
Table of Contents
ভূমিকা
ইসলামি ধর্মতত্ত্বে ‘ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা’ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হিসেবে উপস্থাপিত হয়। প্রচলিত ইসলামিক দাবি অনুযায়ী, ইসলামে খ্রিস্টধর্মের ‘জন্মগত পাপ’ (Original Sin)-এর মতো কোনো ধারণা নেই এবং পরকালে প্রত্যেক ব্যক্তিকে কেবল তার নিজ কর্মের জন্যই জবাবদিহি করতে হবে। কোরআনের একাধিক আয়াতে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, একজনের পাপের বোঝা অন্যজন বহন করবে না। তবে কোরআনের অন্যান্য আয়াত, হাদিস এবং ইসলামি আইনতত্ত্ব (ফিকহ) বিশ্লেষণ করলে এই দাবির বিপরীতে অসংখ্য বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয়। এই প্রবন্ধের উদ্দেশ্য হলো কোরআনের এই মৌলিক দাবিটির সাথে এর অন্যান্য বৈপরীত্যপূর্ণ অবস্থানগুলোর একটি তুলনামূলক ও সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ করা।
কোরআনে ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার দাবি
কোরআনের অন্তত পাঁচটি স্থানে অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীনভাবে বলা হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির পাপের দায়ভার গ্রহণ করবে না। এই আয়াতগুলো নিচে সারণিবদ্ধ করা হলো:
| ক্রমিক | সূরা ও আয়াতের নম্বর | আয়াতের প্রাসঙ্গিক অংশ |
| ১ | সূরা আল আন’আম (৬:১৬৪) | এবং কোনো বোঝা বহনকারী অন্য কারো বোঝা বহন করবে না। |
| ২ | সূরা বনী ইসরাঈল (১৭:১৫) | কোনো বোঝা বহনকারী অন্য কারো বোঝা বহন করবে না। |
| ৩ | সূরা ফাতির (৩৫:১৮) | কোনো বোঝা বহনকারী অন্য কারো বোঝা বহন করবে না। |
| ৪ | সূরা আয-যুমার (৩৯:৭) | কোনো বোঝা বহনকারী অন্য কারো বোঝা বহন করবে না। |
| ৫ | সূরা আন-নাজম (৫৩:৩৮) | কোনো বোঝা বহনকারী অন্য কারো বোঝা বহন করবে না। |
পথভ্রষ্ট করার দায়ে অন্যের বোঝা বহন
উপরোক্ত আয়াতগুলোতে ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার একটি সাধারণ নিয়ম ঘোষণা করা হলেও, কোরআনের অন্য কিছু আয়াত এই নিয়মের সরাসরি লঙ্ঘন করে। সূরা আন-নাহল এবং সূরা আল-আনকাবুতে বলা হয়েছে যে, যারা অন্যদের পথভ্রষ্ট করে, তারা নিজেদের পাপের পাশাপাশি যাদের পথভ্রষ্ট করেছে তাদের পাপের বোঝাও বহন করবে।
“যাতে কিয়ামতের দিন তারা পূর্ণমাত্রায় বহন করে তাদের পাপভার এবং তাদেরও পাপভার যাদেরকে তারা জ্ঞানহীনভাবে পথভ্রষ্ট করে। দেখ, তারা যা বহন করে তা কতই না নিকৃষ্ট!” [1]। এছাড়া বলা হয়েছে, “তারা অবশ্যই বহন করবে নিজেদের বোঝা এবং নিজেদের বোঝার সাথে আরও অনেক বোঝা” [2]। যদি নীতিটি হয় ‘কেউ অন্যের বোঝা বহন করবে না’, তবে অন্যকে পথভ্রষ্ট করার কারণে তার পাপের অংশ কেন প্রচারকের ওপর বর্তাবে? এটি একটি যৌক্তিক স্ববিরোধিতা তৈরি করে।
গণশাস্তি ও নিরপরাধের বিনাশ
কোরআনের বিভিন্ন স্থানে পূর্ববর্তী জাতিদের (যেমন- আদ, সামুদ, লুত জাতি, নূহের প্লাবন) ধ্বংসের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এই জাতিগুলোকে যখন মহান আল্লাহ ধ্বংস করেন, তখন সেই জনপদের শিশু, পশুপাখি এবং যারা সরাসরি পাপে লিপ্ত ছিল না, তারাও সমূলে বিনাশ হয় [3]। লুত জাতির ওপর যখন পাথর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছিল অথবা নূহের প্লাবনে যখন পৃথিবী প্লাবিত হয়েছিল, তখন নিষ্পাপ শিশুদের মৃত্যু হয়েছিল সেই জনপদের বয়স্কদের পাপের কারণে। এটি ‘একজনের পাপে অন্যকে শাস্তি না দেওয়া’র ঐশ্বরিক দাবির সাথে নৈতিকভাবে সাংঘর্ষিক। কোনো শিশু তার পূর্বপুরুষ বা সমাজের অবাধ্যতার জন্য প্রাণ হারালে তা ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার নীতিকে ধূলিসাৎ করে দেয়।
হাদিস ও সুন্নাহর আলোকে বৈপরীত্য
মৃতব্যক্তির জন্য দোয়া করলে আজাব কমে
