জ্ঞানকোষ প্রবন্ধ

সময়ানুক্রমে কোরআনের সূরা

প্রকাশিত: মে 7, 2024লেখক: আসিফ মহিউদ্দীন55 মিনিট পড়া

হযরত উসমানের কোরআনে নাজিলের ক্রমানুসারে সুরাসমূহের ধারাবাহিকতাটি রক্ষা করা হয়নি। এই কারণে কোন সূরা কখন কোন প্রেক্ষাপটে নাজিল হয়েছিল, তা সাধারণ পাঠকের জন্য বোঝা মুশকিল হয়ে যায়। হেরাগুহায় কথিত প্রথম নাজিল হওয়া সূরাটি চলে গেছে ৯৬ নম্বরে, আবার ১১৩ নম্বর সূরা চলে এসেছে ৯ নম্বরে।এইসব কারণে সহজে বোঝার জন্য নিচে কুরআনের সূরাসমূহের নাজিলের সময়ানুক্রম অনুসারে সূরার নাম উল্লেখ করা হলঃ

কোরআন নাজিলের টাইমলাইন: নির্দিষ্ট আয়াত, সময় ও প্রেক্ষাপট

হেরা থেকে শেষ মদিনা পর্ব — ঘটনাসংশ্লিষ্ট সময়, আনুমানিক পর্ব ও অনির্ধারিত তারিখ

একই সূরার বিভিন্ন আয়াত ভিন্ন সময়ে নাজিল হওয়ার বর্ণনা রয়েছে। খ্রিস্টীয় সালগুলো সংশ্লিষ্ট ঘটনার প্রচলিত কালনির্ধারণ অনুসারে আনুমানিক; যেখানে দিন বা সাল নির্দিষ্ট নয়, সেখানে তা অনির্ধারিত। শুধু একই পর্বে রাখা আয়াতগুলোর তালিকাক্রম তাদের নিশ্চিত পারস্পরিক নাজিলক্রম নয়। দিন-তারিখ জানা, ঘটনাসংশ্লিষ্ট সময় এবং অনির্ধারিত সাল পৃথকভাবে চিহ্নিত।

মক্কা পর্ব

আনুমানিক ৬১০ খ্রি.; হেরা গুহার অভিজ্ঞতা

আলাক ৯৬:১–৫ — প্রথম কোরআনিক ওহি

সময়ের ভিত্তি: ঘটনা ও আয়াতগুচ্ছ হাদিসে নির্দিষ্ট। ৬১০ খ্রিস্টাব্দ প্রচলিত জীবনীমূলক কালনির্ধারণ; বর্ণনায় খ্রিস্টীয় সাল নেই।

আয়শার বর্ণনায় হেরা গুহায় আগত সত্তার বারবার চেপে ধরার পর আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত উচ্চারিত হয়। মুহাম্মদ ভীত ও কাঁপতে কাঁপতে খাদিজার কাছে ফিরে এসে নিজেকে ঢেকে দিতে বলেন। বর্ণনায় প্রথম ওহি হিসেবে আলাকের সূচনার এই পাঁচ আয়াতের পরিচয় পাওয়া যায়।

উদ্ধৃত আয়াত: 96:1 [1] [2]

ٱقْرَأْ بِٱسْمِ رَبِّكَ ٱلَّذِى خَلَقَ ١

বাংলা অনুবাদ: পড়ো তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।

আনুমানিক প্রারম্ভিক মক্কা পর্ব; নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত; ওহির বিরতির পরে

মুদ্দাসসির ৭৪:১–৫ — উঠে সতর্ক করার নির্দেশ

সময়ের ভিত্তি: আলাকের প্রথম ওহির পরের ঘটনা হিসেবে বর্ণিত; বিরতির দৈর্ঘ্য ও নির্দিষ্ট সাল এখানে অনির্ধারিত।

ওহির বিরতির পর আকাশে হেরায় দেখা সত্তাটিকে দেখে মুহাম্মদ আবার আতঙ্কিত হয়ে ফিরে আসেন। জাবিরের বর্ণনায় এই ঘটনার সঙ্গে মুদ্দাসসিরের ১–৫ আয়াত যুক্ত। সতর্ক করার নির্দেশটি নির্দিষ্ট; প্রকাশ্য প্রচারের সমস্ত ধাপের দিন-তারিখ এই হাদিসে নেই।

উদ্ধৃত আয়াত: 74:2 [3] [4]

قُمْ فَأَنذِرْ ٢

বাংলা অনুবাদ: ওঠো এবং সতর্ক করো।

আনুমানিক প্রারম্ভিক মক্কা পর্ব; নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

মুয্জাম্মিল ৭৩:১–৫ — রাতের উপাসনা ও ওহির ভার

সময়ের ভিত্তি: প্রারম্ভিক অবস্থান প্রচলিত নাজিলক্রমনির্ভর; নির্দিষ্ট খ্রিস্টীয় বছর স্থির নয়।

রাতে দাঁড়ানো, রাতের একটি বড় অংশ উপাসনায় কাটানো এবং ধীরে কোরআন আবৃত্তির নির্দেশের সঙ্গে ভারী বাণী পাওয়ার ঘোষণা যুক্ত হয়েছে। প্রচলিত নাজিলক্রমে মুয্জাম্মিল প্রথম দিকের সূরাগুলোর একটি।

উদ্ধৃত আয়াত: 73:5 [5] [6]

إِنَّا سَنُلْقِى عَلَيْكَ قَوْلًۭا ثَقِيلًا ٥

বাংলা অনুবাদ: নিশ্চয়ই আমরা তোমার ওপর এক ভারী বাণী নিক্ষেপ করব।

আনুমানিক মক্কা পর্ব (৬১০–৬২২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

মুয্জাম্মিল ৭৩:১০ — বিরোধীদের থেকে সুন্দরভাবে সরে থাকা

সময়ের ভিত্তি: মক্কী সূরার এই অংশের স্বতন্ত্র নাজিল-সাল নির্দিষ্ট নয়।

বিরোধীদের বক্তব্যের জবাবে ধৈর্য ও সুন্দর বিচ্ছেদের নির্দেশ রয়েছে। ইবনে কাসির এই নির্দেশের ব্যাখ্যায় তিরস্কারহীন বিচ্ছেদের কথা বলেন। বিরোধ মোকাবিলার পদ্ধতিতে শারীরিক আক্রমণের পরিবর্তে ধৈর্য ও বিচ্ছেদের নির্দেশ রয়েছে।

উদ্ধৃত আয়াত: 73:10 [7]

وَٱصْبِرْ عَلَىٰ مَا يَقُولُونَ وَٱهْجُرْهُمْ هَجْرًۭا جَمِيلًۭا ١٠

বাংলা অনুবাদ: তারা যা বলে তাতে ধৈর্য ধরো এবং সুন্দরভাবে তাদের থেকে সরে থাকো।

আনুমানিক প্রারম্ভিক মক্কা পর্ব; নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

ফাতিহা ১:৫–৭ — উপাসনা, সাহায্য ও সঠিক পথের প্রার্থনা

সময়ের ভিত্তি: প্রারম্ভিক অবস্থান একটি প্রচলিত নাজিলক্রমের ভিত্তিতে; সুনির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত।

আল্লাহর একক উপাসনা, তাঁর কাছে সাহায্য এবং সরল পথে পরিচালনার প্রার্থনা এখানে সংক্ষিপ্ত আকারে সংযুক্ত। প্রচলিত নাজিলক্রমের একটি ধারায় ফাতিহা পঞ্চম স্থানে রয়েছে। বুখারির বর্ণনায় ফাতিহা না পড়লে নামাজ হয় না বলা হয়েছে; ফলে এই সংক্ষিপ্ত প্রার্থনা বাধ্যতামূলক উপাসনার পাঠ হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত।

উদ্ধৃত আয়াত: 1:6 [8] [9] [10]

ٱهْدِنَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلْمُسْتَقِيمَ ٦

বাংলা অনুবাদ: আমাদের সরল পথে পরিচালিত করো।

আনুমানিক প্রারম্ভিক মক্কা পর্ব; নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

তাকভীর ৮১:১–১৪ — মহাজাগতিক বিপর্যয় ও বিচার

সময়ের ভিত্তি: প্রচলিত নাজিলক্রমে প্রথম দিকের মক্কী সূরা; নির্দিষ্ট সাল নেই।

সূর্য গুটিয়ে যাওয়া, নক্ষত্র ঝরে পড়া, পাহাড় সরিয়ে দেওয়া, জীবন্ত পুঁতে রাখা মেয়েকে প্রশ্ন করা এবং মানুষের কাজ প্রকাশ পাওয়ার দৃশ্য রয়েছে। মহাজাগতিক বিপর্যয় ও ব্যক্তিগত কাজের বিচার একই বয়ানে সংযুক্ত।

উদ্ধৃত আয়াত: 81:1 [11] [12]

إِذَا ٱلشَّمْسُ كُوِّرَتْ ١

বাংলা অনুবাদ: যখন সূর্যকে গুটিয়ে ফেলা হবে।

আনুমানিক প্রারম্ভিক মক্কা পর্ব; নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

আলা ৮৭:১৪–১৯ — পার্থিব জীবন ও পরকালের মূল্যক্রম

সময়ের ভিত্তি: প্রচলিত নাজিলক্রমে প্রারম্ভিক মক্কী অবস্থান; এই আয়াতগুলোর নির্দিষ্ট বছর অজ্ঞাত।

পরিশুদ্ধি, প্রভুর নাম স্মরণ ও নামাজের সঙ্গে পরকালের শ্রেষ্ঠত্ব যুক্ত হয়েছে। পার্থিব জীবনের আকর্ষণের বিপরীতে পরকালকে স্থায়ী পুরস্কারের ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

উদ্ধৃত আয়াত: 87:17 [13] [12]

والاخرة خير وابقى ١٧

বাংলা অনুবাদ: আর পরকাল উত্তম ও অধিক স্থায়ী।

আনুমানিক মক্কা পর্ব (৬১০–৬২২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

কাফিরুন ১০৯:১–৬ — ধর্মীয় বিচ্ছেদ

সময়ের ভিত্তি: মক্কী অবস্থান প্রচলিত; নির্দিষ্ট বছর বা দিন জানা নেই।

ভিন্ন উপাস্য ও ভিন্ন ধর্মাচরণের মধ্যে স্পষ্ট বিচ্ছেদ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রচলিত নাজিলক্রমে কাফিরুন তুলনামূলক প্রথম দিকে রয়েছে; তার নির্দিষ্ট নাজিল-সাল অজ্ঞাত।

উদ্ধৃত আয়াত: 109:6 [14] [12]

لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِىَ دِينِ ٦

বাংলা অনুবাদ: তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্য, আর আমার ধর্ম আমার জন্য।

আনুমানিক মক্কা পর্ব (৬১০–৬২২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত; মক্কী–মদিনী পরিচয়ে মতভেদ

মাউন ১০৭:১–৩ — এতিম ও দরিদ্রের প্রতি আচরণ

সময়ের ভিত্তি: প্রচলিত মক্কী পরিচয়ের ভিত্তিতে আনুমানিক পর্ব; মদিনী মতও আছে, নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত।

বিচার বা প্রতিদান অস্বীকারের সঙ্গে এতিমকে তাড়ানো এবং দরিদ্রকে খাওয়াতে উৎসাহ না দেওয়ার আচরণ যুক্ত হয়েছে। কুরতুবি সূরাটিকে মক্কী ও মদিনী বলা দুই মতই সংরক্ষণ করেছেন।

উদ্ধৃত আয়াত: 107:2, 107:3 [15] [16]

فَذَٰلِكَ ٱلَّذِى يَدُعُّ ٱلْيَتِيمَ ٢ وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ ٱلْمِسْكِينِ ٣

বাংলা অনুবাদ: সেই তো এতিমকে ধাক্কা দিয়ে তাড়ায় এবং দরিদ্রকে খাবার দেওয়ার জন্য উৎসাহ দেয় না।

আনুমানিক মক্কা পর্ব (৬১০–৬২২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

মুরসালাত ৭৭:১৫ — অস্বীকারকারীদের বিপর্যয়ের হুমকি

সময়ের ভিত্তি: মক্কী পর্বে স্থাপন প্রচলিত নাজিলক্রমনির্ভর; ৬১১–৬১২-এর মতো নির্দিষ্ট বছরযুগল প্রতিষ্ঠিত নয়।

এই হুমকিটি সূরায় বারবার পুনরাবৃত্ত হয়েছে। কিয়ামত ও ধ্বংসের ভয় অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় সতর্কতার প্রধান ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

উদ্ধৃত আয়াত: 77:15 [17] [18]

وَيْلٌۭ يَوْمَئِذٍۢ لِّلْمُكَذِّبِينَ ١٥

বাংলা অনুবাদ: সেদিন দুর্ভোগ মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদের জন্য।

আনুমানিক মক্কা পর্ব (৬১০–৬২২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

নাজম ৫৩:১৯–২০ — লাত, উজ্জা ও মানাত

সময়ের ভিত্তি: মক্কা পর্ব; গারানিক-বর্ণনার অস্তিত্ব থেকে নির্দিষ্ট খ্রিস্টীয় সাল স্থির হয় না।

মক্কার দেবী লাত, উজ্জা ও মানাতের উল্লেখ এখানে রয়েছে। তাবারীর হজ্জ ২২:৫২-এর তাফসিরে সংরক্ষিত গারানিক-বর্ণনাগুলো এই দুই আয়াত আবৃত্তির সঙ্গে অতিরিক্ত বাক্য উচ্চারণ ও পরে তা প্রত্যাহারের ঘটনা যুক্ত করে। বর্তমান আয়াতের পাঠ এবং তাফসিরে সংরক্ষিত ঘটনার বর্ণনা পৃথক উৎসস্তর।

উদ্ধৃত আয়াত: 53:19, 53:20 [19] [20]

أَفَرَءَيْتُمُ ٱللَّـٰتَ وَٱلْعُزَّىٰ ١٩ وَمَنَوٰةَ ٱلثَّالِثَةَ ٱلْأُخْرَىٰٓ ٢٠

বাংলা অনুবাদ: তোমরা কি লাত ও উজ্জা সম্পর্কে ভেবেছ, আর তৃতীয় অন্যটি মানাত সম্পর্কে?

আনুমানিক মক্কা পর্ব (৬১০–৬২২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

কামার ৫৪:৪৬ — মক্কায় নাজিল হওয়ার সরাসরি বর্ণনা

সময়ের ভিত্তি: মক্কায় নাজিল হওয়ার পরিচয় হাদিসে স্পষ্ট; আয়শার বয়সের এই বিবরণ থেকে নির্ভুল সাল গণনা করা যায় না।

আয়শা বলেন, তিনি খেলাধুলার বয়সের মেয়ে থাকতেই এই আয়াত মুহাম্মদের ওপর মক্কায় নাজিল হয়। এই বর্ণনা ৪৬ নম্বর আয়াতের মক্কী পরিচয়ের সরাসরি সাক্ষ্য।

উদ্ধৃত আয়াত: 54:46 [21] [22]

بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ أَدْهَى وَأَمَرُّ

বাংলা অনুবাদ: বরং কিয়ামতই তাদের নির্ধারিত সময়; আর কিয়ামত অধিক ভয়ংকর ও অধিক তিক্ত।

আনুমানিক মক্কা পর্ব (৬১০–৬২২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

মারইয়াম ১৯:১৬–২১ — মারইয়ামের গর্ভধারণের বয়ান

সময়ের ভিত্তি: মক্কী সূরার অংশ; এই আয়াতগুচ্ছের নির্দিষ্ট নাজিল-সাল অজ্ঞাত।

পুরুষের স্পর্শ ছাড়াই সন্তান হওয়ার প্রশ্নের জবাবে ঘটনাটিকে আল্লাহর পক্ষে সহজ এবং পূর্বনির্ধারিত বলা হয়েছে। খ্রিস্টীয় ঐতিহ্যের কেন্দ্রীয় চরিত্র মারইয়াম ও ইসার জন্মকাহিনি কোরআনের নিজস্ব ওহির বয়ানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

উদ্ধৃত আয়াত: 19:21 [23] [18]

قَالَ كَذَٰلِكِ قَالَ رَبُّكِ هُوَ عَلَىَّ هَيِّنٌۭ ۖ وَلِنَجْعَلَهُۥٓ ءَايَةًۭ لِّلنَّاسِ وَرَحْمَةًۭ مِّنَّا ۚ وَكَانَ أَمْرًۭا مَّقْضِيًّۭا ٢١

বাংলা অনুবাদ: সে বলল, “এমনই হবে। তোমার প্রভু বলেছেন, এটি আমার জন্য সহজ; আর তাকে মানুষের জন্য নিদর্শন ও আমাদের পক্ষ থেকে রহমত করব। এটি স্থির হয়ে যাওয়া বিষয়।”

আনুমানিক মক্কা পর্ব (৬১০–৬২২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

ত্বা-হা ২০:৯–১৪ — মুসার আহ্বান ও উপাসনার নির্দেশ

সময়ের ভিত্তি: মক্কী সূরার এই অংশের নির্দিষ্ট বছর জানা নেই।

মুসার আগুন দেখা ও আহ্বান শোনার কাহিনির মধ্যে একেশ্বরবাদ এবং নামাজ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ এসেছে। পূর্ববর্তী নবীর কাহিনি মুহাম্মদের প্রচারিত ধর্মীয় কর্তৃত্বের ধারাবাহিকতা তৈরি করে।

উদ্ধৃত আয়াত: 20:14 [24] [18]

إِنَّنِىٓ أَنَا ٱللَّهُ لَآ إِلَـٰهَ إِلَّآ أَنَا۠ فَٱعْبُدْنِى وَأَقِمِ ٱلصَّلَوٰةَ لِذِكْرِىٓ ١٤

বাংলা অনুবাদ: নিশ্চয়ই আমিই আল্লাহ; আমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। সুতরাং আমার উপাসনা করো এবং আমাকে স্মরণের জন্য নামাজ প্রতিষ্ঠা করো।

আনুমানিক মক্কা পর্ব (৬১০–৬২২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

শুআরা ২৬:১০–১৯১ — মুসা, ইবরাহিম, নূহ, হুদ, সালেহ, লুত ও শুয়াইবের কাহিনি

সময়ের ভিত্তি: মক্কী পর্বের প্রচলিত শ্রেণিবিন্যাস; নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত।

নূহের জাতির অস্বীকৃতি, আনুগত্যের দাবি এবং শেষে অবশিষ্টদের ডুবিয়ে দেওয়ার কাহিনি রয়েছে। একই সূরার অন্য নবীকাহিনিগুলোর মতো এখানে অস্বীকৃতির পরিণতি হিসেবে ধ্বংসের বয়ান পুনরাবৃত্ত হয়েছে। একই ধারায় মুসা ও ফেরাউন (১০–৬৮), ইবরাহিম (৬৯–১০৪), হুদ ও আদ (১২৩–১৪০), সালেহ ও সামুদ (১৪১–১৫৯), লুতের জনগোষ্ঠী (১৬০–১৭৫) এবং শুয়াইব ও আইকার অধিবাসীদের (১৭৬–১৯১) কাহিনি রয়েছে। বারবার রাসুলের আনুগত্যের দাবি, অস্বীকৃতি, শাস্তি এবং বিশ্বাসীদের উদ্ধার—এই গঠন ফিরে আসে।

উদ্ধৃত আয়াত: 26:105 [25] [18]

كَذَّبَتْ قَوْمُ نُوحٍ ٱلْمُرْسَلِينَ ١٠٥

বাংলা অনুবাদ: নূহের জাতি রাসুলদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল।

আনুমানিক মক্কা পর্ব (৬১০–৬২২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

ফুরকান ২৫:৪ — কোরআন রচনায় মানবীয় সহযোগিতার অভিযোগ

সময়ের ভিত্তি: মক্কী অংশ; অভিযোগটির নির্দিষ্ট বছর আয়াত থেকে জানা যায় না।

মুহাম্মদ নিজে এই বক্তব্য রচনা করেছেন এবং অন্যরা সাহায্য করেছে—এই অভিযোগ আয়াতে সংরক্ষিত আছে; আয়াতের নিজের জবাব অভিযোগটিকে অন্যায় ও মিথ্যা ঘোষণা করা। অভিযোগ এবং তার ধর্মীয় প্রত্যাখ্যান একই পাঠে উপস্থিত।

