ইসলামি আইনশাস্ত্রে ‘রজম’ বা প্রস্তরাঘাতঃ প্রেমের শাস্তি পাথর ছুড়ে হত্যা

ভূমিকা

সমকালীন ভূ-রাজনীতিতে আফগানিস্তানের তালেবান কিংবা সিরিয়া-ইরাকের আইসিসের মতো গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ডকে প্রায়শই ‘ধর্মের অপব্যাখ্যা’ হিসেবে অভিহিত করে এক ধরণের বুদ্ধিবৃত্তিক আড়াল তৈরির চেষ্টা করা হয়। তথাকথিত ‘মডারেট’ বা উদারপন্থী মুসলিমরা দাবি করেন যে, জনসমক্ষে গর্ত খুঁড়ে পাথর ছুড়ে হত্যা করার মতো প্রথাগুলো ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার পরিপন্থী। তবে ঐতিহাসিক দলিল, ধর্মতাত্ত্বিক উৎস এবং ইসলামি আইনশাস্ত্রের (ফিকহ) প্রাথমিক উৎসগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই দাবিটি তথ্যগতভাবে দুর্বল এবং আবেগপ্রসূত। এই প্রবন্ধের উদ্দেশ্য হলো, কোনো প্রকার রাজনৈতিক শিষ্টাচার (Political Correctness) বা ধর্মীয় সংবেদনশীলতাকে তোয়াক্কা না করে, শুধুমাত্র লজিক্যাল ডিডাকশন এবং ঐতিহাসিক প্রমাণের ভিত্তিতে রজম বা প্রস্তরাঘাতের বিধানটিকে একটি আদিম ও বর্বর আইন হিসেবে ব্যবচ্ছেদ করা।


নৈতিকতার দ্বিমুখী মানদণ্ড: প্রেম বনাম বৈধ যৌন-দাসত্ব

ইসলামি নৈতিকতা ব্যবস্থার একটি বড় বৈপরীত্য হলো এর যৌনতার সংজ্ঞা। যে ব্যবস্থায় একজন পুরুষ চারটি বিবাহ, অগণিত দাসী (Concubine) ভোগ [1], এবং যুদ্ধবন্দী নারীদের সাথে কোন সম্মতি ছাড়াই যৌন মিলনকে ‘হালাল’ বা বৈধ মনে করে [2], এমনকি নাবালিকা বা শিশু মেয়ের সাথে যৌনকর্মকে হালাল করে [3], সেই একই ব্যবস্থা দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পারস্পরিক সম্মতিক্রমে গড়ে ওঠা প্রেম বা যৌনতাকে ‘যিনা’ বা মহাপাপ হিসেবে চিহ্নিত করে। এখানে নৈতিকতার ভিত্তি ‘সম্মতি’ (Consent) নয়, বরং ‘মালিকানা’ ও ‘চুক্তি’।

মানবিক প্রেমের যে অদম্য আবেগ—যা শিল্প, সাহিত্য ও সভ্যতার প্রাণ—তাকে ইসলামি শরীয়াহ শুধুমাত্র একটি আইনি চুক্তির (নিকাহ) ফ্রেমে বন্দি করতে চায়। এই কাঠামোর বাইরে যে কোনো আবেগীয় বা শারীরিক বহিঃপ্রকাশকে পাথর ছুড়ে হত্যার মতো চরম বর্বরতার মাধ্যমে দমন করা হয়। আধুনিক মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি কেবল নিষ্ঠুরতাই নয়, বরং মানুষের মৌলিক ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর এক চরম আঘাত।


কোরআনিক টেক্সট বনাম হারিয়ে যাওয়া আয়াতের রহস্য

একটি কৌতূহলোদ্দীপক প্রশ্ন হলো, বর্তমান কোরআনে প্রস্তরাঘাতের কোনো স্পষ্ট নির্দেশ নেই (সেখানে কেবল ১০০ বেত্রাঘাতের কথা আছে), তবুও কেন এটি ইসলামি আইনের অবিচ্ছেদ্য অংশ? ইসলামি ঐতিহ্য এবং সহিহ হাদিসগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোরআনের সংকলন প্রক্রিয়ায় কিছু টেক্সট বা আয়াত ‘হারিয়ে’ গেছে অথবা ‘রহিত’ (Abrogated) হয়েছে।

ইসলামি ধর্মতত্ত্বে একটি অদ্ভুত ও বিতর্কিত বিষয় হলো ‘মানসুখ আল-তিলাওয়াহ’ বা এমন আয়াত যার পাঠ রহিত হয়ে গেছে কিন্তু বিধান রয়ে গেছে। ইসলামি পণ্ডিতদের মতে, প্রস্তরাঘাতের বিধানটি এক সময় কোরআনের অংশ ছিল। সাহাবীদের বর্ণনা এবং প্রাচীন পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী সেই হারানো আয়াতটি ছিল নিম্নরূপ:

“الشيخ والشيخة إذا زنيا فارجموهما البتة نكالا من الله والله عزيز حكيم”
অনুবাদ: “বয়স্ক পুরুষ এবং বয়স্ক নারী (বিবাহিত) যখন ব্যভিচার করবে, তখন তাদের উভয়কে অবশ্যই পাথর ছুড়ে হত্যা করো। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত শাস্তি এবং আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।” [4]

