Table of Contents
- 1 সারসংক্ষেপ
- 2 ভূমিকা
- 3 ইব্রাহিমীয় মিথলজি: একটি আদিম প্রথার ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক উৎস
- 4 পুরুষ খৎনা বনাম নারী খৎনা (FGM/C)
- 5 ধর্ম, পরিচয় ও “পরিচ্ছন্নতা” যুক্তির অযৌক্তিকতা
- 6 শিশুর খৎনাঃ শারীরিক ঝুঁকি, সম্ভাব্য মানসিক প্রভাব
- 7 সম্ভাব্য স্বাস্থ্য-সুবিধাঃ সীমিত, প্রেক্ষাপটনির্ভর এবং যথেষ্ট শক্ত নয়
- 8 “অ্যাক্সেস/পছন্দ” বনাম “রুটিন জরুরি” — এক জিনিস নয়
- 9 সম্মতি, শারীরিক অখণ্ডতা ও শিশু অধিকার (UNCRC ফ্রেমওয়ার্ক)
- 10 উপসংহার
সারসংক্ষেপ
এই প্রবন্ধে শিশুদের পুরুষ খৎনা (male circumcision) এবং নারী খৎনা বা নারী জননাঙ্গচ্ছেদন (FGM/C) কে ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস এবং কুসংস্কারমূলক প্রথা হিসেবে যুক্তি ও প্রমাণের আলোকে সমালোচনা করা হয়েছে। এই প্রথাগুলো স্বাস্থ্যঝুঁকি, মানসিক আঘাত এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে জড়িত, যা কোনো যুক্তিভিত্তিক প্রমাণ দিয়ে সমর্থনযোগ্য নয়। মানবাধিকার কর্মীদের বহু বছরের সংগ্রামের ফলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) FGM/C কে “কোনো স্বাস্থ্যগত সুবিধাহীন, ক্ষতিকর এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন” হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে, কিন্তু পুরুষ খৎনাকেও অনুরূপভাবে দেখা উচিত কারণ এর কথিত সুবিধাগুলো (যেমন শৈশবে UTI ঝুঁকি সামান্য কমা) সীমিত, প্রেক্ষাপটনির্ভর এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয়, যা শিশুর সম্মতি এবং শারীরিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করে। সার্বজনীন খৎনা অত্যন্ত ক্ষতিকর কারণ এটি অপরিবর্তনীয় অঙ্গচ্ছেদ, সম্মতিহীন এবং ধর্মীয় কুসংস্কারের দ্বারা চালিত, যা আধুনিক চিকিৎসা এবং নৈতিকতার সাথে সাংঘর্ষিক। প্রবন্ধটি WHO, UNCRC, বড় চিকিৎসা সংস্থা এবং ধর্মীয় দলিলের দুর্বলতা বিশ্লেষণ করে একটি যুক্তিভিত্তিক, ক্রিটিকাল বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে। [1]
কী-শব্দ: Body autonomy, Child rights, UNCRC, Male circumcision, FGM/C, Medical ethics, Consent
ভূমিকা
সভ্যতার অগ্রগতির সাথে বহু অন্ধবিশ্বাসী প্রথা বিলুপ্ত হয়েছে, কিন্তু ধর্মীয় কুসংস্কারের সাথে জড়িত কিছু চর্চা—যেমন শিশুর শরীরে অপরিবর্তনীয় অঙ্গচ্ছেদ—এখনও টিকে আছে, যা যুক্তিহীন এবং ক্ষতিকর। শিশু খৎনা, পুরুষ বা নারী, এই অন্ধবিশ্বাসের প্রতীক, কারণ এখানে সিদ্ধান্ত নেয় অভিভাবক বা সমাজের ধর্মীয় কর্তৃত্ব, না যে শিশুর শরীর লঙ্ঘিত হয়। এই প্রথাগুলো কোনো প্রমাণভিত্তিক যুক্তি ছাড়াই চালু রাখা হয়, যা শিশুর অধিকারকে পদদলিত করে। ধর্মীয় অন্ধত্ব এবং সামাজিক চাপের কারণে এগুলো চলমান, কিন্তু যুক্তি এবং বিজ্ঞানের আলোকে এগুলো অগ্রহণযোগ্য। আধুনিক নৈতিকতায় শিশুর শারীরিক স্বায়ত্তশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়, এবং খৎনা এটিকে সরাসরি লঙ্ঘন করে। এই প্রবন্ধে আমরা দেখব কীভাবে এই প্রথাগুলো ধর্মীয় কুসংস্কারের উপজাত, এবং কেন এগুলোকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করা উচিত। [2]
এ প্রবন্ধের মূল প্রশ্ন তিনটি:
- স্বাস্থ্যগত প্রমাণ—শিশু খৎনার কথিত লাভগুলো কতটা যুক্তিহীন এবং ক্ষতি কতটা গুরুতর? এখানে আমরা দেখব যে ধর্মীয় যুক্তি দিয়ে সমর্থিত কথিত সুবিধাগুলো আসলে সীমিত এবং অপ্রয়োজনীয়, যখন ক্ষতি অপরিসীম।
- সম্মতি ও অধিকার—অপরিবর্তনীয় অঙ্গচ্ছেদ শিশুর শারীরিক স্বায়ত্তশাসনকে কীভাবে লঙ্ঘন করে? এটি শিশুর মৌলিক অধিকারকে উপেক্ষা করে, যা ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাসের ফলে ঘটে।
- ধর্মীয় দলিল বনাম আধুনিক নৈতিকতা—দুর্বল ধর্মীয় টেক্সট কি শিশুর অধিকারকে সীমিত করার অজুহাত হতে পারে? এখানে আমরা দেখব যে ধর্মীয় দলিলগুলো প্রায়শই দুর্বল বা বিতর্কিত, এবং যুক্তির সামনে টিকতে পারে না।
ইব্রাহিমীয় মিথলজি: একটি আদিম প্রথার ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক উৎস
ইসলামিক এবং ইহুদি ধর্মীয় বিশ্বাসে খৎনা বা লিঙ্গাগ্রচর্মচ্ছেদনের প্রথাটি সরাসরি নবী ইব্রাহিমের সাথে যুক্ত করা হয়, যা মূলত একটি প্রাচীন মিথ বা পৌরাণিক কাহিনীর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এই মিথ অনুসারে, খৎনা কোনো বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা প্রক্রিয়া নয়, নয় কোন জরুরি শারীরিক অসুস্থতার জন্য গ্রহণ করা কোন পুরনো চিকিৎসা পদ্ধতি, বরং এটি একটি রক্তাক্ত ‘চুক্তি’ বা স্যাক্রিফাইসিয়াল রিচুয়ালের প্রতীক, যা ঈশ্বর এবং মানুষের মধ্যে একটি অদৃশ্য বন্ধন স্থাপন করার দাবি করে। যুক্তির দৃষ্টিতে এটি একটি আদিম যুগের অন্ধবিশ্বাসের অবশিষ্টাংশ, যা শারীরিক ক্ষতির মাধ্যমে আনুগত্য প্রমাণের একটি প্রথা। এই কাহিনীগুলো প্রমাণ করে যে, ধর্মীয় টেক্সটগুলো প্রায়শই ঐতিহাসিক সত্যতা ছাড়াই গড়ে উঠেছে, এবং এগুলোকে অন্ধভাবে অনুসরণ করা মানবিক যুক্তি এবং নৈতিকতার লঙ্ঘন।
