Table of Contents
ভূমিকা
মানুষের মধ্যে গালাগালি বা অপমানজনক শব্দ ব্যবহার, তুচ্ছতাচ্ছিল্য কিংবা কটূক্তি সাধারণত মানুষের জমে থাকা রাগের বহিঃপ্রকাশ, কিংবা কিছু করতে না পেরে গালি দিয়ে কিছুটা মানসিক শান্তি পাওয়া বা রাগটি প্রশমনের উপায়। মানুষ যেহেতু আবেগপ্রবণ জীব, তার প্রয়োজন আছে এরকম গালাগালি করে নিজের রাগের প্রকাশ ঘটিয়ে কিছুটা মানসিক তৃপ্তি পাওয়ার। কিন্তু কিছু গালাগালি রয়েছে যা খুবই অসভ্য গালি, যা ব্যবহার করা কোন সভ্য মানুষের উচিত নয়। বিশেষ করে “মায়ের চরিত্র তুলে গালি দেয়া” কিংবা “জারজ” এর মতো শব্দ যা কারও জন্মপরিস্থিতিকে লক্ষ্য করে, তা চরম অমানবিক এবং অযৌক্তিক। এটি ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা বিষয়—যেমন পিতৃপরিচয় বা জন্মের প্রক্রিয়া—কে অস্ত্র করে তোলা, যা সমাজে ঘৃণা, বৈষম্য এবং মানসিক যন্ত্রণা সৃষ্টি করে। যুক্তির দৃষ্টিতে, কোনো ব্যক্তিকে তার কাজ, চরিত্র বা অবদানের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত, না কি জন্মের অজানা বা অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতির উপর। এই নিবন্ধে আমরা এই ধরনের অপমানের সমালোচনা করবো এবং পরীক্ষা করবো যে কীভাবে ধর্মীয় গ্রন্থসমূহ, যেমন কোরআন, অমুসলিমদের প্রতি অনুরূপ অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করে—যেমন তাদের “জারজ”, “নিকৃষ্টতম জীব” বা চিরকালীন লা’নতপ্রাপ্ত বলে বর্ণনা করে—যা কোনো প্রমাণিত যুক্তি বা দার্শনিক ভিত্তি ছাড়াই বিদ্বেষ ছড়ায়। মানুষে মানুষে বিভেদ এবং সাম্প্রদায়িকতার উন্মেষ ঘটায়। এই আলোচনায় আমরা ধর্মীয় টেক্সটগুলোকে পরীক্ষা করে দেখবে যে এগুলো কতটা মানবিক মূল্যবোধের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ।
জারজ বলে গালি
কাউকে “জারজ” বলা একটি ভয়াবহ অন্যায় ও অসভ্য আচরণ, কারণ এটি একটি মানব সন্তানের প্রতি মানুষ হিসেবে তার প্রতি সর্বোচ্চ অবমাননাকর মন্তব্য। যেকোনো মানুষের জন্ম তার নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে না; সে কখন, কোথায়, কাদের ঘরে জন্ম নেবে, সে সম্পর্কে তার কোনো হাত নেই। পিতৃপরিচয়হীন বা জন্মের কোনো সামাজিক ও প্রথাগত নিয়মের বাইরে জন্মগ্রহণ করলেও, সেই সন্তানের প্রতি অসম্মান বা গালি দেওয়া ন্যূনতম মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। এ ধরনের গালি সমাজে বৈষম্য, ঘৃণা এবং অসম্মানকে উস্কে দেয় এবং আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য অবমাননকর এক মানসিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। একজন মানুষ কেবল তার কাজ, চরিত্র ও মানবিক গুণাবলির জন্য মূল্যায়িত হওয়া উচিত, জন্মসূত্রে প্রাপ্ত পরিচয়ের জন্য নয়।
একটি শিশুর জন্ম তার বাবা-মায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে এবং কখনো কখনো তা পরিকল্পনার বাইরেও ঘটে। শিশুর জন্মের পেছনে কোনো অবস্থাতেই তার নিজস্ব ইচ্ছা বা কর্তৃত্ব নেই। তাই তাকে তার জন্মপরিস্থিতির জন্য অপমান করা অযৌক্তিক এবং মানবাধিকারের লঙ্ঘন। এ ধরনের শব্দ ব্যবহার কেবল সেই ব্যক্তির ওপর আঘাত হানে না; বরং এটি একটি অবজ্ঞাপূর্ণ সামাজিক মনোভাবের প্রতিফলন, যা ব্যক্তির আত্মমর্যাদা এবং মানসিক সুস্থতাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। সন্তানকে তার বাবা-মায়ের কর্মের জন্য দায়ী করা বা তার জন্মকে উপহাসের বিষয় বানানো, তার প্রতি অন্যায় এবং অপমান।
