Table of Contents
ভূমিকা
আজকাল অনেকেই দাবী করেন যে, ইসলামে চার বিবি একত্রে রাখার কথা বলা হলেও, বহুবিবাহকে আল্লাহ এবং নবী নাকি নিরুৎসাহিত করেছেন! অথচ, কোরআন হাদিস সীরাত তাফসীরে বহুবিবাহের বিষয়েই উৎসাহ দেয়া হয়েছে। নবীর সাহাবীদের মধ্যে প্রায় সকলেই অনেকগুলো বিবাহ করেছেন, দাসী রেখেছেন। তাদের জীবনী মুসলিমদের জন্য অনুকরণীয় অনুসরনীয় জীবনাদর্শ। সেগুলো ধীরে ধীরে আমরা পড়বো, জানবো।
আলেমদের বক্তব্য
আসুন শুরুতেই কিছু আলেমের বক্তব্য শুনে নিই,
কোরআনের বিবরণ
এবারে আসুন এই বিষয়ে কোরআনের আয়াত দেখে নিই, [1]
যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, (নারী) ইয়াতীমদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে নারীদের মধ্য হতে নিজেদের পছন্দমত দুই-দুই, তিন-তিন ও চার-চার জনকে বিবাহ কর, কিন্তু যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, তোমরা সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে একজনকে কিংবা তোমাদের অধীনস্থ দাসীকে; এটাই হবে অবিচার না করার কাছাকাছি।
— Taisirul Quran
আর যদি তোমরা আশংকা কর যে, ইয়াতীমদের প্রতি সুবিচার করতে পারবেনা তাহলে নারীদের মধ্য হতে তোমাদের পছন্দ মত দু’টি, তিনটি কিংবা চারটিকে বিয়ে করে নাও; কিন্তু যদি তোমরা আশংকা কর যে, তাদের সাথে ন্যায় সঙ্গত আচরণ করতে পারবেনা তাহলে মাত্র একটি অথবা তোমাদের ডান হাত যার অধিকারী (ক্রীতদাসী); এটা আরও উত্তম; এটা অবিচার না করার নিকটবর্তী।
— Sheikh Mujibur Rahman
আর যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, ইয়াতীমদের ব্যাপারে তোমরা ইনসাফ করতে পারবে না, তাহলে তোমরা বিয়ে কর নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভাল লাগে; দু’টি, তিনটি অথবা চারটি। আর যদি ভয় কর যে, তোমরা সমান আচরণ করতে পারবে না, তবে একটি অথবা তোমাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে। এটা অধিকতর নিকটবর্তী যে, তোমরা যুলম করবে না।
— Rawai Al-bayan
আর যদি তোমরা আশংকা কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি [১] সুবিচার করতে পারবে না [২], তবে বিয়ে করবে নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভালো লাগে, দুই, তিন বা চার [৩]; আর যদি আশংকা কর যে সুবিচার করতে পারবে না [৪] তবে একজনকেই বা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীকেই গ্রহণ কর। এতে পক্ষপাতিত্ব [৫] না করার সম্ভাবনা বেশী।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
একইসাথে দেখুন, আল্লাহ নিজেই বলে দিয়েছেন যে, আল্লাহ একদম নিশ্চিতভাবে বলছে, তোমরা কক্ষনো স্ত্রীদের মধ্যে সমতা করতে পারবে না। প্রশ্ন হচ্ছে, আল্লাহ যদি এটি একদম নিশ্চিতিভাবে জেনেই থাকে, তাহলে ৪ বিয়ের অনুমতি কেন দেবেন? [2]
