সারসংক্ষেপ
ইসলামি শরীয়তে শিশুকন্যার সাথে প্রাপ্তবয়ষ্ক পুরুষের বিবাহ ও যৌনকর্মের যেই বিধান কোরআন এবং হাদিসে দেয়া হয়েছে, যুগে যুগে ইসলামের ফিকহ বিশেষজ্ঞগণ সেই বিধানের মধ্যে নানা ধারা উপধারা যুক্ত করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যায়, সেই সময়ে সব কারণে নানা সমস্যার উদ্ভব ঘটেছিল [1], যার কারণে শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টিও আলোচিত হয়েছে। কিন্তু কোরআন [2], হাদিস ও ফিকাহ শাস্ত্র [3] থেকে যেখানে সরাসরি শিশু বিবাহ ও যৌনকর্মের সুস্পষ্ট দলিল এবং নবি ও সাহাবীদের জীবন থেকে এর অনুপ্রেরণা পাওয়া যায় [4], তাই শিশুবিবাহ ও তারসাথে যৌনকর্ম নিষিদ্ধ করা ফকিহদের কারো পক্ষেই সম্ভব ছিল না [5]। সেই কারণেই, তারা কিছু কিছু শর্তারোপ করে সামাজিক এই সমস্যাটিকে মোকাবেলা করার চেষ্টা করেছেন, যার একটি উদাহরণ হচ্ছে ইসলামি ফিকহে মুফাখখাতা/মুফাখাযাহ-এর বিধান।
বিয়ের চুক্তি হয়ে যাওয়ার পর একটি শিশুর শরীরের ওপর প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের কী কী যৌন অধিকার জন্মায়, সেই প্রশ্নে ফিকহের বহু বক্তব্য সেই কারনে আরো বেশি ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। মুফাখাযাহ (المفاخذة), বাংলায় মুফাখখাতা নামেও পরিচিত, যোনিপথে প্রবেশ ছাড়া উরুর মধ্যবর্তী স্থানে যৌনক্রিয়া। অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর সঙ্গে এই আচরণের বৈধতা নিয়ে প্রকাশিত সুন্নি ফতোয়া রয়েছে। হানাফি ভরণপোষণের আলোচনায় শিশুর শরীর থেকে স্বামী যৌন সুবিধা পাবে কি না, সেই হিসাব ঢুকে পড়েছে। হাম্বলি ফকিহ ইবনে আকিলের উদ্ধৃত বক্তব্যে শিশুদাসীকে মালিকের যৌন উত্তেজনা প্রশমনের উপায় করা হয়েছে। শিয়া ফকিহ মুহাম্মদ কাজিম ইয়াজদি ও রুহুল্লাহ খোমেনির গ্রন্থে অনুমতি আরও স্পষ্ট: নয় বছর পূর্ণ হওয়ার আগে প্রবেশমূলক সহবাস নিষিদ্ধ করা হয়েছে, আর কামনাসহ স্পর্শ, আলিঙ্গন ও তাফখিযের অনুমতি দুগ্ধপোষ্য শিশু পর্যন্ত বিস্তৃত।
এই বিধানগুলোর কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে প্রাপ্তবয়স্কের দাবি। শিশুটির জন্য বরাদ্দ হয়েছে সহ্য করার পরীক্ষা: তার শরীর কতটা নিতে পারবে, কোন যৌন আচরণে ক্ষতি হবে, কখন তাকে স্বামীর কাছে দেওয়া যাবে। যে বয়সে একটি মানুষের যত্ন, নিরাপত্তা ও বেড়ে ওঠার অবকাশ প্রয়োজন, সেই বয়সেই তার দেহকে পুরুষের কামনার হিসাবের মধ্যে টেনে আনা হয়েছে। একটি দুগ্ধপোষ্য শিশুকে যৌন উপভোগের অনুমোদিত ক্ষেত্র বলা শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের প্রকাশ্য অনুমোদন। আর অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর ভরণপোষণকে যৌন ব্যবহারযোগ্যতার সঙ্গে বাঁধা তার অসহায়ত্বকে অর্থনৈতিক শর্তে পরিণত করা। এসব বক্তব্য ফিকহি গ্রন্থ ও ফতোয়ার নিজস্ব ভাষায় রয়েছে; তাদের নৈতিক কদর্যতাও সেই ভাষা ও যুক্তির মধ্যেই প্রকাশিত।
ভূমিকা: শিশুর শৈশবের জায়গায় স্বামীর যৌন অধিকার
একটি শিশুর শরীর নিয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের যৌন অধিকারের দরকষাকষি শুরু হওয়াই আতঙ্কের বিষয়। অথচ শিশুস্ত্রীকে কেন্দ্র করে ফিকহের বহু আলোচনায় সেই দরকষাকষি স্বাভাবিক আইনি কাজের মর্যাদা পেয়েছে। মেয়েটিকে কখন স্বামীর কাছে পাঠানো হবে, তার দেহ সহবাস সহ্য করতে পারবে কি না, সহবাস সহ্য হচ্ছে কিনা কীভাবে যাচাই করা হবে- কোন পরীক্ষার মাধ্যমে, সহবাসের বাইরে কোন যৌন সুবিধা পাওয়া যাবে, সেই সুবিধা মিললে স্বামীর ওপর খরচের দায় আসবে কি না—এগুলো নিয়ে দীর্ঘ বিচারবিবেচনা হয়েছে। শিশুটি কী চায়, সে যৌন আচরণের অর্থ বোঝে কি না, তার প্রত্যাখ্যান কার্যকর হবে কি না—এসবের বদলে আলোচনার চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে স্বামীর প্রাপ্য সুবিধা। শিশুর শৈশব তখন নিজের মূল্য নিয়ে উপস্থিত থাকে না; প্রাপ্তবয়স্কের জন্য ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠার অপেক্ষায় থাকে।
এখানে ভাষারও একটি নিষ্ঠুর ভূমিকা আছে। “স্ত্রী”, “স্বামী”, “দাম্পত্য অধিকার”, “যৌন উপভোগ”—পরিচিত এই শব্দগুলো পাশাপাশি বসালে তাদের পেছনের শিশুটিকে হারিয়ে ফেলা সহজ। দুগ্ধপোষ্য শিশুকে “স্ত্রী” বলা হলে শব্দটি প্রাপ্তবয়স্ক দাম্পত্যের আবরণ এনে দেয়; অথচ শিশুটির অবস্থা একই থাকে। সে অন্যের কোলে থাকে, অন্যের যত্নে বাঁচে, নিজের ওপর চাপানো সম্পর্কের অর্থ বুঝতে পারে না। বিয়ের চুক্তিতে যাঁরা স্বাক্ষর বা সম্মতি দেন, তাঁদের সিদ্ধান্তের ফল বহন করে শিশুর শরীর। সেই শিশুর অসহায়ত্বের ওপর যৌন অধিকার প্রতিষ্ঠা করা প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষমতার অপব্যবহার, আর তার জন্য ধর্মীয় বিধান রচনা করা সেই অপব্যবহারকে কর্তৃত্বের আশ্রয় দেওয়া।
মুফাখাযাহর অনুমতি এই ব্যবস্থার একটি বিশেষ অন্ধকার দিক খুলে দেয়। সহবাসের জন্য অল্প বয়সী শরীর অনুপযোগী বলার পরেও যৌন ব্যবহারের আলোচনা চলতে থাকে। কোথাও অন্য উপায়ে উপভোগের অনুমতি, কোথাও শিশুর প্রতি পুরুষের যৌন আকর্ষণকে ভরণপোষণের হিসাবে গ্রহণ, কোথাও দুগ্ধপোষ্য শিশুর ক্ষেত্রেও নির্দ্বিধায় অনুমোদন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই শিশুর শরীরের ব্যবহার নির্ধারণের ক্ষমতা প্রাপ্তবয়স্কের হাতে। শিশুর নিরাপত্তার প্রশ্নটি সেখানেই সবচেয়ে গভীর: যার কাছ থেকে সে সুরক্ষা পাওয়ার কথা, আইন সেই মানুষকেই তার শরীরের ওপর যৌন দাবির অধিকারী করে তোলে।
মুফাখাযাহ কী: পরিভাষার আড়ালে যৌন ব্যবহারের বাস্তবতা
ইসলামওয়েবের ১১১৩৯৯ নম্বর ফতোয়ায় একজন প্রশ্নকারী মুফাখাযাহর অর্থ ও বৈধতা জানতে চান। উত্তরে এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে স্ত্রীর উরুর মধ্যবর্তী স্থানে প্রবেশবিহীন যৌন উপভোগ হিসেবে। প্রশ্নের পরের অংশে বিবাহচুক্তি হয়েছে কিন্তু সহবাস শুরু হয়নি, এমন স্ত্রীর কথাও রয়েছে; উত্তরে চুক্তির মাধ্যমে স্ত্রী হয়ে যাওয়াকে যৌন আচরণের বৈধতার ভিত্তি করা হয়েছে। “উপভোগ” শব্দটির এখানে সরাসরি যৌন অর্থ রয়েছে। এই সংজ্ঞার সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী সম্পর্কে প্রকাশিত পরবর্তী ফতোয়ার বক্তব্য মিললে স্পষ্ট হয়, কোন আচরণের অনুমোদন নিয়ে আলোচনা চলছে। [6]

من صور الاستمتاع بالزوجة المعقود عليها
16-8-2008 | إسلام ويب
السؤال:
أريد منكم الجواب على بعض الأسئلة أفادكم الله وجزاكم الله خيراً..
أولاً: أريد أن أعرف ما هي المفاخذة وكيف تحدث وما حكم حدوثها وهل هي فى الإسلام أم لا؟
وهل يجوز لي أن أمارسها مع زوجتي أم لا أو مع زوجتي المعقود عليها ولم يتم دخولي بها..؟
ثانياً: أنا خاطب فتاة وقمت بعقد قراني عليها ولم يتم دخولي بها وسنتزوج آخر الشهر إن شاء الله فنرجو دعواتكم لنا بالمباركة والزواج السعيد على نهج الإسلام ولكني أثناء زيارتي لها أقوم بتقبيلها كثيراً وحضنها حتى يكاد يلتصق أعضاؤنا التناسلية ببعضها وفى بعض الأحيان هي ترفض ذلك، فهل قيامي بهذا معها حرام؟ كما أنني أريد رؤية شعرها وذراعها وصدرها كما أريد تقبيل صدرها، فهل يجوز لي أم لا؟
ثالثاً: أنا أعمل كثيراً وغير منتظم بالصلاة فأرجو منكم الدعاء لي بالهداية وانتظامي في الصلاة، أخيراً جزاكم الله خيراً ونتمنى دعاءكم لي بأن يبارك لي في زوجتي ويرزقنا بالذرية الصالحة ويهدينا ويصلح حالنا؟
الإجابــة:
الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه، أما بعد:
فنسأل الله تعالى أن يوفقك إلى المحافظة على الصلاة وأن يتم لك زواجك على خير، وأن يقرعين كل منكما بالآخر، وأن يحقق لكما السعادة، ونرجو الاطلاع على كتاب (تحفة العروس) ففيه كثير من الفوائد والتوجيهات لمن يريد الإقدام على الزواج، ووسائل تحصيل السعادة فيه.
ومن أولى ما نبدأ به في الإجابة على أسئلتك ما ذكرت من أمر عدم الانتظام في أمر الصلاة فهو ليس بالأمر الهين بل هو أمر عظيم، فقد ورد بشأن التهاون بالصلاة كثير من نصوص الوعيد، فيجب عليك المحافظة على الصلاة والمداومة عليها، وراجع في ذلك الفتوى رقم: 4307.
وأما بالنسبة للمفاخذة فهي الاستمتاع بالزوجة فيما بين فخذيها من غير وطء لها، ويجوز للرجل فعل ذلك مع زوجته، وكذا تقبيلها واحتضانها ورؤية شعرها وذراعها وصدرها ونحو ذلك، وكونها غير مدخول بها ليس بمانع شرعاً من فعله ذلك معها، لأنها زوجته شرعاً، ولكن ينبغي للزوج أن يراعي ما يجري من عرف في تأخير الدخول، كما هو مبين في الفتوى رقم: 61470.
وننبه إلى أن الأولى تيسير أمر النكاح والمبادرة إلى الدخول عقب عقد النكاح وعدم التأخر في ذلك قدر الإمكان، وننبه أيضاً إلى أنه ليس للزوج حق الطاعة على زوجته قبل تسليم المهر المعجل، وراجع في ذلك الفتوى رقم: 77995.
والله أعلم.
বাংলা অনুবাদ:
বিবাহচুক্তি সম্পন্ন হওয়া স্ত্রীর সঙ্গে যৌন উপভোগের কয়েকটি পদ্ধতি
১৬ আগস্ট ২০০৮ | ইসলামওয়েব
প্রশ্ন:
আপনাদের কাছে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর জানতে চাই। আল্লাহ আপনাদের কল্যাণ করুন এবং উত্তম প্রতিদান দিন।
প্রথমত, আমি জানতে চাই, মুফাখখাতা কী, এটি কীভাবে সংঘটিত হয়, এর বিধান কী এবং ইসলামে এর কোনো অনুমোদন আছে কি না। আমি কি আমার স্ত্রীর সঙ্গে এটি করতে পারি? অথবা এমন স্ত্রীর সঙ্গে, যার সঙ্গে আমার বিবাহচুক্তি সম্পন্ন হয়েছে কিন্তু এখনো দাম্পত্য সহবাস হয়নি?
দ্বিতীয়ত, আমি একটি মেয়ের সঙ্গে বাগদান করেছি এবং তার সঙ্গে আমার নিকাহ সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু এখনো দাম্পত্য সহবাস হয়নি। ইনশাআল্লাহ, চলতি মাসের শেষে আমাদের বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান হবে। আমাদের জন্য বরকতপূর্ণ ও ইসলামি আদর্শ অনুযায়ী সুখী দাম্পত্য জীবনের দোয়া করবেন। তবে আমি যখন তার সঙ্গে দেখা করতে যাই, তখন তাকে অনেকবার চুম্বন করি এবং আলিঙ্গন করি, এমনকি আমাদের যৌনাঙ্গ প্রায় পরস্পরের সঙ্গে লেগে যায়। কখনো কখনো সে এতে আপত্তি জানায়। এ অবস্থায় তার সঙ্গে আমার এ ধরনের আচরণ কি হারাম? আমি তার চুল, বাহু ও বক্ষ দেখতে চাই এবং তার বক্ষ চুম্বন করতে চাই। এগুলো কি আমার জন্য বৈধ?
তৃতীয়ত, আমি অনেক কাজ করি এবং নিয়মিত নামাজ পড়ি না। আমার হেদায়েত ও নিয়মিত নামাজ আদায়ের জন্য দোয়া করবেন। সবশেষে আপনাদের উত্তম প্রতিদান কামনা করছি এবং আমার জন্য দোয়া চাইছি, যেন আল্লাহ আমার স্ত্রীর মধ্যে আমার জন্য বরকত দেন, আমাদের সৎ সন্তান দান করেন, আমাদের হেদায়েত দেন এবং আমাদের অবস্থার সংশোধন করেন।
উত্তর:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহর রাসুল, তার পরিবার ও সাহাবিদের ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক। অতঃপর:
আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আপনাকে নিয়মিত নামাজ আদায়ের সামর্থ্য দেন, আপনার বিবাহ শুভভাবে সম্পন্ন করেন, আপনাদের পরস্পরের মাধ্যমে চোখ জুড়িয়ে দেন এবং আপনাদের সুখী করেন। আমরা আপনাকে ‘তুহফাতুল আরুস’ গ্রন্থটি পড়ার পরামর্শ দিচ্ছি। যারা বিবাহ করতে চান, তাদের জন্য এতে অনেক উপকারী আলোচনা, নির্দেশনা এবং দাম্পত্য জীবনে সুখ অর্জনের উপায় রয়েছে।
আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তরে প্রথমেই আমরা নামাজে অনিয়মের বিষয়টি আলোচনা করছি। এটি কোনো সামান্য বিষয় নয়, বরং অত্যন্ত গুরুতর ব্যাপার। নামাজে অবহেলার বিষয়ে কঠোর শাস্তির সতর্কবাণীসংবলিত অনেক ধর্মীয় বক্তব্য রয়েছে। তাই আপনার জন্য নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে নামাজ আদায় করা আবশ্যক। এ বিষয়ে ৪৩০৭ নম্বর ফতোয়া দেখুন।
আর মুফাখখাতার বিষয়ে বলতে গেলে, এটি হলো স্ত্রীর সঙ্গে যোনিপথে সহবাস না করে তার দুই উরুর মধ্যবর্তী স্থানে যৌন উপভোগ করা। একজন পুরুষের জন্য নিজের স্ত্রীর সঙ্গে এটি করা বৈধ। একইভাবে স্ত্রীকে চুম্বন করা, আলিঙ্গন করা, তার চুল, বাহু, বক্ষ এবং এ ধরনের অন্যান্য অঙ্গ দেখা বৈধ। স্ত্রীর সঙ্গে এখনো দাম্পত্য সহবাস সংঘটিত না হওয়া এসব কাজ করার ক্ষেত্রে শরিয়তগত কোনো বাধা নয়। কারণ শরিয়তের দৃষ্টিতে সে ইতিমধ্যেই তার স্ত্রী। তবে বিবাহচুক্তির পর দাম্পত্য সহবাস বিলম্বিত করার বিষয়ে সমাজে যে প্রচলিত রীতিনীতি রয়েছে, স্বামীর সেগুলো বিবেচনা করা উচিত। এ বিষয়ে ৬১৪৭০ নম্বর ফতোয়ায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
আমরা আরও উল্লেখ করছি যে বিবাহের বিষয়টি সহজ করা, বিবাহচুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর যথাসম্ভব দ্রুত দাম্পত্য সহবাস শুরু করা এবং অযথা বিলম্ব না করাই উত্তম। একই সঙ্গে উল্লেখ করছি, অবিলম্বে পরিশোধযোগ্য মোহরানা পরিশোধ করার আগে স্বামীর স্ত্রীর আনুগত্য দাবি করার অধিকার নেই। এ বিষয়ে ৭৭৯৯৫ নম্বর ফতোয়া দেখুন।
আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
ফিকহের গ্রন্থে একই আলোচনার জন্য আরও বিস্তৃত পরিভাষাও ব্যবহৃত হয়েছে। «الاستمتاع بما دون الوطء» বলতে সহবাস ছাড়া যৌন উপভোগ এবং «الجماع فيما دون الفرج» বলতে যোনিপথে প্রবেশ ছাড়া যৌনক্রিয়া বোঝানো হয়। মুফাখাযাহ এই বৃহত্তর পরিসরের একটি নির্দিষ্ট আচরণ; শিয়া উদ্ধৃতিগুলোতে একই ধরনের উরুভিত্তিক যৌনক্রিয়ার জন্য এসেছে «التفخيذ» বা তাফখিয। বৃহত্তর শ্রেণিতে যৌন স্পর্শসহ অন্যান্য আচরণও থাকে। শব্দগুলোর এই অর্থেই পরবর্তী বিধানগুলোর ভয়াবহতা: শিশুর দেহকে সহবাসের বাইরে যৌনভাবে ব্যবহারের আলাদা ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। নিষেধের একটি রেখা টেনে তার বাইরে উপভোগের অধিকার সাজানো হয়েছে, আর সেই অধিকার ভোগ করবে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ।
সুন্নি ফতোয়ায় অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর সঙ্গে মুফাখাযাহর অনুমতি
ইসলামওয়েবের ৭৮৫২৯ নম্বর ফতোয়ার প্রশ্নকারী আপত্তি তুলেছিলেন বয়ঃসন্ধিতে না পৌঁছানো স্ত্রীকে যৌনভাবে স্পর্শ ও তার সঙ্গে মুফাখাযাহর অনুমতি নিয়ে। তাঁর প্রশ্নে শিশুর ক্ষতি এবং যৌন পরিণতির বিষয় এসেছে। প্রকাশিত উত্তরের বর্তমান পাঠে বলা হয়েছে, অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীকে কামনাসহ চুম্বন, মুফাখাযাহ ও অনুরূপ আচরণের বৈধতার কিছু শর্ত আছে; সেই শর্তের জন্য পাঠানো হয়েছে ১৯৫১৩৩ নম্বর ফতোয়ায়। প্রশ্নটি শিশুকে যৌন আচরণ থেকে সুরক্ষিত রাখার, আর উত্তরটি সেই শিশুর সঙ্গে যৌন আচরণের অনুমতির নিয়ম নির্ধারণের। একই শিশুকে ঘিরে এই দুই অবস্থানের ব্যবধান থেকেই ফতোয়ার নৈতিক অবস্থান বোঝা যায়। [7]

الاستمتاع بالزوجة الصغيرة.. رؤية شرعية
9-11-2006 | إسلام ويب
السؤال:
بالنسبة لفتوى جواز مفاخذة الزوجة الصغيرة التي لا تطيق الوطء فمن الثابت علمياً أن الفتاة التي لم تبلغ جنسيا مجرد مداعبتها جنسيا, حتى وإن لم يتناول ذلك الوطء فى الفرج, كالتقبيل بشهوة والمفاخذة ونحو ذلك يؤدي إلى الإضرار بالفتاة ولا فرق فى ذلك بين إن كان من يداعبها زوجها أو لا، وفي القرآن قد جعل الله وقتا معينا للنكاح بقوله تعالى: وابتلوا اليتامى حتى إذا بلغوا النكاح فإن آنستم منهم رشدا فادفعوا إليهم أموالهم… الآية، قال القرطبي: بلغوا النكاح أي البلوغ، فها هنا ربط النكاح ببلوغ الحلم وبالطبع النكاح هاهنا يتضمن الوطء. ومجرد المداعبة فهذا يعني أن مجرد المداعبة لا تجوز قبل البلوغ، وقال القرطبي رحمه الله في تفسير الآية السابقة: إلا أن علماءنا على أنه لا دخول بها إلا مع البلوغ. انتهى
والدخول بالطبع يشمل الوطء وحتى مجرد المداعبة، ومن ذلك أيضا قول النبي صلى الله عليه وسلم في الحديث الذي رواه أحمد في مسنده: لئن بلغت بنية العباس هذه وأنا حي لأتزوجنها. فمن هذا نستنتج أنه لا زواج قبل البلوغ حتى وإن جاز العقد قبل البلوغ إلا أن الزوج لا يمكن من الزوجة إلا مع البلوغ أو تصير صالحة للوطء كما ذكره العسقلاني فى الفتح، والصلاحية للوطء مقترنة بالبلوغ الجنسي وليس قبل ذلك كما يؤكد على ذلك الأطباء والمختصون، فما هو موقف فضيلتكم من جواز إباحة مداعبة الزوجة الصغيرة التي لم تبلغ الحلم في ضوء ما سبق؟
الإجابــة:
الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه، أما بعد:
فقبل الجواب عما سألت عنه، نريد أولاً أن ننبهك إلى أن الحديث الذي أوردته: لئن بلغت بنية العباس هذه وأنا حي لأتزوجنها. هو حديث قال فيه الشيخ حسين أسد: إسناده ضعيف جداً، وضعفه أيضاً شعيب الأرناؤوط، ولم نجد من أهل الحديث المختصين فيه من قال بصحته.
