Adh-Dhariyat
আয-যারিয়াত: 31
মূল আরবি
۞ قَالَ فَمَا خَطْبُكُمْ أَيُّهَا ٱلْمُرْسَلُونَ
English Translations
[Abraham] said, "Then what is your business [here], O messengers?"
[Ibrahim (Abraham)] said: "Then for what purpose you have come, O Messengers?"
He (Ibrāhīm) said (to the angels), “Then, what is your mission O messengers?”
Abraham said: “Envoys (of Allah), what is your errand?”
(Abraham) said: And (afterward) what is your errand, O ye sent (from Allah)?
(Abraham) said: "And what, O ye Messengers, is your errand (now)?"
বাংলা অনুবাদ
ইবরাহীম বলল- ‘ওহে আল্লাহর দূতগণ (ফেরেশতারা)! তোমাদের কাজ কী (এখন)?’
ইবরাহীম বলল, ‘হে প্রেরিত ফেরেশতাগণ, তোমাদের উদ্দেশ্য কী?
সে (ইবরাহীম) বললঃ হে প্রেরিত মালাইকা/ফেরেশতাগণ! আপনাদের বিশেষ কাজ কি?
ইবরাহীম বললেন, ‘হে প্রেরিত ফেরেশতাগণ ! তোমাদের বিশেষ কাজ কি?’
সে (ইবরাহীম) বলল : হে প্রেরিতরা (ফেরেশতাগণ!) তোমাদের বিশেষ কাজ কী?
৩১. ইবরাহীম (আলাইহিস-সালাম) ফিরিশতাগণকে বললেন, আপনাদের ব্যাপারটি কী? আর আপনারা কীই বা চান?
তাফসীর
৩১-৩৭ নং আয়াতের তাফসীর: ইতিপূর্বে গত হয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা হযরত ইবরাহীম (আঃ) সম্পর্কে সংবাদ দিতে গিয়ে বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “অতঃপর যখন ইবরাহীম (আঃ)-এর ভীতি দূরীভূত হলো এবং তার নিকট সুসংবাদ আসলো তখন সে লূত (আঃ)-এর সম্প্রদায়ের সম্বন্ধে আমার সাথে বাদানুবাদ করতে লাগলো। ইবরাহীম (আঃ) তো অবশ্যই সহনশীল, কোমল হৃদয়, সতত আল্লাহ অভিমুখী। হে ইবরাহীম (আঃ)! এটা হতে তুমি বিরত হও। তোমার প্রতিপালকের বিধান এসে পড়েছে; তাদের উপর তো শাস্তি আসবে যা অনিবার্য।" (১১:৭৪-৭৬) আর এখানে আল্লাহ তা'আলা হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর উক্তি উদ্ধৃত করেন যে, তিনি ফেরেশতাদেরকে সম্বোধন করে বলেনঃ “হে প্রেরিত দূতগণ!
আপনাদের বিশেষ কাজ কি?' অর্থাৎ আপনাদের শুভাগমনের উদ্দেশ্য কি? ফেরেশতাগণ জবাবে বলেনঃ আমাদেরকে এক অপরাধী সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরণ করা হয়েছে। এই সম্প্রদায় দ্বারা তারা হযরত লূত (আঃ)-এর সম্প্রদায়কে বুঝিয়েছেন। তারা আরো বলেনঃ “আমরা আদিষ্ট হয়েছি যে, আমরা যেন তাদের উপর মাটির শক্ত ঢেলা নিক্ষেপ করি; যা সীমালংঘনকারীদের জন্যে আপনার প্রতিপালকের নিকট হতে চিহ্নিত।' অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার নির্দেশক্রমে ঐ পাপীদের নাম ঢেলাগুলোর উপর পূর্ব হতেই লিখিত আছে। প্রত্যেকের জন্যে পৃথক পৃথক ঢেলা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। সূরায়ে আনকাবুতে রয়েছেঃ (আরবী)অর্থাৎ “সে (ইবরাহীম আঃ) বললোঃ এই জনপদে তো লূত (আঃ) রয়েছে।
