জ্ঞানকোষ প্রবন্ধ

ইসলামি খিলাফতের টাইমলাইন | কল্পিত স্বর্ণযুগের ব্যবচ্ছেদ

প্রকাশিত: এপ্রিল 25, 2026লেখক: আসিফ মহিউদ্দীন62 মিনিট পড়া

খিলাফতের নামে একটিমাত্র অবিচ্ছিন্ন রাষ্ট্র ছিল না। একই উপাধির অধীনে কখনো সরাসরি সাম্রাজ্যশাসন, কখনো সামরিক শাসকের নিয়ন্ত্রিত ধর্মীয় অনুমোদন, কখনো প্রতিদ্বন্দ্বী রাজবংশের সার্বভৌম দাবি এবং কখনো নির্বাহী ক্ষমতাবিহীন পদ বোঝানো হয়েছে। প্রথম চার খলিফার তিনজন—উমর, উসমান ও আলী—হিংসাত্মক আক্রমণে নিহত হন। পরবর্তী ইতিহাসে মুহাম্মদের পরিবার হত্যা, মুসলিমদের গৃহযুদ্ধ, পবিত্র নগর অবরোধ, দাসশ্রম, ধর্মীয় নিপীড়ন এবং রাজবংশীয় হত্যার ধারাও অব্যাহত ছিল। একে অবিভক্ত শান্তি ও সর্বজনীন ন্যায়বিচারের “স্বর্ণযুগ” বলা ঐতিহাসিকভাবে মিথ্যা।

জ্ঞানচর্চা, চিকিৎসা, গণিত, নগরায়ণ ও শিল্পের অর্জন নির্দিষ্ট সমাজ ও প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস। সেই অর্জন থেকে শাসনব্যবস্থার ন্যায়পরায়ণতা বা ধর্মীয় দাবির সত্যতা অনুসরণ করে না। একই রাষ্ট্রে পণ্ডিতের পৃষ্ঠপোষকতা এবং ভিন্নমতাবলম্বীর নিপীড়ন পাশাপাশি ঘটেছে। খিলাফতের ক্ষমতা ও সমৃদ্ধির সঙ্গে শাসিত মানুষের স্বাধীনতা এক বিষয় ছিল না।

নিচের সময়সীমাগুলো খ্রিস্টাব্দে; হিজরি সাল প্রয়োজনমতো আলাদা করে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ঘটনাগুলোর কিছু তারিখ বর্ণনাভেদে এক-দুই বছর আলাদা। আঞ্চলিক ও প্রতিদ্বন্দ্বী খিলাফতের পর্বগুলো পরস্পরের সঙ্গে সময়গতভাবে মিলে যায়—এক পর্বের শুরু মানেই আগের সব রাষ্ট্রের অবসান নয়। আব্বাসীয় ও অটোমান শাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত সুলতানদের পৃথকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে; তারা সবাই স্বতন্ত্র খলিফা ছিলেন না।

১ম খলিফা: আবু বকর
৬৩২ – ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দ

হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, খাইবারে বিষপ্রয়োগের পরিণতিতে ৬৩২ সালে মুহাম্মদের মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর পর নেতৃত্ব, রাজস্ব ও গোত্রীয় আনুগত্য নিয়ে সংকট শুরু হয়। পরবর্তী খলিফা বাছাইয়ের এমন কোনো সর্বস্বীকৃত ব্যবস্থা কার্যকর ছিল না, যা আনসার, মুহাজির ও মুহাম্মদের পরিবারকে এক সিদ্ধান্তে বেঁধেছিল। আবু বকর সাকিফার রাজনৈতিক সমঝোতা ও পরবর্তী বায়আতের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তার প্রায় দুই বছরের শাসনে ধর্মত্যাগ, জাকাত প্রত্যাখ্যান, প্রতিদ্বন্দ্বী নবুয়ত ও মদিনার কর্তৃত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আন্দোলন সামরিকভাবে দমন করা হয়; এরপর ইরাক ও সিরিয়ায় বহির্মুখী যুদ্ধ বিস্তৃত হয়। ধর্মীয় পরিচয়, কর আদায় ও রাজনৈতিক আনুগত্য একই রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বে যুক্ত হয়ে যায়।

খাইবারে বিষপ্রয়োগের পরিণতিতে মুহাম্মদের মৃত্যু ৬৩২ খ্রিস্টাব্দ

খাইবারে এক ইহুদি নারী মুহাম্মদকে বিষাক্ত ভেড়ার মাংস দেন এবং তিনি তা খান—বুখারি ২৬১৭-তে এই ঘটনার বর্ণনা আছে। আয়েশার বর্ণনায় মৃত্যুকালীন অসুস্থতায় মুহাম্মদ সেই বিষে মহাধমনি বিচ্ছিন্ন হওয়ার যন্ত্রণা অনুভব করার কথা বলেন। হাদিসের এই বর্ণনা অনুযায়ী তার মৃত্যু খাইবারে বিষপ্রয়োগের পরিণতি। [1]

فَهَذَا أَوَانُ وَجَدْتُ انْقِطَاعَ أَبْهَرِي مِنْ ذَلِكَ السَّمِّ

বাংলা অনুবাদ: এখন সেই বিষে আমার মহাধমনি বিচ্ছিন্ন হওয়ার যন্ত্রণা অনুভব করছি।

বিষাক্ত মাংস খাওয়ার ঘটনাটি আনাস ইবন মালিকের বর্ণনাতেও সংরক্ষিত আছে। [2]

أَتَتِ النَّبِيَّ بِشَاةٍ مَسْمُومَةٍ، فَأَكَلَ مِنْهَا

বাংলা অনুবাদ: তিনি নবীর কাছে বিষাক্ত ভেড়া আনেন; তিনি তা থেকে খান।

সাকিফা সভা ও নেতৃত্ব নির্বাচন ৬৩২ খ্রিস্টাব্দ

বনি সাঈদার সাকিফায় নেতৃত্ব নিয়ে আনসার ও মুহাজিরদের তর্কের মধ্যে উমর আবু বকরের হাতে বায়আত করেন। বুখারিতে সংরক্ষিত উমরের ভাষণে ঘটনাটিকে “ফালতা”—আকস্মিকভাবে ঘটে যাওয়া সিদ্ধান্ত—বলা হয়েছে; একই বর্ণনায় আলী ও যুবাইর তাদের সঙ্গে ছিলেন না। সুতরাং শুরু থেকেই সব প্রভাবশালী পক্ষের অংশগ্রহণে সর্বসম্মত নির্বাচন হয়েছিল—এ দাবি ভুল। [3]

وَخَالَفَ عَنَّا عَلِيٌّ وَالزُّبَيْرُ وَمَنْ مَعَهُمَا

বাংলা অনুবাদ: আলী, যুবাইর এবং তাদের সঙ্গীরা আমাদের থেকে পৃথক ছিলেন।

রিদ্দা যুদ্ধসমূহ ৬৩২ – ৬৩৩ খ্রিস্টাব্দ

ধর্মত্যাগী গোষ্ঠী, মুসাইলিমা-তুলাইহাদের অনুসারী এবং জাকাত বা মদিনার রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রত্যাখ্যানকারী গোত্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চলে। তাদের সবাই আগে শুধু তরবারির ভয়ে ইসলাম নিয়েছিল—এমন একক ব্যাখ্যার পক্ষে প্রমাণ নেই। বিদ্রোহগুলোর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক চরিত্র পৃথক হলেও আবু বকরের নীতি ছিল সামরিক বলপ্রয়োগে আনুগত্য ও রাজস্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

জাকাত প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা ৬৩২ খ্রিস্টাব্দ

উমর যখন মুসলিম পরিচয় ঘোষণাকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে আপত্তি করেন, আবু বকর নামাজ ও জাকাতকে আলাদা করা লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত জানান। এখানে শুধু নতুন ধর্মীয় মতের বিরোধিতা নয়, কেন্দ্রকে অর্থ দিতে অস্বীকৃতিও যুদ্ধের কারণ। ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা কার্যকর করতে রাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ব্যবহারের একটি সরাসরি দলিল এটি। [4]

لأُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الصَّلاَةِ وَالزَّكَاةِ

বাংলা অনুবাদ: যে নামাজ ও জাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে, তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।

ইয়ামামার যুদ্ধ ৬৩২ / ৬৩৩ খ্রিস্টাব্দ

মুসাইলিমার নেতৃত্বাধীন বনি হানিফার বিরুদ্ধে খালিদ ইবনুল ওয়ালিদের বাহিনী যুদ্ধ করে; মুসাইলিমা নিহত হন। বুখারির সংকলনবিষয়ক বর্ণনায় এই যুদ্ধে বহু কুরআন-পাঠকের মৃত্যু ও ভবিষ্যতে পাঠ হারানোর আশঙ্কাকে কুরআন সংগ্রহের প্রেরণা বলা হয়েছে। যুদ্ধটির বছর ৬৩২ বা ৬৩৩ হিসেবে দেওয়া হয়; নির্দিষ্ট দিনকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।

কুরআনের প্রাথমিক সংগ্রহ ইয়ামামার পরে, ৬৩২ – ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে; বর্ণনাভিত্তিক

বুখারির বর্ণনায় উমরের প্রস্তাবের জবাবে আবু বকর প্রথমে প্রশ্ন করেন, মুহাম্মদ যা করেননি তা কীভাবে করবেন। পরে জায়েদ ইবন সাবিত লিখিত উপকরণ ও মুখস্থ পাঠ থেকে সংগ্রহ করেন; সংগৃহীত পত্র আবু বকর, উমর এবং পরে হাফসার কাছে থাকে। এই বর্ণনায় মুহাম্মদের জীবদ্দশায় সম্পন্ন রাষ্ট্রীয় গ্রন্থ-সংকলনের বদলে মৃত্যুর পর উদ্যোগ নেওয়ার কথা আছে। কুরআন সংকলন বিষয়ে সংশয়ের পৃথক আলোচনা। [5]

كَيْفَ تَفْعَلُ شَيْئًا لَمْ يَفْعَلْهُ رَسُولُ اللَّهِ

বাংলা অনুবাদ: আল্লাহর রাসুল যা করেননি, তা তুমি কীভাবে করবে?

ফাদাক, উত্তরাধিকার ও ফাতিমার সঙ্গে বিরোধ ৬৩২ খ্রিস্টাব্দ

ফাতিমা মদিনা, ফাদাক ও খাইবারের সম্পদে উত্তরাধিকার চাইলে আবু বকর নবীদের সম্পদ উত্তরাধিকার হয় না—এই বক্তব্য দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন। বুখারির বর্ণনায় ফাতিমা ক্ষুব্ধ হন এবং মৃত্যু পর্যন্ত তার সঙ্গে কথা বলেননি; আলী রাতে তাকে দাফন করেন। একই বর্ণনায় কয়েক মাস আলীর বায়আত না দেওয়ার কথা আছে। ক্ষমতা ও সম্পদ নিয়ে বিভাজন নবীর পরিবারের ভেতর পর্যন্ত পৌঁছেছিল। [6]

فَهَجَرَتْهُ، فَلَمْ تُكَلِّمْهُ حَتَّى تُوُفِّيَتْ

বাংলা অনুবাদ: তিনি তার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করেন; মৃত্যু পর্যন্ত কথা বলেননি।

ইরাক ও সিরিয়া সীমান্তে প্রথম বহির্মুখী অভিযান ৬৩৩ – ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দ

আরবের অভ্যন্তরীণ বিরোধ দমনের পর নবগঠিত রাষ্ট্র বাইজান্টাইন সিরিয়া ও সাসানীয় ইরাক সীমান্তে সামরিক অভিযান শুরু করে। পরবর্তী বৃহৎ বিজয়যুদ্ধের ভিত্তি এ সময়েই তৈরি হয়।

আজ্নাদাইনের যুদ্ধ জুলাই–আগস্ট ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দ

সিরিয়া-প্যালেস্টাইনে বাইজান্টাইন বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক যুদ্ধ। প্রচলিত ৬৩৪ সালের তারিখ অনুযায়ী এটি আবু বকরের শেষ শাসনপর্বের ঘটনা, উমরের আমলের নয়। কিছু প্রাচীন বর্ণনায় ৬৩৬ সালও আছে; আধুনিক গবেষণায় ৬৩৪ সালের তারিখটি বেশি গৃহীত। [7]

Ecnâdeyn Savaşı’nın tarihi hakkında ihtilâf vardır.

বাংলা অনুবাদ: আজ্নাদাইনের যুদ্ধের তারিখ সম্পর্কে মতভেদ আছে।

উমরকে উত্তরসূরি মনোনয়ন ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দ

আবু বকর মৃত্যুর আগে উমরকে পরবর্তী শাসক হিসেবে মনোনীত করেন। সাকিফার তাৎক্ষণিক বায়আত ও এই মনোনয়ন একই নির্বাচনপদ্ধতি ছিল না। প্রথম দুই ক্ষমতান্তরেই খলিফা নিয়োগের অভিন্ন সাংবিধানিক নিয়মের অনুপস্থিতি প্রকাশ পায়।

সম্পর্কিত গ্রন্থ: Fred Donner, The Early Islamic Conquests; Hugh Kennedy, The Prophet and the Age of the Caliphates; Wilferd Madelung, The Succession to Muhammad


২য় খলিফা: উমর ইবনুল খাত্তাব
৬৩৪ – ৬৪৪ খ্রিস্টাব্দ

উমরের শাসনামলে আরও ব্যাপকভাবে বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রমণাত্মক জিহাদ শুরু হয়। আরব-ইসলামি রাষ্ট্র দ্রুত সাম্রাজ্যে রূপান্তরিত হয়। বাইজান্টাইন ও সাসানীয় দুই পরাশক্তির দীর্ঘ যুদ্ধ, অর্থনৈতিক ক্লান্তি এবং সীমান্ত দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে মুসলিম বাহিনী অভূতপূর্ব গতিতে বিস্তৃত অঞ্চল দখল করে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কাঠামো, সৈন্যভাতা ব্যবস্থা এবং গ্যারিসন নগর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি স্থায়ী সাম্রাজ্যিক ভিত্তি গড়ে ওঠে।

জিজিয়া, খারাজ ও বিজিত জনসংখ্যার অধীনতা ৬৩০-এর শেষভাগ – ৬৪০-এর দশক

উমরের আমলে ইরাক-ইরানের যুদ্ধের বর্ণনায় মুসলিম সেনাপতি মুগিরা প্রতিপক্ষকে ইসলাম গ্রহণ অথবা জিজিয়া প্রদানের শর্ত জানান। ধর্মান্তর, কর ও যুদ্ধের এই সম্পর্ক সাম্রাজ্য বিস্তারকে নিছক ধর্মপ্রচার হিসেবে দেখার সুযোগ দেয় না। খারাজ ছিল ভূমি-রাজস্ব; জিজিয়া ছিল অমুসলিম প্রজার ওপর ধার্য কর, যদিও প্রাথমিক ব্যবহার ও আঞ্চলিক ব্যবস্থায় পরিভাষার পার্থক্য সবসময় পরবর্তী ফিকহের মতো স্থির ছিল না। [8]

حَتَّى تَعْبُدُوا اللَّهَ وَحْدَهُ أَوْ تُؤَدُّوا الْجِزْيَةَ

বাংলা অনুবাদ: যতক্ষণ না তোমরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করো অথবা জিজিয়া দাও।

গ্যারিসন নগর প্রতিষ্ঠা উমর যুগ

বসরা, কুফা ও ফুস্তাতের মতো নগর গড়ে তোলা হয়, যেখানে সৈন্য ও প্রশাসনিক জনবল কেন্দ্রীভূত ছিল। এগুলো পরবর্তী ইসলামি ইতিহাসে রাজনৈতিক কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

ইয়ারমুকের যুদ্ধ ৬৩৬ খ্রিস্টাব্দ

বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে নির্ণায়ক যুদ্ধ। এই পরাজয়ের পর সিরিয়া ও প্যালেস্টাইনে বাইজান্টাইনের নিয়ন্ত্রণ দ্রুত ভেঙে পড়ে। বহু ইতিহাসবিদ এটিকে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দেওয়া যুদ্ধ হিসেবে দেখেন।

কাদিসিয়্যার যুদ্ধ ৬৩৬ / ৬৩৭ খ্রিস্টাব্দ

সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাসের নেতৃত্বাধীন বাহিনী সাসানীয় সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে; সেনাপতি রুস্তম নিহত হন। যুদ্ধের তারিখে বর্ণনাভেদ আছে, প্রচলিত হিসাব ৬৩৬ বা ৬৩৭। ইরাকের সাসানীয় সামরিক প্রতিরোধ ভাঙলেও ইরানের সব অঞ্চলে তখনই স্থায়ী আরব নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

মাদাইন (কতেসিফন) দখল ৬৩৭ খ্রিস্টাব্দ

সাসানীয় রাজধানী কতেসিফন মুসলিম বাহিনীর হাতে পড়ে। বিপুল যুদ্ধলব্ধ সম্পদ নতুন রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি করে।

জেরুজালেম আত্মসমর্পণ ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দ

জেরুজালেম মুসলিম নিয়ন্ত্রণে আসে। পরবর্তী ইসলামি ঐতিহ্যে এ ঘটনাকে উচ্চ প্রতীকী মর্যাদা দেওয়া হয়।

দিওয়ান ব্যবস্থা ও সামরিক ভাতা ৬৩৮ – ৬৪৪ খ্রিস্টাব্দ

যোদ্ধা ও উপজাতীয় শ্রেণিকে তালিকাভুক্ত করে ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা চালু হয়। এতে বিজয়ী আরব সামরিক শ্রেণি রাষ্ট্রের বিশেষ সুবিধাভোগী গোষ্ঠীতে পরিণত হয়।

দুর্ভিক্ষ ও আমওয়াসের মহামারি প্রায় ৬৩৮ – ৬৩৯ খ্রিস্টাব্দ

আরবের দুর্ভিক্ষ ও সিরিয়া-প্যালেস্টাইনের আমওয়াস মহামারি খাদ্য সরবরাহ, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনকে আঘাত করে। ইসলামি ঐতিহ্যে দুর্ভিক্ষের বছর “আমুর রামাদা” নামে পরিচিত। সাম্রাজ্যের সামরিক বিস্তার চললেও জনজীবনে খাদ্যাভাব ও রোগের বড় সংকট ছিল।

মিশর বিজয় ৬৩৯ – ৬৪২ খ্রিস্টাব্দ

আমর ইবন আল-আসের নেতৃত্বে মিশর দখল করা হয়। বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য তার অন্যতম সমৃদ্ধ প্রদেশ হারায় এবং ভূমধ্যসাগরীয় রাজনীতিতে নতুন শক্তি আবির্ভূত হয়।

নিহাওয়ান্দের যুদ্ধ ৬৪২ খ্রিস্টাব্দ

নিহাওয়ান্দে সাসানীয় বাহিনীর বড় পরাজয় ঘটে। এর পরও স্থানীয় প্রতিরোধ, সমঝোতা, কর প্রত্যাখ্যান ও পুনর্দখলের অভিযান চলেছে। শেষ সাসানীয় সম্রাট ইয়াজদগির্দ তৃতীয়ের মৃত্যু ৬৫১/৬৫২ সালে; সাম্রাজ্যের অবসান ও নিহাওয়ান্দের যুদ্ধ একই বছরের ঘটনা নয়।

উমরের হত্যাকাণ্ড ৬৪৪ খ্রিস্টাব্দ

মদিনায় নামাজের সময় আল-মুগিরার দাস আবু লুলু ফিরুজ উমরকে ছুরিকাঘাত করেন; উমর আঘাতের পরে মারা যান। বুখারির বর্ণনায় আক্রমণকারীকে আল-মুগিরার দাস হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে উমর ছয়জনের একটি উত্তরাধিকার-পরিষদ নির্ধারণ করেন। উমরের মৃত্যু ও পরবর্তী ঘটনাবলি। [9]

غُلاَمُ الْمُغِيرَةِ

বাংলা অনুবাদ: আল-মুগিরার দাস।

সম্পর্কিত গ্রন্থ: Hugh Kennedy, The Prophet and the Age of the Caliphates; Fred Donner, The Early Islamic Conquests; Chase F. Robinson, Empire and Elites after the Muslim Conquest


৩য় খলিফা: উসমান ইবন আফফান
৬৪৪ – ৬৫৬ খ্রিস্টাব্দ

উসমানের শাসনামলে সাম্রাজ্যিক বিস্তার অব্যাহত থাকলেও প্রশাসনিক স্বজনপ্রীতি, গভর্নর নিয়োগে উমাইয়া আত্মীয়দের প্রাধান্য এবং প্রাদেশিক অসন্তোষ দ্রুত বাড়তে থাকে। তার সময়ে কোরআনের মানক পাঠ প্রণয়ন ইসলামি ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট প্রথম গৃহযুদ্ধের পটভূমি তৈরি করে।

উত্তর আফ্রিকা ও পূর্বাঞ্চলে অভিযান ৬৪০-এর দশক – ৬৫০-এর দশক

মুসলিম বাহিনী উত্তর আফ্রিকার দিকে অগ্রসর হয় এবং খোরাসান, আর্মেনিয়া ও মধ্য এশিয়ার সীমান্তে অভিযান পরিচালনা করে। সাম্রাজ্য বিস্তৃতি চলতে থাকলেও কেন্দ্রীয় শাসনচাপও বৃদ্ধি পায়।

শূরা পরিষদের মাধ্যমে নির্বাচন ৬৪৪ খ্রিস্টাব্দ

উমরের মনোনীত ছয়জন ছিলেন আলী, উসমান, তালহা, যুবাইর, সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাস ও আবদুর রহমান ইবন আওফ। আবদুর রহমান নিজের দাবি প্রত্যাহার করে সিদ্ধান্তে প্রধান ভূমিকা রাখেন এবং উসমানের হাতে বায়আত করেন। এটি সাম্রাজ্যের সব প্রজার ভোটে নির্বাচন ছিল না; নির্দিষ্ট কুরাইশি অভিজাতদের মধ্যকার উত্তরাধিকার-নির্ধারণ ছিল।

উমাইয়া প্রশাসনিক নেটওয়ার্কের উত্থান ৬৪৪ – ৬৫৫ খ্রিস্টাব্দ

সিরিয়া, কুফা, বসরা, মিশরসহ বিভিন্ন প্রদেশে উসমান নিজের আত্মীয়স্বজন ও বিশ্বস্ত উমাইয়া ব্যক্তিদের গভর্নর নিযুক্ত করেন। বিরোধীরা এটিকে রাষ্ট্রযন্ত্রের গোত্রীয় দখল হিসেবে সমালোচনা করে।

নৌবাহিনীর বিকাশ ও ভূমধ্যসাগরীয় অভিযান ৬৪৯ – ৬৫৫ খ্রিস্টাব্দ

সিরিয়ার গভর্নর মুয়াবিয়ার অধীনে মুসলিম নৌবাহিনী গড়ে ওঠে। সাইপ্রাস অভিযান এবং ‘Battle of the Masts’ সংঘর্ষে বাইজান্টাইনের বিরুদ্ধে সাফল্য অর্জিত হয়।

কুরআনের মানক সংস্করণ প্রণয়ন প্রায় ৬৫০ খ্রিস্টাব্দ

বুখারির বর্ণনায় হাফসার সংরক্ষিত পত্র এনে জায়েদ, আবদুল্লাহ ইবন যুবাইর, সাঈদ ইবন আস ও আবদুর রহমান ইবন হারিসের কমিটি অনুলিপি তৈরি করে। প্রদেশগুলোতে নির্ধারিত কপি পাঠিয়ে অন্য লিখিত কুরআন-পত্র ও মুসহাফ পোড়ানোর নির্দেশ দেন উসমান। এটি নির্দিষ্ট লিখিত পাঠের রাষ্ট্রীয় মান্যকরণ; পরবর্তীকালে অনুমোদিত সব কিরাআত এই নির্দেশে বিলুপ্ত হয়েছিল—এ দাবি এর সমার্থক নয়। [10]