وفيما يتعلق بموضوع سؤالك، فإن جواز تقبيل الزوجة الصغيرة بشهوة والمفاخذة ونحو ذلك له ضوابط بيناها في الفتوى رقم: 195133، وقد بين العلماء رحمهم الله تعالى أن الأصل جواز استمتاع الرجل بزوجته كيف شاء إذا لم يكن ضرر، وذكروا في ذلك استمناءه بيدها ومداعبتها وتقبيلها وغير ذلك… قال شيخ الإسلام زكريا الأنصاري في الغرر البهية: (والبعل) أي: الزوج (كل تمتع) بزوجته جائز (له) حتى الاستمناء بيدها، وإن لم يجز بيده وحتى الإيلاج في قبلها من جهة دبرها. انتهى.
ثم الآية الكريمة التي أوردتها ليس فيها دليل على أن النكاح لا يجوز قبل البلوغ، وإنما هي في الحجر على اليتيم وأنه مستمر إلى بلوغه، وما نسبته للقرطبي من ذكره أن الدخول لا يكون إلا مع البلوغ لم نقف عليه، ولو افترض صحته فإنه يخالف كلام المالكية الذين ينتمي إليهم هو، يقول الشيخ عليش عند قول خليل: (وأمكن وطؤها) أي الزوجة وليس له سن معين لاختلافه باختلاف أحوال البنات من وفور الجسم ونحافته، فلا يشترط بلوغها الحلم لكمال اللذة بها بدونه.. ومثل هذا الكلام في أكثر شروح خليل.
والله أعلم.
বাংলা অনুবাদ:
অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর সঙ্গে যৌন উপভোগ: শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি
৯ নভেম্বর ২০০৬ | ইসলামওয়েব
প্রশ্ন:
যে অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী যোনিপথে সহবাস সহ্য করতে সক্ষম নয়, তার সঙ্গে মুফাখখাতা বৈধ হওয়ার ফতোয়া প্রসঙ্গে আমার প্রশ্ন হলো—বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত যে, কোনো মেয়ে যৌন পরিপক্বতা অর্জনের আগে তার সঙ্গে যৌন উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ করলেও, এমনকি সেই আচরণে যোনিপথে সহবাস না থাকলেও—যেমন কামনাপূর্ণ চুম্বন, মুফাখখাতা এবং এ ধরনের অন্যান্য আচরণ—মেয়েটির ক্ষতি হয়। এ ক্ষেত্রে তার সঙ্গে যৌন আচরণকারী ব্যক্তি তার স্বামী কি না, তাতে কোনো পার্থক্য হয় না।
কোরআনেও আল্লাহ বিবাহের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেছেন: “আর তোমরা এতিমদের পরীক্ষা করতে থাকো, যতক্ষণ না তারা বিবাহের বয়সে পৌঁছে। অতঃপর তাদের মধ্যে পরিপক্ব বিচারবুদ্ধি দেখতে পেলে তাদের সম্পদ তাদের হাতে তুলে দাও…”। কুরতুবী বলেছেন, “তারা বিবাহের বয়সে পৌঁছেছে” অর্থাৎ তারা বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছেছে। এখানে বিবাহকে বয়ঃসন্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত করা হয়েছে। আর স্বাভাবিকভাবেই এখানে বিবাহের মধ্যে যৌন সহবাস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একইভাবে যৌন আদরও এর অন্তর্ভুক্ত। ফলে এর অর্থ দাঁড়ায়, বয়ঃসন্ধির আগে যৌন আদরও বৈধ নয়।
কুরতুবী উল্লিখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় আরও বলেছেন: “তবে আমাদের আলেমদের মত হলো, বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানোর আগে তার সঙ্গে দাম্পত্য সহবাস করা যাবে না।” উদ্ধৃতি শেষ।
আর দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই যৌন সহবাস এবং যৌন আদর উভয়ই অন্তর্ভুক্ত। এ বিষয়ে আহমদের মুসনাদ-এ বর্ণিত নবীর একটি বক্তব্যও রয়েছে: “আব্বাসের এই ছোট মেয়েটি যদি আমার জীবদ্দশায় বড় হয়ে ওঠে, তাহলে আমি তাকে বিবাহ করব।”
এসব থেকে আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছাই যে, বয়ঃসন্ধির আগে বিবাহ করা যাবে না। যদিও বয়ঃসন্ধির আগে বিবাহচুক্তি করা বৈধ হতে পারে, তবু বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানো অথবা সহবাসের উপযুক্ত হওয়া পর্যন্ত স্বামীকে স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ দেওয়া যাবে না, যেমনটি আসকালানি ফাতহুল বারি-তে উল্লেখ করেছেন। চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, সহবাসের উপযুক্ততা যৌন পরিপক্বতার সঙ্গে সম্পর্কিত, তার আগের অবস্থার সঙ্গে নয়।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে, যে অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী এখনো বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছায়নি, তার সঙ্গে যৌন আদর বৈধ হওয়ার বিষয়ে আপনাদের অবস্থান কী?
উত্তর:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহর রাসুল, তার পরিবার ও সাহাবিদের ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক। অতঃপর:
আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে আমরা প্রথমে উল্লেখ করতে চাই যে, আপনি যে হাদিসটি উদ্ধৃত করেছেন—“আব্বাসের এই ছোট মেয়েটি যদি আমার জীবদ্দশায় বড় হয়ে ওঠে, তাহলে আমি তাকে বিবাহ করব”—সে সম্পর্কে শায়খ হুসাইন আসাদ বলেছেন, এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল। শুআইব আল-আরনাউতও হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন। হাদিসশাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এমন কাউকে আমরা পাইনি, যিনি হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।
আপনার প্রশ্নের মূল বিষয় সম্পর্কে বলতে গেলে, অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীকে কামনাপূর্ণ চুম্বন করা, তার সঙ্গে মুফাখখাতা করা এবং এ ধরনের অন্যান্য যৌন আচরণ বৈধ হওয়ার কিছু শর্ত ও সীমা রয়েছে। সেগুলো আমরা ১৯৫১৩৩ নম্বর ফতোয়ায় ব্যাখ্যা করেছি।
আলেমরা ব্যাখ্যা করেছেন যে, মূল বিধান হলো, কোনো ক্ষতি না হলে একজন পুরুষ নিজের স্ত্রীর সঙ্গে যেভাবে ইচ্ছা যৌন উপভোগ করতে পারে। এ প্রসঙ্গে তারা স্ত্রীর হাত ব্যবহার করে স্বামীর যৌন তৃপ্তি লাভ, স্ত্রীকে যৌন আদর করা, চুম্বন করা এবং এ ধরনের অন্যান্য আচরণের কথা উল্লেখ করেছেন।
শায়খুল ইসলাম জাকারিয়া আল-আনসারি তার আল-গুরারুল বাহিয়্যাহ গ্রন্থে বলেছেন: “আর স্বামী”—অর্থাৎ স্ত্রীর স্বামী—“তার স্ত্রীর সঙ্গে সব ধরনের যৌন উপভোগ করতে পারে।” এমনকি স্ত্রীর হাত ব্যবহার করে স্বামীর যৌন তৃপ্তি লাভ করাও বৈধ, যদিও নিজের হাত ব্যবহার করে তা করা বৈধ নয়। একইভাবে পেছনের দিক থেকে যোনিপথে যৌন প্রবেশও বৈধ। উদ্ধৃতি শেষ।
এরপর, আপনি যে কোরআনের আয়াতটি উল্লেখ করেছেন, তাতে বয়ঃসন্ধির আগে বিবাহ বৈধ নয়—এমন কোনো প্রমাণ নেই। বরং আয়াতটি এতিমের সম্পদের ওপর অভিভাবকত্বসংক্রান্ত বিধান নিয়ে, যা এতিম বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানো পর্যন্ত বহাল থাকে।
আপনি কুরতুবীর নামে যে বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন—বয়ঃসন্ধির আগে দাম্পত্য সহবাস করা যাবে না—তা আমরা খুঁজে পাইনি। ধরে নিলেও যে তিনি এমন বলেছেন, সেটি তার নিজের মালিকি মাজহাবের আলেমদের বক্তব্যের বিরোধী।
শায়খ আলীশ, খলিলের “তার সঙ্গে সহবাস করা সম্ভব হলে” বক্তব্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন:
“অর্থাৎ স্ত্রী। এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। কারণ মেয়েদের শারীরিক গঠন—দেহের পূর্ণতা ও ক্ষীণতার ভিত্তিতে—এটি ভিন্ন হয়। তার সঙ্গে পূর্ণ যৌন তৃপ্তি লাভের জন্য মেয়েটির বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানো শর্ত নয়; বয়ঃসন্ধির আগেও তা সম্ভব।”
খলিলের অধিকাংশ ব্যাখ্যাগ্রন্থেও একই ধরনের বক্তব্য রয়েছে।
আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
“অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী” এবং “কামনাসহ”—দুটি কথাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ একটি শিশুকে যে স্নেহে কোলে নেয়, এখানে তার আলোচনা হচ্ছে না; পুরুষের যৌন কামনা পূরণের আচরণকে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। শিশুর সঙ্গে সম্পর্কের নাম “বিয়ে” হওয়ায় সেই কামনা আইনি গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। শিশুটি যৌন আচরণের প্রকৃতি বুঝে স্বাধীন সিদ্ধান্ত দিচ্ছে—এমন শর্ত উদ্ধৃত অনুমতিতে নেই। তার শরীর অন্যের সিদ্ধান্তে একটি যৌন সম্পর্কের মধ্যে পড়ে গেছে, আর সেই সম্পর্কের বৈধতা নিয়ে আলেমদের আলোচনা তাকে কেন্দ্র করে চললেও তার নিজের কর্তৃত্বকে ভিত্তি করছে না। শিশুকে এভাবে যৌন দাবির অধীন করা তার দুর্বলতার ওপর প্রাপ্তবয়স্কের সুবিধা প্রতিষ্ঠা।
মালিকি ফকিহ মুহাম্মদ আলীশ: মেয়ের বয়ঃসন্ধির চেয়ে পুরুষের পূর্ণ তৃপ্তি
মুহাম্মদ আলীশের মানহুল জলীল শরহু মুখতাসারি খলীল-এ স্বামী-স্ত্রীর পক্ষ থেকে দেনমোহর দেওয়া ও দাম্পত্যে হস্তান্তরের প্রসঙ্গে বাধ্য করার বিধান আলোচনা হয়েছে। সেখানে পুরুষের বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানো এবং মেয়ের সঙ্গে সহবাস সম্ভব হওয়া আলাদা শর্ত। পুরুষের ক্ষেত্রে শুধু সহবাস করতে পারা যথেষ্ট নয় বলে যে যুক্তি এসেছে, তা স্ত্রীর পূর্ণ তৃপ্তি; মেয়ের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, বয়ঃসন্ধিতে না পৌঁছালেও তার মাধ্যমে পূর্ণ তৃপ্তি পাওয়া যায়। এই বক্তব্যে মেয়েটির বিকাশের নিজস্ব মূল্য মুছে গিয়ে পুরুষের যৌন অভিজ্ঞতার হিসাব সামনে এসেছে। বয়সের নির্দিষ্ট সীমার বদলে মেয়েদের দেহের স্থূলতা ও ক্ষীণতা দিয়ে সহবাসের সক্ষমতা বিচার করার কথাও একই অনুচ্ছেদে রয়েছে। [8]
منح الجليل شرح مختصر خليل
الشيخ عليش – محمد بن أحمد بن محمد (عليش)
الجزء الثالث، الصفحات 426–429
فصل أحكام الصداق
المتن:
ومن بادر أجبر له الآخر ، إن بلغ الزوج وأمكن وطؤها ، [ ص: 426 ] وتمهل سنة إن اشترطت لتغربة أو صغر ، وإلا بطل ; لا أكثر ، [ ص: 427 ] وللمرض والصغر المانعين من الجماع [ ص: 428 ] وقدر ما يهيئ مثلها أمرها إلا أن يحلف ليدخلن الليلة [ ص: 429 ] لا لحيض.
عرض الحاشية:
( ومن بادر ) من الزوجين بتمكين صاحبه مما في جهته صداقا كان أو دخولا وطلب من الآخر تمكينه مما في جهته فامتنع ( أجبر ) بضم الهمز وسكون الجيم وكسر الموحدة ( له ) أي المبادر ، ونائب فاعل أجبر الزوج ( الآخر ) بفتح الخاء المعجمة على تمكينه مما في جهته صداقا كان أو دخولا بشرطين ، أفادهما بقوله ( إن بلغ الزوج ) الحلم على المشهور لا مجرد إطاقة الوطء لعدم كمال لذتها به وعكسه ( وأمكن وطؤها ) أي الزوجة وليس له سن معين لاختلافه باختلاف أحوال البنات من وفور الجسم ونحافته فلا يشترط بلوغها [ ص: 426 ] الحلم لكمال اللذة بها بدونه متى أمكن وطؤها وبلوغ الزوج شرط في الجبر ، سواء كان طالبا أو مطلوبا ، وإمكان وطئها شرط فيه طالبة كانت أو مطلوبة ، وفي مفهوم هذا تفصيل ، فإن كان عدم إمكانه لصغر أو مرض بلغت به السياق فلا جبر ، وإن كان لمرض لم تبلغ به السياق فالجبر كما في المواق .
وهذا في الصداق غير المعين ، وأما المعين فقد تقدم حكمه . أبو الحسن إن كان الصداق مضمونا فلا تستحق قبضه إلا أن يكون الزوج بالغا وهي في سن من يبنى بها ، وإنما يستحق قبض الثمن عند قبض المثمون إلا تعجيله قبل البناء بقدر ما تتشور فيه به .
( وتمهل ) بضم الفوقية وسكون الميم وفتح الهاء أي الزوجة أي يجبر الزوج الذي بادر بتسليم الصداق وطلب الدخول وهو بالغ وهي مطيقة على إمهالها ( سنة إن اشترطت ) بضم المثناة وكسر الراء أي السنة في العقد سواء كان الشرط من الزوجة أو من أهلها ( لتغربة ) بفتح المثناة وسكون الغين المعجمة وكسر الراء أي إرادة الزوج الانتقال بها لبلد غير بلدها ( أو ) ل ( صغر ) يمكن وطؤها معه بدليل ما بعده ، وهذا كالمستثنى من قوله أجبر الآخر والظاهر لا نفقة لها فيها .
( وإلا ) أي وإن لم تشترط السنة في العقد وذكرت بعده أو اشترطت فيه لغير تغربة وصغر ( بطل ) الشرط فلا يجبر الزوج على التوفية به ، وعطف على سنة بلا فقال ( لا أكثر ) من سنة فيبطل جميع ما اشترط لا الزائدة عن السنة فقط والعقد صحيح قطعا في المدونة قال مالك رضي الله تعالى عنه في التي شرطوا عليه أن لا يدخل بها إلى سنة إن كان لصغر أو لاستمتاع أهلها منها لتغربة بها ، فذلك لازم وإلا بطل الشرط ا هـ ، وفي العتبية سئل عمن تزوج بشرط أن لا يدخل خمس سنين قال بئسما صنعوا والنكاح ثابت وله البناء بها قبل ذلك ، واستشكل ما في المدونة بأن هذا الشرط لم يعلق عليه طلاق ولا غيره ، وكل ما كان كذلك فلا يلزم إذ لا يقتضيه العقد ولا ينافيه كشرط أن [ ص: 427 ] لا يتزوج أو لا يتسرى عليها مثلا ، وفي كلام ابن رشد إشارة إلى جوابه ونصه لما كان البناء قد يحكم بتأخيره إذا دعت الزوجة إليه وإن لم يشترط ألزم مالك رضي الله تعالى عنه الشرط فيما قرب كالسنة لأنها حد في أنواع من العلم كالعيب والخراج والعهدة .
( و ) تمهل ( للمرض ) بها قبل البناء ( والصغر ) بها ( المانعين عن الجماع ) لانقضائهما وإن زاد على سنة وإن لم يشترط فيهما وتبع في المرض ابن الحاجب والذي في المدونة أنها لا تمهل للمرض إلا إذا بلغت السياق ، وقد يقال ما ذكراه هو معنى قولها ومرضه البالغ حده كمرضها ا هـ عب .
البناني تبع في الاعتراض على المصنف الحط ونصه وأما إمهال الزوجة للمرض إذا طلبته فذكره المصنف وابن الحاجب ، ولم ينص عليه في المدونة ولا ابن عرفة ، وإنما نص فيها على أن المريضة مرضا يمنع الجماع إذا دعت الزوج إلى البناء والنفقة لزمه ذلك ، قال ومن دعته زوجته إلى البناء والنفقة وأحدهما مريض مرضا لا يقدر معه على الجماع لزمه أن ينفق أو يدخل ، إلا أن يكون مرضا بلغ حد السياق فلا يلزمه ذلك ا هـ ثم قال الحط ولم أطلع الآن على من نص عليه ا هـ .
