Sad
সাদ: 44
মূল আরবি
وَخُذْ بِيَدِكَ ضِغْثًا فَٱضْرِب بِّهِۦ وَلَا تَحْنَثْ ۗ إِنَّا وَجَدْنَـٰهُ صَابِرًا ۚ نِّعْمَ ٱلْعَبْدُ ۖ إِنَّهُۥٓ أَوَّابٌ
English Translations
[We said], "And take in your hand a bunch [of grass] and strike with it and do not break your oath." Indeed, We found him patient, an excellent servant. Indeed, he was one repeatedly turning back [to Allāh].
"And take in your hand a bundle of thin grass and strike therewith (your wife), and break not your oath. Truly! We found him patient. How excellent (a) slave! Verily, he was ever oft-returning in repentance (to Us)!
And (We said to him,) “Take (a bundle of) thin twigs in your hand, and strike with it, and do not violate your oath. Surely, We found him very enduring. He was really an excellent servant. Surely, he was great in turning (to Us, in penitence and praise).
(and We said to him): “Take in your hand a bundle of rushes and strike with it, and do not break your oath.” Indeed We found him steadfast. How excellent a servant (of Ours) he was. Indeed he constantly turned (to his Lord).
And (it was said unto him): Take in thine hand a branch and smite therewith, and break not thine oath. Lo! We found him steadfast, how excellent a slave! Lo! he was ever turning in repentance (to his Lord).
"And take in thy hand a little grass, and strike therewith: and break not (thy oath)." Truly We found him full of patience and constancy. How excellent in Our service! ever did he turn (to Us)!
বাংলা অনুবাদ
(আমি তাকে বললাম) কিছু ঘাস লও আর তা দিয়ে আঘাত কর, (আর তোমার স্ত্রীকে একশত বেত্রাঘাত করার শপথ) ভঙ্গ করো না। আমি তাকে পেয়েছিলাম পূর্ণ ধৈর্যশীল, কতই না উত্তম বান্দাহ, প্রকৃতই (আল্লাহ) অভিমুখী।
আর তুমি তোমার হাতে এক মুঠো তৃণলতা নাও এবং তা দিয়ে আঘাত কর। আর কসম ভংগ করো না। নিশ্চয় আমি তাকে ধৈর্যশীল পেয়েছি। সে কতই না উত্তম বান্দা! নিশ্চয়ই সে ছিল আমার অভিমুখী।
আমি তাকে আদেশ করলামঃ এক মুষ্টি তৃণ তুলে নাও এবং তা দ্বারা আঘাত কর ও শপথ ভঙ্গ করনা। আমি তাকে পেলাম ধৈর্যশীল। কত উত্তম বান্দা সে! সে ছিল আমার অভিমুখী।
'আর (আমি তাকে আদেশ করলাম) একমুঠ ঘাস নিন এবং তা দ্বারা আঘাত করুন এবং শপথ ভঙ্গ করবেন না।' নিশ্চয় আমরা তাকে পেয়েছি ধৈর্যশীল। কতই উত্তম বান্দা তিনি! নিশ্চয় তিনি ছিলেন আমার অভিমুখী।
এক মুঠো তৃণশলা হাতে নাও, তারপর তা দিয়ে আঘাত কর এবং শপথ ভঙ্গ কর না। আমি তাকে অবশ্যই ধৈর্যশীল পেয়েছি। সে ছিল কত উত্তম বান্দা! সে ছিল আল্লাহ অভিমুখী।
৪৪. আইয়ুব (আলাইহিস-সালাম) স্বীয় স্ত্রীর উপর রাগান্বিত হয়ে শপথ করলেন যে, তিনি তাকে এক শত বেত্রাঘাত করবেন। তখন আমি তাঁকে বললাম: হে আইয়ুব! আপনি নিজ হাতে কিছু ডালপালা নিন এবং সেগুলো দিয়ে আপনার শপথ পূর্ণ করার উদ্দেশ্যে আঘাত করুন। আমি তাঁকে যে বিষয়েই পরীক্ষা করেছি তাতেই তাঁকে ধৈর্য ধারণকারী হিসাবে পেয়েছি। তিনি কতোইনা উত্তম বান্দাহ। তিনি আল্লাহর দিকে অনেক বেশী প্রত্যাবর্তনকারী।