সহিহ হাদিসে এমন কিছু বর্ণনা পাওয়া যায় যা কোরআনের এই ‘বোঝা বহন না করার’ দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে। নবী মুহাম্মদ মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করতেন। মুসলিমরাও তাদের মৃত আত্মীয়দের জন্য দোয়া করে। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, মৃতব্যক্তির আমল নয়, তার মৃত্যুর পরে যখন তার আমলনামা সমাপ্ত, তখন তার জন্য কেউ দোয়া করলে সেই দোয়া তার পারলৌকিক জীবনে প্রভাব বিস্তার করে। এটি তো সম্পূর্ণভাবেই একজনার কাজের কারণে অন্যের ফলাফল লাভ হলো।
সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
২৬। ওয়াসিয়্যাত
পরিচ্ছেদঃ ৩. মানুষের মৃত্যুর পর যে সকল জিনিসের সাওয়াব তার কাছে পৌছে
হাদিস একাডেমি নাম্বারঃ ৪১১৫ , আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১৬৩১
৪১১৫-(১৪/১৬৩১) ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব ও কুতাইবাহ্ (রহঃ) ….. আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায় তিন প্রকার আমল ছাড়া। ১. সাদাকা জারিয়াহ্ অথবা ২. এমন ইলম যার দ্বারা উপকার হয় অথবা ৩. পুণ্যবান সন্তান যে তার জন্যে দু’আ করতে থাকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪০৭৭, ইসলামিক সেন্টার ৪০৭৬)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
মুশরিকের শিশু সন্তান জাহান্নামি
আরও একটি হাদিস থেকে জানা যায়, মুশরিকদের শিশু সন্তানরা, যারা জীবন্ত প্রথিত হয়েছিল, তারা জাহান্নামে যাবে। এটিও তো পিতামাতার অমুসলিম হওয়ার পাপের বোঝা সন্তানের ওপর এসে পড়লো [4]
সূনান আবু দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৩৫/ সুন্নাহ
পরিচ্ছেদঃ ১৮.মুশরিকদের সন্তান-সন্ততি সম্পর্কে।
৪৬৪২. ইব্রাহীম ইবন মূসা (রহঃ) ….. আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জীবন্ত প্রথিত কন্যা এবং তার মা- উভয়ই জাহান্নামী।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ শা‘বী (রহঃ)
আত্মীয়দের বিলাপের জন্য আজাব
একটি বহুল আলোচিত হাদিসে বলা হয়েছে যে, মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা যদি তার জন্য উচ্চস্বরে বিলাপ করে, তবে সেই মৃত ব্যক্তিকে কবরে শাস্তি দেওয়া হয়। হাদিসটি হলো: “মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবারের কান্নাকাটির কারণে কবরে আযাব দেওয়া হয়” [5]। আয়েশা এই হাদিসটি শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন এবং কোরআনের সেই আয়াত (৬:১৬৪) উদ্ধৃত করে একে প্রত্যাখ্যান করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু হাদিসটি বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত এবং বহু ইসলামি স্কলার একে গ্রহণ করেছেন। এখানে পরিবারের সদস্যদের কৃত কর্মের (বিলাপ করা) জন্য মৃত ব্যক্তির শাস্তি পাওয়া নীতিগতভাবে অন্যায্য এবং কোরআনের আয়াতের পরিপন্থী।
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা
পরিচ্ছেদঃ ৭. প্রথম অনুচ্ছেদ – মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা
১৭২৪-[৩] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা’দ ইবনু ’উবাদাহ্ খুব অসুস্থ হয়ে পড়লে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে দেখতে গেলেন। তাঁর সাথে ছিলেন ’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ, সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্বক্বাস ও ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ। তিনি ওখানে প্রবেশ করে সা’দ ইবনু ’উবাদাহকে বেহুঁশ অবস্থায় পেলেন। জিজ্ঞেস করলেন, সে কি মারা গেছে? সাহাবী জবাব দিলেন, জ্বী না, হে আল্লাহর রসূল! তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাঁদতে লাগলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কাঁদতে দেখে সাহাবীগণও কাঁদতে লাগলেন। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সাবধান তোমরা শুনে রাখো অশ্রু বিসর্জন ও মনের শোকের কারণে আল্লাহ তা’আলা কাউকে শাস্তি দেবেন না। তিনি তার মুখের দিকে ইশারা করে বললেন, অবশ্য আল্লাহ এজন্য ’আযাবও দেন আবার রহমতও করেন। আর মৃতকে তার পরিবার-পরিজনের বিলাপের কারণে ’আযাব দেয়া হয়। (বুখারী, মুসলিম)[1]