واعترضه طفي بأمرين أحدهما أنه قصور لنقل المتيطي عن سحنون لا يلزمه الدخول إذا كان مريضا مرضا لا منفعة له فيها معه ، وهي حينئذ كالصغيرة أبو الحسن . اللخمي وهذا أحسن وهو المفهوم من قول مالك رضي الله تعالى عنه ا هـ . قلت وفيه نظر ، فإن الذي لم يطلع عليه الحط هو إمهال الزوجة إذا طلبته لمرضها وليس مسألة المتيطي ، فلا قصور إلا أن يثبت أن كل ما يمهل فيه أحدهما يمهل فيه الآخر .
الأمر الثاني أن اعتراضه بكلام المدونة اغترار منه بلفظ التهذيب ، ونص الأم قال مالك رضي الله تعالى عنه إن كان مريضا مرضا يقدر معه على الجماع فيه لزمت النفقة . قلت إن مرضت مرضا لا يقدر فيه الزوج على وطئها ، قال بلغني عن مالك رضي الله تعالى عنه ممن أثق به لها دعاؤه للبناء إلا أن تكون في السياق ولم أسمعه منه . [ ص: 428 ]
عياض ظاهره الخلاف لشرطه أولا إمكان الوطء وعدمه ثانيا . وعليه حمل اللخمي ، وحملها غير واحد من المختصرين على الوفاق . ا هـ . فالمصنف ومتبوعاه لم يخالفوا المدونة بل تبعوا اللخمي في حمل الكلام الذي بلغ ابن القاسم على الخلاف ا هـ . قلت هو وإن تبع اللخمي في حمله على الخلاف ، فإن القول الثاني المقيد بحد السياق أرجح لصراحته ولأن ابن القاسم زاد بعده في الأمهات وهو رأيي كما في أبي الحسن فعلى المصنف درك في مخالفته .
( و ) تمهل ( قدر ما ) أي زمن أو الزمن الذي ( يهيئ ) بضم المثناة الأولى وفتح الهاء وكسر الثانية فهمز أي يجهز ويحضر ( مثلها ) أي الزوجة فاعل يهيئ ( أمرها ) أي الزوجة مفعول يهيئ بشراء وعمل ما تحتاج إليه من متاع البيت ونحوه ، وذلك يختلف باختلاف أحوال الناس من غنى وفقر وحضر وبدو ، وكذا يمهل هو قدر ما يهيئ مثله أمره ولا نفقة لها في زمن التهيئة منها أو منه قاله في النوادر ، فما يكتب في وثيقة النكاح من نحو وفرض لها كذا في نظير نفقتها من يوم تاريخه لا يعتبر إذ لا يلزم شيء من الفرض المذكور إلا بدعائه للدخول بشرطه المذكور ، وتمهل قدر ما يهيئ فيه مثلها أمرها في كل حال .
( إلا أن يحلف ) الزوج ( ليدخلن الليلة ) فيقضى له ارتكابا لأخف الضررين فهذا مستثنى من الإمهال بقدر التهيئة وسواء مطله وليها بالدخول أم لا كان حلفه بطلاق أو عتق أو بالله تعالى على ظاهر إطلاق المصنف تبعا لبعضهم ، إذ حذف المعمول يؤذن بعمومه ، وقد أطلق البرزلي أيضا وقيده بعضهم بحلفه بطلاق أو عتق وبمطل الولي نقله تت عن ابن عرفة وابن غازي ، ولا يعتبر حلف الزوجة على الدخول أو عدمه وحدها أو مع الزوج لأن الحق له ، ولا يقال مقتضى ومن بادر أجبر له الآخر جبره على الدخول إن حلفت ليدخلن عليها الليلة لأنا نقول معنى جبره لها إذا بادرت جبره على دفع حال الصداق لا على الدخول . [ ص: 429 ]
ولا يعارض ما في أحمد أنه يجبر على الدخول أيضا لأنه مقيد بمضي قدر ما يهيئ فيه مثله أمره وكلام المصنف هنا في الدخول قبله . البناني فيه نظر ، فإن إمهاله قدر ما يهيئ أمره إنما هو لسقوط النفقة عنه ، وأما الدخول فلا يجبر عليه إذا دعته له إنما يجبر على إجراء النفقة كما يفيده النص ، فكلام أحمد غير ظاهر ، وكلام المصنف مقيد بما إذا لم يحلف على دخوله الليلة ليطأها وهي حائض ، فإن كان كذلك فلا يمكن من دخوله عليها لحنثه بالمانع الشرعي ، فلا تجبر على تمكينه منه إذ لا يجبر أحد على محرم اتفاقا ، وقوله السابق وفي بره في لأطأنها فوطئها حائضا قولان فيما بعد الوقوع ، وهذا غير قوله .
( لا ) تمهل ( لحيض ) بها أو نفاس أو جنابة بأن وطئها زوجها الأول ومات وهي حامل ، وضعت عقب موته أو اعتدت بالأشهر ولم تغتسل من جنابتها فلا تمهل لاستمتاعه بها بغير الوطء في الحيض والنفاس والجنابة لا تمنع الوطء.
বাংলা অনুবাদ:
মানহুল জালীল শরহে মুখতাসার খলীল
শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আলীশ
তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪২৬–৪২৯
অধ্যায়: মোহরানা-সংক্রান্ত বিধান
মূল বক্তব্য:
স্বামী-স্ত্রীর যে পক্ষ আগে নিজের দায়িত্ব পালনে উদ্যোগী হবে, তার অনুকূলে অপর পক্ষকে দায়িত্ব পালনে বাধ্য করা হবে, যদি স্বামী বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছে থাকে এবং স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করা সম্ভব হয়। স্ত্রীকে এক বছর সময় দেওয়া হবে, যদি বিবাহচুক্তিতে তাকে অন্য দেশে বা এলাকায় নিয়ে যাওয়ার কারণে অথবা তার অল্প বয়সের কারণে এমন শর্ত রাখা হয়ে থাকে। অন্যথায় সেই শর্ত বাতিল হবে। এক বছরের বেশি সময়ের শর্ত কার্যকর হবে না। তবে রোগ বা অল্প বয়স সহবাসে বাধা সৃষ্টি করলে সেই বাধা দূর হওয়া পর্যন্ত সময় দেওয়া হবে। একইভাবে তার অবস্থার উপযোগী প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া হবে; তবে স্বামী যদি শপথ করে যে সে আজ রাতেই দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করবে, তাহলে এর ব্যতিক্রম হবে। ঋতুস্রাবের কারণে সময় দেওয়া হবে না।
বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
“যে পক্ষ আগে উদ্যোগী হবে”—অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রীর যে কেউ নিজের পক্ষ থেকে প্রাপ্য দায়িত্ব, যেমন মোহরানা প্রদান কিংবা দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত ও উপলব্ধ করবে এবং অপর পক্ষের কাছে তার দায়িত্ব পালনের দাবি জানাবে, কিন্তু অপর পক্ষ তা করতে অস্বীকার করবে।
“তাকে বাধ্য করা হবে”—এখানে শব্দটির উচ্চারণ হলো হামজায় পেশ, জিমে সুকুন এবং ‘বা’ অক্ষরে যের। অর্থাৎ যে পক্ষ আগে উদ্যোগী হয়েছে, তার অনুকূলে অপর পক্ষকে মোহরানা বা দাম্পত্য সম্পর্কসংক্রান্ত নিজের দায়িত্ব পালনে বাধ্য করা হবে।
তবে এর জন্য দুটি শর্ত রয়েছে, যা পরবর্তী বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রথম শর্ত: “স্বামী বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছে থাকলে।” প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী স্বামীর বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানো আবশ্যক; শুধু সহবাস করতে সক্ষম হওয়াই যথেষ্ট নয়। কারণ এ অবস্থায় তার মাধ্যমে স্ত্রীর পূর্ণ যৌন তৃপ্তি হয় না; মেয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিপরীত।
দ্বিতীয় শর্ত: “স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করা সম্ভব হলে।” এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। কারণ মেয়েদের শারীরিক অবস্থা ভিন্ন হয়—কারও শরীর পূর্ণাঙ্গ ও সবল, আবার কারও শরীর ক্ষীণ। ফলে স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করা সম্ভব হলে তার মাধ্যমে পূর্ণ যৌন তৃপ্তি লাভের জন্য মেয়েটির বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানো শর্ত নয়। বয়ঃসন্ধির আগেও তার সঙ্গে পূর্ণ যৌন তৃপ্তি লাভ করা সম্ভব বলে এখানে গণ্য করা হয়েছে।
অপর পক্ষকে বাধ্য করার ক্ষেত্রে স্বামীর বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানো শর্ত, সে দাবিদার হোক কিংবা তার বিরুদ্ধে দাবি করা হোক। একইভাবে স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করা সম্ভব হওয়াও শর্ত, স্ত্রী দাবিদার হোক কিংবা তার বিরুদ্ধে দাবি করা হোক।
এর বিপরীত অবস্থার বিস্তারিত বিধান রয়েছে। যদি স্ত্রীর অল্প বয়সের কারণে অথবা মৃত্যুপথযাত্রার পর্যায়ে পৌঁছানো অসুস্থতার কারণে সহবাস সম্ভব না হয়, তাহলে বাধ্য করা যাবে না। কিন্তু অসুস্থতা যদি মৃত্যুপথযাত্রার পর্যায়ে না পৌঁছায়, তাহলে আল-মাওয়াকের বর্ণনা অনুযায়ী বাধ্য করার বিধান কার্যকর হবে।
এই আলোচনা অনির্দিষ্ট মোহরানার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নির্দিষ্ট মোহরানার বিধান আগেই আলোচনা করা হয়েছে।
আবুল হাসান বলেছেন, মোহরানা যদি স্বামীর দায় হিসেবে নির্ধারিত থাকে, তাহলে স্ত্রী তা গ্রহণের অধিকারী হবে না, যতক্ষণ না স্বামী প্রাপ্তবয়স্ক হয় এবং স্ত্রী দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের উপযুক্ত বয়সে পৌঁছায়। কারণ মূলত বিনিময়যোগ্য বস্তু হস্তান্তরের সময়ই তার মূল্য গ্রহণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের আগে স্ত্রীর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির জন্য মোহরানার অংশবিশেষ অগ্রিম দেওয়া এর ব্যতিক্রম।
“স্ত্রীকে সময় দেওয়া হবে”—এখানে বোঝানো হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক স্বামী মোহরানা দিয়ে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের দাবি জানালেও, স্ত্রী সহবাসে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও নির্দিষ্ট শর্তে তাকে অপেক্ষা করতে বাধ্য করা হবে।
“এক বছর, যদি শর্ত থাকে”—অর্থাৎ বিবাহচুক্তির সময় এক বছর অপেক্ষার শর্ত রাখা হলে, তা স্ত্রীর পক্ষ থেকে হোক কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে, এবং শর্তের কারণ যদি হয় স্বামী স্ত্রীকে তার নিজের এলাকা থেকে অন্য এলাকায় নিয়ে যেতে চায় অথবা স্ত্রীর অল্প বয়স। এখানে এমন অল্প বয়সের কথা বলা হচ্ছে, যে বয়সেও তার সঙ্গে সহবাস করা সম্ভব।
এটি অপর পক্ষকে বাধ্য করার সাধারণ বিধানের একটি ব্যতিক্রম। আপাতদৃষ্টিতে এই অপেক্ষার সময় স্ত্রীর ভরণপোষণের অধিকার থাকবে না।
“অন্যথায়”—অর্থাৎ বিবাহচুক্তির সময় এক বছরের শর্ত রাখা হয়নি, পরে তা যুক্ত করা হয়েছে; অথবা বিবাহচুক্তিতে শর্ত রাখা হলেও তার কারণ স্থানান্তর বা অল্প বয়স নয়। এ অবস্থায় শর্তটি বাতিল হবে এবং স্বামীকে তা পালনে বাধ্য করা যাবে না।
“এক বছরের বেশি নয়”—অর্থাৎ এক বছরের বেশি অপেক্ষার শর্ত রাখা হলে সম্পূর্ণ শর্তই বাতিল হবে; শুধু অতিরিক্ত সময়টুকু নয়। তবে বিবাহচুক্তি বৈধ থাকবে।
আল-মুদাওয়ানায় মালিক বলেছেন, যদি কোনো মেয়ের অল্প বয়সের কারণে অথবা তাকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার আগে তার পরিবার কিছুদিন তার সঙ্গ পাওয়ার উদ্দেশ্যে স্বামীর ওপর এক বছর দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন না করার শর্ত দেয়, তাহলে সেই শর্ত কার্যকর হবে। অন্যথায় শর্ত বাতিল হবে।
আল-উতবিয়্যাহ গ্রন্থে এমন এক ব্যক্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যে পাঁচ বছর দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন না করার শর্তে বিবাহ করেছে। উত্তরে বলা হয়েছে, তারা অত্যন্ত খারাপ কাজ করেছে। তবে বিবাহ বৈধ এবং স্বামী পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবে।
আল-মুদাওয়ানার বক্তব্য নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে যে, এ ধরনের শর্তের সঙ্গে তালাক বা অন্য কোনো পরিণতি যুক্ত করা হয়নি। সাধারণত এমন শর্ত বাধ্যতামূলক নয়, যা বিবাহচুক্তির অপরিহার্য অংশ নয় এবং চুক্তির বিরোধীও নয়; যেমন স্বামী অন্য স্ত্রী গ্রহণ করবে না কিংবা দাসীকে উপপত্নী বানাবে না—এমন শর্ত।
ইবনে রুশদের বক্তব্যে এই আপত্তির উত্তর পাওয়া যায়। তিনি বলেছেন, স্ত্রী দাবি করলে বিবাহচুক্তিতে শর্ত না থাকলেও কখনো দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন বিলম্বিত করার আদেশ দেওয়া হতে পারে। এ কারণেই মালিক এক বছরের মতো সীমিত বিলম্বের শর্ত বাধ্যতামূলক করেছেন। কারণ বিভিন্ন আইনি বিষয়ে এক বছরকে একটি সময়সীমা হিসেবে গ্রহণ করা হয়; যেমন ত্রুটি, রাজস্ব এবং দায়দায়িত্বসংক্রান্ত বিধানে।
“রোগ এবং অল্প বয়সের কারণে”—অর্থাৎ দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের আগে স্ত্রীর এমন রোগ কিংবা অল্প বয়স, যা সহবাসে বাধা সৃষ্টি করে। এ অবস্থায় রোগ বা বয়সজনিত বাধা দূর হওয়া পর্যন্ত তাকে সময় দেওয়া হবে, এমনকি তা এক বছরের বেশি হলেও এবং বিবাহচুক্তিতে এ বিষয়ে কোনো শর্ত না থাকলেও।
রোগের বিষয়ে লেখক ইবনুল হাজিবের অনুসরণ করেছেন। তবে আল-মুদাওয়ানায় বলা হয়েছে, অসুস্থতা মৃত্যুপথযাত্রার পর্যায়ে না পৌঁছালে তার জন্য অপেক্ষার সময় দেওয়া হবে না। অবশ্য বলা যেতে পারে, তাদের বক্তব্যের অর্থও আল-মুদাওয়ানার সেই বক্তব্যের অনুরূপ, যেখানে স্বামী বা স্ত্রীর অসুস্থতা মৃত্যুপথযাত্রার পর্যায়ে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বান্নানি এই বিষয়ে লেখকের সমালোচনায় হাত্তাবের অনুসরণ করেছেন। হাত্তাব বলেছেন, স্ত্রী নিজের অসুস্থতার কারণে অপেক্ষার সময় চাইলে তাকে সময় দেওয়ার বিধান লেখক ও ইবনুল হাজিব উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আল-মুদাওয়ানা বা ইবনে আরাফায় এর সুস্পষ্ট উল্লেখ নেই।
আল-মুদাওয়ানায় বরং বলা হয়েছে, স্ত্রী এমন অসুস্থতায় আক্রান্ত, যা সহবাসে বাধা সৃষ্টি করে, অথচ সে স্বামীর কাছে দাম্পত্য জীবন শুরু ও ভরণপোষণের দাবি জানায়—তাহলে স্বামীকে সেই দাবি পূরণ করতে হবে।
সেখানে বলা হয়েছে: স্ত্রী যদি দাম্পত্য জীবন শুরু ও ভরণপোষণের দাবি জানায় এবং স্বামী বা স্ত্রী এমন অসুস্থতায় আক্রান্ত থাকে, যাতে সহবাস সম্ভব নয়, তাহলে স্বামীকে ভরণপোষণ দিতে হবে অথবা দাম্পত্য জীবন শুরু করতে হবে। তবে অসুস্থতা মৃত্যুপথযাত্রার পর্যায়ে পৌঁছালে এই বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
এরপর হাত্তাব বলেছেন, স্ত্রী অসুস্থতার কারণে অপেক্ষার সময় চাইলে তাকে সময় দেওয়ার বিধান কে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, তা তিনি তখন খুঁজে পাননি।
তুফি এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে দুটি আপত্তি করেছেন। প্রথমত, মুতাইতির মাধ্যমে সাহনুনের একটি বক্তব্য পাওয়া যায়, যেখানে বলা হয়েছে, স্বামী এমন অসুস্থ হলে, যাতে স্ত্রীর জন্য তার সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্কের কোনো উপকার থাকে না, তাকে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা হবে না। স্ত্রী তখন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের মতো অবস্থায় গণ্য হবে।
আবুল হাসান লাখমির বক্তব্য উল্লেখ করেছেন: এই মতটি উত্তম এবং মালিকের বক্তব্য থেকেও এটাই বোঝা যায়।
আলীশ বলেন, এই আপত্তি যথার্থ নয়। কারণ হাত্তাব যে বিষয়টির সরাসরি উল্লেখ পাননি, সেটি ছিল স্ত্রীর নিজের অসুস্থতার কারণে অপেক্ষার সময় পাওয়ার বিধান; মুতাইতির আলোচ্য বিষয় নয়। ফলে এখানে তথ্যসংগ্রহের ঘাটতির অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয় না, যতক্ষণ না প্রমাণিত হয় যে একজনের ক্ষেত্রে অপেক্ষার সুযোগ থাকলে অপরজনের ক্ষেত্রেও অবশ্যই একই সুযোগ থাকবে।
দ্বিতীয় আপত্তি হলো, আল-মুদাওয়ানার বক্তব্য নিয়ে হাত্তাবের সমালোচনা তাহযিব গ্রন্থের ভাষার ওপর নির্ভরশীল। মূল আল-মুদাওয়ানার বক্তব্য হলো, মালিক বলেছেন: স্বামী এমন অসুস্থ হলেও যদি সহবাস করতে সক্ষম হয়, তাহলে তার ওপর ভরণপোষণ আবশ্যক হবে।
ইবনুল কাসিম প্রশ্ন করেছেন: স্ত্রী এমন অসুস্থতায় আক্রান্ত হলে, যাতে স্বামী তার সঙ্গে সহবাস করতে পারে না, তখন কী হবে?
