অজ্ঞেয়বাদী নাস্তিকতার জ্ঞানতত্ত্ব এবং একটি আর্গুমেন্ট

Table of Contents

সারাংশ

এই প্রবন্ধে অজ্ঞেয়বাদী নাস্তিক্যবাদ (Agnostic Atheism)-এর যৌক্তিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক (epistemological) ভিত্তি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অজ্ঞেয়বাদ মূলত একটি জ্ঞানের অবস্থান, যা স্বীকার করে যে কোনো অতিপ্রাকৃত সত্তার অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব সম্পর্কে বর্তমানে কোনো অকাট্য প্রমাণ নেই এবং অনেক ক্ষেত্রে এই বিষয়টি মানুষের জ্ঞানীয় সীমার অতীত। অন্যদিকে, নাস্তিক্যবাদ একটি বিশ্বাস-সংক্রান্ত (doxastic) অবস্থান, যা ঈশ্বরের অস্তিত্বের দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় সেই দাবিকে সত্য বলে গ্রহণ না করা বা বিশ্বাসের অভাব (lack of belief) নির্দেশ করে। এই দুই অবস্থানের সমন্বয়—অজ্ঞেয়বাদী নাস্তিক্যবাদ—মূলত প্রমাণের দায়ভার (burden of proof), নাল হাইপোথিসিস (null hypothesis), অকাম’স রেজোর (Occam’s Razor) এবং “অসাধারণ দাবির জন্য অসাধারণ প্রমাণ” নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রচলিত ধর্মতাত্ত্বিক যুক্তিগুলোর (theological arguments) তাত্ত্বিক অসারতা এবং ফিডেইজমের (fideism) অযৌক্তিকতা পর্যালোচনার মাধ্যমে দেখানো হয়েছে যে, প্রমাণের অনুপস্থিতিতে অজ্ঞেয়বাদী নাস্তিক্যবাদই সর্বাধিক বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সৎ এবং যৌক্তিক অবস্থান।


সংজ্ঞাগত স্পষ্টীকরণ: জ্ঞানতত্ত্ব ও বিশ্বাসের ভিন্নতা

বিশ্বাসের সংজ্ঞা (Definition of Belief)

একাডেমিক দর্শনে (Epistemology), বিলিফ বা বিশ্বাস হলো কোনো একটি প্রস্তাবনা বা দাবিকে (Proposition) সত্য বলে গ্রহণ করার একটি মানসিক অবস্থা বা ‘প্রপোজিশনাল অ্যাটিটিউড’।

  • নোটঃ ইংরেজিতে বিলিফ বা বিশ্বাস মানেই তা সত্য বা মিথ্যা হতে হবে এমন নয়। বরং কোনো ব্যক্তি যখন মনে করেন যে একটি নির্দিষ্ট বিষয় সত্য, তখন সেটিই তার বিশ্বাস। এই বিশ্বাস যদি স্রেফ অনুমানের ওপর ভিত্তি করে হয়, তবে তাকে ‘ব্লাইন্ড ফেইথ’ (Blind Faith) বলা হয়।
  • একাডেমিক রেফারেন্স: স্ট্যানফোর্ড এনসাইক্লোপিডিয়া অব ফিলোসফি (Stanford Encyclopedia of Philosophy) অনুযায়ী, “Belief is the attitude we have, roughly, whenever we take something to be the case or regard it as true.”

জ্ঞানের সংজ্ঞা (Definition of Knowledge)

জ্ঞান হলো ইংরেজি শব্দ বিলিফ বা বিশ্বাসের একটি উন্নত এবং যাচাইকৃত স্তর। প্লেটোর সময় থেকে জ্ঞানকে মূলত ‘যৌক্তিক সত্য বিশ্বাস’ (Justified True Belief বা JTB) হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়।