এই আয়াতটি বর্তমানে প্রচলিত কোরআনের কোনো মুসহাফে (পুস্তকে) নেই। খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, মানুষ যেন একে কোরআনের বাইরে মনে না করে। তিনি এমনকি আশঙ্কা করেছিলেন যে, কোনো এক সময় মানুষ কোরআনে এটি খুঁজে না পেয়ে এই ‘ফরজ’ বিধানটি পরিত্যাগ করবে। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে এটি একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায় যে, যে গ্রন্থকে ‘সুরক্ষিত’ দাবি করা হয়, তার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দণ্ডবিধির টেক্সট কীভাবে একটি ছাগল খেয়ে ফেলার মাধ্যমে বা অন্য কোনোভাবে হারিয়ে যেতে পারে? এটি ইসলামি সংকলনের ঐতিহাসিক স্বচ্ছতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। এবারে দেখি, সেই বিখ্যাত ছাগলে খেয়ে যাওয়া কোরআনের আয়াতের হাদিসটি [5]

অর্থাৎ নবী মুহাম্মদের স্ত্রী আয়িশার বর্ণনামতে: “রজম সম্পর্কিত আয়াত এবং বয়স্ক লোকের দশ ঢোক দুধপান সম্পর্কিত আয়াত নাযিল হয়েছিল, যা একটি সহীফায় আমার খাটের নিচে সংরক্ষিত ছিল। যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন এবং আমরা তাঁর ইন্তিকালে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়লাম, তখন একটি ছাগল এসে তা খেয়ে ফেলে” । এই বর্ণনাটি কোরআনের অলঙ্ঘনীয়তা এবং পূর্ণাঙ্গতার যে প্রচলিত দাবি, তাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়।

একইভাবে দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব তাঁর মিম্বারে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন: “নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদ (সা.)-কে সত্য দীনসহ পাঠিয়েছেন এবং তাঁর ওপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। আল্লাহর নাযিলকৃত বিষয়ের মধ্যে রজমের আয়াত রয়েছে। তা আমরা পাঠ করেছি, স্মরণ রেখেছি এবং হৃদয়ঙ্গম করেছি… আমি ভয় করছি যে, দীর্ঘদিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর কেউ হয়তো বলবে যে, আমরা আল্লাহর কিতাবে রজমের নির্দেশ পাই না” [6]। এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে, ইসলামি আইন প্রণেতারা লিখিত টেক্সটের অনুপস্থিতিতেও এই আদিম প্রথাকে টিকিয়ে রাখার জন্য কতটা সংকল্পবদ্ধ ছিলেন।


সুন্নাহর নামে বর্বরতার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ

ইসলামি শরীয়তে হাদিস হলো আইনের দ্বিতীয় প্রধান উৎস। হাদিস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মুহাম্মদ নিজেই এই বর্বর প্রথাটি একাধিকবার বাস্তবায়ন করেছেন। মুয়াত্তাহ মালিকের একটি বর্ণনা অত্যন্ত ভয়াবহ এবং একইসাথে আলাদাভাবে সমালোচনার দাবি রাখে। ইহুদি ধর্মাবলম্বী দুইজন ব্যভিচারীকে যখন মুহাম্মদের কাছে আনা হয়, তখন তিনি তাওরাতের আইনের দোহাই দিয়ে তাদের রজমের নির্দেশ দেন। সেখানে বর্ণিত হয়েছে: “আমি দেখলাম, পুরুষটি ঐ নারীকে আঘাত হইতে রক্ষা করিতে তাহার উপর ঝুঁকিয়া পড়িতেছিল”

এখানে লক্ষণীয় যে, যে আবেগ বা ভালোবাসা একজন মানুষকে নিজের জীবন দিয়ে সঙ্গীকে রক্ষা করতে উদ্বুদ্ধ করে, মুহাম্মদ বা তাঁর ঈশ্বর সেই আবেগের কোনো মূল্যই দেননি। তাদের কাছে ‘আইন’ এবং ‘শাস্তি’ ছিল মানবিক সহমর্মিতার চেয়ে বড়। এছাড়াও মায়েয ইবনে মালেক এবং গামেদী গোত্রীয় নারীর ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, মুহাম্মদ এমন এক ত্রাসের রাজত্ব তৈরি করেছিলেন যেখানে মানুষ অপরাধবোধে জর্জরিত হয়ে নিজের মৃত্যুকে নিজেই আলিঙ্গন করতে আসত। গামেদী নারীর ক্ষেত্রে দেখা যায়, তাঁর দুগ্ধপোষ্য শিশু থাকা সত্ত্বেও তাকে দুধ ছাড়ানো পর্যন্ত অপেক্ষা করিয়ে তারপর পাথর ছুড়ে হত্যা করা হয়। এই দীর্ঘ অপেক্ষা এবং তারপর পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ মধ্যযুগীয় পৈশাচিকতার চরম নিদর্শন।


শরিয়তের উৎসঃ প্রাসঙ্গিক হাদিসসমূহ

এবারে আসুন হাদিসগুলো পড়ি, [7] [8]

আল লু’লুওয়াল মারজান
অধায় : হুদুদ
হাদীস নং : ১১০৫
শায়বানী (রহ.) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ্ ইব্‌নু আবূ আওফা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রজম করেছেন কি? তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, সূরায়ে নূর-এর আগে না পরে? তিনি বললেন, আমি অবগত নই। (বুখারী পর্ব ৮৬ অধ্যায় ২১ হাদীস নং ৬৮১৩; মুসলিম ২৯/৬, হাঃ ১৭০২)
হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস
(বুখারী পর্ব ৮৬ অধ্যায় ২১ হাদীস নং ৬৮১৩; মুসলিম ২৯/৬, হাঃ ১৭০২)

সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
অধ্যায়ঃ ২৯। কাসামাহ্ (খুন অস্বীকার করলে হলফ নেয়া), মুহারিবীন (লড়াই), কিসাস (খুনের বদলা) এবং দিয়াত (খুনের শাস্তি স্বরূপ জরিমানা)
হাদিস নম্বরঃ ৪২৬৭
৬. মুসলিম ব্যক্তির হত্যা কি অবস্থায় বৈধ
৪২৬৭-(২৫/১৬৭৬) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ….. ‘আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন মুসলিমকে হত্যা করা বৈধ নয়, যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বুদ নেই এবং আমি আল্লাহর রসূল। কিন্তু তিনটি কাজের যে কোন একটি করলে (তা বৈধ)।
১. বিবাহিত ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত হলে; ২. জীবনের বিনিময়ে জীবন, অর্থাৎ কাউকে হত্যা করলে; ৩. এবং স্বীয় ধর্ম পরিত্যাগকারী, যে (মুসলিমদের) দল থেকে বিচ্ছিন্ন (মুরতাদ) হয়ে যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২২৮, ইসলামিক সেন্টার ৪২২৮)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
সহিহ মুসলিম ৪২৬৭

নিচের হাদিসটি থেকে জানা যায়, নবি মুহাম্মদ, তারপরে আবু বকর, এবং উমরও রজমের শাস্তি দিতেন। হযরত উমর এমন আশঙ্কাও ব্যক্ত করেছিলেন যে, মুসলিমরা হয়তো ভবিষ্যতে রজমের শাস্তি ভুলে গিয়ে তা অস্বীকার করে বসবে।[9]

সূনান তিরমিজী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
অধ্যায়ঃ ১৭/ দন্ডবিধি
পরিচ্ছেদঃ ‘রজম’-এর প্রমাণ।
১৪৩৭। আহমাদ ইবনু মানী (রহঃ) … উমার ইবনু খাত্তব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘রজম’-এর বিধান দিয়েছেন, আবূ বাকরও ‘রজম’-এর বিধান দিয়েছেন আর আমিও ‘রজম’-এর বিধান দিয়েছি। আল্লাহর কিতাবে অতিরিক্তকরণ যদি আমি হারাম মনে না করতাম তবে অবশ্যই আমি এই বিধানটি আল্লাহর কিতাবে লিখে দিতাম। কারণ আমি আশংকা করি (ভবিষ্যতে) একদল লোক হয়ত এমন আসবে তারা যখন ‘‘রজম’’-এর বিধান আল্লাহর কিতাবে পাবে না তখন তা অস্বীকার করে বসবে।
সহীহ, তা’লীক আলা ইবনু মাজাহ, ইরওয়া ৮/৫০৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৩১ (আল মাদানী প্রকাশনী)
এই বিষয়ে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। একাধিক সূত্রে এটি উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সূত্রে বর্ণিত আছে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)

নবী মুহাম্মদ যে অনেকবারই রজমের শাস্তি প্রয়োগ করেছেন, তার আরো অনেকগুলো সহিহ হাদিসের বর্ণনা রয়েছে। [10] [11]

সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
হাদিস নম্বর ২৭২৪
পরিচ্ছেদঃ ৫৪/৯. দন্ড বিধিতে যে সকল শর্ত বৈধ নয়।
আবূ হুরায়রা ও যায়দ ইব্‌নু খালিদ জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তাঁরা বলেন, এক বেদুঈন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনাকে আল্লাহ্‌র শপথ দিয়ে বলছি, আমার ব্যাপারে আল্লাহ্‌র কিতাব মত ফয়সালা করুন।’ তখন তার প্রতিপক্ষ, যে তার তুলনায় বেশি জ্ঞান-বুদ্ধি সম্পন্ন সে বলল, ‘হ্যাঁ, আপনি আমাদের মধ্যে আল্লাহ্‌র কিতাব মত ফয়সালা করুন এবং আমাকে বলার অনুমতি দিন।’ আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘বল’। সে বলল, আমার ছেলে এর নিকট মজুর ছিলো। সে তার স্ত্রীর সঙ্গে যিনা করেছে। আমাকে অবহিত করা হয়েছে যে, আমার ছেলের প্রাপ্য দণ্ড হল রজম। তখন আমি তাকে (ছেলেকে) একশ’ বকরী এবং একটি বাঁদীর বিনিময়ে তার নিকট হতে ছাড়িয়ে এনেছি। পরে আমি আলিমদের জিজ্ঞেস করলাম। তাঁরা আমাকে জানালেন যে, আমার ছেলের দণ্ড হল একশ’ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের নির্বাসন। আর এই লোকের স্ত্রীর দণ্ড হল রজম। আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, অবশ্যই আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহ্‌র কিতাব অনুযায়ী ফায়সালা করব। বাঁদী এবং একশ’ বকরী তোমাকে ফেরত দেয়া হবে। আর তোমার ছেলের শাস্তি একশ’ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের নির্বাসন। হে উনায়স! আগামীকাল সকালে এ লোকের স্ত্রীর নিকট যাবে। যদি সে স্বীকার করে তাহলে তাকে রজম করবে। রাবী বলেন, উনায়স (রাঃ) পরদিন সকালে সে স্ত্রীলোকের নিকট গেলেন। সে অপরাধ স্বীকার করল।তখন আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশে তাকে রজম করা হল।
হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস
সহিহ বুখারী ২৭২৪, ২৭২৫

সহিহ বুখারী ৫২৭১
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর নিকট এল, তখন তিনি মসজিদে ছিলেন। লোকটি তাঁকে ডেকে বলল, হে আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! হতভাগা ব্যভিচার করেছে। সে এ কথা দিয়ে নিজেকে বোঝাতে চাইল। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তিনি যেদিকে ফিরলেন সে সেদিকে গিয়ে আবার বলল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! হতভাগা ব্যভিচার করেছে। তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন। অতঃপর সেও সে দিকে গেল যে দিকে তিনি মুখ ফিরালেন এবং আবার সে কথা বলল। তিনি চতুর্থবার মুখ ফিরিয়ে নিলে সেও সেদিকে গেল। যখন সে নিজের ব্যাপারে চারবার সাক্ষী দিল, তখন রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ডেকে বললেনঃ তুমি কি পাগল হয়েছ? সে বলল, না।নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তাকে নিয়ে যাও এবং রজম কর।লোকটি ছিল বিবাহিত। (৬৮১৫, ৬৮২৫, ৭১৬৭; মুসলিম ২৯/৫, হাঃ ১৬৯১, আহমাদ ১৪৪৬৯) আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৮০)
হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস
সহিহ বুখারী ৫২৭০, ৫২৭১, ৫২৭২

