সারসংক্ষেপ
ইসলামের প্রধান হাদিসগ্রন্থগুলোর একাধিক বর্ণনা অনুসারে, মুহাম্মদ যখন আয়িশাকে বিবাহ করেন তখন তার বয়স ছিল ছয় বছর; একটি বর্ণনায় সাত বছর বলা হয়েছে। কিন্তু সহবাসের বয়সের ক্ষেত্রে বর্ণনাগুলো প্রায় অভিন্ন: নয় বছর বয়সে আয়িশাকে মুহাম্মদের ঘরে নেওয়া হয় এবং মুহাম্মদ তার সঙ্গে যৌনসঙ্গম করেন। সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, সুনান আবু দাউদ ও সুনান নাসাঈতে ঘটনাটি বিভিন্ন বর্ণনাসূত্রে এসেছে। এসব বর্ণনায় ব্যবহৃত “বাসর যাপন”, “সঙ্গলাভ”, “ঘরে নেওয়া” এবং আরবি বানা বিহা ও দাখালা বিহা শব্দগুলো বিবাহের পর সহবাসের মাধ্যমে বিবাহ পূর্ণ করার অর্থ বহন করে। তাই নয় বছর বয়সে শুধু বিবাহের আনুষ্ঠানিকতা হয়েছিল, সহবাস হয়নি বলে যে দাবি করা হয়, সেটি মূল হাদিসগুলোর ভাষা ও ইসলামী ব্যাখ্যার সরাসরি বিরোধী।
এই বর্ণনাগুলোতে শুধু বয়সের সংখ্যা নেই। আয়িশা তখন দোলনায় খেলতেন, সমবয়সী মেয়েদের সঙ্গে খেলাধুলা করতেন, তার সঙ্গে খেলার পুতুল ছিল এবং তার মা তাকে কোথায় বা কী উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছেন সেটিও তিনি বুঝতে পারেননি। তাকে তার মা ও অন্য নারীরা ধুয়ে, সাজিয়ে ও প্রস্তুত করে মুহাম্মদের কাছে হস্তান্তর করেন। কোথাও আয়িশার মতামত চাওয়া, তার সম্মতি গ্রহণ করা বা যৌনসম্পর্কের অর্থ ও পরিণাম তাকে বোঝানোর কোনো বিবরণ নেই। হাদিসে বর্ণিত ঘটনাটি পরিষ্কার ভাষায় বললে দাঁড়ায়: একটি ছয় বছরের শিশুকে একজন পঞ্চাশোর্ধ্ব পুরুষের সঙ্গে বিবাহ দেওয়া হয়েছিল এবং নয় বছর বয়সে সেই পুরুষ শিশুটির সঙ্গে যৌনসঙ্গম করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে এই ঘটনাকেই ইসলামী ফিকহে পিতার মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিবাহ এবং তার সঙ্গে সহবাসের বৈধতার অন্যতম প্রধান নজিরে পরিণত করা হয়েছে।
ভূমিকা: আয়িশার বয়স কেন নিছক ঐতিহাসিক প্রশ্ন নয়
ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হচ্ছেন মুহাম্মদের স্ত্রী আয়িশা। মুহাম্মদের ব্যক্তিজীবনের অসংখ্য ঘটনা, বিবাহসংক্রান্ত বিধান, যৌনতা, পবিত্রতা, পারিবারিক সম্পর্ক এবং নারীদের বিষয়ে ইসলামী আইনের একটি বড় অংশ তার বর্ণিত হাদিসের ওপর নির্ভরশীল। ফলে মুহাম্মদের সঙ্গে আয়িশার বিবাহ কত বছর বয়সে হয়েছিল এবং কত বছর বয়সে মুহাম্মদ তার সঙ্গে যৌনসঙ্গম করেছিলেন, এই প্রশ্নটি কোনো অপ্রয়োজনীয় ঐতিহাসিক কৌতূহল নয়। ঘটনাটি মুহাম্মদের ব্যক্তিগত নৈতিকতা, ইসলামী শরিয়তে শিশুবিবাহের বৈধতা, পিতার হাতে অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার যৌন ও বৈবাহিক জীবন নির্ধারণের ক্ষমতা এবং শিশুর সম্মতির প্রশ্নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
ইসলামের প্রধান ও সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য বলে স্বীকৃত হাদিসগ্রন্থগুলো এই প্রশ্নের একটি স্পষ্ট উত্তর দিয়েছে। আয়িশার নিজের বক্তব্য হিসেবে বারবার বর্ণিত হয়েছে যে, ছয় বছর বয়সে মুহাম্মদ তাকে বিবাহ করেন এবং নয় বছর বয়সে তার সঙ্গে সহবাস করেন। কোনো কোনো বর্ণনায় বিবাহের বয়স সাত বলা হলেও সহবাসের বয়স নয় বছরই রয়েছে। একই ঘটনার বিভিন্ন বর্ণনায় আয়িশার দোলনায় খেলা, বান্ধবীদের সঙ্গে খেলাধুলা, পুতুল রাখা, মায়ের উদ্দেশ্য বুঝতে না পারা এবং নারীদের মাধ্যমে সাজিয়ে মুহাম্মদের কাছে হস্তান্তরিত হওয়ার বিবরণও এসেছে। এগুলো শুধু একটি সংখ্যাগত বয়স নয়, আয়িশার শারীরিক, মানসিক ও আচরণগত শিশুত্বেরও প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য।
বর্তমান সময়ে বহু মুসলিম এপোলোজেটিক লেখায় আয়িশার বয়স বাড়িয়ে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। কেউ আসমার বয়সের হিসাব ব্যবহার করে আয়িশাকে আঠারো বা উনিশ বছরের প্রাপ্তবয়স্ক নারী বানানোর চেষ্টা করেন। কেউ হিশাম ইবন উরওয়ার স্মৃতিশক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কেউ দাবি করেন, আরবরা বয়সের প্রথম দশ বছর বাদ দিয়ে হিসাব করত। আবার কেউ “বাসর যাপন”, “ঘরে নেওয়া” বা “সঙ্গলাভ” শব্দগুলোকে সহবাস থেকে বিচ্ছিন্ন করে কেবল আনুষ্ঠানিক বিদায় বা একসঙ্গে বসবাস শুরু করার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করেন। এসব ব্যাখ্যা প্রাচীন মূল সূত্রের সরাসরি বক্তব্য নয় এবং মূল হাদিস, হাদিসের অধ্যায়-শিরোনাম, প্রাচীন ব্যাখ্যাকার ও ধ্রুপদী ফিকহের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে।
বিষয়টিকে অস্পষ্ট করার সবচেয়ে পরিচিত কৌশল হলো যৌনসঙ্গমের জায়গায় শুধু “দাম্পত্যজীবন শুরু”, “বিবাহ পূর্ণ করা” অথবা “ঘরে তুলে নেওয়া” ধরনের কোমল শব্দ ব্যবহার করা। অথচ সংশ্লিষ্ট বর্ণনাগুলো একত্রে পড়লে কোনো অস্পষ্টতা থাকে না। আবু দাউদের বাংলা অনুবাদে সরাসরি “সহবাস” শব্দ রয়েছে। নাসাঈতে “সঙ্গলাভ”, মুসলিমে “বাসর যাপন” এবং বুখারির ইংরেজি অনুবাদে বিবাহ যৌনসম্পর্কের মাধ্যমে পূর্ণ করার কথা বলা হয়েছে। আরবি বানা বিহা ও দাখালা বিহা বিবাহের প্রসঙ্গে স্ত্রীর সঙ্গে সহবাসের প্রতিষ্ঠিত পরিভাষা। তাই এই প্রবন্ধে ঘটনাটিকে আড়াল করতে কোনো কোমল বা সৌজন্যমূলক ভাষা ব্যবহার করা হবে না: নয় বছর বয়সে মুহাম্মদ শিশু আয়িশার সঙ্গে যৌনসঙ্গম করেছিলেন।
এই ঘটনার নৈতিক সমস্যা শুধু বয়সের ব্যবধান নয়। একটি নয় বছরের শিশু স্বাধীন, অবহিত ও প্রত্যাহারযোগ্য যৌনসম্মতি দেওয়ার মানসিক অবস্থায় থাকে না। আয়িশার নিজের বর্ণনাতেই দেখা যায়, তাকে কেন ডাকা হচ্ছে বা তার মা তাকে নিয়ে কী করবেন, সেটি তিনি বুঝতে পারেননি। তাকে খেলার স্থান থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়, ধুয়ে সাজানো হয় এবং মুহাম্মদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অজ্ঞতা, পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ এবং শিশুর সিদ্ধান্ত গ্রহণের অক্ষমতাকে সম্মতি বলা যায় না। ইসলামী ঐতিহ্য এই সম্মতিহীন কাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে বরং অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিবাহের আইনগত নজির হিসেবে গ্রহণ করেছে। এখানেই ঘটনাটি ব্যক্তিগত ইতিহাসের সীমা অতিক্রম করে একটি স্থায়ী ধর্মীয় ও নৈতিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে।
বিবাহের চুক্তি ও সহবাস: দুটি পৃথক ঘটনা
আয়িশার বয়স নিয়ে আলোচনার শুরুতেই বিবাহের চুক্তি এবং সহবাসের ঘটনাকে আলাদা করা জরুরি। হাদিসগুলোতে বলা হয়েছে, ছয় বছর বয়সে মুহাম্মদ আয়িশাকে বিবাহ করেন। তখনই তাকে মুহাম্মদের ঘরে পাঠানো হয়নি। প্রায় তিন বছর পর, নয় বছর বয়সে তাকে মুহাম্মদের ঘরে পাঠানো হয় এবং মুহাম্মদ তার সঙ্গে যৌনসঙ্গম করেন। ফলে “ছয় বছর বয়সে বিবাহ” এবং “নয় বছর বয়সে সহবাস” একই ঘটনার পরস্পরবিরোধী দুটি বিবরণ নয়; এগুলো বিবাহের দুটি পৃথক পর্যায়।
আরবি বর্ণনায় বিবাহের চুক্তির জন্য তাযাওয়াজানি, অর্থাৎ “তিনি আমাকে বিবাহ করেন” এবং সহবাসের জন্য বানা বি, বানা বিহা বা দাখালা বিহা ব্যবহৃত হয়েছে। বিবাহসংক্রান্ত আরবি সাহিত্যে শেষোক্ত শব্দগুলো স্ত্রীর সঙ্গে সহবাসের মাধ্যমে বিবাহ পূর্ণ করার অর্থে ব্যবহৃত হয়। বাংলা অনুবাদকরা কোথাও “বাসর যাপন”, কোথাও “সঙ্গলাভ”, কোথাও “ঘরে নিয়ে যাওয়া” এবং কোথাও সরাসরি “সহবাস” লিখেছেন। অনুবাদের শব্দ আলাদা হলেও একই ঘটনার সমান্তরাল বর্ণনাগুলো প্রমাণ করে যে, নয় বছর বয়সে শুধু আয়িশার বাসস্থান বদলানো হয়নি; মুহাম্মদ তার সঙ্গে যৌনসঙ্গম করেছিলেন।
আধুনিক এপোলোজেটিক লেখায় এই ভাষাগত পার্থক্যকে কাজে লাগিয়ে ঘটনাটিকে আড়াল করা হয়। “ঘরে নেওয়া” কথাটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন আয়িশা শুধু পিতার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে গিয়েছিলেন এবং সহবাস আরও পরে হয়েছিল। কিন্তু হাদিসে আরও পরে সহবাসের কোনো পৃথক বয়স নেই। বরং একই ঘটনাকে বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ ও নাসাঈ ভিন্ন শব্দে বর্ণনা করেছে এবং সবগুলোতেই বয়স নয় বছর। তাই সহবাসের সময় আয়িশার বয়সের বিষয়ে কৃত্রিম অস্পষ্টতা তৈরি করা মূল সূত্রের বিকৃতি।
সহিহ বুখারির সাক্ষ্য: আয়িশার নিজের মুখে ছয় ও নয় বছর
সহিহ বুখারিতে আয়িশার বয়সসংক্রান্ত বর্ণনা একাধিক অধ্যায়ে এসেছে। বর্ণনাগুলোর মূল বক্তা আয়িশা নিজে। ৫১৩৩ নম্বর হাদিসে বলা হয়েছে, মুহাম্মদ তাকে ছয় বছর বয়সে বিবাহ করেন এবং নয় বছর বয়সে তাকে মুহাম্মদের কাছে প্রবেশ করানো হয়; এরপর তিনি মুহাম্মদের সঙ্গে নয় বছর অবস্থান করেন। এই নির্দিষ্ট বর্ণনার আরবি শব্দ উদখিলাত আলাইহি (أُدْخِلَتْ عَلَيْهِ), কিন্তু একই ঘটনার ৫১৫৮ নম্বর বর্ণনায় এবং বুখারির অন্য বর্ণনায় বানা বিহা (بَنَى بِهَا) ব্যবহৃত হয়েছে, যা বিবাহের ক্ষেত্রে সহবাসের মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন করার প্রতিষ্ঠিত পরিভাষা। ফলে ৫১৩৩-কে একা টেনে নয়, সমান্তরাল বর্ণনাগুলো একত্রে পড়লে নয় বছর বয়সে সহবাসের বিষয়টি স্পষ্ট হয় [1] [2] [3] [4]
সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
৬৭/ বিয়ে
পরিচ্ছেদঃ ৬৭/৩৯. কার জন্য ছোট শিশুদের বিয়ে দেয়া বৈধ।
لِقَوْلِهِ تَعَالَى: وَاللاَّئِي لَمْ يَحِضْنَ) فَجَعَلَ عِدَّتَهَا ثَلاَثَةَ أَشْهُرٍ قَبْلَ الْبُلُوغِ
আল্লাহ্ তা‘আলার কালাম ‘‘এবং যারা ঋতুমতী হয়নি’’-(সূরাহ আত-ত্বলাক (তালাক): ৪) এই আয়াতকে দলীল হিসাবে ধরে নাবালেগার ইদ্দাত তিন মাস নির্ধারণ করা হয়েছে।
৫১৩৩. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁকে বিয়ে করেন তখন তাঁর বয়স ছিল ৬ বছর এবং নয় বছর বয়সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গে বাসর ঘর করেন এবং তিনি তাঁর সান্নিধ্যে নয় বছরকাল ছিলেন। (৩৮৯৪)(আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৫৭)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)
সহিহ বুখারির ৫১৫৮ নম্বর হাদিসে একই তথ্য পুনরায় এসেছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইমাম বুখারি বর্ণনাটিকে যে অধ্যায়ের অধীনে রেখেছেন তার শিরোনামই হচ্ছে নয় বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে বিবাহ পূর্ণ করা। অর্থাৎ বুখারি নিজে বর্ণনাটিকে শুধু বিবাহের চুক্তি বা কন্যাকে স্বামীর বাড়িতে পাঠানোর ঘটনা হিসেবে বোঝেননি। তিনি নয় বছর বয়সে সহবাসের মাধ্যমে বিবাহ পূর্ণ করার আইনগত নজির হিসেবেই বর্ণনাটি ব্যবহার করেছেন [2]।
باب مَنْ بَنَى بِامْرَأَةٍ وَهْىَ بِنْتُ تِسْعِ سِنِينَ
تَزَوَّجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَائِشَةَ وَهْىَ ابْنَةُ سِتٍّ وَبَنَى بِهَا وَهْىَ ابْنَةُ تِسْعٍ وَمَكَثَتْ عِنْدَهُ تِسْعًا.
অধ্যায়: যে ব্যক্তি নয় বছর বয়সী স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ সম্পন্ন করেছে। উরওয়া থেকে বর্ণিত: নবী আয়িশাকে ছয় বছর বয়সে বিবাহ করেন এবং নয় বছর বয়সে তার সঙ্গে বানা বিহা—অর্থাৎ সহবাসের মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন করেন। আয়িশা তার সঙ্গে নয় বছর অবস্থান করেন।
সহিহ বুখারি, হাদিস ৫১৫৮
বুখারির ৩৮৯৪ নম্বর হাদিসে বয়সের পাশাপাশি ঘটনাটির বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়। আয়িশা মদিনায় এসে জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তার চুল পড়ে গিয়েছিল এবং পরে কিছুটা বড় হয়েছিল। তিনি তখন সমবয়সী মেয়েদের সঙ্গে দোলনায় খেলছিলেন। তার মা তাকে ডেকে নিয়ে যান, কিন্তু আয়িশা বুঝতে পারেননি তাকে কেন ডাকা হয়েছে। এরপর তাকে ধুয়ে, সাজিয়ে মুহাম্মদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তখন তার বয়স ছিল নয় বছর [5] [6] [7]
সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৪৪/ শাহাদাত
পরিচ্ছেদঃ ১৬৫৬. এক মহিলা অপর মহিলার সততা সম্পর্কে সাক্ষ্য দান
২৪৮৫। আবূ রাবী সুলাইমান ইবনু দাউদ (রহঃ) … নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনী আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, মিথ্যা অপবাদকারীরা যখন তার সম্পর্কে অপবাদ রটনা করল এবং আল্লাহ তা থেকে তার পবিত্রতা ঘোষনা করলেন। রাবীগণ বলেন, আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে বের হওয়ার ইচ্ছা করলে স্বীয় সহধর্মিণীদের মধ্যে কুর’আ ঢালার মাধ্যমে সফর সংগিণী নির্বাচন করতেন…
আমাকে হাওদার ভিতরে সাওয়ারীতে উঠানো হতো, আবার হাওদার ভিতরে (থাকা অবস্থায়) নামানো হতো। এভাবেই আমরা সফর করতে থাকলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ যুদ্ধ শেষ করে যখন প্রত্যাবর্তন করলেন এবং আমরা মদিনার কাছে পৌছে গেলাম তখন এক রাতে তিনি (কাফেলাকে) মনযিল ত্যাগ করার ঘোষণা দিলেন। উক্ত ঘোষনা দেওয়ার সময় আমি উঠে সেনাদলকে অতিক্রম করে গেলাম এবং নিজের প্রয়োজন সেরে হাওদায় ফিরে এলাম। তখন বুকে হাত দিয়ে দেখি আযফার দেশীয় সাদাকালো পাথরের তৈরি আমার একটা মালা ছিড়ে পড়ে গেছে। তখন আমি আমার মালার সন্ধানে ফিরে গেলাম, এবং সন্ধান কার্য আমাকে দেরী করিয়ে দিলো। ওদিকে যারা আমার হাওদা উঠিয়ে দিতো তারা তা উঠিয়ে যে উটে আমি সওয়ার হতাম, তার পিঠে রেখে দিলো। তাদের ধারনা ছিলো যে, আমি হাওদাতেই আছি। তখনকার মেয়েরা হালকা পাতলা হতো, মোটা সোটা হতো না। কেননা খুব সামান্য খাবার তারা থেতে পেতো। তাই হাওদায় উঠতে গিয়ে ভার তাদের কাছে অস্বাভাবিক বলে মনে হল না।
তদুপরি সে সময় আমি অল্প বয়স্ক কিশোরী ছিলাম এবং তখন তারা হাওদা উঠিয়ে উট হাকিয়ে রওনা হয়ে গেলো। এদিকে সেনাদল চলে যাওয়ার পর আমি আমার মালা পেয়ে গেলাম। কিন্তু তাদের জায়গায় ফিরে এসে দেখি, সেখানে কেউ নেই। তখন আমি আমার জায়গায় এসে বসে থাকাই মনন্থ করলাম…
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন (বাঁদী) বারীরাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন। হে বারীরা! তুমি কি তার মধ্যে সন্দেহজনক কিছু দেখতে পেয়েছ? বারীরা বলল, আপনাকে যিনি সত্যসহ পাঠিয়েছেন, তার কসম করে বলছি, না তেমন কিছু দেখিনি এই একটি অবস্থায়ই দেখেছি যে তিনি অল্পবয়স্কা কিশোরী। আর তাই আটা-খামীর গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সেই ফাকে বকরী এসে তা খেয়ে ফেলে। সে দিনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মসজিদে) ভাষণ দিতে দাঁড়িয়ে আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালুলের ষড়যন্ত্র থেকে বাঁচার উপায় জিজ্ঞাসা করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার পরিবারকে কেন্দ্র করে যে লোক আমাকে জ্বালাতন করেছে, তার মুকাবিলায় কে প্রতিকার করবে? আল্লাহর কসম, আমি তো আমার স্ত্রী সম্পর্কে ভালো ছাড়া অন্য কিছু জানিনা। আর এমন ব্যাক্তিকে জড়িয়ে তারা কথা তুলেছে, যার সম্পর্কে ভালো ছাড়া অন্য কিছু আমি জানিনা আর সে তো আমার সাথে ছাড়া আমার ঘরে কখনও প্রবেশ করত না…
আমি তখন অল্প বয়স্কা কিশোরী! কুরআনও খুব বেশী পড়িনি। তবুও আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমার জানতে বাকী নেই যে, লোকেরা যা রটাচ্ছে, তা আপনারা শুনতে পেয়েছেন এবং আপনাদের মনে তা বসে গেছে, ফলে আপনারা তা বিশ্বাস করে নিয়েছেন। এখন যদি আমি আপনাদের বলি যে, আমি নিষ্পাপ আর আল্লাহ জানেন, আমি অবশ্যই নিষ্পাপ, তবু আপনারা আমার সে কথা বিশ্বাস করবেন না। আর যদি আপনাদের কাছে কোন বিষয় আমি স্বীকার করি, অথচ আল্লাহ জানেন আমি নিষ্পাপ তাহলে অবশ্যই আপনারা আমাকে বিশ্বাস করে নিবেন। আল্লাহর কসম, ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর পিতার ঘটনা ছাড়া আমি আপনাদের জন্য কোন দৃষ্টান্ত খুজে পাচ্ছি না। যখন তিনি বলেছিলেন, পূর্ণ ধৈর্যধারনই আমার জন্য শ্রেয়। আর তোমরা যা বলছো সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহই আমার সাহায্যকারী।
আবূ রাবী (রহঃ) … আয়িশা ও আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। ফুলাইহ্ (রহঃ) … কাসিম ইবনু মুহাম্মদ ইবনু আবূ বকর (রাঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)
قَالَتْ تَزَوَّجَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا بِنْتُ سِتِّ سِنِينَ، فَقَدِمْنَا الْمَدِينَةَ فَنَزَلْنَا فِي بَنِي الْحَارِثِ بْنِ خَزْرَجٍ، فَوُعِكْتُ فَتَمَرَّقَ شَعَرِي فَوَفَى جُمَيْمَةً، فَأَتَتْنِي أُمِّي أُمُّ رُومَانَ وَإِنِّي لَفِي أُرْجُوحَةٍ وَمَعِي صَوَاحِبُ لِي، فَصَرَخَتْ بِي فَأَتَيْتُهَا لاَ أَدْرِي مَا تُرِيدُ بِي فَأَخَذَتْ بِيَدِي حَتَّى أَوْقَفَتْنِي عَلَى بَابِ الدَّارِ، وَإِنِّي لأَنْهَجُ، حَتَّى سَكَنَ بَعْضُ نَفَسِي… فَأَسْلَمَتْنِي إِلَيْهِ، وَأَنَا يَوْمَئِذٍ بِنْتُ تِسْعِ سِنِينَ.
