Table of Contents
ভূমিকা
ইসলামে চুরি (সারিকা/سَرِقَة) নিয়ে কোরআন-হাদিস ও ফিকাহে বিশেষ বিধান রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে এ ধরনের অপরাধকে ‘হুদুদ’ (আল্লাহর নির্ধারিত সীমা) হিসেবে ধরা হয় এবং এর জন্য কঠোর শাস্তি নির্ধারিত হয়েছে—যাদের মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত ও দৃশ্যমান হলো হাত কেটে ফেলার শাস্তি। অনেকে এই বিধানকে ধর্মীয় ঐতিহ্য ও ন্যায়বিচারের অংশ হিসেবে দেখেন, আবার আধুনিক অনেক ইসলামিক আলেমই এটিকে মানবিক ও আধুনিক আইনি মানদণ্ডের পরিপন্থী হিসেবে তীব্রভাবে সমালোচনা করেন।
এই প্রবন্ধের উদ্দেশ্য হলো—শরীয়তে চুরির জন্য হাত কাটা বিধানের সূত্রীকরণ, তার শর্তশীপি ও প্রমাণের মানদণ্ড ব্যাখ্যা করা এবং আধুনিক মানবাধিকার, অপরাধনীতি ও সামাজিক পুনর্বাসনের দৃষ্টিকোণ থেকে তার সমস্যা বিশ্লেষণ করা। প্রবন্ধে কোরআন, হাদিস ও ধ্রুপদী ফিকাহ সূত্রের উল্লেখ থাকবে; পাশাপাশি আধুনিক রাষ্ট্রগুলোতে এর প্রয়োগ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মান ও বিকল্প ন্যায্য-নিরপেক্ষ বিচারপ্রক্রিয়ার প্রয়োজনও আলোচনা করা হবে।
কোরআন, হাদিস ও ক্লাসিক ফিকাহ: হাত কাটা বিধানের উৎস ও শর্ত
কোরআনে চুরি-শাস্তির সবচেয়ে সঠিক ও সরাসরি আয়াত হলো— “আর চোর ও চোরনী তাদের হাত কেটে দাও… ” – সূরা আল-মায়িদা ৫:৩৮ [1] ঐ আয়াতটি শরীয়তের হুদুদ-শাস্তির অন্যতম ভিত্তি। কোরআন-আয়াতটি সরাসরি নির্দেশ দিলেও, ইসলামী ঐতিহ্যে হাদিস, তফসির ও ফিকাহি ব্যাখ্যা মিলে এ বিধান বাস্তবায়নের জন্য একটি জটিল শর্ত-শৃঙ্খলা স্থাপন করে—যা পরবর্তীতে ফিকাহি গ্রন্থগুলিতে বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে।
আর চোর ও চোরনী তাদের হাত কেটে দাও, তাদের কৃতকর্মের ফল স্বরূপ, আল্লাহর পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। আল্লাহ হলেন মহাপরাক্রান্ত, মহাবিজ্ঞানী।
Taisirul Quran
আর যে পুরুষ চুরি করে এবং যে নারী চুরি করে, তোমরা তাদের কৃতকর্মের সাজা হিসাবে তাদের (ডান হাত) কেটে ফেল, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি, আর আল্লাহ অতিশয় ক্ষমতাবান, মহা প্রজ্ঞাময়।
Sheikh Mujibur Rahman
আর পুরুষ চোর ও নারী চোর তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও তাদের অর্জনের প্রতিদান ও আল্লাহর পক্ষ থেকে শিক্ষণীয় আযাবস্বরূপ এবং আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
Rawai Al-bayan
আর পুরুষ চোর ও নারী চোর, তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও; তাদের কৃতকর্মের ফল ও আল্লাহর পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে (১)। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
( কোরআন ৫ঃ৩৮ )
সহীহ মুসলিম
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অধ্যায়ঃ ৩০/ অপরাধের শাস্তি