কাউকে ‘জারজ’ বলা বিশেষভাবে অমানবিক, কারণ এটি ব্যক্তি ও তার পারিবারিক পরিচয়কে আঘাত করে এবং তাকে সমাজের চোখে হেয় করে তোলে। যে সন্তান পিতৃপরিচয়হীন বা বৈধ বিবাহের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছে, তার প্রতি এই ধরনের আক্রমণ কোনোভাবেই তার প্রাপ্য নয়। এমন গালি প্রদান করা সামাজিক অসভ্যতা ও অন্যায়ের প্রতীক এবং এটি একজন মানুষ হিসেবে আমাদের সম্মানবোধ ও নৈতিক দায়িত্বের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ। এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা শুধু একজন মানুষকেই নয়, পুরো মানবতার বিরুদ্ধে অন্যায় করছি। তাই কাউকে ‘জারজ’ বলা শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির সম্মানহানিই নয়, বরং এটি মানবিক মূল্যবোধের চরম লঙ্ঘন। এমন অমানবিক আচরণ পরিহার করে আমাদের উচিত মানুষকে তার জন্ম বা পারিবারিক পটভূমি নয়, বরং তার কাজ এবং মানবিক গুণাবলির ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা।
ইসলাম ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআনে বহু জায়গাতে অমুসলিমদের নানাভাবে গালাগালি করা হয়েছে। এই অংশে আমরা শুধু এই বিশেষ গালিটি নিয়েই আলোচনা করছি। কোরআনে কাফেরদের সম্পর্কে জারজ বলে একটি জায়গাতে গালি দেয়া হয়েছে। কোরআনের সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য অনুবাদে এই শব্দটিই ব্যবহৃত হয়েছে [1]
কঠোর স্বভাব, তার উপরে আবার কুখ্যাত।
Taisirul Quran
রূঢ় স্বভাব এবং তদুপরি কুখ্যাত।
Sheikh Mujibur Rahman
দুষ্ট প্রকৃতির, তারপর জারজ।
Rawai Al-bayan
রূঢ় স্বভাব (১) এবং তদুপরি কুখ্যাত (২);
Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

এই বিষয়ে তাফসীরে ইবনে কাসীরে যা বলা হয়েছে, [2]
ইকরামা (রঃ) বলেন যে, জারজ সন্তান উদ্দেশ্য। এটাও বর্ণিত আছে যে, কর্তিত কান বিশিষ্ট বকরী, যে কান তার গলদেশে ঝুলতে থাকে, এরূপ বকরীকে যেমন পালের মধ্যে সহজেই চেনা যায় ঠিক তেমনই মুমিনকে কাফির হতে সহজেই পৃথক করা যায়। এ ধরনের আরো বহু উক্তি রয়েছে। কিন্তু সবগুলোরই সারমর্ম হলো এই যে, (আরবি) হলো ঐ ব্যক্তি যে কুখ্যাত এবং যার সঠিক নসবনামা এবং প্রকৃত পিতার পরিচয় জানা যায় না। এ ধরনের লোকদের উপর শয়তান খুব বেশী জয়যুক্ত হয় এবং তাদের উপর প্রভাব বিস্তার করে থাকে। যেমন হাদীসে এসেছেঃ “জারজ সন্তান জান্নাতে প্রবেশ করবে না। অন্য এক হাদীসে আছেঃ জারজ সন্তান তিনজন মন্দ লোকের একজন, যদি সেও তার পিতা-মাতার মত আমল করে।”
আসুন সরাসরি এবারে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তাফসীরে ইবনে কাসীর গ্রন্থ থেকে এই আয়াতটির তাফসীরের অংশ বিশেষ পড়ি, [3]

নিকৃষ্ট জীব বলে গালি
কোরআনে অমুসলিমদের নিকৃষ্টতম জীব বলে গালাগালি করা হয়েছে। সেইসাথে এই কথাও বলা হয়েছে যে, [4]
কিতাবধারীদের মধ্যে যারা কুফুরী করে তারা আর মুশরিকরা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। এরাই সৃষ্টির অধম।
— Taisirul Quran
কিতাবীদের মধ্যে যারা কুফরী করে তারা এবং মুশরিকরা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে; তারাই সৃষ্টির অধম।
— Sheikh Mujibur Rahman
নিশ্চয় কিতাবীদের মধ্যে যারা কুফরী করেছে ও মুশরিকরা, জাহান্নামের আগুনে থাকবে স্থায়ীভাবে। ওরাই হল নিকৃষ্ট সৃষ্টি।
— Rawai Al-bayan
নিশ্চয় কিতাবীদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে তারা এবং মুশরিকরা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে; তারাই সৃষ্টির অধম [১]।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
এবারে আসুন এই আয়াতটির তাফসীরগুলো পড়ে নিই, যেখানে পরিষ্কারভাবে বলা হচ্ছে, নবীকে নবী হিসেবে মেনে না নিলে তাড়াই ইসলামের দৃষ্টিতে সবচাইতে নিকৃষ্টতম জীব! [5] [6] [7] [8] –