[1] সহীহ : বুখারী ১৩০৪, মুসলিম ৯২৪, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৫২৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭১৫২, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ২৬৪৭।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
একের পাপে অন্যের দণ্ডঃ বোঝা চাপিয়ে দেয়া
কোরআনের দাবির বিপরীতে সবচেয়ে বড় আঘাত আসে সহীহ হাদিসের একটি বর্ণনা থেকে। সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ মুসলিমদের পাহাড় সমান গুনাহগুলো মাফ করে দেবেন এবং সেই পাপের বোঝা ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানদের ওপর চাপিয়ে দেবেন [6]
সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫১/ তাওবা
পরিচ্ছেদঃ ৮. হত্যাকারীর তাওবা আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য; যদিও সে বহু হত্যা করে থাকে
৬৭৫৮। মুহাম্মদ ইবনু আমর ইবনু আব্বাদ ইবনু জাবালা ইবনু আবূ রাওয়াদ (রহঃ) … আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিছুসংখ্যক মুসলিম পাহাড় সমান গুনাহ নিয়ে কিয়ামতের ময়দানে আসবে এবং আল্লাহ তাআলা তাদের গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। আর তা ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানদের উপর চড়িয়ে দিবেন। আমার মনে হয় এ রূপই বর্ণনাকারী হাদীসের শেষোক্ত কথাটি সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। রাবী আবূ রাওহ (রহঃ) বলেন, কার পক্ষ থেকে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে, তা আমার জানা নেই। আবূ বুরদা (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি আমি উমার ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) এর নিকট বর্ণনা করার পর তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার পিতা এ হাদীসটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সরাসরি (শুনে) তোমার নিকট বর্ননা করেছে কি? আমি বললাম, হ্যাঁ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ মূসা আল- আশ’আরী (রাঃ)
ধর্ষণের শিকার পশুর কি অপরাধ?
আসুন আরও একটি বিধান জেনে নিই। ইসলামের বিধান হচ্ছে, কোন মানুষ যদি পশুর সাথে যৌনকর্ম করে, তাহলে যে কাজটি করেছে এবং যার সাথে করেছে, সেই পশুটিকেও হত্যা করতে হবে। পশুটির এখানে কী অপরাধ, কেন পশুটিকে অহেতুক জীবন দিতে হবে, তার কোন উত্তর নেই [7] –
সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৩৩/ শাস্তির বিধান
পরিচ্ছদঃ ২৮. পশুর সাথে সংগম করলে তার শাস্তি সস্পর্কে।
৪৪০৫. আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ………. ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কেউ কোন পশুর সাথে সঙ্গম করে, তবে তাকে হত্যা করবে এবং সে পশুকেও তার সাথে হত্যা করবে। রাবী বলেন, আমি ইবন আব্বাস (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করিঃ পশুর অপরাধ কি? তিনি বলেনঃ আমার মনে হয়, তিনি সে পশুর গোশত খাওয়া ভাল মনে করেননি, যার সাথে কেউ এরূপ কুকর্ম করে।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
আল্লাহর পাপে বান্দার শাস্তি
মুসলিমদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআনের সূত্র ধরে সহিহ মুসলিম শরীফের একটি হাদিসে বর্ণিত রয়েছে, খিজির নামক এক ব্যক্তি একবার এক বালককে বিনা কারণেই হত্যা করে। এই বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে, সে নির্লিপ্তভাবে উত্তর দেয় যে, ছেলেটি জন্মগতভাবেই কাফের ছিল। তাই কুফরি কর্ম করার আগেই, তার পিতামাতাকে কুফরি কাজে বাধ্য করার আগেই তাকে হত্যা করে ফেলা হলো। খিযির আগেই জানতেন, এই ছেলেটি বড় হয়ে কুফরি করবে, বা আল্লাহকে মানবে না। ভেবে দেখুন, এই ছেলেটি কোন অপরাধই করে নি। অথচ, অপরাধ করার আগেই বিনা অপরাধে তাকে হত্যা করা হলো, কোন বিচার সাক্ষী প্রমাণ সব ছাড়াই। এবং এই কাজটি আবার হাদিসে খুব ভাল কাজ হিসেবে উল্লেখও করা হলো! যেই কাজ একজন করেই নি, তার জন্য তাকে কীভাবে শাস্তি দেয়া যেতে পারে?
