ভূমিকা
ইসলামি বিশ্বাস অনুসারে কোরআন কোনো মানুষের চিন্তা, পর্যবেক্ষণ বা পরিস্থিতিনির্ভর সিদ্ধান্তের ফল নয়; এটি সর্বজ্ঞ আল্লাহর কাছ থেকে অবতীর্ণ নির্ভুল ওহি। সর্বজ্ঞ সত্তা অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জানেন, মানুষের শারীরিক সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কেও তাঁর কোনো অজ্ঞতা থাকার কথা নয়। ফলে তাঁর কাছ থেকে আসা কোনো বিধানে অন্ধ, অসুস্থ বা শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষদের কথা বাদ পড়ে যাওয়ার কথা নয়—বিশেষ করে যখন সেই বিধানটি মানুষকে নৈতিক মর্যাদা ও পুরস্কারের দিক থেকে শ্রেণিবদ্ধ করছে।
কিন্তু ইসলামি হাদিসগ্রন্থে সংরক্ষিত একটি ঘটনা সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরে। সূরা আন-নিসার ৯৫ নম্বর আয়াতের প্রাথমিক ভাষ্যে জিহাদে অংশগ্রহণকারী মুমিনদের তুলনায় ঘরে বসে থাকা মুমিনদের নিম্নতর হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। সেখানে অন্ধ, প্রতিবন্ধী বা শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষের জন্য কোনো ব্যতিক্রম ছিল না। আয়াতটি লেখানো হচ্ছিল এমন সময় অন্ধ সাহাবী ইবন উম্মে মাকতুম প্রশ্ন করেন, তিনি অন্ধ হওয়ায় জিহাদ করতে অক্ষম—তাহলে তাঁর ক্ষেত্রে এই বিধান কীভাবে প্রযোজ্য হবে? এই প্রশ্নের পরেই আয়াতের ভাষায় “গাইরু উলি আদ-দারার”—অর্থাৎ “অক্ষম বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা ব্যতীত” কথাটি যুক্ত করা হয়।
এখানে বিষয়টি কোনো আয়াতের পরবর্তী ব্যাখ্যা বা তাফসির নয়। হাদিসের বর্ণনা অনুসারে আয়াতটি লিখে নেওয়ার সময় একজন মানুষের আপত্তির কারণে তার পাঠ্যেই নতুন শব্দ যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ প্রথমে ঘোষিত বাক্যটি অসম্পূর্ণ ছিল; একজন অন্ধ মানুষ সেই অসম্পূর্ণতা শনাক্ত করার পর বাক্যটি সংশোধিত হয়েছে। ঘটনাটি সহিহ বুখারীতে এভাবে বর্ণিত হয়েছে।
বুখারীর বিবরণ
ঘটনাটি সহিহ বুখারীতেও সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। সেখানে প্রথমে আয়াতটি লেখার নির্দেশ দেওয়া হয়, ইবন উম্মে মাকতুম নিজের অন্ধত্বের কথা তুলে ধরেন এবং তাঁর প্রশ্নের প্রেক্ষিতেই প্রতিবন্ধীদের ব্যতিক্রমসংবলিত ভাষ্য অবতীর্ণ হওয়ার দাবি করা হয় [1]—
সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ
পরিচ্ছেদঃ ৬৬/৪. নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাতিব (ওয়াহী লিখক)
