Maryam

মারইয়াম: 75

19:75
19 মারইয়াম Maryam · 98 আয়াত مريم

আরবি

قُلْ مَن كَانَ فِى ٱلضَّلَـٰلَةِ فَلْيَمْدُدْ لَهُ ٱلرَّحْمَـٰنُ مَدًّا ۚ حَتَّىٰٓ إِذَا رَأَوْا۟ مَا يُوعَدُونَ إِمَّا ٱلْعَذَابَ وَإِمَّا ٱلسَّاعَةَ فَسَيَعْلَمُونَ مَنْ هُوَ شَرٌّ مَّكَانًا وَأَضْعَفُ جُندًا

English Translations

Sahih International

Say, "Whoever is in error - let the Most Merciful extend for him an extension [in wealth and time] until, when they see that which they were promised - either punishment [in this world] or the Hour [of resurrection] - they will come to know who is worst in position and weaker in soldiers."

Muhsin Khan

Say (O Muhammad SAW) whoever is in error, the Most Beneficent (Allah) will extend (the rope) to him, until, when they see that which they were promised, either the torment or the Hour, they will come to know who is worst in position, and who is weaker in forces. [This is the answer for the Verse No. 19:73]

Taqi Usmani

Say, “Whoever stays straying, let his term be extended by the All-Merciful (Allah) still longer, until when they will see what they are being warned of: either the punishment or the Hour (of Doom), then they will know who was worse in his place and weaker in his forces.

Abul Ala Maududi

Say: "The Most Compassionate Lord grants respite to those who stray into error, until they behold what they had been threatened with, either God's chastisement (in the world) or the Hour (of Resurrection)" - then they fully know whose station is worse, and who is weaker in hosts!

Pickthall

Say: As for him who is in error, the Beneficent will verily prolong his span of life until, when they behold that which they were promised, whether it be punishment (in the world), or the Hour (of doom), they will know who is worse in position and who is weaker as an army.

Yusuf Ali

Say: "If any men go astray, (Allah) Most Gracious extends (the rope) to them, until, when they see the warning of Allah (being fulfilled) - either in punishment or in (the approach of) the Hour,- they will at length realise who is worst in position, and (who) weakest in forces!

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

বল, যারা গুমরাহীতে পড়ে আছে, দয়াময় তাদের জন্য (রশি) ঢিল দিয়ে দেন, যে পর্যন্ত না তারা দেখতে পাবে যার ওয়া‘দা তাদেরকে দেয়া হচ্ছে- তা শাস্তিই হোক কিংবা ক্বিয়ামতই হোক।’ তখন তারা জানতে পারবে মর্যাদায় কে নিকৃষ্ট আর জনবলে দুর্বল।

রাওয়াই আল-বায়ান

বল, ‘যে বিভ্রান্তিতে রয়েছে তাকে পরম করুণাময় প্রচুর অবকাশ দেবেন, যতক্ষণ না তারা যে বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তা প্রত্যক্ষ করবে, চাই তা আযাব হোক অথবা কিয়ামত। তখন তারা জানতে পারবে কে মর্যাদায় নিকৃষ্ট ও দলবলে দুর্বল।

শাইখ মুজিবুর রহমান

বলঃ যারা বিভ্রান্তিতে আছে, দয়াময় তাদেরকে প্রচুর অবকাশ দিবেন যতক্ষণ না তারা, যে বিষয়ে তাদেরকে সতর্ক করা হচ্ছে তা প্রত্যক্ষ করবে, তা শাস্তি হোক অথবা কিয়ামাতই হোক; অতঃপর তারা জানতে পারবে কে মর্যাদায় নিকৃষ্ট এবং কে দলবলে দুর্বল।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

বলুন, ‘যারা বিভ্রান্তিতে আছে, দয়াময় তাদেরকে প্রচুর অবকাশ দেবেন যতক্ষণ না তারা যে বিষয়ে তাদেরকে সতর্ক করা হচ্ছে তা দেখবে; তা শাস্তি হোক বা কেয়ামতই হোক। অতঃপর তারা জানতে পারবে কে মর্যাদায় নিকৃষ্ট ও কে দলবলে দুর্বল।

ফাতহুল মাজীদ

বল:‎ ‘যারা বিভ্রান্তি‎তে আছে, দয়াময় তাদেরকে প্রচুর ঢিল দেবেন যতক্ষণ না, যে বিষয়ে তাদেরকে সতর্ক করা হচ্ছে তা প্রত্যক্ষ করবে, সেটা শাস্তি‎ হোক অথবা কিয়ামতই হোক। অতঃপর তারা জানতে পারবে, কে মর্যাদায় নিকৃষ্ট ও কে দলবলে দুর্বল।

মুখতাসার

৭৫. হে রাসূল! আপনি বলে দিন: যারা নিজ ভ্রষ্টতায় উদ্ভ্রান্ত তাদেরকে দয়ালু প্রভু অচিরেই আরো সময় দিবেন যেন তারা আরো বেশি পথভ্রষ্ট হয়। যখন তারা তাদের সাথে ওয়াদাকৃত দুনিয়ার নগদ ও কিয়ামতের দিনের বাকি শাস্তি দেখবে তখন তারা অচিরেই বুঝতে পারবে যে, কার অবস্থান অতি নিকৃষ্ট এবং কার সাহায্যকারী খুবই নগণ্য। সেটি তাদের দল না মু’মিনদের দল?

