Al-An'am
আল-আনআম: 37
6 আল-আনআম Al-An'am · 165 আয়াত الأنعام
মূল আরবি
وَقَالُوا۟ لَوْلَا نُزِّلَ عَلَيْهِ ءَايَةٌ مِّن رَّبِّهِۦ ۚ قُلْ إِنَّ ٱللَّهَ قَادِرٌ عَلَىٰٓ أَن يُنَزِّلَ ءَايَةً وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ
English Translations
And they say, "Why has a sign not been sent down to him from his Lord?" Say, "Indeed, Allāh is Able to send down a sign, but most of them do not know."
And they said: "Why is not a sign sent down to him from his Lord?" Say: "Allah is certainly Able to send down a sign, but most of them know not."
They say, “Why is it that no sign (of our choice) has been sent down to him from his Lord?” Say, “Allah is surely powerful enough to send down a sign.” But most of them do not know.
And they say: 'Why has no miraculous sign been sent down to him from his Lord?' Say: 'Surely Allah has the power to send down a sign, but most of them do not know.
They say: Why hath no portent been sent down upon him from his Lord? Say: Lo! Allah is Able to send down a portent. But most of them know not.
They say: "Why is not a sign sent down to him from his Lord?" Say: "Allah hath certainly power to send down a sign: but most of them understand not.
বাংলা অনুবাদ
তারা বলে, তার কাছে তার রবের নিকট হতে কোন নিদর্শন নাযিল হয় না কেন? বল, অবশ্যই আল্লাহ নিদর্শন অবতীর্ণ করতে সক্ষম। কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোকই অবগত নয়।
আর তারা বলে, ‘কেন তার উপর তার রবের পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন নাযিল করা হয়নি’? বল, ‘নিশ্চয় আল্লাহ যে কোন নিদর্শন নাযিল করতে সক্ষম। কিন্তু তাদের অধিকাংশ জানে না’।
তারা বলেঃ রবের পক্ষ হতে তার প্রতি কোন নিদর্শন কেন অবতীর্ণ করা হলনা? তুমি বলে দাওঃ নিদর্শন অবতীর্ণ করায় আল্লাহ নিঃসন্দেহে পূর্ণ ক্ষমতাবান, কিন্তু অধিকাংশ লোকই তা জ্ঞাত নয়।
আর তারা বলে, ‘তার রবের কাছ থেকে তার উপর কোনো নিদর্শন আসে না কেন?’ বলুন, ‘নিদর্শন নাযিল করতে আল্লাহ্ অবশ্যই সক্ষম,’কিন্তু তাদের অধিংকাংশই জানে না।’
তারা বলে, ‘তার প্রতিপালকের পক্ষ হতে তার নিকট কোন নিদর্শন নাযিল হয় না কেন?’ বল: অবশ্যই আল্লাহ নিদর্শন নাযিল করতে সক্ষম, কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।
৩৭. মুশরিকরা ঈমানের সাথে তালবাহানা ও হঠকারিতা দেখিয়ে বললো: মুহাম্মাদের উপর কেন এমন কোন অলৌকিক নিদর্শন নাযিল হয় না যা তার আনীত বিষয়ের সত্যতার ব্যাপারে তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে? হে রাসূল! আপনি বলুন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের চাহিদা মাফিক নিদর্শন নাযিল করতে সক্ষম। তবে নিদর্শন নাযিলের আবেদনকারী অধিকাংশ মুশরিকই জানে না যে, নিদর্শনসমূহ নাযিলের ব্যাপারটি মূলতঃ আল্লাহর ইচ্ছাতেই হয়ে থাকে। তাদের ইচ্ছাতে নয়। কারণ, তাদের ইচ্ছা মাফিক নিদর্শন নাযিলের পর তারা তাতে ঈমান না আনলে তিনি তাদের সবাইকে ধ্বংস করে দিবেন।