৪৯৯০. বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, لَايَسْتَوِي الْقَاعِدُوْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ ….وَالْمُجَاهِدُوْنَ فِيْسَبِيْلِ اللهِ আয়াতটি অবতীর্ণ হলে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যায়দকে আমার কাছে ডেকে আন এবং তাকে বল সে যেন কাষ্ঠখন্ড, দোয়াত এবং কাঁধের হাড় (রাবী বলেন- অথবা তিনি বলেছেন, কাঁধের হাড় এবং দোয়াত) নিয়ে আসে। এরপর তিনি বললেন, লিখ। এ সময় অন্ধ সাহাবী আমর ইবনু উম্মু মাকতূম (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে বসা ছিলেন। তিনি বললেন, আমি তো অন্ধ, আমার ব্যাপারে আপনার কী নির্দেশ? এ কথার প্রেক্ষিতে পূর্বোক্ত আয়াতের পরিবর্তে অবতীর্ণ হলঃ ’’সমান নয় সেসব মু’মিন যারা বিনা ওজরে ঘরে বসে থাকে এবং ঐসব মু’মিন যারা আল্লাহর পথে নিজেদের জানমাল দিয়ে জিহাদ করে’’- (সূরাহ আন-নিসা ৪/৯৫)। [২৮৩১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬২৪)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ বারা’আ ইবনু আযিব (রাঃ)


মানুষের আপত্তির পর আয়াতে সংযোজন
বুখারীর বর্ণনায় ঘটনার ধারাবাহিকতা অত্যন্ত স্পষ্ট। প্রথমে আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার দাবি করা হচ্ছে, তারপর মুহাম্মদ লেখককে সেটি লিখতে বলছেন। ইবন উম্মে মাকতুম উপস্থিত থেকে নিজের অন্ধত্বের কথা তুলে ধরার পর “পূর্বোক্ত আয়াতের পরিবর্তে” প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্যতিক্রমসংবলিত ভাষ্য অবতীর্ণ হচ্ছে। ফলে পরিবর্তিত বাক্যাংশটির সঙ্গে অন্ধ সাহাবীর প্রশ্নের সরাসরি কার্যকারণমূলক সম্পর্ক হাদিসেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
একজন সর্বজ্ঞ সত্তার জানার জন্য কোনো অন্ধ ব্যক্তির মুখে প্রশ্নটি উচ্চারিত হওয়ার প্রয়োজন ছিল না। ইবন উম্মে মাকতুম অন্ধ—এ তথ্য আল্লাহর আগে থেকেই জানার কথা। অন্ধত্ব, গুরুতর অসুস্থতা বা শারীরিক অক্ষমতা কোনো মানুষের যুদ্ধ করার সক্ষমতা সীমিত বা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করতে পারে; এমন মানুষের ওপর সক্ষম যোদ্ধার মানদণ্ড চাপানো অন্যায়, এটিও কোনো দুর্বোধ্য বিষয় নয়। তা সত্ত্বেও প্রথম ভাষ্যে তাদের কথা বাদ পড়ল, আর বাদ পড়ার সমস্যাটি একজন মানুষ দেখিয়ে দেওয়ার পরেই সংশোধন এলো। এটি সর্বজ্ঞতার প্রকাশ নয়; এটি মানুষের আপত্তির প্রতিক্রিয়ায় বিধানের ভাষা সম্পাদনার একটি সুস্পষ্ট উদাহরণ।
ঘটনাটি শুধু বুখারীর একটি বিচ্ছিন্ন বর্ণনায় নেই। নাসাঈর একাধিক বর্ণনায় একই মূল কাঠামো পাওয়া যায়: আয়াত লেখানো হচ্ছিল, অন্ধ সাহাবী নিজের অক্ষমতার কথা বললেন, তারপর “অপারগ ব্যক্তি ব্যতীত” অংশটি যুক্ত হলো। বিবরণগুলোর ভাষা ও পারিপার্শ্বিক খুঁটিনাটিতে পার্থক্য থাকলেও মূল ঘটনাক্রমে কোনো অস্পষ্টতা নেই। নিচের বর্ণনাগুলো সেই একই ঘটনার আরও পরিষ্কার রূপ তুলে ধরে।
হাদিস ৩,১০০