তোমরা কক্ষনো স্ত্রীদের মধ্যে সমতা রক্ষা করতে পারবে না যদিও প্রবল ইচ্ছে কর, তোমরা একজনের দিকে সম্পূর্ণরূপে ঝুঁকে পড়ো না এবং অন্যকে ঝুলিয়ে রেখ না। যদি তোমরা নিজেদেরকে সংশোধন কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
— Taisirul Quran
তোমরা কখনও স্ত্রীগণের মধ্যে সুবিচার করতে পারবেনা যদিও তোমরা তা কামনা কর, সুতরাং তোমরা কোন একজনের প্রতি সম্পূর্ণরূপে ঝুকে পড়োনা ও অপরজনকে ঝুলন্ত অবস্থায় রেখোনা এবং যদি তোমরা পরস্পর সমঝতায় আসো ও সংযমী হও তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়।
— Sheikh Mujibur Rahman
আর তোমরা যতই কামনা কর না কেন তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে সমান আচরণ করতে কখনো পারবে না। সুতরাং তোমরা (একজনের প্রতি) সম্পূর্ণরূপে ঝুঁকে পড়ো না, যার ফলে তোমরা (অপরকে) ঝুলন্তের মত করে রাখবে। আর যদি তোমরা মীমাংসা করে নাও এবং তাকওয়া অবলম্বন কর তবে নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
— Rawai Al-bayan
আর তোমরা যতই ইচ্ছে কর না কেন তোমাদের স্ত্রীদের প্রতি সমান ব্যবহার করতে কখনই পারবে না, তবে তোমরা কোনো একজনের দিকে সম্পূর্ণভাবে ঝুঁকে পড়ো না [১] ও অপরকে ঝুলানো অবস্থায় রেখো না; যদি তোমরা নিজেদেরকে সংশোধন কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর তবে নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
হাদিসে বহুববাহের উৎসাহ প্রদান
আসুন এবারে হাদিসগুলো দেখে নিই, [3] [4] –
সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫৪/ বিয়ে-শাদী
পরিচ্ছেদঃ ২৪২৯. বহুবিবাহ
৪৬৯৯। আলী ইবনু হাকাম (রহঃ) … সাঈদ ইবনু জুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) আমাকে বললেন, তুমি শাদী করেছ? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, শাদী কর। কেননা, এই উম্মতের মধ্যে যিনি শ্রেষ্ঠ ব্যাক্তি, তাঁর অধিক সংখ্যক বিবি ছিল।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রহঃ)
সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
৬৭/ বিয়ে
পরিচ্ছেদঃ ৬৭/৪. বহুবিবাহ
৫০৬৯. সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) আমাকে বললেন, তুমি কি বিয়ে করেছ? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, বিয়ে কর। কারণ, এই উম্মাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তির অধিক সংখ্যক স্ত্রী ছিল। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৯৯)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রহঃ)
সীরাত থেকে যা জানা যায়
সীরাত ও তাবাকাত গ্রন্থগুলোতে নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর শীর্ষস্থানীয় সাহাবীদের জীবনীগুলো পড়লে খুব সহজেই একটা ধারাবাহিক প্যাটার্ন দেখা যায়—তাঁদের অধিকাংশই জীবদ্দশায় একাধিক বৈধ স্ত্রী (নিকাহ) ও ক্রীতদাসী/উপপত্নী (আমাত, সুররি) রেখেছেন। নবী, চার খলিফা, তার নিকট আত্মীয় হাসান–হুসাইন এবং প্রভাবশালী সাহাবী তলহা, যুবাইর, আবদুর রহমান ইবন আওফ—এদের কারও জীবনেই “এক স্ত্রী, এক সম্পর্ক” ধরনের আধুনিক মনোগ্যামি মডেল দেখা যায় না। বরং বহুবিবাহ + দাসী/উপপত্নী—এই মানসিকতাই ছিলো তাদের পারিবারিক জীবনের “নরমাল” বা আদর্শ চিত্র, যা পরবর্তীতে ফিকহ ও আকীদার আলোচনায়ও অনুমোদিত ও উৎসাহিত রূপেই হাজির হয়েছে।