তাফসীর
৩৭-৩৯ নং আয়াতের তাফসীর: মুশরিকদের ব্যাপারে ইরশাদ হচ্ছে- তারা বলেঃ হে মুহাম্মাদ (সঃ)! আমাদের চাহিদা অনুযায়ী কোন নিদর্শন বা অলৌকিক জিনিস আল্লাহ আপনার উপর অবতীর্ণ করেন না কেন? যেমন যমীনে ঝরণা প্রবাহিত হওয়া ইত্যাদি। তাই ইরশাদ হচ্ছে-হে মুহাম্মাদ (সঃ)! তুমি বলে দাও যে, আল্লাহ তো এই কাজের উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। কিন্তু এর বিলম্বে দূরদর্শিতা রয়েছে। তা এই যে, যদি তাদের চাহিদা অনুযায়ী মহান আল্লাহ কোন নিদর্শন অবতীর্ণ করে দেন এবং এর পরেও তারা ঈমান না আনে তবে তৎক্ষণাৎ তাদের উপর তার শাস্তি নেমে আসবে, মৃত্যু পর্যন্ত তাদেরকে অবসর দেয়া হবে না।
যেমন পূর্ববর্তী উম্মতদের সাথে এরূপ ব্যবহারই করা হয়েছিল। আহলে সামূদের দৃষ্টান্ত তো তোমাদের সামনেই বিদ্যমান রয়েছে। আমি ইচ্ছে করলে নিদর্শনও দেখাতে পারি। আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ হে মুশরিকদের দল! ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী জীব-জন্তু এবং আকাশে উড়ডীয়মান পাখিও তোমাদের মতই বিভিন্ন প্রকারের রয়েছে।মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, এইসব জীব-জন্তু ও পাখির কতগুলো প্রকার রয়েছে যেগুলোর নাম প্রসিদ্ধ হয়ে আছে। কাতাদা (রঃ) বলেন যে, পাখিও একটি উম্মত এবং মানব-দানবও এক একটি উম্মত। এইসব উম্মতও তোমাদের মতই আল্লাহর সৃষ্টজীব।অর্থাৎ সমস্ত জীবেরই আল্লাহ খবর রাখেন।
কাউকেও আহার্য দান করতে তিনি ভুলে যান না। জলচরই হাক বা স্থলচরই হাক। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছে (আরবী) অর্থাৎ ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী প্রত্যেক প্রাণীরই জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহর উপর রয়েছে। (১১:৬) অর্থাৎ তিনি ঐ সব প্রাণীর সংখ্যা, বাসস্থান ইত্যাদি সম্পর্কে পূর্ণ অবগত। এমন কি ওগুলোর অঙ্গভঙ্গি সম্পর্কেও তিনি পূর্ণ ওয়াকিফহাল। আর এক জায়গায় রয়েছে- (আরবী) অর্থাৎ “এমন বহু প্রাণী রয়েছে যেগুলোর জীবিকার দায়িত্ব তোমার উপর নেই, আল্লাহই তাদেরকে এবং তোমাদেরকে জীবিকা দান করছেন, তিনি শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।" (২৯:৬০) হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত উমার (রাঃ)-এর খিলাফতের যুগে এক বছর ফড়িং অদৃশ্য হয়ে যায়।