এই ছেলেটি জাহান্নামে যাবে, নাকি জান্নাতে? সে তো কোন অপরাধই করে নি। যার জন্মই হয়েছে কাফির হিসেবে, সে নিশ্চয়ই জাহান্নামেই যাবে। এ কেমন বিচার! আল্লাহ তাকে কাফির হিসেবেই জন্ম দিলেন, আবার হত্যা করালেন বিনা অপরাধে, আবার জাহান্নামেও পাঠাবেন- এর নাম ইনসাফ? আসুন হাদিসগুলো পড়িঃ [8] [9]
সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
৪৭। তাকদীর
পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রত্যেক শিশু ইসলামী স্বভাবের উপর জন্মানোর মর্মার্থ এবং কাফির ও মুসলিমদের মৃত শিশুর বিধান
৬৬৫৯-(২৯/২৬৬১) আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ্ ইবনু কা’নাব (রহঃ) ….. উবাই ইবনু কা’ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই যে ছেলেটিকে খাযির (আঃ) (আল্লাহর আদেশে) হত্যা করেছিলেন তাকে কফিরের স্বভাব দিয়েই সৃষ্টি করা হয়েছিল। যদি সে জীবিত থাকত তাহলে সে তার পিতামাতাকে অবাধ্যতা ও কুফুরী করতে বাধ্য করত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫২৫, ইসলামিক সেন্টার ৬৫৭৬)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)
একসাথে টেবিল আকারে সব দলিল
| কোন মানুষ অন্যের পাপের বোঝা বহন করবে না | মানুষ অন্যের পাপের বোঝাও বহন করবে |
|---|---|
| আমি কি আল্লাহকে ছেড়ে অন্য প্রতিপালক তালাশ করব? (অথচ প্রকৃতপক্ষে) তিনিই সব কিছুর প্রতিপালক। প্রত্যেক ব্যক্তি যা অর্জন করে তার জন্য সে নিজেই দায়ী হবে। কোন ভারবহনকারীই অন্যের গুনাহের ভার বহন করবে না। অবশেষে তোমাদের প্রত্যাবর্তন স্থল তোমাদের প্রতিপালকের নিকটেই, তখন তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দেবেন যে সকল বিষয়ে তোমরা মতভেদে লিপ্ত ছিলে (সে সব বিষয়ে প্রকৃত সত্য কোনটি)। — Taisirul Quran তুমি জিজ্ঞেস করঃ আমি কি আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য রবের সন্ধান করব? অথচ তিনিই হচ্ছেন প্রতিটি বস্তুর রাব্ব! প্রত্যেক ব্যক্তিই স্বীয় কৃতকর্মের জন্য দায়ী হবে, কেহ কারও কোন বোঝা বহন করবেনা, পরিশেষে তোমাদের রবের নিকট তোমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে, অতঃপর তিনি তোমরা যে বিষয়ে মতবিরোধ করেছিলে সে বিষয়ের মূল তত্ত্ব তোমাদেরকে অবহিত করবেন। — Sheikh Mujibur Rahman বল, ‘আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন রব অনুসন্ধান করব’ অথচ তিনি সব কিছুর রব’? আর প্রতিটি ব্যক্তি যা অর্জন করে, তা শুধু তারই উপর বর্তায় আর কোন ভারবহনকারী অন্যের ভার বহন করবে না। অতঃপর তোমাদের রবের নিকটই তোমাদের প্রত্যাবর্তনস্থল। সুতরাং তিনি তোমাদেরকে সেই সংবাদ দেবেন, যাতে তোমরা মতবিরোধ করতে। — Rawai Al-bayan বলুন, ‘আমি কি আল্লাহকে ছেড়ে অন্যকে রব খুঁজব? অথচ তিনিই সব কিছুর রব। ’প্রত্যেকে নিজ নিজ কৃতকর্মের জন্য দায়ী এবং কেউ অন্য কারো ভার গ্রহণ করবে না। তারপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন তোমাদের রবের দিকেই , অতঃপর যে বিষয়ে তোমারা মতভেদ করতে, তা তিনি তোমাদেরকে অবহিত করবেন। — Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria [10] | তারা অবশ্য অবশ্যই তাদের নিজেদের পাপের বোঝা বহন করবে, নিজেদের বোঝার সাথে আরো বোঝা, আর তারা যে সব মিথ্যে উদ্ভাবন করত সে সম্পর্কে ক্বিয়ামত দিবসে তারা অবশ্য অবশ্যই জিজ্ঞাসিত হবে। — Taisirul Quran এবং তারা