সারসংক্ষেপ
এই প্রবন্ধের আলোচ্য কোনো বিচ্ছিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিবাহও নয়। আলোচ্য হলো ইসলামি ফিকহের একটি নির্দিষ্ট আইন—এমন এক আইন, যেখানে স্বামী তার অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করতে গিয়ে তার যৌনাঙ্গ মারাত্মকভাবে বিদীর্ণ করে দিলে কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, তা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিধানটির ভয়াবহতা শুধু শারীরিক আঘাতের বিবরণে নেই; এর চেয়েও গুরুতর হলো যে আইনটি শুরু থেকেই কয়েকটি বিষয়কে স্বাভাবিক আইনি বাস্তবতা হিসেবে গ্রহণ করেছে: একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের স্ত্রী হতে পারে, সেই পুরুষ তার সঙ্গে যৌনসঙ্গম করতে পারে, মেয়েটি এতটাই ছোট হতে পারে যে তার সমবয়সী মেয়েদের সঙ্গে সাধারণত সহবাস করা হয় না, এবং তবুও তার শরীরে যৌন penetration ঘটতে পারে। এরপর সেই penetration তার দেহ ছিঁড়ে ফেললে প্রশ্ন ওঠে—স্বামীর ওপর কতটুকু দিয়াত বা ক্ষতিপূরণ বর্তাবে। অর্থাৎ আইনটি শিশুকে সেই যৌন পরিস্থিতি থেকে বের করে আনছে না; বরং সেই পরিস্থিতিকে গ্রহণ করে তার ফলে সৃষ্ট শারীরিক ধ্বংসের আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করছে।
এখানেই এই বিধানের নৈতিক চরিত্র পরিষ্কার হয়ে যায়। একটি শিশু প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ছোট সংস্করণ নয়। তার শরীর বিকাশমান, মস্তিষ্ক বিকাশমান, যৌনতা সম্পর্কে তার উপলব্ধি অসম্পূর্ণ, ক্ষমতার সম্পর্ক বোঝার সামর্থ্য সীমিত এবং প্রাপ্তবয়স্কের সামাজিক, পারিবারিক, ধর্মীয় কিংবা অর্থনৈতিক কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও অসম। এই কারণেই শিশুর তথাকথিত “সম্মতি” প্রাপ্তবয়স্কের যৌন সম্মতির সমতুল্য নয়। একজন অভিভাবক শিশুকে বিয়ে দিতে পারে বলে শিশুর যৌন সম্মতি তৈরি হয় না; একটি নিকাহনামা তার মানসিক বিকাশ সম্পূর্ণ করে না; “স্ত্রী” শব্দটি তার শরীরকে প্রাপ্তবয়স্ক নারীর শরীরে রূপান্তর করে না। একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ যখন এমন একটি শিশুর শরীরে যৌন penetration করে, যে অর্থবহ যৌন সম্মতি দেওয়ার অবস্থায় নেই, তখন সেই কাজকে “বৈবাহিক সহবাস” নাম দিলেও তার বাস্তব চরিত্র বদলায় না। এটি শিশুর ওপর যৌন সহিংসতা; সম্মতিহীন penetration হিসেবে এটিকে ধর্ষণ বলাই যথার্থ।
এই প্রবন্ধে তাই মূল প্রশ্ন হবে না—“সে যুগে সবাই কি এমন করত?”, “কোন সমাজে কত বছর বয়সে বিয়ে হতো?”, কিংবা “শরিয়াহর অন্য কোথাও মেয়েদের অধিকার দেওয়া হয়েছে কি না?” এসব প্রশ্ন এই নির্দিষ্ট আইনটির নৈতিক বিচারকে বদলায় না। কোনো সমাজে একটি ক্ষতিকর প্রথা প্রচলিত থাকলে সেটি ক্ষতিকর হওয়া বন্ধ করে না। বরং যে ধর্মীয় আইন নিজেকে মানুষের বানানো সাময়িক প্রথা হিসেবে নয়, আল্লাহপ্রদত্ত বা ঐশ্বরিক ন্যায়বিচারের ধারক হিসেবে উপস্থাপন করে, তার প্রতি নৈতিক প্রত্যাশা আরও বেশি হওয়া উচিত। মানুষ ভুল করতে পারে, সমাজ নিষ্ঠুর হতে পারে, যুগ অজ্ঞ হতে পারে; কিন্তু সর্বজ্ঞ ও সর্বদয় ঈশ্বরের নামে প্রতিষ্ঠিত একটি আইন যদি শিশুকে যৌন ব্যবহার থেকে রক্ষা করার পরিবর্তে তার যৌনাঙ্গ ছিঁড়ে যাওয়ার পর ক্ষতিপূরণ গণনা করে, তাহলে সেই আইনের ওপর “চিরন্তন নৈতিকতা” বা “সর্বোত্তম বিচারব্যবস্থা”র দাবি ভয়াবহভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
প্রবন্ধটির পরবর্তী অংশে প্রথমে দেখা হবে ইসলামি ফিকহে এই আইনটি ঠিক কীভাবে ভাষায়িত হয়েছে এবং “অপ্রাপ্তবয়স্কা”, “সহবাসের উপযুক্ততা”, “ইফদা”, “দিয়াত” ও স্বামীর দায়—এসব ধারণা কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এরপর বিভিন্ন ফিকহি ধারায় একই সমস্যার উপস্থিতি দেখানো হবে। কোথাও পূর্ণ দিয়াত, কোথাও আংশিক ক্ষতিপূরণ, কোথাও বিচারকের নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ, আবার কোথাও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোনো ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার মতও পাওয়া যায়। এই মতভেদগুলো গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো তাদের অভিন্ন ভিত্তি: কোনো ফকিহের আলোচনার কেন্দ্রে প্রশ্নটি এমন নয় যে একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর ওপর এমন যৌন penetration কেন ঘটতে দেওয়া হলো; কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হলো সেই penetration-জনিত ক্ষতির আর্থিক দায় কী হবে।
এই বিধানটির বিশ্লেষণ তাই শুধু শিশুবিবাহের সমালোচনা নয়; এটি একটি আইনব্যবস্থার নৈতিক অগ্রাধিকারের পরীক্ষা। একটি মানবিক আইন প্রথমে শিশুকে রক্ষা করে, কারণ শিশুর হারানো শৈশব ফিরিয়ে দেওয়া যায় না, যৌন ট্রমা টাকা দিয়ে মুছে দেওয়া যায় না, ছিন্নভিন্ন শরীরকে দিয়াতের অঙ্ক দিয়ে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। শিশুর নিরাপত্তা মানে শুধু তাকে হত্যা বা অপহরণ থেকে রক্ষা করা নয়; তার শরীর, মানসিক বিকাশ, শিক্ষা, স্বাধীন ব্যক্তিসত্তা, ভয়মুক্ত জীবন এবং প্রাপ্তবয়স্কের যৌন আকাঙ্ক্ষা থেকে সুরক্ষিত থাকার অধিকার রক্ষা করাও একই দায়িত্বের অংশ। যে আইন এই সুরক্ষা নিশ্চিত করার বদলে শিশুকে বৈবাহিক যৌনতার বৈধ ক্ষেত্র হিসেবে গ্রহণ করে এবং ক্ষতি হয়ে গেলে তার মূল্য নির্ধারণ করে, সেই আইনকে শিশু-রক্ষাকারী বা ন্যায়ভিত্তিক বলা যায় না। এই প্রবন্ধের মূল সিদ্ধান্ত সেই জায়গাতেই দাঁড়াবে।
ভূমিকা: একটি শিশুর শৈশবের চেয়ে স্বামীর যৌন অধিকার বড় হতে পারে না
শিশুর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ তার শৈশব। শৈশব কোনো অলস অপেক্ষার সময় নয়, যার কাজ কেবল মানুষটিকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার জন্য প্রস্তুত করা। এই সময়েই তার শরীর তৈরি হয়, মস্তিষ্ক বিকশিত হয়, নিরাপত্তাবোধ গড়ে ওঠে, পৃথিবী সম্পর্কে আস্থা তৈরি হয়, নিজের দেহের সীমা বুঝতে শেখে, সম্পর্কের অর্থ শেখে এবং ধীরে ধীরে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অর্জিত হয়। একটি শিশুকে নিরাপদ শৈশব দেওয়া মানে তাকে কেবল খাবার, পোশাক ও আশ্রয় দেওয়া নয়; এর অর্থ তাকে এমন সব ক্ষমতাবান প্রাপ্তবয়স্কের হাত থেকেও রক্ষা করা, যারা পরিবার, ধর্ম, অর্থ, সামাজিক মর্যাদা বা কর্তৃত্ব ব্যবহার করে তার শরীর ও ভবিষ্যতের ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। শিশুর শারীরিক নিরাপত্তা, যৌন নিরাপত্তা এবং মানসিক নিরাপত্তা তাই আলাদা তিনটি বিষয় নয়; এগুলো একই মৌলিক অধিকারের অংশ—তার নিজের জীবন তার নিজের হয়ে ওঠার সুযোগ।
এই কারণেই একটি সভ্য রাষ্ট্র শিশুকে শুধু বাবা-মায়ের সম্পত্তি হিসেবে দেখে না। পরিবার শিশুর যত্ন নেয়, কিন্তু পরিবার শিশুর শরীরের মালিক নয়। অভিভাবক শিশুর হয়ে স্কুল নির্বাচন করতে পারেন, চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, দৈনন্দিন জীবনের বহু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন; কিন্তু এই কর্তৃত্ব অসীম নয়। একজন অভিভাবক শিশুকে যৌন ব্যবহারের জন্য কাউকে দিয়ে দেওয়ার অধিকার রাখেন না, যেমন তিনি শিশুকে নির্যাতনের জন্য কাউকে হস্তান্তর করার অধিকার রাখেন না। রাষ্ট্রের শিশু-সুরক্ষা দায়িত্বের মূল ভিত্তিই এখানে: যে ব্যক্তি নিজের অধিকার রক্ষার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী নয়, রাষ্ট্রকে তার হয়ে সীমা টানতে হয়। কারণ ক্ষমতার অসম সম্পর্কের মধ্যে “পরিবার রাজি”, “সমাজ রাজি” অথবা “ধর্ম অনুমতি দিয়েছে” বলা শিশুর সুরক্ষার বিকল্প হতে পারে না। রাষ্ট্র যদি এই জায়গায় নিরপেক্ষ থাকে, তবে বাস্তবে সে শক্তিশালী প্রাপ্তবয়স্কের পক্ষ নেয় এবং দুর্বল শিশুকে তার হাতে ছেড়ে দেয়।
যৌনতার ক্ষেত্রে এই সুরক্ষার প্রয়োজন আরও তীব্র। যৌনসম্পর্ক শুধু একটি শারীরিক কাজ নয়; এতে দেহ, অন্তরঙ্গতা, ভয়, বিশ্বাস, ক্ষমতা, গর্ভধারণের সম্ভাবনা, রোগের ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদি মানসিক প্রভাব জড়িত। একজন পরিণত প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ যৌনসম্পর্কে প্রবেশের আগে এসব বিষয়ে চিন্তা করতে পারে, নিজের ইচ্ছা ও অনিচ্ছা প্রকাশ করতে পারে, সম্পর্ক প্রত্যাখ্যান করতে পারে এবং বিপদের অনুভূতি হলে সরে যেতে পারে। একটি শিশু সেই অবস্থানে থাকে না। বিশেষ করে যখন অপর ব্যক্তি তার স্বামী, অভিভাবকের পছন্দের মানুষ, পরিবারের কর্তৃত্বশালী সদস্য বা ধর্মীয়ভাবে তার ওপর “অধিকার”প্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন শিশুর জন্য “না” বলার বাস্তব সুযোগ আরও সংকুচিত হয়। তাই একটি শিশুর নীরবতা, ভয়, বাধ্য আনুগত্য কিংবা শেখানো সম্মতিকে যৌন সম্মতি বলা যায় না। সম্মতি শুধু “না বলেনি” নয়; সম্মতি এমন একটি স্বাধীন সিদ্ধান্ত, যা বোঝাপড়া, পরিপক্বতা এবং প্রত্যাখ্যানের বাস্তব স্বাধীনতার ওপর দাঁড়ায়।
এই জায়গাতেই শিশুবিবাহের সবচেয়ে বড় নৈতিক প্রতারণা ঘটে। প্রথমে একটি শিশুকে “স্ত্রী” নাম দেওয়া হয়, তারপর সেই নতুন পরিচয় ব্যবহার করে এমন সব যৌন আচরণকে বৈধতার আবরণ দেওয়া হয় যা বিবাহের বাইরে ঘটলে সহজেই শিশু যৌন নির্যাতন হিসেবে চিহ্নিত হতো। অথচ শব্দ বদলালে শরীর বদলায় না। একটি দশ, এগারো বা বারো বছরের শিশুকে “স্ত্রী” বললে তার পেলভিস পরিণত হয় না, তার মানসিক বিকাশ কয়েক বছর এগিয়ে যায় না, যৌনঝুঁকি বোঝার ক্ষমতা জন্মায় না এবং প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের সঙ্গে ক্ষমতার ব্যবধানও দূর হয় না। যদি কোনো অপরিচিত পুরুষ একটি শিশুর শরীরে তার অর্থবহ সম্মতি ছাড়া penetration করে, আমরা সেই ঘটনাকে ধর্ষণ বলি। সেই একই শিশুর সঙ্গে আগে একটি ধর্মীয় বিবাহ সম্পন্ন করা হলে penetration-এর নৈতিক চরিত্র হঠাৎ বদলে যায় না। কাগজের চুক্তি একটি শিশুর দেহকে প্রাপ্তবয়স্কের যৌন অধিকারে পরিণত করতে পারে না।
এই কারণেই এই প্রবন্ধে নাবালিকা স্ত্রীর ওপর প্রাপ্তবয়স্ক স্বামীর সম্মতিহীন যৌন penetration-কে ধর্ষণ বলা হবে [1]। “বৈবাহিক সহবাস” শব্দ ব্যবহার করে ঘটনাটিকে পরিষ্কার করার বদলে আড়াল করা হবে না [2]। যদি শিশুটি যৌন সম্পর্কে অর্থবহ সম্মতি দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন না করে থাকে, তবে তার সঙ্গে penetration একটি সম্মতিপূর্ণ যৌনসম্পর্ক নয়। অভিভাবকের সম্মতি তার যৌন সম্মতি নয়, কাজির অনুমতি তার যৌন সম্মতি নয়, ধর্মীয় বিধান তার যৌন সম্মতি নয় এবং স্বামীর দাবি তো কোনোভাবেই তার সম্মতি নয়। একজন মানুষের শরীরের ওপর যৌন অধিকার অন্য কেউ তার হয়ে হস্তান্তর করতে পারে—এই ধারণাটিই নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য। শিশুর ক্ষেত্রে এটি আরও ভয়াবহ, কারণ ক্ষমতার ভারসাম্য এতটাই একতরফা যে বৈবাহিক কাঠামো নিজেই তাকে প্রতিরোধহীন অবস্থায় ঠেলে দিতে পারে।
