সারসংক্ষেপ
উমর ইবনুল খাত্তাবের সঙ্গে সম্পর্কিত হাদিস, ঐতিহাসিক বর্ণনা ও ফিকহি বিধানগুলোতে নারীর শরীর, চলাচল, যৌনতা ও পোশাকের ওপর পুরুষতান্ত্রিক কর্তৃত্বের একটি পুনরাবৃত্ত ধারা দেখা যায়। প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ করতে বের হওয়া সওদাকে নজরদারি ও অপমান, স্ত্রী আতিকার মসজিদে যাওয়া নিয়ে প্রকাশ্য বিরক্তি, নিজের স্ত্রী ঘুমিয়ে পড়েছেন বলে জানিয়ে তৎকালীন যৌন-নিষেধের কথা বললেও সেটিকে বাহানা ধরে সহবাস, নারীরা স্বামীদের “অবাধ্য” হচ্ছে বলে অভিযোগের পর স্ত্রী প্রহারের অনুমতি, বয়ঃসন্ধির আগের উম্মে কুলসুমকে বিবাহ এবং স্বাধীন নারীর মতো আবৃত হওয়ার অপরাধে দাসীকে প্রহার—ঘটনাগুলোর সামাজিক অবস্থান ভিন্ন হলেও কেন্দ্রীয় বৈশিষ্ট্য একই: নারীর নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর ক্ষমতাবান পুরুষের দাবি ও নিয়ন্ত্রণকে প্রাধান্য দেওয়া।
সহিহ হাদিসে দেখা যায়, নবীর স্ত্রী সওদা রাতের অন্ধকারে প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ করতে বের হলে উমর তাকে প্রকাশ্যে শনাক্ত করে এমনভাবে সম্বোধন করেন যে তিনি প্রয়োজন পূরণ না করেই ফিরে গিয়ে অভিযোগ করেন। আতিকার মসজিদে যাওয়া উমরের অপছন্দ ছিল—এ তথ্য প্রাচীন বর্ণনায় প্রতিষ্ঠিত; তবে অন্ধকারে ওঁৎ পেতে তার নিতম্বে হাত দেওয়ার ঘটনাটি আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-য় উমরের নামে এবং আত-তামহিদ ও আল-ইসাবা-র সংস্করণে যুবায়েরের নামে এসেছে। উমরের নিজের স্ত্রীর ক্ষেত্রে সংরক্ষিত বর্ণনায় তিনি স্ত্রীর “আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম” বক্তব্যকে বাহানা মনে করে সহবাস করেন; আর অন্য হাদিসে নারীরা স্বামীদের ওপর “সীমা ছাড়িয়ে” যাচ্ছে বলে তার অভিযোগের পর স্ত্রীদের প্রহারের অনুমতি দেওয়া হয় এবং পরে বহু নারী নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে মুহাম্মদের পরিবারের কাছে আসে। উম্মে কুলসুমের বিবরণে একটি বয়ঃসন্ধিতে না-পৌঁছানো মেয়ের বয়স সম্পর্কে আলীর আপত্তি, উমরের পুনরাবৃত্ত দাবি এবং পরে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের তথ্য পাওয়া যায়।
ক্রীতদাসীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ন্ত্রণ আরও প্রকাশ্য ও সহিংস রূপ নিয়েছে। বায়হাকির প্রচলিত পাঠে উমরের দাসীদের অনাবৃত চুলের সঙ্গে «تضرب ثديهن» বাক্যাংশটি এসেছে, যেটিকে ইসলামকিউএ দাসীদের চুল তাদের বক্ষে আঘাত করছিল বলে ব্যাখ্যা করেছে। কিন্তু আলবানি ইরওয়াউল গালীল ৬/২০৪-এ একই আনাস-বর্ণনা «تضطرب ثديهن»—অর্থাৎ “তাদের স্তন নড়ছিল”—পাঠে উদ্ধৃত করে এর সনদকে «إسناده جيد» বা ভালো বলেছেন; সারাখসির আল-মাবসুত-এও একই বর্ণনা «مضطربات الثدي»—“স্তন নড়ছিল”—ভাষায় সংরক্ষিত হয়েছে। কোনো দাসী স্বাধীন নারীর মতো মাথা ও শরীর ঢাকলে উমর তাকে দুররা দিয়ে প্রহার করতেন, আবরণ সরিয়ে ফেলতেন এবং স্বাধীন নারীর অনুকরণ না করার নির্দেশ দিতেন। পরবর্তী ফিকহশাস্ত্রও দাসীর সতর, পোশাক, শ্রম ও পরপুরুষের দৃষ্টির আওতা স্বাধীন নারীর তুলনায় আলাদা করে নির্ধারণ করেছে। একই সমাজে স্বাধীন নারীকে আবৃত থাকতে বাধ্য করা এবং দাসীকে আবৃত হতে বাধা দেওয়া প্রমাণ করে যে পর্দা কেবল সর্বজনীন শালীনতা বা নিরাপত্তার বিধান ছিল না; এটি নারীকে সামাজিক শ্রেণি ও মালিকানার অবস্থান অনুযায়ী দৃশ্যমানভাবে পৃথক করার ব্যবস্থাও ছিল।
এই ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন “কঠোরতা” বলে আলাদা করলে মূল চরিত্রগত ধারাটি আড়াল হয়। সওদার চলাচল, আতিকার ধর্মীয় অনুশীলন, স্ত্রীর যৌন প্রত্যাখ্যানমূলক বক্তব্য, অন্যান্য স্ত্রীর শারীরিক নিরাপত্তা, শিশুকন্যার বৈবাহিক ভবিষ্যৎ এবং দাসীর নিজের শরীর ঢাকার সিদ্ধান্ত—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নারীর ইচ্ছা পুরুষের দৃষ্টি, ঈর্ষা, যৌন আকাঙ্ক্ষা, বৈবাহিক কর্তৃত্ব, বংশগত আকাঙ্ক্ষা বা শ্রেণিশাসনের নিচে চাপা পড়ে। এই পুনরাবৃত্ত আচরণ ক্ষমতার অপব্যবহার, নারীর শারীরিক স্বায়ত্তশাসনের প্রতি অবজ্ঞা এবং দুর্বল মানুষের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিক মানসিকতা প্রকাশ করে।
ভূমিকা: পর্দা, নারী-নিয়ন্ত্রণ ও দাসত্বের রাজনীতি
ইসলামি পর্দাব্যবস্থাকে সাধারণত নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও শালীনতার বিধান হিসেবে প্রচার করা হয়। কিন্তু একই বিধানের ঐতিহাসিক প্রয়োগে দেখা যায়, স্বাধীন নারীকে আবৃত থাকতে বাধ্য করা হলেও ক্রীতদাসীকে আবরণ ব্যবহারের অধিকার দেওয়া হয়নি। কোনো দাসী স্বাধীন নারীর মতো মাথা ও শরীর ঢাকতে চাইলে তাকে শাসন, অপমান ও প্রহারের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ফলে পর্দা এখানে সর্বজনীন নৈতিক বিধান নয়; এটি স্বাধীন নারী ও দাসীকে প্রকাশ্যে আলাদা করে চিহ্নিত করার একটি শ্রেণিভিত্তিক ব্যবস্থা। যে পোশাক এক নারীর জন্য সম্মান ও শালীনতার প্রতীক, সেই পোশাকই অন্য নারীর শরীরে অপরাধে পরিণত হয়েছে।
এই দ্বিমুখী ব্যবস্থার কেন্দ্রে ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব। ধর্মীয় বর্ণনায় তাকে ন্যায়পরায়ণতা, কঠোর নীতিবোধ ও আদর্শ শাসনের প্রতীক বানানো হয়েছে; কিন্তু তার সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনাগুলো ভিন্ন একটি চরিত্র প্রকাশ করে। নবীর স্ত্রী সওদার ব্যক্তিগত প্রয়োজনের ওপর নজরদারি, নিজের স্ত্রী আতিকার মসজিদে যাওয়া নিয়ে প্রকাশ্য বিরক্তি, স্ত্রীর ঘুমিয়ে পড়ার বক্তব্যকে বাহানা ধরে অসম্মতিতে সহবাস, নারীরা স্বামীদের “অবাধ্য” হচ্ছে বলে স্ত্রী প্রহারের অনুমতির পক্ষে হস্তক্ষেপ, অপ্রাপ্তবয়স্ক উম্মে কুলসুমকে বিবাহের জন্য পুনরাবৃত্ত দাবি এবং পর্দা করা দাসীদের ওপর শারীরিক আক্রমণ—এসব ঘটনায় একই প্রবণতা ফিরে আসে: নারীর শরীর, চলাচল, যৌনতা ও সামাজিক অবস্থানের ওপর পুরুষের কর্তৃত্বকে নারীর নিজস্ব ইচ্ছার চেয়ে বেশি মূল্য দেওয়া।
স্বাধীন নারীদের ক্ষেত্রেও উমরের আচরণ নারীর নিজস্ব সিদ্ধান্তকে সম্মান করার পরিচয় দেয় না। সওদা অনিবার্য শারীরিক প্রয়োজন পূরণ করতে বের হয়েছিলেন; তবু তাকে শনাক্ত করে এমন চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল যে তিনি ফিরে গিয়ে অভিযোগ করেন। আতিকার মসজিদে যাওয়া উমরের অপছন্দ ছিল এবং সেই অপছন্দ তিনি সরাসরি স্ত্রীর ওপর চাপ হিসেবে প্রকাশ করতেন। নিজের আরেক স্ত্রীর “আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম” বক্তব্যকে তিনি বিশ্বাস না করে সহবাস করেন। নারীরা স্বামীদের “সীমা ছাড়িয়ে” যাচ্ছে বলে তার অভিযোগের পর স্ত্রী প্রহারের অনুমতি দেওয়া হয়, যার পরিণতিতে বহু নারী নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে মুহাম্মদের পরিবারের কাছে আসে। উম্মে কুলসুমের ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধির আগের বয়স ও পিতার প্রাথমিক আপত্তির ওপর একজন ক্ষমতাবান শাসকের বৈবাহিক ও বংশগত আকাঙ্ক্ষা প্রাধান্য পেয়েছে। ঘটনাগুলোতে নারী বারবার স্বাধীন সিদ্ধান্তগ্রহণকারী ব্যক্তি নয়; পুরুষের দৃষ্টি, ঈর্ষা, যৌন দাবি, পারিবারিক কর্তৃত্ব ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অধীন শরীর হিসেবে উপস্থিত।
ক্রীতদাসীদের ক্ষেত্রে সেই নিয়ন্ত্রণ আরও নিষ্ঠুর ও প্রকাশ্য। স্বাধীন নারীকে পুরুষের দৃষ্টি থেকে আড়াল করার নামে আবৃত করা হয়েছে, অথচ দাসীকে পুরুষের দৃষ্টির জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। ফিকহি বিধানে তার চুল, ঘাড়, বাহু, বুক ও স্তনকে মালিকের কাজ এবং অতিথিসেবার সুবিধার্থে প্রকাশযোগ্য অঙ্গের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কোনো বর্ণনায় উমরের দাসীদের নগ্ন স্তন দুলতে দুলতে পুরুষ অতিথিদের সেবা করার দৃশ্যও সংরক্ষিত হয়েছে। নিজের শরীর ঢাকার চেষ্টা করলে তার ওপর নেমে এসেছে খলিফার দুররা। এই আচরণ প্রমাণ করে যে দাসীর শরীর তার নিজের ছিল না; শরিয়ত, মালিক ও রাষ্ট্রক্ষমতা সম্মিলিতভাবে সেই শরীরের দৃশ্যমানতা নির্ধারণ করত। পর্দা তাই নারীর সুরক্ষা নয়—কোন নারী সম্মানের যোগ্য এবং কোন নারীকে প্রকাশ্য ভোগ্যবস্তু হিসেবে রাখা হবে, তার সামাজিক সংকেত।
ধর্মীয় মর্যাদা কোনো ব্যক্তিকে নৈতিক জবাবদিহির ঊর্ধ্বে তোলে না। “সাহাবি”, “খলিফা” বা “আমিরুল মুমিনিন” উপাধি নারীকে অপদস্থ করা, শিশুকে বিয়ের জন্য ক্ষমতার চাপ দেওয়া কিংবা দাসীর শরীর ঢাকার অধিকার কেড়ে নেওয়াকে ন্যায়সংগত করে না। উমরের প্রতি আরোপিত পবিত্র ভাবমূর্তি সরিয়ে তার কাজগুলোকে স্বাভাবিক নৈতিক মানদণ্ডে বিচার করলে একটি নির্যাতনমূলক চরিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে—যেখানে ক্ষমতা মানে দুর্বল মানুষের শরীর নিয়ন্ত্রণের অধিকার, নারী মানে পুরুষের নির্দেশাধীন সত্তা এবং দাসী মানে সম্মান ও আত্মমর্যাদাহীন সম্পত্তি। এই মানসিকতা শুধু ব্যক্তিগতভাবে নিকৃষ্ট নয়; রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও ধর্মীয় আইনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়নব্যবস্থায় পরিণত হয়েছিল।
সাহাবিদের সমালোচনা নিষিদ্ধ করার মতবাদ ও ঐতিহাসিক জবাবদিহি
সাহাবিদের ঐতিহাসিক কর্মকাণ্ড পর্যালোচনার পথে প্রথম বাধা হলো—ব্যক্তিগত সাক্ষ্যপ্রমাণ যাচাইয়ের আগেই গোটা গোষ্ঠীকে নির্ভরযোগ্য, ন্যায়পরায়ণ ও সম্মানিত বলে ঘোষণা করার ধর্মীয় মতবাদ। ইসলামকিউএ ইমাম নববীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সংঘাত ও গৃহযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীরাও এই সামষ্টিক ন্যায়পরায়ণতার ঘোষণার অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ কার কাজ কী ছিল, কে কাকে হত্যা করেছে, কে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে—এসব যাচাইয়ের আগেই সিদ্ধান্ত নির্ধারিত: সাহাবিরা সবাই ন্যায়পরায়ণ। [1]
قال النووي رحمه الله: «الصحابة كلهم عدول، من لابس الفتنة وغيرهم، بإجماع من يعتد به».
বাংলা অনুবাদ: নববী বলেছেন: “সাহাবিরা সবাই ন্যায়পরায়ণ—তাদের মধ্যে যারা সংঘাত ও গৃহযুদ্ধে জড়িয়েছিল, তারাও; গ্রহণযোগ্য আলেমদের ঐকমত্যে।”
হাদিসশাস্ত্রের পরিভাষায় সাহাবিদের ‘আদালত’ বা ন্যায়পরায়ণতা মূলত তাদের বর্ণনা গ্রহণের পূর্বনির্ধারিত বিশ্বাসযোগ্যতা বোঝায়; এটি আনুষ্ঠানিকভাবে পাপহীনতা বা নিষ্পাপত্বের সমার্থক নয়। কিন্তু বাস্তবে এই পার্থক্যটি প্রায় অর্থহীন হয়ে পড়ে। কোনো সাহাবির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেলে একই মতবাদ অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান, ভুল হিসেবে লঘু করা, অঘোষিত তওবার অনুমান করা কিংবা আলোচনাই বন্ধ করে দেওয়ার পথ তৈরি করে। ব্যক্তির কাজ পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে তার সাহাবি পরিচয় দিয়েই সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এটি ঐতিহাসিক অনুসন্ধান নয়; এটি পূর্বনির্ধারিত ধর্মীয় রায়কে প্রমাণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া।
ইসলামওয়েব আরও স্পষ্ট ভাষায় সাহাবিদের সমালোচনাকে ‘যিন্দিকি’ বা ধর্মদ্রোহিতার লক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সেখানে আবু যুরআর নামে উদ্ধৃত বক্তব্যে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ সত্য না মিথ্যা, তার দলিল কী কিংবা সমালোচনাটি নৈতিক না ঐতিহাসিক—এসব যাচাইয়ের কোনো প্রয়োজন রাখা হয়নি। কোনো সাহাবির মর্যাদা হ্রাস করে এমন বক্তব্য করাটাই বক্তাকে ধর্মদ্রোহী ঘোষণা করার জন্য যথেষ্ট। [2]
إذا رأيت الرجل ينتقص أحداً من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فاعلم أنه زنديق.
বাংলা অনুবাদ: “তুমি যখন কাউকে রাসুলের কোনো সাহাবির মর্যাদা হ্রাস করতে দেখবে, তখন জেনে রাখো, সে একজন যিন্দিক।”
এটি নিছক ধর্মীয় ভক্তি নয়; এটি প্রশ্নকারীর বিরুদ্ধে ভয় প্রদর্শনের কৌশল। অভিযোগের জবাব প্রমাণ দিয়ে না দিয়ে অভিযোগকারীকে ধর্মদ্রোহী ঘোষণা করা হয়। ফলে একজন বিশ্বাসীর সামনে দুটি পথ রাখা হয়: সাহাবির বিরুদ্ধে সংরক্ষিত বর্ণনা অস্বীকার করো, অথবা নিজের ধর্মীয় পরিচয় বিপন্ন হওয়ার ভয় গ্রহণ করো। এই পদ্ধতিতে সত্য-মিথ্যা নির্ধারিত হয় দলিল দিয়ে নয়, অভিযুক্ত ব্যক্তির ধর্মীয় পদমর্যাদা দিয়ে।
ইসলামকিউএর আরেকটি উত্তরে সাহাবিদের কারও সমালোচনাকে সরাসরি ধ্বংস ও সরল পথ থেকে বিচ্যুতি বলা হয়েছে। একই উত্তরে তাদের সত্যবাদিতা, আমানতদারি, চরিত্র ও কর্মকে সামষ্টিকভাবে সর্বোচ্চ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এই সর্বগ্রাসী প্রশংসা কোনো ব্যক্তির নির্দিষ্ট জীবন ও কাজের পরীক্ষালব্ধ সিদ্ধান্ত নয়; এটি বিশ্বাসের আবশ্যিক অংশ হিসেবে আরোপিত একটি সাধারণ ঘোষণা। [3]
وأن الوقوع فيهم أو في أحد منهم مهلكة وزيغ عن صراط الله المستقيم.
বাংলা অনুবাদ: “তাদের অথবা তাদের কোনো একজনের বিরুদ্ধে কথা বলা ধ্বংসের কারণ এবং আল্লাহর সরল পথ থেকে বিচ্যুতি।”
এই মতবাদের সামাজিক কার্যকারিতা পরিষ্কার। সাহাবিদের কোনো কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুললেই প্রশ্নটি আর ঐতিহাসিক বা নৈতিক প্রশ্ন থাকে না; সেটিকে ঈমানের পরীক্ষায় রূপান্তরিত করা হয়। তখন নির্যাতিত ব্যক্তি, অপমানিত নারী, প্রহৃত দাসী কিংবা ক্ষমতার সামনে অসহায় শিশুর অভিজ্ঞতা গুরুত্বহীন হয়ে যায়। অভিযুক্ত ব্যক্তি সাহাবি—এই পরিচয়টিই তার বিরুদ্ধে সমস্ত সাক্ষ্যকে দুর্বল এবং সমস্ত নৈতিক সমালোচনাকে ধর্মবিরোধী বানানোর অস্ত্র হয়ে ওঠে। ড. আবু বকর মুহাম্মদ যাকারিয়ার বক্তব্যেও সাহাবিদের দোষ প্রকাশ না করার এই ধর্মীয় চাপ সরাসরি প্রচারিত হয়েছে।
এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সবচেয়ে প্রকট অসঙ্গতি হলো, একই ইসলামকিউএ আবার স্বীকার করেছে যে সাহাবিরা নিষ্পাপ ছিলেন না এবং তাদের দ্বারা ভুল সংঘটিত হতে পারত। এই স্বীকারোক্তি সত্য হলে তাদের কাজ সমালোচনা, প্রত্যাখ্যান ও নৈতিকভাবে বিচার করার সুযোগও স্বীকার করতে হয়। ভুল করার ক্ষমতা স্বীকার করে সেই ভুলের সমালোচনাকে ধ্বংস ও ধর্মচ্যুতি বলা যুক্তিগত স্ববিরোধিতা। [4]
إلا أنهم غير معصومين، فربما وقع من بعضهم الخطأ.