নিজেদের বোঝা বহন করবে এবং নিজেদের বোঝার সাথে আরও বোঝা; এবং তারা যে মিথ্যা উদ্ভাবন করে সেই সম্পর্কে কিয়ামাত দিবসে অবশ্যই তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে। — Sheikh Mujibur Rahman আর অবশ্যই তারা বহন করবে তাদের বোঝা এবং তাদের বোঝার সাথে আরো কিছু বোঝা। আর তারা কিয়ামতের দিন অবশ্যই জিজ্ঞাসিত হবে সে সম্পর্কে, যা তারা মিথ্যা বানাত। — Rawai Al-bayan তারা তো বহন করবে নিজেদের ভার এবং নিজেদের বোঝার সাথে আরো কিছু বোঝা [১]; আর তারা যে মিথ্যা রটনা করত সে সম্পর্কে কিয়ামতের দিন অবশ্যই তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে। — Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria [11] |
| কোন বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না। আমি ‘আযাব দেই না যতক্ষণ একজন রসূল না পাঠাই। — Taisirul Quran এবং কেহ অন্য কারও ভার বহন করবেনা; আমি রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত কেহকেও শাস্তি দিইনা। — Sheikh Mujibur Rahman আর কোন বহনকারী অপরের (পাপের) বোঝা বহন করবে না। আর রাসূল প্রেরণ না করা পর্যন্ত আমি আযাবদাতা নই। — Rawai Al-bayan আর কোনো বহনকারী অন্য কারো ভার বহন করবে না [২]। আর আমরা রাসুল না পাঠানো পর্যন্ত শাস্তি প্রদানকারী নই [৩]। — Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria [12] | যার ফলে ক্বিয়ামাত দিবসে তারা বহন করবে নিজেদের পাপের বোঝা পূর্ণ মাত্রায়, আর (আংশিক) তাদেরও পাপের বোঝা যাদেরকে তারা গুমরাহ করেছে নিজেদের অজ্ঞতার কারণে। হায়, তারা যা বহন করবে তা কতই না নিকৃষ্ট! — Taisirul Quran ফলে কিয়ামাত দিবসে তারা বহন করবে তাদের পাপভার পূর্ণমাত্রায় এবং পাপভার তাদেরও যাদেরকে তারা অজ্ঞতা বশতঃ বিভ্রান্ত করেছে; হায়! তারা যা বহন করবে তা কতই না নিকৃষ্ট! — Sheikh Mujibur Rahman এতে করে তারা কিয়ামতের দিনে নিজদের পাপের বোঝা পুরোটাই বহন করবে এবং তাদের পাপের বোঝাও যাদেরকে তারা অজ্ঞতা হেতু পথভ্রষ্ট করে। তারা যা বহন করবে, তা কতই না নিকৃষ্ট! — Rawai Al-bayan ফলে কিয়ামতের দিন তারা বহন করবে তাদের পাপের বোঝা পূর্ণ মাত্রায় এবং তাদেরও পাপের বোঝা যাদেরকে তারা অজ্ঞতাবশত বিভ্রান্ত করেছে [১]। দেখুন, তারা যা বহন করবে তা কত নিকৃষ্ট ! — Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria [13] |
| সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) ৫১/ তাওবা পরিচ্ছেদঃ ৮. হত্যাকারীর তাওবা আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য; যদিও সে বহু হত্যা করে থাকে ৬৭৫৮। মুহাম্মদ ইবনু আমর ইবনু আব্বাদ ইবনু জাবালা ইবনু আবূ রাওয়াদ (রহঃ) … আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিছুসংখ্যক মুসলিম পাহাড় সমান গুনাহ নিয়ে কিয়ামতের ময়দানে আসবে এবং আল্লাহ তাআলা তাদের গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। আর তা ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানদের উপর চড়িয়ে দিবেন। আমার মনে হয় এ রূপই বর্ণনাকারী হাদীসের শেষোক্ত কথাটি সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। রাবী আবূ রাওহ (রহঃ) বলেন, কার পক্ষ থেকে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে, তা আমার জানা নেই। আবূ বুরদা (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি আমি উমার ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) এর নিকট বর্ণনা করার পর তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার পিতা এ হাদীসটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সরাসরি (শুনে) তোমার নিকট বর্ননা করেছে কি? আমি বললাম, হ্যাঁ। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আবূ মূসা আল- আশ’আরী (রাঃ) [6] | |