فِي كُلِّ صَحِيفَةٍ أَوْ مُصْحَفٍ أَنْ يُحْرَقَ

বাংলা অনুবাদ: প্রত্যেক পত্র বা মুসহাফ পুড়িয়ে দিতে।

প্রাদেশিক অসন্তোষের বিস্তার ৬৫৩ – ৬৫৬ খ্রিস্টাব্দ

মিশর, কুফা ও বসরায় করনীতি, গভর্নরদের আচরণ, এবং সম্পদ বণ্টন নিয়ে ক্ষোভ বাড়ে। প্রাথমিক বিজয়যুদ্ধের পর নতুন সম্পদের প্রবাহ কমে আসাও উত্তেজনা বাড়ায়।

মদিনা অবরোধ ৬৫৬ খ্রিস্টাব্দ

বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো মদিনায় এসে উসমানের বাড়ি অবরোধ করে। কেন্দ্রীয় কর্তৃত্ব তখন কার্যত দুর্বল হয়ে পড়ে।

উসমানের হত্যাকাণ্ড ৬৫৬ খ্রিস্টাব্দ

বিদ্রোহীরা মদিনায় উসমানের গৃহে ঢুকে তাকে হত্যা করে। হত্যাকারীদের পরিচয় ও মুহাম্মদ ইবন আবু বকরের ভূমিকা নিয়ে বর্ণনাগুলো এক নয়: কিছু বর্ণনায় তার প্রবেশ ও দাড়ি ধরার কথা আছে, অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে তিনি বেরিয়ে যান এবং হত্যায় অংশ নেননি। উসমানের হত্যাকাণ্ডের বিস্তৃত আলোচনা। [11]

فَخَرَجَ وَلَمْ يَدْرِ مِنْ دَمِهِ بِشَيْءٍ

বাংলা অনুবাদ: সে বেরিয়ে যায়; তার রক্তপাতে অংশ নেয়নি।

সম্পর্কিত গ্রন্থ: Hugh Kennedy, The Prophet and the Age of the Caliphates; Wilferd Madelung, The Succession to Muhammad; Michael Cook, Commanding Right and Forbidding Wrong in Islamic Thought


৪র্থ খলিফা: আলী ইবন আবী তালিব
৬৫৬ – ৬৬১ খ্রিস্টাব্দ

আলীর শাসনামল শুরু থেকেই বৈধতা সংকট, প্রতিশোধের দাবি, প্রাদেশিক বিদ্রোহ এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জর্জরিত ছিল। উসমানের হত্যাকাণ্ডের পর তিনি খলিফা নির্বাচিত হলেও সবাই তাকে স্বীকৃতি দেয়নি। এ সময়কার সংঘর্ষসমূহ ইসলামি ইতিহাসে “প্রথম ফিতনা” নামে পরিচিত, যার ফলেই পরবর্তী সুন্নি, শিয়া ও খারিজি বিভাজনের ভিত্তি গড়ে ওঠে।

আলীর খিলাফত গ্রহণ ৬৫৬ খ্রিস্টাব্দ

উসমানের মৃত্যুর পর মদিনায় বহু প্রভাবশালী গোষ্ঠী আলীর প্রতি বায়আত প্রদান করে। তবে সিরিয়ার গভর্নর মুয়াবিয়া এবং উসমানপন্থী শক্তিগুলো অবিলম্বে তার কর্তৃত্ব মেনে নেয়নি।

রাজধানী কুফায় স্থানান্তর ৬৫৬ খ্রিস্টাব্দের শেষভাগ – ৬৫৭ খ্রিস্টাব্দ

জামালের যুদ্ধের পর আলী কুফাকে তার শাসন ও সামরিক অভিযানের প্রধান কেন্দ্র করেন। ইরাকের সৈন্যসমাজ ও রাজস্বভিত্তির গুরুত্ব বেড়ে যায়। মদিনা আর প্রতিদ্বন্দ্বী সব প্রদেশের ওপর কার্যকর কর্তৃত্বের কেন্দ্র ছিল না।

জামালের যুদ্ধ ৬৫৬ খ্রিস্টাব্দ

বসরার কাছে আয়েশা, তালহা ও যুবাইরের নেতৃত্বাধীন পক্ষের সঙ্গে আলীর বাহিনীর যুদ্ধ হয়। তালহা ও যুবাইর নিহত হন; আয়েশা বেঁচে যান এবং মদিনায় ফিরে যান। মুহাম্মদের ঘনিষ্ঠ অনুসারীরা পরস্পরের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী নিয়ে যুদ্ধে নেমেছিলেন। নিহতের সংখ্যা নিয়ে প্রাচীন সূত্রে বড় ব্যবধান আছে; কোনো একটি বড় সংখ্যা নিশ্চিত হিসাব নয়।

মুয়াবিয়ার বিরোধিতা ৬৫৬ – ৬৫৭ খ্রিস্টাব্দ

সিরিয়ার গভর্নর মুয়াবিয়া উসমানের হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে আলীর আনুগত্য প্রত্যাখ্যান করেন। এই দাবির আড়ালে সিরিয়াভিত্তিক বিকল্প ক্ষমতা কেন্দ্রও শক্তিশালী হতে থাকে।

ধর্মীয় ভিন্নমতাবলম্বীদের আগুনে পোড়ানোর বর্ণনা আলীর আমল; নির্দিষ্ট সাল অনুল্লিখিত

বুখারিতে ইকরিমার বর্ণনায় আলীর কাছে আনা “যানাদিকা”কে পুড়িয়ে হত্যার কথা আছে। ইবন আব্বাস আগুন ব্যবহারে আপত্তি করলেও ধর্মত্যাগের কারণে হত্যার পক্ষে বক্তব্য দেন। এই বিবরণে মতভেদ শাস্তির পদ্ধতি নিয়ে; বিশ্বাস পরিবর্তনের স্বাধীনতা স্বীকারের কোনো বক্তব্য নেই। বর্ণনাটি ঘটনার নির্দিষ্ট বছর বা প্রত্যেক অভিযুক্তের পৃথক অপরাধের বিবরণ দেয় না। [12]

أُتِيَ عَلِيٌّ بِزَنَادِقَةٍ فَأَحْرَقَهُمْ

বাংলা অনুবাদ: আলীর কাছে যানাদিকা আনা হলে তিনি তাদের পুড়িয়ে দেন।

সিফফিনের যুদ্ধ ৬৫৭ খ্রিস্টাব্দ

ইউফ্রেটিস নদীর তীরে আলী ও মুয়াবিয়ার বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘ সংঘর্ষ হয়। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে সালিশ প্রস্তাব উঠলে সামরিক ফলাফল অনির্ধারিত অবস্থায় থেমে যায়।

সালিশ ও বৈধতা সংকট ৬৫৭ – ৬৫৮ খ্রিস্টাব্দ

বিরোধ মীমাংসার জন্য সালিশ প্রক্রিয়া চালু হয়। আলীর সমর্থকদের একাংশ এটিকে “মানুষের বিচারকে ঈশ্বরের বিচারের ওপর স্থান দেওয়া” হিসেবে নিন্দা করে।

খারিজিদের আবির্ভাব ৬৫৮ খ্রিস্টাব্দ

আলীর শিবির থেকে বিচ্ছিন্ন একদল যোদ্ধা খারিজি নামে পরিচিত হয়। তারা আলী ও মুয়াবিয়া উভয়ের বিরোধিতা করে এবং কঠোর নৈতিক-রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করে।

নাহরাওয়ানের যুদ্ধ ৬৫৮ খ্রিস্টাব্দ

আলী খারিজিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে নাহরাওয়ানে তাদের বড় অংশ পরাজিত করেন। কিন্তু আন্দোলন সম্পূর্ণ শেষ হয়নি।

সাম্রাজ্যের বিভক্ত বাস্তবতা ৬৫৮ – ৬৬১ খ্রিস্টাব্দ

আলীর প্রধান শক্তিকেন্দ্র ছিল ইরাক; মুয়াবিয়ার ছিল সিরিয়া। ৬৫৮ সালে আমর ইবন আস মিশর দখল করলে আলীর নিযুক্ত গভর্নর মুহাম্মদ ইবন আবু বকর নিহত হন। ফলে বিভাজন শুধু দুই নেতার ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল না—সেনাবাহিনী, রাজস্ব ও গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশের নিয়ন্ত্রণও আলাদা হয়ে যায়।

আলীর হত্যাকাণ্ড ৬৬১ খ্রিস্টাব্দ

কুফায় আবদুর রহমান ইবন মুলজামের আঘাতে আলী নিহত হন। তার পরে ইরাকে হাসান ইবন আলীর হাতে বায়আত হয়; মুয়াবিয়ার একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয় হাসানের সঙ্গে সমঝোতার পরে।

সম্পর্কিত গ্রন্থ: Wilferd Madelung, The Succession to Muhammad; Hugh Kennedy, The Prophet and the Age of the Caliphates; M.A. Shaban, Islamic History: A New Interpretation


হাসান ইবন আলী: সংক্ষিপ্ত খিলাফত ও ক্ষমতা হস্তান্তর
৬৬১ খ্রিস্টাব্দ

আলীর মৃত্যুর পর হাসান ইরাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের আনুগত্য পান। সিরিয়ার সামরিক শক্তি তার অধীন ছিল না। মুয়াবিয়ার সঙ্গে আলোচনার পরে তিনি শাসন থেকে সরে দাঁড়ান; প্রথম ফিতনার বৃহৎ সংঘাত শেষ হয় এবং দামেস্কভিত্তিক উমাইয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

ইরাকে বায়আত ও প্রতিদ্বন্দ্বী সেনাবাহিনী ৬৬১ খ্রিস্টাব্দ

হাসানের উত্তরাধিকার গ্রহণ ছিল আলীর রাজনৈতিক শিবিরের ধারাবাহিকতা। মুয়াবিয়ার সেনাশক্তি ও ইরাকি শিবিরের বিভাজন তার অবস্থানকে দুর্বল করে।

সমঝোতা ও শাসনত্যাগ ৬৬১ খ্রিস্টাব্দ

বুখারির বর্ণনায় মুয়াবিয়ার দুই দূতের সঙ্গে হাসানের আলোচনা, প্রতিশ্রুতি এবং সমঝোতার কথা আছে। এ সমঝোতায় ক্ষমতার প্রশ্ন মীমাংসিত হলেও আলীর পরিবার ও উমাইয়াদের বিরোধের স্থায়ী অবসান ঘটেনি; ৬৮০ সালের কারবালা সেই ধারার পরবর্তী বিস্ফোরণ। [13]

فَصَالَحَهُ

বাংলা অনুবাদ: এরপর তিনি তার সঙ্গে সমঝোতা করেন।


মুয়াবিয়া ইবন আবী সুফিয়ান ও উমাইয়া রাজবংশের সূচনা
৬৬১ – ৬৮০ খ্রিস্টাব্দ

হাসানের শাসনত্যাগের পরে মুয়াবিয়া দামেস্কভিত্তিক খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন। সিরীয় সেনাবাহিনী, প্রাদেশিক গভর্নর ও রাজস্ব নিয়ন্ত্রণ ছিল তার ক্ষমতার ভিত্তি। আবু বকর, উমর, উসমান ও আলীর ক্ষমতা গ্রহণের পদ্ধতিও এক ছিল না; ফলে পূর্ববর্তী যুগকে আধুনিক নির্বাচনী গণতন্ত্র হিসেবে দেখানো ভুল। মুয়াবিয়ার পুত্র ইয়াজিদের জন্য আগাম বায়আত আদায় খিলাফতের উত্তরাধিকারকে প্রকাশ্যে রাজবংশীয় ব্যবস্থায় স্থাপন করে।

বাইজান্টাইন সীমান্তে ধারাবাহিক অভিযান ৬৬০-এর দশক – ৬৭০-এর দশক

আনাতোলিয়া সীমান্তে নিয়মিত গ্রীষ্মকালীন অভিযান পরিচালিত হয়। এগুলো সাম্রাজ্যের সামরিক ঐতিহ্য ও লুণ্ঠনভিত্তিক অর্থনীতির অংশ হিসেবেও কাজ করত।

কনস্টান্টিনোপল অবরোধের প্রথম ধাপ ৬৬০–৬৭০-এর দশক; প্রচলিত অবরোধ-তারিখ ৬৭৪ – ৬৭৮

৬৬০ ও ৬৭০-এর দশকে বাইজান্টাইন রাজধানীর বিরুদ্ধে স্থল ও নৌ অভিযান চলে। প্রচলিত কালপঞ্জিতে ৬৭৪–৬৭৮ সালের অবরোধ বলা হয়; অভিযানের ধারাবাহিকতা ও অবরোধের প্রকৃতি নিয়ে গবেষণায় মতভেদ আছে। নিশ্চিত ফল ছিল রাজধানী দখলে ব্যর্থতা এবং বাইজান্টাইন রাষ্ট্রের টিকে থাকা।

হাসানের সাথে সমঝোতা ৬৬১ খ্রিস্টাব্দ

হাসান ইবন আলী শাসনত্যাগ করে মুয়াবিয়ার সঙ্গে সমঝোতা করেন। মুয়াবিয়া সিরীয় বাহিনীর শক্তিকে সাম্রাজ্যের প্রধান সামরিক ভিত্তিতে পরিণত করেন। একে “ঐক্যের বছর” বলা হলেও পূর্ববর্তী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের বিচার কিংবা ক্ষমতা বণ্টনে সমান অংশগ্রহণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

রাজধানী দামেস্কে স্থায়ীকরণ ৬৬১ খ্রিস্টাব্দের পর

প্রশাসনিক কেন্দ্র মদিনা বা কুফা থেকে সরিয়ে সিরিয়ার দামেস্কে কেন্দ্রীভূত করা হয়। এতে পুরনো আরব-হিজাজি নেতৃত্বের বদলে সিরিয়ান সামরিক এলিট শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

নৌবাহিনীর সম্প্রসারণ মুয়াবিয়া যুগ

পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মুসলিম নৌবাহিনী শক্তিশালী হয়। সাইপ্রাস, রোডসসহ বিভিন্ন দ্বীপে প্রভাব বিস্তার ঘটে।

আলীকে গালাগাল দেওয়ার রাজনৈতিক পরিবেশ মুয়াবিয়ার আমল

সহিহ মুসলিমে মুয়াবিয়া সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাসকে জিজ্ঞেস করেন, আবু তুরাব তথা আলীকে গালাগাল করতে তাকে কী বাধা দেয়। সাদ আলীর তিনটি গুণ উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেন। প্রতিদ্বন্দ্বী নেতার স্মৃতিকে অপমান করা ক্ষমতার দ্বন্দ্বের অংশ হয়ে উঠেছিল; পরবর্তী “সব সাহাবি ঐক্যবদ্ধ ছিলেন” ধরনের চিত্রের সঙ্গে এই বর্ণনা অসঙ্গত। [14]

مَا مَنَعَكَ أَنْ تَسُبَّ أَبَا التُّرَابِ

বাংলা অনুবাদ: আবু তুরাবকে গালাগাল করতে তোমাকে কী বাধা দিল?

উত্তর আফ্রিকায় অগ্রযাত্রা ৬৭০ খ্রিস্টাব্দ

উকবা ইবন নাফির নেতৃত্বে কায়রোয়ান নগর প্রতিষ্ঠিত হয়, যা উত্তর আফ্রিকায় মুসলিম অগ্রযাত্রার প্রধান সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত হয়।

ইয়াজিদকে উত্তরাধিকারী ঘোষণা প্রায় ৬৭৬ খ্রিস্টাব্দ

মুয়াবিয়া নিজের পুত্র ইয়াজিদকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন। বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি এর বিরোধিতা করেন। ইতিহাসবিদরা এটিকে নির্বাচনী খিলাফত থেকে বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রে রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত মনে করেন।

মুয়াবিয়ার মৃত্যু ৬৮০ খ্রিস্টাব্দ

তার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার প্রশ্নে নতুন সংকট শুরু হয়, যা দ্রুত দ্বিতীয় ফিতনায় রূপ নেয়।

সম্পর্কিত গ্রন্থ: Hugh Kennedy, The Prophet and the Age of the Caliphates; G.R. Hawting, The First Dynasty of Islam; Chase F. Robinson, Islamic Civilization in Thirty Lives


ইয়াজিদ ও উমাইয়া উত্তরাধিকার-সংকট: কারবালা, হাররা ও মক্কা অবরোধ
৬৮০ – ৬৮৫ খ্রিস্টাব্দ; দ্বিতীয় ফিতনা চলে ৬৯২ পর্যন্ত

মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পর তার পুত্র ইয়াজিদের ক্ষমতা গ্রহণ উমাইয়া শাসনের বৈধতার প্রশ্নকে তীব্র করে তোলে। হিজাজ, ইরাক ও অন্যান্য অঞ্চলে বিরোধিতা দেখা দেয়। এই পর্যায়ে সংঘটিত কারবালার ঘটনা, মক্কা অবরোধ এবং পরবর্তী গৃহযুদ্ধ ইসলামি রাজনৈতিক স্মৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলে। এ সময়কে সাধারণত “দ্বিতীয় ফিতনা”র সূচনা ধাপ হিসেবে দেখা হয়।

ইয়াজিদের ক্ষমতা গ্রহণ ৬৮০ খ্রিস্টাব্দ

মুয়াবিয়ার মনোনয়নের ভিত্তিতে ইয়াজিদ খলিফা হন। তবে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি, বিশেষত হুসাইন ইবন আলী ও আবদুল্লাহ ইবন যুবাইর, তার প্রতি আনুগত্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।

কারবালার ঘটনা ১০ মহররম ৬১ হিজরি / অক্টোবর ৬৮০ খ্রিস্টাব্দ

১০ মহররম ৬১ হিজরিতে হুসাইন ইবন আলী এবং তার সঙ্গীদের কারবালায় হত্যা করা হয়। ইরাকের গভর্নর উবায়দুল্লাহ ইবন জিয়াদের নিয়ন্ত্রণাধীন বাহিনীর সেনানায়ক ছিলেন উমর ইবন সাদ। নিহতদের মধ্যে মুহাম্মদের নাতি ও তার পরিবারের সদস্যরা ছিলেন; জীবিত নারী-শিশুদের বন্দী করা হয়। রাষ্ট্রীয় আনুগত্য আদায়ের সংঘাতে নবীর পরিবারের ওপর এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

মদিনার বিদ্রোহ ৬৮৩ খ্রিস্টাব্দ

হিজাজে উমাইয়া বিরোধিতা তীব্র হলে মদিনার একাংশ ইয়াজিদের আনুগত্য প্রত্যাখ্যান করে। স্থানীয় এলিটদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় শাসনের সম্পর্ক ভেঙে পড়ে।

হাররার যুদ্ধ আগস্ট ৬৮৩ খ্রিস্টাব্দ

মুসলিম ইবন উকবার সিরীয় বাহিনী মদিনার প্রতিরোধ ভেঙে দেয়। ইবন কাসিরের বিবরণে তিন দিন শহর উন্মুক্ত করে হত্যা ও সম্পদ লুণ্ঠনের কথা আছে; নারীদের ওপর যৌন আক্রমণের বর্ণনাও তিনি সংরক্ষণ করেছেন। মদিনাবাসীর ওপর শাস্তিমূলক সহিংসতা চালিয়ে ইয়াজিদের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়। [15]

يَقْتُلُونَ النَّاسَ، وَيَأْخُذُونَ الْأَمْوَالَ

বাংলা অনুবাদ: তারা মানুষ হত্যা করছিল এবং সম্পদ নিয়ে নিচ্ছিল।

মক্কা অবরোধ ৬৮৩ খ্রিস্টাব্দ

হুসাইন ইবন নুমাইরের নেতৃত্বে সিরীয় বাহিনী আবদুল্লাহ ইবন যুবাইরের বিরুদ্ধে মক্কা অবরোধ করে। কাবায় আগুন লাগে এবং স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইয়াজিদের মৃত্যুসংবাদ পৌঁছালে বাহিনী সরে যায়। ধর্মীয় কেন্দ্রের পবিত্র মর্যাদা খিলাফতের ক্ষমতাসংগ্রামকে থামায়নি।

ইয়াজিদের মৃত্যু ৬৮৩ খ্রিস্টাব্দ

ইয়াজিদের আকস্মিক মৃত্যুর পর উমাইয়া কর্তৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়ে। সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে বিকল্প নেতৃত্বের দাবি জোরালো হয়।

মুয়াবিয়া দ্বিতীয়ের স্বল্প শাসন ৬৮৩ – ৬৮৪ খ্রিস্টাব্দ

ইয়াজিদের পুত্র অল্প সময়ের জন্য ক্ষমতায় থাকলেও কার্যকর নেতৃত্ব দিতে পারেননি। এর ফলে উমাইয়া রাষ্ট্র ভাঙনের মুখে পড়ে।

পরাজিত মদিনাবাসীর ওপর জোরপূর্বক বায়আত ৬৮৩ খ্রিস্টাব্দ

হাররার পরে পরাজিতদের ইয়াজিদের অধীন “দাস” হিসেবে বায়আত করতে বাধ্য করার বর্ণনা আছে। আবু বকর-উমরের শাসনরীতি অনুসারে বায়আতের শর্ত তুললে কাউকে কাউকে হত্যার বিবরণও সংরক্ষিত হয়েছে। এই বায়আত ছিল পরাজিত জনসমাজের ওপর সামরিক বিজয়ের শর্ত চাপানো। [16]

Yezîd’in kulu ve kölesi olarak

বাংলা অনুবাদ: ইয়াজিদের অনুচর ও দাস হিসেবে।

আবদুল্লাহ ইবন যুবাইরের প্রতিদ্বন্দ্বী খিলাফত ৬৮৩ – ৬৯২ খ্রিস্টাব্দ

ইয়াজিদের মৃত্যুর পরে মক্কাভিত্তিক ইবন যুবাইর হিজাজ, ইরাক ও অন্যান্য অঞ্চলে খলিফা হিসেবে স্বীকৃতি পান। উমাইয়া কর্তৃত্ব তখন সিরিয়ার বাইরেও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। “এক খলিফা, এক উম্মাহ” কার্যকর রাজনৈতিক বাস্তবতা ছিল না; একই সময়ে যুদ্ধরত একাধিক খিলাফতি দাবি বিদ্যমান ছিল।

মারজ রাহিতের যুদ্ধ ৬৮৪ খ্রিস্টাব্দ

সিরিয়ায় উপজাতীয় জোটসমূহের সংঘর্ষে মারওয়ান ইবন আল-হাকাম বিজয়ী হন। এর মাধ্যমে উমাইয়া শাসন নতুন শাখার অধীনে পুনর্গঠিত হয়।

মারওয়ান প্রথমের উত্থান ৬৮৪ – ৬৮৫ খ্রিস্টাব্দ

মারওয়ান উমাইয়া রাষ্ট্র পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করেন। তবে ইবন যুবাইর তখনও হিজাজসহ বহু অঞ্চলে বিকল্প খলিফা হিসেবে প্রভাব ধরে রাখেন।

সম্পর্কিত গ্রন্থ: G.R. Hawting, The First Dynasty of Islam; Hugh Kennedy, The Prophet and the Age of the Caliphates; Julius Wellhausen, The Arab Kingdom and Its Fall


আবদ আল-মালিক: উমাইয়া পুনর্গঠন ও সাম্রাজ্যিক ইসলামের রূপায়ণ
৬৮৫ – ৭০৫ খ্রিস্টাব্দ

দ্বিতীয় ফিতনার অরাজকতা কাটিয়ে আবদ আল-মালিক উমাইয়া রাষ্ট্রকে পুনরায় একত্রিত করেন। তার শাসনামলে প্রশাসনিক কেন্দ্রীকরণ, আরবীকরণ, নিজস্ব মুদ্রা এবং রাষ্ট্রীয় ধর্মীয় প্রতীক নির্মাণের মাধ্যমে খিলাফত নতুন সাম্রাজ্যিক চরিত্র পায়। বহু আধুনিক ইতিহাসবিদের মতে, ইসলামি রাষ্ট্রপরিচয়ের দৃশ্যমান রূপ এই সময়ে সুস্পষ্ট হয়।

