“মুভিং দ্যা গোলপোস্ট” একটি সুপরিচিত ইনফরমাল লজিক্যাল ফ্যালাসি (informal logical fallacy)। যখন কোনো বিতর্ক বা আলোচনায় এক পক্ষ হঠাৎ করে নতুন দাবি, নতুন মানদণ্ড বা নতুন উদ্দেশ্য আরোপ করে, অথবা আলোচনার মাঝপথে নিয়ম পরিবর্তন করে সুবিধাজনক অবস্থান দখল করতে চায়—তখন এই কৌশলকে “লক্ষ্য পরিবর্তন” বা Moving the Goalpost বলা হয়। এর উদ্দেশ্য সাধারণত প্রকৃত যুক্তি বা সত্য অনুসন্ধান নয়; বরং প্রতিপক্ষকে দুর্বল করে তর্কে যেকোনোভাবে জয়ী হওয়া।
এই ধারণাটি বোঝাতে সাধারণত একটি ফুটবল উপমা ব্যবহৃত হয়। ধরুন, দুটি দল ফুটবল খেলছে। এক দল বারবারই প্রতিপক্ষের গোলে বল পাঠাতে ব্যর্থ হচ্ছে, কারণ প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ শক্তিশালী। হতাশ হয়ে তারা খেলার নিয়মই বদলে ফেলল—নিজেদের দিকেই নতুন একটি গোলপোস্ট বানিয়ে সেখানে গোল দিতে শুরু করল। তারা দাবি করল, “এটাই এখন থেকে বৈধ গোলপোস্ট।” কিন্তু এই নিয়ম কেবল তাদের জন্য প্রযোজ্য; প্রতিপক্ষ এই নতুন গোলপোস্ট ব্যবহার করতে পারবে না। খেলার মাঝপথে এমনভাবে নিয়ম পরিবর্তন করা স্পষ্টতই অন্যায্য এবং প্রতিযোগিতার মৌলিক ন্যায়বোধের পরিপন্থী। যুক্তিতর্কে একই ধরনের আচরণই মূলত Moving the Goalpost ফ্যালাসির উদাহরণ।
এখন একটি বাস্তবধর্মী উদাহরণ দেখা যাক। ধরুন আলোচনা চলছে—“নবী মুহাম্মদ দাসীদের সাথে যৌনসম্পর্ক করতেন কি না।” বিভিন্ন ঐতিহাসিক উৎস, হাদিস ও সীরাহ-ভিত্তিক বিশ্লেষণে সাধারণত দেখা যায়—নবী মুহাম্মদের দাসী বা বন্দিনী নারীদের সাথে যৌনসম্পর্কের ঘটনা বিভিন্ন জায়গায় উল্লেখিত আছে। এখন প্রশ্ন হলো, একটি ধর্মীয় অনুগত ব্যক্তি (ধরি—“মুমিন ভাই”) যখন দেখছেন যে তথ্য-প্রমাণ তার প্রত্যাশিত অবস্থানকে সমর্থন করছে না, তখন তিনি কীভাবে তর্কে সুবিধা আদায় করতে পারেন?
এই অবস্থায় Moving the Goalpost ফ্যালাসিটি সক্রিয় হয়। আলোচনার মূল প্রশ্ন—“নবী দাসীর সাথে যৌনসম্পর্ক করেছেন কি না”—এটি বজায় না রেখে, তিনি আলোচনা সরিয়ে নিয়ে যাবেন একেবারে অন্য জায়গায়। উদাহরণস্বরূপ, তিনি বলতে শুরু করতে পারেন:
- “তৎকালীন সমাজে দাসীদের ওপর অত্যাচার হতো।”
- “নবী মুহাম্মদ কয়েকজন দাসকে মুক্ত করেছিলেন।”
- “দাস মুক্ত করা মানবিক কাজ ছিল।”
এগুলি আংশিক সত্য হতে পারে, এবং ঐতিহাসিকভাবেও সেগুলোর ভিত্তি রয়েছে। একইভাবে এটিও সত্য যে সেই যুগের অনেক মানুষ—মুসলমান হোক বা অমুসলিম—বিভিন্ন উপলক্ষে দাস মুক্ত করতেন। নবীর পরিবারেও জন্মের সময় আনন্দসূচকভাবে দাস মুক্ত করার উদাহরণ রয়েছে। কিন্তু এগুলো একেবারেই ভিন্ন আলোচনা—এগুলো মূল প্রশ্নের উত্তর নয়।
মূল প্রশ্ন ছিল: “নবী মুহাম্মদ দাসীর সাথে সহবাস করতেন কি না?”
কিন্তু Moving the Goalpost ব্যবহারের মাধ্যমে আলোচনাটি সরিয়ে নেওয়া হয় নতুন দিকে—“নবী দাস মুক্ত করেছিলেন কি না।” এটি মূল প্রশ্নকে অপ্রাসঙ্গিক করে অন্য একটি বিষয়কে কেন্দ্রে নিয়ে আসে, যেখানে বক্তা তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে দাঁড়াতে পারেন।
এ ধরনের কৌশল যুক্তিতর্কে অসততার উদাহরণ বলে বিবেচিত হয়। এটি এমন ব্যক্তিদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, যাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে বিতর্কের সত্যতা যাচাই নয়, বরং নিজের অবস্থান—যতই দুর্বল হোক না কেন—রক্ষা করা এবং মানসিক সান্ত্বনা পাওয়া। ফলে প্রকৃত যুক্তি ও বিশ্লেষণের পরিবর্তে আলোচনার উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায় “কোনোভাবে নিজেকে সঠিক প্রমাণ করা”, যা জ্ঞানমূলক আলাপ-আলোচনার পরিপন্থী।

