Al-An'am
আল-আনআম: 127
6 আল-আনআম Al-An'am · 165 আয়াত الأنعام
মূল আরবি
۞ لَهُمْ دَارُ ٱلسَّلَـٰمِ عِندَ رَبِّهِمْ ۖ وَهُوَ وَلِيُّهُم بِمَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ
English Translations
For them will be the Home of Peace [i.e., Paradise] with their Lord. And He will be their protecting friend because of what they used to do.
For them will be the home of peace (Paradise) with their Lord. And He will be their Wali (Helper and Protector) because of what they used to do.
For them there is the Abode of Peace with their Lord, and He is their Guardian by virtue of what they used to do.
Theirs shall be an abode of peace with their Lord - their Protector - in recompense for all they have done.
For them is the abode of peace with their Lord. He will be their Protecting Friend because of what they used to do.
For them will be a home of peace in the presence of their Lord: He will be their friend, because they practised (righteousness).
বাংলা অনুবাদ
তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের কাছে আছে শান্তিধাম, তিনিই তাদের পৃষ্ঠপোষক এজন্য যে তারা (সঠিক) ‘আমাল করেছিল।
তাদের জন্য তাদের রবের নিকট রয়েছে শান্তির আবাস এবং তারা যে আমল করত, তার কারণে তিনি তাদের অভিভাবক।
তাদের জন্য তাদের রবের নিকট রয়েছে এক শান্তির আবাস তাদের কৃতকর্মের কারণে, তিনিই হচ্ছেন তাদের অভিভাবক।
তাদের রবের কাছে তাদের জন্য রয়েছে শান্তির আলয় এবং তারা যা করত তার জন্য তিনিই তাদের অভিভাবক।
তাদের প্রতিপালকের নিকট তাদের জন্য রয়েছে শান্তির আলয় এবং তারা যা করত তার জন্য তিনিই তাদের অভিভাবক।
১২৭. তাদের জন্য রয়েছে এমন এক আবাসস্থল যাতে তারা সকল অপছন্দনীয় ব্যাপার থেকে নিরাপদে থাকবে। আর তা হলো জান্নাত। আর তাদের নেক আমলের প্রতিদান স্বরূপ আল্লাহ তা‘আলা হবেন তাদের সাহায্যকারী ও মদদদাতা।
তাফসীর
6:126
তাদের রব-এর কাছে তাদের জন্য রয়েছে শস্তির আলয় [১] এবং তারা যা করত তার জন্য তিনিই তাদের অভিভাবক [২]।
[১] অর্থাৎ উপরোক্ত ব্যক্তি, যারা মুক্ত মনে উপদেশ গ্রহণের অভিপ্রায়ে কুরআনের পয়গাম নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে এবং এর অবশ্যম্ভাবী পরিণতিস্বরূপ কুরআনী নির্দেশ মেনে চলে, তাদের জন্য তাদের পালনকর্তার কাছে ‘দারুস-সালাম’-এর পুরস্কার সংরক্ষিত রয়েছে। এখানে ‘দার’ শব্দের অর্থ গৃহ এবং ‘সালাম’ শব্দের অর্থ যাবতীয় বিপদাপদ থেকে নিরাপত্তা। কাজেই ‘দারুস-সালাম’ এমন গৃহকে বলা যায়, যেখানে কষ্ট-শ্রম, দুঃখ, বিষাদ, বিপদাপদ ইত্যাদির সমাগম নেই। নিঃসন্দেহে এটা জান্নাতই হতে পারে। [তাবারী; আত-তাহরীর ওয়াত তানওয়ীর] অথবা দারুস সালাম এ জন্যই তাদের জন্য থাকবে, কারণ তারা সিরাতে মুস্তাকিমে চলার কারণে নিজেদেরকে নিরাপত্তায় রাখতে সামর্থ হয়েছে।
সুতরাং তাদের প্রতিফল তো তা-ই হওয়া বাঞ্ছনীয় যা নিশ্চিন্দ্র নিরাপত্তার বেষ্টনীতে আবদ্ধ। [ইবন কাসীর] আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেনঃ ‘সালাম’ আল্লাহ তা'আলার একটি নাম। দারুস সালাম অর্থ আল্লাহর গৃহ। আল্লাহর গৃহ বলতে শান্তি ও নিরাপত্তার স্থান বোঝায়। অতএব, সার অর্থ আবারো তাই হয় যে, এমন গৃহ যাতে শান্তি, সুখ, নিরাপত্তা ও প্রশান্তি বিদ্যমান। অর্থাৎ জান্নাত। তাবারী জান্নাতকে দারুস্-সালাম বলে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, একমাত্র জান্নাতই এমন জায়গা, যেখানে মানুষ সর্বপ্রকার কষ্ট, উৎকণ্ঠা, উপদ্রব ও স্বভাব বিরুদ্ধ বস্তু থেকে পূর্ণরূপে ও স্থায়ীভাবে নিরাপদ থাকে।
[সা’দী] এরূপ নিরাপত্তা জগতে কোন রাজাধিরাজ এবং নবী-রাসূলও কখনো লাভ করেন না। কেননা, ধ্বংসশীল জগত এরূপ পরিপূর্ণ ও স্থায়ী শান্তির জায়গাই নয়।
