Maryam
মারইয়াম: 51
19 মারইয়াম Maryam · 98 আয়াত مريم
মূল আরবি
وَٱذْكُرْ فِى ٱلْكِتَـٰبِ مُوسَىٰٓ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ مُخْلَصًا وَكَانَ رَسُولًا نَّبِيًّا
English Translations
And mention in the Book, Moses. Indeed, he was chosen, and he was a messenger and a prophet.
And mention in the Book (this Quran) Musa (Moses). Verily! He was chosen and he was a Messenger (and) a Prophet.
And mention in the Book (the story of) Mūsā. Indeed he was a chosen one and was a messenger, a prophet.
And recite in the Book the account of Moses. He was a chosen one, a Messenger, a Prophet.
And make mention in the Scripture of Moses. Lo! he was chosen, and he was a messenger (of Allah), a prophet.
Also mention in the Book (the story of) Moses: for he was specially chosen, and he was a messenger (and) a prophet.
বাংলা অনুবাদ
এ কিতাবে উল্লেখিত মূসার কথা স্মরণ কর, সে ছিল বিশেষভাবে মনোনীত, আর একজন রসূল ও নবী।
আর স্মরণ কর এই কিতাবে মূসাকে। অবশ্যই সে ছিল মনোনীত এবং সে ছিল রাসূল, নবী।
এই কিতাবে উল্লেখিত মূসার কথা বর্ণনা কর, সে ছিল বিশুদ্ধ চিত্ত এবং সে ছিল রাসূল, নাবী।
আর স্মরণ করুন এ কিতাবে মূসাকে, তিনি ছিলেন বিশেষ মনোনীত এবং তিনি ছিলেন রাসুল, নবী।
স্মরণ কর এ কিতাবে মূসার কথা, সে ছিল বিশেষ মনোনীত এবং সে ছিল রাসূল, নাবী।
৫১. হে রাসূল! আপনি নিজের উপর নাযিলকৃত কুর‘আনে মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর বৃত্তান্ত উল্লেখ করুন। তিনি ছিলেন বিশেষভাবে মনোনীত একজন নবী ও রাসূল।
তাফসীর
৫১-৫৩ নং আয়াতের তাফসীর: স্বীয় খলীলের (আঃ) বর্ণনার পর আল্লাহর স্বীয় কালীমের (অর্থাৎ মূসা কালীমুল্লাহর (আঃ) বর্ণনা শুরু করলেন।(আরবী) এর দ্বিতীয় পঠন (আরবী) ও রয়েছে। অর্থাৎ হযরত মূসা (আঃ)। আন্তরিকতার সাথে আল্লাহর ইবাদতকারী ছিলেন। বর্ণিত আছে যে, হযরত ঈসাকে (আঃ) তাঁর অনুসারী হাওয়ারীরা প্রশ্ন করেছিলঃ “(হে রূহুল্লাহ (আঃ)! বলুন তো, ‘মুখলিস' ব্যক্তি কে?" উত্তরে তিনি বলেছিলেনঃ “যে শুধু মাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে আমল করে। লোকে তার প্রশংসা করুক এটা তার উদ্দেশ্য থাকে না।" অন্য কিরআত (আরবী) রয়েছে। অর্থাৎ হযরত মূসা (আঃ) আল্লাহ তাআলার মনোনীত ও নির্বাচিত বান্দা ছিলেন।
যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি তোমাকে লোকদের উপর মনোনীত করেছি।”(৭:১৪৪) হযরত মূসা (আঃ) আল্লাহ তাআলার নবী ও রাসূল ছিলেন। পাঁচজন বড় মর্যাদাসম্পন্ন ও স্থির প্রতিজ্ঞ রাসূলদের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন। অর্থাৎ নূহ (আঃ), ইবরাহীম (আঃ), মূসা (আঃ), ঈসা (আঃ) এবং মুহাম্মদ (সঃ)। তাদের উপর এবং অন্যান্য সমস্ত ব্বীর উপর আল্লাহর দুরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক।মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ তাকে আমি আহবান করেছিলাম তুর পর্বতের দক্ষিণ দিক হতে এবং আমি গূঢ়তত্ত্ব আলোচনারত অবস্থায় তাকে নিকটবর্তী করেছিলাম। এটা ঐ সময়ের ঘটনা, যখন তিনি আগুনের সন্ধানে বের হয়ে তূর পাহাড়ের দিকে আগুন দেখতে পান এবং সেই দিকে অগ্রসর হন।
হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) প্রভৃতি গুরুজন বলেনঃ তিনি এতো নিকটবর্তী হন যে, কলমের শব্দ শুনতে পান। এর দ্বারা তাওরাত লিখার কলমকে বুঝানো হয়েছে। সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, তিনি আকাশে যান এবং আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার সাথে কথা বলেন। বর্ণিত আছে যে, তার সাথে আল্লাহ তাআলার যে সব কথোপকথন হয়েছিল তার মধ্যে এটাও ছিলঃ “হে মূসা (আঃ)! যখন আমি তোমার অন্তরকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী ও তোমার যবানকে আমার স্মরণকারী বানিয়ে দেবো, আর তোমাকে এমন স্ত্রী দান করবো যে পুণ্যের কাজে তোমার সহায়িকা হয়, তখন তুমি জানবে যে, তোমাকে আমি কোন কল্যাণই দান করতে ছাড়ি নাই।
আর যাকে একটি জিনিস দান করি না, সে যেন মনে করে নেয় যে, তাকে আমি কোন কল্যাণই দান করি নাই। মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি মূসার (আঃ) উপর আর একটি অনুগ্রহ এই করেছিলাম যে, তার ভাই হারূণকে (আঃ) নবী করে তার সাহায্যার্থে তার সঙ্গী করেছিলাম। এটা সে আকাংখাও করেছিল ও প্রার্থনা জানিয়েছিল। যেমন মহান আল্লাহ তাঁর প্রার্থনার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমার ভ্রাতা হারূণ (আঃ) আমা অপেক্ষা বাগ্মী; অতএব, তাকে আমার সাহায্যকারীরূপে প্রেরণ করুন!” (২৮:৩৪) অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে মূসা (আঃ)! তোমার প্রার্থনা কবূল করা হলো।" (২০:৩৬) তার দু’আর শব্দ (আরবী) (২৬:১৩) এরূপও রয়েছে।
অর্থাৎ “হারূণকেও (আঃ) রাসল বানিয়ে দিন।" বর্ণিত আছে যে, এর চেয়ে বড় প্রার্থনা এবং এরচেয়ে বড় সুপারিশ দুনিয়ায় কেউই কারো জন্যে করে নাই। হযরত হারূণ (আঃ) হযরত মূসার (আঃ) চেয়ে বড় ছিলেন। তাঁদের উভয়ের উপর আল্লাহর দুরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
আর স্মরণ করুন এ কিতাবে মূসাকে , তিনি ছিলেন বিশেষ মনোনীত [১] এবং তিনি ছিলেন রাসুল, নবী।
চতুর্থ রুকু’
[১] مخلَصًا এর মানে হচ্ছে, “বিশেষভাবে মনোনিত করা, একান্ত করে নেয়া।” [ইবন কাসীর] অনুরূপভাবে মানুষের মধ্যে সে ব্যক্তি মুখলিস যে ব্যক্তি একান্তভাবে আল্লাহর জন্য আমল করে, মানুষ এর প্রশংসা করুক এটা চায় না। [ইবন কাসীর] মূসা আলাইহিসসালাম এ ধরনের বিশেষ গুণে বিশেষিত থাকায় মহান আল্লাহ তাকে তার কাজের পুরস্কারস্বরূপ একান্তভাবে নিজের করে নিয়েছিলেন। আল্লাহ তা'আলা যে ব্যক্তিকে নিজের জন্যে খাঁটি করে নেন তিনি পরম সৌভাগ্যবান ব্যক্তি। নবীগণই বিশেষভাবে এ গুণে গুণান্বিত হন, যেমন- কুরআনের অন্যত্র বলা হয়েছেঃ “আমি তাদেরকে (নবীদেরকে) আখেরাতের স্মরণ করা কাজের জন্যে একান্ত করে নিয়েছি।" [সূরা ছোয়াদঃ ৪৬]
[সূরা মারইয়াম (১৯): আয়াত ৫১ থেকে ৫৩] পূর্ণ পৃষ্ঠা
আমি বলছি: প্রথম মতের অনুসারীগণ এই মর্মে দলিল পেশ করেছেন যে, 'সালাম' যা অভিবাদন অর্থে ব্যবহৃত হয়, তা কেবল এই উম্মতের জন্যই নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এর সপক্ষে তাঁরা আনাস ইবনে মালিক বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করেন, যেখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমার উম্মতকে এমন তিনটি বিষয় দান করেছেন যা তাদের পূর্বে কাউকে দেওয়া হয়নি: সালাম, যা জান্নাতবাসীদের অভিবাদন) - হাদিসটি আল-হাকিম আত-তিরমিজি উল্লেখ করেছেন এবং এর সনদসহ বর্ণনা ইতিপূর্বে সূরা ফাতিহার আলোচনায় অতিক্রান্ত হয়েছে। আর তাঁর বাণী: "আমি তোমার জন্য আমার প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করব"-এর অর্থের আলোচনাও পূর্বে চলে গেছে।