নিচের টেবিলে ক্লাসিকাল সীরাত–তাবাকাত গ্রন্থ এবং আধুনিক রিসার্চ থেকে পাওয়া সারসংক্ষেপভাবে কিছু উদাহরণ তুলে ধরা হলো। সংখ্যা ও নাম সূত্রভেদে খানিকটা কম–বেশি হলেও প্যাটার্নটা খুব পরিষ্কার—শীর্ষস্থানীয় প্রায় সকল “রোল মডেল” সাহাবীই বহুবিবাহ ও দাসী ব্যবস্থায় সক্রিয় ছিলেন।
| ব্যক্তিত্ব | সূত্র (সীরাত/তাবাকাত) | বৈধ স্ত্রী (সমগ্র জীবন) | দাসী / উপপত্নী | সংক্ষিপ্ত মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ | ইবন ইসহাক–ইবন হিশাম, ইবন সা‘দ, আত-তাবারী [5] | জীবদ্দশায় মোট প্রায় ১১–১৩ স্ত্রী; অধিকাংশ হিসাব অনুযায়ী শেষ জীবনে একসাথে ৯ জন স্ত্রী জীবিত ছিলেন [6]। | অন্তত দুইজন ক্রীতদাসী/উপপত্নী: মারিয়া আল-কিবতিয়্যা (মিশরীয় খ্রিস্টান উপহার), রাইহানা বিনত যায়দ (বনু কুরাইযা গোত্রের বন্দী নারী) – দু’জনকেই ক্লাসিকাল সূত্রে অمَة / سُرِّيَة হিসেবে উল্লেখ করা হয় [7]। | নবীর নিজের পারিবারিক মডেলই ছিল বহুবিবাহ ও দাসী–ব্যবস্থার আদর্শ উদাহরণ; পরবর্তীতে সাহাবী ও উলামারা এই জীবনাচারকে সুন্নাহ হিসেবে নর্মালাইজ করেছেন। |
| আবু বকর (প্রথম খলিফা) | ইবন সা‘দ, তাবারী, আধুনিক জীবনীগ্রন্থ [8] | জীবনে মোট অন্তত ৪ স্ত্রী (ক্বুতায়লা, উম্ম রুমান, আসমা বিনত উমাইস, হাবিবা বিনত খারিজা ইত্যাদি); বিভিন্ন পর্যায়ে তিন/চারজন করে স্ত্রী ছিলেন, তালাক/মৃত্যুর কারণে নাম–সংখ্যা বদলেছে। | তাবাকাতে তাঁর অধীনে দাসী থাকার উল্লেখ আছে, যাদের থেকে সন্তানেরও বর্ণনা পাওয়া যায়; যদিও নামগুলো সবসময় রেকর্ড হয়নি। | নবীর নিকটতম সঙ্গী ও প্রথম খলিফা হিসেবে তাঁর জীবনও এক–স্ত্রীয় মনোগ্যামি নয়; বরং ধারাবাহিক বহুবিবাহ ও দাসী ব্যবস্থাই নরমালাইজড চিত্র। |
| উমর ইবনুল খাত্তাব (দ্বিতীয় খলিফা) | ইবন সা‘দ, তাবারী, ইবন কাসীর, আধুনিক জীবনীগুলো [9] | বিভিন্ন সূত্রে ৭–৯ জন পর্যন্ত স্ত্রীর নাম পাওয়া যায়—যেমন যয়নব বিনত মাজউন, উম্ম কুলসুম বিনত আলী, আটিকা, উম্ম হাকীম প্রমুখ। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁদের কেউ কেউ তালাকপ্রাপ্ত বা মৃত্যুবরণ করেছেন। | সীরাত ও তাবাকাতে তাঁর অধীন ক্রীতদাসীর উল্লেখ আছে; সন্তানদের বংশতালিকায়ও “উম্মে ওলাদ” (দাসী থেকে সন্তানপ্রসূ) নারী উল্লেখিত হয়েছে। | “ন্যায়পরায়ণ খলিফা” ইমেজ থাকা সত্ত্বেও তাঁর বাস্তব পারিবারিক জীবনও বহুবিবাহ ও দাসী–সহাবস্থানমূলক। |