বাংলা অনুবাদ: “তবে তারা নিষ্পাপ ছিলেন না; ফলে তাদের কারও কারও দ্বারা ভুল সংঘটিত হতে পারত।”
“তারা নিষ্পাপ নন” কথাটি যদি কেবল মুখরক্ষার বাক্য না হয়, তাহলে সাহাবিদের কাজ অন্য সব ঐতিহাসিক ব্যক্তির মতোই প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারযোগ্য। আর যদি কোনো নেতিবাচক সিদ্ধান্ত উচ্চারণ করলেই সমালোচককে যিন্দিক, পথভ্রষ্ট বা ধর্মবিরোধী ঘোষণা করা হয়, তাহলে নিষ্পাপ না হওয়ার স্বীকারোক্তিটি অর্থহীন অভিনয় ছাড়া কিছু নয়। সেখানে ভুলের তাত্ত্বিক সম্ভাবনা স্বীকার করা হয়, কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট ভুলের নৈতিক পরিণতি স্বীকার করা হয় না।
উমরের ক্ষেত্রেও তার সাহাবি, খলিফা কিংবা ‘আমিরুল মুমিনিন’ পরিচয় কোনো নৈতিক দায়মুক্তির সনদ নয়। উপাধি কোনো কাজকে পবিত্র করে না; কাজই ব্যক্তির চরিত্র প্রকাশ করে। ক্ষমতাহীন নারী ও দাসীদের ওপর অপমান, নজরদারি, যৌন অবমাননা, বলপ্রয়োগ ও শারীরিক নির্যাতনের পুনরাবৃত্ত আচরণ একজন শাসকের নিকৃষ্ট চরিত্রের প্রত্যক্ষ পরিচায়ক। এসব কাজের প্রমাণের জবাবে উমরের পদমর্যাদা হাজির করা যুক্তি নয়—এটি ক্ষমতাবানের অপরাধকে ধর্মীয় আবরণে আড়াল করার অপচেষ্টা।
পর্দা: শালীনতার বিধান, না শ্রেণিচিহ্ন?
ইসলামি পর্দাব্যবস্থাকে সাধারণত নারীদেহের শালীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার সার্বজনীন বিধান হিসেবে প্রচার করা হয়। কিন্তু কোরআনের সংশ্লিষ্ট আয়াত, ধ্রুপদি তাফসির এবং ইসলামি ফিকহের প্রয়োগ সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি সামাজিক বাস্তবতা প্রকাশ করে। পর্দা সব নারীর সমান মর্যাদা রক্ষার বিধান ছিল না; স্বাধীন নারীকে দাসী থেকে দৃশ্যত আলাদা করার একটি শ্রেণিচিহ্ন হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হয়েছে।
সুরা আহজাবের ৫৯ নম্বর আয়াতে মুহাম্মদকে তার স্ত্রী, কন্যা ও বিশ্বাসী নারীদের শরীরের ওপর জিলবাব টেনে দিতে বলতে বলা হয়েছে, যাতে তাদের চেনা যায় এবং নির্যাতন করা না হয়। [5]
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَنْ يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ.
বাংলা অনুবাদ: “হে নবী, আপনার স্ত্রী, কন্যা ও বিশ্বাসী নারীদের বলুন, তারা যেন নিজেদের ওপর তাদের জিলবাব নামিয়ে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে এবং তারা নির্যাতিত হবে না।”
আয়াতটিতে দাসীদের কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। স্বাধীন নারী ও দাসীর পোশাকগত পার্থক্যের ব্যাখ্যাটি এসেছে ধ্রুপদি তাফসিরে। ইবনে কাসির লিখেছেন, জিলবাব পরার নির্দেশের একটি উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বাসী স্বাধীন নারীদের পোশাককে দাসীদের পোশাক থেকে পৃথক করা। [6]
ليتميزن عن سمات نساء الجاهلية وسمات الإماء.
বাংলা অনুবাদ: “যাতে তারা জাহেলি যুগের নারী ও দাসীদের পোশাকের বৈশিষ্ট্য থেকে পৃথক হিসেবে চিহ্নিত হয়।”
ইবনে কাসির আরও লিখেছেন, জিলবাব পরিহিত নারীকে স্বাধীন নারী হিসেবে চিনতে পেরে দুষ্কৃতকারীরা তার কাছ থেকে সরে যেত; আর জিলবাবহীন নারীকে দাসী মনে করে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ত। এই ব্যাখ্যায় পোশাক কোনো বিমূর্ত শালীনতার চিহ্ন নয়—এটি নারীর সামাজিক ও আইনি অবস্থার দৃশ্যমান পরিচয়পত্র। যে নারী স্বাধীন, সে আবৃত হয়ে নিরাপত্তার দাবি জানাবে; যে নারী অন্য মানুষের সম্পত্তি, তার পোশাকই তাকে অধম শ্রেণির নারী হিসেবে শনাক্ত করবে।
এটি শুধু মধ্যযুগীয় তাফসিরকারদের বিচ্ছিন্ন ব্যাখ্যা নয়। আধুনিক ইসলামকিউএও সরাসরি স্বীকার করেছে যে ‘পূর্ণাঙ্গ পর্দা’ স্বাধীন নারীদের জন্য এবং দাসী বা মালিকানাধীন নারীরা সেই পর্দায় স্বাধীন নারীদের অনুকরণ করতে পারবে না। একই উত্তরে বলা হয়েছে, উমর দাসীদের মুখ ঢাকতে বাধা দিতেন। [7]
لكن الحجاب الكامل للحرائر من النساء، وأما الإماء وملك اليمين فلا يتشبهن بالحرائر في الحجاب الكامل.
বাংলা অনুবাদ: “পূর্ণাঙ্গ পর্দা স্বাধীন নারীদের জন্য; দাসী ও ডান হাতের মালিকানাধীন নারীরা পূর্ণাঙ্গ পর্দায় স্বাধীন নারীদের অনুকরণ করবে না।”
এখানে ব্যবহৃত ‘অনুকরণ’ ধারণাটিই বৈষম্যের প্রকৃতি উন্মোচন করে। নিজের মাথা, মুখ বা শরীর ঢেকে রাখা দাসীর ব্যক্তিগত পছন্দ বা শারীরিক অধিকারের বিষয় হিসেবে গণ্য হয়নি। সেটিকে উচ্চতর সামাজিক শ্রেণির নারীর সাজসজ্জা অবৈধভাবে গ্রহণ করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হয়েছে। অর্থাৎ পোশাকের অধিকারও নারীর মানবিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর করেনি; নির্ভর করেছে সে স্বাধীন মানুষ, নাকি অন্য মানুষের সম্পত্তি।
ইসলামওয়েবের ব্যাখ্যাও স্বীকার করেছে যে স্বাধীন নারীদের দাসীদের বিপরীত পোশাক পরানোর উদ্দেশ্য ছিল, দুষ্কৃতকারীরা যেন তাদের স্বাধীন নারী হিসেবে চিনে ভয় পায়। [8]
فلا إشكال في أمر الحرائر بمخالفة زي الإماء ليهابهن الفساق.
বাংলা অনুবাদ: “স্বাধীন নারীদের দাসীদের বিপরীত পোশাক পরার নির্দেশ দেওয়ায় কোনো সমস্যা নেই, যাতে পাপাচারীরা তাদের ভয় করে।”
ইসলামওয়েব একই সঙ্গে দাবি করেছে, এই ব্যাখ্যা থেকে দাসীদের নির্যাতন বৈধ—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। [9]
ولا يفهم من قوله تعالى ذلك أدنى أن يعرفن فلا يؤذين أنه يجوز التعرض للإماء بالأذى.
বাংলা অনুবাদ: “‘যাতে তাদের চেনা যায় এবং নির্যাতিত না হয়’—এই আয়াত থেকে দাসীদের নির্যাতন করা বৈধ, এমনটি বোঝা যাবে না।”
এই নিষেধাজ্ঞার দাবি পোশাকভিত্তিক বৈষম্যের সমস্যার কোনো জবাব নয়। দাসীকে নির্যাতন করা তাত্ত্বিকভাবে নিষিদ্ধ বললেই দাসীর কাছ থেকে স্বাধীন নারীর পোশাক পরার অধিকার কেড়ে নেওয়া ন্যায়সংগত হয়ে যায় না। বরং স্বীকারোক্তিটি ব্যবস্থাটির স্ববিরোধিতা আরও স্পষ্ট করে। একদিকে বলা হচ্ছে দাসীকেও নির্যাতন করা যাবে না; অন্যদিকে তাকে সেই পোশাক পরতে দেওয়া হচ্ছে না, যা সমসাময়িক সমাজে নারীকে দুষ্কৃতকারীদের কাছে সুরক্ষাযোগ্য স্বাধীন নারী হিসেবে শনাক্ত করত।
দুষ্কৃতকারীরা কেন নারীকে আক্রমণ করত, তার মূল কারণ মোকাবিলা না করে স্বাধীন নারীদের আলাদা পোশাক পরিয়ে তাদের দাসী থেকে পৃথক করা হয়েছিল। এতে সহিংসতার অবসান ঘটেনি; সম্ভাব্য আক্রমণের লক্ষ্যকে শ্রেণি অনুযায়ী শনাক্তযোগ্য করা হয়েছে। স্বাধীন নারীকে বলা হয়েছে—নিজেকে ঢেকে মর্যাদাসম্পন্ন শ্রেণির পরিচয় দাও। দাসীকে বলা হয়েছে—তুমি সেই পরিচয় বহন করতে পারবে না। এটি সার্বজনীন নিরাপত্তা নয়; এটি শ্রেণিভিত্তিক নিরাপত্তা।
এই বিভাজন উমরের আমলে হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি। মুহাম্মদের কর্মকাণ্ডেও পর্দাকে স্বাধীন স্ত্রী ও মালিকানাধীন দাসীর অবস্থান নির্ধারণের চিহ্ন হিসেবে ব্যবহারের বর্ণনা পাওয়া যায়। মুয়াবিয়ার দরবারে দাসীদের অনাবৃত অবস্থায় উপস্থিত রাখার বর্ণনাও একই সামাজিক কাঠামোর ধারাবাহিকতা প্রকাশ করে। [10]
“যদি নবী সাফীয়ার জন্য পর্দার ব্যবস্থা করেন, তাহলে নবীর সহধর্মিণী হিসাবে গণ্য করা হবে।”
“দাসীকে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র বা নগ্ন অবস্থায় তার সামনে আনা হয়।”
স্বাধীন নারী ও দাসীকে পৃথক করা পর্দার একটি সুস্পষ্ট ও প্রামাণ্য সামাজিক কাজ ছিল। অতএব পর্দাকে শুধু ‘সব নারীর শালীনতা ও সুরক্ষা’র সার্বজনীন ব্যবস্থা হিসেবে উপস্থাপন করা মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। যে ব্যবস্থা একই নারীদেহের মর্যাদা মালিকানার অবস্থার ভিত্তিতে বদলে দেয়, সেটি নারীকে মানুষ হিসেবে সমান মর্যাদা দেয় না; সেটি নারীকে স্বাধীন মানুষ ও যৌন-শ্রমসম্পত্তি—এই দুই শ্রেণিতে ভাগ করে।
উমর এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার নিষ্ক্রিয় দর্শক ছিলেন না। তার শাসনে দাসীদের স্বাধীন নারীর মতো আবৃত হতে বাধা দেওয়া হয়েছে, আবৃত হওয়ার জন্য তাদের অপমান ও প্রহার করা হয়েছে এবং তার নিজের গৃহে দাসীদের অনাবৃত অবস্থায় অতিথিদের সেবা করানো হয়েছে। ফলে তার ভূমিকা কেবল প্রচলিত সামাজিক রীতি অনুসরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; তিনি নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে নারীর শরীরে দাসত্বের চিহ্ন দৃশ্যমান রাখার ব্যবস্থা কার্যকর করেছিলেন। এটি শালীনতা প্রতিষ্ঠা নয়—এটি দাসীকে প্রকাশ্যে হীন, ব্যবহারযোগ্য ও অধিকারহীন মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করার নিষ্ঠুর রাজনীতি।
সওদার ওপর নজরদারি: প্রাকৃতিক প্রয়োজন, প্রকাশ্য অপমান ও পর্দার চাপ
সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে সংরক্ষিত বর্ণনা অনুযায়ী, মুহাম্মদের স্ত্রী সওদা রাতে প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের জন্য বাইরে গেলে উমর তাকে শরীরের আকৃতি দেখে চিনে ফেলেন এবং প্রকাশ্যে তার নাম ধরে বলেন যে তিনি নিজেকে পুরুষদের দৃষ্টি থেকে গোপন রাখতে পারেননি। ঘটনাটি কোনো সাধারণ কথোপকথন ছিল না। সওদা এমন একটি ব্যক্তিগত ও অনিবার্য শারীরিক প্রয়োজন পূরণ করতে বেরিয়েছিলেন, যা তখন ঘরের ভেতরে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা ছিল না। সেই অসহায় মুহূর্তে একজন প্রভাবশালী পুরুষ তাকে পর্যবেক্ষণ করে তার শরীর শনাক্ত করেন, তার নাম ধরে ডাকেন এবং কীভাবে তিনি বাইরে বের হচ্ছেন তা ভেবে দেখতে বলেন। অপমান ও আতঙ্কে সওদা প্রয়োজন পূরণ না করেই ঘরে ফিরে মুহাম্মদের কাছে অভিযোগ করেন। হাদিসের একটি বর্ণনাধারায় উমর আগে থেকেই মুহাম্মদের স্ত্রীদের ওপর পর্দা চাপানোর দাবি জানাচ্ছিলেন এবং তার এই প্রকাশ্য হস্তক্ষেপের পর পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হয়; অন্য বর্ণনাধারায় ঘটনাটি পর্দার বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পরের এবং সওদার অভিযোগের জবাবে নারীদের প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার অনুমতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। কালানুক্রমের এই পার্থক্য সত্ত্বেও সব বর্ণনার সাধারণ ও অস্বস্তিকর কেন্দ্র একই: সওদার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার ওপর উমর নজর রাখছিলেন এবং তাকে এমনভাবে অপমান করেছিলেন যে তিনি ফিরে গিয়ে অভিযোগ করতে বাধ্য হন।
তৎকালীন মদিনায় নারীদের রাতে প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের জন্য জনবসতির বাইরে খোলা জায়গায় যেতে হতো। আয়েশার ইফকের ঘটনার বিস্তৃত বর্ণনাতেও রাতের বেলা নারীদের হাজত পূরণের জন্য বাইরে যাওয়ার এই সামাজিক পরিস্থিতির উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ সওদা কোনো বিনোদন, সামাজিক সাক্ষাৎ কিংবা অবাধ ঘোরাফেরার জন্য বের হননি; ঘরের ভেতরে শৌচাগার না থাকায় মানবদেহের অনিবার্য প্রয়োজন পূরণের জন্য বেরিয়েছিলেন। এই প্রেক্ষাপট উমরের আচরণকে লঘু করে না, বরং তার নিকৃষ্টতা আরও স্পষ্ট করে। কারণ তিনি এমন একটি সময়ে সওদার শরীর ও চলাচলকে প্রকাশ্য আলোচনার বিষয় বানিয়েছিলেন, যখন সওদার সামনে বাইরে যাওয়া ছাড়া কার্যকর কোনো বিকল্প ছিল না। [11]
“আল্লাহর শপথ! সাফওয়ান কোন কথা আমার সাথে বলেন নি। তাঁর জবান থেকে আমি ইন্নালিল্লাহ ছাড়া আর কোন কথা শুনিনি।”
তিনি আমার নিকট উট নিয়ে এসে বললেন, আপনি আরোহণ করুন। এই বলে তিনি পিছনে সরে গেলেন। আমি উটের উপর আরোহণ করলাম। তিনি উটের রশি ধরে রওয়ানা হলেন। দ্রুত চলতে লাগলেন যাতে তাড়াতাড়ি সৈন্যদের সাথে মিলিত হতে পারেন। দিনের বেলা অনেকটুকু হয়েছে। লোকজন একটি মনযিলে গিয়ে পৌঁছেছেন। এমতাবস্থায় পৌঁছল আমার উট।
লোকজনের মধ্যে কানাঘুষা শুরু হল, বিশেষত খবিস মুনাফিক আবদুল্লাহ্ ইবনে উবাই মনগড়া কথা বানিয়ে লোকজনের মধ্যে খুব ছড়াল। সবার সাথে এ নিয়ে আলোচনা-চর্চা করত। কিছু লাগাত, কিছু বাড়াত। তার সাথীরা সর্বত্র এর চর্চা করত। অথচ আমি এসব কিছুই জানতাম না।
হযরত আয়েশা রা. বলেন, মদীনায় পৌঁছে আমি রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লাম। সেখানে সর্বদিকে এর চর্চা হতে লাগল। এমনকি কিছু সত্যিকার মুসলমানও মুনাফিকদের ধোকায় পড়ে যায় এবং এই বালায় লিপ্ত হয়। যাদের নাম নিম্নরূপঃ
১। হযরত হাসসান ইবনে সাবিত রা. প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রসিদ্ধ কবি।
২। মিসতাহ ইবনে উসাসা রা. হযরত সিদ্দীকে আকবর রা.-এর খালাত বোনের সন্তান অর্থাৎ, খালার নাতি।
৩। উম্মুল মু’মিনীন হযরত যায়নব বিনতে জাহাশ রা.-এর বোন হামনা বিনতে জাহাশ রা.।
হযরত আয়েশা রা. বলেন, আমি এসব আলোচনার কিছুই জানতাম না। না রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আলোচনা করেছেন, না আমার মাতা-পিতা আমাকে কিছু বলেছেন, না অন্য কেউ। কিন্তু আমি লক্ষ্য করছিলাম, অন্য সময় আমার রোগ-ব্যাধি হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যে অনুগ্রহ ও মেহেরবানী ছিল এবার তেমনটি ছিল না। আসতেন, কুশলাদি জিজ্ঞেস করতেন, আবার চলে যেতেন। এ পরিবর্তনের কারণ আমি বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু এর কষ্ট আমার হচ্ছিল।
এক রাতে মিসতাহ ইবনে উছাছার আম্মার সাথে জরুরি হাজত সারার জন্য আমি মদীনার বাইরে জঙ্গলের দিকে গেলাম। কারণ, তখনকার দিনে দুর্গন্ধের কারণে ঘর-বাড়িতে বাথরুম তৈরি করা হত না। মহিলারা শুধু রাতের বেলায় হাজত (প্রস্রাব-পায়খানা) পূরণ করার জন্য বাইরে যেতেন। পক্ষান্তরে, মিসতাহের মা ছিলেন আবু রিহ্ম ইবনে মুত্তালিব ইবনে আবদে মানাফের কন্যা। তাঁর মা ছিলেন হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা. এর খালা। পথিমধ্যে চাদরে তাঁর পা ফেঁসে যায়। তখন তাঁর মুখ থেকে বের হয়, মিসতাহ ধ্বংস হোক, আমি বললাম, আপনি বদরী একজন মনীষীকে কেন ভাল-মন্দ বলছেন? মিসতাহের মা বললেন, হে সাদাসিধে রমণী! মিসতাহ কি বাজে বকছে, তুমি তো ঘটনার কিছুই জান না দেখছি! আমি বললাম, কি? তখন তিনি সব হাল-অবস্থা খুলে বললেন। আমার তো হুঁশ হারাবার উপক্রম। বললাম, আপনি কি সত্য বলছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, বিলকুল সত্য!
