Adh-Dhariyat

আয-যারিয়াত: 47

51:47
51 আয-যারিয়াত Adh-Dhariyat · 60 আয়াত الذاريات

আরবি

وَٱلسَّمَآءَ بَنَيْنَـٰهَا بِأَيْي۟دٍ وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ

English Translations

Sahih International

And the heaven We constructed with strength, and indeed, We are [its] expander.

Muhsin Khan

With power did We construct the heaven. Verily, We are Able to extend the vastness of space thereof.

Taqi Usmani

And the sky was built by Us with might; and indeed We are the expanders.

Abul Ala Maududi

And heaven – We made it with Our Own Power and We have the Power to do so.

Pickthall

We have built the heaven with might, and We it is Who make the vast extent (thereof).

Yusuf Ali

With power and skill did We construct the Firmament: for it is We Who create the vastness of space.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

আমি নিজ হাত দ্বারা আসমান সৃষ্টি করেছি আর আমি অবশ্যই মহা প্রশস্তকারী।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর আমি হাতসমূহ দ্বারা আকাশ নির্মাণ করেছি এবং নিশ্চয় আমি শক্তিশালী।

শাইখ মুজিবুর রহমান

আমি আকাশ নির্মাণ করেছি আমার ক্ষমতা বলে এবং আমি অবশ্যই মহাসম্প্রসারণকারী,

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর আসমান আমরা তা নির্মাণ করেছি আমাদের ক্ষমতা বলে এবং আমরা নিশ্চয়ই মহাসম্প্রসারণকারী।

ফাতহুল মাজীদ

আমি আকাশ নির্মাণ করেছি আমার (নিজ) হাতে এবং আমি অবশ্যই মহা সম্প্রসারণকারী।

মুখতাসার

৪৭. আমি আসমানকে সৃষ্টি করেছি এবং এর ভিত্তিকে দৃঢ়তার সাথে নিপুণ করেছি। আর আমি এর প্রান্তগুলোকে প্রশস্ত করেছি।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

৪৭-৫১ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, তিনি আকাশকে স্বীয় ক্ষমতাবলে সৃষ্টি করেছেন এবং ওটাকে তিনি সুরক্ষিত, সুউচ্চ ও সম্প্রসারিত করেছেন। অবশ্যই তিনি মহাসম্প্রসারণকারী। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ), হযরত মুজাহিদ (রঃ), হযরত কাতাদা (রঃ), হযরত সাওরী (রঃ) এবং আরো বহু তাফসীরকার একথাই বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ আমি আকাশকে স্বীয় শক্তি বলে সৃষ্টি করেছি। আমি মহাসম্প্রসারণকারী। আমি ওর প্রান্তকে প্রশস্ত করেছি, বিনা স্তম্ভে ওকে দাঁড় করে রেখেছি এবং প্রতিষ্ঠিত করেছি। মহান আল্লাহ বলেনঃ যমীনকে আমি আমার সৃষ্টজীবের জন্যে বিছানা বানিয়েছি। আর একে বানিয়েছি অতি উত্তম বিছানা। সমস্ত মাখলককে জোড়া জোড়া করে সষ্টি করেছি। যেমন আসমান ও যমীন, দিবস ও রজনী, সূর্য ও চন্দ্র, জল ও স্থল, আলো ও অন্ধকার, ঈমান ও কুফর, জীবন ও মৃত্যু, পাপ ও পুণ্য, জান্নাত ও জাহান্নাম, এমন কি জীব-জন্তু এবং উদ্ভিদের মধ্যেও জোড়া রয়েছে। এটা এ জন্যে যে, যেন তোমরা উপদেশ লাভ কর। তোমরা যেন জেনে নাও যে, এসবের সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ। তিনি শরীক বিহীন ও একক। সুতরাং তোমরা তার দিকে দৌড়িয়ে যাও এবং তারই প্রতি মনোযোগী হও। আমার নবী (সঃ) তো তোমাদেরকে স্পষ্ট সতর্ককারী। সাবধান! তোমরা আল্লাহর সাথে কোন মাবুদ স্থির করো না। আমার রাসূল (সঃ) তো তোমাদেরকে আমার সম্পর্কে স্পষ্ট ভয় প্রদর্শনকারী।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর আসমান আমরা তা নির্মাণ করেছি আমাদের ক্ষমতা বলে [১] এবং আমরা নিশ্চয়ই মহাসম্প্রসারণকারী [২]।

[১] أيْيد শব্দের অর্থ শক্তি ও সামৰ্থ্য। এ স্থলে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু, মুজাহিদ, কাতাদাহ ও সাওরী রাহে মাহুমুল্লাহ এ তাফসীরই করেছেন। কারণ, এখানে أيد শব্দটি يَدٌ এর বহুবচন নয়। যদি শব্দটি يد এর বহুবচন হতো তবে তার বহুবচন হতো, أيديَ । বরং أيد শব্দটির প্রতিটি বর্ণ মূল শব্দ। যার অর্থই হলো শক্তি। অন্য আয়াতে এ শব্দ থেকে বলা হয়েছে, وَاَيَّدُنٰهُ بِرُوْحِ الْقُدُسِ “আর আমরা তাকে রুহুল কুদ্দুস বা জিবরালের মাধ্যমে শক্তি যুগিয়েছি”। [সূরা আল-বাকারাহ: ৮৭, ২৫৩] সুতরাং কেউ যেন এটা না ভাবে যে, এখানে أيد শব্দটি يد এর বহুবচন [দেখুন, আদওয়াউল বায়ান]।

[২] মূল আয়াতাংশ مُوْسِعُوْنَ অর্থ ক্ষমতা ও শক্তির অধিকারী এবং প্রশস্তকারী উভয়টিই হতে পারে। তাছাড়া مُوْسِعُوْنَ শব্দের অন্য আরেকটি অর্থও কোন কোন মুফাসসির থেকে বর্ণিত আছে, তা হলো রিযিক সম্প্রসারণকারী। অর্থাৎ আল্লাহ তা’আলা বান্দাদের রিযিকে প্রশস্ততা প্রদানকারী। [দেখুন, কুরতুবী] তবে ইবন কাসীর প্রশস্তকারী অর্থ গ্ৰহণ করেছেন। তিনি অর্থ করেছেন, “আমরা আকাশের প্রান্তদেশের সম্প্রসারণ করেছি এবং একে বিনা খুঁটিতে উপরে উঠিয়েছি, অবশেষে তা তার স্থানে অবস্থান করছে।” [ইবন কাসীর]