উত্তরে বলা হয়েছে: বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে মালিকের কাছ থেকে আমার কাছে পৌঁছেছে যে, স্ত্রী দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের দাবি করতে পারবে, যদি না সে মৃত্যুপথযাত্রার পর্যায়ে পৌঁছে যায়। তবে আমি এই বক্তব্য মালিকের কাছ থেকে সরাসরি শুনিনি।
কাজি ইয়াজ বলেছেন, এই বক্তব্যের বাহ্যিক অর্থে মতভেদ রয়েছে। কারণ প্রথম বক্তব্যে সহবাসের সক্ষমতাকে শর্ত করা হয়েছে, আর দ্বিতীয় বক্তব্যে সেই সক্ষমতা না থাকলেও ভিন্ন বিধান দেওয়া হয়েছে। লাখমি এটিকে মতভেদ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে একাধিক সংক্ষিপ্তকার গ্রন্থকার বক্তব্য দুটিকে পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
ফলে লেখক ও তার অনুসৃত আলেমরা আল-মুদাওয়ানার বিরোধিতা করেননি; বরং ইবনুল কাসিমের কাছে পৌঁছানো বক্তব্যটিকে লাখমির মতোই মতভেদ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
আলীশ বলেন, লেখক লাখমির অনুসরণ করে এই বক্তব্যকে মতভেদ হিসেবে গ্রহণ করলেও দ্বিতীয় মতটি অধিক গ্রহণযোগ্য। কারণ সেখানে মৃত্যুপথযাত্রার পর্যায়ের শর্তটি সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে। ইবনুল কাসিম আরও বলেছেন, “এটাই আমার মত”, যেমনটি আবুল হাসানের উদ্ধৃতিতে পাওয়া যায়। ফলে লেখক দ্বিতীয় মতের বিপরীত অবস্থান নেওয়ায় সমালোচনার যোগ্য।
“স্ত্রীকে তার অবস্থার উপযোগী প্রস্তুতির সময় দেওয়া হবে”—অর্থাৎ স্ত্রীর সামাজিক ও আর্থিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ঘরের আসবাবপত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা বা প্রস্তুত করার জন্য যতটুকু সময় প্রয়োজন, ততটুকু সময় দেওয়া হবে।
এ সময়সীমা মানুষের ধনী-দরিদ্র অবস্থা, শহর বা গ্রামে বসবাস এবং অন্যান্য পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। একইভাবে স্বামীকেও নিজের অবস্থার উপযোগী প্রস্তুতির সময় দেওয়া হবে।
আন-নাওয়াদির গ্রন্থে বলা হয়েছে, স্ত্রী বা স্বামী—যে পক্ষের প্রস্তুতির কারণেই বিলম্ব ঘটুক না কেন, এই প্রস্তুতির সময়ে স্ত্রীর ভরণপোষণ প্রাপ্য হবে না।
তাই বিবাহের দলিলে যদি লেখা থাকে যে, নির্দিষ্ট তারিখ থেকে স্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ভরণপোষণ বরাদ্দ করা হলো, তাহলে শুধু ওই ঘোষণার ভিত্তিতে তা বাধ্যতামূলক হবে না। কারণ উল্লিখিত শর্ত অনুযায়ী দাম্পত্য জীবন শুরু করার দাবি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে ওই ভরণপোষণের বাধ্যবাধকতা কার্যকর হয় না।
সব অবস্থাতেই স্ত্রীকে তার অবস্থার উপযোগী প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া হবে।
“তবে স্বামী যদি শপথ করে যে সে আজ রাতেই দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করবে”—তাহলে অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতি বেছে নেওয়ার নীতিতে তার অনুকূলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। এটি প্রস্তুতির জন্য সময় দেওয়ার বিধানের একটি ব্যতিক্রম।
স্ত্রীর অভিভাবক দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনে বিলম্ব করে থাকুক বা না থাকুক, প্রকাশ্য বক্তব্য অনুযায়ী একই বিধান প্রযোজ্য হবে। স্বামী তালাকের শপথ, দাসমুক্তির শপথ কিংবা আল্লাহর নামে শপথ—যেভাবেই শপথ করুক না কেন, লেখকের সাধারণ বক্তব্য অনুসারে এই বিধান প্রযোজ্য।
কারণ শপথের ধরন নির্দিষ্ট না করে বক্তব্য দেওয়ায় সব ধরনের শপথ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অর্থ প্রকাশ পায়। বারযালিও সাধারণভাবে এই বিধান উল্লেখ করেছেন।
তবে কিছু আলেম এটিকে তালাক বা দাসমুক্তির শপথ এবং স্ত্রীর অভিভাবকের বিলম্ব ঘটানোর অবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন। ইবনে আরাফা ও ইবনে গাজির সূত্রে এই মত উদ্ধৃত হয়েছে।
“স্ত্রী একা কিংবা স্বামীর সঙ্গে মিলে আজ রাতে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করা বা না করার বিষয়ে শপথ করলেও সেই শপথ বিবেচ্য হবে না। কারণ এ ক্ষেত্রে অধিকারটি স্বামীর।”
এখানে এমন আপত্তি তোলা যাবে না যে, “যে পক্ষ আগে উদ্যোগী হবে, তার অনুকূলে অপর পক্ষকে বাধ্য করা হবে”—এই বিধান অনুযায়ী স্ত্রী যদি শপথ করে যে স্বামী আজ রাতেই তার সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করবে, তাহলে স্বামীকেও বাধ্য করা উচিত।
কারণ এর উত্তর হলো, স্ত্রী আগে উদ্যোগী হলে স্বামীকে বাধ্য করার অর্থ তাকে তাৎক্ষণিক প্রাপ্য মোহরানা পরিশোধে বাধ্য করা; দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা নয়।
আহমদের গ্রন্থে স্বামীকেও দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করার যে বক্তব্য পাওয়া যায়, তা এর বিরোধী নয়। কারণ সেখানে স্বামীর উপযুক্ত প্রস্তুতির সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরের অবস্থার কথা বলা হয়েছে। আর এখানে আলোচনা হচ্ছে সেই সময় অতিক্রান্ত হওয়ার আগের অবস্থা নিয়ে।
বান্নানি বলেছেন, এই ব্যাখ্যায় সমস্যা রয়েছে। কারণ স্বামীকে প্রস্তুতির জন্য সময় দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো সেই সময়ে তার ওপর ভরণপোষণের দায় না থাকা। স্ত্রী দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের দাবি জানালেও স্বামীকে তাতে বাধ্য করা হবে না; বরং তাকে ভরণপোষণ দিতে বাধ্য করা হবে, যেমনটি মূল বক্তব্য থেকে বোঝা যায়। তাই আহমদের বক্তব্যটি স্পষ্ট নয়।
এখানে লেখকের বক্তব্য এমন অবস্থার জন্য প্রযোজ্য, যেখানে স্বামী আজ রাতে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের শপথ করেছে, কিন্তু ঋতুস্রাব চলাকালে স্ত্রীর সঙ্গে নিষিদ্ধ সহবাসের উদ্দেশ্য নেই।
যদি স্বামী শপথ করে যে আজ রাতে ঋতুস্রাব চলাকালেই স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করবে, তাহলে তাকে সেই উদ্দেশ্যে স্ত্রীর কাছে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। কারণ এতে শরিয়তের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘিত হবে। স্ত্রীকেও এতে সম্মত হতে বাধ্য করা যাবে না; কেননা সর্বসম্মতিক্রমে কাউকে হারাম কাজে বাধ্য করা যায় না।
এর আগে “আমি অবশ্যই তার সঙ্গে সহবাস করব” বলে শপথ করে ঋতুস্রাব চলাকালে সহবাস করার ক্ষেত্রে শপথ পূর্ণ হয়েছে কি না, তা নিয়ে দুটি মত উল্লেখ করা হয়েছে। সেই আলোচনা কাজটি ঘটে যাওয়ার পরের অবস্থা সম্পর্কে; বর্তমান বিষয়টি ভিন্ন।
“ঋতুস্রাবের জন্য সময় দেওয়া হবে না”—অর্থাৎ স্ত্রী ঋতুস্রাব, প্রসব-পরবর্তী রক্তস্রাব কিংবা জানাবাত বা যৌন অপবিত্রতার অবস্থায় থাকলেও দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন বিলম্বের জন্য তাকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে না।
যেমন, প্রথম স্বামী স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করার পর তার গর্ভাবস্থায় মারা গিয়েছিল এবং স্বামীর মৃত্যুর পরপরই স্ত্রী সন্তান প্রসব করেছে; অথবা স্ত্রী মাস গণনার মাধ্যমে ইদ্দত সম্পন্ন করেছে কিন্তু তখনো জানাবাত থেকে গোসল করেনি।
এসব অবস্থায় স্ত্রীকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে না। কারণ ঋতুস্রাব ও প্রসব-পরবর্তী রক্তস্রাব চলাকালে যোনিপথে সহবাস ছাড়া অন্যান্য উপায়ে স্বামী তার সঙ্গে যৌন উপভোগ করতে পারে। আর জানাবাতের অবস্থা নিজেই সহবাসে বাধা নয়।
এই যুক্তিতে মেয়েটির শৈশবের প্রতি যে অবজ্ঞা রয়েছে, তা সরাসরি। তার সঙ্গে সহবাস সম্ভব হওয়া এবং তাকে নিয়ে পূর্ণ যৌন তৃপ্তি পাওয়াই বয়ঃসন্ধির প্রয়োজন বাদ দেওয়ার কারণ। ফলে একটি শিশুর দেহের বৃদ্ধি তার নিজের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার বিষয় থেকে সরে গিয়ে অন্যের যৌন দাবির সুযোগ হয়ে দাঁড়ায়। শরীর একটু পূর্ণ হলেই সে “ব্যবহারযোগ্য”; সেই ব্যবহার কতটা আনন্দ দেবে, তা-ও বিচার্য। শিশুটির বোধ, ভয়, অনিচ্ছা এবং নিজের জীবনের ওপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এই যুক্তির চালক নয়। ধর্মীয় আইনের ভাষায় একটি মেয়েকে দাম্পত্যে হস্তান্তর করার যে ক্ষমতা এখানে সাজানো হয়েছে, তা শিশুর শরীরের ওপর প্রাপ্তবয়স্কদের কর্তৃত্বকে বৈধতা দেয়।
হানাফি ফিকহ: শিশুর ভরণপোষণে যৌন ব্যবহারযোগ্যতার দাম
হানাফি ফিকহের ভরণপোষণ অধ্যায়ে প্রশ্নটি আরও অস্বস্তিকর। একটি শিশুকে বিয়ে করা হয়েছে; এখন তাকে খাওয়ানো, পোশাক দেওয়া ও রাখার খরচ স্বামীর ওপর আসবে কি না, সেই সিদ্ধান্তে দেখা হচ্ছে শিশুর কাছ থেকে যৌন উপভোগ পাওয়া যায় কি না। কামাল ইবনুল হুমামের ফাতহুল কাদীর-এ আলোচিত মূল বিধানে বলা হয়েছে, অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীকে উপভোগ করা না গেলে তার ভরণপোষণ প্রাপ্য নয়। কারণ হিসেবে এসেছে, বিবাহের মাধ্যমে প্রাপ্য উদ্দেশ্য অর্জনের উপায় হিসেবে স্ত্রীকে স্বামীর জন্য আবদ্ধ রাখা। এই ব্যাখ্যায় শিশুর প্রয়োজনের আগে স্থান পেয়েছে স্বামী কী পাচ্ছে, সেই হিসাব। শিশুটি যত্নের ওপর নির্ভরশীল মানুষ; বিধানের চোখে তার প্রাপ্য খরচ নির্ধারিত হচ্ছে বৈবাহিক সুবিধা জোগানোর সামর্থ্য দিয়ে। [9]
فتح القدير
الكمال ابن الهمام – كمال الدين بن عبد الواحد
كتاب الطلاق، باب النفقة
الجزء الرابع، الصفحات 383–385
( وإن كانت صغيرة لا يستمتع بها فلا نفقة لها ) لأن امتناع الاستمتاع لمعنى فيها ، والاحتباس الموجب ما يكون وسيلة إلى مقصود مستحق بالنكاح ولم يوجد ، بخلاف المريضة على ما نبين .
[ ص: 384 ] وقال الشافعي : لها النفقة لأنها عوض من الملك عنده كما في المملوكة بملك اليمين . ولنا أن المهر عوض عن الملك ولا يجتمع العوضان عن معوض واحد فلها المهر دون النفقة .
عرض الحاشية
( قوله لا يستمتع بها ) أي لا توطأ . وصرح في الذخيرة بأن المراد من الاستمتاع الوطء ، وبه قيد الحاكم قال : لا نفقة للصغيرة التي لا تجامع فلا نفقة لها إلى أن تصير إلى حالة تحتمل الوطء سواء كانت في بيت الزوج أو الأب . واختلف فيها ، فقيل أقلها سبع سنين ، وقال العتابي : اختيار مشايخنا تسع سنين . والحق عدم التقدير ، فإن احتماله يختلف باختلاف البنية ، وعلى قولنا جمهور العلماء والشافعي في قوله المختار عندهم .
وفي قول له : تجب وإن كانت في المهد لإطلاق النص وهو قول الثوري والظاهرية . قلنا : أما قوله تعالى { وعلى المولود له رزقهن } فمرجع الضمير للوالدات فلا يتناول الصغائر . وأما قوله تعالى { لينفق ذو سعة من سعته } فإنما فيه الأمر بالإنفاق : يعني على من يستحقها ، ولم ينص على من يستحقها ، فثبوت من يستحقها خارج على أنه لو صرح بالزوجات فيها كان المراد بعضهن ، ألا ترى أن ليس كل زوجة تستحقها كالناشزة فيعمل في تعيين ذلك البعض بالدليل الذي يعينه .
وأما حديث جابر فقوله صلى الله عليه وسلم فيه { ولهن عليكم رزقهن وكسوتهن بالمعروف } فمرجع الضمير فيه النساء اللاتي حلت فروجهن ، ونقول : لا يحل فرج من لا تطيق الجماع فإنه إهلاك أو طريقه . ولو سلم فالإنفاق على أن عمومه غير مراد ، فإن الناشزة لا نفقة لها وهي زوجة فجاز تخصيصه بعد ذاك بالمعنى وهو ما ذكره في الوجه .
وحاصله أن الزوجة أجنبية ، فاستحقاقها النفقة إما أن يكون لذلك النوع من الملك الوارد عليها على قصوره إلحاقا للمالك القاصر بالملك الكامل في المرقوقة ، [ ص: 384 ] أو لاحتباسها لاستيفاء المنفعة المقصودة من التزويج : أعني الوطء أو دواعيه ، أو لاحتباسها مطلقا لا يجوز الأول لأن إيجابها بسبب ملك كامل لا يستلزم إيجابها بسبب ملك ناقص ، إذ ليس هو في معناه إلا أن يكون إيجابها في الكامل لمعنى تضمنه وهو موجود في الناقص فتجب فيه لذلك المشترك لا للملك ، ولو عين ذلك المشترك لكان احتباسها على أحد الأوجه التي ذكرناها وسنوردها وجها وجها ، وأيضا عوض الملك هنا المهر فلا تكون النفقة أيضا عوضا وإلا اجتمع عن المعوض الواحد عوضان ، ولا يمكن جعل العوض الواحد مجموع المهر والنفقة كما لو تزوجها على ألف وعبد لأن الملك معوض يثبت جملة وهو تمام العلة لعوضه فلا بد من كون عوضه يثبت أيضا كذلك وذلك المهر دون النفقة لأنها تجب شيئا فشيئا ، ولو كانت جزءا من العوض لزم جهالة أي العوضين فإنما تجب بحادث شيئا فشيئا وهو الاحتباس نظرا إلى بقائه وهذا طريق المصنف ، وعلى هذا يجب أن يقول النفقة في المرقوقة أيضا جزاء الاحتباس لما هو من مقاصد ذلك الملك من الاستخدام الذي من جملته الوطء إن أمكن لا للملك وهذا حق ؟ ألا يرى أنه لا نفقة للآبق مع قيام الملك ولا يجوز الأخير لانتقاضه بالناشزة ، وأما الثاني فهو العلة لظهور أثره في حق القاضي والمفتي والعامل على الصدقات ومن تقدم ، وإنما لم نقل فتعين الثاني عقيب إبطال الأقسام لئلا يكون مبرأ ، فلما أثبتنا المناسبة بظهور الأثر لم يبق إلا صورة السبر وإنما هو في الحقيقة إثبات عليه ما عيناه بظهور أثره وإبطال ما عينوه .
هذا وقد نقض بالرتقاء والقرناء والتي أصابها مرض يمنع الجماع والكبيرة التي لا يمكن وطؤها لكبرها فإن لهن النفقة ولا احتباس للوطء .
وأجيب بأن المعتبر في إيجاب النفقة احتباس ينتفع به الزوج انتفاعا مقصودا بالنكاح وهو الجماع أو الدواعي والانتفاع من حيث الدواعي موجود في هؤلاء بأن يجامع فيما دون الفرج ، بخلاف الصغيرة التي لا يجامع مثلها فإنها لا تكون مشتهاة أصلا فلا تجامع فيما دون الفرج حتى إن كل عاقل يستنكر جماع الرضيعة فيما دون الفرج ، ولا يستنكر ذلك في العجوز والمريضة .
قالوا : فعلى هذا التعليل إذا كانت صغيرة مشتهاة يمكن جماعها فيما دون الفرج تجب النفقة ، كذا في الذخيرة ، وهذا على من قيد الصغيرة بكونها لا تشتهى للجماع فرض محال ، لأنها إذا لم تكن بحيث تشتهى للجماع لا تكون مشتهاة للجماع فيما دون الفرج . نعم هنا شيء وهو أن قولنا الصغيرة التي لا يوطأ مثلها هل معناه لا تشتهى للوطء أو لا تطيق الوطء ، فإن كان الأول فالملازمة حقه ، وإن كان الثاني فإن ثبت التلازم بين عدم الإطاقة وعدم الاشتهاء فكذلك وإلا فهو فرض صحيح .
والظاهر التلازم بناء على أن المراد ضم الإطاقة مطلقا ولا من واحد ممن يطيق الوطء ، والظاهر أن من كانت بحيث تشتهى للجماع فيما دون الفرج فهي مطيقة للجماع في الجملة ، وإن لم تطقه من [ ص: 385 ] خصوص زوج مثلا فتجب لها النفقة ، ومن لا فلا تجب لها نفقة . وفي خزانة الفقيه أبي الليث : عشر من النساء لا نفقة لهن : الصغيرة التي لا تحتمل الجماع ، والناشزة إذا لم يكن لها عليه مهر ، وإذا اغتصبها ظالم فذهب بها ، والمحبوسة في دين ، والمسافرة بحج إذا لم يكن معها زوجها ، والأمة إذا لم يبوئها مولاها ، والمنكوحة نكاحا فاسدا ، والمرتدة ، والمتوفى عنها زوجها ، والمرأة إذا قبلت ابن زوجها أو أباه بشهوة .