আমি ফিরে ঘরে এলাম। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশরীফ আনলে আমি তাঁর নিকট, স্বীয় মাতা-পিতার নিকট যাবার অনুমতি প্রার্থনা করলাম। যাতে তাদের মাধ্যমে বিষয়টির তত্ত্বানুসন্ধান করতে পারি। তিনি আমাকে অনুমতি দিয়ে দিলেন। আমি মা-বাবার নিকট চলে এলাম। আম্মাকে জিজ্ঞেস করলাম, এ কি ঘটনা? এত কথা আমার সম্পর্কে হচ্ছে, আর আপনারা আমার নিকট কিছুই উল্লেখ করলেন না? তিনি বললেন, বেটি! ধৈর্য্য ধারণ কর। সতীনওয়ালী মহিলাদের সাথে এমন আচরণই হয়। আমি বললাম, লোকজন কি বাস্তবেই এরূপ বলেছে? লোকজনের মুখ থেকে একথা বের হয়েছে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত কি এরূপ কথাবার্তা পৌঁছেছে? আমার আব্বা কি এসব শুনেছেন? এসব বলেই অনিচ্ছাকৃতভাবে আমি কাঁদতে

সওদার ঘটনাটি সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে একাধিক অধ্যায় ও নম্বরে এসেছে। এগুলো পাঁচজন স্বাধীন প্রত্যক্ষদর্শীর পাঁচটি পৃথক সাক্ষ্য নয়; মূল বর্ণনাকারী আয়েশা এবং একই ঘটনার পাঠ বিভিন্ন গ্রন্থ ও অধ্যায়ে পুনরাবৃত্ত হয়েছে। ইসলামি হাদিসশাস্ত্রের নিজস্ব মানদণ্ডে প্রতিটি উদ্ধৃত পাঠই সহিহ হিসেবে চিহ্নিত এবং বুখারি-মুসলিমের মতো সর্বাধিক মর্যাদাপ্রাপ্ত সংকলনে সংরক্ষিত। কোনো একটি অনুবাদের অস্পষ্টতা বা অধ্যায়ের শিরোনাম নিয়ে আপত্তি তুলে ঘটনাটি অস্বীকার করার সুযোগও নেই, কারণ সব পাঠের সাধারণ বক্তব্য এক: উমর রাতে সওদাকে চিনে ফেলেন, পথ রোধ করেন, তাকে সেই কথা জানান, সওদা ফিরে গিয়ে অভিযোগ করেন এবং মুহাম্মদ নারীদের প্রয়োজনের জন্য বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেন। [12] [13] [14] [15] [16]
সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৪০/ সালাম
পরিচ্ছদঃ ৭. মানুষের প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের জন্য স্ত্রীলোকের বাইরে যাওয়ার বৈধতা
৫৪৮৪। আবদুল মালিক ইবনু শুআয়ব ইবনু লায়স (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীগণ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার সময় রাতের বেলা ‘মানাসি’ এর দিকে বেরিয়ে যেতেন। الْمَنَاصِع (মানাসি) হল প্রশস্ত ময়দান। ওদিকে উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতেন, আপনার স্ত্রীগণের প্রতি পর্দা বিধান করুন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা করেননি। কোন এক রাতে ইশার সময় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনা সাওদা বিনত যাম’আ (রাঃ) বের হলেন। তিনি ছিলেন দীর্ঘাঙ্গী মহিলা। উমার (রাঃ) তাঁকে ডাক দিয়ে বললেন, হে সাওদা! আমরা তোমাকে চিনে ফেলেছি। পর্দার বিধান নাযিল হওয়ার প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষায় (তিনি এরূপ করলেন)। আয়িশা (রাঃ) বলেন, তখন আল্লাহর তাআলা পর্দা-বিধি নাযিল করলেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫২/ তাফসীর
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ لا تدخلوا … عند الله عظيما হে মু’মিনগণ! তোমরা খাওয়ার জন্য খাবার প্রস্তুতির অপেক্ষা না করে নাবীর ঘরে তোমাদেরকে অনুমতি না দেয়া পর্যন্ত প্রবেশ করবে না; তবে তোমাদেরকে ডাকা হলে তোমরা প্রবেশ করবে এবং খাওয়া শেষ হলে নিজেরাই চলে যাবে, কথাবার্তায় মাশগুল হয়ে পড়বে না। তোমাদের এ আচরণ অবশ্যই নাবীকে পীড়া দেয়। তিনি তোমাদেরকে উঠিয়ে দিতে সংকোচ বোধ করেন। কিন্তু আল্লাহ সত্য বলতে সংকোচবোধ করেন না। তোমরা যখন তাঁর পত্নীদের নিকট হতে কোন কিছু চাইবে, তখন পর্দার অন্তরাল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্য এবং তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্র উপায়। আল্লাহর রসূলকে কষ্ট দেয়া এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পত্নীদেরকে বিবাহ করা তোমাদের কারও পক্ষে কখনও বৈধ নয়। এটা আল্লাহর কাছে সাংঘাতিক অপরাধ। বলা হয় إِنَاهُ খাদ্য পরিপাক হওয়া। এটা أَنَى يَأْنِيْ أَنَاةً থেকে গঠিত। لَعَلَّ السَّاعَةَ تَكُوْنُ قَرِيْبًا সম্ভবত ক্বিয়ামাত অতি নিকটবর্তী। যদি তুমি স্ত্রী লিঙ্গ হিসেবে ব্যবহার কর, তবে قَرِيْبَةً বলবে। আর যদি الصِّفَةَ না ধরে ظَرْفًا বা بَدَلًا হিসেবে ব্যবহার কর তবে ‘তা’ নিয়ে যুক্ত করবে না। তেমনি এ শব্দটি একবচন, দ্বি-বচন, বহুবচন এবং নারী-পুরুষ সকল ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ৪৪৩২, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৪৭৯৫
৪৪৩২। যাকারিয়া ইবনু ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পর্দার বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পর সাওদা প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে যান। সাওদা এমন মোটা শরীরের অধিকারিণী ছিলেন যে, পরিচিত লোকদের থেকে তিনি নিজকে গোপন রাখতে পারতেন না। উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) তাঁকে দেখে বললেন, হে সাওদা! জেনে রাখ, আল্লাহর কসম, আমাদের দৃষ্টি থেকে গোপন থাকতে পারবে না। এখন দেখ তো, কেমন করে বাইরে যাবে? আয়িশা (রাঃ) বলেন, (এ কথা শুনে) সাওদা (রাঃ) ফিরে আসলেন। আর এ সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে রাতের খানা খাচ্ছিলেন। তাঁর হাতে ছিল টুকরা হাড়। সাওদা (রাঃ) ঘরে প্রবেশ করে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে গিয়েছিলাম। তখন উমর (রাঃ) আমাকে এমন এমন কথা বলেছে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, এ সময় আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর নিকট ওহী নাযিল করেন। ওহী অবতীর্ণ হওয়া শেষ হল, হাড় টুকরা তখনও তাঁর হাতেই ছিল, তিনি তা রাখেননি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, অবশ্যই প্রয়োজনে তোমাদের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৬৬/ অনুমতি চাওয়া
পরিচ্ছেদঃ ২৫৭০. পর্দার আয়াত
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ৫৮০৬, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৬২৪০
৫৮০৬। ইসহাক (রহঃ) … নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনী আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট প্রায়ই বলতেন যে, আপনি আপনার সহধর্মিণীদের পর্দা করান। কিন্তু তিনি তা করেননি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণীগণ প্রাকৃতিক প্রয়োজনে রাতে মাঠের দিকে বেরিয়ে যেতেন। একবার সাওদা বিনত যামআ (রাঃ) বেরিয়ে গেলেন। তিনি ছিলেন লম্বাকৃতির মহিলা। উমর (রাঃ) মজলিসে উপস্থিত ছিলেন। তাই তিনি তাকে দেখে ফেললেন এবং পর্দার নির্দেশ নাযিল হওয়ার আগ্রহে বললেনঃ ওহে সাওদা! আমি আপনাকে চিনে ফেলেছি। অতঃপর আল্লাহ তায়াআলা পর্দার আয়াত নাযিল করেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৪০/ সালাম
পরিচ্ছেদঃ ৭. মানুষের প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের জন্য স্ত্রীলোকের বাইরে যাওয়ার বৈধতা
৫৪৮২। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (আমাদের উপরে) পর্দার বিধান আরোপের পর সাওদা (রাঃ) তার প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হলেন, ছিলেন স্থুলদেহী, দেহাকৃতিতে উচ্চতায় তিনি নারীদের ঊর্ধ্বে থাকতেন; যারা তাঁকে চিনে, তাদের কাছে নিজেকে লুকাতে পারতেন না। তখন উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) তাকে দেখতে পেয়ে বললেন, হে সাওদা! আল্লাহর কসম! তুমি আমাদের কাছে লুকাতে পারবে না। ভেবে দেখ, কেমন করে তুমি বের হচ্ছ? আয়িশা (রাঃ) বলেন, একথা শুনে তিনি উল্টা ফিরে এলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে ছিলেন এবং রাতের খাবার গ্রহণ করছিলেন। তাঁর হাতে তখন অল্প গোশতযুক্ত একখানা হাড় ছিল।
সাওদা (রাঃ) ঢুকে পড়ে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি বের হয়েছিলাম, উমার আমাকে এই এই কথা বলেছে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, তখন আল্লাহ তা’আলা তাঁর প্রতি ওহী নাযিল করেন। তারপর তাঁর উপর থেকে (ওহীর) অবস্থার অবসান হয়। আর তখনও হাড়টি তাঁর হাতে ছিল, তা তিনি রেখে দেননি। তখন তিনি বললেনঃ তোমাদের প্রয়োজনে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে (এ বর্ননা আবূ কুরায়ব-এর)। আর আবূ বকর (রহঃ) বর্ণিত রিওয়ায়াতে রয়েছে, “তাঁর দেহ মহিলাদের ঊর্ধ্বে থাকত।” আবূ বকর (রহঃ) তাঁর বর্ণিত হাদীসে অধিক রিওয়ায়াত করেছেন যে, রাবী হিশাম (রহঃ) বলেছেন, الحاجة “প্রয়োজন” অর্থাৎ পায়খানার হাজত।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫৪/ বিয়ে-শাদী
পরিচ্ছেদঃ ২৫৩৯. প্রয়োজনে মহিলাদের ঘরের বাইরে যাওয়া
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ৪৮৫৭, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৫২৩৭
৪৮৫৭। ফারাওয়া ইবনু আবূল মাগ্রা (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে উম্মাহাতুল মু’মিনীন সওদা বিনত জামাআ (রাঃ) কোন কারণে বাইরে গেলেন। উমর (রাঃ) তাঁকে দেখে চিনে ফেললেন। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! হে সওদা (রাঃ) তুমি নিজেকে আমাদের কাছ থেকে লুকাতে পারনি। এতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ফিরে গেলেন এবং উক্ত ঘটনা তাঁর কাছে বললেন। তিনি তখন আমার ঘরে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন এবং তাঁর হাতে গোশতপূর্ণ একখানা হাড় ছিল। এমতাবস্থায় তাঁর কাছে ওহী নাযিল হল। যখন ওহী নাযিল হওয়া শেষ হল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তা’আলা প্রয়োজনে তোমাদের জন্য বাইরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
একটি মুদ্রিত সংস্করণেও একই বর্ণনা পাওয়া যায়। সেখানে সওদার শারীরিক গড়ন, উমরের তাকে দেখে শনাক্ত করা, সওদার ফিরে গিয়ে অভিযোগ করা এবং নারীদের প্রয়োজনের জন্য বাইরে যাওয়ার অনুমতির কথা সংরক্ষিত হয়েছে। ফলে ঘটনাটি কোনো আধুনিক সমালোচকের বানানো পুনর্গঠন নয়; এটি ইসলামি ঐতিহ্যের সর্বাধিক মর্যাদাপ্রাপ্ত হাদিসগ্রন্থের স্বীকৃত পাঠ। [17]
আয়িশা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (আমাদের উপরে) পর্দার বিধান আরোপের পর সাওদা তার প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হলেন, ছিলেন স্থূলদেহী, দেহাকৃতিতে উচ্চতায় তিনি নারীদের ঊর্ধ্বে থাকতেন; যারা তাঁকে চিনে, তাদের কাছে নিজেকে লুকাতে পারতেন না। তখন উমার ইবনুল খাত্তাব তাকে দেখতে পেয়ে বললেন, হে সাওদা! আল্লাহর কসম! তুমি আমাদের কাছে লুকাতে পারবে না। ভেবে দেখ, কেমন করে তুমি বের হচ্ছ? আয়িশা বলেন, একথা শুনে তিনি উল্টা ফিরে এলেন। সাওদা ঢুকে পড়ে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি বের হয়েছিলাম, উমার আমাকে এই এই কথা বলেছে। তখন তিনি বললেন: তোমাদের প্রয়োজনে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সহিহ মুসলিম ৫৪৮৪ এবং সহিহ বুখারি ৫৮০৬-এর পাঠে উমর বহুবার মুহাম্মদকে তার স্ত্রীদের পর্দা করানোর কথা বলতেন, মুহাম্মদ তখনও তা করেননি এবং সওদাকে শনাক্ত করে উমরের মন্তব্যের পর পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হয়। বিপরীতে সহিহ বুখারি ৪৪৩২ ও সহিহ মুসলিম ৫৪৮২-এর পাঠে ঘটনাটি পর্দার বিধান আরোপের পরের; সেখানে সওদার অভিযোগের পর মুহাম্মদ নারীদের প্রয়োজনের জন্য বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেন। দুটি পাঠধারা ঘটনার কালানুক্রম নিয়ে পরস্পরবিরোধী। তবে উভয় পাঠেই সওদা রাতে শৌচকর্মের জন্য বের হন, উমর তার শরীর দেখে তাকে শনাক্ত করেন, এমন মন্তব্য করেন যাতে তিনি ফিরে যেতে বাধ্য হন এবং সওদা সেই আচরণের বিরুদ্ধে মুহাম্মদের কাছে অভিযোগ করেন। কালানুক্রমের বিরোধ উমরের অপমানজনক হস্তক্ষেপের বর্ণনাকে দূর করে না।
উমরের বক্তব্য ছিল না—রাস্তাটি বিপজ্জনক, তাই নিরাপত্তার জন্য কাউকে সঙ্গে নিন। তিনি কোনো আক্রমণকারীকে সতর্ক করেননি, নারীদের জন্য নিরাপদ শৌচাগারের ব্যবস্থা করেননি এবং সওদার ব্যক্তিগত প্রয়োজন নির্বিঘ্ন করেননি। তার বক্তব্যের কেন্দ্র ছিল পুরুষের দৃষ্টি: “আমরা তোমাকে চিনে ফেলেছি”, “তুমি আমাদের কাছে লুকাতে পারবে না”, “ভেবে দেখ, কেমন করে তুমি বের হচ্ছ।” অর্থাৎ একজন নারীর অনিবার্য প্রয়োজন নয়, পুরুষের তাকে দেখতে পাওয়া ও শনাক্ত করার ক্ষমতাই মুখ্য হয়ে উঠেছিল। সমস্যার দায় দর্শকের আচরণের ওপর না দিয়ে নারীর শরীর ও বাইরে যাওয়ার ওপর চাপানো হয়েছিল। সওদা কোনো অপরাধ করেননি; তবু তাকেই অপমানিত হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। এই আচরণ আধুনিক পরিভাষায় রাস্তার হয়রানি, ব্যক্তিগত গোপনতার লঙ্ঘন এবং পোশাক ও চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য ভয় প্রদর্শন। হাদিসে এই আধুনিক শব্দগুলো নেই, কিন্তু বর্ণিত কাজের প্রকৃতি থেকে নৈতিক পরিচয়টি সরাসরি অনুসরণ করে।
এই ঘটনায় উমরের চরিত্রের একটি কদর্য দিক স্পষ্ট হয়। তিনি নিজের সামাজিক ক্ষমতা ব্যবহার করে এমন এক নারীকে হেনস্তা করেছিলেন, যিনি অন্ধকার রাতে শারীরিক প্রয়োজন পূরণ করতে বেরিয়েছিলেন এবং যার সামনে বাইরে যাওয়া ছাড়া কোনো বাস্তব বিকল্প ছিল না। সওদার দেহের আকার নিয়ে প্রকাশ্য মন্তব্য, তাকে পুরুষের নজর থেকে লুকাতে অক্ষম বলে বিদ্রূপ এবং বাইরে যাওয়ার পদ্ধতি নিয়ে ভীতিপ্রদ প্রশ্ন—সবকিছু মিলিয়ে এটি নিছক পর্দাবিষয়ক মতামত নয়; এটি একজন ক্ষমতাবান পুরুষের হাতে এক নারীর ব্যক্তিগত মর্যাদা পদদলিত হওয়ার দলিল। উমরের সাহাবি বা পরবর্তী খলিফা পরিচয় এই আচরণকে মহৎ বানায় না। বরং ইসলামের সর্বোচ্চ মর্যাদাপ্রাপ্ত নারীদের একজনের সঙ্গেও এমন ব্যবহারের সাহস তার কর্তৃত্বপরায়ণতা, নারীদেহ নিয়ন্ত্রণের বাতিক এবং অন্যের অপমানের প্রতি নির্মম উদাসীনতাকেই প্রকাশ করে। এমন আচরণ কোনো উন্নত চরিত্রের লক্ষণ নয়; এটি অত্যন্ত নিকৃষ্ট চরিত্রের প্রত্যক্ষ প্রকাশ।
আতিকার মসজিদে যাওয়া: উমরের অপছন্দ ও অন্ধকারে শরীরে হাত দেওয়ার বিতর্কিত বর্ণনা
আতিকা বিনতে যায়দ নিয়মিত মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ পড়তেন। উমর তার এই বাইরে যাওয়া অপছন্দ করতেন এবং নিজের অপছন্দের কথা তাকে সরাসরি জানিয়েছিলেন। আতিকা পাল্টা জানিয়ে দেন, উমর স্পষ্টভাবে নিষেধ না করা পর্যন্ত তিনি মসজিদে যাওয়া বন্ধ করবেন না। নারীদের মসজিদে যেতে বাধা না দেওয়ার নির্দেশ জানা থাকায় উমর তাকে সরাসরি নিষেধ করেননি; উমর যেদিন মসজিদে আক্রান্ত হন, সেদিনও আতিকা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এই বর্ণনায় আতিকার মসজিদে যাওয়ার অধিকার মেনে নেওয়ার স্বতঃস্ফূর্ততা নেই; রয়েছে ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার কারণে স্ত্রীর চলাচল বন্ধ করতে না পারা এবং সেই চলাচলের প্রতি প্রকাশ্য বিরক্তি। [18]
وكان عمر يقول لها: «والله إنك لتعلمين ما أحب هذا». فقالت: «والله لا أنتهي حتى تنهاني». قال: «إني لا أنهاك».
বাংলা অনুবাদ: উমর তাকে বলতেন, “আল্লাহর শপথ, তুমি জানো যে আমি এটি পছন্দ করি না।” আতিকা বললেন, “আল্লাহর শপথ, আপনি আমাকে নিষেধ না করা পর্যন্ত আমি বিরত হব না।” উমর বললেন, “আমি তোমাকে নিষেধ করছি না।”
ইবনে কাসিরের আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-তে এর চেয়ে গুরুতর একটি বর্ণনা রয়েছে। সেখানে উমরকে অন্ধকার পথে আতিকার জন্য ওত পেতে বসতে, তিনি পাশ দিয়ে গেলে তার নিতম্বে হাত দিতে এবং ভয় পেয়ে ঘরে ফেরার পর আতিকার মসজিদে যাওয়া স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে দেখা যায়। মূল আরবির “ضرب بيده على عجزها” বাক্যে উমরের হাত আতিকার পশ্চাৎদেশে বা নিতম্বে লাগানোর কথা রয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুবাদে “মৃদু আঘাত” লেখা হলেও আরবি বাক্যে ‘মৃদু’-র সমতুল্য কোনো শব্দ নেই; সংযোজিত বিশেষণটি কাজটির সহিংসতা ও যৌন-অপমানজনক প্রকৃতি কোমল করেছে। [19] [20]
فجلس لها ذات ليلة في الطريق في ظلمة، فلما مرت ضرب بيده على عجزها، فرجعت إلى منزلها ولم تخرج بعد ذلك.
বাংলা অনুবাদ: “এক রাতে তিনি অন্ধকার পথে তার জন্য বসে রইলেন। আতিকা পাশ দিয়ে গেলে তিনি তার নিতম্বে হাত দিয়ে আঘাত করলেন। আতিকা নিজের ঘরে ফিরে গেলেন এবং এরপর আর বের হননি।”
৩. এ বছরে হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা) যায়দ ইব্ন আমর ইবন নুফায়ল এর কন্যা আতিকাকে বিবাহ করেন। আতিকা ছিলেন উমরের চাচাত বোন। উমর তাঁকে ভালবাসতেন ও তাঁর প্রতি বিমুগ্ধ ছিলেন। তিনি তাঁকে মসজিদে আসতে বাধা দিতেন না। সালাতের উদ্দেশ্যে মসজিদে যেতে তিনি তাকে বাধা দিতেন না বটে, তবে তিনি তা পছন্দ করতেন না। একদা আতিকাকে ধরার জন্যে উমর অন্ধকার রাত্রে মসজিদে আসার পথে ওঁৎ পেতে ছিলেন। আতিকা যখন ঐ পথ দিয়ে চলছিলেন তখন হযরত উমর তাঁর নিতম্বে হাত দিয়ে মৃদু আঘাত করেন। তখন তিনি বাড়িতে ফিরে যান এবং এরপর আর কখনও ঘর থেকে বের হননি। কারো কারো মতে এর আগে আতিকা যায়দ ইব্ন খাত্তাবের স্ত্রী ছিলেন। এ অবস্থায় যায়দ শহীদ হন। যায়দের পূর্বে আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ বকর আতিকাকে বিবাহ করেছিলেন। কিন্তু আবদুল্লাহও শাহাদাত বরণ করেন। উমর (রা)-এর ইনতিকালের পর হযরত যুবায়র আতিকাকে বিবাহ করেন । যুবায়রের শাহাদাতের পর হযরত আলী ইব্ন আবী তালিব তাকে বিবাহ করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু আতিকা এই কথা বলে জবাব দেন যে, যার সাথে আমার বিবাহ হয় সে-ই মারা যায় । সুতরাং মৃত্যু পর্যন্ত আতিকা আর কারও সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হননি।

এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য, অন্ধকারে ওত পেতে আতিকার নিতম্বে হাত দেওয়ার ঘটনাটি দুটি পরস্পরবিরোধী সংস্করণে সংরক্ষিত হয়েছে। আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ঘটনাটির কর্তা হিসেবে উমরের নাম বলেছে। আত-তামহিদ একই ধরনের ঘটনাটি যুবায়েরের নামে একটি সনদসহ বর্ণনা করেছে এবং আল-ইসাবা সেই বর্ণনা পুনরুল্লেখ করেছে। কিন্তু কোনো সংস্করণের ক্ষেত্রেই উদ্ধৃত উৎসগুলো স্বীকৃত সহিহ বা হাসান মান দেয়নি। যুবায়েরের সংস্করণে একটি সনদ উপস্থিত থাকা যেমন সেটিকে ঐতিহাসিক সত্যে পরিণত করে না; একইভাবে আল-বিদায়ার বর্ণনায় সনদ উল্লেখ না থাকা ঘটনাটি উমরের ক্ষেত্রে মিথ্যা প্রমাণ করে না। প্রাপ্ত উৎসের ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ইসলামি ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলোতে ঘটনাটি উমরের নামে এবং অন্য একটি বর্ণনাধারা যুবায়েরের নামে সংরক্ষণ করেছে। আক্রমণকারীর পরিচয় নির্ধারণ করা সম্ভব নয়; কিন্তু এই উৎসবিরোধ ব্যবহার করে উমরের নামে সংরক্ষিত অভিযোগটি বাতিল হয়না বা যুবায়েরের ওপর স্থানান্তর করাও প্রমাণসঙ্গত নয়। [21] [22]
ثم شرطت ذلك على الزبير، فتحيل عليها أن كمن لها، فلما مرت به ضرب على عجيزتها. ولم نر من حكم على هذه القصة من المحدثين.