আয়িশা বলেন: নবী আমাকে ছয় বছর বয়সে বিবাহ করেন। মদিনায় আসার পর আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি এবং পরে আমার চুল আবার গজায়। আমার মা উম্মু রুমান যখন আমার কাছে এলেন, আমি বান্ধবীদের সঙ্গে দোলনায় খেলছিলাম। তিনি আমাকে ডাকলেন; আমি তার কাছে গেলাম, কিন্তু তিনি আমাকে দিয়ে কী করতে চাইছেন তা জানতাম না। তিনি আমার হাত ধরে ঘরের দরজায় দাঁড় করালেন; আমি তখন হাঁপাচ্ছিলাম। পরে আমাকে ঘরের নারীদের কাছে দেওয়া হয়, তারা আমাকে প্রস্তুত করেন; সকালে রাসূলুল্লাহ এলেন এবং আমাকে তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। তখন আমার বয়স ছিল নয় বছর।
সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৮৯৪
সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৪৪/ শাহাদাত
পরিচ্ছেদঃ ১৬৪৩. কেউ যদি কারো সততা প্রমানের উদ্দেশ্যে বলে, একে তো ভাল বলেই জানি অথবা বলে যে, এর সম্পর্কে তো ভালো ছাড়া কিছু জানি না।
১৪৬২. পরিচ্ছেদঃ বাঁদিকেই প্রমান পেশ করতে হবে।
মহান আল্লাহ্র বাণীঃ হে মু’মিনগন! তোমরা যখন একে অন্যের সাথে নির্ধারিত সময়ের জন্য ঋনের কারবার কর তখন তা লিখে রাখবে … (২ঃ ২৮২)
এবং মহান আল্লাহ্র বাণীঃ হে মু’মিনগন! তোমরা ন্যায় বিচারে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত থাকবে আল্লাহ্র সাক্ষীস্বরূপ যদিও তা তোমাদের নিজেদের অথবা পিতামাতা এবং আত্মীয় স্বজনের বিরুদ্ধে হয় … আল্লাহ্ তার সম্যক খবর রাখেন (৪ঃ ১৩৫)
২৪৬১। হাজ্জাজ (রহঃ) … ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার নিকট আয়িশা (রাঃ) এর ঘটনা সম্পর্কে উরওয়া, ইবনু মূসায়্যাব, আলকামা, ইবনু ওয়াক্কাস এবং উবায়দুল্লাহ (রহঃ) বর্ণনা করেছেন, তাদের বর্ণিত হাদীসের এক অংশ অন্য অংশের সত্যতা প্রমাণ করে, যা অপবাদকারীরা আয়িশা (রাঃ) সম্পর্কে রটনা করেছিল। এদিকে ওয়াহী অবতরণ বিলম্বিত হল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী ও উসামা (রাঃ) কে স্বীয় সহধর্মিনীকে পৃথক রাখার ব্যাপারে পরামর্শের জন্য ডেকে পাঠালেন। উসামা (রাঃ) তখন বললেন আপনার স্ত্রী সম্পর্কে ভালো ছাড়া কিছুই আমরা জানি না। আর বারীরা (রাঃ) বললেন, তার সম্পর্কে একটি মাত্র কথাই আমি জানি, তা এই যে, অল্প বয়স হওয়ার কারণে পরিবারের লোকদের জন্য আটা খামির করার সময় তিনি ঘুমিয়ে পড়েন আর এই ফাঁকে বকরী এসে তা খেয়ে ফেলে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, সেই ব্যাক্তির বিরুদ্ধে কে আমাকে সাহায্য করবে; যার জ্বালাতন আমার পারিবারিক ব্যাপারে আমাকে আঘাত হেনেছে? আল্লাহর কসম আমার সহধর্মিনী সম্পর্কে আমি ভাল ছাড়া অন্য কিছু জানি না। আর এমন এক ব্যাক্তির কথা তারা বলে, যার সম্পর্কে আমি ভাল ছাড়া অন্য কিছু জানি না।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইবনু শিহাব আয-যুহরী (রহঃ)
এই বিবরণে আয়িশাকে কোনো স্বাধীন সিদ্ধান্তগ্রহণকারী বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন প্রাপ্তবয়স্ক নারী হিসেবে দেখা যায় না। তিনি দোলনায় বান্ধবীদের সঙ্গে খেলছিলেন; মা ডেকে নেওয়ার পরও তিনি জানতেন না তাকে দিয়ে কী করানো হবে; এরপর মা ও আনসার নারীরা তাকে প্রস্তুত করে মুহাম্মদের কাছে হস্তান্তর করেন। হাদিসে তার মতামত চাওয়া, সম্মতি নেওয়া বা আসন্ন দাম্পত্য ও যৌনসম্পর্ক সম্পর্কে তাকে অবহিত করার কোনো চিহ্ন নেই। বরং বর্ণনার দৃশ্যমান তথ্যগুলো হলো শিশুসুলভ খেলা, উদ্দেশ্য সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের দ্বারা সম্পূর্ণ আয়োজন। এই অবস্থাকে স্বাধীন ও অবহিত সম্মতি হিসেবে উপস্থাপন করার কোনো পাঠ্যভিত্তিক ভিত্তি নেই।
সহিহ বুখারির ৩৮৯৬ নম্বর হাদিসে খাদিজার মৃত্যু, হিজরত এবং আয়িশার বিবাহকে একই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার মধ্যে রাখা হয়েছে। খাদিজা হিজরতের তিন বছর আগে মারা যান। এরপর দুই বছর বা তার কাছাকাছি সময় অতিবাহিত হওয়ার পর মুহাম্মদ ছয় বছরের আয়িশাকে বিবাহ করেন এবং নয় বছর বয়সে তার সঙ্গে সহবাস করেন [8] [9]।
تُوُفِّيَتْ خَدِيجَةُ قَبْلَ مَخْرَجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمَدِينَةِ بِثَلاَثِ سِنِينَ، فَلَبِثَ سَنَتَيْنِ أَوْ قَرِيبًا مِنْ ذَلِكَ، وَنَكَحَ عَائِشَةَ وَهْىَ بِنْتُ سِتِّ سِنِينَ، ثُمَّ بَنَى بِهَا وَهْىَ بِنْتُ تِسْعِ سِنِينَ.
হিশামের পিতা থেকে বর্ণিত: খাদিজা নবীর মদিনায় যাওয়ার তিন বছর আগে মারা যান। এরপর তিনি দুই বছর বা তার কাছাকাছি সময় অবস্থান করেন, ছয় বছরের আয়িশাকে বিবাহ করেন এবং নয় বছর বয়সে তার সঙ্গে বানা বিহা—সহবাসের মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন করেন।
সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৮৯৬
অতএব, বুখারির মধ্যে ছয় ও নয় বছরের তথ্যটি একটি বিচ্ছিন্ন হাদিসে আটকে নেই। বিবাহ অধ্যায়, নবীদের জীবনীসংক্রান্ত অধ্যায় এবং মদিনায় হিজরতের বিবরণসহ একাধিক স্থানে একই তথ্য এসেছে। কোথাও বিবাহের সময় ছয়, কোথাও সহবাসের সময় নয়, কোথাও নয় বছর মুহাম্মদের সঙ্গে অবস্থান এবং কোথাও দোলনা থেকে তুলে এনে মুহাম্মদের কাছে হস্তান্তরের বিবরণ রয়েছে। এসব বর্ণনা পরস্পরকে ব্যাখ্যা ও সমর্থন করে।
সহিহ মুসলিমের সাক্ষ্য: নববীর অধ্যায়শিরোনামে “পিতা অপ্রাপ্তবয়স্কা কুমারী কন্যার বিবাহ দিতে পারে”
সহিহ মুসলিমের প্রচলিত অধ্যায়বিন্যাসে আয়িশার বয়সসংক্রান্ত হাদিসগুলো যে অধ্যায়ের অধীনে রাখা হয়েছে, তার শিরোনাম হলো: “পিতা অপ্রাপ্তবয়স্কা কুমারী কন্যার বিবাহ দিতে পারে।” এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ-ইতিহাসগত বিষয় পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন: সহিহ মুসলিমের এই উপ-অধ্যায়শিরোনাম ইমাম মুসলিমের নিজের দেওয়া নয়; প্রচলিত মুদ্রিত সংস্করণে ব্যবহৃত এসব শিরোনামের সবচেয়ে প্রভাবশালী রূপ ইমাম নববীর শরহ সহিহ মুসলিম থেকে এসেছে। ফলে এই শিরোনামকে মুসলিমের নিজের ফিকহি মন্তব্য বলা ঠিক হবে না। কিন্তু নববীর ব্যাখ্যা ঠিক কীভাবে এই হাদিসকে বুঝেছে, সেটি শিরোনামেই স্পষ্ট: আয়িশার বিবাহকে অপ্রাপ্তবয়স্ক কুমারী কন্যার বিবাহের ফিকহি আলোচনার অধীনে রাখা হয়েছে। আধুনিক সময়ে আয়িশাকে বিবাহের সময় প্রাপ্তবয়স্ক নারী প্রমাণের চেষ্টা এই ধ্রুপদী ব্যাখ্যার সরাসরি বিরোধী। উল্লেখ্য, বাসর উদযাপন বলতে যৌনকর্মের মাধ্যমে বিবাহকে কনজ্যুমেট করা বোঝানো হয়েছে [10] [11] [12]-
সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
অধ্যায়ঃ ১৭। বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ১০. পিতা অপ্রাপ্ত বয়স্কা কুমারী কন্যার বিবাহ দিতে পারে
৩৩৭০-(৬৯/১৪২২) আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনু ‘আলা ও আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহু (রহিমাছমাল্লাহ) … আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিয়ে করেছেন, আমার বয়স তখন ছয় বছর। তিনি আমাকে নিয়ে বাসর ঘরে যান, তখন আমার বয়স নয় বছর। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমরা হিজরাত করে মাদীনায় পৌছার পর আমি একমাস যাবৎ জ্বরে আক্রান্ত ছিলাম এবং আমার মাথার চুল পড়ে গিয়ে কানের কাছে (কিছু) থাকে। (আমার মা) উম্মু রূমান আমার নিকট এলেন, আমি তখন একটি দোলনার উপরে ছিলাম এবং আমার কাছে আমার খেলার সাখীরাও ছিল। তিনি আমাকে উচ্চৈঃস্বরে ডাকলেন, আমি তার নিকট গেলাম।
আমি বুঝতে পারিনি যে, তিনি আমাকে নিয়ে কী করবেন। তিনি আমার হাত ধরে আমাকে দরজায় নিয়ে দাঁড় করালেন। আমি তখন বলছিলাম, আহ, আহ। অবশেষে আমার উদ্বেগ দূরীভূত হল। তিনি আমাকে একটি ঘরে নিয়ে গেলেন। সেখানে আনসার মহিলাগণ উপস্থিত ছিলেন। তারা সকলে আমার কল্যাণ ও রহমাতের জন্য দুআ করলেন এবং আমার সৌভাগ্য কামনা করলেন। তিনি (মা) আমাকে তাদের নিকট সমর্পণ করলেন। তারা আমার মাথা ধুয়ে দিলেন এবং আমাকে সুসজ্জিত করলেন। আমি কোন কিছুতে ভীত শংকিত হইনি। চাশতের সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন এবং তারা আমাকে তার নিকট সমর্পণ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৩৪৪, ইসলামীক সেন্টার ৩৩৪৩)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)

باب تَزْوِيجِ الأَبِ الْبِكْرَ الصَّغِيرَةَ
قَالَتْ تَزَوَّجَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِسِتِّ سِنِينَ وَبَنَى بِي وَأَنَا بِنْتُ تِسْعِ سِنِينَ… فَأَتَتْنِي أُمُّ رُومَانَ وَأَنَا عَلَى أُرْجُوحَةٍ وَمَعِي صَوَاحِبِي فَصَرَخَتْ بِي فَأَتَيْتُهَا وَمَا أَدْرِي مَا تُرِيدُ بِي… فَأَسْلَمْنَنِي إِلَيْهِ.
অধ্যায়: পিতা অপ্রাপ্তবয়স্ক কুমারী কন্যার বিবাহ দিতে পারে। আয়িশা বলেন: রাসূলুল্লাহ আমাকে ছয় বছর বয়সে বিবাহ করেন এবং নয় বছর বয়সে আমার সঙ্গে বানা বি—সহবাসের মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন করেন। মদিনায় এসে আমি অসুস্থ হয়েছিলাম। পরে আমার মা উম্মু রুমান আমাকে দোলনায় খেলার সময় ডাকেন। আমি তার কাছে যাই, কিন্তু তিনি আমাকে দিয়ে কী করতে চাইছেন তা জানতাম না। পরে নারীরা আমাকে প্রস্তুত করে রাসূলুল্লাহর কাছে হস্তান্তর করেন।
সহিহ মুসলিম ১৪২২a
এই বর্ণনায় “বাসর ঘরে যান” কথাটি একই ঘটনার সমান্তরাল বর্ণনাগুলোর বানা বিহা, “বাসর যাপন”, “সঙ্গলাভ” ও “সহবাস” ভাষার সঙ্গে মিলিয়ে পড়তে হয়। আয়িশা নিজেই বলেছেন, তার মা তাকে নিয়ে কী করবেন তা তিনি জানতেন না। হাদিসে তার মতামত চাওয়া, আসন্ন দাম্পত্য সহবাস সম্পর্কে তাকে অবহিত করা বা তার সম্মতি গ্রহণের কোনো বিবরণ নেই। ফলে এই বর্ণনা থেকে আয়িশার স্বাধীন ও অবহিত সম্মতি প্রতিষ্ঠা করা যায় না; পরবর্তী ফিকহি সূত্রগুলো বরং অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিবাহে তার অনুমতিকে শর্তই করেনি।
সহিহ মুসলিমের পরবর্তী বর্ণনায় একই তথ্য আরও সংক্ষিপ্তভাবে এসেছে। আয়িশা স্পষ্টভাবে বলেন, ছয় বছর বয়সে মুহাম্মদ তাকে বিবাহ করেন এবং নয় বছর বয়সে তার সঙ্গে বাসর যাপন করেন [13]।
সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
১৭। বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ১০. পিতা অপ্রাপ্ত বয়স্কা কুমারী কন্যার বিবাহ দিতে পারে
৩৩৭১-(৭০/…) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, ইবনু নুমায়র (রহিমাহুমাল্লাহ) ….. আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার ছয় বছর বয়সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিবাহ করেন এবং আমার নয় বছর বয়সে তিনি আমার সঙ্গে বাসর যাপন করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৩৪৫, ইসলামীক সেন্টার ৩৩৪৪)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)
قَالَتْ تَزَوَّجَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا بِنْتُ سِتِّ سِنِينَ وَبَنَى بِي وَأَنَا بِنْتُ تِسْعِ سِنِينَ.
আয়িশা বলেন: নবী আমাকে ছয় বছর বয়সে বিবাহ করেন এবং নয় বছর বয়সে আমার সঙ্গে বানা বি—সহবাসের মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন করেন।
সহিহ মুসলিম ১৪২২b
মুসলিমের ৩৩৭২ নম্বর হাদিসে বিবাহের বয়স সাত বলা হয়েছে। কিন্তু নয় বছর বয়সে মুহাম্মদের ঘরে নেওয়ার তথ্য অপরিবর্তিত রয়েছে। আরও বলা হয়েছে, আয়িশার সঙ্গে তার খেলার পুতুলও ছিল। হাদিসের বাংলা সংস্করণের টীকায় ছয় ও সাত বছরের পার্থক্য ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে, ছয় বছর পূর্ণ হয়ে সপ্তম বছর চলছিল বলে কোনো বর্ণনায় পূর্ণ বছর ধরে ছয় এবং কোনো বর্ণনায় চলমান বছর ধরে সাত বলা হয়েছে। ব্যাখ্যাটি গ্রহণ করা হোক বা না হোক, উভয় বর্ণনায় সহবাসের বয়স নয় বছরই রয়েছে [14]।
সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
১৭। বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ১০. পিতা অপ্রাপ্ত বয়স্কা কুমারী কন্যার বিবাহ দিতে পারে
৩৩৭২-(৭১/…) আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ….. আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তার সাত বছর বয়সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিবাহ করেন। তাকে নয় বছর* বয়সে তার ঘরে বধুবেশে নেয়া হয় এবং তার সঙ্গে তার খেলার পুতুলগুলোও ছিল। তাঁর আঠারো বছর বয়সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৩৪৬, ইসলামীক সেন্টার ৩৩৪৫)
* তিনি বলেন যে, তার ছয় বছর বয়সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিবাহ করেন। লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কোন হাদীসে ‘আয়িশাহ্ (রাযিঃ)-এর বিবাহ হওয়ার ছয় বছর আবার কোন হাদীসে সাত বছর বর্ণিত হয়েছে। হাদীসের ব্যাখ্যাকারদের মতে, ঐ সময় আয়িশাহ (রাযিঃ)-এর বয়স ছয় পার হয়ে সাত বছর চলছিল। ফলে কোন হাদীসে ছয় বছরের উপর অতিরিক্ত সময় বাদ দিয়ে ছয় বছর গণনা করা হয়েছে, আবার কোন হাদীসে অতিরিক্ত সময়কে পূর্ণ বছর ধরে সাত বছর গণনা করা হয়েছে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)
أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَزَوَّجَهَا وَهْىَ بِنْتُ سَبْعِ سِنِينَ وَزُفَّتْ إِلَيْهِ وَهِيَ بِنْتُ تِسْعِ سِنِينَ وَلُعَبُهَا مَعَهَا وَمَاتَ عَنْهَا وَهِيَ بِنْتُ ثَمَانَ عَشْرَةَ.
আয়িশা থেকে বর্ণিত: নবী তাকে সাত বছর বয়সে বিবাহ করেন; নয় বছর বয়সে তাকে নবীর কাছে বধূ হিসেবে পাঠানো হয় এবং তার খেলনাগুলোও তার সঙ্গে ছিল। নবী যখন মারা যান, তখন তার বয়স ছিল আঠারো বছর।
সহিহ মুসলিম ১৪২২c; বাংলা সংস্করণে ৩৩৭২
আরেকটি বর্ণনায় ছয় বছর বয়সে বিবাহ, নয় বছর বয়সে বাসর যাপন এবং আঠারো বছর বয়সে মুহাম্মদের মৃত্যুর তথ্য একই সঙ্গে এসেছে। মুহাম্মদের সঙ্গে আয়িশার বৈবাহিক ও যৌনজীবন নয় বছর স্থায়ী হয়েছিল, এই তথ্যটি বুখারির বর্ণনার সঙ্গেও মিলে যায় [15]।
সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
১৭। বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ১০. পিতা অপ্রাপ্ত বয়স্কা কুমারী কন্যার বিবাহ দিতে পারে
৩৩৭৩-(৭২/…) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহিমাহুমুল্লাহ) … আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, তার ছয় বছর বয়সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিবাহ করেন, তার নয় বছর বয়সে তিনি তাকে নিয়ে বাসর যাপন করেন এবং আঠারো বছর বয়সে তিনি ইন্তিকাল করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৩৪৭, ইসলামীক সেন্টার ৩৩৪৬)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)
قَالَتْ تَزَوَّجَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهْىَ بِنْتُ سِتٍّ وَبَنَى بِهَا وَهْىَ بِنْتُ تِسْعٍ وَمَاتَ عَنْهَا وَهْىَ بِنْتُ ثَمَانَ عَشْرَةَ.
আয়িশা বলেন: রাসূলুল্লাহ তাকে ছয় বছর বয়সে বিবাহ করেন, নয় বছর বয়সে তার সঙ্গে বানা বিহা—সহবাসের মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন করেন এবং তিনি যখন মারা যান তখন আয়িশার বয়স ছিল আঠারো বছর।
সহিহ মুসলিম ১৪২২d; বাংলা সংস্করণে ৩৩৭৩
সুনান আবু দাউদ: নয় বছর বয়সে সরাসরি সহবাসের বর্ণনা
“বাসর যাপন” বা “ঘরে নেওয়া” শব্দকে ব্যবহার করে যারা সহবাসের ঘটনাটি আড়াল করতে চান, সুনান আবু দাউদের বাংলা অনুবাদ তাদের সেই কৌশলের সুযোগ রাখে না। এখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, মদিনায় আসার পর আয়িশা দোলনায় খেলছিলেন। কয়েকজন নারী তাকে নিয়ে সাজিয়ে মুহাম্মদের কাছে নিয়ে যায়। এরপর মুহাম্মদ তার সঙ্গে সহবাস করেন। তখন আয়িশার বয়স ছিল নয় বছর [16] [17] [18]
সূনান আবু দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৩৬/ আদব
পরিচ্ছেদঃ ৬১. দোলনায় চড়া সম্পর্কে।
৪৮৫১. মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) …. আইশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা যখন মদীনায় আসি, তখন আমার কাছে কয়েকজন মহিলা আসে, আর সে সময় আমি দোলনায় দোল খাচ্ছিলাম। এ সময় আমার মাথার চুল ছোট ছিল। তারা আমাকে নিয়ে গিয়ে সুন্দররূপে সুসজ্জিত করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে আসে। এ সময় তিনি আমার সাথে সহবাস করেন, আর তখন আমার বয়স ছিল নয় বছর।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)

قَالَتْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَزَوَّجَنِي وَأَنَا بِنْتُ سَبْعِ سِنِينَ… وَأَنَا عَلَى أُرْجُوحَةٍ فَذَهَبْنَ بِي وَهَيَّأْنَنِي وَصَنَعْنَنِي فَأُتِيَ بِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَبَنَى بِي وَأَنَا ابْنَةُ تِسْعٍ فَوَقَفَتْ بِي عَلَى الْبَابِ فَقُلْتُ هِيهْ هِيهْ – قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَىْ تَنَفَّسَتْ.
আয়িশা বলেন: রাসূলুল্লাহ আমাকে ছয় বা সাত বছর বয়সে বিবাহ করেন। মদিনায় এসে আমি দোলনায় ছিলাম; নারীরা আমাকে নিয়ে প্রস্তুত ও সাজিয়ে রাসূলুল্লাহর কাছে নিয়ে যায়। তিনি নয় বছর বয়সে আমার সঙ্গে বানা বি—দাম্পত্য সহবাস শুরু করেন। দরজায় দাঁড় করানোর সময় আমি “হিহ্, হিহ্” করছিলাম। আবু দাউদ ব্যাখ্যা করেন: أَيْ تَنَفَّسَتْ—অর্থাৎ তিনি শ্বাস নিচ্ছিলেন/হাঁপাচ্ছিলেন।
সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৪৯৩৩
একই বর্ণনার আন্তর্জাতিক নম্বর ৪৯৩৩-এ বিবাহের সময় ছয় অথবা সাত বছর বলা হয়েছে এবং নয় বছর বয়সে মুহাম্মদের সঙ্গে বাসর যাপনের কথা এসেছে। সেখানে আরবি ভাষায় ফাবানা বি ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ মুহাম্মদ আয়িশার সঙ্গে সহবাসের মাধ্যমে বিবাহ পূর্ণ করেন। ফলে আবু দাউদের দুই নম্বরপদ্ধতির বর্ণনা মিলিয়ে তথ্যটি একেবারে স্পষ্ট: আয়িশা দোলনায় খেলছিলেন, তাকে প্রস্তুত করে মুহাম্মদের কাছে দেওয়া হয় এবং নয় বছর বয়সে মুহাম্মদ তার সঙ্গে যৌনসঙ্গম করেন [19]।
সুনান নাসাঈ: সহবাসের সময়ও আয়িশা মেয়েদের সঙ্গে খেলতেন
সুনান নাসাঈর বর্ণনায় ছয় বছর বয়সে বিবাহ এবং নয় বছর বয়সে মুহাম্মদের সঙ্গলাভের তথ্য এসেছে। বর্ণনাটির অধ্যায়ের শিরোনামও “নয় বছর বয়সে স্বামীসঙ্গ”। আরও বলা হয়েছে, সেই সময় আয়িশা মেয়েদের সঙ্গে খেলাধুলা করতেন। অর্থাৎ ইসলামী হাদিস নিজেই সহবাসের বয়স নয় বছর বলছে এবং একই বাক্যে আয়িশার শিশুসুলভ খেলাধুলার কথা উল্লেখ করছে [20] [21]।
باب الْبِنَاءِ بِابْنَةِ تِسْعٍ
قَالَتْ تَزَوَّجَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا بِنْتُ سِتٍّ وَدَخَلَ عَلَىَّ وَأَنَا بِنْتُ تِسْعِ سِنِينَ وَكُنْتُ أَلْعَبُ بِالْبَنَاتِ.