উদ্ধৃত আয়াত: 25:4 [26] [18]

وقال الذين كفروا ان هاذا الا افك افتراه واعانه عليه قوم اخرون فقد جاءوا ظلما وزورا ٤

বাংলা অনুবাদ: অবিশ্বাসীরা বলল, “এ তো মিথ্যা, যা সে রচনা করেছে এবং অন্য একদল তাকে সাহায্য করেছে।” তারা অবশ্যই অন্যায় ও মিথ্যা নিয়ে এসেছে।

আনুমানিক মক্কা পর্ব (৬১০–৬২২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

হিজর ১৫:৯ — পাঠ সংরক্ষণের দাবি

সময়ের ভিত্তি: মক্কী সূরার অংশ; এই আয়াতের নির্দিষ্ট নাজিল-সাল অজ্ঞাত।

কোরআনের সংরক্ষণ বিষয়ে বহুল ব্যবহৃত ধর্মীয় দাবিটি এই আয়াতে রয়েছে। আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিল ও সুরক্ষার ঘোষণা পাঠের নিজস্ব দাবি; সংকলনের ইতিহাসসংক্রান্ত হাদিসগুলো আলাদা সাক্ষ্য।

উদ্ধৃত আয়াত: 15:9 [27] [18]

إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا ٱلذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُۥ لَحَـٰفِظُونَ ٩

বাংলা অনুবাদ: নিশ্চয়ই আমরাই স্মারকটি নাজিল করেছি এবং আমরাই তার রক্ষক।

আনুমানিক মক্কা পর্ব (৬১০–৬২২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

কাসাস ২৮:৫ — নিপীড়িতদের নেতৃত্ব ও উত্তরাধিকারের প্রতিশ্রুতি

সময়ের ভিত্তি: মক্কী সূরার অংশ; এই নির্দিষ্ট আয়াতের বছর অজ্ঞাত।

ফেরাউন ও বনি ইসরাইলের কাহিনিতে দুর্বল জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও সম্পদের উত্তরাধিকার পাওয়ার প্রতিশ্রুতি এসেছে। নিপীড়ন থেকে ক্ষমতায় উত্তরণের ধারণা ধর্মীয় ইতিহাসের আকারে প্রকাশিত হয়েছে।

উদ্ধৃত আয়াত: 28:5 [28] [18]

ونريد ان نمن على الذين استضعفوا في الارض ونجعلهم ايمة ونجعلهم الوارثين ٥

বাংলা অনুবাদ: আর আমরা ইচ্ছা করেছিলাম পৃথিবীতে যাদের দুর্বল করে রাখা হয়েছিল তাদের অনুগ্রহ করতে, তাদের নেতা করতে এবং তাদের উত্তরাধিকারী করতে।

আনুমানিক মক্কা পর্ব (৬১০–৬২২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

রূম ৩০:২–৪ — রোমানদের পরাজয় ও ভবিষ্যৎ জয়ের ঘোষণা

সময়ের ভিত্তি: মক্কী পর্বে প্রচলিত অবস্থান; সংশ্লিষ্ট পরাজয় এবং আয়াত নাজিলের বছর পৃথকভাবে অনির্ধারিত।

রোমানদের পরাজয়ের পর কয়েক বছরের মধ্যে তাদের বিজয়ের ঘোষণা রয়েছে। আয়াতের “কয়েক বছর” ভবিষ্যৎ বিজয়ের ব্যবধান বোঝায়; সেটি আয়াত নাজিলের খ্রিস্টীয় তারিখ নয়। নির্দিষ্ট যুদ্ধ, পরাজয়ের বছর ও বিজয়ের বছর মেলাতে পৃথক ঐতিহাসিক প্রমাণ প্রয়োজন।

উদ্ধৃত আয়াত: 30:2, 30:3, 30:4 [29] [18]

غُلِبَتِ ٱلرُّومُ ٢ في ادنى الارض وهم من بعد غلبهم سيغلبون ٣ في بضع سنين لله الامر من قبل ومن بعد ويوميذ يفرح المومنون ٤

বাংলা অনুবাদ: রোমানরা পরাজিত হয়েছে নিকটবর্তী ভূমিতে; আর তারা তাদের পরাজয়ের পর জয়ী হবে কয়েক বছরের মধ্যে। আগে ও পরে কর্তৃত্ব আল্লাহরই। আর সেদিন বিশ্বাসীরা আনন্দিত হবে।

আনুমানিক মক্কা পর্ব (৬১০–৬২২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

ইউনুস ১০:৯৯ — সবাইকে বিশ্বাসী করতে বাধ্য করার প্রশ্ন

সময়ের ভিত্তি: মক্কী সূরার অংশ; নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত।

সকল মানুষের বিশ্বাসী না হওয়ার বিষয়টি আল্লাহর ইচ্ছার সঙ্গে যুক্ত করে মানুষকে বাধ্য করার প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস এবং বাধ্য করার সম্পর্ক এখানে সরাসরি আলোচিত।

উদ্ধৃত আয়াত: 10:99 [30] [18]

ولو شاء ربك لامن من في الارض كلهم جميعا افانت تكره الناس حتى يكونوا مومنين ٩٩

বাংলা অনুবাদ: তোমার প্রভু চাইলে পৃথিবীতে যারা আছে তারা সবাই বিশ্বাস করত। তাহলে তুমি কি মানুষকে বাধ্য করবে, যাতে তারা বিশ্বাসী হয়?

আনুমানিক মক্কা পর্ব (৬১০–৬২২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

হুদ ১১:১০২ — জনপদ ধ্বংসের মাধ্যমে শাস্তির বয়ান

সময়ের ভিত্তি: মক্কী সূরার এই অংশের নির্দিষ্ট সাল জানা নেই।

পূর্ববর্তী জনপদগুলোর ধ্বংসকে আল্লাহর কঠোর শাস্তির দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই পর্বের ধর্মীয় সতর্কতায় শাস্তি ও ধ্বংসের ভয় কেন্দ্রীয় স্থান পায়। তিরমিযির বর্ণনায় আবু বকরের চুল পেকে যাওয়ার প্রশ্নের উত্তরে মুহাম্মদ হুদ, ওয়াকিয়া, মুরসালাত, নাবা ও তাকভীরের নাম উল্লেখ করেন। শাস্তি ও বিচারসংক্রান্ত এই সূরাগুলোর কঠোরতার সঙ্গে তাঁর বার্ধক্যের লক্ষণকে বর্ণনাটিতে যুক্ত করা হয়েছে।

উদ্ধৃত আয়াত: 11:102 [31] [18] [32]

وَكَذَٰلِكَ أَخْذُ رَبِّكَ إِذَآ أَخَذَ ٱلْقُرَىٰ وَهِىَ ظَـٰلِمَةٌ ۚ إِنَّ أَخْذَهُۥٓ أَلِيمٌۭ شَدِيدٌ ١٠٢

বাংলা অনুবাদ: তোমার প্রভুর পাকড়াও এমনই, যখন তিনি অন্যায়কারী জনপদগুলোকে পাকড়াও করেন। নিশ্চয়ই তাঁর পাকড়াও যন্ত্রণাদায়ক ও কঠোর।

আনুমানিক মক্কা পর্ব (৬১০–৬২২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

ইউসুফ ১২:৩ — সর্বোত্তম কাহিনি বলার দাবি

সময়ের ভিত্তি: সূরার মক্কী পরিচয় প্রচলিত; এই নির্দিষ্ট আয়াতের স্বতন্ত্র নাজিল-সাল অজ্ঞাত।

ইউসুফের দীর্ঘ কাহিনিকে ওহির মাধ্যমে বলা সর্বোত্তম কাহিনি হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। পারিবারিক সংঘাত, দাস হিসেবে বিক্রি, বন্দিত্ব এবং শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভ একই ধারাবাহিক বয়ানের অংশ।

উদ্ধৃত আয়াত: 12:3 [33] [18]

نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ أَحْسَنَ ٱلْقَصَصِ بِمَآ أَوْحَيْنَآ إِلَيْكَ هَـٰذَا ٱلْقُرْءَانَ وَإِن كُنتَ مِن قَبْلِهِۦ لَمِنَ ٱلْغَـٰفِلِينَ ٣

বাংলা অনুবাদ: এই কোরআন তোমার কাছে ওহি করার মাধ্যমে আমরা তোমাকে সর্বোত্তম কাহিনি বর্ণনা করছি; এর আগে তুমি অবশ্যই এ বিষয়ে অনবহিতদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে।

আনুমানিক মক্কা পর্ব (৬১০–৬২২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

নাহল ১৬:১২৫ — যুক্তি ও সুন্দর উপদেশ দিয়ে আহ্বান

সময়ের ভিত্তি: প্রচলিত মক্কী অবস্থান অনুসারে আনুমানিক পর্ব; দিন-তারিখ অজ্ঞাত।

ধর্মপ্রচারের পদ্ধতি হিসেবে প্রজ্ঞা, সুন্দর উপদেশ ও সর্বোত্তম বিতর্কের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি প্রচারের একটি নির্দিষ্ট নির্দেশ; সূরার সব আয়াতের একই সময়ের ঘোষণা নয়।

উদ্ধৃত আয়াত: 16:125 [34] [18]

ادع الى سبيل ربك بالحكمة والموعظة الحسنة وجادلهم بالتي هي احسن ان ربك هو اعلم بمن ضل عن سبيله وهو اعلم بالمهتدين ١٢٥

বাংলা অনুবাদ: তোমার প্রভুর পথে আহ্বান করো প্রজ্ঞা ও সুন্দর উপদেশ দিয়ে এবং তাদের সঙ্গে বিতর্ক করো সর্বোত্তম পদ্ধতিতে। নিশ্চয়ই তোমার প্রভু সবচেয়ে ভালো জানেন কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, আর তিনিই সুপথপ্রাপ্তদের সবচেয়ে ভালো জানেন।

আনুমানিক মক্কা পর্ব (৬১০–৬২২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

মারইয়াম ১৯:২–১৫ — যাকারিয়া ও ইয়াহইয়ার জন্মকাহিনি

সময়ের ভিত্তি: মক্কী সূরার এই অংশের নির্দিষ্ট দিন বা সাল অজ্ঞাত।

বৃদ্ধ যাকারিয়ার প্রার্থনা ও সন্তান পাওয়ার সুসংবাদ দিয়ে কাহিনি শুরু হয়। তাঁর বার্ধক্য ও স্ত্রীর বন্ধ্যাত্বের প্রশ্নের জবাব ঐশী ক্ষমতার দাবি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইয়াহইয়ার জন্ম, ধর্মীয় কর্তৃত্ব ও পবিত্রতার বয়ান পরের আয়াতগুলোয় এসেছে। মারইয়াম–ইসার জন্মকাহিনির আগে এই যাকারিয়া–ইয়াহইয়া পর্ব স্থাপিত, ফলে পূর্ববর্তী ধর্মীয় চরিত্রগুলোকে একই ওহির ধারাবাহিক ইতিহাসে যুক্ত করা হয়েছে।

উদ্ধৃত আয়াত: 19:7 [35]

يَـٰزَكَرِيَّآ إِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلَـٰمٍ ٱسْمُهُۥ يَحْيَىٰ لَمْ نَجْعَل لَّهُۥ مِن قَبْلُ سَمِيًّۭا ٧

বাংলা অনুবাদ: হে যাকারিয়া, আমরা তোমাকে এক পুত্রের সুসংবাদ দিচ্ছি, যার নাম ইয়াহইয়া; এর আগে আমরা তার সমনামা কাউকে করিনি।

আনুমানিক মক্কা পর্ব (৬১০–৬২২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

নাহল ১৬:৬৮–৬৯ — মৌমাছি, বাসা ও মধুকে ঐশী নিদর্শন

সময়ের ভিত্তি: প্রচলিত মক্কী পরিচয় আনুমানিক পর্বের ভিত্তি; স্বতন্ত্র নাজিল-সাল অজ্ঞাত।

মৌমাছির বাসা নির্মাণ ও খাদ্য সংগ্রহের আচরণকে আল্লাহর ওহি বা প্রেরণার ফল বলা হয়েছে। পরের আয়াতে বিভিন্ন রঙের পানীয় ও তাতে মানুষের আরোগ্যের কথা রয়েছে। প্রকৃতির উপযোগী বস্তু ও জীবের আচরণকে ঐশী নিয়ন্ত্রণের নিদর্শন হিসেবে ধর্মীয় যুক্তিতে ব্যবহার করা হয়েছে। ইবনে কাসির এখানে ওহিকে প্রেরণা, দিকনির্দেশ ও পথ দেখানো অর্থে ব্যাখ্যা করেন।

উদ্ধৃত আয়াত: 16:68 [36]

وَأَوْحَىٰ رَبُّكَ إِلَى ٱلنَّحْلِ أَنِ ٱتَّخِذِى مِنَ ٱلْجِبَالِ بُيُوتًۭا وَمِنَ ٱلشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُونَ ٦٨

বাংলা অনুবাদ: তোমার প্রভু মৌমাছিকে নির্দেশ দিলেন: পাহাড়ে, গাছে এবং মানুষের নির্মিত স্থানে বাসা তৈরি করো।

আনুমানিক মক্কা পর্ব (৬১০–৬২২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

আনআম ৬:১ — সৃষ্টিতত্ত্ব, শিরক এবং এক রাতে পুরো সূরা নাজিলের বর্ণনা

সময়ের ভিত্তি: মক্কায় রাতে একসঙ্গে নাজিল হওয়ার বর্ণনা আছে; নির্দিষ্ট রাত, মাস ও সাল অজ্ঞাত।

সৃষ্টির কর্তৃত্বের সঙ্গে শিরকের সমালোচনা যুক্ত হয়েছে। ইবনে কাসির সূরার ভূমিকায় মক্কায় এক রাতে সম্পূর্ণ আনআম নাজিল হওয়ার বর্ণনা সংরক্ষণ করেছেন; তার সঙ্গে সত্তর হাজার ফেরেশতার উপস্থিতির দাবিও আছে। অন্য বর্ণনায় উটের লাগাম ধরে থাকা অবস্থায় সূরা নাজিল এবং তার ভারের বিবরণ রয়েছে। পুরো সূরা একসঙ্গে আসার এই বর্ণনাগুলো একই রাতের দাবি দেয়, কিন্তু সেই রাতের খ্রিস্টীয় সাল দেয় না।

উদ্ধৃত আয়াত: 6:1 [37]

ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ ٱلَّذِى خَلَقَ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ وَجَعَلَ ٱلظُّلُمَـٰتِ وَٱلنُّورَ ۖ ثُمَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ بِرَبِّهِمْ يَعْدِلُونَ ١

বাংলা অনুবাদ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলো করেছেন; তারপরও অবিশ্বাসীরা তাদের প্রভুর সমকক্ষ দাঁড় করায়।

আনুমানিক মক্কা পর্ব (৬১০–৬২২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

কাহফ ১৮:৯–২৬ — গুহাবাসী যুবক ও দীর্ঘ নিদ্রা

সময়ের ভিত্তি: মক্কী পর্ব বলে প্রচলিত; প্রশ্নের ঘটনা ও কাহিনির প্রথম নাজিলের নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত।

গুহায় আশ্রয় নেওয়া যুবকদের দীর্ঘ নিদ্রা, জাগরণ, তাদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক এবং সময়ের ব্যবধান এই কাহিনির বিষয়। কুরতুবির ভূমিকায় ইবনে ইসহাকের বর্ণনা অনুসারে কুরাইশের দূতদের ইহুদি আলেমদের কাছে পাঠানো এবং তাদের পরামর্শে গুহাবাসী যুবক, বিশ্বভ্রমণকারী ব্যক্তি ও রূহ সম্পর্কে প্রশ্ন করার বিবরণ আছে। কাহফের উত্তরকে পূর্ববর্তী ধর্মীয় জ্ঞান যাচাইয়ের ওই পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

উদ্ধৃত আয়াত: 18:9 [38] [39]

أَمْ حَسِبْتَ أَنَّ أَصْحَـٰبَ ٱلْكَهْفِ وَٱلرَّقِيمِ كَانُوا۟ مِنْ ءَايَـٰتِنَا عَجَبًا ٩

বাংলা অনুবাদ: তুমি কি মনে করেছ, গুহা ও রকিমের অধিবাসীরা আমাদের নিদর্শনগুলোর মধ্যে বিস্ময়কর ছিল?

আনুমানিক মক্কা পর্ব (৬১০–৬২২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

আনআম ৬:১৩৬ — আল্লাহ ও দেবতাদের নামে ফসল–পশুর ভাগ

সময়ের ভিত্তি: মক্কী সূরার অংশ; এই নির্দিষ্ট আয়াতের নাজিল-সাল অজ্ঞাত।

ফসল, ফল ও গবাদিপশু আল্লাহ ও অন্য উপাস্যদের নামে ভাগ করার প্রথা এখানে আক্রমণের লক্ষ্য। ইবনে কাসিরের সংরক্ষিত ব্যাখ্যায় উপাস্যদের জন্য নির্ধারিত অংশ রক্ষা করা এবং আল্লাহর অংশ অন্য উপাস্যদের ভাগে মিশে গেলে তা ফিরিয়ে না দেওয়ার কথা রয়েছে। জবাইয়ের সময় দেবতাদের নাম উচ্চারণের প্রথার আলোচনাও আছে। কোরবানির অর্থনৈতিক ভাগ ও আচারকে শিরক হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে একক ঐশী মালিকানার দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

উদ্ধৃত আয়াত: 6:136 [40]

وَجَعَلُوا۟ لِلَّهِ مِمَّا ذَرَأَ مِنَ ٱلْحَرْثِ وَٱلْأَنْعَـٰمِ نَصِيبًۭا فَقَالُوا۟ هَـٰذَا لِلَّهِ بِزَعْمِهِمْ وَهَـٰذَا لِشُرَكَآئِنَا ۖ فَمَا كَانَ لِشُرَكَآئِهِمْ فَلَا يَصِلُ إِلَى ٱللَّهِ ۖ وَمَا كَانَ لِلَّهِ فَهُوَ يَصِلُ إِلَىٰ شُرَكَآئِهِمْ ۗ سَآءَ مَا يَحْكُمُونَ ١٣٦

বাংলা অনুবাদ: তিনি যে ফসল ও গবাদিপশু সৃষ্টি করেছেন, তার একটি অংশ তারা আল্লাহর জন্য নির্ধারণ করেছে এবং নিজেদের দাবিতে বলেছে, “এটি আল্লাহর জন্য আর এটি আমাদের শরিকদের জন্য।” তাদের শরিকদের জন্য যা, তা আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না; আর আল্লাহর জন্য যা, তা তাদের শরিকদের কাছে পৌঁছে যায়। তাদের সিদ্ধান্ত কতই মন্দ!

হিজরত ও প্রথম মদিনা পর্ব

আনুমানিক হিজরতের সময়পর্ব; ৬২২ খ্রি.