  • শর্তাবলী: কোনো বিষয়কে জ্ঞান বলতে হলে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হয়:১. বিষয়টি সত্য হতে হবে (Truth)।২. বিষয়টি আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে (Belief)।৩. এই বিশ্বাসের সপক্ষে পর্যাপ্ত যৌক্তিক প্রমাণ বা ভিত্তি থাকতে হবে (Justification)।
  • একাডেমিক রেফারেন্স: প্লেটো তার ‘Theaetetus’ সংলাপে এই ধারণাটি প্রবর্তন করেন। পরবর্তীতে এডমন্ড গেটিয়ার (Edmund Gettier) এটি নিয়ে আরও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ প্রদান করেন।

বিলিভ (Belief) বনাম বিশ্বাস: একটি ভাষাগত ও প্রায়োগিক বিশ্লেষণ

ইংরেজি ‘Belief’ এবং বাংলা ‘বিশ্বাস’ শব্দের ব্যবহারে কিছু দার্শনিক ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়:

বৈশিষ্ট্যইংরেজি ‘Belief’বাংলা ‘বিশ্বাস’ (সাধারণ ব্যবহার)
ব্যাপ্তিএটি একটি নিরপেক্ষ শব্দ। “I believe it will rain” (তথ্যনির্ভর অনুমান) এবং “I believe in God” (ধর্মীয় আস্থা) উভয় ক্ষেত্রেই এটি ব্যবহৃত হয়।বাংলায় ‘বিশ্বাস’ শব্দটি অনেক সময় ‘ভক্তি’ বা ‘আস্থা’-এর সাথে মিশে যায়, যেখানে প্রমাণের অনুপস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রমাণের সম্পর্কদর্শনে এটি প্রমাণের আগের ধাপ। প্রমাণ থাকলে তা ‘Justified Belief’, না থাকলে ‘Unjustified Belief’।বাংলায় “আমার বিশ্বাস আছে” বললে অনেক সময় বোঝানো হয় যে, “প্রমাণ নেই বলেই আমি বিশ্বাস করছি”। অর্থাৎ প্রমাণ থাকলে তাকে মানুষ ‘বিশ্বাস’ না বলে ‘জানার’ (Knowledge) আওতায় ফেলে দেয়।

মূল পার্থক্য: ইংরেজি একাডেমিক পরিভাষায় ‘Belief’ হলো একটি ছাতা (Umbrella) শব্দ, যার নিচে জ্ঞান এবং অন্ধবিশ্বাস উভয়ই অবস্থান করে। কিন্তু বাংলায় আমরা ‘বিশ্বাস’ বলতে সাধারণত সেই অংশটুকুকে বুঝি যা প্রমাণের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নয়। অজ্ঞেয়বাদী নাস্তিক্যবাদের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একজন নাস্তিক ঈশ্বর নেই বলে ‘জানেন’ না (জ্ঞানের অভাব), কিন্তু তিনি ঈশ্বরে ‘বিশ্বাস’ করেন না (মানসিক সম্মতির অভাব)।


  • অজ্ঞেয়বাদ (Agnosticism): এটি জ্ঞানতাত্ত্বিক (epistemological) অবস্থান। এটি দাবি করে যে ঈশ্বরের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান (certainty বা knowledge) অর্জন করা বর্তমান প্রমাণের ভিত্তিতে অসম্ভব। এটি প্রমাণের সীমাবদ্ধতা এবং জ্ঞানের অনিশ্চয়তাকে স্বীকার করে।
  • নাস্তিক্যবাদ (Atheism): এটি বিশ্বাসের অবস্থান। ‘উইক অ্যাথিইজম’ (weak atheism) মূলত ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাসের অভাব (lack of belief in God) নির্দেশ করে, যা কোনো পজিটিভ দাবি (“ঈশ্বর নেই”) করে না। এটি স্রেফ একটি অস্বীকৃতি বা ডিফল্ট অবস্থান।
  • অজ্ঞেয়বাদী নাস্তিক্যবাদ: উভয়ের সমন্বয়। ব্যক্তি স্বীকার করেন যে ঈশ্বরের অস্তিত্বের নিশ্চিত জ্ঞান নেই (অজ্ঞেয়বাদ), এবং প্রমাণের অভাবে বিশ্বাসও স্থাপন করেন না (নাস্তিক্যবাদ)। এটি স্ববিরোধী নয়, কারণ জ্ঞানের অভাব স্বাভাবিকভাবেই যৌক্তিক বিশ্বাসের অভাবের দিকে ধাবিত করে।

