জ্ঞানকোষ প্রবন্ধ

নাস্তিকদের বুদ্ধিমত্তা বা IQ কেন বেশি হয়?

প্রকাশিত: এপ্রিল 27, 2024লেখক: আসিফ মহিউদ্দীন18 মিনিট পড়া

ভূমিকা

নাস্তিক ও ধর্মীয় অবিশ্বাসীদের গড় বুদ্ধিমত্তা ধর্মবিশ্বাসীদের তুলনায় বেশি—এটি মনোবিজ্ঞানের গবেষণায় পুনরাবৃত্তভাবে পাওয়া একটি পরিসংখ্যানগত ফলাফল। প্রায় এক শতাব্দী ধরে ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা, ঈশ্বরবিশ্বাস, ধর্মীয় মতবাদে আস্থা এবং ধর্মীয় আচারপালনের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা হয়েছে। বিভিন্ন দেশ, বয়স ও পরিমাপপদ্ধতি নিয়ে প্রকাশিত একাধিক মেটা-বিশ্লেষণে ধর্মবিশ্বাসের তীব্রতা এবং সাধারণ বুদ্ধিমত্তার মধ্যে নেতিবাচক সহসম্পর্ক পাওয়া গেছে। অর্থাৎ গবেষণায় উচ্চতর বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে তুলনামূলক কম ধর্মবিশ্বাসের প্রবণতা নিয়মিতভাবে যুক্ত হয়েছে। এই ফলাফলের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি কোনো খ্যাতিমান নাস্তিকের মতামত বা বিচ্ছিন্ন জরিপ নয়, বরং বহু গবেষণার সম্মিলিত পরিসংখ্যান। [1]

small but robust negative association between intelligence and religiosity

বাংলা অনুবাদ: বুদ্ধিমত্তা ও ধর্মীয়তার মধ্যে ছোট কিন্তু সুপ্রতিষ্ঠিত নেতিবাচক সম্পর্ক।

উচ্চ আইকিউ, সমালোচনামূলক চিন্তা এবং ধর্মীয় অবিশ্বাস পরস্পরের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত—সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে বুদ্ধিমত্তা, বিশ্বাস এবং চিন্তার ধরনকে আলাদা করে দেখতে হয়। বুদ্ধিমত্তার পরীক্ষায় পাওয়া নম্বর, দ্রুত কোনো উত্তর মেনে না নিয়ে চিন্তা করার সক্ষমতা এবং ধর্মীয় মতবাদের সত্যতা নিয়ে অবস্থান—তিনটি পৃথক বিষয়। গবেষণায় তাদের মধ্যে নির্দিষ্ট সম্পর্ক পাওয়া যায়; এই সম্পর্কের অর্থ বুঝতে হলে প্রত্যেকটির পরিমাপ এবং ফলাফলের মাত্রা জানতে হয়। ব্যক্তিগত পরিচয়ের বদলে পরীক্ষার ফল এবং বহু নমুনার সম্মিলিত তথ্যই এখানে সিদ্ধান্তের ভিত্তি।

বুদ্ধিমত্তা

বুদ্ধিমত্তা, নাস্তিকতা ও ধর্মীয় বিশ্বাস: গবেষণায় কী মাপা হয়?

বুদ্ধিমত্তা গবেষণায় সাধারণ বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা বা general intelligence (g) বলতে বিভিন্ন ধরনের জ্ঞানগত কাজে একজন ব্যক্তির পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত দক্ষতাকে বোঝানো হয়। আইকিউ পরীক্ষার উদ্দেশ্য সেই সক্ষমতার একটি মানসম্মত পরিমাপ দেওয়া। অন্যদিকে ধর্মীয়তা পরিমাপ করা হয় ঈশ্বরে বিশ্বাসের মাত্রা, ধর্মগ্রন্থ বা অতিপ্রাকৃত মতবাদে আস্থা, প্রার্থনা, উপাসনায় অংশগ্রহণ, ধর্মীয় পরিচয় এবং আচারপালনের মতো সূচক দিয়ে। ফলে নাস্তিকতার পরিচয়, ঈশ্বরবিশ্বাসের অনুপস্থিতি এবং কম ধর্মীয় আচরণ সবসময় একই শ্রেণি নয়। কেউ সামাজিক কারণে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন, অথচ তাঁর বিশ্বাস দুর্বল; আবার কোনো ধর্মপরিচয় বহনকারী ব্যক্তিও প্রতিষ্ঠিত ধর্মতত্ত্বের বহু দাবি প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। ধর্মবিশ্বাসের প্রশ্নে গবেষকদের পাওয়া সম্পর্ক সাধারণত ধর্মীয় আচরণের তুলনায় বেশি স্পষ্ট। [2]

it was also stronger for religious beliefs than religious behavior.

বাংলা অনুবাদ: ধর্মীয় আচরণের তুলনায় ধর্মীয় বিশ্বাসের ক্ষেত্রে সম্পর্কটি আরও শক্তিশালী ছিল।

এই পার্থক্যটি গবেষণার ফল বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় সভায় উপস্থিতি দিয়ে কোনো ব্যক্তির অন্তর্গত বিশ্বাসের মাত্রা পুরোপুরি নির্ধারণ করা যায় না। একইভাবে শিক্ষা, পেশাগত সাফল্য এবং আইকিউ অভিন্ন পরিমাপক নয়। বিদ্যালয়ের ফলাফলে মনোযোগ, সামাজিক সুযোগ, অর্থনৈতিক অবস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রভাব থাকে। সুনির্দিষ্ট বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষার ফল তাই ধর্মীয়তার সঙ্গে সম্পর্ক যাচাইয়ের একটি প্রত্যক্ষ পদ্ধতি। এই পরীক্ষাভিত্তিক গবেষণাতেও বুদ্ধিমত্তা ও ধর্মবিশ্বাসের নেতিবাচক সম্পর্ক বজায় রয়েছে।


২০০৯ সালের গবেষণা: নাস্তিকদের গড় আইকিউ প্রায় ৬ পয়েন্ট বেশি

রিচার্ড লিন, জন হার্ভে এবং হেলমুথ নাইবোর্গ ২০০৯ সালে প্রকাশিত গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের National Longitudinal Survey of Youth 1997 (NLSY97) প্রকল্পের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। এটি গবেষকদের নতুন করে পরিচালিত আলাদা জরিপ ছিল না; ১৯৯৭ সালে ১২–১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জাতীয় অনুদৈর্ঘ্য সমীক্ষার তথ্যের পুনর্বিশ্লেষণ। তাঁদের ব্যবহৃত নমুনায় ৬,৮২৫ জন অংশগ্রহণকারীর ধর্মীয় পরিচয় এবং জ্ঞানগত পরীক্ষার ফল ছিল। Armed Services Vocational Aptitude Battery-এর পরীক্ষার ফল থেকে সাধারণ বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সূচক নির্ধারণ করে তাঁরা দেখান, নাস্তিকদের গড় ফল ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশকারী সম্মিলিত গোষ্ঠীর তুলনায় প্রায় ৬ আইকিউ-সমতুল্য পয়েন্ট বেশি। পার্থক্যটি পরিসংখ্যানগতভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। [3]

Atheists scored 6 g-IQ equivalent points higher than the combined group of subjects professing to one or another of a large number of different religions.

