জ্ঞানকোষ প্রবন্ধ

দাসদাসীর পালিয়ে যাওয়া কুফরী

প্রকাশিত: মে 2, 2024 · লেখক: আসিফ মহিউদ্দীন · 3 মিনিট পড়া

ইসলামে দাসদাসীর পালিয়ে যাওয়া সবচাইতে ভয়ঙ্কর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। আল্লাহর সাথে শিরক যেমন সবচাইতে বড় অপরাধ, ঠিক তেমনি মালিকের কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়াও ইসলামে সবচাইতে বড় অপরাধগুলোর একটি। সহিহ হাদিসের বর্ণনা অনুসারে, কোন ক্রীতদাস যদি মনিবের থেকে পালিয়ে যায়, তাহলে সেটিকে কুফরি হিসেবে গণ্য করা হবে। এর অর্থ হচ্ছে, আল্লাহর সাথে শরীক করা যেমন কুফরি, মনিবের থেকে পালিয়ে যাওয়াও কুফরি, যা ইসলামের দৃষ্টিকে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। অর্থাৎ দাসত্ব বা এই গোলামিকে ইসলাম ধর্মীয় পবিত্রতা আরোপের মাধ্যমে দাসদের জন্য একটি অপরিহার্য কর্তব্যে পরিণত করেছে। মনিবের শোষণ-নির্যাতন যতই নির্মম হোক না কেন, ইসলামের দৃষ্টিতে দাসের কর্তব্য শুধুমাত্র আনুগত্য। কারণ পালালে সে ধর্মদ্রোহী হিসেবে পরিগণিত হবে। এভাবে ধর্মীয় ভয় ও শাস্তির মাধ্যমে দাসদের মানসিকভাবে বন্দী রাখা অত্যন্ত অমানবিক।

দাসপ্রথা যখন প্রচলিত ছিল, তখন অনেক দাসই দাসত্বের এই জীবন সহ্য করতে না পেরে পালিয়ে যেতো বা অন্তত পালাবার চেষ্টা করতো। কিন্তু দাসদের এই পালিয়ে যাওয়াকে সর্বোচ্চ অপরাধ হিসেবেই চিহ্নিত করেছে ইসলাম, এবং তার মাধ্যমে দাস মালিকদের স্বার্থে দাসদের দাসত্বের শেকলে আবদ্ধ রাখার বন্দোবস্তও করে গেছে। ইমাম আবু বাক্‌র আহমাদ ইবনুল হুসাইন ইবনু আলী বাইহাকীর শু’আবুল ঈমান গ্রন্থে সহিহ হাদিসের রেফারেন্সে বলা হয়েছে, [1]। সেই সাথে অনেকগুলো হাদিসেও এই বিবরণ এসেছে [2] [3] [4] [5]

কুফরী

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১/ কিতাবুল ঈমান
পরিচ্ছেদঃ ৩১. পলাতক দাসকে ‘কাফির’ আখ্যায়িত করা
১৩২। আলী ইবনু হুজর আস সা’দী (রহঃ) … শা’বী (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি জারীর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, যে দাস তার মনিবের কাছ থেকে পালিয়ে গেল, সে কুফরী করল, যতক্ষন না সে তার প্রভুর কাছে ফিরে আসে। মানসূর বলেন, আল্লাহর কসম! এ হাদীস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু এখানে বসরায় আমার থেকে এ হাদীস বর্ণিত হোক তা আমি অপছন্দ করি।*
* কারণ এখানে খারিজী ও মুতাযিলা সম্প্রদায়ের লোক বেশী, যারা এটিকে সত্যিকার অর্থেই কুফরী মনে করে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ শা‘বী (রহঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১/ কিতাবুল ঈমান
পরিচ্ছেদঃ ৩১. পলাতক দাসকে ‘কাফির’ আখ্যায়িত করা
১৩৩। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) … জারীর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে দাস পালিয়ে যায়, তার থেকে (আল্লাহ ও রাসুলের) যিম্মাদারী শেষ হয়ে যায়।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ জারীর ইবনু আবদুল্লাহ আল বাজলী (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১/ কিতাবুল ঈমান
পরিচ্ছেদঃ ৩১. পলাতক দাসকে ‘কাফির’ আখ্যায়িত করা
১৩৪। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) … জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন দাস পালিয়ে যায়, তখন তার সালাত (নামায/নামাজ) কবুল হয় না।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ জারীর ইবনু আবদুল্লাহ আল বাজলী (রাঃ)

হাদীস সম্ভার
২১/ ক্রীতদাস
পরিচ্ছেদঃ মনিবের ঘর ছেড়ে ক্রীতদাসের পলায়ন নিষিদ্ধ
(২০২৮) উক্ত রাবী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কোন গোলাম পলায়ন করবে, তখন তার নামায কবুল হবে না।
(মুসলিম ২৩৯) অন্য বর্ণনা মতে, ‘সে কুফরী করবে।’ (ঐ ২৩৭)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ জারীর ইবনু আবদুল্লাহ আল বাজলী (রাঃ)


তথ্যসূত্রঃ
  1. শু’আবুল ঈমান, পৃষ্ঠা ৮৮ ↩︎
  2. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ১৩২ ↩︎
  3. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ১৩৩ ↩︎
  4. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ১৩৪ ↩︎
  5. হাদীস সম্ভার, হাদিসঃ ২০২৮ ↩︎

About This Article

Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis

Epistemic Position: Scientific Skepticism and Secular Humanist Ethics

This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.

Its purpose is evidence-based critical examination of religious, philosophical, moral, and historical claims.

Leave a comment

Your email will not be published.