বাক্যে এই দোআ কবুল করার কথা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যে, ইবরাহীম আলাইহিস সালাম যখন আল্লাহর জন্য নিজ গৃহ, পরিবারবর্গ ও তাদের দেব-দেবীকে পরিহার করলেন, তখন আল্লাহ তা'আলা। তাকে পুত্র ইসহাক দান করলেন। এই পুত্ৰ যে দীর্ঘায়ু ও সন্তানের পিতা হয়েছিলেন তাও "ইয়াকুব (পৌত্ৰ) শব্দ যোগ করে বর্ণনা করে দেয়া হয়েছে।
পুত্ৰ দান থেকে বোঝা যায় যে, ইতিপূর্বে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বিবাহ করেছিলেন। কাজেই আয়াতের সারমর্ম এই দাঁড়াল যে আল্লাহ তা'আলা তাকে পিতার পরিবারের চাইতে উত্তম একটি স্বতন্ত্র পরিবার দান করলেন, যা নবী ও সৎকর্মপরায়ণ মহাপুরুষদের সমন্বয়ে গঠিত ছিল। [দেখুন, ইবন কাসীর, ফাতহুল কাদীর]
[সূরা মারইয়াম (১৯): আয়াত ৪১ থেকে ৫০] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা মারইয়াম (১৯): আয়াত ৪১ থেকে ৫০]আর আপনি কিতাবে ইব্রাহীমের কথা উল্লেখ করুন, নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন পরম সত্যবাদী, একজন নবী। (৪১) যখন তিনি তাঁর পিতাকে বললেন, হে আমার পিতা! আপনি কেন এমন কিছুর ইবাদত করেন যা শোনে না, দেখে না এবং আপনার কোনো উপকারে আসে না? (৪২) হে আমার পিতা! আমার কাছে এমন জ্ঞান এসেছে যা আপনার কাছে আসেনি, সুতরাং আপনি আমার অনুসরণ করুন, আমি আপনাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করব। (৪৩) হে আমার পিতা! আপনি শয়তানের দাসত্ব করবেন না, নিশ্চয়ই শয়তান দয়াময় আল্লাহর অবাধ্য। (৪৪) হে আমার পিতা! আমি আশঙ্কা করছি যে, দয়াময় আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো আজাব আপনাকে স্পর্শ করবে, ফলে আপনি শয়তানের বন্ধু হয়ে যাবেন।
(৪৫)তিনি (পিতা) বললেন, হে ইব্রাহীম! তুমি কি আমার উপাস্যদের থেকে বিমুখ? যদি তুমি বিরত না হও, তবে আমি অবশ্যই তোমাকে পাথর মেরে হত্যা করব; তুমি দীর্ঘ সময়ের জন্য আমার থেকে দূরে চলে যাও। (৪৬) তিনি (ইব্রাহীম) বললেন, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, আমি আমার রবের কাছে আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব, নিশ্চয়ই তিনি আমার প্রতি অত্যন্ত মেহেরবান। (৪৭) আমি তোমাদের থেকে এবং আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের উপাসনা করো তাদের থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছি, আর আমি আমার রবেরই ইবাদত করব; আশা করি আমার রবের ইবাদত করে আমি বঞ্চিত হব না। (৪৮) অতঃপর তিনি যখন তাদের থেকে এবং আল্লাহ ছাড়া তারা যাদের ইবাদত করত তাদের থেকে পৃথক হয়ে গেলেন, তখন আমরা তাঁকে ইসহাক ও ইয়াকুব দান করলাম এবং প্রত্যেককেই নবী বানালাম।
(৪৯) আর আমরা তাঁদেরকে আমাদের রহমত দান করলাম এবং তাঁদের জন্য সুউচ্চ সুখ্যাতির ব্যবস্থা করলাম। (৫০)আল্লাহ তাআলার বাণী: (আর কিতাবে ইব্রাহীমের কথা উল্লেখ করুন, নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন পরম সত্যবাদী, একজন নবী) এর অর্থ হলো: আপনার প্রতি নাযিলকৃত কিতাব তথা কুরআনে ইব্রাহীমের কাহিনী ও তাঁর সংবাদ বর্ণনা করুন। 'সিদ্দিক' শব্দের অর্থ 'নিসা' সূরায় এবং 'সিদক' শব্দের ব্যুৎপত্তি 'বাকারা' সূরায় গত হয়েছে, তাই এখানে তার পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন নেই। আয়াতের মর্মার্থ হলো: হে মুহাম্মদ! আপনি তাদের সামনে কুরআন থেকে ইব্রাহীমের বিষয়টি পাঠ করুন, কারণ তারা জানে যে তারা তাঁরই সন্তান; তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলিম এবং তিনি কোনো অংশীদার গ্রহণ করতেন না।
তাহলে এরা কেন অংশীদার গ্রহণ করছে?! এটি আল্লাহর সেই বাণীর মতো: "আর যে নিজেকে নির্বোধ করেছে সে ছাড়া ইব্রাহীমের আদর্শ থেকে কে বিমুখ হতে পারে? ১৩০" [বাকারা: ১৩০]। আল্লাহ তাআলার বাণী: (যখন তিনি তাঁর পিতাকে বললেন)আর তিনি হলেন আজর, যার আলোচনা পূর্বে গত হয়েছে। (হে আমার পিতা!)এ বিষয়ে আলোচনা 'ইউসুফ' সূরায় গত হয়েছে। (কেন আপনি ইবাদত করেন)অর্থাৎ কী কারণে আপনি উপাসনা করেন: (এমন কিছুর যা শোনে না, দেখে না এবং আপনার কোনো উপকারে আসে না)(১). দেখুন খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ২৭২।(২). দেখুন খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৩৩ এবং খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৩২।(৩). দেখুন খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ২২।(৪).
দেখুন খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ১২১। [ ..... ](