| উসমান ইবন আফনান (তৃতীয় খলিফা) | ইবন সা‘দ, তাবারী, ইবন কাসীর [10] | কমপক্ষে ৬–৮ জন স্ত্রীর নাম পাওয়া যায়; নবীর দুই কন্যা রুকাইয়্যা ও উম্ম কুলসুমের সাথে পরপর বিবাহ, এরপর আরও কয়েকজন নারীকে বিবাহ করেন। | তাঁর অধীনে দাসী/উপপত্নী থাকার উল্লেখ পাওয়া যায়, যাদের থেকে সন্তানও হয়েছিল বলে তাবাকাতে বর্ণনা আছে। | “যুল-নুরাইন” উপাধিধারী এই খলিফাও একাধিক বৈধ স্ত্রী ও দাসী–সহ বহুবিবাহী কাঠামোর মধ্যে অবস্থান করেছেন। |
| আলী ইবন আবি তালিব (চতুর্থ খলিফা) | ইবন সা‘দ, বালাধুরী, ইবন কাসীর; আধুনিক সারসংক্ষেপ [11] | সীরাত ও তাবাকাত মিলিয়ে জীবদ্দশায় অন্তত ৯ জন স্ত্রী: ফাতিমা বিনত মুহাম্মদ, উম্মুল বানিন ফাতিমা বিনত হিজাম, আসমা বিনত উমাইস, উমামা বিনত আবি আল-’আস, লায়লা, উম্মুল বানি্ন এবং আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া যায়। ফাতিমা জীবিত থাকাকালে দ্বিতীয় বিবাহ না করলেও তাঁর মৃত্যু–পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিকভাবে নতুন বিবাহ করেছেন। | তাঁর ঘরে একাধিক ক্রীতদাসী/উপপত্নী থেকে সন্তান জন্মেছে—ইবন সা‘দ ও অন্যান্য তাবাকাতে “উম্মে ওলাদ” দাসীদের নাম উল্লেখ আছে [12]। | ফাতিমার মৃত্যুর পরে আলীর বহুবিবাহ ও দাসী–গণ থেকে সন্তানের সংখ্যা দেখলেই বোঝা যায়, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও বহুবিবাহ-নির্ভর ছিল। |
| হাসান ইবন আলী | বালাধুরী, মাসউদী, অন্যান্য ঐতিহাসিক; শিয়া–সুন্নি উভয় ধারার আলোচ্য [13] | ক্লাসিকাল কিছু সুন্নি ইতিহাসে দাবি করা হয় যে, তিনি বহু নারীকে বিবাহ ও তালাক দিতেন; কোথাও ৭০, কোথাও ৯০, কোথাও ২৫০ পর্যন্ত স্ত্রী থাকার কথা বলা হয়েছে। শিয়া গবেষকরা এসব সংখ্যাকে অতিরঞ্জন ও রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা হিসেবে সমালোচনা করেন, তবে হাসানের বহু বিবাহের “রেপুটেশন” উভয় ধারার সাহিত্যেই আলোচিত। | তাঁর অধীনে দাসী/উপপত্নী এবং “উম্মে ওলাদ” থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানের উল্লেখও তাবাকাতে রয়েছে; তবে নাম–সংখ্যা নিয়ে মতভেদ আছে। | “নবীর নাতি” ও “জান্নাতের যুবকদের নেতা” হিসেবে পরিচিত হাসানের জীবনেও বহুবিবাহ ও দাসী–ব্যবস্থা অস্বাভাবিক কিছু ছিল না—বরং তার প্রবণতা অনেক সূত্রে “অতিরিক্ত” হিসেবেই আলোচিত। |
| হুসাইন ইবন আলী | ইবন কাসীর, তাবারী, আধুনিক সীরাত–গ্রন্থ [14] | অধিকাংশ সূত্রে তাঁর ৩–৪ জন স্ত্রী (রুবাব, শাহরবানূ/শাহজানান, লায়লা ইত্যাদি) উল্লেখ আছে, যাদের থেকে বিভিন্ন পুত্র–কন্যা জন্মগ্রহণ করেছে। | কিছু তাবাকাত সূত্রে দাসী/উপপত্নী থেকেও সন্তান হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যদিও সব নাম আলাদা করে তালিকাভুক্ত নয়। | কারবালার ট্র্যাজিক ইমেজের আড়ালে বাস্তব জীবনে হুসাইনও বহুবিবাহী, দাসী–সহ বাস করা এক আভিজাত্যপূর্ণ আরব নবাবি পরিবারের প্রধান হিসেবে হাজির হন। |