বাংলা অনুবাদ: বিভিন্ন ধর্মের কোনো একটিতে বিশ্বাস প্রকাশকারী সম্মিলিত অংশগ্রহণকারীদের তুলনায় নাস্তিকদের স্কোর সাধারণ বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আইকিউ-সমতুল্য হিসাবে ৬ পয়েন্ট বেশি ছিল।

একই NLSY97 তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে নাইবোর্গের ২০০৯ সালের আরেক বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের শ্বেতাঙ্গ কিশোরদের বিভিন্ন ধর্মীয় অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য পাওয়া যায়। ওই বিশ্লেষণে নাস্তিকদের স্কোর অজ্ঞেয়বাদীদের তুলনায় গড়ে ১.৯৫, উদার ধর্মীয় ধারার অংশগ্রহণকারীদের তুলনায় ৩.৮২ এবং কঠোর মতবাদমুখী ধর্মীয় ধারার অংশগ্রহণকারীদের তুলনায় ৫.৮৯ আইকিউ পয়েন্ট বেশি ছিল। ওই নমুনায় সামগ্রিকভাবে ধর্মবিশ্বাসীদের সঙ্গে নাস্তিকদের গড় পার্থক্য ছিল ৫.১৩ পয়েন্ট। ধর্মীয় অবস্থানের তীব্রতার সঙ্গে জ্ঞানগত সক্ষমতার একটি ক্রমবিন্যাস পাওয়া যায়। তবে এই দুটি ২০০৯ সালের গবেষণাকে দুটি স্বাধীন নমুনার প্রমাণ বলা যাবে না: উভয়ই একই NLSY97 তথ্যভান্ডার থেকে ফল বের করেছে। [4]

Atheists score 1.95 IQ points higher than Agnostics, 3.82 points higher than Liberal persuasions, and 5.89 IQ points higher than Dogmatic persuasions.

বাংলা অনুবাদ: নাস্তিকদের আইকিউ অজ্ঞেয়বাদীদের তুলনায় ১.৯৫, উদার ধর্মীয় ধারার তুলনায় ৩.৮২ এবং কঠোর মতবাদমুখী ধর্মীয় ধারার তুলনায় ৫.৮৯ পয়েন্ট বেশি।


১৩৭ দেশের তুলনা: ব্যক্তিগত তথ্যের সঙ্গে জাতীয় গড় এক নয়

লিন, হার্ভে ও নাইবোর্গ একই প্রবন্ধে ১৩৭টি দেশের জন্য প্রচলিত জাতীয় আইকিউ অনুমান এবং ঈশ্বরে অবিশ্বাসের হারের মধ্যে r = +০.৬০ সহসম্পর্কের কথা জানান। অর্থাৎ তাঁদের ব্যবহৃত দেশভিত্তিক সংখ্যায় বেশি জাতীয় আইকিউ-অনুমানের সঙ্গে বেশি অবিশ্বাসের হার যুক্ত ছিল। কিন্তু ব্যক্তি-পর্যায়ে একজন নাস্তিক এবং একজন বিশ্বাসীর বুদ্ধিমত্তার তুলনা করতে দেশভিত্তিক গড় ব্যবহার করা যুক্তিগত ভুল। দেশের গড় আর সেই দেশের প্রত্যেক মানুষের গড়-বহির্ভূত অবস্থান এক নয়। তদুপরি লিন–ভানহানেন জাতীয় আইকিউ তথ্যভান্ডারের বহু দেশের নমুনা, প্রতিনিধিত্ব এবং আন্তর্দেশীয় তুলনাযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর পদ্ধতিগত সমালোচনা রয়েছে। তাই ১৩৭ দেশের ০.৬০ সহসম্পর্ককে ব্যক্তি-পর্যায়ের গবেষণার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। ব্যক্তিগত বুদ্ধিমত্তা ও ধর্মবিশ্বাসের সম্পর্কের শক্তিশালী প্রমাণ এসেছে সরাসরি ব্যক্তির ওপর পরিচালিত পরীক্ষা এবং মেটা-বিশ্লেষণ থেকে। [5]

Most data originates from samples which are wholly unrepresentative of their national populations.

বাংলা অনুবাদ: অধিকাংশ উপাত্ত এমন নমুনা থেকে এসেছে, যা সংশ্লিষ্ট দেশের সামগ্রিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বই করে না।


জাকারম্যানের মেটা-বিশ্লেষণ: ২০১৩ ও ২০২০ সালের সম্মিলিত ফলাফল

একটি সমীক্ষার ফলকে সামগ্রিক নিয়ম হিসেবে গ্রহণ করার চেয়ে বহু গবেষণার ফল সম্মিলিত করে পরীক্ষা করা বেশি নির্ভরযোগ্য। মিরন জাকারম্যান, জর্ডান সিলবারম্যান ও জুডিথ হল ২০১৩ সালে বুদ্ধিমত্তা ও ধর্মীয়তার সম্পর্ক নিয়ে ৬৩টি গবেষণার মেটা-বিশ্লেষণ প্রকাশ করেন। মূল পর্যালোচনায় অধিকাংশ গবেষণার ফল ছিল নেতিবাচক সম্পর্কের দিকে; বহুল উদ্ধৃত হিসাবে ৫৩টি গবেষণায় সেই দিকের ফল পাওয়া যায়। কলেজশিক্ষার্থী ও সাধারণ জনসংখ্যার নমুনায় বুদ্ধিমত্তা এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের তীব্রতার গড় সহসম্পর্ক ছিল প্রায় r = −০.২৪; পৃথক গণনাপদ্ধতিতে এর পরিসর −০.২০ থেকে −০.২৫। গবেষণা যতগুলোই হোক, এ সংখ্যার অর্থ স্পষ্ট: বেশি বুদ্ধিমত্তা সাধারণভাবে কম ধর্মবিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত। [2]

A meta-analysis of 63 studies showed a significant negative association between intelligence and religiosity.