বাংলা অনুবাদ:
ফাতহুল কাদীর
কামালুদ্দীন ইবনুল হুমাম
তালাক অধ্যায়, ভরণপোষণ পরিচ্ছেদ
চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৮৩–৩৮৫
“স্ত্রী যদি এমন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে হয়, যার সঙ্গে যৌন উপভোগ করা যায় না, তাহলে সে ভরণপোষণ পাবে না।” কারণ যৌন উপভোগ সম্ভব না হওয়ার কারণটি তার নিজের অবস্থার মধ্যে বিদ্যমান। যে অবস্থান বা স্বামীর জন্য নিজেকে উপলব্ধ রাখা ভরণপোষণের অধিকার সৃষ্টি করে, তা হতে হবে বিবাহের মাধ্যমে স্বামীর প্রাপ্য নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য পূরণের উপায়। এখানে সেই উদ্দেশ্য পূরণের সুযোগ নেই। অসুস্থ স্ত্রীর বিষয়টি ভিন্ন, যেমনটি পরে ব্যাখ্যা করা হবে।
পৃষ্ঠা ৩৮৪:
শাফেয়ি বলেছেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী। কারণ তার মতে ভরণপোষণ বৈবাহিক মালিকানাগত অধিকারের বিনিময়, যেমন মালিকানাধীন দাসীর ক্ষেত্রেও হয়ে থাকে।
আমাদের বক্তব্য হলো, এই মালিকানাগত অধিকারের বিনিময় হচ্ছে মোহরানা। একই অধিকারের বিনিময়ে দুটি পৃথক প্রতিদান একত্রে হতে পারে না। তাই স্ত্রী মোহরানা পাবে, কিন্তু ভরণপোষণ পাবে না।
ব্যাখ্যা:
“যার সঙ্গে যৌন উপভোগ করা যায় না”—এর অর্থ, যার সঙ্গে যোনিপথে সহবাস করা যায় না। আয-যাখিরা গ্রন্থে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এখানে যৌন উপভোগ বলতে সহবাস বোঝানো হয়েছে। হাকিমও এই অর্থেই বিধানটি সীমাবদ্ধ করেছেন। তিনি বলেছেন:
“যে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সঙ্গে সহবাস করা যায় না, তার ভরণপোষণের অধিকার নেই। সে সহবাস সহ্য করতে সক্ষম হওয়ার অবস্থায় না পৌঁছানো পর্যন্ত ভরণপোষণ পাবে না—সে স্বামীর বাড়িতে থাকুক কিংবা পিতার বাড়িতে থাকুক।”
এ বিষয়ে বয়সের সীমা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন, সর্বনিম্ন বয়স সাত বছর। আততাবি বলেছেন, আমাদের মাশায়েখদের নির্বাচিত মত হলো নয় বছর।
তবে সঠিক অবস্থান হলো কোনো নির্দিষ্ট বয়স নির্ধারণ না করা। কারণ সহবাস সহ্য করার সক্ষমতা মেয়েদের শারীরিক গঠনের ভিন্নতার কারণে পরিবর্তিত হয়।
আমাদের এই মতই অধিকাংশ আলেমের মত এবং শাফেয়ি মাজহাবের নির্বাচিত অবস্থান।
শাফেয়ির আরেকটি মত অনুযায়ী, মেয়েটি দোলনায় থাকা শিশু হলেও তার ভরণপোষণ আবশ্যক হবে। কারণ এ বিষয়ে ধর্মীয় বক্তব্যের ভাষা সাধারণ। সাওরি ও জাহিরি মাজহাবেরও এই মত।
আমাদের জবাব হলো, আল্লাহর বাণী—“সন্তানের পিতার ওপর তাদের খাদ্য ও বস্ত্রের দায়িত্ব রয়েছে”—এখানে সর্বনামটি সন্তান জন্মদানকারী মায়েদের নির্দেশ করে। ফলে এটি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের অন্তর্ভুক্ত করে না।
আবার আল্লাহর বাণী—“সচ্ছল ব্যক্তি তার সচ্ছলতা অনুযায়ী ব্যয় করবে”—এখানে শুধু ভরণপোষণ দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। অর্থাৎ যারা ভরণপোষণের অধিকারী, তাদের ব্যয় বহন করতে হবে। কিন্তু কারা সেই অধিকারী, আয়াতটিতে তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।
এমনকি আয়াতে সরাসরি স্ত্রীদের কথা উল্লেখ থাকলেও তার অর্থ হতো স্ত্রীদের একটি নির্দিষ্ট অংশ; সব স্ত্রী নয়। কারণ প্রত্যেক স্ত্রী ভরণপোষণের অধিকারী নয়। যেমন, অবাধ্য স্ত্রী ভরণপোষণ পায় না। অতএব কোন স্ত্রীরা ভরণপোষণের অধিকারী হবে, তা নির্দিষ্ট করার জন্য সংশ্লিষ্ট দলিল প্রয়োগ করতে হবে।
জাবিরের হাদিসে নবীর বক্তব্য—“তাদের খাদ্য ও পোশাকের দায়িত্ব তোমাদের ওপর, প্রচলিত ন্যায়সংগত পদ্ধতিতে”—এখানে সর্বনামটি এমন নারীদের নির্দেশ করে, যাদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক বৈধ হয়েছে।
আমাদের বক্তব্য হলো, যে মেয়ে সহবাস সহ্য করতে পারে না, তার সঙ্গে যোনিপথে সহবাস বৈধ নয়। কারণ এটি তাকে ধ্বংস করে দিতে পারে অথবা ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
এ কথা মেনে নিলেও হাদিসের সাধারণ ভাষা সব স্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করে না। কারণ অবাধ্য স্ত্রীও বিবাহিত স্ত্রী, অথচ তার ভরণপোষণ নেই। ফলে উল্লিখিত যুক্তির ভিত্তিতে এই সাধারণ বিধান থেকে নির্দিষ্ট শ্রেণিকে বাদ দেওয়া সম্ভব।
বৈবাহিক অধিকার, যৌন উপভোগ ও ভরণপোষণের কারণ:
সারকথা, স্ত্রী একজন অনাত্মীয় নারী। তাই তার ভরণপোষণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্য কারণ তিনটি।
প্রথমত, বিবাহের মাধ্যমে স্ত্রীর ওপর যে সীমিত ধরনের মালিকানাগত অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়, সেটিকে ক্রীতদাসীর ওপর পূর্ণ মালিকানার অধিকারের সঙ্গে তুলনা করে ভরণপোষণ বাধ্যতামূলক করা।
দ্বিতীয়ত, বিবাহের মাধ্যমে যে উদ্দেশ্য অর্জনের অধিকার স্বামী পায়, তা পূরণের জন্য স্ত্রীকে স্বামীর অধীনে উপলব্ধ রাখা। এই উদ্দেশ্য হলো যৌন সহবাস অথবা সহবাসের পূর্ববর্তী ও আনুষঙ্গিক যৌন আচরণ।
তৃতীয়ত, কেবল স্ত্রীকে স্বামীর জন্য আবদ্ধ বা উপলব্ধ রাখা, যৌন ব্যবহারের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকুক বা না থাকুক।
প্রথম কারণটি গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ পূর্ণ মালিকানার ভিত্তিতে কোনো দায়িত্ব বাধ্যতামূলক হলে তা থেকে সীমিত মালিকানার ক্ষেত্রেও একই দায়িত্ব আবশ্যক হওয়ার সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে না। দুই ধরনের অধিকার সমার্থক নয়।
তবে পূর্ণ মালিকানার ক্ষেত্রে ভরণপোষণ বাধ্যতামূলক হওয়ার কারণ যদি এমন কোনো উপাদান হয়, যা সীমিত মালিকানার ক্ষেত্রেও বিদ্যমান, তাহলে সেই অভিন্ন উপাদানের কারণে ভরণপোষণ আবশ্যক হতে পারে; মালিকানা নিজে তার কারণ হবে না।
এই অভিন্ন উপাদান নির্দিষ্ট করলে তা হবে স্ত্রীকে উপলব্ধ রাখার পূর্বে আলোচিত কোনো একটি ধরন। প্রতিটি ধরনের আলোচনা পর্যায়ক্রমে করা হচ্ছে।
এ ছাড়া বিবাহের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত মালিকানাগত অধিকারের বিনিময় হলো মোহরানা। ফলে ভরণপোষণকেও একই অধিকারের বিনিময় বলা যায় না। তা হলে একটি অধিকারের জন্য দুটি স্বতন্ত্র প্রতিদান নির্ধারিত হবে।
এমনও বলা যাবে না যে মোহরানা ও ভরণপোষণ মিলে একটি যৌথ প্রতিদান গঠিত হয়, যেমন কোনো নারীকে এক হাজার মুদ্রা ও একটি দাসের বিনিময়ে বিবাহ করার উদাহরণ।
কারণ বিবাহের মাধ্যমে যে অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়, তা একবারেই সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই অধিকারের প্রতিদানও একইভাবে নির্ধারিত হওয়া প্রয়োজন। মোহরানা এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী, কিন্তু ভরণপোষণ নয়। কারণ ভরণপোষণ পর্যায়ক্রমে বাধ্যতামূলক হয়।
ভরণপোষণ যদি বিবাহজনিত অধিকারের বিনিময়ের একটি অংশ হতো, তাহলে প্রতিদানের প্রকৃতি বা পরিমাণ অনির্দিষ্ট হয়ে যেত। ফলে ভরণপোষণ আসলে পর্যায়ক্রমে নতুনভাবে উদ্ভূত একটি অবস্থার কারণে আবশ্যক হয়। সেটি হলো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য উপলব্ধ রাখা এবং সেই অবস্থা অব্যাহত থাকা। গ্রন্থকারের যুক্তির ভিত্তি এটিই।
একই যুক্তি অনুযায়ী, ক্রীতদাসীর ভরণপোষণও মালিকানার কারণে নয়; বরং মালিকের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য তাকে কাজে ও ব্যবহারে উপলব্ধ রাখার কারণে। সেই উদ্দেশ্যের মধ্যে শ্রমসেবা এবং সম্ভব হলে যৌন সহবাসও অন্তর্ভুক্ত।
এর প্রমাণ হলো, পলাতক ক্রীতদাস মালিকের মালিকানায় বহাল থাকলেও তার ভরণপোষণের অধিকার থাকে না।
তৃতীয় কারণটিও গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ শুধু স্ত্রীকে আবদ্ধ বা উপলব্ধ রাখাই যথেষ্ট হলে অবাধ্য স্ত্রীর ভরণপোষণও আবশ্যক হওয়ার কথা, অথচ তার ক্ষেত্রে তা আবশ্যক নয়।
দ্বিতীয় কারণটিই প্রকৃত কারণ। বিচারক, মুফতি, সদকা সংগ্রহকারী এবং আগে আলোচিত অন্যান্য ব্যক্তির অধিকারসংক্রান্ত বিধানেও নির্দিষ্ট কাজের জন্য উপলব্ধ থাকার প্রভাব দেখা যায়।
সম্ভাব্য কারণগুলো বাতিল করার পর সরাসরি দ্বিতীয় কারণটিকে চূড়ান্ত বলে ঘোষণা করা হয়নি, যাতে যুক্তিটি শুধু বিকল্পগুলো বাদ দেওয়ার ওপর নির্ভরশীল না থাকে। বরং সংশ্লিষ্ট উদাহরণে তার কার্যকারিতা দেখিয়ে কারণটির যথার্থতা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ফলে বাকি থাকে সম্ভাব্য কারণগুলোর তুলনামূলক পরীক্ষা। বাস্তবে এটি নির্বাচিত কারণটির প্রাসঙ্গিকতা প্রতিষ্ঠা এবং অন্যদের নির্ধারিত কারণগুলো খণ্ডন করার যুক্তি।
যোনিপথে সহবাস সম্ভব নয়, এমন স্ত্রীর ভরণপোষণ:
এই যুক্তির বিরুদ্ধে একটি আপত্তি তোলা হয়েছে। যেসব নারীর যোনিপথ জন্মগতভাবে বন্ধ, যাদের যোনিপথে প্রতিবন্ধকতামূলক গঠন রয়েছে, যারা সহবাসে বাধা সৃষ্টিকারী রোগে আক্রান্ত এবং যেসব বৃদ্ধা বয়সের কারণে সহবাসে সক্ষম নন—তাদের ভরণপোষণ দেওয়া হয়। অথচ তাদের ক্ষেত্রে যোনিপথে সহবাসের উদ্দেশ্যে স্বামীর জন্য উপলব্ধ থাকার সুযোগ নেই।
এর উত্তরে বলা হয়েছে, ভরণপোষণ আবশ্যক হওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় হলো স্ত্রীকে এমনভাবে স্বামীর জন্য উপলব্ধ রাখা, যাতে স্বামী বিবাহের উদ্দেশ্য অনুযায়ী যৌন উপভোগ করতে পারে। সেই উদ্দেশ্য হলো সহবাস অথবা সহবাসের আনুষঙ্গিক যৌন আচরণ।
উল্লিখিত নারীদের ক্ষেত্রে যোনিপথে সহবাস সম্ভব না হলেও যোনিপথে প্রবেশ ছাড়া অন্যান্য উপায়ে যৌনক্রিয়ার মাধ্যমে স্বামীর যৌন উপভোগ সম্ভব।
কিন্তু যে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সঙ্গে এ ধরনের যৌনক্রিয়াও করা যায় না, তার অবস্থা ভিন্ন। কারণ তাকে আদৌ যৌন আকাঙ্ক্ষার উপযুক্ত হিসেবে গণ্য করা হয় না। ফলে তার সঙ্গে যোনিপথে প্রবেশ ছাড়া অন্য উপায়েও যৌনক্রিয়া করা হয় না।
এমনকি কোনো দুগ্ধপোষ্য শিশুর সঙ্গে যোনিপথে প্রবেশ ছাড়া যৌনক্রিয়া করাকেও প্রত্যেক বিবেকবান মানুষ ঘৃণার চোখে দেখে।
কিন্তু বৃদ্ধা বা অসুস্থ নারীর ক্ষেত্রে এ ধরনের যৌনক্রিয়াকে একইভাবে অস্বাভাবিক মনে করা হয় না।
অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর সঙ্গে যোনিপথে প্রবেশ ছাড়া যৌনক্রিয়া এবং ভরণপোষণের বিধান:
তারা বলেছেন, এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে যদি যৌন আকাঙ্ক্ষার উপযুক্ত বলে গণ্য করা হয় এবং তার সঙ্গে যোনিপথে প্রবেশ ছাড়া যৌনক্রিয়া করা সম্ভব হয়, তাহলে তার ভরণপোষণ আবশ্যক হবে। আয-যাখিরা গ্রন্থেও এমনটি রয়েছে।
তবে যারা অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের ক্ষেত্রে এমন শর্ত দিয়েছেন যে তার প্রতি সহবাসের আকাঙ্ক্ষা জন্মায় না, তাদের সংজ্ঞা অনুযায়ী এটি একটি অসম্ভব কল্পিত অবস্থা। কারণ যে মেয়েকে যৌন সহবাসের আকাঙ্ক্ষার উপযুক্ত বলে গণ্য করা হয় না, তাকে যোনিপথে প্রবেশ ছাড়া যৌনক্রিয়ার আকাঙ্ক্ষার উপযুক্ত বলেও গণ্য করা যাবে না।
অবশ্য এখানে একটি প্রশ্ন রয়েছে। যখন আমরা বলি, “এমন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে, যার সঙ্গে সহবাস করা যায় না”, তখন এর অর্থ কি এই যে মেয়েটিকে যৌন সহবাসের আকাঙ্ক্ষার উপযুক্ত মনে করা হয় না, নাকি সে শারীরিকভাবে সহবাস সহ্য করতে পারে না?
প্রথম অর্থটি উদ্দেশ্য হলে পূর্বোক্ত দুই অবস্থার মধ্যে অনিবার্য সম্পর্ক রয়েছে। অর্থাৎ যার প্রতি যৌন সহবাসের আকাঙ্ক্ষা নেই, তার প্রতি যোনিপথে প্রবেশ ছাড়া যৌনক্রিয়ার আকাঙ্ক্ষাও নেই।
কিন্তু দ্বিতীয় অর্থটি উদ্দেশ্য হলে দেখতে হবে, সহবাস সহ্য করতে না পারা এবং যৌন আকাঙ্ক্ষার উপযুক্ত বলে বিবেচিত না হওয়ার মধ্যে অনিবার্য সম্পর্ক রয়েছে কি না। সেই সম্পর্ক প্রমাণিত হলে আগের সিদ্ধান্তই কার্যকর হবে। অন্যথায় অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সঙ্গে যোনিপথে প্রবেশ ছাড়া যৌনক্রিয়া সম্ভব হওয়ার অনুমানটি একটি বাস্তবসম্ভব পরিস্থিতি হিসেবে গণ্য হবে।
প্রকাশ্য অর্থ অনুযায়ী, এখানে দুই অবস্থার মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। কারণ সহবাস সহ্য করার সক্ষমতা সাধারণভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে; সহবাসে সক্ষম কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে নয়।
আপাতদৃষ্টিতে, যে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে যোনিপথে প্রবেশ ছাড়া যৌনক্রিয়ার উপযুক্ত বলে গণ্য করা হয়, সে সাধারণভাবে যোনিপথে সহবাসও সহ্য করতে সক্ষম বলে বিবেচিত হয়। যদিও কোনো নির্দিষ্ট স্বামীর সঙ্গে সে তা সহ্য করতে সক্ষম না-ও হতে পারে। এ অবস্থায় মেয়েটি ভরণপোষণ পাবে। আর যে মেয়ে এমন সক্ষম বলে গণ্য হবে না, সে ভরণপোষণ পাবে না।
পৃষ্ঠা ৩৮৫:
ফকিহ আবুল লাইসের খাযানাতুল ফিকহ গ্রন্থে বলা হয়েছে, দশ শ্রেণির নারী ভরণপোষণের অধিকারী নয়। তারা হলো:
১. এমন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে, যে সহবাস সহ্য করতে পারে না।
২. অবাধ্য স্ত্রী, যদি স্বামীর কাছে তার কোনো মোহরানা পাওনা না থাকে।
৩. যে নারীকে কোনো অত্যাচারী ব্যক্তি জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে গেছে।
৪. ঋণের কারণে বন্দি নারী।
৫. যে নারী স্বামীকে সঙ্গে না নিয়ে হজযাত্রায় গেছে।
৬. যে দাসীকে তার মালিক স্বামীর সঙ্গে বসবাসের জন্য ছেড়ে দেয়নি।
৭. অবৈধ বিবাহচুক্তির মাধ্যমে বিবাহিত নারী।
৮. ইসলাম ত্যাগকারী নারী।
৯. যে নারীর স্বামী মারা গেছে।
১০. যে নারী কামনাপূর্ণভাবে নিজের স্বামীর পুত্র অথবা পিতাকে চুম্বন করেছে।
এরপর যে আপত্তি ও জবাব এসেছে, তা এই হিসাবের ভেতরটা খুলে দেয়। অসুস্থতা, বার্ধক্য বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে সহবাস অসম্ভব হওয়া স্ত্রীও ভরণপোষণ পান; অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী কেন পাবেন না? উত্তরে সহবাসের বাইরের যৌন সুবিধা দিয়ে পার্থক্যটি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অর্থাৎ অন্য স্ত্রীর ক্ষেত্রে প্রবেশবিহীন যৌন উপভোগের সুযোগ আছে, আর খুব ছোট মেয়েকে সেই ধরনের উপভোগের আকর্ষণীয় ক্ষেত্র ধরা হচ্ছে না। সেই যুক্তি থেকেই আয-যাখিরা-র সূত্রে এসেছে, অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীকে প্রবেশবিহীন যৌন আচরণের জন্য কাম্য ও উপযোগী ধরা গেলে ভরণপোষণ দিতে হবে। একই আলোচনায় দুগ্ধপোষ্য শিশুর সঙ্গে এমন আচরণকে বিবেকবান মানুষের কাছে নিন্দনীয়ও বলা হয়েছে; কিন্তু নিষিদ্ধ বা হারাম বলা হয়নি। তার পরে বিতর্ক এগিয়েছে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের প্রতি আকর্ষণ ও সহবাসের সামর্থ্যের সম্পর্ক নিয়ে। [9]
هذا وقد نقض بالرتقاء والقرناء والتي أصابها مرض يمنع الجماع والكبيرة التي لا يمكن وطؤها لكبرها فإن لهن النفقة ولا احتباس للوطء .
وأجيب بأن المعتبر في إيجاب النفقة احتباس ينتفع به الزوج انتفاعا مقصودا بالنكاح وهو الجماع أو الدواعي والانتفاع من حيث الدواعي موجود في هؤلاء بأن يجامع فيما دون الفرج ، بخلاف الصغيرة التي لا يجامع مثلها فإنها لا تكون مشتهاة أصلا فلا تجامع فيما دون الفرج حتى إن كل عاقل يستنكر جماع الرضيعة فيما دون الفرج ، ولا يستنكر ذلك في العجوز والمريضة .
قالوا : فعلى هذا التعليل إذا كانت صغيرة مشتهاة يمكن جماعها فيما دون الفرج تجب النفقة ، كذا في الذخيرة ، وهذا على من قيد الصغيرة بكونها لا تشتهى للجماع فرض محال ، لأنها إذا لم تكن بحيث تشتهى للجماع لا تكون مشتهاة للجماع فيما دون الفرج . نعم هنا شيء وهو أن قولنا الصغيرة التي لا يوطأ مثلها هل معناه لا تشتهى للوطء أو لا تطيق الوطء ، فإن كان الأول فالملازمة حقه ، وإن كان الثاني فإن ثبت التلازم بين عدم الإطاقة وعدم الاشتهاء فكذلك وإلا فهو فرض صحيح .