তিনি লোকদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেও কোন সন্ধান পেলেন না। ফলে তিনি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। অতঃপর তিনি ইরাক, সিরিয়া প্রভৃতি দেশে লোক পাঠিয়ে সংবাদ নিলেন যে, কোন ফড়িং দেখা যায় কি-না। তখন ইয়ামান হতে আগত লোক কতগুলো ফড়িং তার সামনে এনে হাযির করে। তা দেখে তিনি তিনবার ‘আল্লাহু আকবার পাঠ করেন এবং বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলতেন, “আল্লাহ তা'আলা এক হাজার মাখলুকাত সৃষ্টি করেছেন, ছয়শ’ জলচর এবং চারশ’ স্থলচর। সর্ব প্রথম আল্লাহ পাক ফড়িংকে ধ্বংস করবেন। তারপর ক্রমান্বয়ে অন্যান্য সৃষ্টজীবকে ধ্বংস করতে থাকবেন, যেমনভাবে তাসবীহর দানা ঝরতে থাকে।”(আরবী) অতঃপর তাদেরকে তাদের প্রভুর নিকট সমবেত করা হবে।
অর্থাৎ এই সমুদয় উম্মতেরই মৃত্যু সংঘটিত হবে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, চতুষ্পদ জন্তুর মৃত্যুই ওদের হাশর হওয়া। এই সম্পর্কে অন্য একটি উক্তি এই রয়েছে যে, এই চতুষ্পদ জন্তুগুলোকেও কিয়ামতের দিন পুনরায় উঠানো হবে। যেহেতু আল্লাহ পাক বলেছেন (আরবী) অর্থাৎ ‘এবং যখন চতুষ্পদ জন্তুগুলোকে একত্রিত করা হবে।' (৮১:৫) হযরত আবু যার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) দুটি ছাগলকে দেখলেন যারা একে অপরকে শিং দ্বারা মারছিল। তখন বললেনঃ হে আবু যার (রাঃ)! এরা কিভাবে লড়াই করছে তা কি তুমি জান? তিনি উত্তরে বললেনঃ জ্বীনা।' রাসূলুল্লাহ (সঃ) (আরবী) তখন বললেনঃ ‘আল্লাহ কিন্তু অত্যাচারীকে জানেন এবং কিয়ামতের দিন এদেরও তিনি বিচার করবেন।
আর যার (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমাদেরকে উড়ন্ত পাখী সম্পর্কেও জ্ঞান দান করেছেন। তিনি বলেন যে, শিং বিশিষ্ট বকরী হতে শিং বিহীন বকরী কিয়ামতের দিন প্রতিশোধ নিয়ে নেবে। (আরবী) সম্পর্কে হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ চতুষ্পদ জন্তু, ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী প্রাণী এবং পাখীসমূহকেও সৃষ্টি করবেন। প্রত্যেকেই অপর হতে নিজ নিজ প্রতিশোধ গ্রহণ করবে। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা ওগুলোকে সম্বোধন করে বলবেনঃ “তোমরা সব মাটি হয়ে যাও! সেই সময় কাফিররাও আফসোস করে বলবেঃ হায়! আমরাও যদি মাটি হয়ে যেতাম!'(আরবী) অর্থাৎ, যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে তারা তাদের মূখতা ও নির্বুদ্ধিতার কারণে বধির ও মূকদের মত আর তারা অন্ধকারের মধ্যে রয়েছে।
তারা কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। এমতাবস্থায় এই লোকগুলো সঠিক ও সোজা রাস্তার উপর কিরূপে চলতে পারে? তাদের দৃষ্টান্ত ঐ ব্যক্তির মত, যে আগুন জ্বালিয়েছে। ফলে ওর আশে-পাশের স্থান আলোকিত হয়েছে। হঠাৎ ঐ আগুন নিভে গেছে। কাজেই সে অন্ধকারের মধ্যে পড়ে গেছে। কিছুই সে দেখতে পায় না। এ জন্যেই আল্লাহ পাক বলেছেন-(আরবী) অর্থাৎ আল্লাহ যাকে চান পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে চান সোজা সরল পথের উপর পরিচালিত করেন।
আর তারা বলে, ‘তার রব-এর কাছ থেকে তার উপর কোন নিদর্শন আসে না কেন?’ বলুন, ‘ নিদর্শন নাযিল করতে আল্লাহ্ অবশ্যই সক্ষম,’ কিন্তু তাদের অধিংকাংশই জানে না [১]।