সহজভাবে বললে, অজ্ঞেয়বাদী নাস্তিক মনে করেন: “আমি জানি না ঈশ্বর আছেন কি নেই (অজ্ঞেয়বাদ), কিন্তু যেহেতু কোনো প্রমাণ নেই, তাই আমি তার অস্তিত্বে বিশ্বাস করি না (নাস্তিক্যবাদ)।”


জ্ঞানতাত্ত্বিক মূলনীতি: প্রমাণের দায়ভার (Burden of Proof)

যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনে কোনো দাবি সত্য কি না—তা যাচাই করতে কিছু মৌলিক নিয়ম কাজে লাগে। ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে আলোচনা (বা যে কোনো অতিপ্রাকৃত/অসাধারণ দাবি) মূল্যায়নেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

পজিটিভ দাবি এবং প্রমাণের দায়ভার (Positive Claim & Onus Probandi)

যুক্তিবিদ্যার সুপ্রতিষ্ঠিত ধারণা Onus probandi—অর্থাৎ যে ব্যক্তি কোনো দাবিকে সত্য বলে প্রতিষ্ঠা করতে চান, প্রমাণ উপস্থাপনের দায় সাধারণত তাঁরই। যেমন, “ঈশ্বর আছেন”—এটি একটি অস্তিত্ব-দাবি (existence claim)। তাই এই দাবির পক্ষে প্রমাণ দিতে হবে দাবিদারকে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য পরিষ্কার রাখা দরকার:

  • “আমি বিশ্বাস করি না/আমি গ্রহণ করছি না” — এটি মূলত প্রমাণের অভাবে সম্মতি স্থগিত (withholding assent)। এতে আলাদা করে “অস্তিত্বহীনতা প্রমাণ” করার বাধ্যবাধকতা থাকে না।
  • “ঈশ্বর নেই” — এটিও অনেক সময় একটি পৃথক পজিটিভ দাবি (non-existence claim) হিসেবে দাঁড়িয়ে যায়। কেউ যদি নিশ্চিতভাবে এই দাবি করেন, যুক্তিতর্কের মানদণ্ডে সেখানেও ব্যাখ্যা/যুক্তি দেখাতে হয়।

Hitchens’s Razor: “যা প্রমাণ ছাড়া দাবি করা যায়, তা প্রমাণ ছাড়াই প্রত্যাখ্যান করা যায়।”


ডিফল্ট অবস্থান, নাল হাইপোথিসিস ও অকাম’স রেজর (Null Hypothesis & Occam’s Razor)

জ্ঞানতত্ত্বে “ডিফল্ট অবস্থান” সাধারণত এই নয় যে “প্রমাণ না পেলে দাবীটিকে মিথ্যা ধরে নাও”—বরং বেশি নির্ভুলভাবে বলা যায়: প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত সেটিকে সত্য হিসেবে গ্রহণ/বিশ্বাস করা স্থগিত রাখো। বিজ্ঞানী ও দার্শনিক আলোচনায় এটিকে নাল হাইপোথিসিসের মানসিকতা হিসেবে বোঝানো হয়।

  • নাল হাইপোথিসিসের (প্রয়োগগত) ধারণা: পর্যবেক্ষণযোগ্য/পরীক্ষাযোগ্য প্রমাণ আসা পর্যন্ত কোনো অতিরিক্ত সত্তা বা ব্যাখ্যা “ধরে নেওয়া” বাধ্যতামূলক নয়।
  • অকাম’স রেজর: একই তথ্যকে ব্যাখ্যা করার জন্য যদি একাধিক ব্যাখ্যা সম্ভব হয়, তাহলে কম অনুমানকম অতিরিক্ত সত্তা যোগ করে যে ব্যাখ্যাটি কাজ করে, সেটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া যুক্তিসঙ্গত। অর্থাৎ প্রাকৃতিক নিয়ম/কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা যথেষ্ট হলে—অতিরিক্ত, অপ্রমাণিত অতিপ্রাকৃত সত্তা যোগ করা সতর্কতার সাথে বিবেচ্য।