বাংলা অনুবাদ: এই যুক্তির বিরুদ্ধে এমন নারীদের দৃষ্টান্ত দেওয়া হয়েছে, যাঁদের যৌনপথ বন্ধ বা বাধাযুক্ত, যাঁদের সহবাসে বাধা সৃষ্টি করে এমন রোগ হয়েছে এবং যাঁদের বার্ধক্যের কারণে সহবাস সম্ভব নয়। তাঁদের ভরণপোষণ প্রাপ্য, যদিও সহবাসের জন্য আবদ্ধ থাকা এখানে নেই।
জবাব দেওয়া হয়েছে, ভরণপোষণ আবশ্যক হওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচ্য হলো এমনভাবে আবদ্ধ থাকা, যার মাধ্যমে স্বামী বিবাহের উদ্দেশ্য হিসেবে গণ্য সুবিধা পায়—সহবাস অথবা তার আনুষঙ্গিক যৌন আচরণ। এসব নারীর ক্ষেত্রে যোনিপথে প্রবেশ ছাড়া যৌনক্রিয়ার মাধ্যমে আনুষঙ্গিক সুবিধা পাওয়া যায়। যে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের মতো মেয়েদের সঙ্গে সহবাস করা হয় না, তার অবস্থা ভিন্ন: তাকে আদৌ কাম্য ধরা হয় না, তাই তার সঙ্গে প্রবেশবিহীন যৌনক্রিয়াও করা হয় না। এমনকি প্রত্যেক বিবেকবান মানুষ দুগ্ধপোষ্য শিশুর সঙ্গে প্রবেশবিহীন যৌনক্রিয়াকে নিন্দনীয় মনে করে, অথচ বৃদ্ধা ও অসুস্থ স্ত্রীর ক্ষেত্রে তা মনে করে না।
তাঁরা বলেছেন, এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েটি কাম্য হলে এবং তার সঙ্গে যোনিপথে প্রবেশ ছাড়া যৌনক্রিয়া সম্ভব হলে ভরণপোষণ আবশ্যক হবে; আয-যাখিরা-য় এমনই রয়েছে। যিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক বলতে সহবাসের জন্য কাম্য নয় এমন মেয়েকে নির্দিষ্ট করেছেন, তাঁর হিসাবে এই অনুমান অসম্ভব; কারণ সহবাসের জন্য কাম্য না হলে প্রবেশবিহীন যৌনক্রিয়ার জন্যও কাম্য হবে না। এখানে একটি প্রশ্ন রয়েছে: “যে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের মতো মেয়েদের সঙ্গে সহবাস করা হয় না” বলতে কি বোঝানো হচ্ছে, সে সহবাসের জন্য কাম্য নয়, নাকি সহবাস সহ্য করতে পারে না? প্রথম অর্থ হলে ওই দুই অবস্থার সম্পর্কটি ঠিক। দ্বিতীয় অর্থ হলে, সহ্য করতে না পারা ও কাম্য না হওয়ার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হলে একই সিদ্ধান্ত হবে; তা না হলে এটি সম্ভব একটি অনুমান।
এই আলোচনা শুধু নিষেধের বয়স নির্ধারণ করছে না; একটি শিশুকে পুরুষের কামনার বিচারে শ্রেণিবদ্ধ করছে। “কাম্য” হওয়ার সম্ভাবনা তার ভরণপোষণের আলোচনায় আইনি গুরুত্ব পেয়ে গেছে। ইবনুল হুমামের পরবর্তী সিদ্ধান্তে প্রবেশবিহীন যৌনক্রিয়ার জন্য কাম্য হওয়াকে সাধারণভাবে সহবাসের সামর্থ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, বিশেষ কোনো স্বামীর ক্ষেত্রে সক্ষমতা না থাকলেও। ফলে শর্তের ভাষা যত বদলাক, অর্থনৈতিক হিসাবের ভিত্তি একই: স্বামীর জন্য প্রত্যাশিত যৌন সুবিধা। শিশুটির ক্ষুধা, পোশাক ও বাসস্থানের প্রয়োজন এই আলোচনায় তার যৌন ব্যবহারযোগ্যতার সঙ্গে বাঁধা পড়ে। একটি মানুষের মৌলিক যত্নকে এভাবে অন্যের কামনার প্রতিদানের মধ্যে ফেলে দেওয়া নির্মম। [9]
والظاهر أن من كانت بحيث تشتهى للجماع فيما دون الفرج فهي مطيقة للجماع في الجملة ، وإن لم تطقه من خصوص زوج مثلا فتجب لها النفقة ، ومن لا فلا تجب لها نفقة .
বাংলা অনুবাদ: প্রকাশ্যত, যে মেয়েকে যোনিপথে প্রবেশবিহীন যৌনক্রিয়ার জন্য কাম্য ধরা হয়, সে সাধারণভাবে সহবাস সহ্য করার সামর্থ্য রাখে—যদিও বিশেষ কোনো স্বামীর ক্ষেত্রে তা সহ্য করতে না পারে। সুতরাং তার ভরণপোষণ আবশ্যক হবে। যে এমন নয়, তার ভরণপোষণ আবশ্যক হবে না।
ইবনে নুজাইমের আল-বাহরুর রায়িক-এ এই যুক্তিই আয-যাখিরা ও ফাতহুল কাদীর-এর সূত্রে গৃহীত হয়েছে। সহবাসের সামর্থ্য বিচার করতে নির্দিষ্ট বয়সের বদলে দৈহিক সহ্যক্ষমতাকে প্রাধান্য দেওয়ার বক্তব্যও একই আলোচনায় আছে। ভরণপোষণ কেন সহবাসে অক্ষম কোনো প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী পাবেন, অথচ অল্প বয়সী স্ত্রী পাবেন না—তার ব্যাখ্যায় আবারও প্রবেশবিহীন যৌন উপভোগ এসেছে। একটি আইনি যুক্তি এভাবেই পরের গ্রন্থে সঞ্চারিত হচ্ছে: স্ত্রীকে স্বামীর জন্য আবদ্ধ রাখার মূল্য নির্ধারিত হচ্ছে তার থেকে কী ধরনের যৌন সুবিধা পাওয়া যাবে, তা দিয়ে। শিশুটিও সেই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত। [10]
وقيد بالصغيرة ; لأن النفقة واجبة للقرناء والرتقاء والتي أصابها مرض يمنع الجماع والكبيرة التي لا يمكن وطؤها لكبرها سواء أصابتها هذه العوارض بعدما انتقلت إلى بيت الزوج أو قبل ذلك مع أنه لا احتباس للوطء فيهن كالصغيرة التي لا توطأ فأجبت بأن المعتبر في إيجاب النفقة احتباس ينتفع به الزوج انتفاعا مقصودا بالنكاح وهو الجماع أو الدواعي والانتفاع من حيث الدواعي موجود في هؤلاء بأن يجامع فيما دون الفرج بخلاف الصغيرة فإنها لا تكون مشتهاة أصلا قالوا فعلى هذا التعليل إذا كانت الصغيرة مشتهاة يمكن جماعها فيما دون الفرج تجب النفقة كذا في الذخيرة والظاهر أن من كانت بحيث تشتهى للجماع فيما دون الفرج فهي مطيقة للجماع في الجملة إلى آخر ما في فتح القدير
বাংলা অনুবাদ: এখানে অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে; কারণ যৌনপথে বাধা থাকা, সহবাসে বাধা সৃষ্টি করে এমন অসুস্থতা থাকা অথবা বার্ধক্যের কারণে সহবাস অসম্ভব হওয়া স্ত্রীর ভরণপোষণ আবশ্যক। এসব অবস্থা স্বামীর ঘরে যাওয়ার আগে বা পরে ঘটুক, বিধান একই। তাঁদের ক্ষেত্রেও সহবাসের জন্য আবদ্ধ থাকা নেই, যেমন সহবাসে অক্ষম অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর ক্ষেত্রে নেই। এর জবাবে বলা হয়েছে, ভরণপোষণ আবশ্যক হওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচ্য হলো এমন আবদ্ধ থাকা, যার মাধ্যমে স্বামী বিবাহের উদ্দেশ্য হিসেবে গণ্য সুবিধা পায়—সহবাস অথবা আনুষঙ্গিক যৌন আচরণ। এসব নারীর ক্ষেত্রে যোনিপথে প্রবেশ ছাড়া যৌনক্রিয়ার মাধ্যমে আনুষঙ্গিক সুবিধা পাওয়া যায়। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েটির অবস্থা ভিন্ন, কারণ তাকে আদৌ কাম্য ধরা হয় না। তাঁরা বলেছেন, এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েটি কাম্য হলে এবং তার সঙ্গে প্রবেশবিহীন যৌনক্রিয়া সম্ভব হলে তার ভরণপোষণ আবশ্যক হবে; আয-যাখিরা-য় এমনই রয়েছে। প্রকাশ্যত, যে মেয়েকে প্রবেশবিহীন যৌনক্রিয়ার জন্য কাম্য ধরা হয়, সে সাধারণভাবে সহবাসের সামর্থ্য রাখে—ফাতহুল কাদীর-এর অবশিষ্ট আলোচনা পর্যন্ত।
এখানে শিশুর অসহায়ত্ব দ্বিগুণ হয়েছে। বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রাপ্তবয়স্কদের হাতে; সেই বিয়ের অধীনে তার জন্য অর্থ ব্যয়ের দায়িত্বও বিচার করা হচ্ছে যৌন সুবিধার বিনিময়ের যুক্তিতে। শিশুকে রক্ষা করার দায়িত্ব যার ওপর, সেই স্বামীর সুবিধাই ব্যয়ের ব্যাখ্যা নির্ধারণ করছে। “উপভোগ”, “আবদ্ধ থাকা”, “বিবাহের উদ্দেশ্য”—এই পরিভাষার ভিতরে শিশুর একটি সাধারণ সত্য চাপা পড়ে যায়: তাকে বাঁচতে হয়, বেড়ে উঠতে হয়, তার প্রয়োজন আছে। নিজের দেহকে কারও কামনার উপযোগী প্রমাণ করা তার খাদ্য ও আশ্রয়ের শর্ত হতে পারে না। ওই শর্ত তৈরি করা শিশুর অধিকারকে প্রাপ্তবয়স্কের যৌন সুবিধার অধীন করা।
হাম্বলি গ্রন্থে শিশুদাসী: মালিকের যৌন সমস্যার সমাধানে একটি শিশু
ইবনুল কাইয়্যিমের বাদায়িউল ফাওয়ায়িদ-এ হাম্বলি ফকিহ ইবনে আকিলের আল-ফুসূল থেকে উদ্ধৃত আলোচনার প্রসঙ্গ রমজানের রোজা। যৌন উত্তেজনা ও বীর্য ধরে রাখার কারণে কোনো পুরুষের শারীরিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকলে কী করা যাবে, তা নিয়ে বিধান দেওয়া হচ্ছে। সেই জরুরি অবস্থার সমাধান হিসেবে অন্যের রোজা নষ্ট না করে যৌন উত্তেজনা প্রশমনের উপায় আলোচিত হয়েছে; অনুমোদিত উপায়ের মধ্যে ঢুকে গেছে শিশুদাসীর হাত ব্যবহার। পুরুষের শারীরিক আশঙ্কা এখানে যুক্তির শুরু, তার তৃপ্তি যুক্তির লক্ষ্য, আর একটি শিশু সেই লক্ষ্য পূরণের উপায়। উদ্ধৃতির পরে ইবনুল কাইয়্যিমের মন্তব্যে আহমদের বক্তব্যের অর্থ ও সহবাসের অনুমতির সীমা নিয়ে আলোচনা এগিয়েছে। [11]
وفي «الفصول»: روي عن أحمد في رجل خاف أن تنشق مثانته من الشبق، أو تنشق أنثياه لحبس الماء في زمن رمضان: يستخرج الماء. ولم يذكر بأي شيء يستخرجه، قال: وعندي أنه يستخرجه بما لا يفسد صوم غيره؛ كاستمنائه بيده أو ببدن زوجته أو أمته غير الصائمة، فإن كان له أمة طفلة أو صغيرة استمنى بيدها، وكذلك الكافرة، ويجوز وطؤها فيما دون الفرج، فإن أراد الوطء في الفرج مع إمكان إخراج الماء بغيره، فعندي أنه لا يجوز؛ لأن الضرورة إذا رفعت حرم ما وراءها، كالشبع من الميتة، بل ههنا آكد، لأن باب الفروج آكد في الحظر من الأكل.
قلت: وظاهر كلام أحمد جواز الوطء؛ لأنه أباح له الفطر والإطعام، فلو اتفق مثل هذا في حال الحيض لم يجز له الوطء قولاً واحداً، فلو اتفق ذلك لمحرم أخرج ماءه ولم يجز له الوطء.
বাংলা অনুবাদ: আল-ফুসূল-এ রয়েছে: আহমদ থেকে এমন এক পুরুষ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, যে রমজানে যৌন উত্তেজনায় মূত্রথলি ফেটে যাওয়ার অথবা বীর্য ধরে রাখায় অণ্ডকোষ ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা করে: সে বীর্য বের করবে। কী দিয়ে তা বের করবে, তা তিনি উল্লেখ করেননি। তিনি বলেছেন: আমার মতে, এমন উপায়ে তা করবে যাতে অন্য কারও রোজা নষ্ট না হয়; যেমন নিজের হাত দিয়ে, অথবা রোজা রাখেনি এমন স্ত্রী বা দাসীর শরীর দিয়ে হস্তমৈথুন। তার কোনো শিশু বা অপ্রাপ্তবয়স্ক দাসী থাকলে সে তার হাত ব্যবহার করবে; একইভাবে অমুসলিম দাসীর ক্ষেত্রেও। যোনিপথে প্রবেশ ছাড়া তার সঙ্গে যৌনক্রিয়া বৈধ। অন্য উপায়ে বীর্য বের করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সে যোনিপথে সহবাস করতে চাইলে আমার মতে তা বৈধ নয়; কারণ প্রয়োজন মিটে গেলে তার অতিরিক্ত নিষিদ্ধ হয়—মৃত প্রাণীর মাংস খেয়ে পেট ভরার মতো। এখানে তা আরও কঠোর; কারণ খাদ্যের তুলনায় যৌনসম্পর্কের ক্ষেত্রে নিষেধ আরও কঠোর।
আমি বলি: আহমদের বক্তব্যের প্রকাশ্য অর্থ সহবাসের অনুমতি; কারণ তিনি রোজা ভাঙা ও খাদ্য দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। এমন অবস্থা ঋতুস্রাবের সময়ে ঘটলে সহবাস বৈধ হবে না—এ বিষয়ে একটিই মত। ইহরামরত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এমন হলে সে বীর্য বের করবে, কিন্তু তার জন্য সহবাস বৈধ হবে না।
শিশুদাসীর ক্ষেত্রে ক্ষমতার ব্যবধান আরও সম্পূর্ণ। একটি শিশুর অল্প বয়সের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দাসত্ব—অন্য মানুষের মালিকানার অধীন থাকা। যে পুরুষের হাত থেকে সুরক্ষা প্রয়োজন, ফিকহের এই ব্যবস্থায় সেই পুরুষই তার মালিক এবং যৌন সুবিধার অধিকারী। উদ্ধৃত বিধানে শিশুদাসীর অবস্থাকে এই ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণ হিসেবে বিচার করা হয়নি; বরং মালিকের জন্য তাকে ব্যবহার করা সম্ভব বলেই বিকল্প উপায়ের মধ্যে রাখা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কের একটি শারীরিক সমস্যার আলোচনা করতে গিয়ে শিশুর শরীরকে সমাধানের উপকরণ বানানো হয়েছে। একটি মানুষকে এভাবে অন্যের সমস্যার যন্ত্রে নামিয়ে আনার মধ্যে দাসত্ব ও যৌন শোষণের সম্পর্ক স্পষ্ট।
রমজানের প্রসঙ্গটি এই বক্তব্যের নৈতিক অসামঞ্জস্যকে আরও তীব্র করে। অন্যের রোজা ভাঙবে কি না, কোন উপায় প্রয়োজনের সীমা ছাড়াবে, সহবাসের ওপর কোন নিষেধ কার্যকর থাকবে—এসব নিয়ে সূক্ষ্ম হিসাব আছে। সেই হিসাবের মধ্যে একটি শিশুকে যৌন কাজে যুক্ত করার অনুমতিও জায়গা পেয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কের ধর্মীয় অনুশাসন ও শারীরিক সুবিধা রক্ষার যত্নের পাশে শিশুর স্বতন্ত্র যৌন নিরাপত্তা ভিত্তিমূলক শর্ত হিসেবে দাঁড়ায়নি। শিশুদাসীর ওপর প্রাপ্তবয়স্কের কর্তৃত্বকে ধরে নিয়েই বিধানের সমাধান তৈরি হয়েছে। ধর্মীয় বিধান মেনে চলার একটি পথ হিসেবে শিশুর যৌন ব্যবহারকে গ্রহণ করা এই আইনি চিন্তার ভয়াবহ ব্যর্থতা।
২০১৫ সালের ফতোয়া: শিশুর যৌন ব্যবহারে “কোনো সমস্যাই নেই”
পুরোনো গ্রন্থের এই বক্তব্যকে আধুনিক ফতোয়ায় কীভাবে গ্রহণ করা হয়েছে, তার সরাসরি উদাহরণ ইসলামওয়েবের ২৯৬০৪৪ নম্বর উত্তর। ২০১৫ সালের ১২ মে প্রকাশিত পাতায় প্রশ্নকারী বাদায়িউল ফাওয়ায়িদ-এর শিশুদাসী-সংক্রান্ত অংশ তুলে জানতে চান, একটি শিশুর সঙ্গে এমন আচরণ বৈধ বলা হয় কীভাবে। উত্তরে বলা হয়, ইবনুল কাইয়্যিমের উল্লেখ করা কথায় আদৌ কোনো সমস্যা নেই; দাসী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর সঙ্গে ক্ষতি না করে যৌন উপভোগ বৈধ। প্রশ্নকারীর অস্বস্তির কেন্দ্র ছিল শিশুকে যৌন কাজে ব্যবহার করার অনুমতি, আর প্রতিষ্ঠানটি সেই অনুমতির পক্ষে দাঁড়িয়ে ক্ষতি-সংক্রান্ত শর্ত পুনরাবৃত্তি করেছে। [12]

ضوابط الاستمتاع بالصغيرة
12-5-2015 | إسلام ويب
السؤال:
في كتاب بدائع الفوائد لابن القيم: (وفي الفصول روي عن أحمد في رجل خاف أن تنشق مثانته من الشبق، أو تنشق أنثياه لحبس الماء في زمن رمضان، يستخرج الماء، ولم يذكر بأي شيء يستخرجه. قال: وعندي أنه يستخرجه بما لا يفسد صوم غيره كاستمنائه بيده، أو ببدن زوجته، أو أمته غير الصائمة، فإن كان له أمة طفلة، أو صغيرة، استمنى بيدها، وكذلك الكافرة، ويجوز وطؤها فيما دون الفرج) كيف يقول ابن قيم الجوزية بجواز فعل ذلك بطفلة صغيرة؟
الإجابــة:
الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه، أما بعد:
فمسألة الاستمتاع بالصغيرة لها ضوابط وتفصيلات أشبعناها في الفتوى رقم: 195133، وبمراجعتها يندفع عنك الإشكال إن شاء الله، ويتبين لك أن ما ذكره ابن القيم لا إشكال فيه أصلا، فإن الاستمتاع بالأمة أو الزوجة الصغيرة جائز بما لا يضر بها، فإن كان الوطء أو الاستمتاع يضر بها لم يجز.
والله أعلم.