ক্ষমতা গ্রহণ ও বহুমুখী সংকট ৬৮৫ খ্রিস্টাব্দ

আবদ আল-মালিক ক্ষমতায় বসার সময় ইবন যুবাইর হিজাজে বিকল্প শাসক, ইরাকে বিদ্রোহ, এবং উপজাতীয় বিভাজন উমাইয়া রাষ্ট্রকে দুর্বল করে রেখেছিল।

তাওয়াবুন আন্দোলন ও আইনুল ওয়ারদার যুদ্ধ ৬৮৫ খ্রিস্টাব্দ

হুসাইনকে সাহায্য না করার অনুশোচনা থেকে সুলাইমান ইবন সুরাদের নেতৃত্বে তাওয়াবুন আন্দোলন গড়ে ওঠে। আইনুল ওয়ারদায় উমাইয়া বাহিনীর কাছে তারা পরাজিত হয়। কারবালার স্মৃতি পরবর্তী সশস্ত্র আন্দোলনের সংগঠক শক্তিতে পরিণত হয়েছিল।

মুখতার আন্দোলন ও কুফার অস্থিরতা ৬৮৫ – ৬৮৭ খ্রিস্টাব্দ

মুখতার আল-সাকাফি মুহাম্মদ ইবন হানাফিয়্যার নামে কুফায় ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেন এবং কারবালার হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেন। তার বাহিনীতে মাওয়ালিদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ৬৮৭ সালে ইবন যুবাইরের ভাই মুসআব তাকে পরাজিত ও হত্যা করেন; অর্থাৎ উমাইয়া-বিরোধী পক্ষগুলোর মধ্যেও গৃহযুদ্ধ চলেছে।

বাইজান্টাইন সীমান্তে নতুন চাপ শেষ দশক

আনাতোলিয়া সীমান্তে অভিযান অব্যাহত থাকে এবং সাম্রাজ্যিক সামরিক গতিশীলতা পুনরুদ্ধার হয়।

খাযিরের যুদ্ধ ৬৮৬ খ্রিস্টাব্দ

মুখতারের অনুগত বাহিনী উবায়দুল্লাহ ইবন জিয়াদের বাহিনীকে পরাজিত করে। কারবালার প্রতিশোধ বয়ানে এ যুদ্ধ পরে গুরুত্ব পায়।

আরবীকরণ নীতি ৬৯০-এর দশক

প্রশাসনিক ভাষা হিসেবে ধীরে ধীরে গ্রিক ও পারসির বদলে আরবি চালু করা হয়। রাষ্ট্রযন্ত্রে আরবি আমলাতন্ত্রের বিকাশ ঘটে।

ইরাক পুনর্দখল ৬৯১ খ্রিস্টাব্দ

উমাইয়া বাহিনী ইরাক অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে। এর মাধ্যমে সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক ও সামরিক কেন্দ্র পুনরুদ্ধার হয়।

মাসকিন / দায়র আল-জাথালিক যুদ্ধ ৬৯১ খ্রিস্টাব্দ

আবদ আল-মালিকের বাহিনী ইবন যুবাইরপন্থী শক্তিকে পরাজিত করে। দ্বিতীয় ফিতনার সমাপ্তি ত্বরান্বিত হয়।

ডোম অব দ্য রক নির্মাণ ৬৯১ – ৬৯২ খ্রিস্টাব্দ

জেরুজালেমে নির্মিত এই স্মারক স্থাপনা উমাইয়া রাষ্ট্রের ধর্মীয়-রাজনৈতিক আত্মপ্রকাশের শক্তিশালী প্রতীক হয়ে ওঠে। এর শিলালিপিতে কুরআনিক বার্তা ব্যবহৃত হয়।

মক্কা অবরোধ ও ইবন যুবাইরের পতন ৬৯২ খ্রিস্টাব্দ

হাজ্জাজ ইবন ইউসুফের বাহিনী মক্কা অবরোধ করে; ইবন যুবাইর নিহত হন এবং তার দেহ প্রদর্শন করা হয়। ৬৯২ সালে দ্বিতীয় ফিতনার অবসান ঘটে। একই পবিত্র নগর দশ বছরের মধ্যে দুবার খিলাফতের ক্ষমতাসংগ্রামে অবরুদ্ধ হয়।

হাজ্জাজের শাসন ও ইরাক নিয়ন্ত্রণ ৬৯৪ খ্রিস্টাব্দের পর

হাজ্জাজ ইবন ইউসুফকে ইরাকের গভর্নর করে পাঠানো হয়। কঠোর প্রশাসন ও করসংগ্রহের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কর্তৃত্ব শক্তিশালী করা হয়।

স্বতন্ত্র ইসলামি মুদ্রা প্রচলন ৬৯৬ – ৬৯৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে

আবদ আল-মালিকের মুদ্রাসংস্কারে শাসকের ছবি ও পুরনো সাম্রাজ্যিক প্রতীকের বদলে আরবি ধর্মীয় ঘোষণা ও কুরআনিক বাণী গুরুত্ব পায়। স্বর্ণদিনার ও রৌপ্যমুদ্রার সংস্কার একই দিনে সব প্রদেশে সম্পন্ন হয়নি। মুদ্রা ছিল রাজস্বের বাহন এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ধর্মীয় পরিচয়ের বহনযোগ্য ঘোষণা। [17]

were solely epigraphic and included Qur’anic verses and religious phrases.

বাংলা অনুবাদ: শুধু লিপিনির্ভর ছিল এবং তাতে কুরআনের আয়াত ও ধর্মীয় বাক্য থাকত।

ইবনুল আশআসের বিদ্রোহ ও ইরাকি বাহিনীর পরাজয় ৭০০ – ৭০২ খ্রিস্টাব্দ

হাজ্জাজের পাঠানো পূর্বাঞ্চলীয় বাহিনীই আবদুর রহমান ইবনুল আশআসের নেতৃত্বে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। বহু ইরাকি কুরআন-পাঠক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এতে যোগ দেন। দাইরুল জামাজিমে পরাজয়ের পরে সিরীয় বাহিনীর আধিপত্য শক্তিশালী হয়; “কেন্দ্রীকরণ” চলেছে মুসলিম বিরোধীদের রক্তক্ষয়ী দমনের মধ্য দিয়ে।

সম্পর্কিত গ্রন্থ: Chase F. Robinson, Abd al-Malik; Hugh Kennedy, The Prophet and the Age of the Caliphates; Fred Donner, Muhammad and the Believers


আল-ওয়ালিদ প্রথম থেকে হিশাম: উমাইয়া বিস্তার, চূড়ান্ত শিখর ও ক্লান্তি
৭০৫ – ৭৪৩ খ্রিস্টাব্দ

আবদ আল-মালিকের পর তার উত্তরসূরিরা উমাইয়া সাম্রাজ্যকে সর্বোচ্চ ভৌগোলিক বিস্তৃতিতে নিয়ে যায়। পশ্চিমে আইবেরীয় উপদ্বীপ থেকে পূর্বে সিন্ধু ও মধ্য এশিয়া পর্যন্ত সাম্রাজ্য প্রসারিত হয়। তবে এই সাফল্যের আড়ালে করব্যবস্থা, উপজাতীয় দ্বন্দ্ব, মাওয়ালিদের অসন্তোষ, এবং অবিরাম যুদ্ধের চাপ রাষ্ট্রকে ক্লান্ত করে তোলে।

আল-ওয়ালিদ প্রথমের ক্ষমতা গ্রহণ ৭০৫ খ্রিস্টাব্দ

আল-ওয়ালিদের শাসনামলে উমাইয়া প্রশাসনিক শক্তি ও সামরিক সম্প্রসারণ সর্বোচ্চ গতি পায়। দামেস্ক সাম্রাজ্যের কার্যকর কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী হয়।

ট্রান্সঅক্সিয়ানা ও মধ্য এশিয়া অভিযান ৭০৫ – ৭১৫ খ্রিস্টাব্দ

কুতাইবা ইবন মুসলিম বুখারা, সমরকন্দসহ মধ্য এশিয়ার বহু অঞ্চলে উমাইয়া প্রভাব বিস্তার করেন। সিল্ক রোড অঞ্চলে মুসলিম উপস্থিতি বৃদ্ধি পায়।

উপজাতীয় বিভাজন তীব্রতর শেষ পর্যায়

কাইস ও ইয়ামান আরব গোষ্ঠীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা সাম্রাজ্যের সেনা ও প্রশাসনে বিভক্তি তৈরি করে। এটি পরবর্তী পতনের প্রধান কারণগুলোর একটি হয়ে ওঠে।

দামেস্কের উমাইয়া মসজিদ প্রায় ৭০৬ – ৭১৫ খ্রিস্টাব্দ

দামেস্কে বৃহৎ জামে মসজিদ নির্মাণ উমাইয়া সাম্রাজ্যের স্থাপত্যিক ও রাজনৈতিক মর্যাদার প্রতীক হয়ে ওঠে।

সিন্ধু অভিযান ৭১১ – ৭১৫ খ্রিস্টাব্দ

মুহাম্মদ ইবন কাসিম সিন্ধু অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করেন। ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম রাজনৈতিক উপস্থিতির প্রথম স্থায়ী ভিত্তিগুলোর একটি এ সময়ে গড়ে ওঠে।

আইবেরিয়া (স্পেন) বিজয় ৭১১ – ৭১৮ খ্রিস্টাব্দ

তারিক ইবন জিয়াদ ও মূসা ইবন নুসাইরের অভিযানে ভিসিগথিক রাজ্য ভেঙে পড়ে। আল-আন্দালুস নামে নতুন মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

সুলাইমান ও কনস্টান্টিনোপল অভিযান ৭১৫ – ৭১৭ খ্রিস্টাব্দ

সুলাইমানের আমলে বাইজান্টাইন রাজধানী দখলের বৃহৎ পরিকল্পনা গৃহীত হয়।

কনস্টান্টিনোপল অবরোধ ব্যর্থতা ৭১৭ – ৭১৮ খ্রিস্টাব্দ

উমাইয়া বাহিনী শহর অবরোধ করলেও বাইজান্টাইন প্রতিরক্ষা ও সরবরাহ সংকটে ব্যর্থ হয়। এটি উমাইয়াদের জন্য বড় সামরিক ধাক্কা ছিল।

উমর ইবন আবদ আল-আজিজের সংস্কারচেষ্টা ৭১৭ – ৭২০ খ্রিস্টাব্দ

উমর ইবন আবদ আল-আজিজ ইসলাম গ্রহণকারী মাওয়ালিদের কাছ থেকে জিজিয়া আদায় বন্ধের নির্দেশ দেন। এমন নির্দেশের প্রয়োজন হয়েছিল কারণ কিছু উমাইয়া প্রশাসক ধর্মান্তরের পরও কর আদায় করছিলেন। একই ধর্মের অনুসারী হলেও আরব বিজয়ী ও অনারব মুসলিমের সামাজিক-রাজস্ব অবস্থান সমান ছিল না। [18]

mevâlîden alınan bu vergiyi kaldırdı.

বাংলা অনুবাদ: মাওয়ালিদের কাছ থেকে নেওয়া এই কর তিনি তুলে দেন।

হিশামের দীর্ঘ শাসন ৭২৪ – ৭৪৩ খ্রিস্টাব্দ

হিশামের আমলে সাম্রাজ্য স্থিতিশীল থাকলেও সীমান্তযুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ চাপ ক্রমে বাড়তে থাকে। রাজস্ব সংকটও স্পষ্ট হতে শুরু করে।

মধ্য এশিয়ায় “তৃষ্ণার দিন” ও সীমান্তের বিপর্যয় ৭২৪ খ্রিস্টাব্দ

তুরগেশ ও স্থানীয় প্রতিরোধের চাপে মুসলিম বাহিনী ফেরগানা অভিযান থেকে পিছু হটে। মধ্য এশিয়া দখল ছিল একমুখী অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা নয়; পানির অভাব, দীর্ঘ সরবরাহপথ এবং স্থানীয় জোট উমাইয়া সেনাদের বড় ক্ষতি করে।

ট্যুরস / পোয়াতিয়ের যুদ্ধ ৭৩২ খ্রিস্টাব্দ

আবদুর রহমান আল-গাফিকির বাহিনী শার্ল মার্তেলের ফ্রাঙ্ক বাহিনীর কাছে পরাজিত হয়; আল-গাফিকি নিহত হন। একটি বড় অভিযান থামে, কিন্তু ফ্রান্সের দক্ষিণে মুসলিম সামরিক উপস্থিতি সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়নি। নারবোনে মুসলিম নিয়ন্ত্রণ ৭৫৯ সাল পর্যন্ত ছিল। ৭৩২-কে ইউরোপে সব মুসলিম অভিযানের তাৎক্ষণিক সমাপ্তি বলা ভুল।

বেরবার বিদ্রোহ ৭৩৯ – ৭৪৩ খ্রিস্টাব্দ

উত্তর আফ্রিকায় বেরবার জনগোষ্ঠী করনীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। উমাইয়া সাম্রাজ্যের পশ্চিমাংশ দুর্বল হয়ে পড়ে।

জায়েদ ইবন আলীর বিদ্রোহ ৭৪০ খ্রিস্টাব্দ

কুফায় জায়েদ ইবন আলীর বিদ্রোহ উমাইয়া বাহিনী দমন করে। জায়েদ নিহত হন। কারবালার প্রায় ষাট বছর পরও আলীর বংশের রাজনৈতিক দাবি এবং উমাইয়া শাসনের বিরোধিতা সশস্ত্র সংঘাতে ফিরে আসে।

সম্পর্কিত গ্রন্থ: Hugh Kennedy, The Prophet and the Age of the Caliphates; G.R. Hawting, The First Dynasty of Islam; Chase F. Robinson, Islamic Civilization in Thirty Lives


উমাইয়া পতন, আব্বাসীয় বিপ্লব ও রাজবংশের অবসান
৭৪৩ – ৭৫০ খ্রিস্টাব্দ

হিশামের মৃত্যুর পর উমাইয়া রাষ্ট্র দ্রুত উত্তরাধিকার সংকট, গৃহযুদ্ধ, উপজাতীয় বিভাজন, অর্থনৈতিক চাপ এবং পূর্বাঞ্চলে আব্বাসীয় আন্দোলনের মুখে দুর্বল হয়ে পড়ে। মাত্র কয়েক বছরের অস্থিরতার মধ্যেই একসময়ের বিশাল সাম্রাজ্য ভেঙে যায় এবং আব্বাসীয় বিপ্লব নতুন শাসনব্যবস্থার সূচনা করে।

খারিজি বিদ্রোহসমূহ ৭৪০-এর দশক

ইরাক ও আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে খারিজি গোষ্ঠীগুলো পুনরায় সক্রিয় হয়। তারা দুর্বল কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রের সুযোগ নেয়।

খোরাসানে আব্বাসীয় দাওয়াহ ৭৪০-এর দশক

পূর্বাঞ্চলে আব্বাসীয় প্রচারকরা উমাইয়া বিরোধী জোট গড়ে তোলে। আরব-বহির্ভূত মুসলিম, অসন্তুষ্ট আরব গোষ্ঠী এবং শিয়াপন্থী সহানুভূতিশীলদের সমর্থন বৃদ্ধি পায়।

হিশামের মৃত্যু ৭৪৩ খ্রিস্টাব্দ

দীর্ঘ শাসনের পর হিশামের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়। পরবর্তী খলিফারা দ্রুত পরিবর্তিত হতে থাকে।

আল-ওয়ালিদ দ্বিতীয়ের বিতর্কিত শাসন ৭৪৩ – ৭৪৪ খ্রিস্টাব্দ

অভিজাত মহলে তার বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ে। ব্যক্তিগত জীবনযাপন ও রাজনৈতিক আচরণ নিয়ে সমালোচনা তাকে দুর্বল করে।

ইয়াজিদ তৃতীয়ের বিদ্রোহ ৭৪৪ খ্রিস্টাব্দ

আল-ওয়ালিদ দ্বিতীয়কে হত্যা করে ইয়াজিদ তৃতীয় ক্ষমতা দখল করেন। একই বছরে ইয়াজিদ মারা গেলে ইব্রাহিম স্বল্পকাল শাসন করেন; মারওয়ান দ্বিতীয় তাকে সরিয়ে ক্ষমতায় বসেন। রাজবংশীয় উত্তরাধিকারও শান্তিপূর্ণ ক্ষমতান্তরের নিশ্চয়তা দেয়নি।

তৃতীয় ফিতনা ৭৪৪ – ৭৪৭ খ্রিস্টাব্দ

স্বল্পমেয়াদি খলিফা পরিবর্তন, প্রাদেশিক বিদ্রোহ এবং সামরিক বিভাজনের ফলে সাম্রাজ্য কার্যত গৃহযুদ্ধের মধ্যে ঢুকে পড়ে। সিরিয়া, ইরাক ও পূর্বাঞ্চলে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে যায়।

আবু মুসলিমের উত্থান ৭৪৭ খ্রিস্টাব্দ

খোরাসানে আবু মুসলিম কালো পতাকার অধীনে আব্বাসীয় বিদ্রোহ শুরু করেন। এটি উমাইয়াদের বিরুদ্ধে সংগঠিত সামরিক বিপ্লবে রূপ নেয়।

কুফা দখল ও আব্বাসীয় ঘোষণা ৭৪৯ খ্রিস্টাব্দ

বিদ্রোহী বাহিনী কুফা দখল করে এবং আবু আল-আব্বাসকে খলিফা ঘোষণা করে। উমাইয়া ও আব্বাসীয় দুই প্রতিদ্বন্দ্বী খিলাফত মুখোমুখি দাঁড়ায়।

জাব নদীর যুদ্ধ ৭৫০ খ্রিস্টাব্দ

শেষ উমাইয়া খলিফা মারওয়ান দ্বিতীয় আব্বাসীয় বাহিনীর কাছে পরাজিত হন। এ যুদ্ধ উমাইয়া সাম্রাজ্যের সমাপ্তি নির্ধারণ করে।

মারওয়ান দ্বিতীয়ের মৃত্যু ৭৫০ খ্রিস্টাব্দ

মিশরে পলায়নের পর তিনি নিহত হন। পূর্বাঞ্চলে উমাইয়া শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে।

উমাইয়া গণহত্যা ও এক শাখার পলায়ন ৭৫০ খ্রিস্টাব্দের পর

বিজয়ী আব্বাসীয়রা উমাইয়া পরিবারের বহু সদস্যকে হত্যা করে। আবদুর রহমান ইবন মুয়াবিয়া পালিয়ে উত্তর আফ্রিকা হয়ে আন্দালুসে পৌঁছান এবং ৭৫৬ সালে কর্ডোভার আমিরাত প্রতিষ্ঠা করেন। তাই ৭৫০ সালে দামেস্কের উমাইয়া খিলাফত শেষ হলেও উমাইয়া রাজবংশ সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়নি।

সম্পর্কিত গ্রন্থ: Hugh Kennedy, The Prophet and the Age of the Caliphates; Moshe Sharon, Black Banners from the East; G.R. Hawting, The First Dynasty of Islam


আব্বাসীয় বিপ্লব ও আস-সাফফাহের ক্ষমতা গ্রহণ
৭৪৯ – ৭৫৪ খ্রিস্টাব্দ; সাম্রাজ্য দখল ৭৫০ সালে

৭৪৯ সালে কুফায় আবু আল-আব্বাস আস-সাফফাহ খলিফা ঘোষিত হন; ৭৫০ সালে জাবের যুদ্ধ ও মারওয়ান দ্বিতীয়ের পতনে আব্বাসীয় বিজয় সম্পূর্ণ হয়। নতুন শাসকগোষ্ঠী ইরাক ও খোরাসানের সেনা-রাজস্বভিত্তিকে প্রাধান্য দেয়। উমাইয়া-বিরোধী আন্দোলন ক্ষমতায় এসে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বীদের নির্মূল করে; শাসক পরিবার বদলেছে, রাজবংশীয় কর্তৃত্ব ও দমননীতির অবসান হয়নি।

আবু আল-আব্বাস আস-সাফফাহের ঘোষণা নভেম্বর ৭৪৯ খ্রিস্টাব্দ

কুফার মসজিদে আস-সাফফাহর প্রকাশ্য বায়আত হয় ৭৪৯ সালের নভেম্বরে। ৭৫০ সাল আব্বাসীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাবর্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হলেও খলিফা ঘোষণার এই আগের ঘটনাটিকে ৭৫০-এ সরানো ভুল। তিনি মুহাম্মদের চাচা আব্বাসের বংশধর; আলী-ফাতিমার বংশের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা যায়নি। [19]

28 Kasım 749

বাংলা অনুবাদ: ২৮ নভেম্বর ৭৪৯।

দামেস্ক থেকে দূরে নতুন রাজনৈতিক অভিমুখ প্রাথমিক আব্বাসীয় পর্যায়

উমাইয়া সিরিয়া-কেন্দ্রিক শাসনের পরিবর্তে ইরাক ও পূর্বাঞ্চলকে নতুন ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়।

উমাইয়া শাসকগোষ্ঠীর দমন ৭৫০ খ্রিস্টাব্দ

নতুন শাসনকে স্থিতিশীল করতে বহু উমাইয়া সদস্যকে হত্যা বা নির্বাসিত করা হয়। এটি ইতিহাসে ক্ষমতার চূড়ান্ত পুনর্বিন্যাসের একটি সহিংস অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।

প্রশাসনিক পুনর্গঠন ৭৫০ – ৭৫৪ খ্রিস্টাব্দ

ইরাক ও খোরাসানভিত্তিক সেনা, সচিব ও রাজস্বকর্মীদের ভূমিকা বাড়ে; পারসিক প্রশাসনিক সংস্কৃতির প্রভাবও বিস্তৃত হয়। এই পরিবর্তন উমাইয়া আমলেই শুরু হওয়া কেন্দ্রীকরণের ধারাকে বাড়ায়। “আরবদের সরিয়ে পারসিকরা ক্ষমতা নেয়”—এমন জাতিগত দ্বৈত ব্যাখ্যা আন্দোলনের মিশ্র আরব-অনারব চরিত্রকে বিকৃত করে।

সম্পর্কিত গ্রন্থ: Hugh Kennedy, The Early Abbasid Caliphate; Moshe Sharon, Black Banners from the East; Chase F. Robinson, Islamic Civilization in Thirty Lives


আল-মনসুর: আব্বাসীয় রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি
৭৫৪ – ৭৭৫ খ্রিস্টাব্দ

আল-মনসুরের শাসনকে আব্বাসীয় রাষ্ট্রের প্রকৃত কাঠামোগত প্রতিষ্ঠার যুগ হিসেবে ধরা হয়। এই সময়ে খিলাফত ধীরে ধীরে একটি শক্তিশালী আমলাতান্ত্রিক সাম্রাজ্যে রূপান্তরিত হয়, যেখানে পারসিক প্রশাসনিক ঐতিহ্য, কঠোর কেন্দ্রীকরণ এবং রাজনৈতিক নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ধর্মীয় কর্তৃত্বের রূপান্তর ধীরে ধীরে ৮ম শতক

ফকিহ ও হাদিসবিদদের সামাজিক কর্তৃত্ব বাড়লেও খলিফা ধর্মীয় নীতি থেকে সরে যাননি। নিয়োগ, বিচার ও রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রশ্নে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ চলেছে; পরবর্তী মিহনা তার প্রত্যক্ষ উদাহরণ। এই সময়ে রাষ্ট্র ও উলামার মধ্যে স্থায়ী ও সম্পূর্ণ ক্ষমতাবিভাজন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল—এ দাবি ভুল।

আবু মুসলিমের নির্মূল ৭৫৫ খ্রিস্টাব্দ

আব্বাসীয় বিপ্লবের প্রধান সংগঠক আবু মুসলিমকে আল-মনসুর হত্যা করান। নতুন শাসনের জন্য সামরিক বিজয় অর্জনকারী নেতার স্বাধীন শক্তিই পরবর্তী খলিফার কাছে হুমকি হয়ে ওঠে। রাজবংশ প্রতিষ্ঠার পরে বিপ্লবী জোটের নিরাপত্তা বা অংশীদারত্বের নিশ্চয়তা ছিল না। [20]