| সূনান আবু দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) ৩৫/ সুন্নাহ পরিচ্ছেদঃ ১৮. মুশরিকদের সন্তান-সন্ততি সম্পর্কে। ৪৬৪২. ইব্রাহীম ইবন মূসা (রহঃ) ….. আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জীবন্ত প্রথিত কন্যা এবং তার মা- উভয়ই জাহান্নামী। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ শা‘বী (রহঃ) [4] | |
| মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) পর্ব-৫: জানাযা পরিচ্ছেদঃ ৭. প্রথম অনুচ্ছেদ – মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা ১৭২৪-[৩] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা’দ ইবনু ’উবাদাহ্ খুব অসুস্থ হয়ে পড়লে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে দেখতে গেলেন। তাঁর সাথে ছিলেন ’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ, সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্বক্বাস ও ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ। তিনি ওখানে প্রবেশ করে সা’দ ইবনু ’উবাদাহকে বেহুঁশ অবস্থায় পেলেন। জিজ্ঞেস করলেন, সে কি মারা গেছে? সাহাবী জবাব দিলেন, জ্বী না, হে আল্লাহর রসূল! তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাঁদতে লাগলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কাঁদতে দেখে সাহাবীগণও কাঁদতে লাগলেন। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সাবধান তোমরা শুনে রাখো অশ্রু বিসর্জন ও মনের শোকের কারণে আল্লাহ তা’আলা কাউকে শাস্তি দেবেন না। তিনি তার মুখের দিকে ইশারা করে বললেন, অবশ্য আল্লাহ এজন্য ’আযাবও দেন আবার রহমতও করেন। আর মৃতকে তার পরিবার-পরিজনের বিলাপের কারণে ’আযাব দেয়া হয়। (বুখারী, মুসলিম)[1] [1] সহীহ : বুখারী ১৩০৪, মুসলিম ৯২৪, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৫২৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭১৫২, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ২৬৪৭। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) |
কোরআন বলছে কেউ কারো বোঝা বইবে না, অথচ সহীহ হাদিস বলছে মুসলিমদের পাহাড় সমান গুনাহ ক্ষমা করে তা ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানদের ওপর চড়িয়ে দেওয়া হবে। এটি ঐশ্বরিক ন্যায়বিচারের সংজ্ঞার সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
ব্যক্তির কর্মের চেয়ে এখানে ব্যক্তির ‘ধর্মীয় পরিচয়’ বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যের পাপের বোঝা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ওপর চাপানো নৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয় এবং এটি কোরআনের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার (৬:১৬৪) মূল ভিত্তিকে ধূলিসাৎ করে দেয়।