একইসাথে, এই পৌরাণিক গল্প এটিও প্রমাণ করে যে, কোন স্বাস্থ্য সুবিধা পাওয়া বা কোন রোগ থেকে নিরাপত্তা পাওয়া এই কাজটির ধর্মীয় উদ্দেশ্য নয়। বরঞ্চ উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহ যা বলেছেন তা অন্ধভাবে মেনে নিয়ে নিঃশর্তভাবে আনুগত্য করা।
ইব্রাহিমের খৎনা: বার্ধক্যে স্বহস্তে অঙ্গহানি এবং তার যৌক্তিক অসারতা
ইসলামিক হাদিস এবং বাইবেলের বর্ণনা অনুসারে, ইব্রাহিম ৯৯ বছর বয়সে ঈশ্বরের নির্দেশে নিজের খৎনা করেছিলেন, যা একটি অত্যন্ত অবিশ্বাস্য এবং ভয়ঙ্কর ঘটনা হিসেবে চিত্রিত হয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে যে, তিনি একটি ‘কাদুম’ বা অ্যাডজ (এক ধরনের কুঠার বা ধারালো যন্ত্র) ব্যবহার করে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন, যা আধুনিক চিকিৎসার দৃষ্টিতে একটি চরম আত্ম-পীড়নমূলক কাজ। এই বয়সে, অ্যানেস্থেসিয়া, অ্যান্টিবায়োটিক বা সার্জিকাল সরঞ্জাম ছাড়া একজন বৃদ্ধ মানুষের স্বহস্তে তার স্পর্শকাতর জননাঙ্গের চর্মচ্ছেদন করা শুধুমাত্র শারীরিকভাবে অসম্ভব নয়, বরং এটি সংক্রমণ, রক্তক্ষরণ এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বহন করে। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণে এটিকে ‘অটল বিশ্বাস’ বা ঈমানের পরীক্ষা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, কিন্তু যৌক্তিকভাবে দেখলে এটি একটি মিথমাত্র, যা প্রাচীন সমাজের বলিদান সংস্কৃতির অংশ। এই কাহিনী পরবর্তীকালে পুরো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য বাধ্যতামূলক হয়ে ওঠে, যা শিশুদের উপর অপ্রয়োজনীয় ক্ষতি চাপিয়ে দেয়—যুক্তি বলে যে, যদি ঈশ্বর সর্বজ্ঞ হয়, তাহলে কেন তিনি এমন একটি প্রথা আদেশ করবেন যা শারীরিক যন্ত্রণা এবং ঝুঁকি বাড়ায়, এবং যার কোনো প্রমাণভিত্তিক স্বাস্থ্যগত লাভ নেই? তিনি চাইলে তো মানুষ জন্ম থেকেই লিঙ্গের অগ্রভাগ ছাড়াই জন্ম নিতো। এটি প্রমাণ করে যে, এই মিথগুলো মানুষের তৈরি, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে আবদ্ধ, এবং আধুনিক যুগে অপ্রাসঙ্গিক। আসুন বাইবেল থেকে দেখা নিই, [3]

এবারে আসুন ইসলামিক রেফারেন্সগুলো দেখি, [4] [5] [6]
সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৬৬/ অনুমতি চাওয়া
পরিচ্ছেদঃ ২৬১১. বয়োঃপ্রাপ্তির পর খাতনা করা এবং বগলের পশম উপড়ানো
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ৫৮৬১ , আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৬২৯৮
৫৮৬১। আবূল ইয়ামান (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) আশি বছর বয়সের পর কাদূম ’নামক’ স্থানে নিজেই নিজের খাতনা করেন। কুতায়বা (রহঃ) আবূয যিনাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ’কাদ্দুম’ একটি স্থানের নাম।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা
পরিচ্ছেদঃ ৭৯/৫১. বয়োঃপ্রাপ্তির পর খাতনা করা এবং বগলের পশম উপড়ানো
৬২৯৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইব্রাহীম (আঃ) আশি বছর বয়সের পর ’কাদূম’ নামক স্থানে নিজেই নিজের খাতনা করেন।
কুতাইবাহ (রহ.) আবুয যিনাদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ’কাদ্দুম’ একটি জায়গার নাম। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৫৪, ৫৮৫৩ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭১৮)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

একটি গোত্রীয় পরিচয় ও শারীরিক চিহ্ন: আদিম সংস্কৃতির অবশিষ্টাংশ
আব্রাহামিক মিথ অনুসারে, খৎনা ইব্রাহিমের বংশধরদের জন্য একটি বিশেষ চিহ্ন ছিল, যা তাদের অন্যান্য গোত্র বা পৌত্তলিকদের থেকে আলাদা করত। এটি মূলত একটি ‘ট্রাইবাল আইডেন্টিটি’ বা গোত্রীয় পরিচয়ের স্থায়ী ছাপ, যা প্রাচীন সমাজে দাস বা পশুদের গায়ে চিহ্ন দেওয়ার মতোই। নামে বা কানে ফুটো করে দেয়া, পিঠে গরম লোহার ছ্যাকা দিয়ে মালিকের নাম লিখে দেয়া, এগুলো মধ্যযুগ পর্যন্ত দাসদাসীদের মালিকানা প্রতিষ্ঠার জন্যে ব্যবহৃত হতো। ভেড়ার আসল মালিক কে, অন্য ভেড়ার সাথে মিশে যাওয়ার ভীতি থেকে এসব সংস্কৃতি বিকশিত হয়। প্রাচীন আরব বা সেমিটিক সংস্কৃতিতে এমন প্রথা বিদ্যমান ছিল, যেখানে শরীরের উপর ক্ষত তৈরি করে আনুগত্য বা সদস্যতা প্রমাণ করা হতো। যুক্তির দৃষ্টিতে এটি একটি অন্ধবিশ্বাসমূলক প্রথা, কারণ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর কেন মানুষকে অপূর্ণভাবে সৃষ্টি করবেন যাতে পরবর্তীতে একটি অপ্রয়োজনীয় অঙ্গ অপসারণ করতে হয়? এই প্রশ্নের কোনো যৌক্তিক উত্তর ধর্মীয় টেক্সট দিতে পারে না; বরং এটি দেখায় যে, খৎনা একটি গোত্রীয় সংস্কৃতির উপজাত, যা ধর্মীয় আবরণে আধুনিক যুগ পর্যন্ত টেনে আনা হয়েছে। এমন চিহ্ন যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে কেন এটি গোপনাঙ্গে—যা শুধুমাত্র যৌনতা এবং নিয়ন্ত্রণের সাথে যুক্ত? এটি প্রমাণ করে যে, এই প্রথা যৌনতা দমন এবং সামাজিক নিয়ন্ত্রণের একটি হাতিয়ার, যা যুক্তিভিত্তিক চিন্তায় অগ্রহণযোগ্য।