Ebû Müslim’i öldürttü

বাংলা অনুবাদ: আবু মুসলিমকে হত্যা করান।

কেন্দ্রীভূত আমলাতন্ত্রের বিকাশ ৭৬০–৭৭০-এর দশক

পারসিক অভিজ্ঞ প্রশাসকদের মাধ্যমে কর, বিচার ও সেনাবাহিনীর ওপর কঠোর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।

অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন ৭৬২ – ৭৬৩ খ্রিস্টাব্দ

৭৬২ সালে মদিনায় মুহাম্মদ আন-নাফস আয-যাকিয়্যা এবং বসরায় তার ভাই ইব্রাহিম আব্বাসীয়দের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। মুহাম্মদ ৭৬২ সালের শেষে এবং ইব্রাহিম পরবর্তী সংঘর্ষে নিহত হন। আলীর বংশের নামে সমর্থন সংগঠিত করা বিপ্লব ক্ষমতায় এসে আলীর বংশের দাবিদারদেরই দমন করে।

বাগদাদের প্রতিষ্ঠা ৭৬২ খ্রিস্টাব্দ

আল-মনসুর বাগদাদকে নতুন রাজধানী হিসেবে নির্মাণ করেন। শহরটি পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনিক, সামরিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে।

সম্পর্কিত গ্রন্থ: Hugh Kennedy, The Early Abbasid Caliphate; Tayeb El-Hibri, Reinterpreting Islamic Historiography; Chase F. Robinson, Empire and Elites after the Muslim Conquest


কর্ডোভার উমাইয়ারা: স্বাধীন আমিরাত থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী খিলাফত
আমিরাত ৭৫৬ – ৯২৯; খিলাফত ৯২৯ – ১০৩১ খ্রিস্টাব্দ

আব্বাসীয় হত্যাযজ্ঞ থেকে পালানো আবদুর রহমান প্রথম আইবেরিয়ায় উমাইয়া শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। এই রাষ্ট্র বাগদাদের রাজনৈতিক কর্তৃত্বের বাইরে ছিল। ৯২৯ সালে আবদুর রহমান তৃতীয় নিজেকে খলিফা ঘোষণা করলে পূর্বের আব্বাসীয় ও উত্তর আফ্রিকার ফাতেমীয় দাবির পাশাপাশি পশ্চিমে তৃতীয় বড় খিলাফতি কেন্দ্র প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়।

আবদুর রহমান প্রথমের আমিরাত ৭৫৬ খ্রিস্টাব্দ

কর্ডোভায় স্বাধীন উমাইয়া আমিরাত প্রতিষ্ঠিত হয়। ৭৫০ সালে পরাজিত রাজবংশ পশ্চিমে নতুন রাষ্ট্র গড়ে তোলে; আব্বাসীয়দের বিজয় বিশ্বজুড়ে তাদের একক মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেনি।

মদিনাত আয-যাহরা ও দরবারি জাঁকজমক ১০ম শতাব্দী

কর্ডোভার বাইরে রাজপ্রাসাদ-নগর মদিনাত আয-যাহরা নির্মিত হয়। এটি প্রশাসন, বিদেশি দূতদের অভ্যর্থনা ও খিলাফতি মর্যাদা প্রদর্শনের কেন্দ্র ছিল। শিল্প-সম্পদ এখানে শাসকের কর্তৃত্বের দৃশ্যমান ভাষা।

মহামসজিদ ও রাজবংশীয় রাজধানী ৭৮৫ – ৭৮৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে

কর্ডোভার মহামসজিদের নির্মাণ ও পরবর্তী সম্প্রসারণ উমাইয়া পৃষ্ঠপোষকতার স্থায়ী নিদর্শন হয়। ধর্মীয় স্থাপত্য রাজবংশীয় মর্যাদা ও নগরকেন্দ্রিক শক্তির প্রকাশ বহন করে।

আবদুর রহমান তৃতীয়ের খলিফা ঘোষণা ৯২৯ খ্রিস্টাব্দ

আমির আবদুর রহমান তৃতীয় খলিফা উপাধি গ্রহণ করেন। ৯২৯–১০৩১ সালে কর্ডোভার খিলাফত আব্বাসীয় ও ফাতেমীয়দের সঙ্গে একই সময়ে বিদ্যমান ছিল। একটিমাত্র স্বীকৃত খলিফার ধারাবাহিক শাসনের ধারণা এই রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। [21]

declare himself caliph (929).

বাংলা অনুবাদ: নিজেকে খলিফা ঘোষণা করেন, ৯২৯ সালে।

হিশাম দ্বিতীয় ও আল-মনসুরের বাস্তব ক্ষমতা ৯৭৬ – ১০০২ খ্রিস্টাব্দ

অপ্রাপ্তবয়স্ক হিশাম দ্বিতীয় খলিফা হলে হাজিব আল-মনসুর কার্যকর শাসনক্ষমতা নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত করেন। খলিফার নাম বহাল রেখে অন্য ক্ষমতাকেন্দ্রের শাসন বাগদাদেই সীমাবদ্ধ ছিল না।

আন্দালুসের ফিতনা ও খিলাফতের অবসান ১০০৯ – ১০৩১ খ্রিস্টাব্দ

দরবারি দ্বন্দ্ব, সামরিক গোষ্ঠীর সংঘর্ষ ও দ্রুত শাসক পরিবর্তনে কর্ডোভার কেন্দ্র ভেঙে পড়ে। ১০৩১ সালে খিলাফত বিলুপ্ত হয়; একাধিক তায়ফা রাষ্ট্র গড়ে ওঠে। নগর ও সংস্কৃতির উন্নতি উত্তরাধিকার ও সামরিক ক্ষমতার সংকট ঠেকাতে পারেনি।

সম্পর্কিত গ্রন্থ: Hugh Kennedy, Muslim Spain and Portugal; David Wasserstein, The Caliphate in the West


আল-মাহদি ও আল-হাদি: বিশ্বাসের নামে দমন ও আলিদ বিদ্রোহ
৭৭৫ – ৭৮৬ খ্রিস্টাব্দ

আল-মনসুরের পরে আল-মাহদি এবং আল-হাদি শাসন করেন। রাজস্ব ও প্রশাসনিক সংহতির পাশাপাশি “যান্দাকা” বা ধর্মদ্রোহের অভিযোগকে রাষ্ট্রীয় তদন্ত, কারাবাস ও হত্যার ভিত্তি করা হয়। আলীর বংশের সঙ্গে সমঝোতা ও দমন খলিফাভেদে বদলেছে; অভিন্ন রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

ধর্মদ্রোহ অনুসন্ধানের প্রশাসন আল-মাহদি: ৭৭৫ – ৭৮৫ খ্রিস্টাব্দ

আল-মাহদি যানাদিকাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও দমনের জন্য দিওয়ানুয যানাদিকা গঠন করেন। অভিযুক্তদের কারাবন্দী ও হত্যা করা হয়; কোনো কোনো ক্ষেত্রে তওবার পরে মুক্তি দেওয়া হয়। রাষ্ট্র অনুমোদিত বিশ্বাসের বাইরে থাকা অপরাধে পরিণত হয়েছিল। [22]

Dîvânü’z-Zenâdıka’yı kurdu.

বাংলা অনুবাদ: দিওয়ানুয যানাদিকা প্রতিষ্ঠা করেন।

উত্তরাধিকার তালিকা বদলানো ৭৭৬ – ৭৮৩ খ্রিস্টাব্দ

আল-মাহদি পূর্বনির্ধারিত উত্তরসূরি ঈসা ইবন মুসাকে সরিয়ে নিজের পুত্র মুসা আল-হাদি ও হারুনের উত্তরাধিকার নিশ্চিত করেন। শাসকের পরিবার এবং দরবারের চাপ উত্তরাধিকার-নিয়মকে নিয়ন্ত্রণ করছিল।

ফাখখের যুদ্ধ ও আলীর বংশের ওপর দমন ৭৮৬ খ্রিস্টাব্দ

আল-হাদির আমলে হুসাইন ইবন আলীর নেতৃত্বাধীন আলিদ বিদ্রোহ মক্কার কাছে ফাখখে পরাজিত হয়; তিনি ও বহু অনুসারী নিহত হন। বেঁচে যাওয়া ইদরিস ইবন আবদুল্লাহ মাগরিবে পালান এবং পরে ইদরিসি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। আব্বাসীয় সাম্রাজ্যের ঐক্যের বাইরে নতুন মুসলিম রাজবংশের একটি ভিত্তি তৈরি হয়। [23]

11 Haziran 786

বাংলা অনুবাদ: ১১ জুন ৭৮৬।


হারুনুর রশিদ: সাম্রাজ্যিক শিখর ও প্রশাসনিক জটিলতা
৭৮৬ – ৮০৯ খ্রিস্টাব্দ

হারুনুর রশিদের শাসনকালকে আব্বাসীয় সাম্রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক শিখর হিসেবে ধরা হয়। একই সময়ে এটি প্রশাসনিক জটিলতা, আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধি এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের সূচনাও নির্দেশ করে। বাগদাদ তখন জ্ঞান, বাণিজ্য ও রাজনীতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।

ক্ষমতা গ্রহণ ও বারমাকি পরিবারের উত্থান ৭৮৬ খ্রিস্টাব্দ

হারুনুর রশিদ সিংহাসনে বসার পর প্রশাসনিক দায়িত্বের বড় অংশ বারমাকি পরিবারের হাতে চলে যায়, যারা রাষ্ট্র পরিচালনায় অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে ওঠে।

খোরাসান ও প্রদেশগুলোর স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধি ৮ম শতাব্দীর শেষাংশ

দূরবর্তী প্রদেশগুলো ধীরে ধীরে কেন্দ্র থেকে বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক ক্ষমতা অর্জন করতে শুরু করে।

বাগদাদের বৌদ্ধিক বিকাশ ৮ম শতাব্দীর শেষাংশ

অনুবাদ আন্দোলন ও বৈজ্ঞানিক আলোচনার মাধ্যমে বাগদাদ একটি আন্তর্জাতিক জ্ঞানকেন্দ্রে পরিণত হয়।

বাইজান্টাইন সীমান্তে যুদ্ধ ও কর বৃদ্ধি ৭৯০-এর দশক

বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে। সামরিক ব্যয়ের চাপ সাম্রাজ্যের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।

রাক্কায় দরবার ও সামরিক কেন্দ্র ৭৯৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে

হারুন দীর্ঘ সময় বাগদাদের পরিবর্তে রাক্কায় থাকেন। বাইজান্টাইন সীমান্তের কাছে দরবার ও সেনাবাহিনীর কার্যক্রমের গুরুত্ব বাড়ে। তার শাসনকে শুধু বাগদাদের সাহিত্যিক ও বিলাসী দরবারের ছবিতে সীমাবদ্ধ করলে যুদ্ধরাষ্ট্রের এই দিকটি বাদ পড়ে।

আঘলাবি বংশের স্বশাসন ৮০০ খ্রিস্টাব্দ

ইফ্রিকিয়ায় ইব্রাহিম ইবন আঘলাব বংশানুক্রমিক শাসনের ভিত্তি স্থাপন করেন। খলিফার নাম ও আনুগত্য বহাল থাকলেও স্থানীয় সেনা, রাজস্ব ও প্রশাসন আঞ্চলিক রাজবংশ নিয়ন্ত্রণ করে। কেন্দ্রের নাম স্বীকার করা এবং কেন্দ্রের প্রত্যক্ষ শাসন একই বিষয় ছিল না।

বারমাকিদের পতন ৮০৩ খ্রিস্টাব্দ

হারুন জাফর আল-বারমাকিকে হত্যা করান; ইয়াহইয়া ও ফাদলকে বন্দী করা হয় এবং পরিবারের সম্পদ জব্দ করা হয়। প্রশাসনে অপরিহার্য প্রভাবশালী পরিবারও খলিফার সিদ্ধান্তে নিরাপত্তা হারায়। সাংস্কৃতিক পৃষ্ঠপোষকতার দরবার একই সঙ্গে বিচারবহির্ভূত রাজনৈতিক নির্মূলের কেন্দ্র ছিল। [24]

Ca‘fer öldürülürken Yahyâ ile Fazl hapse atıldı

বাংলা অনুবাদ: জাফরকে হত্যা করা হয়; ইয়াহইয়া ও ফাদলকে কারাগারে পাঠানো হয়।

সম্পর্কিত গ্রন্থ: Tayeb El-Hibri, Reinterpreting Islamic Historiography; Dimitri Gutas, Greek Thought, Arabic Culture; Hugh Kennedy, The Prophet and the Age of the Caliphates


আল-আমিন বনাম আল-মামুন: চতুর্থ ফিতনা ও গৃহযুদ্ধ
৮০৯ – ৮১৩ খ্রিস্টাব্দ; পরবর্তী অস্থিরতা ৮১০-এর দশকজুড়ে

হারুনুর রশিদের মৃত্যুর পর তার দুই পুত্র আল-আমিন ও আল-মামুনের মধ্যে উত্তরাধিকার দ্বন্দ্ব দ্রুত পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। এই সংঘাত আব্বাসীয় সাম্রাজ্যের কেন্দ্রীয় ঐক্যকে গভীরভাবে দুর্বল করে এবং আঞ্চলিক সামরিক শক্তিগুলোর উত্থানকে ত্বরান্বিত করে।

উত্তরাধিকার চুক্তির ভাঙন ৮০৯ – ৮১১ খ্রিস্টাব্দ

হারুনের মৃত্যুর পরে আল-আমিন বাগদাদে খলিফা হন, আল-মামুন পূর্বাঞ্চলে নিজের শক্তি ধরে রাখেন। আল-আমিনের উত্তরাধিকার পুনর্বিন্যাসের প্রচেষ্টা সংকট বাড়ায়; পূর্ণ সামরিক যুদ্ধ শুরু হয় ৮১১ সালে। তাই ৮০৯ সালকেই যুদ্ধের সব প্রধান লড়াইয়ের সূচনা হিসেবে দেখানো অসঠিক।

সামরিক শক্তির পুনর্বিন্যাস পরবর্তী সময়

যুদ্ধের ফলে খোরাসানি বাহিনীর প্রভাব বৃদ্ধি পায় এবং আব্বাসীয় সেনাবাহিনীর কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আসে।

বাগদাদের অবরোধ ৮১২ – ৮১৩ খ্রিস্টাব্দ

আল-মামুনপন্থী বাহিনী বাগদাদ অবরোধ করে। শহরের ভিতরে দীর্ঘমেয়াদি সংঘর্ষ, খাদ্য সংকট এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়।

আল-আমিনের পতন ও মৃত্যু ৮১৩ খ্রিস্টাব্দ

আল-মামুনপন্থী তাহির ইবন হুসাইনের বাহিনী বাগদাদ দখল করে; আল-আমিন বন্দী হওয়ার পর নিহত হন। রাজধানীর ধ্বংস ও খলিফার হত্যা একই রাজবংশের দুই ভাইয়ের উত্তরাধিকার যুদ্ধের ফল। আল-মামুন তখনো মারভে ছিলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে বাগদাদের সব বিরোধিতার অবসান হয়নি।

খলিফার বিরুদ্ধে বাগদাদের নতুন দাবিদার ৮১৭ – ৮১৯ খ্রিস্টাব্দ

আল-মামুন আলী আর-রিদাকে উত্তরাধিকারী করলে আব্বাসীয় পরিবারের একটি অংশ বাগদাদে ইব্রাহিম ইবন মাহদিকে খলিফা ঘোষণা করে। আল-মামুনের বাগদাদে প্রত্যাবর্তনের আগে পর্যন্ত নতুন গৃহবিরোধ চলে। ৮১৩ সালে আমিন নিহত হওয়া এবং চতুর্থ ফিতনার সব পরবর্তী অস্থিরতা শেষ হওয়া এক ঘটনা নয়।

সম্পর্কিত গ্রন্থ: Hugh Kennedy, The Early Abbasid Caliphate; Tayeb El-Hibri, The Abbasid Caliphate: A History; Moshe Sharon, Black Banners from the East


আল-মামুন: জ্ঞানপৃষ্ঠপোষকতা, উত্তরাধিকার-সংকট ও মিহনা
৮১৩ – ৮৩৩ খ্রিস্টাব্দ

আল-মামুনের শাসনকাল আব্বাসীয় ইতিহাসে একদিকে বৌদ্ধিক বিকাশের যুগ, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। গৃহযুদ্ধের পর তিনি খোরাসানি সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে ক্ষমতা সুসংহত করেন এবং ধর্মীয়-দার্শনিক নীতিকে রাষ্ট্রীয় নীতিতে রূপ দেন।

আল-আমিন সমর্থকদের দমন ৮১৩ – ৮১৫ খ্রিস্টাব্দ

গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে আল-আমিনপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বায়তুল হিকমার বিকাশ ৮ম – ১০ম শতাব্দীর বিস্তৃত আন্দোলন

বাগদাদে গ্রিক, সিরিয়াক, পারসিক ও ভারতীয় জ্ঞানভাণ্ডার থেকে অনুবাদ, গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার চর্চা বিস্তৃত হয়। অনুবাদকদের মধ্যে হুনাইন ইবন ইসহাকের মতো খ্রিস্টান পণ্ডিতও গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। এ কাজ দরবার, চিকিৎসক ও ব্যক্তিগত পৃষ্ঠপোষকদের বিস্তৃত নেটওয়ার্কে হয়েছে; সব অনুবাদ এক ভবনে বা এক খলিফার উদ্যোগে সম্পন্ন হয়নি।

আলি-পন্থী নীতিগত সমর্থন (সংক্ষিপ্ত পর্যায়) ৮১৭ – ৮১৮ খ্রিস্টাব্দ

শুরুতে তিনি আলি বংশীয় ইমাম আলী রিদাকে উত্তরাধিকারী ঘোষণা করেন, যা রাজনৈতিক সমঝোতার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হয়, যদিও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

মারভ থেকে বাগদাদে প্রত্যাবর্তন ৮১৯ খ্রিস্টাব্দ

৮১৩ সালে প্রতিদ্বন্দ্বী আমিনের পতনের পরও আল-মামুন মারভে থাকেন। ৮১৯ সালে তিনি বাগদাদে প্রবেশ করে ইরাকের ওপর প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। তার খিলাফত শুরু ৮১৩ সালে; ৮১৯ সাল রাজধানীতে প্রত্যাবর্তনের বছর।

কুরআনের সৃষ্টতা ও খলিফার ধর্মীয় কর্তৃত্ব ৮২০-এর দশক

আল-মামুন কুরআন সৃষ্ট—এই মত সমর্থন করেন এবং ৮৩৩ সালে তা রাষ্ট্রীয় পরীক্ষার বিষয় করেন। এই অবস্থানের সঙ্গে মুতাজিলা ধর্মতত্ত্বের মিল ছিল; মিহনার বিষয়বস্তু পুরো মুতাজিলা দর্শনের প্রতিটি নীতিকে বাধ্যতামূলক করা ছিল না। খলিফার ধর্মীয় ব্যাখ্যা নির্ধারণের দাবি সরাসরি রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগে রূপ নেয়।

মিহনা: রাষ্ট্রীয় বিশ্বাস-পরীক্ষা ৮৩৩ খ্রিস্টাব্দ

আল-মামুন বিচারক, হাদিসবিদ ও অন্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কুরআনের সৃষ্টতা স্বীকারে বাধ্য করার জন্য মিহনা চালু করেন। অস্বীকারকারীদের শৃঙ্খলিত করা ও পদ-সাক্ষ্যদানের অধিকার হারানোর মতো শাস্তি দেওয়া হয়। আহমদ ইবন হাম্বল ও মুহাম্মদ ইবন নুহকে বন্দী করে পাঠানো হয়। যুক্তিবাদী মতের পৃষ্ঠপোষকতাও বিশ্বাসের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেনি; মতটি রাষ্ট্রীয় পরীক্ষায় চাপানো হয়। [25]

zincire vurularak yeniden sorgulanmış

বাংলা অনুবাদ: শৃঙ্খলিত করে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

সম্পর্কিত গ্রন্থ: John A. Nawas, Al-Ma’mun, the Inquisition, and the Quest for Caliphal Authority; Dimitri Gutas, Greek Thought, Arabic Culture; Hugh Kennedy, The Prophet and the Age of the Caliphates; Tayeb El-Hibri, Reinterpreting Islamic Historiography


আব্বাসীয় ভূখণ্ডের বিভাজন: আঞ্চলিক রাজবংশ, সেনাশাসন ও প্রতিদ্বন্দ্বী খলিফা
৮২১ – ১০৫৫ খ্রিস্টাব্দ

আঞ্চলিক স্বশাসনের বিকাশ জাঞ্জ বিদ্রোহের পরে হঠাৎ শুরু হয়নি; তাহিরিদ শাসন ৮২১ সাল থেকেই পূর্বাঞ্চলে বংশানুক্রমিক ক্ষমতার ভিত্তি গড়ে তোলে। স্থানীয় সেনা ও রাজস্বের নিয়ন্ত্রণ হারানো, বাগদাদের দরবারের আর্থিক সংকট এবং প্রতিদ্বন্দ্বী খিলাফতের উত্থান আব্বাসীয় সর্বময় কর্তৃত্ব ভেঙে দেয়। খুতবা ও মুদ্রায় খলিফার নাম থাকা অনেক অঞ্চলে প্রত্যক্ষ প্রশাসনিক অধীনতার সমান ছিল না।

তাহিরিদ ও সাফফারিদদের উত্থান ৮২১ খ্রিস্টাব্দ থেকে

খোরাসানে তাহিরিদরা ৮২১–৮৭৩ সালে বংশানুক্রমিক গভর্নরশাসন চালায়। সিস্তানভিত্তিক সাফফারিদরা ৯ম শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে তাদের সরিয়ে নিজেদের শক্তি বাড়ায়। দুই রাজবংশের খলিফার সঙ্গে সম্পর্ক এক ছিল না: অনুমোদিত গভর্নরশাসন এবং কেন্দ্রকে সামরিকভাবে চ্যালেঞ্জ করা পৃথক পর্যায়।

সেলজুক তুর্কিদের আগমন ১১শ শতাব্দী

সেলজুকরা বাগদাদে প্রবেশ করে বুয়িদদের সরিয়ে দেয় এবং খলিফাকে সুন্নি ধর্মীয় বৈধতার প্রতীক হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে।

খিলাফতের প্রতীকী রূপান্তর ১১শ শতাব্দী

এই পর্যায়ে খলিফা মূলত ধর্মীয় বৈধতার উৎসে পরিণত হন, আর রাজনৈতিক ক্ষমতা সুলতান ও আঞ্চলিক শাসকদের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে।

সামানিদের পূর্বাঞ্চলীয় শক্তি ৯ম – ১০ম শতাব্দী

বুখারা ও সমরকন্দভিত্তিক সামানিরা মধ্য এশিয়া ও খোরাসানে শক্তিশালী রাজ্য গড়ে তোলে। আব্বাসীয় খলিফার মর্যাদা স্বীকার করেও স্থানীয় প্রশাসন, কর ও সেনাবাহিনী নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে। রাজনৈতিক ক্ষমতার বিস্তার এবং বাগদাদের ধর্মীয় স্বীকৃতির মানচিত্র আর এক ছিল না।

তুলুনিদ শাসন (মিশর) ৮৬৮ – ৯০৫ খ্রিস্টাব্দ

মিশরে তুলুনিদরা আব্বাসীয় নিয়ন্ত্রণ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ও সামরিক রাষ্ট্র গঠন করে।

বাগদাদে রাজধানীর প্রত্যাবর্তন ৮৯২ খ্রিস্টাব্দ

আল-মুতাদিদের আমলে বাগদাদ আবার আব্বাসীয় শাসনের প্রধান রাজধানী হয়। সামাররা ৮৩৬–৮৯২ সালে রাজধানী ছিল। সেনাসংকটের পরে কেন্দ্র কিছু সামরিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করে, কিন্তু হারানো সব প্রদেশ পুনর্দখল করতে পারেনি। [26]

which replaced the capital for a brief period (836–92).

