Adh-Dhariyat
আয-যারিয়াত: 24
মূল আরবি
هَلْ أَتَىٰكَ حَدِيثُ ضَيْفِ إِبْرَٰهِيمَ ٱلْمُكْرَمِينَ
English Translations
Has there reached you the story of the honored guests of Abraham? -
Has the story reached you, of the honoured guests [three angels; Jibrael (Gabriel) along with another two] of Ibrahim (Abraham)?
Has there come to you the story of the honoured guests of Ibrāhīm?
(O Prophet), did the story of Abraham’s honoured guests reach you?
Hath the story of Abraham's honoured guests reached thee (O Muhammad)?
Has the story reached thee, of the honoured guests of Abraham?
বাংলা অনুবাদ
তোমার কাছে ইবরাহীমের সম্মানিত মেহমানদের খবর পৌঁছেছে কি?
তোমার কাছে কি ইবরাহীমের সম্মানিত মেহমানদের বৃত্তান্ত এসেছে?
তোমার নিকট ইবরাহীমের সম্মানিত মেহমানদের বৃত্তান্ত এসেছে কি?
আপনার কাছে ইবরাহীমের সম্মানীত মেহমানদের বৃত্তান্ত এসেছে কি?
(হে নাবী!) তোমার নিকট ইবরাহীমের সম্মানিত মেহমানদের খবর এসেছে কি?
২৪. হে রাসূল! আপনার নিকট কি ইবরাহীম (আলাইহিস-সালাম) এর সে সব মেহমানের বর্ণনা এসেছে যাদেরকে তিনি সম্মান করেছিলেন?
তাফসীর
২৪-৩০ নং আয়াতের তাফসীর: এ ঘটনাটি সূরায়ে হূদ ও সূরায়ে হিজরে গত হয়েছে। মেহমান বা অতিথিরা ফেরেশতা ছিলেন, যারা মানুষের আকারে আগমন করেছিলেন। তাদেরকে আল্লাহ তা'আলা সম্মান দান করেছিলেন। হযরত ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রঃ) এবং অন্যান্য আলেমদের একটি জামা'আত বলেন যে, অতিথিদেরকে আতিথ্য দান করা ওয়াজিব। হাদীসেও এটা এসেছে এবং কুরআন কারীমের বাহ্যিক শব্দও এটাই।মানবরূপী ফেরেশতাগণ হযরত ইবরাহীম (আঃ)-কে সালাম করেন এবং তিনি সালামের জবাব দেন। দ্বিতীয় (আরবী) শব্দের উপর দুই পেশ হওয়াটাই এর প্রমাণ। আল্লাহ তা'আলা এজন্যেই বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যখন তোমাদেরকে সালাম দেয়া হবে তখন তোমরা ওর চেয়ে উত্তম (শব্দ) দ্বারা জবাব দিবে অথবা ওটাই ফিরিয়ে দিবে।" (৪:৮৬)হযরত খলীল (আঃ) উত্তম পন্থাটিই গ্রহণ করেন।
তারা যে আসলে ফেরেশতা ছিলেন তা হযরত ইবরাহীম (আঃ) জানতেন না বলে তিনি বলেনঃ “এরা তো অপরিচিত লোক।” ফেরেশতারা ছিলেন হযরত জিবরাঈল (আঃ), হযরত মীকাঈল (আঃ) এবং হযরত ইসরাফীল (আঃ)। তাঁরা সুশ্রী যুবকের রূপ ধারণ করে এসেছিলেন। তাদের চেহারায় মর্যাদা ও ভীতির লক্ষণ প্রকাশমান ছিল। হযরত ইবরাহীম (আঃ) তাদের খাদ্য তৈরীর কাজে মগ্ন হয়ে পড়েন। তিনি নিঃশব্দে অতি তাড়াতাড়ি স্বীয় স্ত্রীর নিকট গমন করেন। অল্পক্ষণের মধ্যেই গো-বৎসের ভাজা গোশত নিয়ে তাদের সামনে হাযির হয়ে যান। তিনি ঐ গোশত তাঁদের নিকটে রেখে দেন এবং বলেনঃ “আপনারা খাচ্ছেন না কেন?” এর দ্বারা জিয়াফতের আদব জানা যাচ্ছে যে, হযরত ইবরাহীম (আঃ) মেহমানকে কিছু জিজ্ঞেস না করেই এবং তাদের জন্যে তিনি যে খাবার আনছেন এ অনুগ্রহের কথা তাদেরকে বলেই নিঃশব্দে তাঁদের নিকট হতে চলে গেলেন এবং তাড়াতাড়ি উৎকৃষ্ট হতে উৎকৃষ্টতম যে জিনিস তিনি পেলেন তা প্রস্তুত করে নিয়ে আসলেন।