নারীর খৎনার পৌরাণিক যোগসূত্র: লোকগাথা এবং নারীবিরোধী অন্ধবিশ্বাস
যদিও ইব্রাহিমের মূল কাহিনীতে পুরুষ খৎনার উল্লেখ বেশি, তবে কিছু ইসলামিক বর্ণনায় নারীর খৎনার সূত্রপাতকে সারাহ এবং হাজেরার (ইব্রাহিমের দুই স্ত্রী) মধ্যকার রেষারেষির সাথে যুক্ত করা হয়। ঐতিহাসিক সূত্রগুলো অনুসারে, সারাহ ক্রোধবশত হাজেরার কোনো অঙ্গ ছেদ করার শপথ করেছিলেন, এবং পরবর্তীতে তার ভগাঙ্কুরের অগ্রভাগ সামান্য কেটে সেই শপথ রক্ষা করা হয়। এই কাহিনী আরব সমাজে নারীর খৎনাকে ধর্মীয় আবরণ দিতে সহায়তা করেছে। যুক্তির দৃষ্টিতে এটি একটি নারীবিরোধী মিথ, যা নারীর যৌনতা দমন এবং পুরুষকেন্দ্রিক নিয়ন্ত্রণের উপজাত। এই লোকগাথাগুলো দেখায় যে, নারীর খৎনা কোনো ঐশ্বরিক আদেশ নয়, বরং সামাজিক রেষারেষি এবং অন্ধবিশ্বাসের ফল, যা আধুনিক যুগে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত। এটি প্রশ্ন তোলে যে, যদি ধর্ম নারীর প্রতি সমান ন্যায়বিচার করে, তাহলে কেন এমন একটি প্রথা চালু রাখা হয় যা নারীর যৌন সুখ এবং স্বাস্থ্যকে ধ্বংস করে? [7]। ইসলামের এই নারীর খৎনা প্রথার সুচনা কীভাবে হয়েছিল, তা ইসলামিক দলিল থেকে জেনে নেয়া যাক, [8]

ইসলামে নারীর খৎনা [9] একটি ধর্মীয় বিধান। হাদিস থেকে জানা যায়, নারীর খৎনার সময় বেশী গভীর করে কাটতে নিষেধ করেছেন নবী, কারণ বেশি গভীর করে কেটে ফেললে স্বামীরা আর সেক্স করে আনন্দ পাবে না। অর্থাৎ নারীর খৎনা ইসলামে অনুমোদিত এবং এটি করার নির্দেশনাও দেয়া আছে।
সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
পাবলিশারঃ আল্লামা আলবানী একাডেমী
অধ্যায়ঃ ৩৬/ শিষ্টাচার
পরিচ্ছদঃ ১৮০. খাতনা করা সম্পর্কে
৫২৭১। উম্মু ‘আতিয়্যাহ আল-আনসারী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। মদীনাতে এক মহিলা খাতনা করতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি গভীর করে কাটবে না। কারণ তা মেয়েলোকের জন্য অধিকতর আরামদায়ক এবং স্বামীর জন্য অতি পছন্দনীয়। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রহঃ) থেকে আব্দুল মালিক (রহঃ) সূত্রে একই অর্থে ও সনদে এটি বর্ণিত হয়েছে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, হাদীসটির সনদ দুর্বল।(1)
সহীহ।
(1). বায়হাক্বী।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
অর্থাৎ ইসলামের বিধান অনুসারে, নারীদেরও খৎনা করা উচিত। আসুন শায়খ আহমদুল্লাহর বক্তব্য শুনে নিই,
এবারে আসুন শ্রেষ্ঠতম মুহাদ্দিস আল্লামা আলবানীর একটি ফতোয়া পড়ে নিই [10]

যৌক্তিক অসারতা ও মিথলজির প্রভাব: আধুনিক যুগে একটি বিড়ম্বনা
ইব্রাহিমীয় এই মিথলজি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, খৎনা প্রথাটি মূলত একটি আদিম বলিদান সংস্কৃতির অবশিষ্টাংশ, যা শারীরিক ক্ষতির মাধ্যমে ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্য প্রমাণের একটি পদ্ধতি। আধুনিক মানুষ যখন একটি শিশুকে খৎনা করে, সে আসলে কোনো স্বাস্থ্যগত বা যৌক্তিক কারণে নয়, বরং হাজার বছর আগের একটি পৌরাণিক কাহিনীর পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে তার সন্তানের শরীরকে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বিজ্ঞানের যুগে এসেও এই মিথগুলোকে পবিত্র জ্ঞান করা এবং ‘কুঠারের সংস্কৃতি’কে অনুসরণ করা সভ্য সমাজের জন্য একটি বড় বিড়ম্বনা। যুক্তি বলে যে, যদি এই প্রথা ঐশ্বরিক হয়, তাহলে কেন এটি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীতে সীমাবদ্ধ, এবং কেন বিজ্ঞান এর কোনো সার্বজনীন লাভ প্রমাণ করতে পারে না? এটি প্রমাণ করে যে, ধর্মীয় মিথগুলো মানুষের তৈরি অন্ধবিশ্বাস, যা মুক্তচিন্তা এবং দার্শনিক বিচারে প্রত্যাখ্যান করা উচিত, না হলে এটি শিশুর অধিকার লঙ্ঘনের একটি চক্র চালু রাখবে। [11] [12]
পুরুষ খৎনা বনাম নারী খৎনা (FGM/C)
পুরুষ খৎনা (Male circumcision)
পুরুষ খৎনা হলো লিঙ্গের অগ্রচর্ম (foreskin/prepuce) আংশিক বা সম্পূর্ণ অপসারণের একটি সার্জিকাল প্রক্রিয়া। নৃতাত্ত্বিকভাবে এটি বহু সমাজে পরিচয়, পবিত্রতা বা সামাজিক রীতির অংশ হিসেবেও দেখা যায়—শুধু চিকিৎসাগত নয়। [13]
তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে “অপ্রয়োজনীয় কাটাছেঁড়া” সাধারণভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়, কারণ যেকোনো সার্জারিতেই (১) রক্তপাত/ইনফেকশন/জটিলতা, (২) ব্যথা ও অ্যানেস্থেশিয়া-ঝুঁকি, (৩) অনিচ্ছাকৃত টিস্যু-ক্ষতি, এবং (৪) “iatrogenic harm”—অর্থাৎ চিকিৎসা থেকেই ক্ষতি—এর সম্ভাবনা থাকে। তাই আধুনিক evidence-based medicine–এর মূল নীতি হলো: স্পষ্ট চিকিৎসাগত প্রয়োজন না থাকলে প্রথমে কম-আক্রমণাত্মক/রক্ষণশীল বিকল্প বেছে নেওয়া, এবং ঝুঁকি-লাভের ভারসাম্য প্রমাণ দিয়ে দেখানো। এই নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখেই “Choosing Wisely” ধরনের উদ্যোগগুলো অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-চিকিৎসা/প্রসিডিউর কমানোর কথা বলে—কারণ লাভ না থাকলে ঝুঁকি নেওয়ার নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়। [14]
এই প্রেক্ষাপটে শিশুদের “নন-থেরাপিউটিক” (চিকিৎসাগত জরুরি নয় এমন) খৎনা বিশেষভাবে বিতর্কিত—কারণ এটি শরীরে অপরিবর্তনীয় পরিবর্তন আনে, অথচ শিশুর নিজস্ব সম্মতি থাকে না। ইউরোপের কিছু চিকিৎসা-নৈতিক অবস্থান (যেমন ডাচ KNMG) একে শিশুর শারীরিক অখণ্ডতা/অধিকারের সাথে সংঘর্ষপূর্ণ বলে বিবেচনা করে। [15]
আর “মেডিকেল প্রয়োজন” যুক্তি দেখালেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে প্রথম পছন্দ সার্জারি নয়। যেমন শিশুদের ফিমোসিসের বড় অংশ বয়সের সাথে স্বাভাবিকভাবেই কমে, এবং উপসর্গযুক্ত ক্ষেত্রে ইউরোলজি গাইডলাইনগুলো টপিকাল কর্টিকোস্টেরয়েডকে প্রথম সারির চিকিৎসা হিসেবে সুপারিশ করে; সার্জারি পরে বিবেচ্য হতে পারে। [16] যুক্তরাজ্যের NHS-এর Evidence-Based Interventions গাইডেন্সও শিশুদের ক্ষেত্রে খৎনা মূলত নির্দিষ্ট চিকিৎসাগত নির্দেশনা থাকলেই প্রাসঙ্গিক—ধর্মীয়/সাংস্কৃতিক কারণকে তারা মেডিকেল ইন্ডিকেশনের আলোচনার বাইরে রাখে। [17]
নারী খৎনা/FGM/C
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)–র সংজ্ঞা অনুযায়ী Female Genital Mutilation/Cutting (FGM/C) হলো—চিকিৎসাগত কোনো প্রয়োজন ছাড়াই নারী জননাঙ্গে আংশিক/সম্পূর্ণ অপসারণ, অথবা জননাঙ্গে ইচ্ছাকৃত আঘাত/পরিবর্তন। WHO স্পষ্টভাবে বলেছে, FGM/C–এর কোনো স্বাস্থ্যগত সুবিধা নেই; বরং তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি সৃষ্টি করতে পারে। [18]
WHO FGM/C–কে সাধারণভাবে চারটি ধরনে শ্রেণিবদ্ধ করে:
- Type I (Clitoridectomy): ক্লিটোরিসের আংশিক বা সম্পূর্ণ অপসারণ, অথবা ক্লিটোরাল গ্ল্যান্স/হুড কাটা।
- Type II (Excision): ক্লিটোরিসের সাথে ল্যাবিয়া মাইনোরা আংশিক/সম্পূর্ণ অপসারণ (কিছু ক্ষেত্রে ল্যাবিয়া মেজোরাও)।
- Type III (Infibulation): যোনিমুখ সংকুচিত করতে ল্যাবিয়া কেটে/সরিয়ে সেলাই বা বন্ধ করে দেওয়া—এটি সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ধরনগুলোর একটি।
- Type IV: সূচ ফোঁটা, ছিদ্র, কেটে দেওয়া, ঘষে ক্ষত তৈরি, দগ্ধকরণসহ অন্যান্য ক্ষতিকর প্রক্রিয়া। [19]
স্বাস্থ্যগত দিক থেকে WHO উল্লেখ করে যে FGM/C–এর ফলে রক্তক্ষরণ, তীব্র ব্যথা, সংক্রমণ, প্রস্রাবজনিত সমস্যা, সিস্ট/দাগ, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, মাসিক ও যৌনসম্পর্কে জটিলতা, প্রসবকালীন ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং মানসিক ট্রমা–র মতো গুরুতর পরিণতি দেখা দিতে পারে। [20]
এ কারণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আলোচনায় FGM/C–কে সাধারণভাবে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এবং নারী/শিশুর শারীরিক অখণ্ডতা ও মর্যাদার পরিপন্থী প্রথা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অনেক সমাজে এটি ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক “পবিত্রতা/নৈতিকতা”–র যুক্তিতে ন্যায্যতা পায়—কিন্তু অধিকার ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের মানদণ্ডে এর ক্ষতিই প্রধান, সুবিধা নয়। [21]
ধর্ম, পরিচয় ও “পরিচ্ছন্নতা” যুক্তির অযৌক্তিকতা
খৎনার ইতিহাস দেখলে বোঝা যায়—এটি বহু সমাজে চিকিৎসা নয়, বরং পরিচয়-নির্মাণ, পবিত্রতা (purity) বা রাইট-অফ-প্যাসেজ ধরনের সামাজিক/ধর্মীয় প্রথা হিসেবে গড়ে উঠেছিল। উদাহরণ হিসেবে ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউরোলজিক্যাল সার্জনস (BAUS)–এর মিউজিয়াম নোটে প্রাচীন মিশরের একটি বেস-রিলিফের কথা বলা হয়েছে, যেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের খৎনা চিত্রিত এবং এটিকে “সম্ভবত ritual/religious reasons”–এর সাথে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়। [22]
