Maryam
মারইয়াম: 85
19 মারইয়াম Maryam · 98 আয়াত مريم
মূল আরবি
يَوْمَ نَحْشُرُ ٱلْمُتَّقِينَ إِلَى ٱلرَّحْمَـٰنِ وَفْدًا
English Translations
On the Day We will gather the righteous to the Most Merciful as a delegation
The Day We shall gather the Muttaqun (pious - see V. 2:2) unto the Most Beneficent (Allah), like a delegate (presented before a king for honour).
The day We will assemble the God-fearing before the All-Merciful (Allah) as guests,
The Day shall soon come when We shall bring together the God-fearing to the Most Compassionate Lord, as honoured guests;
On the day when We shall gather the righteous unto the Beneficent, a goodly company.
The day We shall gather the righteous to (Allah) Most Gracious, like a band presented before a king for honours,
বাংলা অনুবাদ
যেদিন মুত্তাকীদেরকে দয়াময়ের নিকট একত্রিত করব সম্মানিত অতিথি হিসেবে।
যেদিন পরম করুণাময়ের নিকট মুত্তাকীদেরকে সম্মানিত মেহমানরূপে সমবেত করব,
যেদিন আমি দয়াময়ের নিকট মুত্তাকীদের সম্মানিত মেহমান রূপে সমবেত করব।
যেদিন দয়াময়ের নিকট মুত্তাকীগণকে সম্মানিত মেহমানরূপে আমরা সমবেত করব,
যেদিন দয়াময়ের নিকট মুত্তাকীদেরকে সম্মানিত মেহমানরূপে সমবেত করব,
৮৫. হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন কিয়ামতের দিনের কথা যখন আমি তাদের প্রতিপালকের আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকে ভয় করা লোকদেরকে নিজেদের প্রতিপালকের নিকট সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিনিধিরূপে একত্রিত করবো।
তাফসীর
৮৫-৮৭ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা তার সংযমী বন্ধু বান্দাদের সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন যে, যারা আল্লাহর কথার উপর ঈমান এনেছে, নবীদের সত্যতা স্বীকার করেছে,আল্লাহর আদেশ নিষেধ মেনে চলেছে, পাপকার্য থেকে দূরে রয়েছে এবং অন্তরে আল্লাহর ভয় রেখেছে তারা আল্লাহর সামনে সম্মানিত মেহমানরূপে। হাজির হবে। তারা জ্যোতির্ময় উষ্ট্রীয় সওয়ারীর উপর আরোহণ করে আসবে এবং আল্লাহর অতিথিশালায় সম্মানের সাথে প্রবেশ করবে। পক্ষান্তরে আল্লাহর অবাধ্য, পাপী ও রাসূলদের শত্রুদেরকে উল্টো মুখে টেনে হেঁচড়ে জাহান্নামের পার্শ্বে নিয়ে আসা হবে। ঐ সময় সে পিপাসায় কাতর হয়ে থাকবে।
এখন বলতো, মর্যাদা সম্পন্ন কে এবং উত্তম সঙ্গী বিশিষ্ট কে? মুমিন তার কবর। হতে মুখ উঠিয়ে দেখবে যে, তার সামনে একজন সুদর্শন লোক পরিষ্কারপরিচ্ছন্ন ও পবিত্র পোষাক পরিহিত হয়ে এবং সুগন্ধ ছড়িয়ে উজ্জ্বল চেহারা নিয়ে পঁড়িয়ে রয়েছে। সে জিজ্ঞেস করবেঃ “আপনি কে?” উত্তরে সে বলবেঃ “আমাকে চিনতে পারছেন না? আমি তো আপনার সৎ আমলেরই দেহাকৃতি। আপনার আমল ছিল জ্যোতির্ময়, সুন্দর ও সুগন্ধযুক্ত। আসুন, এখন আপনাকে আমি আমার কাঁধে উঠিয়ে সসম্মানে হাশরের মাঠে নিয়ে যাবো। কেননা, পার্থিব জীবনে আমি আপনার উপর সওয়ার হয়ে ছিলাম।” সুতরাং মু'মিন আল্লাহ তাআলার নিকট সওয়ারীর উপর সওয়ার হয়ে যাবে।
