Al-An'am
আল-আনআম: 156
6 আল-আনআম Al-An'am · 165 আয়াত الأنعام
মূল আরবি
أَن تَقُولُوٓا۟ إِنَّمَآ أُنزِلَ ٱلْكِتَـٰبُ عَلَىٰ طَآئِفَتَيْنِ مِن قَبْلِنَا وَإِن كُنَّا عَن دِرَاسَتِهِمْ لَغَـٰفِلِينَ
English Translations
[We revealed it] lest you say, "The Scripture was only sent down to two groups before us, but we were of their study unaware,"
Lest you (pagan Arabs) should say: "The Book was only sent down to two sects before us (the Jews and the Christians), and for our part, we were in fact unaware of what they studied."
(Had We not sent this book,) you would (have an excuse to) say, “The Book was sent down only upon two groups before us, (i.e. the Jews and the Christians) and we were unaware of what they read.”
(You may no longer) say now that the Book was revealed only to two groups of people before Us and that we had indeed been unaware of what they read.
Lest ye should say: The Scripture was revealed only to two sects before us, and we in sooth were unaware of what they read;
Lest ye should say: "The Book was sent down to two Peoples before us, and for our part, we remained unacquainted with all that they learned by assiduous study:"
বাংলা অনুবাদ
যাতে তারা না বলতে পারে যে কিতাব তো শুধু আমাদের পূর্বের দু’দল (ইয়াহূদী ও খ্রীস্টান) এর উপর অবতীর্ণ হয়েছিল আর আমরা জানতাম না ওরা কী পড়ত আর পড়াত।
যেন তোমরা না বল যে, কিতাব তো নাযিল করা হয়েছিল আমাদের পূর্বের দু’টি দলের উপর এবং আমরা তো তাদের অধ্যয়ন সম্পর্কে ছিলাম গাফেল।
যেন তোমরা না বলতে পার : ঐ কিতাবতো আমাদের পূর্ববর্তী দুই সম্প্রদায়ের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছিল এবং আমরা তাদের পঠন পাঠনে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলাম।
যেন তোমরা না বল যে, ‘কিতাব তো শুধু আমাদের পূর্বে দু সম্প্রদায়ের প্রতিই নাযিল হয়েছিল; আমারা তাদের পঠন –পাঠন সম্বদ্ধে তো গাফিল ছিলাম,’
যাতে তোমরা বলতে না পার, কিতাব তো শুধু আমাদের পূর্বে দু’ সম্প্রদায়ের (ইয়াহূদী ও খ্রিস্টানের) প্রতিই অবতীর্ণ হয়েছিল; আমরা তাদের পঠন-পাঠন সম্বন্ধে তো গাফিল ছিলাম’,
১৫৬. হে আরবের মুশরিকরা! যাতে তোমরা কিছুতেই না বলতে পারো যে, ইতিপূর্বে আল্লাহ তা‘আলা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের উপর তাওরাত ও ইঞ্জিল নাযিল করেছেন। আর তিনি আমাদের উপর কোন কিতাবই নাযিল করেননি। অথচ আমরা তাদের কিতাবগুলো কিছুতেই পাঠ করতে সক্ষম নই। কারণ, সেগুলো তাদের ভাষায় নাযিলকৃত; আমাদের ভাষায় নয়।
তাফসীর
১৫৬-১৫৭ নং আয়াতের তাফসীর: ইবনে জারীর (রঃ) বলেন যে, এর অর্থ হচ্ছে, আমি এ কিতাব অবতীর্ণ করেছি এই কারণে যে, যেন তোমরা বলতে না পার আমাদের পূর্বে তো ইয়াহূদী ও নাসারাদের উপর কিতাব অবতীর্ণ করা হয়েছিল এবং আমাদের উপর অবতীর্ণ করা হয়নি। তাদের ওযর আপত্তি শেষ করে দেয়ার জন্যেই এ বর্ণনা দেয়া হয়েছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “যদি ব্যাপার এটা না হতো যে, তাদের প্রতি আপতিত বিপদ তাদেরই কর্মের ফল তবে তারা বলতো-হে আমাদের প্রভু! যদি আপনি কোন রাসূল আমাদের কাছে পাঠাতেন তবে আমরাও আপনার নির্দেশ পালন করতাম।” ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, (আরবী) বা।
