Table of Contents
ভূমিকা
ইসলামী উৎসে সংরক্ষিত বর্ণনাগুলো পড়লে স্পষ্টভাবে দেখা যায়—মুহাম্মদের ব্যক্তিগত যৌনজীবন ছিল অত্যন্ত বিস্তৃত, ঘনঘন এবং স্বতন্ত্র বিশেষাধিকারে পূর্ণ। সহীহ হাদিসসমূহে উল্লেখ আছে, তিনি একই দিনে বা রাতে তার ৯ বা ১১ স্ত্রী ও দাসীর সঙ্গে সঙ্গম করতেন [1]। বহু স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও তিনি দাসী মারিয়ার সঙ্গে হাফসার ঘর ও বিছানাতেই যৌনসম্পর্ক করেছিলেন, যা নিয়ে আয়িশা ও হাফসা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন [2]।
স্বাভাবিকভাবেই এগুলো নবীর স্ত্রীদের জন্য মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অপমানজনক, যন্ত্রণাদায়ক এবং মানসিকভাবে অত্যন্ত কষ্টকর ছিল। আয়িশা নবীর এই প্রবল যৌনচাহিদা, বহুবিবাহ, দাসী ব্যবহার এবং ইচ্ছামতো নারী গ্রহণের বিশেষাধিকার সম্পর্কে গভীর বিরক্তি, হতাশা এবং তিক্ততার সঙ্গে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন—যা সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিমসহ প্রায় সব প্রধান হাদিসগ্রন্থেই সংরক্ষিত।
এই লেখায় আমরা সেইসব বর্ণনা, আয়িশার ব্যক্তিগত মন্তব্য, এবং নবীর প্রতি তার ক্ষোভ-অসন্তোষের প্রধান ঘটনাগুলো পর্যায়ক্রমে দেখব—ধর্মীয় আবেগ বা পলিটিক্যাল কারেক্টনেস বাদ দিয়ে, কেবল নৈতিকতা, মানবাধিকার ও তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণের আলোকে।
আল্লাহ নবীর কামবাসনা পূরণে সদা ব্যস্ত
এই প্রসঙ্গে আয়েশার একটি অতি বিখ্যাত হাদিস রয়েছে, যা পড়া সকলের জন্য জরুরি। হাদিসটি পড়লেই বোঝা যায়, নবী মুহাম্মদের চরিত্র কতটা উন্নত ছিল! [3] [4] [5] [6]
সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
১৮। দুধপান
পরিচ্ছেদঃ ১৪. সতীনকে নিজের পালা হিবা করা বৈধ
হাদিস একাডেমি নাম্বারঃ ৩৫২৩, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১৪৬৪
৩৫২৩-(৪৯/১৪৬৪) আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আলী (রহঃ) ….. আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে নারীরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (স্ত্রী হওয়ার জন্য) আত্মনিবেদিতা হত আমি তাদের নির্লজ্জতায় বিস্ময় প্রকাশ করতাম এবং বলতাম, কোন নারী কি (এভাবে নির্লজ্জ হয়ে) আত্মনিবেদন করতে পারে? পরে যখন আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত নাযিল করলেন- “তুমি তাদের (স্ত্রীগণের মধ্যে) যাকে ইচ্ছা তোমার নিকট হতে দূরে সরিয়ে রাখতে পার এবং যাকে ইচ্ছা তোমার কাছে স্থান দিতে পার এবং যাকে তুমি দূরে রেখেছো তাকে (পুনরায়) কামনা করলে তাতে তোমার কোন অপরাধ হবে না”- (সূরা আল আহযাব ৩৩ঃ ৫১)। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি তখন বললামঃ আল্লাহর কসম! আমি তো দেখছি আপনার প্রতিপালক আপনার মনোবাঞ্ছা পূরণে দ্রুতই সাড়া দিয়ে থাকেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪৯৬, ইসলামীক সেন্টার ৩৪৯৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