| অন্যান্য প্রখ্যাত সাহাবী (তলহা, যুবাইর, আবদুর রহমান ইবন আওফ প্রমুখ) | ইবন সা‘দ, বালাধুরী, তাবারী প্রমুখ [15] | তলহা ইবন উবাইদুল্লাহ, যুবাইর ইবন আল-আওয়াম, আবদুর রহমান ইবন আওফ – এদের প্রত্যেকের জীবনে একাধিক স্ত্রী ও বহু সন্তান থাকার কথা তাবাকাতে এসেছে; কোথাও একই সময়ে চার স্ত্রী, কোথাও ধারাবাহিকভাবে একের পর এক বহু স্ত্রীর আলোচনা রয়েছে। | দাসী/উপপত্নী থেকে জন্ম নেওয়া সন্তান, উত্তরাধিকার বণ্টনে দাসী–মাতা’দের উল্লেখ ইত্যাদি দেখে বোঝা যায়—দাসী থেকে যৌনসঙ্গ এবং সন্তানপ্রাপ্তি ছিলো অভিজাত সাহাবীদের মধ্যে বহুল প্রচলিত ও গ্রহণযোগ্য প্র্যাকটিস। | “আশারা মুবাশশারা” (দশজন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত) তালিকায় থাকা কিছু নামই বহুবিবাহ–দাসী–নির্ভর এই মডেলের ক্লাসিক উদাহরণ হিসেবে হাজির হয়—যেখানে একগামী ছোট পরিবার নয়, বরং বহু স্ত্রী–দাসী–সন্তানে ভরা বাড়িই আদর্শ। |
এই সংক্ষিপ্ত তথ্যানুযায়ী, “ইসলামে আসলে চার বিবাহ নিরুৎসাহিত, সাহাবীরা নাকি এক স্ত্রীতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন”—এই ধরনের আধুনিক এপোলোজেটিক দাবি সীরাত ও তাবাকাতের তথ্যের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ক্লাসিকাল ইসলামী উৎসগুলো থেকে যা স্পষ্টভাবে উঠে আসে তা হলো—নবী ও তাঁর প্রখ্যাত সাহাবীরা ব্যক্তিগত জীবনে বহুবিবাহ ও দাসী–ব্যবস্থাকেই পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার করেছেন, এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও ঠিক এই জীবনাচারকেই অনুকরণীয় মডেল হিসেবে রেখে গেছেন।
তবে নবীর মেয়ের বেলায় ভিন্ন নিয়ম
হযরত মুহাম্মদ নিজে অনেকগুলো বিবাহ করেছেন, দাসীর সাথে সহবত করেছেন। এবং প্রায়শই বিবি দাসী এদের নিয়ে রীতিমত ঝগড়াঝাঁটি হয়ে গেছে, যা সামাল দিতে আল্লাহপাকের হুমকিধামকি সহ আয়াত পর্যন্ত নাজিল করতে হয়েছে। নবী মুহাম্মদ আয়শাকে বেশি ভালবাসতেন যেটি সর্বজনবিদিত। নিজে এতগুলো বিয়ে করলেও, নিজের মেয়ের জামাইকে কিন্তু তিনি আর কোন বিয়ে করতে দেন নি [16] [17]।
সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৫৪/ বিয়ে-শাদী
পরিচ্ছদঃ ২৫৩৩. কন্যার মধ্যে ঈর্ষা সৃষ্টি হওয়া থেকে বাধা প্রদান এবং ইনসাফমূলক কথা
৪৮৫০। কুতায়বা (রহঃ) … মিসওয়ার ইবনু মাখরামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মিম্বরে বসে বলতে শুনেছি যে, বনি হিশাম ইবনু মুগীরা, আলী ইবনু আবূ তালিবের কাছে তাদের মেয়ে শাদী দেবার জন্য আমার কাছে অনুমতি চেয়েছে; কিন্তু আমি অনুমতি দেব না, আমি অনুমতি দেব না, আমি অনুমতি দেব না, যতক্ষণ পর্যন্ত না আলী ইবনু আবূ তালিব আমার কন্যাকে তালাক দেয় এবং এর পরেই সে তাদের মেয়েকে শাদী করতে পারে। কেননা, ফাতেমা হচ্ছে আমার কলিজার টুকরা এবং সে যা ঘৃণা করে, আমিও তা ঘৃণা করি এবং তাকে যা কষ্ট দেয়, তা আমাকেও কষ্ট দেয়।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

এই বিবাহটি যে আলী নিজেই করতে চেয়েছিলেন, তার প্রমাণ পাওয়া যায় বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকে [18]