আসুন একজন আলেমের বক্তব্য শুনি, এরপরে কোরআনের আয়াতগুলো পড়ি,
কিতাবধারীদের মধ্যে যারা কুফুরী করে তারা আর মুশরিকরা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। এরাই সৃষ্টির অধম।
— Taisirul Quran
কিতাবীদের মধ্যে যারা কুফরী করে তারা এবং মুশরিকরা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে; তারাই সৃষ্টির অধম।
— Sheikh Mujibur Rahman
নিশ্চয় কিতাবীদের মধ্যে যারা কুফরী করেছে ও মুশরিকরা, জাহান্নামের আগুনে থাকবে স্থায়ীভাবে। ওরাই হল নিকৃষ্ট সৃষ্টি।
— Rawai Al-bayan
নিশ্চয় কিতাবীদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে তারা এবং মুশরিকরা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে; তারাই সৃষ্টির অধম [১]।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
– কুরআন ৯৮ঃ৬
যারা কুফরী করে আল্লাহর নিকট তারাই নিকৃষ্টতম জীব, অতঃপর আর তারা ঈমান আনবে না।
— Taisirul Quran
নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট নিকৃষ্ট জীব তারাই যারা কুফরী করে এবং যারা ঈমান আনেনা।
— Sheikh Mujibur Rahman
নিশ্চয় আল্লাহর নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট প্রাণী তারা, যারা কুফরী করে, অতঃপর ঈমান আনে না।
— Rawai Al-bayan
বিচরণকারী প্রাণীদের মধ্যে তারাই তো আল্লাহ্র কাছে নিকৃষ্ট, যারা কুফরী করেছে। সুতরাং তারা ঈমান আনবে না।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
– কোরআন ৮:৫৫
নিশ্চয় যারা কাফির এবং কাফের অবস্থাতেই মারা যায়, এমন লোকেদের প্রতি আল্লাহর, ফেরেশতাদের এবং সকল মানুষের অভিসম্পাত।
— Taisirul Quran
যারা অবিশ্বাস করেছে ও অবিশ্বাসী অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছে, নিশ্চয়ই তাদের উপর আল্লাহর মালাক/ফেরেশতা এবং মানবকূলের সবারই অভিসম্পাত।
— Sheikh Mujibur Rahman
নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে এবং কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের উপর আল্লাহ, ফেরেশতাগণ ও সকল মানুষের লা’নত।
— Rawai Al-bayan
নিশ্চয়ই যারা কুফর করেছে এবং কাফির অবস্থায় মারা গেছে, তাদের উপর আল্লাহ্, ফেরেশতাগণ ও সকল মানুষের লা’নত।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
– কোরআন ২:১৬১
আল্লাহ মু’মিনদের অভিভাবক, তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং কাফিরদের অভিভাবক হচ্ছে তাগুত, সে তাদেরকে আলো থেকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। এরাই আগুনের বাসিন্দা, এরা চিরকাল সেখানে থাকবে।
— Taisirul Quran
আল্লাহই হচ্ছেন মু’মিনদের অভিভাবক। তিনি তাদেরকে অন্ধকার হতে আলোর দিকে নিয়ে যান; আর যারা অবিশ্বাস করেছে তাগুত তাদের পৃষ্ঠপোষক, সে তাদেরকে আলো হতে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়, তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, ওখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে।
— Sheikh Mujibur Rahman
যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ তাদের অভিভাবক, তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। আর যারা কুফরী করে, তাদের অভিভাবক হল তাগূত। তারা তাদেরকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারে নিয়ে যায়। তারা আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে।
— Rawai Al-bayan
আল্লাহ্ তাদের অভিভাবক যারা ঈমান আনে, তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোতে নিয়ে যান। আর যারা কুফরী করে তাগূত তাদের অভিভাবক, এরা তাদেরকে আলো থেকে অন্ধকারে নিয়ে যায় [১]। তারাই আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