অধ্যায়ঃ ৫২/ তাফসীর
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ ترجئ من تشاء منهن وتؤوي إليك من تشاء ومن ابتغيت ممن عزلت فلا جناح عليك “তুমি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তোমার কাছ থেকে দূরে রাখতে পার এবং যাকে ইচ্ছা তোমার কাছে স্থান দিতে পার। আর তুমি যাকে দূরে রেখেছ, তাকে কামনা করলে তোমার কোন অপরাধ নেই। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন ترجئ দূরে রাখতে পার। أرجئه তাকে দূরে সরিয়ে দাও, অবকাশ দাও।
৪৪২৫। যাকারিয়া ইবনু ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যেসব মহিলা নিজকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে হেবাস্বরূপ ন্যাস্ত করে দেন, তাদের আমি ঘৃণা করতাম। আমি (মনে মনে) বলতাম, মহিলারা কি নিজেকে অর্পণ করতে পারে? এরপর যখন আল্লাহ্ তা’আলা এ আয়াত নাযিল করেনঃ “আপনি তাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা আপনার কাছ থেকে দূরে রাখতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছা আপনার নিকট স্থান দিতে পারেন। আর আপনি যাকে দূরে রেখেছেন, তাকে কামনা করলে আপনার কোন অপরাধ নেই।” তখন আমি বললাম, আমি দেখছি যে, আপনার রব আপনি যা ইচ্ছা করেন, তা-ই পূরণ করেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)
সুন্দরী যুদ্ধবন্দী নারী দেখে আয়িশার আশঙ্কা
জুওয়াইরিয়া বিনতে হাছির ছিলেন বনু মুস্তালিক গোত্রের সঙ্গে সংঘর্ষে মুসলিম বাহিনীর হাতে আটক হওয়া এক যুদ্ধবন্দী নারী। তিনি ঐ গোত্রের প্রধান নেতা হাছিরের কন্যা ছিলেন, এবং যুদ্ধ চলাকালে তার স্বামী মুস্তাফা ইবন সাফওয়ান নিহত হন। যুদ্ধের গনিমত বণ্টনের সময় জুওয়াইরিয়া সাহাবী সাবিত ইবন কায়েস ইবন আশ-শাম্মাসের ভাগে পড়েন। পরবর্তী সময়ে তিনি মুহাম্মদের কাছে গিয়ে মুক্তির জন্য আর্থিক সহায়তা (মুকাতাবা মুক্তিপণ চুক্তি) চাইলে মুহাম্মদ তা গ্রহণ না করে তাকে বিবাহের প্রস্তাব দেন। ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ আছে, জুওয়াইরিয়া ছিলেন অত্যন্ত সুন্দরী নারী। নবীর সহধর্মিণী আয়িশা তার রূপ সৌন্দর্য্য দেখে আগেই মন্তব্য করেন যে, —এতো সুন্দরী জুওয়াইরিয়াকে দেখলে মুহাম্মদ আর নিজেকে সামলে রাখতে পারবেন না, নির্ঘাত তাকে স্ত্রী বানাবে। অর্থাৎ নবীর চরিত্র সম্পর্কে আয়ীশা খুব ভালভাবেই অবগত ছিলেন [7]
সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
২৪/ দাসত্বমুক্তি
পরিচ্ছেদঃ ২. মুকাতাবা (চুক্তিব্ধ গোলাম)-এর চুক্তি ভঙ্গ হলে তাকে বিক্রি করা