আরো একটি হাদিস গ্রন্থ থেকে দেখে নিই, এই বিয়ে আলী নিজেই করতে ইচ্ছুক ছিলেন কিনা [19] –
আল-লুলু ওয়াল মারজান
৪৪/ সাহাবাগণের মর্যাদা
পরিচ্ছেদঃ ৪৪/১৫. ফাতিমা বিনতু নাবী (ﷺ)-এর মর্যাদা।
১৫৯২. মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু জেহেলের কন্যাকে ‘আলী (রাঃ) বিবাহের প্রস্তাব দিয়ে পাঠালেন। ফাতিমাহ (রাঃ) এ খবর শুনতে পেয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে এসে বললেন, আপনার গোত্রের লোকজন মনে করে যে, আপনি আপনার মেয়েদের সম্মানে রাগান্বিত হন না। ‘আলী (রাঃ) আবূ জেহেলের কন্যাকে বিবাহ করতে প্রস্তুত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিতে প্রস্তুত হলেন। (মিওয়ার বলেন) তিনি যখন হামদ ও সানা পাঠ করেন, তখন আমি তাকে বলতে শুনেছি যে, আমি আবূল আস ইবনু রাবির নিকট আমার মেয়েকে শাদী দিয়েছিলোম। সে আমার সঙ্গে যা বলেছে সত্যই বলেছে। আর ফাতিমাহ আমার টুকরা; তাঁর কোন কষ্ট হোক তা আমি কখনও পছন্দ করি না। আল্লাহর কসম, আল্লাহর রসূলের মেয়ে এবং আল্লাহর দুশমনের মেয়ে একই লোকের নিকট একত্রিত হতে পারে না। ‘আলী (রাঃ) তাঁর বিবাহের প্রস্তাব উঠিয়ে নিলেন।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৬২ : সাহাবাগণের মর্যাদা, অধ্যায় ১৬, হাঃ ৩৭২৯; মুসলিম, পর্ব ৪৪ : সাহাবাগণের মর্যাদা, অধ্যায়, ১৫, হাঃ ২৪৪৯
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ)
উপরের হাদিস পড়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, মুহাম্মদ তো শুধুমাত্র আবু জেহেলের মেয়ের সাথে আলীর বিবাহতে বাধা দিয়েছিল। অন্য কোন সময় তো দেয় নি! তাহলে সমস্যা কোথায়? কিন্তু এই নির্দেশের পরে নবী ও ফাতিমার জীবদ্দশায় আলী আর দ্বিতীয় বিবাহ করতে পারেন নি, কারণ নবীর ঐ নির্দেশনা। ফাতিমা জীবিত থাকাকালীন তিনি দাসী দিয়েই কাজ চালিয়েছেন। [20] [21]। ফাতিমা মারা যাওয়ার পরে অবশ্য মনের খায়েস ইচ্ছামত মিটিছিলেন [22] –


উপসংহার
কোরআন, হাদিস, সীরাত ও তাবাকাতের তথ্য একসাথে পড়লে একটি জিনিস খুব পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়—ইসলামী ঐতিহ্যের মূলধারায় বহুবিবাহ কোনো ব্যতিক্রম বা অনাকাঙ্ক্ষিত “ব্যতিক্রমী ছাড়” ছিল না; বরং নবী মুহাম্মদ থেকে শুরু করে প্রধান খলিফা ও প্রভাবশালী সাহাবীদের ব্যক্তিগত জীবনের নরমালাইজড ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য এক বাস্তবতা ছিল। কোরআনের নিসা ৪:৩-এর ভাষা বহুবিবাহকে নিরুৎসাহিত না করে বরং কাঠামোবদ্ধ ও বৈধতা দেয়; একই সূরার ৪:১২৯ আয়াতে আল্লাহ নিজে স্বীকার করছেন যে, স্ত্রীদের মধ্যে প্রকৃত অর্থে সুবিচার করা কখনোই সম্ভব নয়—তারপরও বহুবিবাহকে বৈধ ও অনুমোদিত রেখেছেন। এই দুই আয়াতের সমাবেশে একটি নৈতিক ও ধারণাগত টানাপোড়েন স্পষ্টভাবে উপস্থিত থাকে: একদিকে অনিবার্য অবিচারের স্বীকৃতি, অন্যদিকে সেই ব্যবস্থাকে বৈধতা।
