Al-An'am

আল-আনআম: 162

6:162
টেক্সট কপি

মূল আরবি

قُلْ إِنَّ صَلَاتِى وَنُسُكِى وَمَحْيَاىَ وَمَمَاتِى لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ

English Translations

Sahih International

Say, "Indeed, my prayer, my rites of sacrifice, my living and my dying are for Allāh, Lord of the worlds.

Muhsin Khan

Say (O Muhammad SAW): "Verily, my Salat (prayer), my sacrifice, my living, and my dying are for Allah, the Lord of the 'Alamin (mankind, jinns and all that exists).

Taqi Usmani

Say, “My prayer, my offering, my life and my death are for Allah, the Lord of all the worlds.

Abul Ala Maududi

Say: 'Surely my Prayer, all my acts of worship, and my living and my dying are for Allah alone, the Lord of the whole universe.

Pickthall

Say: Lo! my worship and my sacrifice and my living and my dying are for Allah, Lord of the Worlds.

Yusuf Ali

Say: "Truly, my prayer and my service of sacrifice, my life and my death, are (all) for Allah, the Cherisher of the Worlds:

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

বল, আমার নামায, আমার যাবতীয় ‘ইবাদাত, আমার জীবন, আমার মরণ (সব কিছুই) বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্যই (নিবেদিত)।

রাওয়াই আল-বায়ান

বল, ‘নিশ্চয় আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু আল্লাহর জন্য, যিনি সকল সৃষ্টির রব’।

শাইখ মুজিবুর রহমান

তুমি বলে দাওঃ আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মরণ সব কিছু সারা জাহানের রাব্ব আল্লাহর জন্য।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

বলুন, ‘আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মরণ সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহরই জন্য।’

ফাতহুল মাজীদ

বল:‎ ‘আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মরণ শুধু জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই উদ্দেশ্যে।’

মুখতাসার

১৬২. হে রাসূল! আপনি বলুন: আমার সালাত ও কুরবানী আল্লাহর জন্য ও তাঁরই নামে। আর কারো নামে নয়। তেমনিভাবে আমার জীবন ও মৃত্যু সবই সমূহ সৃষ্টির একক প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তাতে অন্য কারো কোন অংশ নেই।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

6:161

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

বলুন, ‘আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মরণ সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহরই জন্য [১]।’

[১] এখানে (نسك) শব্দের অর্থ কুরবানী। হজের ক্রিয়াকর্মকেও (نسك) বলা হয়। মুজাহিদ বলেন, (نسك) বলতে সে প্রাণীকে বুঝায় যা হজ বা উমরাতে যবেহ করা হয়। [তাবারী] তবে এ শব্দটি সাধারণ ইবাদাত-উপাসনার অর্থেও ব্যবহৃত হয়। তাই (ناسك) শব্দটি (عابد) বা ইবাদতকারী অর্থেও বলা হয়। [কুরতুবী] আয়াতে এ সবকটি অর্থই নেয়া যেতে পারে। মুফাসসিরীন সাহাবা ও তাবেয়ীগণের কাছ থেকেও এসব তাফসীর বর্ণিত রয়েছে। তবে এখানে সাধারণ ইবাদাত অর্থ নেয়াই অধিক সঙ্গত মনে হয়। আয়াতের অর্থ এই যে, আমার সালাত, আমার সমগ্র ইবাদাত, আমার জীবন, আমার মরণ- সবই বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহর জন্য নিবেদিত।

এখানে দ্বীনের শাখাগত কাজকর্মের মধ্যে প্রথমে সালাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কেননা, এটি যাবতীয় সৎকর্মের প্রাণ ও দ্বীনের স্তম্ভ। এরপর অন্যান্য সব কাজ ও ইবাদাত সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে। অতঃপর সমগ্র জীবনের কাজকর্ম ও অবস্থা এবং সবশেষে মরণের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, আমার এ সবকিছুই একমাত্র বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহর জন্য নিবেদিত- যার কোন শরীক নেই। এটিই হচ্ছে পূর্ণ বিশ্বাস ও পূর্ণ আন্তরিকতার ফল। মানুষ জীবনের প্রতিটি কাজে ও প্রতিটি অবস্থায় এ কথা মনে রাখবে যে, আমার এবং সমগ্র বিশ্বের একজন পালনকর্তা আছেন, আমি তার দাস এবং সর্বদা তাঁর দৃষ্টিতে রয়েছি।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-আনআম (৬): আয়াত ১৬১ হতে ১৬৩] পূর্ণ পৃষ্ঠা