তার সওয়ারীর জন্যে উজ্জ্বল উটও প্রস্তুত থাকবে। এসব মুমিন আনন্দের সাথে ও সসম্মানে জান্নাতে প্রবেশ করবে। হযরত আলী (রাঃ) বলেনঃ “প্রতিনিধিদের জন্যে এই নিয়মই নেই যে, তারা পদব্রজে আসবে। এই খোদাভীরু লোকেরা এমন জ্যোতির্ময় উস্ত্রীর উপর সওয়ার হয়ে আসবে যে, সৃষ্টজীবের চোখে এর চেয়ে সুন্দর ও উত্তম সওয়ারী কখনও পড়ে নাই। ওগুলির জিন হবে সোনার। এই লোকগুলি জান্নাতের দরজা পর্যন্ত এই সওয়ারীগুলিরই উপর আরোহণ করে পৌঁছবে। ঐ উষ্ট্রীগুলির লাগাম হবে পোকরাজ পান্নার। (এটা একটি মারফু রিওয়াইয়াত। কিন্তু হাদীসটি খুবই গরীব বা দুর্বল) হযরত আলী (রাঃ) বলেনঃ “একদা আমি রাসূলুল্লাহর (সঃ) নিকট বসে ছিলাম।
তার সামনে আমি (আরবী) এই আয়াতটি তিলাওয়াত করি এবং বলিঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)! প্রতিনিধি তো সওয়ারীর উপর সওয়ার হয়ে এসে থাকে। তিনি বললেনঃ “যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে তার শপথ! যখন তারা তাদের কবর থেকে বের হবে তখন সাদা রঙ-এর জ্যোতির্ময় উষ্ট্রীগুলির উপর সোনার জিন থাকবে। ওগুলির পা হতে জ্যোতি উপরের দিকে উথিত হতে থাকবে। ঐ উষ্ট্রীগুলির এক একটি কদম এতো দূরের ব্যবধানে থাকবে যতদূরে দৃষ্টি যাবে। তারা ওগুলির উপর সওয়ার হয়ে একটি জান্নাতী বৃক্ষের নিকট পৌঁছবে। সেখান থেকে দুটি নহর প্রবাহিত হতে তারা দেখতে পাবে। তার একটির পানি পান করবে, যার ফলে তাদের অন্তরের সব কালিমা দূর হয়ে যাবে।
দ্বিতীয়টিতে তারা গোসল করবে। এর ফলে তাদের দেহ আলোকময় হয়ে যাবে আর তাদের মাথার চুল পরিপাটি হয়ে যাবে। এরপরে তাদের চুল আর কখনো এলোমেলো ও অপরিষ্কার হবে না। তাদের চেহারা হয়ে যাবে আলোকোজ্জ্বল। তারপর তারা জান্নাতের দরজায় পৌছে যাবে। স্বর্ণের দরজার উপর লাল ইয়াকৃত বা মণি মাণিক্যের হলকা থাকবে। তাতে তার করাঘাত করবে। এর ফলে একটা সুমধুর স্বর বের হবে এবং হৃরেরা বুঝতে পারবে যে, তাদের স্বামীরা এসে গেছে। জান্নাতের রক্ষক আসবে এবং দরজা খুলে দেবে। তারা তার জ্যোতির্ময় ও পরিচ্ছন্ন চেহারা দেখে সিজদায় পতিত হওয়ার ইচ্ছা করবে, কিন্তু তৎক্ষণাৎ সে বলে উঠবেঃ “আমি তো আপনাদেরই অনুগত এবং আপনাদের আদেশ পালন করতে বাধ্য।
তারা তখন তার সাথে চলতে থাকবে। তাদের হুরগুলি আর সহ্য করতে না পেরে তাবু থেকে বেরিয়ে পড়বে এবং তাদের সাথে কোলাকুলি করবে। অতঃপর তারা বলবেঃ “আপনারা তো আমাদের মাথার মুকুট। আপনারা আমাদের প্রেমিক এবং আমরা আপনাদের প্রেমিকা। আমরা চিরস্থায়ী জীবনের অধিকারিণী। আমাদের মৃত্যু নেই। আমরা শান্তি দায়িণী এবং এটা কখনো শেষ হবার নয়। আমরা সব সময় সন্তুষ্ট থাকবে এবং কখনো অসন্তুষ্ট হবে না। আমরা সদা এখানে অব স্থান করবো, কখনো বিচ্ছিন্ন হবো না। তারা ভিতরে প্রবেশ করে দেখবে যে, শত গজ উচু প্রাসাদ রয়েছে। ওর দেয়ালগুলি মণিমুক্তা এবং হলদে লাল ও সবুজ রঙ বিশিষ্ট সোনা দ্বারা নির্মিত।