সহিহ বুখারী ৫২৭২
যুহরী (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
যুহরী (রহঃ) বলেন, জাবির ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ) থেকে যিনি শুনেছেন, তিনি আমাকে বলেছেন, রজমকারীদের মধ্যে আমিও একজন ছিলাম। আমরা মাদীনাহ্‌র মুসল্লায় (অর্থাৎ ঈদগাহে) তাকে রজম করলাম। পাথর যখন তাকে অতিষ্ঠ করে তুলল, সে তখন পালিয়ে গেল। হাররায় আমরা তাকে পাকড়াও করলাম এবং রজম করলাম। অবশেষে সে মৃত্যু বরণ করলো। (৫২৭০; মুসলিম ২৯/৫, হাঃ ১৬৬১, আহমাদ ১৪৪৬৯) আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৮০)
হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস
সহিহ বুখারী ৫২৭০, ৫২৭১, ৫২৭২

সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
৩০। অপরাধের (নির্ধারিত) শাস্তি
পরিচ্ছেদঃ ৫. যে ব্যক্তি নিজে ব্যভিচার স্বীকার করে
হাদিস একাডেমি নাম্বারঃ ৪৩২৪ , আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১৬৯৫
৪৩২৪-(২৩/…) আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ….. আব্দুল্লাহ ইবনু বুরাইদাহ (রহঃ) এর বরাতে তার পিতা থেকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, মাইয ইবনু মালিক আসলামী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলে বলল, হে আল্লাহর রসূল! নিশ্চয়ই আমি আমার আত্মার উপর যুলম করেছি, অর্থাৎ ব্যভিচার করেছি। আমি চাই যে, আপনি আমাকে পবিত্র করবেন। তখন তিনি তাকে ফিরিয়ে দিলেন। পরের দিন সে আবার তার (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি ব্যভিচার করেছি। এবারও তিনি তাকে ফিরিয়ে দিলেন।
এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক ব্যক্তিকে তার সম্প্রদায়ের লোকের কাছে পাঠালেন। লোক সেখানে গিয়ে তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা কি মনে করেন যে, তার মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটেছে এবং সে মন্দ কাজে লিপ্ত হয়েছে? তারা প্রতি উত্তরে বললেন, আমরা তো তার মস্তিষ্কের বিকৃতি সম্পর্কে কোন কিছু জানি না। আমরা তো জানি যে, সে সম্পূর্ণ সুস্থ প্রকৃতির।
এরপর মাইয তৃতীয়বার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আগমন করলো। তখন তিনি আবারও একজন লোককে তার গোত্রের কাছে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রেরণ করলেন। তখনও তারা তাকে জানালো যে, আমরা তার সম্পর্কে খারাপ কোন কিছু জানি না এবং তার মস্তিষ্কেরও কোন বিকৃতি ঘটেনি। এরপর যখন চতুর্থবার সে আগমন করলো, তখন তার জন্য একটি গর্ত খনন করা হল এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার প্রতি (ব্যভিচারের শাস্তি প্রদানের) নির্দেশ প্রদান করলেন। সুতরাং তাকে পাথর নিক্ষেপ করা হল।
বর্ণনাকারী বলেন, এরপর গামিদী এক মহিলা এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি ব্যভিচার করেছি। সুতরাং আপনি আমাকে পবিত্র করুন। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে ফিরিয়ে দিলেন। পরবর্তী দিন আবার ঐ মহিলা আগমন করলো এবং বলল, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কেন আমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। আপনি সম্ভবত আমাকে ঐভাবে ফিরিয়ে দিতে চান, যেমনভাবে আপনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মাইযকে? আল্লাহর শপথ করে বলছি, নিশ্চয়ই আমি গর্ভবতী। তখন তিনি বললেন, তুমি যদি ফিরে যেতে না চাও, তবে আপাততঃ এখনকার মত চলে যাও এবং প্রসবকাল পর্যন্ত অপেক্ষা কর।
রাবী বলেন, এরপর যখন সে সন্তান প্রসব করল- তখন ভূমিষ্ঠ সন্তানকে এক টুকরা কাপড়ের মধ্যে নিয়ে তার কাছে আগমন করলো এবং বলল, এ সন্তান আমি প্রসব করেছি। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যাও তাকে (সন্তানকে) দুধ পান করাও। দুধপান করানোর সময় পার হলে পরে এসো। এরপর যখন তার দুধপান করানোর সময় শেষ হল তখন ঐ মহিলা শিশু সন্তানটিকে নিয়ে তার কাছে মহিলাটি আবার আগমন করলো- এমন অবস্থায় যে, শিশুটির হাতে এক টুকরা রুটি ছিল। এরপর বলল, হে আল্লাহর নবী! এইতো সেই শিশু, যাকে আমি দুধপান করানোর কাজ শেষ করেছি। সে এখন খাদ্য খায়। তখন শিশু সন্তানটিকে তিনি কোন একজন মুসলিমকে প্রদান করলেন। এরপর তার প্রতি (ব্যভিচারের শাস্তি) প্রদানের নির্দেশ দিলেন।
মহিলার বক্ষ পর্যন্ত গর্ত খনন করানো হল এরপর জনগণকে (তার প্রতি পাথর নিক্ষেপের) নির্দেশ দিলেন। তারা তাকে পাথর মারতে শুরু করল। খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাযিঃ) একটি পাথর নিয়ে অগ্রসর হলেন এবং মহিলার মাথায় নিক্ষেপ করলেন, তাতে রক্ত ছিটকে পড়লো খালিদ (ইবনু ওয়ালীদ) (রাযিঃ) এর মুখমণ্ডলে। তখন তিনি মহিলাকে গালি দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার গালি শুনতে পেলেন। তিনি বললেন, সাবধান! হে খালিদ! সে মহান আল্লাহর শপথ, যার হস্তে আমার জীবন, জেনে রেখো! নিশ্চয়ই সে এমন তওবা করেছে, যদি কোন “হক্কুল ইবাদ” বিনষ্টকারী ব্যক্তিও এমন তওবা করতো, তবে তারও ক্ষমা হয়ে যেতো। এরপর তার জানাযার সালাত আদায়ের নির্দেশ দিলেন। তিনি তার জানাযায় সালাত আদায় করলেন। এরপর তাকে দাফন করা হলো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৮৩, ইসলামিক সেন্টার ৪২৮৪)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবন বুরায়দা (রহঃ)

