Al-An'am
আল-আনআম: 126
6 আল-আনআম Al-An'am · 165 আয়াত الأنعام
মূল আরবি
وَهَـٰذَا صِرَٰطُ رَبِّكَ مُسْتَقِيمًا ۗ قَدْ فَصَّلْنَا ٱلْـَٔايَـٰتِ لِقَوْمٍ يَذَّكَّرُونَ
English Translations
And this is the path of your Lord, [leading] straight. We have detailed the verses for a people who remember.
And this is the Path of your Lord (the Quran and Islam) leading Straight. We have detailed Our Revelations for a people who take heed.
This is the path of your Lord, a straight path. We have made the verses elaborate for people who accept the advice.
even though this way is the straight way of your Lord, and We have distinguished its signs to those who heed to admonition.
This is the path of thy Lord, a straight path. We have detailed Our revelations for a people who take heed.
This is the way of thy Lord, leading straight: We have detailed the signs for those who receive admonition.
বাংলা অনুবাদ
অথচ (ইসলামের) এ পথই তোমার প্রতিপালকের সরল-সঠিক পথ, যারা নাসীহাত গ্রহণ করে আমি তাদের জন্য নিদর্শনাবলী বিশদভাবে বিবৃত করে দিয়েছি।
আর এ হচ্ছে তোমার রবের সরল পথ। আমি তো বিস্তারিতভাবে আয়াতসমূহ বর্ণনা করেছি এমন কওমের জন্য, যারা উপদেশ গ্রহণ করে।
আর এটাই হচ্ছে তোমার রবের সহজ সরল পথ, আমি উপদেশ গ্রহণকারী লোকদের জন্য আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করে দিয়েছি।
আর এটাই আপনার রব নির্দেশিত সরল পথ। যারা উপদেশ গ্রহণ করে আমারা তাদের জন্য নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বিবৃত করেছি
এটা তোমার প্রতিপালকের সহজ-সরল পথ। যে সম্প্রদায় উপদেশ গ্রহণ করে আমি তাদের জন্য নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করি।
১২৬. হে রাসূল! আপনার জন্য নির্ধারিত আমার ধর্ম বস্তুতঃ আল্লাহরই সঠিক পথ। যাতে কোন ধরনের বক্রতা নেই। মূলতঃ আমি আয়াতগুলোকে ওদের জন্যই সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি যারা আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন কিছু বুঝার ক্ষমতা রাখে।
তাফসীর
১২৬-১২৭ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা পথভ্রষ্টদের বর্ণনা দেয়ার পর এখন দ্বীন ও হিদায়াতের মর্যাদার বর্ণনা দিচ্ছেন। তিনি বলেনঃ তোমাদের প্রতিপালকের এটাই সরল সহজ পথ। (আরবী) শব্দটি (আরবী)-এর ভিত্তিতে হয়েছে। অর্থাৎ হে মুহাম্মাদ (সঃ)! এই দ্বীন, যা আমি তোমাকে প্রদান করেছি, সেই অহীর মাধ্যমে, যাকে কুরআন বলে, এটাই হচ্ছে সরল সঠিক পথ। যেমন হযরত আলী (রাঃ) কুরআনের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন যে, ওটা হচ্ছে সিরাতে মুসতাকীম, আল্লাহর দৃঢ় রঞ্জু এবং বিজ্ঞানময় বর্ণনা।(আরবী) অর্থাৎ আমি কুরআনের আয়াতগুলোকে বিশদভাবে বর্ণনা করে দিয়েছি। এর দ্বারা ঐ লোকেরাই উপকৃত হবে যাদের জ্ঞান ও বিবেক রয়েছে।
যারা আল্লাহ ও রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কথাগুলোকে গভীর মনোযোগের সাথে চিন্তা করে দেখে এবং ওগুলো বুঝবার চেষ্টা করে, তাদের জন্যে কিয়ামতের দিন জান্নাত ও শান্তির ঘর রয়েছে। জান্নাতকে দারুস সালাম বা শান্তির ঘর বলার কারণ এই যে, যেমন তারা দুনিয়ায় শান্তির পথে চলছে, তেমনই কিয়ামতের দিনেও তারা শান্তির ঘর লাভ করবে। আল্লাহ তাদের রক্ষক, সাহয্যকারী ও শক্তিদানকারী। কেননা, তারা ভাল আমল করে থাকে।