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنْ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي سَهْلُ بْنُ سَعْدٍ، قَالَ: رَأَيْتُ مَرْوَانَ – جَالِسًا فِي الْمَسْجِدِ، فَأَقْبَلْتُ حَتَّى جَلَسْتُ إِلَى جَنْبِهِ -، فَأَخْبَرَنَا أَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ، أَخْبَرَهُ ” أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمْلَى عَلَيْهِ لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ [النساء: 95] وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ [النساء: 95] ” قَالَ: ” فَجَاءَهُ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ وَهُوَ يُمِلُّهَا عَلَيَّ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، لَوْ أَسْتَطِيعُ الْجِهَادَ لَجَاهَدْتُ وَكَانَ رَجُلًا أَعْمَى، فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفَخِذُهُ عَلَى فَخِذِي، حَتَّى هَمَّتْ تَرُضُّ فَخِذِي، ثُمَّ سُرِّيَ عَنْهُ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ [النساء: 95] “
বাংলা অনুবাদ
বাংলা কপি
আমি মারওয়ান (রঃ) কে মসজিদে উপবিষ্ট দেখলাম, আমি অগ্রসর হয়ে তার পাশে বসে পড়লাম। তিনি আমাদের কাছে বর্ণনা করলেন যে, যায়দ ইব্ন সাবিত (রাঃ) তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে লিখে নেওয়ার জন্য পড়ে শুনাচ্ছিলেনঃ (আরবি)। তিনি বললেন, তারপর তাঁর নিকট ইব্ন উম্মু মাকতুম (রাঃ) আগমন করলেন, তখনও তিনি আমাকে লেখাচ্ছিলেন। তিনি (ইব্ন উম্মু মাকতুম) বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যদি আমার জিহাদ করার ক্ষমতা থাকতো, তাহলে আমিও জিহাদ করতাম। তিনি ছিলেন একজন অন্ধ ব্যক্তি। তখন আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর রাসুল–এর উপর (ওয়াহী) অবতীর্ণ করলেন, তখন তাঁর উরু ছিল আমার উরুর উপর, এমনকি আমার উরু ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হলো। এরপর তাঁর উপর হতে ওহীর প্রভাব কেটে গেল। আল্লাহ্ তা‘আলা নাযিল করলেনঃ (আরবি) “অপারগ ব্যক্তি ব্যতীত”।
বর্ণনাকারীঃ সাহল ইব্নু সা‘দ (রঃ) বলেন
এটি ব্যাখ্যা নয়, আয়াতের পাঠ্যে পরিবর্তন
এই বর্ণনায় যায়দ ইবন সাবিত প্রত্যক্ষভাবে বলছেন যে মুহাম্মদ তাকে আয়াতটি লিখে নেওয়ার জন্য পড়ে শোনাচ্ছিলেন। লেখানোর প্রক্রিয়া চলার সময় ইবন উম্মে মাকতুম এসে নিজের অন্ধত্বের কথা জানান। এরপর নতুন ওহি আসার দাবি করা হয় এবং পূর্বের বাক্যে “অপারগ ব্যক্তি ব্যতীত” কথাটি সংযোজিত হয়। অতএব এখানে আগে থেকেই পূর্ণ আয়াত নাজিল হয়েছিল, পরে কেবল তার অর্থ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে—এমন দাবি হাদিসের বিবরণের সঙ্গে মেলে না। পরিবর্তনটি ব্যাখ্যায় নয়, লেখার জন্য উচ্চারিত বাক্যের মধ্যেই ঘটেছে।
ঘটনাটিকে “ধাপে ধাপে বিধান প্রদান” বলেও সমস্যাটি দূর করা যায় না। ধাপে ধাপে বিধান দেওয়ার ক্ষেত্রে পরবর্তী কোনো পরিস্থিতিতে নতুন বিধান আসতে পারে। কিন্তু এখানে কয়েক বছর বা কয়েক মাস পরে ভিন্ন পরিস্থিতিতে নতুন আইন দেওয়া হয়নি। একই আয়াত লেখানোর মুহূর্তে একজন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির আপত্তির পর বাক্যের একটি প্রয়োজনীয় ব্যতিক্রম যুক্ত হয়েছে। এটি