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবীকে (সঃ) সম্বোধন করে বলছেনঃ হে মুহাম্মদ (সঃ)! যে সব কাফির দাবী করছে যে, তুমি অন্যায় পথে আছ এবং তারা ন্যায়ের পথে রয়েছে এবং নিজেদের স্বচ্ছল জীবনকে নিরাপদ ও শান্তিময় জীবন মনে করে নিয়েছে, তাদেরকে বলে দাওঃ বিভ্রান্তদের রশি দীর্ঘ হয়ে থাকে। তাদেরকে আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে অবকাশ দেয়া হয়ে থাকে। যে পর্যন্ত না কিয়ামত সংঘটিত হয় বা তারা মৃত্যু মুখে পতিত হয়। প্রকৃতপক্ষে কারা মন্দ লোক ছিল এবং কাদের সাথী দুর্বল ছিল, ঐ সময় তারা তা পূর্ণরূপে জানতে পারবে। দুনিয়া তো কচুর পাতার পানির ন্যায় টলমলে। না ওর নিজের কোন নিশ্চয়তা আছে, না ওর আসবাবপত্রের কোন স্থায়ীত্ব রয়েছে। এই আয়াতে যেন মুশরিকদেরকে চ্যালেঞ্জ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ কারা সঠিক পথে আছে এবং কারা ভুল পথে আছে এটা প্রমাণ করার জন্যে তাদেরকে মুবাহালায় (দু' দলে নিজেদের ছেলেমেয়ে ও স্ত্রী পরিজনকে নিয়ে মাঠে হাজির হয়ে পরস্পর এই দুআ করা যে, দু'দলের মধ্যে যারা ভুল পথে আছে তাদেরকে যেন আল্লাহ তাআলা ধবংস করে দেন। এটাকেই মুবাহালা বলা হয়) আসতে বলা হয়েছে। সুরায়ে জুমআয় যেমন ইয়াহুদীদেরকে মুবাহালায় অবতীর্ণ হতে বলা হয়েছিল। তাদেরকে বলা হয়েছিলঃ “(হে নবী সঃ)! তাদেরকে বলে দাওঃ যদি তোমরা মনে কর যে, তোমরাই আল্লাহর বন্ধু, অন্য কোন মানব গোষ্ঠী নয়; তবে তোমরা মৃত্যু কামনা কর; যদি তোমরা সত্যবাদী হও।”অনুরূপভাবে সুরায়ে আল-ইমরানে মুবাহালার উল্লেখ করে বলা হয়েছেঃ “যখন তোমরা তোমাদের মতের বিপরীত দলীল শুনেও ঈসাকে (আঃ) আল্লাহর পুত্র বলেই দাবী করছো তখন এসো, হাযির হও এবং মিথ্যাবাদীদের উপর আল্লাহর লানত পড়ার প্রার্থনা কর। তখন এই মুবহালায় মুশরিক, ইয়াহূদী এবং খৃস্টান কেউই অবতীর্ণ হতে সম্মত হয় নাই।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

বলুন, ‘যারা বিভ্রান্তিতে আছে , দয়াময় তাদেরকে প্রচুর অবকাশ দেবেন যতক্ষণ না তারা যে বিষয়ে তাদেরকে সতর্ক করা হচ্ছে তা দেখবে; তা শাস্তি হোক বা কেয়ামতই হোক [১]। অতঃপর তারা জানতে পারবে কে মর্যাদায় নিকৃষ্ট ও কে দলবলে দুর্বল।

[১] কাফের মুশরিকদের অবাধ্যতার পরও আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে অবকাশ দিতে থাকেন তারপর সময়মত তাদের ঠিকই পাকড়াও করেন। তাদের সে পাকড়াও কখনও দুনিয়াতে হয় আবার কখনো কখনো তা কিয়ামতের মাঠ পর্যন্ত বর্ধিত হয়। অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন: “কাফিরগণ যেন কিছুতেই মনে না করে যে, আমি অবকাশ দেই তাদের মংগলের জন্য; আমি অবকাশ দিয়ে থাকি যাতে তাদের পাপ বৃদ্ধি পায় এবং তাদের জন্য লাঞ্চনাদায়ক শাস্তি রয়েছে।” [সূরা আলে-ইমরান: ১৭৮] অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, “তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল তারা যখন তা ভুলে গেল তখন আমি তাদের জন্য সবকিছুর দরজা খুলে দিলাম; অবশেষে তাদেরকে যা দেয়া হল যখন তারা তাতে উল্লসিত হল তখন হঠাৎ তাদেরকে ধরলাম; ফলে তখনি তারা নিরাশ হল।” [সূরা আল-আন’আম: ৪৪] কোন কোন মুফাসসির বলেন, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে কাফের মুশরিকদের জন্য পেশকৃত মুবাহালা’ বা প্রত্যেকে প্রত্যেকের জন্য মৃত্যুর দোআ করবে, কারণ যদি তোমাদের এটাই মনে হয় যে, তোমরা আল্লাহর কাছে প্রিয় হওয়ার কারণেই দুনিয়ার জিনিস বেশী পাচ্ছ, তাহলে মৃত্যু কামনা কর। তখন দেখা যাবে আসলে কারা আল্লাহর প্রিয়। [তাবারী]