[২] আয়াতে বলা হয়েছে যে, এসব সৌভাগ্যশালীর জন্য তাদের প্রতিপালকের কাছে দারুস-সালাম’ রয়েছে। প্রতিপালকের কাছে -এর অর্থ এই যে, এ দারুস-সালাম দুনিয়াতে নগদ পাওয়া যাবে না; কেয়ামতের দিন যখন তারা স্বীয় রব-এর কাছে যাবে, তখনই তা পাবে। দ্বিতীয় অর্থ এই যে, দারুস-সালামের ওয়াদা ভ্রান্ত হতে পারে না। রব নিজেই এর জামিন। তাঁর কাছে তা সংরক্ষিত রয়েছে। এতে এদিকেও ইঙ্গিত রয়েছে যে, এ দারুস-সালামের নেয়ামত ও আরাম আজ কেউ কল্পনাও করতে পারে না। যে প্রতিপালকের কাছে এ ভাণ্ডার সংরক্ষিত আছে, তিনিই তা জানেন। [সা’দী] আয়াতের শেষে বলা হয়েছে, তাদের সৎকর্মের কারণে আল্লাহ তা'আলা তাদের
অভিভাবক। ইবন কাসীর দুনিয়াতে অভিভাবক হিসেবে তিনি তাদেরকে সঠিক পথের হিদায়াত দেন। আর আখেরাতে তাদেরকে উপযুক্ত প্রতিফল দেন। [বাগভী] আর আল্লাহ যাদের পৃষ্ঠপোষক ও সাহায্যকারী হয়ে যান, তাদের সব মুশকিল আসান হয়ে যায়।
[সূরা আল-আন’আম (৬): আয়াত ১২৭] পূর্ণ পৃষ্ঠা
যেন সে তা আহ্বান করছে। আবার বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো, ইসলাম থেকে বিমুখতার কারণে তার হৃদয় যেন আকাশে আরোহণ করছে। এভাবেই আল্লাহ তাদের ওপর অপবিত্রতা চাপিয়ে দেন, যেভাবে তিনি তাদের দেহে বক্ষ সংকীর্ণতা তৈরি করেন। ভাষাগতভাবে ‘রিজস’ (অপবিত্রতা) এর মূল অর্থ হলো দুর্গন্ধ। ইবনে যাইদ বলেছেন: এটি হলো শাস্তি। ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: (রিজস হলো) শয়তান, অর্থাৎ তিনি তাদের ওপর তাকে কর্তৃত্বশীল করে দেন। মুজাহিদ বলেছেন: রিজস হলো এমন বিষয় যাতে কোনো কল্যাণ নেই। একইভাবে ভাষাবিদদের নিকট রিজস এর অর্থ হলো দুর্গন্ধ। আয়াতের অর্থ—আল্লাহই সম্যক অবগত—তিনি দুনিয়াতে অভিশাপ এবং আখিরাতে শাস্তি নির্ধারণ করেন (যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না তাদের ওপর)।
[সূরা আল-আন’আম (৬): আয়াত ১২৬]এবং এটিই আপনার রবের সরল পথ; অবশ্যই আমি উপদেশ গ্রহণকারী কওমের জন্য নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেছি। (১২৬)মহান আল্লাহর বাণী: (এবং এটিই আপনার রবের সরল পথ) অর্থাৎ হে মুহাম্মদ, আপনি এবং মুমিনগণ যে দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত আছেন, এটিই আপনার রবের দ্বীন যাতে কোনো বক্রতা নেই। (অবশ্যই আমি নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেছি) অর্থাৎ আমি সেগুলো স্পষ্ট করেছি (উপদেশ গ্রহণকারী কওমের জন্য)। [সূরা আল-আন’আম (৬): আয়াত ১২৭]তাদের রবের নিকট তাদের জন্য রয়েছে শান্তির আবাস এবং তারা যা করত তার কারণে তিনিই তাদের অভিভাবক।
(১২৭)মহান আল্লাহর বাণী: (তাদের জন্য) অর্থাৎ উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য। (শান্তির আবাস) অর্থাৎ জান্নাত। জান্নাত হলো আল্লাহর গৃহ, যেমন বলা হয়: কাবা আল্লাহর ঘর। এটিও সম্ভব যে এর মূল অর্থ হবে নিরাপত্তা, অর্থাৎ এমন আবাস যেখানে সমস্ত বিপদ-আপদ থেকে নিরাপদ থাকা যায়। আর (তাদের রবের নিকট) এর অর্থ হলো, এটি তাঁর কাছে তাদের জন্য নিশ্চিতকৃত, তিনি তাঁর অনুগ্রহে তাদের সেখানে পৌঁছে দেবেন। (এবং তিনি তাদের অভিভাবক) অর্থাৎ তাদের সাহায্যকারী ও সহায়। [সূরা আল-আন’আম (৬): আয়াত ১২৮]এবং যেদিন তিনি তাদের সকলকে একত্রিত করবেন (এবং বলবেন), হে জিনের দল!
তোমরা তো মানুষের অনেককে অনুসারী করে নিয়েছিলে। তখন মানুষদের মধ্য থেকে তাদের বন্ধুরা বলবে, হে আমাদের রব! আমরা একে অপরের দ্বারা উপকৃত হয়েছিলাম এবং আমরা আমাদের সেই নির্ধারিত সময়ে পৌঁছে গিয়েছি যা আপনি আমাদের জন্য নির্ধারণ করেছিলেন। তিনি বলবেন, আগুনই তোমাদের আবাসস্থল, সেখানে তোমরা চিরস্থায়ী হবে, তবে আল্লাহ যা ইচ্ছে করেন (তা ভিন্ন)। নিশ্চয়ই আপনার রব প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ। (১২৮)(১). পাণ্ডুলিপি ‘জিম’, ‘যা’ এবং ‘কাফ’ হতে সংগৃহীত।