আর এটাই আপনার রব নির্দেশিত সরল পথ [১]। যারা উপদেশ গ্রহণ করে আমারা তাদের জন্য নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বিবৃত করেছি [২]
[১] এ আয়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে সম্বোধন করে বলা হয়েছেঃ এটা আপনার পালনকর্তার সরল পথ। এখানে (هٰذا) (এটা) শব্দ দ্বারা ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মতে কুরআনের দিকে এবং ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমার মতে ইসলামের দিকে ইশারা করা হয়েছে। অথবা পূর্বে বর্ণিত বিষয়াদি যা দ্বীন হিসেবে পরিগণিত। [বাগভী; ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর] উদ্দেশ্য এই যে, আপনাকে প্রদত্ত কুরআন কিংবা ইসলাম আপনার রব-এর পথ। অর্থাৎ এমন পথ, যা আপনার পালনকর্তা স্বীয় প্রজ্ঞার মাধ্যমে স্থির করেছেন এবং মনোনীত করেছেন। এখানে পথকে রব-এর দিকে সম্পৃক্ত করে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, কুরআন ও ইসলামের যে কৰ্মব্যবস্থা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে দেয়া হয়েছে, তা পালন করা আল্লাহ্ তা'আলার উপকারের জন্য নয়, বরং পালনকারীদের উপকারের জন্য পালনকর্তার দাবীর ভিত্তিতে দেয়া হয়েছে।
এর মাধ্যমে মানুষকে এমন শিক্ষাই দান করা উদ্দেশ্য যা তাদের চিরস্থায়ী সাফল্য ও কল্যাণের নিশ্চয়তা বিধান করে।
[২] এখানে কয়েকটি বিষয় লক্ষণীয়ঃ (এক) (رب) শব্দকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দিকে সম্বোধন করে তার প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ ও কৃপা প্রকাশ করা হয়েছে। [আত-তাহরীর ওয়াত তানওয়ীর]কেননা, পালনকর্তা ও উপাস্যের দিকে কোন বান্দাকে সামান্যতম সম্বন্ধ করা বান্দার জন্য পরম গৌরবের বিষয়। তদুপরি যদি পরম পালনকর্তা নিজেকে বান্দার দিকে সম্বন্ধ করে বলেন যে, “এটা আপনার প্রভূর রাস্তা” তখন তার সৌভাগ্যের সীমা-পরিসীমা থাকে না। বান্দার মনে তখন সদা জাগরুক থাকে যে, এটা আল্লাহর দেয়া পথ। (দুই) (مستقيما) শব্দ দ্বারা বর্ণিত হয়েছে যে, কুরআনের এ পথই হলো সরল পথ।
এখানেও (مستقيما) কে (صراط) এর বিশেষণ হিসেবে উল্লেখ না করে অবস্থা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। [ইবন কাসীর; আততাহরীর ওয়াত-তানওয়ীরা] এতে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, বিশ্ব পালকের স্থিরীকৃত পথ মুস্তাকীম বা সরল হওয়া ছাড়া আর কোন সম্ভাবনাই নাই। এ পথে চলে ভ্ৰষ্ট হওয়ার কোন সুযোগ নেই। এতে বাড়াবাড়ি বা ছাড় প্রবণতা নেই। আঁকাবাকা পথে নয় বরং স্বাভাবিক পথের দিকেই এটি মানুষকে ধাবিত করে [বাগভী; মানার] (তিন) আয়াতের শেষাংশে বলা হয়েছে যে, “আমরা উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য আয়াতসমূহকে পরিস্কারভাবে বর্ণনা করেছি"। এখানে (فَصَّلْنَا) শব্দটি (تفصيل) থেকে উদ্ভুত।