৪২৫৯। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) … ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম একটি ঢাল চুরির অপরাধে এক চোরের হাত কর্তন করেন। ঢালটির মূল্য ছিল তিন দিরহাম।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৩০/ অপরাধের শাস্তি
৪২৫১। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও ইবনু আবূ উমার (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম এক দ্বীনারের এক চতুর্থাংশ এবং এর অধিক পরিমাণ মূল্যের মাল চুরির অপরাধে চোরের হাত কর্তন করতেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
সুনানে ইবনে মাজাহ
অধ্যায়ঃ ১৪/ হদ্দ (দন্ড)
১/২৫৮৩। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম বলেছেনঃ চোরের প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত, ডিম চুরি করার অপরাধে যার হাত কাটা যায় এবং রশি চুরি করার অপরাধে যার হাত কাটা যায়।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৩০/ অপরাধের শাস্তি
৪২৬১। আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা অভিসম্পাত করেন সে চোরের ওপর, যে একটি ডিম (বা ডিমের মূল্যের পরিমাণ বস্তু) চুরি করল। এতে তার হাত কাটা যাবে। আর যে ব্যক্তি একটি দড়ি (কিংবা দড়ির সমম্যূল্যর পরিমাণ বস্তু) চুরি করল, তারও হাত কাটা যাবে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
সুনানে ইবনে মাজাহ
তাওহীদ পাবলিকেশন
অধ্যায়ঃ ১৪/ হদ্দ (দন্ড)
১/২৫৮৭। ইবনে মুহাইরীঝ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ফাদালা ইবনে উবাইদ (রাঃ) কে কর্তিত হাত কাঁধের সাথে ঝুলিয়ে দেয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, এটাই নিয়ম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম এক ব্যক্তির হাত কেটে তা তার কাঁধের সাথে ঝুলিয়ে দিয়েছেন।
হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai’f)
উপরের হাদিসগুলোতে দেখা যায়, হাত কাটা বিধানের প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরিমাণমূল্য (নিসাব), অপরাধীর বয়স, মানসিক অবস্থা ও অপরাধের পরিস্থিতি বিবেচ্য—এবং একইসাথে হুকুম প্রদান করা হয়েছে পুনরাবৃত্ত অপরাধীদের জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও। ধ্রুপদী ফিকাহ শাস্ত্রে—মালিকানার স্বীকৃতি, জোরপূর্বকতা, দুর্ভিক্ষ বা অনাহারে চুরি করা ইত্যাদি বিষয়গুলো বিবেচ্য ছিল; আর শাস্তি আরোপের ক্ষেত্রে কড়া প্রমাণ-চাহিদা (সাক্ষী, স্বীকারোক্তি) রাখা হত। [2]
তবে ফিকাহ-স্কলারদের মধ্যেও পার্থক্য ছিল। কিছু মাযহাব (যেমন মালিকী, শাফি–র কিছু ব্যাখ্যা, হাম্বলি) ছিলেন তুলনামূলক কড়, অন্যদিকে হানাফী মাযহাবে অনেকে হুদুদের ক্ষেত্রে বিচারকের বিবেচ্য (তাযীর) দন্ডের জায়গা রেখেছেন। পাশাপাশি অনেক শাস্তি কেবলমাত্র যদি চুরি স্বপ্নসত্যে সম্মিমাংসিত প্রমাণ থাকে (নিসাব মূল্য ছাড়িয়ে, স্বাধীন প্রাপ্তবয়স্ক ও সচ্ছল ব্যক্তি) তবেই প্রয়োগযোগ্য—নাহলে তা তাযীর বা প্রশাসনিক শাস্তিতে রূপান্তরিত হতো। [3]
শাস্তির ব্যবহার ও প্রমাণের কড়াকড়ি—তথ্য ও সমস্যা