এই হাদিসটি আরেকটি রেওয়ায়েতে আছে। কী পরিমাণ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলে এবং এই রকম বর্বরতাকে কতোটা গ্লোরিফাই করা হলে একজন নারী নিজে এসে নিজেকে পাথর মেরে হত্যা করতে বলে ভাবতে পারেন? অথবা হতে পারে এই রকম বর্বরতা যে মানুষ নিজের ক্ষেত্রেও সমর্থন করে, তা প্রমাণ করতেই এই হাদিসটির অবতারণ করা হয়েছে।

বুলুগুল মারাম
১০ দণ্ড বিধি
পরিচ্ছেদ ০৮.
সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত গর্ভবতীর ‘রজম’ (পাথর নিক্ষেপ করা) বিলম্বিত করা
১২১২। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
জুহাইনাহ গোত্রের কোন এক স্ত্রীলোক যিনার দ্বারা অন্তঃসত্ত্বা অবস্থয় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকটে হাজির হয়ে বললঃ হে আল্লাহর নাবী! আমি হদ্দের উপযুক্ত হয়েছি, আপনি আমার উপর যিনার হদ্দ ক্বায়িম করুন (প্রস্তরাঘাতে হত্যা করে আমার প্রায়শ্চিত্ত বা তাওবার ব্যবস্থা করুন)। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার ওয়ালীকে (অভিভাবককে) ডাকালেন ও বললেন, তার সাথে ভাল ব্যবহার কর, সন্তান প্রসব করলে আমার নিকট তাকে নিয়ে এসো।
অভিভাবক তাই করলো (সন্তান প্রসব করার পর তাকে নাবীর দরবারে নিয়ে এলো); রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার পরনের কাপড় শক্ত করে বেঁধে দিতে আদেশ করলেন, তারপর তার আদেশক্রমে তাকে রজম করা হলো। তারপর তার জানাযা নামায পড়ালেন। উমার (রাঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর নাবী! সে ব্যভিচার করেছে তবু আপনি তার জানাযা নামায পড়লেন? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উত্তরে বলেনঃ সে তো এমন তাওবাহ করেছে যে, যদি তা মাদীনাসীর ৭০ জনের মধ্যে বণ্টন করে দেয়া হয় তবে তাদের জন্য তার এ তাওবাহ যথেষ্ট হয়ে যাবে। (হে উমার!) তুমি কি এর চেয়ে উৎকৃষ্ট কোন ব্যক্তি পেয়েছ? যে স্বয়ং আল্লাহর জন্য প্রাণ বিসর্জন করেছে।
সহীহ মুসলিম (১৩১৯)
(১৩১৯) মুসলিম ১৬৯৬, তিরমিযী ১৪৩৫, নাসায়ী ১৯৯৭, আবূ দাঊদ ৪৪৪০, ইবনু মাজাহ ২৫৫৫, আহমাদ ১৯৩৬০, ১৯৪০২, দারেমী ২৩২৫।
হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস
সহীহ মুসলিম (১৩১৯) (১৩১৯) মুসলিম ১৬৯৬, তিরমিযী ১৪৩৫, নাসায়ী ১৯৯৭, আবূ দাঊদ ৪৪৪০, ইবনু মাজাহ ২৫৫৫, আহমাদ ১৯৩৬০, ১৯৪০২, দারেমী ২৩২৫।


সহমর্মিতা বনাম ধর্মতাত্ত্বিক নিষ্ঠুরতা: একটি নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড

ইসলামি দণ্ডবিধির অমানবিকতা এবং মানবিক প্রেষণার (Human Impulse) সাথে এর সংঘাতের সবচেয়ে চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটে মদিনার সেই ইহুদি যুগলকে প্রস্তরাঘাত করার ঘটনায়। এই আইনি হত্যাকাণ্ডটি কেবল একজন অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া ছিল না, বরং এটি ছিল মানুষের সহজাত আবেগ ও ভালোবাসাকে দমনের একটি প্রদর্শনী। সহিহ হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, যখন মদিনার মাসজিদের পাশে জানাজাগাহর নিকটে সেই দুই নর-নারীকে পাথর মারা হচ্ছিল, তখন সেই চরম মৃত্যুযন্ত্রণার মুহূর্তেও একটি অভাবনীয় দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।

আবদুল্লাহ ইবনে উমর প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বর্ণনা করেন যে, “আমি সেই পুরুষটিকে দেখেছি যে নিজে মহিলার ওপর উপুড় হয়ে তাকে প্রস্তরাঘাত হতে বাঁচানোর চেষ্টা করছে” [12]। এই দৃশ্যটি বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি মৌলিক বিষয় স্পষ্ট হয়:

  • ১. সহজাত প্রেমের শ্রেষ্ঠত্ব: যখন চারদিক থেকে মানুষের নিক্ষিপ্ত পাথরের আঘাতে শরীরের হাড় ও মগজ চূর্ণ-বিচূর্ণ হওয়ার উপক্রম হয়, তখন মানুষের আদিমতম প্রবৃত্তি হওয়ার কথা আত্মরক্ষা। কিন্তু সেই পুরুষটি নিজের মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও তাঁর সঙ্গিনীকে কয়েক মুহূর্তের জন্য শারীরিক যন্ত্রণা থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছিলেন। এটি প্রমাণ করে যে, জৈবিক বিবর্তনলব্ধ মানবিক মমতা ও প্রেম ধর্মীয় আইনি কাঠামোর চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও উন্নত।
  • ২. সহমর্মিতাহীন বিচারব্যবস্থা: যে ব্যবস্থার প্রবর্তক নিজের সামনে একজন মানুষকে তাঁর সঙ্গিনীকে আড়াল করার এই মহত্তম আত্মত্যাগ করতে দেখেও দণ্ড মওকুফ করেন না, সেই ব্যবস্থাকে কোনোভাবেই ‘মানবিক’ বা ‘দয়ালু’ বলা চলে না। মুহাম্মদের এই বিচার প্রক্রিয়ায় বিবাদমান পক্ষের মানবিক আবেগ বা সম্পর্কের কোনো স্থান ছিল না।
  • ৩. ত্রাসের মনস্তত্ত্ব: এই ঘটনায় দেখা যায় যে, দণ্ডপ্রাপ্তরা নিজেদের জীবন দিয়ে একে অপরকে রক্ষা করতে চাইলেও বিচারক ও কার্যকরকারী গোষ্ঠী (সাহাবীগণ) পাথরের পর পাথর নিক্ষেপ করে সেই মানবিক বন্ধনটিকে চূর্ণ করে দিচ্ছিলেন। এটি একটি পরিকল্পিত নিষ্ঠুরতা, যার উদ্দেশ্য ছিল ব্যক্তির আবেগীয় সত্তাকে রাষ্ট্রের বা ধর্মের শৃঙ্খলে পিষ্ট করা।

নিচের হাদিসটি অন্যতম প্রাচীন হাদিস গ্রন্থ মুয়াত্তা মালিক এর। হাদিসটি মন দিয়ে পড়ুন। ইসলামের নবী রজমের শাস্তি কীভাবে প্রয়োগ করতেন, তার ভয়াবহ উদাহরণ এই হাদিসটি। নিজের জীবন তুচ্ছ করেও ভালবাসার মানুষকে রক্ষা করার এই আকুতি নবী বোঝে নি, আল্লাহও বোঝে নি। তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল রজমের শাস্তি দেয়া। দুইজন ভালবাসার মানুষের ভালবাসা নয়। আপনি কী বলতে পারেন, জীবনের শেষ মূহুর্তে, যখন কোন মানুষকে পাথর ছুড়ে মেরে ফেলা হচ্ছে, সেই সময়েও ভালবাসার মানুষকে রক্ষা করার এই আপ্রাণ চেষ্টাকে কী বলে?

মুয়াত্তা মালিক
অধ্যায়ঃ ৪১. হুদুদের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১. প্রস্তরাঘাত করা
রেওয়ায়ত ১. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলেন, ইহুদীদের একদল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট আসিয়া বলিল, তাহাদের একজন পুরুষ ও একজন স্ত্রীলোক ব্যভিচারে লিপ্ত হইয়াছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম তাহাদেরকে জিজ্ঞাসা করিলেন : রজম বা প্রস্তরাঘাতের ব্যাপারে তাওরাতে কি আদেশ রহিয়াছে? তাহারা বলিলঃ আমরা ব্যভিচারকারীকে লজ্জিত করি এবং বেত্ৰাঘাত করিয়া থাকি। আবদুল্লাহ ইবন সালাম বলিলেন, তোমরা মিথ্যা বলিতেছ। তাওরাতে প্রস্তরাঘাতের শাস্তি রহিয়াছে। তাওরাত আনয়ন কর, উহা পড়িয়া দেখ। অতঃপর তাহারা তাওরাত খুলিল এক ব্যক্তি বেত্রাঘাতের উপর হাত রাখিয়া পূর্বাপর অবশিষ্ট আয়াত পড়িয়া শুনাইল। আবদুল্লাহ ইবন সালাম তাহাকে বলিলঃ তোমার হাত উঠাও তো। সে তাহার হাত উঠাইলে দেখা গেল উহাতে প্রস্তরাঘাতের আয়াত রহিয়াছে। অতঃপর সকল ইহুদীই স্বীকার করিল যে, আবদুল্লাহ ইবন সালাম ঠিকই বলিয়াছে তাওরাতে প্রস্তাঘাতের আয়াত বিদ্যমান রহিয়াছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয়কে প্রস্তরাঘাতের আদেশ করিলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশে উভয়কে প্রস্তরাঘাত করা হইল। আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলেনঃ আমি দেখিলাম,পুরুষটি ঐ নারীকে আঘাত হইতে রক্ষা করিতে তাহার উপর ঝুঁকিয়া পড়িতেছিল।
মালিক (রহঃ) বলেনঃউহার উপর ঝুঁকিয়া পড়িতেছিল অর্থ পুরুষ নিজে প্রস্তরাঘাত সহ্য করিয়াও ঐ নারীকে প্রস্তরাঘাত হইতে রক্ষা করিতে যাইয়া তাহার উপর উপুড় হইয়া পড়িয়ছিল।

হাদিসের মানঃ তাহকীক অপেক্ষমাণ
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইব্‌ন উমর (রাঃ)