বাংলা অনুবাদ: “এরপর তিনি যুবায়েরের ওপরও একই শর্ত আরোপ করেন। যুবায়ের কৌশল করে তার জন্য ওত পেতে থাকে এবং তিনি পাশ দিয়ে গেলে তার নিতম্বে আঘাত করে। হাদিসবিশারদদের কাউকে এই ঘটনার মান সম্পর্কে রায় দিতে আমরা দেখিনি।”
অন্ধকারে ওত পেতে আতিকার নিতম্বে হাত দেওয়ার ঘটনাটি একটি বর্ণনায় উমরের এবং অন্য বর্ণনায় যুবায়েরের নামে সংরক্ষিত; কোনো সংস্করণেরই স্বীকৃত সহিহ বা হাসান মান পাওয়া যায়নি, তাই আক্রমণকারীর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। কিন্তু উভয় সংস্করণে বর্ণিত কাজের প্রকৃতি অভিন্ন—পরিচয় গোপন করে নারীর জন্য ওত পাতা, তার সম্মতি ছাড়া নিতম্বে হাত দেওয়া, আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং সেই ভয় ব্যবহার করে তার মসজিদে যাওয়া বন্ধ করানো। বর্ণনায় যৌন তৃপ্তির উদ্দেশ্য উল্লেখ করা হয়নি; দৃশ্যমান উদ্দেশ্য ছিল শারীরিক লাঞ্ছনা ও ভয় প্রদর্শনের মাধ্যমে নারীর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা। উমর এই আক্রমণ করেছিলেন কি না অনির্ধারিত, কিন্তু স্ত্রীর মসজিদে যাওয়া নিয়ে তার বিরক্তি ও ঈর্ষা এবং সাওদার বাইরে যাওয়ার পথে তার হস্তক্ষেপ পৃথক বর্ণনাগুলোতে স্পষ্টভাবে সংরক্ষিত হয়েছে। সাওদা কোনো বিনোদনের জন্য নয়, অনিবার্য প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ করতে বের হয়েছিলেন; উমর তার শরীর শনাক্ত করে প্রকাশ্যে জানিয়ে দেন যে তিনি পুরুষের দৃষ্টি থেকে নিজেকে গোপন রাখতে পারেননি এবং এমন চাপ সৃষ্টি করেন যে সাওদা প্রয়োজন পূরণ না করেই ফিরে গিয়ে অভিযোগ করেন। আতিকার ক্ষেত্রেও উমরের অসন্তোষের লক্ষ্য ছিল একজন নারীর বাইরে যাওয়া—এবার সেই নারী তার নিজের স্ত্রী এবং বাইরে যাওয়ার কারণ ছিল মসজিদে নামাজ পড়া। সাওদার শারীরিক প্রয়োজন এবং আতিকার ধর্মীয় অধিকার—দুটি ক্ষেত্রেই নারীর প্রয়োজন বা সিদ্ধান্তকে নয়, উমরের দৃষ্টি, ঈর্ষা ও নিয়ন্ত্রণের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ফলে ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন রক্ষণশীল মতামত নয়; এগুলো নারীর চলাচলকে পুরুষের অনুমতি, নজরদারি ও ভীতিপ্রদ চাপের অধীন রাখার ধারাবাহিক আচরণ। আল-বিদায়ায় উমরের নামে সংরক্ষিত ওত-পেতে আক্রমণের অভিযোগ এই ধারাবাহিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যদিও সেই সামঞ্জস্য নিজে থেকে অভিযোগটির ঐতিহাসিক সত্যতা প্রমাণ করে না। প্রমাণের সীমা বজায় রেখেও উমরের চরিত্রের যে অংশ স্পষ্ট হয়, তা হলো—নারীর বাইরে যাওয়া তার কাছে নারীর নিজস্ব প্রয়োজন বা অধিকার ছিল না; সেটি ছিল পুরুষের দৃষ্টি, ঈর্ষা ও কর্তৃত্ব দিয়ে নিয়ন্ত্রণযোগ্য একটি কাজ।
স্ত্রীর যৌন প্রত্যাখ্যান অগ্রাহ্য ও স্ত্রী প্রহারের অনুমতি: উমরের নারী-দৃষ্টিভঙ্গি
তাফসীরে ইবনে কাসীর উদ্ধৃত বর্ণনায় রমজানের তৎকালীন বিধান অনুসারে রাতে ঘুমিয়ে পড়ার পর পানাহার ও যৌন সম্পর্ক নিষিদ্ধ ছিল। এক রাতে উমর ঘরে ফিরে স্ত্রীর কাছে যৌন সম্পর্কের ইচ্ছা প্রকাশ করলে স্ত্রী জানান, তিনি ইতিমধ্যে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তার এই বক্তব্য একই সঙ্গে প্রচলিত ধর্মীয় নিষেধের উল্লেখ এবং সম্পর্ক প্রত্যাখ্যানের স্পষ্ট প্রকাশ ছিল। উমর স্ত্রীর কথা বিশ্বাস না করে সেটিকে “বাহানা” বলে ধরে নেন এবং তার সঙ্গে সহবাস করেন। অর্থাৎ নিজের যৌন আকাঙ্ক্ষার সামনে তিনি স্ত্রীর বক্তব্য, তার প্রত্যাখ্যান এবং সে সময় কার্যকর ধর্মীয় বিধান—তিনটিকেই অগ্রাহ্য করেছিলেন। [23]
عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَخْتُنُونَ اَنْفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنْكُمْ তা’আলা অবগত আছেন যে, তোমরা নিজেদের ব্যাপারে খিয়ানত করিতেছিলে। অনন্তর তিনি তোমাদের তাওবা কবুল করিয়াছেন এবং তোমাদিগকে ক্ষমা করিয়াছেন।
হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) হইতে আলী ইন্ন তালহা বর্ণনা করেন: রমযান মাসে মুসলমানগণ, যখন ইশার নামায সম্পন্ন করিত, তাহার পর হইতে পরবর্তী মাগরিব পর্যন্ত তাহাদের জন্য পানাহার ও স্ত্রীসংগম হারাম হইয়া যাইত। তথাপি তাহাদের কাহারও কাহারও ক্ষেত্রে রমযান মাসে উহার ব্যতিক্রম কার্য ঘটিয়া যায়। তাহাদের ভিতর হযরত উমর (রা)-ও ছিলেন। ফলে একদল লোক নবী করীম (সা)-এর দরবারে এই অভিযোগ উত্থাপন করে। তখন আল্লাহ তা’আলা অবকাশ দানের এই আয়াত নাযিল করেন।
হযরত আওফা মূসা ইব্ন্ন উকবা হইতে, তিনি কুরায়েব হইতে ও তিনি ইব্ন আব্বাস (রা) হইতে বর্ণনা করেন:
মুসলমানগণ সিয়ামের এই আয়াত নাযিল হওয়ার আগে রাত্রিকালে পানাহার ও স্ত্রীগমন করিত। কিন্তু যখন ঘুমাইয়া পড়িত, তখন হইতে পরদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত তাহারা পানাহার ও স্ত্রী সহবাস করিত না। এতদসত্ত্বেও একদিন আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছিল যে, উমর ইবন খাত্তাব ঘুম হইতে জাগিয়া স্ত্রীগমন করিয়াছেন। ইত্যবসরে তিনি নবী করীম (সা)-এর দরবারে হাযির হইয়া আরয করিলেন- ‘আমি আমার কৃতকার্যের বিরুদ্ধে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের নিকট অভিযোগ করিতে আসিয়াছি।’ রাসূল (সা) প্রশ্ন করিলেন-তুমি কি করিয়াছ? তিনি জবাব দিলেন-‘আমি রোযা রাখার ইচ্ছা পোষণ করিয়াও ঘুম হইতে জাগিয়া স্ত্রীগমন করিয়াছি।’ রাসূল (সা) বলিলেন- ইহা তোমার জন্য শোভনীয় কাজ হয় নাই। অতঃপর আলোচ্য আয়াত নাযিল হয়।’
হযরত আবূ হুরায়রা (রা) হইতে পর্যায়ক্রমে আতা ইব্ন রুবাহ, কয়েস ইবন সা’দ ও সাঈদ ইব্ন আবূ উরওয়া বর্ণনা করেন:
এই আয়াত নাযিল হওয়ার আগে রমযানে মুসলমানগণ ইশার নামায শেষ করার পর নিদ্রা গেলে পরবর্তী সন্ধ্যা পর্যন্ত তাহাদের জন্য পানাহার ও স্ত্রী সংগম হারাম হইয়া যাইত। অতঃপর উমর ইব্ন খাত্তাব ইশার নামাযের পর স্ত্রী সংগম করেন এবং সুরাকা ইব্ন কয়েস আনসারী মাগরিবের নামাযের পর নিদ্রা কাতর হইয়া ঘুমাইয়া পড়েন এবং রাসূল (সা)-এর ইশার নামায পড়ানোর পূর্ব পর্যন্ত নিদ্রামগ্ন থাকেন। অতঃপর ইশার নামায পড়িয়া তিনি পানাহার করেন। পর দিন সকালে আসিয়া তাহারা রাসূল (সা)-এর খিদমতে এই সকল অবস্থা ব্যক্ত করেন। তখনই নাযিল হইল:
أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصَّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ …… ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ বস্তুত ইহা আল্লাহ তা’আলার বিরাট করুণা ও অনুগ্রহ বৈ নহে।
আবদুর রহমান ইব্ন আবূ লায়লা হইতে যথাক্রমে হেসীন ইব্ন আবদুর রহমান ও হিশাম বর্ণনা করেন:
“একদিন উমর ইব্ন খাত্তাব (রা) দাঁড়াইয়া আরয করিলেন ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! বিগত রাত্রিতে আমি আমার স্ত্রীর কাছে সেই অভিলাষ ব্যক্ত করিয়াছিলাম, যাহা একটি পুরুষ নারীর কাছে করিয়া থাকে। আমার স্ত্রী জানাইল, সে নিদ্রা গিয়াছিল। আমি উহাকে তাহার বাহানা ভাবিয়া তাহার সহিত সহবাস করিয়াছি।’ তখনই তাহার উপলক্ষে এই আয়াত নাযিল হইলঃ ثُمَّ اَتِمُّوا الصَّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ …. ইব্ন আবু লায়লা হইতে শু’বা ও আমর ইব্ন শু’বা পর্যায়ক্রমে অনুরূপ বর্ণনা প্রদান করেন। কা’ব ইব্ন আবদুল মালেক হইতে পর্যায়ক্রমে আবদুল্লাহ ইব্ন কা’ব বনু সালমার গোলাম মূসা ইব্ন্ন জুবায়ের, আবু লাহীআ, ইবনুল মুবারক সুয়ায়েদ, মুছান্না ও আবূ জা’ফর ইব্ন জারীর বর্ণনা করেন:
“রমযান মাসে লোকদের অবস্থা এই ছিল যে, যদি কেহ রোযা রাখিয়া রাত্রে ঘুমাইয়া পড়িত তাহা হইলে উহার পর হইতে তাহার জন্য পরবর্তী ইফতার পর্যন্ত পানাহার ও স্ত্রী সহবাস হারাম হইত। এক রাত্রে উমর ইবন খাত্তাব রাসূলুল্লাহর (সা) দরবার হইতে দেরীতে ঘরে ফিরেন। তখন তাহার স্ত্রী ঘুমাইতেছিলেন। তিনি তাহার কাছে কামনা চরিতার্থের অভিলাষ ব্যক্ত করিলে তাহার স্ত্রী বলিলেন, আমি তো নিদ্রা গিয়াছিলাম। তিনি উহা অবিশ্বাস করিলেন এবং তাহার সহিত সহবাস করিলেন। কা’ব ইব্ন মালেক বলেন-প্রত্যূষেই উমর ইবন খাত্তাব রাসূল (সা)-এর খিদমতে হাযির হন এবং তাঁহাকে এই অবস্থা বর্ণনা করেন। তখন আল্লাহ তা’আলা : … অর্থাৎ তোমরা যে নিজ ব্যাপারে খিয়ানত করিতেছিলে, তাহা আল্লাহ তা’আলা জানিয়াছেন। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা তোমাদের তাওবা কবুল করিয়াছিলেন তাই এখন হইতে তোমরা স্ত্রীগমন কর।
অনুরূপভাবে মুজাহিদ, আতা, ইকরামা, কাতাদাহ প্রমুখ হযরত উমর (রা) ও সুরাকা ইব্ন কয়েস আনসারীর ঘটনাকে এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কারণ হিসাবে বর্ণনা করিয়াছেন। অতঃপর আল্লাহর রহম, অনুগ্রহ ও ভালবাসা স্বরূপ রমযানের সারা রাত্র স্ত্রী সহবাস করা, আহার করা ও পান করাকে আল্লাহ তা’আলা মুবাহ করিয়া দিয়াছেন।
… উহা অন্বেষণ কর) আয়াতাংশের ব্যাখ্যা প্রসংগে আবূ হুরায়রা, ইব্ন আব্বাস, আনাস, কাজী শুরাইহ, মুজাহিদ, ইকরামা, সাঈদ ইব্ন জুবায়র, আতা, রবী ইব্ন আনাস, সুদ্দী, যায়দ ইব্ন আসলাম, হাকাম ইব্ন উতবা, মাকাতিল ইব্ন হাইয়ান, হাসান বসরী, যিহাক, ও কাতাদাহ (র) প্রমুখ সাহাবা ও তাবেঈন বলেনঃ ইহার অর্থ ‘সন্তান’।
আবদুর রহমান ইব্ন যায়দ ইব্ন আসলাম وَابْتَغُوا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ এর অর্থ ‘সহবাস’ করিয়াছেন। উমর ইবন মালেক আল বুকরী আবূ জাওযা হইতে ও তিনি হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) হইতে وَابْتَغُوا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ এর অর্থ লাইলাতুল কদর করিয়াছেন। ইব্ন আবি হাতিম ও ইব্ন জারীরও অনুরূপ রিওয়ায়েত করিয়াছেন।
আবদুর রাযযাক বলেনঃ মুআম্মার আমাকে সংবাদ দান করিয়াছেন যে, কাতাদাহ وَابْتَغُوا الرُّخْصَةُ الَّتِي كَتَبَ اللهُ لَكُمْ يَقُولُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكُمْ : তোমরা সেই অবকাশের অনুসন্ধান কর যাহা তোমাদের জন্য লিখিত হইয়া গেল। কেহ বলিয়াছেনঃ “যাহা কিছু তোমাদের জন্য হালাল করা হইয়াছে উহার অনুসন্ধান কর।”


স্ত্রীর “আমি তো নিদ্রা গিয়াছিলাম” বক্তব্যকে উমর “বাহানা” হিসেবে বাতিল করেছিলেন। ফলে “সহবাস” শব্দের নির্লিপ্ত আবরণের নিচে ঘটনাটির প্রকৃত কাঠামো পরিষ্কার: স্ত্রী সম্পর্ক না করার কারণ জানিয়েছেন, স্বামী তার কথা বিশ্বাস করতে অস্বীকার করেছেন এবং নিজের যৌন ইচ্ছা কার্যকর করেছেন। আধুনিক সম্মতি-ভিত্তিক নৈতিকতায় এটি সম্মতিহীন বৈবাহিক যৌন সম্পর্ক ও যৌন জবরদস্তি। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হলো, উদ্ধৃত ধর্মীয় ভাষ্যে সমস্যাটি স্ত্রীর সম্মতি লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিতই হয়নি; সমস্যাটি ছিল উমরের নিজের রোজার বিধান ভঙ্গ। স্ত্রীর ইচ্ছা, ভয়, অসহায়তা কিংবা নিজের শরীরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার বিবরণের নৈতিক বিবেচনায় কোনো স্থান পায়নি। শেষে পুরুষদের এই বিধান লঙ্ঘনের পর নিষেধাজ্ঞাটিই শিথিল হয়ে যায়। পুরুষের যৌন আকাঙ্ক্ষা এখানে বিধান পরিবর্তনের উপলক্ষ হয়েছে, কিন্তু যে নারীর প্রত্যাখ্যান অগ্রাহ্য করে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছিল, তার সম্মতি ধর্মীয় আলোচনার বিষয় পর্যন্ত হয়নি।
স্ত্রী প্রহারের অনুমতি আদায়ে উমরের ভূমিকা
স্ত্রীর বক্তব্যকে “বাহানা” আখ্যা দিয়ে তার শরীরের ওপর নিজের দাবি কার্যকর করার ঘটনাটি উমরের নারী-দৃষ্টিভঙ্গির একমাত্র নিদর্শন নয়। ইসলামি হাদিসের আরেকটি বর্ণনায় মুহাম্মদ প্রথমে স্ত্রীদের প্রহার করতে নিষেধ করেছিলেন। উমর এসে অভিযোগ করেন, এই নিষেধের কারণে নারীরা স্বামীদের অবাধ্য হচ্ছে বা তাদের ওপর “সীমা ছাড়িয়ে” যাচ্ছে। তার অভিযোগের পর স্ত্রীদের প্রহার করার অনুমতি দেওয়া হয় এবং অসংখ্য নারী প্রহৃত হয়। পরে সত্তরজন নারী মুহাম্মদের পরিবারের কাছে নিজেদের স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর পর প্রহারকারী পুরুষদের ভালো মানুষ নয় বলে নিন্দা করা হয়। এই বর্ণনার ভেতরেই সম্পূর্ণ নৈতিক বিপর্যয়টি সংরক্ষিত আছে: নারীর শারীরিক নিরাপত্তার পক্ষে একটি নিষেধাজ্ঞা জারি হলো; উমর পুরুষের কর্তৃত্ব দুর্বল হওয়ার অভিযোগ তুললেন; নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে প্রহারের অনুমতি দেওয়া হলো; নারীদের ওপর ব্যাপক নির্যাতনের অভিযোগ আসার পর প্রহারকারীদের নিন্দা করা হলো, কিন্তু একই বর্ণনায় অনুমতিটি বাতিল করার কোনো ঘোষণা নেই। [24]
সুনান ইবনু মাজাহ
৯/ বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ৯/৫১. স্ত্রীদের প্রহার করা নিকৃষ্ট কাজ।
৩/১৯৮৫। ইয়াস ইবনু ’আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ যুবাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহর দাসীদের প্রহার করো না। অতঃপর ’উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলেনঃ হে আল্লাহর রসূল! নারীরা তো তাদের স্বামীদের অবাধ্যাচরণ করছে। তিনি তাদেরকে মারার অনুমতি দিলেন এবং তারা প্রহৃত হলো। পরে অনেক নারী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাড়িতে সমবেত হলো।সকাল বেলা তিনি বলেনঃ ’’আজ রাতে মুহাম্মাদের পরিবারে সত্তরজন মহিলা এসে তাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে।তোমরা মারপিটকারীদেরকে তোমাদের মধ্যে উত্তম হিসাবে পাবে না।
আবূ দাউদ ২১৪৬, দারেমী ২২১৯, গায়াতুল মারাম ২৫১, সহীহ আবী দাউদ ১৮৬৩।
তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৩: বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ১০. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ – স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার এবং তাদের প্রত্যেকের (স্বামী-স্ত্রীর) পারস্পরিক হক ও অধিকার সংক্রান্ত
৩২৬১-[২৪] আয়াস ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহ তা‘আলার বান্দীগণকে (স্ত্রীগণকে ক্রীতদাসীর ন্যায়) মেরো না। অতঃপর ‘উমার এসে বললেন, (আপনার নিষেধাজ্ঞার দরুন) স্বামীদের ওপর রমণীদের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে (প্রয়োজনসাপেক্ষে) মারার অনুমতি দিলেন। এমতাবস্থায় রমণীগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণীগণের নিকট পুনঃপুন এসে স্বামীদের (অত্যাচারের) ব্যাপারে অভিযোগ করতে লাগল। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, শুনে রাখ! আমার পরিবার-পরিজনের নিকট স্ত্রীগণ স্বামীদের অভিযোগ নিয়ে পুনঃপুন আসছে যে, তোমাদের মধ্যে (যারা স্ত্রীদেরকে এরূপে কষ্ট দেয়) তারা কোনক্রমেই ভালো মানুষ নয়। (আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ ও দারিমী)[1]
[1] সহীহ : আবূ দাঊদ ২১৪৬, ইবনু মাজাহ ১৯৮৫, দারিমী ২২৬৫, সহীহ ইবনু হিব্বান ৪১৮৯, সহীহ আল জামি‘ ৭৩৬০।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন সায়িব (রহঃ)
উমরের অভিযোগে নারীদের দ্বারা সংঘটিত কোনো সহিংসতা, শারীরিক নির্যাতন বা গুরুতর অপরাধের উল্লেখ নেই। অভিযোগের কেন্দ্র ছিল স্বামীর প্রতি নারীর “অবাধ্যাচরণ” এবং পুরুষের ওপর নারীর “সীমা ছাড়িয়ে” যাওয়া। অর্থাৎ নারীর শরীর রক্ষার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর পুরুষের কর্তৃত্ব আগের মতো নির্বিঘ্নে কাজ করছিল না—উমরের কাছে সেটিই ছিল সংশোধনের প্রয়োজনীয় সমস্যা। তার প্রস্তাবিত সমাধান ছিল নারীর বক্তব্য শোনা, বিরোধের কারণ নির্ণয় করা বা স্বামীর আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা নয়; সমাধান ছিল পুরুষকে আবার শারীরিক প্রহারের ক্ষমতা দেওয়া। অনুমতি পাওয়ার পর কী ঘটেছিল, বর্ণনাই তা জানিয়ে দিয়েছে: নারীরা প্রহৃত হয়েছে এবং অভিযোগ নিয়ে মুহাম্মদের পরিবারের কাছে ভিড় করেছে। ফলে উমরের হস্তক্ষেপের বাস্তব পরিণতি কোনো অনুমানের বিষয় নয়; হাদিসের নিজস্ব বিবরণেই তার পরিণতি হিসেবে ব্যাপক স্ত্রী-নির্যাতনের অভিযোগ উপস্থিত হয়েছে।
প্রহারকারী স্বামীদের “উত্তম” নয় বলে নিন্দা করা এই অসঙ্গতিকে দূর করে না। যে কাজ প্রথমে নিষিদ্ধ ছিল, উমরের অভিযোগে সেটিই অনুমোদিত হয়েছিল; অনুমোদিত ক্ষমতা ব্যবহার করে পুরুষেরা স্ত্রীদের প্রহার করার পর তাদের শুধু ভালো মানুষ নয় বলা হয়েছে। আইনগত অনুমতি বহাল রেখে নৈতিক অসন্তোষ প্রকাশ নারীদের কোনো কার্যকর সুরক্ষা দেয়নি। এই ঘটনাগুলো উমরের নারী-দৃষ্টিভঙ্গির একটি ধারাবাহিক কাঠামো প্রকাশ করে। সাওদার বাইরে যাওয়ার প্রয়োজনকে তিনি নজরদারি ও অপমানের মাধ্যমে পর্দার বিধানে রূপ দিতে চাপ সৃষ্টি করেছিলেন; আতিকার মসজিদে যাওয়া তার কাছে অসহনীয় ছিল; নিজের স্ত্রী ঘুমিয়ে পড়ার কথা জানিয়ে সম্পর্ক প্রত্যাখ্যান করলে তিনি সেটিকে বাহানা বলে অগ্রাহ্য করেছিলেন; আর নারীরা স্বামীদের অবাধ্য হচ্ছে বলে মনে হলে তাদের প্রহার করার অনুমতির জন্য সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছিলেন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই নারী স্বাধীন ইচ্ছা, চলাচলের অধিকার ও শারীরিক স্বায়ত্তশাসনসম্পন্ন মানুষ নয়; পুরুষের কর্তৃত্বাধীন একটি শরীর। নারী বাইরে গেলে তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, যৌন সম্পর্ক প্রত্যাখ্যান করলে তার বক্তব্য অবিশ্বাস করতে হবে এবং স্বামীর কর্তৃত্ব অমান্য করলে তাকে প্রহার করার ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে হবে—উমরের আচরণ ও হস্তক্ষেপে নারীর প্রতি এই নিষ্ঠুর মালিকানাবোধই ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
উম্মে কুলসুম: বয়ঃসন্ধির আগের শিশুকে বিবাহ ও দাম্পত্য সম্পর্ক
আলী ও ফাতিমার কন্যা উম্মে কুলসুমকে উমর যখন বিবাহ করেন, তখন তিনি বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছাননি—এ তথ্য শুধু সমালোচনামূলক কোনো আধুনিক রচনায় নয়, ইবনে সাদের তাবাকাত, আবদুর রাজ্জাকের মুসান্নাফ এবং আধুনিক ইসলামওয়েবের ফতোয়াতেও স্বীকৃত। ইসলামওয়েব সরাসরি লিখেছে, উম্মে কুলসুম তখন “ছোট এবং এখনো বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছাননি।” ফলে তাকে প্রাপ্তবয়স্ক নারী বানিয়ে বিবাহটিকে স্বাভাবিক প্রাপ্তবয়স্ক সম্পর্ক হিসেবে উপস্থাপন করা ইসলামিক ঐতিহাসিক তথ্যসূত্রের সাথে প্রতারণা [25]
وتزوجها عمر رضي الله عنه وهي صغيرة لم تبلغ بعد، رواه عبد الرزاق في المصنف، وابن سعد في الطبقات.