বাংলা অনুবাদ: ৬৩টি গবেষণার মেটা-বিশ্লেষণে বুদ্ধিমত্তা ও ধর্মীয়তার মধ্যে পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ নেতিবাচক সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

২০১৩ সালের ফলাফল প্রকাশের পরে নতুন গবেষণা যুক্ত হয়। জাকারম্যান, চেন লি, শেংসিন লিন ও জুডিথ হল ২০২০ সালে ৮৩টি গবেষণা নিয়ে নতুন মেটা-বিশ্লেষণ প্রকাশ করেন। ২০১৯ সালে অনলাইনে প্রকাশিত এবং ২০২০ সালের জার্নাল সংখ্যায় অন্তর্ভুক্ত এই গবেষণায় কলেজশিক্ষার্থী ও কলেজের বাইরের নমুনায় বুদ্ধিমত্তা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের সহসম্পর্কের পরিসর পাওয়া যায় −০.২০ থেকে −০.২৩। নতুন তথ্য যুক্ত করার পরও সম্পর্কের দিক বদলায়নি। একই গবেষণায় শিক্ষার মধ্যবর্তী ভূমিকা পরীক্ষা করে দেখা যায়, শুধু শিক্ষা দিয়ে বুদ্ধিমত্তা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের সম্পর্কটি ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না; বিশ্লেষণধর্মী চিন্তার আংশিক মধ্যবর্তী ভূমিকার সমর্থন পাওয়া যায়। ফলে ২০১৩ সালের নেতিবাচক সম্পর্ক একটি মাত্র নমুনা বা বিশেষ গণনাপদ্ধতির ফল হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি। [6]

the new analysis showed that the correlation between intelligence and religious beliefs in college and noncollege samples ranged from -.20 to -.23.

বাংলা অনুবাদ: নতুন বিশ্লেষণে কলেজশিক্ষার্থী ও কলেজের বাইরের নমুনায় বুদ্ধিমত্তা এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে সহসম্পর্কের পরিসর ছিল −০.২০ থেকে −০.২৩।


২০২২ সালের মেটা-বিশ্লেষণ: ২,০১,৪৫৭ জনের সম্মিলিত তথ্য

ফ্লোরিয়ান ডুরলিঙ্গার ও ইয়াকব পিয়েটশনিগ ২০২২ সালে আরও বিস্তৃত মেটা-বিশ্লেষণে ৮৯টি গবেষণা থেকে ১০৫টি প্রভাবমাত্রার হিসাব সংগ্রহ করেন। সম্মিলিত অংশগ্রহণকারী ছিল ২,০১,৪৫৭ জন। সামগ্রিক সহসম্পর্ক r = −০.১৪, পরিসংখ্যানগত তাৎপর্য p < ০.০০১, এবং ৯৫ শতাংশ আস্থার ব্যবধান −০.১৭ থেকে −০.১২। সহসম্পর্কের মাত্রা ছোট হলেও এত বড় সম্মিলিত নমুনায় নেতিবাচক সম্পর্কটির উপস্থিতি সুপ্রতিষ্ঠিত। গবেষকেরা ১৯২টি যৌক্তিক বিশ্লেষণ-বিন্যাস পরীক্ষা করেন; উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া ১৩৫টি বিন্যাসের সবকটিতেই সম্পর্কের দিক ছিল নেতিবাচক। জ্ঞানগত পরীক্ষার মাধ্যমে সরাসরি বুদ্ধিমত্তা মাপলে সম্পর্কটি শিক্ষাগত নম্বরের মতো পরোক্ষ সূচকের তুলনায় বেশি স্পষ্ট হয়। [7]

Out of 192 reasonable specifications all 135 (70.4%) significant summary effects were negative.

বাংলা অনুবাদ: ১৯২টি যৌক্তিক বিশ্লেষণ-বিন্যাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া ১৩৫টি বিন্যাসের সবকটিতেই সম্পর্কের দিক ছিল নেতিবাচক।


২০২৬ সালের নতুন গবেষণা: সাধারণ বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সম্পর্ক আরও স্পষ্ট

২০২৬ সালের ১২ মার্চ Frontiers in Psychology জার্নালে ডুরলিঙ্গার ও পিয়েটশনিগ আরেকটি গবেষণা প্রকাশ করেন। এবার তাঁরা NLSY-এর তথ্য এবং একাধিক গবেষণার সম্মিলিত বিশ্লেষণ ব্যবহার করে পরীক্ষা করেন, বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষার কোন বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ধর্মীয়তার সম্পর্ক বেশি ঘনিষ্ঠ। তাঁদের মেটা-বিশ্লেষণে ১২৬টি প্রভাবমাত্রার সম্মিলিত সহসম্পর্ক প্রায় r = −০.১৩৫। সাধারণ বুদ্ধিমত্তা বা g ভালোভাবে পরিমাপ করে এমন পরীক্ষার ক্ষেত্রে সম্পর্কের মাত্রা প্রায় r = −০.২০ পর্যন্ত পৌঁছায়। গবেষকদের ভাষায়, উচ্চতর সাধারণ বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ধর্মীয় বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গি ধারণের প্রবণতা কম। একই গবেষণায় ক্যাথলিক অংশগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে বিশ্বাসের সঙ্গে বুদ্ধিমত্তার সম্পর্ক আচারপালনের সম্পর্কের চেয়ে বেশি নেতিবাচক পাওয়া যায়। ফলাফলটি আগের গবেষণার ধারাকে আরও নির্দিষ্ট করেছে: ধর্মীয় অবিশ্বাসের সঙ্গে কেবল শিক্ষাগত সার্টিফিকেট নয়, সাধারণ জ্ঞানগত সক্ষমতারও সম্পর্ক রয়েছে। [8]

individuals of higher general intelligence are less likely to uphold religious worldviews

বাংলা অনুবাদ: উচ্চতর সাধারণ বুদ্ধিমত্তার ব্যক্তিদের ধর্মীয় বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গি ধারণের সম্ভাবনা কম।


