Maryam
মারইয়াম: 10
19 মারইয়াম Maryam · 98 আয়াত مريم
মূল আরবি
قَالَ رَبِّ ٱجْعَل لِّىٓ ءَايَةً ۚ قَالَ ءَايَتُكَ أَلَّا تُكَلِّمَ ٱلنَّاسَ ثَلَـٰثَ لَيَالٍ سَوِيًّا
English Translations
[Zechariah] said, "My Lord, make for me a sign." He said, "Your sign is that you will not speak to the people for three nights, [being] sound."
[Zakariya (Zachariah)] said: "My Lord! Appoint for me a sign." He said: "Your sign is that you shall not speak unto mankind for three nights, though having no bodily defect."
He said, “My Lord, make for me a sign.” He said, “Your sign is that you will not (be able to) speak to the people for three (consecutive) nights, even though you will be sound in health.”
Zechariah said: "Lord, grant me a Sign." Said He: "Your Sign is that you shall not be able to speak to people for three nights, though you will be otherwise sound."
He said: My Lord! Appoint for me some token. He said: Thy token is that thou, with no bodily defect, shalt not speak unto mankind three nights.
(Zakariya) said: "O my Lord! give me a Sign." "Thy Sign," was the answer, "Shall be that thou shalt speak to no man for three nights, although thou art not dumb."
বাংলা অনুবাদ
সে বলল, ‘হে আমার পালনকর্তা! আমার জন্য একটা চিহ্ন স্থির করে দিন।’ তিনি বললেন, ‘তোমার চিহ্ন এই যে, তুমি তিন রাত মানুষের সঙ্গে কথা বলবে না যদিও তুমি কথা বলতে সক্ষম।’
সে বলল, ‘হে আমার রব, আমার জন্য একটি নিদর্শন ঠিক করে দিন’। তিনি বললেন, ‘তোমার জন্য এটাই নিদর্শন যে, তুমি সুস্থ থেকেও তিন রাত কারো সাথে কথা বলবে না’।
যাকারিয়া বললঃ হে আমার রাব্ব! আমাকে একটি নিদর্শন দিন। তিনি বললেনঃ তোমার নিদর্শন এই যে, তুমি সুস্থাবস্থায় কারও সাথে তিন দিন বাক্যালাপ করবেনা।
যাকারিয়্যা বললেন, ‘হে আমার রব! আমাকে একটি নিদর্শন দিন।’ তিনি বললেন, ‘আপনার নিদর্শন এ যে, আপনি সুস্থ থাকা সত্ত্বেও কারো সাথে তিন দিন কথাবার্তা বলবেন না।’
যাকারিয়া বলল: ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে একটি নিদর্শন দাও।’ তিনি বললেন: ‘তোমার নিদর্শন এই যে, তুমি সুস্থ থাকা সত্ত্বেও কারও সাথে তিন রাত বাক্যালাপ করবে না।’
১০. যাকারিয়া (আলাইহিস-সালাম) বললেন: হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমার জন্য একটি মনঃপূত আলামত ঠিক করুন যা ফিরিশতাদের দেয়া সুসংবাদ হাসিল হওয়া বুঝাবে। তিনি বললেন: আপনাকে দেয়া সুসংবাদ হাসিল হওয়ার আলামত হলো আপনি কোন রোগ ছাড়াই তিন দিন মানুষের সাথে কথা বলবেন না। বরং আপনি তখন সুস্থ ও রোগমুক্ত।
তাফসীর
১০-১১ নং আয়াতের তাফসীর: আরো বেশী মনের প্রশান্তি ও অন্তরের সান্ত্বনার জন্যে হযরত যাকারিয়া (আঃ) আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করেনঃ “হে আল্লাহ! এর কোন একটি নিদর্শন প্রকাশ করুন। যেমন হযরত ইবরাহীম (আঃ) মৃতকে পুনরুজ্জীবিত করণ দর্শনের আকাংখা এ জন্যেই প্রকাশ করেছিলেন। হযরত যাকারিয়ার (আঃ) প্রার্থনার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা তাকে বলেনঃ “তুমি মূক বা বোবা হবে না এবং রোগাক্রান্ত হবে না, কিন্তু তুমি লোকদের সাথে কথা বলতে পারবে না এবং ঐ সময় তোমার মুখ দিয়ে কথা সরবে না। তিন দিন ও তিন রাত এ অবস্থাই থাকবে। এটাই হলো নিদর্শন। হলোও তাই।