৩৯৩১। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, বনী মুস্তালিক যুদ্ধে জুয়ায়রিয়াহ বিনতুল হারিস ইবনুল মুতসতালিক বন্দিনী হয়ে সাবিত ইবনু কায়িস ইবনু শাম্মাস (রাঃ) বা তার চাচাত ভাইয়ের ভাগে পড়েন। অতঃপর তিনি নিজেকে আযাদ করার চুক্তি করেন। তিনি খুবই সুন্দরী নারী ছিলেন, নজর কাড়া রূপ ছিলো তার। আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তিনি চুক্তির অর্থ চাইতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলেন। তিনি দরজায় এসে দাঁড়াতেই আমি তাকে দেখে অসন্তুষ্ট হলাম। আমি ভাবলাম, যে রূপ-লাবন্য তাকে দেখেছি, শিঘ্রই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এভাবে দেখবেন।
অতঃপর তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি জুয়ায়রিয়াহ বিনতুল হারিস, আমার সামাজিক অবস্থান অবশ্যই আপনার নিকট স্পষ্ট। আমি সাবিত ইবনু কায়িস ইবনু শাম্মাসের ভাগে পড়েছি। আমি মুক্ত হওয়ার চুক্তিপত্র করেছি, চুক্তির নির্ধারিত অর্থ আদায়ে সাহায্য চাইতে আপনার কাছে এসেছি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর চেয়ে ভালো প্রস্তাবে তুমি রাজি আছো কি? তিনি বললেন, কি প্রস্তাব, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ আমি চুক্তির সমস্ত পাওনা শোধ করে তোমাকে বিয়ে করতে চাই। তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি আপনার প্রস্তাবে রাজি আছি।
আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুয়ায়রিয়াহকে বিয়ে করেছেন, একথা সবার মাঝে জানাজানি হয়ে গেলো। তারা তাদের আওতাধীন সমস্ত বন্দীকে আযাদ করে ছাড়তে লাগলেন আর বলতে লাগলেন, এরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শ্বশুর বংশের লোক। আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, নিজের গোত্রের কল্যাণের জন্য তার চাইতে বরকতময়ী মহিলা আমি আর কাউকে দেখিনি। শুধু তার মাধ্যমে বনী মুস্তালিকের একশো পরিবার আযাদ হয়েছে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মুসলিম শাসক সরাসরি বিয়ে করতে পারেন।[1]
হাসান।
[1]. আহমাদ।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
সীরাত গ্রন্থেও এই বিবরণ পাওয়া যায় [8] –

আয়িশার মৃত্যু হলে ঐ বিছানাতেই আরেক স্ত্রী আনবে নবী
নবীর সিরাত গ্রন্থ থেকে জানা যায়, মৃত্যুশয্যাতেও আয়িশা নবীকে বলছেন, নবীর আগে যদি আয়িশার মৃত্যু হতো, তাহলে নবী আয়িশাকে দাফন করেই আরেক বিবি নিয়ে আয়িশার ঘরেই আরেক বিবিকে বিছানায় নিতেন নবী। অর্থাৎ, নবীর চরিত্র আয়িশা খুব ভালভাবেই জানতেন এবং বুঝতেন [9] ।

বিবরণটি সহিহ বুখারীতেও এসেছে আরও স্পষ্টভাবে -[10]
সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৬২/ রোগীদের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ ২২৬৫. রোগীর উক্তি “আমি যাতনা গ্রস্থ” কিংবা আমার মাথা গেল, কিংবা আমার যন্ত্রণা প্রচন্ড আকার ধারণ করেছে এর বর্ণনা। আর আইয়ুব (আঃ) এর উক্তিঃ হে আমার রব। আমাকে কষ্ট-যাতনা স্পর্শ করেছে অথচ তুমি তো পরম দয়ালু