পরিকল্পিত পর্যায়ক্রমিক আইন প্রণয়নের চেয়ে তাৎক্ষণিক ভুল সংশোধনের সঙ্গেই বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সংযোজিত অংশটি কোনো গৌণ অলংকার বা অতিরিক্ত প্রশংসাবাক্য ছিল না। এটি ছাড়া আয়াতটি সক্ষম ও অক্ষম সবাইকে একই শ্রেণির “ঘরে বসে থাকা” মুমিন হিসেবে বিবেচনা করছিল। ফলে অন্ধ বা শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষ নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা একটি অবস্থার কারণে জিহাদকারীদের তুলনায় নিম্নতর ধর্মীয় মর্যাদা ও পুরস্কারের অধিকারী হিসেবে গণ্য হচ্ছিলেন। একজন মানুষের প্রশ্নের পর এই মৌলিক অবিচার দূর করা হয়েছে।
হাদিস ৩,১০১
সহিহ (Sahih)
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي إِسْحَقَ، عَنْ الْبَرَاءِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – ثُمَّ ذَكَرَ كَلِمَةً مَعْنَاهَا، قَالَ: «ائْتُونِي بِالْكَتِفِ وَاللَّوْحِ» فَكَتَبَ لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ [النساء: 95] وَعَمْرُو بْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ خَلْفَهُ، فَقَالَ: هَلْ لِي رُخْصَةٌ؟ فَنَزَلَتْ غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ [النساء: 95]
বাংলা অনুবাদ
বাংলা কপি
এরপর তিনি এমন একটি বাক্য বললেন, (রাবী বলেন) যার অর্থ আমার নিকট হাড় (কলম) এবং তখতী আনয়ন কর। এরপর তিনি লিখলেন, (আরবি) অর্থাৎ “মু’মিন, যারা বসে থাকে, তারা সমান নয়……। আর তখন আমর ইব্ন উম্মু মাকতুম (রাঃ) তাঁর পেছনে ছিলেন। তিনি বললেনঃ আমার জন্য কি অব্যাহতি রয়েছে? তখন অবতীর্ণ হলো, “অপারগ ব্যক্তি ব্যতীত”।
বর্ণনাকারীঃ বারা (রাঃ)
হাদিস ৩,১০২
সহিহ (Sahih)
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَقَ، عَنْ الْبَرَاءِ، قَالَ: ” لَمَّا نَزَلَتْ لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ [النساء: 95] جَاءَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ وَكَانَ أَعْمَى فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَكَيْفَ فِيَّ وَأَنَا أَعْمَى؟ قَالَ: فَمَا بَرِحَ، حَتَّى نَزَلَتْ غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ [النساء: 95] “
বাংলা অনুবাদ
বাংলা কপি
যখন (আরবি) এ আয়াত নাযিল হলো, তখন ইব্ন উম্মু মাকতুম আগমন করলেন। তিনি ছিলেন অন্ধ। তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার উপর কিভাবে (এই আয়াত) প্রযোজ্য হবে অথচ আমি অন্ধ? বর্ণনাকারী বলেনঃ অল্পক্ষণ পরেই অবতীর্ণ হলো (আরবি)।
বর্ণনাকারীঃ বারা (রাঃ)
আয়াতটির মানবনির্ভরতা
নাসাঈর পরপর তিনটি বর্ণনা একই মৌলিক তথ্য নিশ্চিত করছে। প্রথম আয়াতে প্রতিবন্ধীদের ব্যতিক্রম ছিল না। ইবন উম্মে মাকতুম প্রশ্ন করেছিলেন—“আমার জন্য কি অব্যাহতি রয়েছে?” অথবা “আমি অন্ধ, আমার ক্ষেত্রে কী হবে?” প্রশ্নের পরেই বর্তমান কোরআনে থাকা ব্যতিক্রমটি নাজিল হওয়ার দাবি করা হয়েছে। অর্থাৎ হাদিসের নিজস্ব বিবরণেই আয়াতটির চূড়ান্ত ভাষা একজন মানুষের উপস্থিতি, উপলব্ধি এবং প্রতিবাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