বাংলা অনুবাদ:
অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সঙ্গে যৌন উপভোগের বিধান ও শর্তসমূহ
১২ মে ২০১৫ | ইসলামওয়েব
প্রশ্ন:
ইবনুল কাইয়্যিমের বাদায়িউল ফাওয়ায়িদ গ্রন্থে বলা হয়েছে:
“আল-ফুসূল গ্রন্থে আহমদ থেকে বর্ণিত হয়েছে, রমজান মাসে কোনো ব্যক্তি যদি প্রচণ্ড যৌন উত্তেজনার কারণে তার মূত্রথলি ফেটে যাওয়ার অথবা বীর্য আটকে রাখার কারণে তার অণ্ডকোষ ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা করে, তাহলে সে বীর্য নির্গত করতে পারবে। তবে কীভাবে সে বীর্য নির্গত করবে, তা উল্লেখ করা হয়নি।
তিনি বলেছেন: আমার মতে, এমন পদ্ধতিতে বীর্য নির্গত করবে, যাতে অন্য কারও রোজা নষ্ট না হয়। যেমন নিজের হাতের সাহায্যে, অথবা রোজা পালন করছে না এমন স্ত্রী কিংবা দাসীর শরীর ব্যবহার করে যৌন তৃপ্তি লাভ করা।
যদি তার কোনো শিশুকন্যা বা অপ্রাপ্তবয়স্ক দাসী থাকে, তাহলে সে তার হাত ব্যবহার করে নিজের যৌন তৃপ্তি লাভ করতে পারবে। একইভাবে অমুসলিম দাসীর ক্ষেত্রেও তা করতে পারবে। আর যোনিপথে প্রবেশ না করে তার সঙ্গে যৌনক্রিয়া করাও বৈধ।”
ইবনুল কাইয়্যিম কীভাবে একটি ছোট শিশুকন্যার সঙ্গে এ ধরনের কাজ করা বৈধ বলে উল্লেখ করতে পারেন?
উত্তর:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহর রাসুল, তার পরিবার ও সাহাবিদের ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক। অতঃপর:
অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সঙ্গে যৌন উপভোগের বিষয়ে কিছু শর্ত ও বিস্তারিত বিধান রয়েছে। আমরা ১৯৫১৩৩ নম্বর ফতোয়ায় সেগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি। সেটি পড়লে, ইনশাআল্লাহ, আপনার সংশয় দূর হবে।
তখন আপনার কাছে স্পষ্ট হবে যে, ইবনুল কাইয়্যিম যা উল্লেখ করেছেন, তাতে আদৌ কোনো সমস্যা নেই। কারণ, অপ্রাপ্তবয়স্ক দাসী অথবা অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর সঙ্গে এমনভাবে যৌন উপভোগ করা বৈধ, যাতে তার কোনো ক্ষতি না হয়। তবে সহবাস কিংবা অন্যান্য যৌন উপভোগের কারণে তার ক্ষতি হলে তা বৈধ নয়।
আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
“আদৌ কোনো সমস্যা নেই”—এই নিশ্চিন্ত ঘোষণা এসেছে একটি শিশুকে নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে। ফতোয়ার যুক্তি যৌন উপভোগের অধিকার আগে গ্রহণ করছে, তারপর তার প্রয়োগের সীমা নির্ধারণ করছে। একটি শিশু কেন প্রাপ্তবয়স্কের যৌন ব্যবহারের ক্ষেত্র হবে, সেই ভিত্তিগত আপত্তির উত্তর হিসেবে দেওয়া হচ্ছে ক্ষতি না হওয়ার শর্ত। এখানে শিশুর যৌন নিরাপত্তা অন্যের ব্যবহারের অনুমতির অধীন হয়ে গেছে। যে মানুষ শিশুকে ব্যবহার করতে চায়, তার দাবিকে বৈধ ধরে নিয়ে ব্যবহার কতটা চলবে তা মাপা হচ্ছে। শিশুর দেহ, তার বেড়ে ওঠা এবং যৌন আচরণ বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অক্ষমতার জায়গায় প্রাপ্তবয়স্কের অধিকারকে এই অগ্রাধিকার দেওয়া যৌন শোষণের আইনি কাঠামো।
এই উত্তর ধর্মীয় কর্তৃত্বের ধারাবাহিক গ্রহণেরও দলিল। একটি ধ্রুপদী গ্রন্থে উদ্ধৃত বিধান নিয়ে আধুনিক প্রশ্নকারী উদ্বিগ্ন হয়েছেন; আধুনিক ফতোয়া সেই বিধানের গ্রহণযোগ্যতা ঘোষণা করেছে। ফলে সমস্যাটি কেবল পুরোনো বইয়ের ভাষায় আবদ্ধ থাকে না। ধর্মীয় পরামর্শ নিতে আসা মানুষকে জানানো হচ্ছে, শিশুর সঙ্গে যৌন উপভোগ শর্তসাপেক্ষে বৈধ। সেই শিক্ষার সামাজিক বিপদ স্পষ্ট: শিশুকে সুরক্ষা দেওয়ার বদলে তার ওপর যৌন দাবি তোলার জন্য ধর্মীয় অনুমতি পাওয়া যায়। নৈতিক আপত্তি জানানো ব্যক্তির সামনে কর্তৃত্বপূর্ণ জবাব হিসেবে দাঁড়ায় সেই অনুমোদনই।
২০১৩ সালের বিস্তারিত ফতোয়া: অনুমতির মাপকাঠি সহ্যক্ষমতা
৭৮৫২৯ ও ২৯৬০৪৪ নম্বর ফতোয়া যে ১৯৫১৩৩ নম্বর উত্তরে পাঠিয়েছে, সেখানে অপ্রাপ্তবয়স্কের বিবাহ, স্বামীর কাছে হস্তান্তর, সহবাস ও অন্যান্য যৌন উপভোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা আছে। এই ফতোয়ায় অত্যন্ত অল্প বয়সী, অবোধ শিশুর ক্ষেত্রে যৌন উপভোগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। অনুমতির জন্য প্রতিষ্ঠানটির পছন্দের মানদণ্ড হলো সাধারণভাবে সহবাসের সামর্থ্য অথবা সেই সীমার কাছাকাছি পৌঁছানো। অর্থাৎ বয়স ও বিকাশের বিচার এখানে একটি নির্দিষ্ট দিকে যাচ্ছে: মেয়েটি যৌন ব্যবহার সহ্য করার পর্যায়ে এসেছে কি না। শিশুর নিজের যৌন সিদ্ধান্তের কর্তৃত্বের জায়গায় তার ওপর যৌন আচরণ প্রয়োগের উপযোগিতা বসেছে। [13]
والذي نميل إليه أن تجعل إطاقة الوطء في الجملة أو مراهقة هذا الحد هو الوصف المبيح لسائر أنواع الاستمتاع، درء للضرر المحتمل على الطفلة الصغيرة التي لا تدرك مثل هذه الأمور.
বাংলা অনুবাদ: আমরা যে অবস্থানের দিকে ঝুঁকেছি তা হলো, সাধারণভাবে সহবাস সহ্য করার সামর্থ্য অথবা সেই সীমার কাছাকাছি পৌঁছানোকে অন্যান্য সব ধরনের যৌন উপভোগের অনুমোদনকারী বৈশিষ্ট্য করা—এ ধরনের বিষয় বোঝে না এমন অল্প বয়সী শিশুর সম্ভাব্য ক্ষতি ঠেকানোর জন্য।
একই বাক্যের মধ্যে সমস্যাটির নির্মমতা ধরা পড়ে। শিশুটি “এ ধরনের বিষয় বোঝে না”—এ কথা স্বীকার করা হচ্ছে, আর অনুমতির মানদণ্ড হিসেবে আনা হচ্ছে সহবাসের সামর্থ্য বা তার কাছাকাছি পৌঁছানো। বোঝার অক্ষমতার উত্তর হচ্ছে শরীরের সহ্যক্ষমতা। একটি মেয়ের দেহের বৃদ্ধি এবং যৌন আচরণের অর্থ বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিণতি আলাদা বিষয়; অথচ এখানে প্রথমটিকে অন্য যৌন আচরণের অনুমতির ভিত্তি করা হয়েছে। যে শিশুর উপলব্ধির ঘাটতি স্বীকার করা হচ্ছে, তার শরীর যথেষ্ট উপযুক্ত ধরা পড়লেই পুরুষের যৌন অধিকার কার্যকর হওয়ার পথ খুলছে। শিশুটির অজ্ঞতা ও নির্ভরশীলতার মধ্যে যৌন অনুমতি খোঁজা তার নিরাপত্তাকে বিপন্ন করার বিধান।
এই ফতোয়ায় ইমাম নববির একটি বক্তব্যও উদ্ধৃত আছে। বিষয় অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীকে স্বামীর ঘরে পাঠানো ও সহবাস শুরু করা। সেখানে স্বামী ও অভিভাবকের সমঝোতা, তাঁদের মতবিরোধ হলে নয় বছরের সীমা-সংক্রান্ত মত এবং কয়েকজন ইমামের হিসাবে সহবাসের সামর্থ্যকে সীমা করার কথা এসেছে। মেয়েটির জীবনের সবচেয়ে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনায় কার্যকর পক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্বামী ও অভিভাবক। মেয়েটি যে নিজের জীবনের অধিকারী, সেই অবস্থানের বদলে তাকে কখন হস্তান্তর করা যাবে, তা নিয়ে তাঁদের সিদ্ধান্তের বিধান তৈরি হয়েছে। [13]
قال النووي: أما وقت زفاف الصغيرة المزوجة والدخول بها، فإن اتفق الزوج والولي على شيء لا ضرر فيه على الصغيرة عمل به. وإن اختلفا فقال أحمد وأبو عبيد: تجبر على ذلك بنت تسع سنين دون غيرها. وقال مالك والشافعي وأبو حنيفة: حد ذلك أن تطيق الجماع. ويختلف ذلك باختلافهن ولا يضبط بسن. وهذا هو الصحيح.
বাংলা অনুবাদ: নববি বলেছেন: বিবাহিত অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে স্বামীর ঘরে পাঠানো ও তার সঙ্গে সহবাস শুরু করার সময় সম্পর্কে, স্বামী ও অভিভাবক যদি এমন কোনো বিষয়ে একমত হন যাতে মেয়েটির ক্ষতি নেই, তাহলে সেই অনুযায়ী কাজ হবে। তাঁরা ভিন্নমত হলে আহমদ ও আবু উবাইদ বলেছেন: নয় বছরের মেয়েকে এ বিষয়ে বাধ্য করা যাবে, অন্য বয়সের মেয়েকে নয়। মালিক, শাফিঈ ও আবু হানিফা বলেছেন: এর সীমা হলো সহবাস সহ্য করার সামর্থ্য। মেয়েভেদে তা বদলায় এবং নির্দিষ্ট বয়সে বাঁধা যায় না। এটাই সঠিক মত।
স্বামী ও অভিভাবক রাজি হলেই শিশুর সম্মতি তৈরি হয়—এমন কোনো বাস্তব সম্পর্ক নেই। অথচ সিদ্ধান্ত গ্রহণের এই বিন্যাসে শিশুটিকে নিয়ে অন্যরা চুক্তি করেন, তার শরীরের সক্ষমতা বিচার করেন এবং কখন তাকে স্বামীর কাছে দেওয়া যাবে তা স্থির করেন। “ক্ষতি নেই” বলে তাঁরা যে সিদ্ধান্ত নেন, তা শিশুর নিজের অনুমতির স্থলাভিষিক্ত হয়ে যায়। তার আপত্তির বাস্তব ক্ষমতা, সম্পর্ক ছেড়ে বেরোনোর সামর্থ্য, যৌন আচরণের অর্থ বোঝা—এসব স্বাধীন সম্মতির উপাদানকে পাশ কাটিয়ে দেহের সক্ষমতা ও অভিভাবকের সিদ্ধান্তের ওপর সম্পর্ক চাপিয়ে দেওয়া হয়। এই ব্যবস্থায় শিশুর ওপর কর্তৃত্বকে অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
পাঁচ বছরের মেয়ের হেফাজত: স্নেহের সম্পর্কের মাঝখানে যৌন দাবির হিসাব
শিশুবিবাহের সঙ্গে যৌন অধিকারের সম্পর্ক হেফাজতের আলোচনাতেও পৌঁছেছে। ১৯৫১৩৩ নম্বর ফতোয়ায় ইবনে হাজর হায়তামির কাছে উত্থাপিত একটি প্রশ্ন উদ্ধৃত আছে: এক ব্যক্তি স্ত্রীকে চূড়ান্ত তালাক দেওয়ার পর তাঁদের পাঁচ বছরের মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন; নতুন স্বামী মেয়েটিকে মায়ের কাছ থেকে নিয়ে নিজের বাড়িতে বা নিজের পছন্দের কারও কাছে রাখতে চান। উত্তরে মায়ের হেফাজত শেষ না হওয়ার যে কারণ দেওয়া হয়েছে, তা হলো মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর যৌন উপভোগের অধিকার কখন কার্যকর হয়—সহবাসের সামর্থ্য থাকলে। পাঁচ বছরের শিশুর মায়ের সঙ্গে থাকার প্রশ্ন পর্যন্ত এভাবে বৈবাহিক যৌন অধিকারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। [13]
وقد سئل ابن حجر الهيتمي عن رجل طلق زوجته طلاقا بائنا، وله منها بنت سنها خمس سنين، وزوجها والدها بشخص، وأراد ذلك الشخص أن ينزعها من والدتها وينفق عليها ويربيها عنده في بيته مثلا أو عند من يختار، فهل له ذلك وتسقط حضانة الأم بذلك أم لا ؟ فأجاب: لا تسقط حضانة الأم بذلك؛ لأن الزوج إنما يكون أولى بالحضانة من جميع الأقارب حيث كان له بالزوجة استمتاع بأن تطيق الوطء، وإلا لم تسلم له.
বাংলা অনুবাদ: ইবনে হাজর হায়তামিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: এক ব্যক্তি স্ত্রীকে চূড়ান্ত তালাক দিয়েছেন। সেই স্ত্রীর গর্ভে তাঁর পাঁচ বছরের একটি মেয়ে আছে। বাবা মেয়েটিকে একজনের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন। ওই ব্যক্তি মেয়েটিকে মায়ের কাছ থেকে নিয়ে যেতে চান, তার ভরণপোষণ দিতে এবং নিজের বাড়িতে অথবা নিজের পছন্দের কারও কাছে তাকে লালনপালন করতে চান। তাঁর কি এই অধিকার আছে এবং এর ফলে মায়ের হেফাজতের অধিকার শেষ হবে?
তিনি উত্তর দিয়েছেন: এতে মায়ের হেফাজত শেষ হবে না। কারণ স্বামী তখনই সব আত্মীয়ের চেয়ে হেফাজতের অধিক হকদার হন, যখন স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর যৌন উপভোগের অধিকার থাকে—অর্থাৎ মেয়েটি সহবাস সহ্য করতে পারে। তা না হলে মেয়েটিকে তাঁর কাছে হস্তান্তর করা হবে না।
একটি পাঁচ বছরের মেয়েকে ঘিরে এই প্রশ্নে বাবা বিয়ে দিয়েছেন, স্বামী তাকে নিয়ে যেতে চাইছেন, আর মায়ের কাছে থাকা নিয়ে ফকিহ সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন। শিশুটির ওপর এতগুলো প্রাপ্তবয়স্ক কর্তৃত্ব একসঙ্গে নেমে আসে। উত্তরে মায়ের কাছে থাকার অধিকার যে শর্তে রাখা হয়েছে, সেটিও ভয়াবহ: মেয়েটির শরীর সহবাসের উপযোগী হয়ে উঠলে স্বামীর দাবি হেফাজতের অগ্রাধিকার পায়। ফলে মায়ের কাছে নিরাপদে বেড়ে ওঠার অবকাশও যৌন অধিকারের সম্ভাব্য সময়সীমার অধীনে চলে যায়। শিশুর যত্ন ও স্নেহের সম্পর্কের ওপর এভাবে পুরুষের যৌন দাবিকে বসানো বাল্যবিবাহের ক্ষমতার প্রকৃতি প্রকাশ করে।
এই বিধানের বিপদ একটি শিশুকে শুধু যৌন আচরণে যুক্ত করায় সীমিত থাকে না। বিয়ে তার বসবাস, পরিচর্যা এবং আপনজনের কাছাকাছি থাকার প্রশ্নও বদলে দেয়। যে মানুষ তাকে বিয়ে করেছেন, তিনি দাম্পত্যের দাবিতে তার দৈনন্দিন জীবনের নিয়ন্ত্রণ চাইতে পারেন; যে বাবা বিয়ে দিয়েছেন, তাঁর সিদ্ধান্ত শিশুকে সেই দাবির মুখে এনে দাঁড় করায়। একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের জীবনে বিয়ে তখন সম্পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক এক প্রতিষ্ঠানের বোঝা নামিয়ে আনে। যৌন সম্পর্কের সামর্থ্যকে সেই প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের চাবি বানানো শিশুর পূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠার প্রয়োজনকে পুরুষের সুবিধার অধীন করে।
শিয়া ফকিহ ইয়াজদি: দুগ্ধপোষ্য শিশুর যৌন ব্যবহারের অনুমতি
দ্বাদশী শিয়া ফকিহ মুহাম্মদ কাজিম তাবাতাবায়ি ইয়াজদির আল-উরওয়াতুল উসকা-য় “অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে সহবাস” অধ্যায়ের প্রথম মাসআলাটি আরও সরাসরি। স্ত্রী স্বাধীন হোক বা দাসী, বিয়ে স্থায়ী হোক বা সাময়িক—নয় বছর পূর্ণ হওয়ার আগে প্রবেশমূলক সহবাস নিষিদ্ধ বলা হয়েছে। মালিকানাধীন দাসী এবং যার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এমন দাসীর ক্ষেত্রেও একই নিষেধ। তার পরের অংশে সহবাস ছাড়া অন্য যৌন উপভোগের অনুমতি ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে দেখা, কামনাসহ স্পর্শ, আলিঙ্গন এবং তাফখিয রয়েছে। অনুমতির শেষ সীমা হিসেবে এসেছে «ولو في الرضيعة»—এমনকি দুগ্ধপোষ্য শিশুর ক্ষেত্রেও। নিষেধ ও অনুমতি একই বিধানের দুই অংশ; শিশুর ওপর কোন যৌন আচরণ চলবে, তার রেখা এইভাবেই টানা হয়েছে। [14]
( مسألة 1 ) : لا يجوز وطء الزوجة قبل إكمال تسع سنين ؛ حرّة كانت أو أمة ، دواماً كان النكاح أو متعة ، بل لا يجوز وطء المملوكة والمحلّلة كذلك ، وأمّا الاستمتاع بما عدا الوطء من النظر واللمس بشهوة والضمّ والتفخيذ فجائز في الجميع ولو في الرضيعة .