৫২৬৪। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আবূ যাকারিয়্যা (রহঃ) … কাসিম ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশা (রাঃ) বলেছিলেন হায় যন্ত্রনায় আমার মাথা গেল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি এমনটি হয় আর আমি জীবিত থাকি তাহলে আমি তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবো, তোমার জন্য দু’আ করবো। আয়িশা (রাঃ) বললেনঃ হায় আফসুস, আল্লাহর কসম। আমার মনে হয় আপনি আমার মৃত্যুকে পছন্দ করেন। আর এমনটি হচ্ছে আপনি পরের দিনই আপনার অন্যান্য সহধর্মিনাদের সঙ্গে রাত যাপন করতে পারবেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বরং আমি আমার মাথা গেল বলার বেশি যোগ্য। আমি তো ইচ্ছা করেছিলাম কিংবা বলেছেন, আমি ঠিক করেছিলাম আবূ বকর (রাঃ) ও তার ছেলের নিকট সংবাদ পাঠাবো এবং অসীয়ত করে যাবো, যেন লোকদের কিছু বলার অবকাশ না থাকে কিংবা আকাঙ্ক্ষাকারীদের কোন আকাঙ্ক্ষা করার অবকাশ না থাকে। তারপর শুনলাম আল্লাহ (আবূ বকর ব্যতীত অন্য কেউ খিলাফতের আকাঙ্ক্ষা করুক) তা অপছন্দ করবেন, মুমিনগণ তা পরিহার করবেন। কিংবা তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ তা পরিহার করবেন এবং মুমিনগণ তা অপছন্দ করবেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ কাসিম বিন মুহাম্মাদ (রহঃ)
ইচ্ছেমত নারীভোগের আগে মরেননি নবী
আয়িশার বর্ণনা অনুসারে, নবী যতক্ষণ পর্যন্ত না তার ইচ্ছে অনুসারে নারীদের গ্রহণ করে ভোগ করেছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত নবীর মৃত্যু হয় নি। অর্থাৎ নবীর ভোগের ইচ্ছে সম্পূর্ণ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ পাক তাকে মৃত্যু দেননি [11]
সুনান আন-নাসায়ী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
২৬/ নিকাহ (বিবাহ)
পরিচ্ছেদঃ ২. আল্লাহ তা’আলা তাঁর রাসূলের উপর যা ফরয করেছেন এবং অন্যদের জন্য যা হারাম করেছেন- আল্লাহর নৈকট্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে
৩২০৭. মুহাম্মদ ইন মানসূর (রহঃ) … আতা (রহঃ) বলেন, আয়েশা (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইনতিকাল করেন নি, যে পর্যন্ত না তার জন্য হালাল করা হয়েছে মহিলাদের মধ্যে যাকে তিনি ইচ্ছা করেন তাকে গ্রহণ করার।
তাহক্বীকঃ সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আতা ইবনু আবী রাবাহ (রহঃ)
উপসংহার
উপরের সহীহ মুসলিম, সহীহ বুখারী, সুনান আবু দাউদ, সুনান আন-নাসায়ী ও সীরাতগ্রন্থের বর্ণনাগুলো একসাথে পড়লে একটা খুব স্পষ্ট চিত্র উঠে আসে। তা হলো—নবী মুহাম্মদের ব্যক্তিগত যৌন আকাঙ্ক্ষা ও পছন্দের সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর ওহি, বিশেষ বিধান ও সামাজিক বাস্তবতা সবকিছুই এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে নবীর ইচ্ছা পূরণে কোনও কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা না থাকে। আয়িশার ভাষায়, “আমি দেখি তোমার রব তোমার কামনা পূরণে খুব দ্রুত সাড়া দেন”—এই উক্তি আসলে ভক্তিমুগ্ধ প্রশংসা নয়, বরং ব্যঙ্গ-বিদ্রূপমিশ্রিত অসন্তোষ এবং এক ধরনের নৈতিক প্রশ্ন তুলে ধরে: ঈশ্বরীয় বিধান কি একজন মানুষের ব্যক্তিগত কামবাসনা পূরণের যন্ত্র হয়ে উঠতে পারে?