হজ্জ ২২:৩৯ — সশস্ত্র যুদ্ধের অনুমতি

সময়ের ভিত্তি: হিজরতের ঘটনার সঙ্গে সংযুক্ত; মদিনায় পৌঁছানোর কত দিন আগে বা পরে তা এই বর্ণনায় নির্দিষ্ট নেই।

ইবনে আব্বাসের বর্ণনায় মুহাম্মদকে মক্কা থেকে বের করে দেওয়ার পর এই আয়াত নাজিল হয়। বর্ণনাটি একে যুদ্ধ সম্পর্কে প্রথম নাজিল হওয়া আয়াত বলে চিহ্নিত করে। সশস্ত্র সংঘাতে অংশ নেওয়ার অনুমতি এখানে ওহির ভাষায় প্রতিষ্ঠিত।

উদ্ধৃত আয়াত: 22:39 [41] [42]

أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَـٰتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا۟ ۚ وَإِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ ٣٩

বাংলা অনুবাদ: যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে তাদের অনুমতি দেওয়া হলো, কারণ তাদের ওপর অন্যায় করা হয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাহায্য করতে সক্ষম।

২ হিজরি / আনুমানিক ৬২৪ খ্রি.; হিজরতের ষোলো–সতেরো মাস পরে

বাকারা ২:১৪৪ — কিবলা পরিবর্তন

সময়ের ভিত্তি: আপেক্ষিক মাসসংখ্যা হাদিসে দেওয়া; নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার-দিন অনির্ধারিত।

বারা ইবনে আজিবের বর্ণনায় জেরুসালেমমুখী নামাজের ষোলো বা সতেরো মাস পর কাবামুখী হওয়ার নির্দেশ আসে। উপাসনার অভিমুখের এই পরিবর্তনের সঙ্গে মুহাম্মদের পছন্দের উল্লেখও আয়াতে রয়েছে।

উদ্ধৃত অংশ: 2:144 [43] [44]

قَدْ نَرَىٰ تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِى ٱلسَّمَآءِ ۖ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةًۭ تَرْضَىٰهَا ۚ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ ٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ

বাংলা অনুবাদ: আমরা আকাশের দিকে তোমার মুখ ফেরানো দেখছি। আমরা তোমাকে এমন কিবলার দিকে ফেরাব, যা তুমি পছন্দ করো। সুতরাং তোমার মুখ মসজিদুল হারামের দিকে ফেরাও।

বদর ও যুদ্ধবিধান

বদরের পর; ২ হিজরি / আনুমানিক ৬২৪ খ্রি.

আনফাল ৮:১ — যুদ্ধলব্ধ সম্পদের কর্তৃত্ব

সময়ের ভিত্তি: বদর-সংযোগ তাফসিরে সংরক্ষিত বর্ণনানির্ভর।

বদরের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ নিয়ে বিরোধের বর্ণনার সঙ্গে আয়াতটি যুক্ত। সম্পদের নিষ্পত্তির কর্তৃত্ব আল্লাহ ও রাসুলের নামে কেন্দ্রীভূত হয় এবং অংশগ্রহণকারীদের আনুগত্যের নির্দেশ দেওয়া হয়।

উদ্ধৃত আয়াত: 8:1 [45] [46]

يَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْأَنفَالِ ۖ قُلِ ٱلْأَنفَالُ لِلَّهِ وَٱلرَّسُولِ ۖ فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَصْلِحُوا۟ ذَاتَ بَيْنِكُمْ ۖ وَأَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥٓ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ١

বাংলা অনুবাদ: তারা তোমাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলো, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আল্লাহ ও রাসুলের। সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো, নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ক ঠিক করো এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করো, যদি তোমরা বিশ্বাসী হও।

বদরের প্রসঙ্গ; ২ হিজরি / আনুমানিক ৬২৪ খ্রি.

আনফাল ৮:১২ — ভীতি, ঘাড় ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গে আঘাত

সময়ের ভিত্তি: বদরের ঘটনাকে ফিরে বর্ণনা করছে; যুদ্ধের কোন মুহূর্তে আয়াতটি প্রথম উচ্চারিত হয়েছিল তা নির্দিষ্ট নয়।

ফেরেশতাদের উদ্দেশে ওহির বয়ানে শত্রুর অন্তরে ভীতি সৃষ্টি এবং শরীরে প্রাণঘাতী আঘাতের নির্দেশ এসেছে। ইবনে কাসির ঘাড় কেটে ফেলা ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গে আঘাতের ভাষায় এর ব্যাখ্যা করেছেন। যুদ্ধের নির্মমতা এখানে ঐশী সহায়তার বয়ানের অংশ।

উদ্ধৃত আয়াত: 8:12 [47]

إِذْ يُوحِى رَبُّكَ إِلَى ٱلْمَلَـٰٓئِكَةِ أَنِّى مَعَكُمْ فَثَبِّتُوا۟ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ۚ سَأُلْقِى فِى قُلُوبِ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ ٱلرُّعْبَ فَٱضْرِبُوا۟ فَوْقَ ٱلْأَعْنَاقِ وَٱضْرِبُوا۟ مِنْهُمْ كُلَّ بَنَانٍۢ ١٢

বাংলা অনুবাদ: যখন তোমার প্রভু ফেরেশতাদের ওহি করেন, “আমি তোমাদের সঙ্গে আছি; সুতরাং বিশ্বাসীদের দৃঢ় করো। আমি অবিশ্বাসীদের অন্তরে ভীতি নিক্ষেপ করব। সুতরাং ঘাড়ের ওপর আঘাত করো এবং তাদের প্রত্যেক আঙুলের অগ্রভাগে আঘাত করো।”

বদর-পরবর্তী আইনগত পর্ব; আনুমানিক ২ হিজরি / ৬২৪ খ্রি.

আনফাল ৮:৪১ — গনিমতের এক-পঞ্চমাংশ

সময়ের ভিত্তি: বদর-সংযোগ স্পষ্ট; আয়াত নাজিলের স্বতন্ত্র দিন অজ্ঞাত।

যুদ্ধলব্ধ সম্পদের এক-পঞ্চমাংশের নির্ধারিত প্রাপকদের তালিকা রয়েছে। আয়াতেই দুই বাহিনীর মিলিত হওয়ার দিনের উল্লেখ আছে, যা তাফসিরে বদর হিসেবে চিহ্নিত। যুদ্ধের অর্থনৈতিক ফল ধর্মীয় বণ্টনবিধির অধীন করা হয়েছে।

উদ্ধৃত অংশ: 8:41 [48]

وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّمَا غَنِمْتُم مِّن شَىْءٍۢ فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُۥ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِى ٱلْقُرْبَىٰ وَٱلْيَتَـٰمَىٰ وَٱلْمَسَـٰكِينِ وَٱبْنِ ٱلسَّبِيلِ

বাংলা অনুবাদ: জেনে রাখো, তোমরা যা কিছু যুদ্ধলব্ধ সম্পদ পাও, তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহ, রাসুল, আত্মীয়স্বজন, এতিম, দরিদ্র ও পথিকের জন্য।

বদরের বন্দীদের প্রসঙ্গ; আনুমানিক ২ হিজরি / ৬২৪ খ্রি.

আনফাল ৮:৬৭ — বন্দী ও যুদ্ধের কঠোরতা

সময়ের ভিত্তি: বদরের বন্দীসংক্রান্ত ঘটনার সঙ্গে যুক্ত; নির্দিষ্ট দিন অজ্ঞাত।

বন্দী ও মুক্তিপণের সিদ্ধান্তের সমালোচনায় অধিক কঠোর সামরিক দমনের দাবি এসেছে। ইবনে কাসির আয়াতটির সঙ্গে বদরের বন্দীদের বিষয়ে পরামর্শের বর্ণনা যুক্ত করেছেন।

উদ্ধৃত আয়াত: 8:67 [49]

مَا كَانَ لِنَبِىٍّ أَن يَكُونَ لَهُۥٓ أَسْرَىٰ حَتَّىٰ يُثْخِنَ فِى ٱلْأَرْضِ ۚ تُرِيدُونَ عَرَضَ ٱلدُّنْيَا وَٱللَّهُ يُرِيدُ ٱلْـَٔاخِرَةَ ۗ وَٱللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌۭ ٦٧

বাংলা অনুবাদ: কোনো নবীর জন্য বন্দী রাখা সঙ্গত নয়, যতক্ষণ না সে ভূমিতে শত্রুদের ব্যাপকভাবে হতাহত করে। তোমরা পার্থিব সামগ্রী চাও, আর আল্লাহ চান পরকাল। আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

উহুদ থেকে হুদায়বিয়া

উহুদের পর; ৩ হিজরি / আনুমানিক ৬২৫ খ্রি.

আলে ইমরান ৩:১৫২ — গনিমত, নির্দেশ অমান্য ও পরাজয়

সময়ের ভিত্তি: উহুদের ঘটনা নির্দিষ্ট; নাজিলের স্বতন্ত্র দিন জানা নেই।

ইবনে কাসির আয়াতটির সঙ্গে উহুদে তিরন্দাজদের অবস্থান ত্যাগ এবং গনিমতের দিকে ছুটে যাওয়ার বর্ণনা যুক্ত করেছেন। যুদ্ধের বিপর্যয়কে আনুগত্যভঙ্গ, পার্থিব আকাঙ্ক্ষা এবং ঐশী পরীক্ষার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

উদ্ধৃত অংশ: 3:152 [50]

مِنكُم مَّن يُرِيدُ ٱلدُّنْيَا وَمِنكُم مَّن يُرِيدُ ٱلْـَٔاخِرَةَ ۚ ثُمَّ صَرَفَكُمْ عَنْهُمْ لِيَبْتَلِيَكُمْ

বাংলা অনুবাদ: তোমাদের মধ্যে কেউ পার্থিব লাভ চায় এবং কেউ পরকাল চায়। তারপর তিনি তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য তাদের থেকে তোমাদের ফিরিয়ে দিলেন।

উহুদের পরে; আনুমানিক ৩ হিজরি বা পরবর্তী সময় / ৬২৫ খ্রি. বা পরে

নিসা ৪:১১ — সন্তানদের উত্তরাধিকার

সময়ের ভিত্তি: উহুদের পরের ঘটনা হিসেবে একটি বর্ণনায় সংযুক্ত। বর্ণনার মূল্যায়নে মতভেদ আছে; তা নির্দিষ্ট নাজিল-দিন বা অব্যবহিত পরের বছর প্রমাণ করে না।

ছেলে ও মেয়ের উত্তরাধিকার ভাগে দ্বিগুণ–অর্ধেক সম্পর্ক নির্ধারিত হয়েছে। তিরমিযির বর্ণনায় উহুদে নিহত সাদ ইবনে রাবির দুই মেয়ের সম্পদ তাদের চাচার নিয়ে নেওয়ার ঘটনার পর উত্তরাধিকারের আয়াত আসার কথা রয়েছে।

উদ্ধৃত অংশ: 4:11 [51] [52]

يُوصِيكُمُ ٱللَّهُ فِىٓ أَوْلَـٰدِكُمْ ۖ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ ٱلْأُنثَيَيْنِ

বাংলা অনুবাদ: আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের বিষয়ে নির্দেশ দিচ্ছেন: একজন পুরুষের অংশ দুই নারীর অংশের সমান।

বনু নাদিরের বহিষ্কার; প্রচলিত হিসাবে ৪ হিজরি / আনুমানিক ৬২৫–৬২৬ খ্রি.

হাশর ৫৯:২ — বহিষ্কার, ভীতি ও ঘরবাড়ি ধ্বংস

সময়ের ভিত্তি: বনু নাদিরের পরিচয় তাফসিরে নির্দিষ্ট; ঘটনার সাল অনুসারে আনুমানিক সময়।

বনু নাদিরের বহিষ্কারকে আল্লাহর কার্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। দুর্গের নিরাপত্তা ভেঙে পড়া, অন্তরে ভীতি এবং ঘরবাড়ি ধ্বংস সামরিক সাফল্যের ধর্মীয় বয়ানে পরিণত হয়েছে।

উদ্ধৃত অংশ: 59:2 [53]

يُخْرِبُونَ بُيُوتَهُم بِأَيْدِيهِمْ وَأَيْدِى ٱلْمُؤْمِنِينَ فَٱعْتَبِرُوا۟ يَـٰٓأُو۟لِى ٱلْأَبْصَـٰرِ

বাংলা অনুবাদ: তারা নিজেদের হাত ও বিশ্বাসীদের হাতে নিজেদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করছিল। সুতরাং শিক্ষা নাও, হে দৃষ্টিসম্পন্নরা।

বনু নাদির-পরবর্তী সম্পদবণ্টন; আনুমানিক ৪ হিজরি / ৬২৫–৬২৬ খ্রি.

হাশর ৫৯:৬–৭ — ফাই সম্পদের বণ্টন ও আনুগত্য

সময়ের ভিত্তি: বনু নাদিরের সম্পদসংক্রান্ত ধারাবাহিক আলোচনার ভিত্তিতে আনুমানিক সময়; স্বতন্ত্র নাজিল-দিন নেই।

লড়াইয়ে ঘোড়া–উট ছোটানো ছাড়াই পাওয়া সম্পদ এবং তার প্রাপকদের বিধান এই অংশে আছে। সম্পদ নিষ্পত্তির সঙ্গে রাসুলের দেওয়া জিনিস গ্রহণ এবং নিষেধ থেকে বিরত থাকার কর্তৃত্বও যুক্ত হয়েছে।

উদ্ধৃত অংশ: 59:7 [54]

مَّآ أَفَآءَ ٱللَّهُ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ مِنْ أَهْلِ ٱلْقُرَىٰ فَلِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِى ٱلْقُرْبَىٰ وَٱلْيَتَـٰمَىٰ وَٱلْمَسَـٰكِينِ وَٱبْنِ ٱلسَّبِيلِ كَىْ لَا يَكُونَ دُولَةًۢ بَيْنَ ٱلْأَغْنِيَآءِ مِنكُمْ

বাংলা অনুবাদ: জনপদবাসীদের কাছ থেকে আল্লাহ তাঁর রাসুলকে যা ফিরিয়ে দিয়েছেন, তা আল্লাহ, রাসুল, আত্মীয়স্বজন, এতিম, দরিদ্র ও পথিকের জন্য, যাতে তা তোমাদের ধনীদের মধ্যেই আবর্তিত সম্পদ না হয়।

খন্দক অবরোধ; প্রচলিত হিসাবে ৫ হিজরি / আনুমানিক ৬২৭ খ্রি.

আহযাব ৩৩:৯ — অবরোধ ভাঙার ঐশী ব্যাখ্যা

সময়ের ভিত্তি: আহযাব বা খন্দক ঘটনার সঙ্গে তাফসিরে সংযুক্ত; নাজিলের আলাদা দিন অজ্ঞাত।

মদিনা অবরোধের বিরুদ্ধে বাতাস ও অদৃশ্য বাহিনী পাঠানোর দাবি রয়েছে। সামরিক বিপদ কাটিয়ে ওঠার ঘটনাকে আল্লাহর প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

উদ্ধৃত আয়াত: 33:9 [55]

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱذْكُرُوا۟ نِعْمَةَ ٱللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ جَآءَتْكُمْ جُنُودٌۭ فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيحًۭا وَجُنُودًۭا لَّمْ تَرَوْهَا ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرًا ٩

বাংলা অনুবাদ: হে বিশ্বাসীরা, তোমাদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করো, যখন তোমাদের বিরুদ্ধে বাহিনী এসেছিল; তখন আমরা তাদের বিরুদ্ধে বাতাস ও এমন বাহিনী পাঠিয়েছিলাম, যা তোমরা দেখনি। তোমরা যা করছিলে আল্লাহ তা দেখছিলেন।

খন্দকের পর বনু কুরাইযা অভিযান; আনুমানিক ৫ হিজরি / ৬২৭ খ্রি.

আহযাব ৩৩:২৬–২৭ — হত্যা, বন্দিত্ব ও সম্পদ দখল

সময়ের ভিত্তি: ঘটনাসংশ্লিষ্ট সময়; আয়াত দুটি কবে প্রথম আবৃত্তি হয়েছে তার পৃথক দিন পাওয়া যায় না।

ইবনে কাসির এই অংশকে বনু কুরাইযার পরিণতির সঙ্গে যুক্ত করেছেন। মানুষের হত্যা, অন্যদের বন্দী করা এবং তাদের সম্পদ বিজয়ীদের অধিকারে যাওয়াকে একই ধারায় আল্লাহর কাজ ও দান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

উদ্ধৃত আয়াত: 33:26, 33:27 [56]

وَأَنزَلَ ٱلَّذِينَ ظَـٰهَرُوهُم مِّنْ أَهْلِ ٱلْكِتَـٰبِ مِن صَيَاصِيهِمْ وَقَذَفَ فِى قُلُوبِهِمُ ٱلرُّعْبَ فَرِيقًۭا تَقْتُلُونَ وَتَأْسِرُونَ فَرِيقًۭا ٢٦ وَأَوْرَثَكُمْ أَرْضَهُمْ وَدِيَـٰرَهُمْ وَأَمْوَٰلَهُمْ وَأَرْضًۭا لَّمْ تَطَـُٔوهَا ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرًۭا ٢٧

বাংলা অনুবাদ: আর আহলে কিতাবের মধ্যে যারা তাদের সাহায্য করেছিল, তাদের তিনি দুর্গ থেকে নামিয়ে দিলেন এবং তাদের অন্তরে ভীতি নিক্ষেপ করলেন; তোমরা একদলকে হত্যা করছিলে এবং একদলকে বন্দী করছিলে। আর তিনি তোমাদের তাদের ভূমি, ঘরবাড়ি ও সম্পদের এবং এমন ভূমির উত্তরাধিকারী করলেন, যেখানে তোমরা পা রাখনি। আল্লাহ সব বিষয়ে সক্ষম।

জয়নাবের সঙ্গে বিয়ের সময়; আনুমানিক মধ্য মদিনা পর্ব, প্রচলিত হিসাবে ৫ হিজরি / ৬২৭ খ্রি.

আহযাব ৩৩:৩৭ — জায়েদের সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে বিয়ে

সময়ের ভিত্তি: বিয়ের ঘটনা আয়াতে নির্দিষ্ট; সালটি প্রচলিত জীবনীমূলক অনুমান, দিন-তারিখ নয়।

জায়েদের বৈবাহিক সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর জয়নাবের সঙ্গে মুহাম্মদের বিয়েকে আল্লাহর সম্পাদিত কাজ বলা হয়েছে। ব্যক্তিগত বিয়ের সঙ্গে দত্তকপুত্রের সাবেক স্ত্রীকে বিয়ের সামাজিক বিধান সরাসরি সংযুক্ত।

উদ্ধৃত অংশ: 33:37 [57]

فَلَمَّا قَضَىٰ زَيْدٌۭ مِّنْهَا وَطَرًۭا زَوَّجْنَـٰكَهَا لِكَىْ لَا يَكُونَ عَلَى ٱلْمُؤْمِنِينَ حَرَجٌۭ فِىٓ أَزْوَٰجِ أَدْعِيَآئِهِمْ إِذَا قَضَوْا۟ مِنْهُنَّ وَطَرًۭا

বাংলা অনুবাদ: অতঃপর জায়েদ তার সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করলে আমরা তোমার সঙ্গে তার বিয়ে দিলাম, যাতে বিশ্বাসীদের দত্তকপুত্ররা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করার পর সেই স্ত্রীদের বিয়ে করতে কোনো অসুবিধা না থাকে।

জয়নাবের বিয়ের ভোজের পরে; আনুমানিক মধ্য মদিনা পর্ব

আহযাব ৩৩:৫৩ — গৃহে প্রবেশ, পর্দা ও স্ত্রীদের বিশেষ বিধান

সময়ের ভিত্তি: বিয়ের ভোজের সঙ্গে নাজিলের সংযোগ হাদিসে সরাসরি; এই হাদিসে সাল দেওয়া নেই।

আনাসের বর্ণনায় বিয়ের ভোজ শেষে কয়েকজন অতিথি বসে থাকার পর আয়াতটি আসে। মুহাম্মদের গৃহে প্রবেশ ও অতিথিদের অবস্থান, তাঁর স্ত্রীদের সঙ্গে পর্দার আড়াল থেকে কথা বলা এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁদের বিয়ে নিষিদ্ধ করার বিধান একই আয়াতে রয়েছে।

উদ্ধৃত অংশ: 33:53 [58] [59]

وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَـٰعًۭا فَسْـَٔلُوهُنَّ مِن وَرَآءِ حِجَابٍۢ ۚ ذَٰلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ

বাংলা অনুবাদ: আর তোমরা যখন তাদের কাছে কোনো জিনিস চাইবে, তখন পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। তা তোমাদের হৃদয় ও তাদের হৃদয়ের জন্য অধিক পবিত্র।

ইফক ঘটনার পর; আনুমানিক ৫–৬ হিজরি / ৬২৬–৬২৮ খ্রি.; অভিযানের সাল নিয়ে মতভেদ

নূর ২৪:১১–২০ — আয়শার বিরুদ্ধে অভিযোগের জবাব

সময়ের ভিত্তি: ঘটনা ও ১১–২০ আয়াতের পরিচয় বুখারিতে নির্দিষ্ট। সালটি সংশ্লিষ্ট অভিযানের বিতর্কিত কালনির্ধারণের ভিত্তিতে আনুমানিক।

আয়শার বর্ণনায় প্রায় এক মাস অভিযোগ চলার পর তাঁর নির্দোষতা ঘোষণা করে দশ আয়াত আসে। ব্যক্তিগত অভিযোগ ও নবীর পরিবারের সংকট কোরআনিক বিধান ও শাস্তির সতর্কতায় রূপ নেয়।

উদ্ধৃত আয়াত: 24:11 [60] [61]

إِنَّ ٱلَّذِينَ جَآءُو بِٱلْإِفْكِ عُصْبَةٌۭ مِّنكُمْ ۚ لَا تَحْسَبُوهُ شَرًّۭا لَّكُم ۖ بَلْ هُوَ خَيْرٌۭ لَّكُمْ ۚ لِكُلِّ ٱمْرِئٍۢ مِّنْهُم مَّا ٱكْتَسَبَ مِنَ ٱلْإِثْمِ ۚ وَٱلَّذِى تَوَلَّىٰ كِبْرَهُۥ مِنْهُمْ لَهُۥ عَذَابٌ عَظِيمٌۭ ١١

বাংলা অনুবাদ: যারা অপবাদ এনেছে তারা তোমাদেরই একটি দল। তোমরা একে নিজেদের জন্য মন্দ মনে করো না; বরং তা তোমাদের জন্য ভালো। তাদের প্রত্যেকের জন্য রয়েছে সে যে পাপ অর্জন করেছে তা; আর তাদের মধ্যে যে এর প্রধান দায়িত্ব নিয়েছে তার জন্য রয়েছে বড় শাস্তি।

হুদায়বিয়া ও পরবর্তী সময়

হুদায়বিয়া থেকে ফেরার সময়; ৬ হিজরি / আনুমানিক ৬২৮ খ্রি.