এখানে ইসলামি ফিকহের আলোচ্য বিধানটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ এটি কেবল তাত্ত্বিকভাবে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ে স্বীকার করে থেমে যায়নি। আইন এমন এক অবস্থারও হিসাব করেছে যেখানে স্বামী অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করতে গিয়ে তার যৌনাঙ্গ ভয়াবহভাবে বিদীর্ণ করে ফেলেছে। এটি কোনো সামান্য ব্যথা বা অস্বস্তির আলোচনা নয়; এমন আঘাতের কথা বলা হচ্ছে যেখানে যৌনাঙ্গের অভ্যন্তরীণ বিভাজন ছিন্ন হয়ে শরীরের স্বাভাবিক গঠন ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, বিধানের ভাষায় এমন অপ্রাপ্তবয়স্কার কথাও আলাদাভাবে এসেছে “যার সমান মেয়ের সঙ্গে সচরাচর সহবাস করা হয় না।” অর্থাৎ আইন নিজেই জানে যে আলোচ্য মেয়েটি এমন বয়স বা শারীরিক অবস্থায় থাকতে পারে যেখানে তার শরীর যৌন penetration-এর জন্য স্বাভাবিকভাবে প্রস্তুত নয়। তবুও মূল নিষেধাজ্ঞা হয়ে ওঠেনি—“এই শিশুর সঙ্গে সহবাস করা যাবে না”; বরং সহবাস ঘটে যাওয়ার পরে কত ক্ষতিপূরণ হবে, সেই প্রশ্ন আইনগত আলোচনায় প্রবেশ করেছে।
এই পার্থক্যটি মৌলিক। একটি শিশু-রক্ষাকারী আইন এবং একটি ক্ষতিপূরণ-নির্ভর আইন এক নয়। একটি শিশু-রক্ষাকারী আইন বিপদটি আগেই বন্ধ করে দেয়: প্রাপ্তবয়স্ককে বলে, এই শিশুর ওপর তোমার কোনো যৌন অধিকার নেই; তার শরীর তোমার বৈবাহিক সম্পত্তি নয়; সে এমন বয়সে পৌঁছায়নি যেখানে তোমার সঙ্গে যৌনসম্পর্কে স্বাধীন ও অর্থবহ সম্মতি দিতে পারে। অন্যদিকে যে আইন শিশুর শরীর ছিঁড়ে যাওয়ার পর প্রশ্ন করে কত দিয়াত হবে, সেটি ইতিমধ্যেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক যুদ্ধে হেরে গেছে। কারণ সে শিশুটির শরীরকে আগেই এমন একটি যৌন ব্যবস্থার মধ্যে প্রবেশ করতে দিয়েছে যেখানে ভয়াবহ শারীরিক ধ্বংস একটি অনুমানযোগ্য আইনগত সমস্যা হয়ে উঠেছে।
কোনো মানুষকে আঘাত করার পরে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান থাকা নিজের মধ্যে খারাপ নয়; বরং ক্ষতির ক্ষতিপূরণ আইনব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু এই ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন ক্ষতিপূরণ আছে কি না নয়। মূল প্রশ্ন হলো, যে কর্মকাণ্ড এই ভয়াবহ ক্ষতির জন্ম দিয়েছে, সেটিকে আইন প্রথমেই কেন বৈধ যৌন অধিকারের পরিসরে রেখেছে। একজন শ্রমিক আহত হলে ক্ষতিপূরণ আর একজন শিশুকে যৌনভাবে ব্যবহার করে তার শরীর ছিঁড়ে ফেলার পর ক্ষতিপূরণ একই নৈতিক শ্রেণির বিষয় নয়। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে রাষ্ট্র বা ধর্মীয় আইনের প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিত ছিল সেই যৌন ব্যবহারটিকেই নিষিদ্ধ করা। শিশুটির যৌনাঙ্গ ছিঁড়ে যাওয়ার পরে দিয়াত নির্ধারণ করা কোনো নৈতিক বিজয় নয়; বরং প্রশ্নটি কেন সেই পর্যায়ে পৌঁছাল, সেটিই সবচেয়ে বড় অভিযোগ।
শিশুর জীবন রক্ষা মানে শুধু তাকে জীবিত রাখা নয়। তাকে এমন শরীর ও মন নিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে পৌঁছাতে দেওয়া, যা প্রাপ্তবয়স্কের যৌন আকাঙ্ক্ষা, পারিবারিক স্বার্থ কিংবা ধর্মীয় বিধানের নামে আগেই ক্ষতবিক্ষত করা হয়নি। একটি শিশুর শৈশবের মূল্য এই কারণে অপরিমেয় যে তার হারানো বছর ফেরত দেওয়া যায় না। তার ওপর আরোপিত যৌন অভিজ্ঞতা “পরে বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে” বলে মুছে যায় না। তার ভয়, অপমান, শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং নিরাপত্তাবোধ ভেঙে পড়ার ক্ষতি কোনো দিয়াতের অঙ্ক দিয়ে বাতিল করা যায় না। এ কারণেই শিশু-সুরক্ষার উদ্দেশ্য ক্ষতির দাম নির্ধারণ নয়; ক্ষতিটাই যাতে না ঘটে সেই প্রাচীর তৈরি করা।
আর ঠিক এখানেই ইসলামি ফিকহের এই বিধানকে কঠোরতম নৈতিক বিচারের মুখে দাঁড় করাতে হয়। যদি একটি আইন এমন অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর কথা চিনতে পারে, যার শরীর সাধারণ সহবাসের উপযুক্ত নয়; যদি সেই আইন একই সঙ্গে তার সঙ্গে স্বামীর penetration এবং সেই penetration-এ দেহ বিদীর্ণ হওয়ার পরিণতি নিয়ে বিধান তৈরি করে; তবে এই আইন শিশুর যৌন নিরাপত্তাকে প্রথম নীতি হিসেবে গ্রহণ করেনি। এখানে শিশুর শরীরকে আগে বৈবাহিক যৌনতার আওতায় আনা হয়েছে, তারপর সেই যৌনতার ধ্বংসাত্মক ফলের হিসাব করা হয়েছে। একটি শিশুর পক্ষে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় যে কথাটি আইনটির শুরুতেই বলা উচিত ছিল—“কোনো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের তোমার অপরিণত শরীরের ওপর যৌন অধিকার নেই”—সেই কথাটিই সেখানে অনুপস্থিত।
ইমাম শাফেয়ির আল-উম্ম: অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিবাহে নিজের সম্মতির কর্তৃত্ব নেই
শিশুর যৌন সম্মতির প্রশ্নটি আরও মৌলিক হয়ে ওঠে যখন দেখা যায়, ইসলামি ফিকহে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিবাহের সিদ্ধান্তও তার নিজের হাতে রাখা হয়নি। শাফেয়ি মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফেয়ি তাঁর আল-উম্ম গ্রন্থের পঞ্চম খণ্ডে পিতার মেয়েকে বিবাহ দেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক কুমারী মেয়েকে তার পিতা বিবাহ দিতে পারেন, কারণ অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় নিজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কর্তৃত্ব তার নেই। তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক কুমারী এবং পূর্বে যৌনসম্পর্ক সংঘটিত হয়েছে এমন মেয়ের মধ্যে আইনি পার্থক্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অপ্রাপ্তবয়স্ক কুমারী মেয়ের বিবাহে পিতার কর্তৃত্ব রয়েছে; কিন্তু আগে সহবাস সংঘটিত হয়ে থাকলে মেয়েটির সম্মতির বিধান পৃথক। অর্থাৎ একটি মেয়ে এত ছোট হতে পারে যে নিজের বিবাহ সম্পর্কে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা তার নেই, অথচ সেই অক্ষমতাই তার পিতাকে বিবাহ সম্পন্ন করার কর্তৃত্ব দিয়েছে। [3]
إِنَّمَا يُزَوِّجُ الصَّغِيرَةَ إِذَا كَانَتْ بِكْرًا لِأَنَّهُ لَا أَمْرَ لَهَا فِي نَفْسِهَا إِذَا كَانَتْ صَغِيرَةً وَلَا بَالِغًا مَعَ أَبِيهَا
বাংলা অনুবাদ: পিতা ছোট মেয়েকে কুমারী অবস্থায় বিবাহ দেন, কারণ সে অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকা অবস্থায় নিজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কর্তৃত্ব তার নেই; এমনকি প্রাপ্তবয়স্ক কুমারীর ক্ষেত্রেও পিতার উপস্থিতিতে সেই কর্তৃত্ব নেই।
শাফেয়ির এই বক্তব্যে একটি গুরুতর নৈতিক অসংগতি রয়েছে। মেয়েটির অপরিণত বয়সকে তার নিজের সিদ্ধান্ত গ্রহণের অক্ষমতার কারণ হিসেবে স্বীকার করা হয়েছে, কিন্তু সেই অক্ষমতা তাকে বিবাহ থেকে সুরক্ষিত রাখার ভিত্তি হয়নি। বরং পিতার মাধ্যমে তাকে বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে প্রবেশ করানোর আইনগত ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। একটি শিশু নিজের বিবাহের অর্থ, সম্ভাব্য যৌনসম্পর্ক, গর্ভধারণের ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক পরিণতি বোঝার সক্ষমতা অর্জন না করলেও তার অভিভাবক তার পক্ষে বিবাহের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এই ব্যবস্থায় শিশুর মতামতের অনুপস্থিতি বিবাহের প্রতিবন্ধক নয়; বরং অভিভাবকের কর্তৃত্ব কার্যকর হওয়ার শর্ত। অথচ অভিভাবক শিশুর যত্ন ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে পারেন, কিন্তু তার যৌন সম্মতি সৃষ্টি করতে পারেন না। একটি মেয়ের বিবাহে পিতার আইনগত কর্তৃত্ব স্বীকার করা এবং প্রাপ্তবয়স্ক স্বামীর সঙ্গে যৌনসম্পর্কে মেয়েটির স্বাধীন সম্মতি প্রতিষ্ঠা করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। প্রথমটি দ্বিতীয়টির বিকল্প নয়।
এই বিবাহসংক্রান্ত বিধানকে অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর সঙ্গে সহবাসের অন্য ফিকহি বিধানগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে শিশুর ওপর আরোপিত ক্ষমতার কাঠামো স্পষ্ট হয়। প্রথমে শিশুর নিজের সিদ্ধান্ত গ্রহণের অক্ষমতা স্বীকার করে পিতাকে তার বিবাহের কর্তৃত্ব দেওয়া হয়। এরপর বিবাহ সম্পন্ন হলে স্বামীর বৈবাহিক যৌন অধিকার আলোচনায় আসে। যৌনসম্পর্কের অনুমতির মানদণ্ড হিসেবে প্রাপ্তবয়স্কতা ও স্বাধীন যৌন সম্মতির পরিবর্তে সহবাস সহ্য করার শারীরিক সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। আর সেই সহবাসে শিশুর দেহ বিদীর্ণ হলে ক্ষতিপূরণ, দিয়াত কিংবা বিচারিক দায় নির্ধারণ করা হয়। এভাবে বিবাহের সিদ্ধান্ত থেকে যৌনসম্পর্ক এবং সহবাসজনিত ক্ষতির বিচার পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে শিশুর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও যৌন নিরাপত্তার পরিবর্তে অভিভাবক ও স্বামীর আইনগত ক্ষমতা প্রাধান্য পায়। শিশুকে বৈবাহিক যৌনতার অধীনে আনার এই ব্যবস্থা তার নিজের শরীরের ওপর স্বাধীন অধিকার প্রতিষ্ঠার নীতির সঙ্গে মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক।
অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর ইদ্দত ও সহবাসে যৌনাঙ্গ বিদীর্ণ হওয়ার ইসলামি বিধান
কোরআন ৩৩:৪৯ ও ৬৫:৪: অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর তালাক-পরবর্তী ইদ্দত ও সহবাস
অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর সঙ্গে যৌনসম্পর্কের বিষয়টি ইসলামি আইনশাস্ত্রে কীভাবে স্থান পেয়েছে, তার একটি মৌলিক প্রমাণ কোরআনের দুটি আয়াতের মধ্যেই রয়েছে। সূরা আহযাবের ৪৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বিবাহের পর সহবাসের আগে তালাক দিলে স্ত্রীর ওপর কোনো ইদ্দত নেই বলে নির্দেশ দিয়েছেন। আয়াতটির ভাষা সরাসরি: স্ত্রীকে স্পর্শ করার আগে তালাক দিলে তার জন্য গণনা করার মতো কোনো ইদ্দত নেই। আয়াতটিতে ব্যবহৃত ‘স্পর্শ’ শব্দটি সহবাস অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ বিবাহ সম্পন্ন হওয়া এবং তালাক সংঘটিত হওয়াই তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর ইদ্দত আরোপের জন্য যথেষ্ট নয়। সহবাসের আগে তালাকের ক্ষেত্রে কোরআন ইদ্দত অস্বীকার করেছে। [4]
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نَكَحْتُمُ الْمُؤْمِنَاتِ ثُمَّ طَلَّقْتُمُوهُنَّ مِنْ قَبْلِ أَنْ تَمَسُّوهُنَّ فَمَا لَكُمْ عَلَيْهِنَّ مِنْ عِدَّةٍ تَعْتَدُّونَهَا فَمَتِّعُوهُنَّ وَسَرِّحُوهُنَّ سَرَاحًا جَمِيلًا
বাংলা অনুবাদ: হে মুমিনগণ! তোমরা যখন মুমিন নারীদের বিবাহ করো, তারপর তাদের স্পর্শ করার আগে তালাক দাও, তখন তাদের ওপর তোমাদের গণনা করার মতো কোনো ইদ্দত নেই। সুতরাং তাদের কিছু সামগ্রী প্রদান করো এবং সুন্দরভাবে বিদায় দাও।
অন্যদিকে সূরা তালাকের ৪ নম্বর আয়াতে মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া নারীদের পাশাপাশি এমন মেয়েদের জন্যও তিন মাসের ইদ্দত নির্ধারণ করা হয়েছে, যাদের এখনো মাসিক শুরু হয়নি। আয়াতের বক্তব্যে ‘وَاللَّائِي لَمْ يَحِضْنَ’—অর্থাৎ যারা এখনো ঋতুমতী হয়নি—এই শ্রেণি সরাসরি উপস্থিত। ফলে ইসলামি বিবাহ ও তালাকের বিধানে ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার আগের মেয়েদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কোরআনের ৩৩:৪৯ আয়াতে সহবাসের আগে তালাকের জন্য ইদ্দত অস্বীকার করা হয়েছে, আর ৬৫:৪ আয়াতে মাসিক শুরু হয়নি এমন মেয়েদের ইদ্দত নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দুটি বিধান একত্রে প্রাক্ঋতুবতী বিবাহিত মেয়েদের সঙ্গে সহবাসের বিষয়টিকে কোরআনের আইনগত কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসে। [5]