নৃতত্ত্ব ও ইতিহাসভিত্তিক আলোচনাতেও খৎনাকে অনেক সময় “শরীরে সামাজিক পরিচয়/পবিত্রতার চিহ্ন বসানো”—এই ধরনের অর্থে ব্যাখ্যা করা হয়। Encyclopaedia Britannica বলছে, খৎনার উৎস নিশ্চিতভাবে জানা না গেলেও এর বিস্তৃত রীতিগত প্রচলন প্রাচীনত্ব নির্দেশ করে, এবং বহু সংস্কৃতিতে এটি gender, purity, সামাজিক/যৌন পরিণততা ইত্যাদির চিহ্ন হিসেবে কাজ করেছে। [23]
এখানেই “পরিচ্ছন্নতা” যুক্তির সীমা স্পষ্ট হয়। অতীতে স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, স্যানিটেশন ও চিকিৎসা-ব্যবস্থা সীমিত থাকায় অনেকে খৎনাকে “হাইজিন” বা সংক্রমণ-ঝুঁকি কমানোর একটি উপায় হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন—কিন্তু আধুনিক যুগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যশিক্ষা, অ্যান্টিবায়োটিক/চিকিৎসা-সুবিধা থাকায় “সবার জন্য অপরিবর্তনীয় অঙ্গচ্ছেদই দরকার”—এ ধরনের সার্বজনীন দাবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় না। ফলে আজকের আলোচনায় প্রশ্নটা দাঁড়ায়: কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসাগত নির্দেশনা ছাড়া, শুধু পরিচয়/পবিত্রতা/রীতি বা সাধারণ “হাইজিন” যুক্তিতে—বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে—এমন অপরিবর্তনীয় প্রক্রিয়াকে কতটা ন্যায্য বলা যায়। [24]
শিশুর খৎনাঃ শারীরিক ঝুঁকি, সম্ভাব্য মানসিক প্রভাব
শিশুদের ক্ষেত্রে পুরুষ খৎনা একটি অপরিবর্তনীয় সার্জিকাল প্রক্রিয়া—অর্থাৎ একবার হলে দেহের একটি টিস্যু স্থায়ীভাবে অপসারিত হয়। এ কারণে এই সিদ্ধান্তকে নৈতিকভাবে “সাধারণ হাইজিন” বা “রীতি-পরিচয়”–জাতীয় যুক্তিতে হালকা করে দেখা কঠিন, বিশেষ করে যখন চিকিৎসাগত জরুরি প্রয়োজন (medical necessity) স্পষ্ট নয়। নন-থেরাপিউটিক (চিকিৎসাগত নয়) খৎনাকে কিছু চিকিৎসা-নৈতিক প্রতিষ্ঠান শিশুর শারীরিক অখণ্ডতা ও ভবিষ্যৎ স্বায়ত্তশাসন–এর সাথে সংঘর্ষপূর্ণ বলে দেখে। [25]
শারীরিক ক্ষতি ও ব্যথা: “কম ঝুঁকি” মানেই “ঝুঁকিহীন” নয়
যেকোনো সার্জারির মতো খৎনাতেও রক্তপাত, সংক্রমণ, ক্ষতজনিত সমস্যা, অতিরিক্ত/অপর্যাপ্ত চর্ম অপসারণ, পরবর্তী সংশোধনী (revision) প্রয়োজন—এ ধরনের জটিলতার ঝুঁকি থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রশাসনিক ডেটা-স্টাডিতে (২০০১–২০১০) মেডিকেল সেটিংয়ে মোট adverse events ০.৫%–এর কম রিপোর্ট হয়েছে—এটি তুলনামূলকভাবে কম হলেও শূন্য নয়। [26]
আরেকদিকে, বিভিন্ন দেশ/প্রোভাইডার/প্রক্রিয়াভেদে জটিলতার হার বেশ ভিন্ন হতে পারে—একটি ২০২২ সালের গবেষণায় আগের systematic review–এর সারাংশ হিসেবে নবজাতকে প্রায় ~1.5% এবং শিশুদের মধ্যে ~6% পর্যন্ত জটিলতার হার (রেঞ্জসহ) উদ্ধৃত হয়েছে—অর্থাৎ বাস্তব-জগতে “প্রোভাইডার স্কিল” ও সেটিং গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। [27]
ব্যথা ও স্ট্রেস: AAP-এর ২০১২ Technical Report স্পষ্ট করে যে নবজাতক খৎনায় উল্লেখযোগ্য procedural pain হয় এবং adequate analgesia দেওয়া উচিত; শুধু sucrose/positioning-এর মতো nonpharmacologic ব্যবস্থা একা যথেষ্ট নয়। [28]
সম্ভাব্য মানসিক প্রভাব: প্রমাণ “একদম নিশ্চিত” নয়, কিন্তু নৈতিক প্রশ্ন বাস্তব
দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ক্ষতি (যেমন ট্রমা) নিয়ে গবেষণা একমত নয়—কারণ অনেক স্টাডিতে পরিমাপ-পদ্ধতি ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে সমস্যা হলো: (ক) ব্যথা/স্ট্রেস অভিজ্ঞতা সম্ভাব্য, (খ) সিদ্ধান্তে শিশুর সম্মতি থাকে না, (গ) পরিবর্তন স্থায়ী—এগুলো একসাথে নৈতিকভাবে ঝুঁকির মানদণ্ডকে কঠোর করে। তাই “ক্ষতি কম” বলা হলেও “সম্মতি ছাড়া অপ্রয়োজনীয় সার্জারি করা কি উচিত?”—প্রশ্নটি থেকেই যায়। [29]
সম্ভাব্য স্বাস্থ্য-সুবিধাঃ সীমিত, প্রেক্ষাপটনির্ভর এবং যথেষ্ট শক্ত নয়
শৈশবে UTI ঝুঁকি
একটি বড় meta-analysis দেখায় যে খৎনা UTI ঝুঁকি কমাতে পারে; কিন্তু সাধারণ ছেলেশিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি এমনিতেই কম হওয়ায় একটি UTI প্রতিরোধে NNT ≈ 111—অর্থাৎ ১১১ জনকে খৎনা করলে গড়ে ১টি UTI প্রতিরোধ হতে পারে। [30]
Cochrane (২০২২)–ও বলেছে UTI কমাতে পারে, কিন্তু রুটিন ব্যবহারে লাভ-ক্ষতির ভারসাম্য ও প্রমাণের মান বিবেচনা জরুরি। [31]
HIV/STI ঝুঁকি
দক্ষিণ আফ্রিকা/কেনিয়া/উগান্ডার কয়েকটি বড় RCT–তে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের সম্মতিভিত্তিক মেডিকেল খৎনা হেটেরোসেক্সুয়াল HIV acquisition কমিয়েছে। [32]