প্রত্যেকটি দেয়াল পরস্পর সাদৃশ্যযুক্ত। প্রত্যেক ঘরে রয়েছে সত্তরটি সিংহাসন, প্রতিটি সিংহাসনে রয়েছে সত্তরটি হাশিয়া, প্রতিটি হাশিয়ায় রয়েছে সত্তরটি হুর, প্রত্যেক জ্বরের উপর রয়েছে সত্তরটি জোড়া। তথাপি, তাদের পায়ের গোছার ঝলক দেখা যায়, তাদের সহবাসের পরিমাণ হবে দুনিয়ার পূর্ণ একটি রাত্রির সমান। সেখানে নির্মল পানি খাটি দুধের যা জন্তু হতে দোহনকৃত নয়, উত্তম, সুস্বাদু, ক্ষতিকারক নয়। এইরূপ পবিত্র মদের এবং মৌমাছির পেট হতে নির্গত নয় এইরূপ খুঁটি মধুর নহর প্রবাহিত হবে। ফল দানকারী বৃক্ষ ফলের ভরে ঝুঁকে পড়বে। ইচ্ছা হলে দাড়িয়ে দাড়িয়ে ফল ছিড়বে, ইচ্ছা হলে বসে বসে এবং ইচ্ছা হলে শুয়েশুয়ে ফল ছিড়ে নেবে।
সবুজ ও সাদাপাখী উড়তে থাকবে।যেটারই গোশত খাওয়ার ইচ্ছা হবে তা নিজে নিজেই হাজির হয়ে যাবে। যেখানকার গোশত খাওয়ার ইচ্ছা হবে তাই খেয়ে নিবে। তারপর ঐ পাখি মহান আল্লাহর ক্ষমতা বলে পুনরায় জীবিত হয়ে উড়ে যাবে। চতুর্দিক থেকে ফেরেশতাগণ আসতে থাকবেন এবং সালাম করবেন। আর তাদেরকে শুভ সংবাদ জানিয়ে বলবেনঃ “আপনাদের উপর সালাম বর্ষিত হোক। এটা ঐ জান্নাত যার শুভসংবাদ আপনাদেরকে দেয়া হতো। আজ আপনাদেরকেও ওর মালিক বানিয়ে দেয়া হয়েছে। এটা হলো বিনিময় আপনাদের সেই ভাল কাজের যা আপনারা দুনিয়ায় করতেন। তাদের হুরসমূহের কোন একটি হৃরের একটি চুল যদি দুনিয়ায় প্রবেশ করে দেয়া হয়, তবে সূর্যের আলো অস্পষ্ট বিবর্ণ হয়ে পড়বে।" (এ হাদীসটি মার’রূপে বর্ণিত হয়েছে।
তবে এতে বিস্ময়ের কিছুই নেই যে, এটা মাওকুফই হবে। যেমন হযরত আলীর (রাঃ) নিজের উক্তি দ্বারাও এটা বর্ণিত আছে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন) ঠিক এর বিপরীত পাপী লোকেরা উল্টো মুখে শৃংখলে আবদ্ধ অবস্থায় জন্তুর মত ধাক্কা খেয়ে জাহান্নামের নিকট একত্রিত হবে। ঐ সময় পিপাসায় তাদের ওষ্ঠাগত প্রাণ হবে। তাদের জন্যে কোন সুপারিশকারী এবং তাদের পক্ষে একটা ভাল কথা উচ্চারণ করার কেউ থাকবে না। মুমিনরা তো একে অপরের জন্যে সুপারিশ করবে। কিন্তু এই হতভাগ্যরা এর থেকে বঞ্চিত থাকবে। তারা নিজেরাই বলবেঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমাদের জন্যে কোন সুপারিশকারী নেই এবং সুহৃদ বন্ধুও নেই।” (২৬:১০০-১০১)।
তবে যে দয়াময়ের নিকট প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছে সে ব্যতীত। এটা ‘ইসতিসনা মনকাতা। এই প্রতিশ্রুতি দ্বারা আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্যদান এবং ওর উপর প্রতিষ্ঠিত থাকাই উদ্দেশ্য। অর্থাৎ যারা শুধুমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করে, অন্যান্যদের ইবাদত হতে বেঁচে থাকে, তারই কাছে সাহায্যের আশা রাখে এবং তারই কাছে সমস্ত আশাপূর্ণ হওয়ার বিশ্বাস রাখে তাদেরকেই বুঝানো হয়েছে।হযরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেনঃ যে একত্ববাদীরা আল্লাহর ওয়াদা লাভ করেছে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ “যাদের সাথে আমার ওয়াদা রয়েছে তারা দাড়িয়ে যাক।" জনগণ বললোঃ “হে আবু অবিদির রহমান (রাঃ)!