অধ্যায়: নয় বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে বিবাহ সম্পন্ন করা। আয়িশা বলেন: রাসূলুল্লাহ আমাকে ছয় বছর বয়সে বিবাহ করেন এবং নয় বছর বয়সে আমার কাছে প্রবেশ করেন; তখন আমি পুতুল নিয়ে খেলতাম।
সুনান নাসাঈ, হাদিস ৩৩৭৮
“সঙ্গলাভ” এখানে কোনো সামাজিক সাক্ষাৎ, বন্ধুত্ব বা শুধু একই বাড়িতে বসবাসের অর্থ বহন করে না। নাসাঈর অধ্যায়ের শিরোনাম, একই ঘটনার বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনা এবং আবু দাউদের সরাসরি “সহবাস” শব্দ একত্রে পড়লে এর অর্থ স্পষ্ট। “সঙ্গলাভ” হচ্ছে যৌনসঙ্গ লাভের সৌজন্যমূলক অনুবাদ। এই ভাষাগত কোমলতাকে ব্যবহার করে যৌনসঙ্গমের ঘটনাটি অস্বীকার করা যায় না।
বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ ও নাসাঈর সম্মিলিত সাক্ষ্য
প্রধান হাদিসগ্রন্থগুলোর বর্ণনা একত্রে রাখলে ঘটনাটির মৌলিক কাঠামোয় কোনো অস্পষ্টতা থাকে না। ছয় বছর বয়সে মুহাম্মদ আয়িশাকে বিবাহ করেন। একটি বর্ণনায় সাত বছর বলা হয়েছে। নয় বছর বয়সে আয়িশাকে দোলনা ও খেলার সাথিদের কাছ থেকে নিয়ে এসে ধুয়ে, সাজিয়ে মুহাম্মদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মুহাম্মদ সেই বয়সেই তার সঙ্গে যৌনসঙ্গম করেন। আয়িশা তখনও মেয়েদের সঙ্গে খেলতেন এবং তার সঙ্গে খেলার পুতুল ছিল। তার মা তাকে কী উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছেন সেটিও তিনি বুঝতে পারেননি।
এগুলো কোনো একক বর্ণনাকারীর একটি বিচ্ছিন্ন বাক্য নয়। বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ ও নাসাঈতে ঘটনাটি এসেছে। কোথাও ছয় ও নয় বছরের সরাসরি হিসাব, কোথাও খাদিজার মৃত্যু ও হিজরতের কালপঞ্জি, কোথাও দোলনায় খেলা, কোথাও পুতুল, কোথাও নারীদের মাধ্যমে প্রস্তুত করে হস্তান্তর এবং কোথাও সরাসরি সহবাসের কথা রয়েছে। বর্ণনাগুলো পরস্পরের শূন্যস্থান পূরণ করে একটি একই ঘটনার পূর্ণ ছবি নির্মাণ করেছে।
এই বর্ণনাগুলো থেকে যে কাঠামোটি পাওয়া যায় তা হলো, পঞ্চাশোর্ধ্ব মুহাম্মদের সঙ্গে ছয় বছরের আয়িশার বিবাহের চুক্তি হয় এবং নয় বছর বয়সে তাদের দাম্পত্য সহবাস শুরু হয়। আয়িশার নিজের বর্ণনায় তিনি তখনও দোলনায় ও পুতুল নিয়ে খেলতেন এবং মায়ের তাৎক্ষণিক উদ্দেশ্য বুঝতেন না। বিবাহের সিদ্ধান্তে তার অনুমতি নেওয়ার কোনো বিবরণ নেই। ধ্রুপদী হাদিসসংকলক ও পরবর্তী ফকিহরা ঘটনাটিকে অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিবাহের আইনগত নজির হিসেবেই ব্যবহার করেছেন। ফলে আধুনিক সময়ে বয়স বা সহবাসের অর্থকে অস্বীকার করার প্রচেষ্টা ধ্রুপদী উৎসের নিজস্ব শ্রেণিবিন্যাস ও ব্যাখ্যার সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে।
সুনান ইবন মাজাহ: “পিতার মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিবাহ”
আয়িশার বয়সসংক্রান্ত বর্ণনা শুধু বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ ও নাসাঈতে সীমাবদ্ধ নয়। সুনান ইবন মাজাহর বিবাহ অধ্যায়েও একই ঘটনা সংরক্ষিত হয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইবন মাজাহ বর্ণনাটিকে যে পরিচ্ছেদের অধীনে রেখেছেন তার শিরোনাম: “পিতার মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিবাহ।” এই অধ্যায়ের শিরোনাম প্রমাণ করে, ধ্রুপদী হাদিসসংকলকের কাছে আয়িশার বিবাহ কোনো প্রাপ্তবয়স্ক নারীর স্বাভাবিক বিবাহ ছিল না; এটি ছিল পিতার মাধ্যমে একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিবাহ দেওয়ার নজির।
باب نِكَاحِ الصِّغَارِ يُزَوِّجُهُنَّ الآبَاءُ
قَالَتْ تَزَوَّجَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا بِنْتُ سِتِّ سِنِينَ… وَإِنِّي لَفِي أُرْجُوحَةٍ وَمَعِي صَوَاحِبَاتٌ لِي… وَمَا أَدْرِي مَا تُرِيدُ… وَإِنِّي لأَنْهَجُ حَتَّى سَكَنَ بَعْضُ نَفَسِي… فَأَسْلَمَتْنِي إِلَيْهِ وَأَنَا يَوْمَئِذٍ بِنْتُ تِسْعِ سِنِينَ.
অধ্যায়: পিতাদের দ্বারা অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিবাহ। আয়িশা বলেন: রাসূলুল্লাহ আমাকে ছয় বছর বয়সে বিবাহ করেন। মদিনায় এসে আমি বান্ধবীদের সঙ্গে দোলনায় খেলছিলাম। মা আমাকে ডাকলে আমি তার কাছে যাই, কিন্তু তিনি আমাকে দিয়ে কী করতে চাইছেন তা জানতাম না। আমাকে দরজায় দাঁড় করানোর সময় আমি হাঁপাচ্ছিলাম; পরে নারীরা আমাকে প্রস্তুত করে রাসূলুল্লাহর কাছে হস্তান্তর করেন। তখন আমার বয়স ছিল নয় বছর।
সুনান ইবন মাজাহ, হাদিস ১৮৭৬
ইবন মাজাহর বর্ণনাটি বুখারি ও মুসলিমের বিস্তারিত বর্ণনার সঙ্গে প্রায় শব্দে শব্দে মিলে যায়। আয়িশার বয়স ছয়, মদিনায় আগমন, অসুস্থতা, চুল পড়ে যাওয়া, দোলনায় খেলা, মায়ের উদ্দেশ্য বুঝতে না পারা, নারীদের মাধ্যমে প্রস্তুত করা এবং নয় বছর বয়সে মুহাম্মদের কাছে হস্তান্তরিত হওয়া, প্রতিটি উপাদান এখানে রয়েছে। ফলে ঘটনাটি শুধু হিশাম ইবন উরওয়ার একটি বাক্যে সীমাবদ্ধ নয়; একাধিক হাদিসগ্রন্থ একই পূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ সংরক্ষণ করেছে [22]।
চন্দ্রবছরের হিসাবে আয়িশার বয়স আরও কম
কিছু এপোলোজিস্ট দাবি করেন, আরবদের বছর গণনার পদ্ধতি আলাদা ছিল বলে হাদিসে উল্লিখিত ছয় ও নয় বছরকে বর্তমান হিসাবে আরও বেশি বয়স হিসেবে বুঝতে হবে। দাবিটি সম্পূর্ণ উল্টো। আরবি হিজরি বছর চন্দ্রভিত্তিক এবং আধুনিক গ্রেগরীয় বছর সৌরভিত্তিক। একটি চন্দ্রবছর প্রায় ৩৫৪.৩৭ দিন, আর একটি সৌরবছর প্রায় ৩৬৫.২৪ দিন। ফলে ছয় চন্দ্রবছর ছয় সৌরবছরের চেয়ে কম এবং নয় চন্দ্রবছর নয় সৌরবছরের চেয়ে কম।
- ছয় চন্দ্রবছর প্রায় ৫.৮২ সৌরবছর।
- নয় চন্দ্রবছর প্রায় ৮.৭৩ সৌরবছর।
হাদিসে বয়স পূর্ণ বছর ধরে উল্লেখ করা হয়েছে এবং জন্মের সুনির্দিষ্ট দিন জানা নেই। তাই আয়িশার বয়সকে দিন পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে বলা ঠিক হবে না। কিন্তু এটুকু নিশ্চিত যে, চন্দ্রবছরকে সৌরবছরে রূপান্তর করলে তার বয়স বাড়ে না, বরং সামান্য কমে যায়। সুতরাং “আরবি বছর আলাদা ছিল” যুক্তি দিয়ে নয় বছরকে আঠারো বা উনিশ বছরে পরিণত করা কোনো ঐতিহাসিক হিসাব নয়; এটি গাণিতিকভাবে মিথ্যা [23]।
আয়িশার জন্ম ও ঘটনার কালপঞ্জি
সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় বলা হয়েছে, মুহাম্মদ যখন মারা যান তখন আয়িশার বয়স ছিল আঠারো বছর। মুহাম্মদের মৃত্যু ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে হওয়ায় আয়িশার জন্ম আনুমানিক ৬১৩ বা ৬১৪ খ্রিষ্টাব্দে হয়েছিল। একই বর্ণনায় ছয় বছর বয়সে বিবাহ, নয় বছর বয়সে বাসর এবং আঠারো বছর বয়সে মুহাম্মদের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে। ফলে জন্ম, বিবাহ, সহবাস এবং মুহাম্মদের মৃত্যুর সময় আয়িশার বয়স একই কালপঞ্জির মধ্যে সামঞ্জস্যপূর্ণ [15]।
قَالَتْ تَزَوَّجَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهْىَ بِنْتُ سِتٍّ وَبَنَى بِهَا وَهْىَ بِنْتُ تِسْعٍ وَمَاتَ عَنْهَا وَهْىَ بِنْتُ ثَمَانَ عَشْرَةَ.
আয়িশা বলেন: রাসূলুল্লাহ তাকে ছয় বছর বয়সে বিবাহ করেন, নয় বছর বয়সে তার সঙ্গে বানা বিহা—সহবাসের মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন করেন এবং রাসূলুল্লাহ যখন মারা যান তখন আয়িশার বয়স ছিল আঠারো বছর।
সহিহ মুসলিম ১৪২২d
আসহাবে রাসূলের জীবনকথা গ্রন্থে জন্ম ও বিবাহের কালপঞ্জি আরও নির্দিষ্টভাবে দেওয়া হয়েছে। সেখানে আয়িশার জন্ম আনুমানিক জুলাই ৬১৪ খ্রিষ্টাব্দ, বিবাহ ৬২০ খ্রিষ্টাব্দ এবং নয় বছর বয়সে মুহাম্মদের ঘরে যাওয়া হিজরতের পর প্রথম হিজরির শাওয়াল মাসে স্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন বর্ষপঞ্জি ও মাস রূপান্তরের কারণে খ্রিষ্টীয় মাসের হিসাবে সামান্য পার্থক্য হতে পারে, কিন্তু মূল ধারাবাহিকতা বদলায় না: জন্ম ৬১৩ বা ৬১৪, বিবাহ ৬২০ এবং সহবাস ৬২৩ খ্রিষ্টাব্দের কাছাকাছি [24]।
কালপঞ্জির সংক্ষিপ্ত রূপ:
৬১৩–৬১৪ খ্রিষ্টাব্দঃ আয়িশার জন্ম
৬২০ খ্রিষ্টাব্দঃ প্রায় ছয় বছর বয়সে মুহাম্মদের সঙ্গে বিবাহ
৬২২ খ্রিষ্টাব্দঃ মদিনায় হিজরত
৬২৩ খ্রিষ্টাব্দের কাছাকাছিঃ নয় বছর বয়সে মুহাম্মদের সঙ্গে সহবাস
৬৩২ খ্রিষ্টাব্দঃ আঠারো বছর বয়সে আয়িশা বিধবা হন
খাদিজার মৃত্যুর পর আয়িশার বিবাহ: সূত্রগুলোর কালপঞ্জি
বুখারির ৩৮৯৬ নম্বর হাদিসে বলা হয়েছে, খাদিজা হিজরতের তিন বছর আগে মারা যান। ইসলামী জীবনীগ্রন্থের একটি বহুল ব্যবহৃত কালপঞ্জি অনুসারে, সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমের মতামত অনুসারে খাদিজা নবুওয়াতের দশম বছরের রমজান মাসে মারা যান এবং পরবর্তী শাওয়াল মাসেই আয়িশার সঙ্গে মুহাম্মদের বিবাহ হয়। এই হিসাবে খাদিজার মৃত্যুর প্রায় এক মাসের মধ্যেই ছয় বছরের আয়িশার সঙ্গে বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল [25] [26] –
অধিকাংশ গবেষকের সিদ্ধান্ত এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাসমূহের গরিষ্ঠ অংশ যা সমর্থন করে তা হলো, খাদীজা (রা) নুবুওয়াতের দশম বছরে হিজরাতের তিন বছর পূর্বে রমজান মাসে ইনতিকাল করেন এবং তার একমাস পরে শাওয়াল মাসে রাসূলুল্লাহ (সা) আয়িশাকে (রা) বিয়ে করেন। তখন আয়িশার (রা) বয়স ছয় বছর। এই হিসাবে হিজরাত-পূর্ব তিন সনের শাওয়াল, মুতাবিক ৬২০ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে আয়িশার (রা) বিয়ে হয়। আল-ইসতী’য়াব গ্রন্থকার ইবন আবদিল বার এই মত সমর্থন করেছেন। মূলত বিয়ে হয়েছিল খাদীজার (রা) ওফাতের বছরেই এবং স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় তিন বছর পরে যখন নয় বছর বয়সে তাঁকে ঘরে তুলে নেন।

অর্থাৎ অধিকাংশ গবেষকের সিদ্ধান্ত এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাসমূহের গরিষ্ঠ অংশ যা সমর্থন করে তা হলো, খাদিজা নবুওয়াতের দশম বছরে হিজরতের তিন বছর পূর্বে রমজান মাসে মৃত্যুবরণ করেন এবং তার এক মাস পরে শাওয়াল মাসে রাসূলুল্লাহ আয়িশাকে বিবাহ করেন। তখন আয়িশার বয়স ছয় বছর। এই হিসাবে হিজরত-পূর্ব তৃতীয় বছরের শাওয়াল, ৬২০ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে আয়িশার বিবাহ হয়। মূলত বিবাহ হয়েছিল খাদিজার মৃত্যুর বছরেই এবং স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় তিন বছর পরে, যখন নয় বছর বয়সে তাকে ঘরে তুলে নেওয়া হয়।
বুখারির সংক্ষিপ্ত কালপঞ্জি এবং জীবনীগ্রন্থের মাসভিত্তিক হিসাবের মধ্যে সময়ের পার্থক্য রয়েছে; তাই খাদিজার মৃত্যুর ঠিক কত মাস পরে আয়িশার বিবাহ হয়েছিল, তা এককভাবে নিশ্চিত করা যায় না। তবে উভয় ধারাই খাদিজার মৃত্যুর পর মক্কায় আয়িশার সঙ্গে বিবাহের চুক্তি এবং হিজরতের পর নয় বছর বয়সে দাম্পত্য সহবাসের ঘটনাকে স্থাপন করে।
শিশু আয়িশাকে স্বপ্নে নিজের স্ত্রী হিসেবে দেখতেন মুহাম্মদ
সহিহ বুখারির একাধিক স্থানে বর্ণিত হয়েছে, বিবাহের আগে মুহাম্মদ আয়িশাকে স্বপ্নে নিজের স্ত্রী হিসেবে দেখেছিলেন। স্বপ্নে একজন ব্যক্তি রেশমি কাপড়ে আয়িশাকে বহন করে মুহাম্মদের কাছে এনে বলেছিল, “এই তোমার স্ত্রী।” মুহাম্মদ কাপড় সরিয়ে আয়িশাকে দেখে বলেন, স্বপ্নটি আল্লাহর পক্ষ থেকে হলে আল্লাহ তা বাস্তবায়িত করবেন। একই বর্ণনা বুখারির বিবাহ অধ্যায় এবং স্বপ্নের ব্যাখ্যা অধ্যায়ে এসেছে [27] [28]।
قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أُرِيتُكِ فِي الْمَنَامِ مَرَّتَيْنِ، إِذَا رَجُلٌ يَحْمِلُكِ فِي سَرَقَةِ حَرِيرٍ فَيَقُولُ هَذِهِ امْرَأَتُكَ، فَأَكْشِفُهَا فَإِذَا هِيَ أَنْتِ، فَأَقُولُ إِنْ يَكُنْ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ يُمْضِهِ».
আয়িশা বলেন, রাসূলুল্লাহ তাকে বলেন: “তোমাকে দুবার স্বপ্নে আমার সামনে দেখানো হয়েছে। একজন ব্যক্তি তোমাকে রেশমি কাপড়ে বহন করে বলছিল, ‘এই তোমার স্ত্রী।’ আমি কাপড় সরিয়ে দেখি, সে তুমি। তখন বললাম, যদি এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, তিনি তা বাস্তবায়িত করবেন।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৫০৭৮
হাদিসের বর্ণনাটি নৈতিকভাবে ভয়াবহ। প্রায় পঞ্চাশ বছর বয়সী একজন পুরুষ একটি শিশুকন্যাকে একবার নয়, দুইবার নিজের স্ত্রী বা যৌনসঙ্গি হিসেবে স্বপ্নে দেখছেন, যে কিনা তারই বাল্যবন্ধুর মেয়ে; তারপর সেই স্বপ্নকে গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ছয় বছর বয়সী সেই শিশুকে বিবাহ করছেন। এই ঘটনাকে নিরীহ “স্বপ্ন” বলে পাশ কাটানো যায় না। স্বপ্নের বিষয়বস্তু ছিল একটি শিশু, সম্পর্কের ধরন ছিল বিবাহ, এবং পরবর্তী বাস্তব ঘটনাও সেই দিকেই গেছে। অর্থাৎ এখানে কোনো বিমূর্ত প্রতীকী স্বপ্নের কথা নেই; একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের মানসিক জগতে একটি শিশুকে স্ত্রী হিসেবে উপস্থিত হতে দেখা যাচ্ছে, এবং সেই ধারণা পরবর্তীতে বাস্তব বিবাহে রূপ নিচ্ছে।
আরও গুরুতর বিষয় হলো, মুহাম্মদ এই স্বপ্নকে নিজের ব্যক্তিগত মনের উৎপাদন হিসেবে সন্দেহ করেননি; বরং বলেছেন, “এটি যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে, তবে তিনি তা বাস্তবায়িত করবেন।” এই ভাষা ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষাকে সরাসরি ধর্মীয় বৈধতার দিকে ঠেলে দেয়। একটি শিশুকে স্ত্রী হিসেবে দেখার কামনা বা কল্পনা নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হলে, সেটিকে “আল্লাহর পক্ষ থেকে” বলে সম্ভাব্য পবিত্রতা দেওয়া সেই সমস্যাকে কমায় না—বরং বহুগুণ বাড়ায়। কারণ তখন নিজের ইচ্ছাকে নিজের ইচ্ছা হিসেবে দায় নেওয়ার পরিবর্তে সেটিকে ঐশী পরিকল্পনা হিসেবে উপস্থাপন করা যায়। এই প্রক্রিয়া ব্যক্তিগত বাসনাকে নৈতিক সমালোচনার বাইরে সরিয়ে দেওয়ার একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক কাঠামো।
সবচেয়ে নির্মম বিষয় হচ্ছে, পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ এই স্বপ্নকে বাস্তব যৌনসম্পর্কে গিয়ে শেষ করেছে। ছয় বছর বয়সে বিবাহ, নয় বছর বয়সে সহবাস—এগুলো একই ধারাবাহিকতার অংশ। ফলে “শিশুকে স্ত্রী হিসেবে দেখা” এখানে কোনো নিষ্পাপ কল্পনা ছিল না; সেটি বাস্তব বিবাহ এবং পরে যৌনসম্পর্কে রূপ নিয়েছে। একজন প্রায় পঞ্চাশ বছর বয়সী পুরুষের পক্ষে একটি ছয় বছরের শিশুকে বিবাহযোগ্য সঙ্গী হিসেবে কল্পনায় রাখা এবং সেই সিদ্ধান্তকে ঐশী ইঙ্গিতের ভাষায় বৈধতা দেওয়া নৈতিকভাবে জঘন্য। এই ঘটনাকে “আল্লাহ দেখিয়েছিলেন” বলে রক্ষা করার চেষ্টা আসলে সমস্যাটিকে আরও নগ্ন করে: কারণ তাতে একটি শিশুকে কেন্দ্র করে একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের বৈবাহিক ও যৌন আকাঙ্ক্ষাকেই ধর্মীয় অনুমোদনের মর্যাদা দেওয়া হয়।
বিয়ের প্রস্তাবে আবু বকরের প্রতিক্রিয়া
মুহাম্মদ যখন আবু বকরের কাছে আয়িশাকে বিবাহের প্রস্তাব দেন, আবু বকর প্রথমে বলেন, “আমি তো আপনার ভাই।” মুহাম্মদ উত্তরে বলেন, আবু বকর ধর্ম ও আল্লাহর কিতাবের দিক থেকে তার ভাই, কিন্তু আয়িশা তার জন্য বৈধ। বুখারি এই হাদিসকে যে অধ্যায়ের অধীনে রেখেছেন তার আরবি শিরোনাম হলো তাযউইজুস সিগার মিনাল কিবার, অর্থাৎ বয়স্ক পুরুষের সঙ্গে অল্পবয়স্ক মেয়েদের বিবাহ। এই অধ্যায়ের শিরোনামও প্রমাণ করে, বুখারির কাছে আয়িশা একজন সমবয়সী প্রাপ্তবয়স্ক পাত্রী ছিলেন না [29] [30]।
باب تَزْوِيجِ الصِّغَارِ مِنَ الْكِبَارِ
أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَطَبَ عَائِشَةَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ فَقَالَ لَهُ أَبُو بَكْرٍ إِنَّمَا أَنَا أَخُوكَ، فَقَالَ: «أَنْتَ أَخِي فِي دِينِ اللَّهِ وَكِتَابِهِ وَهْىَ لِي حَلاَلٌ».
অধ্যায়: অল্পবয়স্কদের বয়স্কদের সঙ্গে বিবাহ। উরওয়া বর্ণনা করেন: নবী আবু বকরের কাছে আয়িশার বিবাহের প্রস্তাব দেন। আবু বকর বলেন, “আমি তো আপনার ভাই।” নবী বলেন, “তুমি আল্লাহর ধর্ম ও তার কিতাবের দিক থেকে আমার ভাই; কিন্তু সে আমার জন্য বৈধ।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৫০৮১
আবু বকরের আপত্তি আয়িশার বয়স নিয়ে ছিল, এমন কথা হাদিসে সরাসরি বলা হয়নি। তাই তার “আমি আপনার ভাই” কথাকে বয়সসংক্রান্ত আপত্তি হিসেবে উদ্ধৃত করা ঠিক হবে না। কিন্তু হাদিসের অবস্থান ও অধ্যায়ের শিরোনাম পরিষ্কারভাবে বয়স্ক পুরুষের সঙ্গে অল্পবয়স্ক মেয়ের বিবাহকেই চিহ্নিত করেছে। একইসঙ্গে হাদিসে আয়িশার মতামতের কোনো অস্তিত্ব নেই। প্রস্তাব ও সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে মুহাম্মদ ও আবু বকরের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সহি হাদিসটি এখানে দেয়া হচ্ছে, [31]
সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
পরিচ্ছেদঃ ৬৭/১১. বয়স্ক পুরুষের সঙ্গে অল্প বয়স্কা মেয়েদের বিয়ে।
৫০৮১. ‘উরওয়াহ (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর (রাঃ)-এর কাছে ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর বিয়ের পয়গাম দিলেন। আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, আমি আপনার ভাই। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি আমার আল্লাহর দ্বীনের এবং কিতাবের ভাই। কিন্তু সে আমার জন্য হালাল। (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭১০)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ উরওয়াহ (রহঃ)
(11)Chapter: The marrying of young lady to an elderly man(11)
Narrated ‘Urwa:
The Prophet (ﷺ) asked Abu Bakr for `Aisha’s hand in marriage. Abu Bakr said “But I am your brother.” The Prophet (ﷺ) said, “You are my brother in Allah’s religion and His Book, but she (Aisha) is lawful for me to marry.”