গবেষণাগুলোর ফলাফল একনজরে

গবেষণাউপাত্তমূল ফলাফল
Lynn, Harvey & Nyborg (2009)যুক্তরাষ্ট্রে ৬,৮২৫ কিশোর-কিশোরীনাস্তিকদের গড় আইকিউ-সমতুল্য স্কোর প্রায় ৬ পয়েন্ট বেশি
Zuckerman et al. (2013)৬৩টি গবেষণাবিশ্বাসের সঙ্গে গড় সহসম্পর্ক প্রায় −০.২৪
Zuckerman et al. (2020)৮৩টি গবেষণাপ্রাসঙ্গিক নমুনায় সহসম্পর্ক −০.২০ থেকে −০.২৩
Dürlinger & Pietschnig (2022)৮৯ গবেষণা; ১০৫টি প্রভাবমাত্রা; ২,০১,৪৫৭ জনসম্মিলিত সহসম্পর্ক −০.১৪; p < ০.০০১
Dürlinger & Pietschnig (2026)NLSY তথ্য ও ১২৬টি মেটা-বিশ্লেষণভুক্ত প্রভাবমাত্রাসামগ্রিক সম্পর্ক প্রায় −০.১৩৫; উচ্চ g-নির্ভর পরীক্ষায় প্রায় −০.২০

এখানে একই গবেষণা ভিন্ন মেটা-বিশ্লেষণে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তাই ২০১৩, ২০২০, ২০২২ ও ২০২৬ সালের উপাত্তকে যোগ করে চারটি সম্পূর্ণ স্বাধীন গবেষণাসমষ্টি বলা ভুল হবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিন্ন গবেষক, অতিরিক্ত তথ্য এবং নতুন গণনাপদ্ধতি ব্যবহারের পরও সামগ্রিক নেতিবাচক সম্পর্কের দিকটি বহাল রয়েছে। ৬ আইকিউ পয়েন্টের একটি নির্দিষ্ট নমুনাভিত্তিক পার্থক্য এবং −০.১৪ সহসম্পর্কের বহু-গবেষণাভিত্তিক ফলও ভিন্ন ধরনের পরিসংখ্যান; একটিকে অন্যটির সমার্থক করা যায় না।


বার্ধক্যের গবেষণাতেও ধর্মবিশ্বাস ও বুদ্ধিমত্তার বিপরীত সম্পর্ক

সম্পর্কটি কেবল তরুণ শিক্ষার্থীদের নমুনায় সীমাবদ্ধ নয়। স্টুয়ার্ট রিচি, অ্যালান গো ও ইয়ান ডিয়ারি ২০১৪ সালে এমন একটি অনুদৈর্ঘ্য দলের তথ্য পরীক্ষা করেন, যাঁদের শৈশবের বুদ্ধিবৃত্তিক পরীক্ষার ফল সংরক্ষিত ছিল এবং পরবর্তী সময়ে ৭৯ থেকে ৯০ বছর বয়স পর্যন্ত জ্ঞানগত সক্ষমতা একাধিকবার পরিমাপ করা হয়েছিল। প্রাথমিক নমুনায় ছিলেন ৫৫০ জন। ৮৩ বছর বয়সে ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিমাপের সঙ্গে পরবর্তী বয়সের বুদ্ধিমত্তার নেতিবাচক সম্পর্ক পাওয়া যায়, কিন্তু ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে একই সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে ৭৯ বছর বয়সের বুদ্ধিমত্তা এবং চার বছর পরের ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে প্রায় −০.১৪ থেকে −০.১৫ সহসম্পর্ক পাওয়া যায়। ধর্মীয়তা দ্রুত বুদ্ধিবৃত্তিক অবক্ষয় ঘটায়—এমন প্রমাণ ওই গবেষণায় পাওয়া যায়নি। এই ফল দেখায়, ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে গড় বুদ্ধিমত্তার নেতিবাচক সম্পর্ক পরিণত বয়সের নমুনাতেও উপস্থিত। [9]

We found that religious belief, but not attendance, was negatively related to intelligence.

বাংলা অনুবাদ: আমরা দেখেছি, ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে বুদ্ধিমত্তার নেতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে, কিন্তু ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সঙ্গে তেমন সম্পর্ক নেই।


কেন উচ্চ বুদ্ধিমত্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ধর্মীয় অবিশ্বাস বেশি?

বুদ্ধিমত্তা ও ধর্মীয় অবিশ্বাসের সম্পর্কের পেছনে কয়েকটি মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া গবেষণায় আলোচিত হয়েছে। জাকারম্যান ও তাঁর সহকর্মীরা বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা, প্রচলিত মতের বিরুদ্ধে স্বাধীন অবস্থান গ্রহণ এবং ধর্মীয় বিশ্বাস যেসব মানসিক কাজ সম্পন্ন করে তার কার্যকর বিকল্পের ধারণা সামনে আনেন। এগুলো পর্যবেক্ষিত সম্পর্ক ব্যাখ্যার প্রস্তাবিত প্রক্রিয়া। প্রত্যেকটির পক্ষে সমান মাত্রার পরীক্ষামূলক তথ্য নেই; বিশেষ করে চিন্তার ধরন ও বিশ্বাসের সম্পর্ক নিয়ে বহু গবেষণা থাকলেও অন্য দুটি ব্যাখ্যার স্বতন্ত্র কার্যকারণ-পরীক্ষা তুলনামূলক সীমিত।

বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাধারা (Analytic Thinking)

প্রথমে সত্য বলে মনে হওয়া উত্তরকে পরীক্ষা করা, নিজের ধারণার বিরুদ্ধে প্রমাণ খোঁজা এবং যুক্তিগত অসংগতি শনাক্ত করা বিশ্লেষণধর্মী চিন্তার বৈশিষ্ট্য। উচ্চতর বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা এই ধরনের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত। অলৌকিক ঘটনা, অদৃশ্য সত্তা বা ধর্মীয় কর্তৃত্বের দাবিও তখন যাচাইয়ের বিষয় হয়ে ওঠে। গবেষণায় বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা ও ধর্মীয় অবিশ্বাসের মধ্যে পুনরাবৃত্ত নেতিবাচক সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

অপ্রথাবদ্ধতা (Nonconformity)

পরিবার, সমাজ বা ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের শেখানো কোনো বক্তব্য প্রচলিত হওয়ার কারণেই সত্য হয়ে যায় না। স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করার ক্ষমতা সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত মতবাদ প্রত্যাখ্যানের সুযোগ তৈরি করে। জাকারম্যান ও সহকর্মীরা উচ্চ বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে প্রচলিত মতের অনুসরণ কম হওয়ার সম্ভাবনাকে ধর্মীয় অবিশ্বাসের একটি ব্যাখ্যা হিসেবে আলোচনা করেছেন। এটি প্রস্তাবিত মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা; প্রত্যেক নাস্তিকের ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যের বিবরণ নয়।

কার্যকরী বিকল্প (Functional Equivalence)