আমাদেরকে ওটা শিখিয়ে দিন।” তিনি বললেনঃ তোমরা বলঃ (আরবী) অন্য রিওয়াইয়াতে এর সাথে নিম্নের কথাগুলি রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে আল্লাহ! হে আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা! হে অদৃশ্য ও দৃশ্যের খবরজ্ঞাতা! আমি আপনার নিকট এই পার্থিব জগতে প্রতিশ্রুতি নিচ্ছি যে, আপনি আমাকে আমার এমন কাজ হতে দূরে রাখবেন যা আমাকে মন্দের নিকটবর্তী করবে ও ভাল হতে আমাকে দূরে রাখবে। আমি আপনার র হমতের উপর ভরসা রাখি। সুতরাং আপনি আমার জন্যে আপনার নিকট অঙ্গীকার রাখুন যা আপনি কিয়ামতের দিন পূর্ণ করবেন, নিশ্চয় আপনি ওয়াদা খেলাফ করেন না।” “আমি আপনাকে ভয় করি, আপনার নিকট (শাস্তি হতে) রক্ষা পাওয়ার আবেদন জানাই, আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থী এবং আপনার প্রতিই আগ্রহ প্রকাশকারী।”
যেদিন দয়াময়ের নিকট মুত্তাকীগণকে সম্মানিত মেহমানরূপে [১] আমরা সমবেত করব ,
[১] যারা বাদশাহ, অথবা কোন শাসনকতার কাছে সম্মান ও মর্যাদা সহকারে বাহনে চড়ে গমন করে, তাদেরকে وفد বলা হয়। [ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর] আয়াত থেকে বুঝা যায় যে, ঈমানদারদেরকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে তাদের প্রভুর সমীপে নিয়ে যাওয়া হবে। তাদেরকে জান্নাত ও সম্মানিত ঘরে প্রবেশ করানো হবে। [ফাতহুল কাদীর] পরবর্তী আয়াতে এর উল্টো চিত্ৰই ফুটে উঠেছে। সেখানে অপরাধীদেরকে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করানোর কথা বলা হয়েছে। [ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর]
[সূরা মারইয়াম (১৯): আয়াত ৮৩ থেকে ৮৭] পূর্ণ পৃষ্ঠা
আবু নাহীক 'কাল্লান সায়াকফুরূনা' শব্দটিকে তানভীনসহ পাঠ করেছেন। এছাড়া তাঁর থেকে কাফ বর্ণে পেশ (যম্মাহ) এবং যবর (ফাতহাহ) সহকারেও বর্ণিত হয়েছে। মাহদাবী বলেন: 'কাল্লা' শব্দটি পূর্ববর্তী কথার প্রত্যাখ্যান, ভর্ৎসনা, সতর্কতা এবং খণ্ডনস্বরূপ ব্যবহৃত হয়। আবার কখনও এটি পরবর্তী বিষয়কে সুনিশ্চিত করার জন্য এবং সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্যও আসে; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "কখনোই নয়, নিশ্চয়ই মানুষ সীমালঙ্ঘন করে" (সূরা আল-আলাক: ৬)। এই অর্থানুসারে এর ওপর থামা (ওয়াকফ করা) যাবে না, তবে প্রথম অর্থের ক্ষেত্রে এর ওপর থামা যাবে। আর যদি উভয় অর্থই প্রযোজ্য হওয়ার সুযোগ থাকে, তবে এর ওপর থামা এবং এটি দিয়ে শুরু করা—উভয়ই বৈধ হবে।
