জ্ঞানকোষ প্রবন্ধ

খলিফা হারুনুর রশিদের বিলাসবহুল জীবন

প্রকাশিত: জুলাই 29, 2024 · লেখক: আসিফ মহিউদ্দীন · 2 মিনিট পড়া

ইসলামের ইতিহাসে খলিফা হারুনুর রশিদের শাসনামল নিয়ে নানা কল্পিত গল্পকেচ্ছা শোনা যায়। আসুন একটি দলিল দেখে নেয়া যাক, সেই খলিফার বিত্ত এবং সেবাদাসীদের সংখ্যা সম্পর্কে [1]

৩৮৪
আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া
“সেনাবাহিনীর নিবাসগুলো রয়েছে অবাদ, কিন্তু প্রধান নিবাসটি এখন পরিত্যক্ত। আল্লাহর খলীফা চলে গিয়েছেন জীর্ণতার জগতে ; তার কবরের উপরে ছুটাছুটি করছে ছাগল ছানারা। এক কাফিলা এগিয়ে এল তাকে নিয়ে গর্ব করতে করতে এবং কাফেলা চলে গেল এমন অবস্থায় যে তারা তাঁর জন্য শোক প্রকাশ করছিল।
আবুশ শীস তার মৃত্যুতে শোকগাথা রচনা করেন। তাতে আছে-
“পূর্বদেশে একটি সূর্য অস্তমিত হল। তার জন্য দু’চোখ অশ্রু টলমল। এমন সূর্য আমরা কোন দিন দেখিনি যা যে দিকে উদিত হয় সেদিকেই অস্তমিত হয় ।”
অন্যান্য কবিগণও তার শোকগাথা রচনা করেছেন। ইবনুল জাওযী বলেছেন, হারূনুর রশীদ এত পরিমাণ মীরাছ রেখে যান যে, অন্য কোন খলীফা তা রেখে যাননি। ভূ-সম্পদ ও বাড়ি-ঘর ব্যতীত তাঁর রেখে যাওয়া মণিমুক্তা ও মূল্যবান আসবাবপত্রের মূল্য ছিল দশকোটি পঁয়ত্রিশ হাজার স্বর্ণমুদ্রা । ইন জারীর বলেছেন, বায়তুল মালে রিজার্ভ মুদ্রার পরিমাণ সত্তর কোটিরও অধিক ছিল।
খলীফা হারুনুর রশীদের স্ত্রী, দাসী ও সন্তান-সন্ততি হারুনুর রশীদ তাঁর চাচাত বোন অর্থাৎ চাচা জা’ফর ইব্‌ন আবূ জা’ফর আল-মানসূরের কন্যা যুবায়দা উম্মু জা’ফরকে বিয়ে করেন। এ বিয়ে হয়েছিল পিতা মাহদীর জীবনকালে একশ পঁয়ষটি হিজরী সনে। এ স্ত্রীর গর্ভে জন্ম হয় পুত্র মুহাম্মদ আল-আমীনের। যুবায়দার মৃত্যু হয়েছিল দুইশ ষোল হিজরীতে (বিবরণ সমাগত)। পরে তিনি তাঁর ভাই মূসা আল-হাদীর ‘উম্মু ওয়ালাদ’ (আমাতুল আযীয)-কে বিয়ে করেন এবং এ স্ত্রীর গর্ভে পুত্র আলী ইবনুর রশীদের জন্ম হয়। তিনি সালিহ আল-মিসকীনের কন্যা উম্মু মুহাম্মদকে এবং তাঁর চাচা সুলায়মান ইব্‌ন আবূ জা’ফরের কন্যা হলে আল-আব্বাসাকে বিয়ে করেন এবং আর-রাক্কায় একশ সাতাশি হিজরীতে একই রাতে এ দুই স্ত্রীর সংগে বাসর যাপন করেন । তিনি আযীযা বিনতুল গিতরীফ অর্থাৎ মামাত বোন-তাঁর মা খায়বানের ভাইয়ের কন্যাকে বিয়ে করেন এবং উছমানী বংশের আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন মুহাম্মদ ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আমর ইব্‌ন উছমান ইব্‌ন আফ্ফান (রা)-এর কন্যাকে বিয়ে করেন। একে আল-জুরাশিয়াও বলা হয়। কেননা, ইয়ামানের জুরুশে তার জন্ম হয়েছিল। হারূনুর রশীদ চার জন স্ত্রী রেখে মারা যান। এরা ছিলেন যুবায়দা, আব্বাসা, সালিহের কন্যা এবং এ শেষোক্ত উছমানিয়া । আর বিশিষ্ট ও একান্ত দাসী-বাঁদীর সংখ্যা ছিল অনেক। এমনকি কেউ কেউ বলেছেন যে, তার ভবনে চার হাজার সুন্দরী সেবাদাসী ছিল।
তাঁর পুত্র সন্তানদের মধ্যে রয়েছেন যুবায়দার সন্তান মুহাম্মদ আল-আমীন মারাজিল নাম্নী বাঁদীর ঘরে আবদুল্লাহ্ আল-মামুন। মারিদা নাম্নী উম্মু ওয়ালাদের ঘরে আবূ ইসহাক মুহাম্মদ আল- মু’তাসিম। কাসফ নাম্নী বাঁদীর গর্ভে কাসিম আল-মু’তামান। আমাতুল আযীযের গর্ভে আলী, রাঈম নাম্নী বাঁদীর ঘরে সালিহ । এছাড়া আবূ ইয়াকূব মুহাম্মদ, আবূ ঈসা মুহাম্মদ, আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ও আবূ আলী মুহাম্মদ-এরা সকলেই উম্মু ওয়ালাদের সন্তান। আর কন্যা সন্তানদের…

খলিফা

তথ্যসূত্রঃ
  1. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ৩৮৪ ↩︎

About This Article

Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis

Epistemic Position: Scientific Skepticism and Secular Humanist Ethics

This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.

Its purpose is evidence-based critical examination of religious, philosophical, moral, and historical claims.

Leave a comment

Your email will not be published.