বাংলা অনুবাদ: যা অল্প সময়ের জন্য রাজধানীর স্থান নিয়েছিল, ৮৩৬–৮৯২ সালে।

ফাতেমীয় খিলাফতের উত্থান ৯০৯ খ্রিস্টাব্দ

উত্তর আফ্রিকায় ইসমাইলি শিয়া ফাতেমীয়রা নিজেদের খলিফা ঘোষণা করে, যা সুন্নি আব্বাসীয় কর্তৃত্বের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে।

আমিরুল উমারা পদ ও সামরিক কর্তৃত্ব ৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ

ইবন রায়িক আমিরুল উমারা পদে সামরিক ও আর্থিক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেন। খলিফার দরবারের দৈনন্দিন নিয়ন্ত্রণেও সেনাপ্রধানের প্রভাব বাড়ে। ৯৪৫ সালে বুয়িদদের আগমন এই পূর্ববর্তী ক্ষমতাহ্রাসের ধারার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়।

বুয়িদদের বাগদাদ নিয়ন্ত্রণ ৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ

আহমদ ইবন বুয়াহ বাগদাদে প্রবেশ করে মুয়িয আদ-দাওলা উপাধি পান। শিয়া বুয়িদ আমিররা সুন্নি আব্বাসীয় খলিফাকে রেখে সেনা ও রাজস্ব নিয়ন্ত্রণ করেন; খলিফা অপসারণেও হস্তক্ষেপ করেন। খিলাফতের ধর্মীয় প্রতীক বহাল রেখেই তার রাজনৈতিক ক্ষমতা নিজেদের হাতে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল।

সম্পর্কিত গ্রন্থ: Hugh Kennedy, When Baghdad Ruled the Muslim World; C.E. Bosworth, The New Islamic Dynasties; Chase F. Robinson, Islamic Civilization in Thirty Lives


আল-মুতাসিম: তুর্কি গার্ড ও সামরিক রাষ্ট্রের সূচনা
৮৩৩ – ৮৪২ খ্রিস্টাব্দ

আল-মামুনের পর আল-মুতাসিম আব্বাসীয় রাষ্ট্রকে নতুন সামরিক কাঠামোর দিকে নিয়ে যান। আরব ও খোরাসানি অভিজাতদের প্রভাব কমিয়ে তিনি মধ্য এশিয়া থেকে আনা তুর্কি দাস-সৈন্যদের ওপর নির্ভরশীল একটি নতুন সেনাবাহিনী গড়ে তোলেন। এই পরিবর্তন পরবর্তী আব্বাসীয় রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর আধিপত্য স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করে।

তুর্কি গার্ডের গঠন ৮৩০-এর দশক

আল-মুতাসিম ধীরে ধীরে একটি ব্যক্তিগত, অনুগত তুর্কি বাহিনী গড়ে তোলেন, যারা রাষ্ট্রের মূল সামরিক শক্তিতে পরিণত হয়।

সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি ৮৩০–৮৪০-এর দশক

আল-মুতাসিমের ব্যক্তিগত সামরিক গোষ্ঠীর গুরুত্ব বাড়ে। খলিফা হত্যা ও নিয়মিত অপসারণে সেনানায়কদের প্রকাশ্য আধিপত্যের প্রধান সংকট শুরু হয় ৮৬১ সালের পরে; সেটিকে ৮৩০–৮৪০-এর দশকেই সম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠিত বলে লেখা কালগত ভুল।

বাইজান্টাইন সীমান্তে অভিযান ৮৩০-এর দশক

বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে সীমান্ত সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে, তবে অভ্যন্তরীণ সামরিক পুনর্গঠনের কারণে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা দুর্বল হয়।

সামাররা নগরীর প্রতিষ্ঠা ৮৩৬ খ্রিস্টাব্দ

বাগদাদের উত্তরে সামাররা নতুন রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হয়, মূলত তুর্কি সেনাদের নিয়ন্ত্রণ ও নাগরিক সংঘর্ষ কমানোর উদ্দেশ্যে।

বাবাকের বিদ্রোহ দমন ও প্রকাশ্য অঙ্গচ্ছেদে হত্যা ৮৩৭ – ৮৩৮ খ্রিস্টাব্দ

আফশিনের বাহিনী আজারবাইজানে বাবাকের দুর্গ বায দখল করে। বন্দী বাবাককে সামাররায় আনা হয় এবং খলিফার উপস্থিতিতে হাত-পা কেটে হত্যা করা হয়। বিদ্রোহ দমনের পর প্রকাশ্য অঙ্গচ্ছেদ ছিল পরাজিত শত্রুর ওপর নির্যাতন এবং অন্যদের ভয় দেখানোর শাস্তিমূলক প্রদর্শন। [27]

önce kol ve bacakları kesilmek suretiyle idam edildi.

বাংলা অনুবাদ: প্রথমে হাত-পা কেটে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

আমোরিয়াম দখল ৮৩৮ খ্রিস্টাব্দ

আল-মুতাসিমের বাহিনী বাইজান্টাইন আনাতোলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ নগর আমোরিয়াম দখল করে। নগর ধ্বংস, বন্দী গ্রহণ ও জনসংখ্যার স্থানচ্যুতি সামরিক জয়ের অংশ ছিল। সামাররার নতুন সামরিক ব্যবস্থা শুধু দরবারের পুনর্বিন্যাস নয়, বাইরের ভূখণ্ডে বৃহৎ আক্রমণেরও উপকরণ।

সম্পর্কিত গ্রন্থ: Matthew Gordon, The Breaking of a Thousand Swords; Hugh Kennedy, The Early Abbasid Caliphate; Chase F. Robinson, Islamic Civilization in Thirty Lives


আল-ওয়াসিক: মিহনার ধারাবাহিকতা ও ধর্মীয় আনুগত্যের পরীক্ষা
৮৪২ – ৮৪৭ খ্রিস্টাব্দ

আল-মুতাসিমের পরে আল-ওয়াসিক খলিফা হন। সেনানায়ক, প্রধান বিচারক ও দরবারের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভরশীল রাষ্ট্রে মিহনা চলতে থাকে। ধর্মতাত্ত্বিক মত মেনে নেওয়া শিক্ষিত অভিজাতদের বাইরে বন্দী বিনিময়ের শর্তেও ব্যবহৃত হয়।

বন্দী মুক্তির শর্ত হিসেবে মতাদর্শ পরীক্ষা ৮৪৫ খ্রিস্টাব্দ

বাইজান্টাইনদের সঙ্গে বন্দী বিনিময়ে মুসলিম বন্দীদের কুরআনের সৃষ্টতা ও পরকালে আল্লাহকে দেখার প্রশ্নে পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। অনুমোদিত উত্তর না দিলে বন্দীদের প্রতিপক্ষের হাতেই রেখে দেওয়ার কথা ছিল। রাষ্ট্রীয় ধর্মমত মানুষের মুক্তির অধিকারকেও শর্তাধীন করে। [28]

kabul etmeyenlerin Bizanslılar’ın elinde bırakılmasını emretti.

বাংলা অনুবাদ: অস্বীকারকারীদের বাইজান্টাইনদের হাতেই রেখে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

আহমদ ইবন নাসরের হত্যা ৮৪৬ খ্রিস্টাব্দ

মিহনাবিরোধী আহমদ ইবন নাসর আল-খুযাঈর নেতৃত্বে বিদ্রোহের পরিকল্পনা ধরা পড়ে। আল-ওয়াসিক নিজে তাকে ধর্মতাত্ত্বিক প্রশ্ন করেন এবং হত্যা করেন। রাজনৈতিক বিদ্রোহের তদন্ত ধর্মীয় মতের বিচারে রূপ নেয়।


আল-মুতাওয়াক্কিল: মিহনার অবসান, উলামাদের উত্থান ও তুর্কি সংকট
৮৪৭ – ৮৬১ খ্রিস্টাব্দ

আল-মুতাওয়াক্কিলের শাসনকে আব্বাসীয় ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হয়। তিনি আল-মামুনের মুতাজিলা-সমর্থিত রাষ্ট্রনীতির অবসান ঘটান এবং সুন্নি ঐতিহ্যবাহী ধর্মতত্ত্বকে পুনরায় শক্তিশালী করেন। একই সময়ে তুর্কি সেনাদের ওপর নির্ভরতা বাড়তে থাকে, যা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ভিত্তি তৈরি করে।

কারবালায় হুসাইনের সমাধি ধ্বংসের নির্দেশ ২৩৬ হিজরি / ৮৫০ – ৮৫১ খ্রিস্টাব্দ

ইবন কাসির লিখেছেন, আল-মুতাওয়াক্কিল হুসাইনের কবর ও আশপাশের বাড়িঘর ভাঙার নির্দেশ দেন। তিন দিনের পরে সেখানে কাউকে পাওয়া গেলে কারাগারে পাঠানোর ঘোষণা হয়; জায়গাটি কৃষিজমিতে রূপান্তর করা হয়। শিয়া স্মৃতি ও তীর্থচর্চা দমনে রাষ্ট্রীয় ধ্বংসযজ্ঞের নির্দিষ্ট উদাহরণ এটি। [29]

أَمَرَ الْمُتَوَكِّلُ بِهَدْمِ قَبْرِ الْحُسَيْنِ

বাংলা অনুবাদ: আল-মুতাওয়াক্কিল হুসাইনের কবর ধ্বংসের নির্দেশ দেন।

উলামা শ্রেণির ক্ষমতা বৃদ্ধি ৮৪০–৮৫০-এর দশক

ধর্মীয় ব্যাখ্যার কর্তৃত্ব ধীরে ধীরে রাষ্ট্র থেকে পৃথক হয়ে উলামাদের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়, যা ইসলামি আইনশাস্ত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মিহনার অবসান ৮৪৮/৮৪৯ – ৮৫১/৮৫২ খ্রিস্টাব্দ

আল-মুতাওয়াক্কিলের আমলে মিহনা কয়েক ধাপে প্রত্যাহৃত হয়। ৮৪৮/৮৪৯ নাগাদ কুরআনের সৃষ্টতা নিয়ে রাষ্ট্রীয় বিতর্ক ও পরীক্ষা বন্ধের নীতি কার্যকর হয়; ৮৫১–৮৫২ সালে ইবন আবি দুআদের অপসারণ এবং বন্দীদের মুক্তির মধ্য দিয়ে আগের ব্যবস্থার অবশিষ্ট প্রভাব আরও কমে। ৮৪৭ সালে ক্ষমতা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই সব নিপীড়ন বন্ধ হয়েছিল—এ দাবি ভুল।

খ্রিস্টান ও অন্যান্য সংখ্যালঘু নীতিতে কঠোরতা ৮৪৯ – ৮৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে

ইহুদি ও খ্রিস্টানদের পৃথক পোশাক ও চিহ্ন ব্যবহার, প্রশাসনিক চাকরি ও ধর্মীয় স্থাপনার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এই ব্যবস্থা ধর্মপরিচয়কে প্রকাশ্য অধীনতার চিহ্নে পরিণত করে। মিহনার অবসান সর্বজনীন ধর্মীয় স্বাধীনতার সূচনা ছিল না; রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের লক্ষ্য ও অনুমোদিত মত বদলেছিল।

তুর্কি গার্ডের প্রভাব বিস্তার ৮৫০-এর দশক

তুর্কি সৈন্যরা বাগদাদ ও সামাররায় রাজনৈতিক প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হয়, এবং খলিফার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।

হত্যা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা ৮৬১ খ্রিস্টাব্দ

আল-মুতাওয়াক্কিল তার নিজস্ব তুর্কি প্রহরীদের দ্বারা নিহত হন। এটি সামাররা যুগে সামরিক গোষ্ঠীর চূড়ান্ত আধিপত্যের সূচনা করে।

সম্পর্কিত গ্রন্থ: Christopher Melchert, The Formation of the Sunni Schools of Law; Hugh Kennedy, The Prophet and the Age of the Caliphates; Matthew Gordon, The Breaking of a Thousand Swords


সামাররা সংকট, খলিফা হত্যাকাণ্ড ও আব্বাসীয় দুর্বলতার সূচনা
৮৬১ – ৮৭০ খ্রিস্টাব্দ

আল-মুতাওয়াক্কিলের হত্যার পর আব্বাসীয় খিলাফত দ্রুত রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার যুগে প্রবেশ করে। সামাররায় তুর্কি সামরিক গোষ্ঠীগুলো খলিফা নিয়ন্ত্রণে কার্যত নির্ধারক শক্তিতে পরিণত হয়। এই সময়ে একের পর এক খলিফা পরিবর্তন, গৃহদ্বন্দ্ব এবং সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রকে দুর্বল করে দেয়।

আল-মুনতাসিরের সংক্ষিপ্ত শাসন ৮৬১ – ৮৬২ খ্রিস্টাব্দ

পিতা আল-মুতাওয়াক্কিলের হত্যার পরে আল-মুনতাসির খলিফা হন; অল্প সময়ের মধ্যে তার মৃত্যু হয়। এরপর সেনানায়কদের সমর্থনে আল-মুস্তাঈন ক্ষমতায় বসেন। খলিফার নিরাপত্তা ও উত্তরাধিকার সামরিক গোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

সামাররা অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধ ৮৬১ – ৮৬৫ খ্রিস্টাব্দ

তুর্কি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও বেতন-সংক্রান্ত সংঘর্ষ সামাররাকে অস্থিতিশীল করে তোলে।

আল-মুস্তাঈনের ক্ষমতায় আসা ৮৬২ খ্রিস্টাব্দ

তুর্কি সেনা অভিজাতদের সমর্থনে আল-মুস্তাঈন খলিফা হন। বাস্তবে সেনাবাহিনী রাষ্ট্রক্ষমতার মূল নিয়ন্ত্রকে পরিণত হয়।

বাগদাদ অবরোধ ৮৬৫ – ৮৬৬ খ্রিস্টাব্দ

সামাররা-ভিত্তিক তুর্কি বাহিনী বাগদাদ অবরোধ করে। শহরটি দীর্ঘ সংঘর্ষ, দুর্ভিক্ষ ও ধ্বংসের মুখে পড়ে।

আল-মু’তাজ্জের উত্থান ৮৬৬ খ্রিস্টাব্দ

নতুন খলিফা হিসেবে আল-মু’তাজ্জ ক্ষমতায় আসেন, কিন্তু তিনিও তুর্কি সামরিক গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকেন।

আল-মুস্তাঈনের অপসারণ ও হত্যা ৮৬৬ খ্রিস্টাব্দ

বাগদাদ অবরোধের পরে আল-মুস্তাঈন ক্ষমতা ছাড়েন এবং পরে নিহত হন। তার স্থলাভিষিক্ত আল-মুতাজও সেনাদের বেতন ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামাল দিতে পারেননি। অপসারণের পরে সাবেক খলিফার প্রাণরক্ষার নিশ্চয়তা ছিল না।

খলিফা আল-মু’তাজ্জের হত্যা ৮৬৯ খ্রিস্টাব্দ

তুর্কি প্রহরীদের বিদ্রোহের ফলে আল-মু’তাজ্জ নিহত হন। এটি খলিফা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাকে আরও দুর্বল করে।

আল-মুহতাদির হত্যা ৮৭০ খ্রিস্টাব্দ

সেনানায়কদের নিয়ন্ত্রণে আনতে চাওয়া আল-মুহতাদি সংঘাতে পরাজিত হয়ে নিহত হন। ৮৬১–৮৭০ পর্বে খলিফা পরিবর্তন, সেনাবেতন ও দরবারের সহিংসতা একই সংকটের অংশ ছিল। পরে আল-মুতামিদের নামে শাসন চললেও তার ভাই আল-মুওয়াফফাক বাস্তব সামরিক নেতৃত্ব নেন।

সম্পর্কিত গ্রন্থ: Hugh Kennedy, The Early Abbasid Caliphate; Matthew Gordon, The Breaking of a Thousand Swords; Alexandre Popovic, The Revolt of African Slaves in Iraq


জাঞ্জ বিদ্রোহ, সামাররা সংকট ও কেন্দ্রীয় ক্ষমতার ভাঙন
৮৬৯ – ৮৮৩ খ্রিস্টাব্দ

আব্বাসীয় খিলাফতের এই পর্যায়ে রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কাঠামো গভীর সংকটে পড়ে। সামাররা যুগের সামরিক গোষ্ঠীগুলোর দ্বন্দ্ব, বাগদাদের দুর্বল প্রশাসন এবং অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে দক্ষিণ ইরাকে জাঞ্জ বিদ্রোহ একটি দীর্ঘস্থায়ী ও ধ্বংসাত্মক সংঘাতে রূপ নেয়। এই বিদ্রোহ সাম্রাজ্যের শ্রমব্যবস্থা ও সামাজিক বৈষম্যের গভীর সংকটকে প্রকাশ করে।

জাঞ্জ বিদ্রোহের সূচনা ৮৬৯ খ্রিস্টাব্দ

আলী ইবন মুহাম্মদের নেতৃত্বে দক্ষিণ ইরাকে দাস শ্রমিক ও অন্য অসন্তুষ্ট মানুষ বিদ্রোহে যোগ দেন। লবণাক্ত জমি পরিষ্কার ও কৃষিজমি প্রস্তুতের কঠোর শ্রমব্যবস্থায় আফ্রিকান দাসদের ব্যবহার করা হচ্ছিল। বিদ্রোহ দাসশ্রমভিত্তিক অর্থনীতির নিষ্ঠুরতা প্রকাশ করে; অংশগ্রহণকারী সবাই একই উৎস ও সামাজিক অবস্থানের মানুষ ছিলেন না। [30]

ağır şartlar altında çalıştırılıyordu.

বাংলা অনুবাদ: কঠোর পরিস্থিতিতে তাদের কাজ করানো হচ্ছিল।

আলী ইবন মুহাম্মদের নেতৃত্বের উত্থান ৮৭০-এর দশক

বিদ্রোহী নেতা আলী ইবন মুহাম্মদ সংগঠিত বাহিনী গঠন করে দক্ষিণ ইরাকের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে নেন এবং স্বাধীন প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করেন।

দীর্ঘ গেরিলা যুদ্ধ ৮৭০–৮৮০-এর দশক

আব্বাসীয় বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে জলাভূমি এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চলে, যা রাষ্ট্রের সামরিক সম্পদকে ক্লান্ত করে।

সামাররা কেন্দ্রের প্রভাব হ্রাস ৮৭০-এর দশক

তুর্কি সামরিক গোষ্ঠীগুলোর অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ে।

বাসরা দখল ও ধ্বংস ৮৭১ খ্রিস্টাব্দ

বিদ্রোহীরা বাসরা শহর দখল করে। শহরের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সাফফারিদের বাগদাদমুখী অগ্রযাত্রা প্রতিহত ৮৭৬ খ্রিস্টাব্দ

ইয়াকুব ইবন লাইস আস-সাফফার ইরানের পূর্বাঞ্চল থেকে ইরাকের দিকে অগ্রসর হন। দাইরুল আকুলে আল-মুওয়াফফাকের বাহিনী তাকে পরাজিত করে। আব্বাসীয় কেন্দ্র তখন শুধু দাসবিদ্রোহ নয়, মুসলিম আঞ্চলিক সেনাশক্তির সামরিক চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করছিল।

জাঞ্জ বিদ্রোহের পতন ৮৮৩ খ্রিস্টাব্দ

আল-মুওয়াফফাক ও তার পুত্রের নেতৃত্বে দীর্ঘ অভিযানের পরে বিদ্রোহীদের কেন্দ্র আল-মুখতারা দখল করা হয় এবং আলী ইবন মুহাম্মদ নিহত হন। দক্ষিণ ইরাকের উৎপাদন, বসতি ও বাণিজ্য ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দাসশ্রমের সংকট দমন করা হয়েছিল; দাসপ্রথা বিলুপ্ত করা হয়নি।

সম্পর্কিত গ্রন্থ: Alexandre Popovic, The Revolt of African Slaves in Iraq; Hugh Kennedy, When Baghdad Ruled the Muslim World; Matthew Gordon, The Breaking of a Thousand Swords


কারামাতি শক্তি ও মক্কার বিপর্যয়
৯ম শতাব্দীর শেষভাগ – ১০ম শতাব্দী

আব্বাসীয় সর্বময় শাসনের দাবি ভাঙার আরেক প্রকাশ ছিল বাহরাইন-আল-আহসাভিত্তিক কারামাতি শক্তি। তারা ইরাক ও হজযাত্রার পথে অভিযান চালায়। মক্কা ও হজের ওপর তাদের আক্রমণ দেখায়, পবিত্র কেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং খলিফার রাজনৈতিক দাবি একই শক্তির নিশ্চয়তা বহন করত না।

দক্ষিণ ইরাক ও হজপথে অভিযান ৯২০-এর দশক

আবু তাহির আল-জান্নাবির বাহিনী বসরা ও কুফা অঞ্চলে আক্রমণ করে এবং হজযাত্রীদের ওপর হামলা চালায়। কেন্দ্র থেকে স্বাধীন সামরিক শক্তি রাজস্ব, বাণিজ্য ও ধর্মীয় যাত্রার পথ নিয়ন্ত্রণের জন্য লড়ছিল।

মক্কা আক্রমণ ও হাজরে আসওয়াদ অপসারণ ৯৩০ খ্রিস্টাব্দ

হজের মৌসুমে কারামাতিরা মক্কায় আক্রমণ করে বহু মানুষ হত্যা করে এবং হাজরে আসওয়াদ নিয়ে যায়। পাথরটি প্রায় দুই দশক তাদের হাতে থাকে। খিলাফতির ধর্মীয় দাবির মধ্যেই কাবা ও হজযাত্রীদের এমন আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে আব্বাসীয় কেন্দ্র ব্যর্থ হয়। [31]

Hacerülesved’i Bahreyn’deki Hecer’e götürdü

বাংলা অনুবাদ: হাজরে আসওয়াদ বাহরাইনের হাজারে নিয়ে যায়।

হাজরে আসওয়াদের প্রত্যাবর্তন ৯৫১ খ্রিস্টাব্দ

দীর্ঘ বিরতির পরে হাজরে আসওয়াদ মক্কায় ফেরত আসে। এর অপসারণ ও প্রত্যাবর্তনের মধ্যকার প্রায় একুশ বছর খিলাফতের পবিত্র ভূগোলের ওপর রাজনৈতিক-সামরিক বিভক্তির সরাসরি চিহ্ন হয়ে থাকে।


ফাতেমীয় খিলাফত: ইসমাইলি রাষ্ট্র, কায়রো ও সামরিক উজিরদের কর্তৃত্ব
৯০৯ – ১১৭১ খ্রিস্টাব্দ

ফাতেমীয়রা আলী ও ফাতিমার বংশধর হওয়ার দাবি এবং ইসমাইলি ইমামতের ভিত্তিতে আব্বাসীয়দের প্রতিদ্বন্দ্বী খিলাফত গড়ে তোলে। প্রথম কেন্দ্র উত্তর আফ্রিকা; মিশর দখলের পরে কায়রো রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কেন্দ্র হয়। নিজেদের খলিফার দাবি, সেনাবাহিনী, রাজস্ব ও দাওয়াহ-ব্যবস্থা নিয়ে তারা বাগদাদের বাইরে পৃথক সাম্রাজ্য পরিচালনা করেছে।

ইফ্রিকিয়ায় আব্বাসীয় আনুগত্যের অবসান ৯০৯ – ৯১০ খ্রিস্টাব্দ

আবু আবদুল্লাহ আশ-শিইর নেতৃত্বাধীন কুতামা বাহিনী আঘলাবিদের পরাজিত করে। উবায়দুল্লাহ আল-মাহদি প্রকাশ্যে খলিফা হন। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাবর্ষ প্রচলিতভাবে ৯০৯; রাক্কাদায় তার আনুষ্ঠানিক আগমন ও ঘোষণার তারিখ ৯১০ সালের জানুয়ারি। [32]

15 Ocak 910

বাংলা অনুবাদ: ১৫ জানুয়ারি ৯১০।

মিশর দখল ও কায়রো প্রতিষ্ঠা ৯৬৯ খ্রিস্টাব্দ

জাওহার আস-সিকিল্লির বাহিনী মিশর দখল করে এবং ফুস্তাতের উত্তরে নতুন রাজধানী-নগরের ভিত্তি স্থাপন করে। খুতবা ও মুদ্রায় আব্বাসীয় খলিফার বদলে ফাতেমীয় খলিফার নাম বসে। মিশর সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী খিলাফতের অধীন যায়।

আল-আজহার ও খলিফার রাজধানী স্থানান্তর ৯৭০ – ৯৭৩ খ্রিস্টাব্দ

আল-আজহার মসজিদ প্রতিষ্ঠা হয় ফাতেমীয় কায়রোর অংশ হিসেবে; এটি ইসমাইলি ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়। ৯৭৩ সালে আল-মুইয মিশরে এসে খিলাফতির কেন্দ্র স্থানান্তর সম্পূর্ণ করেন। আজকের সুন্নি আল-আজহারের প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা ইসমাইলি শিয়া শাসনের অধীনে। [33]

became the spiritual center for Isma’ili Shi’i.