ধর্মীয় বিশ্বাস অনিশ্চয়তা মোকাবিলা, নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি, মানসিক সান্ত্বনা এবং সামাজিক নির্ভরতার কাজ করতে পারে। সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প সামাজিক সম্পর্কের মাধ্যমে একই ধরনের কিছু প্রয়োজন অন্যভাবে পূরণ হতে পারে। গবেষকদের প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব বিকল্প সক্ষমতার কারণে উচ্চ বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন মানুষের ধর্মের প্রতি নির্ভরশীলতা কমতে পারে।

বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা সম্পর্কিত ব্যাখ্যাটি পরীক্ষাযোগ্য: একজন ব্যক্তি প্রাথমিক অনুমানকে প্রশ্ন করার প্রবণতায় বেশি দক্ষ হলে তিনি ঈশ্বরের অস্তিত্ব বা অলৌকিক ব্যাখ্যার দাবিকে কতটা গ্রহণ করেন? ধর্মবিশ্বাসের সঙ্গে চিন্তার ধরন ও বুদ্ধিমত্তার সম্পর্কের মধ্যবর্তী ভূমিকা নিয়ে ২০২২ সালের মেটা-বিশ্লেষণেও বিশ্লেষণ হয়েছে। সেখানে চিন্তার ধরনকে হিসাবে নিলে বুদ্ধিমত্তা–ধর্মীয়তার সরাসরি সম্পর্কের মাত্রা হ্রাস পায়; আবার বুদ্ধিমত্তার প্রভাব বিবেচনায় নিলেও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা ও ধর্মীয়তার সম্পর্ক পুরোপুরি বিলুপ্ত হয় না। অর্থাৎ দুটি জ্ঞানগত বৈশিষ্ট্যের সম্পর্ক আছে, আবার তাদের ব্যাখ্যাগত ভূমিকা অভিন্নও নয়। [10]


কগনিটিভ রিফ্লেকশন টেস্ট (CRT): স্বজ্ঞাত উত্তরের বদলে যাচাই করা উত্তর

Cognitive Reflection Test বা সিআরটি এমন প্রশ্ন ব্যবহার করে, যেগুলোর প্রথমে মনে হওয়া উত্তর প্রায়ই ভুল হয়। সঠিক উত্তর পেতে সহজাত প্রতিক্রিয়া থামিয়ে আবার হিসাব বা যুক্তি পরীক্ষা করতে হয়। তাই সিআরটি সরাসরি আইকিউ পরীক্ষার সমার্থক নয়; এটি বিশেষভাবে স্বজ্ঞাত উত্তরের বদলে প্রতিফলনমূলক চিন্তার প্রবণতা নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়। বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকলেও দুটি পরিমাপ এক নয়। এই পৃথক পরীক্ষায়ও নাস্তিকতা ও ধর্মীয় অবিশ্বাসের দিকে একই ধরনের পরিসংখ্যানগত প্রবণতা দেখা গেছে।

গর্ডন পেনিকুক, জেমস চেইন, পল সেলি, ডেরেক কোয়েলার ও জোনাথন ফুগেলস্যাং ২০১২ সালে Cognition জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা ও ধর্মীয় এবং অতিপ্রাকৃত বিশ্বাসের সম্পর্ক পরীক্ষা করেন। বয়স, লিঙ্গ, শিক্ষা, রাজনৈতিক অবস্থান, ধর্মীয় আচার এবং জ্ঞানগত সক্ষমতার মতো উপাদান হিসাব করার পরও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তার সঙ্গে অতিপ্রাকৃত বিশ্বাসের নেতিবাচক সম্পর্ক পান। ফলে শুধু উচ্চ আইকিউ নয়, কোনো দাবি গ্রহণের আগে যুক্তি পরীক্ষা করার প্রবণতাও ধর্মীয় অবিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত। [11]

Participants more willing to engage in analytic reasoning were less likely to endorse supernatural beliefs.

বাংলা অনুবাদ: যেসব অংশগ্রহণকারী বিশ্লেষণধর্মী যুক্তিচর্চায় বেশি আগ্রহী ছিলেন, তাঁদের অতিপ্রাকৃত বিশ্বাস গ্রহণের সম্ভাবনা কম ছিল।

পেনিকুক, রবার্ট রস, ডেরেক কোয়েলার ও জোনাথন ফুগেলস্যাং ২০১৬ সালে চারটি নতুন গবেষণা এবং পূর্ববর্তী তথ্যের মেটা-বিশ্লেষণ প্রকাশ করেন। গবেষণাটির শিরোনামই ছিল Atheists and Agnostics Are More Reflective than Religious Believers। তাঁদের তথ্য ধর্মীয় অবিশ্বাস ও প্রতিফলনমূলক চিন্তার সম্পর্ককে আরও সমর্থন করে। একই সঙ্গে ধর্মীয় বিশ্বাসের মাত্রা পরিমাপ করার আগে সিআরটি নেওয়া হয়েছিল বলে কেবল প্রশ্নের ক্রমের প্রভাবে ফল এসেছে—এই সম্ভাবনাও তাঁরা পরীক্ষা করেন। [12]


১৯টি দেশের ৭,৭৭১ জন: ২০২৫ সালের আন্তর্দেশীয় পরীক্ষা

ওমিদ ঘাসেমি, অনুরজান ইলমাজ, ওজান ইসলের, জেনি টেরি ও রবার্ট রস ২০২৫ সালে ১৯টি দেশের ৭,৭৭১ জন বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখান, প্রতিফলনমূলক চিন্তার উচ্চ স্কোর ঈশ্বরে কম বিশ্বাসের সঙ্গে এবং স্বজ্ঞাত উত্তরের প্রবণতা বেশি ঈশ্বরবিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত। গবেষণাটি আগেই নির্ধারিত বিশ্লেষণ-পরিকল্পনা ব্যবহার করে; অংশগ্রহণকারীদের শিক্ষার স্তর তুলনাযোগ্য রাখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করা হয়। প্রশ্নের ক্রম বদলে সিআরটি আগে করানো হয়েছিল কি না, সেই পরীক্ষায় ঈশ্বরবিশ্বাস কমে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে পরীক্ষার ফলের সঙ্গে বিশ্বাসের যে সম্পর্ক ধরা পড়েছে, তা পরীক্ষার প্রশ্ন সামনে দেখামাত্র বিশ্বাস বদলে যাওয়ার ঘটনা নয়। [13]

we found a negative relationship between reflective thinking and BiG

বাংলা অনুবাদ: আমরা প্রতিফলনমূলক চিন্তা ও ঈশ্বরবিশ্বাসের মধ্যে নেতিবাচক সম্পর্ক পেয়েছি।

এই আন্তর্দেশীয় গবেষণার তাৎপর্য হলো, যুক্তিনির্ভর চিন্তা ও ধর্মীয় অবিশ্বাসের সম্পর্কটি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের একটি নমুনায় পাওয়া যায়নি। একই ধরনের অনুসন্ধান অন্য সাংস্কৃতিক পরিবেশেও চালানো হয়েছে। তবে দেশভেদে সম্পর্কের মাত্রা একই নয়। ২০১৮ সালে ১৩টি সমাজের ৩,৪৬১ জনের গবেষণায় সম্মিলিতভাবে নেতিবাচক সম্পর্ক পাওয়া গেলেও প্রত্যেক দেশের পৃথক ফল সমান শক্তিশালী ছিল না। এটি ২০২৫ সালের বৃহত্তর গবেষণার প্রয়োজনীয়তাই দেখায়: একই মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্ক পরীক্ষা করতে সাংস্কৃতিক পরিবেশ ও নমুনার বৈচিত্র্য জরুরি। [14]

The results provide additional evidence for culture’s effects on core beliefs.