একইরকম আরেকটি হাদিস পাওয়া যায়,

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
অধ্যায়ঃ ৫২/ তাফসীর
পরিচ্ছেদঃ ২৩১৩. বল, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে তাওরাত আন এবং পাঠ কর (সূরাহ আলে-‘ইমরান ৩ঃ ৯৩)
৪২০০। ইবরাহীম ইবনু মুনযির … আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছে এমন দু’জন পুরুষ ও মহিলা নিয়ে ইহুদীগণ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে উপস্থিত হল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন, তোমাদের ব্যভিচারীদেরকে তোমরা কিভাবে শাস্তি দাও? তারা বলল, আমরা তাদের চেহারা কালিমালিপ্ত করি এবং তাদের প্রহার করি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তাওরাতে প্রস্তর নিক্ষেপের বিধান পাও না? তারা বলল, আমরা তাতে এতদ সম্পর্কিত কোন কিছু পাই না। তখন আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, তোমরা মিথ্যা বলছ। তাওরাত আন এবং তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে তা পাঠ কর।
এরপর তাওরাত পাঠের সময় তাদের পন্ডিত-পাঠক প্রস্তর নিক্ষেপ বিধির আয়াতের উপর স্বীয় হস্ত রেখে তা থেকে কেবল পূর্ব ও পরের অংশ পড়তে লাগল। রজমের আয়াত পড়ছিল না। আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) তার হাতটি তুলে ফেলে বললেন, এটা কি? যখন তারা পরিস্থিতি বেগতিক দেখল তখন বলল, এটি রজমের আয়াত। অনন্তর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে রজম করার নির্দেশ দিলেন। এবং মসজিদের পার্শ্বে জানাযাগাহের নিকটে উভয়কে ‘রজম’ করা হল। ইবনু উমর (রাঃ) বলেন,আমি সেই পুরুষটিকে দেখেছি যে নিজে মহিলার উপর উপুড় হয়ে তাকে প্রস্তরাঘাত হতে বাচানোর চেষ্টা করছে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইব্‌ন উমর (রাঃ)

এবারে নিচের হাদিসগুলো পড়ুন,

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
অধ্যায়ঃ ৭৫/ কাফের ও ধর্মত্যাগী বিদ্রোহীদের বিবরণ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৪৩. সমতল স্থানে রজম করা
৬৩৬২। মুহাম্মদ ইবনু উসমান (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক ইহুদী পুরুষ ও এক ইহুদী নারীকে হাযির করা হল। তারা উভয়েই যিনা করেছে। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, এ ব্যাপারে তোমরা তোমাদের কিতাবে কি পাচ্ছ? তারা বলল, আমাদের পদ্রীরা চেহারা কালো করার ও উভয়কে গাধার পিঠে বিপরীতমুখী বসিয়ে প্রদক্ষিণ করানোর প্রথা চালু করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! তাদেরকে তাওরাত নিয়ে আসতে বলুন। এরপর তা নিয়ে আসা হল।
তাদের একজন রজমের আয়াতের উপর নিজের হাত রেখে দিল এবং এর অগ্র-পাশ্চাৎ পড়তে লাগল। তখন ইবনু সালাম (রাঃ) তাকে বললেন, তোমার হাত উঠও। (হাত উঠাতে দেখা গেল) তার হাতের নিচে রয়েছে রজমের আয়াত। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়ের সম্বন্ধে নির্দেশ দিলেন, উভয়কে রজম করা হল। ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, তাদের উভয়কে সমতল স্থানে রজম করা হয়েছে।তখন ইহুদী পুরুষটাকে দেখেছি ইহুদী নারীটির উপর উপুড় হয়ে পড়ে আছে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইব্‌ন উমর (রাঃ)

মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
অধ্যায়ঃ পর্ব-১৭ঃ দণ্ডবিধি
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
৩৫৫৯-(৫) ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন কতিপয় ইয়াহূদীরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে জানালো যে, তাদের একজন পুরুষ ও একজন নারী যিনা করেছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘রজমের’ ব্যাপারে তোমরা তাওরাতে কি জেনেছ? তারা বলল, আমরা দোষীকে অপমান করি এবং চাবুক মারা হয়। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সালাম বললেন, তোমরা মিথ্যা বলছ। তাওরাতে অবশ্যই ‘রজমের’ দণ্ড রয়েছে, তা নিয়ে আসো! অবশেষে তারা তা এনে খুলল ঠিকই কিন্তু তাদের একজন ‘রজমের’ আয়াতের উপর স্বীয় হাত দিয়ে ঢেকে রেখে দিল এবং তারপর এর আগের ও পরের আয়াত পড়ল।
তখন ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সালাম বললেন, তোমার হাত উঠাও! সে হাত উঠাল। তখন দেখা গেল, সেখানে রজমের আয়াত বিদ্যমান রয়েছে। ইয়াহূদীরা বলল, হে মুহাম্মাদ! সে সত্য বলেছে। এখানে রজমের আয়াত বিদ্যমান আছে। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দুজনকে রজম করে হত্যা করার নির্দেশ দিলেন। তখন তাদের উভয়কে ‘‘রজম’’ করা হলো। অন্য রিওয়ায়াতে আছে, ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সালাম বললেন, তোমার হাত উঠাও! সে হাত উঠাল। তখন সেখানে স্পষ্টভাবে রজমের আয়াত বিদ্যমান দেখা গেল। (আয়াত গোপনকারী) সেই লোকটি বলল, হে মুহাম্মাদ! সত্যিই তাওরাতে রজমের আয়াত বিদ্যমান আছে; কিন্তু আমরা নিজেদের মাঝে তা গোপন রাখতাম। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়কে রজম করার নির্দেশ দিলেন। তখন তাদের উভয়কে রজম করা হলো। (বুখারী ও মুসলিম)(1)
(1) সহীহ : বুখারী ৬৮৪১, মুসলিম ১৬৯৯, আবূ দাঊদ ৪৪৪৯, আহমাদ ৪৪৯৮।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইব্‌ন উমর (রাঃ)