বাংলা অনুবাদ: ইসমাইলি শিয়াদের ধর্মীয় কেন্দ্রে পরিণত হয়।

আল-হাকিমের বিধিনিষেধ ও গির্জা ধ্বংস ৯৯৬ – ১০২১; গির্জা ধ্বংস ১০০৯ খ্রিস্টাব্দ

আল-হাকিমের শাসনে ইহুদি-খ্রিস্টান ও সুন্নি মুসলিমদের ওপর দমন, আলাদা পোশাক-চিহ্ন এবং উপাসনায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ১০০৯ সালে জেরুজালেমের পবিত্র সমাধি গির্জা ধ্বংস করা হয়। শাসকের খেয়াল ও বদলানো আদেশের কাছে অধীন জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অধিকার অনিরাপদ ছিল। [34]

Kıyâme (Saint Sepulcre) Kilisesi’ni yağmalatıp yıktırdı.

বাংলা অনুবাদ: পবিত্র সমাধি গির্জা লুণ্ঠন ও ধ্বংস করান।

বাগদাদে সাময়িক ফাতেমীয় খুতবা ১০৫৮ – ১০৬০ খ্রিস্টাব্দ

সামরিক নেতা আল-বাসাসিরি বাগদাদে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে ফাতেমীয় খলিফার নামে খুতবা পড়ান। পরে তুগরিল বাগদাদ পুনর্দখল করলে আব্বাসীয় খলিফা ফিরে আসেন। খুতবার নামবদল ছিল সার্বভৌমত্ব নিয়ে চলমান সামরিক প্রতিযোগিতার প্রকাশ।

দুর্ভিক্ষ, সেনাদ্বন্দ্ব ও বদর আল-জামালির উত্থান ১০৬০-এর দশক – ১০৭৩/১০৭৪ খ্রিস্টাব্দ

নীলনদের জলপ্রবাহের সংকট, খাদ্যাভাব ও সেনাদলগুলোর যুদ্ধ মিশরকে বিপর্যস্ত করে। আল-মুস্তানসির বদর আল-জামালিকে এনে উজির করেন; তিনি নিজের বাহিনীর সাহায্যে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর খলিফার পাশে সামরিক উজিরের বাস্তব ক্ষমতা আরও বাড়ে। [35]

devlet idaresine tamamen hâkim oldu.

বাংলা অনুবাদ: রাষ্ট্রের প্রশাসনে পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।

নিজারি-মুস্তালি বিভাজন ১০৯৪ খ্রিস্টাব্দ

আল-মুস্তানসিরের মৃত্যুর পরে নিজার ও আল-মুস্তালির উত্তরাধিকার নিয়ে বিভাজন ঘটে। সেনা ও উজিরগোষ্ঠীর সমর্থন সিংহাসন নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। ইসমাইলি সমাজের ধর্মীয় বিভাজন রাজবংশীয় উত্তরাধিকারের সংঘাতের সঙ্গেও যুক্ত হয়।

সালাহউদ্দিনের অধীনে ফাতেমীয় খিলাফতের অবসান ১১৭১ খ্রিস্টাব্দ

মিশরের উজির সালাহউদ্দিন আব্বাসীয় খলিফার নামে খুতবা চালু করেন। শেষ ফাতেমীয় খলিফা আল-আদিদের মৃত্যুর সঙ্গে রাজবংশের খিলাফত শেষ হয়। মিশর বাগদাদের প্রত্যক্ষ প্রশাসনের অধীন যায়নি; আইয়ুবি শাসকরা নিজেদের সেনা ও রাজস্ব নিয়ন্ত্রণ করেছেন। [36]

1171

বাংলা অনুবাদ: ১১৭১।


সেলজুক আধিপত্য ও খিলাফতের প্রতীকী পুনর্বিন্যাস
১১শ – ১২শ শতাব্দী

সেলজুক তুর্কিদের উত্থানের মাধ্যমে আব্বাসীয় খিলাফত একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রবেশ করে। খলিফা বাগদাদে ধর্মীয় বৈধতার প্রতীক হিসেবে টিকে থাকলেও প্রকৃত সামরিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা সেলজুক সুলতানদের হাতে চলে যায়। এই সময়ে সুন্নি পুনর্জাগরণ, মাদ্রাসা নেটওয়ার্কের বিস্তার এবং রাষ্ট্র-উলামা সম্পর্ক পুনর্গঠিত হয়।

তুগরিল বেগের বাগদাদ প্রবেশ ১০৫৫ খ্রিস্টাব্দ

সেলজুক নেতা তুগরিল বেগ বাগদাদে প্রবেশ করে বুয়িদদের ক্ষমতা শেষ করেন এবং আব্বাসীয় খলিফাকে পুনরায় সুন্নি রাজনৈতিক কাঠামোর অধীনে আনেন।

সুলতান-খলিফা দ্বৈত ব্যবস্থা ১১শ শতাব্দী

তুগরিলের সামরিক কর্তৃত্ব এবং আব্বাসীয় খলিফার স্বীকৃতির মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বাস্তবে খলিফা ও সুলতানের স্বার্থ সবসময় এক ছিল না; নিয়োগ, আয়, বিবাহ ও বাগদাদ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাত চলেছে। এই সম্পর্ককে স্থির ও সংঘাতমুক্ত ধর্মীয়-রাজনৈতিক শ্রমবিভাগ হিসেবে দেখানো ভুল।

ফাতেমীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা অব্যাহত ১১শ – ১২শ শতাব্দী

মিশরের ফাতেমীয় খিলাফত সুন্নি আব্বাসীয়দের বিপরীতে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে টিকে থাকে।

নিজামিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ১০৬৭ খ্রিস্টাব্দ; নির্মাণ শুরু আগে

নিজামুল মুলকের পৃষ্ঠপোষকতায় বাগদাদের নিজামিয়া মাদ্রাসা ১০৬৭ সালে চালু হয়। বৃহত্তর মাদ্রাসা নেটওয়ার্ক শাফেয়ি আইনচর্চা ও সুন্নি পণ্ডিতদের পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ায়। শিক্ষা, সরকারি নিয়োগ ও মতাদর্শগত কর্তৃত্ব পরস্পর যুক্ত হয়ে ওঠে।

ক্রুসেডের সূচনা আহ্বান ১০৯৫; অভিযান ১০৯৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে

পোপ আরবান দ্বিতীয় ১০৯৫ সালে ক্রুসেডের আহ্বান জানান; অভিযাত্রী বাহিনী পরের বছর পূর্বদিকে যাত্রা করে। সেলজুক উত্তরাধিকার-দ্বন্দ্ব এবং সিরিয়া-প্যালেস্টাইনের বিভক্ত শাসন ক্রুসেডের সময়কার রাজনৈতিক বাস্তবতা ছিল।

জেরুজালেম দখল ও পুনর্দখল ১০৯৯ – ১১৮৭ খ্রিস্টাব্দ

১০৯৯ সালে ক্রুসেডাররা ফাতেমীয়দের কাছ থেকে জেরুজালেম দখল করে এবং নগরের মুসলিম ও ইহুদি বাসিন্দাদের হত্যা করে। ১১৮৭ সালে হিত্তিনের বিজয়ের পরে সালাহউদ্দিন জেরুজালেম পুনর্দখল করেন। দুই ঘটনার কোনোটিতেই আব্বাসীয় খলিফা প্রধান সামরিক অধিনায়ক ছিলেন না; ফাতেমীয় ও আইয়ুবি শক্তির ভূমিকা পৃথক।

সম্পর্কিত গ্রন্থ: C.E. Bosworth, The New Islamic Dynasties; Hugh Kennedy, The Prophet and the Age of the Caliphates; Carole Hillenbrand, The Crusades: Islamic Perspectives


আলমোহাদ খিলাফত: মাগরিবে নতুন সার্বভৌম দাবি
আন্দোলন ১১২১ থেকে; রাজবংশ ১১৩০ – ১২৬৯ খ্রিস্টাব্দ

ইবন তুমার্তের মাহদি-দাবি থেকে গড়ে ওঠা আলমোহাদ বা মুওয়াহহিদ আন্দোলন মাগরিব ও আন্দালুসে নতুন সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। আবদুল মুমিন ও তার উত্তরসূরিরা আমিরুল মুমিনিন ও খলিফার মর্যাদা দাবি করেন। তাদের অস্তিত্ব বাগদাদ বা কায়রোর একক মুসলিম রাজনৈতিক নেতৃত্বের দাবি আরও খণ্ডিত করে।

ইবন তুমার্তের মাহদি ঘোষণা ১১২১ খ্রিস্টাব্দ

ইবন তুমার্ত আলমোরাভিদ শাসনের ধর্মীয় বিরোধিতা করে নিজেকে মাহদি ঘোষণা করেন। ধর্মসংস্কারের দাবি বিদ্যমান মুসলিম রাষ্ট্র উৎখাতের আন্দোলনের ভিত্তি হয়।

আবদুল মুমিন ও মারাকেশ দখল ১১৩০ – ১১৪৭ খ্রিস্টাব্দ

ইবন তুমার্তের মৃত্যুর পরে আবদুল মুমিন আন্দোলনের নেতৃত্ব নেন; ১১৪৭ সালে মারাকেশ দখলে আলমোরাভিদ কেন্দ্রের পতন ঘটে। নতুন নেতৃত্বও বংশানুক্রমিক রাজবংশে পরিণত হয়। [37]

hükümdarlarına da emîrü’l-mü’minîn denildi.

বাংলা অনুবাদ: তাদের শাসকদের আমিরুল মুমিনিন বলা হতো।

বাধ্যতামূলক ধর্মমত ও ফিকহের বই পোড়ানো ১২শ শতাব্দী

আলমোহাদ নেতৃত্ব নিজেদের ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করে এবং মালিকি ফিকহের কিছু গ্রন্থ পোড়ানোর আদেশ দেয়। রাষ্ট্রীয় “শুদ্ধ” ধর্মের দাবি মুসলিম পণ্ডিতদের রচনাও ধ্বংসের ভিত্তি হয়েছে।

লাস নাভাস দে তোলোসা ও কেন্দ্রের পতন ১২১২ – ১২৬৯ খ্রিস্টাব্দ

১২১২ সালে আইবেরিয়ায় বড় পরাজয়ের পরে আলমোহাদ শক্তি ভাঙতে থাকে। উত্তরাধিকার-দ্বন্দ্ব এবং হাফসি, যাইয়ানি ও মারিনি আঞ্চলিক শক্তির উত্থানে সাম্রাজ্য বিভক্ত হয়। ১২৬৯ সালে মারিনিদের মারাকেশ দখলে রাজবংশের কেন্দ্রীয় শাসন শেষ হয়।


শেষ আব্বাসীয়দের ক্ষমতা পুনরুদ্ধার, আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা ও মঙ্গোল বিপদ
১১৩৫ – ১২৫৮ খ্রিস্টাব্দ

১২শ–১৩শ শতাব্দীর আব্বাসীয় খলিফারা সবাই শুধু নামমাত্র প্রতীক ছিলেন না। আল-মুকতাফি ও আন-নাসিরের আমলে ইরাকের কিছু অঞ্চলে সেনাবাহিনী, রাজস্ব ও ভূখণ্ডের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার হয়। এই আঞ্চলিক পুনরুত্থান প্রাথমিক আব্বাসীয় সাম্রাজ্যের পুনর্গঠন ছিল না; সেলজুক, আইয়ুবি ও খারেজমশাহ শক্তির সঙ্গে প্রতিযোগিতা চলেছে। তাই শেষ যুগকে অবিরাম ক্ষমতাহ্রাসের এক সরল রেখায় দেখানো ভুল।

নুরুদ্দিন জেঙ্গির উত্থান ১২শ শতাব্দীর মাঝামাঝি

সিরিয়া অঞ্চলে জেঙ্গিদরা ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা একত্রিত করতে শুরু করে।

ক্রুসেডার রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও চুক্তি ১২শ – ১৩শ শতাব্দী

১২শ–১৩শ শতাব্দীতে ক্রুসেডার রাষ্ট্র, আইয়ুবি এবং পরে মামলুকদের মধ্যে যুদ্ধ ও চুক্তি চলেছে। ১২৯১ সালে আক্কার পতনে মূল ভূখণ্ডের শেষ প্রধান ক্রুসেডার ঘাঁটি শেষ হয়—বাগদাদের পতনেরও পরে।

খারেজমশাহদের উত্থান ১৩শ শতাব্দীর শুরু

মধ্য এশিয়া ও ইরানে খারেজমশাহরা শক্তিশালী সাম্রাজ্য গড়ে তোলে, যা আব্বাসীয়দের জন্য একটি নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

আল-মুকতাফির সামরিক ক্ষমতা পুনরুদ্ধার ১১৫২ – ১১৫৭ খ্রিস্টাব্দ

আল-মুকতাফি সেলজুক আধিপত্যের বাইরে নিজস্ব সামরিক শক্তি বাড়ান। ১১৫৭ সালের বাগদাদ অবরোধ ব্যর্থ হলে খলিফার স্থানীয় স্বশাসন আরও সুসংহত হয়। বাগদাদ তখন ধর্মীয় দপ্তরমাত্র ছিল না; সীমিত ভূখণ্ডের ওপর বাস্তব শাসনক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্র ছিল। [38]

kuşatmaya son verip Hemedan’a hareket etti

বাংলা অনুবাদ: অবরোধ শেষ করে হামাদানের দিকে চলে যান।

সালাদিন ও আইয়ুবিদ শাসন ১১৭১ খ্রিস্টাব্দের পর

সালাদিন ফাতেমীয় খিলাফত বিলুপ্ত করে মিশর ও সিরিয়ায় আইয়ুবিদ শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি নামমাত্র আব্বাসীয় খলিফার কর্তৃত্ব স্বীকার করলেও বাস্তবে স্বাধীন শাসক ছিলেন।

আন-নাসিরের দীর্ঘ শাসন ও নিজস্ব রাজনীতি ১১৮০ – ১২২৫ খ্রিস্টাব্দ

আন-নাসির বাগদাদকেন্দ্রিক কর্তৃত্ব বাড়ান, ফুতুওয়া সংগঠনের মাধ্যমে সামাজিক প্রভাব বিস্তার করেন এবং সেলজুক-খারেজমশাহ দ্বন্দ্বে সক্রিয় হন। তার নীতি ছিল খিলাফতের বাস্তব রাজনৈতিক শক্তি পুনঃস্থাপন। তিনি শুধু অন্য সুলতানের অনুমোদনদাতা প্রতীক ছিলেন না। [39]

Abbâsî hilâfetinin hâkimiyetini yeniden tesis etmek

বাংলা অনুবাদ: আব্বাসীয় খিলাফতের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

খারেজমশাহের বাগদাদ অভিযান ব্যর্থ ১২১৭ খ্রিস্টাব্দ

আলা আদ-দীন মুহাম্মদ খলিফা আন-নাসিরের বিরুদ্ধে বিকল্প খলিফার দাবি সমর্থন করে বাগদাদ অভিমুখে এগোন। শীত ও প্রতিকূলতায় অভিযান ফিরে যায়। মঙ্গোল আক্রমণের আগে মুসলিম শক্তিগুলো নিজেরাই পরস্পরের কর্তৃত্ব উৎখাতের যুদ্ধে লিপ্ত ছিল।

সম্পর্কিত গ্রন্থ: Hugh Kennedy, When Baghdad Ruled the Muslim World; Carole Hillenbrand, The Crusades: Islamic Perspectives; C.E. Bosworth, The New Islamic Dynasties


মঙ্গোল আক্রমণ ও আব্বাসীয় খিলাফতের পতন
১২৫৮ খ্রিস্টাব্দ

আব্বাসীয় খিলাফতের শেষ অধ্যায়টি চিহ্নিত হয় মঙ্গোল আক্রমণের মাধ্যমে। এই সময়ে বাগদাদ ছিল রাজনৈতিকভাবে দুর্বল, অভ্যন্তরীণভাবে বিভক্ত এবং বাহ্যিকভাবে বিভিন্ন শক্তির ওপর নির্ভরশীল। মঙ্গোল সাম্রাজ্যের বিস্তার মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেয় এবং বাগদাদ ধ্বংসের মাধ্যমে আব্বাসীয় কেন্দ্রীয় খিলাফতের অবসান ঘটে।

মঙ্গোল বাহিনীর পশ্চিমমুখী অগ্রযাত্রা ১২৫০-এর দশক

হালাকু খানের নেতৃত্বে মঙ্গোলরা পারস্য ও ইরাক অঞ্চলে দ্রুত অগ্রসর হয় এবং একের পর এক শহর দখল করে।

বাগদাদ অবরোধ ১২৫৮ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি – ফেব্রুয়ারি

হালাকুর বাহিনী জানুয়ারির শেষভাগে বাগদাদ ঘিরে ফেলে। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে প্রতিরক্ষা ভেঙে পড়ে এবং খলিফা আত্মসমর্পণ করেন।

বাগদাদের পতন ফেব্রুয়ারি ১২৫৮ খ্রিস্টাব্দ

শহরটি মঙ্গোলদের হাতে পতিত হয় এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানি ঘটে। আব্বাসীয় প্রশাসনিক কাঠামো সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে।

আল-মুসতাসিমের মৃত্যু ১২৫৮ খ্রিস্টাব্দ

আল-মুসতাসিম মঙ্গোলদের হাতে নিহত হন; বাগদাদের আব্বাসীয় খিলাফত শেষ হয়। হত্যার নির্দিষ্ট পদ্ধতি নিয়ে বর্ণনা আলাদা।

বাগদাদের হত্যাযজ্ঞ ও সংখ্যার সমস্যা ফেব্রুয়ারি ১২৫৮ খ্রিস্টাব্দ

মঙ্গোল আক্রমণে বাগদাদে ব্যাপক হত্যা, লুণ্ঠন ও ধ্বংস হয়। প্রাচীন বিবরণে নিহতের সংখ্যা অত্যন্ত ভিন্ন এবং অনেক ক্ষেত্রে নগরের সম্ভাব্য জনসংখ্যার তুলনায় অতিরঞ্জিত। ধ্বংসযজ্ঞের বাস্তবতা কোনো একটি বিশাল সংখ্যা গ্রহণের ওপর নির্ভর করে না।

সম্পর্কিত গ্রন্থ: Peter Jackson, The Mongols and the Islamic World; Hugh Kennedy, The Prophet and the Age of the Caliphates; David Morgan, The Mongols


কায়রোতে নামমাত্র আব্বাসীয় খিলাফত (মামলুক যুগ)
১২৬১ – ১৫১৭ খ্রিস্টাব্দ

বাগদাদের পতনের পর আব্বাসীয় বংশের একজন সদস্যকে মিশরের মামলুক শাসকরা কায়রোতে নিয়ে গিয়ে খলিফা ঘোষণা করেন। তবে এই “খিলাফত” ছিল মূলত একটি প্রতীকী প্রতিষ্ঠান—যেখানে প্রকৃত রাজনৈতিক, সামরিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে মামলুক সুলতানদের হাতে ছিল। ফলে খলিফা হয়ে ওঠেন বৈধতার ধর্মীয় সিলমোহর মাত্র।

আইন জালুত ও মামলুক সামরিক ভিত্তি ১২৬০ খ্রিস্টাব্দ

কুতুয ও বাইবার্সের নেতৃত্বে মামলুক বাহিনী আইন জালুতে মঙ্গোল বাহিনীকে পরাজিত করে। কায়রোর খিলাফত পুনঃস্থাপনের সামরিক ভিত্তি তৈরি করে মামলুক সুলতানদের রাষ্ট্র, স্বাধীন খলিফার সেনাবাহিনী নয়।

আল-মুস্তানসির দ্বিতীয়ের প্রতিষ্ঠা ১২৬১ খ্রিস্টাব্দ

বাইবার্স কায়রোয় আব্বাসীয় বংশদাবিকারী আল-মুস্তানসিরকে খলিফা করেন এবং তার কাছ থেকে শাসনের অনুমোদন নেন। ইরাক পুনরুদ্ধারের অভিযান ব্যর্থ হয়ে এই খলিফা নিহত হন। পরে আল-হাকিমের অধীনে কায়রোর আব্বাসীয় ধারাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। [40]

1261

বাংলা অনুবাদ: ১২৬১।

মামলুক সুলতানদের আধিপত্য ১৩শ – ১৫শ শতাব্দী

কায়রোর খলিফারা নামমাত্র ধর্মীয় নেতৃত্ব দিলেও রাষ্ট্র পরিচালনা, যুদ্ধনীতি ও প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে মামলুক সুলতানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

ক্রুসেড-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্য ১৩শ – ১৪শ শতাব্দী

মামলুকরা সিরিয়া-প্যালেস্টাইনে ক্রুসেডার ঘাঁটি দখল করে; ১২৯১ সালে আক্কা পতিত হয়। হজপথ ও পবিত্র নগরের ওপর প্রভাব, শক্তিশালী অশ্বারোহী বাহিনী এবং মিশরের রাজস্ব ছিল মামলুক রাষ্ট্রের ভিত্তি। খলিফার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি সেই বাস্তব রাষ্ট্রক্ষমতার বৈধতা জোগাত।

অটোমানদের উত্থান ১৫শ শতাব্দী

আনাতোলিয়া থেকে অটোমান সাম্রাজ্য শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং ধীরে ধীরে মামলুক অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হয়।

মারজ দাবিক ও রিদানিয়ার পরাজয় ১৫১৬ – ১৫১৭ খ্রিস্টাব্দ

মারজ দাবিকে মামলুক সুলতান কানসুহ আল-গাওরি পরাজিত ও নিহত হন। পরের বছর রিদানিয়ার যুদ্ধে অটোমান বিজয় এবং কায়রো দখলের পরে তুমান বে দ্বিতীয়কে হত্যা করা হয়। এক মুসলিম সাম্রাজ্য আরেক মুসলিম সাম্রাজ্যকে সামরিকভাবে ধ্বংস করে।

মামলুক পরাজয় ও কায়রো পতন ১৫১৭ খ্রিস্টাব্দ

অটোমান সুলতান সেলিম প্রথম মামলুকদের পরাজিত করে মিশর দখল করেন। কায়রোর নামমাত্র আব্বাসীয় খিলাফত শেষ হয়।

সম্পর্কিত গ্রন্থ: Anne F. Broadbridge, Kingship and Ideology in the Islamic and Mongol Worlds; Carl F. Petry, The Mamluk Sultanate; Stanford Shaw, History of the Ottoman Empire and Modern Turkey


অটোমান রাষ্ট্রের উত্থান: সীমান্তের আমিরাত থেকে সাম্রাজ্য
১৩শ শতাব্দীর শেষভাগ – ১৫১৭ খ্রিস্টাব্দ

অটোমান রাষ্ট্র ১৫১৭ সালে হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি। আনাতোলিয়ার সীমান্তে উসমানের বংশের উত্থান, বলকান দখল, রাজবংশীয় গৃহযুদ্ধ এবং কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের মধ্য দিয়ে সাম্রাজ্য তৈরি হয়। পরবর্তী খিলাফতি দাবির ভিত্তি ছিল এই পূর্ববর্তী সামরিক ও প্রশাসনিক রাষ্ট্র।

আনাতোলিয়ার সীমান্তে উসমানের বংশ প্রায় ১৩০০ খ্রিস্টাব্দ

সেলজুক শক্তির বিভাজন ও বাইজান্টাইন সীমান্তের দুর্বলতার মধ্যে অটোমান আমিরাত প্রসারিত হয়। ১২৯৯ সাল প্রচলিত প্রতিষ্ঠাবর্ষ; রাষ্ট্রগঠন ছিল দীর্ঘ প্রক্রিয়া। প্রত্যেক পরবর্তী শতাব্দীকে ১৫১৭ সালে শুরু হওয়া খিলাফতির অংশ ধরে কালপঞ্জি লেখা অসঠিক।

বলকানে বিস্তার ও সেনা-রাজস্বভিত্তি ১৪শ শতাব্দী

দারদানেলস অতিক্রম করে বলকানে অটোমান বিস্তার ঘটে; এদিরনে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্র হয়। দখল, স্থানীয় শাসকদের আনুগত্য, সৈন্যসংগ্রহ এবং ভূমির রাজস্ব সাম্রাজ্য বিস্তারের উপাদান ছিল।

দেভশিরমে: পরিবার থেকে শিশু সংগ্রহ ১৫শ – ১৭শ শতাব্দী

রাষ্ট্র নির্দিষ্ট অঞ্চলের খ্রিস্টান পরিবার থেকে ছেলেদের সংগ্রহ করে সামরিক ও রাজদরবারের সেবায় নিয়োগ করত। তাদের খতনা করিয়ে মুসলিম নাম দেওয়া এবং তুর্কি-মুসলিম পরিবেশে প্রশিক্ষণের বিবরণ আছে। শিশুকে পরিবার থেকে পৃথক করে রাষ্ট্রের প্রয়োজনমতো পরিচয় ও জীবনপথ নির্ধারণ ছিল এই ব্যবস্থার জবরদস্তিমূলক ভিত্তি। [41]

müslüman-Türk adları verilirdi.