ফাতহ ৪৮:১ — চুক্তিকে বিজয় ঘোষণা

সময়ের ভিত্তি: ঘটনা ও যাত্রাপথের রাত বর্ণিত; আলাদা ক্যালেন্ডার-দিন নির্দিষ্ট নয়।

হুদায়বিয়া অধ্যায়ের বর্ণনায় যাত্রাপথের রাতে নতুন সূরা নাজিল হওয়ার কথা বলে মুহাম্মদ এই আয়াত আবৃত্তি করেন। চুক্তির রাজনৈতিক ফলকে ওহির ভাষায় বিজয় হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

উদ্ধৃত আয়াত: 48:1 [62] [63]

إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًۭا مُّبِينًۭا ١

বাংলা অনুবাদ: নিশ্চয়ই আমরা তোমাকে সুস্পষ্ট বিজয় দিয়েছি।

হুদায়বিয়ার শপথের প্রসঙ্গ; আনুমানিক ৬ হিজরি / ৬২৮ খ্রি.

ফাতহ ৪৮:১৮ — গাছের নিচে আনুগত্যের শপথ

সময়ের ভিত্তি: শপথের ঘটনা নির্দিষ্ট; আয়াত নাজিলের পৃথক দিন অজ্ঞাত।

মুহাম্মদের কাছে আনুগত্যের শপথকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আসন্ন বিজয়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক ও সামরিক আনুগত্য ধর্মীয় পুরস্কারের ভিত্তি হয়েছে।

উদ্ধৃত আয়াত: 48:18 [64]

لَّقَدْ رَضِىَ ٱللَّهُ عَنِ ٱلْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ ٱلشَّجَرَةِ فَعَلِمَ مَا فِى قُلُوبِهِمْ فَأَنزَلَ ٱلسَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ وَأَثَـٰبَهُمْ فَتْحًۭا قَرِيبًۭا ١٨

বাংলা অনুবাদ: বিশ্বাসীরা যখন গাছের নিচে তোমার কাছে আনুগত্যের শপথ করছিল, তখন আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। তিনি তাদের অন্তরে যা ছিল তা জানলেন, তাদের ওপর প্রশান্তি নামিয়ে দিলেন এবং তাদের নিকটবর্তী বিজয় দিয়ে পুরস্কৃত করলেন।

হুদায়বিয়ার চুক্তির পর; আনুমানিক ৬ হিজরি / ৬২৮ খ্রি.

মুমতাহিনা ৬০:১০ — আগত নারীদের ফেরত না দেওয়া

সময়ের ভিত্তি: চুক্তির বিবরণের মধ্যেই আগত নারী ও আয়াতটির নাজিলের উল্লেখ রয়েছে।

বিশ্বাসী হিসেবে গৃহীত নারীদের অবিশ্বাসী স্বামীদের কাছে ফেরত না দেওয়ার নির্দেশ এসেছে। বৈবাহিক সম্পর্কের বৈধতা, পূর্বের ব্যয়ের ক্ষতিপূরণ এবং নতুন বিয়ের বিধানও একই আয়াতে রয়েছে। রাজনৈতিক চুক্তির পর আগত নারীদের অবস্থান ওহির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছে।

উদ্ধৃত অংশ: 60:10 [65] [66]

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِذَا جَآءَكُمُ ٱلْمُؤْمِنَـٰتُ مُهَـٰجِرَٰتٍۢ فَٱمْتَحِنُوهُنَّ ۖ ٱللَّهُ أَعْلَمُ بِإِيمَـٰنِهِنَّ ۖ فَإِنْ عَلِمْتُمُوهُنَّ مُؤْمِنَـٰتٍۢ فَلَا تَرْجِعُوهُنَّ إِلَى ٱلْكُفَّارِ

বাংলা অনুবাদ: হে বিশ্বাসীরা, বিশ্বাসী নারীরা হিজরত করে তোমাদের কাছে এলে তাদের পরীক্ষা করো। আল্লাহ তাদের বিশ্বাস সম্পর্কে অধিক জানেন। তোমরা যদি তাদের বিশ্বাসী বলে জানতে পারো, তবে তাদের অবিশ্বাসীদের কাছে ফেরত দিয়ো না।

হুনাইন–আওতাস; ৮ হিজরি / আনুমানিক ৬৩০ খ্রি.

নিসা ৪:২৪-এর প্রথমাংশ — বিবাহিতা বন্দিনীর ওপর যৌন অধিকার

সময়ের ভিত্তি: হুনাইন–আওতাসের ঘটনার সঙ্গে আয়াতের এই অংশের সরাসরি সংযোগ; পুরো নিসা সূরার সময় নয়।

মুসলিমের বর্ণনায় আওতাসে বন্দী নারীদের স্বামী জীবিত থাকায় তাদের সঙ্গে যৌনসম্পর্কে অনুসারীদের দ্বিধার পর এই অংশ নাজিল হয়। অপেক্ষাকাল শেষ হলে তাদের যৌনভাবে বৈধ বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বন্দিত্ব ও মালিকানা বিবাহিতা নারীর আগের বৈবাহিক বাধা সরিয়ে বিজয়ীদের যৌন অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। দাসীর সঙ্গে যৌনসম্পর্কের বিধান এই মালিকানাভিত্তিক কাঠামোর অংশ।

উদ্ধৃত অংশ: 4:24 [67] [68] [69]

وَٱلْمُحْصَنَـٰتُ مِنَ ٱلنِّسَآءِ إِلَّا مَا مَلَكَتْ أَيْمَـٰنُكُمْ

বাংলা অনুবাদ: আর বিবাহিতা নারীরাও নিষিদ্ধ, তোমাদের ডানহাতের অধিকারভুক্তরা ছাড়া।

শেষ মদিনা পর্ব

তাবুক অভিযানের প্রস্তুতি; ৯ হিজরি / আনুমানিক ৬৩০ খ্রি.

তওবা ৯:২৯ — আহলে কিতাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও জিজিয়া

সময়ের ভিত্তি: নবম হিজরি ও অভিযানের সম্পর্ক তাফসিরে স্পষ্ট; নাজিলের নির্দিষ্ট দিন অজ্ঞাত।

ইবনে কাসির এই নির্দেশকে নবম হিজরিতে রোমানদের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তাঁর ব্যাখ্যায় জিজিয়া বলপ্রয়োগ ও বিজয়ের অধীনে দেওয়া হয় এবং “সাগিরুন” অপমানিত ও অধীন অবস্থা বোঝায়। যুদ্ধের লক্ষ্য এখানে কর ও রাজনৈতিক অধীনতা আদায় পর্যন্ত বিস্তৃত।

উদ্ধৃত আয়াত: 9:29 [70]

قَـٰتِلُوا۟ ٱلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَلَا بِٱلْيَوْمِ ٱلْـَٔاخِرِ وَلَا يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ ٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥ وَلَا يَدِينُونَ دِينَ ٱلْحَقِّ مِنَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَـٰبَ حَتَّىٰ يُعْطُوا۟ ٱلْجِزْيَةَ عَن يَدٍۢ وَهُمْ صَـٰغِرُونَ ٢٩

বাংলা অনুবাদ: যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিনে বিশ্বাস করে না, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল যা নিষিদ্ধ করেছেন তা নিষিদ্ধ মনে করে না এবং সত্য ধর্ম অনুসরণ করে না, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, যতক্ষণ না তারা নিজ হাতে জিজিয়া দেয় এবং অধীন হয়ে থাকে।

বারাআত ঘোষণার পর্ব; আনুমানিক ৯ হিজরি / ৬৩০–৬৩১ খ্রি.

তওবা ৯:৫ — হত্যা, অবরোধ ও ধর্মীয় শর্ত

সময়ের ভিত্তি: নবম হিজরির হজে বারাআত প্রচারের বর্ণনা ঘোষণার সময় দেয়; তা ৯:৫-এর নাজিলের সুনির্দিষ্ট দিন নয়।

হত্যা, বন্দী করা, অবরোধ ও ওত পাতার নির্দেশের পর মুক্তির শর্ত হিসেবে তওবা, নামাজ ও জাকাত এসেছে। ইবনে কাসির অবরোধের ব্যাখ্যায় হত্যা বা ইসলাম গ্রহণে বাধ্য হওয়ার কথা লিখেছেন। তিনি দাহহাকের নামে মুশরিকদের সঙ্গে মুহাম্মদের সমস্ত চুক্তির নাসিখ হিসেবে এই আয়াতের পরিচয়ও সংরক্ষণ করেছেন। একই ঘোষণার ধারায় ৯:৪-এ অক্ষত চুক্তি পূরণের বিধান এবং ৯:৬-এ আশ্রয়প্রার্থীর নিরাপত্তার বিধানও রয়েছে।

উদ্ধৃত আয়াত: 9:5 [71] [72]

فَإِذَا ٱنسَلَخَ ٱلْأَشْهُرُ ٱلْحُرُمُ فَٱقْتُلُوا۟ ٱلْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدتُّمُوهُمْ وَخُذُوهُمْ وَٱحْصُرُوهُمْ وَٱقْعُدُوا۟ لَهُمْ كُلَّ مَرْصَدٍۢ ۚ فَإِن تَابُوا۟ وَأَقَامُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتَوُا۟ ٱلزَّكَوٰةَ فَخَلُّوا۟ سَبِيلَهُمْ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ٥

বাংলা অনুবাদ: নিষিদ্ধ মাসগুলো অতিক্রান্ত হলে মুশরিকদের যেখানে পাও হত্যা করো, তাদের ধরো, অবরোধ করো এবং প্রত্যেক ওত পাতার স্থানে তাদের জন্য বসে থাকো। তারা যদি তওবা করে, নামাজ প্রতিষ্ঠা করে ও জাকাত দেয়, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।

বনু তামিমের প্রতিনিধিদলের আগমন; আনুমানিক শেষ মদিনা পর্ব

হুজুরাত ৪৯:২ — নবীর সামনে কণ্ঠস্বর ও আমল নষ্ট হওয়ার ভয়

সময়ের ভিত্তি: প্রতিনিধিদলের ঘটনা নির্দিষ্ট; উদ্ধৃত হাদিসে সাল দেওয়া নেই।

বুখারির বর্ণনায় বনু তামিমের প্রতিনিধিদের বিষয়ে আবু বকর ও উমরের তর্কে কণ্ঠস্বর বেড়ে গেলে আয়াতটি আসে। নেতার সামনে কথা বলার ধরন ধর্মীয় বিধান হয় এবং তা ভাঙার সঙ্গে সমস্ত আমল নষ্ট হওয়ার হুমকি যুক্ত হয়।

উদ্ধৃত আয়াত: 49:2 [73] [74]

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَرْفَعُوٓا۟ أَصْوَٰتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ ٱلنَّبِىِّ وَلَا تَجْهَرُوا۟ لَهُۥ بِٱلْقَوْلِ كَجَهْرِ بَعْضِكُمْ لِبَعْضٍ أَن تَحْبَطَ أَعْمَـٰلُكُمْ وَأَنتُمْ لَا تَشْعُرُونَ ٢

বাংলা অনুবাদ: হে বিশ্বাসীরা, তোমাদের কণ্ঠস্বর নবীর কণ্ঠস্বরের ওপর উঁচু করো না এবং তোমরা পরস্পরের সঙ্গে যেমন উচ্চস্বরে কথা বলো তাঁর সঙ্গে তেমন উচ্চস্বরে কথা বলো না; পাছে তোমাদের কাজ নিষ্ফল হয়ে যায়, অথচ তোমরা টেরও পাও না।

নির্দিষ্ট সাল অনির্ধারিত: আয়াতভিত্তিক বিধান

আনুমানিক মদিনা পর্ব (৬২২–৬৩২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

বাকারা ২:১৮৩ — রোজার বাধ্যবাধকতা

সময়ের ভিত্তি: মদিনী সূরার বিধান; রোজা প্রবর্তনের সাল এবং এই নির্দিষ্ট আয়াতের নাজিল-দিন পৃথক তথ্য।

রোজাকে বিশ্বাসীদের ওপর বাধ্যতামূলক বিধান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। রমজানের পরিচয় ও বিধানের বিস্তারিত ২:১৮৫-এ রয়েছে; ২:১৮৩-এর স্বতন্ত্র নাজিলের দিন এই পাঠে দেওয়া নেই।

উদ্ধৃত আয়াত: 2:183 [75]

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ كُتِبَ عَلَيْكُمُ ٱلصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ١٨٣

বাংলা অনুবাদ: হে বিশ্বাসীরা, তোমাদের ওপর রোজা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের আগে যারা ছিল তাদের ওপর বিধিবদ্ধ হয়েছিল, যাতে তোমরা সংযমী হও।

আনুমানিক মদিনা পর্ব (৬২২–৬৩২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

বাকারা ২:১৯০–১৯১ — যুদ্ধ, হত্যা ও পবিত্র স্থানের শর্ত

সময়ের ভিত্তি: এই আয়াতগুলোর নাজিলের প্রেক্ষাপট নিয়ে তাফসিরে একাধিক বর্ণনা রয়েছে; নির্দিষ্ট বছর অনির্ধারিত।

যুদ্ধের নির্দেশের সঙ্গে প্রতিপক্ষের যুদ্ধ, সীমালঙ্ঘন এবং মসজিদুল হারামের শর্ত আছে। পরের আয়াতেই হত্যা ও বহিষ্কারের আদেশ এসেছে। সশস্ত্র সংঘাতের অনুমোদন ও তার নির্দিষ্ট শর্ত একই ধারায় উপস্থিত।

উদ্ধৃত আয়াত: 2:190, 2:191 [76]

وَقَـٰتِلُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ٱلَّذِينَ يُقَـٰتِلُونَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوٓا۟ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ ٱلْمُعْتَدِينَ ١٩٠ وَٱقْتُلُوهُمْ حَيْثُ ثَقِفْتُمُوهُمْ وَأَخْرِجُوهُم مِّنْ حَيْثُ أَخْرَجُوكُمْ ۚ وَٱلْفِتْنَةُ أَشَدُّ مِنَ ٱلْقَتْلِ ۚ وَلَا تُقَـٰتِلُوهُمْ عِندَ ٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ حَتَّىٰ يُقَـٰتِلُوكُمْ فِيهِ ۖ فَإِن قَـٰتَلُوكُمْ فَٱقْتُلُوهُمْ ۗ كَذَٰلِكَ جَزَآءُ ٱلْكَـٰفِرِينَ ١٩١

বাংলা অনুবাদ: আল্লাহর পথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে; সীমা লঙ্ঘন করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসেন না। আর তাদের যেখানে পাও হত্যা করো এবং তারা তোমাদের যেখান থেকে বের করেছে, সেখান থেকে তাদের বের করো। ফিতনা হত্যার চেয়ে গুরুতর। মসজিদুল হারামের কাছে তারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করা পর্যন্ত তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো না; তারা যদি তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তবে তাদের হত্যা করো। অবিশ্বাসীদের প্রতিদান এমনই।

আনুমানিক মদিনা পর্ব (৬২২–৬৩২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

বাকারা ২:১৯৩ — যুদ্ধের ধর্মীয় লক্ষ্য

সময়ের ভিত্তি: মদিনা পর্ব; এই আয়াতের স্বতন্ত্র নাজিল-সাল নির্দিষ্ট নয়।

যুদ্ধ অব্যাহত রাখার লক্ষ্য হিসেবে ফিতনার অবসান ও ধর্ম আল্লাহর জন্য হওয়ার কথা রয়েছে। ইবনে কাসিরের ব্যাখ্যায় এখানে ফিতনা শিরক এবং ধর্ম আল্লাহর জন্য হওয়ার অর্থ আল্লাহর ধর্মের অন্য সব ধর্মের ওপর প্রাধান্য।

উদ্ধৃত আয়াত: 2:193 [77]

وَقَـٰتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌۭ وَيَكُونَ ٱلدِّينُ لِلَّهِ ۖ فَإِنِ ٱنتَهَوْا۟ فَلَا عُدْوَٰنَ إِلَّا عَلَى ٱلظَّـٰلِمِينَ ١٩٣

বাংলা অনুবাদ: তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না ফিতনা থাকে এবং ধর্ম আল্লাহর জন্য হয়। তারা যদি বিরত হয়, তবে অন্যায়কারীদের ছাড়া আর কারও বিরুদ্ধে আক্রমণ নেই।

আনুমানিক মদিনা পর্ব (৬২২–৬৩২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

আনফাল ৮:৩৯ — সমস্ত ধর্ম আল্লাহর জন্য না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ

সময়ের ভিত্তি: সূরা বদরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত; ৩৯ নম্বর আয়াতের স্বতন্ত্র দিন ও সাল অজ্ঞাত।

ইবনে কাসির ফিতনাকে শিরক হিসেবে ব্যাখ্যা করা বর্ণনা সংরক্ষণ করেছেন এবং সমস্ত ধর্ম আল্লাহর জন্য হওয়ার ব্যাখ্যায় একেশ্বরবাদ ও অন্য উপাস্য ত্যাগের কথা এনেছেন। এই ব্যাখ্যায় সামরিক সংঘাতের লক্ষ্য ধর্মীয় একচ্ছত্রতা পর্যন্ত বিস্তৃত।

উদ্ধৃত আয়াত: 8:39 [78]

وَقَـٰتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌۭ وَيَكُونَ ٱلدِّينُ كُلُّهُۥ لِلَّهِ ۚ فَإِنِ ٱنتَهَوْا۟ فَإِنَّ ٱللَّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ بَصِيرٌۭ ٣٩

বাংলা অনুবাদ: তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না ফিতনা থাকে এবং সমস্ত ধর্ম আল্লাহর জন্য হয়। তারা যদি বিরত হয়, তবে তারা যা করে আল্লাহ তা দেখেন।

আনুমানিক মদিনা পর্ব (৬২২–৬৩২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

আনফাল ৮:৬০ — সামরিক প্রস্তুতি ও শত্রুকে সন্ত্রস্ত করা

সময়ের ভিত্তি: মদিনী সূরার সামরিক বিধান; এই আয়াতের নির্দিষ্ট নাজিল-সাল অজ্ঞাত।

সামরিক শক্তি প্রস্তুতের ঘোষিত উদ্দেশ্যের মধ্যে শত্রুকে ভীত করা রয়েছে। সামরিক ব্যয়ও আল্লাহর পথে ব্যয় হিসেবে প্রতিদানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