وَاللَّائِي يَئِسْنَ مِنَ الْمَحِيضِ مِنْ نِسَائِكُمْ إِنِ ارْتَبْتُمْ فَعِدَّتُهُنَّ ثَلَاثَةُ أَشْهُرٍ وَاللَّائِي لَمْ يَحِضْنَ وَأُولَاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ
বাংলা অনুবাদ: তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ঋতুস্রাব থেকে নিরাশ হয়েছে, তাদের ইদ্দত সম্পর্কে তোমরা সন্দিহান হলে তাদের ইদ্দত তিন মাস; আর যারা এখনো ঋতুমতী হয়নি, তাদেরও। আর গর্ভবতী নারীদের মেয়াদ হলো সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত।
এই দুই আয়াতের সম্পর্ক ইমাম তাবারি তাঁর জামিউল বায়ান গ্রন্থে আরও স্পষ্ট করেছেন। সূরা তালাকের ৪ নম্বর আয়াত ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি মাসিক শুরু হয়নি এমন মেয়েদের ‘অল্পবয়সের কারণে ঋতুমতী হয়নি’ বলে চিহ্নিত করেছেন এবং স্বামীর সঙ্গে সহবাসের পরে তালাকপ্রাপ্ত হলে তাদের ইদ্দত তিন মাস হওয়ার কথা লিখেছেন। এটি কেবল আয়াতে ব্যবহৃত শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা নয়; তালাকের আগে দাম্পত্য সহবাস সংঘটিত হওয়ার শর্তটিও তাবারির বক্তব্যে রয়েছে। তাঁর ভাষায়, যেসব অল্পবয়সী মেয়ের এখনো মাসিক হয়নি, স্বামীরা তাদের সঙ্গে সহবাসের পরে তালাক দিলে তাদের ইদ্দতও তিন মাস। [6]
وَكَذَلِكَ عِدَدُ اللَّائِي لَمْ يَحِضْنَ مِنَ الْجَوَارِي لِصِغَرٍ إِذَا طَلَّقَهُنَّ أَزْوَاجُهُنَّ بَعْدَ الدُّخُولِ
বাংলা অনুবাদ: একইভাবে যেসব অল্পবয়সী মেয়ের কম বয়সের কারণে এখনো মাসিক শুরু হয়নি, তাদের স্বামীরা তাদের সঙ্গে সহবাসের পরে তালাক দিলে তাদের ইদ্দতের বিধানও একই।
তাবারি একই আলোচনায় তাবেয়ি দাহহাকের বক্তব্য সংরক্ষণ করেছেন। দাহহাকের ব্যাখ্যায় মাসিক শুরু হওয়ার আগেই সহবাস সংঘটিত হওয়ার কথা সরাসরি রয়েছে। তাঁর বক্তব্যে বলা হয়েছে, এসব মেয়ে এখনো ঋতুস্রাবের বয়সে পৌঁছায়নি, অথচ তাদের স্পর্শ বা সহবাস করা হয়েছে; তাদের ইদ্দত তিন মাস। ফলে এখানে অপ্রাপ্তবয়স্কার বিবাহ কিংবা ইদ্দতের অনুমাননির্ভর আলোচনা নেই। মাসিক শুরু হওয়ার আগেই যৌনসম্পর্ক সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি প্রাচীন তাফসীরের মূল ভাষাতেই স্বীকৃত। [7]
قَالَ: الْقَوَاعِدُ مِنَ النِّسَاءِ، وَاللَّائِي لَمْ يَحِضْنَ: لَمْ يَبْلُغْنَ الْمَحِيضَ، وَقَدْ مُسِسْنَ، عِدَّتُهُنَّ ثَلَاثَةٌ
বাংলা অনুবাদ: তিনি বলেছেন: বয়স্ক নারীরা এবং যারা এখনো ঋতুমতী হয়নি—অর্থাৎ যেসব মেয়ে এখনো মাসিকের বয়সে পৌঁছায়নি, অথচ তাদের সঙ্গে সহবাস করা হয়েছে—তাদের ইদ্দত তিন মাস।
অপ্রাপ্তবয়স্কার শারীরিক অপরিপক্বতা ও সহবাসের ক্ষতি সম্পর্কেও প্রাচীন ব্যাখ্যায় সরাসরি স্বীকৃতি পাওয়া যায়, যা স্পষ্ট করে যে, প্রাচীন স্কলাররা এই সম্পর্কে অবগত ছিলেন। আল-যাজ্জাজ তাঁর মাআনিল কোরআন ওয়া ই’রাবুহু গ্রন্থে সূরা তালাকের ৪ নম্বর আয়াত আলোচনা করতে গিয়ে এমন ছোট মেয়ের কথা বলেছেন, যার সমবয়সীদের সঙ্গে সাধারণত সহবাস করা হয় না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এমন মেয়ের সঙ্গে সহবাস করা হলে কার্যত তার শরীর ক্ষতবিক্ষত করার কাজ করা হয়। এরপর তিনি ইমাম মালিকের নামে সংরক্ষিত সেই অবস্থানের আলোচনা করেছেন, যেখানে এমন মেয়েকে সহবাসের উপযুক্ত না হওয়ায় স্বাভাবিক সহবাস-সম্পন্ন স্ত্রীর শ্রেণিতে গণ্য করা হয়নি। এখানে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হলো, ফিকহি ব্যাখ্যার মধ্যেই অপরিণত শরীরে penetration-এর ধ্বংসাত্মক প্রকৃতি শনাক্ত করা হয়েছে। [8]
فَأَمّا الصَّغِيرَةُ الَّتِي لا يُوطَأُ مِثْلُها فَإنْ دَخَلَ بِها ووَطِئَها مَكانَهُ فَإنَّما عَقَرَها
বাংলা অনুবাদ: কিন্তু যে ছোট মেয়ের সমবয়সীদের সঙ্গে সাধারণত সহবাস করা হয় না, তার সঙ্গে স্বামী সহবাস করলে সে কার্যত মেয়েটির শরীর ক্ষতবিক্ষত করে ফেলে।
এই দলিলগুলোতে একটি ধারাবাহিক বাস্তবতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কোরআনে মাসিক শুরু হয়নি এমন তালাকপ্রাপ্ত মেয়েদের জন্য ইদ্দত রয়েছে; তাবারি ও দাহহাকের ব্যাখ্যায় তাদের সঙ্গে সহবাসের কথা সরাসরি এসেছে; আর আল-যাজ্জাজ অপ্রাপ্তবয়স্ক ও সহবাসের অযোগ্য মেয়ের ওপর যৌনসঙ্গমের শারীরিক ক্ষতিকে স্বীকার করেছেন। অথচ শিশু যৌন সম্মতি দিতে সক্ষম কি না, সেই প্রশ্ন এই আইনগত ব্যবস্থার কেন্দ্র নয়। শিশুর ঋতুস্রাব শুরু হয়েছে কি না, তার শরীর penetration সহ্য করতে পারে কি না এবং সহবাসের পরে তাকে কতদিন ইদ্দত পালন করতে হবে—এসব প্রশ্নই আইনি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ধর্মীয় বিবাহ শিশুর শারীরিক বিকাশ কিংবা স্বাধীন যৌন সম্মতির সক্ষমতা তৈরি করে না। তাই প্রাক্ঋতুবতী মেয়ের সঙ্গে যৌনসঙ্গমকে বৈবাহিক অধিকারের আওতায় আনা শিশুর যৌন নিরাপত্তার সঙ্গে মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক।
আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আলেম এবং ইসলামি আইনবিষয়ক লেখক সাইয়েদ সাবেকের ফিকহুস সুন্নাহ গ্রন্থেও অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ইদ্দত তিন মাস হওয়ার বিধান রয়েছে। গ্রন্থটির বাংলা সংস্করণে সূরা তালাকের ৪ নম্বর আয়াত এবং উবাই ইবনে কাবের নামে বর্ণিত ঘটনার মাধ্যমে এই বিধানের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। [9]
অঋতুবতীর (যার হায়েয এখনো হয়নি) ইদ্দত স্ত্রী যদি অঋতুবতী হয় তবে তার ইদ্দত তিন মাস। এটা অপ্রাপ্তবয়স্কা বালিকা এবং মাসিক স্রাবের বয়স পেরিয়ে যাওয়া বৃদ্ধা উভয়ের বেলায় প্রযোজ্য, চাই তার আদৌ মাসিক স্রাব না হয়ে থাকুক, অথবা মাসিক স্রাব হওয়ার পর বন্ধ হয়ে গিয়ে থাকুক। এর প্রমাণ ইতিপূর্বে উল্লিখিত সূরা তালাকের ৪ নং আয়াত দ্রষ্টব্য।
ইবনে আবি হাশেম তার তাফসীরে উল্লেখ করেছেন যে, উবাই বিন কা’ব বলেন: আমি
বললাম: হে রসূলুল্লাহ, কুরআনে আল্লাহ অপ্রাপ্তবয়স্কা, বৃদ্ধা ও গর্ভবতী মহিলাদের ইদ্দত সম্পর্কে কিছু না বলায় মদিনার কিছু লোক নানা কথা বলে। তখন আল্লাহ সূরা তালাকের ৪নং আয়াত নাযিল করলেন। ঐ আয়াতে বলা হয়েছে, গর্ভবতী মহিলার ইদ্দত তার সন্তান প্রসব পর্যন্ত। যখন প্রসব করবে, তখন তার ইদ্দত শেষ হয়ে যাবে।
জারিরের বর্ণনার ভাষা এরকম: “আমি বললাম: হে রসূলুল্লাহ, মহিলাদের ইদ্দত সম্পর্কে
সূরা বাকারার আয়াত নাযিল হওয়ার পর মদিনার কিছু লোক বললো: কুরআনে কিছু সংখ্যক মহিলার ইদ্দত উল্লেখ করা হয়নি। তারা হচ্ছে অপ্রাপ্তবয়স্কা, হায়েযের বয়স পেরিয়ে যাওয়া বৃদ্ধা এবং গর্ভবতী নারীগণ। তখন আল্লাহ সূরা তালাকের ৪নং আয়াত নাযিল করলেন।

এই একই গ্রন্থে অপ্রাপ্তবয়ষ্ক মেয়েদের সাথে সঙ্গমকালে যোনিপথ ফেটে গেলে স্বামীর জরিমানা হওয়ার কথা বলা আছে। তবে এখানে শর্ত হচ্ছে, যোনিপথ এবং পায়ুপথ একাকার হয়ে গেলেই শুধুমাত্র এই জরিমানা প্রযোজ্য হবে। মাঝে কোন আড়াল থাকলে কোন জরিমানা হবে না। যদিও এগুলো মুহাম্মদের অনেক পরে ইমামগণের সংযুক্তি, তারপরেও ইসলাম যে খুব পরিষ্কারভাবে শিশুকামকে বৈধতা দিয়েছে, তার প্রমাণ বহন করে। অর্থাৎ মুমিনদের খেয়াল রাখতে হবে যে, অপ্রাপ্তবয়ষ্ক বাচ্চাটির যোনিপথ এবং পায়ুপথ যেন ফেটে একাকার না হয়ে যায়। এইটুকু না করলেই হলো। আর সেটি হয়ে গেলে সামান্য জরিমানা দিয়ে দিলেই তো হলো! [10] –
১. স্বামীর সহবাসে যদি স্ত্রীর যোনি ফেটে প্রশস্ত হয়ে যায় কোনো ব্যক্তি যখন স্বীয় স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে গিয়ে তার যোনি বিদীর্ণ করে প্রশস্ত করে দেয়, তবে স্ত্রী যদি এরূপ প্রাপ্তবয়স্কা হয় যে, তার সমান মহিলার সাথে সাধারণ সহবাস করা হয়ে থাকে, তাহলে তার কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হবেনা। এটা ইমাম আবু হানিফা ও আহমদের মত, শাফেয়ি ও মালেকের মতে দিয়াত দিতে হবে। তবে মালেকের যে মতটি অধিক প্রসিদ্ধ, তদনুসারে সালিশী দ্বারা ফায়সালা করা হবে। আর যদি এমন অপ্রাপ্তবয়স্কা হয়, যার সমান মেয়ের সাথে সচরাচর সহবাস করা হয়না, তাহলে তার উপর দিয়াত ওয়াজিব। উল্লেখ্য যে, এই বিধিটি তখনই প্রযোজ্য, যখন যোনি বিদীর্ণ হয়ে মলদ্বারের সাথে একাকার হয়ে যায় এবং এই দুই অঙ্গের মধ্যে কোনো আড়াল থাকেনা।

সাইয়েদ সাবেকের বিচ্ছিন্ন মত নয়: হাম্বলি ফিকহে ‘ছোট স্ত্রীকে সহবাস করে বিদীর্ণ করা’
ফিকহুস সুন্নাহ-তে অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করতে গিয়ে তার যৌনাঙ্গ বিদীর্ণ হওয়ার যে বিধানটি পাওয়া যায়, সেটিকে সাইয়েদ সাবেকের ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা, আধুনিক যুগের বিচ্ছিন্ন কোনো ফতোয়া কিংবা বাংলা অনুবাদের অদ্ভুত সংযোজন বলে উড়িয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বহু শতাব্দী আগের প্রধান ইসলামি ফিকহগ্রন্থে একই সমস্যাকে সুস্পষ্ট আইনগত মাসআলা হিসেবে আলোচনা করা হয়েছে। হাম্বলি মাজহাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলোর একটি ইবন কুদামার আল-মুগনি-তে মাসআলার শিরোনামই হচ্ছে—“যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে সহবাস করল যখন সে ছোট, এবং তাকে বিদীর্ণ করে ফেলল”—وطئ زوجته وهي صغيرة ففتقها। অর্থাৎ এখানে “শিশু স্ত্রী” বা “ছোট স্ত্রী” কোনো ইসলাম-সমালোচকের আরোপিত শব্দ নয়; আরবি মূলেই স্ত্রীকে صغيرة, অর্থাৎ ছোট বা অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে হিসেবে চিহ্নিত করে তার সঙ্গে স্বামীর সহবাস এবং সেই সহবাসে তার দেহ ছিঁড়ে যাওয়ার বিধান লেখা হয়েছে। আল-মুগনি-র মাসআলা ৬৯৮৫-এ বলা হয়েছে: “ومن وطئ زوجته وهي صغيرة ففتقها لزمه ثلث الدية”—যে ব্যক্তি নিজের ছোট স্ত্রীকে সহবাস করে বিদীর্ণ করে ফেলবে, তার ওপর এক-তৃতীয়াংশ দিয়াত আবশ্যক হবে। [11] [12]
হাম্বলি মাযহাবের গুরুত্বপূর্ণ ফিকহগ্রন্থ আল-মুগনি-তে ইবন কুদামা অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর সঙ্গে সহবাসে যৌনাঙ্গ বিদীর্ণ হওয়া, ক্ষতিপূরণের দায়, স্বামীর জ্ঞান ও ইচ্ছা, প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা নষ্ট হওয়া এবং ক্ষত সেরে যাওয়ার পরেও ক্ষতিপূরণের বিধান বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। মাসআলা ৬৯৮৫–৬৯৮৯-এর পূর্ণ বিবরণে আবু হানিফা, শাফেয়ি, কাতাদা, উমর ইবনুল খাত্তাব ও উমর ইবনে আবদুল আজিজের নামে সংরক্ষিত পৃথক অবস্থানও পাওয়া যায়। [13]
( 6985 ) مسألة ; قال : ( ومن وطئ زوجته ، وهي صغيرة ، ففتقها ، لزمه ثلث الدية ) . معنى الفتق ، خرق ما بين مسلك البول والمني . وقيل : بل معناه خرق ما بين القبل والدبر ، إلا أن هذا بعيد ; لأنه يبعد أن يذهب بالوطء ما بينهما من الحاجز ، فإنه حاجز غليظ قوي . والكلام في هذه المسألة : في فصلين ; ( 6986 ) الفصل الأول ، في أصل وجوب الضمان . والثاني : في قدره : أما الأول ، فإن الضمان إنما يجب بوطء الصغيرة أو النحيفة التي لا تحمل الوطء ، دون الكبيرة المحتملة له . وبهذا قال أبو حنيفة .