কিন্তু এগুলো মূলত (১) প্রাপ্তবয়স্ক সম্মতি, (২) নির্দিষ্ট উচ্চ-ঝুঁকির জনস্বাস্থ্য প্রেক্ষাপট—এই শর্তে প্রযোজ্য। তাই এই ফলাফলকে “শিশুদের সার্বজনীন রুটিন খৎনা”–র সরাসরি ন্যায্যতা হিসেবে দাঁড় করানো যুক্তিগতভাবে দুর্বল—কারণ এখানে সম্মতি নেই এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকি-প্রোফাইলও অনিশ্চিত। [33]
“অ্যাক্সেস/পছন্দ” বনাম “রুটিন জরুরি” — এক জিনিস নয়
- AAP (2012) বলেছে: স্বাস্থ্যগত সুবিধা ঝুঁকির চেয়ে বেশি, তাই পরিবার চাইলে অ্যাক্সেস থাকা উচিত—কিন্তু এটিকে “সব শিশুর জন্য রুটিন public health measure” হিসেবে বাধ্যতামূলক করেনি। [34]
- AAP-এর ২০১২ অবস্থানকে ইউরোপীয় কিছু বিশেষজ্ঞ “সাংস্কৃতিক পক্ষপাত”–আক্রান্ত বলে সমালোচনা করেছেন—অর্থাৎ প্রমাণ ব্যাখ্যায় মূল্যবোধ/প্রেক্ষাপটের প্রভাব থাকতে পারে—এ কথা একাডেমিকভাবে বিতর্কিত বিষয় হিসেবে নথিভুক্ত। [35]
- KNMG (2010) নন-থেরাপিউটিক শিশু খৎনাকে শিশুর শারীরিক অখণ্ডতা ও ভবিষ্যৎ স্বায়ত্তশাসনের সাথে সংঘর্ষপূর্ণ বলে ধরে নিরুৎসাহিত করে। [36]
- NHS EBI (2025) শিশুদের ক্ষেত্রে বলে: মেডিকেল penile circumcision rarely indicated as a primary treatment; অধিকাংশ শিশুর ক্ষেত্রে reassurance/কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্টই যথেষ্ট। [37]
সম্মতি, শারীরিক অখণ্ডতা ও শিশু অধিকার (UNCRC ফ্রেমওয়ার্ক)
শিশু খৎনা (পুরুষ বা নারী)—বিশেষ করে যখন তা চিকিৎসাগতভাবে জরুরি নয়—একটি নৈতিক-আইনগত প্রশ্ন তৈরি করে, কারণ এটি শিশুর শরীরে অপরিবর্তনীয় পরিবর্তন আনে এবং সিদ্ধান্তটি সাধারণত শিশুর স্বতন্ত্র সম্মতি ছাড়াই নেওয়া হয়। শিশুর বয়স কম হওয়ায় সে নিজে সিদ্ধান্ত দিতে পারে না—এটাই বাস্তবতা; কিন্তু সেই বাস্তবতার কারণেই আধুনিক অধিকারভিত্তিক নীতিতে “শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ” (best interests) এবং “শারীরিক অখণ্ডতা” (bodily integrity)–কে কেন্দ্রে রাখা হয়।
জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ (UNCRC)–এর আলোচনায় দুটি ধারা এখানে প্রাসঙ্গিকভাবে উদ্ধৃত হয়। Article 19 রাষ্ট্রকে শিশুকে সব ধরনের শারীরিক/মানসিক সহিংসতা, ক্ষতি ও নির্যাতন থেকে রক্ষার দায়িত্বের কথা বলে—যেখানে “ক্ষতি” বা “নির্যাতন”–এর ব্যাখ্যা নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে মূল্যায়নসাপেক্ষ হলেও, নীতি-স্তরে এটি শিশুর সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়। [38]
আর Article 24(3) শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে বিবেচিত traditional practices বিলোপে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলে। অর্থাৎ, কোনো প্রথা “ঐতিহ্য” বা “ধর্মীয় পরিচয়”–এর অংশ হলেও যদি তা শিশুস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয় বা ক্ষতির ঝুঁকি বহন করে, রাষ্ট্রকে সেটি কমানো/রোধের নীতিগত দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। [39]
এখানে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নটি প্রায়ই আসে। বাস্তবে অধিকাংশ আইন-ব্যবস্থাই ধর্মীয় স্বাধীনতা (religious freedom) ও শিশুর অধিকার/সুরক্ষা—দুটোর মধ্যে সমন্বয় করার চেষ্টা করে। কিন্তু UNCRC ফ্রেমওয়ার্কে যুক্তিটা সাধারণত এভাবে দাঁড়ায়: অভিভাবকের ধর্মীয় স্বাধীনতা শিশুর ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এমন সিদ্ধান্তকে ন্যায্য করে না, যা শিশুর দেহে স্থায়ী পরিবর্তন আনে এবং ভবিষ্যতে শিশুর নিজস্ব বিশ্বাস/পরিচয় ভিন্ন হতে পারে। এই টানাপড়েনই অনেক দেশে আইনগত বিতর্ক তৈরি করেছে।
জার্মানির ২০১২ সালের বিতর্ক (কোলোন আদালতের রায় ঘিরে) এবং পরবর্তীতে §1631d BGB–এ নির্দিষ্ট শর্তে শিশু খৎনাকে আইনগত কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ—এই “অধিকার বনাম অধিকার” সংঘাতকে বাস্তবভাবে দেখায়: একদিকে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অনুশীলন-স্বাধীনতা, অন্যদিকে শিশুর শারীরিক অখণ্ডতা ও সুরক্ষা। অর্থাৎ, রাষ্ট্রগুলো অনেক সময় নিষেধ/অনুমোদনকে সাদা-কালো না রেখে নিয়ন্ত্রণ, শর্ত, নিরাপত্তা, ব্যথানিয়ন্ত্রণ, এবং ঝুঁকি-হ্রাস–এর মতো মানদণ্ড দিয়ে ভারসাম্য আনতে চায়। [40]
সারাংশে, UNCRC–এর অধিকারভিত্তিক কাঠামোতে প্রশ্নটি দাঁড়ায়—শিশুর ক্ষেত্রে “রীতি/ধর্মীয় অনুশীলন”কে কীভাবে এমন সীমার মধ্যে রাখা যায়, যাতে শিশুর শারীরিক অখণ্ডতা, সুরক্ষা, এবং ভবিষ্যৎ স্বায়ত্তশাসন অকারণে ক্ষুণ্ণ না হয়। [41]
উপসংহার