Reference : Sahih al-Bukhari 5081
In-book reference : Book 67, Hadith 19
USC-MSA web (English) reference : Vol. 7, Book 62, Hadith 18
(deprecated numbering scheme)
এবারে আসুন আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থ থেকে এই বিবাহের প্রস্তাবনার বিষয়টি জেনে নিই [32] –
ইমাম আহমদ (র) উম্মুল মু’মিনীন আইশা-এর মসনদে উল্লেখ করেছেন যে, মুহাম্মদ ইবন বিশর বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন আমর আবূ সালামা এবং ইয়াহইয়া থেকে। তাঁরা দু’জনেই বলেছেন যে, হযরত খাদীজা (রা)-এর ইনতিকালের পর উছমান ইবন মাযঊনের স্ত্রী খাওলা বিনত হাকীম রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত হন। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আপনি কি বিবাহ করবেন না? রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, কাকে বিবাহ করব? খাওলা বললেন, আপনি কুমারী চাইলে কুমারী পাত্রী পাবেন আর পূর্ব-বিবাহিতা চাইলে তা-ই পাবেন। রাসূলুল্লাহ (সা) জিজ্ঞেস করলেন, কুমারী পাত্রীটি কে? খাওলা বললেন, জগতে আপনার সবচেয়ে প্রিয় আবূ বকর (রা)-এর কন্যা আইশা। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, পূর্ব-বিবাহিতা মহিলাটি কে? খাওলা বললেন, তিনি হলেন যামআর কন্যা সাওদা। তিনি আপনার প্রতি ঈমান আনয়ন করেছেন এবং আপনার অনুগতা। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, তবে তুমি ওদের নিকট যাও এবং আমার কথা তাদের নিকট আলোচনা কর। খাওলা গেলেন আবু বকর (রা)-এর গৃহে। তাঁর স্ত্রীকে বললেন, উম্মু রূমান! কী কল্যাণ ও বরকতই না আল্লাহ্ আপনাদের জন্যে মনযূর করেছেন। উম্মু রূমান বললেন, কেন কী হয়েছে? খাওলা বললেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) আইশাকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়ে আমাকে আপনাদের নিকট পাঠিয়েছেন। তিনি বললেন, আবু বকর (রা) আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন!
আবূ বকর (রা) ঘরে এলেন। আমি বললাম, আবু বকর! কী কল্যাণ ও বরকতই না আল্লাহ্ আপনার জন্য মনযূর করেছেন! আবু বকর (রা) বললেন, কেন কী হয়েছে? খাওলা বললেন, রাসূলুল্লাহ (সা) আইশাকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়ে আমাকে আপনাদের নিকট পাঠিয়েছেন। আবূ বকর (রা) বললেন, সে কি তাঁর জন্যে বৈধ হবে? সে তো তাঁর ভাতিজী। আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট ফিরে গিয়ে আবু বকর (রা)-এর মন্তব্য তাঁকে জানালাম। রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, তুমি আবার তাঁর নিকট যাও এবং আমার এ বক্তব্য তাঁর কাছে পৌঁছে দাও। “আমি আপনার ভাই এবং আপনি আমার ভাই ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে আপনার মেয়ে বিয়ে করা আমার জন্যে বৈধ।” খাওলা বলেন, আমি আবূ বকর (রা)-এর নিকট ফিরে গেলাম’ এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর বক্তব্য তাঁকে জানালাম। তিনি বললেন, তুমি অপেক্ষা কর! তিনি ঘর থেকে বের হলেন। উম্মু রূমান বললেন, মুতঈম ইব্ন আদী তো আইশার সাথে তাঁর পুত্রের বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আল্লাহর কসম, আবু বকর (রা) তো একবার ওয়াদা করলে তা কখনো ভঙ্গ করেন না। আবূ বকর (রা) গেলেন মুতঈম ইব্ন আদীর নিকট। সেখানে মুতঈম-এর স্ত্রী উন্মুস সাবী উপস্থিত ছিলেন। উন্মুস সাবী বললেন, হে আবূ কুহাফার পুত্র! আমার ছেলে যদি আপনার মেয়েকে বিয়ে করে তাহলে তো আপনি তাকে আমাদের ধর্ম থেকে ফিরিয়ে আপনার ধর্মে নিয়ে যাবেন তাই না? মুতঈম ইব্ন আদীকে আবূ বকর (রা) বললেন, তোমার বক্তব্য আর তোমার স্ত্রীর বক্তব্য কি এক? মুতঈম বলল, সে তো তাই বলছে।

আয়িশার অনুমতি নেওয়া হয়নি
আয়িশার বিবাহের প্রস্তাব মুহাম্মদ দিয়েছেন আবু বকরকে এবং আবু বকর বিবাহ দিয়েছেন। নয় বছর বয়সে আয়িশার মা তাকে দোলনা থেকে ডেকে এনে নারীদের হাতে তুলে দেন; তারা তাকে প্রস্তুত করে মুহাম্মদের কাছে হস্তান্তর করেন। এই ধারাবাহিকতার কোথাও আয়িশার মতামত চাওয়া বা সম্মতি নেওয়ার বিবরণ নেই। আয়িশা নিজেই বলেছেন, তার মা তাকে নিয়ে কী করবেন তা তিনি বুঝতে পারেননি। মূল বর্ণনা তাই সম্মতির কোনো ইতিবাচক প্রমাণ দেয় না; আর পরবর্তী ফিকহি ব্যাখ্যা স্পষ্ট করে যে অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার ক্ষেত্রে তার অনুমতিকে আইনগত শর্ত হিসেবেই ধরা হয়নি।
পরবর্তী ইসলামী ফকিহরা এই অনুপস্থিতিকে দুর্ঘটনা বা অন্যায় হিসেবে বিবেচনা করেননি। বরং আয়িশার ঘটনাকে ভিত্তি করে বলেছেন, পিতা তার অপ্রাপ্তবয়স্ক কুমারী কন্যাকে তার অনুমতি বা সম্মতি ছাড়াই বিবাহ দিতে পারেন। ইসলামওয়েবের ফতোয়া নম্বর ২৩০৫১৮-তে ইবন আবদুল বারের উদ্ধৃতি দিয়ে সরাসরি বলা হয়েছে, মুহাম্মদের সঙ্গে ছয় বছরের আয়িশার বিবাহই প্রমাণ করে যে পিতা অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাকে তার সঙ্গে পরামর্শ না করেই বিবাহ দিতে পারেন [33]।
فقد حكى بعض العلماء الإجماع على أن للأب تزويج ابنته البكر الصغيرة بغير رضاها، ولا يشترط إذنها، ونعني بالصغيرة من ليست بالغة… ومستند هذا الإجماع أن أبا بكر زوج عائشة ـ رضي الله عنها ـ من رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يشاورها، قال ابن عبد البر: أجمع العلماء على أن للأب أن يزوج ابنته الصغيرة ولا يشاورها، لتزويج رسول الله صلى الله عليه وسلم عائشة وهي بنت ست سنين.
ইসলামওয়েবের ফতোয়ায় বলা হয়েছে: কিছু আলেম ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন যে পিতা তার অপ্রাপ্তবয়স্ক কুমারী কন্যাকে তার সম্মতি ছাড়াই বিবাহ দিতে পারে এবং তার অনুমতি শর্ত নয়; “অপ্রাপ্তবয়স্ক” বলতে যে এখনো বালেগ হয়নি তাকে বোঝানো হয়েছে। ফতোয়াটি আরও বলে, এই ঐকমত্যের ভিত্তি হিসেবে আবু বকরের দ্বারা আয়িশাকে মুহাম্মদের সঙ্গে বিবাহ দেওয়া এবং তার সঙ্গে পরামর্শ না করার ঘটনাকে ব্যবহার করা হয়েছে; ইবন আবদুল বারকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, পিতা অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাকে পরামর্শ ছাড়াই বিবাহ দিতে পারে।
ইসলামওয়েব, ফতোয়া ২৩০৫১৮
এই ফিকহী ব্যাখ্যা ঘটনাটির আইনগত চরিত্র স্পষ্ট করে। সংশ্লিষ্ট ধ্রুপদী মত অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্ক কুমারী কন্যার সম্মতি বিবাহের বৈধতার শর্ত ছিল না; পিতার সিদ্ধান্তই যথেষ্ট ছিল। তাই “আয়িশা প্রতিবাদ করেননি, অতএব তিনি সম্মত ছিলেন” যুক্তিটি অকার্যকর। যে আইনগত কাঠামোতে শিশুর অনুমতিই প্রয়োজনীয় নয়, সেখানে নীরবতাকে স্বাধীন সম্মতি হিসেবে দেখানো যায় না।
প্রাপ্তবয়স্কতার জন্য তিন বছর অপেক্ষার দাবি মিথ্যা
আধুনিক মুসলিম বক্তারা প্রায়ই বলেন, মুহাম্মদ ছয় বছর বয়সে আয়িশাকে বিবাহ করলেও তার প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার জন্য তিন বছর অপেক্ষা করেছিলেন। কোনো সহিহ হাদিসে এমন কথা নেই। কোনো বর্ণনায় বলা হয়নি যে আয়িশার ঋতুস্রাব শুরু হওয়া, শারীরিক পরিপক্বতা অর্জন করা বা স্বাধীন সম্মতি দেওয়ার ক্ষমতা তৈরি হওয়া পর্যন্ত মুহাম্মদ অপেক্ষা করেছিলেন। বরং ইবন সাদের তাবাকাত, সুলায়মান নদভীর সীরাতে আয়েশা এবং আল-তাবারির ইতিহাসে সংরক্ষিত একটি বর্ণনায় সহবাসে বিলম্বের কারণ হিসেবে দেনমোহরের অর্থের কথা এসেছে।
ثُمَّ قَالَ أَبُو بَكْرٍ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا يَمْنَعُكَ أَنْ تَبْنِيَ بِأَهْلِكَ؟ قَالَ: «الصَّدَاقُ». فَأَعْطَاهُ أَبُو بَكْرٍ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ أُوقِيَّةً وَنَشًّا، فَبَعَثَ بِهَا إِلَيْنَا، وَبَنَى بِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَيْتِي هَذَا.
বর্ণনায় এসেছে: আবু বকর জিজ্ঞেস করেন, “হে আল্লাহর রাসূল, আপনার স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য জীবন শুরু করতে আপনাকে কী বাধা দিচ্ছে?” তিনি বলেন, “দেনমোহর।” এরপর আবু বকর বারো উকিয়া ও এক নাশ পরিমাণ অর্থ দেন; তা পাঠানোর পর মুহাম্মদ আয়িশার সঙ্গে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন। এই দীর্ঘ বর্ণনার সনদে মুহাম্মদ ইবন আল-হাসান ইবন যবালা রয়েছেন, যাকে দুর্বল বলা হয়েছে; তাই এটি সহিহ বুখারি-মুসলিমের সমমানের প্রমাণ নয়।
ইবন সাদ, আত-তাবাকাত; একই বর্ণনা মাজমাউয যাওয়ায়িদে সংরক্ষিত
আল-তাবারির ইতিহাসের বর্ণনায় বলা হয়েছে, মুহাম্মদ নবুওয়াতের দশম বছরের শাওয়াল মাসে, হিজরতের তিন বছর আগে আয়িশাকে বিবাহ করেন। হিজরতের আট মাস পর আরেক শাওয়াল মাসে নয় বছর বয়সে তার সঙ্গে সহবাস করেন। মদিনায় আসার পর আবু বকর মুহাম্মদকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কেন নিজের স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করছেন না। মুহাম্মদ দেনমোহরের কথা বললে আবু বকর অর্থ দেন এবং এরপর আয়িশাকে মুহাম্মদের কাছে পাঠানো হয় [34]।
আল-তাবারি, তারিখ আল-রুসুল ওয়াল-মুলুক — আয়িশার বিবাহ, হিজরতের পর সহবাস এবং দেনমোহরের বর্ণনা
আরবি মূল:
وعائشة بنت أبي بكر، وأمها أم رومان بنت عمير بن عامر من بني دهمان بن الحارث بن غنم بن مالك بن كنانة، تزوجها رسول الله صلى الله عليه وسلم في شوال سنة عشر من النبوة قبل الهجرة بثلاث سنين، وعرس بها في شوال على رأس ثمانية أشهر من الهجرة، وكانت يوم ابتنى بها ابنة تسع سنين.
قال ابن عمر: حدثنا موسى بن محمد بن عبد الرحمن، عن ريطة، عن عمرة، عن عائشة، أنها سئلت: متى بنى بك رسول الله؟ فقالت: لما هاجر رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى المدينة خلفنا وخلف بناته، فلما قدم المدينة بعث إلينا زيد بن حارثة، وبعث معه أبا رافع مولاه، وأعطاهما بعيرين وخمسمائة درهم، أخذها رسول الله من أبي بكر، يشتريان بها ما يحتاجان إليه من الظهر، وبعث أبو بكر معهما عبد الله بن أريقط الديلي ببعيرين أو ثلاثة، وكتب إلى عبد الله بن أبي بكر يأمره أن يحمل أهله أم رومان، وأنا وأختي أسماء امرأة الزبير، فخرجوا مصطحبين. فلما انتهوا إلى قديد، اشترى زيد بن حارثة بتلك الخمسمائة درهم ثلاثة أبعرة، ثم دخلوا مكة جميعا، وصادفوا طلحة بن عبيد الله يريد الهجرة بآل أبي بكر، فخرجنا جميعا، وخرج زيد بن حارثة وأبو رافع وفاطمة وأم كلثوم وسودة بنت زمعة، وحمل زيد أم أيمن وأسامة بن زيد، وخرج عبد الله بن أبي بكر بأم رومان وأختيه، وخرج طلحة بن عبيد الله، واصطحبوا جميعا، حتى إذا كنا بالبيض من تمنى نفر بعيري، وأنا في محفة معي فيها أمي، فجعلت أمي تقول: وا بنتاه وا عروساه! حتى أدرك بعيرنا وقد هبط من لفت، فسلم.
ثم إنا قدمنا المدينة، فنزلت مع عيال أبي بكر، ونزل آل رسول الله صلى الله عليه وسلم، ورسول الله يومئذ يبني المسجد، وأبياتنا حول المسجد، فأنزل فيها أهله، ومكثنا أياما في منزل أبي بكر، ثم قال أبو بكر: يا رسول الله، ما يمنعك أن تبني بأهلك؟ قال رسول الله: الصداق. فأعطاه أبو بكر الصداق اثنتي عشرة أوقية ونشا، فبعث رسول الله صلى الله عليه وسلم إلينا، وبنى بي رسول الله صلى الله عليه وسلم في بيتي هذا الذي أنا فيه، وهو الذي توفي فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم.
বাংলা অনুবাদ:
আয়িশা ছিলেন আবু বকরের কন্যা। তাঁর মা ছিলেন উম্মু রুমান বিনত উমাইর ইবন আমির, বনু দাহমান ইবন আল-হারিস ইবন গানম ইবন মালিক ইবন কিনানা গোত্রের নারী। রাসূলুল্লাহ নবুওয়াতের দশম বছরের শাওয়াল মাসে, হিজরতের তিন বছর আগে আয়িশাকে বিবাহ করেন। হিজরতের আট মাস পূর্ণ হওয়ার পর শাওয়াল মাসে তিনি আয়িশার সঙ্গে দাম্পত্য সহবাস করেন। যেদিন তিনি তাঁর সঙ্গে দাম্পত্য সহবাস করেন, সেদিন আয়িশার বয়স ছিল নয় বছর।
এরপর বর্ণনায় এসেছে: মুসা ইবন মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহমান, রাইতা এবং আমরার মাধ্যমে আয়িশা থেকে বর্ণিত—তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, “রাসূলুল্লাহ কখন আপনার সঙ্গে দাম্পত্য সহবাস করেন?” আয়িশা বলেন: রাসূলুল্লাহ যখন মদিনায় হিজরত করেন, তখন তিনি আমাদের এবং তাঁর কন্যাদের মক্কায় রেখে যান। মদিনায় পৌঁছানোর পর তিনি যায়দ ইবন হারিসাকে আমাদের কাছে পাঠান এবং তাঁর সঙ্গে নিজের মুক্তদাস আবু রাফিকেও পাঠান। তিনি তাঁদের দুটি উট এবং পাঁচশ দিরহাম দেন; এই অর্থ তিনি আবু বকরের কাছ থেকে নিয়েছিলেন, যাতে তাঁরা যাত্রার প্রয়োজনীয় বাহন কিনতে পারেন। আবু বকর তাঁদের সঙ্গে আবদুল্লাহ ইবন উরাইকিত আদ-দিলিকেও দুই বা তিনটি উটসহ পাঠান এবং তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ ইবন আবু বকরকে লিখে নির্দেশ দেন যেন তিনি তাঁর পরিবার—উম্মু রুমান, আয়িশা এবং যুবাইরের স্ত্রী আসমাকে—সঙ্গে নিয়ে আসেন। তাঁরা একসঙ্গে রওনা হন। কুদাইদে পৌঁছানোর পর যায়দ ওই পাঁচশ দিরহাম দিয়ে তিনটি উট কেনেন। এরপর তাঁরা সবাই মক্কায় প্রবেশ করেন এবং সেখানে তালহা ইবন উবাইদুল্লাহকে আবু বকরের পরিবারের সঙ্গে হিজরত করার প্রস্তুতি নিতে দেখেন। সবাই একসঙ্গে বের হন। পথে আয়িশার উট ছুটে গেলে তাঁর মা বলতে থাকেন, “হায় আমার মেয়ে! হায় আমার নববধূ!” পরে উটটি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং তাঁরা নিরাপদে যাত্রা চালিয়ে যান।
এরপর আয়িশা বলেন: আমরা মদিনায় পৌঁছালাম। আমি আবু বকরের পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করলাম। রাসূলুল্লাহর পরিবারও এসে পৌঁছাল। তখন রাসূলুল্লাহ মসজিদ নির্মাণ করছিলেন এবং আমাদের ঘরগুলো মসজিদের চারপাশে ছিল। তিনি তাঁর পরিবারকে সেই ঘরগুলোতে রাখলেন। আমরা কয়েক দিন আবু বকরের বাড়িতে অবস্থান করলাম। এরপর আবু বকর বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল, আপনার স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য সহবাস করতে আপনাকে কী বাধা দিচ্ছে?” রাসূলুল্লাহ বললেন, “দেনমোহর।” তখন আবু বকর তাঁকে বারো উকিয়া ও এক নাশ পরিমাণ দেনমোহরের অর্থ দিলেন। রাসূলুল্লাহ সেই অর্থ আমাদের কাছে পাঠালেন এবং এরপর তিনি আমার সঙ্গে এই ঘরেই দাম্পত্য সহবাস করেন—যে ঘরে আমি এখন আছি এবং যে ঘরে পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন।
উৎস: আবু জাফর মুহাম্মদ ইবন জারির আল-তাবারি, তারিখ আল-রুসুল ওয়াল-মুলুক, আয়িশা বিনত আবু বকরের জীবনীসংক্রান্ত অংশ। [35] [36]
আল-তাবারির ইংরেজি অনুবাদের সংশ্লিষ্ট অংশে বর্ণিত হয়েছে যে, হিজরতের পর আয়িশাকে মুহাম্মদের কাছে পাঠানো এবং দেনমোহরের প্রসঙ্গ একই ধারাবাহিকতায় এসেছে; সেখানে নয় বছর বয়সে দাম্পত্য সহবাসের কথাও বলা হয়েছে। এই বর্ণনাটির একটি অংশ আল-ওয়াকিদি-সূত্রে সংরক্ষিত এবং হাদিসবিদদের কাছে তা দুর্বল। ফলে এটি মূল প্রমাণ নয়; বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ ও নাসাঈর সহিহ বর্ণনার পাশে কেবল ঐতিহাসিক সহায়ক উপাদান হিসেবে ব্যবহারযোগ্য [37]।
ইবন সাদ ও তাবারির এই ঐতিহাসিক বর্ণনাগুলো সহিহ বুখারি বা সহিহ মুসলিমের সমমানের হাদিস নয়; তাবারির উদ্ধৃত ধারাটির একটি অংশ আল-ওয়াকিদির সূত্রে এসেছে, যাকে বহু হাদিসবিদ দুর্বল বলেছেন। কিন্তু দুর্বল, শক্তিশালী ও ঐতিহাসিক সব বর্ণনাই একত্রে উপস্থাপন করলে দেখা যায়, প্রাপ্তবয়স্কতার জন্য অপেক্ষার দাবি সমর্থনকারী কোনো বর্ণনা নেই। বিপরীতে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক বর্ণনায় দেনমোহরের অর্থকে তাৎক্ষণিক বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই মুহাম্মদ আয়িশার শারীরিক পরিপক্বতার জন্য অপেক্ষা করেছিলেন বলে প্রচার করা ইসলামের ইতিহাস নয়; এটি প্রমাণহীন আধুনিক বানানো গল্প।
সহবাসের পরেও পুতুল নিয়ে খেলতেন আয়িশা
মুহাম্মদের ঘরে যাওয়ার পরেও আয়িশা পুতুল নিয়ে খেলতেন এবং তার সমবয়সী বান্ধবীরা তার সঙ্গে খেলতে আসত। মুহাম্মদ ঘরে প্রবেশ করলে মেয়েরা লুকিয়ে পড়ত; মুহাম্মদ আবার তাদের আয়িশার কাছে পাঠিয়ে দিতেন। একই বর্ণনা সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম এবং আল-আদাবুল মুফরাদে এসেছে। এটি শুধু একটি পুনরাবৃত্তি নয়; আলাদা সংকলনে একই শৈশবসুলভ আচরণের সংরক্ষণ [38] [39] [40]।
قَالَتْ كُنْتُ أَلْعَبُ بِالْبَنَاتِ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ لِي صَوَاحِبُ يَلْعَبْنَ مَعِي، فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ يَتَقَمَّعْنَ مِنْهُ، فَيُسَرِّبُهُنَّ إِلَىَّ فَيَلْعَبْنَ مَعِي.
আয়িশা বলেন: আমি নবীর উপস্থিতিতে পুতুল নিয়ে খেলতাম এবং আমার বান্ধবীরাও আমার সঙ্গে খেলত। রাসূলুল্লাহ ঘরে প্রবেশ করলে তারা লুকিয়ে পড়ত; তিনি তাদের আবার আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং তারা আমার সঙ্গে খেলত।
সহিহ বুখারি, হাদিস ৬১৩০
হাদিসের মূল আরবি পাঠে আয়িশার ঋতুস্রাব শুরু হয়েছিল কি না, তা সরাসরি বলা হয়নি। কিন্তু ধ্রুপদী ব্যাখ্যাকাররা এই পুতুল খেলাকে তার নাবালিকা হওয়ার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেছেন, কারণ প্রাণীর আকৃতির খেলনা সাধারণ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নিষিদ্ধ বিবেচিত হলেও শিশুদের জন্য ছাড় দেওয়া হয়েছিল। সহিহ বুখারির প্রচলিত ইংরেজি ব্যাখ্যাতেও বলা হয়েছে, আয়িশাকে পুতুল খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কারণ তিনি তখন ছোট মেয়ে এবং বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছাননি। তাই মূল হাদিসে ঋতুস্রাবের সরাসরি বাক্য না থাকলেও, ধ্রুপদী ইসলামী ব্যাখ্যায় ঘটনাটি আয়িশার শিশুত্বের সাক্ষ্য হিসেবেই ব্যবহৃত হয়েছে।
সুনান আবু দাউদের আরেকটি বর্ণনায় বলা হয়েছে, মুহাম্মদ খায়বার অথবা তাবুক অভিযান থেকে ফিরে আয়িশার ঘরের পর্দার আড়ালে তার পুতুলগুলো দেখতে পান। পুতুলগুলোর মধ্যে কাপড়ের তৈরি দুই ডানাওয়ালা একটি ঘোড়া ছিল। মুহাম্মদ সেটি দেখে প্রশ্ন করলে আয়িশা বলেন, সুলাইমানের ডানাওয়ালা ঘোড়ার কথা কি তিনি শোনেননি? মুহাম্মদ তার উত্তর শুনে হাসেন [41]।
قَالَتْ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ غَزْوَةِ تَبُوكَ أَوْ خَيْبَرَ… فَكَشَفَتْ نَاحِيَةَ السِّتْرِ عَنْ بَنَاتٍ لِعَائِشَةَ لُعَبٍ فَقَالَ: «مَا هَذَا يَا عَائِشَةُ؟» قَالَتْ بَنَاتِي… قَالَ: «فَرَسٌ لَهُ جَنَاحَانِ؟» قَالَتْ أَمَا سَمِعْتَ أَنَّ لِسُلَيْمَانَ خَيْلاً لَهَا أَجْنِحَةٌ؟ قَالَتْ فَضَحِكَ حَتَّى رَأَيْتُ نَوَاجِذَهُ.
