বিগ ব্যাং তত্ত্বের বাস্তব প্রমাণ

ভূমিকা

বিগ ব্যাং তত্ত্বের মূল কথাগুলো হলো, প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে মহাবিশ্ব একটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র, ঘন, এবং অতি উত্তপ্ত বিন্দু থেকে কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনের কারণে প্রসারিত হতে শুরু করে। শুরুর দিকে এই প্রসারণ ছিল এতই তীব্র যে, এটিকে একটি “বিস্ফোরণ” বা “বিগ ব্যাং” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির ঘটনা থেকে স্থান, সময়, পদার্থ এবং শক্তির উদ্ভব হয়, এবং মহাবিশ্ব ক্রমাগত প্রসারিত হতে থাকে। বিগ ব্যাংয়ের পূর্বে মহাবিশ্বের কোনো অস্তিত্ব ছিল না; শুধুমাত্র ছিল এক অতি ঘন ও শক্তিশালী বিন্দু, যেখান থেকে মহাবিশ্বের সূচনা ঘটে। বিগ ব্যাং তত্ত্ব শুধুমাত্র মহাবিশ্বের উৎপত্তির ব্যাখ্যা প্রদান করে না, বরং এটি মহাবিশ্বের ক্রমবিকাশ, গঠন এবং তার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও আমাদের গভীর অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে। বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে সমর্থিত এই তত্ত্ব মহাবিশ্বের গঠন ও গতিশীলতার একটি সঠিক ও সুসংগত ব্যাখ্যা প্রদান করে, যা আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণার অন্যতম ভিত্তি।


মহাবিশ্বের প্রসারণের প্রমাণ

বিগ ব্যাং তত্ত্বের অন্যতম প্রধান প্রমাণ হলো মহাবিশ্বের ক্রমবর্ধমান প্রসারণ। ১৯২৯ সালে, বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডউইন হাবল (Edwin Hubble) পর্যবেক্ষণ করেন যে, আমাদের আশেপাশের গ্যালাক্সিগুলি ক্রমশ একে অপর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। হাবল একটি বিশেষ প্রভাব, “লাল স্থানচ্যুতি” (Redshift) লক্ষ্য করেন, যা বলে দেয় যে, দূরের গ্যালাক্সিগুলি যখন আমাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, তখন তাদের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য লাল বর্ণের দিকে সরে যায়। হাবলের এই আবিষ্কার থেকে প্রমাণিত হয় যে, মহাবিশ্ব ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে। এই ধারণাটি ব্যাখ্যা করে যে, যদি আমরা সময়কে উল্টে দিই, তবে সমস্ত গ্যালাক্সি একসময় একটি বিন্দুতে মিলিত হবে, যা বিগ ব্যাং তত্ত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।


কসমিক ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন (CMB) বা মহাজাগতিক ক্ষুদ্রতরঙ্গ বিকিরণ