উদ্ধৃত আয়াত: 8:60 [79]

وَأَعِدُّوا۟ لَهُم مَّا ٱسْتَطَعْتُم مِّن قُوَّةٍۢ وَمِن رِّبَاطِ ٱلْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِۦ عَدُوَّ ٱللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ وَءَاخَرِينَ مِن دُونِهِمْ لَا تَعْلَمُونَهُمُ ٱللَّهُ يَعْلَمُهُمْ ۚ وَمَا تُنفِقُوا۟ مِن شَىْءٍۢ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنتُمْ لَا تُظْلَمُونَ ٦٠

বাংলা অনুবাদ: তাদের বিরুদ্ধে যতটা সম্ভব শক্তি ও প্রস্তুত অশ্ববাহিনী তৈরি করো, যার মাধ্যমে তোমরা আল্লাহর শত্রু, তোমাদের শত্রু এবং তাদের ছাড়া অন্যদের সন্ত্রস্ত করবে—যাদের তোমরা জানো না, আল্লাহ জানেন। আল্লাহর পথে যা ব্যয় করবে তার পূর্ণ প্রতিদান তোমাদের দেওয়া হবে এবং তোমাদের ওপর অন্যায় হবে না।

আনুমানিক মদিনা পর্ব (৬২২–৬৩২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

মুহাম্মদ ৪৭:৪ — ঘাড়ে আঘাত, বন্দিত্ব ও মুক্তিপণ

সময়ের ভিত্তি: মদিনী পর্ব; এই আয়াতের নির্দিষ্ট নাজিল-সাল অজ্ঞাত।

সম্মুখযুদ্ধে হত্যা, শত্রুকে পরাভূত করার পর বন্দী করা এবং পরে অনুগ্রহ বা মুক্তিপণে মুক্তির ধারাবাহিক বিধান রয়েছে। যুদ্ধ, বন্দিত্ব ও মুক্তিপণ ওহির ভাষায় বৈধতা পেয়েছে।

উদ্ধৃত অংশ: 47:4 [80]

فَإِذَا لَقِيتُمُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ فَضَرْبَ ٱلرِّقَابِ حَتَّىٰٓ إِذَآ أَثْخَنتُمُوهُمْ فَشُدُّوا۟ ٱلْوَثَاقَ فَإِمَّا مَنًّۢا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَآءً حَتَّىٰ تَضَعَ ٱلْحَرْبُ أَوْزَارَهَا

বাংলা অনুবাদ: যখন অবিশ্বাসীদের মুখোমুখি হবে, তখন ঘাড়ে আঘাত করো; তাদের সম্পূর্ণ পরাভূত করলে শক্ত করে বাঁধো। এরপর হয় অনুগ্রহ করে ছেড়ে দাও, নয় মুক্তিপণ নিয়ে, যতক্ষণ না যুদ্ধ তার বোঝা নামিয়ে রাখে।

আনুমানিক মদিনা পর্ব (৬২২–৬৩২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

জুমুআ ৬২:৯ — সমাবেশের জন্য বেচাকেনা ত্যাগ

সময়ের ভিত্তি: মদিনী সূরার অংশ; নির্দিষ্ট নাজিল-সাল অজ্ঞাত।

সাপ্তাহিক ধর্মীয় সমাবেশের জন্য অর্থনৈতিক কাজ স্থগিত করার নির্দেশ রয়েছে। নামাজ শেষে জীবিকা অনুসন্ধানের অনুমতি পরের আয়াতে এসেছে। ধর্মীয় সমাবেশ সময় ও বাজারের ওপর বিধান আরোপ করেছে।

উদ্ধৃত আয়াত: 62:9 [81]

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِذَا نُودِىَ لِلصَّلَوٰةِ مِن يَوْمِ ٱلْجُمُعَةِ فَٱسْعَوْا۟ إِلَىٰ ذِكْرِ ٱللَّهِ وَذَرُوا۟ ٱلْبَيْعَ ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌۭ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ ٩

বাংলা অনুবাদ: হে বিশ্বাসীরা, জুমার দিনে নামাজের ডাক দেওয়া হলে আল্লাহর স্মরণের দিকে এগিয়ে যাও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও। তোমরা জানলে এটিই তোমাদের জন্য ভালো।

আনুমানিক মদিনা পর্ব (৬২২–৬৩২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

জুমুআ ৬২:১১ — বাণিজ্যের জন্য বক্তৃতা ছেড়ে চলে যাওয়া

সময়ের ভিত্তি: ঘটনার ধরন আয়াতে নির্দিষ্ট; খ্রিস্টীয় সাল অজ্ঞাত।

মুহাম্মদকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে বাণিজ্যের দিকে চলে যাওয়ার আচরণ তিরস্কৃত হয়েছে। অর্থনৈতিক আকর্ষণের ওপরে ধর্মীয় সমাবেশে উপস্থিতির মূল্য স্থাপন করা হয়েছে।

উদ্ধৃত আয়াত: 62:11 [82]

وَإِذَا رَأَوْا۟ تِجَـٰرَةً أَوْ لَهْوًا ٱنفَضُّوٓا۟ إِلَيْهَا وَتَرَكُوكَ قَآئِمًۭا ۚ قُلْ مَا عِندَ ٱللَّهِ خَيْرٌۭ مِّنَ ٱللَّهْوِ وَمِنَ ٱلتِّجَـٰرَةِ ۚ وَٱللَّهُ خَيْرُ ٱلرَّٰزِقِينَ ١١

বাংলা অনুবাদ: তারা যখন ব্যবসা বা বিনোদন দেখে, তখন সেদিকে ছুটে যায় এবং তোমাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে যায়। বলো, আল্লাহর কাছে যা আছে তা বিনোদন ও ব্যবসার চেয়ে ভালো। আর আল্লাহ সর্বোত্তম জীবিকাদাতা।

আনুমানিক মদিনা পর্ব (৬২২–৬৩২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

নূর ২৪:৪ — অভিযোগে চার সাক্ষী ও আশি বেত্রাঘাত

সময়ের ভিত্তি: মদিনী বিধান; নির্দিষ্ট সাল ও দিন অজ্ঞাত।

যৌন অভিযোগ প্রতিষ্ঠায় চার সাক্ষীর শর্ত এবং ব্যর্থ অভিযোগকারীর জন্য আশি বেত্রাঘাত ও সাক্ষ্য অগ্রহণযোগ্য হওয়ার বিধান রয়েছে। এই বিধান যৌন অভিযোগের শাস্তি ও সাক্ষ্যগ্রহণের নিয়ম নির্ধারণ করে।

উদ্ধৃত আয়াত: 24:4 [83]

وَٱلَّذِينَ يَرْمُونَ ٱلْمُحْصَنَـٰتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا۟ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَآءَ فَٱجْلِدُوهُمْ ثَمَـٰنِينَ جَلْدَةًۭ وَلَا تَقْبَلُوا۟ لَهُمْ شَهَـٰدَةً أَبَدًۭا ۚ وَأُو۟لَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلْفَـٰسِقُونَ ٤

বাংলা অনুবাদ: যারা সতী নারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, তারপর চারজন সাক্ষী আনে না, তাদের আশি বেত্রাঘাত করো এবং কখনো তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করো না; তারাই অবাধ্য।

আনুমানিক মদিনা পর্ব (৬২২–৬৩২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

নূর ২৪:৩১ — নারীর দৃষ্টি, শরীর ও পোশাক নিয়ন্ত্রণ

সময়ের ভিত্তি: মদিনী সূরার বিধান; ইফক ঘটনার তারিখ দিয়ে এই আয়াতের দিন নির্ধারিত হয় না।

দৃষ্টি, যৌনাঙ্গ, সৌন্দর্য প্রকাশ ও বুকের ওপর ওড়না টানার নির্দেশ রয়েছে। আয়াতের পরবর্তী অংশে কার সামনে সৌন্দর্য প্রকাশ করা যাবে তার তালিকা দেওয়া হয়েছে। নারীর পোশাক ও সামাজিক উপস্থিতি বিস্তারিত ধর্মীয় নিয়ন্ত্রণের অধীন হয়েছে।

উদ্ধৃত অংশ: 24:31 [84]

وَقُل لِّلْمُؤْمِنَـٰتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَـٰرِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا ۖ وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّ

বাংলা অনুবাদ: বিশ্বাসী নারীদের বলো, তারা যেন দৃষ্টি সংযত করে, যৌনাঙ্গ রক্ষা করে এবং যা প্রকাশিত হয় তা ছাড়া নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে; আর তারা যেন নিজেদের ওড়না বুকের ওপর টেনে দেয়।

আনুমানিক মদিনা পর্ব (৬২২–৬৩২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

নিসা ৪:৩৪ — পুরুষের কর্তৃত্ব ও স্ত্রীকে প্রহারের নির্দেশ

সময়ের ভিত্তি: মদিনী সূরার অংশ; এই আয়াতের নাজিলের নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত।

পুরুষের কর্তৃত্বের ঘোষণার পর স্ত্রীর নুশুজের আশঙ্কায় উপদেশ, শয্যায় বিচ্ছেদ এবং প্রহারের নির্দেশ রয়েছে। আনুগত্যকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার শর্ত করা হয়েছে।

উদ্ধৃত অংশ: 4:34 [85]

وَٱلَّـٰتِى تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَٱهْجُرُوهُنَّ فِى ٱلْمَضَاجِعِ وَٱضْرِبُوهُنَّ ۖ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوا۟ عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا

বাংলা অনুবাদ: আর যাদের অবাধ্যতার আশঙ্কা করো, তাদের উপদেশ দাও, শয্যায় তাদের পরিত্যাগ করো এবং তাদের প্রহার করো। তারা যদি তোমাদের আনুগত্য করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আর পথ খুঁজো না।

আনুমানিক মদিনা পর্ব (৬২২–৬৩২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

আহযাব ৩৩:৫০ — মুহাম্মদের বিশেষ বৈবাহিক অধিকার

সময়ের ভিত্তি: মদিনী সূরার অংশ; ৩৭ বা ৫৩ নম্বর আয়াতের ঘটনা থেকে এই আয়াতের সাল নির্দিষ্ট হয় না।

স্ত্রী, অধিকারে আসা দাসী এবং নিজেকে নবীর কাছে সমর্পণকারী বিশ্বাসী নারী সম্পর্কে বিধান রয়েছে। নিজেকে সমর্পণকারী নারীকে বিয়ের সুবিধাকে অন্য বিশ্বাসীদের বাদ দিয়ে মুহাম্মদের জন্য বিশেষ বলা হয়েছে। ব্যক্তিগত যৌন ও বৈবাহিক সুবিধা আলাদা ঐশী বিধান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

উদ্ধৃত অংশ: 33:50 [86]

خَالِصَةًۭ لَّكَ مِن دُونِ ٱلْمُؤْمِنِينَ

বাংলা অনুবাদ: এটি অন্য বিশ্বাসীদের বাদ দিয়ে বিশেষভাবে তোমার জন্য।

আনুমানিক মদিনা পর্ব (৬২২–৬৩২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

মায়েদা ৫:৩৩ — হত্যা, ক্রুশবিদ্ধকরণ ও অঙ্গচ্ছেদ

সময়ের ভিত্তি: নাজিলের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে একাধিক বর্ণনা আছে; নির্দিষ্ট সাল অনির্ধারিত।

হত্যা, ক্রুশবিদ্ধকরণ, বিপরীত দিকের হাত-পা কেটে দেওয়া ও নির্বাসনের বিধান আছে। ইবনে কাসির উকল–উরাইনার ঘটনায় অঙ্গচ্ছেদ ও চোখে উত্তপ্ত লোহা প্রয়োগের বর্ণনা সংরক্ষণ করেছেন এবং আয়াতের নাজিলের সঙ্গে ঘটনাটিকে যুক্ত করা সূত্রও দিয়েছেন।

উদ্ধৃত আয়াত: 5:33 [87]

إِنَّمَا جَزَٰٓؤُا۟ ٱلَّذِينَ يُحَارِبُونَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَيَسْعَوْنَ فِى ٱلْأَرْضِ فَسَادًا أَن يُقَتَّلُوٓا۟ أَوْ يُصَلَّبُوٓا۟ أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُم مِّنْ خِلَـٰفٍ أَوْ يُنفَوْا۟ مِنَ ٱلْأَرْضِ ۚ ذَٰلِكَ لَهُمْ خِزْىٌۭ فِى ٱلدُّنْيَا ۖ وَلَهُمْ فِى ٱلْـَٔاخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ ٣٣

বাংলা অনুবাদ: যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টির চেষ্টা করে, তাদের শাস্তি এই যে, তাদের হত্যা করা হবে, অথবা ক্রুশবিদ্ধ করা হবে, অথবা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত-পা কেটে দেওয়া হবে, অথবা দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে। এটি পৃথিবীতে তাদের লাঞ্ছনা; আর পরকালে তাদের জন্য রয়েছে বড় শাস্তি।

আনুমানিক মদিনা পর্ব (৬২২–৬৩২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

মায়েদা ৫:৯০ — মদ, জুয়া ও আচার নিষিদ্ধকরণ

সময়ের ভিত্তি: মদিনী বিধান; মায়েদা ৫:৩-এর বিদায় হজের সময় এই আয়াতের ওপর প্রযোজ্য নয়।

মদ ও জুয়ার সঙ্গে পূজার বেদি এবং ভাগ্যনির্ণয়ের তিরকে একত্রে নিষিদ্ধ আচারের তালিকায় রাখা হয়েছে। এগুলোকে শয়তানের কাজ বলে চিহ্নিত করে পরিহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উদ্ধৃত আয়াত: 5:90 [88]

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِنَّمَا ٱلْخَمْرُ وَٱلْمَيْسِرُ وَٱلْأَنصَابُ وَٱلْأَزْلَـٰمُ رِجْسٌۭ مِّنْ عَمَلِ ٱلشَّيْطَـٰنِ فَٱجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ٩٠

বাংলা অনুবাদ: হে বিশ্বাসীরা, মদ, জুয়া, পূজার বেদি ও ভাগ্যনির্ণয়ের তির শয়তানের কাজের অপবিত্রতা; সুতরাং এগুলো পরিহার করো, যাতে সফল হও।

আনুমানিক মদিনা পর্ব (৬২২–৬৩২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

তাহরীম ৬৬:১ — স্ত্রীদের অসন্তোষ ও নিজের জন্য নিষেধ

সময়ের ভিত্তি: মদিনা পর্ব; উদ্ধৃত বর্ণনাগুলো নাজিলের নির্দিষ্ট সাল দেয় না।

স্ত্রীদের সন্তুষ্টির জন্য নিজের ওপর নিষেধ আরোপের জবাবে ওহি এসেছে। নাসাঈতে এক দাসীর সঙ্গে মুহাম্মদের যৌনসম্পর্ক এবং আয়শা–হাফসার আপত্তির বর্ণনা রয়েছে; বুখারিতে মধুপান ও শপথের বর্ণনা রয়েছে। নাসাঈর ওই সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় দাসীর নাম বা হাফসার ঘরের উল্লেখ নেই।

উদ্ধৃত আয়াত: 66:1 [89] [90] [91]

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِىُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَآ أَحَلَّ ٱللَّهُ لَكَ ۖ تَبْتَغِى مَرْضَاتَ أَزْوَٰجِكَ ۚ وَٱللَّهُ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ١

বাংলা অনুবাদ: হে নবী, তুমি কেন তোমার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি চাইতে গিয়ে আল্লাহ তোমার জন্য যা বৈধ করেছেন তা নিষিদ্ধ করছ? আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।

আনুমানিক মদিনা পর্ব (৬২২–৬৩২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

তাহরীম ৬৬:৫ — স্ত্রীদের বদলে অন্য স্ত্রী পাওয়ার হুমকি

সময়ের ভিত্তি: তাহরীমের পারিবারিক বিরোধের ধারাবাহিক অংশ; পৃথক নাজিল-সাল নেই।

মুহাম্মদের স্ত্রীদের বিরুদ্ধে তালাক ও তাঁদের চেয়ে উত্তম স্ত্রী দিয়ে প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। গৃহের সংঘাতে স্ত্রীর আনুগত্য ও স্বামীর বিশেষ অবস্থান ঐশী হুমকির মাধ্যমে জোরদার হয়েছে।

উদ্ধৃত আয়াত: 66:5 [92]

عَسَىٰ رَبُّهُۥٓ إِن طَلَّقَكُنَّ أَن يُبْدِلَهُۥٓ أَزْوَٰجًا خَيْرًۭا مِّنكُنَّ مُسْلِمَـٰتٍۢ مُّؤْمِنَـٰتٍۢ قَـٰنِتَـٰتٍۢ تَـٰٓئِبَـٰتٍ عَـٰبِدَٰتٍۢ سَـٰٓئِحَـٰتٍۢ ثَيِّبَـٰتٍۢ وَأَبْكَارًۭا ٥

বাংলা অনুবাদ: তিনি তোমাদের তালাক দিলে তাঁর প্রভু তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের চেয়ে উত্তম স্ত্রী দিতে পারেন—মুসলিম, বিশ্বাসী, অনুগত, তওবাকারী, উপাসনাকারী, রোজাদার, পূর্ববিবাহিতা ও কুমারী।

আনুমানিক মদিনা পর্ব (৬২২–৬৩২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

আলে ইমরান ৩:৫৯ — ইসার জন্ম ও খ্রিস্টীয় ঈশ্বরপুত্র ধারণার জবাব

সময়ের ভিত্তি: মদিনী সূরার ধর্মতাত্ত্বিক অংশ; নির্দিষ্ট আয়াতটির নাজিল-সাল অজ্ঞাত।

পিতাবিহীন জন্মের যুক্তিতে ইসাকে আদমের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। ইবনে কাসির স্পষ্টভাবে বলেন, পিতা ছাড়া জন্মের কারণে ইসার পুত্রত্ব দাবি বৈধ হলে আদমের ক্ষেত্রে সেই দাবি আরও বেশি প্রযোজ্য হতো; তিনি উভয় দাবিই বাতিল করেন। খ্রিস্টীয় ধর্মতত্ত্বের বিরুদ্ধে কোরআনিক যুক্তি এখানে পৃথকভাবে উপস্থিত; উহুদ-সংক্রান্ত আয়াতের সময় দিয়ে এই অংশের নাজিলের দিন প্রতিষ্ঠিত হয় না।

উদ্ধৃত আয়াত: 3:59 [93]

إِنَّ مَثَلَ عِيسَىٰ عِندَ ٱللَّهِ كَمَثَلِ ءَادَمَ ۖ خَلَقَهُۥ مِن تُرَابٍۢ ثُمَّ قَالَ لَهُۥ كُن فَيَكُونُ ٥٩

বাংলা অনুবাদ: আল্লাহর কাছে ইসার দৃষ্টান্ত আদমের মতো; তিনি তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর বলেছেন, “হও”, আর সে হয়ে যায়।

আনুমানিক মদিনা পর্ব (৬২২–৬৩২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

হুজুরাত ৪৯:৬ — সংবাদ যাচাই ও অজ্ঞতাবশত আক্রমণের আশঙ্কা

সময়ের ভিত্তি: মদিনী সূরার অংশ; ৪৯:২-এর প্রতিনিধিদলের ঘটনার তারিখ এই আয়াতের পৃথক সময় নির্ধারণ করে না।

সংবাদদাতার পরিচয় যাচাই ও সংবাদ অনুসন্ধানের নির্দেশের সঙ্গে অন্য জনগোষ্ঠীর ক্ষতি করার বাস্তব আশঙ্কা যুক্ত আছে। গুজব প্রতিরোধের বিধান এখানে সামাজিক শিষ্টাচারের চেয়ে বিস্তৃত: ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সমষ্টিগত ক্ষতি ও সংঘাত প্রতিরোধও এর ঘোষিত উদ্দেশ্য।

উদ্ধৃত আয়াত: 49:6 [94]