আয়িশা বলেন: রাসূলুল্লাহ তাবুক অথবা খায়বার অভিযান থেকে ফিরে এলে বাতাসে পর্দা সরে তার পুতুলগুলো দেখা যায়। তিনি জিজ্ঞেস করেন, “এগুলো কী?” আয়িশা বলেন, “আমার পুতুল।” পুতুলগুলোর মধ্যে ডানাওয়ালা ঘোড়া দেখে তিনি প্রশ্ন করেন, “দুই ডানাওয়ালা ঘোড়া?” আয়িশা বলেন, “আপনি কি শোনেননি যে সুলাইমানের ঘোড়ার ডানা ছিল?” তখন তিনি হাসেন।
সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৪৯৩২
বর্ণনাকারী নিশ্চিত নন ঘটনাটি খায়বার অভিযানের পর, নাকি তাবুক অভিযানের পর ঘটেছিল। তাই এই হাদিস দিয়ে আয়িশার সুনির্দিষ্ট বয়স বা ঋতুস্রাবের সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা যায় না। কিন্তু এটি নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করে, মুহাম্মদের সঙ্গে বিবাহিত ও যৌনজীবনে থাকার পরেও আয়িশা পুতুল নিয়ে খেলতেন এবং নিজেই সেগুলোকে “আমার মেয়েরা” বলে উল্লেখ করতেন। বয়স্ক পুরুষের যৌনসঙ্গিনী বানানো হলেও তার দৈনন্দিন আচরণে শিশুত্ব বিলীন হয়ে যায়নি।
নিজের কন্যার ক্ষেত্রে মুহাম্মদের ভিন্ন নীতি
সুনান নাসাঈর একটি হাদিসে বলা হয়েছে, আবু বকর ও উমর মুহাম্মদের কন্যা ফাতিমাকে বিবাহের প্রস্তাব দিলে মুহাম্মদ বলেন, “সে তো অল্পবয়স্ক।” এরপর বয়সে অপেক্ষাকৃত কাছাকাছি আলী প্রস্তাব দিলে মুহাম্মদ তার সঙ্গে ফাতিমার বিবাহ দেন। নাসাঈ বর্ণনাটিকে “সমবয়সীকে বিবাহ করা” অধ্যায়ের অধীনে রেখেছেন [42] [43]।
باب تَزَوُّجِ الْمَرْأَةِ مِثْلَهَا فِي السِّنِّ
خَطَبَ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ رضى الله عنهما فَاطِمَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّهَا صَغِيرَةٌ». فَخَطَبَهَا عَلِيٌّ فَزَوَّجَهَا مِنْهُ.
অধ্যায়: নারীর নিজের সমবয়সী ব্যক্তিকে বিবাহ করা। বুরাইদা থেকে বর্ণিত: আবু বকর ও উমর ফাতিমাকে বিবাহের প্রস্তাব দিলে রাসূলুল্লাহ বলেন, “সে তো অল্পবয়স্ক।” এরপর আলী প্রস্তাব দিলে তিনি ফাতিমাকে আলীর সঙ্গে বিবাহ দেন।
সুনান নাসাঈ, হাদিস ৩২২১
হাদিসটি প্রমাণ করে, বয়সের ব্যবধান যে বিবাহের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, মুহাম্মদ তা বুঝতেন। নিজের কন্যা ফাতিমার জন্য আবু বকর ও উমরকে বেশি বয়স্ক মনে করে প্রত্যাখ্যান করেছেন, কিন্তু নিজে আবু বকরের ছয় বছরের মেয়েকে বিবাহ করেছেন। নিজের কন্যার ক্ষেত্রে অল্প বয়স ও বয়সের সামঞ্জস্য বিবেচনা করা, অথচ অন্যের শিশু কন্যার ক্ষেত্রে সেই বিবেচনা পরিত্যাগ করা কোনো সর্বজনীন নৈতিক নীতি নয়; এটি স্পষ্ট দ্বৈত মানদণ্ড।
বয়ঃসন্ধির দাবিতে ব্যবহৃত দুই বর্ণনা ও অনুবাদের কারসাজি
নয় বছর বয়সে আয়িশা ঋতুমতী কিংবা শারীরিকভাবে পরিণত হয়েছিলেন, এমন কোনো বক্তব্য আয়িশার বিবাহ ও সহবাসের হাদিসগুলোতে নেই। কিন্তু এই অস্বস্তিকর শূন্যতা পূরণ করার জন্য আধুনিক ইসলামি এপোলোজিস্টরা সাধারণত দুইটি বর্ণনা হাজির করেন। প্রথমটি সহিহ বুখারির একটি হাদিস, যেখানে আয়িশা তাঁর শৈশবের স্মৃতি সম্পর্কে বলেছেন। দ্বিতীয়টি সুনান আবু দাউদের সেই বর্ণনা, যেখানে দোলনায় খেলতে থাকা আয়িশাকে তাঁর মা ধরে নিয়ে যান এবং মুহাম্মদের কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত করেন। দুই ক্ষেত্রেই অনুবাদের মধ্যে এমন শব্দ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা মূল আরবিতে নেই।
لَمْ أَعْقِلْ أَبَوَىَّ إِلاَّ وَهُمَا يَدِينَانِ الدِّينَ، وَلَمْ يَمُرَّ عَلَيْنَا يَوْمٌ إِلاَّ يَأْتِينَا فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَرَفَىِ النَّهَارِ بُكْرَةً وَعَشِيَّةً.
আয়িশা বলেন: “আমার জ্ঞান হওয়ার পর থেকে আমি আমার পিতামাতাকে এই ধর্ম পালনরত অবস্থাতেই দেখেছি; এমন কোনো দিন যেত না যেদিন রাসূলুল্লাহ সকাল ও সন্ধ্যায় আমাদের কাছে আসতেন না।” এখানে لَمْ أَعْقِلْ স্মরণ/বোধশক্তি অর্জনের কথা; ঋতুস্রাব বা বয়ঃসন্ধির কোনো শব্দ নেই।
সহিহ বুখারি, হাদিস ৪৭৬
এখানে আয়িশার ব্যবহৃত বাক্য لَمْ أَعْقِلْ أَبَوَىَّ অর্থ, “আমার স্মরণ হওয়ার পর থেকে”, “আমার জ্ঞান হওয়ার পর থেকে” কিংবা “আমি যত দিন থেকে আমার পিতামাতাকে চিনতে পেরেছি”। বাক্যটিতে ঋতুস্রাব, বয়ঃসন্ধি কিংবা যৌন পরিপক্বতা বোঝানোর কোনো শব্দ নেই। মূল আরবিতে بلغت, حاضت কিংবা বয়ঃসন্ধি বোঝায় এমন কোনো ক্রিয়াই ব্যবহৃত হয়নি। অতএব কোনো অনুবাদে এর অর্থ “আমি বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানোর পর থেকে” করা হলে সেটি হাদিসের অনুবাদ নয়; অনুবাদকের নিজস্ব বক্তব্যকে হাদিসের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া। আয়িশা শৈশবের স্মৃতির কথা বলেছেন, বয়ঃসন্ধির নয়। বাংলা অনুবাদেও যথার্থভাবেই “আমার জ্ঞানমতে” বলা হয়েছে [44]।
দ্বিতীয় এবং আরও গুরুতর অনুবাদ-বিকৃতি দেখা যায় সুনান আবু দাউদ ৪৯৩৩ নম্বর হাদিসে। আয়িশার মা তাঁকে দোলনা থেকে নামিয়ে মুহাম্মদের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। দৌড়ঝাঁপ ও হঠাৎ ধরে নিয়ে যাওয়ার কারণে আয়িশা তখন হাঁপাচ্ছিলেন। হাদিসে আয়িশার মুখ থেকে বের হওয়া হাঁপানোর শব্দকে هِيهْ هِيهْ লেখা হয়েছে এবং আবু দাউদ নিজেই এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, أَيْ تَنَفَّسَتْ, অর্থাৎ “তিনি শ্বাস নিচ্ছিলেন” বা “হাঁপাচ্ছিলেন”।
إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَزَوَّجَنِي وَأَنَا بِنْتُ سَبْعِ سِنِينَ… وَأَنَا عَلَى أُرْجُوحَةٍ فَذَهَبْنَ بِي وَهَيَّأْنَنِي وَصَنَعْنَنِي فَأُتِيَ بِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَبَنَى بِي وَأَنَا ابْنَةُ تِسْعٍ فَوَقَفَتْ بِي عَلَى الْبَابِ فَقُلْتُ هِيهْ هِيهْ – قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَىْ تَنَفَّسَتْ.
আয়িশা বলেন: রাসূলুল্লাহ আমাকে ছয় বা সাত বছর বয়সে বিবাহ করেন। মদিনায় এসে আমি দোলনায় ছিলাম; আমাকে নিয়ে প্রস্তুত করে তার কাছে আনা হয় এবং নয় বছর বয়সে তিনি আমার সঙ্গে বানা বি করেন। দরজায় দাঁড় করানোর সময় আমি “হিহ্, হিহ্” করছিলাম। আবু দাউদ বলেন: أَىْ تَنَفَّسَتْ—অর্থাৎ তিনি শ্বাস নিচ্ছিলেন/হাঁপাচ্ছিলেন।
সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৪৯৩৩
কিছু ইংরেজি অনুবাদে أَيْ تَنَفَّسَتْ বাক্যটিকে বিস্ময়করভাবে “আমার ঋতুস্রাব হয়েছিল” বলে অনুবাদ করা হয়েছে। অথচ تَنَفَّسَتْ অর্থ শ্বাস নেওয়া। ঋতুস্রাব বোঝানোর জন্য হাদিসে ব্যবহৃত পরিচিত শব্দ حَاضَتْ; এখানে সেই শব্দ নেই। ইসলামওয়েবে প্রকাশিত আবদুল মুহসিন আল-আব্বাদের সুনান আবু দাউদের ব্যাখ্যাতেও বলা হয়েছে, আয়িশা দরজায় দাঁড়িয়ে সেই শ্বাস নেওয়া বা হাঁপানোর শব্দই করেছিলেন, যা তিনি “হিহ্, হিহ্” বলে বর্ণনা করেছেন [45]। ফলে এই হাদিসকে আয়িশার ঋতুস্রাবের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা সরাসরি অনুবাদ-বিকৃতি। বরং সহিহ বুখারির সমান্তরাল বর্ণনায় আয়িশা পরিষ্কার বলেছেন, তাঁর মা তাঁকে ধরে দরজায় দাঁড় করানোর সময় তিনি হাঁপাচ্ছিলেন, তারপর শ্বাস স্বাভাবিক হলে তাঁকে ঘরের মধ্যে নেওয়া হয়।
সারিফে আয়িশার ঋতুস্রাব: নয় বছর বয়সের কোনো প্রমাণ নয়
সহিহ বুখারির আরেকটি হাদিসে আয়িশা বলেন, হজের উদ্দেশ্যে মদিনা থেকে যাত্রা করার পর সারিফ নামক স্থানে তিনি ঋতুমতী হন। মুহাম্মদ তাঁকে কাঁদতে দেখে জিজ্ঞেস করেন, “তোমার কী হয়েছে? তোমার কি ঋতুস্রাব হয়েছে?” আয়িশা সম্মতি জানালে মুহাম্মদ তাঁকে কাবাঘর তাওয়াফ ছাড়া হজের অন্য কাজগুলো করতে বলেন।
قَالَتْ خَرَجْنَا لاَ نَرَى إِلاَّ الْحَجَّ، فَلَمَّا كُنَّا بِسَرِفَ حِضْتُ، فَدَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أَبْكِي قَالَ: «مَا لَكِ أَنُفِسْتِ؟» قُلْتُ نَعَمْ. قَالَ: «إِنَّ هَذَا أَمْرٌ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَى بَنَاتِ آدَمَ، فَاقْضِي مَا يَقْضِي الْحَاجُّ، غَيْرَ أَنْ لاَ تَطُوفِي بِالْبَيْتِ».
আয়িশা বলেন: আমরা হজের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলাম। সারিফে পৌঁছালে আমার ঋতুস্রাব হলো। রাসূলুল্লাহ আমাকে কাঁদতে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার কি ঋতুস্রাব হয়েছে?” আমি বললাম, “হ্যাঁ।” তিনি বললেন, “এটি আল্লাহ আদম-কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন; তুমি হাজিরা যা করে তা করো, শুধু কাবাঘর তাওয়াফ করো না।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ২৯৪
এই বর্ণনা থেকে কেবল প্রমাণিত হয় যে বিদায় হজের সময় আয়িশা ঋতুমতী ছিলেন। হাদিসে কোথাও এটিকে তাঁর জীবনের প্রথম ঋতুস্রাব বলা হয়নি। একইভাবে এই ঘটনা নয় বছর বয়সে ঘটেছিল বলেও হাদিসে কিছু নেই। বিদায় হজ সংঘটিত হয়েছিল মুহাম্মদের মৃত্যুর অল্প সময় আগে, যখন হাদিসের নিজস্ব হিসাবেই আয়িশার বয়স প্রায় আঠারো বছর। অতএব সারিফের ঘটনাকে নয় বছর বয়সে বয়ঃসন্ধির প্রমাণ হিসেবে হাজির করা কালানুক্রমিকভাবে অসম্ভব। নিশ্চিত তথ্য হচ্ছে, নয় বছর বয়সে সহবাসের সময় আয়িশা ঋতুমতী ছিলেন—এমন কোনো হাদিস এই আলোচনায় পাওয়া যায় না।
সারিফের ঘটনাকে আয়িশার জীবনের প্রথম ঋতুস্রাব বলে প্রমাণ করার আরেকটি সম্ভাব্য বিভ্রান্তির উৎস বুখারির অধ্যায়ের শিরোনাম باب كيف كان بدء الحيض—“ঋতুস্রাবের সূচনা কীভাবে হয়েছিল”। কিন্তু এই শিরোনামের “সূচনা” আয়িশার ব্যক্তিগত প্রথম ঋতুস্রাবকে বোঝায় না। ইবন হাজার ফাতহুল বারীতে অধ্যায়টির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সরাসরি আলোচনা করেছেন মানব নারীদের মধ্যে ঋতুস্রাবের সূচনা নিয়ে—এটি বনি ইসরাইলের নারীদের সময় শুরু হয়েছিল, নাকি তারও আগে হাওয়া ও আদমকন্যাদের মধ্যে ছিল। তিনি ইবন আব্বাসের একটি বর্ণনাও উল্লেখ করেন, যেখানে হাওয়ার পৃথিবীতে অবতরণের পর থেকেই ঋতুস্রাবের সূচনার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ অধ্যায়ের বাদউল হায়দ বা “ঋতুস্রাবের সূচনা” কথাটি আয়িশার menarche নয়; মানব নারীদের মধ্যে ঋতুস্রাবের উৎপত্তি নিয়ে একটি সাধারণ আলোচনা। এই শিরোনামকে আয়িশার জীবনের প্রথম ঋতুস্রাবের প্রমাণ বানানো প্রসঙ্গের সরাসরি বিকৃতি [46]।
আয়িশা কেন কাঁদছিলেন, সেটিও অনুমান করার প্রয়োজন নেই। একই ঘটনার সহিহ বুখারির বিস্তৃত বর্ণনায় মুহাম্মদ তাকে জিজ্ঞেস করেন, “কী কারণে কাঁদছ?” আয়িশা উত্তর দেন, سَمِعْتُ قَوْلَكَ لأَصْحَابِكَ فَمُنِعْتُ الْعُمْرَةَ—“আমি আপনার সাহাবিদের প্রতি আপনার কথা শুনেছি, আর আমাকে উমরাহ থেকে বাধা দেওয়া হয়েছে।” অর্থাৎ তাঁর কান্নার কারণ ছিল ঋতুস্রাবের কারণে উমরাহর আচার সম্পন্ন করতে না পারা; হাদিস কোথাও বলে না যে তিনি জীবনের প্রথম ঋতুস্রাব দেখে ভয়, বিস্ময় বা অপ্রস্তুতিতে কাঁদছিলেন [47]। উমদাতুল কারীতে وكان ابتداء حيضها يوم السبت…—“তার ঋতুস্রাব শুরু হয়েছিল শনিবার…” বলা হলেও একই আলোচনায় সেই নির্দিষ্ট ঋতুস্রাব কখন শুরু এবং কখন শেষ হয়েছিল তার কালপঞ্জি দেওয়া হয়েছে; এখানে ابتداء حيضها সেই menstrual episode-এর শুরু বোঝায়, জীবনের প্রথম ঋতুস্রাব নয় [48]। তুলনার জন্য, সুনান আবু দাউদের একটি বর্ণনায় যখন সত্যিই জীবনের প্রথম ঋতুস্রাব বোঝানো হয়েছে, সেখানে সরাসরি فَكَانَتْ أَوَّلَ حَيْضَةٍ حِضْتُهَا—“এটাই ছিল আমার প্রথম ঋতুস্রাব”—বলা হয়েছে; আয়িশার সারিফের কোনো বর্ণনায় এমন ভাষা নেই [49]।
ফাতহুল বারীর সাক্ষ্য: আয়িশা তখন বয়ঃসন্ধির নিচে ছিলেন
সহিহ বুখারিতে আয়িশার ছয় বছর বয়সে বিবাহ এবং নয় বছর বয়সে সহবাসের বর্ণনাটি ইমাম বুখারি যে পরিচ্ছেদের অধীনে রেখেছেন, তার শিরোনামই হলো باب إنكاح الرجل ولده الصغار, অর্থাৎ “কোনো ব্যক্তির অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে বিবাহ দেওয়া”। এই পরিচ্ছেদের দলিল হিসেবে বুখারি সূরা তালাকের ৪ নম্বর আয়াতের وَاللَّائِي لَمْ يَحِضْنَ, “যাদের এখনো ঋতুস্রাব হয়নি”, বাক্যটি ব্যবহার করেছেন। এরপর আয়িশার ছয় বছর বয়সে বিবাহ ও নয় বছর বয়সে মুহাম্মদের ঘরে প্রবেশের হাদিস এনেছেন [50]
ফাতহুল বারী শরহ সহিহ বুখারি — অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে বিবাহ দেওয়ার অধ্যায়
ইবন হাজার আল-আসকালানি
খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৯৬–৯৭
আরবি মূল:
باب إنكاح الرجل ولده الصغار لقول الله تعالى: وَاللَّائِي لَمْ يَحِضْنَ، فجعل عدتها ثلاثة أشهر قبل البلوغ
4840 حدثنا محمد بن يوسف، حدثنا سفيان، عن هشام، عن أبيه، عن عائشة رضي الله عنها: أن النبي صلى الله عليه وسلم تزوجها وهي بنت ست سنين، وأدخلت عليه وهي بنت تسع، ومكثت عنده تسعا.
الشرح:
قوله: (باب إنكاح الرجل ولده الصغار) ضبط ولده بضم الواو وسكون اللام على الجمع وهو واضح، وبفتحهما على أنه اسم جنس، وهو أعم من الذكور والإناث.
قوله: (لقول الله تعالى: وَاللَّائِي لَمْ يَحِضْنَ فجعل عدتها ثلاثة أشهر قبل البلوغ) أي: فدل على أن نكاحها قبل البلوغ جائز، وهو استنباط حسن، لكن ليس في الآية تخصيص ذلك بالوالد ولا بالبكر. ويمكن أن يقال: الأصل في الأبضاع التحريم إلا ما دل عليه الدليل، وقد ورد حديث عائشة في تزويج أبي بكر لها وهي دون البلوغ، فبقي ما عداه على الأصل، ولهذا السر أورد حديث عائشة.
قال المهلب: أجمعوا أنه يجوز للأب تزويج ابنته الصغيرة البكر ولو كانت لا يوطأ مثلها، إلا أن الطحاوي حكى عن ابن شبرمة منعه فيمن لا توطأ.
وحكى ابن حزم عن ابن شبرمة مطلقا أن الأب لا يزوج بنته البكر الصغيرة حتى تبلغ وتأذن، وزعم أن تزويج النبي صلى الله عليه وسلم عائشة وهي بنت ست سنين كان من خصائصه.
ومقابله تجويز الحسن والنخعي للأب إجبار بنته، كبيرة كانت أو صغيرة، بكرا كانت أو ثيبا.
تنبيه:
وقع في حديث عائشة من هذا الوجه إدراج يظهر من الطريق التي في الباب الذي بعده.