প্রমাণের অনুপস্থিতি বনাম অনস্তিত্বের ইঙ্গিত (Absence of Evidence)

প্রচলিত কথা—“প্রমাণের অনুপস্থিতি মানেই অনস্তিত্বের প্রমাণ নয়”—এটি শর্তসাপেক্ষভাবে ঠিক। যুক্তিবিদ্যায় সাধারণত এই নীতিটি যোগ হয়:

যদি কোনো সত্তা সত্যিই থাকলে তার কিছু নির্দিষ্ট, পর্যবেক্ষণযোগ্য প্রভাব (observable effects) থাকার কথা—এবং যথেষ্ট অনুসন্ধান/পরীক্ষার পরও সেই প্রভাব ধারাবাহিকভাবে অনুপস্থিত থাকে—তাহলে এই অনুপস্থিতি অনস্তিত্বের পক্ষে শক্তিশালী ইঙ্গিত হতে পারে।

অর্থাৎ, “কি ধরনের প্রভাব থাকার কথা” এবং “অনুসন্ধান কতটা যথেষ্ট” — এই দুইটি বিষয় পরিষ্কার না হলে ‘absence of evidence’ থেকে খুব তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্তে যাওয়া যুক্তিসঙ্গত হয় না।


অসাধারণ দাবির জন্য শক্তিশালী প্রমাণ (Extraordinary Claims)

কার্ল সেগানের বহুল উদ্ধৃত নীতি হলো: “Extraordinary claims require extraordinary evidence.” ঈশ্বরের অস্তিত্ব-দাবি অনেকের কাছে মহাবিশ্ব, কারণ-কার্য, প্রকৃতির নিয়ম—এসবের ব্যাখ্যায় একটি বড় ধরণের (এবং অনেক ক্ষেত্রে অতিপ্রাকৃত) দাবি হিসেবে উপস্থিত হয়। তাই এই দাবির পক্ষে সাধারণত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, অনুভূতি, বা কেবল কর্তৃত্ব-উদ্ধৃতি নয়—বরং বস্তুনিষ্ঠ, পুনরাবৃত্তিযোগ্য/যাচাইযোগ্য প্রমাণ চাই—যা নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হলো “এমন প্রমাণ আদৌ আছে কি না।”


‘শূন্যস্থানের ঈশ্বর’ যুক্তিভ্রান্তি (God of the Gaps Fallacy)

কখনো কখনো অমীমাংসিত প্রশ্নের জায়গায়—যেমন “প্রাণের উৎপত্তি”, “মহাবিশ্বের শুরু”—সরাসরি ঈশ্বরকে “ফাঁক পূরণকারী” ব্যাখ্যা হিসেবে বসানো হয়। একে বলা হয় God of the Gaps। সমস্যাটি হলো, “এখনো ব্যাখ্যা জানা নেই” থেকে “অতএব ঈশ্বরই কারণ”—এই লাফটি যুক্তিগতভাবে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নয়। বিজ্ঞানের ইতিহাসে দেখা যায়, বহু ‘অজানা’ বিষয় পরে প্রাকৃতিক ব্যাখ্যায় পরিষ্কার হয়েছে—তাই অজ্ঞতাকে সরাসরি অস্তিত্ব-প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করলে সেটি যুক্তিগতভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।


সারসংক্ষেপ: প্রমাণের দায়ভার সাধারণত দাবিদারের ওপর; প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত সম্মতি স্থগিত রাখা (নাল হাইপোথিসিসের মানসিকতা) যুক্তিসঙ্গত; একই তথ্যের ব্যাখ্যায় অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সত্তা না টেনে আনার প্রবণতা (অকাম’স রেজর) সহায়ক; এবং “অজানা” জায়গা দিয়ে সরাসরি সিদ্ধান্ত টানা (God of the Gaps) যুক্তিভ্রান্তিতে নিয়ে যেতে পারে। ফলে, ঈশ্বরের অস্তিত্ব-দাবি গ্রহণ বা বর্জন—উভয় ক্ষেত্রেই মূল প্রশ্ন দাঁড়ায়: দাবির পক্ষে কী ধরনের যাচাইযোগ্য প্রমাণ আছে, এবং সেই প্রমাণ কতটা শক্তিশালী?