ইবন উম্মে মাকতুম সেখানে উপস্থিত না থাকলে, অথবা উপস্থিত থেকেও প্রশ্ন না করলে কী ঘটত—হাদিস সেই বিকল্প ইতিহাস জানায় না। কিন্তু বর্ণনাটি যে কার্যকারণ দেখাচ্ছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই: তাঁর প্রশ্নের আগে ব্যতিক্রমটি পাঠ করা হয়নি এবং তাঁর প্রশ্নের পরেই সেটি যুক্ত হয়েছে। ফলে বর্তমান আয়াতের ভাষা যে ঐ মানবীয় হস্তক্ষেপের পর গঠিত, তা ইসলামি সূত্রই জানাচ্ছে। সর্বজ্ঞ উৎসের একটি সম্পূর্ণ ও পূর্বনির্ধারিত বাণী মানুষের আপত্তির জন্য অপেক্ষা করবে কেন—এই প্রশ্নের কোনো যুক্তিসঙ্গত উত্তর পাওয়া যায় না।
কোরআনের আরও কত আয়াত একইভাবে পরিস্থিতি, উপস্থিত ব্যক্তি এবং মুহাম্মদের সামনে উত্থাপিত প্রশ্নের ওপর নির্ভর করে তৈরি হয়েছে, এই ঘটনা সেই বৃহত্তর প্রশ্নও উত্থাপন করে। যেসব স্থানে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী উপস্থিত ছিলেন না, প্রশ্ন করার সুযোগ পাননি অথবা মুহাম্মদের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে ভয় পেয়েছিলেন, সেখানে কোনো ভুল বা অবিচার থেকে থাকলে তা সংশোধিত হওয়ার ব্যবস্থাটি কী ছিল? এই হাদিসে সংশোধন এসেছে সর্বজ্ঞ উৎসের স্বতঃপ্রণোদিত নির্ভুলতার কারণে নয়, বরং একজন অন্ধ মানুষের তাৎক্ষণিক আপত্তির কারণে।
আপত্তিকারীর ভয়
ইবন হিব্বানের বর্ণনা ঘটনাটির আরেকটি অস্বস্তিকর দিক প্রকাশ করে। সেখানে অন্ধ সাহাবী শুধু নিজের অক্ষমতার কথা বলেননি; তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, “আমাদের কী অপরাধ?” এরপর মুহাম্মদের ওপর আবার ওহি আসছে বলা হলে তিনি ভয় পেয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং মুহাম্মদের ক্রোধ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে থাকেন। অর্থাৎ নিজের প্রতি অন্যায় হতে পারে—এমন একটি যৌক্তিক আপত্তি তোলার পরও তিনি নিশ্চিত ছিলেন না যে তাঁর প্রশ্ন সহানুভূতির সঙ্গে গ্রহণ করা হবে, নাকি তাঁর বিরুদ্ধেই নতুন কোনো ঘোষণা আসবে।
এই বিবরণে একজন প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার শুরু থেকেই স্বীকৃত হয়নি। বরং তাঁকেই নিজের নির্দোষিতা ব্যাখ্যা করতে হয়েছে, নিজের অক্ষমতার জন্য জবাবদিহি করতে হয়েছে এবং আপত্তি জানানোর পর সম্ভাব্য ক্রোধের ভয়ে থাকতে হয়েছে। এরপর যে ব্যতিক্রম যুক্ত হয়েছে, সেটিকে ঐশী দূরদর্শিতা বলা যায় না। এটি ক্ষমতাবান ধর্মীয় কর্তৃত্বের সামনে একজন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আত্মপক্ষসমর্থনের পর পাওয়া সংশোধন।
হাদিস ৪,৭১২