এই আলোচনার কেন্দ্রে যে বিষয়টি সবচেয়ে স্পষ্ট—শিশুর শরীরে স্থায়ী পরিবর্তন আনে এমন যেকোনো প্রক্রিয়া (বিশেষ করে চিকিৎসাগতভাবে জরুরি নয় এমন ক্ষেত্রে) শুধুমাত্র “ধর্ম”, “পরিচয়”, বা “পরিচ্ছন্নতা”—এই ধরনের সাধারণ যুক্তিতে ন্যায্যতা পায় না। কারণ খৎনা (পুরুষ বা নারী) একদিকে ব্যক্তিগত/সামষ্টিক বিশ্বাস-পরিচয়ের সাথে যুক্ত হতে পারে, অন্যদিকে এটি শিশুর শারীরিক অখণ্ডতা, ভবিষ্যৎ স্বায়ত্তশাসন, এবং সম্মতি–সংক্রান্ত মৌলিক নৈতিক প্রশ্ন তৈরি করে। এই দ্বন্দ্বের জায়গায় আধুনিক চিকিৎসা-নৈতিকতা সাধারণত একটি মৌল নীতি ধরে রাখে: স্পষ্ট চিকিৎসাগত প্রয়োজন না থাকলে অপ্রয়োজনীয় সার্জারি নিরুৎসাহিত—কারণ “কম ঝুঁকি”ও শেষ পর্যন্ত ঝুঁকিই, আর “অপরিবর্তনীয়তা” নৈতিক দায় বাড়িয়ে দেয়। [42]
নারী খৎনা/FGM/C বিষয়ে অবস্থান তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার (unambiguous) – WHO–এর মূল্যায়নে এটি চিকিৎসাগতভাবে অপ্রয়োজনীয়, কোনো স্বাস্থ্যগত সুবিধাহীন, এবং তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির ঝুঁকি বহনকারী—ফলে এটি নারী ও শিশুর অধিকার এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার পরিপন্থী একটি প্রথা হিসেবে বিবেচিত হয়। এখানে “ঐতিহ্য” বা “ধর্মীয় রীতি”–র যুক্তি ক্ষতির বাস্তবতা ঢাকতে পারে না। [43]
পুরুষ শিশু খৎনা বিষয়ে প্রমাণভিত্তিক চিত্রটি আরও সূক্ষ্ম। কিছু সম্ভাব্য স্বাস্থ্য-বেনিফিট (যেমন শৈশবে UTI ঝুঁকি কমা, নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে STI/HIV ঝুঁকি হ্রাস) গবেষণায় পাওয়া গেলেও, এগুলো অনেকটাই প্রেক্ষাপটনির্ভর এবং বহু স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এগুলোকে “সবার জন্য সার্বজনীন রুটিন প্রয়োজন” হিসেবে ধরা হয় না। তদুপরি শিশুদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি সম্মতিহীন—এ কারণেই “লাভ-ক্ষতি” আলোচনা শুধু মেডিকেল হিসাব নয়, একটি নৈতিক হিসাবও। [44]
এই প্রেক্ষাপটে UNCRC ফ্রেমওয়ার্ক শিশুকেন্দ্রিক একটি মানদণ্ড সামনে আনে: Article 19 শিশুকে ক্ষতি/সহিংসতা থেকে সুরক্ষার নীতিগত দায়িত্ব স্মরণ করায়, এবং Article 24(3) শিশুস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর “traditional practices” বিলোপে রাষ্ট্রকে পদক্ষেপ নিতে বলে। অর্থাৎ, ধর্মীয় স্বাধীনতা বা অভিভাবকের বিশ্বাস বাস্তবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, শিশুর ক্ষেত্রে এগুলোর সীমা নির্ধারণে শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ ও শারীরিক অখণ্ডতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া—এটাই অধিকারভিত্তিক অবস্থান। [45]
নীতিগতভাবে তাই একটি বাস্তবসম্মত উপসংহার দাঁড়ায়:
- FGM/C—রাষ্ট্র ও সমাজের লক্ষ্য হওয়া উচিত নির্বিচার প্রতিরোধ, ভুক্তভোগী সহায়তা, এবং ভুল ধর্মীয়/সাংস্কৃতিক যুক্তির কার্যকর প্রতিসংশোধন। [46]
- পুরুষ শিশু খৎনা—যেখানে এটি নিষিদ্ধ নয়, সেখানে অন্তত ন্যূনতমভাবে কঠোর মেডিকেল-সেফটি স্ট্যান্ডার্ড, বাধ্যতামূলক ব্যথানিয়ন্ত্রণ, তথ্যভিত্তিক কাউন্সেলিং, জটিলতা-রিপোর্টিং, এবং চিকিৎসাগত প্রয়োজন না থাকলে “রুটিন” না করার দিকে নীতি-সিগন্যাল দেওয়ার প্রয়োজন। [47]
- দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে ন্যায্য ভারসাম্য হতে পারে—যেখানে সম্ভব, সিদ্ধান্তটি শিশুর বয়স-পরিপক্বতা বাড়লে তার নিজস্ব মতামত/সম্মতির কাছাকাছি নেওয়া, কারণ এতে স্বায়ত্তশাসন ও অখণ্ডতার দাবির সাথে ধর্ম/পরিচয়ের দাবি তুলনামূলকভাবে কম সংঘর্ষে পড়ে। [48]
শেষ কথা—কোনো প্রথা “পুরোনো” বা “ধর্মীয়” বলেই নৈতিকভাবে সঠিক হয়ে যায় না। শিশুদের ক্ষেত্রে মানদণ্ড হওয়া উচিত: ক্ষতি কমানো, অপ্রয়োজনীয় কাটাছেঁড়া এড়ানো, এবং শিশুর শরীরকে শিশুর ভবিষ্যৎ অধিকার হিসেবে বিবেচনা করা—যেটি আধুনিক চিকিৎসা-নৈতিকতা ও শিশু অধিকার কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। [49]
তথ্যসূত্রঃ
- WHO, Female Genital Mutilation Fact Sheet, 31 Jan 2025; UNCRC, Article 24(3), OHCHR ↩︎
- Encyclopaedia Britannica, “Circumcision”, updated 11 Dec 2025; WHO, “Female Genital Mutilation” Fact sheet, 31 Jan 2025 ↩︎
- Genesis 17:24-25, Bible ↩︎
- সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন, হাদিসঃ ৬২৯৮ ↩︎
- সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৫৮৬১ ↩︎
- আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসীর, প্রথম খণ্ড, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, পৃষ্ঠা ৩৫৪ ↩︎
- Lilith Magazine, “My Muslim Ancestor Hagar”, 1997; JSTOR, “Female Excision and Cultural Accommodation in the Medieval Near East” ↩︎
- আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসীর, প্রথম খণ্ড, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, পৃষ্ঠা ৩৪৯-৩৫০ ↩︎