জুওয়াইরিয়া–ঘটনায় যুদ্ধবন্দী এক সুন্দরী নারীর ক্ষেত্রে “মুক্তির সহায়তা” না দিয়ে সরাসরি তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া, কিংবা আয়িশার মৃত্যুভয়ের পেছনে লুকিয়ে থাকা আশঙ্কা—সে মরলেই নবী তার ঘর ও বিছানায় অন্য স্ত্রী এনে বসাবেন—এসব বিষয় দেখায় যে, নবীর স্ত্রীদের দৃষ্টিতে তার চরিত্র ছিল কঠোরভাবে “আল্লাহর প্রিয় নবী”–ধারণায় নির্মল, রোমান্টিক বা আত্মত্যাগী স্বামীসুলভ কিছু নয়; বরং ক্ষমতা ও যৌন-বিষয়ের জটিল মিশ্রণ। একইভাবে, আয়িশার বর্ণনা অনুযায়ী, নবী মৃত্যুবরণ করেননি যতক্ষণ না পর্যন্ত তার জন্য “যে নারীকে ইচ্ছে, তাকে গ্রহণ করার” পূর্ণ স্বাধীনতা বৈধ করা হয়নি—এটি স্পষ্ট করে যে, নবীর যৌন স্বাধীনতা ছিল কেবল ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় নয়; বরং তা ধর্মীয় বিধি ও সামাজিক কাঠামোর মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছিল।
আজকের মানবাধিকার, নারী–স্বাধীনতা ও সম্মতির মানদণ্ড থেকে এই সব ঘটনাকে মূল্যায়ন করলে দেখা যায়, নবী–নারী সম্পর্কগুলোতে সমান মর্যাদা, পারস্পরিক সম্মতি ও ন্যায্যতার পরিবর্তে পুরুষ-শাসিত ক্ষমতা, যুদ্ধবন্দী ও দাসত্ব, স্ত্রীদের ঈর্ষা ও কষ্ট, আর “ঈশ্বরীয় অনুমোদন”–এর মাধ্যমে বৈধ করা এক ধরনের যৌন-প্রাধান্য বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আয়িশার নিজের মুখে উচ্চারিত ব্যথা, ব্যঙ্গ ও আশঙ্কা—“আপনার রব আপনার কামনা পূরণেই ব্যস্ত”, “আপনি আমার মৃত্যুকে পছন্দ করেন”, “যতক্ষণ না আপনি ইচ্ছেমতো নারী পেয়েছেন ততক্ষণ আপনার মৃত্যু হয়নি”—এসবই প্রমাণ করে যে, এসব সম্পর্ককে আধুনিক নৈতিক মানদণ্ডে “আদর্শ দাম্পত্য” হিসেবে উপস্থাপন করা ইতিহাস ও মূল উৎসের সঙ্গে অসৎ আচরণ। বরং, খোদ ইসলামের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হাদিসগ্রন্থ ও সীরাতগ্রন্থ নিজেই এমন এক নবী-চরিত্র আমাদের সামনে হাজির করে, যেখানে ব্যক্তিগত কামনা, ধর্মীয় ক্ষমতা আর নারীর ওপর প্রাধান্য—তিনটিই একসাথে কাজ করেছে, এবং যার সর্বপ্রথম শিকার ছিলেন তার নিজের স্ত্রী আয়িশা ও অন্যান্য নারীরা।
তথ্যসূত্রঃ
- মুহাম্মদের ম্যারাথন এবং যৌন সক্ষমতা ↩︎
- মারিয়া কিবতিয়া – বাঁদী পত্নী সমাচার! ↩︎
- সহীহ মুসলিম, হাদীস একাডেমী, হাদিসঃ ৩৫২৩ ↩︎
- সহীহ মুসলিম, আহলে হাদিস লাইব্রেরি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৫৯ ↩︎
- সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৪৪২৫ ↩︎
- সহীহুল বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, পঞ্চম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩১ ↩︎
- সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত), হাদিসঃ ৩৯৩১ ↩︎
- সিরাতুন নবী (সাঃ), ইবনে হিশাম, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩০২ ↩︎
- সীরাতুন নবী, ইবনে হিশাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, সম্পাদনা পরিষদের তত্ত্বাবধানে অনুদিত, চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩১৩ ↩︎
- সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৫২৬৪ ↩︎
- সুনান আন-নাসায়ী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৩২০৭ ↩︎