وقال الشافعي : يجب الضمان في الجميع ; لأنه جناية ، فيجب الضمان به ، كما لو كان في أجنبية . ولنا ، أنه وطء مستحق ، فلم يجب ضمان ما تلف به كالبكارة ، ولأنه فعل مأذون فيه ممن يصح إذنه ، فلم يضمن ما تلف بسرايته ، كما لو أذنت في مداواتها بما يفضي إلى ذلك ، وكقطع السارق ، أو استيفاء القصاص ، وعكسه الصغيرة والمكرهة على الزنا . إذا ثبت هذا ، فإنه يلزمه المهر المسمى في النكاح ، مع أرش الجناية ، ويكون أرش الجناية في ماله ، إن كان عمدا محضا ، وهو أن يعلم أنها لا تطيقه ، وأن وطأه يفضيها .
فأما إن لم يعلم ذلك ، وكان مما يحتمل أن لا يفضي [ ص: 373 ] إليه ، فهو عمد الخطإ ، فيكون على عاقلته ، إلا على قول من قال : إن العاقلة لا تحمل عمد الخطإ ، فإنه يكون في ماله .
( 6987 ) الفصل الثاني : في قدر الواجب ، وهو ثلث الدية . وبهذا قال قتادة ، وأبو حنيفة . وقال الشافعي : تجب الدية كاملة . وروي ذلك عن عمر بن عبد العزيز ; لأنه أتلف منفعة الوطء ، فلزمته الدية ، كما لو قطع إسكتيها . ولنا ، ما روي عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه أنه قضى في الإفضاء بثلث الدية . ولم نعرف له في الصحابة مخالفا . ولأن هذه جناية تخرق الحاجز بين مسلك البول والذكر ، فكان موجبها ثلث الدية ، كالجائفة . ولا نسلم أنها تمنع الوطء ، وأما قطع الإسكتين ، فإنما أوجب الدية ; لأنه قطع عضوين فيهما نفع وجمال ، فأشبه قطع الشفتين .
( 6988 ) فصل : وإن استطلق بولها مع ذلك ، لزمته دية من غير زيادة . وبهذا قال أبو حنيفة . وقال الشافعي : تجب دية وحكومة ; لأنه فوت منفعتين ، فلزمه أرشهما ، كما لو فوت كلامه وذوقه . ولنا ، أنه أتلف عضوا واحدا ، فلم يفت غير منافعه ، فلم يضمنه بأكثر من دية واحدة ، كما لو قطع لسانه فذهب ذوقه وكلامه . وما قاله لا يصح ; لأنه لو أوجب دية المنفعتين ، لأوجب ديتين ; لأن استطلاق البول موجب الدية ، والإفضاء عنده موجب الدية منفردا ، ولم يقل به ، وإنما أوجب الحكومة ، ولم يوجد مقتضيها ، فإننا لا نعلم أحدا أوجب في الإفضاء حكومة .
( 6989 ) فصل : وإن اندمل الحاجز ، وانسد ، وزال الإفضاء ، لم يجب ثلث الدية ، ووجبت حكومة ، لجبر ما حصل من النقص .
বাংলা অনুবাদ:
মাসআলা ৬৯৮৫: তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করল, যখন সে ছোট বা অপ্রাপ্তবয়স্ক, এবং এর ফলে তার যৌনাঙ্গ বিদীর্ণ করে ফেলল, তার ওপর দিয়াতের এক-তৃতীয়াংশ আবশ্যক হবে।
‘ফতক’ বা বিদারণের অর্থ হলো প্রস্রাবের পথ ও বীর্য প্রবেশের পথের মধ্যবর্তী পর্দা ছিঁড়ে যাওয়া। অন্য একটি মত অনুযায়ী, এর অর্থ যোনিপথ ও মলদ্বারের মধ্যবর্তী পর্দা ছিঁড়ে যাওয়া। তবে এই দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটি দূরবর্তী বা অসম্ভাব্য। কারণ সহবাসের ফলে এই দুই পথের মাঝখানের পর্দা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়া সহজে ঘটে না; কেননা সেই পর্দা পুরু ও শক্তিশালী।
এই মাসআলার আলোচনা দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত। প্রথম পরিচ্ছেদে ক্ষতিপূরণের দায় আদৌ আবশ্যক হয় কি না এবং দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ আলোচনা করা হয়েছে।
মাসআলা ৬৯৮৬ — প্রথম পরিচ্ছেদ: ক্ষতিপূরণের দায় প্রতিষ্ঠিত হওয়া। প্রথমত, ক্ষতিপূরণের দায় তখনই আবশ্যক হয়, যখন ছোট বা অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী অথবা এমন দুর্বল-শীর্ণ স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করা হয়, যে সহবাস সহ্য করতে পারে না। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক এবং সহবাস সহ্য করতে সক্ষম স্ত্রীর ক্ষেত্রে এই ক্ষতিপূরণ আবশ্যক হয় না। আবু হানিফাও এই মত দিয়েছেন।
অন্যদিকে শাফেয়ি বলেছেন, সব ক্ষেত্রেই ক্ষতিপূরণ আবশ্যক। কারণ এটি একটি শারীরিক অপরাধ বা ক্ষতিকর আঘাত; সুতরাং এর জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, যেমন নিজের স্ত্রী নয় এমন অন্য কোনো নারীর ক্ষেত্রে একই ক্ষতি ঘটালে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়।
আমাদের যুক্তি হলো, এটি এমন এক সহবাস যার আইনগত অধিকার স্বামীর রয়েছে। তাই সেই সহবাসের ফলে যে ক্ষতি ঘটে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ আবশ্যক হয় না; যেমন সহবাসে কুমারীত্ব নষ্ট হওয়ার জন্য ক্ষতিপূরণ আবশ্যক হয় না। একইভাবে এটি এমন একটি কাজ, যার অনুমতি দেওয়ার আইনগত ক্ষমতা যার রয়েছে, সে অনুমতি দিয়েছে। ফলে অনুমোদিত কাজটির পরিণতিতে যে ক্ষতি ঘটে, তার ক্ষতিপূরণের দায়ও বর্তায় না। যেমন কোনো নারী এমন চিকিৎসার অনুমতি দিলেন যার ফলে একই ধরনের ক্ষতি ঘটে; অথবা চোরের হাত কর্তন কিংবা কিসাসের শাস্তি কার্যকর করার ক্ষেত্রে যে ক্ষতি ঘটে। এর বিপরীত অবস্থা হলো অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে এবং ব্যভিচারে বাধ্য করা নারী।
এটি প্রতিষ্ঠিত হলে স্বামীর ওপর বিবাহে নির্ধারিত মোহর এবং সেই সঙ্গে আঘাতের ক্ষতিপূরণ আবশ্যক হবে। আঘাতের ক্ষতিপূরণ স্বামীর নিজস্ব সম্পদ থেকে দিতে হবে, যদি কাজটি সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃত হয়। সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃত হওয়ার অর্থ হলো, স্বামী জানত যে স্ত্রী সহবাস সহ্য করতে পারবে না এবং তার সঙ্গে সহবাস করলে ইফদা বা যৌনাঙ্গ বিদীর্ণ হওয়ার ক্ষতি ঘটবে।
কিন্তু স্বামী যদি তা না জানে এবং পরিস্থিতি এমন হয় যে সহবাসে ওই ক্ষতি না-ও ঘটতে পারত, তাহলে সেটি ‘আমদুল খাতা’—অর্থাৎ ইচ্ছাকৃত কাজের মাধ্যমে ভুলক্রমে সংঘটিত ক্ষতির শ্রেণিতে পড়বে। সে ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের দায় তার আকিলা বা প্রচলিত আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ বহনকারী আত্মীয়গোষ্ঠীর ওপর বর্তাবে। তবে যাঁরা মনে করেন আকিলা এই ধরনের ক্ষতির দায় বহন করে না, তাঁদের মতে ক্ষতিপূরণ স্বামীর নিজের সম্পদ থেকেই দিতে হবে।
মাসআলা ৬৯৮৭ — দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আবশ্যক ক্ষতিপূরণের পরিমাণ। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ হলো পূর্ণ দিয়াতের এক-তৃতীয়াংশ। কাতাদা এবং আবু হানিফাও এই মত দিয়েছেন।
অন্যদিকে শাফেয়ি বলেছেন, পূর্ণ দিয়াত আবশ্যক হবে। উমর ইবনে আবদুল আজিজের নামেও এই মত বর্ণিত হয়েছে। তাঁদের যুক্তি হলো, স্বামী স্ত্রীর সহবাসসংক্রান্ত শারীরিক কার্যক্ষমতা নষ্ট করেছে; সুতরাং পূর্ণ দিয়াত আবশ্যক হবে, যেমন কোনো নারীর দুই যোনিওষ্ঠ কেটে ফেললে পূর্ণ দিয়াত আবশ্যক হয়।
আমাদের যুক্তি হলো, উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি ইফদার ক্ষেত্রে দিয়াতের এক-তৃতীয়াংশ প্রদানের রায় দিয়েছিলেন। সাহাবিদের মধ্যে তাঁর এই সিদ্ধান্তের বিরোধী কাউকে আমরা জানি না।
এ ছাড়া এই আঘাতের ফলে প্রস্রাবের পথ ও যৌনাঙ্গের মধ্যবর্তী পর্দা ছিঁড়ে যায়। তাই এর ক্ষতিপূরণ এক-তৃতীয়াংশ দিয়াত হবে, যেমন শরীরের অভ্যন্তরীণ গহ্বর পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া গুরুতর জখম বা ‘জায়িফা’-র ক্ষেত্রে হয়।
আমরা এই বক্তব্যও স্বীকার করি না যে ইফদা সহবাসের সক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। আর দুই যোনিওষ্ঠ কেটে ফেলার ক্ষেত্রে পূর্ণ দিয়াত আবশ্যক হওয়ার কারণ হলো, সেখানে উপকারিতা ও সৌন্দর্যবিশিষ্ট দুটি অঙ্গ কেটে ফেলা হয়। এটি দুই ঠোঁট কেটে ফেলার অনুরূপ।
মাসআলা ৬৯৮৮ — প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা নষ্ট হলে ক্ষতিপূরণ। যদি ইফদার পাশাপাশি স্ত্রীর প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে স্বামীর ওপর একটি পূর্ণ দিয়াত আবশ্যক হবে; এর অতিরিক্ত কোনো ক্ষতিপূরণ আবশ্যক হবে না। আবু হানিফাও এই মত দিয়েছেন।
অন্যদিকে শাফেয়ি বলেছেন, এ ক্ষেত্রে একটি পূর্ণ দিয়াত এবং সেই সঙ্গে বিচারকের নির্ধারিত অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ বা ‘হুকুমা’ আবশ্যক হবে। কারণ স্বামী দুটি পৃথক শারীরিক কার্যক্ষমতা নষ্ট করেছে; তাই উভয় ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যেমন কোনো ব্যক্তির কথা বলার ক্ষমতা এবং স্বাদ গ্রহণের ক্ষমতা নষ্ট করলে উভয়ের ক্ষতিপূরণ দিতে হয়।
আমাদের যুক্তি হলো, এখানে একটি অঙ্গই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেই অঙ্গের কার্যক্ষমতাগুলোই নষ্ট হয়েছে। তাই একটি পূর্ণ দিয়াতের বেশি ক্ষতিপূরণ আবশ্যক হবে না। যেমন কারও জিহ্বা কেটে ফেলার ফলে তার স্বাদ গ্রহণ ও কথা বলার ক্ষমতা উভয়ই নষ্ট হলেও একটি পূর্ণ দিয়াতের বেশি ক্ষতিপূরণ দিতে হয় না।
শাফেয়ির এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ যদি দুটি পৃথক কার্যক্ষমতা নষ্ট হওয়ার জন্য পৃথক দিয়াত আবশ্যক করা হয়, তাহলে দুটি পূর্ণ দিয়াত আবশ্যক হওয়ার কথা। প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা নষ্ট হলে পূর্ণ দিয়াত আবশ্যক হয় এবং শাফেয়ির নিজের মতেই ইফদার জন্য পৃথকভাবে পূর্ণ দিয়াত আবশ্যক। কিন্তু তিনি দুটি দিয়াত আবশ্যক বলেননি; বরং একটি দিয়াতের সঙ্গে হুকুমা আবশ্যক বলেছেন। অথচ এখানে হুকুমা আবশ্যক হওয়ার প্রয়োজনীয় কারণ পাওয়া যায় না। কারণ ইফদার ক্ষেত্রে হুকুমা আবশ্যক বলেছেন, এমন কাউকে আমরা জানি না।
মাসআলা ৬৯৮৯ — ক্ষতস্থান সেরে গেলে ক্ষতিপূরণ। যদি ছিঁড়ে যাওয়া মধ্যবর্তী পর্দাটি সেরে যায়, ক্ষতস্থান বন্ধ হয়ে যায় এবং ইফদার অবস্থা দূর হয়ে যায়, তাহলে দিয়াতের এক-তৃতীয়াংশ আবশ্যক হবে না। তবে যে ক্ষতি বা ঘাটতি সংঘটিত হয়েছিল, তার ক্ষতিপূরণের জন্য বিচারকের নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ বা হুকুমা আবশ্যক হবে।

এর পরের ব্যাখ্যাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। ইবন কুদামা পরিষ্কার করে বলেন, ক্ষতিপূরণের এই বিধান মূলত “الصغيرة أو النحيفة التي لا تحمل الوطء”—অর্থাৎ “ছোট মেয়ে অথবা এমন দুর্বল নারী যে সহবাস সহ্য করতে পারে না”—তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; “বড় এবং সহবাস সহ্য করতে সক্ষম” স্ত্রীর ক্ষেত্রে নয়। একই জায়গায় তিনি বলেন, “وبه قال أبو حنيفة”—আবু হানিফার মতও এই অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ; অন্যদিকে শাফেয়ির মতে স্ত্রীর ক্ষেত্রে ইফদা ঘটলে সাধারণভাবেই ক্ষতিপূরণ প্রযোজ্য। এখানে ফিকহি আলোচনাটি খুব পরিষ্কারভাবে এমন এক মেয়েকে কল্পনা করছে যার শরীর penetration সহ্য করার ক্ষমতাই রাখে না। অথচ তার সঙ্গে একজন প্রাপ্তবয়স্ক স্বামীর যৌনসঙ্গম অসম্ভব বা ইসলামি আইনে কঠোরভাবে হারাম বা নিষিদ্ধ, এরকম কিছুই বলা হয়নি। কোনো কল্পনাতীত ঘটনা হিসেবে বাদও দেওয়া হয়নি; বরং সেই সহবাস সংঘটিত হয়ে তার শরীর ছিঁড়ে গেলে কী আর্থিক দায় হবে, সেই হিসাব অর্থমূল্যে কত হতে পারে তা তৈরি হয়েছে। [14] [15]