কসমিক ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন (Cosmic Microwave Background – CMB) বা মহাজাগতিক ক্ষুদ্রতরঙ্গ বিকিরণ বিগ ব্যাং তত্ত্বের অন্যতম শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৯৬৫ সালে অরনো পেনজিয়াস এবং রবার্ট উইলসন নামক দুই বিজ্ঞানী আকস্মিকভাবে মহাকাশ থেকে আসা একটি রহস্যময় মাইক্রোওয়েভ বিকিরণ শনাক্ত করেন, যা সমগ্র মহাবিশ্বে সমানভাবে ছড়িয়ে রয়েছে। এই বিকিরণটি আসলে বিগ ব্যাংয়ের পরপরই মহাবিশ্বের তাপ বিকিরণের অবশিষ্টাংশ, যা আমাদের বর্তমান মহাবিশ্বে ২.৭৩ কেলভিন তাপমাত্রায় বিরাজমান। যখন মহাবিশ্ব খুবই তরুণ এবং ঘন ছিল, তখন এটি ছিল একটি অত্যন্ত উত্তপ্ত ও প্লাজমার মতো অবস্থায়। বিগ ব্যাং-এর প্রায় ৩৮০,০০০ বছর পর মহাবিশ্ব ঠাণ্ডা হতে শুরু করে এবং ইলেকট্রন ও প্রোটনের সংযুক্তিতে প্রথম নিউট্রাল হাইড্রোজেন পরমাণু গঠিত হয়। এই সময় থেকেই আলো বা ফোটন বাধাহীনভাবে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং এই বিকিরণ পরবর্তীতে মাইক্রোওয়েভ রূপে পরিণত হয়, যা আমরা আজ CMB বিকিরণ হিসেবে দেখতে পাই। এই বিকিরণ আমাদের চারপাশের মহাবিশ্বের সমস্ত দিক থেকে আসে এবং এটি প্রমাণ করে যে, মহাবিশ্ব একসময় একটি অতি ঘন ও উত্তপ্ত বিন্দু থেকে প্রসারিত হয়েছে। CMB বিকিরণকে মহাবিশ্বের একটি প্রাচীন ছবি বলা হয়, কারণ এটি মহাবিশ্বের প্রাথমিক পর্যায়ের তথ্য ধারণ করে এবং এর বিস্তার, গঠন, এবং ঘনত্বের বণ্টন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ উপাত্ত প্রদান করে। বিজ্ঞানীরা এই বিকিরণের সামান্যতম অমসৃণতাও (anisotropies) বিশ্লেষণ করে মহাবিশ্বের বয়স, আকৃতি, এবং গঠন সম্পর্কে অনেক মূল্যবান তথ্য পেয়েছেন। এছাড়াও, CMB এর সামগ্রিক বণ্টন এবং তাপমাত্রার অতি সামান্য পরিবর্তন আমাদেরকে মহাবিশ্বের গঠন, ডার্ক ম্যাটার, এবং ডার্ক এনার্জি সম্পর্কে নতুন জ্ঞান অর্জনে সাহায্য করেছে। সুতরাং, কসমিক ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন শুধু বিগ ব্যাং তত্ত্বের সঠিকতা প্রমাণই করে না, বরং মহাবিশ্বের উৎপত্তি এবং ক্রমবিকাশ সম্পর্কে আমাদের গভীরতর অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে মহাবিশ্বের গঠন ও বিকাশের ইতিহাসের একটি মহামূল্যবান প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত।


হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের অনুপাত

বিগ ব্যাং তত্ত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হলো, মহাবিশ্বের প্রথম উপাদানগুলির অনুপাত। বিগ ব্যাং-এর পরপরই মহাবিশ্বের তাপমাত্রা এত বেশি ছিল যে, সেখানে কেবলমাত্র হাইড্রোজেন, হিলিয়াম এবং সামান্য পরিমাণে লিথিয়াম তৈরি হতে পেরেছিল। পরবর্তী সময়ে, তারা একে অপরের সাথে বিক্রিয়া করে ভারী মৌল গঠন করে। বর্তমান মহাবিশ্বে যে পরিমাণ হাইড্রোজেন (প্রায় ৭৫%) এবং হিলিয়াম (প্রায় ২৫%) আছে, তা সম্পূর্ণভাবে বিগ ব্যাং তত্ত্বের ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে মিলে যায়। এই মৌলগুলির অনুপাত ব্যাখ্যা করে যে, মহাবিশ্বের প্রাথমিক পর্যায়ে এরকম একটি তাপ ও ঘনত্বের অবস্থা বিদ্যমান ছিল, যা কেবল বিগ ব্যাং তত্ত্ব দিয়েই ব্যাখ্যা করা সম্ভব।