ধ্রুপদী ফিকাহ কিতাবগুলোতে হুদুদের প্রয়োগে অত্যন্ত কড়া প্রমাণ-মানদণ্ড রাখা হয়েছে—চুরি-মুল্য (নিসাব) অতিক্রম করতে হবে, মাল স্বচ্ছভাবে চুরি করা হয়েছে তা নিশ্চিত হতে হবে, মালিক নিজ ইচ্ছায় অভিযোগ করেছে ইত্যাদি। তবু ইতিহাসে দেখা যায় যে—বহু সময়ে বিচারব্যবস্থার দুর্বল, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও আর্থ-সামাজিক দুরবস্থার কারণে এই শাস্তি ভুলভাবে প্রয়োগ হয়েছে। কারণ এই ধরণের শাস্তি আসলে ভুলভাবে প্রয়োগের সম্ভাবনা খুবই বেশি। অনেকে দাবি করেছেন যে শুধুমাত্র চোরকে শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে অপরাধ দমন হয়—কিন্তু অপরাধবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের মেধায় এর তাত্ত্বিক ও প্রাসঙ্গিক প্রমাণ দুর্বল। চুরির মূল কারণ দারিদ্র, বেকারত্ব, সামাজিক অসাম্য, এমনকি মানসিক সমস্যা—এসব সমস্যা সমাধান না করে শুধুমাত্র শারীরিক শাস্তি আরোপ করা দীর্ঘমেয়াদে অপরাধহ্রাসে কার্যকর প্রমাণিত হয়নি। [4]
আধুনিক রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক আইন: মানবাধিকারবাদের প্রসঙ্গ
আধুনিক আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার মানদণ্ড (UDHR, ICCPR) ব্যক্তির শারীরিক অখণ্ডতা ও অমানবিক/অপমানজনক শাস্তি থেকে মুক্তির কথা বলে। [5] হাত কাটা, গিলট চাপা বা প্রকাশ্যে আত্মহত্যা করানো—এসব প্রথা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নিন্দার সম্মুখীন হয়েছে। Human Rights Watch, Amnesty International ইত্যাদি বিভিন্ন প্রতিবেদন উল্লেখ করে যে, কর্পোরাল শাস্তি ও হুদুদ-প্রয়োগে গুরুতর due process ভঙ্গ, সন্দেহভাজন প্রত্যাশিত মানদণ্ডের অবহেলা এবং পরিবেশনশীল দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ঘটে। [6]
অনেক মুসলিম-রাষ্ট্রে সাংবিধানিক আইনে মানবাধিকার আদর্শ সংযুক্ত থাকলেও, হুদুদ-ধারা প্রয়োগের ফলে চূড়ান্ত হারে মৌলিক অধিকারের হরণ সংঘটিত হয়েছে। কট্টর প্রাদেশিক বা ধর্মনির্ভর প্রশাসনে দরিদ্র, শিক্ষাবঞ্চিত বা বিশৃঙ্খল বিচারব্যবস্থাপনায় নিরপরাধদেরও শাস্তি ভোগ করতে হয়েছে—এগুলো আন্তর্জাতিক আদালত ও মানবাধিকার গোষ্ঠীর নজরে আসে। [7]
প্রয়োগের বাস্তব ফলাফল: সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পুনর্বাসনগত প্রভাব
হাত কাটা—একটি চিরস্থায়ী শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে; এটি অপকর্মীর কর্মক্ষমতা, সামাজিক সম্মান ও পরিবারের জীবিকা প্রভাবিত করে। অপরাধীর পুনর্বাসন-সম্ভাবনা কমে যায়; ফলে অপরাধ থেকে পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পেতে পারে, কারণ তারা বৈধ উপার্জনের সুযোগ হারায়। পাশাপাশি পরিবারগুলো সামাজিক কলঙ্কে পড়ে, সন্তানের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং দারিদ্র্য ঘিরেও উৎপত্তি বাড়ে—যা অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূত্রে নতুন অপরাধের বীজ বপন করে। [8]