এখানে 'সালাম' শব্দটি প্রারম্ভিক পদ (মুবতাদা) হিসেবে পেশযুক্ত (রাফা) হয়েছে; আর এটি অনির্দিষ্ট (নাকিরা) হওয়া সত্ত্বেও এমনটি হওয়া বৈধ হয়েছে, কারণ এটি একটি বিশেষায়িত অনির্দিষ্ট শব্দ যা নির্দিষ্ট শব্দের সমপর্যায়ভুক্ত হয়েছে। মহান আল্লাহর বাণী: (নিশ্চয়ই তিনি আমার প্রতি অত্যন্ত মেহেরবান): 'হাফি' (حَفِيّ) বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যে সদাচরণ ও অনুগ্রহ প্রদর্শনে অতিশয়তা করে। বলা হয়ে থাকে: সে তার প্রতি 'হাফিয়া' বা 'তাহাফ্ফা' করেছে, অর্থাৎ তার সাথে সদয় আচরণ করেছে। কিসায়ী বলেন: 'হাফিয়া বি' অর্থ সমাদর ও সম্মান করা। আর ফাররা বলেন: "তিনি আমার প্রতি অত্যন্ত মেহেরবান" এর অর্থ হলো—তিনি সম্যক অবগত ও দয়াময়, যিনি আমি ডাকলে সাড়া দেন।
মহান আল্লাহর বাণী: (আর আমি তোমাদের বর্জন করছি): 'ই'তিজাল' অর্থ হলো সম্পর্কচ্ছেদ বা পৃথক হওয়া, যার বর্ণনা ইতিপূর্বে সূরা কাহাফের আলোচনায় গত হয়েছে। আর তাঁর বাণী: (আশা করি আমার প্রতিপালকের নিকট দুআ করে আমি বঞ্চিত হব না): বলা হয়েছে যে, এই দুআর মাধ্যমে তিনি চেয়েছিলেন যেন আল্লাহ তাআলা তাঁকে এমন পরিবার ও সন্তান দান করেন যাদের মাধ্যমে তিনি শক্তি লাভ করতে পারেন, যাতে স্বজাতি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে তিনি একাকীত্ব বোধ না করেন। একারণেই আল্লাহ বলেছেন: (অতঃপর তিনি যখন তাদেরকে এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইবাদত করত তাদের বর্জন করলেন, তখন আমরা তাকে দান করলাম ইসহাক ও ইয়াকুব)।
অর্থাৎ, আমরা সন্তানের মাধ্যমে তাঁর একাকীত্ব দূর করলাম—এটি ইবনে আব্বাস ও অন্যদের থেকে বর্ণিত। আবার কেউ কেউ বলেছেন: 'আশা করি' (عسى) শব্দটি নির্দেশ করে যে, বান্দা নিশ্চিতভাবে জানে না যে ভবিষ্যতে সে ঈমানের ওপর অটল থাকবে কি না। আবার বলা হয়েছে: তিনি তাঁর পিতার হেদায়াতের জন্য দুআ করেছিলেন। এখানে 'আশা' শব্দটি অনিশ্চয়তা অর্থে এসেছে, কারণ তিনি জানতেন না যে তাঁর এই দুআ কবুল হবে কি না। তবে প্রথম মতটিই অধিকতর সুস্পষ্ট। আর মহান আল্লাহর বাণী: (আর আমরা তাদের জন্য সুউচ্চ সুখ্যাতি দান করেছি) ৫০—অর্থাৎ আমরা তাদের উত্তম প্রশংসা ও সুউচ্চ মর্যাদা দান করেছি, কেননা সকল ধর্মাদর্শের অনুসারীরাই তাদের প্রশংসা করে থাকে।
'লিসান' (জিহ্বা/ভাষা) শব্দটি পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়, যা পূর্বে আলোচিত হয়েছে। [সূরা মারইয়াম (১৯): আয়াত ৫১ থেকে ৫৩]আর এই কিতাবে মূসার কথা আলোচনা করুন, নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ এবং তিনি ছিলেন একজন রাসুল ও নবী। (৫১) আর আমরা তাঁকে তূর পাহাড়ের ডান দিক থেকে আহ্বান করলাম এবং নিভৃতে কথোপকথনের জন্য তাঁকে নিকটবর্তী করলাম। (৫২) আর আমরা আমাদের অনুগ্রহে তাঁর ভাই হারুনকে নবীরূপে দান করলাম। (৫৩)(১). দ্রষ্টব্য: ১ম খণ্ড, ১৩০ পৃষ্ঠা।(২). দ্রষ্টব্য: ১০ম খণ্ড, ৩৬৭ পৃষ্ঠা।(৩). দ্রষ্টব্য: ১ম খণ্ড, ১২১ পৃষ্ঠা।