দু’টি দল হচ্ছে ইয়াহুদী ও নাসারা। (এটা হচ্ছে মুজাহিদ (রঃ), সুদ্দী (রঃ), কাতাদা (রঃ) প্রমুখ পূর্ববতী গুরুজনেরও উক্তি)(আরবী) অর্থাৎ আমরা এই ইয়াহুদী ও নাসারাদের ভাষা তো বুঝি না, কাজেই আমরা গাফেল ছিলাম এবং তাদের মত সঠিক আমল করতে পারিনি। আর তোমরা যেন এ কথাও বলতে না পার-যদি আমাদের উপরও আমাদের ভাষায় কোন আসমানী কিতাব অবতীর্ণ হতো তবে আমরা এই ইয়াহদী ও নাসারাদের চেয়ে বেশী হিদায়াত প্রাপ্ত হতাম। তাই আমি তাদের এই ওযর আপত্তি খতম করে দিলাম। যেমন আল্লাহ তাআলা অন্য জায়গায় বলেনঃ “তারা শপথ করে করে বলে যে, যদি তাদের কাছে কোন রাসূল আসতেন তবে তারা সবচেয়ে বেশী ভাল আমল করতো এবং হিদায়াত প্রাপ্ত হতো।
তাই তিনি বলেনঃ “এখন তোমাদের কাছে তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে হিদায়াত ও রহমতযুক্ত কিতাব এসে গেছে।” এই কুরআনে আযীম তোমাদের ভাষাতেই অবতারিত, এতে হালাল ও হারাম সবকিছুরই বর্ণনা রয়েছে। এটা ঐ লোকদের জন্যে রহমত, যারা এর অনুসরণ করে এবং সদা আল্লাহর ইবাদতে নিয়োজিত থাকে।(আরবী) সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে এবং তার থেকে এড়িয়ে চলে তার চেয়ে বড় অত্যাচারী আর কে হতে পারে? সে নিজেও তো কুরআন থেকে উপকার লাভ করলো না বা আহকাম মেনে চললই না, এমন কি অন্যান্য লোকদেরকেও আল্লাহর আয়াতের অনুসরণ থেকে ফিরিয়ে দিলো এবং হিদায়াতের পথ প্রাপ্তি থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করলো।
যেমন সূরার শুরুতে আল্লাহ পাক বলেছেনঃ “তারা নিজেরাও ঈমান আনয়ন থেকে বিরত থাকছে এবং অন্যদেরকেও বিরত রাখছে। তারা নিজেদের জীবনকে নিজেদের হাতেই ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।”ইরশাদ হচ্ছে-যারা কুফরী করে এবং আল্লাহর পথ থেকে অন্যান্য লোকদেরকেও বাধা প্রদান করে তাদের দ্বিগুণ শাস্তি হবে। আর এই আয়াতে। কারীমায় বলেনঃ “আমি ঐ লোকদেরকে ভীষণ শাস্তি প্রদান করবো যারা আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বাধা প্রদান করে। যেমন তিনি বলেছেনঃ “সে বিশ্বাসও করেনি, নামাযও পড়েনি বরং মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে এবং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।মোটকথা, বহু আয়াত এটা প্রমাণ করে যে, এই কাফিররা অন্তরে মিথ্যা প্রতিপন্ন ও অবিশ্বাস করে এবং বাহ্যিকও ভাল কাজ করে না।
যেন তোমরা না বল যে, ‘কিতাব তো শুধু আমাদের পূর্বে দু সম্প্রদায়ের প্রতিই নাযিল হয়েছিল; আমারা তাদের পঠন –পাঠন সম্বদ্ধে তো গাফিল ছিলাম,’
[সূরা আল-আনআম (৬): আয়াত ১৫৬ থেকে ১৫৭] পূর্ণ পৃষ্ঠা
এটি 'আল্লাজি' (যিনি/যে)-এর বিশেষণ হিসেবে একটি বিশেষ্য হওয়া। তারা উভয়ে (কিসায়ি ও ফাররা) 'আমি তোমার ভাই সেই ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলাম' বাক্যটিকে বৈধ বলেছেন, যেখানে তারা 'আল্লাজি'-কে নির্দিষ্টতা বা এর নিকটবর্তী কোনো শব্দের মাধ্যমে বিশেষায়িত করেছেন। আন-নাহহাস বলেন: বসরার ব্যাকরণবিদদের নিকট এটি অসম্ভব; কারণ এটি পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই বিশেষ্যের বিশেষণ হওয়া। আর তাদের মতে এর অর্থ হলো: 'সৎকর্মশীলের ওপর'। মুজাহিদ বলেন: 'মুমিন সৎকর্মশীলের ওপর পূর্ণতাস্বরূপ'। আল-হাসান 'যিনি উত্তম কাজ করেছেন তার ওপর পূর্ণতাস্বরূপ' বাক্যাংশের অর্থ প্রসঙ্গে বলেন: তাদের মধ্যে সৎকর্মশীল ও অসৎকর্মশীল উভয়ই ছিল, অতঃপর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ওপর পূর্ণতাস্বরূপ কিতাব অবতীর্ণ করলেন।