তিনি মুখে তাসবীহ পাঠ, ক্ষমতা প্রার্থনা ও প্রশংসা কীর্তন সবই করতে পারতেন। কিন্তু লোকদের সাথে কথা বলতে পারতেন না। হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এটাই বর্ণিত আছে যে, (আরবী) এর অর্থ হলো ক্রমাগত। অর্থাৎ ক্রমাগত তিন দিন ও তিন রাত যুবান পার্থিব কথা হতে বিরত থাকবে। প্রথম উক্তিটিও তার থেকেই বর্ণিত আছে এবং জমহূরের তাফসীরও এটাই। আর এটাই সঠিকও বটে। যেমন সূরায়ে আলে ইমরানে এর বর্ণনা গত হয়েছে যে, নিদর্শন চাওয়ায় আল্লাহ তাআলা বলেছিলেনঃ “তোমার লক্ষ্যণ এটাই যে, তুমি মানুষের সাথে কথা বলতে সমর্থ হবে না তিন দিন পর্যন্ত ইশারা ছাড়া; আর তুমি প্রচুর পরিমাণে যিকর করবে, আর তাসবীহ পাঠ করবে অপরাহেও।” সুতরাং ঐ তিন দিন ও তিন রাত তিনি লোকদের সাথে কথা বলতে পারতেন না।
ইশারা ইঙ্গিতে শুধু নিজেরা মনের কথা বুঝিয়ে দিতেন। কিন্তু এটা নয় যে, তিনি মূক হয়ে গিয়েছিলেন। এখন তিনি তাঁর যে কক্ষে গিয়ে নির্জনে সন্তানের জন্যে প্রার্থনা করেছিলেন, সেখান থেকে বের হয়ে আসেন এবং আল্লাহ তাআলা তাকে যে নিয়ামত দান করেছিলেন এবং যে যিকর ও তাসবীহ্ পাঠের তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল ঐ হুকুম তার কওমের উপরও হয়। কিন্তু তিনি কথা বলতে পারতেন না বলে ইশারায় তাদেরকে বুঝিয়ে দেন অথবা মাটিতে লিখে বুঝিয়ে দেন।
যাকারিয়্যা বললেন, ‘হে আমার রব! আমাকে একটি নিদর্শন দিন। তিনি বললেন, ‘আপনার নিদর্শন এ যে, আপনি সুস্থ [১] থাকা সত্ত্বেও কারো সাথে তিন দিন কথাবার্তা বলবেন না।
[১] سويًّا শব্দের অর্থ সুস্থ। শব্দটি একথা বোঝানোর জন্য যুক্ত করা হয়েছে যে, যাকারিয়্যা আলাইহিস সালাম এর কোন মানুষের সাথে কথা না বলার এ অবস্থাটি কোন রোগবশতঃ ছিল না। এ কারণেই আল্লাহর যিকর ও ইবাদতে তার জিহবা তিন দিনই পূর্ববৎ খোলা ছিল; বরং এ অবস্থা মু'জেযা ও গর্ভসঞ্চারের নিদর্শন স্বরূপই প্রকাশ পেয়েছিল। [ইবন কাসীর]
[سورة مريم (19): الآيات 1 الى 15] পূর্ণ পৃষ্ঠা
...এবং তিনি আমর ইবনে উমাইয়া আদ-দামরিকে প্রেরণ করলেন এবং তাঁর মাধ্যমে নাজাশির নিকট পত্র লিখে পাঠালেন। অতঃপর তিনি নাজাশির নিকট উপস্থিত হলেন এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পত্র পাঠ করলেন। এরপর নাজাশি জাফর ইবনে আবি তালিব ও মুহাজিরদের ডেকে পাঠালেন এবং ধর্মযাজক ও সন্ন্যাসীদের নিকট সংবাদ পাঠিয়ে তাদের একত্রিত করলেন। এরপর তিনি জাফরকে তাদের সামনে কুরআন পাঠ করার নির্দেশ দিলেন। জাফর সুরা মারইয়াম পাঠ করলেন: "কাফ-হা-ইয়া-আইন-সাদ"। তখন তারা দাঁড়িয়ে পড়লেন এবং তাঁদের চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হতে লাগল। এরাই সেই সব লোক যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেছেন: "এবং আপনি মুমিনদের প্রতি বন্ধুত্বে তাদেরই সবচেয়ে নিকটবর্তী পাবেন যারা বলে: আমরা খ্রিস্টান (নাসারা)।