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ [ص:11] الْحَجَّاجِ السَّامِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ كُلَيْبٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ خَالِي الْفَلَتَانِ بْنِ عَاصِمٍ، قَالَ: كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيْهِ، وَكَانَ إِذَا أُنْزِلَ عَلَيْهِ دَامَ بَصَرُهُ مَفْتُوحَةٌ عَيْنَاهُ، وَفَرَغَ سَمْعُهُ، وَقَلْبُهُ لِمَا يَأْتِيهِ مِنَ اللَّهِ قَالَ: فَكُنَّا نَعْرِفُ ذَلِكَ مِنْهُ، فَقَالَ لِلْكَاتِبِ: «اكْتُبْ لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ [النساء: 95]، وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ [النساء: 95]، فَقَامَ الْأَعْمَى، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا ذَنْبُنَا؟، فَأُنْزِلَ عَلَيْهِ، فَقُلْنَا لِلْأَعْمَى: إِنَّهُ يُنَزَّلُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَخَافَ أَنْ يُنَزَّلَ عَلَيْهِ شَيْءٌ مِنْ أَمْرِهِ، فَبَقِيَ قَائِمًا، وَيَقُولُ: أَعُوذُ بِغَضَبِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلْكَاتِبِ: » اكْتُبْ غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ [النساء: 95] «
رقم طبعة با وزير (4692)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح الإسناد. * [دامَ] قال الشيخ: في الأصل: (رام)! والتصويبُ مِنْ «مُسند أبي يعلى» (3/ 157)؛ فإِنَّهُ عند المؤلِّف مِنْ طَريقِه، وكذا في «طبعة المؤسسة» لهذا الكتاب (11/ 11 / 4712). وإسنادُه صحيحٌ، رجاله ثقات رجال مسلمٍ؛ غير (إبراهيم بن الحجاج السلمي)، وهو ثقة، فيه كلام لا يضرُّ.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي
বাংলা অনুবাদ
বাংলা কপি
ফালাতান ইবনে আসিম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ছিলাম। তখন আল্লাহ তাঁর ওপর ওহী নাযিল করলেন। যখন তাঁর ওপর ওহী নাযিল হতো, তখন তাঁর দৃষ্টি স্থির হয়ে যেত, চোখ খোলা থাকত, তাঁর শ্রবণশক্তি ও হৃদয় আল্লাহর পক্ষ থেকে যা আসত তার প্রতি মনোযোগী হয়ে যেত। বর্ণনাকারী বলেন: আমরা তাঁর মধ্যে তা স্পষ্ট দেখতে পেতাম। অতঃপর তিনি লেখককে বললেন: “লেখো: মুমিনদের মধ্যে যারা বসে থাকে এবং আল্লাহর পথে জিহাদকারীগণ সমান নয় (সূরা নিসা: ৯৫)।” তখন একজন অন্ধ সাহাবী দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল!
আমাদের কী অপরাধ? অতঃপর তাঁর ওপর আবার ওহী নাযিল হলো। আমরা সেই অন্ধ সাহাবীকে বললাম: এখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ওহী নাযিল হচ্ছে। তখন তিনি ভয় পেলেন যে তাঁর সম্পর্কে কোনো কিছু নাযিল হয় কিনা। ফলে তিনি দাঁড়িয়ে রইলেন এবং বলতে থাকলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্রোধ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লেখককে বললেন: “লেখো: ‘যারা অক্ষম নয় তারা ব্যতীত’ (সূরা নিসা: ৯৫)।”
ওহির শারীরিক লক্ষণ কি ঐশী উৎসের প্রমাণ?