সুতরাং যারা মহান আল্লাহর বাণী: "কখনোই নয়, তারা তাদের ইবাদত অস্বীকার করবে" অংশে কাফ বর্ণে ফাতহাহ ও তানভীনসহ পাঠ করেছেন, তাদের নিকট এটি 'কাল্লা' ক্রিয়ার মাসদার (মূলধাতু) এবং এটি একটি উহ্য ক্রিয়া দ্বারা নসব (যবর) প্রাপ্ত হয়েছে। এর অর্থ হলো: উপাস্য গ্রহণ করার এই চিন্তা ও বিশ্বাস পুরোপুরি অসার হয়ে পড়েছে। "যাতে তারা তাদের জন্য শক্তির কারণ হয়"—এই ব্যাখ্যানুসারে 'শক্তি' এবং 'কখনোই নয়' উভয় শব্দের ওপরই থামা যায়। সাধারণ পাঠরীতিতেও (ক্বিরাআতুল জামাআত) বিষয়টি এমনই, কারণ এটি পূর্ববর্তী বিষয়ের খণ্ডন এবং পরবর্তী বিষয়ের নিশ্চয়তা—উভয় অর্থেই উপযুক্ত।
আর যারা কাফ বর্ণে পেশ (যম্মাহ) ও তানভীনসহ বর্ণনা করেছেন, সেটিও একটি উহ্য ক্রিয়া দ্বারা নসব প্রাপ্ত হবে; যেন তিনি বলতে চেয়েছেন: তারা শীঘ্রই অস্বীকার করবে। "তারা শীঘ্রই তাদের ইবাদত অস্বীকার করবে"—এখানে উপাস্যদের বোঝানো হয়েছে। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: 'কাল্লা' শব্দের চারটি অর্থ পাওয়া যায়: নিশ্চয়তা প্রদান করা (যা 'সত্যই' অর্থে ব্যবহৃত হয়), নেতিবাচকতা বা অস্বীকার, সতর্কতা প্রদান এবং শপথের পরিপূরক। এগুলোর মধ্যে কেবল প্রথম অর্থটির ক্ষেত্রেই থামা যায়। কিসাঈ বলেন: 'না' শব্দটি কেবল অস্বীকার প্রকাশ করে, কিন্তু 'কাল্লা' কোনো বিষয়কে অস্বীকার করার পাশাপাশি অন্য কোনো বিষয়কে সাব্যস্ত করে।
যেমন যদি বলা হয়: "আমি খেজুর খেয়েছি", তখন আপনি বলবেন: "কখনোই নয়, বরং আমি মধু খেয়েছি, খেজুর নয়।" সুতরাং এই শব্দটিতে পূর্ববর্তী বিষয়ের অস্বীকৃতি এবং পরবর্তী বিষয়ের স্বীকৃতি বিদ্যমান। আর 'বিপক্ষ' বা 'বিরোধী' শব্দটি একবচন এবং বহুবচন উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়, যেমন 'শত্রু' এবং 'রাসূল' শব্দ দুটি ব্যবহৃত হয়। আবার বলা হয়েছে: 'বিরোধী' শব্দটি এখানে মাসদার বা মূলধাতুর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, অর্থাৎ তারা তাদের বিরুদ্ধে সাহায্যকারী হিসেবে দাঁড়াবে; একারণেই শব্দটি বহুবচন করা হয়নি। এটি মহান আল্লাহর বাণী "যাতে তারা তাদের জন্য শক্তির কারণ হয়"—এর বিপরীতে এসেছে; যেহেতু 'শক্তি' একটি মাসদার, তাই এর বিপরীতে যা এসেছে সেটিও অনুরূপ হয়েছে।
এরপর বলা হয়েছে: এই আয়াতটি মূর্তিপূজারীদের প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে; এখানে কাফিরদের অলীক ধারণার অনুবর্তিতা করে মূর্তিদের বুদ্ধিমান সত্তার ন্যায় গণ্য করা হয়েছে। আবার কেউ বলেছেন: এটি তাদের সম্পর্কে যারা মসীহ, ফেরেশতা, জিন কিংবা শয়তানের উপাসনা করত। আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ। [সূরা মারইয়াম (১৯): আয়াত ৮৩ থেকে ৮৭]আপনি কি দেখেননি যে, আমি কাফিরদের ওপর শয়তানদের ছেড়ে দিয়েছি, যারা তাদেরকে বিশেষভাবে প্ররোচিত করে? (৮৩) সুতরাং আপনি তাদের ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করবেন না; আমি তো তাদের দিন গণনা করছি। (৮৪) যেদিন আমি মুত্তাকীদের পরম দয়াময়ের কাছে মেহমান হিসেবে সমবেত করব, (৮৫) এবং অপরাধীদের পিপাসার্ত অবস্থায় জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাব।
