Ya-Sin

ইয়া-সীন: 45

36:45
36 ইয়া-সীন Ya-Sin · 83 আয়াত يس

আরবি

وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ ٱتَّقُوا۟ مَا بَيْنَ أَيْدِيكُمْ وَمَا خَلْفَكُمْ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ

English Translations

Sahih International

But when it is said to them, "Beware of what is before you and what is behind you; perhaps you will receive mercy..."

Muhsin Khan

And when it is said to them: "Beware of that which is before you (worldly torments), and that which is behind you (torments in the Hereafter), in order that you may receive Mercy (i.e. if you believe in Allah's Religion Islamic Monotheism, and avoid polytheism, and obey Allah with righteous deeds).

Taqi Usmani

And (they pay no heed) when it is said to them, “Save yourselves from that (punishment) which is before you (in this world) and that which will come after you (die), so that you may receive mercy”.

Abul Ala Maududi

When it is said to such people: “Guard yourselves against what is ahead of you and what has preceded you that mercy be shown to you” (they pay scant heed to it).

Pickthall

When it is said unto them: Beware of that which is before you and that which is behind you, that haply ye may find mercy (they are heedless).

Yusuf Ali

When they are told, "Fear ye that which is before you and that which will be after you, in order that ye may receive Mercy," (they turn back).

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

তাদেরকে যখন বলা হয় ‘‘তোমাদের সামনে যে পরিণাম আসছে তাত্থেকে আর তোমাদের পেছনের (অতীত জাতিগুলোর উপর ঘটে গেছে সে রকম) ‘আযাব থেকে নিজেদেরকে রক্ষা কর যাতে তোমাদের উপর রহম করা হয় (তখন তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়)।’’

রাওয়াই আল-বায়ান

আর যখন তাদেরকে বলা হয়, যা তোমাদের সামনে আছে এবং যা তোমাদের পিছনে আছে সে বিষয়ে সতর্ক হও, যাতে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করা যায়।

শাইখ মুজিবুর রহমান

যখন তাদেরকে বলা হয়ঃ যা তোমাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে রয়েছে সে সম্বন্ধে সাবধান হও যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পার।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর যখন তাদেরকে বলা হয়, 'যা তোমাদের সামনে ও তোমাদের পিছনে রয়েছে সে ব্যাপারে তাকওয়া অবলম্বন কর; যাতে তোমাদের উপর রহমত করা হয়,

ফাতহুল মাজীদ

যখন তাদেরকে বলা হয় : তোমরা ভয় কর যা তোমাদের সামনে রয়েছে এবং যা তোমাদের পেছনে আছে, যেন তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করা হয়।

মুখতাসার

৪৫. আর যখন এসব ঈমানবিমুখ মুশরিকদেরকে বলা হয় যে, তোমরা সামনের পরকালীন বিষয় ও তার ভয়ানক পরিস্থিতিকে ভয় করো। আরো ভয় করো পেছনের ইহকালীন জীবনকে। যাতে করে আল্লাহ তোমাদের উপর দয়া পরবশ হন। তখন তারা তা মান্য করে নি বরং বেপরওয়াভাবে তারা তা উপেক্ষা করে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

৪৫-৪৭ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা কাফিরদের হঠকারিতা, নির্বুদ্ধিতা, ঔদ্ধ্যত এবং অহংকারের খবর দিচ্ছেন যে, যখন তাদেরকে পাপ কাজ হতে বিরত থাকতে বলা হয় এবং বলা হয়ঃ তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের জন্যে লজ্জিত হও, তাওবা কর এবং আগামীর জন্যে ওগুলো হতে সতর্ক হও ও বেঁচে থাকার চেষ্টা কর, তাহলে পরিণামে আল্লাহ্ তোমাদের প্রতি দয়া করবেন, তখন তারা এটা মেনে নেয়া তো দূরের কথা, বরং অহংকারে ফুলে ওঠে। আল্লাহ্ তা'আলা এখানে এ বাক্যটি বর্ণনা করেননি। কেননা, পরে যে আয়াতটি রয়েছে ওটা স্পষ্টভাবে এটা বলে দিচ্ছে। তাতে এ কথা রয়েছে যে, শুধু কি এটাই? তাদের তো অভ্যাসে পরিণত হয়েছে যে, তারা আল্লাহর প্রত্যেক কথা হতেই মুখ ফিরিয়ে নিয়ে থাকে। না তারা তাঁর একত্ববাদে বিশ্বাসী হয়, না এ ব্যাপারে কোন চিন্তা-ভাবনা করে। তাদের মধ্যে এটা কবুল করে নেয়ার কোন যোগ্যতাই নেই এবং তাদের এ অভিজ্ঞতাও নেই যে, এর থেকে উপকার লাভ করে।যখন তাদেরকে আল্লাহর পথে দান-খয়রাত করতে বলা হয় এবং বলা হয় যে, তাদেরকে আল্লাহ তা'আলা যে জীবনোপকরণ দিয়েছেন তাতে ফকীর মিসকীন ও অভাবগ্রস্তদেরও অংশ রয়েছে তখন তারা উত্তর দেয়ঃ “আল্লাহর ইচ্ছা হলে নিজেই তিনি তাদেরকে খেতে দিতে পারতেন? কাজেই আল্লাহর যখন ইচ্ছা নেই তখন আমরা কেন তাঁর মর্জির উল্টো কাজ করবো? তোমরা যে আমাদেরকে দান খয়রাতের কথা বলছো এটা তোমরা ভুল করছো। তোমরা তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে।” হতে পারে যে, এই শেষ বাক্যটি আল্লাহর পক্ষ হতে কাফিরদের দাবী খণ্ডন করতে গিয়ে বলা হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলাই কাফিরদেরকে বলছেনঃ “তোমরা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে। কিন্তু এর চেয়ে এটাই বেশী ভাল মনে হচ্ছে যে, এটাও কাফিরদেরই জবাবের অংশ। আল্লাহ তা'আলাই এসব ব্যাপারে সবচেয়ে ভাল জানেন।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর যখন তাদেরকে বলা হয়, 'যা তোমাদের সামনে ও তোমাদের পিছনে রয়েছে সে ব্যাপারে তাকওয়া অবলম্বন কর [১]; যাতে তোমাদের উপর রহমত করা হয়,

[১] কাতাদাহ বলেন, এর অর্থ, তাদেরকে বলা হয়, তোমরা তোমাদের পূর্বেকার উম্মতদের উপর যে সমস্ত ঘটনাবলী ঘটেছে, তাদের উপর যে সমস্ত আযাব এসেছে, সে সমস্ত আযাব তোমাদের উপর আসার ব্যাপারে তাকওয়া অবলম্বন কর এবং তোমাদের সামনে যা রয়েছে অর্থাৎ কিয়ামত, সে ব্যাপারেও তাকওয়া অবলম্বন কর। [তাবারী] তবে মুজাহিদ বলেন, তোমাদের পূর্বে বলে, তাদের যে সমস্ত গোনাহ ও অপরাধ ইতোপূর্বে সংঘটিত হয়েছে সেগুলোকে উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। [তাবারী।]