তাফসীর
38:41
'আর (আমি তাকে আদেশ করলাম) একমুঠ ঘাস নিন এবং তা দ্বারা আঘাত করুন এবং শপথ ভঙ্গ করবেন না।' নিশ্চয় আমরা তাকে পেয়েছি ধৈর্যশীল [১]। কতই উত্তম বান্দা তিনি! নিশ্চয় তিনি ছিলেন আমার অভিমুখী।
[১] ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, আইয়ুব আলাইহিস সালামের অসুস্থতার সময় একদা শয়তান চিকিৎসকের বেশে আইয়ুব আলাইহিস সালামের পত্নীর সাথে সাক্ষাত করেছিল। তিনি ওকে চিকিৎসক মনে করে স্বামীর চিকিৎসা করতে অনুরোধ করেন। শয়তান বলল, এই শর্তে চিকিৎসা করতে পারি যে, আরোগ্য লাভ করলে একথার স্বীকৃতি দিতে হবে যে, আমিই তাকে আরোগ্য দান করেছি। এ স্বীকৃতিটুকু ছাড়া আমি আর কোন পারিশ্রমিক চাই না। স্ত্রী আইয়ূবকে একথা বললে, তিনি বললেন -তোমার সরলতা দেখে সত্যই দুঃখ হয়। ওতো শয়তান ছিল। এ ঘটনার বিশেষতঃ তার স্ত্রীর মুখ দিয়ে শয়তান কর্তৃক এমন একটা প্রস্তাব তার সামনে উচ্চারিত করানোর বিষয়টা তিনি স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারলেন না।
তিনি খুব দুঃখ পেলেন। কারণ, প্রস্তাবটা ছিল শেরেকীতে লিপ্ত করার একটা সূক্ষ্ম অপপ্রয়াস। তাই তিনি শপথ করে বসলেন যে, আল্লাহ তাআলা আমাকে সুস্থ করে তুললে স্ত্রীর এ অপরাধের জন্য তাকে একশত বেত্ৰাঘাত করব। সে ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করেই আল্লাহ পাক নির্দেশ দিচ্ছেন, শপথ ভঙ্গ করো না, বরং হাতে এক মুঠে তৃণশলাকা নিয়ে তদ্বারা স্ত্রীকে একশত বেত্ৰাঘাত করে শপথ পূর্ণ কর। তবে কোন অসমীচীন কাজের প্রতিজ্ঞা করলে তা ভেঙ্গে কাফফারা আদায় করাই শরীআতের বিধান। এক হাদীসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “যে ব্যক্তি কোন প্রতিজ্ঞা করে, অতঃপর দেখে যে, এ প্রতিজ্ঞার বিপরীত কাজ করাই উত্তম, তবে তার উচিত উত্তম কাজটি করা এবং প্রতিজ্ঞার কাফফারা আদায় করা।
[মুসলিম: ১৬৫০]
[সূরা সোয়াদ (৩৮): আয়াত ৪৪] পূর্ণ পৃষ্ঠা
এবং বখত নসরকে শাস্তি প্রদান করা হয়েছিল এবং সাত বছর পর্যন্ত তাকে হিংস্র পশুর রূপে রূপান্তরিত করে রাখা হয়েছিল। আবু নুআইম এটি উল্লেখ করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন দশ বছর, আবার কেউ বলেছেন আঠারো বছর। আল-মাওয়ার্দি যা উল্লেখ করেছেন তাতে আনাস (রা.) এটি মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: ইবনুল মুবারক এটি উল্লেখ করেছেন; তিনি বলেন, ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উকাইল থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আইয়ুব (আলাইহিস সালাম) এবং তাঁর ওপর আপতিত বিপদ-মুসিবত সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং উল্লেখ করেন যে, তাঁর ওপর এই বিপদ আঠারো বছর স্থায়ী ছিল।