ইসলাম খ্রিস্টধর্মের ‘Substitutionary Atonement’ বা অন্যের পাপে অন্যের মুক্তির ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করলেও, এই হাদিসটি একই কাজ করছে। এখানে অন্যের পাপের দণ্ড অন্যকে দেওয়ার মাধ্যমে একটি Scapegoat বা বলির পাঁঠা তৈরি করা হয়েছে।
ইসলামি আইনে সমষ্টিগত দায় (আকিলা ব্যবস্থা)
কোরআনের নীতি অনুযায়ী ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা থাকার কথা থাকলেও ইসলামি ফিকহ বা আইনশাস্ত্রে ‘আকিলা’ (Aqila) নামক একটি ব্যবস্থা রয়েছে। যদি কেউ ভুলবশত কাউকে হত্যা করে, তবে তার রক্তপণ বা দিয়ত (Blood money) কেবল সেই হত্যাকারীকে দিতে হয় না, বরং তার পিতৃকুল বা আত্মীয়স্বজনকে (আকিলা) সেই অর্থের ভাগ বহন করতে হয় (এই সম্পর্কে পরবর্তীতে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে)। এখানে একজনের অনিচ্ছাকৃত ভুলের আর্থিক দায়ভার তার আত্মীয়দের ওপর চাপানো হচ্ছে, যা স্পষ্টতই অন্যের পাপ বা ভুলের বোঝা বহন করার একটি আইনি দৃষ্টান্ত।
মুবাহালা ও বংশপরম্পরায় অভিশাপ
কোরআনের সূরা আলে-ইমরানে ‘মুবাহালা’র (মিথ্যাবাদীর ওপর আল্লাহর লানত বা অভিশাপ কামনা করা) উল্লেখ আছে। সেখানে নিজেদের সাথে নিজেদের স্ত্রী ও সন্তানদেরও নিয়ে আসার কথা বলা হয়েছে [17]। যদি বিতর্কের বিষয় হয় সত্য এবং মিথ্যা নির্ধারণ, তবে সেই প্রক্রিয়ায় নিরপরাধ সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাদের ওপর অভিশাপের ঝুঁকি নেওয়া ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার দর্শনের সাথে খাপ খায় না। সন্তানদের কেন তাদের পিতা-মাতার ধর্মীয় বা আদর্শিক অবস্থানের কারণে অভিশপ্ত হতে হবে, তার কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা এখানে অনুপস্থিত।
উপসংহার
উপরে আলোচিত তথ্য ও প্রমাণাদি বিশ্লেষণ করলে এটি প্রতীয়মান হয় যে, “কেউ অন্যের পাপের বোঝা বহন করবে না”—কোরআনের এই দাবিটি কোন ধ্রুব সত্য নয়, বরঞ্চ ইসলামের ভেতরেই এই বিশ্বাসের বিপরীত ও পরস্পরবিরোধী বিশ্বাস বিদ্যমান। বরং এটি একটি আদর্শিক দাবি মাত্র, যা বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে বারবার লঙ্ঘিত হয়েছে। কোরআনের নিজস্ব আয়াতগুলোর মধ্যেকার পার্থক্য (১৬:২৫ বনাম ৬:১৬৪), হাদিসের বর্ণনা এবং ফিকহ শাস্ত্রের নিয়মগুলো প্রমাণ করে যে, ইসলামি ব্যবস্থায় সামষ্টিক শাস্তি এবং অন্যের ভুলের জন্য ব্যক্তিকে দায়বদ্ধ করার রীতি বিদ্যমান। সুতরাং, ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার দাবিটি একটি খণ্ডিত সত্য এবং এটি সামগ্রিক ইসলামি দর্শনে একটি গভীর স্ববিরোধিতা হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।
তথ্যসূত্রঃ
- কোরআন ১৬:২৫ ↩︎
- কোরআন ২৯:১৩ ↩︎
নূহ নবীর অভিশাপ এবং বর্বর সাম্প্রদায়িকতা ↩︎- সূনান আবু দাউদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৪৬৪২ 1 2
- সহিহ বুখারি ১২৮৬, সহিহ মুসলিম ৯২৭ ↩︎
- সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৬৭৫৮ 1 2
- সূনান আবু দাউদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৪৪০৫ ↩︎
- সহীহ মুসলিম, হাদীস একাডেমী, হাদিসঃ ৬৬৫৯ ↩︎
- ইসলাম অনুসারে কিছু মানুষ জন্মগতভাবে কাফের ↩︎
- সূরা ৬, আয়াত ১৬৪ ↩︎
- সূরা ২৯, আয়াত ১৩ ↩︎
- সূরা ১৭, আয়াত ১৫ ↩︎
- সূরা ১৬, আয়াত ২৫ ↩︎
- সহীহ মুসলিম, হাদিসঃ ৬৭৫৮ ↩︎
- সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ↩︎
- সহীহ মুসলিম, তাওবা অধ্যায় ↩︎
- কোরআন ৩:৬১ ↩︎