বাংলা অনুবাদ: “উমর তাকে বিবাহ করেছিলেন যখন তিনি ছোট ছিলেন এবং তখনো বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছাননি। এটি আবদুর রাজ্জাক মুসান্নাফে এবং ইবনে সাদ তাবাকাতে বর্ণনা করেছেন।”
ইবনে সাদের বর্ণনায় আলী প্রথমে বলেন যে মেয়েটি এখনো শিশু এবং নিজের মেয়েদের জাফরের পুত্রদের জন্য রাখছেন। উমর তার দাবি প্রত্যাহার করেননি; বরং পৃথিবীতে তার চেয়ে ভালোভাবে মেয়েটির সঙ্গে আচরণ করার মতো কেউ নেই বলে আলীর ওপর চাপ বজায় রাখেন। আরেক বর্ণনায় আলীর “সে এখনো শিশু” আপত্তির জবাবে উমর বলেন, আলীর প্রকৃত উদ্দেশ্য তিনি জানেন। শেষ পর্যন্ত আলী উম্মে কুলসুমকে উমরের কাছে পাঠান এবং বিবাহ সম্পন্ন হয়। ক্ষমতাসীন খলিফার পুনরাবৃত্ত দাবি, পিতার প্রাথমিক আপত্তি এবং শিশুটির নিজের সম্মতির সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি—এই সম্পর্ককে দুই স্বাধীন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের বিবাহ নয়, পুরুষ অভিভাবক ও রাষ্ট্রপ্রধানের সিদ্ধান্তে একটি শিশুর শরীর হস্তান্তর হিসেবে প্রকাশ করে। [26]
Umm Kulthum bint ‘Ali ibn Abi Talib
Her mother was Fatima, the daughter of the Prophet. She married ‘Umar ibn al-Khattab when she was a young girl who had not yet reached puberty. She remained with him until he was killed and bore him Zayd and Ruqayya. Then she married ‘Awn ibn Ja’far ibn Abi Talib, but he died. Then she married his brother, Muhammad ibn Ja’far, and he died. Then she married his brother, ‘Abdullah ibn Ja’far, after her sister, Zaynab bint ‘Ali. Umm Kulthum said, “I was not shy with Asma’ bint “Umays. Two of her sons died while married to me, but I did not fear this for the third.” She died while married to him. She did not bear children to any of them.
It is related that ‘Umar ibn al-Khattab asked ‘Ali ibn Abi Talib for the hand of his daughter, Umm Kulthum. ‘Ali said, “I am keeping my daughters for the sons of Ja’far.” “Umar said, “Marry her to me, ‘Ali. By Allah, there is no man on the face of the earth who will treat her better than I will.” ‘Ali said, “I have done it.” “Umar went to the assembly of the Muhajirun sitting between the grave and the minbar. They were ‘Ali, ‘Uthman, az-Zubayr, Talha and ‘Abdu’r-Rahman ibn ‘Awf. When anything came to ‘Umar from abroad, he would come to them and inform them about that and consult with them about it. ‘Umar came and said, “Congratulate me” They congratulated him and said, “To whom, Amir al-Mu’minin?” He said, “To the daughter of ‘Ali ibn Abi Talib.” Then he told them that the Prophet said “Every lineage and means will be cut off on the Day of Rising except my lineage and means.” Then he added, “I accompanied him, and I wanted to have this as well.”
When ‘Umar ibn al-Khattab asked to marry ‘Ali’s daughter, Umm Kulthum, he said, “Amir al-Mu’minin, she is still a child.” He said, “By Allah, that is not your intention. We know what your intention is.” Ali commanded that she be prepared and then commanded that a striped garment be wrapped up. He said, “Take this to the Amir al-Mu’minin and say, ‘My father has sent me to greet you. He says, “If you are pleased with the garment, keep it. If it displeases you, return it.” When she went to ‘Umar, he said, “May Allah bless you and your father. We are pleased.” She went back to her father and said, “He did not undo the garment nor look at anything except at me.” So he married her to him and she bore him a son called Zayd.


আত-তাবারির ইতিহাসে ১৭ হিজরির ঘটনাবলির মধ্যে উম্মে কুলসুমের সঙ্গে উমরের বিবাহ এবং জিলকদ মাসে দাম্পত্য সম্পর্ক সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। ইবনে সাদের বর্ণনা তাকে বয়ঃসন্ধির আগের শিশু বলছে; আত-তাবারি একই বিবাহের দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের সময় নির্দিষ্ট করছে। দুটি তথ্য একত্রে একটি বয়ঃসন্ধির আগের মেয়েকে বিবাহ এবং অল্প সময়ের মধ্যে তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের ইতিহাস তুলে ধরে। পিতার দেওয়া বৈবাহিক অনুমতি শিশুর নিজের অবহিত ও স্বাধীন সম্মতির বিকল্প নয়। [27]
Al-Waqidi continued: According to Kathir b. Abdallah al-Muzani-his father-his grandfather: In the year 17 (638) we ap-proached Mecca in the company of ‘Umar (who was on his way to perform) a ‘umrah. He passed the track374 where he was addressed by the overseers of the wells, who asked him whether they were allowed to build road stations between Mecca and Medina, where hitherto there had not been structures of any sort. ‘Umar gave his consent, and stipulated that the wayfarer375 was even more en-titled to shelter and water (than pilgrims).
Al-Waqidi said: Also in this year, “Umar b. al-Khattab married Umm Kulthüm, the daughter of Fatimah (the daughter of the Messenger of God) and ‘Ali b. Abi Talih. Umar consummated the marriage in Dhü al-Qa’dah (November-December 638).
Al-Waqidi continued: In this year, ‘Umar put Abū Müsä al-Ash’ari in charge of al-Basrah and ordered him to send al-Mughirah (b. Shu’bah) back to him in Rabi I (March-April 638). According to Ma’mar (b. Räshid)-al-Zuhri-Sa’id b. al-Mu-sayyab: Abů Bakrah, Shibl b. Ma’bad al-Bajali, Nafi’ b. (al-Harith b.) Kaladah and Ziyad (b. Abihi) bore witness against him. 376 Al-Waqidi went on: According to Muhammad b. Ya qüb b.
‘Utbah-his father: (Al-Mughirah) used to visit Umm Jamil, a woman from Hilal. She had had a husband from Thaqif, called al-Hajjaj b. ‘Ubayd, 377 but he had died some time back. So al-Mughirah started having an affair with her. The people of al-Başrah got wind of this and were shocked. One day al-Mughirah left (his house) and entered her house, which the people had kept under close observation. The men, who were to testify against him, went together (to this house) and tore away the curtain.


হায়াতুস সাহাবাহ-এর বাংলা সংস্করণে আরও একটি বর্ণনা রয়েছে। সেখানে উমর উম্মে কুলসুমকে যাচাই করার উদ্দেশ্যে তার পায়ের কাপড় তুলে দেন এবং মেয়েটি প্রতিবাদ করে বলে, তিনি শাসক না হলে তার চোখ উপড়ে ফেলত। ইবনে সাদের ইংরেজি অনুবাদের সংস্করণে উম্মে কুলসুম বলেন, উমর কাপড় খোলেননি এবং তাকে ছাড়া আর কিছু দেখেননি; ফলে দুটি পাঠ পোশাক খোলার ঘটনায় পরস্পরবিরোধী। কিন্তু হায়াতুস সাহাবাহ-এর বর্ণনাটি নিজস্ব ভাষায় একটি শিশুর শরীর পরীক্ষার নামে ক্ষমতাসীন পুরুষের অনধিকার স্পর্শ এবং শিশুটির তীব্র প্রতিবাদ সংরক্ষণ করেছে। [28]
হযরত আলী (রাঃ) এর নিজ মেয়ে
উম্মে কুলসুম (রাঃ) কে বিবাহ দান
হযরত আবু জা’ফর (রাঃ) বলেন, হযরত ওমর (রাঃ) হযরত আলী (রাঃ) এর নিকট তাঁহার মেয়ের জন্য প্রস্তাব দিলেন। তিনি বলিলেন, সে তো ছোট। কেহ হযরত ওমর (রাঃ) কে বলিল যে, হযরত আলী (রাঃ) বিবাহ না দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই কথা বলিয়াছেন। সুতরাং তিনি পুনরায় তাহার সহিত কথা বলিলে হযরত আলী (রাঃ) বলিলেন, আমি তাহাকে আপনার নিকট পাঠাইয়া দিব। যদি সে রাজী হয় তবে আপনার স্ত্রী হইবে। তিনি মেয়েকে তাঁহার নিকট পাঠাইলেন। হযরত ওমর (রাঃ) (তাহাকে যাচাই করিবার উদ্দেশ্যে) তাহার পায়ের কাপড় উত্তোলন করিলেন। মেয়ে বলিল, ছাড়ুন। যদি আপনি আমীরুল মুমিনীন না হইতেন তবে আপনার চক্ষু উপড়াইয়া ফেলিতাম। (কান্য)

ইসলামি আইনশাস্ত্র নিজেই অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সম্মতিকে অপ্রয়োজনীয় ঘোষণা করেছে। ইসলামকিউএ ইবনে আবদুল বার-এর নামে আলেমদের ঐকমত্য উদ্ধৃত করেছে যে পিতা নিজের ছোট মেয়েকে তার সঙ্গে পরামর্শ না করেই বিবাহ দিতে পারেন; একই উত্তরে উম্মে কুলসুমকে ছোট অবস্থায় উমরের সঙ্গে আলীর বিবাহ দেওয়াকে এই বিধানের উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে শিশুর ইচ্ছা কোনো আইনি শর্ত নয়, কারণ তার হয়ে পিতা সিদ্ধান্ত নেয়। এই বিধান শিশুর কল্যাণ রক্ষা নয়; শিশুর শরীর ও ভবিষ্যৎকে পুরুষ অভিভাবকের বৈবাহিক লেনদেনের অধীন করা। [29]
أجمع العلماء على أن للأب أن يزوج ابنته الصغيرة ولا يشاورها.
বাংলা অনুবাদ: “আলেমরা একমত যে পিতা নিজের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে তার সঙ্গে পরামর্শ না করেই বিবাহ দিতে পারে।”
উম্মে কুলসুমের বয়ঃসন্ধি না হওয়া, আলীর প্রাথমিক আপত্তি, উমরের পুনরাবৃত্ত দাবি এবং পরে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের বর্ণনা একটি শিশুবিবাহের পূর্ণ কাঠামো প্রকাশ করে। উমরের আকাঙ্ক্ষা ছিল মুহাম্মদের বংশের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক অর্জন করা; ইবনে সাদের বর্ণনায় তিনি নিজেই সেই বংশগত উদ্দেশ্য ঘোষণা করেন। শিশুটির ইচ্ছা, মানসিক প্রস্তুতি বা যৌন সম্পর্কে সম্মতি কোথাও কেন্দ্রীয় নয়। ক্ষমতাসীন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের বংশগত আকাঙ্ক্ষাকে একটি বয়ঃসন্ধির আগের মেয়ের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তার ওপর স্থান দেওয়া হয়েছিল। আধুনিক নৈতিক ও মানবাধিকার মানদণ্ডে এটি শিশুবিবাহ ও শিশুর ওপর যৌন অধিকার প্রতিষ্ঠা; উমরের ধর্মীয় উপাধি এই কাজের নিকৃষ্টতা দূর করে না।
উমরের দাসীদের নগ্ন স্তনে পুরুষ অতিথিদের সেবা করার বর্ণনা?
বায়হাকির সুনান আল-কুবরা-য় আনাস ইবনে মালিকের নামে বর্ণিত হয়েছে, উমরের দাসীরা চুল অনাবৃত রেখে পুরুষ অতিথিদের সেবা করত। বায়হাকির প্রচলিত পাঠে বাক্যটি «كاشفات عن شعورهن، تضرب ثديهن»; সংযুক্ত ইংরেজি অনুবাদে শেষাংশকে “hitting their breasts” বলা হয়েছে এবং ইসলামকিউএ এটিকে দাসীদের চুল তাদের বক্ষে আঘাত করছিল বলে ব্যাখ্যা করেছে। কিন্তু আলবানি ইরওয়াউল গালীল ৬/২০৪-এ একই আনাস-বর্ণনা «كاشفات عن شعورهن تضطرب ثديهن»—“তাদের চুল অনাবৃত ছিল, তাদের স্তন নড়ছিল”—পাঠে উদ্ধৃত করে সরাসরি «إسناده جيد», অর্থাৎ “এর সনদ ভালো” বলেছেন। সারাখসির আল-মাবসুত-এ একই বর্ণনা আরও স্পষ্ট «مضطربات الثدي» ভাষায় সংরক্ষিত হয়েছে। ফলে “স্তন নড়ছিল” পাঠটি শুধু দুর্বল কোনো বিকল্প সনদের ওপর নির্ভরশীল নয়; আলবানির গ্রহণ করা ভালো সনদের উদ্ধৃতিতেও এই পাঠ উপস্থিত। [30]
كتاب السنن الكبرى » كتاب الصلاة » جماع أبواب لبس المصلي » باب عورة الأمة
بحث في نص الكتاب معلومات عن الكتاب كتاب السنن الكبرى
2جزءالتالي صفحة
227
السابق
3127 ( وأخبرنا ) أبو القاسم عبد الرحمن بن عبيد الله الحرفي ببغداد ، أنبأ علي بن محمد بن الزبير الكوفي ، ثنا الحسن بن علي بن عفان ، ثنا زيد بن الحباب عن حماد بن سلمة ، قال : حدثني ثمامة بن عبد الله بن أنس عن جده أنس بن مالك قال : كن إماء عمر – رضي الله عنه – يخدمننا كاشفات عن شعورهن ، تضرب ثديهن .
قال الشيخ : والآثار عن عمر بن الخطاب – رضي الله عنه – في ذلك صحيحة ، وإنها تدل على أن رأسها ورقبتها وما يظهر منها في حال المهنة ليس بعورة ، فأما حديث عمرو بن شعيب فقد اختلف في متنه ؛ فلا ينبغي أن يعتمد عليه في عورة الأمة ، وإن كان يصلح الاستدلال به وبسائر ما يأتي عليه معه في عورة الرجل . وبالله التوفيق
বাংলা অনুবাদ: আনাস ইবনে মালিক বলেছেন, “উমরের দাসীরা তাদের চুল অনাবৃত রেখে আমাদের সেবা করত; বর্ণনায় «تضرب ثديهن»—‘তাদের স্তনে আঘাত করছিল’—বাক্যাংশটি এসেছে।” বায়হাকি বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে এ বিষয়ে বর্ণিত আছারগুলো সহিহ। এগুলো প্রমাণ করে যে দাসীর মাথা, ঘাড় এবং কাজের সময় তার যে অঙ্গগুলো সাধারণত প্রকাশিত হয়, সেগুলো আওরাহ নয়। আমর ইবনে শুআইবের হাদিসটির মূলপাঠে মতভেদ রয়েছে; তাই দাসীর আওরাহ নির্ধারণে তার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়, যদিও পুরুষের আওরাহের বিষয়ে এটি এবং পরবর্তী অন্যান্য বর্ণনা দিয়ে দলিল দেওয়া যেতে পারে।
Thumama bin Abdullah bin Anas told me on the authority of his grandfather Anas bin Malik who said: They were the slave girls of Umar (may God be pleased with him) who served us, revealing their hair, hitting their breasts.