অজ্ঞেয়বাদী নাস্তিক্যবাদের আর্গুমেন্ট

ভিত্তি ১ (জ্ঞানতাত্ত্বিক নীতি: Burden of Proof)

কোনো সত্তার অস্তিত্ব সম্পর্কে পজিটিভ দাবি (positive claim, যেমন “ঈশ্বর আছে”) করার জন্য দাবিকারীর উপর প্রমাণের দায়িত্ব (burden of proof) পড়ে। প্রমাণ ছাড়া সেই দাবিকে গ্রহণ করা অযৌক্তিক, কারণ ডিফল্ট অবস্থান হলো বিশ্বাসের অভাব (null hypothesis)—অর্থাৎ অস্তিত্বের দাবি গ্রহণ না করা যতক্ষণ না তা পর্যাপ্তভাবে প্রমাণিত হয়। এটি সায়েন্স এবং ফিলোসফিতে গৃহীত প্রিন্সিপল: absence of evidence can be evidence of absence যদি আমরা evidence আশা করি (যেমন, একটি অমনিপ্রেজেন্ট ঈশ্বরের ক্ষেত্রে observable effects আশা করা যায়)।

ভিত্তি ২ (পর্যবেক্ষণ: প্রমাণের অভাব)

ঈশ্বর বা অতিপ্রাকৃত শক্তির অস্তিত্বের স্বপক্ষে কোনো বস্তুনিষ্ঠ, যাচাইযোগ্য, বৈজ্ঞানিক বা অকাট্য কোন প্রমাণ আমাদের কাছে নেই। থিওলজিকাল আর্গুমেন্টস (যেমন cosmological, ontological, teleological) লজিক্যালি flawed বা unsound: উদাহরণস্বরূপ, কজমোলজিকাল আর্গুমেন্ট infinite regress সমস্যায় পড়ে এবং বিগ ব্যাং বা কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনের মতো ন্যাচারাল এক্সপ্লানেশনস দিয়ে রিফিউট হয়; প্রবলেম অফ ইভিল (problem of evil) ট্রাই-অমনি গডকে logically inconsistent করে। এম্পিরিকাল প্রমাণ (যেমন miracles বা prayer studies) যাচাই করলে র্যান্ডম চান্স বা প্লাসিবো ইফেক্টস দিয়ে এক্সপ্লেইন হয়, কোনো সুপারন্যাচারাল ইন্টারভেনশন প্রুভ হয় না। সায়েন্টিফিক কনসেনসাস: ইউনিভার্সের অরিজিন এবং লাইফ ন্যাচারাল প্রসেসেস (evolution, abiogenesis) দিয়ে এক্সপ্লেইনযোগ্য, কোনো গড-গ্যাপ দরকার হয় না। প্রমাণ না থাকলে যৌক্তিক অবস্থান হওয়া উচিত ‘অজানা’ বলে স্বীকার করা। যেমন রাসেলের টিপট উদাহরণ দেখায়: অসংগত/অপরীক্ষাযোগ্য দাবিকে প্রমাণ ছাড়াই গ্রহণ করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

ভিত্তি ৩ (অজ্ঞেয়বাদী অবস্থান: নিশ্চিত জ্ঞানের অভাব)

প্রমাণের অভাবে ঈশ্বরের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান বর্তমানে নেই অথবা ভবিষ্যতেও অসম্ভব হতে পারে। এটি evidentialism-এর উপর ভিত্তি করে: বিশ্বাস justified হতে হলে evidence দরকার, নইলে suspend judgment। অ্যাগনোস্টিসিজম এখানে আসে—আমরা “জানি না” কারণ প্রমাণ neutral বা অপর্যাপ্ত। কিন্তু এটি অ্যাথিইজমকে বাতিল করে না, কারণ জ্ঞানের অভাব বিশ্বাসের অভাবকে সমর্থন করে।