তা ছিল অল্প বয়স্ক একটি তাজা গো-বৎসের ভাজা গোশত। এ খাদ্য তাদের সামনে রেখে দিয়ে তিনি তাদেরকে খেয়ে নেন' একথা বললেন না। কেননা, এতে এক ধরনের হুকুম পাওয়া যাচ্ছে। বরং তিনি তার সম্মানিত মেহমানদেরকে অত্যন্ত বিনয় ও ভালবাসার সুরে বলেনঃ “আপনারা খেতে শুরু করছেন না কেন?” যেমন কোন ব্যক্তি কাউকেও বলে থাকেঃ “যদি আপনি দয়া, অনুগ্রহ ও সদাচরণ করতে চান তবে করতে পারেন।"এরপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ “এতে তাদের সম্পর্কে তার মনে ভীতির সঞ্চার হলো।' যেমন অন্য আয়াতে আছেঃ (আরবী) অর্থৎ “সে যখন দেখলো যে, তাদের হস্তগুলো ওর দিকে প্রসারিত হচ্ছে না, তখন সে তাদেরকে অবাঞ্ছিত মনে করলো এবং তাদের সম্বন্ধে তার মনে ভীতির সঞ্চার হলো।
তারা বললোঃ ভয় করো না, আমরা লুত (আঃ)-এর সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত হয়েছি। তখন তার স্ত্রী দাঁড়িয়েছিল এবং সে হাসলো।" (১১:৭০-৭১) মহান আল্লাহ আরো বলেনঃ “অতঃপর আমি তাকে ইসহাক (আঃ)-এর ও ইসহাকের পরবর্তী ইয়াকূব (আঃ)-এর সুসংবাদ দিলাম। সে বললোঃ কি আশ্চর্য! সন্তানের জননী হবো আমি যখন আমি বৃদ্ধা এবং এই আমার স্বামী বৃদ্ধ! এটা অবশ্যই এক অদ্ভুত ব্যাপার। তারা বললোঃ আল্লাহর কাজে তুমি বিস্ময়বোধ করছো? হে পরিবারবর্গ! তোমাদের প্রতি রয়েছে আল্লাহর অনুগ্রহ ও কল্যাণ। তিনি প্রশংসার্হ ও সম্মানার্হ।”মহান আল্লাহ এখানে বলেনঃ “তারা তাকে এক জ্ঞানী পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিলো।
এ আয়াতে আছে যে, ফেরেশতারা হযরত ইবরাহীম (আঃ)-কে পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিয়েছিলেন, আর পূর্ববর্তী আয়াতে রয়েছে, এ সংবাদ তাঁরা তার স্ত্রীকে দিয়েছিলেন। সুতরাং ভাবার্থ এই যে, স্বামী-স্ত্রী দু'জনকেই এ সুসংবাদ দেয়া হয়েছিল। কেননা, সন্তানের জন্মগ্রহণ উভয়ের জন্যেই খুশীর বিষয়।এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ এ সুসংবাদ শুনে হযরত ইবরাহীম। (আঃ)-এর স্ত্রীর মুখ দিয়ে জোর শব্দ বেরিয়ে আসলো এবং কপালে হাত মেরে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বললেনঃ “যৌবনে আমি বন্ধ্যা ছিলাম। এখন আমিও বৃদ্ধা এবং আমার স্বামীও বৃদ্ধ, এমতাবস্থায় আমি গর্ভবতী হববা?” তার এই কথা শুনে ফেরেশতারা বললেনঃ “এই সুসংবাদ আমরা আমাদের নিজেদের পক্ষ হতে দিচ্ছি না।
বরং মহামহিমান্বিত আল্লাহই আমাদেরকে এ সুসংবাদ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি তো প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ। আপনারা যে মহা সম্মান পাওয়ার যোগ্য এটা তিনি ভালরূপেই জানেন। তাঁর ঘোষণা এই যে, এ বৃদ্ধ বয়সেই তিনি আপনাদেরকে সন্তান দান করবেন। তাঁর কোন কাজই প্রজ্ঞাশূন্য নয় এবং তার কোন হুকুমও হিকমত শূন্য হতে পারে না।”
আপনার কাছে ইবরাহীমের সম্মানীত মেহমানদের বৃত্তান্ত এসেছে কি?
