Ya-Sin
ইয়া-সীন: 18
আরবি
قَالُوٓا۟ إِنَّا تَطَيَّرْنَا بِكُمْ ۖ لَئِن لَّمْ تَنتَهُوا۟ لَنَرْجُمَنَّكُمْ وَلَيَمَسَّنَّكُم مِّنَّا عَذَابٌ أَلِيمٌ
English Translations
They said, "Indeed, we consider you a bad omen. If you do not desist, we will surely stone you, and there will surely touch you, from us, a painful punishment."
They (people) said: "For us, we see an evil omen from you, if you cease not, we will surely stone you, and a painful torment will touch you from us."
They (the People of the Town) said, “We take you as a bad omen for us. If you do not desist, we will certainly stone you and you will be afflicted by a painful punishment from us.”
The people of the town said: “We believe you are an evil omen for us. If you do not desist, we will stone you or you will receive a grievous chastisement from us.”
(The people of the city) said: We augur ill of you. If ye desist not, we shall surely stone you, and grievous torture will befall you at our hands.
The (people) said: "for us, we augur an evil omen from you: if ye desist not, we will certainly stone you. And a grievous punishment indeed will be inflicted on you by us."
বাংলা অনুবাদ
জনপদের লোকেরা বলল- আমরা তোমাদেরকেই অমঙ্গলের কারণ মনে করি। তোমরা যদি (প্রচারকার্য থেকে) নিবৃত্ত না হও, তাহলে আমরা অবশ্য অবশ্যই তোমাদেরকে পাথর মেরে হত্যা করব এবং আমাদের পক্ষ থেকে বড়ই মর্মান্তিক শাস্তি তোমাদের উপর অবশ্য অবশ্যই নেমে আসবে।
তারা বলল, ‘আমরা তো তোমাদেরকে অমঙ্গলের কারণ মনে করি। তোমরা যদি বিরত না হও তাহলে আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে পাথর মেরে হত্যা করব এবং আমাদের পক্ষ থেকে তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব স্পর্শ করবে’।
তারা বললঃ আমরা তোমাদেরকে অমঙ্গলের কারণ মনে করি। যদি তোমরা বিরত না হও তাহলে তোমাদেরকে অবশ্যই প্রস্তরাঘাতে হত্যা করব এবং আমাদের পক্ষ হতে তোমাদের উপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি অবশ্যই আপতিত হবে।
তারা বলল, 'আমরা তো তোমাদেরকে অমঙ্গলের কারণ মনে করি, যদি তোমরা বিরত না হও তোমাদেরকে অবশ্যই পাথরের আঘাতে হত্যা করব এবং অবশ্যই স্পর্শ করবে তোমাদের উপর আমাদের পক্ষ থেকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।'
তারা বলল : আমরা তোমাদেরকে অমঙ্গলের কারণ মনে করি; যদি তোমরা বিরত না হও তবে আমরা তোমাদেরকে পাথর মেরে ধ্বংস করে ফেলব এবং আমাদের পক্ষ থেকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তোমাদের স্পর্শ করবে।
১৮. গ্রামবাসীরা রাসূলগণকে বললো: আমরা তোমাদেরকে কুলক্ষণ হিসাবে ধরে নিয়েছি। যদি একত্ববাদের দাওয়াত থেকে বিরত না হও তবে আমরা তোমাদেরকে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত পাথরের আঘাতে শাস্তি দিতে থাকবো। আর তোমাদেরকে আমাদের পক্ষ থেকে অবশ্যই কষ্টদায়ক শাস্তি পোহাতে হবে।
তাফসীর
১৮-১৯ নং আয়াতের তাফসীর: ঐ গ্রামবাসীরা রাসূলদেরকে বললোঃ “তোমাদের আগমনে আমরা বরকত ও কল্যাণ লাভ করিনি, বরং আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। জেনে রেখো যে, তোমরা যদি তোমাদের এ কাজ হতে বিরত না হও, বরং এসব কথাই বলতে থাকো তবে আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করবো এবং আমাদের পক্ষ হতে তোমাদের উপর বেদনাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে।” রাসূলগণ উত্তরে বললেনঃ “তোমাদের অমঙ্গল তোমাদেরই সাথে। তোমাদের কাজই খারাপ। তোমাদের উপর বিপদ আপতিত হবার এটাই কারণ হবে। তোমরা যেমন কাজ করবে তেমনই ফল পাবে। এ কথাই ফিরাউন ও তার লোকেরা হযরত মূসা (আঃ) ও তাঁর কওমের মুমিনদেরকে বলেছিল। যখন তারা কোন আরাম ও শান্তি লাভ করতো তখন বলতোঃ “আমরা তো এর প্রাপকই ছিলাম। আর যখন তাদের উপর কোন বিপদ আপতিত হতো তখন হযরত মূসা (আঃ) ও মুমিনদেরকে কুলক্ষণে মনে করতো। যার জবাবে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ ... (আরবী) অর্থাৎ “জেনে রেখো যে, আল্লাহর কাছে তাদের অমঙ্গল তাদের সাথেই।” অর্থাৎ তাদের বিপদাপদের কারণ তাদের খারাপ আমল, যার শাস্তি আল্লাহর পক্ষ হতে তাদের উপর আপতিত হচ্ছে। হযরত সালেহ (আঃ)-এর কওমও তাঁকে এ কথাই বলেছিল এবং তিনিও এ জবাবই দিয়েছিলেন। স্বয়ং হযরত মুহাম্মাদ (সঃ)-কেও একথাই বলা হয়েছিল। যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যখন তাদের কাছে কোন কল্যাণ পৌঁছে তখন তারা বলেঃ এটা আল্লাহর পক্ষ হতে এবং যখন কোন অকল্যাণ পৌঁছে তখন বলেঃ এটা তোমার পক্ষ হতে। তুমি বলঃ সবই আল্লাহর পক্ষ হতে সুতরাং এই কওমের কি হয়েছে যে, তারা কথা বুঝতেই চাচ্ছে না?”(৪:৭৮)নবীরা তাদেরকে বললেনঃ এটা কি এজন্যে যে, আমরা তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি এবং তোমাদের মঙ্গল কামনা করছি তোমাদেরকে আল্লাহর একত্ববাদের দিকে আহ্বান করছি? তোমরা আমাদেরকে তোমাদের অমঙ্গলের কারণ মনে করে ফেললে এবং আমাদেরকে ভয় দেখাতে লাগলে! আর তোমরা আমাদের সাথে মুকাবিলা করতে প্রস্তুত হয়ে গেলে! প্রকৃত ব্যাপার এই যে, তোমরা সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়। দেখো, আমরা তোমাদের মঙ্গল কামনা করছি, আর তোমরা আমাদের অমঙ্গল কামনা করছে। একটু চিন্তা করে বলতো, এটা কি ইনসাফের কাজ হচ্ছে? বড় আফসোসের বিষয় যে, তোমরা ইনসাফের সীমালংঘন করে ফেলেছে এবং ইনসাফ হতে বহু দূরে সরে পড়েছো!
তারা বলল, 'আমরা তো তোমাদেরকে অমঙ্গলের কারণ মনে করি [১], যদি তোমরা বিরত না হও তোমাদেরকে অবশ্যই পাথরের আঘাতে হত্যা করব এবং অবশ্যই স্পর্শ করবে তোমাদের উপর আমাদের পক্ষ থেকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।'
[১] মূলে تطير বলা হয়েছে, এর অর্থ অশুভ, অমঙ্গল ও অলক্ষুণে মনে করা। উদ্দেশ্য এই যে, শহরবাসীরা প্রেরিত লোকদের কথা অমান্য করল এবং বলতে লাগল, তোমরা অলক্ষুণে। কোন কোন বর্ণনায় এসেছে, তাদের অবাধ্যতা ও রাসূলদের কথা অমান্য করার কারণে জনপদে দূর্ভিক্ষ শুরু হয়ে যায়। ফলে তারা তাদেরকে অলক্ষুণে বলল। কাফেরদের সাধারণ অভ্যাস এই যে, কোন বিপদাপদ দেখলে তার কারণ হেদায়াতকারী ব্যক্তিবর্গকে সাব্যস্ত করে। অথবা তাদের এ বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল একথা বুঝানো যে, তোমরা এসে আমাদের উপাস্য দেবতাদের বিরুদ্ধে যেসব কথাবার্তা বলতে শুরু করেছো তার ফলে দেবতারা আমাদের প্রতি রুষ্ট হয়ে উঠেছে এবং এখন আমাদের ওপর যেসব বিপদ আসছে তা আসছে তোমাদেরই বদৌলতে। ঠিক এ একই কথাই আরবের কাফের ও মোনাফিকরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিরুদ্ধে বলতোঃ “যদি তারা কোন কষ্টের সম্মুখীন হতো, তাহলে বলতো, এটা হয়েছে তোমার কারণে।" [সূরা আন-নিসা: ৭৮] তাই কুরআন মজীদে বিভিন্ন স্থানে তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, এ ধরনের জাহেলী কথাবার্তাই প্রাচীন যুগের লোকেরাও তাদের নবীদের সম্পর্কে বলতো। সামূদ জাতি তাদের নবীকে বলতো, “আমরা তোমাকে ও তোমার সাথীদেরকে অমংগলজনক পেয়েছি।” [সূরা আন-নমল: ৪৭] আর ফেরাউনের জাতিও এ একই মনোভাবের অধিকারী ছিলঃ “যখন তারা ভালো অবস্থায় থাকে তখন বলে, এটা আমাদের সৌভাগ্যের ফল এবং তাদের ওপর কোন বিপদ এলে তাকে মূসা ও তার সাথীদের অলক্ষ্মণের ফল গণ্য করতো।” [সূরা আল-আরাফ: ১৩১]