এই মতের বিশুদ্ধতার প্রমাণ হলো ইবনে মাসউদের কিরাত: 'যারা সৎকর্ম করেছে তাদের ওপর পূর্ণতাস্বরূপ'। আরও বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো, আমরা মূসাকে তাওরাত দান করেছি সেই সব বিষয়ের অতিরিক্ত হিসেবে যা তিনি তাওরাত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে আল্লাহর শেখানো বিষয়সমূহ থেকে উত্তমরূপে পালন করতেন। মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ বলেন: এর অর্থ হলো, আল্লাহ তাআলা মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি রিসালাত ও অন্যান্য যে অনুগ্রহ করেছেন তার পূর্ণতাস্বরূপ। আবদুল্লাহ ইবনে যাইদ বলেন: এর অর্থ হলো নবীদের প্রতি আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহের (রিসালাত ও অন্যান্য) পূর্ণতাস্বরূপ। রাবি ইবনে আনাস বলেন: আল্লাহর প্রতি মূসার আনুগত্যের যে উত্তম আচরণ ছিল, তার পূর্ণতাস্বরূপ; আর এটি ফাররা-ও বলেছেন।
অতঃপর বলা হয়েছে: 'সুম্মা' (অতঃপর) শব্দটি ইঙ্গিত করে যে, দ্বিতীয় বিষয়টি প্রথমটির পরে ঘটেছে, অথচ মূসা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ঘটনা এবং তাঁকে কিতাব প্রদান করার বিষয়টি এর পূর্বের ঘটনা। তাই বলা হয়েছে যে, এখানে 'সুম্মা' শব্দটি 'ওয়াও' (এবং) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ 'এবং আমরা মূসাকে কিতাব দিয়েছি'; কারণ উভয়ই সংযোজক অব্যয়। আবার বলা হয়েছে: এর প্রচ্ছন্ন অর্থ হলো, অতঃপর আমরা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর কুরআন অবতীর্ণ করার পূর্বে মূসাকে কিতাব প্রদান করেছিলাম। আরও বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো—আপনি বলুন, এসো আমি তিলাওয়াত করি তোমাদের রব তোমাদের ওপর যা হারাম করেছেন, অতঃপর আমি তিলাওয়াত করি যা আমরা মূসাকে পূর্ণতাস্বরূপ প্রদান করেছি।
'বিস্তারিত বর্ণনা হিসেবে' শব্দটি এর ওপর সমম্বিত। অনুরূপভাবে 'পথনির্দেশ ও রহমতস্বরূপ'। 'আর এটি একটি কিতাব'—এটি উদ্দেশ্য ও বিধেয়। 'যা আমরা অবতীর্ণ করেছি, বরকতময়'—এটি একটি বিশেষণ, অর্থাৎ প্রভূত কল্যাণমণ্ডিত। কুরআনের বাইরে একে অবস্থা (হাল) হিসেবে 'বরকতময় অবস্থায়' পড়াও ব্যাকরণগতভাবে বৈধ। 'সুতরাং তোমরা এটি অনুসরণ করো' অর্থাৎ এতে যা আছে তদনুযায়ী আমল করো। 'এবং তাকওয়া অবলম্বন করো' অর্থাৎ এর বিকৃতি সাধন থেকে বেঁচে থাকো। 'যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও' অর্থাৎ তোমরা যেন রহমতের প্রত্যাশী হতে পারো এবং তোমাদের আজাব দেওয়া না হয়। [সূরা আল-আনআম (৬): আয়াত ১৫৬ থেকে ১৫৭]যাতে তোমরা এ কথা বলতে না পারো যে, কিতাব তো কেবল আমাদের পূর্ববর্তী দুই সম্প্রদায়ের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে এবং আমরা তাদের পাঠ ও পঠন সম্পর্কে অনবহিত ছিলাম।
(১৫৬) অথবা যাতে তোমরা এ কথা না বলো যে, যদি আমাদের ওপর কিতাব অবতীর্ণ হতো, তবে আমরা তাদের তুলনায় অধিক সুপথপ্রাপ্ত হতাম। অবশ্যই তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ, হিদায়াত ও রহমত এসে পৌঁছেছে। সুতরাং তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে যে আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে এবং তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়? অচিরেই যারা আমার আয়াতসমূহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাদের এই বিমুখতার কারণে আমি তাদেরকে নিকৃষ্ট আজাব দ্বারা প্রতিফল দেব। (১৫৭)(১) 'বা', 'জিম' এবং 'কাফ' পাণ্ডুলিপি থেকে।