বাংলা অনুবাদ: ফলাফল মানুষের মৌলিক বিশ্বাসের ওপর সংস্কৃতির প্রভাবের অতিরিক্ত প্রমাণ দেয়।


১৬ দেশের ৫০,৮২৭ জন: বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা ও বিশ্বাস পরিবর্তন

মাইকেল স্ট্যাগনারো ও গর্ডন পেনিকুক ২০২৫ সালে Cognition জার্নালে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় ১৬টি দেশের দুই বৃহৎ তথ্যসমষ্টির মোট ৫০,৮২৭ জন অংশগ্রহণকারীর তথ্য বিশ্লেষণ করেন। প্রায় এক-চতুর্থাংশ অংশগ্রহণকারী জীবনে অন্তত একবার তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাসে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের কথা জানান। বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা শুধু ধর্মীয় অবিশ্বাসের সঙ্গে নয়, বিশ্বাস পরিবর্তনের প্রবণতার সঙ্গেও যুক্ত পাওয়া যায়। ফলে সমালোচনামূলক চিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য সামনে আসে: পূর্বে গ্রহণ করা অবস্থানকে নতুন করে মূল্যায়ন করা। গবেষণাটি অতীতের পরিবর্তন সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য এবং সমসাময়িক পরিমাপ ব্যবহার করেছে; এটি বহু বছর ধরে তাঁদের প্রত্যেকের বিশ্বাস পরিবর্তন সরাসরি অনুসরণ করার অনুদৈর্ঘ্য পরীক্ষা নয়। [15]

In total, this work provides evidence for a robust link between analytic thinking and religious belief change over time.

বাংলা অনুবাদ: সার্বিকভাবে এই গবেষণা বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা এবং সময়ের সঙ্গে ধর্মীয় বিশ্বাস পরিবর্তনের মধ্যে সুপ্রতিষ্ঠিত সম্পর্কের প্রমাণ দেয়।


বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞান ও সাভানা-আইকিউ হাইপোথিসিস

সাতোশি কানাজাওয়া ২০১০ সালে প্রকাশিত Why Liberals and Atheists Are More Intelligent প্রবন্ধে Savanna-IQ Interaction Hypothesis প্রয়োগ করে ধর্মীয় অবিশ্বাস ও বুদ্ধিমত্তার সম্পর্ক ব্যাখ্যার চেষ্টা করেন। তাঁর ধারণা অনুযায়ী, সাধারণ বুদ্ধিমত্তা মানুষের বিবর্তনীয় অতীতে পরিচিত নয় এমন নতুন পরিস্থিতি ও মূল্যবোধ গ্রহণে সহায়তা করতে পারে। তিনি ধর্মীয় বিশ্বাসকে বিবর্তনীয়ভাবে পরিচিত প্রবণতা এবং আধুনিক নাস্তিকতাকে তুলনামূলক নতুন সামাজিক অবস্থান হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেন। National Longitudinal Study of Adolescent Health এবং General Social Survey-এর তথ্য বিশ্লেষণে বুদ্ধিমত্তা ও প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থার নাস্তিকতার মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক পান। [16]

show that adolescent and adult intelligence significantly increases adult liberalism, atheism

বাংলা অনুবাদ: দেখায় যে কৈশোর ও প্রাপ্তবয়স্ক বয়সের বুদ্ধিমত্তা প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় উদারপন্থা ও নাস্তিকতার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়।

কানাজাওয়ার গবেষণায় পর্যবেক্ষিত বুদ্ধিমত্তা–নাস্তিকতা সম্পর্ক এবং তাঁর বিবর্তনীয় ব্যাখ্যা দুটি পৃথক দাবি। জরিপের তথ্য থেকে বুদ্ধিমত্তা ও নাস্তিকতার সহসম্পর্ক যাচাই করা যায়; কিন্তু সেই সহসম্পর্ক একা প্রমাণ করে না যে নাস্তিকতা মানব বিবর্তনের ইতিহাসে নতুন বা ধর্মবিশ্বাস সর্বজনীন সহজাত প্রবৃত্তি। এগুলো হাইপোথিসিসটির তাত্ত্বিক অনুমান। কাজেই নাস্তিকদের গড় বুদ্ধিমত্তা বেশি হওয়ার সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করতে কানাজাওয়ার বিবর্তনীয় ব্যাখ্যাকে সত্য ধরে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বহুসংখ্যক মনস্তাত্ত্বিক গবেষণার প্রত্যক্ষ পরিসংখ্যানগত ফল নিজেই সেই সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করেছে।


বিশ্বাস ও ধর্মীয় আচরণের পার্থক্য: সামাজিক পরিবেশ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

একটি সমাজে ধর্ম কেবল ব্যক্তিগত মত নয়; তা পারিবারিক পরিচয়, উৎসব, সামাজিক সম্পর্ক এবং প্রতিষ্ঠিত আচার-অনুষ্ঠানের অংশও। ফলে ধর্মীয় পরিচয় ও ধর্মীয় আচরণ থেকে প্রকৃত ঈশ্বরবিশ্বাসের শক্তি সবসময় সমানভাবে বোঝা যায় না। গবেষণায় ধর্মবিশ্বাসের সঙ্গে বুদ্ধিমত্তার সম্পর্ক উপাসনায় অংশগ্রহণ বা ধর্মীয় আচরণের সম্পর্কের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হওয়া এই পার্থক্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ডুরলিঙ্গার–পিয়েটশনিগ গবেষণায় ক্যাথলিক নমুনায় বুদ্ধিমত্তা ও ধর্মবিশ্বাসের সহসম্পর্ক r = −০.০৯, অথচ ধর্মীয় আচরণের ক্ষেত্রে r = +০.০৪ পাওয়া যায়। অর্থাৎ একজন ব্যক্তির ধর্মীয় আচরণ দেখে তাঁর বিশ্বাস সম্পর্কে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়, তা পরীক্ষাভিত্তিক অন্তর্গত বিশ্বাসের ফলের সমার্থক নয়। [17]

distinguishing between religious beliefs and behaviors is therefore necessary

বাংলা অনুবাদ: ধর্মীয় বিশ্বাস এবং ধর্মীয় আচরণের মধ্যে পার্থক্য করা তাই প্রয়োজন।