তারা বললোঃ সেথায় কারা আছে তা আমরা ভাল জানি, আমরা তো দূত (আঃ)-কে ও তার পরিজনবর্গকে রক্ষা করবেই, তার স্ত্রী ব্যতীত; সে তো পশ্চাতে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত।" (২৯:৩২) অনুরূপভাবে এখানেও আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ ‘সেখানে যেসব মুমিন ছিল আমি তাদেরকে উদ্ধার করেছিলাম। এর দ্বারাও হযরত লূত (আঃ) এবং তাঁর পরিবার পরিজনকে বুঝানো হয়েছে। তার স্ত্রী ব্যতীত, যে ঈমান আনয়ন করেনি। মহান আল্লাহ বলেনঃ ‘সেখানে একটি পরিবার ব্যতীত কোন অত্মিসমর্পণকারী আমি পাইনি।' এ আয়াত দু’টি ঐ লোকদের দলীল যারা বলেন যে, ঈমানের নামই ইসলাম। কেননা, এখানে যাদেরকে মুমিন বলা হয়েছে তাদেরকেই মুসলিম বলা হয়েছে।
মুতাজিলাদের মাযহাবও এটাই যে, ঈমান ও ইসলাম একই জিনিস। কিন্ত তাদের এ দলীল খুবই দুর্বল। কেননা, এ লোকগুলো মুমিন ছিলেন। আর আমরাও তো এটা স্বীকার করি যে, প্রত্যেক মুমিনই মুসলিম হয়। কিন্তু প্রত্যেক মুসলিম মুমিন হয় না। সুতরাং অবস্থার বিশেষত্বের কারণে তাঁদেরকে মুমিন ও মুসলিম বলা হয়েছে। এর দ্বারা সাধারণভাবে এটা প্রমাণিত হয় না যে, প্রত্যেক মুসলিম মুমিন হয়ে থাকে। হযরত ইমাম বুখারী (রঃ) এবং অন্যান্য মুহাদ্দিসদের মাযহাব এই যে, যখন ইসলাম প্রকত ও সঠিক হয় তখন ঈমান ও ইসলাম একই হয়। তবে ইসলাম প্রকৃত ও বাস্তবরূপী না হলে ঈমান ও ইসলামের পার্থক্য অবশ্যই হবে।এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ এই কাফিরদেরকে ধ্বংস করে দেয়ার মধ্যে ঐ লোকদের জন্যে অবশ্যই নিদর্শন, শিক্ষা ও উপদেশ রয়েছে যারা আল্লাহর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিকে ভয় করে।
তারা ঐ সব লোকের কৃতকর্মের পরিণাম দেখে যথেষ্ট শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।
ইবরাহীম বললেন, ‘হে প্রেরিত ফেরেশতাগণ ! তোমাদের বিশেষ কাজ [১] কি?’
[১] এই কথোপকথনের মধ্যে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম জানতে পারলেন যে, আগন্তুক মেহমানগণ আল্লাহর ফেরেশতা। আর মানুষের আকৃতিতে ফেরেশতাদের আগমন যেহেতু কোন বড় গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য হয়ে থাকে। তাই তাদের আগমনের উদ্দেশ্য অবহিত হওয়ার জন্য ইবরাহীম আলাইহিস সালাম خطب শব্দ ব্যবহার করেছেন। আরবী ভাষায় خطب শব্দটি কোন মামুলি কাজের জন্য ব্যবহৃত হয় না, বরং কোন বড় গুরুত্বপূর্ণ কাজ বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা কী অভিযানে আগমন করেছেন? উত্তরে তারা লুত আলাইহিস সালাম-এর সম্প্রদায়ের ওপর মাটির তৈরী প্রস্তর (কংকর) বর্ষণের আযাব নাযিল করার কথা বলল। [দেখুন, কুরতুবী:আত তাহরীর ওয়াত তানওয়ীর]
[সূরা আয-যারিয়াত (৫১): আয়াত ৩১ থেকে ৩৭] পূর্ণ পৃষ্ঠা
আল-জাওহারী বলেন: 'সাররাহ' অর্থ হলো হট্টগোল ও উচ্চৈঃস্বর, আবার 'সাররাহ' অর্থ হলো দল বা গোষ্ঠী, এবং 'সাররাহ' অর্থ কোনো দুঃখ-কষ্ট বা অন্য কিছুর তীব্রতা। ইমরুল কায়েস বলেছেন:অতঃপর সে তাকে অগ্রগামীদের সাথে মিলিয়ে দিল, আর তার অগোচরে … তার অবশিষ্টাংশগুলো একটি অবিভক্ত দলে ছিল। «১»এই কাব্যপঙক্তিটি উপরোক্ত তিনটি অর্থই বহন করার সম্ভাবনা রাখে। আর গ্রীষ্মের 'সাররাহ' বলতে তার উত্তাপের তীব্রতাকে বোঝায়। যখন সারা (আ.) সুসংবাদটি শুনলেন, তখন তিনি তার মুখমণ্ডলে করাঘাত করলেন, অর্থাৎ বিস্ময়ের সময় নারীদের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী তিনি তার মুখমণ্ডলে হাত দিয়ে আঘাত করলেন।
