ইসলাম ধর্ম মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোই শুধু যে ক্ষুণ্ণ করে তা নয়, এমনকি ছোট থেকে ছোট বিষয় সম্পর্কেও কঠোর নীতিমালা আরোপ করে এবং মানুষকে সেগুলো করতে বাধ্য করে। ঠিক যেমনটি একটি সেনাবাহিনীতে থাকে, ইসলামের বিধিবিধানও সেরকম। যেমন ধরুন এই হাদিসটি, যা মানুষ কীভাবে চুল কাটবে, সেই বিষয়েও নাক গলায় এবং বিভিন্ন ধরনের হেয়ার স্টাইল নিষিদ্ধ করে,
সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৭৭/ পোশাক
৭৭/৭২. ‘কাযা’ অর্থাৎ মাথার কিছু চুল মুড়ানো ও কিছু অংশে চুল রেখে দেয়া।
৫৯২১. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘কাযা’ থেকে নিষেধ করেছেন। (৫৯২০; মুসলিম ৩৭/৩১, হাঃ ২১২০, আহমাদ ৪৪৭৩) (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৮৪)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই হাদিসটি একটি অযৌক্তিক এবং অন্ধ অনুসরণমূলক নিয়মের উদাহরণ, যা কোনো প্রমাণভিত্তিক কারণ ছাড়াই মানুষের ব্যক্তিগত অভিব্যক্তি এবং স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করে। প্রথমত, ‘কাযা’ স্টাইলটিতে কোনো স্বাস্থ্যগত, সামাজিক বা নৈতিক ক্ষতি প্রমাণিত নয়—এটি শুধুমাত্র একটি ফ্যাশন পছন্দ, যা আধুনিক যুগে মোহক হেয়ারকাট বা আন্ডারকাটের মতো সাধারণ। কেন এটি নিষিদ্ধ হবে? হাদিসটি কোনো যুক্তি প্রদান করে না; বরং এটি শুধুমাত্র একটি প্রাচীনকালীন প্রথা হওয়ায় (প্যাগান রীতির সাথে যুক্ত) নিষেধ করে, যা মূলত অন্ধবিশ্বাস এবং প্রিজুডিসের উপর দাঁড়িয়ে। দার্শনিকভাবে, এমন নিয়ম মানুষের স্বায়ত্তশাসন (autonomy) লঙ্ঘন করে, কারণ এটি ব্যক্তিকে নিজের শরীরের উপর নিয়ন্ত্রণের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে—যা জন স্টুয়ার্ট মিলের ‘হার্ম প্রিন্সিপল’ অনুসারে অযৌক্তিক, যেহেতু এতে অন্য কারো ক্ষতি হয় না।

এই হাদিসটি ধর্মীয় নিয়মের একটি দুর্বলতা প্রকাশ করে, অনর্থক মানুষের ওপর কর্তৃত্ত্ব ফলানোর ক্ষেত্র প্রস্তুত করে। এটি প্রচলিত মতামত বা ঐতিহ্যকে অন্ধভাবে অনুসরণ করতে বলে, যদিও বেশিরভাগ মানুষের বিশ্বাস এটিকে সম্মানযোগ্য করে না। উদাহরণস্বরূপ, আধুনিক সমাজে এমন হেয়ারস্টাইল সৃজনশীলতা বা ব্যক্তিত্ব প্রকাশের মাধ্যম, এবং এটিকে নিষিদ্ধ করা শুধুমাত্র সামাজিক নিয়ন্ত্রণের একটা উপায়। যদি এটি প্যাগান প্রথা হওয়ায় নিষিদ্ধ হয়, তাহলে প্রশ্ন ওঠে যে কেন অন্যান্য প্রাক-ইসলামিক প্রথা (যেমন কিছু পোশাক বা খাবারের অভ্যাস) গ্রহণ করা হয়েছে? এতে কোনো সুসংগত যুক্তি নেই, বরং এটি একটি নির্বিচারী নিষেধ যা মুক্তচিন্তাকে দমিয়ে রাখে। শেষমেশ, এমন নিয়ম অনুসরণ করা মানুষকে যুক্তির পরিবর্তে অন্ধবিশ্বাসের দাসত্বে আবদ্ধ করে, যা কোনো প্রগতিশীল সমাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