বাংলা অনুবাদ:
অধ্যায়: কোনো ব্যক্তির অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে বিবাহ দেওয়া — আল্লাহর এই বাণীর ভিত্তিতে: “এবং যাদের এখনো ঋতুস্রাব হয়নি”; অতএব বয়ঃসন্ধির আগেই তাদের ইদ্দত তিন মাস নির্ধারণ করা হয়েছে।
হাদিস ৪৮৪০: মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ আমাদের বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি হিশাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন: নবী মুহাম্মদ তাঁকে বিবাহ করেন যখন তাঁর বয়স ছিল ছয় বছর। নয় বছর বয়সে তাঁকে মুহাম্মদের কাছে পাঠানো হয় এবং তিনি তাঁর কাছে নয় বছর অবস্থান করেন।
ইবন হাজারের ব্যাখ্যা:
“কোনো ব্যক্তির অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে বিবাহ দেওয়া”—এখানে ওয়ালাদাহু শব্দটি বহুবচন অর্থেও পড়া যায়; আবার জাতিবাচক অর্থেও ব্যবহৃত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে এটি ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।
“আল্লাহর বাণী: ‘এবং যাদের এখনো ঋতুস্রাব হয়নি’; অতএব বয়ঃসন্ধির আগেই তাদের ইদ্দত তিন মাস নির্ধারণ করা হয়েছে”—এর অর্থ হলো, এই আয়াত থেকে প্রমাণিত হয় যে, বয়ঃসন্ধির আগে মেয়ের বিবাহ বৈধ। ইবন হাজার এটিকে একটি উত্তম আইনগত সিদ্ধান্ত বা ইস্তিনবাত বলেছেন। তবে আয়াতে এই বিধানকে শুধু পিতা কিংবা শুধু কুমারী মেয়ের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ করা হয়নি। বলা যেতে পারে, যৌন ও বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মূলনীতি হচ্ছে নিষেধ, যতক্ষণ না বৈধতার কোনো দলিল পাওয়া যায়। আয়িশার হাদিসে এসেছে যে, আবু বকর তাঁকে বয়ঃসন্ধির আগেই বিবাহ দিয়েছিলেন। অন্য ক্ষেত্রগুলো তাই মূল বিধানের অধীনে থেকে যায়। এই কারণেই বুখারি এখানে আয়িশার হাদিসটি উল্লেখ করেছেন।
আল-মুহাল্লাব বলেন: আলেমরা একমত হয়েছেন যে, পিতা তার অপ্রাপ্তবয়স্ক কুমারী কন্যাকে বিবাহ দিতে পারে, এমনকি মেয়েটি এত ছোট হলেও যে তার মতো মেয়ের সঙ্গে যৌনসঙ্গম করা সম্ভব বা উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয় না। তবে তাহাবি ইবন শুবরুমা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সঙ্গে সহবাস করা যায় না, তাকে বিবাহ দেওয়ার অনুমতি তিনি দেননি।
ইবন হাযম ইবন শুবরুমা থেকে আরও সাধারণভাবে বর্ণনা করেছেন যে, পিতা তার অপ্রাপ্তবয়স্ক কুমারী কন্যাকে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানো এবং তার অনুমতি দেওয়া পর্যন্ত বিবাহ দিতে পারে না। ইবন শুবরুমা মনে করতেন, মুহাম্মদ যখন ছয় বছর বয়সী আয়িশাকে বিবাহ করেছিলেন, সেটি মুহাম্মদের জন্য বিশেষ বিধান ছিল।
এর বিপরীতে হাসান আল-বাসরি ও ইবরাহিম আন-নাখাঈ পিতাকে তার মেয়েকে জোরপূর্বক বিবাহ দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন—মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হোক বা অপ্রাপ্তবয়স্ক, কুমারী হোক বা পূর্বে বিবাহিত হোক।
টীকা:
ইবন হাজার বলেন, এই সূত্রে আয়িশার হাদিসের মধ্যে একটি সংযোজিত অংশ রয়েছে, যা পরবর্তী অধ্যায়ের বর্ণনাসূত্রের সঙ্গে তুলনা করলে বোঝা যায়।
উৎস: ইবন হাজার আল-আসকালানি, ফাতহুল বারী শরহ সহিহ আল-বুখারি, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৯৬–৯৭, “باب إنكاح الرجل ولده الصغار”। [51]
ইবন হাজার একই স্থানে ইবন শুবরুমার ভিন্নমতও উল্লেখ করেছেন। ইবন শুবরুমা বলেছিলেন, কন্যা বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছে অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত পিতা তাকে বিবাহ দিতে পারবে না এবং আয়িশার বিবাহ মুহাম্মদের বিশেষ বিধান ছিল। অতএব “কোনো মুসলিম আলেম কখনো ভিন্নমত দেননি” বলা সম্পূর্ণ নির্ভুল নয়। কিন্তু চার সুন্নি মাযহাব ইবন শুবরুমার এই মত গ্রহণ করেনি। তাদের মূলধারার আইনে পিতা বা নির্ধারিত অভিভাবকের মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিবাহ বৈধ রাখা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ইবন হাজার নিজেই আয়িশাকে বিবাহের সময় دُونَ الْبُلُوغِ, অর্থাৎ বয়ঃসন্ধির নিচে বলে উল্লেখ করেছেন।
আয়িশার পুতুল-খেলার হাদিসের ব্যাখ্যাতেও ফাতহুল বারী একই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। জীবন্ত প্রাণীর প্রতিকৃতিযুক্ত পুতুল সাধারণ নারীর জন্য নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও আয়িশাকে পুতুল খেলতে দেওয়া হয়েছিল কেন, তার ব্যাখ্যায় আল-খাত্তাবি বলেন, আয়িশা তখনো বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছাননি। ইবন হাজার এটিকে শতভাগ নিশ্চিত সিদ্ধান্ত বলেননি; কিন্তু আবু দাউদের বর্ণনায় ঘটনাটি তাবুক অথবা খায়বারের পর ঘটেছে দেখে তিনি খায়বারের বর্ণনাকে প্রাধান্য দেন এবং আল-খাত্তাবির ব্যাখ্যার সঙ্গে এর সমন্বয়কে গ্রহণযোগ্য বলেন [52]
সহিহ বুখারি ও ফাতহুল বারী — আয়িশার পুতুল নিয়ে খেলা
আরবি মূল:
5779 حدثنا محمد أخبرنا أبو معاوية حدثنا هشام عن أبيه عن عائشة رضي الله عنها قالت: كنت ألعب بالبنات عند النبي صلى الله عليه وسلم وكان لي صواحب يلعبن معي، فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا دخل يتقمعن منه، فيسربهن إلي فيلعبن معي.
الشرح:
حديث عائشة: “كنت ألعب بالبنات”، ومحمد شيخه فيه هو ابن سلام.
قوله: (وكان لي صواحب يلعبن معي) أي من أقرانها.
قوله: (يتقمعن) بمثناة وتشديد الميم المفتوحة، وفي رواية الكشميهني بنون ساكنة وكسر الميم، ومعناه أنهن يتغيبن منه ويدخلن من وراء الستر، وأصله من قمع التمرة، أي يدخلن في الستر كما تدخل التمرة في قمعها.
قوله: (فيسربهن إلي) بسين مهملة ثم موحدة، أي يرسلهن. واستدل بهذا الحديث على جواز اتخاذ صور البنات واللعب من أجل لعب البنات بهن، وخص ذلك من عموم النهي عن اتخاذ الصور، وبه جزم عياض ونقله عن الجمهور، وأنهم أجازوا بيع اللعب للبنات لتدريبهن من صغرهن على أمر بيوتهن وأولادهن. قال: وذهب بعضهم إلى أنه منسوخ، وإليه مال ابن بطال، وحكى عن ابن أبي زيد عن مالك أنه كره أن يشتري الرجل لابنته الصور، ومن ثم رجح الداودي أنه منسوخ.
وقد ترجم ابن حبان: الإباحة لصغار النساء اللعب باللعب، وترجم له النسائي: إباحة الرجل لزوجته اللعب بالبنات، فلم يقيد بالصغر، وفيه نظر. قال البيهقي بعد تخريجه: ثبت النهي عن اتخاذ الصور، فيحمل على أن الرخصة لعائشة في ذلك كان قبل التحريم، وبه جزم ابن الجوزي. وقال المنذري: إن كانت اللعب كالصورة فهو قبل التحريم، وإلا فقد يسمى ما ليس بصورة لعبة. وبهذا جزم الحليمي فقال: إن كانت صورة كالوثن لم يجز، وإلا جاز.
وقيل: معنى الحديث اللعب مع البنات، أي الجواري، والباء هنا بمعنى “مع”، حكاه ابن التين عن الداودي، ورده. قلت: ويرده ما أخرجه ابن عيينة في “الجامع” من رواية سعيد بن عبد الرحمن المخزومي عنه عن هشام بن عروة في هذا الحديث: “وكن جواري يأتين فيلعبن بها معي”، وفي رواية جرير عن هشام: “كنت ألعب بالبنات وهن اللعب”، أخرجه أبو عوانة وغيره.
وأخرج أبو داود والنسائي من وجه آخر عن عائشة قالت: “قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم من غزوة تبوك أو خيبر”، فذكر الحديث في هتكه الستر الذي نصبته على بابها، قالت: “فكشف ناحية الستر على بنات لعائشة لعب، فقال: ما هذا يا عائشة؟ قالت: بناتي. قالت: ورأى فيها فرسا مربوطا له جناحان، فقال: ما هذا؟ قلت: فرس. قال: فرس له جناحان؟ قلت: ألم تسمع أنه كان لسليمان خيل لها أجنحة؟ فضحك”. فهذا صريح في أن المراد باللعب غير الآدميات.
قال الخطابي: في هذا الحديث أن اللعب بالبنات ليس كالتلهي بسائر الصور التي جاء فيها الوعيد، وإنما أرخص لعائشة فيها لأنها إذ ذاك كانت غير بالغ.
قلت: وفي الجزم به نظر، لكنه محتمل؛ لأن عائشة كانت في غزوة خيبر بنت أربع عشرة سنة، إما أكملتها أو جاوزتها أو قاربتها. وأما في غزوة تبوك فكانت قد بلغت قطعا، فيترجح رواية من قال في خيبر، ويجمع بما قال الخطابي؛ لأن ذلك أولى من التعارض.
বাংলা অনুবাদ:
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আমি নবী মুহাম্মদের উপস্থিতিতে পুতুল নিয়ে খেলতাম। আমার কয়েকজন বান্ধবী ছিল, যারা আমার সঙ্গে খেলত। রাসূলুল্লাহ ঘরে প্রবেশ করলে তারা তাঁর কাছ থেকে লুকিয়ে পড়ত। তখন তিনি তাদের আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং তারা আমার সঙ্গে খেলত।”
ইবন হাজারের ব্যাখ্যা:
আয়িশার “আমি পুতুল নিয়ে খেলতাম” হাদিসটি এখানে আলোচিত হয়েছে। এই হাদিসে মুহাম্মদ নামে যিনি বুখারির শিক্ষক, তিনি হচ্ছেন ইবন সালাম।
“আমার কয়েকজন বান্ধবী ছিল যারা আমার সঙ্গে খেলত”—এর অর্থ, তারা আয়িশার সমবয়সী মেয়েরা ছিল।
“তারা তাঁর কাছ থেকে লুকিয়ে পড়ত”—এর অর্থ, মুহাম্মদ প্রবেশ করলে তারা নিজেদের আড়াল করত এবং পর্দার পেছনে চলে যেত। আর “তিনি তাদের আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন”—এর অর্থ, তিনি মেয়েগুলোকে আবার আয়িশার কাছে যেতে দিতেন।
এই হাদিস থেকে মেয়েদের পুতুল তৈরি করা এবং মেয়েদের সেগুলো দিয়ে খেলতে দেওয়ার বৈধতার দলিল গ্রহণ করা হয়েছে। সাধারণভাবে প্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরি নিষিদ্ধ হওয়ার বিধান থেকে এটিকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। কাজি ইয়াদ এই মত নিশ্চিতভাবে গ্রহণ করেছেন এবং অধিকাংশ আলেমের মত হিসেবেও তা উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মতে ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের ঘর ও সন্তান পরিচালনার অনুশীলনের জন্য তাদের পুতুল বিক্রি করাও বৈধ। তবে কিছু আলেম মনে করেছেন, এই অনুমতি পরবর্তীতে রহিত হয়ে গেছে। ইবন বাত্তাল এই মতের দিকে ঝুঁকেছেন। ইবন আবি যায়দ মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, কোনো ব্যক্তি তার মেয়ের জন্য প্রতিকৃতি কিনবে—এটি তিনি অপছন্দ করতেন। এ কারণে দাউদিও এটিকে রহিত হয়ে গেছে বলে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
ইবন হিব্বান এই হাদিসের অধ্যায়ের শিরোনাম দিয়েছেন, “অল্পবয়স্ক মেয়েদের পুতুল দিয়ে খেলার অনুমতি”। নাসাঈ এর শিরোনাম দিয়েছেন, “একজন পুরুষের তার স্ত্রীকে পুতুল নিয়ে খেলার অনুমতি দেওয়া”; তিনি এখানে অল্প বয়সের শর্ত উল্লেখ করেননি। ইবন হাজার বলেন, এতে বিবেচনার অবকাশ রয়েছে। বায়হাকি হাদিসটি উদ্ধৃত করার পর বলেছেন, প্রতিকৃতি তৈরি নিষিদ্ধ হওয়ার বিধান যেহেতু প্রতিষ্ঠিত, তাই আয়িশাকে পুতুল খেলার যে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল সেটি নিষেধাজ্ঞার আগের ঘটনা হিসেবে বুঝতে হবে। ইবন জাওযিও নিশ্চিতভাবে একই মত দিয়েছেন। মুনযিরি বলেছেন, পুতুলগুলো যদি প্রকৃত প্রতিকৃতির আকৃতির হয়ে থাকে, তাহলে ঘটনাটি নিষেধাজ্ঞার আগের; অন্যথায় এমন বস্তুকেও খেলনা বলা হতে পারে যা প্রকৃত প্রতিকৃতি নয়। হালিমিও একইভাবে বলেছেন, সেটি যদি মূর্তির মতো পূর্ণাঙ্গ প্রতিকৃতি হয় তাহলে বৈধ নয়, আর তা না হলে বৈধ।
আরেকটি মত ছিল, “পুতুল নিয়ে খেলা” বলতে আসলে “মেয়েদের সঙ্গে খেলা” বোঝানো হয়েছে; অর্থাৎ এখানে বানাত বলতে জীবিত মেয়েশিশু বোঝানো হয়েছে। ইবনুত তীন দাউদি থেকে এই ব্যাখ্যা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইবন হাজার বলেন, ইবন উয়াইনার আল-জামি গ্রন্থে হিশাম ইবন উরওয়া থেকে একই হাদিসের আরেক বর্ণনা এই ব্যাখ্যাকে বাতিল করে দেয়। সেখানে বলা হয়েছে, “কয়েকজন মেয়ে আমার কাছে আসত এবং আমার সঙ্গে সেগুলো দিয়ে খেলত।” জারিরের হিশাম থেকে বর্ণনায় আরও স্পষ্টভাবে আছে: “আমি বানাত নিয়ে খেলতাম, আর সেগুলো ছিল খেলনা।” আবু আওয়ানা প্রমুখ এই বর্ণনা সংরক্ষণ করেছেন।
আবু দাউদ ও নাসাঈ আয়িশা থেকে অন্য সূত্রে আরেকটি বর্ণনা করেছেন। আয়িশা বলেন, মুহাম্মদ তাবুক অথবা খায়বার অভিযান থেকে ফিরে এসেছিলেন। তাঁর দরজায় ঝোলানো পর্দার একাংশ সরিয়ে দিলে আয়িশার পুতুলগুলো দেখা যায়। মুহাম্মদ জিজ্ঞেস করেন, “আয়িশা, এগুলো কী?” তিনি বলেন, “আমার মেয়েরা।” সেগুলোর মধ্যে দুই ডানাওয়ালা একটি ঘোড়া দেখে মুহাম্মদ জিজ্ঞেস করেন, “এটি কী?” আয়িশা বলেন, “ঘোড়া।” তিনি বলেন, “ডানাওয়ালা ঘোড়া?” আয়িশা বলেন, “আপনি কি শোনেননি যে সুলাইমানের এমন ঘোড়া ছিল যাদের ডানা ছিল?” তখন মুহাম্মদ হাসেন। ইবন হাজার বলেন, এই বর্ণনা স্পষ্ট প্রমাণ করে যে এখানে ‘খেলনা’ বলতে জীবিত মেয়েশিশু নয়, প্রকৃত পুতুলই বোঝানো হয়েছে।
এরপর আল-খাত্তাবি বলেন: “এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, মেয়েদের পুতুল নিয়ে খেলা সেইসব অন্যান্য প্রতিকৃতি নিয়ে বিনোদনের মতো নয়, যেগুলোর ব্যাপারে শাস্তির হুঁশিয়ারি এসেছে। আয়িশাকে এগুলো নিয়ে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, কারণ তখন তিনি বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছাননি।”
ইবন হাজার এই বক্তব্যের পর বলেন: “এটিকে নিশ্চিতভাবে বলার মধ্যে বিবেচনার অবকাশ রয়েছে; তবে এটি সম্ভব। কারণ খায়বার অভিযানের সময় আয়িশার বয়স ছিল প্রায় চৌদ্দ বছর—তিনি হয় চৌদ্দ বছর পূর্ণ করেছিলেন, অথবা কিছুটা বেশি বা কিছুটা কম বয়সী ছিলেন। কিন্তু তাবুক অভিযানের সময় তিনি নিশ্চিতভাবেই বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছে গিয়েছিলেন। তাই যে বর্ণনায় ঘটনাটি খায়বারের সময় বলা হয়েছে সেটিই অগ্রাধিকার পায় এবং আল-খাত্তাবির বক্তব্যের সঙ্গে এভাবে সমন্বয় করা পরস্পরবিরোধিতা ধরে নেওয়ার চেয়ে উত্তম।”
উৎস: ইবন হাজার আল-আসকালানি, ফাতহুল বারী শরহ সহিহ আল-বুখারি, কিতাবুল আদব; আয়িশার পুতুল নিয়ে খেলার হাদিসের ব্যাখ্যা।
ফাতহুল বারী নয় বছর বয়সে আয়িশার বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানোর কোনো হাদিস উল্লেখ করেনি। একই গ্রন্থ বিবাহের সময় তাকে দূন আল-বুলূগ, অর্থাৎ বয়ঃসন্ধির নিচে বলে এবং পুতুল-খেলার ব্যাখ্যায় খায়বারের সময়ও তার বয়ঃসন্ধি না হওয়ার সম্ভাবনাকে গ্রহণযোগ্য সমন্বয় হিসেবে আলোচনা করে। অতএব নয় বছর বয়সে আয়িশা ইতোমধ্যেই “পরিণত নারী” ছিলেন—এই আধুনিক দাবি বুখারির হাদিস বা ফাতহুল বারীর বক্তব্য নয়।
সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় আয়িশা নিজেকে আবিসিনীয়দের খেলা দেখার সময় جَارِيَةً حَدِيثَةَ السِّنِّ, অর্থাৎ অল্পবয়স্ক বালিকা হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, অল্পবয়স্ক বালিকাদের খেলাধুলার প্রতি আকর্ষণ কত দীর্ঘ হতে পারে তা বিবেচনা করতে। এই ঘটনা দিয়ে সহবাসের দিনের সুনির্দিষ্ট বয়স নির্ধারণ করা যায় না; কিন্তু হাদিসে আয়িশা নিজেকে কোনো পরিণত নারী হিসেবে উপস্থাপন করেননি। পুতুল, দোলনা, বান্ধবীদের সঙ্গে খেলা এবং “অল্পবয়স্ক বালিকা” পরিচয় মিলে যে বাস্তব ছবিটি তৈরি করে, সেটি আধুনিক এপোলোজিস্টদের কল্পিত নয় বছর বয়সী পূর্ণপরিণত নারীর ছবির সম্পূর্ণ বিপরীত [53]।
চার মাযহাবের আইন: বয়ঃসন্ধি নয়, সহবাস সহ্য করার ক্ষমতা
আয়িশার নয় বছর বয়সকে বয়ঃসন্ধির বয়স বানানোর প্রয়োজন ধ্রুপদী ফিকহবিদদের ছিল না। কারণ তাঁদের আইনে সহবাসের জন্য ঋতুস্রাব কিংবা বয়ঃসন্ধি অপরিহার্য শর্ত ছিল না। সহবাসের ক্ষেত্রে তাঁরা যে শর্ত আলোচনা করেছেন তা হলো, মেয়েটি শারীরিকভাবে সহবাস সহ্য করতে পারবে কি না। এই সিদ্ধান্ত মেয়েটির স্বাধীন সম্মতি, মানসিক প্রস্তুতি কিংবা প্রাপ্তবয়স্ক বিচারবুদ্ধির ওপর নির্ভর করত না; স্বামী ও অভিভাবকের মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করত [54]

ইমাম নববী, শরহ সহিহ মুসলিম
খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৫৪৯–৫৫০
অধ্যায়: পিতা কর্তৃক অপ্রাপ্তবয়স্ক কুমারী কন্যার বিবাহ
আরবি মূল:
باب تزويج الأب البكر الصغيرة
1422 حدثنا أبو كريب محمد بن العلاء حدثنا أبو أسامة ح وحدثنا أبو بكر بن أبي شيبة قال وجدت في كتابي عن أبي أسامة عن هشام عن أبيه عن عائشة قالت: تزوجني رسول الله صلى الله عليه وسلم لست سنين، وبنى بي وأنا بنت تسع سنين. قالت: فقدمنا المدينة فوعكت شهرا، فوفى شعري جميمة، فأتتني أم رومان وأنا على أرجوحة ومعي صواحبي، فصرخت بي فأتيتها وما أدري ما تريد بي، فأخذت بيدي فأوقفتني على الباب، فقلت: هه هه، حتى ذهب نفسي، فأدخلتني بيتا فإذا نسوة من الأنصار، فقلن: على الخير والبركة وعلى خير طائر، فأسلمتني إليهن، فغسلن رأسي وأصلحنني، فلم يرعني إلا ورسول الله صلى الله عليه وسلم ضحى، فأسلمنني إليه.
الشرح:
فيه حديث عائشة رضي الله تعالى عنها قالت: (تزوجني رسول الله صلى الله عليه وسلم لست سنين، وبنى بي وأنا بنت تسع سنين)، وفي رواية: (تزوجها وهي بنت سبع سنين). هذا صريح في جواز تزويج الأب الصغيرة بغير إذنها؛ لأنه لا إذن لها، والجد كالأب عندنا، وقد سبق في الباب الماضي بسط الاختلاف في اشتراط الولي. وأجمع المسلمون على جواز تزويجه ابنته البكر الصغيرة لهذا الحديث، وإذا بلغت فلا خيار لها في فسخه عند مالك والشافعي وسائر فقهاء الحجاز، وقال أهل العراق: لها الخيار إذا بلغت.
أما غير الأب والجد من الأولياء فلا يجوز أن يزوجها عند الشافعي والثوري ومالك وابن أبي ليلى وأحمد وأبي ثور وأبي عبيد والجمهور، قالوا: فإن زوجها لم يصح. وقال الأوزاعي وأبو حنيفة وآخرون من السلف: يجوز لجميع الأولياء، ويصح ولها الخيار إذا بلغت، إلا أبا يوسف فقال: لا خيار لها. واتفق الجماهير على أن الوصي الأجنبي لا يزوجها، وجوز شريح وعروة وحماد له تزويجها قبل البلوغ، وحكاه الخطابي عن مالك أيضا. والله أعلم.
واعلم أن الشافعي وأصحابه قالوا: ويستحب أن لا يزوج الأب والجد البكر حتى تبلغ، ويستأذنها لئلا يوقعها في أسر الزوج وهي كارهة. وهذا الذي قالوه لا يخالف حديث عائشة؛ لأن مرادهم أنه لا يزوجها قبل البلوغ إذا لم تكن مصلحة ظاهرة يخاف فوتها بالتأخير، كحديث عائشة، فيستحب تحصيل ذلك الزوج؛ لأن الأب مأمور بمصلحة ولده فلا يفوتها. والله أعلم.