ভিত্তি ৪ (বিশ্বাস বনাম প্রমাণের অভাব: যৌক্তিকতা)

বিশ্বাস justified হতে হলে প্রমাণ দরকার—এটি rational belief-এর প্রিন্সিপল। প্রমাণের অভাবে বিশ্বাস স্থাপন করা অযৌক্তিক (যেমন, arbitrary বা wishful thinking)। ফিডেইজম (প্রমাণ ছাড়া বিশ্বাস) কে রিফিউট: এটি লজিক্যালি দুর্বল, কারণ যেকোনো contradictory বিশ্বাস (যেমন multiple gods) সমানভাবে “ফেইথ” দিয়ে জাস্টিফাই করা যায়, যা reductio ad absurdum হয়। প্যাসকালের ওয়েজার কাউন্টার: infinite possible gods আছে, wrong belief-এর penalty সমান, এবং বিশ্বাসকে force করা যায় না—এটি irrational। প্রমাণের অভাবে বিশ্বাসের অভাবই যৌক্তিক ডিফল্ট।

সিদ্ধান্ত/উপসংহার

অতএব, প্রমাণের অভাবে ঈশ্বরের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান নেই (অজ্ঞেয়বাদী), এবং সেই কারণে বিশ্বাসও নেই (নাস্তিক)। এটি অ্যাগনোস্টিক অ্যাথিইজম—যা র‍্যাশনাল, এভিডেন্স-ভিত্তিক অবস্থান। কোনো প্রমাণ না থাকলে এটি সত্যতা প্রতিষ্ঠা করে না, কিন্তু বিশ্বাসকে unjustified করে। যদি নতুন প্রমাণ আসে, অবস্থান পরিবর্তনযোগ্য—কিন্তু বর্তমানে, এটি যৌক্তিকভাবে সবচাইতে নিখুঁত যুক্তিযুক্ত অবস্থান।


সম্ভাব্য সমালোচনা ও তার খণ্ডন

  • সমালোচনা: অজ্ঞেয়বাদী নাস্তিক্যবাদ একটি দ্বিধাগ্রস্ত বা ভীরু অবস্থান।
  • খণ্ডন: এটি epistemic humility; প্রমাণ-অনুপস্থিতিতে belief-suspension; এবং evidence-driven stance। বরং জ্ঞানের সীমাবদ্ধতাকে সততার সাথে স্বীকার করা। অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও অপ্রমাণিত দাবিকে প্রত্যাখ্যান করা একটি সাহসী যৌক্তিক সিদ্ধান্ত।
  • সমালোচনা: নাস্তিক্যবাদেরও কি প্রমাণের দায়ভার নেই?
  • খণ্ডন: নাস্তিক্যবাদ যখন ‘Lack of belief’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত হয়, তখন তার কোনো প্রমাণের দায়ভার থাকে না। দায়ভার কেবল তখনই আসে যখন কেউ দাবি করে “ঈশ্বর নেই” (Strong Atheism)। তবে প্রবলেম অফ ইভিলের মাধ্যমে স্ট্রং অ্যাথিইজমও শক্তিশালী যুক্তি উপস্থাপন করে।

উপসংহার

অজ্ঞেয়বাদী নাস্তিক্যবাদ একটি বুদ্ধিবৃত্তিক সততা (Intellectual Honesty)-র বহিঃপ্রকাশ। প্রমাণের অভাবে ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান না থাকা এবং ফলস্বরূপ বিশ্বাস স্থাপন না করা একটি ডিফল্ট এবং বিজ্ঞানমনস্ক অবস্থান। এটি কোনো গোঁড়া অবস্থান নয়; যদি ভবিষ্যতে কোনো অকাট্য এবং যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপিত হয়, তবে এই অবস্থান পরিবর্তনযোগ্য। তবে বর্তমান বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক প্রেক্ষাপটে এটিই সর্বাধিক শক্তিশালী এবং যৌক্তিক অবস্থান।