এই পার্থক্য জ্ঞানগত সক্ষমতা ও ধর্মীয় অবিশ্বাসের সম্পর্ককে বাতিল করে না; কোন পরিমাপক দিয়ে সম্পর্কটি সবচেয়ে পরিষ্কারভাবে ধরা যায়, তা নির্দিষ্ট করে। ধর্মীয় মতবাদের সত্যতা নিয়ে মানুষের ব্যক্তিগত অবস্থান জানতে হলে সেই অবস্থান সরাসরি মাপতে হয়। সামাজিক পরিচয় আর ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে এক করে ফেললে বিশ্বাসের প্রকৃত পরিবর্তন আড়াল হয়ে যায়।


সহসম্পর্কের অর্থ: গড় পার্থক্য ও ব্যক্তিগত বিচার এক নয়

পরিসংখ্যানগতভাবে ধর্মবিশ্বাসীদের তুলনায় নাস্তিকদের গড় বুদ্ধিমত্তা বেশি হওয়া এবং প্রত্যেক নাস্তিক প্রত্যেক ধর্মবিশ্বাসীর চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান হওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য। গবেষণা প্রথম বক্তব্যটি সমর্থন করে; দ্বিতীয়টি করে না। দুটি গোষ্ঠীর গড় আলাদা হলেও তাদের স্কোরের বিস্তারের মধ্যে বহু মানুষের অবস্থান পরস্পরের সঙ্গে মিলে যায়। তাই একটি ধর্মীয় পরিচয় জানার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির আইকিউ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে ব্যক্তিবিশেষের উদাহরণ দেখিয়ে গোষ্ঠীগত গড় পার্থক্যও বাতিল করা যায় না। কোনো উচ্চ বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন বিশ্বাসীর অস্তিত্ব নাস্তিকদের তুলনামূলক উচ্চ গড়ের তথ্যকে ভুল করে না; ঠিক তেমনি কোনো কম বুদ্ধিমত্তার নাস্তিকও সেটি খণ্ডন করেন না।

এখানে আরও একটি যৌক্তিক সীমা স্পষ্ট: কম ধর্মবিশ্বাসের সঙ্গে উচ্চ বুদ্ধিমত্তার সম্পর্ক পাওয়া মানেই উচ্চ আইকিউ ঈশ্বরের অনস্তিত্বের দার্শনিক প্রমাণ নয়। ঈশ্বর, অলৌকিকতা কিংবা ধর্মগ্রন্থের নির্দিষ্ট দাবির সত্যতা যাচাই করতে সেই দাবির পক্ষে যুক্তি ও প্রমাণ পরীক্ষা করতে হয়। অন্যদিকে ধর্মীয় মতবাদ সত্য কি না—সেই বিতর্কে প্রবেশ না করেও মানুষ কোন ধরনের জ্ঞানগত সক্ষমতা নিয়ে ধর্মীয় দাবিকে কত বেশি বা কম গ্রহণ করেন, তা বৈজ্ঞানিকভাবে মাপা যায়। গবেষণার প্রতিষ্ঠিত তথ্য হলো, উচ্চতর বুদ্ধিমত্তা সাধারণভাবে অপেক্ষাকৃত কম ধর্মবিশ্বাস ও বেশি অবিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই সিদ্ধান্ত পরিসংখ্যানগত; কোনো মতবাদকে সত্য ধরে নিয়ে তৈরি করা সিদ্ধান্ত নয়।

বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তার ধরন: কার্যকারণের প্রশ্ন

উচ্চ বুদ্ধিমত্তা কি ধর্মবিশ্বাস কমায়, নাকি ধর্মীয় অবিশ্বাস বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার কিছু সুযোগ তৈরি করে, অথবা দুটি বৈশিষ্ট্যই অন্য কোনো উপাদানের সঙ্গে যুক্ত? সহসম্পর্কের পরিসংখ্যান একা এই দিক নির্ণয় করে না। ২০১২ সালে গারভাইস ও নোরেনজায়ান বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা সাময়িকভাবে সক্রিয় করার কয়েকটি পরীক্ষায় ধর্মীয় বিশ্বাস কমার ফল জানিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৭ সালে ৯৪১ জন অংশগ্রহণকারীর পূর্বনিবন্ধিত পুনরাবৃত্তি-পরীক্ষায় সেই নির্দিষ্ট পরীক্ষামূলক প্রভাব পুনরায় পাওয়া যায়নি। এতে মূল পর্যবেক্ষণমূলক সম্পর্ক বাতিল হয়নি; সাময়িকভাবে বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা সক্রিয় করলেই ধর্মবিশ্বাস কমে—এই নির্দিষ্ট কার্যকারণ দাবিটি যথেষ্ট সমর্থন পায়নি। [18]

The original finding does not seem to provide reliable or valid evidence that analytic thinking causes a decrease in religious belief.

বাংলা অনুবাদ: মূল পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা ধর্মীয় বিশ্বাস কমায়—এই কার্যকারণ দাবির নির্ভরযোগ্য বা যথাযথ প্রমাণ দেয় বলে মনে হয় না।

২০২৫ সালের ১৯ দেশের গবেষণাতেও সিআরটি আগে বা পরে নেওয়ায় ঈশ্বরবিশ্বাসের গড় স্কোরে বিশ্বাসযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি। এই পরীক্ষাগুলো থেকে একটি স্পষ্ট বিভাজন প্রতিষ্ঠিত হয়: প্রতিফলনমূলক চিন্তার সক্ষমতা ও প্রবণতা যাদের বেশি, তাঁদের মধ্যে ধর্মীয় অবিশ্বাসও বেশি; কিন্তু কয়েকটি যুক্তির প্রশ্ন সাময়িকভাবে সামনে দিলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তির ধর্মবিশ্বাস বদলে যায়, এমন প্রমাণ নেই। মানুষের স্থায়ী জ্ঞানগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ক্ষণস্থায়ী পরীক্ষামূলক উদ্দীপনার ফলকে এক করে ফেলা বৈজ্ঞানিক ভুল।