হাদিস সাহিত্যে বহুবিবাহকে সরাসরি উৎসাহিত করার উদাহরণও খুব পরিষ্কার। সহীহ বুখারীর উদ্ধৃতিতে ইবনু আব্বাস তরুণ সঙ্গীকে বিবাহে উদ্বুদ্ধ করছেন এই যুক্তিতে যে—“এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ মানুষের অধিক সংখ্যক স্ত্রী ছিল।” অর্থাৎ, নবীর অধিকসংখ্যক বিবাহকে এখানে একটি আদর্শিক মানদণ্ড ও প্রেষণা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। একইভাবে, সীরাতে দেখা যায়, নবী নিজে বহু স্ত্রী ও ক্রীতদাসী রেখেছেন; চার খলিফা, নবীর কন্যার জামাতারা, এবং শীর্ষসাহাবীদের অনেকেই ধারাবাহিকভাবে বহু বিবাহ করেছেন ও দাসী রেখেছেন। এগুলো মিলিয়ে যে ছবিটি দাঁড়ায়, তা হল: বাস্তব ইসলামী ইতিহাসে বহুবিবাহ ও দাসী-সহ যৌনসম্পর্ক একটি ক্ষমতাধর পুরুষ–কেন্দ্রিক সামাজিক-ধর্মীয় নর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিল।
একই সাথে, “তবে নবীর মেয়ের ক্ষেত্রে ভিন্ন নিয়ম” অংশটি এই নর্মের ভেতরে একটি স্পষ্ট দ্বৈত মানদণ্ডকে সামনে আনে। নবী নিজে বহু বিবাহ ও দাসী–সহ জীবনযাপন করেও আলীকে ফাতিমা জীবিত থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহের অনুমতি দেননি; মিম্বরে বসে তিনবার ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর কন্যার সাথে আরেক স্ত্রীকে এক ছাদের নিচে আনতে তিনি রাজি নন, এবং এটাকে “কলিজার টুকরা”র কষ্টের যুক্তিতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। অর্থাৎ, অন্য নারীদের কষ্ট, ঈর্ষা, বা অনুভূতির প্রশ্নে কোনো নৈতিক বাধা তৈরি হয় না; কিন্তু যখন বিষয়টি নিজের কন্যার ক্ষেত্রে আসে, তখনই হঠাৎ “ন্যায়, কষ্ট, মর্যাদা”র ভাষা হাজির হয়। এই বৈপরীত্য শুধুমাত্র একটি পারিবারিক ঘটনা নয়, বরং ইসলামী নৈতিকতার দাবি করা সার্বজনীন ন্যায়বোধের সাথে গভীর দ্বন্দ্ব তৈরি করে।
আধুনিক অনেক মুসলিম প্রচারক ও এপোলোজিস্ট আজ চেষ্টা করেন বহুবিবাহকে “অত্যন্ত ব্যতিক্রমী, কেবল বিশেষ পরিস্থিতির ছাড়”, “নবী ও সাহাবীদের জীবন ছিল খুবই সীমিত বহুবিবাহ” ইত্যাদি ভাষায় পুনর্গঠন করতে। কিন্তু কোরআন-হাদিস-সীরাতের মূল তথ্যই দেখায়, এই বর্ণনা ঐতিহাসিকভাবে অসৎ এবং উৎস-বিরোধী। ঐতিহাসিক উৎসগুলোতে প্রায় সর্বত্রই দেখা যায়—শীর্ষস্থানীয় অধিকাংশ পুরুষ সাহাবী বহুবিবাহ করেছেন, দাসী রেখেছেন, যুদ্ধবন্দী নারীদের সঙ্গে যৌনসম্পর্ককে “গণিমতের মাল” কাঠামোর মধ্যে বৈধ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। সুতরাং “ইসলাম আসলে মনোগ্যামি, বহুবিবাহ কেবল কাগজে-কলমে অনুমতি” – এই দাবিগুলো মূলত আধুনিক নৈতিক সংকট এড়ানোর কৌশল, যা প্রাথমিক ইসলামী উৎসের তথ্যের সাথে খাপ খায় না।
মানবাধিকার, লিঙ্গ-সমতা এবং আধুনিক নৈতিক চিন্তার দৃষ্টিকোণ থেকে এই চিত্রটি আরও সমস্যাজনক: (১) এখানে নারীর সম্মতি, পছন্দ ও পারস্পরিক সমতার বদলে পুরুষের যৌন-ইচ্ছা, বংশবৃদ্ধি ও ক্ষমতাই কেন্দ্রীয়; (২) দাসী বা যুদ্ধবন্দী নারীর ক্ষেত্রে তো আদৌ কোনো বাস্তব সম্মতির প্রশ্ন থাকে না, তবু সেই সম্পর্ককে ধর্মীয়ভাবে বৈধ গণ্য করা হয়; (৩) একই পুরুষের জন্য বহু বিবাহ ও দাসী স্বাভাবিক, কিন্তু নিজের কন্যার ক্ষেত্রে সেই একই বাস্তবতা হঠাৎ সহনীয় নয়—এটি অন্তত ন্যূনতম নৈতিক সামঞ্জস্যের মানদণ্ডেও টেকে না।