ইবন হিব্বানের বর্ণনায় মুহাম্মদের চোখ স্থির হয়ে যাওয়া, দৃষ্টি খোলা থাকা এবং বাইরের জগৎ থেকে মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো কিছু শারীরিক অবস্থার কথা বলা হয়েছে। নাসাঈর বর্ণনায় তাঁর উরুর ভারে যায়দ ইবন সাবিতের উরু ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। কিন্তু কোনো ব্যক্তির অস্বাভাবিক শারীরিক বা মানসিক অভিজ্ঞতা থেকে সেই অভিজ্ঞতার উৎস সর্বজ্ঞ স্রষ্টা—এই সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে না। মানুষ মৃগীরোগ, ট্রান্স, তীব্র আবেগ, মানসিক চাপ, বিভ্রম, স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া এবং আরও বহু কারণে দৃশ্যমান অস্বাভাবিক অবস্থায় যেতে পারে। কোনো ঘটনার বাহ্যিক নাটকীয়তা তার অতিপ্রাকৃত উৎস প্রমাণ করে না।
এমনকি বর্ণিত শারীরিক ঘটনাগুলো হুবহু সত্য ধরে নিলেও আয়াতের বিষয়গত সমস্যাটি দূর হয় না। কারও শরীর ভারী হয়ে যাওয়া অথবা দৃষ্টি স্থির হয়ে যাওয়ার সঙ্গে তাঁর উচ্চারিত বাক্য সর্বজ্ঞ সত্তার কাছ থেকে এসেছে কি না—এর কোনো যৌক্তিক সম্পর্ক নেই। বরং যাচাই করতে হবে তথাকথিত ওহির বক্তব্য সর্বজ্ঞতা, সামঞ্জস্য ও নির্ভুলতার বৈশিষ্ট্য বহন করে কি না। এখানে দেখা যাচ্ছে বক্তব্যটি প্রথমে একটি সুস্পষ্ট শ্রেণির মানুষকে বাদ দিয়েছে এবং তাদের একজন প্রশ্ন করার পরেই প্রয়োজনীয় সংশোধন এসেছে।
সর্বজ্ঞতার সঙ্গে মৌলিক সংঘাত
সর্বজ্ঞতার ধারণা অনুসারে আল্লাহ জানতেন যে ইবন উম্মে মাকতুম অন্ধ, জানতেন তিনি আয়াতটি শুনবেন, জানতেন তিনি প্রশ্ন করবেন এবং জানতেন প্রশ্নটির নৈতিক ভিত্তি সম্পূর্ণ যৌক্তিক। তিনি এটিও জানতেন যে পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ শারীরিক অক্ষমতার কারণে যুদ্ধে অংশ নিতে পারে না। তাহলে প্রথমবারেই নির্ভুল ও পূর্ণাঙ্গ বাক্যটি না দিয়ে একটি অসম্পূর্ণ বাক্য পাঠানোর প্রয়োজন কী ছিল? মানুষের প্রশ্নের পরে ভুলটি সংশোধন করা সর্বজ্ঞতার নিদর্শন নয়; বরং প্রথম বক্তব্যের সীমাবদ্ধতার প্রমাণ।
কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে প্রথমে অসম্পূর্ণ বাক্য পাঠিয়ে পরে একজন অন্ধ মানুষকে দিয়ে ভুলটি ধরিয়ে দিলেও সমস্যার সমাধান হয় না। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠে, অকারণে একজন প্রতিবন্ধী মানুষকে কেন উদ্বেগ, অপমান ও ভয়ের মধ্যে ফেলা হলো? কেন তাঁকে ভাবতে হলো যে নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা অন্ধত্বের জন্য তিনি নৈতিকভাবে অপরাধী গণ্য হচ্ছেন? সর্বশক্তিমান ও সর্বজ্ঞ সত্তার শিক্ষা দেওয়ার জন্য এ ধরনের নাটকীয় অসম্পূর্ণতা প্রয়োজন হওয়ার কথা নয়।
মানবীয় আইন প্রণয়নের পরিচিত ধরন