“ফতক” বা “ইফদা” বলতে এখানে সাধারণ সহবাসজনিত ব্যথা বা সামান্য ক্ষত বোঝানো হচ্ছে না। আল-মুগনি প্রথম ব্যাখ্যায় একে মূত্রপথ ও যৌনপথের মধ্যবর্তী পর্দা ছিন্ন হয়ে যাওয়া হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে; পাশাপাশি আরেকটি মত হিসেবে যোনিপথ ও মলদ্বারের মধ্যবর্তী দেয়াল ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ব্যাখ্যাও উল্লেখ করে। অর্থাৎ আলোচনার বিষয় হচ্ছে penetration-এর ফলে নারীর অভ্যন্তরীণ শারীরিক বিভাজন ধ্বংস হয়ে দুটি স্বাভাবিক পথ এক হয়ে যাওয়ার মতো ভয়াবহ ক্ষতি। পরবর্তী হাম্বলি গ্রন্থ আল-ইনসাফ-এ একই সংজ্ঞা, একই “ছোট স্ত্রী” এবং একই সহবাসজনিত বিদারণের বিধান পুনরাবৃত্ত হয়েছে। আল-মারদাওয়ি লেখেন, স্বামী যদি এমন স্ত্রীকে সহবাস করে যে “ছোট, অথবা এমন দুর্বল যার মতো নারীকে সহবাস করা হয় না”, এবং তাকে বিদীর্ণ করে ফেলে, তাহলে এক-তৃতীয়াংশ দিয়াত আবশ্যক; আর প্রস্রাব ধরে রাখার ক্ষমতা নষ্ট হলে আরও গুরুতর আর্থিক জরিমানা বা ক্ষতিপূরণের আলোচনা আসে। [16]
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, আল-ইনসাফ এই বিধানকে একক কোনো ফকিহের বিচ্ছিন্ন মত হিসেবে উপস্থাপন করেনি। সেখানে আল-মুগনি, আল-শারহ, আল-যারকাশি, আল-হিদায়া, আল-মাযহাব, আল-খুলাসা এবং আল-কাফি-র মতো একাধিক হাম্বলি গ্রন্থের নাম এনে দেখানো হয়েছে যে “ছোট স্ত্রী অথবা সহবাস সহ্য করতে অক্ষম স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করে বিদীর্ণ করা”—এই সমস্যাটি হাম্বলি আইনশাস্ত্রের ভেতরে প্রতিষ্ঠিত আলোচ্য বিষয়। পরবর্তী কাশশাফ আল-কিনাʿ-তেও একই আইন আরও বিশদভাবে এসেছে: “ومن وطئ زوجته وهي صغيرة لا يوطأ مثلها لمثله، أو نحيفة…”—যে নিজের স্ত্রীকে সহবাস করল যখন সে এত ছোট যে তার মতো মেয়েকে সাধারণত সহবাস করা হয় না, অথবা এত দুর্বল যে সহবাস সহ্য করতে পারে না—এবং এর ফলে মূত্রপথ-যৌনপথ বা যোনি-মলদ্বারের মাঝের পর্দা ছিন্ন হয়, তাহলে প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়েছে কি না তার ভিত্তিতে দিয়াত নির্ধারিত হবে। গ্রন্থটি এমনকি স্বামী জানত কি না যে মেয়েটি সহবাস সহ্য করতে পারবে না, সেই ভিত্তিতেও দায়ের প্রকৃতি আলোচনা করেছে। [17]
এই প্রাচীন বিধানকে “মধ্যযুগের মৃত আইন” বলেও পাশ কাটানো যায় না। আধুনিক সালাফি ফতোয়া-সাইট IslamQA শিশুবিবাহ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস নিয়ে আজও ঠিক একই মৌলিক ফিকহি নীতি প্রকাশ করছে। সেখানে সরাসরি বলা হয়েছে: “لا علاقة للبلوغ بالجماع”—সহবাসের সঙ্গে বয়ঃসন্ধির কোনো আবশ্যিক সম্পর্ক নেই; মেয়েটি “সহবাসের উপযুক্ত” হলে স্বামী তার সঙ্গে সহবাস করতে পারে, এবং এর জন্য তার বয়ঃসন্ধি হওয়া শর্ত নয়; বয়ঃসন্ধির আগেও তা হতে পারে। অন্য উত্তরে তারা মালিক, শাফেয়ি ও আবু হানিফার নামে উদ্ধৃত করেছে যে এ ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই; মানদণ্ড হলো মেয়েটি সহবাস “সহ্য করতে পারে” কি না। অর্থাৎ আধুনিক ইসলামি ব্যাখ্যাতেও মৌলিক নীতি “প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া” নয়, “penetration সহ্য করতে পারা”। [18] [19] [20]
এখানেই এই আইনের নৈতিক বিকৃতি সবচেয়ে পরিষ্কার। ফকিহরা জানতেন, এমন মেয়ে থাকতে পারে যার শরীর সহবাসের জন্য এতটাই অপরিণত যে penetration-এ তার অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ছিঁড়ে যেতে পারে। তাঁরা সেই আঘাতের নাম দিয়েছেন, শারীরস্থানিক সংজ্ঞা দিয়েছেন, প্রস্রাব ধরে রাখতে পারছে কি না তা দিয়ে আঘাতের মাত্রা ভাগ করেছেন, এক-তৃতীয়াংশ ও পূর্ণ দিয়াতের হিসাব করেছেন এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সেই হিসাব নিয়ে আলোচনা করেছেন। কিন্তু এই বিপুল আইনগত পরিশ্রমের ভিত্তিতে যে নৈতিক সিদ্ধান্তটি সবচেয়ে আগে আসা উচিত ছিল—একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর শরীরকে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক স্বামীর penetration-এর জন্য উন্মুক্ত করা যাবে না—সেটি এই ব্যবস্থার মৌলিক নীতি নয়। বরং আজও ইসলামি ফতোয়ায় বলা হচ্ছে বয়ঃসন্ধি শর্ত নয়; প্রশ্ন হলো শিশুটি penetration “সহ্য করতে পারে” কি না। একটি শিশুর যৌন নিরাপত্তাকে তার স্বাধীন সম্মতি ও প্রাপ্তবয়স্কতার বদলে তার যৌনাঙ্গ penetration সহ্য করতে পারছে কি না দিয়ে বিচার করা কোনো শিশু-রক্ষাকারী নৈতিকতা নয়; এটি শিশুর শরীরকে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের বৈবাহিক যৌন অধিকারের উপযোগিতা দিয়ে মাপার ভয়াবহ ব্যবস্থা। এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত পড়ার জন্য এই পূর্নাঙ্গ প্রবন্ধটি পড়তে পারেন।
হানাফি, শাফেয়ি ও মালিকি ফিকহেও একই আইন: বিতর্ক হচ্ছে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নিয়ে
এই বিধান হাম্বলি মাজহাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে অন্তত একে একটি বিশেষ মাজহাবের অস্বাভাবিক মত বলে দাবি করার সুযোগ থাকত। কিন্তু বাস্তবতা তার সম্পূর্ণ বিপরীত। হানাফি মাজহাবের প্রধান ক্লাসিক্যাল গ্রন্থ আল-কাসানির বাদায়ি আল-সানায়ি ফি তারতিব আল-শারায়ি-তে ইফদার বিস্তারিত আইন রয়েছে। আল-কাসানি প্রথমে ইফদাকে এমন শারীরিক ক্ষতি হিসেবে আলোচনা করেন যেখানে নারীর স্বাভাবিক অঙ্গপথের বিভাজন নষ্ট হয়ে যায়; তারপর স্ত্রী ও অ-স্ত্রীর ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের আলাদা বিধান দেন। স্ত্রীর ক্ষেত্রে তিনি আবু হানিফা ও মুহাম্মদের অবস্থান হিসেবে লিখেছেন: “إذا كانت زوجته فأفضاها فلا شيء عليه”—“যদি সে তার স্ত্রী হয় এবং স্বামী তাকে ইফদা করে, তাহলে তার ওপর কিছুই নেই”; প্রস্রাব ধরে রাখতে পারুক বা না পারুক, তাঁদের অবস্থানে এই ক্ষতিপূরণ নেই। আবু ইউসুফ এর বিরোধিতা করে বলেন, প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারলে পূর্ণ দিয়াত এবং ধরে রাখতে পারলে এক-তৃতীয়াংশ দিয়াত দিতে হবে। [21]
আরও ভয়াবহ হলো আবু হানিফা ও মুহাম্মদের নামে এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সংরক্ষিত যুক্তি। বাদায়ি আল-সানায়ি বলছে: “الوطء مأذون فيه شرعاً فالمتولد منه لا يكون مضموناً كالبكارة”—সহবাস শরিয়ত কর্তৃক অনুমোদিত; তাই সেই সহবাস থেকে যা উৎপন্ন হয়েছে তার জন্য ক্ষতিপূরণ আবশ্যক নয়, যেমন কুমারীত্ব নষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে নয়। আবু ইউসুফের পাল্টা যুক্তিও গ্রন্থটি সংরক্ষণ করেছে: স্বামীকে সহবাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, ইফদা ঘটানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ হানাফি ফিকহের অভ্যন্তরীণ বিতর্কটিই দেখুন—একজন নারীর যৌনাঙ্গ penetration-এ ভয়াবহভাবে ছিন্ন হয়েছে, কিন্তু বিতর্ক হচ্ছে এই ক্ষতিটি স্বামীর “শরিয়ত-অনুমোদিত সহবাস”-এর স্বাভাবিক আইনি ফল হিসেবে বিনা ক্ষতিপূরণে যাবে, নাকি এটি অনুমোদিত সহবাসের সীমা অতিক্রম করায় দিয়াত দিতে হবে। [22]
পরবর্তী হানাফি কর্তৃত্বপূর্ণ গ্রন্থ ইবন আবিদিনের রদ্দুল মুহতার আলাদ দুররিল মুখতার-এ সমস্যাটি আরও সরাসরি সামনে আসে। সেখানে বলা হয়েছে, স্বামী সহবাস করার ফলে স্ত্রী মারা গেলে অথবা মুফদা হয়ে গেলে—যদি সে “صغيرة أو مكرهة أو لا تطيق”, অর্থাৎ ছোট, বাধ্যকৃত অথবা সহবাস সহ্য করতে অক্ষম হয়—তাহলে দিয়াত আবশ্যক। একই জায়গায় বলা হয়েছে, এমনভাবে সহবাস করা বৈধ নয় যাতে তার ক্ষতি হয়; বিচারক বা অভিজ্ঞ নারীদের মূল্যায়ন অনুযায়ী সে যতটুকু সহ্য করতে পারে, স্বামীকে ততটুকুতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। এমনকি পুরুষের যৌনাঙ্গের আকারের কারণে ক্ষতির সম্ভাবনাও আলাদাভাবে আলোচনা করা হয়েছে। এই ভাষা আবারও প্রমাণ করে যে “ছোট স্ত্রী”, তার সঙ্গে penetration, তার সহ্যক্ষমতা এবং penetration-এ মৃত্যু বা ইফদা—এসব ইসলামবিরোধীদের বানানো কোনো দৃশ্য নয়; হানাফি ফিকহের নিজস্ব আইনি সমস্যা। [23]
শাফেয়ি ফিকহে আল-মাওয়ার্দির আল-হাবি আল-কাবির এই একই সমস্যার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ comparative discussion দিয়েছে। সেখানে শাফেয়ির বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, স্বামী স্ত্রীকে সহবাস করতে গিয়ে ইফদা করলে দিয়াত দিতে হবে। আল-মাওয়ার্দি ঘটনাটিকে ব্যাখ্যা করছেন “رجل وطأ زوجته فأفضاها بشدة المبالغة في الإيلاج”—এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে সহবাস করল এবং অতিরিক্ত প্রবল penetration-এর মাধ্যমে তাকে ইফদা করে ফেলল। এরপর তিনি আবু হানিফার অবস্থান সরাসরি উদ্ধৃত করেন: “إن أفضى زوجته، فلا شيء عليه في الإفضاء”—নিজের স্ত্রীকে ইফদা করলে ইফদার জন্য তার ওপর কিছু নেই। একই জায়গায় মালিকের অবস্থান হিসেবে বলা হয়েছে: “في الإفضاء حكومة”—ইফদার ক্ষেত্রে বিচারিকভাবে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। [24]
আল-হাবি-তে হানাফি যুক্তিটিও প্রায় নগ্ন অবস্থায় সংরক্ষিত রয়েছে। আবু হানিফার পক্ষে যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে, স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস একটি “وطء مستحق”—স্বামীর আইনগতভাবে প্রাপ্য সহবাস; তাই সেই অধিকারভুক্ত সহবাস থেকে ইফদা উৎপন্ন হলে ক্ষতিপূরণ না হওয়ার যুক্তি দেওয়া হয়েছে। শাফেয়ি পক্ষ এর উত্তর দিয়েছে যে সাধারণ সহবাসের অধিকার থাকলেও ইফদা ঘটানো সেই অধিকারের অংশ নয়; ইফদা হয় স্বাভাবিক penetration-এর অতিরিক্ত প্রবলতার কারণে, তাই এটি পৃথক জিনায়াত এবং দিয়াত প্রযোজ্য। অর্থাৎ দুই পক্ষের বিতর্কের কেন্দ্র শিশুর বা নারীর স্বাধীন যৌন সম্মতি নয়। বিতর্ক হচ্ছে স্বামীর বৈধ penetration-এর সীমানা কোথায় শেষ হচ্ছে এবং শরীর ছিঁড়ে যাওয়ার কোন পর্যায়ে সেই অধিকার “জিনায়াত”-এ পরিণত হচ্ছে। [25]
পরবর্তী শাফেয়ি ফিকহেও এই বিধান অদৃশ্য হয়নি। ইবন হাজার আল-হাইতামির তুহফাতুল মুহতাজ-এ স্ত্রীর ইফদার জন্য দিয়াত নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ইফদার প্রধান সংজ্ঞা হিসেবে যোনিপথ ও মলদ্বারের মাঝের পর্দা উঠে গিয়ে যৌনপথ ও মলত্যাগের পথ এক হয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই গ্রন্থ আরও বলছে, যদি স্বামীর যৌনাঙ্গের আকার অথবা স্ত্রীর যৌনপথের সংকীর্ণতার কারণে সহবাস ইফদা ছাড়া সম্ভব না হয়, তাহলে স্বামীর সহবাস করা বৈধ নয় এবং স্ত্রীও তাকে সেই সহবাসের সুযোগ দিতে পারবে না। অর্থাৎ ফিকহুস সুন্নাহ-র বাংলা সংস্করণে যে ভয়াবহ যোনি-মলদ্বার একাকার হয়ে যাওয়ার বর্ণনা রয়েছে, সেটি কোনো বাংলা অনুবাদকের উদ্ভাবন নয়; পরবর্তী শাফেয়ি ফিকহের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থেও একই anatomical definition পাওয়া যায়। [26]