(৮৬) তারা সুপারিশ করার কোনো অধিকার লাভ করবে না; কেবল সে ছাড়া, যে পরম দয়াময়ের নিকট থেকে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছে। (৮৭)(১). ২০ খণ্ড, ১২২ পৃষ্ঠা ও পরবর্তী অংশ দ্রষ্টব্য।
অতঃপর যখন কিয়ামতের দিন তাকে পুনরুত্থিত করা হবে, তখন সেটি (পাপের বোঝা) তাকে বলবে: 'নিশ্চয়ই দুনিয়ায় আমি তোমাকে ভোগ-বিলাস ও প্রবৃত্তির লালসায় বহন করতাম, তাই আজ তুমি আমাকে বহন করবে।' অতঃপর সেটি তার পিঠের ওপর চড়ে বসবে এবং তাকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাবে যতক্ষণ না তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবে। আর এটিই আল্লাহর এই বাণীর মর্ম: তারা তাদের পিঠে নিজেদের পাপের বোঝা বহন করবে।
ইবনে জারীর ও ইবনে আবী হাতিম আমর বিন কায়স আল-মুলাই থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুমিন যখন তার কবর থেকে বের হবে, তখন তার আমল অত্যন্ত সুন্দর আকৃতিতে ও সুগন্ধিময় অবস্থায় তাকে অভ্যর্থনা জানাবে।
সেটি তাকে বলবে: 'আপনি কি আমাকে চেনেন?' সে বলবে: 'না, তবে আল্লাহ আপনার সুবাসকে অত্যন্ত পবিত্র ও আপনার আকৃতিকে অত্যন্ত সুন্দর করেছেন।'তখন সেটি বলবে: 'দুনিয়াতেও আমি এমনই ছিলাম; আমি আপনার নেক আমল। দুনিয়ায় দীর্ঘকাল আপনি আমার ওপর সওয়ার হয়েছেন (আমাকে পরিচালনা করেছেন), আজ আপনি আমার ওপর সওয়ার হোন।' অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: যেদিন আমরা মুত্তাকীদের পরম দয়াময় আল্লাহর নিকট মেহমানরূপে সমবেত করব।
(সূরা মারইয়াম, আয়াত ৮৫)আর কাফিরের সামনে অত্যন্ত কুৎসিত আকৃতির এবং দুর্গন্ধময় একটি বস্তু আসবে। সেটি তাকে বলবে: 'আপনি কি আমাকে চেনেন?' সে বলবে: 'না, তবে আল্লাহ আপনার আকৃতিকে অত্যন্ত কুৎসিত ও আপনার গন্ধকে অত্যন্ত দুর্গন্ধময় করেছেন।'তখন সেটি বলবে: 'দুনিয়াতেও আমি এমনই ছিলাম; আমি আপনার মন্দ আমল।
দুনিয়ায় দীর্ঘকাল আপনি আমার ওপর সওয়ার হয়েছিলেন, আজ আমি আপনার ওপর সওয়ার হব।' অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: আর তারা তাদের পিঠের ওপর নিজেদের পাপের বোঝা বহন করবে; দেখ, তারা যা বহন করছে তা কতই না নিকৃষ্ট!
ইবনে আবী হাতিম আমর বিন কায়সের সূত্র ধরে আবু মারযূক থেকেঅনুরূপ বর্ণনা করেছেন।আবদুর রাজ্জাক, ইবনে জারীর, ইবনুল মুনযির এবং ইবনে আবী হাতিম কাতাদাহ থেকে আল্লাহর বাণী দেখ, তারা যা বহন করছে তা কতই না নিকৃষ্ট!
এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: অর্থাৎ তারা যা আমল করে। - আয়াত (৩২)