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِن جَآءَكُمْ فَاسِقٌۢ بِنَبَإٍۢ فَتَبَيَّنُوٓا۟ أَن تُصِيبُوا۟ قَوْمًۢا بِجَهَـٰلَةٍۢ فَتُصْبِحُوا۟ عَلَىٰ مَا فَعَلْتُمْ نَـٰدِمِينَ ٦

বাংলা অনুবাদ: হে বিশ্বাসীরা, কোনো অবাধ্য ব্যক্তি সংবাদ নিয়ে এলে তা যাচাই করো, যাতে অজ্ঞতাবশত কোনো জনগোষ্ঠীর ক্ষতি করে পরে নিজেদের কাজের জন্য অনুতপ্ত না হও।

আনুমানিক মদিনা পর্ব (৬২২–৬৩২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

মায়েদা ৫:১ — চুক্তি, খাদ্য ও ইহরামে শিকার

সময়ের ভিত্তি: মদিনী বিধান; এই আয়াতের নির্দিষ্ট নাজিল-সাল অজ্ঞাত।

চুক্তি পালন, খাদ্য হিসেবে পশুর অনুমোদন এবং ইহরামের অবস্থায় শিকারের নিষেধ একই আয়াতে এসেছে। খাদ্যাভ্যাস ও আচারগত অবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণকে আল্লাহর ইচ্ছামতো বিধান করার অধিকারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

উদ্ধৃত আয়াত: 5:1 [95]

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَوْفُوا۟ بِٱلْعُقُودِ ۚ أُحِلَّتْ لَكُم بَهِيمَةُ ٱلْأَنْعَـٰمِ إِلَّا مَا يُتْلَىٰ عَلَيْكُمْ غَيْرَ مُحِلِّى ٱلصَّيْدِ وَأَنتُمْ حُرُمٌ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ يَحْكُمُ مَا يُرِيدُ ١

বাংলা অনুবাদ: হে বিশ্বাসীরা, চুক্তিগুলো পূর্ণ করো। তোমাদের জন্য চতুষ্পদ গবাদিপশু বৈধ করা হয়েছে, যা তোমাদের কাছে আবৃত্তি করা হচ্ছে তা ছাড়া; আর ইহরামে থাকা অবস্থায় শিকারকে বৈধ মনে করো না। আল্লাহ যা চান তা বিধান করেন।

আনুমানিক মদিনা পর্ব (৬২২–৬৩২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

মায়েদা ৫:৩৮ — চুরির শাস্তিতে হাত কেটে দেওয়া

সময়ের ভিত্তি: মদিনী সূরার দণ্ডবিধান; মায়েদা ৫:৩-এর বিদায় হজের দিন এই আয়াতের তারিখ নয়।

চুরির প্রতিদান হিসেবে অঙ্গচ্ছেদের আদেশ এসেছে। আয়াতের “নাকাল” শাস্তির দৃষ্টান্তমূলক ও নিবর্তনমূলক ভূমিকা প্রকাশ করে। অপরাধ দমনের জন্য শরীরের স্থায়ী ক্ষতিকে আল্লাহর শাস্তি হিসেবে অনুমোদন করা হয়েছে।

উদ্ধৃত আয়াত: 5:38 [96]

وَٱلسَّارِقُ وَٱلسَّارِقَةُ فَٱقْطَعُوٓا۟ أَيْدِيَهُمَا جَزَآءًۢ بِمَا كَسَبَا نَكَـٰلًۭا مِّنَ ٱللَّهِ ۗ وَٱللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌۭ ٣٨

বাংলা অনুবাদ: চোর পুরুষ ও চোর নারীর হাত কেটে দাও, তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান ও আল্লাহর পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে। আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

আনুমানিক মদিনা পর্ব (৬২২–৬৩২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

নিসা ৪:২ — এতিমের সম্পত্তি আত্মসাৎ নিষিদ্ধ

সময়ের ভিত্তি: মদিনী সূরার অংশ; এতিমের সম্পদসংক্রান্ত এই নির্দেশের নির্দিষ্ট নাজিল-সাল অজ্ঞাত।

অভিভাবকের হাতে থাকা এতিমের সম্পত্তি ফেরত দেওয়া, মান বদলে সম্পদ নেওয়া এবং নিজের সম্পদের সঙ্গে মিশিয়ে আত্মসাৎ করা নিষিদ্ধ হয়েছে। সম্পত্তির ওপর অভিভাবকের ক্ষমতার সীমা এই বিধানে নির্ধারিত।

উদ্ধৃত আয়াত: 4:2 [97]

وَءَاتُوا۟ ٱلْيَتَـٰمَىٰٓ أَمْوَٰلَهُمْ ۖ وَلَا تَتَبَدَّلُوا۟ ٱلْخَبِيثَ بِٱلطَّيِّبِ ۖ وَلَا تَأْكُلُوٓا۟ أَمْوَٰلَهُمْ إِلَىٰٓ أَمْوَٰلِكُمْ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ حُوبًۭا كَبِيرًۭا ٢

বাংলা অনুবাদ: এতিমদের তাদের সম্পদ দাও; ভালো জিনিসের বদলে মন্দ জিনিস নিয়ো না এবং নিজেদের সম্পদের সঙ্গে তাদের সম্পদ খেয়ো না। নিশ্চয়ই এটি বড় পাপ।

আনুমানিক মদিনা পর্ব (৬২২–৬৩২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

বাকারা ২:১৯৬ — হজ, উমরা, বাধাপ্রাপ্তি ও ক্ষতিপূরণ

সময়ের ভিত্তি: বিভিন্ন বিধান ও সংশ্লিষ্ট ঘটনার আলোচনা আছে; এই সম্পূর্ণ আয়াতের একক নাজিল-দিন এখানে অনির্ধারিত।

হজ ও উমরার আচার, বাধাপ্রাপ্ত হলে পশু উৎসর্গ, মাথা মুণ্ডন এবং অসুস্থতার কারণে বিকল্প রোজা–দান–কোরবানির বিধান রয়েছে। পরের অংশে হজ ও উমরা মিলিয়ে করার ক্ষেত্রে পশু না পেলে দশ দিনের রোজার ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে। একটি দীর্ঘ আয়াতের মধ্যেই যাত্রা, দেহের আচরণ ও অর্থনৈতিক সামর্থ্য ধর্মীয় বিধানে যুক্ত হয়েছে।

উদ্ধৃত অংশ: 2:196 [98]

وَأَتِمُّوا۟ ٱلْحَجَّ وَٱلْعُمْرَةَ لِلَّهِ ۚ فَإِنْ أُحْصِرْتُمْ فَمَا ٱسْتَيْسَرَ مِنَ ٱلْهَدْىِ ۖ وَلَا تَحْلِقُوا۟ رُءُوسَكُمْ حَتَّىٰ يَبْلُغَ ٱلْهَدْىُ مَحِلَّهُۥ

বাংলা অনুবাদ: আল্লাহর জন্য হজ ও উমরা পূর্ণ করো। তোমরা বাধাপ্রাপ্ত হলে সহজলভ্য কোরবানির পশু দাও। কোরবানির পশু তার নির্ধারিত স্থানে না পৌঁছানো পর্যন্ত মাথা মুণ্ডন করো না।

আনুমানিক মদিনা পর্ব (৬২২–৬৩২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

বাকারা ২:১২০ — ইহুদি–খ্রিস্টানদের সঙ্গে ধর্মীয় বিরোধ

সময়ের ভিত্তি: মদিনী সূরার অংশ; এই বক্তব্যের নির্দিষ্ট নাজিল-সাল অজ্ঞাত।

ইহুদি ও খ্রিস্টানদের অসন্তোষকে তাদের নিজ ধর্ম অনুসরণের শর্তের সঙ্গে সাধারণীকরণ করে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর জবাবে আল্লাহর পথনির্দেশকে একমাত্র পথনির্দেশ বলে ঘোষণা এবং পরের অংশে তাদের আকাঙ্ক্ষা অনুসরণের বিরুদ্ধে সতর্কতা রয়েছে। ধর্মীয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে বিরোধকে ঐশী কর্তৃত্বের দ্বন্দ্ব হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছে।

উদ্ধৃত অংশ: 2:120 [99]

وَلَن تَرْضَىٰ عَنكَ ٱلْيَهُودُ وَلَا ٱلنَّصَـٰرَىٰ حَتَّىٰ تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ ۗ قُلْ إِنَّ هُدَى ٱللَّهِ هُوَ ٱلْهُدَىٰ

বাংলা অনুবাদ: ইহুদি ও খ্রিস্টানরা তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না তুমি তাদের ধর্ম অনুসরণ করো। বলো, আল্লাহর পথনির্দেশই পথনির্দেশ।

আনুমানিক মদিনা পর্ব (৬২২–৬৩২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

নিসা ৪:২০–২১ — স্ত্রী পরিবর্তন ও দেওয়া সম্পদ ফেরত নেওয়া

সময়ের ভিত্তি: মদিনী সূরার বিধান; নাজিলের নির্দিষ্ট দিন ও সাল অজ্ঞাত।

এক স্ত্রীকে ছেড়ে অন্য স্ত্রী গ্রহণের সিদ্ধান্তের সঙ্গে আগের স্ত্রীকে দেওয়া সম্পদের অধিকার যুক্ত হয়েছে। বড় অঙ্কের সম্পদ দেওয়া হলেও তা ফিরিয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ; পরের আয়াতে দাম্পত্য সম্পর্ক ও দৃঢ় অঙ্গীকারের উল্লেখ আছে। বিচ্ছেদের অর্থনৈতিক ফলকে আলাদা বিধানে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

উদ্ধৃত আয়াত: 4:20 [100]

وَإِنْ أَرَدتُّمُ ٱسْتِبْدَالَ زَوْجٍۢ مَّكَانَ زَوْجٍۢ وَءَاتَيْتُمْ إِحْدَىٰهُنَّ قِنطَارًۭا فَلَا تَأْخُذُوا۟ مِنْهُ شَيْـًٔا ۚ أَتَأْخُذُونَهُۥ بُهْتَـٰنًۭا وَإِثْمًۭا مُّبِينًۭا ٢٠

বাংলা অনুবাদ: তোমরা এক স্ত্রীর জায়গায় অন্য স্ত্রী গ্রহণ করতে চাইলে এবং তাদের একজনকে বিপুল সম্পদ দিয়ে থাকলে, তার কিছুই ফেরত নিয়ো না। তোমরা কি অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের মাধ্যমে তা নেবে?

আনুমানিক মদিনা পর্ব (৬২২–৬৩২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

নিসা ৪:৩ — বহুস্ত্রী গ্রহণ ও অধিকারভুক্ত দাসী

সময়ের ভিত্তি: মদিনী সূরার অংশ; ঘটনার বর্ণনা আছে, নির্দিষ্ট নাজিল-সাল নেই।

এতিমের সম্পদ ও বিয়ের প্রশ্নের সঙ্গে দুই, তিন বা চার স্ত্রী গ্রহণের অনুমোদন যুক্ত হয়েছে। ন্যায় করতে না পারার আশঙ্কায় একজন স্ত্রী অথবা অধিকারভুক্ত দাসীর বিকল্প দেওয়া হয়েছে। ইবনে কাসির আয়শার বর্ণনায় অভিভাবকের এতিম মেয়ের সম্পদ ও সৌন্দর্যের প্রতি আকর্ষণ এবং যথাযথ মোহর না দেওয়ার প্রসঙ্গ সংরক্ষণ করেছেন। বিয়ে, অভিভাবকত্ব, সম্পদ ও যৌন মালিকানা একই আইনগত কাঠামোয় যুক্ত।

উদ্ধৃত আয়াত: 4:3 [101]

وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا۟ فِى ٱلْيَتَـٰمَىٰ فَٱنكِحُوا۟ مَا طَابَ لَكُم مِّنَ ٱلنِّسَآءِ مَثْنَىٰ وَثُلَـٰثَ وَرُبَـٰعَ ۖ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا۟ فَوَٰحِدَةً أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَـٰنُكُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَدْنَىٰٓ أَلَّا تَعُولُوا۟ ٣

বাংলা অনুবাদ: এতিমদের বিষয়ে ন্যায় করতে না পারার আশঙ্কা করলে তোমাদের পছন্দের নারীদের দুই, তিন বা চারজনকে বিয়ে করো। ন্যায় করতে না পারার আশঙ্কা করলে একজনকে অথবা তোমাদের ডানহাতের অধিকারভুক্তকে গ্রহণ করো। অন্যায় না করার জন্য এটিই অধিক নিকটবর্তী।

আনুমানিক মদিনা পর্ব (৬২২–৬৩২ খ্রি.); নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

আহযাব ৩৩:৪–৫ — দত্তকপুত্রের পরিচয় পরিবর্তন

সময়ের ভিত্তি: মদিনী পর্ব; জায়েদের পরিচয় পরিবর্তনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, নির্দিষ্ট নাজিল-সাল অজ্ঞাত।

দত্তকপুত্রকে জন্মদাতার পরিচয়ে ডাকতে বলা হয়েছে। ইবনে কাসিরের উদ্ধৃত বর্ণনায় জায়েদকে “জায়েদ ইবনে মুহাম্মদ” বলা হতো, এই আয়াতের পর সেই পরিচয় বদলায়। তাঁর ব্যাখ্যায় দত্তকপুত্রকে জন্মগত পুত্রের মতো গণ্য করার আগের বিধান রহিত হয়; তিনি এর সঙ্গে জায়েদের সাবেক স্ত্রী জয়নাবের সঙ্গে মুহাম্মদের বিয়ে এবং সালিমকে প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় স্তন্যপান করানোর ঘটনাও যুক্ত করেছেন। পারিবারিক পরিচয় বদলের আইন যৌন ও বৈবাহিক সম্পর্কের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করেছে।

উদ্ধৃত আয়াত: 33:5 [102]

ٱدْعُوهُمْ لِـَٔابَآئِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِندَ ٱللَّهِ ۚ فَإِن لَّمْ تَعْلَمُوٓا۟ ءَابَآءَهُمْ فَإِخْوَٰنُكُمْ فِى ٱلدِّينِ وَمَوَٰلِيكُمْ ۚ وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌۭ فِيمَآ أَخْطَأْتُم بِهِۦ وَلَـٰكِن مَّا تَعَمَّدَتْ قُلُوبُكُمْ ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورًۭا رَّحِيمًا ٥

বাংলা অনুবাদ: তাদের তাদের পিতাদের নামে ডাকো; আল্লাহর কাছে তা অধিক ন্যায়সংগত। তোমরা তাদের পিতাদের না জানলে তারা ধর্মে তোমাদের ভাই ও তোমাদের মাওয়ালি। তোমরা ভুল করে যা করেছ তাতে অপরাধ নেই, কিন্তু তোমাদের হৃদয় যা ইচ্ছাকৃতভাবে করেছে তাতে আছে। আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।

সময় ও শ্রেণিবিন্যাসে মতভেদ

আনুমানিক মক্কা বা মদিনা পর্ব; শ্রেণিবিন্যাসে মতভেদ

যিলযাল ৯৯:১–৩ — পৃথিবীর কম্পন

সময়ের ভিত্তি: দুই পর্বের মত থাকায় নির্দিষ্ট খ্রিস্টীয় সাল বা নিশ্চিত ধারাবাহিক অবস্থান অনির্ধারিত।

পৃথিবীর কম্পন, অভ্যন্তরের বোঝা বের হওয়া ও মানুষের বিস্ময়ের দৃশ্য রয়েছে। কুরতুবি ইবনে আব্বাস ও কাতাদার নামে মদিনী মত এবং ইবনে মাসউদ, আতা ও জাবিরের নামে মক্কী মত উল্লেখ করেছেন। দুই ধরনের শ্রেণিবিন্যাসই ধ্রুপদি তাফসিরে সংরক্ষিত।

উদ্ধৃত আয়াত: 99:1, 99:2, 99:3 [103] [104]

إِذَا زُلْزِلَتِ ٱلْأَرْضُ زِلْزَالَهَا ١ وَأَخْرَجَتِ ٱلْأَرْضُ أَثْقَالَهَا ٢ وَقَالَ ٱلْإِنسَـٰنُ مَا لَهَا ٣

বাংলা অনুবাদ: যখন পৃথিবী তার প্রবল কম্পনে কেঁপে উঠবে, পৃথিবী তার বোঝা বের করে দেবে এবং মানুষ বলবে, “এর কী হয়েছে?”

আনুমানিক মক্কা পর্ব বলে প্রচলিত; সংশ্লিষ্ট অংশের সময় নির্দিষ্ট নয়

আনআম ৬:১৫১ — নিষেধাজ্ঞার তালিকা

সময়ের ভিত্তি: সূরার প্রচলিত মক্কী পরিচয় আনুমানিক পর্বের ভিত্তি; এই আয়াতগুচ্ছের নির্দিষ্ট বছর অজ্ঞাত।

শিরক, সন্তান হত্যা, অশ্লীলতা ও অধিকার ছাড়া প্রাণহত্যা নিষিদ্ধ করার তালিকা রয়েছে। সূরাটি মক্কী বলে প্রচলিত; এই আয়াতের স্বতন্ত্র নাজিলের দিন ও সাল অজ্ঞাত।

উদ্ধৃত অংশ: 6:151 [105] [106]

قُلْ تَعَالَوْا۟ أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ ۖ أَلَّا تُشْرِكُوا۟ بِهِۦ شَيْـًۭٔا ۖ وَبِٱلْوَٰلِدَيْنِ إِحْسَـٰنًۭا

বাংলা অনুবাদ: বলো, এসো, তোমাদের প্রভু তোমাদের জন্য যা নিষিদ্ধ করেছেন তা আবৃত্তি করি: তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক করো না এবং মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো।

আনুমানিক মক্কা পর্ব বলে প্রচলিত; নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

কাহফ ১৮:৮৩ — যুলকারনাইন সম্পর্কে প্রশ্ন

সময়ের ভিত্তি: এই আয়াতের নির্দিষ্ট নাজিল-সাল অজ্ঞাত।

যুলকারনাইনের কাহিনি একটি প্রশ্নের জবাব হিসেবে শুরু হয়েছে। কুরতুবি এখানে ইবনে ইসহাকের অ-আরবদের মধ্যে প্রচলিত বর্ণনার উল্লেখ এবং ইবনে হিশামের ইস্কান্দার-পরিচয় সংরক্ষণ করেছেন। প্রশ্ন, কোরআনিক কাহিনি এবং পরবর্তী ঐতিহাসিক পরিচয় পৃথক সাক্ষ্য।

উদ্ধৃত আয়াত: 18:83 [107] [108]

ويسالونك عن ذي القرنين قل ساتلو عليكم منه ذكرا ٨٣

বাংলা অনুবাদ: তারা তোমাকে যুলকারনাইন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলো, আমি তোমাদের কাছে তার কিছু বিবরণ আবৃত্তি করব।

আকাবার রাতের সঙ্গে যুক্ত একটি বর্ণনা; আনুমানিক হিজরতের আগে / ৬২২ খ্রি.; সময় নির্ধারণে অনিশ্চয়তা

তওবা ৯:১১১ — প্রাণ ও সম্পদের বিনিময়ে জান্নাত

সময়ের ভিত্তি: আকাবা-সংযোগ একটি সংরক্ষিত বর্ণনাধারার দাবি; সর্বসম্মত নাজিল-তারিখ নয়।

যুদ্ধ, হত্যা ও নিহত হওয়াকে আল্লাহর সঙ্গে প্রাণ–সম্পদের লেনদেন এবং জান্নাতের প্রতিশ্রুতিতে রূপ দেওয়া হয়েছে। ইবনে কাসির আকাবার রাতে আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহার কথোপকথনের পর আয়াতটি নাজিল হওয়ার একটি বর্ণনা দিয়েছেন। আকাবার এই বর্ণনা আয়াতটিকে সূরার শেষ মদিনা পর্বের সাধারণ পরিচয়ের চেয়ে আগের ঘটনায় যুক্ত করে।

উদ্ধৃত অংশ: 9:111 [109]

إِنَّ ٱللَّهَ ٱشْتَرَىٰ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ أَنفُسَهُمْ وَأَمْوَٰلَهُم بِأَنَّ لَهُمُ ٱلْجَنَّةَ ۚ يُقَـٰتِلُونَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ

বাংলা অনুবাদ: নিশ্চয়ই আল্লাহ বিশ্বাসীদের কাছ থেকে তাদের প্রাণ ও সম্পদ কিনে নিয়েছেন, বিনিময়ে তাদের জন্য জান্নাত। তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে, হত্যা করে এবং নিহত হয়।

আনুমানিক মক্কা বা মদিনা পর্ব; সূরা ও অংশের সময় নিয়ে মতভেদ

মাউন ১০৭:৪–৭ — নামাজে অবহেলা, লোকদেখানো আচরণ ও সাহায্য না করা

সময়ের ভিত্তি: কুরতুবি সূরার মক্কী ও মদিনী উভয় পরিচয় উল্লেখ করেছেন; এই অংশের নির্দিষ্ট নাজিল-সাল অজ্ঞাত।

নামাজিদের একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দুর্ভোগের ঘোষণা দিয়ে তাদের নামাজে অবহেলা, লোকদেখানো আচরণ ও প্রয়োজনীয় সাহায্য আটকে রাখার সমালোচনা করা হয়েছে। প্রথম তিন আয়াতের এতিম–দরিদ্র প্রসঙ্গের পরে এই অংশে বাহ্যিক ধার্মিকতা ও সামাজিক আচরণের ব্যবধান প্রকাশিত হয়। ইবনে কাসির লোকদেখানো ধর্মীয় কাজের বিরুদ্ধে শাস্তির বর্ণনাগুলোও সংরক্ষণ করেছেন।

উদ্ধৃত আয়াত: 107:6 [110] [111]

ٱلَّذِينَ هُمْ يُرَآءُونَ ٦

বাংলা অনুবাদ: যারা লোকদেখানো আচরণ করে।

শেষ ওহি ও মৃত্যুর পূর্ববর্তী পর্ব

বিদায় হজ; ১০ হিজরি / ৬৩২ খ্রি.; শুক্রবার, আরাফায় অবস্থানকালে

মায়েদা ৫:৩-এর অংশ — দ্বীন পূর্ণ হওয়ার ঘোষণা

সময়ের ভিত্তি: স্থান ও বার হাদিসে নির্দিষ্ট। বিদায় হজ দশম হিজরির, যা ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের সঙ্গে মেলে।

উমরের বর্ণনায় এই ঘোষণার স্থান আরাফা এবং দিন শুক্রবার বলে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। দ্বীন পূর্ণ হওয়ার ঘোষণাটি আয়াতের একটি অংশ; অন্য আয়াতকে সর্বশেষ বলা বর্ণনাগুলোও সংরক্ষিত রয়েছে।

উদ্ধৃত অংশ: 5:3 [112] [113] [114]

ٱلْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِى وَرَضِيتُ لَكُمُ ٱلْإِسْلَـٰمَ دِينًۭا

বাংলা অনুবাদ: আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম পূর্ণ করলাম, তোমাদের ওপর আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে ধর্ম হিসেবে পছন্দ করলাম।

আনুমানিক শেষ মদিনা পর্ব; নির্দিষ্ট নাজিল-সাল অজ্ঞাত

নাসর ১১০:১–৩ — বিজয়, গণধর্মান্তর ও মৃত্যুর পূর্বাভাস

সময়ের ভিত্তি: শেষপর্বের পরিচয় ব্যাখ্যামূলক বর্ণনানির্ভর। এই বর্ণনা থেকে নির্দিষ্ট মাস বা ৬৩১–৬৩২-এর সংকীর্ণ সময়সীমা স্থির হয় না।

বিজয় ও মানুষের দলে দলে ধর্মে প্রবেশের পর প্রশংসা ও ক্ষমাপ্রার্থনার নির্দেশ রয়েছে। বুখারিতে ইবনে আব্বাস এই সূরাকে মুহাম্মদের মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসার ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করেন; উমর সেই ব্যাখ্যা সমর্থন করেন।

উদ্ধৃত আয়াত: 110:1, 110:2, 110:3 [115] [116]

إِذَا جَآءَ نَصْرُ ٱللَّهِ وَٱلْفَتْحُ ١ وَرَأَيْتَ ٱلنَّاسَ يَدْخُلُونَ فِى دِينِ ٱللَّهِ أَفْوَاجًۭا ٢ فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَٱسْتَغْفِرْهُ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ تَوَّابًۢا ٣

বাংলা অনুবাদ: যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে এবং তুমি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর ধর্মে প্রবেশ করতে দেখবে, তখন তোমার প্রভুর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করো এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাও। নিশ্চয়ই তিনি তওবা গ্রহণকারী।

আনুমানিক শেষ জীবনের পর্ব; নির্দিষ্ট সাল ও ব্যবধান নিয়ে মতভেদ

বাকারা ২:২৮১ — সর্বশেষ আয়াত হওয়ার একটি বর্ণনাধারা

সময়ের ভিত্তি: সর্বশেষ নাজিলের পরিচয়ে মতভেদ রয়েছে; নির্দিষ্ট মৃত্যুপূর্ব দিনসংখ্যা এখানে স্থির নয়।

ইবনে কাসির এই আয়াতকে সর্বশেষ নাজিল হওয়া আয়াত বলে একাধিক বর্ণনা সংরক্ষণ করেছেন। নাজিলের পর মৃত্যুর ব্যবধানও বর্ণনাগুলোতে এক নয়। বুখারি ৪৫৪৪-এ ইবনে আব্বাসের নামে সর্বশেষ হিসেবে “সুদের আয়াত” বলা হয়েছে।

উদ্ধৃত আয়াত: 2:281 [117] [118]

وَٱتَّقُوا۟ يَوْمًۭا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى ٱللَّهِ ۖ ثُمَّ تُوَفَّىٰ كُلُّ نَفْسٍۢ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ ٢٨١

বাংলা অনুবাদ: সেই দিনকে ভয় করো, যেদিন তোমাদের আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। তারপর প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার অর্জিত কাজের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে এবং তাদের ওপর অন্যায় করা হবে না।

আনুমানিক শেষ জীবনের পর্ব; নির্দিষ্ট দিন-তারিখ অজ্ঞাত

নিসা ৪:১৭৬ — সর্বশেষ আয়াত হওয়ার আরেক বর্ণনা

সময়ের ভিত্তি: সর্বশেষ হওয়ার বর্ণনা রয়েছে; নাজিলের নির্দিষ্ট দিন বা সর্বসম্মত শেষ অবস্থান প্রতিষ্ঠিত নয়।

সন্তানহীন মৃত ব্যক্তির ভাইবোনের উত্তরাধিকারসংক্রান্ত এই আয়াতকে বারা ইবনে আজিবের বর্ণনায় সর্বশেষ আয়াত বলা হয়েছে। এটি বাকারা ২:২৮১ ও সুদের আয়াতকে সর্বশেষ বলা বর্ণনার পাশাপাশি একটি ভিন্ন সাক্ষ্য।

উদ্ধৃত অংশ: 4:176 [119] [120]

يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ ٱللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِى ٱلْكَلَـٰلَةِ

বাংলা অনুবাদ: তারা তোমার কাছে বিধান জানতে চায়। বলো, আল্লাহ তোমাদের কালালা বিষয়ে বিধান দিচ্ছেন।

মৃত্যুর সময়, মৃত্যুর পরে এবং মুসহাফে অনুপস্থিত পাঠের সংশ্লিষ্ট বর্ণনা

মৃত্যুর সময়: ১১ হিজরি / ৬৩২ খ্রি.; প্রথম নাজিলের সাল অজ্ঞাত

মৃত্যুর সময়ও কোরআন হিসেবে পড়া পাঁচবার স্তন্যপানের পাঠ

আয়শার বর্ণনায় দশবার নির্দিষ্ট স্তন্যপানকে বিবাহ-নিষেধ সৃষ্টিকারী কোরআনিক পাঠ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; পরে তা পাঁচবার দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়। বর্ণনার শেষ বাক্য সরাসরি বলে, মুহাম্মদের মৃত্যু হয় এবং সেগুলো তখনও কোরআন হিসেবে পড়া হচ্ছিল। বর্তমান মুসহাফে দশ বা পাঁচবার স্তন্যপানের ওই পাঠ নেই। মৃত্যুকালে কোরআন হিসেবে আবৃত্তির দাবি এবং পরবর্তী মুসহাফে অনুপস্থিতি একই পাঠের সংরক্ষণ-ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবধান প্রকাশ করে। মৃত্যুর সময়ও আবৃত্তি হওয়ার পরিচয় নির্দিষ্ট; প্রথম নাজিলের দিন ও সাল এই হাদিসে নেই। [121]

كَانَ فِيمَا أُنْزِلَ مِنَ الْقُرْآنِ عَشْرُ رَضَعَاتٍ مَعْلُومَاتٍ يُحَرِّمْنَ ‏.‏ ثُمَّ نُسِخْنَ بِخَمْسٍ مَعْلُومَاتٍ فَتُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُنَّ فِيمَا يُقْرَأُ مِنَ الْقُرْآنِ

বাংলা অনুবাদ: কোরআন হিসেবে যা নাজিল হয়েছিল তার মধ্যে ছিল দশটি নির্দিষ্ট স্তন্যপান, যা বিবাহ নিষিদ্ধ করে। পরে তা পাঁচটি নির্দিষ্ট স্তন্যপান দিয়ে রহিত করা হয়। রাসুলের মৃত্যু হয়, আর সেগুলো তখনও কোরআন হিসেবে যা পড়া হচ্ছিল তার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মৃত্যুর অব্যবহিত আগের সময় সম্পর্কে নববীর ব্যাখ্যা; আনুমানিক ৬৩২ খ্রি.

শেষদিকে নাসখ এবং মৃত্যুর পরও কোরআন হিসেবে পড়ার ব্যাখ্যা

নববী মুসলিমের স্তন্যপানসংক্রান্ত বর্ণনা ব্যাখ্যা করতে বলেন, পাঁচবার স্তন্যপানের নাসখ এত দেরিতে আসে যে মুহাম্মদের মৃত্যু হওয়ার পরও কিছু মানুষ সেটিকে কোরআন হিসেবে পড়ছিল; তাঁর ব্যাখ্যায় নাসখের সংবাদ তখনও তাদের কাছে পৌঁছায়নি। ফলে মূল হাদিসে থাকা মৃত্যুকালীন তিলাওয়াতের বিবরণের পাশাপাশি ধ্রুপদি ব্যাখ্যাতেও শেষ জীবনে পরিবর্তন ও মৃত্যুর পরে পাঠের অবস্থান নিয়ে আলোচনা রয়েছে। “নাসখের সংবাদ পৌঁছায়নি” নববীর ব্যাখ্যা; আয়শার বর্ণনার নিজস্ব শব্দ হলো মৃত্যুর সময়ও কোরআন হিসেবে পড়া হচ্ছিল। [122]

ومعناه أن النسخ بخمس رضعات تأخر إنزاله جدا حتى إنه صلى الله عليه وسلم توفي وبعض الناس يقرأ : خمس رضعات ويجعلها قرآنا متلوا لكونه لم يبلغه النسخ لقرب عهده

বাংলা অনুবাদ: এর অর্থ, পাঁচবার স্তন্যপানের মাধ্যমে নাসখের নাজিল এত বিলম্বিত হয়েছিল যে তাঁর মৃত্যু হয়ে যায়, আর কিছু মানুষ তখনও পাঁচবার স্তন্যপানের পাঠ পড়ছিল এবং তাকে আবৃত্তিযোগ্য কোরআন মনে করছিল; কারণ অল্প সময় পার হওয়ায় নাসখের সংবাদ তার কাছে পৌঁছায়নি।

প্রাপ্তবয়স্ককে স্তন্যপানের নির্দেশ: আনুমানিক মদিনা পর্ব; নির্দিষ্ট সাল অজ্ঞাত

সালিমকে স্তন্যপান করানোর নির্দেশ — প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের ঘটনা

সহলা বিনতে সুহাইল সালিমের গৃহে প্রবেশ নিয়ে আবু হুযাইফার অসন্তোষের কথা জানালে মুহাম্মদ তাঁকে সালিমকে স্তন্যপান করাতে বলেন। সহলা প্রশ্ন করেন, সালিম একজন বড় পুরুষ হওয়ায় তাঁকে কীভাবে স্তন্যপান করাবেন; মুহাম্মদ হাসেন এবং বলেন, তিনি জানেন যে সালিম বড় পুরুষ। এটি প্রাপ্তবয়স্ককে স্তন্যপান করানোর নির্দেশের স্বতন্ত্র বর্ণনা। মৃত্যুকালীন পাঁচবার স্তন্যপানের পাঠের বর্ণনা এবং সালিমের এই ঘটনা আলাদা হাদিসে সংরক্ষিত; সালিমের ঘটনার নির্দিষ্ট দিন-তারিখ দেওয়া নেই। [123]

فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ أَرْضِعِيهِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَتْ وَكَيْفَ أُرْضِعُهُ وَهُوَ رَجُلٌ كَبِيرٌ فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ ‏”‏ قَدْ عَلِمْتُ أَنَّهُ رَجُلٌ كَبِيرٌ ‏”

বাংলা অনুবাদ: নবী বললেন, “তাকে স্তন্যপান করাও।” তিনি বললেন, “কীভাবে তাকে স্তন্যপান করাব, সে তো বড় পুরুষ?” রাসুল হাসলেন এবং বললেন, “আমি জানি যে সে বড় পুরুষ।”

মৃত্যুর পরের ব্যস্ততার সময়: ১১ হিজরি / আনুমানিক ৬৩২ খ্রি.; প্রথম নাজিলের সাল অজ্ঞাত

রজম ও প্রাপ্তবয়স্কের দশবার স্তন্যপানের লিখিত পাতা খেয়ে ফেলার বর্ণনা

ইবনে মাজাহর বর্ণনায় আয়শা বলেন, রজম এবং প্রাপ্তবয়স্কের দশবার স্তন্যপানের আয়াত নাজিল হয়েছিল এবং লিখিত পাতাটি তাঁর খাটের নিচে ছিল। মুহাম্মদের মৃত্যু হলে তাঁরা মৃত্যু নিয়ে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় একটি গৃহপালিত প্রাণী ঢুকে পাতাটি খেয়ে ফেলে। আরবি মূলের অবস্থান “খাটের নিচে”; Sunnah.com-এর ইংরেজি অনুবাদের “বালিশের নিচে” মূলের সঙ্গে মেলে না। “দাজিন” গৃহপালিত প্রাণী বোঝায়; এই বাক্যে প্রজাতি নির্দিষ্ট করা হয়নি। বর্ণনাটি মৃত্যুর পরের ব্যস্ততার সঙ্গে লিখিত কোরআনিক পাঠের একটি পাতার বিনষ্ট হওয়ার ঘটনাকে সরাসরি যুক্ত করে। [124]

لَقَدْ نَزَلَتْ آيَةُ الرَّجْمِ وَرَضَاعَةُ الْكَبِيرِ عَشْرًا وَلَقَدْ كَانَ فِي صَحِيفَةٍ تَحْتَ سَرِيرِي فَلَمَّا مَاتَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَتَشَاغَلْنَا بِمَوْتِهِ دَخَلَ دَاجِنٌ فَأَكَلَهَا

বাংলা অনুবাদ: রজম এবং প্রাপ্তবয়স্কের দশবার স্তন্যপানের আয়াত নাজিল হয়েছিল। তা আমার খাটের নিচে একটি পাতায় ছিল। রাসুল মারা গেলে এবং আমরা তাঁর মৃত্যু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লে একটি গৃহপালিত প্রাণী ঢুকে তা খেয়ে ফেলে।

নাজিলের সময় অজ্ঞাত; মুহাম্মদের মৃত্যুর পরে উমরের ভাষণে সংরক্ষিত স্মৃতি

রজমের আয়াত — আবৃত্তি, মুখস্থ রাখা ও মুসহাফে না পাওয়ার আশঙ্কা

উমর তাঁর ভাষণে রজমের আয়াত নাজিল, আবৃত্তি, বোঝা ও মনে রাখার কথা বলেন। একই ভাষণে মুহাম্মদ এবং তাঁর পরে শাসকদের রজম কার্যকর করার কথা আছে। উমর আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে মানুষ আল্লাহর কিতাবে রজমের আয়াত না পেয়ে শাস্তিটি ত্যাগ করবে। বর্তমান মুসহাফে রজমের সেই আয়াত নেই। পাঠ অনুপস্থিত থাকলেও শাস্তির বিধান কার্যকর রাখার দাবিটি হাদিসের মধ্যেই স্পষ্ট। উমরের ভাষণের সময় এবং আয়াতের প্রথম নাজিলের সময় পৃথক; এই বর্ণনা নাজিলের সাল দেয় না। [125]

فَكَانَ مِمَّا أَنْزَلَ اللَّهُ آيَةُ الرَّجْمِ، فَقَرَأْنَاهَا وَعَقَلْنَاهَا وَوَعَيْنَاهَا

বাংলা অনুবাদ: আল্লাহ যা নাজিল করেছিলেন তার মধ্যে রজমের আয়াত ছিল; আমরা তা পড়েছি, বুঝেছি এবং মনে রেখেছি।

প্রথম নাজিলের সাল অজ্ঞাত; পরবর্তী বসরার পাঠকদের কাছে আবু মুসার বিবরণ

বারাআতের মতো দীর্ঘ ও কঠোর সূরা ভুলে যাওয়ার বর্ণনা

আবু মুসা বসরার তিনশ কোরআন-পাঠককে সমবেত করে এমন একটি সূরার কথা বলেন, যা তাঁরা দৈর্ঘ্য ও কঠোরতায় বারাআতের সঙ্গে তুলনা করতেন। তিনি জানান, সূরাটি তাঁকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে; শুধু মানুষের সম্পদের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে একটি অংশ মনে রয়েছে। এটি একটি ছোট শব্দভেদের দাবি নয়, বরং দীর্ঘ একটি সূরার অধিকাংশ পাঠ স্মৃতি থেকে হারিয়ে যাওয়ার বিবরণ। বর্তমান মুসহাফে বারাআতের মতো ওই স্বতন্ত্র সূরা নেই। প্রথম নাজিলের দিন বা সাল হাদিসে উল্লেখিত হয়নি। [126]

وَإِنَّا كُنَّا نَقْرَأُ سُورَةً كُنَّا نُشَبِّهُهَا فِي الطُّولِ وَالشِّدَّةِ بِبَرَاءَةَ فَأُنْسِيتُهَا غَيْرَ أَنِّي قَدْ حَفِظْتُ مِنْهَا لَوْ كَانَ لاِبْنِ آدَمَ وَادِيَانِ مِنْ مَالٍ لاَبْتَغَى وَادِيًا ثَالِثًا وَلاَ يَمْلأُ جَوْفَ ابْنِ آدَمَ إِلاَّ التُّرَابُ

বাংলা অনুবাদ: আমরা একটি সূরা পড়তাম, যাকে দৈর্ঘ্য ও কঠোরতায় বারাআতের সঙ্গে তুলনা করতাম; তারপর আমাকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু এই অংশ মনে রেখেছি: আদমসন্তানের সম্পদে পূর্ণ দুটি উপত্যকা থাকলে সে তৃতীয়টি চাইত; মাটি ছাড়া কিছুই আদমসন্তানের পেট পূর্ণ করে না।

প্রথম নাজিলের সাল অজ্ঞাত; একই হাদিসে দ্বিতীয় ভুলে যাওয়া সূরার স্মৃতি

মুসাব্বিহাতের মতো আরেকটি সূরার অধিকাংশ পাঠ অনুপস্থিত

একই বর্ণনায় আবু মুসা বলেন, তাঁরা মুসাব্বিহাতের কোনো একটি সূরার মতো আরেকটি সূরা পড়তেন; সেটিও তাঁকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। মনে থাকা অংশে কথা ও কাজের অসংগতি, গলায় সাক্ষ্য লিখে রাখা এবং কিয়ামতে প্রশ্নের উল্লেখ আছে। বারাআতের মতো সূরার বিবরণ ও এই দ্বিতীয় সূরার বিবরণ একই হাদিসের দুই পৃথক বক্তব্য; এগুলো দুই স্বাধীন সূত্র নয়। কোরআন হিসেবে আবৃত্তির স্মৃতি এবং বর্তমান মুসহাফের পাঠের মধ্যে পার্থক্যের আরেকটি বিবরণ এখানে রয়েছে। [127]