বাংলা অনুবাদ:
অধ্যায়: পিতা কর্তৃক অপ্রাপ্তবয়স্ক কুমারী কন্যার বিবাহ
হাদিস ১৪২২: আবু কুরাইব মুহাম্মদ ইবন আল-আলা আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু উসামা আমাদের বর্ণনা করেছেন। অপর সূত্রে আবু বকর ইবন আবি শাইবা বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আমার কিতাবে আবু উসামা থেকে, তিনি হিশাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়িশা থেকে বর্ণিত এই হাদিস পেয়েছি। আয়িশা বলেন: “রাসূলুল্লাহ আমাকে বিবাহ করেন যখন আমার বয়স ছিল ছয় বছর এবং আমার বয়স নয় বছর হলে তিনি আমার সঙ্গে দাম্পত্য সহবাস করেন।”
আয়িশা বলেন: এরপর আমরা মদিনায় এলাম। আমি এক মাস অসুস্থ ছিলাম এবং পরে আমার চুল আবার বেড়ে কানের নিচ পর্যন্ত পৌঁছায়। আমার মা উম্মু রুমান আমার কাছে এলেন, তখন আমি আমার বান্ধবীদের সঙ্গে দোলনায় ছিলাম। তিনি আমাকে উচ্চস্বরে ডাকলেন। আমি তাঁর কাছে গেলাম, কিন্তু তিনি আমাকে নিয়ে কী করতে চাইছেন তা আমি জানতাম না। তিনি আমার হাত ধরে দরজার কাছে দাঁড় করালেন। আমি তখন “হাহ্, হাহ্” করে হাঁপাচ্ছিলাম। আমার শ্বাস স্বাভাবিক হলে তিনি আমাকে একটি ঘরে নিয়ে গেলেন। সেখানে আনসার নারীরা ছিলেন। তাঁরা বললেন, “কল্যাণ ও বরকতের সঙ্গে, শুভ ভাগ্যের সঙ্গে।” আমার মা আমাকে তাঁদের হাতে তুলে দিলেন। তাঁরা আমার মাথা ধুয়ে আমাকে প্রস্তুত করলেন। এরপর চাশতের সময় হঠাৎ রাসূলুল্লাহ এলেন এবং তাঁরা আমাকে তাঁর কাছে হস্তান্তর করলেন।
ইমাম নববীর ব্যাখ্যা:
এখানে আয়িশার হাদিস রয়েছে, যেখানে তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ আমাকে ছয় বছর বয়সে বিবাহ করেন এবং নয় বছর বয়সে আমার সঙ্গে দাম্পত্য সহবাস করেন।” অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে: “তিনি তাঁকে সাত বছর বয়সে বিবাহ করেন।” এই হাদিস স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, পিতা তার অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাকে তার অনুমতি ছাড়াই বিবাহ দিতে পারে; কারণ তার অনুমতির কোনো কার্যকারিতা নেই। আমাদের মাযহাবে পিতামহও পিতার সমপর্যায়ের। পূর্ববর্তী অধ্যায়ে বিবাহে অভিভাবক শর্ত কি না, সে বিষয়ে মতভেদ বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এই হাদিসের ভিত্তিতে মুসলিম আলেমরা একমত হয়েছেন যে, পিতা তার অপ্রাপ্তবয়স্ক কুমারী কন্যাকে বিবাহ দিতে পারে। এরপর সে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছালে মালিক, শাফেয়ি এবং হিজাজের অন্যান্য ফকিহদের মতে সেই বিবাহ বাতিল করার অধিকার তার থাকে না। ইরাকের ফকিহরা বলেছেন, বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানোর পর তার পছন্দের অধিকার থাকবে।
পিতা ও পিতামহ ছাড়া অন্য কোনো অভিভাবক অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিবাহ দিতে পারবে না—এটি শাফেয়ি, সাওরি, মালিক, ইবন আবি লায়লা, আহমদ, আবু সাওর, আবু উবাইদ এবং অধিকাংশ আলেমের মত। তাঁদের মতে অন্য অভিভাবক এমন বিবাহ দিলে তা বৈধ হবে না। আওযাঈ, আবু হানিফা এবং সালাফের আরও কিছু আলেম বলেছেন, সব অভিভাবকই অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিবাহ দিতে পারে; বিবাহ বৈধ হবে, তবে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানোর পর মেয়েটির তা গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের অধিকার থাকবে। আবু ইউসুফের মতে, তার সেই অধিকারও থাকবে না। অধিকাংশ আলেম একমত যে, পিতা বা পিতামহের বাইরের কোনো নিযুক্ত অভিভাবক তাকে বিবাহ দিতে পারে না। তবে শুরাইহ, উরওয়া ও হাম্মাদ বয়ঃসন্ধির আগেই এমন অভিভাবকের মাধ্যমে বিবাহ দেওয়াকে বৈধ বলেছেন এবং খাত্তাবি মালিক থেকেও একই মত বর্ণনা করেছেন। আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
জেনে রাখুন, শাফেয়ি ও তাঁর অনুসারীরা বলেছেন: পিতা ও পিতামহের জন্য উত্তম হলো, কুমারী মেয়েটি বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানো পর্যন্ত তার বিবাহ না দেওয়া এবং এরপর তার অনুমতি নেওয়া, যাতে তার অনিচ্ছা থাকা অবস্থায় তাকে স্বামীর অধীনতায় আবদ্ধ করে দেওয়া না হয়। তাঁদের এই বক্তব্য আয়িশার হাদিসের বিরোধী নয়। কারণ তাঁদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, যদি এমন কোনো সুস্পষ্ট কল্যাণ না থাকে যা বিলম্ব করলে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাহলে বয়ঃসন্ধির আগে তাকে বিবাহ না দেওয়াই উত্তম। কিন্তু আয়িশার ঘটনার মতো উপযুক্ত পাত্র হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে সেই পাত্রের সঙ্গে বিবাহ সম্পন্ন করাই উত্তম বলে তাঁরা মনে করেছেন; কারণ পিতাকে তার সন্তানের কল্যাণ রক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাই সে যেন সেই কল্যাণ হারিয়ে না ফেলে। আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
উৎস: ইমাম ইয়াহইয়া ইবন শরফ আন-নববী, শরহ সহিহ মুসলিম, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৫৪৯–৫৫০। [55]
এখানে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন। নববী যে লিখেছেন, শাফেয়ি ও তাঁর অনুসারীদের মতে পিতা বা পিতামহের জন্য মেয়েটি বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানো পর্যন্ত বিবাহ না দেওয়া এবং পরে তার অনুমতি নেওয়া “উত্তম” বা মুস্তাহাব—এটি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিবাহ নিষিদ্ধকারী কোনো শরয়ি বিধান নয়। নববী এই নির্দিষ্ট সুপারিশের পক্ষে কোনো কোরআনের আয়াত বা মুহাম্মদের এমন কোনো হাদিস উদ্ধৃত করেননি, যেখানে বয়ঃসন্ধির আগে বিবাহ না দেওয়ার বাধ্যতামূলক নির্দেশ রয়েছে; বরং তিনি এটিকে শাফেয়ি ও তাঁর অনুসারীদের ফিকহি ইস্তিহবাব হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। ইসলামী ফিকহে মুস্তাহাব মানে পালন করা প্রশংসনীয়, কিন্তু পালন করা বাধ্যতামূলক নয়; তা ত্যাগ করলে কোনো নির্ধারিত শরয়ি শাস্তিও নেই। নববী নিজেই পরের বাক্যে এই সুপারিশকে আরও সীমিত করে বলেছেন, কোনো “সুস্পষ্ট কল্যাণ” হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে বয়ঃসন্ধির আগেই বিবাহ দেওয়া যেতে পারে এবং আয়িশার বিবাহকে সেই ব্যতিক্রমের উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ফলে এই বক্তব্যকে “ইসলাম বয়ঃসন্ধির আগে মেয়েদের বিবাহ না দিতে নির্দেশ দিয়েছে” বলে উপস্থাপন করা ভুল। সংশ্লিষ্ট শরিয়তি আইন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিবাহকে বৈধ রেখেছে; বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত অপেক্ষা করার কথাটি এখানে বাধ্যতামূলক আইন নয়, কেবল একটি অ-বাধ্যতামূলক ফিকহি সুপারিশ।
ইমাম নববী, শরহ সহিহ মুসলিম — অপ্রাপ্তবয়স্ক বিবাহিত মেয়েকে স্বামীর কাছে পাঠানো ও সহবাস
আরবি মূল:
وَأَمَّا وَقْتُ زِفَافِ الصَّغِيرَةِ الْمُزَوَّجَةِ وَالدُّخُولُ بِهَا فَإِنِ اتَّفَقَ الزَّوْجُ وَالْوَلِيُّ عَلَى شَيْءٍ لَا ضَرَرَ فِيهِ عَلَى الصَّغِيرَةِ عُمِلَ بِهِ، وَإِنِ اخْتَلَفَا فَقَالَ أَحْمَدُ وَأَبُو عُبَيْدٍ: تُجْبَرُ عَلَى ذَلِكَ بِنْتُ تِسْعِ سِنِينَ دُونَ غَيْرِهَا. وَقَالَ مَالِكٌ وَالشَّافِعِيُّ وَأَبُو حَنِيفَةَ: حَدُّ ذَلِكَ أَنْ تُطِيقَ الْجِمَاعَ، وَيَخْتَلِفُ ذَلِكَ بِاخْتِلَافِهِنَّ، وَلَا يُضْبَطُ بِسِنٍّ. وَهَذَا هُوَ الصَّحِيحُ. وَلَيْسَ فِي حَدِيثِ عَائِشَةَ تَحْدِيدٌ، وَلَا الْمَنْعُ مِنْ ذَلِكَ فِيمَنْ أَطَاقَتْهُ قَبْلَ تِسْعٍ، وَلَا الْإِذْنُ فِيهِ لِمَنْ لَمْ تُطِقْهُ وَقَدْ بَلَغَتْ تِسْعًا.
বাংলা অনুবাদ:
অপ্রাপ্তবয়স্ক বিবাহিত মেয়েকে কখন স্বামীর কাছে পাঠানো হবে এবং তার সঙ্গে সহবাস করা হবে—এ বিষয়ে স্বামী ও অভিভাবক যদি এমন কোনো বিষয়ে একমত হয় যাতে মেয়েটির ক্ষতি নেই, তবে সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করা হবে। তারা মতভেদ করলে আহমদ ও আবু উবাইদ বলেছেন, নয় বছর বয়সী মেয়েকে এর জন্য বাধ্য করা যাবে; নয় বছরের কম বয়সীকে নয়। মালিক, শাফেয়ি ও আবু হানিফা বলেছেন, এর সীমা হলো মেয়েটি সহবাস সহ্য করতে সক্ষম কি না। এটি মেয়েভেদে ভিন্ন হয় এবং কোনো নির্দিষ্ট বয়স দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। নববী বলেন, এটিই সঠিক মত। আয়িশার হাদিসে কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমা নির্ধারিত হয়নি; নয় বছরের আগে যে মেয়ে সহবাস সহ্য করতে সক্ষম, তার ক্ষেত্রে এটি নিষিদ্ধ—এমন কথাও হাদিসে নেই; আবার নয় বছর পূর্ণ হলেও যে মেয়ে তা সহ্য করতে সক্ষম নয়, তার ক্ষেত্রে অনুমতির কথাও নেই।
উৎস: ইমাম ইয়াহইয়া ইবন শরফ আন-নববী, শরহ সহিহ মুসলিম, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৫৫০–৫৫১। [56]
এই বক্তব্যে চার মাযহাবের মৌলিক অবস্থান একসঙ্গে ধরা পড়েছে। হানবলি মতের একটি ধারায় নয় বছর পূর্ণ হলে মেয়েটির সম্মতি ছাড়াই সহবাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। হানাফি, মালিকি ও শাফেয়ি মত নির্দিষ্ট বয়সও নির্ধারণ করেনি; মেয়েটি নয় বছরের নিচে হলেও তথাকথিত “সহবাস সহ্য করার ক্ষমতা” থাকলে সহবাস নিষিদ্ধ নয়। অর্থাৎ ধ্রুপদী ফিকহের প্রশ্ন ছিল না, শিশুটি প্রাপ্তবয়স্ক কি না, তার ঋতুস্রাব হয়েছে কি না কিংবা সে স্বাধীন সম্মতি দিতে সক্ষম কি না। প্রশ্ন ছিল, তার দেহে তাৎক্ষণিক গুরুতর ক্ষতি দৃশ্যমান হবে কি না। একটি শিশুর দেহকে সহবাসের উপযুক্ত মনে করার সিদ্ধান্তও শিশুটির হাতে রাখা হয়নি।
আল-দাউদি আয়িশা সহবাসের সময় “শারীরিকভাবে সক্ষম” হয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন। কিন্তু এটি আয়িশার বক্তব্য নয়, হাদিসের কোনো বাক্যও নয়। আয়িশা কখনো বলেননি যে তাঁর ঋতুস্রাব হয়েছিল, তিনি বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছেছিলেন কিংবা তিনি সহবাসের জন্য সম্মতি দিয়েছিলেন। আল-দাউদির মন্তব্যটি পরবর্তী একজন ব্যাখ্যাকারকের অনুমান। একই ব্যাখ্যায় নববীর উদ্ধৃত মাযহাবি আইন স্পষ্ট করে দিয়েছে, “সক্ষমতা” এবং “বয়ঃসন্ধি” এক বিষয় নয়; ঋতুস্রাবের আগেও ফকিহরা সহবাস অনুমোদন করেছেন।
সৌদি স্থায়ী ফতোয়া কমিটি: বয়ঃসন্ধির আগেও সহবাস বৈধ
সৌদি আরবের স্থায়ী গবেষণা ও ফতোয়া কমিটির ১৮৭৩৪ নম্বর ফতোয়ায় সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছিল, অল্পবয়স্ক আয়িশার সঙ্গে মুহাম্মদের বিবাহ কি শুধু তাঁর জন্য বিশেষ বিধান ছিল, নাকি মুসলিম উম্মাহর জন্যও আইন? আরও প্রশ্ন করা হয়েছিল, বয়ঃসন্ধির আগের মেয়ের সঙ্গে সহবাস বৈধ না হলে ঋতুস্রাবহীন মেয়ের ইদ্দত কেন নির্ধারণ করা হয়েছে? কমিটির উত্তর কোনো অস্পষ্ট ভাষায় দেওয়া হয়নি। [57]

ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ লিল-বুহূস আল-ইলমিয়্যাহ ওয়াল-ইফতা
পৃষ্ঠা ১২৪–১২৫
আরবি মূল:
وبالله التوفيق، وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم.
اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء
عضو: عبد الله بن قعود
عضو: عبد الله بن غديان
نائب الرئيس: عبد الرزاق عفيفي
الرئيس: عبد العزيز بن عبد الله بن باز
السؤال الأول من الفتوى رقم (18734)
س 1: هل صحيح أن زواج الرسول – صلى الله عليه وسلم – لعائشة وهي صغيرة خصوصية من خصوصياته أم أنه تشريع للأمة؟ ألا يجوز الدخول على غير البالغة؟ إذا كان لا يجوز الدخول فكيف تعتد ثلاثة أشهر؟
ج 1: النبي – صلى الله عليه وسلم – خطب عائشة رضي الله عنها وهي بنت ست سنين، ودخل بها في المدينة وهي بنت تسع سنين (1) وليس هذا خاصا به – صلى الله عليه وسلم -، فيجوز العقد على الفتاة قبل بلوغها، ويجوز الدخول بها ولو قبل البلوغ إذا كانت ممن يوطأ مثلها، أما عدة غير البالغة فالله سبحانه وتعالى جعل عدة الآيسة من المحيض والتي لم تحض لصغرها ثلاثة أشهر، قال تعالى: { وَاللَّائِي يَئِسْنَ مِنَ الْمَحِيضِ مِنْ نِسَائِكُمْ إِنِ ارْتَبْتُمْ فَعِدَّتُهُنَّ ثَلَاثَةُ أَشْهُرٍ وَاللَّائِي لَمْ يَحِضْنَ } أي: كذلك عدتهن ثلاثة أشهر، وغير البالغة تدخل في قوله: { وَاللَّائِي لَمْ يَحِضْنَ }.
هامش:
(1) أحمد 6 / 118، والبخاري 4 / 251 – 252، 6 / 134، 139، ومسلم 2 / 1038 برقم (1422)، وأبو داود 2 / 593، 5 / 228 برقم (2121، 4933)، والنسائي 6 / 82 برقم (3255، 3256)، وابن ماجة 1 / 603 – 604، برقم (1876)، والدارمي 2 / 159 – 160، وأبو يعلى 8 / 74، 301 برقم (4600، 4897)، وابن حبان 9 / 16 برقم (7097)، والطبراني 23 / 19 – 20، 20 – 21، 21 – 24 برقم (41، 44 – 59)، والبيهقي 7 / 114، 148 – 149، 10 / 220.
বাংলা অনুবাদ:
আল্লাহরই সাহায্য প্রার্থনা করছি। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার ও সাহাবিদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
স্থায়ী গবেষণা ও ফতোয়া কমিটি
সদস্য: আবদুল্লাহ ইবন কুঊদ
সদস্য: আবদুল্লাহ ইবন গুদাইয়ান
সহ-সভাপতি: আবদুর রাজ্জাক আফিফি
সভাপতি: আবদুল আজিজ ইবন আবদুল্লাহ ইবন বাজ
ফতোয়া নং ১৮৭৩৪-এর প্রথম প্রশ্ন
প্রশ্ন ১: রাসূল মুহাম্মদ ﷺ যখন আয়িশাকে বিবাহ করেছিলেন, তখন তিনি অল্পবয়স্ক ছিলেন। এটি কি রাসূলের বিশেষ বৈশিষ্ট্য বা তাঁর জন্য নির্দিষ্ট কোনো বিধান ছিল, নাকি এটি উম্মাহর জন্যও শরিয়তের বিধান? যে মেয়ে এখনো বালেগ হয়নি, তার সঙ্গে কি সহবাস করা বৈধ নয়? যদি সহবাস বৈধ না হয়, তাহলে সে তিন মাস ইদ্দত পালন করবে কীভাবে?
উত্তর ১: নবী ﷺ আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন যখন তাঁর বয়স ছিল ছয় বছর, এবং মদিনায় তাঁর বয়স নয় বছর হলে তিনি তাঁর সঙ্গে দাম্পত্য সহবাস করেন। (১) এটি নবী ﷺ-এর জন্য বিশেষ কোনো বিধান ছিল না। অতএব কোনো মেয়ের বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানোর আগেই তার সঙ্গে বিবাহের চুক্তি করা বৈধ এবং বয়ঃসন্ধির আগেও তার সঙ্গে সহবাস করা বৈধ, যদি সে এমন হয় যার সঙ্গে সহবাস করা যায় বলে বিবেচিত হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের ইদ্দতের বিষয়ে আল্লাহ ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া নারী এবং অল্প বয়সের কারণে এখনো ঋতুস্রাব না হওয়া মেয়ের জন্য তিন মাস নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহ বলেন: “তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ঋতুস্রাব থেকে নিরাশ হয়েছে, তাদের ব্যাপারে সন্দেহ হলে তাদের ইদ্দত তিন মাস; এবং যাদের এখনো ঋতুস্রাব হয়নি, তাদেরও।” অর্থাৎ তাদের ইদ্দতও তিন মাস। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে “যাদের এখনো ঋতুস্রাব হয়নি” এই বাক্যের অন্তর্ভুক্ত।
পাদটীকা:
(১) আহমদ, ৬/১১৮; সহিহ বুখারি, ৪/২৫১–২৫২, ৬/১৩৪, ১৩৯; সহিহ মুসলিম, ২/১০৩৮, হাদিস ১৪২২; সুনান আবু দাউদ, ২/৫৯৩, ৫/২২৮, হাদিস ২১২১ ও ৪৯৩৩; সুনান নাসাঈ, ৬/৮২, হাদিস ৩২৫৫ ও ৩২৫৬; সুনান ইবন মাজাহ, ১/৬০৩–৬০৪, হাদিস ১৮৭৬; সুনান দারিমি, ২/১৫৯–১৬০; আবু ইয়ালা, ৮/৭৪ ও ৩০১, হাদিস ৪৬০০ ও ৪৮৯৭; ইবন হিব্বান, ৯/১৬, হাদিস ৭০৯৭; তাবারানি, ২৩/১৯–২৪, হাদিস ৪১ ও ৪৪–৫৯; এবং বায়হাকি, ৭/১১৪, ১৪৮–১৪৯ ও ১০/২২০।
উৎস: ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ, খণ্ড ১৮, পৃষ্ঠা ১২৪–১২৫। [58] [59]
এই ফতোয়া আধুনিক এপোলোজিস্টদের “আয়িশা অবশ্যই ঋতুমতী হয়েছিলেন” যুক্তিকে অপ্রাসঙ্গিক করে দেয়। সৌদি ফতোয়া কমিটি আয়িশার ঘটনাকে মুহাম্মদের বিশেষ বিধান বলে সীমাবদ্ধ করেনি; বরং স্পষ্টভাবে বলেছে, বয়ঃসন্ধির আগেও সহবাস বৈধ হতে পারে, শর্ত হলো মেয়েটিকে এমন বলে গণ্য করা যে তার সঙ্গে সহবাস করা সম্ভব। অর্থাৎ এই বিধানে বয়ঃসন্ধি কোনো অপরিহার্য শর্ত নয়। এই বক্তব্য মুদ্রিত ফতোয়া-সংকলনের ১৮তম খণ্ডের ১২৪–১২৫ পৃষ্ঠায় রয়েছে [60] [59]।
কাতারভিত্তিক ইসলামওয়েব: শিশুর সম্মতির প্রয়োজন নেই
কাতারভিত্তিক ইসলামওয়েবের ২৩০৫১৮ নম্বর ফতোয়ার শিরোনামই হলো, “পিতা তার অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাকে তার অনুমতি বা সম্মতি ছাড়া বিবাহ দিতে পারে, তার প্রমাণ”। সেখানে ইবন কুদামার আল-মুগনি থেকে বলা হয়েছে, অপ্রাপ্তবয়স্ক কুমারী কন্যার ক্ষেত্রে কোনো মতভেদ নেই; পিতা উপযুক্ত পাত্রের সঙ্গে তার বিবাহ দিতে পারে। ইবনুল মুনযির এ বিষয়ে তাঁর জানা আলেমদের ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন। ইবন আবদুল বারকে উদ্ধৃত করে আরও বলা হয়েছে, আবু বকর আয়িশাকে ছয় বছর বয়সে মুহাম্মদের সঙ্গে বিবাহ দিয়েছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে পরামর্শ করেননি; এটিই অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার সম্মতি প্রয়োজন না হওয়ার দলিল [33]।
فقد حكى بعض العلماء الإجماع على أن للأب تزويج ابنته البكر الصغيرة بغير رضاها، ولا يشترط إذنها، ونعني بالصغيرة من ليست بالغة. جاء في المغني لابن قدامة: «أما البكر الصغيرة: فلا خلاف فيها». قال ابن المنذر: «أجمع كل من نحفظ عنه من أهل العلم أن نكاح الأب ابنته البكر الصغيرة جائز، إذا زوجها من كفء»… ومستند هذا الإجماع أن أبا بكر زوج عائشة رضي الله عنها من رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يشاورها.
ইসলামওয়েবের ফতোয়ায় বলা হয়েছে: কিছু আলেম ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন যে পিতা তার অপ্রাপ্তবয়স্ক কুমারী কন্যাকে তার সম্মতি ছাড়াই বিবাহ দিতে পারে এবং তার অনুমতি শর্ত নয়; “অপ্রাপ্তবয়স্ক” বলতে যে এখনো বালেগ হয়নি তাকে বোঝানো হয়েছে। ইবন কুদামা ও ইবনুল মুনযিরের বক্তব্য উদ্ধৃত করে ফতোয়াটি এই নিয়মকে সমর্থন করে এবং আবু বকর আয়িশাকে মুহাম্মদের সঙ্গে বিবাহ দিয়েছিলেন কিন্তু তার সঙ্গে পরামর্শ করেননি—এ ঘটনাকে এর ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে।
দেওবন্দি হানাফি ফতোয়া: বালেগ হওয়ার আগে জোরপূর্বক বিবাহ
ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের ৭৮৮/বি নম্বর ফতোয়ায় বিবাহের উপযুক্ত বয়স সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে, ইসলাম বিবাহের কোনো নির্দিষ্ট বয়স স্থির করেনি। আরও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ছেলে বা মেয়ে বালেগ হওয়ার আগে পিতার তাদের বিবাহ দেওয়ার এবং সেই বিবাহ চাপিয়ে দেওয়ার অধিকার রয়েছে; বালেগ হওয়ার পর আর জোর করে বিবাহ দেওয়া যাবে না। অর্থাৎ দেওবন্দের ফতোয়াও আঠারো বছর, মানসিক প্রাপ্তবয়স্কতা কিংবা শিশুর স্বাধীন সম্মতিকে বিবাহের পূর্বশর্ত বলে না। এই ফতোয়াতে খুব স্পষ্টভাবেই বলা আছে, ছেলে বা মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত পিতার তাদের জোরপূর্বক বিবাহ দেওয়ার অধিকার রয়েছে। তারা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর জোরপূর্বক বিবাহ দেওয়া যাবে না।” [61]

Question ID: 21219
Title: my question is 1.what is the right age of gettin married acording to islam ? 2.my parents are forcing me to get married is it allowed in islam that the parents should force thier child to get married if he is not willing to get married.
Question: my question is 1.what is the right age of gettin married acording to islam ? 2.my parents are forcing me to get married is it allowed in islam that the parents should force thier child to get married if he is not willing to get married.
Answer ID: 21219
Bismillah hir-Rahman nir-Rahim !
(Fatwa: 788/b=172/tb=1431)
(1) Islam has not fixed any age for marriage, when right and appropriate proposal is available for boy or girl father should do their nikah as soon as possible. As it is mentioned in hadith:
كما في الحديث . عن على رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال يا على ثلث لا تؤخرها الصلوة اذا أتت والجنازة إذا حضرت والأيم إذا وجدت لها كفواً (ترمذى بحواله مشكوة 1/61 ، باب تعجيل للصلوة).
(2) Until the boy or girl are not mature father has the right to do their nikah forcefully, after they are mature nikah cannot be done forcefully. However when the boy is not ready to marry in any particular place so father should not force him to do so. Nikah is the matter of whole life, the consent of boy and girl should specially be taken in mind.