[১] মুশরিকরা এমন কোন অলৌকিক নিদর্শন দেখতে চেয়েছিল, যা দেখার পর তারা ঈমান আনবে বলে ওয়াদা করছে। আল্লাহ তা'আলা এ আয়াতে এটাই ঘোষণা করছেন যে, তাদের চাহিদা মোতাবেক নিদর্শন দেখানো আল্লাহর পক্ষে অবশ্যই সম্ভব। কিন্তু তারা প্রকৃত অবস্থা জানে না। অন্য আয়াতে তারা কি জানে না সেটাও ব্যক্ত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, যদি তাদের কথামত নিদর্শন দেয়ার পর তারা ঈমান না আনে, তবে আল্লাহর শাস্তির পথে আর কোন বাধা থাকবে না। যেমনটি সালিহ আলাইহিস সালামের জাতির বেলায় ঘটেছিল। আল্লাহ তা'আলা বলেন, “আর পূর্ববর্তিগণের নিদর্শন অস্বীকার করাই আমাদেরকে নিদর্শন পাঠানো থেকে বিরত রাখে।
আমরা শিক্ষাপ্রদ নিদর্শনস্বরূপ সামূদ জাতিকে উট দিয়েছিলাম, তারপর তারা এর প্রতি যুলুম করেছিল। আমরা শুধু ভয় দেখানোর জন্যই নিদর্শন পাঠিয়ে থাকি।” [সূরা আল-ইসরাঃ ৫৯] অন্য আয়াতে এটাও বলা হয়েছে যে, কুরআন নাযিল করার পর আর কোন নিদর্শনের প্রয়োজন নেই বিধায় তিনি তা নাযিল করেন না। “এটা কি তাদের জন্য যথেষ্ট নয় যে, আমরা আপনার প্রতি কুরআন নাযিল করেছি, যা তাদের কাছে পাঠ করা হয়। এতে অবশ্যই অনুগ্রহ ও উপদেশ রয়েছে সে সম্প্রদায়ের জন্য, যারা ঈমান আনে।" [সূরা আল-আনকাবৃত: ৫১] সুতরাং এর দ্বারা বোঝা যাচ্ছে যে, কুরআনই হচ্ছে সবচেয়ে বড় মু'জিযা বা নিদর্শন।
[আদওয়াউল বায়ান]
[সূরা আল-আনআম (৬): আয়াত ৩৬ থেকে ৩৭] পূর্ণ পৃষ্ঠা
তুমিও তা-ই চাও। (অতঃপর তুমি তাদের কাছে কোনো নিদর্শন নিয়ে আসবে) এটি পূর্ববর্তী বিষয়ের ওপর সংযোজিত, অর্থাৎ তারা যাতে বিশ্বাস স্থাপন করে সেজন্য তুমি তা করো; এখানে উত্তরটি উহ্য রাখা হয়েছে কারণ শ্রোতা তা অবগত আছেন। আল্লাহ তাঁর নবীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দিয়েছেন তিনি যেন তাদের প্রতি অতিশয় শোকাতুর না হন যদি তারা ঈমান না আনে, যেমনটি তিনি তাদের হেদায়েত দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন না। (আর আল্লাহ যদি চাইতেন তবে অবশ্যই তাদের হেদায়েতের ওপর একত্রিত করতেন) অর্থাৎ তিনি তাদের মুমিন হিসেবেই সৃষ্টি করতেন এবং সেটির ওপরই তাদের প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য দান করতেন।
মহান আল্লাহ স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের কুফরি আল্লাহর ইচ্ছাধীন—এটি কাদারিয়্যাহ সম্প্রদায়ের মতবাদের খণ্ডন। কেউ কেউ বলেছেন এর অর্থ হলো: আমি অবশ্যই তাদের এমন নিদর্শন দেখাতাম যা তাদের ঈমান আনতে বাধ্য করত, কিন্তু মহান আল্লাহ চেয়েছেন তাদের মধ্যে যারা ঈমান আনবে এবং যারা সৎকর্ম করবে তাদের পুরস্কৃত করতে। (সুতরাং তুমি কক্ষনো জাহেলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না) অর্থাৎ তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না যাদের দুঃখ এবং পরিতাপ অত্যন্ত প্রবল হয়ে তাদেরকে চরম অস্থিরতা ও অবৈধ পর্যায়ের দিকে ধাবিত করে। এর অর্থ হলো, তাদের কুফরিতে এমনভাবে ব্যথিত হয়ো না যাতে তোমার অবস্থা জাহেলদের কাছাকাছি হয়ে যায়।