সুফিয়ান আস-সাওরী এবং অন্যান্যরা এ কথা বলেছেন। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: তিনি তার মুখমণ্ডলে চপেটাঘাত করলেন। 'সাক্ক' শব্দের মূল অর্থ হলো প্রহার করা; তাকে 'সাক্ক' করার অর্থ হলো তাকে প্রহার করা। রাজেয (ছন্দবদ্ধ কবিতা রচয়িতা) বলেন «২»:হে বকজাতীয় পক্ষী! তাকে চপেটাঘাত করা হলো ফলে সে সংকুচিত হয়ে ভূমিতে মিশে গেল। আল-উমাবী বলেন: হরিণ যখন মাটির সাথে মিশে যায় তখন তাকে 'কাবানা' বলা হয়, আর 'ইকবাআন' মানে হলো সংকুচিত হওয়া। (এবং সে বলল, এক বন্ধ্যা বৃদ্ধা) অর্থাৎ আমি কি একজন বন্ধ্যা বৃদ্ধা হয়ে সন্তান জন্ম দেব? আয-যাজ্জাজ বলেন: অর্থাৎ তিনি বললেন আমি একজন বন্ধ্যা বৃদ্ধা, সুতরাং আমি কীভাবে সন্তান প্রসব করব, যেমনটি তিনি অন্য আয়াতে বলেছিলেন: (হায় দুর্ভোগ!
আমি কি সন্তান প্রসব করব অথচ আমি একজন বৃদ্ধা) «৩»। (তারা বলল, এরূপই) অর্থাৎ আমরা তোমাকে যা বলেছি এবং যে সংবাদ দিয়েছি বিষয়টি সেরূপই (তোমার পালনকর্তা বলেছেন) সুতরাং এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ করো না। সুসংবাদ এবং সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার মধ্যবর্তী সময় ছিল এক বছর। এর আগে সারা (আ.) কখনও সন্তান জন্ম দেননি; তিনি যখন সন্তান প্রসব করেন তখন তার বয়স ছিল নিরানব্বই বছর, আর ইবরাহীম (আ.)-এর বয়স ছিল তখন একশ বছর। এ বিষয়টি ইতিপূর্বে বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে। (নিশ্চয়ই তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ) তিনি যা করেন তাতে তিনি প্রজ্ঞাময় এবং তাঁর সৃষ্টির কল্যাণের বিষয়ে তিনি সর্বজ্ঞ।
[সূরা আয-যারিয়াত (৫১): আয়াত ৩১ থেকে ৩৭]তিনি বললেন, "হে প্রেরিত ফেরেশতাগণ! তোমাদের বিশেষ কাজ কী?" (৩১) তারা বলল, "আমাদেরকে এক অপরাধী সম্প্রদায়ের প্রতি পাঠানো হয়েছে।" (৩২) "যাতে আমরা তাদের ওপর মাটির কঙ্কর বর্ষণ করি।" (৩৩) "যা সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য তোমার পালনকর্তার পক্ষ থেকে চিহ্নিত।" (৩৪) "অতঃপর সেখানে যারা মুমিন ছিল, আমি তাদেরকে বের করে আনলাম।" (৩৫)"সেখানে একটি ঘর ব্যতীত আমি কোনো মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী) খুঁজে পাইনি।" (৩৬) "এবং যারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিকে ভয় করে, আমি তাদের জন্য সেখানে একটি নিদর্শন রেখে দিয়েছি।" (৩৭)(১).
এটি 'ফা-আলহাকনা' শব্দেও বর্ণিত হয়েছে। কবিতাটি তার মুআল্লাকা থেকে নেওয়া হয়েছে। 'হাদিয়াত' হলো বন্য গরুর পালের অগ্রবর্তী দল এবং 'জাওয়াহিরুহা' হলো যারা পেছনে রয়ে গেছে। 'লাম তুযাইয়াল' অর্থ তারা বিচ্ছিন্ন হয়নি। কবি বলছেন: যখন এই ঘোড়াটি বন্য গরুর পালের সামনের দিককার নাগাল পেল, তখন পেছনেরগুলো তখনও বিচ্ছিন্ন না হয়ে একত্রে ছিল। [ ..... ](২). কবি হলেন মুদরিক ইবনে হিসন। এর পূর্ণ রূপ হলো: অতঃপর সে বিষ্ঠা ত্যাগ করল, যখন সে তা করল... (৩). দ্রষ্টব্য: ৯ম খণ্ড, ৬৯ পৃষ্ঠা।