[সূরা আয-যারিয়াত (৫১): আয়াত ২৪ থেকে ২৮] পূর্ণ পৃষ্ঠা
আপনার উচ্চারণের ন্যায়; ফলে এটি যেন একটি উহ্য মাসদার বা ক্রিয়ামূলের বিশেষণ। সিবওয়াইহ-এর মতানুসারে: এটি মাবনি বা অপরিবর্তনীয় রূপ লাভ করেছে যখন একে একটি গায়রে মুতামাক্কিন (অব্যয়ধর্মী) শব্দের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (ইজাফাত) করা হয়েছে, আর (মা) শব্দটি এখানে তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদানের জন্য অতিরিক্ত। আল-মাজিনী বলেন: (মা)-সহ (মিসলা) শব্দটি একটি একক শব্দের স্থলাভিষিক্ত, তাই সে কারণে এটি ফাতহাহ-এর ওপর মাবনি হয়েছে। আবু উবায়দ ও আবু হাতিম এই মতটিকেই গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন: আরবদের মধ্যে এমন একদল লোক আছে যারা (মিসল) শব্দটিকে সর্বদা মানসুব বা যবরযুক্ত হিসেবে পাঠ করে; যেমন বলা হয়: ‘আমার কাছে তোমার সদৃশ (মিসলাকা) একজন লোক বলল’ এবং ‘আমি তোমার সদৃশ (মিসলাকা) একজন লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম’—এখানে (মিসল) শব্দটিকে ‘সদৃশ হিসেবে’ (কামিসলি) অর্থে মানসুব করা হয়েছে।
আবু বকর, হামজাহ, আল-কিসায়ি এবং আল-আমাশ (মিসলু) পেশ যোগে পাঠ করেছেন এই ভিত্তিতে যে, এটি ‘লা-হাক্কুন’-এর সিফাত বা বিশেষণ। কারণ এটি নাকেরা বা অনির্দিষ্ট, যদিও তা মারেফাহ বা নির্দিষ্ট বিশেষ্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে; কারণ সম্বন্ধের মাধ্যমে এটি নির্দিষ্টতা পায় না, যেহেতু সদৃশ বস্তুর আধিক্যের কারণে সমজাতীয় বস্তুর মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান থাকে। আর (মিসলা) শব্দটি (আন্নাকুম)-এর দিকে মুদাফ এবং (মা) অতিরিক্ত; এটি পরবর্তী শব্দের সাথে মিলে মাসদারের স্থলাভিষিক্ত হবে না, কারণ এর সাথে কোনো ক্রিয়া নেই যা একে মাসদারে পরিণত করবে।
আর এটি (লা-হাক্কুন) থেকে বদল বা পরিপূরক হওয়াও সম্ভব। [সূরা আয-যারিয়াত (৫১): আয়াত ২৪ থেকে ২৮]আপনার কাছে কি ইব্রাহীমের সম্মানিত মেহমানদের বৃত্তান্ত পৌঁছেছে? (২৪) যখন তারা তার নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, ‘সালাম’। সেও বলল, ‘সালাম’। এরা তো অপরিচিত লোক। (২৫) অতঃপর সে দ্রুত তার পরিবারের কাছে গেল এবং একটি হৃষ্টপুষ্ট বাছুর (ভাজা) নিয়ে এল। (২৬) তারপর সে তা তাদের সামনে রাখল এবং বলল, ‘আপনারা কি খাবেন না?’ (২৭) এতে তাদের সম্পর্কে সে মনে মনে ভীত হল। তারা বলল, ‘ভীত হবেন না’। তারা তাকে এক জ্ঞানী পুত্রসন্তানের সুসংবাদ দিল। (২৮)আল্লাহ তাআলার বাণী: (আপনার কাছে কি ইব্রাহীমের সম্মানিত মেহমানদের বৃত্তান্ত পৌঁছেছে?) এখানে ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে এটি স্পষ্ট করার জন্য যে, আল্লাহ তাঁর নিদর্শনসমূহকে অস্বীকারকারীদের ধ্বংস করেন, যেমনটি লুত আলাইহিস সালামের কওমের সাথে করা হয়েছিল।
(আপনার কাছে কি পৌঁছেছে) অর্থাৎ আপনার কাছে কি আসেনি? আবার বলা হয়েছে: ‘হাল’ শব্দটি ‘কদ’ (নিশ্চয়ই) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: ‘মানুষের ওপর কি সময়ের এমন এক কাল অতিবাহিত হয়নি...’। সূরা হুদ ও সূরা আল-হিজরে ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের মেহমানদের বিষয়ে আলোচনা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। (সম্মানিত) অর্থাৎ যারা আল্লাহর কাছে সম্মানিত; এর প্রমাণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: ‘বরং তারা সম্মানিত বান্দা’। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: এর দ্বারা জিবরাঈল, মিকাঈল ও ইসরাফিলকে বোঝানো হয়েছে—উসমান ইবনে হুসাইন আরও যোগ করেছেন—রাফাইল আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম।
মুহাম্মদ ইবনে কাব বলেন: জিবরাঈল আলাইহিস সালাম ছিলেন এবং তাঁর সাথে আরও নয়জন ফেরেশতা ছিল। আতা ও একদল আলেম বলেন: তারা তিনজন ছিলেন—জিবরাঈল, মিকাঈল এবং তাঁদের সাথে অন্য একজন ফেরেশতা।(১). আল-নাহহাসের ইরাবুল কুরআন থেকে অতিরিক্ত অংশ সংযোজিত।(২). দ্রষ্টব্য: ১৯তম খণ্ড, পৃষ্ঠা (১১৬)(৩). দ্রষ্টব্য: ৯তম খণ্ড, পৃষ্ঠা (৬২)(৪). দ্রষ্টব্য: ১০তম খণ্ড, পৃষ্ঠা (৩৫)(৫). দ্রষ্টব্য: ১১তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৮১