অনেক উন্নত দেশ ও অপরাধবিজ্ঞান গবেষকরা দেখিয়েছেন যে—দণ্ডের প্রকৃতি যদি সংশোধনী ও পুনর্বাসনভিত্তিক না হয়, তবে অপরাধকমে না; বরং সামাজিক বঞ্চনা ও গরিবি থাকলে অপরাধ পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকে। এই গবেষণা অভিযোগ করে যে হিউম্যান পেনাল্টি-কেন্দ্রিক নীতি সমস্যার মূলে পৌঁছায় না। [9]
বিকল্প নীতি: তাযীর, পুনর্বাসন ও সামাজিক উদ্যোগ
অনেক আধুনিক মুসলিম স্কলার ও সমাজনীতিবিদ প্রস্তাব করেন—হুদুদ ব্যবস্থাকে বাদ রেখে, তাযীর (বিচারের বিচক্ষণতায় বিচারকের নির্ধারিত শাস্তি) ও পুনর্বাসনকেন্দ্রিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তাযীরের মধ্যে শাস্তি হতে পারে জরিমানা, সামাজিক কাজ, নির্দিষ্ট সময়ের কারাদণ্ড বা পুনরাবৃত্তি রোধক কোনো শিক্ষাদান—যা অপরাধীর মানবাধিকার রক্ষা করে এবং সমাজকে পুনরায় সামাজিকীকরণের সুযোগ দেয়। [10]
অপরাধ প্রতিরোধের দীর্ঘমেয়াদী উপায়গুলো হলো—দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ, সামাজিক নিরাপত্তা নেট ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিমালা। চুরি যদি মৌলিক দরিদ্রতার ফল হয়, তাহলে সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানোই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিকার। অধিকন্তু, সম্প্রদায়ের মধ্যকার প্রতিবন্ধকতা কমিয়ে দিয়ে অপরাধের কারণগুলো মোকাবিলা করাই কার্যকর। [11]
উপসংহার
চুরি-শাস্তি হিসেবে হাত কাটা—ইতিহাসগত পরিপ্রেক্ষিতে কোরআন ও হাদিসে তার উৎস থাকা স্বত্ত্বেও, আধুনিক রাষ্ট্র ও মানবাধিকার মাপকাঠি অনুযায়ী তা গভীরভাবে সমস্যা সৃষ্টি করে। প্রধান কারণগুলো হলো—(১) প্রমাণ ও প্রক্রিয়ার অনিশ্চয়তা, (২) আর্থসামাজিক বাস্তবতার অদৃশ্যকরন, (৩) শারীরিক শাস্তির দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি, এবং (৪) মানবাধিকারের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন।
ইসলামি আইনে চুরির অত্যন্ত কড়া শাস্তির বিধান থাকা সত্ত্বেও, আধুনিক ন্যায়কাঠামো ও মানবাধিকারের মানদণ্ড মেনে চলার লক্ষ্যে ঐ বিধানগুলোকে কেবলমাত্র ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে দেখা উচিত; বাস্তবে রাষ্ট্রের ন্যায়বিচারের লক্ষ্য হওয়া উচিত—দোষীকে শনাক্ত করা নয়, বরং সমাজকে নিরাপদ করা ও মানুষের মর্যাদা রক্ষা করা। আইন যখন মানবতার প্রতি সহানুভূতিশীল ও যুক্তিসংগত হবে, তখনই তা মানুষের কল্যাণে প্রকৃত অর্থে কাজে লাগবে।
তথ্যসূত্রঃ
- কোরআন ৫:৩৮ ↩︎
- Imam Malik, Al-Muwatta; Ibn Qudama, Al-Mughni ↩︎
- Al-Hidaya; Al-Mughni ↩︎
- criminology studies; social policy research ↩︎
- UDHR Article 5; ICCPR Article 7 ↩︎
- Human Rights Watch; Amnesty International reports ↩︎
- UN reports on corporal punishment ↩︎
- social policy studies on corporal punishment impacts ↩︎
- criminology meta-analyses ↩︎
- classical & modern jurist proposals ↩︎
- social policy & development literature ↩︎