এই সবকিছু মিলিয়ে উপসংহারে বলা যেতে পারে: ইসলামের প্রাথমিক উৎস ও সীরাত-তাবাকাতের আলোকে বহুবিবাহ ও দাসী-ব্যবস্থা শুধু “অনুমোদিত” নয়, বরং নবী ও সাহাবীদের জীবনাচারে গভীরভাবে সংযোজিত একটি কাঠামোগত প্রথা। আধুনিক দুনিয়ায় কেউ চাইলে ব্যক্তিগতভাবে এসব প্রথা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে বা নৈতিক সমালোচনা করতে পারে—কিন্তু “ইসলাম আসলে এগুলো নিরুৎসাহিত করেছে, সাহাবীরা নাকি প্রায় সবাই এক স্ত্রী ছিলেন”—এই ধরনের দাবি আসলে ঐতিহাসিক তথ্যকে অস্বীকার বা মেকআপ করার সমান। সত্যিকার অর্থে সৎ ও দায়িত্বশীল বোধ থেকে যদি কোনো মূল্যায়ন করতে হয়, তবে প্রথম শর্তই হবে: উৎস যা বলে, তা স্বীকার করা; তারপর সেই বাস্তবতাকে নৈতিক, মানবিক ও যুক্তিগত মানদণ্ডে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য খোলা রাখা।
তথ্যসূত্রঃ
- সূরা নিসা, আয়াত ৩ ↩︎
- সূরা নিসা, আয়াত ১২৯ ↩︎
- সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৪৬৯৯ ↩︎
- সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, হাদিসঃ ৫০৬৯ ↩︎
- ইবন সা‘দ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, খণ্ড ৮; ইবন হিশাম, আস-সীরাহ আন-নববিয়্যাহ ↩︎
- Wives of Muhammad – প্রচলিত তালিকা অনুযায়ী ১১ স্ত্রী সম্বন্ধে আলোচনা রয়েছে ↩︎
- মারিয়া ও রাইহানাকে নবীর উপপত্নী হিসেবে আলোচনা করে আধুনিক রেফারেন্স ↩︎
- ইবন সা‘দ, খণ্ড ৩, “তারজামা আবি বকর”; আধুনিক সারসংক্ষেপ: Abu Bakr – spouses ↩︎
- Umar – spouses section ↩︎
- Uthman – spouses summary ↩︎
- Ali – wives section, যেখানে কমপক্ষে নয়জন স্ত্রীর তালিকা আছে ↩︎
- যেমন: উম্মুল বানি্ন, উম্মুল হাবিব ইত্যাদি সম্পর্কে বংশানুক্রমিক তথ্য ↩︎
- আল-হাসান ইবন আলী বিষয়ে আধুনিক সারসংক্ষেপ: “Number of consorts” ও বিভিন্ন মতভেদী রিপোর্ট ↩︎
- Husayn ibn Ali – family section ↩︎
- উদাহরণ: আবদুর রহমান ইবন আওফ–এর জীবনীতে একাধিক স্ত্রী ও বহু সন্তানের তথ্য ↩︎
- সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৪৮৫০ ↩︎
- সহিহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, খণ্ড ৮ ↩︎
- বোখারী শরীফ (বাংলা তরজমা ও ব্যাখ্যা), খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ২২৯ ↩︎
- আল-লুলু ওয়াল মারজান, হাদিসঃ ১৫৯২ ↩︎
- সহীহুল বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, পঞ্চম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৭ ↩︎
- জামাতাকেও নারী উপহার দিতেন মুহাম্মদ ↩︎
- আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, সপ্তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৮৯ ↩︎
