Ya-Sin
ইয়া-সীন: 13
মূল আরবি
وَٱضْرِبْ لَهُم مَّثَلًا أَصْحَـٰبَ ٱلْقَرْيَةِ إِذْ جَآءَهَا ٱلْمُرْسَلُونَ
English Translations
And present to them an example: the people of the city, when the messengers came to it -
And put forward to them a similitude; the (story of the) dwellers of the town, [It is said that the town was Antioch (Antakiya)], when there came Messengers to them.
Cite to them the example of the People of the Town, when the messengers came to it,
Recite to them, as a case in point, the story of the people of the town when the Messengers came to them.
Coin for them a similitude: The people of the city when those sent (from Allah) came unto them;
Set forth to them, by way of a parable, the (story of) the Companions of the City. Behold!, there came messengers to it.
বাংলা অনুবাদ
তাদের কাছে দৃষ্টান্ত স্বরূপ এক জনপদবাসীদের কথা শুনিয়ে দাও যখন তাদের কাছে এসেছিল রসূলগণ।
আর এক জনপদের অধিবাসীদের উপমা তাদের কাছে বর্ণনা কর, যখন তাদের কাছে রাসূলগণ এসেছিল।
তাদের নিকট উপস্থিত কর এক জনপদের অধিবাসীদের দৃষ্টান্ত; তাদের নিকট এসেছিল রাসূলগণ।
আর তাদের কাছে বর্ণনা করুন এক জনপদের অধিবাসীর দৃষ্টান্ত; যখন তাদের কাছে এসেছিল রাসূলগণ।
তুমি তাদের কাছে এক এলাকাবাসীর ঘটনা বর্ণনা কর, যখন তাদের কাছে রাসূলগণ এসেছিলেন।
১৩. আর হে রাসূল! এসব অবিশ্বাসী গোঁড়াদের জন্য আপনি একটি উদাহরণ পেশ করুন। যাতে তাদের জন্য উপদেশ রয়েছে। আর এটি হচ্ছে গ্রামবাসীদের নিকট তাদের রাসূলগণের আগমনেরসময় ঘটে যাওয়া কাহিনী।
তাফসীর
১৩-১৭ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ হে মুহাম্মাদ (সঃ)! তোমার কওমের সামনে তুমি ঐ লোকদের ঘটনা বর্ণনা কর যারা এদের মত তাদের রাসূলদেরকে অবিশ্বাস করেছিল। এটা হলো ইনতাকিয়া শহরের ঘটনা। তথাকার বাদশাহর নাম ইনতায়খাস। তার পিতা ও পিতামহেরও এই নামই ছিল। রাজা ও প্রজা সবাই মূর্তিপূজক ছিল। তাদের কাছে সাদিক, সদূক ও শালুম নামক আল্লাহর তিনজন রাসূল আগমন করেন। কিন্তু এ দুর্বত্তরা তাদেরকে অবিশ্বাস করে। সতুরই এই বর্ণনা আসছে যে, এটা যে ইনতাকিয়ার ঘটনা একথা কোন কোন লোক স্বীকার করেন না। প্রথমে তাদের কাছে দু’জন নবী আগমন করেন। তারা তাদেরকে অস্বীকার করলে তাঁদের শক্তি বৃদ্ধিকল্পে তৃতীয় একজন নবী আসেন।
প্রথম দু'জন নবীর নাম ছিল শামউন ও বুহনা এবং তৃতীয়জনের নাম ছিল বুলাস। তাঁরা তিনজনই বলেনঃ “আমরা আল্লাহর প্রেরিত যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি আমাদের মাধ্যমে তোমাদেরকে হুকুম করেছেন যে, তোমরা তাঁর ছাড়া আর কারো ইবাদত করবে না।” হযরত কাতাদা ইবনে দাআমাহ (রঃ)-এর ধারণা এই যে, এই তিনজন বুযর্গ ব্যক্তি হযরত ঈসা (আঃ)-এর প্রেরিত ছিলেন। ঐ গ্রামের লোকগুলো তাদেরকে বললোঃ “তোমরা তো আমাদের মতই মানুষ। তাহলে এমন কি কারণ থাকতে পারে যে, তোমাদের কাছে আল্লাহর অহী আসবে আর আমাদের কাছে আসবে না? হ্যা, তোমরা যদি রাসূল হতে তবে তোমরা ফেরেশতা হতে।” অধিকাংশ কাফিরই নিজ নিজ যুগের রাসূলদের সামনে এই সন্দেহই পেশ করেছিল।
যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “ওটা এ কারণে যে, তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ দলীল প্রমাণসহ আগমন করতো তখন তারা বলতোঃ মানুষ কি আমাদেরকে হিদায়াত করবে?”(৬৪:৬) অন্য আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ তারা বলেছিল- তোমরা তো আমাদের মতই মানুষ, তোমরা চাচ্ছ যে, আমাদের পিতৃপুরুষরা যাদের ইবাদত করতো তা হতে আমাদেরকে ফিরিয়ে দিবে, সুতরাং আমাদের কাছে প্রকাশ্য দলীল আনয়ন কর।”(১৪:১০) আর এক জায়গায় আছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমরা যদি তোমাদের মত মানুষের আনুগত্য কর তাহলে অবশ্যই তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবে।”(২৩:৩৪) আল্লাহ তা'আলা আরো বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “মানুষকে তাদের কাছে হিদায়াত আসার পর ওর উপর ঈমান আনতে শুধু এটাই বাধা দিয়েছে যে, তারা বলেঃ আল্লাহ কি মানুষকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন?”(১৭:৯৪) এই কথা ঐ লোকগুলোও তিনজন নবীকে বলেছিলঃ “তোমরা আমাদের মতই মানুষ।
আসলে আল্লাহ কিছুই অবতীর্ণ করেননি। তোমরা মিথ্যা কথা বলছো।” নবীগণ উত্তরে বললেনঃ আল্লাহ্ খুব ভাল জানেন যে, আমরা তাঁর সত্য রাসূল। যদি আমরা মিথ্যাবাদী হতাম তবে আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই আমাদেরকে মিথ্যা বলার শাস্তি প্রদান করতেন। কিন্তু তোমরা দেখতে পাবে যে, তিনি আমাদের সাহায্য করবেন এবং আমাদেরকে সম্মানিত করবেন। ঐ সময় তোমাদের কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে উঠবে যে, পরিণাম হিসাবে কে ভাল! যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট। আকাশসমূহে ও যমীনে যা কিছু আছে সবই তিনি জানেন, আর যারা বাতিলের উপর ঈমান এনেছে ও আল্লাহকে অস্বীকার করেছে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।"(২৯:৫২)নবীগণ বললেনঃ স্পষ্টভাবে পৌছিয়ে দেয়াই শুধু আমাদের দায়িত্ব।
মানলে তোমাদেরই লাভ, আর না মানলে তোমাদেরকেই এ জন্যে অনুতাপ করতে হবে। আমাদের কোন ক্ষতি নেই। কাল তোমাদেরকে তোমাদের কৃতকর্মের ফল ভোগ করতে হবে।
আর তাদের কাছে বর্ণনা করুন এক জনপদের অধিবাসীর দৃষ্টান্ত; যখন তাদের কাছে এসেছিল রাসূলগণ।
[সূরা ইয়াসিন (৩৬): আয়াত ১৩ থেকে ১৯] পূর্ণ পৃষ্ঠা