– কোরআন ২-২৫৭
কাফেরদিগকে বলে দিন, খুব শিগগীরই তোমরা পরাভূত হয়ে দোযখের দিকে হাঁকিয়ে নীত হবে-সেটা কতই না নিকৃষ্টতম অবস্থান। [9]
কোরআন ৩-১২
বলুন, আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য প্রকাশ কর। বস্তুতঃ যদি তারা বিমুখতা অবলম্বন করে, তাহলে আল্লাহ কাফেরদিগকে ভালবাসেন না। [10]
কোরআন ৩-৩২
আর আমি সৃষ্টি করেছি দোযখের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না, আর তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ। [11]
কোরআন ৭:১৭৯
অতএব যারা কাফের হয়েছে, তাদেরকে আমি কঠিন শাস্তি দেবো দুনিয়াতে এবং আখেরাতে-তাদের কোন সাহায্যকারী নেই। [12]
কোরআন ৩-৫৬
যাতে ধবংস করে দেন কোন কোন কাফেরকে অথবা লাঞ্ছিত করে দেন-যেন ওরা বঞ্চিত হয়ে ফিরে যায়। [13]
কোরআন ৩-১২৭
খুব শীঘ্রই আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করবো। কারণ, ওরা আল্লাহ্র সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করে যে সম্পর্কে কোন সনদ অবতীর্ণ করা হয়নি। আর ওদের ঠিকানা হলো দোযখের আগুন। বস্তুত: জালেমদের ঠিকানা অত্যন্ত নিকৃষ্ট। [14]
কোরআন ৩-১৫১
আসুন তা জেনে নিই সর্বাপেক্ষ গ্রহণযোগ্য তাফসীর গ্রন্থে এই আয়াতগুলোর ব্যাখ্যাতে কী বলা রয়েছে। আসুন পড়ি ইবনে কাসীর [15] থেকে,

উপসংহার
প্রশ্ন হচ্ছে, আল্লাহ তো মানবীয় সকল অনুভূতির উর্ধ্বে। মানুষের রাগ হিংসা বিদ্বেষ, রাগ প্রশমনের জন্য গালাগালি, এসবই মানুষের সীমাবদ্ধ সত্ত্বা হওয়ার ফলাফল। আল্লাহর তো সেইসব সীমাবদ্ধতা থাকার কথা না। কোরআনের বিভিন্ন আয়াত এবং তাফসীরসমূহ থেকে স্পষ্ট হয় যে অমুসলিমদের প্রতি ব্যবহৃত ভাষা—যেমন তাদের “জারজ”, “নিকৃষ্ট জীব”, “শয়তানের প্রভাবিত” বা “জাহান্নামের চিরকালীন বাসিন্দা” বলে বর্ণনা—কোনো যুক্তিভিত্তিক সমালোচনা নয়, বরং বিদ্বেষের প্রকাশ। এই ধরনের বর্ণনা না শুধু অমুসলিমদের অপমান করে, বরং মানবতার মৌলিক নীতি যেমন সমতা, সহানুভূতি এবং প্রমাণভিত্তিক চিন্তাকে লঙ্ঘন করে। যুক্তি ও দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে, ধর্মীয় গ্রন্থসমূহের এই অংশগুলোকে অন্ধবিশ্বাসের উদাহরণ হিসেবে দেখা উচিত, যা সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে এবং মুক্তচিন্তাকে দমিয়ে রাখে। ধর্ম নয়, মানুষের কাজই হওয়া উচিত মানুষকে মূল্যায়নের মাপকাঠি। আমাদের সকলকে কাজের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা এবং প্রমাণিত যুক্তির উপর ভিত্তি করে বিশ্বাস গড়ে তোলা দরকার, যাতে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো অপমান বা বিদ্বেষের স্থান না থাকে।
তথ্যসূত্রঃ
- কোরআন ৬৮ঃ১৩ ↩︎
- তাফসির ইবনে কাছের রহ, ৮-১৬ নং আয়াতের তাফসীর ↩︎
- তাফসীরে ইবনে কাসীর, খণ্ড ১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, পৃষ্ঠা ২২৫ ↩︎
- কোরআন ৯৮ঃ৬ ↩︎
- তাফসীরে জালালাইন, ৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৩৮ ↩︎
- তাফহীমুল কোরআন, সাইয়েদ আবু আলা মওদুদী, ১৯তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৯০ ↩︎
- তাফসীরে জাকারিয়া, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৮৬৪ ↩︎
- তাফসীরে ওসমানী, ৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪১৬, ৪১৭ ↩︎
- কোরআন ৩:১২ ↩︎
- কোরআন ৩:৩২ ↩︎
- কোরআন ৭:১৭৯ ↩︎
- কোরআন ৩:৫৬ ↩︎
- কোরআন ৩:১২৭ ↩︎
- কোরআন ৩:১৫১ ↩︎
- তাফসীরে ইবনে কাসীর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৪৮১ ↩︎