গ্যালাক্সির বিবর্তন এবং মহাবিশ্বের কাঠামো

বিগ ব্যাং তত্ত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হলো গ্যালাক্সির বিবর্তন এবং মহাবিশ্বের বড় কাঠামো বা স্ট্রাকচার ফরমেশন। বিগ ব্যাংয়ের পরপরই মহাবিশ্ব অত্যন্ত ঘন এবং উত্তপ্ত অবস্থায় ছিল, যেখানে পদার্থের মূল উপাদান ছিল হাইড্রোজেন এবং হিলিয়ামের মতো হালকা মৌলিক উপাদান। এই গ্যাসীয় পদার্থগুলো মহাবিশ্বের প্রসারণের সাথে সাথে ধীরে ধীরে ঠাণ্ডা হতে থাকে এবং মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে একত্রিত হয়ে বিভিন্ন গ্যাসীয় মেঘ বা ক্লাস্টার তৈরি করে। এই গ্যাসীয় মেঘগুলো পরবর্তীতে সংকুচিত হয়ে নক্ষত্র, গ্যালাক্সি, এবং গ্যালাক্সি ক্লাস্টার তৈরি করে। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা শক্তিশালী টেলিস্কোপের সাহায্যে মহাবিশ্বের বিভিন্ন দূরবর্তী গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পেয়েছেন যে, এসব গ্যালাক্সির গঠন এবং বিন্যাস ঠিক সেইভাবে ঘটছে, যেমনটি বিগ ব্যাং তত্ত্বের পূর্বাভাস প্রদান করেছে। উদাহরণস্বরূপ, আমরা যদি মহাবিশ্বের খুব দূরের গ্যালাক্সিগুলিকে পর্যবেক্ষণ করি, তখন আমরা তাদের বর্তমানের চেয়ে অনেক তরুণ অবস্থায় দেখতে পাই, কারণ আলো অনেক সময় নিয়ে আমাদের কাছে পৌঁছায়। এই দূরবর্তী গ্যালাক্সিগুলি আকারে ছোট, অনিয়মিত এবং অস্থির অবস্থায় থাকে, যা ইঙ্গিত দেয় যে, তারা তখনও তাদের বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল। এটি প্রমাণ করে যে, গ্যালাক্সিগুলি সময়ের সাথে সাথে বড় এবং জটিল কাঠামোতে পরিণত হয়েছে, যেগুলো আমরা আজ দেখতে পাই। তাছাড়া, মহাবিশ্বের বৃহৎ কাঠামোগুলো (যেমন গ্যালাক্সি সুপারক্লাস্টার, ফিলামেন্ট এবং ভয়েড) এর বিন্যাস বিগ ব্যাং তত্ত্ব অনুযায়ী ঘটে। মহাবিশ্বের গঠন প্রক্রিয়ায়, মাধ্যাকর্ষণ এবং ডার্ক ম্যাটারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যা গ্যালাক্সির গঠন এবং বিকাশে প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলেছে। এই পর্যবেক্ষণগুলো আমাদেরকে বুঝতে সাহায্য করে যে, গ্যালাক্সির বিবর্তন এবং মহাবিশ্বের বৃহৎ কাঠামো, সবই একটি সুসংগত পদ্ধতিতে বিকশিত হয়েছে এবং বিগ ব্যাং তত্ত্বের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। ফলে, গ্যালাক্সির বিবর্তন এবং মহাবিশ্বের বড় কাঠামোর পর্যবেক্ষণ বিগ ব্যাং তত্ত্বের সঠিকতা এবং বৈজ্ঞানিক ভিত্তি প্রমাণ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


মহাবিশ্বের তাপমাত্রার একরূপতা

মহাবিশ্বের তাপমাত্রার একরূপতা বা সমসাম্যতা বিগ ব্যাং তত্ত্বের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ, যা প্রমাণ করে যে মহাবিশ্বের জন্ম এক অভিন্ন ও সমসাময়িক বিন্দু থেকে হয়েছিল। বিগ ব্যাং-এর পরপরই মহাবিশ্বের তাপমাত্রা ছিল অত্যন্ত বেশি এবং সমস্ত পদার্থ ও শক্তি ছিল একটি অত্যন্ত উত্তপ্ত, ঘন প্লাজমার আকারে। যখন মহাবিশ্ব প্রসারিত হতে থাকে, তখন এর তাপমাত্রা ক্রমশ কমে যেতে থাকে। প্রায় ৩,৮০,০০০ বছর পরে, মহাবিশ্বের তাপমাত্রা এতটাই কমে যায় যে, ইলেকট্রন এবং প্রোটন মিলিত হয়ে নিউট্রাল হাইড্রোজেন পরমাণু তৈরি করতে শুরু করে, যাকে “রিকম্বিনেশন পিরিয়ড” বলা হয়। এই সময় থেকেই আলোর বিকিরণ বাধাহীনভাবে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, যা আজও কসমিক ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন (CMB) হিসেবে মহাবিশ্বের সর্বত্র সমানভাবে বিস্তৃত অবস্থায় আছে। এই বিকিরণের তাপমাত্রা বর্তমানে প্রায় ২.৭৩ কেলভিন, যা মহাবিশ্বের প্রতিটি কোণায় প্রায় একই পরিমাণে মাপা গেছে। এই তাপমাত্রার একরূপতা প্রমাণ করে যে, মহাবিশ্বের সব স্থানে পদার্থ ও শক্তি সমানভাবে ছড়িয়েছিল এবং কোনো বিশেষ স্থান থেকে এটি সৃষ্ট হয়নি, বলা চলে সব স্থান থেকেই এটি শুরু হয়েছিল বা এটি একটি একক বিন্দু থেকে বিস্তৃত হয়েছে। যদিও মহাবিশ্বের বিস্তীর্ণ পরিসরে সামান্যতম অমসৃণতা বা “এনিসোট্রপি” দেখা যায়, যা মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড বিকিরণের মাধ্যমে শনাক্ত করা গেছে, সেগুলি এতই ক্ষুদ্র যে, এগুলি শুধু মহাবিশ্বের গঠন এবং বৃহত্তর কাঠামোর সৃষ্টি বোঝাতে সাহায্য করে। এই অতি সামান্য বৈষম্য বা অমসৃণতা থেকেই গ্যালাক্সির মতো বৃহৎ কাঠামো তৈরি হয়েছে এবং মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এই প্রক্রিয়ায় ভূমিকা পালন করেছে। মহাবিশ্বের তাপমাত্রার এই একরূপতা থেকে বোঝা যায় যে, এটি একটি অভিন্ন বিন্দু থেকে শুরু হয়েছিল এবং ক্রমশ ঠাণ্ডা হয়ে বর্তমানের মহাবিশ্বে পরিণত হয়েছে, যা বিগ ব্যাং তত্ত্বের সঠিকতা ও যুক্তিসঙ্গততার পক্ষে অন্যতম শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত।