মালিকি ফিকহেও ইফদা একটি প্রতিষ্ঠিত ক্ষতিপূরণযোগ্য injury। হাশিয়াতুদ দাসুকি আলাশ শারহিল কাবির-এ বলা হয়েছে, ইফদা বলতে যৌনপথ ও মূত্রপথের মাঝের পর্দা নষ্ট হয়ে দুটি পথ এক হয়ে যাওয়াকে বোঝানো হয়; আবার মূত্র ও মলত্যাগের পথ মিশে যাওয়ার ক্ষেত্রেও হুকুমা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গ্রন্থটি স্পষ্টভাবে বলছে ইফদার ক্ষতিপূরণ মাহরের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় না, সেটি স্বামী ঘটাক অথবা কোনো অপরিচিত ব্যক্তি ঘটাক—স্বামীর ক্ষেত্রেও ইফদার জন্য পৃথক ক্ষতিপূরণ থাকবে। মালিকি ঐতিহ্যের মধ্যেই আবার হুকুমা না পূর্ণ দিয়াত—এ নিয়ে আলাদা মতও সংরক্ষিত রয়েছে। [27] [28]
ফলে ফিকহুস সুন্নাহ-র ওই বিধানটি কোনো বিচ্ছিন্ন বাক্য নয়। ইসলামওয়েবের ফিকহি বিষয়সূচিতে “دية الإفضاء” বা ইফদার দিয়াত নামে আলাদা বিষয়শ্রেণিই রয়েছে, যেখানে বাদায়ি আল-সানায়ি, আল-মুগনি, আল-হাবি, হাশিয়াতুদ দাসুকিসহ বিভিন্ন মাজহাবের অসংখ্য গ্রন্থ একত্রে তালিকাভুক্ত। আরও পুরোনো comparative গ্রন্থ ইবনুল মুনযিরের আল-আওসাত-এ “باب الإفضاء” নামে আলাদা অধ্যায় রয়েছে এবং সেখানে পূর্ণ দিয়াত, আংশিক ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন ফকিহের মত সংরক্ষিত। অর্থাৎ ইসলামি আইনশাস্ত্র এই ভয়াবহ genital injury-কে এতটাই প্রতিষ্ঠিত সমস্যা হিসেবে নিয়েছে যে এর নিজস্ব নাম, আলাদা অধ্যায়, মাজহাবভিত্তিক মতপার্থক্য এবং শতাব্দীব্যাপী jurisprudence তৈরি হয়েছে। [29] [30]
সবশেষে বিষয়টির সবচেয়ে কঠিন সত্যটি হলো—এই মাজহাবগুলোর মতভেদ মূল নৈতিক প্রশ্নে নয়, মূলত দায় ও ক্ষতিপূরণের পরিমাণে। একদিকে বলা হয়েছে এক-তৃতীয়াংশ দিয়াত; অন্যদিকে পূর্ণ দিয়াত; কোথাও হুকুমা; কোথাও স্ত্রী হলে কোনো ক্ষতিপূরণই নেই, কারণ সহবাস শরিয়তসম্মতভাবে অনুমোদিত। কিন্তু যে মেয়েটিকে “صغيرة”, অর্থাৎ ছোট স্ত্রী বলা হচ্ছে, যার সম্পর্কে একই ফিকহি ঐতিহ্য স্বীকার করছে যে সে penetration সহ্য করতে না-ও পারে, তার শরীরে একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের penetration-এর আইনগত সুযোগ কেন থাকবে—এই প্রশ্নটি এই বিধানগুলোর ভিত্তিকে ভেঙে দেয়। সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো, আধুনিক IslamQA-ও আজ স্পষ্ট করে বলছে বয়ঃসন্ধি সহবাসের শর্ত নয়; মেয়েটি penetration “সহ্য করতে সক্ষম” বলে বিবেচিত হলেই বয়ঃসন্ধির আগেও স্বামী তাকে সহবাস করতে পারে। [31] [32]
এটি কোনো শিশু-সুরক্ষা ব্যবস্থা নয়। এটি এমন একটি আইনগত কাঠামো, যেখানে শিশুর প্রাপ্তবয়স্কতা, স্বাধীন যৌন সম্মতি এবং নিজের শরীরের ওপর তার অধিকারকে কেন্দ্র না করে তার শরীর পুরুষের penetration সহ্য করতে সক্ষম কি না—সেই প্রশ্নকে সহবাসের সীমা নির্ধারণের মানদণ্ড বানানো হয়েছে। আর penetration-এ সেই শরীর ছিঁড়ে গেলে ফিকহ বসে হিসাব করেছে—এক-তৃতীয়াংশ দিয়াত, পূর্ণ দিয়াত, হুকুমা, নাকি কিছুই নয়। এই আইনকে “শিশুর মর্যাদা রক্ষা” হিসেবে উপস্থাপন করা শুধু অসত্য নয়; এটি এই আইনগুলোর নিজের ভাষাকেই অস্বীকার করা।
আল-মুহাল্লায় বিবাহিত মেয়ের সহবাসজনিত মৃত্যু: প্রাচীন ফিকহে ভয়াবহ শারীরিক ক্ষতির বিচার
ইসলামি ফিকহে অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর সঙ্গে সহবাসের ফলে যৌনাঙ্গ বিদীর্ণ হওয়ার আলোচনা কেবল সম্ভাব্য ক্ষতির হিসাব হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। ইবন হাজমের আল-মুহাল্লা বিল-আসার গ্রন্থের একাদশ খণ্ডে, ইফদার দিয়াতসংক্রান্ত ২০৬৪ নম্বর মাসআলায় এমন একটি ঘটনা সংরক্ষিত হয়েছে, যেখানে বিবাহের পরে স্বামীর সহবাসে মেয়েটির শরীর বিদীর্ণ হয় এবং রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু ঘটে। ঘটনাটি হিশাম ইবনে আমর আল-ফাজারির সূত্রে বর্ণিত। হিশামের বিবরণ অনুযায়ী, তিনি উমর ইবনে আবদুল আজিজের উপস্থিতিতে ছিলেন, যখন নাজরানের শাসকের একটি চিঠি এসে পৌঁছায়। সেই চিঠিতে একটি ধনী ব্যক্তির সঙ্গে দরিদ্র পিতার মেয়ের বিবাহ এবং বিবাহের পরে মেয়েটির মৃত্যুর ঘটনা জানানো হয়েছিল। বর্ণনাটিতে মেয়েটির সুনির্দিষ্ট বয়স উল্লেখ নেই; কিন্তু তার শারীরিক অপরিণত অবস্থার আশঙ্কা এবং পরে বিচারিক আলোচনায় সে নারীদের পরিণত অবস্থায় পৌঁছেছিল কি না, সেই প্রশ্ন সরাসরি এসেছে। এই বিবরণ প্রাচীন ইসলামি আইনি সাহিত্যে সংরক্ষিত একটি ঘটনার সাক্ষ্য। [33]
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, একজন ধনী ব্যক্তি দরিদ্র এক পিতার মেয়েকে বিয়ে করেন। বিবাহের পরে তিনি মেয়েটিকে নিজের কাছে নিতে চান এবং তার ভরণপোষণে বেশি ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু মেয়ের পিতা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, স্বামী মেয়েটির সঙ্গে সহবাস করতে পারেন। জবাবে স্বামী বলেন, তিনি মেয়েটির কাছে যাবেন না। এই প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করে পিতা মেয়েটিকে স্বামীর কাছে পাঠান। পরে স্বামী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে মেয়েটির সঙ্গে সহবাস করেন। সহবাসে মেয়েটির শরীর বিদীর্ণ হয়, রক্তক্ষরণ ঘটে এবং সে মারা যায়। এখানে পিতা আগে থেকেই মেয়েটির ওপর যৌনসঙ্গমের সম্ভাব্য ক্ষতি সম্পর্কে আশঙ্কা করেছিলেন। স্বামী সেই আশঙ্কা দূর করার জন্য যৌনসম্পর্ক না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু পরে তা ভঙ্গ করেন। এই বিবরণে বিবাহের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত স্বামীর অবস্থান মেয়েটিকে এমন এক পরিস্থিতিতে নিয়ে যায়, যার পরিণতি মৃত্যু। [34]
فَقَالَ إِنِّي أَخَافُكَ عَلَيْهَا أَنْ تَقَعَ بِهَا، فَقَالَ لَا تَخَفْ لَا أَقْرَبُهَا، فَدَفَعَهَا إِلَيْهِ، فَوَقَعَ بِهَا فَخَرَقَهَا، فَهُرِيقَتْ دَمًا وَمَاتَتْ
বাংলা অনুবাদ: পিতা বললেন, আমি আশঙ্কা করছি, তুমি তার সঙ্গে সহবাস করবে। লোকটি বলল, ভয় কোরো না, আমি তার কাছে যাব না। এরপর পিতা মেয়েটিকে তার কাছে পাঠালেন। কিন্তু লোকটি মেয়েটির সঙ্গে সহবাস করল এবং তার শরীর বিদীর্ণ করে ফেলল। মেয়েটির রক্তক্ষরণ হলো এবং সে মারা গেল।
এই ঘটনার পরে উমর ইবনে আবদুল আজিজের উপস্থিতিতে ক্ষতিপূরণের প্রশ্ন ওঠে। আবদুল্লাহ ইবনে মাকিল ইবনে মুকাররিন এবং আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে উসমান ক্ষতিপূরণের দায় স্বীকারের কথা বলেন। উমর ইবনে আবদুল আজিজ মোহর ও দিয়াত একত্রে প্রযোজ্য হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপর আবান ইবনে উসমান বলেন, মেয়েটি নারীদের স্বাভাবিক পরিণত অবস্থায় পৌঁছে থাকলে তার জন্য দিয়াত নেই; কিন্তু সেই অবস্থায় না পৌঁছালে দিয়াত দিতে হবে। উমর ইবনে আবদুল আজিজ বিষয়টি ওয়ালিদ ইবনে আবদুল মালিকের কাছে লিখে পাঠান। এই আলোচনায় মেয়েটির মৃত্যুর পর প্রধান বিচারিক প্রশ্ন হয়ে উঠেছে তার শারীরিক পরিণত অবস্থার ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণের দায় নির্ধারণ। অর্থাৎ সহবাসের ফলে মৃত্যুর ঘটনায়ও বালিকার বয়স ও সহবাসযোগ্যতার শ্রেণিবিভাগ দিয়াত নির্ধারণের মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে। [35]
আবান ইবনে উসমান ও উমর ইবনে আবদুল আজিজ: মেয়েটি সহবাসযোগ্য হলে ক্ষতিপূরণ নেই
ইবন হাজমের সংরক্ষিত বিবরণটির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি পৃথক ফিকহি সিদ্ধান্ত পাওয়া যায় ইবন আবি শায়বার আল-মুসান্নাফ গ্রন্থে। সেখানে আবান ইবনে উসমানের কাছে এমন এক ব্যক্তির মামলা আনার কথা বর্ণিত হয়েছে, যিনি একটি মেয়েকে বিয়ে করে সহবাসের ফলে তার ইফদা ঘটিয়েছিলেন। আবান ইবনে উসমান এবং উমর ইবনে আবদুল আজিজের নামে সংরক্ষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মেয়েটি এমন বয়স বা শারীরিক অবস্থায় থাকলে যেখানে তার সমবয়সীদের সঙ্গে সাধারণত সহবাস করা হয়, স্বামীর ওপর কোনো ক্ষতিপূরণ নেই। আর মেয়েটি সেই অবস্থায় না পৌঁছালে এক-তৃতীয়াংশ দিয়াত দিতে হবে। এখানে ক্ষতিপূরণের দায় নির্ধারণের ভিত্তি মেয়েটির স্বাধীন যৌন সম্মতি নয়; তার শরীরকে প্রচলিত সামাজিক মানদণ্ডে সহবাসযোগ্য গণ্য করা হয় কি না। [36]
إِنْ كَانَتْ مِمَّنْ يُجَامَعُ مِثْلُهَا فَلَا شَيْءَ عَلَيْهِ، وَإِنْ كَانَتْ مِمَّنْ لَا يُجَامَعُ مِثْلُهَا فَعَلَيْهِ ثُلُثُ الدِّيَةِ
বাংলা অনুবাদ: মেয়েটি যদি এমন অবস্থায় থাকে যে তার সমবয়সীদের সঙ্গে সাধারণত সহবাস করা হয়, তাহলে স্বামীর ওপর কিছুই নেই। আর সে যদি এমন অবস্থায় থাকে যে তার সমবয়সীদের সঙ্গে সাধারণত সহবাস করা হয় না, তাহলে তার ওপর এক-তৃতীয়াংশ দিয়াত আবশ্যক।
এই সিদ্ধান্তের নৈতিক চরিত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন মেয়ের যৌনাঙ্গ সহবাসের ফলে বিদীর্ণ হয়েছে, অথচ ক্ষতিপূরণের দায় নির্ধারণ করা হচ্ছে তার সমবয়সী মেয়েদের সঙ্গে সাধারণত সহবাস করা হয় কি না, সেই সামাজিক ও শারীরিক মানদণ্ডে। মেয়েটি কোনো অর্থবহ যৌন সম্মতি দিয়েছিল কি না, স্বামীর কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে প্রত্যাখ্যানের ক্ষমতা তার ছিল কি না কিংবা বিবাহের সময় নিজের মতামত দেওয়ার স্বাধীনতা পেয়েছিল কি না—এসব প্রশ্ন আলোচ্য বিধানের নির্ধারক মানদণ্ড নয়। বরং স্বামীর সহবাসের আইনগত পরিসর এবং মেয়েটির শারীরিক সহ্যক্ষমতার ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ নির্ধারিত হচ্ছে। এমনকি মেয়েটির সমবয়সীদের সঙ্গে সাধারণত সহবাস করা হলে তার শরীরে গুরুতর ক্ষতি ঘটার পরও স্বামী ক্ষতিপূরণের দায় থেকে মুক্ত হতে পারেন। এটি শিশুর স্বাধীন সম্মতির পরিবর্তে বৈবাহিক যৌন অধিকারের প্রাধান্যকে প্রকাশ করে।
উমর ইবনুল খাত্তাব ও যায়েদ ইবনে সাবিতের নামে সংরক্ষিত প্রাচীন বিধান
ইফদার ক্ষতিপূরণের আলোচনা আরও প্রাচীন ব্যক্তিদের নামেও সংরক্ষিত রয়েছে। আবদুর রাজ্জাক আস-সানআনির আল-মুসান্নাফ গ্রন্থে আমর ইবনে শুআইবের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, এক ব্যক্তি একজন নারীকে যৌনভাবে বাধ্য করে তার ইফদা ঘটালে উমর ইবনুল খাত্তাব অপরাধীকে নির্ধারিত শাস্তি দেন এবং নারীর দিয়াতের এক-তৃতীয়াংশ ক্ষতিপূরণ ধার্য করেন। এই ঘটনাটি বিবাহিত অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর নির্দিষ্ট ঘটনা নয়; যৌন জবরদস্তিতে ইফদা ঘটানোর একটি পৃথক বর্ণনা। এর গুরুত্ব হলো, যৌনসঙ্গমজনিত গুরুতর শারীরিক ক্ষতিকে পৃথক আইনগত আঘাত হিসেবে গণ্য করার ধারণা প্রাথমিক যুগের ব্যক্তিদের নামেও সংরক্ষিত হয়েছে। [37]
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ أَنَّ رَجُلًا اسْتَكْرَهَ امْرَأَةً فَأَفْضَاهَا، فَضَرَبَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ الْحَدَّ، وَأَغْرَمَهُ ثُلُثَ دِيَتِهَا
বাংলা অনুবাদ: আমর ইবনে শুআইব থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি একজন নারীকে জোরপূর্বক যৌনসম্পর্কে বাধ্য করে তার ইফদা ঘটায়। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব তাকে নির্ধারিত শাস্তি দেন এবং নারীর দিয়াতের এক-তৃতীয়াংশ ক্ষতিপূরণ ধার্য করেন।