বাংলা অনুবাদ: মুসলিম-তুর্কি নাম দেওয়া হতো।

বুরসা দখল ও স্থায়ী নগরকেন্দ্র ১৩২৬ খ্রিস্টাব্দ

ওরহানের আমলে বুরসা দখল করা হয়। একটি সীমান্তীয় যোদ্ধাগোষ্ঠী নগর, বাজার, রাজস্ব ও স্থাপত্যপৃষ্ঠপোষকতা-নির্ভর রাজ্যে রূপান্তরিত হতে থাকে।

আঙ্কারায় পরাজয় ও অটোমান গৃহযুদ্ধ ১৪০২ – ১৪১৩ খ্রিস্টাব্দ

তিমুরের কাছে বায়েজিদ প্রথম পরাজিত ও বন্দী হন। তার পুত্রদের মধ্যে দীর্ঘ উত্তরাধিকার যুদ্ধ চলে; মেহমেদ প্রথম শেষ পর্যন্ত একক শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। রাজবংশের অস্তিত্বও একাধিক দাবিদারের যুদ্ধের মধ্য দিয়ে টিকে ছিল।

কনস্টান্টিনোপল দখল ও সাম্রাজ্যিক রাজধানী ২৯ মে ১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দ

মেহমেদ দ্বিতীয় কনস্টান্টিনোপল দখল করেন; বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের অবসান ঘটে। হায়া সোফিয়া সাম্রাজ্যিক মসজিদে রূপান্তরিত হয়। নগর পুনর্গঠন ও প্রাসাদ নির্মাণের মাধ্যমে অটোমান শাসক রোমান-বাইজান্টাইন রাজধানীকে নিজের সাম্রাজ্যের কেন্দ্রে পরিণত করেন। [42]

Hagia Sophia, the great Byzantine church, was transformed into an imperial mosque

বাংলা অনুবাদ: বৃহৎ বাইজান্টাইন গির্জা হায়া সোফিয়াকে সাম্রাজ্যিক মসজিদে রূপান্তর করা হয়।

চালদিরানে অটোমান-সাফাভি যুদ্ধ ১৫১৪ খ্রিস্টাব্দ

সেলিম প্রথমের বাহিনী শাহ ইসমাইলের সাফাভি বাহিনীকে পরাজিত করে। সুন্নি অটোমান ও শিয়া সাফাভি সাম্রাজ্যের ভূখণ্ড, আনুগত্য ও ধর্মীয় কর্তৃত্বের প্রতিযোগিতা দীর্ঘস্থায়ী হয়। একই ইসলামের পরিচয় দুই রাষ্ট্রের যুদ্ধ ঠেকায়নি।


অটোমান সুলতান-খলিফা: সাম্রাজ্য বিস্তার, রাজবংশীয় হত্যা ও কর্তৃত্ব
১৫১৭ – ১৬৮৩ খ্রিস্টাব্দ

মিশর দখল ও হেজাজের আনুগত্য লাভের পরে অটোমান সুলতানদের রাজনৈতিক শক্তি ও ধর্মীয় মর্যাদা বাড়ে। তারা একই সঙ্গে সেনা, রাজস্ব, আমলাতন্ত্র ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর কর্তৃত্বশীল শাসক ছিলেন। কায়রোর মামলুক-নিয়ন্ত্রিত খলিফার মতো তাদের কেবল নামমাত্র ধর্মীয় প্রতীক বলা ভুল। খলিফা উপাধি সাম্রাজ্যিক সার্বভৌমত্বের দাবির সঙ্গে যুক্ত ছিল; মুসলিম বিশ্বের সব অঞ্চল তাদের রাষ্ট্রের অধীন ছিল না।

মিশর ও হেজাজ দখল ১৫১৭ খ্রিস্টাব্দ

সেলিম প্রথম মিশরের মামলুক রাষ্ট্রকে পরাজিত করেন; মক্কার শরিফ অটোমান কর্তৃত্ব স্বীকার করেন। মিশর সামরিকভাবে দখল এবং হেজাজের স্থানীয় শাসকের আনুগত্য এক পদ্ধতির ঘটনা নয়। মক্কা-মদিনার তত্ত্বাবধান, হজপথ ও মিশরের রাজস্ব অটোমান মর্যাদা বাড়ায়।

খিলাফত হস্তান্তরের কাহিনি ও দলিলের অনুপস্থিতি ১৫১৭ সালের কথিত ঘটনা; পরবর্তী কাহিনি

শেষ কায়রোবাসী আব্বাসীয় খলিফা আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে সেলিমকে খিলাফত দিয়ে যান—এই জনপ্রিয় কাহিনির সমসাময়িক দলিল নেই। অটোমানরা ১৫১৭ সালের আগেই খলিফা উপাধি ব্যবহার করতেন; পরে ক্ষমতা, পবিত্র নগরের তত্ত্বাবধান ও ধর্মীয়-রাজনৈতিক দাবির মাধ্যমে তা বিস্তৃত হয়। “অনুষ্ঠানে হস্তান্তর” পরবর্তী কাহিনি, সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠার প্রমাণিত ঘটনা নয়। [43]

orijinal bir kaynağın bulunmadığı

বাংলা অনুবাদ: কোনো মৌলিক উৎস পাওয়া যায়নি।

খিলাফতের রাজনৈতিক রূপান্তর ১৬শ – ১৭শ শতাব্দী

সুলতান খলিফার মর্যাদা দাবি করার পাশাপাশি সামরিক, প্রশাসনিক ও বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। শায়খুল ইসলাম, কাজি ও মাদ্রাসার নিয়োগব্যবস্থা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত ছিল। এখানে ধর্মীয় বৈধতা ও বাস্তব শাসন আলাদা ব্যক্তির হাতে থাকা বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা ছিল না।

আনাতোলিয়ায় জালালি বিদ্রোহ ও জনজীবনের বিপর্যয় ১৬শ শতাব্দীর শেষভাগ – ১৭শ শতাব্দীর প্রথমভাগ

দীর্ঘ যুদ্ধ, করের চাপ, সেনা ও প্রাদেশিক শক্তির সংঘাতে জালালি বিদ্রোহ বিস্তৃত হয়। গ্রামীণ জনসংখ্যার স্থানচ্যুতি ও উৎপাদনের সংকট দেখা দেয়। সাম্রাজ্যের রাজধানীর ঐশ্বর্য এবং প্রান্তিক কৃষকের নিরাপত্তা একই বাস্তবতা ছিল না।

সুলেমানের যুদ্ধ ও প্রশাসনিক বিস্তার ১৫২০ – ১৫৬৬ খ্রিস্টাব্দ

সুলেমানের আমলে বেলগ্রেড (১৫২১), রোডস (১৫২২), মোহাচের বিজয় (১৫২৬) এবং বাগদাদ দখল (১৫৩৪) সাম্রাজ্যকে বিস্তৃত করে। ভূমধ্যসাগর, মধ্য ইউরোপ ও ইরাকের রাজনীতিতে অটোমান সামরিক শক্তি প্রাধান্য পায়। স্থাপত্য ও আইনসংকলনের বিকাশ এই ভূখণ্ড ও রাজস্বনির্ভর সাম্রাজ্যিক শাসনের মধ্যেই ঘটে।

ভিয়েনা অবরোধ ১৫২৯ ও ১৬৮৩ খ্রিস্টাব্দ

১৫২৯ ও ১৬৮৩ সালে অটোমান বাহিনী দুইবার ভিয়েনা অবরোধ করে। উভয় অভিযান ব্যর্থ হয়; বিশেষ করে ১৬৮৩ সালের ব্যর্থতা মধ্য ইউরোপে অটোমান সম্প্রসারণের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

লেপান্তোর নৌযুদ্ধ ১৫৭১ খ্রিস্টাব্দ

খ্রিস্টান জোটের নৌবাহিনী লেপান্তোয় অটোমান নৌবাহিনীকে বড় পরাজয় দেয়। অটোমানরা পরে নৌবহর পুনর্গঠন করে। একটি পরাজয় সাম্রাজ্যকে তাৎক্ষণিকভাবে শেষ করেনি, কিন্তু ভূমধ্যসাগরে প্রতিদ্বন্দ্বিতার শক্তি ও যুদ্ধের ব্যয় স্পষ্ট হয়।

মেহমেদ তৃতীয়ের উনিশ ভাইকে হত্যা ১৫৯৫ খ্রিস্টাব্দ

মেহমেদ তৃতীয় সিংহাসনে ওঠার পরে তার উনিশ ভাইকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়; তাদের অনেকেই শিশু ছিলেন। সম্ভাব্য উত্তরাধিকারীদের আগেই নির্মূল করা রাজবংশীয় ক্ষমতা রক্ষার স্বীকৃত পদ্ধতি হয়ে উঠেছিল। এটি যুদ্ধক্ষেত্রের অনিচ্ছাকৃত মৃত্যু নয়, রাষ্ট্রক্ষমতার জন্য পরিকল্পিত পারিবারিক হত্যাকাণ্ড। [44]

on dokuz şehzade

বাংলা অনুবাদ: উনিশজন শাহজাদা।

সম্পর্কিত গ্রন্থ: Halil İnalcık, The Ottoman Empire: The Classical Age; Roger Crowley, Empires of the Sea; Colin Imber, The Ottoman Empire 1300–1650


অটোমান শক্তির সংকোচন, আর্থিক চাপ ও তানজিমাত
১৬৮৩ – ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দ

১৬৮৩ সালের ভিয়েনা অভিযানের ব্যর্থতার পরে দীর্ঘ যুদ্ধে অটোমানরা ইউরোপে বড় ভূখণ্ড হারায়। পরবর্তী সময়ে সামরিক পুনর্গঠন, রাজস্বসংস্কার এবং নতুন প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। রাষ্ট্রের সমস্যাগুলো শুধু প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকা ছিল না: সেনা ও প্রাদেশিক ক্ষমতা, করসংগ্রহ, ঋণ, জাতীয়তাবাদ এবং বিদেশি হস্তক্ষেপ একসঙ্গে কাজ করেছে। সংস্কার ছিল সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখা ও কেন্দ্রীয় কর্তৃত্ব পুনর্গঠনের প্রকল্প।

প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের বৃদ্ধি ১৮শ – ১৯শ শতাব্দী

স্থানীয় আয়ান, সামরিক পরিবার ও কর-ইজারাদারেরা বহু প্রদেশে শক্তিশালী হয়। মিশরে পরে মুহাম্মদ আলীর বংশ এমন সেনা-রাজস্বভিত্তি গড়ে তোলে, যা অটোমান কেন্দ্রকেই যুদ্ধে পরাজিত করতে পারে। বিকেন্দ্রীকরণ ছিল প্রদেশভেদে আলাদা; সব অঞ্চল একই সময়ে সম্পূর্ণ স্বাধীন হয়নি।

ইউরোপীয় হস্তক্ষেপ ও “প্রাচ্য সংকট” ১৯শ শতাব্দী

বলকানের বিদ্রোহ, রুশ-অটোমান যুদ্ধ, মিশর সংকট ও সংখ্যালঘু প্রশ্নে ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো হস্তক্ষেপ করে। ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও অস্ট্রিয়ার স্বার্থও পরস্পরবিরোধী ছিল। অটোমান ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ ইউরোপীয় কূটনীতির প্রতিযোগিতার কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

কার্লোভিৎসের চুক্তি ও ইউরোপে ভূখণ্ড হারানো ১৬৯৯ খ্রিস্টাব্দ

কার্লোভিৎসের চুক্তিতে অটোমানরা হাঙ্গেরির বড় অংশসহ গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় ভূখণ্ড হারায়। ১৬৮৩–১৬৯৯ সালের বহু ফ্রন্টের যুদ্ধের পরে এই চুক্তি মধ্য ইউরোপে অটোমান সীমান্ত বদলে দেয়। সাম্রাজ্য বিস্তারের যুগের জায়গায় হারানো অঞ্চল ও প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির সঙ্গে নতুন সীমান্তের প্রশ্ন প্রধান হয়। [45]

26 Ocak 1699

বাংলা অনুবাদ: ২৬ জানুয়ারি ১৬৯৯।

কুচুক কায়নারজা ও খিলাফতি কূটনীতি ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দ

রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তিতে ক্রিমিয়ার অটোমান রাজনৈতিক অধীনতা শেষ হয়; ক্রিমিয়ার মুসলিমদের সঙ্গে সুলতানের ধর্মীয় সম্পর্কের দাবি বহাল থাকে। সাম্রাজ্যের সীমানার বাইরে মুসলিমদের ওপর ধর্মীয় মর্যাদা ব্যবহার পরবর্তী খিলাফতি কূটনীতিতে গুরুত্ব পায়।

জানিসারি বাহিনী ধ্বংস করে বিলুপ্তি ১৮২৬ খ্রিস্টাব্দ

মাহমুদ দ্বিতীয়ের নতুন সামরিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জানিসারিরা বিদ্রোহ করলে তাদের ব্যারাকে গোলাবর্ষণ করা হয়। বাহিনী বিলুপ্ত হয়; বহু সদস্য হত্যা, বন্দিত্ব ও নির্বাসনের শিকার হন। সামরিক সংস্কারও খিলাফতির নিজের প্রতিষ্ঠিত বাহিনীর ওপর রক্তক্ষয়ী দমনের মাধ্যমে কার্যকর হয়। [46]

1826

বাংলা অনুবাদ: ১৮২৬।

মিশরের মুহাম্মদ আলী ও কেন্দ্রের পরাজয় ১৮৩১ – ১৮৪১ খ্রিস্টাব্দ

মিশরীয় বাহিনী সিরিয়া দখল করে আনাতোলিয়ায় অগ্রসর হয়। ১৮৩৯ সালে নিজিপে অটোমান বাহিনীর পরাজয়ের পরে ইউরোপীয় হস্তক্ষেপে সংকট মেটানো হয়। স্থানীয় মুসলিম শাসকের সঙ্গে সুলতান-খলিফার যুদ্ধ সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের স্পষ্ট উদাহরণ।

তানজিমাত সংস্কার ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে; প্রচলিত পর্বসীমা ১৮৭৬/১৮৭৮

১৮৩৯ সালের গুলহানে ঘোষণায় প্রজাদের জীবন, সম্পদ ও সম্মান রক্ষা, নিয়মিত কর এবং সামরিক নিয়োগ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। ১৮৫৬ সালের সংস্কার-ফরমান মুসলিম ও অমুসলিম প্রজাদের অবস্থান ও অধিকার পুনর্নির্ধারণের চেষ্টা করে। পুরনো ধর্মভিত্তিক অধীনতার কাঠামো বদলানোর প্রয়োজন রাষ্ট্র নিজেই স্বীকার করে। [47]

3 Kasım 1839’da ilân edilen Gülhane Hatt-ı Hümâyunu

বাংলা অনুবাদ: ৩ নভেম্বর ১৮৩৯-এ ঘোষিত গুলহানে হাট্টি হুমায়ুন।

ঋণখেলাপি রাষ্ট্র ও বিদেশি পাওনাদারের নিয়ন্ত্রণ ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে

অটোমান রাষ্ট্র ঋণ পরিশোধে সংকটে পড়ে। ১৮৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত দ্যুইয়ুন উমুমিয়ে বা সরকারি ঋণ প্রশাসন বিদেশি ঋণদাতাদের পক্ষে নির্দিষ্ট রাজস্ব আদায়ে নিয়ন্ত্রণ পায়। আনুষ্ঠানিক সার্বভৌমত্ব বহাল থাকলেও রাষ্ট্রের আয়ের অংশ বহিঃশক্তির তত্ত্বাবধানে যায়।

সম্পর্কিত গ্রন্থ: Erik J. Zürcher, Turkey: A Modern History; M. Şükrü Hanioğlu, Atatürk: An Intellectual Biography; Stanford Shaw, History of the Ottoman Empire and Modern Turkey


সংবিধান, আবদুল হামিদ, যুব তুর্কি শাসন ও বিশ্বযুদ্ধ
১৮৭৬ – ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দ

শেষ অটোমান পর্বে সুলতান-খলিফা, সংসদ, সেনাবাহিনী ও দলীয় নেতাদের ক্ষমতার সম্পর্ক বারবার বদলেছে। খিলাফতি মর্যাদাকে আন্তর্জাতিক মুসলিম সংহতির ভাষায় ব্যবহার করা হয়; রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সেনাবিদ্রোহ, জাতীয়তাবাদ এবং শাসকগোষ্ঠীর দমন চলেছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরাজয়ের আগে আর্মেনীয় নাগরিকদের গণহত্যা সাম্রাজ্যের শেষ পর্বের অন্যতম কেন্দ্রীয় অপরাধ।

কানুনে আসাসি ও প্রথম সাংবিধানিক পর্ব ১৮৭৬ – ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দ

১৮৭৬ সালে অটোমান সংবিধান ঘোষিত হয়; সংসদ চালু হয় পরের বছর। আবদুল হামিদ দ্বিতীয় ১৮৭৮ সালে সংসদ স্থগিত করে ব্যক্তিগত শাসন কেন্দ্রীভূত করেন। সংবিধান ও সংসদের উপস্থিতি স্থায়ীভাবে সুলতানের স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। [48]

1876

বাংলা অনুবাদ: ১৮৭৬।

প্যান-ইসলামি নীতি ও খলিফার আন্তর্জাতিক মর্যাদা ১৮৭৬ – ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ

আবদুল হামিদ দ্বিতীয় মুসলিম সংহতি ও খলিফার মর্যাদাকে সাম্রাজ্য রক্ষা এবং বিদেশি মুসলিম জনসমাজে প্রভাব বিস্তারে ব্যবহার করেন। ধর্মীয় মর্যাদার প্রচার রাষ্ট্রের সেনা, দূতাবাস, যোগাযোগ ও আমলাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

যুব তুর্কি বিপ্লব ও সংবিধানের প্রত্যাবর্তন ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ

সেনা ও রাজনৈতিক চাপের মুখে ১৮৭৬ সালের সংবিধান পুনরায় কার্যকর হয়। সংসদীয় রাজনীতি ফিরে এলেও সাম্রাজ্যিক কর্তৃত্ব, জাতীয়তাবাদ ও সেনাবাহিনীর ক্ষমতা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলতে থাকে। [49]

1908

বাংলা অনুবাদ: ১৯০৮।

আবদুল হামিদ দ্বিতীয়ের অপসারণ ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ

রাজনৈতিক-সামরিক সংকটের পরে আবদুল হামিদ অপসারিত হন; মেহমেদ পঞ্চম সুলতান-খলিফা হন। খলিফা পদে থাকা শাসকও সেনা ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তে ক্ষমতা হারান।

বলকান যুদ্ধ ও সাম্রাজ্যিক সংকোচন ১৯১২ – ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ

বলকান যুদ্ধে অটোমানরা ইউরোপের অধিকাংশ অবশিষ্ট ভূখণ্ড হারায়। বিপুল শরণার্থীপ্রবাহ, সেনাবাহিনীর পরাজয় ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির তীব্রতা রাষ্ট্রকে বদলে দেয়।

ইউনিয়ন অ্যান্ড প্রোগ্রেসের ক্ষমতা দখল ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ

বাব-ই আলি অভ্যুত্থানের পরে ইউনিয়ন অ্যান্ড প্রোগ্রেস নেতৃত্বের কর্তৃত্ব বাড়ে। এনভার, তালাত ও জামালের মতো দল-সেনা নেতারা সিদ্ধান্তে প্রাধান্য পান। সুলতান-খলিফার উপাধি বহাল থাকলেও সব সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগতভাবে তার হাতে ছিল না।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও জিহাদ ঘোষণা ১৯১৪ – ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দ

অটোমানরা জার্মানি ও অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির সঙ্গে যুদ্ধে যোগ দেয়; ১৯১৪ সালে মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে জিহাদের ঘোষণা করা হয়। খিলাফতির ধর্মীয় আহ্বান সত্ত্বেও ব্রিটিশ ও ফরাসি সাম্রাজ্যের অধীন বহু মুসলিম তাদের সেনাবাহিনীতেই যুদ্ধ করে। বিশ্বজুড়ে একক রাজনৈতিক আনুগত্য তৈরি হয়নি।

আর্মেনীয় গণহত্যা ১৯১৫ – ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দ

অটোমান সরকার আর্মেনীয় নাগরিকদের গ্রেপ্তার, নির্বাসন, গণহত্যা এবং মৃত্যুমুখী পরিবেশে ঠেলে দেয়। মার্কিন হলোকাস্ট স্মৃতি জাদুঘরের হিসাবে ৬ লক্ষ ৬৪ হাজার থেকে ১২ লক্ষ আর্মেনীয় নারী, পুরুষ ও শিশু নিহত হন। পরিকল্পিত হত্যা ও মৃত্যুযাত্রাকে শুধু “যুদ্ধকালীন অস্থিরতা” বলা অপরাধের প্রকৃতি মুছে ফেলে। [50]

Between 664,000 and 1.2 million

বাংলা অনুবাদ: ৬ লক্ষ ৬৪ হাজার থেকে ১২ লক্ষের মধ্যে।

আরব বিদ্রোহ ও হেজাজে অটোমান কর্তৃত্বের ভাঙন ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে

মক্কার শরিফ হুসাইন অটোমানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন এবং ব্রিটিশ সহায়তা পান। মক্কা-মদিনার তত্ত্বাবধানের মর্যাদা আরব ভূখণ্ডে স্থায়ী রাজনৈতিক আনুগত্য নিশ্চিত করেনি।

মুদ্রোসের যুদ্ধবিরতি ৩০ অক্টোবর ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দ

বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পরে অটোমানরা যুদ্ধবিরতি মেনে নেয়। মিত্রশক্তি সাম্রাজ্যের ভূখণ্ড দখল ও ভাগের উদ্যোগ নেয়। সুলতানি ও খিলাফত তখনো আইনগতভাবে বিলুপ্ত হয়নি; সামরিক পরাজয় এবং প্রতিষ্ঠানের বিলুপ্তি পরবর্তী পৃথক ঘটনা।

সম্পর্কিত গ্রন্থ: Erik J. Zürcher, Turkey: A Modern History; M. Şükrü Hanioğlu, A Brief History of the Late Ottoman Empire


অটোমান সুলতানি থেকে পৃথক খিলাফত এবং বিলুপ্তি
১৯১৮ – ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ

বিশ্বযুদ্ধের পরাজয়ের পরে ইস্তাম্বুলের সুলতানি সরকার ও আনকারার জাতীয় আন্দোলন প্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতাকেন্দ্র হয়ে ওঠে। জাতীয় আন্দোলনের বিজয়ের পরে প্রথমে সুলতানি, পরে খিলাফত বিলুপ্ত হয়। মাঝের প্রায় ষোলো মাসে খলিফার পদ সাম্রাজ্যিক শাসনক্ষমতা থেকে আলাদা করে রাখা হয়েছিল।

আনকারায় গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ

আনকারায় জাতীয় পরিষদ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সার্বভৌম কর্তৃত্ব দাবি করে। ইস্তাম্বুলের সুলতান-খলিফার সরকারের পাশে দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় কেন্দ্র গড়ে ওঠে।

সুলতানি বিলুপ্তি ১ নভেম্বর ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ

তুরস্কের জাতীয় পরিষদ সুলতানি ও খিলাফতকে পৃথক করে সুলতানি বিলুপ্ত করে। মেহমেদ ষষ্ঠ দেশ ছাড়েন; আবদুল মজিদ দ্বিতীয়কে পরে খলিফা করা হয়। ১৯২২ সালের সিদ্ধান্তের পর সুলতান-খলিফার সমন্বিত সাম্রাজ্যিক পদ আর ছিল না। [51]

saltanat ve halifelik birbirinden ayrılarak saltanat kaldırıldı.