উপসংহার

বিগ ব্যাং তত্ত্ব একটি শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করে। মহাবিশ্বের ক্রমবর্ধমান প্রসারণ, কসমিক ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন, হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের অনুপাত, গ্যালাক্সির বিবর্তন এবং মহাবিশ্বের তাপমাত্রার একরূপতা—এই সকল বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও প্রমাণ বিগ ব্যাং তত্ত্বকে সমর্থন করে। এসব প্রমাণ থেকে আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, বিগ ব্যাং তত্ত্ব শুধুমাত্র একটি ধারণা নয়, বরং এটি মহাবিশ্বের সৃষ্টির প্রকৃত রূপ সম্পর্কে আমাদের গভীর জ্ঞান প্রদান করে।


Independent AI Review
তথ্যগত সঠিকতা
  • প্রবন্ধে বিগ ব্যাং তত্ত্বের মৌলিক ব্যাখ্যা — মহাবিশ্ব প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে একটি অতি ঘন ও উত্তপ্ত বিন্দু থেকে প্রসারিত হয়েছিল — সম্পূর্ণভাবে বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক এবং সমসাময়িক মহাকাশবিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
  • এডউইন হাবলের ১৯২৯ সালের লাল স্থানচ্যুতি (redshift) পর্যবেক্ষণ, পেনজিয়াস ও উইলসনের ১৯৬৫ সালের কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন (CMB) আবিষ্কার, এবং হাইড্রোজেন–হিলিয়ামের অনুপাত সম্পর্কিত তথ্য যথাযথভাবে বর্ণিত হয়েছে।
  • বিগ ব্যাং পরবর্তী ৩,৮০,০০০ বছরে রিকম্বিনেশন পিরিয়ড ও ২.৭৩ কেলভিন তাপমাত্রার CMB বিকিরণ সম্পর্কিত তথ্যও একদম নির্ভুল এবং NASA ও ESA–এর Planck মিশনের ডেটার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
যুক্তির গঠন
  • লেখাটি একটি উৎকৃষ্ট বৈজ্ঞানিক কাঠামো অনুসরণ করেছে — শুরু থেকে উপসংহার পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে (প্রসারণ → বিকিরণ → মৌল অনুপাত → কাঠামো → তাপমাত্রা → উপসংহার)।
  • প্রতিটি অনুচ্ছেদ স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং পরবর্তী অনুচ্ছেদের সাথে যৌক্তিকভাবে সংযুক্ত, ফলে পাঠক একটি সুসংগত বৈজ্ঞানিক ধারাবাহিকতা অনুভব করে।
উৎস ও প্রমাণ
  • উল্লেখিত বৈজ্ঞানিক তথ্যসমূহ সরাসরি পর্যবেক্ষণনির্ভর প্রমাণের উপর ভিত্তি করে: হাবল টেলিস্কোপ, COBE, WMAP এবং Planck স্যাটেলাইটের পর্যবেক্ষণ এই সব দাবিকে সমর্থন করে।
  • তবে লেখাটিতে কোনো নির্দিষ্ট গবেষণা প্রতিবেদন বা বিজ্ঞানী/মিশনের নাম উল্লেখ করা হলে (যেমন Planck Collaboration, 2018), একাডেমিক মান আরও শক্তিশালী হতো।
বৈজ্ঞানিক/সমসাময়িক মানদণ্ড
  • লেখাটি আধুনিক মহাকাশবিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞানের স্বীকৃত তত্ত্বের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। বিগ ব্যাং-এর বিকাশ, নিউক্লিওসিনথেসিস, ও গ্যালাক্সি ফরমেশনের ব্যাখ্যা সমসাময়িক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়।
  • লেখাটিতে “ডার্ক ম্যাটার” ও “ডার্ক এনার্জি”-র সংক্ষিপ্ত উল্লেখ পাঠককে আধুনিক কসমোলজির বিস্তৃত প্রেক্ষাপটে যুক্ত করেছে, যা একে আরও সমসাময়িক করেছে।
মূল শক্তি
  • প্রবন্ধটি একদিকে বৈজ্ঞানিক নির্ভুলতা বজায় রেখেছে, অন্যদিকে সহজ ভাষায় জটিল কসমোলজিক ধারণাগুলো উপস্থাপন করেছে — এটি পাঠযোগ্য ও শিক্ষণীয়।
  • প্রত্যেক বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ধারাবাহিকভাবে যুক্ত হওয়ায় এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ ব্যাখ্যা হিসেবে কাজ করছে।
মূল দুর্বলতা
  • যদিও সব তথ্য সঠিক, প্রবন্ধে কোনো সূত্র বা উদ্ধৃত রেফারেন্স (যেমন NASA, ESA, বা peer-reviewed paper) উল্লেখ করা হয়নি। এটি ভবিষ্যতে তথ্য যাচাই বা একাডেমিক উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি করতে পারে।
  • প্রবন্ধে “বিগ ব্যাংয়ের আগে কিছুই ছিল না” এই বাক্যটি দর্শনীয় ও পদার্থবিজ্ঞানের সীমায় একটি বিতর্কিত বিষয়; “ক্লাসিকাল স্পেসটাইমের আগে পদার্থবিদ্যার নিয়ম প্রযোজ্য ছিল না” — এমনভাবে ব্যাখ্যা করা হলে এটি আরও বৈজ্ঞানিকভাবে নিরপেক্ষ হতো।
সংশোধন ও সুপারিশ
  1. লেখায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক মিশন (COBE 1992, WMAP 2003, Planck 2018) এবং তাদের আবিষ্কারের সংক্ষিপ্ত উল্লেখ সংযোজন করা উচিত।
  2. “বিগ ব্যাংয়ের আগে কিছুই ছিল না”–এর পরিবর্তে বলা যেতে পারে: “বিগ ব্যাংয়ের আগে পদার্থবিজ্ঞানের প্রচলিত নিয়মগুলো প্রযোজ্য ছিল না, তাই ‘আগে’ ধারণাটিই অর্থহীন হয়ে পড়ে।”
  3. উপসংহারে “বিজ্ঞান এখনো অনুসন্ধান চালাচ্ছে” — এমন একটি বাক্য সংযোজন করলে এটি একাডেমিক বিনয় ও বাস্তববোধ প্রদর্শন করবে।
সারাংশ রায়
তথ্যগত সঠিকতা9.8 / 10
যুক্তির গুণমান9.5 / 10
উৎস-ব্যবহার8 / 10
সামগ্রিক স্কোর9.1 / 10

চূড়ান্ত মন্তব্য: এই প্রবন্ধটি বিগ ব্যাং তত্ত্বের একটি নির্ভুল, প্রমাণসমর্থিত ও শিক্ষণীয় উপস্থাপনা। ভাষা সহজ, তথ্য নির্ভরযোগ্য এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ নিরপেক্ষ। রেফারেন্স সংযোজন ও “পূর্বে” ধারণার ব্যাখ্যা আপডেট করলে এটি বিশ্ববিদ্যালয়-স্তরের শিক্ষাক্রমেও উপযুক্ত হতে পারে।

এই রিভিউটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। এটি কোনো মানব-সম্পাদিত রিভিউ নয়। প্রতিটি তথ্য ও রেফারেন্স যাচাই করে নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করার পর এই রিভিউ প্রস্তুত করা হয়েছে।