- ইসলামে নারীর খৎনা প্রসঙ্গে ↩︎
- ফাতাওয়ায়ে আলবানী, আল্লামা মুহাম্মদ নাসীরুদ্দীন আলবানী (রহঃ) , মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহ খান মাদানী (অনুবাদক) , শাইখ আব্দুল্লাহ মাহমুদ (অনুবাদক) , শাইখ ড. আব্দুল্লাহ ফারুক সালাফী (অনুবাদক), পৃষ্ঠা ১৭৪ ↩︎
- Quran-Islam.org, “Circumcision: The covenant between God and Abraham”, Iris Publishers ↩︎
- “The Challenge of Female Genital Mutilation”, 2019 ↩︎
- Encyclopaedia Britannica, “Circumcision”, updated 11 Dec 2025 ↩︎
- de Boer et al., “Choosing wisely or beyond the guidelines”, 2012; Choosing Wisely Canada—Medical students & trainees, 2017 ↩︎
- KNMG, “Non-therapeutic circumcision of male minors”, 2010 ↩︎
- EAU Guidelines on Paediatric Urology—Phimosis recommendations ↩︎
- NHS Evidence-Based Interventions—Penile circumcision guidance, 9 Jan 2025 ↩︎
- WHO, “Female Genital Mutilation” Fact sheet, 31 Jan 2025; WHO, “Health risks of FGM”, SRHR page ↩︎
- WHO, “Female Genital Mutilation” Fact sheet, 31 Jan 2025 ↩︎
- WHO, “Health risks of FGM”, SRHR page; WHO, “Female Genital Mutilation” Fact sheet, 31 Jan 2025 ↩︎
- Human Rights Watch report on FGM, 2010; WHO, “Female Genital Mutilation” Fact sheet, 31 Jan 2025 ↩︎
- BAUS Museum, “Ancient Egypt – Circumcision” ↩︎
- Encyclopaedia Britannica, “Circumcision”, updated 11 Dec 2025 ↩︎
- BAUS Museum, “Ancient Egypt – Circumcision”; Encyclopaedia Britannica, “Circumcision”, updated 11 Dec 2025 ↩︎
- KNMG, “Non-therapeutic circumcision of male minors”, 2010 ↩︎
- El Bcheraoui et al., “Adverse Events Associated With Male Circumcision”, JAMA Pediatrics, 2014 ↩︎
- Siroosbakht et al., 2022; quoted systematic review summary within PMC9679242 ↩︎
- AAP Task Force on Circumcision, “Male Circumcision—Technical Report”, Pediatrics, 2012 ↩︎
- AAP Technical Report 2012; KNMG 2010; Svoboda, AMA Journal of Ethics, 2017 ↩︎
- Singh-Grewal et al., “Circumcision for the prevention of urinary tract infection in boys”, Arch Dis Child, 2005; PubMed 15890696 ↩︎
- Cochrane Evidence, “Newborn circumcision for the prevention of urinary tract infections in infancy”, CD009129, 2022 ↩︎
- Auvert et al., PLoS Medicine, 2005; Bailey et al., The Lancet, 2007; Gray et al., The Lancet, 2007 ↩︎
- Auvert 2005; Bailey 2007; Gray 2007 ↩︎
- AAP, “Circumcision Policy Statement”, Pediatrics, 2012; PubMed 22926180 ↩︎
- Frisch et al., “Cultural bias in the AAP’s 2012 Technical Report and Policy Statement on male circumcision”, Pediatrics, 2013; PubMed 23509170 ↩︎
- KNMG, 2010 ↩︎
- NHS Evidence-Based Interventions, “Penile circumcision”, 9 Jan 2025 ↩︎
- UNICEF, CRC children’s version – Article 19; OHCHR CRC text ↩︎
- OHCHR, CRC – Article 24(3); OHCHR CRC text ↩︎
- German legal discussion on §1631d BGB; GermanHistory-Intersections doc on 2012 context ↩︎
- UNICEF, CRC children’s version – Article 19; OHCHR CRC text; OHCHR, CRC – Article 24(3) ↩︎
- KNMG, “Non-therapeutic circumcision of male minors”, 2010; AAP, “Circumcision Policy Statement”, Pediatrics 2012; NHS EBI, “Penile circumcision” ↩︎
- WHO, “Female Genital Mutilation” Fact sheet, 31 Jan 2025; WHO, “Health risks of FGM”, SRHR page; Human Rights Watch report on FGM, 2010 ↩︎
- Singh-Grewal et al., 2005 meta-analysis; Cochrane Evidence CD009129, 2022; Auvert et al., PLoS Medicine 2005; Bailey et al., The Lancet 2007; Gray et al., The Lancet 2007; AAP, “Circumcision Policy Statement”, Pediatrics 2012; KNMG, 2010; NHS EBI, “Penile circumcision” ↩︎
- UNICEF, CRC children’s version – Article 19; OHCHR CRC text; OHCHR, CRC – Article 24(3); German legal discussion on §1631d BGB; GermanHistory-Intersections doc on 2012 context ↩︎
- WHO FGM 2025; Human Rights Watch 2010; UNCRC Article 24(3) ↩︎
- AAP Technical Report 2012; NHS EBI, “Penile circumcision”; KNMG, 2010 ↩︎
- UNCRC Article 19; KNMG 2010 ↩︎
- UNICEF CRC Article 19; OHCHR CRC Article 24(3); NHS EBI; WHO FGM 2025 ↩︎