উপসংহার

বুদ্ধিমত্তা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন সময়ের গবেষণা একটি ধারাবাহিক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে: গড়ে নাস্তিক ও ধর্মীয় অবিশ্বাসীদের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা ধর্মবিশ্বাসীদের তুলনায় বেশি, এবং উচ্চ বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ধর্মীয় বিশ্বাসের তীব্রতার নেতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে। ২০০৯ সালের মার্কিন কিশোর-কিশোরীদের তথ্যভিত্তিক গবেষণায় প্রায় ৬ আইকিউ-সমতুল্য পয়েন্টের পার্থক্য পাওয়া যায়। ২০১৩ সালের ৬৩টি, ২০২০ সালের ৮৩টি এবং ২০২২ সালের ৮৯টি গবেষণার মেটা-বিশ্লেষণেও নেতিবাচক সম্পর্ক পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২২ সালের ২,০১,৪৫৭ অংশগ্রহণকারীর তথ্য এবং ২০২৬ সালের সাধারণ বুদ্ধিমত্তানির্ভর পরীক্ষার বিশ্লেষণ এই সিদ্ধান্তের প্রমাণভিত্তিকে আরও বিস্তৃত করেছে।

এই সম্পর্ক শুধু আইকিউ পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা, স্বজ্ঞাত ভুল উত্তর সংশোধনের প্রবণতা এবং ঈশ্বরবিশ্বাসের মাত্রার মধ্যেও সম্পর্ক পাওয়া যায়। ২০১৬ সালের প্রতিফলনমূলক চিন্তাসংক্রান্ত মেটা-বিশ্লেষণ, ২০২৫ সালের ১৯ দেশের ৭,৭৭১ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা এবং ১৬ দেশের ৫০,৮২৭ অংশগ্রহণকারীর বিশ্বাস-পরিবর্তনসংক্রান্ত গবেষণা এই সংযোগের অতিরিক্ত তথ্য দিয়েছে। ধর্মীয় কর্তৃত্ব, অলৌকিকতার দাবি এবং সামাজিকভাবে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বিশ্বাস প্রশ্ন করার সক্ষমতা ও প্রবণতা ধর্মীয় অবিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত—মনোবিজ্ঞানের গবেষণায় এই ফল পুনরাবৃত্তভাবে উপস্থিত।

এই পরিসংখ্যান ব্যক্তি নয়, বহু অংশগ্রহণকারীর গড়ের পার্থক্য নির্ণয় করে। গোষ্ঠীগত গড়ের পার্থক্যকে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির স্কোর হিসেবে ব্যবহার করা ভুল; আবার ব্যতিক্রমী ব্যক্তির উদাহরণ দিয়ে গবেষণালব্ধ গড় পার্থক্য অস্বীকার করাও ভুল। ধর্মবিশ্বাসের মাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে বুদ্ধিমত্তার গড় স্কোর কমে যাওয়ার এবং উচ্চতর বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ধর্মীয় অবিশ্বাস বাড়ার সম্পর্ক আজ বহু গবেষণায় প্রতিষ্ঠিত। সেই সম্পর্কের প্রতিটি কার্যকারণ-প্রক্রিয়া এখনও সমানভাবে নির্ধারিত না হলেও সম্পর্কটির অস্তিত্ব নিয়ে প্রমাণের অভাব নেই।



তথ্যসূত্রঃ
  1. Dürlinger & Pietschnig (2022), PLOS ONE, 17(2), e0262699 ↩︎
  2. Zuckerman, Silberman & Hall (2013), Personality and Social Psychology Review, 17(4), 325–354 1 2
  3. Lynn, Harvey & Nyborg (2009), “Average intelligence predicts atheism rates across 137 nations,” Intelligence, 37(1), 11–15 ↩︎
  4. Nyborg (2009), “The intelligence–religiosity nexus,” Intelligence, 37(1), 81–93 ↩︎
  5. Sear, “National IQ datasets do not provide accurate, unbiased or comparable measures of cognitive ability worldwide,” গবেষণার প্রাক্‌প্রকাশিত সংস্করণ ↩︎
  6. Zuckerman, Li, Lin & Hall (2020), “The Negative Intelligence–Religiosity Relation: New and Confirming Evidence,” Personality and Social Psychology Bulletin, 46(6), 856–868 ↩︎
  7. Dürlinger & Pietschnig (2022), “Meta-analyzing intelligence and religiosity associations: Evidence from the multiverse,” PLOS ONE, 17(2), e0262699 ↩︎
  8. Dürlinger & Pietschnig (2026), “The negative intelligence-religiosity link may be differentiated according to cognitive test g-loadings and (Christian) religious denominations,” Frontiers in Psychology, 17, 1633400 ↩︎
  9. Ritchie, Gow & Deary (2014), “Religiosity is negatively associated with later-life intelligence, but not with age-related cognitive decline,” Intelligence, 46, 9–17 ↩︎
  10. Dürlinger & Pietschnig (2022), Cognitive style–সংক্রান্ত mediation analyses ↩︎
  11. Pennycook, Cheyne, Seli, Koehler & Fugelsang (2012), “Analytic cognitive style predicts religious and paranormal belief,” Cognition, 123(3), 335–346 ↩︎
  12. Pennycook, Ross, Koehler & Fugelsang (2016), PLOS ONE, 11(4), e0153039 ↩︎
  13. Ghasemi, Yilmaz, Isler, Terry & Ross (2025), “Reflective thinking predicts disbelief in God across 19 countries,” Psychonomic Bulletin & Review, 32, 2220–2229 ↩︎
  14. Gervais et al. (2018), “Analytic atheism: A cross-culturally weak and fickle phenomenon?”, Judgment and Decision Making, 13(3), 268–274 ↩︎
  15. Stagnaro & Pennycook (2025), “On the role of analytic thinking in religious belief change,” Cognition, 254, 105989 ↩︎
  16. Kanazawa (2010), “Why Liberals and Atheists Are More Intelligent,” Social Psychology Quarterly, 73(1), 33–57 ↩︎
  17. Dürlinger & Pietschnig (2026), Frontiers in Psychology, 17, 1633400 ↩︎
  18. Sanchez, Sundermeier, Gray & Calin-Jageman (2017), “Direct replication of Gervais & Norenzayan (2012),” PLOS ONE, 12(2), e0172636 ↩︎

About This Article

Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis

Epistemic Position: Scientific Skepticism and Secular Humanist Ethics

This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.

Its purpose is evidence-based critical examination of religious, philosophical, moral, and historical claims.

Leave a comment

Your email will not be published.