মানুষ যখন আইন বা নির্দেশনা তৈরি করে, তখন প্রায়ই প্রথম খসড়ায় কোনো বিশেষ পরিস্থিতি বাদ পড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আপত্তি জানালে অথবা বাস্তব সমস্যা সামনে এলে আইন সংশোধন করে ব্যতিক্রম যুক্ত করা হয়। সূরা আন-নিসার ৯৫ নম্বর আয়াত সম্পর্কে হাদিসে যে প্রক্রিয়া বর্ণিত হয়েছে, সেটি এই পরিচিত মানবীয় প্রক্রিয়ার সঙ্গেই মিলে যায়: প্রথমে একটি সাধারণ ও অসম্পূর্ণ নির্দেশ, তারপর বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হওয়া, এরপর আপত্তির ভিত্তিতে সংশোধন।
পার্থক্য শুধু এটুকু যে সাধারণ আইনপ্রণেতা নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে সংশোধন করেন, কিন্তু এখানে সংশোধিত বক্তব্যকেও সর্বজ্ঞ সত্তার চিরন্তন বাণী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ঐশী দাবি বাদ দিলে ঘটনাটি সহজেই বোঝা যায়। মুহাম্মদ একটি বক্তব্য দিয়েছিলেন, একজন অন্ধ অনুসারী তার অন্যায্য পরিণতি দেখিয়ে দিয়েছিলেন, তারপর বক্তব্যে প্রয়োজনীয় ব্যতিক্রম যুক্ত হয়েছিল। ঐশী দাবি যোগ করলেই ঘটনাটি যুক্তিগত সমস্যায় পরিণত হয়, কারণ তখন একটি সর্বজ্ঞ সত্তাকে এমন একটি ভুল করতে হচ্ছে যা একজন সাধারণ অন্ধ মানুষ মুহূর্তের মধ্যেই শনাক্ত করতে পেরেছিলেন।
উপসংহার
বুখারী, নাসাঈ ও ইবন হিব্বানে সংরক্ষিত বর্ণনাগুলোর মূল বক্তব্য পরিষ্কার। জিহাদকারীদের মর্যাদা সম্পর্কে আয়াতটি প্রথমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ব্যতিক্রম ছাড়াই লেখা হচ্ছিল। ইবন উম্মে মাকতুম নিজের অন্ধত্বের কথা তুলে ধরে আপত্তি জানানোর পর “অপারগ ব্যক্তিরা ব্যতীত” বাক্যাংশটি যুক্ত করা হয়। এটি কোনো পরবর্তী তাফসির নয়, বরং আয়াতের পাঠ্য গঠনের সময় সংঘটিত সরাসরি সংযোজন।
এই ঘটনা কোরআনের ঐশী ও সর্বজ্ঞ উৎসের দাবিকে শক্তিশালী করে না; বরং তার মানবীয় ও পরিস্থিতিনির্ভর গঠনপ্রক্রিয়াকে প্রকাশ করে। একটি সর্বজ্ঞ সত্তার দৃষ্টিতে যে ব্যতিক্রম শুরু থেকেই সুস্পষ্ট হওয়ার কথা, তা একজন অন্ধ মানুষের প্রশ্নের আগে আয়াতে ছিল না। সংশোধনটি এসেছে ওপর থেকে স্বতঃস্ফূর্ত সর্বজ্ঞতার কারণে নয়, নিচ থেকে উত্থাপিত মানবীয় আপত্তির কারণে। সুতরাং হাদিসগুলোর নিজস্ব বিবরণ অনুসারেই বর্তমান আয়াতের পূর্ণাঙ্গ ভাষা সর্বজ্ঞ ও পূর্বপরিকল্পিত ওহির চেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সংশোধিত মানবীয় বক্তব্যের সঙ্গে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তথ্যসূত্রঃ
- সহিহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, অষ্টম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৩৯-৩৪০, হাদিসঃ ৪৬২৪ ↩︎