আল-কুশায়রীও এই হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। আবার কেউ কেউ চল্লিশ বছর বলেছেন। মহান আল্লাহর বাণী: "আর আমি তাকে দান করলাম তার পরিবারবর্গ এবং তাদের সাথে তাদের সমপরিমাণ আরও"—এর আলোচনা ইতিপূর্বে 'আল-আম্বিয়া' সূরায় অতিক্রান্ত হয়েছে। "আমার পক্ষ থেকে রহমত স্বরূপ" অর্থাৎ আমার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ হিসেবে। "এবং বুদ্ধিমানদের জন্য উপদেশ স্বরূপ" অর্থাৎ জ্ঞানসম্পন্নদের জন্য শিক্ষা হিসেবে। [সূরা সোয়াদ (৩৮): আয়াত ৪৪]আর তুমি তোমার হাতে এক মুষ্ঠি তৃণগুচ্ছ গ্রহণ করো এবং তা দিয়ে আঘাত করো এবং তোমার শপথ ভঙ্গ করো না। নিশ্চয়ই আমি তাকে ধৈর্যশীল পেয়েছি।
কতই না চমৎকার বান্দা তিনি! নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন আল্লাহর প্রতি পরম প্রত্যাবর্তনকারী। (৪৪)এর মধ্যে সাতটি মাসআলা বা আলোচ্য বিষয় রয়েছে: প্রথমটি— আইয়ুব (আলাইহিস সালাম) তাঁর অসুস্থ থাকাকালীন শপথ করেছিলেন যে, তিনি তাঁর স্ত্রীকে একশত কশাঘাত করবেন। এর কারণ সম্পর্কে চারটি মত রয়েছে: প্রথমটি— যা ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, ইবলিস একজন চিকিৎসকের বেশে তাঁর স্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে এবং তাঁর স্ত্রীকে আইয়ুবের চিকিৎসার প্রস্তাব দেয়। সে বলল, আমি তাঁর চিকিৎসা করব এই শর্তে যে, তিনি আরোগ্য লাভ করলে বলবেন— 'তুমিই আমাকে সুস্থ করেছ', আমি এ ছাড়া অন্য কোনো প্রতিদান চাই না।
স্ত্রী এতে সম্মত হলেন এবং আইয়ুবের কাছে বিষয়টি প্রস্তাব করলেন। তখন আইয়ুব (আলাইহিস সালাম) শপথ করলেন যে তিনি তাকে অবশ্যই (একশত বার) প্রহার করবেন। তিনি বললেন: তোমার ধ্বংস হোক, ও তো শয়তান ছিল। দ্বিতীয়টি— যা সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব বর্ণনা করেছেন যে, স্ত্রী আইয়ুবের জন্য স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত রুটি নিয়ে এসেছিলেন। এতে তিনি তাঁর পক্ষ থেকে কোনো অনৈতিক আচরণের আশঙ্কা করলেন এবং শপথ করলেন যে তাকে অবশ্যই মারবেন। তৃতীয়টি— যা ইয়াহইয়া ইবনে সাল্লাম এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন: শয়তান তাঁকে প্ররোচিত করেছিল যেন তিনি আইয়ুবকে প্ররোচনা দেন আল্লাহর নৈকট্য লাভের পরিবর্তে অন্য কোনো উদ্দেশ্যে একটি ছাগল জবাই করার জন্য এবং তা করলে তিনি সুস্থ হয়ে যাবেন।
তিনি যখন আইয়ুবের কাছে এটি উল্লেখ করলেন, তখন তিনি শপথ করলেন যে যদি তিনি সুস্থ হন তবে তাঁকে একশত বেত্রাঘাত করবেন। চতুর্থটি— বলা হয়েছে যে, স্ত্রী যখন আইয়ুবের আহারের জন্য কিছুই খুঁজে পাচ্ছিলেন না, তখন তিনি তাঁর চুলের বিনুনি দুটি রুটির বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। আইয়ুব (আলাইহিস সালাম) যখন উঠে দাঁড়াতে চাইতেন তখন তাঁর চুলের ওপর ভর দিতেন (অথবা এর সাথে তাঁর প্রয়োজন জড়িত ছিল), এ কারণে তিনি শপথ করেছিলেন যে তাকে অবশ্যই মারবেন। অতঃপর আল্লাহ যখন তাঁকে আরোগ্য দান করলেন, তখন তাঁকে এক মুষ্ঠি তৃণগুচ্ছ নিয়ে তা দিয়ে আঘাত করার নির্দেশ দিলেন...(১).
'রূপান্তরিত হওয়া' বা বিকৃত হওয়া অর্থে; সা'লাবীর 'কাসাসুল আম্বিয়া'-তে দানিয়ালের কাহিনী দেখুন।(২). দ্রষ্টব্য: খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ৩২৩ এবং পরবর্তী অংশ, প্রথম বা দ্বিতীয় মুদ্রণ।