«تضرب ثديهن» এবং «تضطرب ثديهن»—বর্ণনাটির দুটি পাঠ সংরক্ষিত হয়েছে। বায়হাকির প্রচলিত পাঠে «تضرب ثديهن» রয়েছে; ইসলামকিউএ এর ব্যাখ্যা করেছে «يعني أن شعورهن تضرب صدورهن»—অর্থাৎ দাসীদের চুল তাদের বক্ষে আঘাত করছিল। কিন্তু «تضطرب ثديهن» পাঠটি শুধু ইয়াহইয়া ইবনে সালামের দুর্বল সনদে সীমাবদ্ধ নয়। আলবানি ইরওয়াউল গালীল ৬/২০৪-এ আনাস ইবনে মালিকের একই বর্ণনা «تضطرب ثديهن» ভাষায় উদ্ধৃত করে তার সনদ সম্পর্কে বলেছেন «إسناده جيد»—“এর সনদ ভালো।” ইয়াহইয়া ইবনে সালামের তাফসির-এ একই «تضطرب ثديهن» পাঠ আরেকটি সনদে এসেছে, যদিও সেই নির্দিষ্ট সনদে নসর ইবনে তারিফকে পরবর্তী রিজাল-সমালোচকেরা অবিশ্বাস্য বলে গণ্য করেছেন। ফলে দুর্বলতা ইয়াহইয়ার নির্দিষ্ট সনদের; «তাদের স্তন নড়ছিল» পাঠটির নয়, কারণ আলবানি একই পাঠকে ভালো সনদের সঙ্গে সংরক্ষণ করেছেন। [31]
‘সহিহ’, ‘দুর্বল’ কিংবা ‘জাল’ ইসলামি হাদিসশাস্ত্রের কারিগরি শ্রেণিবিন্যাস; এগুলো ঐতিহাসিক সত্য ও মিথ্যার সরাসরি প্রতিশব্দ নয়। সহিহ সনদ কোনো ঘটনাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সত্য করে না, আবার দুর্বল সনদও ঘটনাটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিথ্যা করে না। এখানে উভয় পাঠ, অনুবাদ ও সনদ-সমালোচনা বর্ণনা করাই যথাযথ। নগ্ন স্তন দুলতে থাকার অনুবাদটি কোনো আধুনিক কল্পনা নয়; এটি সংরক্ষিত আরবি বাক্যের একটি সরাসরি অনুবাদ এবং “تضطرب ثديهن” পাঠে একই দৃশ্য আরও স্পষ্ট। সংশ্লিষ্ট ফিকহি ব্যাখ্যায় দাসীর বুক ও স্তনকে পরপুরুষের সামনে প্রকাশযোগ্য অঙ্গের অন্তর্ভুক্ত করাও এই অনুবাদের সামাজিক ও আইনি প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বর্ণনাটি ঐতিহাসিকভাবে ঘটেছিল কি না, সেটি পৃথক প্রশ্ন; কিন্তু সনদের ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাস ব্যবহার করে নগ্ন স্তনের পাঠ ও অনুবাদ মুছে ফেলা বস্তুনিষ্ঠ বর্ণনা নয়।
দাসীদের উন্মুক্ত বক্ষ: পাঠভেদ ও ধ্রুপদী ফিকহের সাক্ষ্য
বায়হাকির সংরক্ষিত পাঠে «تَضْرِبُ ثُدِيَّهُنَّ» বাক্যাংশটি পাওয়া যায়। এর অর্থ নিয়ে পরবর্তী সময়ে এমন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে যে, দাসীদের খোলা চুল দ্রুত চলাফেরার সময় তাদের বক্ষে আঘাত করছিল। কিন্তু একই বর্ণনার অন্য প্রাচীন পাঠে সরাসরি «تَضْطَرِبُ ثُدِيُّهُنَّ»—অর্থাৎ তাদের স্তন নড়ছিল বা দুলছিল—শব্দ পাওয়া যায়। ইয়াহইয়া ইবনে সালামের তাফসির-এ আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনাটি এভাবে এসেছে। এই নির্দিষ্ট সনদে নসর ইবনে তারিফের কারণে দুর্বলতা রয়েছে; ফলে এটিকে বায়হাকির সহিহ সনদের সমপর্যায়ের স্বাধীন প্রমাণ বলা যায় না। কিন্তু পাঠভেদের অস্তিত্বটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দেখায় যে বর্ণনাটির প্রাচীন ফকিহদের একটি ধারায় স্তনের নড়াচড়াই সরাসরি ভাষায় সংরক্ষিত হয়েছিল। [32]
وَقَدْ رَوَاهُ يَحْيَى بْنُ سَلَّامٍ فِي تَفْسِيرِهِ (1/441): حَدَّثَنِي حَمَّادٌ وَنَصْرُ بْنُ طَرِيفٍ، عَنْ ثُمَامَةَ بْنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: «كُنَّ جَوَارِي عُمَرَ يَخْدُمْنَنَا كَاشِفَاتِ الرُّءُوسِ، تَضْطَرِبُ ثُدِيُّهُنَّ بَادِيَةً خِدَامُهُنَّ».
বাংলা অনুবাদ: ইয়াহইয়া ইবনে সালাম তার তাফসির-এ বর্ণনা করেছেন: হাম্মাদ ও নসর ইবনে তারিফ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তারা সুমামা ইবনে আনাস ইবনে মালিক থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: “উমরের দাসীরা আমাদের সেবা করত; তাদের মাথা অনাবৃত থাকত, তাদের স্তন নড়ছিল, এবং তাদের পায়ের অলংকার দৃশ্যমান ছিল।”
এখানে আলবানির নিজের উদ্ধৃতিটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ইরওয়াউল গালীল ৬/২০৪-এ তিনি আনাস ইবনে মালিকের একই বর্ণনা «تضطرب ثديهن» পাঠে উদ্ধৃত করেছেন এবং সনদ সম্পর্কে সরাসরি «إسناده جيد» বলেছেন। দুরার আল-সানিয়াহও আলবানির নামে একই পাঠ ও একই সনদ-রায় সংরক্ষণ করেছে। অর্থাৎ “স্তন নড়ছিল” পাঠটিকে শুধু নসর ইবনে তারিফ-সংবলিত দুর্বল ইয়াহইয়া ইবনে সালাম সনদের ফল বলে বাতিল করা যায় না। [33]
عن أنسِ بنِ مالكٍ قال كنَّ إماءَ عمرَ رضيَ اللهُ عنهُ يَخدِمْنَنا كاشفاتٍ عن شعورهن تضطربُ ثُدُيِهِنَّ.
الراوي: أنس بن مالك | المحدث: الألباني | المصدر: إرواء الغليل | الصفحة أو الرقم: 6/204 | خلاصة حكم المحدث: إسناده جيد.
বাংলা অনুবাদ: আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত: “উমরের দাসীরা আমাদের সেবা করত; তাদের চুল অনাবৃত থাকত এবং তাদের স্তন নড়ছিল।” বর্ণনাকারী: আনাস ইবনে মালিক; হাদিসবিশারদ: আলবানি; উৎস: ইরওয়াউল গালীল, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ২০৪। আলবানির সনদ-রায়: “এর সনদ ভালো।”
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, একাদশ শতাব্দীর প্রভাবশালী হানাফি ফকিহ শামসুল আইম্মা আল-সারাখসি তার আল-মাবসুত-এ একই আনাসের বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন «مُضْطَرِبَاتِ الثَّدْيِ» শব্দে। এখানে বাক্যটির কর্তা চুল নয়; সরাসরি দাসীদের স্তনের অবস্থা বর্ণিত হয়েছে—“স্তন নড়ছিল”। সারাখসি এই বর্ণনাটি কোনো বিতর্কিত কাহিনি খণ্ডনের প্রসঙ্গে নয়, বরং দাসীর “সেবা করা” বলতে কী বোঝায় তা ব্যাখ্যা করতে একটি স্বাভাবিক নজির হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এটি ঘটনাটির স্বাধীন দ্বিতীয় সনদ নয়, কারণ মূলত একই আনাস-বর্ণনার ফিকহি সংরক্ষণ; কিন্তু বর্ণনাটিকে ধ্রুপদী মুসলিম ফকিহরা কী ভাষায় গ্রহণ ও উদ্ধৃত করেছেন, তার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য। [34]
فَإِذَا حَلَفَ لَا يَخْدِمُهُ خَادِمُ فُلَانٍ فَجَلَسَ عَلَى مَائِدَةٍ مَعَ قَوْمٍ يَطْعَمُونَ، وَذَلِكَ الْخَادِمُ يَقُومُ فِي طَعَامِهِمْ وَشَرَابِهِمْ حَنِثَ؛ لِأَنَّهُ قَدْ خَدَمَ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ فَوُجِدَ بِهِ شَرْطُ الْحِنْثِ فِي حَقِّ الْحَالِفِ، بِدَلِيلِ حَدِيثِ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: كُنَّ جَوَارِي عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَخْدِمْنَ الضِّيفَانَ كَاشِفَاتِ الرُّؤُوسِ مُضْطَرِبَاتِ الثَّدْيِ.
বাংলা অনুবাদ: যদি কেউ শপথ করে যে অমুক ব্যক্তির খাদেম তাকে সেবা করবে না, অতঃপর সে এমন লোকদের সঙ্গে খাবারের টেবিলে বসে যাদের খাবার ও পানীয় সেই খাদেম পরিবেশন করছে, তাহলে তার শপথ ভঙ্গ হবে; কারণ সেই খাদেম প্রত্যেককেই সেবা করেছে। এর প্রমাণ আনাসের বর্ণনা: “উমরের দাসীরা অতিথিদের সেবা করত; তাদের মাথা অনাবৃত থাকত এবং তাদের স্তন নড়ছিল।”
এই পাঠকে সামাজিক ও ফিকহি প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করেও দেখা যায় না। ধ্রুপদী হানাফি ফিকহে দাসী নারীর শরীরকে স্বাধীন নারীর শরীরের সমানভাবে আবৃত করার বিধান ছিল না। ইবনে আবিদীন তার রদ্দুল মুহতার-এ দাসীর আওরাহ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে লিখেছেন যে, তার বক্ষ এবং স্তন আওরাহ নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অন্যের দাসীর শরীরের সেই অংশগুলোর দিকে দেখা বৈধ বলে পূর্ববর্তী ফকিহরা বিবেচনা করেছেন, যেগুলো মাহরাম নারীর ক্ষেত্রে দেখা বৈধ; এবং এই যুক্তি থেকেই তিনি বক্ষ ও স্তনকে দাসীর আওরাহর বাইরে রাখেন। নামাজের সময় বক্ষ ও স্তন খোলা থাকা নিয়ে কিছু হানাফি আলেমের ভিন্ন অবস্থানও তিনি উল্লেখ করেছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাধারণ ফিকহি সংজ্ঞার ভিত্তিতে এগুলোকে নিঃশর্তভাবে আওরাহ গণ্য না করার অবস্থানকেই শক্তিশালী বলে উপস্থাপন করেছেন। [35]
وَقَالَ الرَّحْمَتِيُّ: الظَّهْرُ مَا قَابَلَ الْبَطْنَ مِنْ تَحْتِ الصَّدْرِ إِلَى السُّرَّةِ، جَوْهَرَةٌ: أَيْ فَمَا حَاذَى الصَّدْرَ لَيْسَ مِنْ الظَّهْرِ الَّذِي هُوَ عَوْرَةٌ. اهـ. وَمُقْتَضَى هَذَا أَنَّ الصَّدْرَ وَمَا قَابَلَهُ مِنْ الْخَلْفِ لَيْسَ مِنْ الْعَوْرَةِ، وَأَنَّ الثَّدْيَ أَيْضًا غَيْرُ عَوْرَةٍ، وَسَيَأْتِي فِي الْحَظْرِ وَالْإِبَاحَةِ أَنَّهُ يَجُوزُ أَنْ يَنْظُرَ مِنْ أَمَةِ غَيْرِهِ مَا يَنْظُرُ مِنْ مَحْرَمِهِ، وَلَا شُبْهَةَ أَنَّهُ يَجُوزُ النَّظَرُ إِلَى صَدْرِ مَحْرَمِهِ وَثَدْيِهَا، فَلَا يَكُونُ عَوْرَةً مِنْهَا وَلَا مِنْ الْأَمَةِ، وَمُقْتَضَى ذَلِكَ أَنَّهُ لَا يَكُونُ عَوْرَةً فِي الصَّلَاةِ أَيْضًا، لَكِنْ فِي التَّتَارْخَانِيَّةِ: لَوْ صَلَّتِ الْأَمَةُ وَرَأْسُهَا مَكْشُوفَةٌ جَازَتْ بِالِاتِّفَاقِ، وَلَوْ صَلَّتْ وَصَدْرُهَا وَثَدْيُهَا مَكْشُوفٌ لَا يَجُوزُ عِنْدَ أَكْثَرِ مَشَايِخِنَا. اهـ. وَقَدْ يُقَالُ: إِنَّ صَدْرَ الْأَمَةِ عَوْرَةٌ فِي الصَّلَاةِ لَا خَارِجَهَا، لَكِنَّهُ مُخَالِفٌ لِلْمَذْكُورِ فِي عَامَّةِ الْكُتُبِ مِنْ الِاقْتِصَارِ عَلَى ذِكْرِ الْبَطْنِ وَالظَّهْرِ، وَقَدْ مَرَّ تَفْسِيرُهُمَا، وَلَا يَخْفَى أَنَّ الصَّدْرَ غَيْرُهُمَا، فَيَنْبَغِي أَنْ يَكُونَ الْمُعْتَمَدُ أَنَّهُ لَيْسَ بِعَوْرَةٍ مُطْلَقًا.
বাংলা অনুবাদ: রাহমাতি বলেছেন: পিঠ বলতে বক্ষের নিচ থেকে নাভি পর্যন্ত উদরের বিপরীত অংশকে বোঝায়। জাওহারায় বলা হয়েছে: সুতরাং বক্ষের বিপরীত অংশ সেই পিঠের অন্তর্ভুক্ত নয় যা আওরাহ। এর দাবি হলো, বক্ষ এবং তার বিপরীত পশ্চাৎদেশ আওরাহ নয় এবং স্তনও আওরাহ নয়। পরে নিষেধ ও অনুমতির অধ্যায়ে আসবে যে, অন্যের দাসীর শরীরের সেই অংশের দিকে তাকানো বৈধ, যেদিকে নিজের মাহরাম নারীর ক্ষেত্রে তাকানো বৈধ। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে মাহরাম নারীর বক্ষ ও স্তনের দিকে তাকানো বৈধ; ফলে সেগুলো তার ক্ষেত্রেও এবং দাসীর ক্ষেত্রেও আওরাহ নয়। এর দাবি অনুযায়ী নামাজের মধ্যেও সেগুলো আওরাহ হওয়ার কথা নয়। তবে তাতারখানিয়ায় বলা হয়েছে: দাসী মাথা অনাবৃত রেখে নামাজ পড়লে সর্বসম্মতিক্রমে নামাজ বৈধ; কিন্তু বক্ষ ও স্তন অনাবৃত রেখে নামাজ পড়লে আমাদের অধিকাংশ শায়খের মতে তা বৈধ নয়। বলা যেতে পারে, দাসীর বক্ষ নামাজে আওরাহ, কিন্তু নামাজের বাইরে নয়। তবে সাধারণ ফিকহি গ্রন্থগুলোতে আওরাহ হিসেবে শুধু উদর ও পিঠ উল্লেখ করার যে অবস্থান পাওয়া যায়, তার সঙ্গে এটি সাংঘর্ষিক। আর বক্ষ যে এই দুইটির কোনোটিই নয় তা স্পষ্ট। অতএব গ্রহণযোগ্য অবস্থান হওয়া উচিত যে বক্ষ নিঃশর্তভাবেই আওরাহ নয়।
এই ফিকহি প্রেক্ষাপট বর্ণনাটির অর্থ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। এমন একটি আইনি কাঠামোতে, যেখানে দাসীর বক্ষ ও স্তনকে স্বাধীন নারীর মতো আবৃতযোগ্য আওরাহ হিসেবে গণ্যই করা হচ্ছে না, সেখানে উমরের দাসীদের সেবা করার সময় স্তনের নড়াচড়ার উল্লেখকে এমনভাবে পুনর্ব্যাখ্যা করা যে তাদের স্তন অবশ্যই কাপড়ে সম্পূর্ণ ঢাকা ছিল এবং কেবল লম্বা চুল কাপড়ের ওপর এসে আঘাত করছিল—এই ব্যাখ্যার পক্ষে উৎসগুলো কোনো প্রয়োজন তৈরি করে না। বরং একই আনাস-বর্ণনার «تَضْطَرِبُ ثُدِيُّهُنَّ» ও «مُضْطَرِبَاتِ الثَّدْيِ» পাঠ, এবং দাসীর স্তনকে আওরাহ না গণ্য করার ধ্রুপদী ফিকহি বিধান—এই তিনটি তথ্য পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এখানে পাঠ ও সনদগুলোর পার্থক্য নির্দিষ্টভাবে রাখা প্রয়োজন। বায়হাকির প্রচলিত মুদ্রিত পাঠে «تَضْرِبُ ثُدِيَّهُنَّ» রয়েছে এবং বায়হাকি এ-সংক্রান্ত উমরের আছারগুলোকে সহিহ বলেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে সালামের «تَضْطَرِبُ ثُدِيُّهُنَّ» পাঠের নির্দিষ্ট সনদে নসর ইবনে তারিফের কারণে দুর্বলতা রয়েছে। কিন্তু «تَضْطَرِبُ ثُدِيُّهُنَّ» পাঠটি ওই দুর্বল সনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়: আলবানি ইরওয়াউল গালীল ৬/২০৪-এ একই আনাস-বর্ণনা এই পাঠেই উদ্ধৃত করে «إسناده جيد» বলেছেন। সারাখসিও একই বর্ণনাকে «مُضْطَرِبَاتِ الثَّدْيِ» ভাষায় উদ্ধৃত করেছেন। এগুলোকে পৃথক তিন বা চারটি স্বাধীন ঐতিহাসিক সাক্ষ্য বলা যাবে না, কারণ মূল বর্ণনাটি একই আনাস-রেওয়ায়েতের বিভিন্ন সংরক্ষণ ও উদ্ধৃতি। কিন্তু পাঠ-ইতিহাসের দিক থেকে ফলাফল স্পষ্ট: “স্তন নড়ছিল” পাঠটি মুসলিম হাদিস ও ফিকহি সাহিত্যে একাধিকভাবে সংরক্ষিত হয়েছে, আলবানি সেই পাঠের সনদকে ভালো বলেছেন, এবং একই আইনি ঐতিহ্যে দাসীর বক্ষ ও স্তনকে আওরাহর বাইরে রাখার স্পষ্ট ফিকহি অবস্থানও পাওয়া যায়।
স্বাধীন নারীর মতো আবৃত হওয়ার অপরাধে দাসীকে প্রহার
উমরের নীতি শুধু দাসীদের ওপর পূর্ণাঙ্গ পর্দা বাধ্যতামূলক না করার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। কোনো দাসী স্বাধীন নারীর মতো মাথা ও শরীর আবৃত করলে তিনি তাকে প্রহার করতেন এবং আবরণ খুলতে বাধ্য করতেন—এই আচারের একাধিক বর্ণনা বায়হাকি, ফিকহি ব্যাখ্যা, তাফসির এবং আধুনিক ইসলামি ফতোয়ায় সংরক্ষিত হয়েছে। ইসলামকিউএ ইবনে তাইমিয়ার বক্তব্য উদ্ধৃত করে স্বীকার করেছে, উমর আবৃত দাসী দেখলে তাকে মারতেন এবং স্বাধীন নারীর অনুকরণ করার অভিযোগ করতেন। ইসলামওয়েবও বায়হাকির উদ্ধৃতিতে উমরের এ-সংক্রান্ত আছারগুলোকে সহিহ বলে জানিয়েছে। এখানে দাসীর অনাবৃত থাকা কোনো ছাড় বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নয়; আবৃত হওয়ার চেষ্টা শারীরিক শাস্তিযোগ্য শ্রেণি-লঙ্ঘন। [36]
وكان عمر إذا رأى أمة مختمرة ضربها وقال: أتتشبهين بالحرائر أي لكاع؟
বাংলা অনুবাদ: “উমর কোনো দাসীকে ওড়না পরিহিত দেখলে তাকে মারতেন এবং বলতেন, ‘হে নীচ নারী, তুমি কি স্বাধীন নারীদের অনুকরণ করছ?’”
আশরাফুল হিদায়া-র বাংলা ব্যাখ্যায় দাসীর পোশাক, পরপুরুষের দৃষ্টি এবং উমরের প্রহারের ঘটনাকে একই আইনি কাঠামোর অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সেখানে অন্যের দাসীর দেহের সেই অংশ দেখা বৈধ বলা হয়েছে, যা একজন পুরুষ তার মাহরাম নারীর শরীরে দেখতে পারে; কারণ দাসীকে মালিকের কাজে বাইরে যেতে এবং অতিথিদের সেবা করতে হয়। একই আলোচনায় উমরের দুররা দিয়ে আবৃত দাসীকে মারার বর্ণনা উদ্ধৃত হয়েছে। গ্রন্থটি নির্দিষ্ট একটি শব্দরূপের বর্ণনা প্রমাণিত নয় বলে জানালেও বায়হাকির কাছাকাছি বর্ণনা দ্বারা মূল বক্তব্য প্রমাণিত এবং সনদ শক্তিশালী বলে উল্লেখ করেছে। [37]
কিতাবুল কারাহিয়াহ
৬১৫
قَالَ : وَيَنْظُرُ الرَّجُلُ مِنْ مَمْلُوكَةٍ غَيْرِه إِلى مَا يَجُوزُ أَن يَنظُرَ إِلَيْهِ مِن ذَوَاتِ مَحَارِمِهِ لِأَنَّهَا تَخْرُجُ لِحَوَائِجِ مَوْلَاهَا وَتَخْدِمُ أَضْيَافَهُ وَهِيَ فِي ثِيَابِ مَهْنَتِهَا فَصَارَ حَالُهَا خَارِجَ الْبَيْتِ فِي حَقِّ الْأَجَانِبِ كَحَالِ الْمَرْأَةِ دَاخِلَهُ فِي حَقِّ مَحَارِمِ الْأَقَارِبِ وَكَانَ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ إِذَا رَأَى جَارِيَةً مُتَقَنَّعَةً عَلَاهَا بِالدِّرَّةِ وَقَالَ القِ عَنْكِ الْخِمَارَ يَا دِفَارُ اتَتَشَبَّهِينَ بِالْحَرَائِرِ .