Allah (Subhana Wa Ta’ala) knows Best
Darul Ifta,
Darul Uloom Deoband, India
দেওবন্দি হানাফি ধারার প্রতিষ্ঠান জামিয়া উলুম ইসলামিয়া বানুরি টাউনের একটি ফতোয়া এই আইনের বাস্তব প্রয়োগ দেখায়। সেখানে সাত-আট বছর বয়সী একটি মেয়েকে পারিবারিক বিরোধ মেটানোর জন্য সাত-আট বছর বয়সী একটি ছেলের সঙ্গে বিবাহ দেওয়া হয়েছিল। মেয়েটি বালেগ হওয়ার পর বিবাহ প্রত্যাখ্যান করলেও ফতোয়া বিভাগ জানায়, পিতা অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিবাহ দিলে সাধারণ অবস্থায় বালেগ হওয়ার পর তার সেই বিবাহ প্রত্যাখ্যান করার অধিকার থাকে না। পিতা আগে থেকেই কুখ্যাতভাবে অযোগ্য সিদ্ধান্তগ্রহণকারী হিসেবে পরিচিত থাকলে ব্যতিক্রম হতে পারে; তা না হলে শিশুকালে সম্পাদিত বিবাহ বহাল থাকবে এবং মুক্তির জন্য তাকে স্বামীর তালাক বা শরিয়তসম্মত খুলা নিতে হবে [62]।
জামিয়া উলুম ইসলামিয়া বানুরি টাউন, ফতোয়া ১৪৪৪১২১০০৩৫৬
“পিতা ও পিতামহ নিকটতম অভিভাবক। নিকটতম অভিভাবক যখন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিবাহ দেয়, তখন বালেগ হওয়ার পর সে সাধারণভাবে বিবাহ বাতিল করার অধিকার পায় না। বর্তমান ঘটনায় পিতার সম্মতিতে বিবাহ সম্পাদিত হওয়ায় বিবাহ সংঘটিত হয়েছে এবং মেয়েটির বয়ঃসন্ধির পর তা প্রত্যাখ্যানের অধিকার অবশিষ্ট নেই। সে সংসার করতে রাজি না হলে স্বামীর কাছ থেকে তালাক অথবা শরিয়তসম্মত খুলা নিয়ে পৃথক হতে পারে; একতরফাভাবে বিবাহ প্রত্যাখ্যান করাই যথেষ্ট নয়।”
একই প্রতিষ্ঠানের আরেকটি ফতোয়ায় ফাতাওয়ায়ে শামি থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে, অভিভাবক অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে ও মেয়েকে জোরপূর্বক বিবাহ দিতে পারে এবং পিতা বা পিতামহের সম্পাদিত বিবাহ কারও পরবর্তী অনুমোদনের অপেক্ষা ছাড়াই বাধ্যতামূলক হয়ে যায়। মেয়েটি বালেগ হয়ে বিবাহ অস্বীকার করলেও শুধু সেই অস্বীকৃতিতে বিবাহ শেষ হয় না [63]।
“শুধু হিশাম ইবন উরওয়া বলেছেন” দাবিটিও মিথ্যা
আয়িশার বয়স অস্বীকার করার আরেকটি বহুল প্রচারিত কৌশল হলো, ছয় ও নয় বছরের হাদিসটি নাকি শুধু হিশাম ইবন উরওয়া বর্ণনা করেছিলেন এবং তিনি বৃদ্ধ বয়সে ইরাকে গিয়ে স্মৃতিভ্রষ্ট হয়ে পড়েছিলেন। হাদিসের পূর্ণ বর্ণনাসূত্র পরীক্ষা করলে এই দাবি টেকে না। হিশাম ইবন উরওয়া তাঁর পিতা উরওয়ার মাধ্যমে আয়িশা থেকে বর্ণনা করেছেন ঠিকই; কিন্তু সহিহ মুসলিমে একই তথ্য হিশাম-বহির্ভূত সূত্রেও সংরক্ষিত হয়েছে। একটি সূত্রে মা‘মার → আল-যুহরি → উরওয়া → আয়িশা; অন্যটিতে আবু মু‘আবিয়া → আল-আ‘মাশ → ইবরাহিম → আল-আসওয়াদ → আয়িশা। দ্বিতীয় সূত্রে ছয় বছর বয়সে বিবাহ, নয় বছর বয়সে সহবাস এবং মুহাম্মদের মৃত্যুর সময় আয়িশার বয়স আঠারো—তিনটি তথ্যই একসঙ্গে এসেছে।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَزَوَّجَهَا وَهْىَ بِنْتُ سَبْعِ سِنِينَ وَزُفَّتْ إِلَيْهِ وَهِيَ بِنْتُ تِسْعِ سِنِينَ…
আবদুর রাজ্জাক → মা‘মার → আল-যুহরি → উরওয়া → আয়িশা সূত্রে বর্ণিত: মুহাম্মদ আয়িশাকে সাত বছর বয়সে বিবাহ করেন এবং নয় বছর বয়সে তাকে তার কাছে পাঠানো হয়। এই সনদে হিশাম ইবন উরওয়া নেই।
حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ تَزَوَّجَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهْىَ بِنْتُ سِتٍّ وَبَنَى بِهَا وَهْىَ بِنْتُ تِسْعٍ وَمَاتَ عَنْهَا وَهْىَ بِنْتُ ثَمَانَ عَشْرَةَ.
আবু মু‘আবিয়া → আল-আ‘মাশ → ইবরাহিম → আল-আসওয়াদ → আয়িশা সূত্রে বর্ণিত: মুহাম্মদ তাকে ছয় বছর বয়সে বিবাহ করেন, নয় বছর বয়সে তার সঙ্গে সহবাসের মাধ্যমে বিবাহ পূর্ণ করেন এবং মুহাম্মদ মারা গেলে আয়িশার বয়স ছিল আঠারো বছর। এই সনদেও হিশাম ইবন উরওয়া নেই।
সহিহ মুসলিম ১৪২২c; সহিহ মুসলিম ১৪২২d
হিশামের নিজের বর্ণনাও কেবল তার ইরাকি জীবনের একটি একক transmission নয়। তার কাছ থেকে মদিনা, মক্কা, বসরা ও রাই অঞ্চলের একাধিক বর্ণনাকারীর মাধ্যমে এই তথ্য সংরক্ষিত হয়েছে। ইসলামকিউএর সংকলিত isnād-পর্যালোচনায় আবুজ জিনাদ, আবদুর রহমান ইবন আবিজ জিনাদ, সুফিয়ান ইবন উয়াইনা, জারির ইবন আবদুল হামিদ, হাম্মাদ ইবন সালামা, হাম্মাদ ইবন যায়দ ও ওয়াহিব ইবন খালিদের বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে “বৃদ্ধ হিশাম ইরাকে গিয়ে একাই গল্পটি বানিয়েছেন” ধরনের দাবি একই সঙ্গে দুই স্তরে ব্যর্থ: তথ্যটি হিশাম-বহির্ভূত সনদেও আছে, এবং হিশামের transmission-ও শুধু ইরাকের একক ছাত্রের ওপর নির্ভরশীল নয় [64]।
আসমা আয়িশার চেয়ে ঠিক দশ বছরের বড় ছিলেন, এই অনিশ্চিত ঐতিহাসিক হিসাব দিয়েও সহিহ হাদিসগুলো বাতিল করা যায় না। দশ বছরের পার্থক্যের বর্ণনাটি আবদুর রহমান ইবন আবিজ জিনাদের একক বক্তব্যের ওপর নির্ভরশীল এবং ইবন আবদুল বারের পাঠে “দশ বছর বা তার কাছাকাছি” বলা হয়েছে। অর্থাৎ বর্ণনাকারী নিজেই সুনির্দিষ্ট সংখ্যার বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন না। অন্যদিকে আয়িশার ছয় ও নয় বছরের তথ্য তাঁর নিজের নামে একাধিক স্বাধীন বর্ণনাসূত্রে এসেছে। ঐতিহাসিক অনুমানকে দিয়ে আয়িশার সরাসরি বক্তব্য এবং বুখারি-মুসলিমের একাধিক সূত্র বাতিল করা ইসলামি হাদিসশাস্ত্রের নিজস্ব নিয়মেও গ্রহণযোগ্য নয়।
এই প্রমাণসমূহের অনিবার্য সিদ্ধান্ত
হাদিসের পূর্ণ সাক্ষ্য, ফাতহুল বারীর ব্যাখ্যা, শরহে মুসলিমের মাযহাবি আলোচনা এবং সৌদি, কাতারি ও দেওবন্দি ফতোয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সিদ্ধান্ত একত্রে রাখলে কোনো অস্পষ্টতা অবশিষ্ট থাকে না। মুহাম্মদ ছয় বছর বয়সী একটি শিশুকে বিবাহ করেছিলেন এবং নয় বছর বয়সে তার সঙ্গে সহবাস করেছিলেন। আয়িশা নয় বছর বয়সে ঋতুমতী হয়েছিলেন, এমন কোনো হাদিস নেই। এ দাবির পক্ষে ব্যবহৃত বুখারির বর্ণনায় কেবল শৈশবের স্মৃতির কথা আছে এবং আবু দাউদের বর্ণনায় ঋতুস্রাব নয়, হাঁপিয়ে শ্বাস নেওয়ার কথা আছে।
ইমাম বুখারি ঘটনাটিকে অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে বিবাহ দেওয়ার অধ্যায়ে রেখেছেন। ইবন হাজার লিখেছেন, আবু বকর আয়িশাকে বয়ঃসন্ধির আগেই বিবাহ দিয়েছিলেন। খাত্তাবির ব্যাখ্যায় পুতুল-খেলার সময়ও আয়িশা বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছাননি। নববীর উদ্ধৃত মাযহাবি আইনে মালিক, শাফেয়ি ও আবু হানিফার কাছে বয়ঃসন্ধি কিংবা নয় বছর কোনো সর্বনিম্ন সীমা নয়; সহবাস সহ্য করতে পারবে বলে মনে করা হলে আরও কম বয়সেও সহবাস নিষিদ্ধ নয়। আহমদের মতে নয় বছর হলে মেয়েটির সম্মতি ছাড়াই তাকে সহবাসের জন্য স্বামীর কাছে পাঠানো যায়। সৌদি ফতোয়া কমিটি আরও সরাসরি বলেছে, বয়ঃসন্ধির আগেই সহবাস বৈধ এবং আয়িশার ঘটনা মুহাম্মদের জন্য বিশেষ বিধান নয়।
অতএব “তৎকালীন আরবে মেয়েরা দ্রুত পরিণত হতো”, “আয়িশা নয় বছরেই প্রাপ্তবয়স্ক নারী ছিলেন” কিংবা “বয়ঃসন্ধির আগে ইসলামে সহবাস নিষিদ্ধ” ধরনের বক্তব্য হাদিস ও ধ্রুপদী ফিকহের বক্তব্য নয়। এগুলো প্রধান হাদিস ও ধ্রুপদী ফিকহের সঙ্গে অসঙ্গত আধুনিক পুনর্ব্যাখ্যা। মূল উৎসের বক্তব্য হলো: শিশুর বিবাহে তার সম্মতি প্রয়োজন ছিল না, বয়ঃসন্ধি সহবাসের অপরিহার্য শর্ত ছিল না এবং একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের সঙ্গে নয় বছর বয়সী আয়িশার যৌনসঙ্গমকেই পরবর্তী ফকিহরা শিশু বিবাহ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর সঙ্গে সহবাসের স্থায়ী আইনি নজিরে পরিণত করেছেন।
উপসংহার
আয়িশার বয়স নিয়ে মূল ইসলামী উৎসগুলোর বক্তব্য অস্পষ্ট নয়। সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, সুনান আবু দাউদ, সুনান নাসাঈ এবং সুনান ইবন মাজাহর একাধিক বর্ণনায় ছয় বছর বয়সে বিবাহ এবং নয় বছর বয়সে দাম্পত্য সহবাসের তথ্য এসেছে; একটি বর্ণনায় বিবাহের বয়স সাত বলা হলেও সহবাসের বয়স নয় বছরই রয়েছে। একই বর্ণনাগুলোতে আয়িশাকে দোলনায় খেলতে, বান্ধবীদের সঙ্গে খেলাধুলা করতে, পুতুল নিয়ে থাকতে এবং তার মা তাকে কী উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছেন তা বুঝতে না পারার অবস্থায় দেখা যায়। তাকে নারীরা ধুয়ে, সাজিয়ে ও প্রস্তুত করে মুহাম্মদের কাছে হস্তান্তর করেন। এসব বিবরণ নয় বছর বয়সী কোনো স্বাধীন ও পরিণত নারীর ছবি নয়; এগুলো একটি শিশুর আচরণ, উপলব্ধি এবং সামাজিক অবস্থানের বিবরণ।
আয়িশা নয় বছর বয়সে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছেছিলেন বা ঋতুমতী হয়েছিলেন—এমন কোনো হাদিস নেই। এই দাবির পক্ষে ব্যবহৃত বুখারির لَمْ أَعْقِلْ বাক্যটি স্মৃতি ও উপলব্ধির কথা বলে, বয়ঃসন্ধির নয়। আবু দাউদের تَنَفَّسَتْ অর্থ শ্বাস নেওয়া বা হাঁপানো; এটিকে ঋতুস্রাব হিসেবে অনুবাদ করা ভাষাগতভাবে ভুল। সারিফে আয়িশার ঋতুস্রাবের ঘটনাটিও বিদায় হজের সময়ের, যখন হাদিসের নিজস্ব কালপঞ্জি অনুযায়ী তার বয়স প্রায় আঠারো বছর। ফলে নয় বছর বয়সে ঋতুস্রাবের দাবি মূল উৎস থেকে পাওয়া তথ্য নয়; এটি পরবর্তী কালের একটি প্রমাণহীন প্রতিরক্ষামূলক নির্মাণ।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, ধ্রুপদী ইসলামী আইন এই ঘটনাকে কোনো ব্যতিক্রমী বা অস্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেনি। বুখারি নিজস্ব অধ্যায়শিরোনামে অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের বিবাহের প্রসঙ্গে আয়িশার হাদিস এনেছেন; আর সহিহ মুসলিমের বহুল ব্যবহৃত নববী-প্রদত্ত অধ্যায়শিরোনামেও একই বর্ণনাকে অপ্রাপ্তবয়স্ক কুমারী কন্যার বিবাহের অধীনে রাখা হয়েছে। ইবন হাজার স্পষ্টভাবে লিখেছেন, আবু বকর আয়িশাকে বয়ঃসন্ধির আগেই বিবাহ দিয়েছিলেন। নববীর উদ্ধৃত ফিকহি আলোচনায় বয়ঃসন্ধিকে সহবাসের অপরিহার্য শর্ত করা হয়নি; মেয়েটি সহবাস “সহ্য করতে পারবে” কি না, সেটিকেই বিবেচ্য করা হয়েছে। সৌদি স্থায়ী ফতোয়া কমিটিও স্পষ্টভাবে বলেছে, আয়িশার ঘটনা মুহাম্মদের জন্য বিশেষ বিধান নয় এবং বয়ঃসন্ধির আগেও সহবাস বৈধ হতে পারে। ইসলামওয়েব ও হানাফি ফতোয়া-সাহিত্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার সম্মতি ছাড়া পিতার মাধ্যমে বিবাহের বৈধতা একইভাবে স্বীকৃত হয়েছে।
ফলে সমস্যাটি কেবল সপ্তম শতাব্দীর একটি বিবাহের বয়স নিয়ে নয়। সমস্যাটি হচ্ছে এমন একটি ধর্মীয়-আইনগত কাঠামো, যেখানে একটি শিশুর বিবাহে তার স্বাধীন সম্মতি প্রয়োজনীয় নয়, বয়ঃসন্ধি সহবাসের সর্বজনীন পূর্বশর্ত নয়, এবং একটি নয় বছর বয়সী শিশুর সঙ্গে একজন পঞ্চাশোর্ধ্ব পুরুষের যৌনসম্পর্ককে পরবর্তী ফকিহরা বৈধতার নজির হিসেবে ব্যবহার করেছেন। “তৎকালীন সমাজে এটি স্বাভাবিক ছিল”, “আয়িশা দ্রুত পরিণত হয়েছিলেন” অথবা “ইসলামে বয়ঃসন্ধির আগে সহবাস নিষিদ্ধ”—এসব বক্তব্য মূল হাদিস ও ধ্রুপদী ফিকহের সাক্ষ্যের সঙ্গে মেলে না।
ঘটনাটিকে আধুনিক নৈতিক মানদণ্ডে গ্রহণযোগ্য দেখানোর জন্য বয়স বাড়ানো, অনুবাদের মধ্যে বয়ঃসন্ধি ঢুকিয়ে দেওয়া, বানা বিহা বা সমান্তরাল সহবাস-বর্ণনাকে কেবল “ঘরে নেওয়া” হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা আয়িশার নীরবতাকে সম্মতি হিসেবে দেখানো—কোনোটিই উৎসনির্ভর ইতিহাস নয়। উৎসগুলো যে ঘটনাটি সংরক্ষণ করেছে, সেটি অনেক সরল এবং অনেক বেশি কঠোর: ছয় বছর বয়সে আয়িশার বিবাহ হয়েছিল, নয় বছর বয়সে মুহাম্মদ তার সঙ্গে সহবাস করেছিলেন, এবং ইসলামী আইন সেই ঘটনাকে অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিবাহ ও সহবাসের বৈধতার নজিরে পরিণত করেছে। এই তথ্য অস্বীকার করার জন্য ধর্মীয় ব্যাখ্যা বদলানো যায়; কিন্তু হাদিস ও ফিকহের নথিভুক্ত বক্তব্য বদলানো যায় না।
তথ্যসূত্রঃ
- সহিহ বুখারি, হাদিস ৫১৩৩ ↩︎
- সহিহ বুখারি, হাদিস ৫১৫৮ 1 2
- সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, হাদিসঃ ৫১৩৩ ↩︎
- সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৪৭৫৭ ↩︎
- সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ২৪৮৫ ↩︎
- সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৮৯৪ ↩︎
- সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ১৪৬২ ↩︎
- সহিহ বুখারি, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, হাদিস ৩৮৯৬ ↩︎
- সহিহ বুখারি, আন্তর্জাতিক নম্বর ৩৮৯৬ ↩︎
- সহীহ মুসলিম, হাদীস একাডেমী, হাদিসঃ ৩৩৭০ ↩︎
- সহীহ মুসলিম, পঞ্চম খণ্ড, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, পৃষ্ঠা ৩৭ ↩︎
- সহিহ মুসলিমের অধ্যায়শিরোনামের পাঠ-ইতিহাস ↩︎
- সহিহ মুসলিম, হাদিস ৩৩৭১ ↩︎
- সহিহ মুসলিম, হাদিস ৩৩৭২ ↩︎
- সহিহ মুসলিম, হাদিস ৩৩৭৩ 1 2
- সুনান আবু দাউদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৪৮৫১ ↩︎
- আবু দাউদ শরীফ, পঞ্চম খণ্ড, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, পৃষ্ঠা ৫২১, ৫২২ ↩︎
- সুনান আবু দাউদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস ৪৮৫১ ↩︎
- সুনান আবু দাউদ, আন্তর্জাতিক নম্বর ৪৯৩৩ ↩︎
- সুনান নাসাঈ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস ৩৩৮১ ↩︎
- সুনান নাসাঈ, আন্তর্জাতিক নম্বর ৩৩৭৮ ↩︎
- সুনান ইবন মাজাহ, হাদিস ১৮৭৬ ↩︎
- চন্দ্রবছর ও সৌরবছরের পার্থক্য ↩︎
- আসহাবে রাসূলের জীবনকথা: উম্মাহাতুল মুমিনীন, মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ, পঞ্চম খণ্ড, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, পৃষ্ঠা ৫৫ ↩︎
- সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৮৯৬ ↩︎
- আসহাবে রাসুলের জীবনকথা, উম্মাহাতুল মু’মিনীন, মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, পঞ্চম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৯ ↩︎
- সহিহ বুখারি, হাদিস ৫০৭৮ ↩︎
- সহিহ বুখারি, হাদিস ৭০১১ ↩︎
- সহিহ বুখারি, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, হাদিস ৫০৮১ ↩︎
- সহিহ বুখারি, আন্তর্জাতিক নম্বর ৫০৮১ ↩︎
- সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, হাদিসঃ ৫০৮১ ↩︎
- আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসীর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৪৮-২৪৯ ↩︎
- ইসলামওয়েব, ফতোয়া ২৩০৫১৮ 1 2
- আল-তাবারি, তারিখ আল-রুসুল ওয়াল-মুলুক, খণ্ড ৩৯, পৃষ্ঠা ১৭১–১৭৩ ↩︎
- তাবারি: বিবাহ, হিজরতের আট মাস পর সহবাস এবং নয় বছর বয়সের বর্ণনা ↩︎
- তাবারি: দেনমোহর ও দাম্পত্য সহবাসের বর্ণনা ↩︎
- আল-তাবারি, তারিখ আল-রুসুল ওয়াল-মুলুক, ইংরেজি অনুবাদ, খণ্ড ৩৯, পৃষ্ঠা ১৭১–১৭৩ ↩︎
- সহিহ বুখারি, হাদিস ৬১৩০ ↩︎
- সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৪৪০a ↩︎
- আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস ৩৬৮ ↩︎
- সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৪৯৩২ ↩︎
- সুনান নাসাঈ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস ৩২২৪ ↩︎
- সুনান নাসাঈ, আন্তর্জাতিক নম্বর ৩২২১ ↩︎
- সহিহ বুখারি, বাংলা অনুবাদ, হাদিস ৪৭৬ ↩︎
- শরহে সুনান আবু দাউদ: আয়িশার হাঁপানোর ব্যাখ্যা ↩︎
- ইবন হাজার, ফাতহুল বারী: باب كيف كان بدء الحيض ↩︎
- সহিহ বুখারির বিস্তৃত বর্ণনা ও ফাতহুল বারীর আলোচনা ↩︎
- উমদাতুল কারী: সারিফে আয়িশার ঋতুস্রাবের কালপঞ্জি ↩︎
- সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৩১৩ ↩︎
- ইবন হাজার আল-আসকালানী, ফাতহুল বারী, কিতাবুন নিকাহ ↩︎
- ইসলামওয়েব: ফাতহুল বারী, অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে বিবাহ দেওয়ার অধ্যায় ↩︎
- ইবন হাজার আল-আসকালানি, ফাতহুল বারী শরহ সহিহ আল-বুখারি, কিতাবুল আদব; আয়িশার পুতুল নিয়ে খেলার হাদিসের ব্যাখ্যা। অনলাইন ভার্শন ↩︎
- সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৯৪৮ ↩︎
- ইমাম ইয়াহইয়া ইবন শরফ আন-নববী, শরহ সহিহ মুসলিম, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৫৪৯–৫৫০, “باب تزويج الأب البكر الصغيرة”। ইসলামওয়েব: শরহ সহিহ মুসলিম, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৫৪৯ ↩︎
- ইসলামওয়েব: শরহ সহিহ মুসলিম, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৫৪৯ ↩︎
- ইসলামওয়েব: শরহ সহিহ মুসলিম, অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর সহবাসসংক্রান্ত আলোচনা ↩︎
- ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ লিল-বুহূস আল-ইলমিয়্যাহ ওয়াল-ইফতা, পৃষ্ঠা ১২৪। মূল আরবি সংস্করণ, পৃষ্ঠা ১২৪ ↩︎
- পৃষ্ঠা ১২৪ ↩︎
- পৃষ্ঠা ১২৫ 1 2
- ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ, খণ্ড ১৮, পৃষ্ঠা ১২৪ ↩︎
- দারুল উলুম দেওবন্দ, প্রশ্ন ২১২১৯ ↩︎
- বানুরি টাউন: অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিবাহ ও বয়ঃসন্ধির পর প্রত্যাখ্যান ↩︎
- বানুরি টাউন: পিতামহের দেওয়া অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিবাহ ↩︎
- ইসলামকিউএ: আয়িশার বয়স ও একাধিক বর্ণনাসূত্র ↩︎