এবং তাঁর হাতের কিছু আঙুল চলে গিয়েছিল (১)। হাসান, সাঈদ ইবনে জুবায়ের এবং আমাশ কিরাআত পড়েছেন "তার জন্য রয়েছে তার দশগুণ"। এর প্রচ্ছন্ন অর্থ হলো: তার জন্য দশটি নেকি রয়েছে যা তার অনুরূপ; অর্থাৎ, তার যা প্রাপ্য তার দশগুণ প্রতিদান সে লাভ করবে। আর এটিও সম্ভব যে তার জন্য একটি সওয়াব নির্ধারিত হবে, অতপর সেই সওয়াবকে বর্ধিত করা হবে ফলে তা দশটি হয়ে যাবে। এখানে 'হাসানাহ' বা সৎকর্ম বলতে ঈমানকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি 'আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই'—এই সাক্ষ্য নিয়ে উপস্থিত হবে, সে দুনিয়াতে যে নেক আমল করেছে তার প্রত্যেকটির বিনিময়ে দশগুণ সওয়াব লাভ করবে।

(আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজ নিয়ে আসবে) অর্থাৎ শিরক, (তাকে কেবল তার অনুরূপ প্রতিফলই দেওয়া হবে) আর তা হলো জাহান্নামে চিরস্থায়ী অবস্থান। কারণ শিরক হলো সবচেয়ে বড় গুনাহ, আর জাহান্নাম হলো সবচেয়ে বড় শাস্তি। মহান আল্লাহর এই বাণীর মর্মার্থও তাই: "উপযুক্ত প্রতিদান (২)"; অর্থাৎ এমন প্রতিদান যা আমলের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। তবে নেক আমলের বিষয়টি এর বিপরীত, কারণ মহান আল্লাহ সে বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান প্রদান করেছেন। হাদীসে এসেছে: (একটি নেকির বিনিময় দশগুণ এবং আমি আরও বাড়িয়ে দিই, আর একটি মন্দ কাজের বিনিময় একটিই এবং আমি ক্ষমা করে দিই। সুতরাং দুর্ভোগ সেই ব্যক্তির জন্য যার একক সংখ্যাগুলো তার দশক সংখ্যাগুলোর ওপর প্রবল হয়ে যায়)।

আমাশ আবু সালিহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নেকি হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং মন্দ কাজ হলো শিরক। (তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না) অর্থাৎ তাদের আমলের সওয়াব হ্রাস করা হবে না। সূরা আল-বাকারায় (৩) এই আয়াতের ব্যাখ্যা অতিক্রান্ত হয়েছে এবং এটি আল্লাহর পথে ব্যয়ের প্রসঙ্গের চেয়ে ভিন্ন। এই কারণেই কোনো কোনো আলেম বলেছেন: দশগুণের বিষয়টি সাধারণ নেক আমলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আর সাতশ গুণের বিষয়টি আল্লাহর পথে ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এক্ষেত্রে বিশিষ্ট ও সাধারণ সকলেই সমান। আবার কেউ কেউ বলেছেন: সাধারণ মানুষের জন্য দশগুণ এবং বিশিষ্টদের জন্য সাতশ গুণ বা তারও বেশি যা গণনা করা যায় না।

তবে এ কথার জন্য সুনির্দিষ্ট দলিলের প্রয়োজন। প্রথম মতটিই অধিকতর বিশুদ্ধ, যার প্রমাণ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত খুরাইম ইবনে ফাতিকের হাদীস। তাতে রয়েছে: (দশগুণ সওয়াব বিশিষ্ট নেকি হলো—যে ব্যক্তি কোনো নেক আমল করবে সে তার দশগুণ লাভ করবে। আর সাতশ গুণ সওয়াব বিশিষ্ট নেকি হলো আল্লাহর পথে ব্যয় করা)। ‌‌[সূরা আল-আনআম (৬): আয়াত ১৬১ হতে ১৬৩]বলুন, "নিশ্চয়ই আমার পালনকর্তা আমাকে সরল পথ প্রদর্শন করেছেন; যা সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন এবং ইবরাহীমের ধর্মাদর্শ, যে ছিল একনিষ্ঠ এবং সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।" (১৬১) বলুন, "নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ মহান আল্লাহ তায়ালারই জন্য, যিনি বিশ্বজগতের পালনকর্তা।" (১৬২) "তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি এরই জন্য আদিষ্ট হয়েছি এবং আমি মুসলিমদের মধ্যে প্রথম।" (১৬৩)(১).

পাণ্ডুলিপি 'কাফ'-এ রয়েছে: তাঁর কয়েকজন সাথী।(২). ১৯তম খণ্ড, ১৭৯ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।(৩). ৩য় খণ্ড, ২৪০ ও ৩০৫ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।