বাংলা অনুবাদ: মাসআলা ১: নয় বছর পূর্ণ হওয়ার আগে স্ত্রীর সঙ্গে প্রবেশমূলক সহবাস বৈধ নয়—সে স্বাধীন নারী হোক বা দাসী, বিয়ে স্থায়ী হোক বা সাময়িক মুতআ। একইভাবে মালিকানাধীন দাসী এবং যার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এমন দাসীর সঙ্গেও এই বয়সের আগে সহবাস বৈধ নয়। সহবাস ছাড়া অন্য যৌন উপভোগ—যেমন দেখা, কামনাসহ স্পর্শ, আলিঙ্গন এবং তাফখিয—উল্লিখিত সব ক্ষেত্রেই বৈধ, এমনকি দুগ্ধপোষ্য শিশুর ক্ষেত্রেও।
“এমনকি দুগ্ধপোষ্য শিশুর ক্ষেত্রেও”—কথাগুলো পড়ে ঘৃণা জন্মায় সেই নৈতিকতার প্রতি, যা একটি অসহায় শিশুর দেহে প্রাপ্তবয়স্কের কামনার অধিকার বসায়। এমন একটি শিশু নিজের জীবনের প্রায় প্রতিটি প্রয়োজনে বড়দের ওপর নির্ভরশীল। তাকে খাওয়াতে হয়, পরিষ্কার করতে হয়, নিরাপদে রাখতে হয়; তার কষ্ট ও প্রয়োজন বুঝে যত্ন নেওয়া বড়দের দায়িত্ব। সেই শিশুর দিকে যৌন কামনা নিয়ে তাকানো, তাকে যৌনভাবে স্পর্শ করা বা যৌন উপভোগে ব্যবহার করার অনুমতি লিখিত বিধান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। শিশুর সম্পূর্ণ নির্ভরশীলতাই যেখানে সুরক্ষার সবচেয়ে জোরালো কারণ, সেখানে তার ওপর যৌন আচরণের অধিকার তৈরি হচ্ছে। যত্নের সম্পর্কের জায়গা দখল করে নিচ্ছে প্রাপ্তবয়স্কের কামনার অনুমোদন।
এখানে শিশুর সম্মতি নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই: দুগ্ধপোষ্য শিশু যৌন আচরণ বোঝে না, যৌন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, নিজের ওপর চাপানো বৈবাহিক পরিচয় সম্পর্কে কিছুই জানে না। তার শরীরই অনুমতির বিষয় হয়েছে; তার নিজের সিদ্ধান্তের কোনো স্থান থাকার সম্ভাবনাও এই বয়সে নেই। অথচ বিধানের ভাষা নিশ্চিন্তে বলছে “বৈধ”। এই নিশ্চিন্ত অনুমোদন শিশুর যৌন নির্যাতনকে ধর্মীয় আইনসম্মত আচরণের মর্যাদা দেয়। একটি শিশুর চরম অসহায়ত্বের ওপর এমন যৌন অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সুরক্ষার সম্পূর্ণ বিপরীত কাজ: যার ক্ষমতা বেশি, তার জন্য যার ক্ষমতা নেই তাকে ব্যবহার করার পথ খুলে দেওয়া।
রুহুল্লাহ খোমেনির তাহরিরুল ওয়াসিলা: অনুমতির ভাষা “কোনো সমস্যা নেই”
রুহুল্লাহ খোমেনির তাহরিরুল ওয়াসিলা-র দ্বিতীয় খণ্ডের ১২ নম্বর মাসআলায় একই ধরনের বিধান রয়েছে। নয় বছর পূর্ণ হওয়ার আগে স্ত্রীর সঙ্গে প্রবেশমূলক সহবাস নিষিদ্ধ, বিয়ে স্থায়ী হোক বা সাময়িক। অন্যান্য যৌন উপভোগ সম্পর্কে তাঁর ভাষা «فلا بأس بها حتّى في الرضيعة»—এমনকি দুগ্ধপোষ্য শিশুর ক্ষেত্রেও এতে কোনো সমস্যা নেই। একই মাসআলার পরের অংশে অল্প বয়সে সহবাসে গুরুতর শারীরিক ক্ষতি হলে বৈবাহিক সম্পর্ক, স্থায়ী সহবাস-নিষেধ ও ভরণপোষণের বিধান আলোচিত হয়েছে; ক্ষতিপূরণের আলোচনা পরের পৃষ্ঠায়ও চলেছে। শিশুর শরীর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সম্পর্কের কী পরিণতি হবে, তার বিস্তারিত আইনি ব্যবস্থার আগে বসে আছে প্রবেশবিহীন যৌন ব্যবহারের এই সরাসরি অনুমতি। [15]
لا يجوز وطء الزوجة قبل إكمال تسع سنين ، دواماً كان النكاح أو منقطعاً ، وأمّا سائر الاستمتاعات – كاللمس بشهوة والضمّ والتفخيذ – فلا بأس بها حتّى في الرضيعة .
বাংলা অনুবাদ: নয় বছর পূর্ণ হওয়ার আগে স্ত্রীর সঙ্গে প্রবেশমূলক সহবাস বৈধ নয়, বিয়ে স্থায়ী হোক বা সাময়িক। অন্যান্য যৌন উপভোগ—যেমন কামনাসহ স্পর্শ, আলিঙ্গন ও তাফখিয—এগুলোতে কোনো সমস্যা নেই, এমনকি দুগ্ধপোষ্য শিশুর ক্ষেত্রেও।
“কোনো সমস্যা নেই” কথাটির পাশে দুগ্ধপোষ্য শিশুকে বসালে এই বিধানের নৈতিক শূন্যতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যে শিশুর জন্য সব ধরনের যৌন আচরণ থেকে সুরক্ষা প্রাপ্য, তাকে নিয়ে বৈধ উপভোগের তালিকা তৈরি হয়েছে। শিশুর দেহের ওপর প্রাপ্তবয়স্কের দাবিকে স্বীকার করার পর কেবল কোন পদ্ধতি চলবে এবং কোনটি চলবে না, তা নির্ধারিত হয়েছে। এই বিভাজনে শিশুর শরীরকে আলাদা আলাদা অনুমতির ক্ষেত্রে ভাগ করা হয়। নিষিদ্ধ সহবাসের রেখার বাইরে অনুমোদিত যৌন ব্যবহার দাঁড়িয়ে থাকে, আর শিশুটিকে সেই অনুমতির অধীন থাকতে হয়। একটি শিশুকে পূর্ণ সুরক্ষার অধিকারী মানুষ হিসেবে গণ্য করলে তার ওপর এমন যৌন দাবি প্রতিষ্ঠার অবকাশই থাকে না।
ইয়াজদির বিধান থেকে খোমেনির গ্রন্থ পর্যন্ত একই অনুমতির উপস্থিতি ধর্মীয় আইনি ঐতিহ্যের মধ্যে তার পুনর্গ্রহণ দেখায়। দুগ্ধপোষ্য শিশুর উল্লেখ প্রামাণ্য হিসেবে ব্যবহৃত গ্রন্থে স্পষ্ট বিধানের ভাষায় লেখা হয়েছে। সেই ভাষা ধর্মীয় অনুসারীর হাতে একটি অনুমোদন তুলে দেয়: নির্দিষ্ট সম্পর্কের অধীনে শিশুকে যৌনভাবে ব্যবহার করা যায়। গ্রন্থের মর্যাদা যত বাড়ে, অনুমতিটির কর্তৃত্বও তত শক্তিশালী হয়। শিশুর নিরাপত্তার মুখোমুখি তখন দাঁড়িয়ে যায় ধর্মীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত প্রাপ্তবয়স্কের যৌন সুবিধা। শিশুর ওপর কর্তৃত্ব ফলানোর জন্য শুধু ব্যক্তিগত ক্ষমতাই থাকছে না, সঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে ধর্মীয় আইন মেনে চলার দাবি। এই অনুমোদন শোষকের হাতে শিশুর বিরুদ্ধে ব্যবহারযোগ্য আরেকটি ক্ষমতা তুলে দেয়।
“ক্ষতি না হলে বৈধ”: শিশুর শরীর ব্যবহারের অনুমতির ভেতরেই অন্যায়
“ক্ষতি না হওয়া”কে শর্ত করে আগে যৌন ব্যবহারের অধিকার স্বীকার করলে শিশুর নিরাপত্তা বিচার শুরু হয় ভুল জায়গা থেকে। শিশুটিকে কেন প্রাপ্তবয়স্কের যৌন চাহিদার জন্য ব্যবহার করা হবে, সেই প্রশ্নের জায়গায় আসে ব্যবহার কতটা সহ্য হবে, সেই পরীক্ষা। সুন্নি ফতোয়ার সামর্থ্য-সংক্রান্ত যুক্তিতে এই পরিবর্তন স্পষ্ট; ইয়াজদি ও খোমেনির উদ্ধৃত বিধানে দুগ্ধপোষ্য শিশুর ক্ষেত্রে সরাসরি অনুমতিই দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থায় শিশুর সুরক্ষা প্রাপ্তবয়স্কের অধিকারের সীমা হিসেবে আলোচনা পায়, আর প্রাপ্তবয়স্কের অধিকারটি ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত থাকে। একটি শিশুর শরীরের ওপর যৌন দাবি তোলাই যখন সমস্যার উৎস, তখন সেই দাবিকে বৈধ ধরে তার প্রয়োগের মাত্রা মাপা শোষণের নিয়ম তৈরি করা।
একটি শিশুর সম্মতি বলতে তার চুপ করে থাকা, বড়দের কথা শোনা বা প্রতিরোধ করতে না পারাকে বোঝায় না। সম্মতির জন্য কাজটি বোঝা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিকাশগত সামর্থ্য এবং চাপমুক্তভাবে প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা প্রয়োজন। দুগ্ধপোষ্য ও অবোধ শিশুর ক্ষেত্রে সেই সামর্থ্যের অনুপস্থিতি সম্পূর্ণ। যৌন নির্যাতনের জনস্বাস্থ্যগত সংজ্ঞাতেও এই উপলব্ধি ও অবহিত সম্মতির প্রশ্নটি কেন্দ্রীয়। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র শিশুর এমন যৌন আচরণে জড়িয়ে পড়ার কথা বলেছে, যা সে পুরোপুরি বোঝে না, যাতে সম্মতি দেয় না বা অবহিত সম্মতি দিতে পারে না, অথবা যার জন্য সে বিকাশগতভাবে প্রস্তুত নয়। একই সূত্র যৌন নির্যাতনের স্বাস্থ্য ও কল্যাণে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কথাও জানিয়েছে। [16]
Key points:
Child sexual abuse is a serious public health problem and an adverse childhood experience (ACE).
Child sexual abuse can have a long-term impact on health, opportunity, and well-being.
What is child sexual abuse?
Child sexual abuse refers to the involvement of a child (person less than 18 years old) in sexual activity that violates the laws or social taboos of society and that the child:
Does not fully comprehend.
Does not consent to or is unable to give informed consent to.
Is not developmentally prepared for and cannot give consent to.
বাংলা অনুবাদ: মূল বক্তব্য:
শিশুর যৌন নির্যাতন একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্যসমস্যা এবং শৈশবের একটি প্রতিকূল অভিজ্ঞতা।
শিশুর যৌন নির্যাতন স্বাস্থ্য, জীবনের সুযোগ এবং সামগ্রিক কল্যাণের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
শিশুর যৌন নির্যাতন কী?
শিশুর যৌন নির্যাতন বলতে ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো ব্যক্তিকে এমন যৌন আচরণে যুক্ত করা বোঝায়, যা সমাজের আইন বা সামাজিক নিষেধ লঙ্ঘন করে এবং যে আচরণ শিশুটি:
পুরোপুরি বোঝে না;
যাতে সম্মতি দেয় না অথবা অবহিত সম্মতি দিতে অক্ষম;
যার জন্য সে বিকাশগতভাবে প্রস্তুত নয় এবং সম্মতি দিতে পারে না।
শিশুর প্রতি যৌন আচরণের ক্ষতি বিচারেও তার সম্পূর্ণ জীবনকে দেখতে হয়। নিরাপত্তা, নিজের দেহের ওপর বিশ্বাস, পরিচর্যাকারীর ওপর নির্ভরতা এবং ধীরে ধীরে স্বাধীন হয়ে ওঠার অবকাশ—এসব শিশুর বিকাশের অংশ। বড়দের ক্ষমতার অধীনে যৌন আচরণে জড়িয়ে পড়া সেই নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে। দৃশ্যমান আঘাত মাপার মধ্যে এই সম্পর্কের ক্ষতি পুরো ধরা পড়ে না। যে শিশুটি ঘটনার অর্থ বোঝে না বা নিজের কথা বলতে পারে না, তার নীরবতাকে সুবিধাজনক লক্ষণ হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগও নেই। তার অসহায়ত্বই প্রাপ্তবয়স্কের দায়িত্ব বাড়ায়; সেই অসহায়ত্বকে যৌন অনুমতির মধ্যে টেনে আনা তার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা।
বিবাহচুক্তি দিয়ে শিশুর এই অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটে না। চুক্তি সম্পাদন করেছেন অন্যরা, অথচ যৌন আচরণ প্রয়োগ হবে শিশুর ওপর। অভিভাবকের ক্ষমতা তার পরিচর্যা ও সুরক্ষার জন্য; শিশুর হয়ে যৌন ব্যবহারের অনুমতি বিক্রি বা হস্তান্তর করার নৈতিক ক্ষমতা তার নেই। যে আইন অভিভাবক ও স্বামীর সিদ্ধান্তকে শিশুর শরীরের ওপর কার্যকর করে, তা শিশুকে নিজের দেহের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। সেই আইন শিশুর খাদ্য, আশ্রয় ও স্নেহের নির্ভরতাকেও শোষণের সুযোগে পরিণত করতে পারে, কারণ যাঁদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে, বেঁচে থাকার জন্য শিশুটি তাঁদের ওপরই নির্ভরশীল। এই ক্ষমতার বিন্যাসে প্রাপ্তবয়স্কের যৌন সুবিধাকে অধিকার বলা নিপীড়নকে বৈধতা দেওয়া।
শিশুবিবাহের চুক্তি থেকে শিশুর পুরো জীবনের নিয়ন্ত্রণ
বাল্যবিবাহের আলোচনায় বিয়ের অনুষ্ঠান ও সহবাস শুরুর বয়স সামনে থাকে। মুফাখাযাহ ও অন্যান্য প্রবেশবিহীন যৌন আচরণের বিধান দেখায়, তার মাঝের সময়টিও শিশুর জন্য যৌন দাবি থেকে সুরক্ষিত থাকে না। কোনো কোনো আইনি ব্যাখ্যায় বিবাহচুক্তি যৌন উপভোগের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে, তারপর শিশুর শরীরের সামর্থ্য অনুযায়ী তার প্রয়োগ ঠিক করা হয়। ফলে “সহবাস পরে হবে” বলে যে অপেক্ষার কথা ওঠে, তার ভেতরেও শিশুর ওপর যৌন আচরণের অনুমতি থাকতে পারে। শিশুর জন্য বিপদ শুরু হয় সেই মুহূর্তে, যখন তাকে অন্য মানুষের যৌন অধিকারের অধীন সম্পর্কের মধ্যে ঢোকানো হয়। বিয়ের নাম সেই অধীনতাকে পারিবারিক ও ধর্মীয় গ্রহণযোগ্যতা দেয়।
হানাফি ভরণপোষণের যুক্তি এই অধীনতাকে অর্থনৈতিক নিয়মে টেনে নেয়; হেফাজতের ফতোয়া বাসস্থান ও পরিচর্যার প্রশ্নে টেনে নেয়; শিশুদাসীর বিধান মালিকানার সঙ্গে জোড়া দেয় [17]। ইয়াজদি ও খোমেনির বক্তব্যে শিশুর বয়স এমন পর্যায়ে নেমেছে, যেখানে সম্মতি বা বোঝাপড়ার সম্ভাবনাই নেই। এসবের মধ্যে সংযোগ হলো শিশুর দেহ ও জীবনের ওপর প্রাপ্তবয়স্কের কর্তৃত্ব। এই কর্তৃত্বকে যৌন অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর মেয়েটির শরীর, থাকা, যত্ন পাওয়া এবং সম্পর্কের মধ্যে থাকা—সবই অন্যের সুবিধার হিসাবে ঢুকে পড়ে। ইসলামে শিশুবিবাহের বিস্তৃত দলিল ও অন্যান্য ফিকহি বিধান নিয়ে সংশয়ের শিশুবিবাহ বিভাগে আরও প্রবন্ধ রয়েছে।
উপসংহার: যে ঐশ্বরিক বিধান শিশুকে যৌন উপভোগের বস্তু করে
উদ্ধৃত বিধানগুলোর নির্মমতা তাদের সিদ্ধান্তেই রয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর সঙ্গে মুফাখাযাহকে সুন্নি ফতোয়া শর্তযুক্ত বৈধ আচরণ বলছে। হানাফি ভরণপোষণের আলোচনায় শিশুর যৌন ব্যবহারযোগ্যতা খরচের দায় নির্ধারণে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে। ইবনে আকিলের উদ্ধৃত বক্তব্যে শিশুদাসী মালিকের যৌন সমস্যা মেটানোর উপায়। ইয়াজদি ও খোমেনি দুগ্ধপোষ্য শিশুর সঙ্গে কামনাসহ যৌন উপভোগের অনুমতি লিখেছেন। প্রতিটি অবস্থানেই প্রাপ্তবয়স্কের সুবিধা আইনি মর্যাদা পেয়েছে, আর শিশুর শরীর সেই সুবিধা অর্জনের ক্ষেত্র হয়েছে। শিশুদের যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা গড়ার বদলে এই বিধানগুলো নির্যাতনমূলক আচরণের জন্য অনুমতির ভাষা সরবরাহ করেছে।
একটি শিশুর পৃথিবী শুরু হয় অন্যের ওপর বিশ্বাস রেখে। তাকে খাওয়াবে, বিপদ থেকে সরাবে, অসুস্থ হলে যত্ন নেবে এবং তার বেড়ে ওঠার জন্য জায়গা করে দেবে—এই দায়িত্ব প্রাপ্তবয়স্কের। সেই বিশ্বাস ও নির্ভরতার মধ্যে যৌন দাবি ঢুকিয়ে দেওয়া শিশুর বিরুদ্ধে ক্ষমতার প্রয়োগ। তার অসহায় দেহকে কামনার বৈধ ক্ষেত্র ঘোষণা করা সেই প্রয়োগের ধর্মীয় অনুমোদন। যে বিধান একটি দুগ্ধপোষ্য শিশুকে পর্যন্ত যৌন উপভোগের বস্তু বানায়, তার বিরুদ্ধে স্পষ্ট নৈতিক রায় হলো: এটি শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের অনুমোদন, এবং শিশুর নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক নিষ্ঠুর বিধান। শিশুর শরীর তার নিজের; প্রাপ্তবয়স্কের কামনা মেটানোর জন্য তার শৈশব কারও প্রাপ্য নয়।
তথ্যসূত্রঃ
- শিশুবিবাহ, বয়ঃসন্ধি ও প্রাপ্তবয়স্কতা: সংজ্ঞা, সম্মতি এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি ↩︎
- কোরআনে শিশুবিবাহ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস: সূরা তালাক ৬৫:৪ এবং তাফসীরসমূহের সাক্ষ্য ↩︎
- বিবাহ ও সহবাসের সময় আয়িশার বয়স: হাদিস ও ফিকহের পূর্ণ প্রমাণ ↩︎
- ইসলামের প্রাথমিক যুগে শিশুবিবাহ: নবী, সাহাবি, তাবেঈ ও খিলাফতের ঐতিহাসিক নজির ↩︎
- ইসলামী শরিয়া আইন: শিশুস্ত্রীর যোনীপথ ফেটে গেলে জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ ↩︎
- ইসলামওয়েব, ফতোয়া ১১১৩৯৯—বিবাহচুক্তি সম্পন্ন হওয়া স্ত্রীর সঙ্গে যৌন উপভোগ ↩︎
- ইসলামওয়েব, ফতোয়া ৭৮৫২৯—অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর সঙ্গে যৌন উপভোগ ↩︎
- মুহাম্মদ আলীশ, মানহুল জলীল শরহু মুখতাসারি খলীল, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪২৬ ↩︎
- কামাল ইবনুল হুমাম, ফাতহুল কাদীর, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৮৪–৩৮৫, ভরণপোষণ অধ্যায় 1 2 3
- ইবনে নুজাইম, আল-বাহরুর রায়িক, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৯৬, ভরণপোষণ অধ্যায় ↩︎
- ইবনুল কাইয়্যিম, বাদায়িউল ফাওয়ায়িদ, পৃষ্ঠা ১৪৭৩–১৪৭৪—আল-ফুসূল থেকে উদ্ধৃতি ও পরবর্তী মন্তব্য ↩︎
- ইসলামওয়েব, ফতোয়া ২৯৬০৪৪, ১২ মে ২০১৫—অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে যৌন উপভোগের শর্ত ↩︎
- ইসলামওয়েব, ফতোয়া ১৯৫১৩৩, ২ জানুয়ারি ২০১৩—অপ্রাপ্তবয়স্কের বিবাহ ও যৌন উপভোগ 1 2 3
- মুহাম্মদ কাজিম ইয়াজদি, আল-উরওয়াতুল উসকা, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৬২১, মাসআলা ১ ↩︎
- রুহুল্লাহ খোমেনি, তাহরিরুল ওয়াসিলা, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৫৯, মাসআলা ১২ ↩︎
- যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র, About Child Sexual Abuse, ১৬ মে ২০২৪ ↩︎
- ইসলামী শরিয়তে পেডোফিলিয়ার আইনি ছাড়পত্রঃ নাবালিকা দাসীর সাথে সহবাসের বৈধতা ↩︎