অন্যমতে, এই সম্বোধন তাঁর প্রতি হলেও উদ্দেশ্য হলো উম্মত; কেননা কাফেরদের কুফরি এবং তাদের নির্যাতনে মুসলমানদের অন্তর সংকুচিত হয়ে আসত। [সূরা আল-আনআম (৬): আয়াত ৩৬ থেকে ৩৭]কেবল তারাই সাড়া দেয় যারা শ্রবণ করে। আর মৃতদের আল্লাহ পুনরুত্থিত করবেন, অতঃপর তাঁরই দিকে তারা ফিরে যাবে। (৩৬) তারা বলে, 'কেন তাঁর প্রতি তাঁর রবের পক্ষ থেকে কোনো নিদর্শন অবতীর্ণ করা হলো না?' বলো, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ নিদর্শন অবতীর্ণ করতে সক্ষম, কিন্তু তাদের অধিকাংশ তা জানে না।' (৩৭)আল্লাহ তাআলার বাণী: (কেবল তারাই সাড়া দেয় যারা শ্রবণ করে) অর্থাৎ মনযোগ দিয়ে শোনা, অনুধাবন করা এবং সত্যকে অনুসন্ধান করার উদ্দেশ্যে শোনা; আর তারা হলেন মুমিনগণ, যারা যা শোনে তা কবুল করে এবং তার দ্বারা উপকৃত হয় ও তদানুযায়ী আমল করে।
হাসান এবং মুজাহিদ এই অর্থই বর্ণনা করেছেন এবং এখানেই বাক্যটি পূর্ণ হয়েছে। অতঃপর তিনি বললেন: (আর মৃতদের আল্লাহ পুনরুত্থিত করবেন) হাসান এবং মুজাহিদের মতে এখানে 'মৃত' বলতে কাফেরদের বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ তারা কোনো দলিল গ্রহণ না করা এবং তার প্রতি কর্ণপাত না করার দিক থেকে মৃতদের সমতুল্য। আবার কেউ কেউ বলেছেন: 'মৃত' বলতে যারা মৃত্যুবরণ করেছে তাদের সকলকে বোঝানো হয়েছে। "আল্লাহ তাদের পুনরুত্থিত করবেন" অর্থাৎ হিসাব-নিকাশের জন্য। তবে প্রথম মত অনুযায়ী তাদের পুনরুত্থান হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি ঈমানের পথে তাদের হেদায়েত দান করা।
হাসান থেকে বর্ণিত: এটি হলো তাদের শিরক থেকে মুক্ত করে পুনর্জাগরণ দান করা যাতে তারা তোমার প্রতি ঈমান আনে হে মুহাম্মদ—অর্থাৎ মৃত্যুর উপস্থিতির সময়, দুনিয়াতে যখন তারা অনন্যোপায় অবস্থায় থাকবে। আল্লাহ তাআলার বাণী: (এবং তারা বলল, কেন তাঁর রবের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর কোনো নিদর্শন অবতীর্ণ করা হলো না) হাসান বলেন: এখানে 'কেন নয়' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। জনৈক কবি বলেছেন:তোমরা বুড়ো উট জবাই করাকে তোমাদের শ্রেষ্ঠ গৌরব মনে করো... হে বনূ দাওতারা, যদি সে শিরস্ত্রাণ পরিহিত বীর না হতো!(১) ইনি হলেন আল-ফারাজদাক; তিনি কবিতায় তাঁর পিতা গালিবের বদান্যতার এবং সুহাইম বিন ওয়াসিল আর-রিয়াহির সাথে প্রতিযোগিতায় একশটি উট জবাই করার গৌরব প্রকাশ করছেন।
ঘটনাটি কুফা থেকে একদিনের দূরত্বে 'সাওয়ার' নামক স্থানে ঘটেছিল। একারণেই জারীরও বলেছেন:মুজাশে বংশের জন্য এটা খুশির বিষয় যে, তারা 'সাওয়ার' এ উট জবাই করা ছাড়া আর কোনো আভিজাত্য বা গৌরবের কথা উল্লেখ করে না।'বনূ দাওতারা' এমন লোকদের বলা হয় যারা কারো কোনো উপকারে আসে না।