ইবন আবি শায়বার আল-মুসান্নাফ-এ যায়েদ ইবনে সাবিতের নামেও স্বামীর সহবাসে স্ত্রীর ইফদা হওয়ার ক্ষতিপূরণ সম্পর্কে একটি বর্ণনা রয়েছে। সেখানে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রয়েছে কি না, তার ভিত্তিতে এক-তৃতীয়াংশ অথবা পূর্ণ দিয়াতের পার্থক্য করা হয়েছে। অর্থাৎ যৌনাঙ্গ বিদীর্ণ হওয়ার পরে শুধু আঘাতের উপস্থিতি নয়, সেই আঘাতের ফলে শরীরের কার্যক্ষমতা কতটা নষ্ট হয়েছে, তার ভিত্তিতেও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বর্ণনাগুলো প্রাথমিক যুগের ব্যক্তিদের নামে সংরক্ষিত পৃথক আইনি অবস্থান; একই ঘটনা একাধিক গ্রন্থে পুনরাবৃত্ত হলেই সেগুলো স্বাধীনভাবে প্রমাণিত একাধিক ঐতিহাসিক ঘটনা হয়ে যায় না। [38]
ইবন হাজম নিজে এই মতগুলো পর্যালোচনা করে ইচ্ছাকৃত আঘাত ও অনিচ্ছাকৃত ক্ষতির মধ্যে পৃথক বিধানের কথা বলেছেন। তাঁর মতে, স্বামী জেনেশুনে এমন সহবাস করলে, যাতে স্ত্রী ওই আঘাত সহ্য করতে পারবেন না, এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ইফদা ঘটালে কিসাস প্রযোজ্য হতে পারে। অনিচ্ছাকৃত ঘটনায় মৃত্যু ঘটলে পূর্ণ দিয়াতের কথা বলেছেন। এই অবস্থানেও আলোচনার কেন্দ্র ক্ষতি সংঘটিত হওয়ার পর অপরাধের প্রকৃতি ও দায় নির্ধারণ। ক্ষতিপূরণ, কিসাস কিংবা অন্য শাস্তির মতভেদ শিশুর স্বাধীন যৌন সম্মতির প্রশ্নের বিকল্প নয়। কারণ কোনো অপরিণত মেয়েকে প্রথমেই বৈবাহিক যৌন অধিকারের অধীনে রাখা হবে কেন, সেই মৌলিক সমস্যার সমাধান শুধু আঘাতের পরিমাণ অনুযায়ী শাস্তি নির্ধারণের মধ্যে পাওয়া যায় না। [39]
ইবন হাজমের সংরক্ষিত মৃত্যুর বিবরণ, আবান ইবনে উসমান ও উমর ইবনে আবদুল আজিজের নামে সহবাসযোগ্যতার ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ এবং উমর ইবনুল খাত্তাব ও যায়েদ ইবনে সাবিতের নামে সংরক্ষিত ইফদার বিধান একত্রে প্রাচীন ইসলামি আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। যৌনসঙ্গমজনিত গুরুতর আঘাতকে শনাক্ত করা হয়েছে, তার শারীরিক পরিণতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার জন্য দিয়াত বা শাস্তির বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর ক্ষেত্রে বৈবাহিক যৌন অধিকারের অনুমোদনকে শিশুর স্বাধীন সম্মতি ও ব্যক্তিসত্তার ভিত্তিতে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়নি। এখানে সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, একটি মেয়ের বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা তাকে বৈবাহিক যৌন ব্যবহারের অধীনে রাখা যাবে কি না, সেই প্রশ্নের বদলে সহবাসের পরে কতটা ক্ষতিপূরণ প্রযোজ্য হবে, সেই বিচারিক শ্রেণিবিভাগের ভিত্তি হয়ে উঠেছে। বালিকার জীবন ও শরীরের নিরাপত্তার চেয়ে স্বামীর প্রতিষ্ঠিত যৌন অধিকারের আইনগত কাঠামোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এই প্রবণতা আধুনিক শিশু-সুরক্ষা ও যৌন সম্মতির নীতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
ক্ষতিপূরণের আইন শিশুর সুরক্ষা নয়
এতক্ষণে একটি বিষয় আর অস্পষ্ট থাকার কথা নয়। ইসলামি ফিকহে অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস এবং সেই সহবাসে তার যৌনাঙ্গ ভয়াবহভাবে বিদীর্ণ হয়ে যাওয়ার প্রশ্ন কোনো একক লেখকের দুর্ঘটনাজনিত বক্তব্য নয়। হানাফি, হাম্বলি, শাফেয়ি ও মালিকি ফিকহের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলোতে একই সমস্যার আলোচনা পাওয়া যায়; পার্থক্য প্রধানত ক্ষতিপূরণের ধরন ও পরিমাণে। কোথাও এক-তৃতীয়াংশ দিয়াত, কোথাও পূর্ণ দিয়াত, কোথাও বিচারকের নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ, আবার কোথাও স্বামীর জন্য কোনো ক্ষতিপূরণই নেই—কারণ তার সহবাসকে মূলত শরিয়তসম্মত অধিকার হিসেবে ধরা হয়েছে। কিন্তু এই সমস্ত মতভেদের নিচে যে অভিন্ন বাস্তবতা রয়েছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: ইসলামি আইন এমন একটি বৈবাহিক কাঠামো স্বীকার করেছে যেখানে একটি মেয়ে এত ছোট হতে পারে যে তার শরীর সহবাস সহ্য করতে সক্ষম নয়, তবুও সে একজন পুরুষের স্ত্রী এবং তার শরীর বৈবাহিক যৌনতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র।
এই জায়গায় “কিন্তু ক্ষতি হলে তো দিয়াত আছে” ধরনের আত্মপক্ষসমর্থন সম্পূর্ণ অর্থহীন। ক্ষতিপূরণ থাকা আর শিশুকে সুরক্ষা দেওয়া একই বিষয় নয়। একটি আইন যদি প্রথমে এমন কাজের অনুমোদন দেয় যার ফলে শিশুর ভয়াবহ ক্ষতি হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে, তারপর ক্ষতি হয়ে গেলে তার আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করে, তাহলে সেই আইন ক্ষতিটিকে প্রতিরোধ করছে না; বরং ক্ষতিকে ব্যবস্থাপনা করছে। ধরুন কোনো আইন শিশু শ্রমিককে বিষাক্ত কারখানায় কাজ করার বৈধতা দিল, তারপর তার ফুসফুস নষ্ট হলে মালিক কত টাকা দেবে তা নির্ধারণ করল। সেই ক্ষতিপূরণকে কেউ শিশু-সুরক্ষা বলবে না, কারণ নৈতিক প্রশ্নটি আরও আগের: শিশুটিকে সেই বিপজ্জনক অবস্থায় পাঠানো হলো কেন? ঠিক একইভাবে, একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের যৌনাঙ্গ penetration-এ ছিঁড়ে যাওয়ার পর দিয়াত নির্ধারণ করার আগে প্রশ্ন হওয়া উচিত ছিল—একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের সেই অপরিণত শরীরে penetration করার অধিকারই বা তৈরি হলো কীভাবে?
এই বিধানের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয় যখন দেখা যায়, ফিকহি ভাষায় মেয়েটির প্রাপ্তবয়স্কতা বা স্বাধীন যৌন সম্মতি নয়, তার শরীর “সহবাস সহ্য করতে পারে কি না” সেটি প্রধান মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে। একটি শিশুর ব্যক্তিসত্তাকে এর চেয়ে নির্মমভাবে শারীরিক সক্ষমতায় নামিয়ে আনা কঠিন। এখানে প্রশ্ন করা হচ্ছে না সে যৌনসম্পর্ক কী তা বোঝে কি না, সে প্রত্যাখ্যান করার স্বাধীনতা রাখে কি না, প্রাপ্তবয়স্ক স্বামীর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর বাস্তব ক্ষমতা আছে কি না, অথবা সেই সম্পর্ক তার মানসিক বিকাশে কী প্রভাব ফেলবে। প্রশ্ন হচ্ছে তার শরীর penetration সহ্য করতে পারবে কি না। যেন শিশুর যৌন অধিকার নির্ধারিত হবে তার মন, স্বাধীনতা ও পরিপক্বতায় নয়, তার যোনিপথ কতটা শারীরিক চাপ সহ্য করতে সক্ষম সেই পরীক্ষায়।
একটি শিশুর শরীর penetration সহ্য করতে পারলেই সেই শিশুটি যৌনসম্পর্কের জন্য নৈতিকভাবে প্রস্তুত হয়ে যায় না। এই দুই বিষয় সম্পূর্ণ ভিন্ন। মানুষের যৌন সম্মতি কোনো শারীরিক durability test নয়। একজন ব্যক্তি ব্যথা সহ্য করতে পারে, গর্ভধারণ করতে পারে অথবা যৌনাঙ্গে penetration সম্ভব—এসবের কোনোটিই প্রমাণ করে না যে সে যৌনসম্পর্কের অর্থ ও পরিণতি বুঝে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিক ও সামাজিক সক্ষমতা অর্জন করেছে। এই মৌলিক পার্থক্যটি আধুনিক শিশু-সুরক্ষা নীতির কেন্দ্রবিন্দু, অথচ আলোচিত ফিকহি কাঠামোতে শিশুর “সহবাস সহ্যক্ষমতা” এমন গুরুত্ব পেয়েছে যা তার স্বাধীন যৌন সম্মতির প্রশ্নকে প্রায় অদৃশ্য করে দেয়।
আর এখানেই “বিয়ে হয়ে গেছে” যুক্তিটির প্রতারণা প্রকাশ পায়। বিবাহ কোনো জাদুকরী প্রক্রিয়া নয় যা একটি শিশুকে প্রাপ্তবয়স্ক বানিয়ে দেয়। একজন অভিভাবক একটি শিশুর বিয়ে ঠিক করলেই শিশুর যৌন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সৃষ্টি হয় না; কাজি নিকাহ পড়ালেই তার শরীর ও মস্তিষ্ক কয়েক বছর এগিয়ে যায় না; মাহর নির্ধারিত হলেই সে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের সমান ক্ষমতার অংশীদার হয়ে ওঠে না। বরং শিশু স্ত্রী হয়ে গেলে ক্ষমতার বৈষম্য আরও ভয়াবহ হতে পারে, কারণ তখন পুরুষটি শুধু বয়সে ও শারীরিক শক্তিতে বড় নয়—সে “স্বামী” হিসেবে ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক কর্তৃত্বও পায়। এমন অবস্থায় শিশুর তথাকথিত সম্মতি কতটা স্বাধীন, সেটিই প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু ফিকহ যখন স্বামীর সহবাসের অধিকার থেকে আলোচনা শুরু করে এবং শিশুর ক্ষতিগ্রস্ত শরীরের দিয়াত দিয়ে আলোচনা শেষ করে, তখন সেই আইনব্যবস্থার অগ্রাধিকার পরিষ্কার হয়ে যায়।
এখানে তাই ইসলামি ফিকহের পক্ষে সবচেয়ে সুবিধাজনক ব্যাখ্যাও মূল সমস্যাটি দূর করতে পারে না। ধরা যাক কোনো মাজহাব বলল, সহবাসে শিশুর ক্ষতি করা যাবে না; ধরা যাক কোনো ফকিহ বললেন, সে সহবাস সহ্য করতে না পারলে অপেক্ষা করতে হবে; ধরা যাক আঘাত হলে পূর্ণ দিয়াতও নির্ধারণ করা হলো। তবুও মৌলিক প্রশ্ন থেকে যায়: কেন একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে প্রথমেই এমন বৈবাহিক যৌন অধিকারের অধীনে রাখা হলো, যেখানে তার শরীর “সহবাসের উপযুক্ত” কি না পরীক্ষা করা একটি আইনগত প্রশ্ন হয়ে ওঠে? আধুনিক শিশু-সুরক্ষার উত্তর সম্পূর্ণ ভিন্ন: শিশুর শরীর কোনো স্বামীর যৌন সম্পত্তি নয়; তাকে penetration-এর জন্য “উপযুক্ত” ঘোষণা করার প্রশ্নই ওঠে না যতক্ষণ সে যৌন সম্মতির সক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হয়ে ওঠেনি। এই মৌলিক নীতিই ইসলামি ফিকহের আলোচিত বিধানে অনুপস্থিত।
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে শিশু যৌন নির্যাতনের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি
শিশুর সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের যৌনসম্পর্কের নৈতিক সমস্যা শুধু যৌনাঙ্গে দৃশ্যমান ক্ষত সৃষ্টি হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০১৭ সালে প্রকাশিত Responding to Children and Adolescents Who Have Been Sexually Abused: WHO Clinical Guidelines নির্দেশিকায় শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের যৌন নির্যাতনকে মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন এবং বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। নির্দেশিকায় শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক আঘাত, যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্যের সমস্যা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত পরিণতি আলোচনা করা হয়েছে। শিশু যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও স্বায়ত্তশাসনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আধুনিক শিশু-সুরক্ষার মানদণ্ড কেবল যৌনাঙ্গ বিদীর্ণ হয়েছে কি না কিংবা আঘাতের জন্য কত টাকা ক্ষতিপূরণ প্রযোজ্য হবে, সেই প্রশ্নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিশুর শারীরিক অখণ্ডতা, মানসিক সুস্থতা, নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এই সুরক্ষার অপরিহার্য অংশ। [40]
Sexual abuse of children and adolescents is a gross violation of their rights and a global public health problem.