অনুবাদ: ইমাম কুদূরী (র.) বলেন, পর পুরষের জন্য অন্যের দাসীর দেহের এতটুকু অংশই দেখা জায়েজ যতটুকু তার মাহরাম মহিলার মধ্যে জায়েজ। কেননা দাসীকে কাজের পোশাক পরিধান করে তার নিজ মনিবের প্রয়োজনে বাহিরে যেতে হয় এবং তার মেহমানের সেবা করতে হয়। সুতরাং ঘরের ভিতর নিকটাত্মীয় মাহরাম পুরুষের সামনে মহিলার যে অবস্থা ঘরের বাইরে পরপুরুষের সামনে দাসীর সেই অবস্থাই হলো। হযরত ওমর (রা.) কোনো দাসীকে [দেহ ও মাথা] আবৃত অবস্থায় দেখলে দুররা মারতেন এবং বলতেন, হে দাফার! তোমরা ওড়না ফেল, তুমি কি স্বাধীনা মেয়েদের মতো হতে চাও?
প্রাসঙ্গিক আলোচনা
تَرْلُ قَالَ : وَيَنْظُرُ الرَّجُلُ مِنْ الحَ: আলোচ্য ইবারতে অন্যের মালিকানাধীন দাসীর দেহের কতটুকু অংশ দেখা যাবে তা বর্ণনা করা হয়েছে। ইমাম কুদূরী (র.) বলেন, পুরুষের জন্য তার মাহরাম মহিলার শরীরের যতটুকু অংশ দেখা জায়েজ অন্যের মালিকানাধীন দাসীর এতটুকু অংশ দেখা জায়েজ।
উল্লেখ্য যে, মাহরাম মহিলার হাত, পা, বাহু, পায়ের নলা, বুক, চুল, গলা দেখা জায়েজ। ইতঃপূর্বে এ সংক্রান্ত মাসআলা আলোচনা করা হয়েছে। কারণ দাসীদেরকে কাজের পোশাক পরিহিত অবস্থায় মনিবের প্রয়োজন সারতে ঘরের বাহিরে যেতে হয়। মনিবের মেহমানদের খেদমত করতে তাদের সামনে উপস্থিত হতে হয়। ফলে ঘরের বাইরে পরপুরুষের সামনে দাসীর অবস্থা এমন হলো যেমন একজন মহিলার অবস্থা হয় তার মাহরাম পুরুষের সামনে ঘরের ভিতরে। ইতঃপূর্বে বলা হয়েছিল যে, মাহরাম মহিলার কাছে পুরুষেরা অবাধে যাতায়াত করে, আর মহিলারা তখন কাজের পোশাকে থাকে তাই মাহরাম মহিলার বাহু, বুক, গলা ইত্যাদি দেখা জায়েজ। তদ্রূপ দাসীরা যেহেতু কাজের পোশাকে বাইরে যায় এবং তাদের মনিবের কাজ করে তাই তাদেরও সেসব অঙ্গ দেখা জায়েজ বলে সাব্যস্ত হবে।
দ্বিতীয় দলিল হলো হযরত ওমর (রা.)-এর আমল। হযরত ওমর (রা.) রাস্তা-ঘাটে কোনো দাসীকে দেহ মাথা ঢাকা অবস্থায় দেখলে ধমকাতেন ও দুররা মারতেন এবং বলতেন- الْقِ عَنْكِ الْخِمَارَ يَا دِفَارُ أَتَتَشَبَّهِبْنَ بالعرائر
অর্থাৎ ‘হে দাফার! তোমার ওড়না ফেল, তুমি কি স্বাধীনা মেয়েদের সাদৃশ্য অবলম্বন করছ?’
فار শব্দটি نزال -এর ওযনে এ থেকে নির্গত। অর্থ- দুর্গন্ধ। ৩১ অর্থ- দুর্গন্ধযুক্তা মহিলা। এখানে দাসী উদ্দেশ্য। و كَانَ عُمَرُ إِذا رَأَى جَارِيَةً مُتَقَنَّعَةٌ عَلَاهَا بِالدَّرَةِ وَقَالَ الَى عَنْكِ الْجَمَارَ يَا دِفَارُ اتَتَشَهِينَ بِالْحَرَائِرِ) (SIC হাদীস সম্পর্কে আল্লামা যায়লাঈ (র.) বলেন, এরূপ শব্দে হাদীসটি প্রমাণিত নয়। অবশ্য ইমাম বায়হাকী (র.) এর কাছাকাছি
শব্দে একটি হাদীস বর্ণনা করেন, হাদীসটি নিম্নরূপ-
عَنْ نَافِعٍ أَنَّ صَفِيَّةَ بِنْتِ أَبِي عُبَيْدٍ حَدَّثَنَهُ قَالَتْ خَرَجَتْ إمرأة مُحْتَمَرَةٌ مُتَجَلِّيبَةٌ فَقَالَ عُمَرُ مَنْ هَذِهِ الْمَرْأَةُ : أن تخَمِّرِي هَذِهِ الْآمَةَ وَتَجَلْبَهَا فَقِيلَ لَهُ جَارَبَةٌ لِفُلَانٍ – رَجُلٌ مِنْ بَيْتِهِ فَأَرْسَلَ إِلَى حَفْصَهُ فَقَالَ مَا حَمَلَكَ عَلَى أَن تُخَمري . حَتَّى هَمَمْتُ أَنْ أَفَعَ بِهَا لَا أَحْسِبُهَا إِلَّا مِنَ الْمُحْصَنَاتِ وَلَا تَشَبُّهُوا الإِمَاءَ بِالْمُحْصَنَاتِ نَصْبُ الرَّابَةِ) .
হাদীসটির সনদ সম্পর্কে হাফেজ যাহাবী (র.) বলেন, এর সনদ শক্তিশালী। বিনায়া)
মোটকথা কিতাবে উল্লিখিত শব্দে হাদীসটি যদিও প্রমাণিত নয় কিন্তু এর বক্তব্য বায়হাকীর এ বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত হয়।

তাফসিরে মাজহারী-র বাংলা অনুবাদেও স্বাধীন নারী ও দাসীর পার্থক্য নির্দেশক পোশাকের কথা বলার পর উমরের সামনে পর্দা করে যাওয়া এক দাসীর আবরণ খুলে দূরে নিক্ষেপ করার ঘটনা রয়েছে। দাসীটি নিজের শরীর আবৃত করতে চেয়েছিল; উমর তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আবরণ সরিয়ে তাকে “মুক্ত রমণীদের মতো” পর্দা করার জন্য অপমান করেন। কাজটির লক্ষ্য ছিল দাসীর শরীরে তার অধস্তন সামাজিক অবস্থান দৃশ্যমান রাখা। [38]
শেষে বলা হয়েছে- ‘আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’। একথার অর্থ-অসতর্কতা ও পার্থক্য নির্দেশক পোশাক পরিচ্ছদ পরিধান না করার কারণে ইতোপূর্বে যে সকল অঘটন ঘটেছে, সে সকল কিছু সম্পর্কে আল্লাহ্ কাউকে অভিযুক্ত করবেন না। অর্থাৎ অতীতের অসুন্দর আচরণসমূহকে আল্লাহ্ ক্ষমা করে দিয়েছেন। কারণ তিনি মহাক্ষমাপরবশ ও পরম দয়ার্দ্র।
হজরত আনাস বর্ণনা করেছেন, একবার এক ক্রীতদাসী স্বাধীনাগণের মতো পর্দা করে হজরত ওমরের পাশ দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলো। হজরত ওমর তার পর্দা উন্মোচন করলেন। বললেন, হতভাগিনী! মুক্ত রমণীদের মতো পর্দা করেছো কেনো? একথা বলে তিনি তার আবরণী ছুঁড়ে ফেলে দিলেন দূরে।

আধুনিক ইসলামি বক্তারাও দাসীর পূর্ণাঙ্গ পর্দা স্বাধীন নারীর মতো নয় এবং উমর আবৃত দাসীদের মারতেন—এই ঐতিহাসিক অবস্থান স্বীকার করেন। কাজের সুবিধাকে কারণ হিসেবে দেখালেও সেই ব্যাখ্যা দাসীর নিজেকে আবৃত করার অধিকার কেড়ে নেওয়া ও শারীরিক শাস্তিকে ন্যায়সংগত করে না। একজন শ্রমজীবী নারী কাজের প্রয়োজনে কম আবরণ বেছে নিতে পারেন; কিন্তু মালিক বা শাসক তাকে আবৃত হওয়ার জন্য মারলে সেটি সুবিধা নয়, বলপ্রয়োগ। আসুন কয়েকজন আলেমের বক্তব্য শোনা যাক,
দাসীর সতর: চার মাজহাবের ফিকহে অসম মানবিক মর্যাদা
দাসীর সতর নিয়ে ইসলামি ফিকহে একটিমাত্র সর্বসম্মত সীমা নেই। ইসলামওয়েবের সংক্ষিপ্তসারে অধিকাংশ আলেম দাসীর সতর নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত বলেছেন; হানাফিরা তাকে মাহরাম স্বাধীন নারীর সামনে প্রকাশযোগ্য অঙ্গের সঙ্গে তুলনা করেছে; কিছু হাম্বলি আলেম ও ইবনে হাজম দাসী ও স্বাধীন নারীর সতর সমান বলেছেন। এই মতভেদ মানবিক সমতার স্বীকৃতি থেকে জন্ম নেয়নি; মূল বিতর্ক ছিল মালিকানাধীন নারীর কতটুকু শরীর নামাজে বা পুরুষের সামনে ঢাকতে হবে। অধিকাংশের নাভি-হাঁটু মত গ্রহণ করলে দাসীর মাথা, চুল, ঘাড়, বাহু, পায়ের বড় অংশ ও দেহের ঊর্ধ্বাংশ সতরের বাইরে পড়ে; হানাফি ব্যাখ্যায় কাজ ও অতিথিসেবার প্রয়োজনে মাহরাম নারীর মতো দৃশ্যমানতার অনুমতি তৈরি হয়। [39] [40]
فقد ذهب جمهور أهل العلم إلى أن الأمة عورتها ما بين السرة إلى الركبة.
বাংলা অনুবাদ: “অধিকাংশ আলেমের মত হলো, দাসীর সতর নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত।”
সুনান আদ-দারাকুতনির দুটি বর্ণনাতেও নাভি ও হাঁটুর মধ্যবর্তী অংশকে সতর বলা হয়েছে। উভয় বর্ণনার বাংলা সংস্করণে মান “তাহকিক অপেক্ষমাণ” লেখা আছে; তাই এগুলোকে এককভাবে চূড়ান্ত সহিহ প্রমাণ বলা যায় না। বায়হাকিও আমর ইবনে শুআইবের হাদিসটির পাঠভেদ থাকার কারণে দাসীর সতর নির্ধারণে এর ওপর নির্ভর না করার কথা বলেছেন। তবু পরবর্তী ফিকহে নাভি-হাঁটু সীমা ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়েছে এবং ইসলামওয়েব সেটিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমের মত হিসেবে স্বীকার করেছে। [41]
সুনান আদ-দারাকুতনী
৩. নামায
পরিচ্ছেদঃ ৩. নামাযসমূহের তালিম দেওয়া এবং এজন্য প্রহার করার নির্দেশ এবং সতরের সীমা যা ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক
৮৬৩(২). মুহাম্মাদ ইবনে মাখলাদ (রহঃ) … আমর ইবনে শুআইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তোমাদের শিশুদের সাত বছর বয়সে নামাযের (পড়ার) নির্দেশ দাও। তারা দশ বছর বয়সে পদার্পণ করলে নামাযের জন্য (তা না পড়লে) তাদের দৈহিক শাস্তি দাও এবং তাদের বিছানা পথক করে দাও। আর তোমাদের কেউ নিজের দাসকে বা নিজের শ্রমিককে তার দাসীর সঙ্গে বিবাহ দিলে সে যেন তার নাভির নিচ থেকে হাঁটুর উপর পর্যন্ত অঙ্গের প্রতি না তাকায়। কারণ নাভির নিচ থেকে হাঁটু পর্যন্ত সতর (অবশ্য আবরণীর অঙ্গ)।
হাদিসের মানঃ তাহকীক অপেক্ষমাণ
বর্ণনাকারীঃ আমর ইবনু শু‘আয়ব (রহঃ)
সুনান আদ-দারাকুতনী
৩. নামায
পরিচ্ছেদঃ ৩. নামাযসমূহের তালিম দেওয়া এবং এজন্য প্রহার করার নির্দেশ এবং সতরের সীমা যা ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক
৮৬৪(৩). ইউসুফ ইবনে ইয়াকূব ইবনে ইসহাক ইবনে বাহলুল (রহঃ) … আমর ইবনে শুআইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের শিশুদের সাত বছর বয়সে (পৌছলে) নামায পড়ার নির্দেশ দাও। তারা দশ বছর বয়সে পদার্পণ করলে (নামায পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য) তাদের দৈহিক শাস্তি দাও এবং তাদের বিছানা (তোমাদের থেকে) পৃথক করে দাও। আর তোমাদের কেউ তার দাসকে বা শ্রমিককে বিবাহ করালে সে যেন তার (স্ত্রীর) হাঁটু ও নাভির মধ্যবর্তী অঙ্গ না দেখে। কারণ নাভি ও হাঁটুর মধ্যবর্তী অঙ্গ লজ্জাস্থানের অন্তর্ভুক্ত।
হাদিসের মানঃ তাহকীক অপেক্ষমাণ
বর্ণনাকারীঃ আমর ইবনু শু‘আয়ব (রহঃ)
স্বাধীন নারী ও দাসীর দেহ একই জৈবিক দেহ; স্বাধীনতা বা মালিকানা শরীরের লজ্জা, ব্যথা, নিরাপত্তা কিংবা যৌন হয়রানির ঝুঁকি বদলায় না। ইবনে হাজম ও কিছু আলেম এই স্বাভাবিক সত্যের কাছাকাছি গিয়ে উভয়ের সতর সমান বলেছেন, কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ ফিকহ দাসত্বকে দেহের মর্যাদা কমানোর বৈধ কারণ বানিয়েছে। দাসীকে কাজ করতে হয়—এই যুক্তি দিয়ে তার পোশাকের অধিকার কমানো হয়েছে, অথচ মালিকের শ্রমব্যবস্থা বদলানো বা দাসীর নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়নি। ফলে সতরের বিধান ধর্মীয় শালীনতার নিরপেক্ষ সীমা নয়; এটি মালিকানার অবস্থান অনুযায়ী নারীদেহের মূল্য নির্ধারণকারী আইন।
পর্দার সামাজিক কাজ: দাসত্বকে শরীরে দৃশ্যমান রাখা
স্বাধীন নারী ও দাসীর পোশাক আলাদা করার ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল তাদের সামাজিক অবস্থান দেখামাত্র শনাক্ত করা। স্বাধীন নারীর জিলবাব তাকে সম্ভ্রমযোগ্য শ্রেণির সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করত; দাসীর অনাবৃত মাথা ও কাজের পোশাক তাকে মালিকানাধীন শ্রমিক হিসেবে চিহ্নিত করত। উমরের প্রহার এই চিহ্নব্যবস্থার রাষ্ট্রীয় প্রয়োগ। কোনো দাসী আবৃত হলে দর্শক তাকে স্বাধীন নারী মনে করতে পারত; তাই আবরণ খুলে দেওয়া, অপমান করা ও দুররা মারা হয়েছিল। এখানে পোশাক ব্যক্তিগত শালীনতার বিষয় নয়, সামাজিক পরিচয়পত্র। দাসী নিজের দেহ ঢেকে স্বাধীন নারীর সমান দৃশ্যমান মর্যাদা দাবি করতে পারত না।
ইসলামওয়েব দাসীদের নির্যাতন বৈধ নয় বলে দাবি করলেও একই সঙ্গে বলেছে, স্বাধীন নারীদের দাসীদের বিপরীত পোশাক পরানোয় সমস্যা নেই, যাতে দুষ্কৃতকারীরা তাদের ভয় করে। এই কাঠামো নারীকে সমান নিরাপত্তা দেয় না। এটি স্বাধীন নারীকে বিশেষ পোশাকে সুরক্ষাযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করে এবং দাসীকে সেই সুরক্ষামূলক পরিচয় ব্যবহার করতে বাধা দেয়। উমরের আচরণ এই বৈষম্যের সবচেয়ে নগ্ন রূপ: দাসী নিজ উদ্যোগে সেই আবরণ গ্রহণ করলে তার শরীরে লাঠি নেমে আসে। ফলে শালীনতার দাবি ছিল শ্রেণিনির্ভর; স্বাধীন নারীর আবরণ সম্মান, দাসীর আবরণ শাস্তিযোগ্য ছদ্মবেশ।
দাসী মানুষ নয়, মালিকানাধীন সম্পত্তি: বিক্রি, ভোগ ও সম্মতির বিলোপ
দাসীর পোশাকের অধিকার কেড়ে নেওয়া বিচ্ছিন্ন কোনো বিধান নয়; এটি মানুষকে সম্পত্তি বানানো বৃহত্তর আইনি কাঠামোর অংশ। ইসলামকিউএ স্বীকার করেছে, বৈধভাবে মালিকানাধীন দাসীকে বিক্রি করা যায় এবং মালিক এক ঋতুস্রাব অপেক্ষার পর তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে। ইসলামওয়েব আরও সরাসরি বলেছে, মালিক দাসীর সঙ্গে বিবাহ ছাড়াই যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে এবং দাসীর সম্মতি বিবেচ্য নয়, কারণ সে মালিকের সম্পদের অংশ। এই বক্তব্যে সম্মতির অনুপস্থিতি কোনো অপব্যবহার নয়; মালিকানার স্বাভাবিক আইনি ফল। [42] [43]

بالغ الإسلام بالإحسان إلى المملوكين
28-3-2002 | إسلام ويب
السؤال:
بسم الله الرحمن الرحيم:
هل الإسلام يجيز الدخول على الأمة أو الجارية رغما عنها؟ وكيف تعامل المسلمون مع السبايا؟
الإجابــة:
الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه، أما بعد:
فقد تقدم في جواب سابق بيان متى يصبح الإنسان مملوكاً فليراجع برقم: 6186.
والجارية إذا كانت ملك يمين، فالمالك يجوز له الدخول بها بدون عقد زواج، لأنها حلت له بملك اليمين لا بنكاح، ولا يعتبر رضاها، لأنها من جملة أملاكه.
وأما عن تعامل المسلمين مع السبايا، فقد أوصاهم الإسلام وبالغ في الوصية بالإحسان إلى المملوكين بشتى أنواع الإحسان، وأعلى ذلك الحث على إعتاقهم وتخليصهم من الرق، حتى جعل جزاء من أعتق عبداً أن يعتقه الله من النار، وأوصانا بأن نطعمهم مما نأكل، ونلبسهم مما نلبس، ولا نكلفهم من الأعمال ما لا يطيقون، وجعل كفارة من أساء إلى مملوكه فضربه ظلماً -جعل كفارة ذلك- أن يعتقه، كل ذلك صحت فيه الأحاديث عن النبي صلى الله عليه وسلم، مما يبين لكل منصف عظمة هذا الدين، وإعطاء كل ذي حق حقه.
وراجع الجواب رقم: 4492.
والله أعلم.
বাংলা অনুবাদ:
ইসলাম ক্রীতদাসদের প্রতি সদাচরণের ওপর অত্যন্ত গুরুত্ব আরোপ করেছে
২৮-৩-২০০২ | ইসলামওয়েব
প্রশ্ন:
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ইসলাম কি কোনো দাসী বা বাঁদীর সঙ্গে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অনুমতি দেয়? এবং মুসলিমরা নারী যুদ্ধবন্দিদের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করত?