তৃতীয় পরিচ্ছেদ- আয়াতের অর্থ বর্ণনাকারী এই হাদিসগুলোতে প্রমাণ রয়েছে যে, মসজিদ থেকে দূরত্ব অধিক ফজিলতপূর্ণ। তবে কেউ যদি মসজিদের পাশেই অবস্থান করে, তবে কি তার জন্য সেই মসজিদ অতিক্রম করে দূরবর্তী মসজিদে যাওয়া বৈধ? এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি নতুন মসজিদ অতিক্রম করে পুরাতন মসজিদে যেতেন। অন্য বর্ণনা মতে: মসজিদ থেকে যে যত দূরে, তার সওয়াব তত বেশি। হাসান বসরি ও অন্যান্যরা একে অপছন্দ করেছেন এবং বলেছেন: কেউ যেন তার নিকটবর্তী মসজিদ পরিত্যাগ করে অন্য কোথাও না যায়। এটি ইমাম মালিকের মাযহাব। নিজের মসজিদ অতিক্রম করে জামে মসজিদে যাওয়ার বিষয়ে দুটি মত রয়েছে।
ইবনে মাজাহ আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ব্যক্তির নিজ ঘরে সালাত আদায় এক গুণ সালাতের সমান, মহল্লার মসজিদে সালাত পঁচিশ গুণ সালাতের সমান এবং জামে মসজিদে (যেখানে জুমার জামাত হয়) সালাত পাঁচশত গুণ সালাতের সমান।" "দিয়ারাকুম" শব্দটি 'ইগরা' (উৎসাহ প্রদান) হিসেবে মানসুব হয়েছে, অর্থাৎ তোমরা তোমাদের ভিটেমাটিতেই অবস্থান করো। আর "নাক্তুবু" শব্দটি সেই আদেশের উত্তর হিসেবে জজম যুক্ত হয়েছে। "কুল্লা" শব্দটি একটি উহ্য ক্রিয়া দ্বারা মানসুব হয়েছে যা পরবর্তী "আহসাইনা-হু" শব্দ দ্বারা নির্দেশিত, যেন বলা হয়েছে: আমরা প্রতিটি বিষয় গণনা করেছি।
একে মুবতাদা হিসেবে রফ প্রদান করাও জায়েজ, তবে নসব প্রদান করাই উত্তম যাতে একটি ক্রিয়াশীল বাক্যের ওপর অন্য একটি ক্রিয়াশীল বাক্য আতোফ (সংযোজন) হতে পারে। এটি খলিল ও সিবওয়াইহ-এর অভিমত। আর 'ইমাম' হলো সেই কিতাব যাকে অনুসরণ করা হয় এবং যা দলীল হিসেবে গণ্য। মুজাহিদ, কাতাদা এবং ইবনে যায়েদ বলেন: এর দ্বারা লওহে মাহফুজ উদ্দেশ্য। অন্য একটি দল বলেছে: এর দ্বারা আমলনামা উদ্দেশ্য। [সূরা ইয়াসিন (৩৬): আয়াত ১৩ থেকে ১৯]আর আপনি তাদের কাছে জনপদবাসীদের উদাহরণ পেশ করুন, যখন সেখানে রাসূলগণ এসেছিলেন। (১৩) যখন আমি তাদের নিকট দুজনকে পাঠালাম, কিন্তু তারা উভয়কে অস্বীকার করল, অতঃপর আমি তৃতীয় একজনের মাধ্যমে শক্তি প্রদান করলাম।
তারা বলল, 'নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের কাছে প্রেরিত হয়েছি।' (১৪) তারা বলল, 'তোমরা তো আমাদের মতো মানুষ বৈ নও, আর দয়াময় আল্লাহ কিছুই নাযিল করেননি। তোমরা কেবল মিথ্যাই বলছ।' (১৫) তারা বলল, 'আমাদের প্রতিপালক জানেন যে, অবশ্যই আমরা তোমাদের কাছে প্রেরিত হয়েছি।' (১৬) 'আর স্পষ্টভাবে প্রচার করাই কেবল আমাদের দায়িত্ব।' (১৭)তারা বলল, 'আমরা তোমাদের অলক্ষুণে মনে করি। যদি তোমরা বিরত না হও, তবে অবশ্যই আমরা তোমাদের পাথর ছুড়ে মারব এবং আমাদের পক্ষ থেকে তোমাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে।' (১৮) তারা বলল, 'তোমাদের অকল্যাণ তোমাদের সাথেই।
এটা কি এজন্য যে তোমাদের উপদেশ দেওয়া হয়েছে? বরং তোমরা এক সীমালঙ্ঘনকারী জাতি।' (১৯)(১). 'ইউজাম্মিউ' (তশদীদসহ) শব্দটি 'তাজাম্মু' থেকে উদ্ভূত, অর্থাৎ যাতে জুমার সালাত আদায় করা হয়।