বাংলা অনুবাদ: শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের যৌন নির্যাতন তাদের অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন এবং একটি বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সমস্যা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকায় যৌন নির্যাতনের স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিণতির মধ্যে মানসিক আঘাত-পরবর্তী চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্নতা, ঘুমের সমস্যা, আত্মক্ষতির চিন্তা, যৌনবাহিত সংক্রমণ এবং প্রজননস্বাস্থ্যের বিভিন্ন জটিলতার কথা আলোচনা করা হয়েছে। মেয়ে শিশুদের ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ এবং স্ত্রীরোগসংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকিও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ক্ষতি শুধু যৌনাঙ্গের কোনো নির্দিষ্ট পর্দা ছিঁড়ে যাওয়ার ওপর নির্ভরশীল নয়। দৃশ্যমান গুরুতর আঘাত না ঘটলেও যৌন নির্যাতনের মানসিক ও স্বাস্থ্যগত পরিণতি থাকতে পারে। ফলে ইফদা সংঘটিত হয়েছে কি না, প্রস্রাব ধরে রাখার ক্ষমতা নষ্ট হয়েছে কি না কিংবা যৌনাঙ্গ ও মলদ্বারের মাঝের বিভাজন অক্ষত রয়েছে কি না—এসব শারীরস্থানিক মানদণ্ড দিয়ে শিশুর যৌন নিরাপত্তার সম্পূর্ণ মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। [41]
ইসলামি ফিকহের আলোচ্য বিধানগুলোর সঙ্গে আধুনিক শিশু-সুরক্ষা নীতির মৌলিক সংঘাত এই জায়গায়। ধ্রুপদি ফিকহে অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর সহবাসযোগ্যতা বিচার করতে তার শরীর যৌনসঙ্গম সহ্য করতে পারবে কি না, সেই প্রশ্নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আঘাত সংঘটিত হলে যৌনাঙ্গের বিদারণ, মূত্রনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা এবং অন্যান্য শারীরিক কার্যক্ষমতার ক্ষতি অনুসারে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু একটি শিশুর শরীর penetration সহ্য করতে পারার অর্থ তার মানসিক পরিপক্বতা, স্বাধীন যৌন সম্মতি কিংবা যৌনসম্পর্কের পরিণতি বোঝার সক্ষমতা অর্জন করা নয়। এমনকি শারীরিক আঘাতের দৃশ্যমান চিহ্ন না থাকলেও যৌন নির্যাতন শিশুর নিরাপত্তাবোধ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। শিশুকে যৌনসম্পর্কের জন্য উপযুক্ত বিবেচনা করার মানদণ্ড হিসেবে তার শরীরের সহ্যক্ষমতাকে গ্রহণ করা তাই কোনো পরিপূর্ণ শিশু-সুরক্ষা নীতি নয়। এটি শিশুর ব্যক্তিসত্তাকে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের যৌন ব্যবহারের শারীরিক উপযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে।
উপসংহার: যে আইন শিশুর ছিন্নভিন্ন শরীরের দাম নির্ধারণ করে
এই প্রবন্ধে আলোচিত বিধানটির নৈতিক বিচার করতে কোনো জটিল দর্শনের প্রয়োজন নেই। আমাদের শুধু আইনটির নিজের প্রশ্নটি লক্ষ্য করতে হবে। একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী, যার শরীর এমনকি সাধারণ সহবাসও সহ্য করতে সক্ষম নয়, তার সঙ্গে স্বামী যৌনসঙ্গম করেছে। সেই penetration-এর ফলে তার যৌনাঙ্গের অভ্যন্তরীণ বিভাজন ছিঁড়ে গেছে, এমনকি প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো স্থায়ী ক্ষতির সম্ভাবনাও সৃষ্টি হয়েছে। এরপর ইসলামি আইনজ্ঞরা বসে নির্ধারণ করেছেন—এক-তৃতীয়াংশ দিয়াত হবে, পূর্ণ দিয়াত হবে, হুকুমা হবে, নাকি কোনো ক্ষতিপূরণই হবে না। কোনো সভ্য নৈতিক ব্যবস্থার কাছে এই ঘটনাটির প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত ছিল শিশুর শরীর এতটা ধ্বংস হওয়ার পরে কত টাকা দেওয়া হবে তা নয়; প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত ছিল, একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে এই শিশুর শরীরে penetration করার অধিকার দেওয়া হলো কেন।
এই কারণেই এই বিধানকে কেবল “সপ্তম শতকের সামাজিক বাস্তবতা” বলে পাশ কাটানো যায় না। ইসলাম নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট যুগের মানুষের ভুলভ্রান্তি-নির্ভর আইন হিসেবে উপস্থাপন করে না; এর শরিয়াহকে ঐশ্বরিক নির্দেশনা, ন্যায়বিচার এবং মানুষের জন্য উত্তম জীবনব্যবস্থা হিসেবে দাবি করা হয়। সেই দাবির সঙ্গে এই বিধানের সংঘর্ষই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি সর্বজ্ঞ ও সর্বদয় ঈশ্বর মানুষের তুলনায় ভালো নৈতিকতা জানবেন—এটাই যদি ধর্মীয় দাবি হয়, তাহলে তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত আইনকে তার সময়ের নিষ্ঠুর সামাজিক প্রথার ওপরে উঠতে দেখা উচিত ছিল। শিশুকে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের যৌন ব্যবহারের বাইরে রাখা, তার শরীরকে বৈবাহিক অধিকারের বস্তু না বানানো এবং তার শৈশবকে রক্ষা করা এমন কোনো নৈতিক সত্য নয় যা আধুনিক মানুষ আবিষ্কার করতে পারলেও সর্বজ্ঞ ঈশ্বর বুঝতে পারেননি।
শিশুর শৈশব একবার নষ্ট হলে তা ফিরিয়ে দেওয়া যায় না। যৌন সহিংসতার স্মৃতি দিয়াত দিয়ে মুছে ফেলা যায় না। একটি ছিন্নভিন্ন যৌনাঙ্গের মূল্য নির্ধারণ করা যায়, কিন্তু শিশুটির হারানো নিরাপত্তাবোধ, নিজের শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর অভিজ্ঞতা, ভয় এবং মানসিক ক্ষতির প্রকৃত মূল্য কোনো হিসাবের খাতায় লেখা যায় না। এই কারণেই সভ্য সমাজের লক্ষ্য হওয়া উচিত ক্ষতির পরে দাম নির্ধারণ নয়, ক্ষতিটিকে ঘটতে না দেওয়া। শিশুকে এমন বয়সে বিবাহ ও যৌনসম্পর্কের মধ্যে প্রবেশ করতে না দেওয়া, যেখানে সে অর্থবহ সম্মতি দিতে পারে না, কোনো সাংস্কৃতিক বিলাসিতা নয়; এটি মানবিকতার ন্যূনতম শর্ত।
এবং এখানেই ইসলামের এই বিধানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠিন অভিযোগটি দাঁড়ায়। আইনটি শিশুকে প্রথমে রক্ষা করেনি; প্রথমে তাকে স্ত্রী বানিয়েছে। তার শরীরকে প্রথমে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের বৈবাহিক যৌন অধিকারের সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তারপর সেই অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে তার শরীর ছিঁড়ে গেলে ক্ষতির অঙ্ক নির্ধারণ করেছে। এই ক্রমটাই নৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ। শিশুর নিরাপত্তার আগে স্বামীর যৌন অধিকার, শিশুর স্বাধীন সম্মতির আগে বৈবাহিক চুক্তি, এবং শিশুর শরীর রক্ষার আগে ক্ষতিপূরণের হিসাব—এমন আইনকে মানবিক বলে সাজিয়ে তোলার কোনো সৎ উপায় নেই।
একটি শিশুর সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের যৌন penetration, যেখানে শিশুটি স্বাধীন ও অর্থবহ যৌন সম্মতি দিতে সক্ষম নয়, তার বাস্তব নাম যৌন নির্যাতন; সম্মতিহীন penetration হলে তার নাম ধর্ষণ। “নিকাহ”, “স্বামী”, “হালাল” বা “শরিয়তসম্মত” শব্দ দিয়ে সেই বাস্তবতা পাল্টানো যায় না। ধর্মীয় বৈধতা কোনো শিশুর স্নায়ুতন্ত্র, মানসিক বিকাশ বা শারীরিক অপরিপক্বতাকে বদলে দেয় না। বরং কোনো ধর্ম যদি সেই যৌন ব্যবহারের ওপর পবিত্রতার সিলমোহর দেয়, তাহলে সমালোচনার প্রয়োজন কমে না—আরও বেড়ে যায়।
ইসলামি ফিকহের এই বিধান তাই শুধু একটি পুরোনো আইনগত কৌতূহল নয়। এটি একটি নৈতিক আয়না। সেই আয়নায় দেখা যায় এমন এক আইনব্যবস্থা, যেখানে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের শরীরকে প্রথমে পুরুষের বৈবাহিক যৌন অধিকারের আওতায় আনা হয়েছে এবং সেই অধিকার প্রয়োগের ফলে শরীর ধ্বংস হলে তার আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যে আইন শিশুকে ধর্ষণ থেকে রক্ষা করার বদলে ধর্ষণসদৃশ বৈবাহিক যৌন ব্যবহারের ফলে তার শরীর কতটা ছিঁড়েছে তার হিসাব করে, তাকে শিশু-রক্ষাকারী, নারীবান্ধব বা চিরন্তন নৈতিকতার আদর্শ বলা ইতিহাস, যুক্তি এবং মানবিকতার সঙ্গে উপহাস।
একটি শিশুর শরীরের ওপর কোনো ধর্মের অধিকার নেই। কোনো অভিভাবকের নেই। কোনো স্বামীর নেই। কোনো ফকিহের নেই। শিশুর শরীর শিশুরই। তার নিরাপত্তা, শৈশব এবং ভবিষ্যৎ রক্ষা করা যেকোনো ধর্মীয় বিধানের চেয়ে বড় নৈতিক দায়িত্ব। এই সাধারণ সত্যটি যে আইন বুঝতে পারেনি, সেই আইন মানুষের নৈতিকতার শিক্ষক হওয়ার দাবি করতে পারে না।
তথ্যসূত্রঃ
- বাল্যবিবাহ, পেডোফিলিয়া এবং ইসলাম – আয়িশা কি ৯ বছর বয়সে বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছেছিলেন? ↩︎
- ইসলামে বৈবাহিক ধর্ষণের অনুমোদন ↩︎
- ইমাম শাফেয়ি, আল-উম্ম, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ১৯–২০, পরিচ্ছেদ: ما جاء في نكاح الآباء; ইসলামওয়েব ↩︎
- আল-কোরআন, সূরা আল-আহযাব, আয়াত ৪৯ ↩︎
- আল-কোরআন, সূরা আত-তালাক, আয়াত ৪ ↩︎
- ইমাম তাবারি, জামিউল বায়ান, খণ্ড ২৩, পৃষ্ঠা ৪৫২, সূরা তালাক ৬৫:৪-এর তাফসীর; ইসলামওয়েব ↩︎
- তাবারি, জামিউল বায়ান, খণ্ড ২৩, পৃষ্ঠা ৪৫৩, সূরা তালাক ৬৫:৪, দাহহাকের বর্ণিত ব্যাখ্যা; ইসলামওয়েব ↩︎
- আল-যাজ্জাজ, মাআনিল কোরআন ওয়া ই’রাবুহু, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ১৮৫–১৮৬, সূরা তালাক ৬৫:৪-এর ব্যাখ্যা ↩︎
- ফিকহুস সুন্নাহ, ২য় খণ্ড, সাইয়েদ সাবেক, শতাব্দী প্রকাশনী, পৃষ্ঠা ২৬৬ ↩︎
- ফিকাহুস সুন্নাহ, ২য় খণ্ড, সাইয়েদ সাবেক, শতাব্দী প্রকাশনী, পৃষ্ঠা ৪৬৩ ↩︎
- আল-মুগনি, ইবন কুদামা, খণ্ড ৮, কিতাবুদ দিয়াত, মাসআলা ৬৯৮৫–৬৯৮৬ — ইসলামওয়েব: ‘وطئ زوجته وهي صغيرة ففتقها’ ↩︎
- শামেলা: আল-মুগনি ↩︎
- ইবন কুদামা, আল-মুগনি, খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ৩৭২–৩৭৩, কিতাবুদ দিয়াত, মাসআলা ৬৯৮৫–৬৯৮৯; ইসলামওয়েব ↩︎
- আল-মুগনি, মাসআলা ৬৯৮৬ — ইসলামওয়েবের মূল আরবি পাঠ ↩︎
- শামেলা সংস্করণ ↩︎
- আল-ইনসাফ, আল-মারদাওয়ি, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ১১৩–১১৪ — ইসলামওয়েব: আল-ইনসাফ, باب الشجاج وكسر العظام ↩︎
- কাশশাফ আল-কিনাʿ, আল-বুহুতি, খণ্ড ৬, باب الشجاج وكسر العظام — ইসলামওয়েবের মূল পাঠ ↩︎
- IslamQA, ফতোয়া 176799 — ‘الحكمة من تشريع تزويج الصغيرة دون البلوغ’ ↩︎
- IslamQA, ফতোয়া 127176 — ‘كلمات في زواج الصغيرة والدخول بها عند أهل السنة’ ↩︎
- IslamQA, ফতোয়া 22442 — ‘حكم تزويج البنات الصغيرات’ ↩︎
- বাদায়ি আল-সানায়ি, আল-কাসানি, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৩১৯–৩২০, কিতাবুল জিনায়াত — ইসলামওয়েবের মূল আরবি পাঠ; শামেলা: বাদায়ি আল-সানায়ি ↩︎
- বাদায়ি আল-সানায়ি, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৩২০ — ইসলামওয়েব সংস্করণ; শামেলা সংস্করণ ↩︎
- রদ্দুল মুহতার, ইবন আবিদিন, কিতাবুন নিকাহ, باب القسم بين الزوجات — ইসলামওয়েবের মূল আরবি পাঠ ↩︎
- আল-হাবি আল-কাবির, আল-মাওয়ার্দি, খণ্ড ৯, “القول في إفضاء الزوجة” — ইসলামওয়েবের মূল পাঠ; শামেলা: আল-হাবি আল-কাবির ↩︎
- আল-হাবি আল-কাবির, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৫৩৮–৫৩৯ — ইসলামওয়েব: ইফদাউয-যাওজাহ; শামেলা সংস্করণ ↩︎
- তুহফাতুল মুহতাজ, ইবন হাজার আল-হাইতামি, খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ৪৮২ — ইসলামওয়েবের মূল পাঠ ↩︎
- হাশিয়াতুদ দাসুকি, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৭৮ — ইসলামওয়েবের মূল পাঠ ↩︎
- মিনাহুল জলিল, খণ্ড ৯ — ইসলামওয়েবে মালিকি বিস্তারিত আলোচনা ↩︎
- ইসলামওয়েব: ‘دية الإفضاء’ বিষয়সূচি ↩︎
- আল-আওসাত, ইবনুল মুনযির, খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ২৯৬, “باب الإفضاء” — ইসলামওয়েবের পাঠ ↩︎
- IslamQA, ফতোয়া 176799 — বয়ঃসন্ধির আগেও ‘সহবাসের উপযুক্ত’ হলে সহবাসের অনুমতি ↩︎
- IslamQA, ফতোয়া 127176 — অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর সঙ্গে সহবাসের ফিকহি আলোচনা ↩︎
- ইবন হাজম, আল-মুহাল্লা বিল-আসার, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ৮৭–৮৮, কিতাবুদ দিমা ওয়াল কিসাস ওয়াদ দিয়াত, মাসআলা ২০৬৪: دية إفضاء الرجل المرأة; ইসলামওয়েব ↩︎
- ইবন হাজম, আল-মুহাল্লা, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ৮৭, মাসআলা ২০৬৪, হিশাম ইবনে আমর আল-ফাজারির বর্ণনা ↩︎
- ইবন হাজম, আল-মুহাল্লা, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ৮৭–৮৮, মাসআলা ২০৬৪ ↩︎
- ইবন আবি শায়বা, আল-মুসান্নাফ, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৪২৭, কিতাবুদ দিয়াত, পরিচ্ছেদ: الرجل يستكره المرأة فيفضيها, বর্ণনা ২; ইসলামওয়েব ↩︎
- আবদুর রাজ্জাক আস-সানআনি, আল-মুসান্নাফ, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৩৭৮, কিতাবুল উকুল, বাবুল ইফদা, বর্ণনা ১৭৬৭০; ইসলামওয়েব ↩︎
- ইবন আবি শায়বা, আল-মুসান্নাফ, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৪২৭, বর্ণনা ৩, যায়েদ ইবনে সাবিতের নামে ইফদার দিয়াতসংক্রান্ত বিধান ↩︎
- ইবন হাজম, আল-মুহাল্লা, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ৮৮, মাসআলা ২০৬৪-এর শেষাংশ: ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত ইফদার বিধান ↩︎
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, Responding to Children and Adolescents Who Have Been Sexually Abused: WHO Clinical Guidelines, ২০১৭ ↩︎
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, Responding to Children and Adolescents Who Have Been Sexually Abused, ১৯ অক্টোবর ২০১৭, Consequences of Sexual Abuse ↩︎