উত্তর:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহর রাসুল, তার পরিবার ও সাহাবিদের ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক। অতঃপর:
কোন অবস্থায় একজন মানুষ ক্রীতদাসে পরিণত হয়, তা পূর্ববর্তী একটি উত্তরে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে ৬১৮৬ নম্বর উত্তর দেখুন।
কোনো দাসী যদি ‘মালিকানাধীন নারী’ বা ‘মিলকুল ইয়ামিন’ হয়, তাহলে তার মালিক কোনো বিবাহচুক্তি ছাড়াই তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে। কারণ বিবাহের মাধ্যমে নয়, মালিকানার মাধ্যমেই সে তার জন্য বৈধ হয়েছে। এক্ষেত্রে দাসীর সম্মতি বিবেচনা করা হয় না, কারণ সে মালিকের সম্পদের অন্তর্ভুক্ত।
আর মুসলিমরা নারী যুদ্ধবন্দিদের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করত—এ বিষয়ে ইসলাম তাদের নির্দেশ দিয়েছে এবং ক্রীতদাসদের প্রতি বিভিন্নভাবে সদাচরণ করার ওপর অত্যন্ত গুরুত্ব আরোপ করেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ হলো তাদের মুক্ত করতে ও দাসত্ব থেকে উদ্ধার করতে উৎসাহ দেওয়া। এমনকি যে ব্যক্তি কোনো ক্রীতদাসকে মুক্ত করে, তার প্রতিদান হিসেবে আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করবেন বলে নির্ধারণ করা হয়েছে। আমাদের আরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আমরা যা খাই তাদেরও তা খাওয়াতে, আমরা যা পরি তাদেরও তা পরাতে এবং তাদের সামর্থ্যের বাইরে কোনো কাজ তাদের ওপর চাপিয়ে না দিতে। কেউ যদি নিজের ক্রীতদাসের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে এবং অন্যায়ভাবে তাকে প্রহার করে, তাহলে এর কাফফারা হিসেবে তাকে মুক্ত করে দিতে বলা হয়েছে। এসব বিষয়ে নবীর কাছ থেকে সহিহ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। প্রত্যেক ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির কাছে এগুলো এই ধর্মের মহত্ত্ব এবং প্রত্যেক অধিকারীর অধিকার তাকে প্রদান করার বিষয়টি স্পষ্ট করে।
এ বিষয়ে ৪৪৯২ নম্বর উত্তরও দেখুন।
আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
ইসলামওয়েবের আরেক ফতোয়ায় ‘মালিকানাধীন নারী’কে বিবাহিত স্ত্রী থেকে পৃথক করে বলা হয়েছে, মালিক কোনো বিবাহচুক্তি, সাক্ষী বা মোহর ছাড়াই তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে। ইসলামকিউএও দাসীকে যুদ্ধবন্দি, দাসীর সন্তান অথবা বৈধ মালিকের কাছ থেকে কেনা নারী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে। অর্থাৎ তার শরীর, শ্রম, স্থানান্তর, পোশাক ও যৌন ব্যবহারের ওপর অন্য মানুষের আইনি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত। এই কাঠামোয় দাসীর আবরণ কেড়ে নেওয়া কোনো আকস্মিক বিচ্যুতি নয়; যে মানুষকে কেনাবেচা ও সম্মতিহীন যৌন ব্যবহারের বস্তু করা হয়েছে, তার নিজের পোশাক নির্ধারণের অধিকারও বিলুপ্ত হওয়া একই মালিকানা-যুক্তির ধারাবাহিক ফল। [44] [45]
إذ يحق لمالكهن أن يطأهن من غير عقد زواج، ولا شهود، ولا مهر، فهن لسن أزواجا.
বাংলা অনুবাদ: “তাদের মালিক বিবাহচুক্তি, সাক্ষী ও মোহর ছাড়াই তাদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে; তারা স্ত্রী নয়।”
সম্মতিহীন যৌন প্রবেশাধিকারকে মালিকের অধিকার বলা আধুনিক নৈতিক ভাষায় ধর্ষণমূলক যৌন দাসত্ব। উৎসের আরবি বক্তব্যে আধুনিক ‘ধর্ষণ’ শব্দ না থাকলেও মালিকের যৌন অধিকার এবং দাসীর সম্মতি অপ্রয়োজনীয়—এই দুই উপাদান স্পষ্টভাবে উপস্থিত। মানুষের সম্মতি অস্বীকার করে তাকে যৌন ব্যবহারের সম্পত্তি বানানোকে সদাচরণ, পোশাক দেওয়া বা কখনো মুক্তির উৎসাহ দিয়ে মানবিক করা যায় না। উমরের দাসীদের আবরণ কেড়ে নেওয়া ও প্রহার এই সম্পত্তিভিত্তিক ব্যবস্থার দৃশ্যমান সহিংসতা; দাসীর শরীর তার নিজের নয়—এই নীতিই পোশাক থেকে যৌনতা পর্যন্ত সর্বত্র কার্যকর। আরো বিস্তারিত পড়তেঃ ইসলামে যুদ্ধবন্দি নারী বা দাসী ধর্ষণের বৈধতা প্রসঙ্গে: দাসীর সম্মতি কি জরুরি?
আধুনিক ইসলামি প্রতিরক্ষা: স্বীকারোক্তির ভেতরেই বৈষম্য
আধুনিক ইসলামি ব্যাখ্যাগুলো সাধারণত দাসীর কম আবরণকে কাজের প্রয়োজন, কষ্ট লাঘব অথবা যৌন প্রলোভনের আশঙ্কা কম থাকার যুক্তি দিয়ে রক্ষা করে। ইসলামকিউএ বলেছে, শরিয়ত স্বাধীন নারী ও দাসীর মধ্যে পার্থক্য করেছে; স্বাধীন নারী পূর্ণাঙ্গ পর্দা করবে, দাসী মাথা, হাত ও মুখ প্রকাশ করতে পারে, কারণ তাকে বেশি কাজে ব্যবহার করা হয় এবং পূর্ণ পর্দা তার জন্য কষ্টকর। একই উত্তরে উমরের আবৃত দাসীকে প্রহার করার বর্ণনাও উদ্ধৃত হয়েছে। ফলে প্রতিরক্ষাটি ইতিহাস অস্বীকার করে না; বৈষম্যকে শ্রমের প্রয়োজন দিয়ে ন্যায়সংগত করার চেষ্টা করে। [46]
جاء الشرع بالتفريق بين الحرائر والإماء، فالحرة تحتجب الحجاب الكامل، والأمة تبرز.
বাংলা অনুবাদ: “শরিয়ত স্বাধীন নারী ও দাসীর মধ্যে পার্থক্য করেছে; স্বাধীন নারী পূর্ণাঙ্গ পর্দা করবে এবং দাসী প্রকাশিত থাকবে।”
“কাজের সুবিধা” যুক্তিটি দাসীর নিজের সিদ্ধান্তকে অদৃশ্য করে। কোনো নারী শ্রমের সময় কী পরবেন তা তিনি নির্ধারণ করলে সেটি সুবিধা; শাসক আবৃত হওয়ার জন্য তাকে মারলে সেটি বাধ্যতামূলক উন্মোচন। “ফিতনার আশঙ্কা হলে দাসীকেও পর্দা করতে হবে” যুক্তিও নারীকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা দেয় না; সেখানে পোশাক নির্ধারিত হয় পুরুষের কামনা ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা দিয়ে, দাসীর নিজস্ব গোপনতা ও পছন্দ দিয়ে নয়। একই নারী সুন্দর বা কাম্য বিবেচিত হলে আবৃত হবে, শ্রমের যন্ত্র হিসেবে প্রয়োজন হলে অনাবৃত থাকবে—দুই অবস্থাতেই সিদ্ধান্তের কেন্দ্র পুরুষ ও মালিক, নারী নয়।
ইসলামওয়েব দাসীকে নির্যাতন বৈধ নয় বলে ঘোষণা করেছে, কিন্তু একই উত্তরে অধিকাংশ আলেমের নাভি-হাঁটু সতর, উমরের আবরণ নিষেধ এবং স্বাধীন নারীর পোশাক থেকে দাসীকে পৃথক রাখার বিধান স্বীকার করেছে। তাত্ত্বিকভাবে নির্যাতন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এমন একটি আইনকে মানবিক বলা যায় না, যা একজন নারীকে সম্পত্তি বানায়, বিক্রির অনুমতি দেয়, যৌন সম্পর্কে তার সম্মতিকে অপ্রয়োজনীয় বলে এবং নিজের শরীর ঢাকতে চাইলে তাকে সামাজিক সীমা লঙ্ঘনকারী হিসেবে শাস্তি দেয়। সদাচরণের উপদেশ মালিকানার সহিংস ভিত্তি বিলোপ করে না।
একই চরিত্রগত প্যাটার্ন: নজরদারি, যৌন কর্তৃত্ব, প্রহার, শিশুবিবাহ ও দাসীর দেহ
সওদা, আতিকা, উমরের স্ত্রী, উম্মে কুলসুম এবং দাসীদের ঘটনাগুলোর উৎস ও প্রমাণশক্তি এক নয়; কিন্তু প্রতিষ্ঠিত অংশগুলোতে একই ধরনের ক্ষমতাচর্চা বারবার ফিরে আসে। সওদার ক্ষেত্রে এক নারীর অনিবার্য বাইরে যাওয়া পুরুষের নজরদারি ও প্রকাশ্য মন্তব্যের অধীন হয়েছে। আতিকার ক্ষেত্রে স্ত্রীর মসজিদে যাওয়া উমরের অপছন্দ ছিল এবং সেই অপছন্দ তিনি সরাসরি প্রকাশ করতেন। নিজের স্ত্রীর ক্ষেত্রে “আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম” বক্তব্যকে তিনি বাহানা ধরে সহবাস করেন। অন্য নারীদের ক্ষেত্রে স্বামীর প্রতি “অবাধ্যতা”কে সমস্যা হিসেবে তুলে ধরে স্ত্রী প্রহারের অনুমতির পক্ষে হস্তক্ষেপ করেন। উম্মে কুলসুমের ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধির আগের একটি মেয়েকে বিবাহের জন্য পিতার প্রাথমিক আপত্তির পরও দাবি চালিয়ে যান। দাসীদের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আরও সরাসরি শারীরিক ও শ্রেণিভিত্তিক সহিংসতায় রূপ নেয়: আবৃত হলে প্রহার, আবরণ অপসারণ এবং স্বাধীন নারীর পোশাক গ্রহণে বাধা।
এই ঘটনাগুলোর সাধারণ সূত্র শুধু ব্যক্তিগত রক্ষণশীলতা নয়; অন্য মানুষের শরীর ও চলাচলের ওপর নিজের সিদ্ধান্ত চাপানোর প্রবণতা। নারী কোথায় যাবে, কীভাবে বাইরে যাবে, যৌন সম্পর্কে তার বক্তব্য কতটা গুরুত্ব পাবে, স্বামীর কর্তৃত্ব অমান্য করলে তার শরীরের ওপর বলপ্রয়োগ বৈধ হবে কি না, একটি শিশুর বৈবাহিক ভবিষ্যৎ কে নির্ধারণ করবে এবং দাসী নিজের শরীর কতটা ঢাকতে পারবে—প্রতিটি প্রশ্নেই নারীর ইচ্ছার চেয়ে পুরুষের দৃষ্টি, যৌন দাবি, পারিবারিক কর্তৃত্ব, রাজনৈতিক ক্ষমতা ও সামাজিক শ্রেণিবিন্যাসকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সামাজিক অবস্থান বদলেছে, কিন্তু নিয়ন্ত্রণের নীতি বদলায়নি।
এই ধারাবাহিকতার সবচেয়ে নগ্ন রূপ দাসীদের ক্ষেত্রে। স্বাধীন নারীকে আবরণ দিয়ে সম্মানযোগ্য শ্রেণির চিহ্ন দেওয়া হয়েছে, আর দাসী সেই আবরণ গ্রহণ করলে তাকে প্রহার করা হয়েছে। তার অনাবৃত মাথা, সীমিত সতর, অতিথিসেবা, কেনাবেচা এবং যৌন সম্পর্কে সম্মতির অপ্রাসঙ্গিকতা একই মালিকানা-নীতির অংশ: দাসী পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসনসম্পন্ন মানুষ নয়, অন্য মানুষের ব্যবহারের অধীন সম্পত্তি। উমর এই ব্যবস্থার নিষ্ক্রিয় উত্তরাধিকারী ছিলেন না; আবৃত দাসীকে প্রহার, অপমান ও আবরণ অপসারণের মাধ্যমে তিনি শ্রেণিসীমা নিজ হাতে কার্যকর করেছেন।
উপসংহার
উমর ইবনুল খাত্তাবের প্রচলিত মহিমান্বিত প্রতিকৃতির নিচে নারীর শরীর, চলাচল ও যৌনতার ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠাকারী এক নির্মম চরিত্র দেখা যায়। প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ করতে বের হওয়া সওদাকে প্রকাশ্যে শনাক্ত ও অপমান, স্ত্রীর মসজিদে যাওয়া নিয়ে বিরক্তি, নিজের স্ত্রীর বক্তব্যকে বাহানা ধরে সহবাস, নারীরা স্বামীদের “অবাধ্য” হচ্ছে বলে স্ত্রী প্রহারের অনুমতির পক্ষে হস্তক্ষেপ, বয়ঃসন্ধির আগের উম্মে কুলসুমকে বিবাহ এবং আবৃত দাসীকে প্রহার করে তার আবরণ সরিয়ে দেওয়া—এগুলো পরস্পর বিচ্ছিন্ন নৈতিক ভুল নয়। এগুলো নারীর ইচ্ছা ও শারীরিক স্বায়ত্তশাসনকে পুরুষের দাবি, ঈর্ষা, যৌন আকাঙ্ক্ষা, বৈবাহিক কর্তৃত্ব, বংশগত আকাঙ্ক্ষা ও সামাজিক শ্রেণিশাসনের নিচে রাখার পুনরাবৃত্ত আচরণ।
পর্দার ইতিহাস এই ক্ষমতার কাঠামোকে আরও স্পষ্ট করে। স্বাধীন নারীকে পুরুষের দৃষ্টি থেকে আড়াল করা হয়েছে, কিন্তু দাসীকে একই আবরণ গ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। নিজের শরীর ঢাকার চেষ্টা করলে তাকে মারধর করা হয়েছে, কারণ পোশাক এখানে শুধু শালীনতার বিষয় ছিল না; এটি সামাজিক অবস্থানের দৃশ্যমান চিহ্নও ছিল। স্বাধীন নারীর আবরণ সম্মান ও নিরাপত্তার সংকেত, দাসীর একই আবরণ শ্রেণিসীমা লঙ্ঘন। একই নারীদেহের মর্যাদা স্বাধীনতা ও মালিকানার অবস্থার সঙ্গে বদলে গেলে সেই ব্যবস্থা সার্বজনীন নৈতিকতা নয়; সেটি শ্রেণিগত আধিপত্য।
উমরের সাহাবি, খলিফা বা আমিরুল মুমিনিন পরিচয় এই কাজগুলোর নৈতিক প্রকৃতি বদলায় না। ক্ষমতাহীন নারীকে অপমান, স্ত্রীর যৌন বক্তব্য অগ্রাহ্য, স্ত্রী প্রহারের অনুমতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা, শিশুর ওপর বৈবাহিক ও যৌন অধিকার প্রতিষ্ঠা, দাসীর পোশাক কেড়ে নেওয়া এবং তার শরীরে সামাজিক অধস্তনতার চিহ্ন চাপিয়ে দেওয়া ন্যায়পরায়ণতার পরিচয় নয়। ইসলামি উৎসগুলোতে সংরক্ষিত এই আচরণগুলোর সামগ্রিক চিত্র নিষ্ঠুরতা, নারীবিদ্বেষ, শ্রেণিঘৃণা এবং ক্ষমতার চরম অপব্যবহার প্রকাশ করে। ধর্মীয় পদমর্যাদা সেই চরিত্রগত ধারাকে মুছে দেয় না।
তথ্যসূত্রঃ
- ইসলামকিউএ—সাহাবিদের ন্যায়পরায়ণতা সম্পর্কে মতবাদ ↩︎
- ইসলামওয়েব—সাহাবিদের সমালোচনা ধর্মদ্রোহিতা ও অবক্ষয় ↩︎
- ইসলামকিউএ—সাহাবিদের ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে সন্দেহকে ধর্মের ওপর আঘাত ঘোষণা ↩︎
- ইসলামকিউএ—সাহাবিরা নিষ্পাপ ছিলেন না ↩︎
- ইবনে কাসিরের তাফসির—সুরা আহজাব, আয়াত ৫৯ ↩︎
- তাফসির ইবনে কাসির—স্বাধীন নারী ও দাসীর পোশাকগত পার্থক্য ↩︎
- ইসলামকিউএ—স্বাধীন নারী ও দাসীর পর্দার পার্থক্য ↩︎
- ইসলামওয়েব—দাসীর সতর ও “যাতে তাদের চেনা যায়” আয়াতের ব্যাখ্যা ↩︎
- ইসলামওয়েব—দাসীদের নির্যাতন বৈধ নয় বলে ব্যাখ্যা ↩︎
- ইসলামে পর্দাপ্রথা; মুয়াবিয়ার নগ্ন দাসী ↩︎
- সহজ নসরুল বারী, শরহে সহিহ বুখারি, ৮ম খণ্ড, আরবি-বাংলা, সহজ তরজমা ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, মুহাম্মদ উসমান গনী, আল কাউসার প্রকাশনী, পৃষ্ঠা ২২১ ↩︎
- সহিহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস ৫৪৮৪ ↩︎
- সহিহ বুখারি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস ৪৪৩২ ↩︎
- সহিহ বুখারি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস ৫৮০৬ ↩︎
- সহিহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস ৫৪৮২ ↩︎
- সহিহ বুখারি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস ৪৮৫৭ ↩︎
- সহিহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, পঞ্চম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৮৭ ↩︎
- মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক—নারীদের জামাতে উপস্থিতি; ফাতহুল বারি—উমরের স্ত্রী আতিকার মসজিদে যাওয়া ↩︎
- আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া—বারো হিজরির ঘটনা ↩︎
- আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৫৩৩ ↩︎
- ইসলামওয়েব—আতিকা ও যুবায়েরের ঘটনার উৎস ও মান ↩︎
- শামেলা পাঠ-সংস্করণ—আল-ইসাবায় আতিকার বর্ণনা ↩︎
- তাফসীরে ইবনে কাসীর, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১১১ ↩︎
- সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস ১৯৮৫; মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদিস ৩২৬১ ↩︎
- ইসলামওয়েব—উম্মে কুলসুম বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানোর আগেই উমর তাকে বিবাহ করেন ↩︎
- Muhammad ibn Saad. Kitab al-Tabaqat al-Kabir Volume 8. Translated by Bewley, A. (1995). The Women of Madina. London: Ta-Ha Publishers. Page: 299, 300 ↩︎
- Muhammad ibn Jarir al-Tabari. Tarikh al-Rusul wa’l-Muluk. Translated by Juynboll, G. H. A. (1989). Volume 13: The Conquest of Iraq, Southwestern Persia, and Egypt, pp. 109-110. Albany: State University of New York Press. ↩︎
- হায়াতুস সাহাবাহ, মুহাম্মদ ইউসুফ ছাহেব কান্ধলভী, দারুল কিতাব, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২০৫-২০৬ ↩︎
- ইসলামকিউএ—অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে তার মতামত ছাড়াই বিবাহ দেওয়ার বিধান ↩︎
- কিতাব আল-সুনান আল-কুবরা, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২২৭; আলবানি, ইরওয়াউল গালীল, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ২০৪; দুরার আল-সানিয়াহ—আলবানির ইরওয়াউল গালীল ৬/২০৪-এর পাঠ ও সনদ-রায়; ইসলামকিউএ—উমরের দাসীদের বর্ণনা ↩︎
- দুরার আল-সানিয়াহ—আলবানি, ইরওয়াউল গালীল ৬/২০৪; ইসলামকিউএ—ইয়াহইয়া ইবনে সালামের পাঠ ও সনদ আলোচনা ↩︎
- তাফসির ইয়াহইয়া ইবনে সালাম-এর উদ্ধৃতি ও সনদ আলোচনা ↩︎
- দুরার আল-সানিয়াহ—আলবানি, ইরওয়াউল গালীল ৬/২০৪ ↩︎
- আল-সারাখসি, আল-মাবসুত, খণ্ড ৯, পৃ. ১২ ↩︎
- ইবনে আবিদীন, রদ্দুল মুহতার আলাদ দুররিল মুখতার, খণ্ড ১, দাসীর আওরাহ প্রসঙ্গ ↩︎
- ইসলামকিউএ—আবৃত দাসীকে উমরের প্রহার; ইসলামওয়েব—উমরের আছারগুলো সহিহ ↩︎
- আশরাফুল হিদায়া, ইসলামিয়া কুতুবখানা, নবম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬১৫ ↩︎
- তাফসীরে মাজহারী, নবম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৬৭ ↩︎
- ইসলামওয়েব—দাসীর সতর নিয়ে ফিকহি মতভেদ ↩︎
- ইসলামে ক্রীতদাসীর সতর: নাভি থেকে হাঁটু ↩︎
- সুনান আদ-দারাকুতনী, হাদিস ৮৬৩ ও ৮৬৪ ↩︎
- ইসলামকিউএ—দাসী বিক্রি ও যৌন ব্যবহারের বিধান ↩︎
- ইসলামওয়েব—দাসীর সম্মতি বিবেচ্য নয় ↩︎
- ইসলামওয়েব—বিবাহ, সাক্ষী ও মোহর ছাড়াই দাসীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক ↩︎
- ইসলামকিউএ—দাসী হওয়ার উৎস ও কেনাবেচা ↩︎
- ইসলামকিউএ—কাজের প্রয়োজনের নামে দাসীর কম আবরণ ↩︎