এসব হাদিসের পর্যালোচনায় বলা যায়, মদিনার সেই জানাজাগাহর পাশে ঘটা এই ঘটনাটি কোনো ন্যায়বিচারের উদাহরণ নয়, বরং এটি একটি হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি। যেখানে একজন মানুষ তাঁর জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে ভালোবাসার মানুষকে রক্ষা করার মাধ্যমে মানবিকতার সর্বোচ্চ শিখর স্পর্শ করছিলেন, সেখানে তথাকথিত ঐশী আইনের বাহকগণ পাথর ছুড়ে সেই মানবিকতাকে হত্যা করছিলেন। এটি প্রমাণ করে যে, ইসলামি শরীয়াহর ‘রজম’ কেবল একটি প্রাচীন আইন নয়, এটি মানুষের প্রগতিশীল আবেগ ও সহমর্মিতার বিরুদ্ধে এক আদিম যুদ্ধ ঘোষণা।


আইনি স্থবিরতা এবং সংস্কারের পথ রুদ্ধ করা

ইসলামি বিধান অনুসারে, যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধানের (তা কোরআনে থাকুক বা সুন্নাহয়) পরিবর্তন চায়, তাদের সরাসরি ‘কাফের’ বা ধর্মত্যাগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আবু দাউদের বর্ণনামতে, মুহাম্মদ দাবি করেছিলেন যে তিনি আল্লাহর নির্দেশকে ‘পুনর্জীবন’ দান করেছেন, যা মানুষ আগে বিকৃত করেছিল। উমরের আশঙ্কাও ছিল একই রকম—ভবিষ্যতে মানুষ যেন এই কঠিন শাস্তিকে অস্বীকার না করে।

এই মানসিকতা ইসলামি আইনকে একটি স্থবির ও বিবর্তনহীন কাঠামোতে বন্দি করে রেখেছে। আধুনিক বিশ্বে যেখানে দণ্ডবিধি সংশোধনমূলক (Reformative) হওয়ার কথা, সেখানে ইসলামি শরীয়াহ টিকে আছে প্রতিশোধমূলক (Retributive) এবং ত্রাস সৃষ্টির দর্শনের ওপর। “আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয় না, তারাই কাফির” [13]—এই আয়াতের কঠোর প্রয়োগের কারণে কোনো মুসলিম দেশের পক্ষেই এই আইনগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে, যতক্ষণ না তারা ধর্মের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসে।


উপসংহার: সভ্যতার সংকট ও যৌক্তিক মূল্যায়ন

রজম বা প্রস্তরাঘাত কেবল একটি শাস্তির পদ্ধতি নয়, বরং এটি একটি আদিম মনস্তত্ত্বের প্রতিফলন। যে সমাজ দুইজনের ব্যক্তিগত সম্মতির চেয়ে পাথর ছুড়ে মানুষের খুলি উড়িয়ে দেওয়াকে বেশি ‘পবিত্র’ মনে করে, সেই সমাজের নৈতিক ভিত্তি অত্যন্ত নড়বড়ে। তথাকথিত ঐশী বাণীর দোহাই দিয়ে এই জাতীয় বর্বরতাকে জায়েজ করার চেষ্টা করা বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা ছাড়া আর কিছুই নয়।

যুক্তি ও প্রমাণের নিরিখে এটি স্পষ্ট যে, রজম ইসলামের কোনো ‘অপব্যাখ্যা’ নয়, বরং এটি ইসলামের মূলধারার আইনশাস্ত্রের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। একে টিকিয়ে রাখা মানেই হচ্ছে মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে সভ্য একবিংশ শতাব্দীতে আমদানি করা। যদি আমরা একটি মানবিক ও প্রগতিশীল ভবিষ্যৎ গড়তে চাই, তবে এই ধরণের ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস এবং রক্তক্ষয়ী আইনগুলোকে কোনো প্রকার ছাড় না দিয়ে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করা সময়ের দাবি। প্রাসঙ্গিকভাবে এই ভিডিওটি সকলের দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি,



তথ্যসূত্রঃ
  1. ইসলামে অমানবিক দাসপ্রথা ↩︎
  2. ইসলামে দাসী-ধর্ষণঃ দাসী সহবাসে কি সম্মতি জরুরি? ↩︎
  3. আয়িশা কি নয়বছর বয়সে বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছেছিলেন? ↩︎
  4. সহীহ বুখারী, হাদিস নম্বর: ৬৮২৯; সহীহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ১৬৯১; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নম্বর: ২১০৮৪ ↩︎
  5. ছাগলে খাওয়া আয়াতটি আর পাওয়া গেল না ↩︎
  6. রজমের আয়াত বাদ দেয়ায় উমরের আক্ষেপ ↩︎
  7. আল লু’লুওয়াল মারজান, হাদীসঃ ১১০৫ ↩︎
  8. সহীহ মুসলিম, হাদিস একাডেমী, হাদিসঃ ৪২৬৭ ↩︎
  9. সূনান তিরমিজী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ১৪৩৭ ↩︎
  10. সহিহ বুখারী, হাদিসঃ ২৭২৪ ↩︎
  11. সহিহ বুখারী, হাদিসঃ ৫২৭১ ↩︎
  12. সহীহ বুখারী, হাদিস নম্বর: ৪২০০; মুয়াত্তাহ মালিক, হাদিস নম্বর: ১ ↩︎
  13. সূরা আল-মায়িদাহ: ৪৪-৪৭ ↩︎