এটি এজন্য যে, তাদের মধ্যে অনেক ধর্মযাজক ও সংসারবিরাগী সন্ন্যাসী রয়েছে এবং তারা অহংকার করে না।" [সুরা আল-মায়িদাহ: ৮২]। জাফর "আশ-শাহিদিন" (সাক্ষীগণ) পর্যন্ত পাঠ করলেন। এটি আবু দাউদ উল্লেখ করেছেন। সিরাত গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, নাজাশি জিজ্ঞেস করলেন: আল্লাহ যা নিয়ে এসেছেন তার মধ্য থেকে কোনো অংশ কি তোমার সাথে আছে? জাফর বললেন: হ্যাঁ। নাজাশি তাঁকে বললেন: তা আমার নিকট পাঠ করো। বর্ণনাকারী বলেন: জাফর পাঠ করলেন "কাফ-হা-ইয়া-আইন-সাদ", তখন আল্লাহর কসম, নাজাশি কাঁদলেন এমনকি তাঁর দাড়ি অশ্রুতে ভিজে গেল। আর তাঁদের বিশপগণও যখন তাঁদের প্রতি পঠিত বাণী শ্রবণ করলেন তখন তাঁরাও কাঁদলেন এবং তাঁদের দাড়ি ভিজে গেল।
এরপর নাজাশি বললেন: নিশ্চয়ই এটি এবং মুসা যা নিয়ে এসেছিলেন তা একই প্রদীপ থেকে বিচ্ছুরিত। তোমরা চলে যাও, আল্লাহর কসম, আমি তাঁদেরকে কখনো তোমাদের হাতে সোপর্দ করব না। এরপর তিনি সম্পূর্ণ ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন।পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। [সুরা মারইয়াম (১৯): আয়াত ১ থেকে ১৫]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।কাফ-হা-ইয়া-আইন-সাদ (১) এটি আপনার প্রতিপালকের অনুগ্রহের বর্ণনা তাঁর বান্দা জাকারিয়া (আ.)-এর প্রতি (২) যখন তিনি গোপনে তাঁর প্রতিপালককে আহ্বান করেছিলেন (৩) তিনি বলেছিলেন, 'হে আমার প্রতিপালক! আমার অস্থি দুর্বল হয়েছে, বার্ধক্যে মাথা শুভ্র হয়েছে এবং হে আমার প্রতিপালক, আপনাকে ডেকে আমি কখনো বঞ্চিত হইনি (৪)আর আমি আমার পরবর্তী উত্তরাধিকারীদের ব্যাপারে আশঙ্কাবোধ করছি, আর আমার স্ত্রী বন্ধ্যা; অতএব আপনি আপনার পক্ষ থেকে আমাকে একজন উত্তরাধিকারী দান করুন (৫) যে আমার উত্তরাধিকারী হবে এবং ইয়াকুবের বংশের উত্তরাধিকারী হবে; আর হে আমার প্রতিপালক, আপনি তাকে সন্তোষভাজন করুন (৬) হে জাকারিয়া!
আমি তোমাকে এক পুত্রের সুসংবাদ দিচ্ছি যার নাম হবে ইয়াহইয়া; ইতিপূর্বে আমি কাউকে এই সমনামধারী করিনি (৭) তিনি বললেন, 'হে আমার প্রতিপালক! কীভাবে আমার পুত্র হবে যখন আমার স্ত্রী বন্ধ্যা এবং আমি বার্ধক্যের শেষ সীমায় উপনীত হয়েছি?' (৮) তিনি বললেন, 'এভাবেই হবে।' আপনার প্রতিপালক বলেছেন, 'এটি আমার জন্য অতি সহজ; ইতিপূর্বে আমি আপনাকে সৃষ্টি করেছি যখন আপনি কিছুই ছিলেন না' (৯)তিনি বললেন, 'হে আমার প্রতিপালক! আমাকে একটি নিদর্শন দিন।' তিনি বললেন, 'আপনার নিদর্শন এই যে, আপনি পূর্ণ সুস্থ থাকা সত্ত্বেও তিন রাত মানুষের সাথে কথা বলতে পারবেন না' (১০) অতঃপর তিনি কক্ষ (মিহরাব) থেকে তাঁর সম্প্রদায়ের সামনে বের হয়ে এলেন এবং ইঙ্গিতে তাদের সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করতে বললেন (১১) হে ইয়াহইয়া!
এই কিতাবকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো। আর আমি শৈশবেই তাকে প্রজ্ঞা দান করেছিলাম (১২) এবং আমার পক্ষ থেকে তাকে কোমলতা ও পবিত্রতা দান করেছিলাম; আর তিনি ছিলেন অত্যন্ত মুত্তাকী (১৩) এবং তিনি তাঁর পিতা-মাতার প্রতি অনুগত ছিলেন, আর তিনি দাম্ভিক ও অবাধ্য ছিলেন না (১৪)আর শান্তি তাঁর প্রতি—যেদিন তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন, যেদিন তাঁর মৃত্যু হবে এবং যেদিন তাঁকে জীবিতাবস্থায় পুনরুত্থিত করা হবে (১৫)(১). ষষ্ঠ খণ্ড, ২৮৫ পৃষ্ঠা ও পরবর্তী অংশ দ্রষ্টব্য। [ ..... ](২). পাণ্ডুলিপি ‘জিম’, ‘কাফ’ এবং ‘ইয়া’ থেকে।