وَكُنَّا نَقْرَأُ سُورَةً كُنَّا نُشَبِّهُهَا بِإِحْدَى الْمُسَبِّحَاتِ فَأُنْسِيتُهَا غَيْرَ أَنِّي حَفِظْتُ مِنْهَا ‏{‏ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لاَ تَفْعَلُونَ‏}‏ فَتُكْتَبُ شَهَادَةً فِي أَعْنَاقِكُمْ فَتُسْأَلُونَ عَنْهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ

বাংলা অনুবাদ: আমরা একটি সূরা পড়তাম, যাকে মুসাব্বিহাতের একটির সঙ্গে তুলনা করতাম; তারপর আমাকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু মনে রেখেছি: হে বিশ্বাসীরা, তোমরা যা করো না তা কেন বলো? তোমাদের গলায় সাক্ষ্য লিখে রাখা হবে এবং কিয়ামতের দিন সে সম্পর্কে তোমাদের প্রশ্ন করা হবে।

নাজিলের তারিখ নয়: অনুপস্থিত পাঠ সম্পর্কে পরবর্তী নাসখ-শ্রেণিবিন্যাস

রজম ও পাঁচবার স্তন্যপান — তিলাওয়াত রহিত, বিধান বহাল

নববী নাসখের তিনটি শ্রেণি উল্লেখ করেন: বিধান ও তিলাওয়াত উভয় রহিত; তিলাওয়াত রহিত কিন্তু বিধান বহাল; এবং বিধান রহিত কিন্তু তিলাওয়াত বহাল। তাঁর দ্বিতীয় শ্রেণির উদাহরণ পাঁচবার স্তন্যপান ও রজমের পাঠ। ফলে “আয়াত নাজিল ও আবৃত্তি হয়েছিল”, “বর্তমান মুসহাফে নেই” এবং “বিধান কার্যকর রয়েছে”—এই তিন অবস্থানকে ধ্রুপদি নাসখ-তত্ত্ব একই সঙ্গে গ্রহণ করে। এটি অনুপস্থিত পাঠের একটি পরবর্তী ধর্মতাত্ত্বিক শ্রেণিবিন্যাস; প্রথম নাজিলের দিন-তারিখের প্রমাণ নয়। [128]

والثاني : ما نسخت تلاوته دون حكمه كخمس رضعات والشيخ والشيخة إذا زنيا فارجموهما

বাংলা অনুবাদ: দ্বিতীয়টি: যার তিলাওয়াত রহিত হয়েছে কিন্তু বিধান রহিত হয়নি; যেমন পাঁচবার স্তন্যপান এবং “বৃদ্ধ পুরুষ ও বৃদ্ধ নারী ব্যভিচার করলে তাদের রজম করো”।


ক্রমানুসারে সুরাগুলির তালিকা

ক্রম সুরার নাম বর্তমান কোরআনে ক্রম স্থান মন্তব্য আয়াতের সংখ্যা
১ আল-আলাক

(রক্তপিন্ড)

96 মক্কী
২ আল-কলম

(কলম)

68 মক্কী ১৭-৩৩ এবং ৪৮-৫০ আয়াত মদিনায় নাজিল
৩ আল-মুযযাম্মিল

(বস্ত্র আচ্ছাদনকারী)

73 মক্কী ১০, ১১ এবং ২০ আয়াত মদিনায় নাজিল
৪ আল-মুদ্দাসসির

( পোশাক পরিহিত)

74 মক্কী
৫ আল-ফাতিহা 1 মক্কী
৬ আল-মাসাদ 111 মক্কী
৭ আত-তাকওয়ির 81 মক্কী
৮ আল-আ’লা 87 মক্কী
৯ আল-লাইল 92 মক্কী
১০ আল-ফজর 89 মক্কী
১১ আদ-দুহা 93 মক্কী
১২ আশ-শরাহ 94 মক্কী
১৩ আল-আসর 103 মক্কী
১৪ আল-আদিয়াত 100 মক্কী
১৫ আল-কাউসার 108 মক্কী
১৬ আত-তাকাসুর 102 মক্কী
১৭ আল-মাউন 107 মক্কী ১-৩ আয়াত মক্কায়, বাকি মদিনায় নাজিল
১৮ আল-কাফিরুন 109 মক্কী
১৯ আল-ফিল 105 মক্কী
২০ আল-ফালাক 113 মক্কী
২১ আন-নাস 114 মক্কী
২২ আল-ইখলাস 112 মক্কী
২৩ আন-নাজম 53 মক্কী ৩২ আয়াত মদিনায় নাজিল
২৪ আবাসা 80 মক্কী
২৫ আল-কদর 97 মক্কী
২৬ আশ-শামস 91 মক্কী
২৭ আল-বরুজ 85 মক্কী
২৮ আত-তিন 95 মক্কী
২৯ কুরাইশ 106 মক্কী
৩০ আল-কারিয়া 101 মক্কী
৩১ আল-কিয়ামাহ 75 মক্কী
৩২ আল-হুমাজাহ 104 মক্কী
৩৩ আল-মুরসালাত 77 মক্কী ৪৮ আয়াত মদিনায় নাজিল
৩৪ ক্বাফ 50 মক্কী ৩৮ আয়াত মদিনায় নাজিল
৩৫ আল-বালাদ 90 মক্কী
৩৬ আত-তারিক 86 মক্কী
৩৭ আল-কামার 54 মক্কী ৪৪-৪৬ আয়াত মদিনায় নাজিল
৩৮ সাদ 38 মক্কী
৩৯ আল-আরাফ 7 মক্কী ১৬৩-১৭০ আয়াত মদিনায় নাজিল
৪০ আল-জিন 72 মক্কী
৪১ ইয়াসিন 36 মক্কী ৪৫ আয়াত মদিনায় নাজিল
৪২ আল-ফুরকান 25 মক্কী ৬৮-৭০ আয়াত মদিনায় নাজিল
৪৩ ফাতির 35 মক্কী
৪৪ মরিয়ম 19 মক্কী ৫৮ এবং ৭১ আয়াত মদিনায় নাজিল
৪৫ ত্বা-হা 20 মক্কী ১৩০ এবং ১৩১ আয়াত মদিনায় নাজিল
৪৬ আল-ওয়াকিয়া 56 মক্কী ৮১ এবং ৮২ আয়াত মদিনায় নাজিল
৪৭ আশ-শুআরা 26 মক্কী ১৯৭ এবং ২২৪-২২৭ আয়াত মদিনায় নাজিল
৪৮ আন-নামল 27 মক্কী
৪৯ আল-কাসাস 28 মক্কী ৫২-৫৫ আয়াত মদিনায় নাজিল; হিজরার সময় ৮৫ আয়াত জুহফায় নাজিল
৫০ আল-ইসরা 17 মক্কী ২৬, ৩২, ৩৩, ৫৭, ৭৩-৮০ আয়াত মদিনায় নাজিল
৫১ ইউনুস 10 মক্কী ৪০, ৯৪, ৯৫, ৯৬ আয়াত মদিনায় নাজিল
৫২ হুদ 11 মক্কী ১২, ১৭, ১১৪ আয়াত মদিনায় নাজিল
৫৩ ইউসুফ 12 মক্কী ১, ২, ৩, ৭ আয়াত মদিনায় নাজিল
৫৪ আল-হিজর 15 মক্কী ৮৭ আয়াত মদিনায় নাজিল
৫৫ আল-আন’আম 6 মক্কী ২০, ২৩, ৯১, ৯৩, ১১৪, ১৫১-১৫৩ আয়াত মদিনায় নাজিল
৫৬ আস-সাফফাত 37 মক্কী
৫৭ লুকমান 31 মক্কী ২৭-২৯ আয়াত মদিনায় নাজিল
৫৮ সাবা 34 মক্কী
৫৯ আজ-জুমার 39 মক্কী
৬০ আল-মু’মিন 40 মক্কী ৫৬-৫৭ আয়াত মদিনায় নাজিল
৬১ ফুসসিলাত 41 মক্কী
৬২ আশ-শুরা 42 মক্কী ২৩, ২৪, ২৫, ২৭ আয়াত মদিনায় নাজিল
৬৩ আজ-যুখরুফ 43 মক্কী ৫৪ আয়াত মদিনায় নাজিল
৬৪ আদ-দুখান 44 মক্কী
৬৫ আল-জাসিয়া 45 মক্কী ১৪ আয়াত মদিনায় নাজিল
৬৬ আল-আহকাফ 46 মক্কী ১০, ১৫, ৩৫ আয়াত মদিনায় নাজিল
৬৭ আদ-ধারিয়াত 51 মক্কী
৬৮ আল-গাশিয়াহ 88 মক্কী
৬৯ আল-কাহফ 18 মক্কী ২৮, ৮৩-১০১ আয়াত মদিনায় নাজিল
৭০ আন-নাহল 16 মক্কী শেষ তিনটি আয়াত মদিনায় নাজিল
৭১ নুহ 71 মক্কী
৭২ ইব্রাহিম 14 মক্কী ২৮, ২৯ আয়াত মদিনায় নাজিল
৭৩ আল-আম্বিয়া 21 মক্কী
৭৪ আল-মুমিনুন 23 মক্কী
৭৫ আস-সাজদাহ 32 মক্কী ১৬-২০ আয়াত মদিনায় নাজিল
৭৬ আত-তুর 52 মক্কী
৭৭ আল-মুল্ক 67 মক্কী
৭৮ আল-হাক্কাহ 69 মক্কী
৭৯ আল-মাআরিজ 70 মক্কী
৮০ আন-নাবা 78 মক্কী
৮১ আন-নাজিয়াত 79 মক্কী
৮২ আল-ইনফিতার 82 মক্কী
৮৩ আল-ইনশিকাক 84 মক্কী
৮৪ আর-রুম 30 মক্কী ১৭ আয়াত মদিনায় নাজিল
৮৫ আল-আনকাবুত 29 মক্কী ১-১১ আয়াত মদিনায় নাজিল
৮৬ আল-মুতাফিফিন 83 মক্কী
৮৭ আল-বাকারা 2 মদিনায় ২৮১ আয়াত মিনা থেকে, শেষ হজের সময় নাজিল
৮৮ আল-আনফাল 8 মদিনায় ৩০-৩৬ আয়াত মক্কায় নাজিল
৮৯ আলে ইমরান 3 মদিনায়
৯০ আল-আহযাব 33 মদিনায়
৯১ আল-মুমতাহানা 60 মদিনায়
৯২ আন-নিসা 4 মদিনায়
৯৩ আজ-যালযালা 99 মদিনায়
৯৪ আল-হাদিদ 57 মদিনায়
৯৫ মুহাম্মদ 47 মদিনায় ১৩ আয়াত হিজরার সময় নাজিল
৯৬ আর-রাদ 13 মদিনায়
৯৭ আর-রহমান 55 মদিনায়
৯৮ আল-ইনসান 76 মদিনায়
৯৯ আত-তালাক 65 মদিনায়
১০০ আল-ব্যয়্যিনাহ 98 মদিনায়
১০১ আল-হাশর 59 মদিনায়
১০২ আন-নূর 24 মদিনায়
১০৩ আল-হাজ্জ 22 মদিনায় ৫২-৫৫ আয়াত মক্কা ও মদিনার মধ্যে নাজিল
১০৪ আল-মুনাফিকুন 63 মদিনায়
১০৫ আল-মুজাদিলা 58 মদিনায়
১০৬ আল-হুজুরাত 49 মদিনায়
১০৭ আত-তাহরিম 66 মদিনায়
১০৮ আত-তাগাবুন 64 মদিনায়
১০৯ আস-সাফ 61 মদিনায়
১১০ আল-জুমুআ 62 মদিনায়
১১১ আল-ফাতহ 48 মদিনায় হুদাইবিয়ার ফিরে আসার সময় নাজিল
১১২ আল-মায়িদা 5 মদিনায় ৩ আয়াত আরাফাতে শেষ হজের সময় নাজিল
১১৩ আত-তাওবা

(অনুশোচনা)

আল বারায়াত ( সম্পর্কচ্ছেদ ও দায়িত্বমুক্ত )

9 মদিনায় শেষ দুটি আয়াত মক্কায় নাজিল
১১৪ আন-নাসর

(স্বর্গীয় সাহায্য)

110 মদিনায় শেষ হজের সময় মিনায় নাজিল, তবে এটি মদিনার সুরা হিসেবে গণ্য

তথ্যসূত্রঃ
  1. কোরআন 96:1 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  2. সহিহ বুখারি ৪৯৫৩ ↩︎
  3. কোরআন 74:2 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  4. সহিহ বুখারি ৪ ↩︎
  5. কোরআন 73:5 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  6. সুয়ুতি, আল-ইতকান: প্রথম নাজিল ও নাজিলক্রম ↩︎
  7. কোরআন 73:10 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  8. কোরআন 1:6 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  9. সুয়ুতি, আল-ইতকান: ফাতিহা ও প্রথম নাজিলের আলোচনা ↩︎
  10. সহিহ বুখারি ৭৫৬: ফাতিহা ছাড়া নামাজ না হওয়ার বর্ণনা ↩︎
  11. কোরআন 81:1 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  12. সুয়ুতি, আল-ইতকান: প্রচলিত নাজিলক্রম 1 2 3
  13. কোরআন 87:17 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  14. কোরআন 109:6 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  15. কোরআন 107:2,107:3 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  16. কুরতুবি: সূরা মাউনের ভূমিকা ↩︎
  17. কোরআন 77:15 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  18. সুয়ুতি, আল-ইতকান: নাজিলক্রম 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
  19. কোরআন 53:19,53:20 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  20. তাবারী, হজ্জ ২২:৫২-এর তাফসির ↩︎
  21. সহিহ বুখারি ৪৯৯৩: আয়াত ও মক্কায় নাজিলের বর্ণনা ↩︎
  22. সহিহ বুখারি ৪৯৯৩ ↩︎
  23. কোরআন 19:21 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  24. কোরআন 20:14 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  25. কোরআন 26:105 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  26. কোরআন 25:4 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  27. কোরআন 15:9 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  28. কোরআন 28:5 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  29. কোরআন 30:2,30:3,30:4 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  30. কোরআন 10:99 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  31. কোরআন 11:102 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  32. জামে তিরমিযি ৩২৯৭: সূরাগুলোর কারণে চুল পাকার বর্ণনা ↩︎
  33. কোরআন 12:3 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  34. কোরআন 16:125 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  35. কোরআন 19:7 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  36. কোরআন 16:68 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  37. কোরআন 6:1 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  38. কোরআন 18:9 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  39. কুরতুবি: সূরা কাহফের ভূমিকা ও প্রশ্নের বর্ণনা ↩︎
  40. কোরআন 6:136 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  41. কোরআন 22:39 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  42. সুনান নাসাঈ ৩০৮৫ ↩︎
  43. কোরআন 2:144 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  44. সহিহ বুখারি ৩৯৯ ↩︎
  45. কোরআন 8:1 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  46. সহিহ মুসলিম ১৭৪৮ক ↩︎
  47. কোরআন 8:12 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  48. কোরআন 8:41 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  49. কোরআন 8:67 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  50. কোরআন 3:152 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  51. কোরআন 4:11 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  52. জামে তিরমিযি ২০৯২ ↩︎
  53. কোরআন 59:2 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  54. কোরআন 59:7 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  55. কোরআন 33:9 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  56. কোরআন 33:26,33:27 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  57. কোরআন 33:37 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  58. কোরআন 33:53 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  59. সহিহ বুখারি ৪৭৯১ ↩︎
  60. কোরআন 24:11 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  61. সহিহ বুখারি ৪১৪১ ↩︎
  62. কোরআন 48:1 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  63. সহিহ বুখারি ৪১৭৭ ↩︎
  64. কোরআন 48:18 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  65. কোরআন 60:10 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  66. সহিহ বুখারি ২৭৩১–২৭৩২ ↩︎
  67. কোরআন 4:24 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  68. সহিহ মুসলিম ১৪৫৬ক ↩︎
  69. ইবনে কাসির, আওতাস অভিযান ↩︎
  70. কোরআন 9:29 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  71. কোরআন 9:5 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  72. সহিহ বুখারি ৪৬৫৫: বারাআত প্রচার ↩︎
  73. কোরআন 49:2 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  74. সহিহ বুখারি ৪৮৪৫ ↩︎
  75. কোরআন 2:183 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  76. কোরআন 2:190,2:191 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  77. কোরআন 2:193 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  78. কোরআন 8:39 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  79. কোরআন 8:60 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  80. কোরআন 47:4 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  81. কোরআন 62:9 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  82. কোরআন 62:11 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  83. কোরআন 24:4 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  84. কোরআন 24:31 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  85. কোরআন 4:34 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  86. কোরআন 33:50 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  87. কোরআন 5:33 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  88. কোরআন 5:90 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  89. কোরআন 66:1 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  90. সুনান নাসাঈ ৩৯৫৯ ↩︎
  91. সহিহ বুখারি ৪৯১২ ↩︎
  92. কোরআন 66:5 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  93. কোরআন 3:59 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  94. কোরআন 49:6 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  95. কোরআন 5:1 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  96. কোরআন 5:38 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  97. কোরআন 4:2 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  98. কোরআন 2:196 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  99. কোরআন 2:120 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  100. কোরআন 4:20 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  101. কোরআন 4:3 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  102. কোরআন 33:5 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  103. কোরআন 99:1,99:2,99:3 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  104. কুরতুবি: সূরা যিলযালের ভূমিকা ↩︎
  105. কোরআন 6:151 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  106. সুয়ুতি, আল-ইতকান: মক্কী–মদিনী ও নাজিলক্রম ↩︎
  107. কোরআন 18:83 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  108. কুরতুবি, কাহফ ১৮:৮৩ ↩︎
  109. কোরআন 9:111 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  110. কোরআন 107:6 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  111. কুরতুবি: মক্কী–মদিনী মতভেদ ↩︎
  112. কোরআন 5:3 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  113. সহিহ বুখারি ৪৫ ↩︎
  114. ইবনে কাসির, দশম হিজরির বিদায় হজ ↩︎
  115. কোরআন 110:1,110:2,110:3 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  116. সহিহ বুখারি ৪৯৭০ ↩︎
  117. কোরআন 2:281 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  118. সহিহ বুখারি ৪৫৪৪ ↩︎
  119. কোরআন 4:176 ও ইবনে কাসিরের তাফসির ↩︎
  120. সহিহ বুখারি ৪৬০৫ ↩︎
  121. সহিহ মুসলিম ১৪৫২ক ↩︎
  122. নববী, শরহ সহিহ মুসলিম, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ২৪–২৫ ↩︎
  123. সহিহ মুসলিম ১৪৫৩ক ↩︎
  124. সুনান ইবনে মাজাহ ১৯৪৪ ↩︎
  125. সহিহ বুখারি ৬৮৩০ ↩︎
  126. সহিহ মুসলিম ১০৫০ ↩︎
  127. সহিহ মুসলিম ১০৫০: দ্বিতীয় সূরার বিবরণ ↩︎
  128. নববী, শরহ সহিহ মুসলিম, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ২৫ ↩︎

About This Article

Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis

Epistemic Position: Scientific Skepticism and Secular Humanist Ethics

This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.

Its purpose is evidence-based critical examination of religious, philosophical, moral, and historical claims.

One thought on

  1. আমি জানতে চাই,
    ১। সুরার নামকরণ কে করেছেন
    ২। একটি সুরা একবারে নাযিল হয়েছে নাকি আয়াত হিসেবে অনেকদিন যাবৎ নাযিল হয়েছে
    ৩। একটি সুরা নাযিল শেষ হওয়ার পর অন্য সুরা নাযিল হয়েছে নাকি মাঝখানে অন্য সুরার কিয়দংশ নাযিল হয়েছে
    অন্য বিষয়ঃ
    ১। বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যায় আদমের উচ্চতা ছিলো ৬০ ফুট কিন্তু হাওয়ার উচ্চতার ব্যপারে কিছু জানা যায় না

Leave a comment

Your email will not be published.