এর অর্থ কোন বিষয়বস্তুকে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করে এক এক অধ্যায়কে পৃথক পৃথক করে বিশদভাবে বর্ণনা করা। এভাবে গোটা বিষয়বস্তু হৃদয়ঙ্গম হয়ে যায়। অতএব, (تفصيل) এর সারমর্ম হচ্ছে বিস্তারিত ও বিশদভাবে বর্ণনা করা। উদ্দেশ্য এই যে, আমি মৌলিক বিষয়গুলোকে পরিস্কার ও বিশদভাবে বর্ণনা করেছি, এতে কোন সংক্ষিপ্ততা বা অস্পষ্টতা রাখিনি। [আইসারুত তাফসীরা] (চার) এতে (لِقَوْمٍ يَّذَّكَّرُوْنَ) বলে ব্যক্ত করা হয়েছে যে, কুরআনের বক্তব্য পুরোপুরি সুস্পষ্ট ও পরিস্কার হলেও, তা দ্বারা একমাত্র তারাই উপকৃত হয়েছে, যারা উপদেশ গ্রহণের অভিপ্রায়ে কুরআনের উপর চিন্তা-ভাবনা করে; জিদ, হঠকারিতা এবং পৈতৃক প্রথার নিশ্চল অনুসরণের প্রাচীর যাদের সামনে অন্তরায় সৃষ্টি করে না।
[তাবারী; সাদী ]
[সূরা আল-আন’আম (৬): আয়াত ১২৬] পূর্ণ পৃষ্ঠা
যেন সে তা আহ্বান করছে। আবার বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো, ইসলাম থেকে বিমুখতার কারণে তার হৃদয় যেন আকাশে আরোহণ করছে। এভাবেই আল্লাহ তাদের ওপর অপবিত্রতা চাপিয়ে দেন, যেভাবে তিনি তাদের দেহে বক্ষ সংকীর্ণতা তৈরি করেন। ভাষাগতভাবে ‘রিজস’ (অপবিত্রতা) এর মূল অর্থ হলো দুর্গন্ধ। ইবনে যাইদ বলেছেন: এটি হলো শাস্তি। ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: (রিজস হলো) শয়তান, অর্থাৎ তিনি তাদের ওপর তাকে কর্তৃত্বশীল করে দেন। মুজাহিদ বলেছেন: রিজস হলো এমন বিষয় যাতে কোনো কল্যাণ নেই। একইভাবে ভাষাবিদদের নিকট রিজস এর অর্থ হলো দুর্গন্ধ। আয়াতের অর্থ—আল্লাহই সম্যক অবগত—তিনি দুনিয়াতে অভিশাপ এবং আখিরাতে শাস্তি নির্ধারণ করেন (যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না তাদের ওপর)।
[সূরা আল-আন’আম (৬): আয়াত ১২৬]এবং এটিই আপনার রবের সরল পথ; অবশ্যই আমি উপদেশ গ্রহণকারী কওমের জন্য নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেছি। (১২৬)মহান আল্লাহর বাণী: (এবং এটিই আপনার রবের সরল পথ) অর্থাৎ হে মুহাম্মদ, আপনি এবং মুমিনগণ যে দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত আছেন, এটিই আপনার রবের দ্বীন যাতে কোনো বক্রতা নেই। (অবশ্যই আমি নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেছি) অর্থাৎ আমি সেগুলো স্পষ্ট করেছি (উপদেশ গ্রহণকারী কওমের জন্য)। [সূরা আল-আন’আম (৬): আয়াত ১২৭]তাদের রবের নিকট তাদের জন্য রয়েছে শান্তির আবাস এবং তারা যা করত তার কারণে তিনিই তাদের অভিভাবক।
(১২৭)মহান আল্লাহর বাণী: (তাদের জন্য) অর্থাৎ উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য। (শান্তির আবাস) অর্থাৎ জান্নাত। জান্নাত হলো আল্লাহর গৃহ, যেমন বলা হয়: কাবা আল্লাহর ঘর। এটিও সম্ভব যে এর মূল অর্থ হবে নিরাপত্তা, অর্থাৎ এমন আবাস যেখানে সমস্ত বিপদ-আপদ থেকে নিরাপদ থাকা যায়। আর (তাদের রবের নিকট) এর অর্থ হলো, এটি তাঁর কাছে তাদের জন্য নিশ্চিতকৃত, তিনি তাঁর অনুগ্রহে তাদের সেখানে পৌঁছে দেবেন। (এবং তিনি তাদের অভিভাবক) অর্থাৎ তাদের সাহায্যকারী ও সহায়। [সূরা আল-আন’আম (৬): আয়াত ১২৮]এবং যেদিন তিনি তাদের সকলকে একত্রিত করবেন (এবং বলবেন), হে জিনের দল!
তোমরা তো মানুষের অনেককে অনুসারী করে নিয়েছিলে। তখন মানুষদের মধ্য থেকে তাদের বন্ধুরা বলবে, হে আমাদের রব! আমরা একে অপরের দ্বারা উপকৃত হয়েছিলাম এবং আমরা আমাদের সেই নির্ধারিত সময়ে পৌঁছে গিয়েছি যা আপনি আমাদের জন্য নির্ধারণ করেছিলেন। তিনি বলবেন, আগুনই তোমাদের আবাসস্থল, সেখানে তোমরা চিরস্থায়ী হবে, তবে আল্লাহ যা ইচ্ছে করেন (তা ভিন্ন)। নিশ্চয়ই আপনার রব প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ। (১২৮)(১). পাণ্ডুলিপি ‘জিম’, ‘যা’ এবং ‘কাফ’ হতে সংগৃহীত।