বাংলা অনুবাদ: সুলতানি ও খিলাফত পৃথক করে সুলতানি বিলুপ্ত করা হয়।

আবদুল মজিদ দ্বিতীয়: শাসনক্ষমতাবিহীন খলিফা নভেম্বর ১৯২২ – মার্চ ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ

জাতীয় পরিষদের নির্বাচিত আবদুল মজিদ দ্বিতীয় খলিফা হন, সুলতান হননি। এই স্বল্প পর্বে খলিফার পদ রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা থেকে আলাদা ছিল। এই অবস্থাকে আগের কয়েক শতাব্দীর সব অটোমান সুলতান-খলিফার ওপর প্রযোজ্য করা ঐতিহাসিক ভুল।

তুরস্কে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা ২৯ অক্টোবর ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ

মুস্তফা কামালের নেতৃত্বে প্রজাতন্ত্র ঘোষিত হয়। খিলাফত তখনো কয়েক মাস বহাল ছিল। তাই প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও খিলাফত বিলুপ্তিকে একই দিনের ঘটনা হিসেবে দেখানো ভুল।

খিলাফত বিলুপ্তির ৪৩১ নম্বর আইন ৩ মার্চ ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ

জাতীয় পরিষদের ৪৩১ নম্বর আইনে খলিফাকে অপসারণ এবং খিলাফতের পদ বিলুপ্ত করা হয়; অটোমান রাজপরিবারকে দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। এটি তুরস্কের রাষ্ট্রীয় আইনসভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত, মুহাম্মদ-পরবর্তী সব রাজনৈতিক বিভাজনের একক সূচনাবিন্দু নয়। [52]

hilâfet makamı mülgadır.

বাংলা অনুবাদ: খিলাফতের পদ বিলুপ্ত।


খিলাফত বিলুপ্তির পরে: পুনঃপ্রতিষ্ঠার রাজনীতি, জাতিরাষ্ট্র ও আইএস
১৯১৯ – ২০১৯ খ্রিস্টাব্দের নির্বাচিত ঘটনা

১৯২৪ সালে অটোমান খিলাফত বিলুপ্ত হওয়ার বহু শতাব্দী আগেই মুসলিম রাজনীতি একাধিক রাষ্ট্র ও রাজবংশে বিভক্ত ছিল। বিলুপ্তি একটি বড় প্রতীকী প্রতিষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটায়; শূন্য থেকে রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি করেনি। পরবর্তী কালে খিলাফত আন্দোলন, ইসলামপন্থী সংগঠন এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে এই প্রতিষ্ঠানের পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি করেছে। জাতিরাষ্ট্র, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ও খিলাফতি দাবি একই শাসনরূপ নয়।

ভারতীয় খিলাফত আন্দোলন ১৯১৯ – ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ

ব্রিটিশ ভারতে মুহাম্মদ আলী ও শওকত আলীর মতো নেতারা অটোমান খলিফার অবস্থান রক্ষায় আন্দোলন করেন। গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গেও এর সংযোগ ঘটে। ভারতীয় মুসলিম রাজনীতিতে খিলাফত গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক ছিল; আন্দোলনটি নিজে নতুন খিলাফতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেনি।

শরিফ হুসাইনের খলিফা দাবি ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ

হেজাজের শাসক হুসাইন নিজেকে খলিফা ঘোষণা করেন। এটি সর্বজনস্বীকৃত মুসলিম নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি; সৌদি অগ্রযাত্রায় তার হেজাজ শাসনও শেষ হয়। অটোমান পদের বিলুপ্তির পরে উপাধির দাবিদার ছিল, একক উত্তরসূরি রাষ্ট্র ছিল না।

মুসলিম ব্রাদারহুড ও নতুন সংগঠনভিত্তিক রাজনীতি ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দ

হাসান আল-বান্না মিশরে মুসলিম ব্রাদারহুড প্রতিষ্ঠা করেন। সামাজিক সংগঠন, ধর্মীয় প্রচার ও রাজনৈতিক রাষ্ট্রগঠনের প্রকল্প নতুন সাংগঠনিক রূপ পায়। এ ধরনের সংগঠন কোনো ধারাবাহিক খলিফার প্রশাসনিক উত্তরসূরি ছিল না।

হিজবুত তাহরির ও খিলাফত পুনঃপ্রতিষ্ঠার কর্মসূচি ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ

তাকি আদ-দীন আন-নাবহানির হিজবুত তাহরির খিলাফত পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি করে। খিলাফত এখানে অতীতের স্মারক উপাধির বদলে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজনৈতিক দাবি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

আইএসের খিলাফত ঘোষণা ২৯ জুন ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ

ইরাক ও সিরিয়ার ভূখণ্ড দখলের পরে আইএস আবু বকর আল-বাগদাদিকে খলিফা ঘোষণা করে। খিলাফতের নাম ব্যবহার করে তারা রাষ্ট্রীয় আনুগত্য, ভূখণ্ড ও ধর্মীয় কর্তৃত্বের দাবি তোলে। এটি ঐতিহাসিক অটোমান প্রতিষ্ঠানের আইনগত উত্তরাধিকার ছিল না; নতুন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সার্বভৌমত্বের দাবি ছিল। [53]

on 29 June 2014 the IS proclaimed a ‘caliphate’

বাংলা অনুবাদ: ২৯ জুন ২০১৪ আইএস একটি “খিলাফত” ঘোষণা করে।

ইয়াজিদিদের গণহত্যা ও যৌনদাসত্ব ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে

সিনজার আক্রমণের পরে আইএস ইয়াজিদি পুরুষদের হত্যা, নারী-শিশুদের বন্দিত্ব, নারী বিক্রি ও ধর্ষণসহ যৌনদাসত্ব চালায়। জাতিসংঘের সিরিয়াবিষয়ক তদন্ত কমিশন ২০১৬ সালে ইয়াজিদিদের বিরুদ্ধে গণহত্যার সিদ্ধান্ত জানায়। গোষ্ঠীটি ধর্মীয় ভাষায় দাসত্ব ও সহিংসতা অনুমোদনের দাবি করেছে; খিলাফতের দাবি এই অপরাধের নৈতিক বৈধতা দেয় না। [54]

ISIS and its fighters hold them both in sexual slavery and in slavery

বাংলা অনুবাদ: আইএস ও তার যোদ্ধারা তাদের যৌনদাসত্ব ও দাসত্বে রাখে।

আইএসের ভূখণ্ডভিত্তিক কেন্দ্রের পতন ২০১৭ – ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ

২০১৭ সালে মসুল ও রাক্কা হারানোর পরে ২৩ মার্চ ২০১৯ বাঘুজে আইএসের শেষ প্রধান ভূখণ্ডভিত্তিক ঘাঁটি পতিত হয়। ইরাক-সিরিয়ায় তাদের ধারাবাহিক ভূখণ্ডশাসন শেষ হয়; সংগঠনের সশস্ত্র নেটওয়ার্কের সম্পূর্ণ বিলুপ্তি ঘটেনি। [55]

SDF forces captured ISIL’s last stronghold in Baghouz village

বাংলা অনুবাদ: এসডিএফ বাহিনী বাঘুজ গ্রামে আইএসের শেষ ঘাঁটি দখল করে।

সম্পর্কিত গ্রন্থ: Bernard Lewis, The Political Language of Islam; Albert Hourani, A History of the Arab Peoples; Rashid Khalidi, The Origins of Arab Nationalism


খিলাফতি রাষ্ট্রের সামাজিক ভিত্তি: গনিমত, কর, দাসশ্রম ও যৌনমালিকানা
৭ম শতাব্দী থেকে পরবর্তী সাম্রাজ্যগুলো; বিষয়ভিত্তিক সংক্ষিপ্তসার

খলিফা ও যুদ্ধের কালপঞ্জির নিচে ছিল অধীন মানুষের শ্রম, সম্পদ ও শরীরের ওপর কর্তৃত্ব। ধর্মীয় বিধান, ঐতিহাসিক ঘটনা এবং তার নৈতিক মূল্যায়ন পৃথক প্রমাণস্তর। গনিমত ও জিজিয়ার বিধান রাষ্ট্রীয় সম্পদসংগ্রহের অনুমোদন দেয়; দাসবিদ্রোহ, সামরিক দাসসংগ্রহ ও বন্দিনীদের যৌনব্যবহারের বিবরণ সেই অধীনতার বাস্তব রূপ দেখায়।

গনিমতের এক-পঞ্চমাংশের বিধান কুরআন ৮:৪১; খিলাফতের পূর্ববর্তী বিধান

যুদ্ধে পাওয়া সম্পদের এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহ, রাসুল, আত্মীয়, এতিম, দরিদ্র ও পথিকের জন্য নির্ধারণের বিধান আছে। ফলে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ কেবল ব্যক্তিগত লুণ্ঠনের বিষয় ছিল না; ধর্মীয় অনুমোদিত বণ্টন ও রাষ্ট্রীয় অংশের ধারণাও ছিল। পরবর্তী বিজয়যুদ্ধে সম্পদ দখল ও বণ্টনের রাজনৈতিক গুরুত্ব এই ভিত্তির ওপর দাঁড়ায়। [56]

أَنَّمَا غَنِمْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ

বাংলা অনুবাদ: যা কিছু গনিমত লাভ করো, তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহর জন্য।

জিজিয়া ও অধীনতার ধর্মীয় বিধান কুরআন ৯:২৯; পরবর্তী করব্যবস্থার ভিত্তি

আহলে কিতাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নির্দেশের সঙ্গে জিজিয়া প্রদান এবং অধীনতার শর্ত যুক্ত আছে। ধর্মপরিচয়ের ভিত্তিতে পৃথক কর ও রাজনৈতিক মর্যাদা আধুনিক সমান নাগরিকত্বের নীতির বিরোধী। পরবর্তী সময়ে অঞ্চল, শাসক ও আইনি ব্যবস্থাভেদে আদায়ের পদ্ধতি বদলেছে; অধীনতার এই বিধান পাঠে সরাসরি উপস্থিত। [57]

حَتَّىٰ يُعْطُوا الْجِزْيَةَ عَنْ يَدٍ وَهُمْ صَاغِرُونَ

বাংলা অনুবাদ: যতক্ষণ না তারা নিজ হাতে জিজিয়া দেয়, অধীন অবস্থায়।

বিবাহিত বন্দিনীর ওপর যৌন অধিকার আওতাস, ৬৩০ খ্রিস্টাব্দ; খিলাফতের পূর্ববর্তী দৃষ্টান্ত

সহিহ মুসলিমে আওতাসের বন্দিনীদের জীবিত স্বামী থাকার কারণে যৌনসম্পর্কে সাহাবিদের দ্বিধা এবং কুরআন ৪:২৪ দিয়ে অনুমতির বর্ণনা আছে। এখানে বৈধতার ভিত্তি বন্দিত্ব ও মালিকানা; নারীর স্বাধীন সম্মতিকে শর্ত হিসেবে বলা হয়নি। আধুনিক সম্মতিভিত্তিক নৈতিক বিচারে মালিকানা যৌনসম্মতির বিকল্প নয়, এবং সম্মতিবিহীন যৌনসম্পর্ক ধর্ষণ। [58]

فَهُنَّ لَكُمْ حَلاَلٌ إِذَا انْقَضَتْ عِدَّتُهُنَّ

বাংলা অনুবাদ: ইদ্দত শেষ হলে তারা তোমাদের জন্য বৈধ।

দাসশ্রম, দাসসৈন্য ও রাষ্ট্রীয় পুনরুৎপাদন বিশেষত ৯ম – ১৭শ শতাব্দী

দক্ষিণ ইরাকে জাঞ্জ দাসশ্রম, আব্বাসীয় তুর্কি সামরিক গোষ্ঠী, মামলুক সেনাশাসন এবং অটোমান কুল-দেভশিরমে ব্যবস্থা একই ধরনের কাজ করত না। তাদের মধ্যে সাধারণ সম্পর্ক ছিল মানুষকে স্বাধীন ব্যক্তি থেকে শাসক ও রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রিত সম্পদে পরিণত করা। কোনো দাসসৈন্যের ক্ষমতা বা সুলতান হওয়ার সম্ভাবনা তার পূর্ববর্তী দাসত্বকে স্বাধীন চুক্তিতে পরিণত করে না।


উপসংহার: স্বর্ণযুগের দাবির বিপরীতে ক্ষমতা, অধীনতা ও সহিংসতার ইতিহাস
ঐতিহাসিক সারসংক্ষেপ

খিলাফতের ইতিহাস কোনো একক, শান্তিপূর্ণ ও অবিচ্ছিন্ন ন্যায়রাষ্ট্রের ইতিহাস নয়। প্রথম উত্তরাধিকার-সংকট থেকে গৃহযুদ্ধ, রাজবংশীয় মনোনয়ন, খলিফা হত্যা, সেনাশাসন, প্রতিদ্বন্দ্বী খিলাফত এবং আঞ্চলিক রাষ্ট্রের সহাবস্থান এর ধারাবাহিক বৈশিষ্ট্য। রাষ্ট্রের বিস্তার হয়েছে যুদ্ধ, রাজস্ব ও অধীন জনশক্তির ওপর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে। এই কাঠামোর মধ্যে নগর, জ্ঞান ও শিল্পের বড় বিকাশ ঘটেছে; সেই অর্জন দাসের স্বাধীনতা, অমুসলিমের সমান মর্যাদা বা রাজনৈতিক বিরোধীর নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রমাণ নয়।

উত্তরাধিকার-ব্যবস্থার ধারাবাহিক অস্থিরতা ৬৩২ – ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ

সাকিফার বায়আত, পূর্বসূরির মনোনয়ন, সীমিত শূরা, রাজবংশীয় উত্তরাধিকার, সেনানায়কের নির্বাচন এবং আধুনিক পরিষদের নিয়োগ—খলিফা নির্ধারণে ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে। কোনো অপরিবর্তিত, সর্বসম্মত রাজনৈতিক সংবিধান পুরো ইতিহাসকে পরিচালনা করেনি।

সর্বজনীন ঐক্যের বদলে প্রতিদ্বন্দ্বী সার্বভৌমত্ব বিশেষত ৯ম – ১৩শ শতাব্দী

আব্বাসীয়, ফাতেমীয়, কর্ডোভা ও আলমোহাদ খিলাফত আলাদা ভূখণ্ড, সেনা ও আনুগত্য দাবি করেছে। সুলতান, আমির ও গভর্নরদের ক্ষমতা আরও বহু কেন্দ্র সৃষ্টি করেছে। ধর্মীয় উম্মাহর ধারণা কার্যকর একক প্রশাসন বা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক ঐক্য নিশ্চিত করেনি।

প্রতীকী পদ ও ক্ষমতাশালী শাসকের পার্থক্য বিভিন্ন যুগে পৃথক বাস্তবতা

কায়রোর মামলুক-নিয়ন্ত্রিত আব্বাসীয় খলিফা, আন-নাসিরের বাগদাদি আঞ্চলিক রাষ্ট্র, অটোমান সুলতান-খলিফা এবং ১৯২২–১৯২৪ সালের আবদুল মজিদের পদ এক রকম ছিল না। কখনো খলিফার হাতে বাস্তব সেনা-রাজস্ব ছিল, কখনো সেই ক্ষমতা অন্য শাসকের হাতে। একই উপাধি দিয়ে সব যুগের ক্ষমতার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা বিভ্রান্তিকর।

সাংস্কৃতিক কৃতিত্ব ও রাজনৈতিক ন্যায়ের পৃথক হিসাব ঐতিহাসিক মূল্যায়ন

কুরআন সংকলন, অনুবাদ, চিকিৎসাবিদ্যা, গণিত, স্থাপত্য বা বাণিজ্যের কৃতিত্ব সংশ্লিষ্ট মানুষ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের প্রমাণ। তা ধর্মত্যাগের শাস্তি, দাসপ্রথা, যৌনমালিকানা, জবরদস্তি বা বিরোধী হত্যার নৈতিক বৈধতা দেয় না। শাসকের ঐশ্বর্যকে প্রজার অধিকার এবং সাম্রাজ্যের বিস্তারকে মানুষের মুক্তি বলে দেখানো যুক্তিগত ভুল।

সম্পর্কিত গ্রন্থ: Hugh Kennedy, The Prophet and the Age of the Caliphates; Marshall Hodgson, The Venture of Islam; Albert Hourani, A History of the Arab Peoples


তথ্যসূত্রঃ
  1. সহিহ বুখারি, ৪৪২৮ ↩︎
  2. সহিহ বুখারি, ২৬১৭ ↩︎
  3. সহিহ বুখারি, ৬৮৩০ ↩︎
  4. সহিহ বুখারি, ১৩৯৯–১৪০০ ↩︎
  5. সহিহ বুখারি, ৪৯৮৬ ↩︎
  6. সহিহ বুখারি, ৪২৪০–৪২৪১ ↩︎
  7. TDV ইসলাম বিশ্বকোষ, “Ecnâdeyn Savaşı” ↩︎
  8. সহিহ বুখারি, ৩১৫৯ ↩︎
  9. সহিহ বুখারি, ৩৭০০ ↩︎
  10. সহিহ বুখারি, ৪৯৮৭ ↩︎
  11. ইবন হাজর, আল-মাতালিবুল আলিয়া, “উসমান হত্যার অধ্যায়” ↩︎
  12. সহিহ বুখারি, ৬৯২২ ↩︎
  13. সহিহ বুখারি, ২৭০৪ ↩︎
  14. সহিহ মুসলিম, ২৪০৪দ ↩︎
  15. ইবন কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, হাররার বিবরণ ↩︎
  16. TDV ইসলাম বিশ্বকোষ, “Harre Savaşı” ↩︎
  17. মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম, আব্বাসীয় স্বর্ণদিনারের সংগ্রহবিবরণ ↩︎
  18. TDV ইসলাম বিশ্বকোষ, “Ömer b. Abdülazîz” ↩︎
  19. TDV ইসলাম বিশ্বকোষ, “Ebü’l-Abbas es-Seffâh” ↩︎
  20. TDV ইসলাম বিশ্বকোষ, “Mansûr” ↩︎
  21. মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম, স্পেনের উমাইয়া যুগ ↩︎
  22. TDV ইসলাম বিশ্বকোষ, “Mehdî-Billâh” ↩︎
  23. TDV ইসলাম বিশ্বকোষ, “Hâdî-İlelhak” ↩︎
  24. TDV ইসলাম বিশ্বকোষ, “Hârûnürreşîd” ↩︎
  25. TDV ইসলাম বিশ্বকোষ, “Mihne” ↩︎
  26. মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম, আব্বাসীয় যুগ ↩︎
  27. TDV ইসলাম বিশ্বকোষ, “Bâbek” ↩︎
  28. TDV ইসলাম বিশ্বকোষ, “Vâsiḳ-Billâh” ↩︎
  29. ইবন কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২৩৬ হিজরি ↩︎
  30. TDV ইসলাম বিশ্বকোষ, “Zenc” ↩︎
  31. TDV ইসলাম বিশ্বকোষ, “Karmatîler” ↩︎
  32. TDV ইসলাম বিশ্বকোষ, “Fâtımîler” ↩︎
  33. মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম, ফাতেমীয় যুগ ↩︎
  34. TDV ইসলাম বিশ্বকোষ, “Hâkim-Biemrillâh” ↩︎
  35. TDV ইসলাম বিশ্বকোষ, “Bedr el-Cemâlî” ↩︎
  36. TDV ইসলাম বিশ্বকোষ, “Selâhaddîn-i Eyyûbî” ↩︎
  37. TDV ইসলাম বিশ্বকোষ, “Muvahhidler” ↩︎
  38. TDV ইসলাম বিশ্বকোষ, “Muktefî-Liemrillâh” ↩︎
  39. TDV ইসলাম বিশ্বকোষ, “Nâsır-Lidînillâh” ↩︎
  40. TDV ইসলাম বিশ্বকোষ, “Baybars I” ↩︎
  41. TDV ইসলাম বিশ্বকোষ, “Devşirme” ↩︎
  42. মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম, ১৬০০ সালের আগের অটোমান শিল্প ↩︎
  43. TDV ইসলাম বিশ্বকোষ, “Hilâfet”, অটোমান পর্ব ↩︎
  44. TDV ইসলাম বিশ্বকোষ, “Mehmed III”, মুদ্রিত পৃষ্ঠা ৪০৮ ↩︎
  45. TDV ইসলাম বিশ্বকোষ, “Karlofça” ↩︎
  46. TDV ইসলাম বিশ্বকোষ, “Vak‘a-i Hayriyye” ↩︎
  47. TDV ইসলাম বিশ্বকোষ, “Tanzimat” ↩︎
  48. TDV ইসলাম বিশ্বকোষ, “Kānûn-ı Esâsî” ↩︎
  49. TDV ইসলাম বিশ্বকোষ, “Meşrutiyet” ↩︎
  50. United States Holocaust Memorial Museum, “Armenia” ↩︎
  51. তুরস্কের শিক্ষা মন্ত্রণালয়, খিলাফত বিলুপ্তি ↩︎
  52. তুরস্কের জাতীয় পরিষদ, আইন নং ৪৩১, অনুচ্ছেদ ১ ↩︎
  53. ইউরোপীয় পার্লামেন্টে উত্থাপিত প্রস্তাব, B8-0130/2014, অনুচ্ছেদ A ↩︎
  54. জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনের সংবাদবিবৃতি, ১৬ জুন ২০১৬; ACCORD-এ সংরক্ষিত ↩︎
  55. EASO, Syria: Actors, ডিসেম্বর ২০১৯ ↩︎
  56. কুরআন, আল-আনফাল ৮:৪১ ↩︎
  57. কুরআন, আত-তাওবা ৯:২৯ ↩︎
  58. সহিহ মুসলিম, ১৪৫৬ক ↩︎

About This Article

Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis

Epistemic Position: Scientific Skepticism and Secular Humanist Ethics

This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.

Its purpose is evidence-based critical examination of religious, philosophical, moral, and historical claims.

Leave a comment

Your email will not be published.