Sad

সাদ: 1

38:1
টেক্সট কপি
38 সাদ Sad · 88 আয়াত ص

মূল আরবি

صٓ ۚ وَٱلْقُرْءَانِ ذِى ٱلذِّكْرِ

English Translations

Sahih International

Ṣād. By the Qur’ān containing reminder...

Muhsin Khan

Sad [These letters (Sad etc.) are one of the miracles of the Quran and none but Allah (Alone) knows their meanings]. By the Quran full of reminding.

Taqi Usmani

Sād . I swear by the Qur’ān, (the book) containing advice, (this is true,)

Abul Ala Maududi

Sad, and by the Qur'an full of exhortation!

Pickthall

Sad. By the renowned Qur'an,

Yusuf Ali

Sad: By the Qur'an, Full of Admonition: (This is the Truth).

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

স্ব-দ, উপদেশপূর্ণ কুরআনের শপথ- (এটা সত্য)।

রাওয়াই আল-বায়ান

সোয়াদ; কসম উপদেশপূর্ণ কুরআনের।

শাইখ মুজিবুর রহমান

সা‘দ, শপথ উপদেশপূর্ণ কুরআনের!

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

সোয়াদ, শপথ উপদেশপূর্ণ কুরআনের!

ফাতহুল মাজীদ

সোয়াদ, শপথ কুরআনের যা উপদেশে পরিপূর্ণ।

মুখতাসার

১. সা-দ, এসব বিচ্ছিন্ন অক্ষরের অর্থের ব্যাপারে আলোচনা সূরা বাক্বারার শুরুতে করা হয়েছে। কুরআনের নামে আল্লাহ শপথ করেছেন। যাতে মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন উপকারী বিষয়াদি বিবৃত হয়েছে। এটা মুশরিকদের ধারণা অনুযায়ী আল্লাহর সাথে অন্য শরীক প্রমাণ করার জন্য নয়।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

১-৩ নং আয়াতের তাফসীর: হুরফে মুকাত্তা'আত যেগুলো সূরাসমূহের শুরুতে এসে থাকে, ওগুলোর পূর্ণ তাফসীর সূরায়ে বাকারার শুরুতে গত হয়েছে। এখানে মহান আল্লাহ কুরআন কারীমের শপথ করেছেন এবং ওকে শিক্ষা ও উপদেশপূর্ণ বলেছেন। কেননা এর কথার উপর আমলকারীদের দ্বীন ও দুনিয়া সুন্দর ও কল্যাণময় হয়ে থাকে। অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “অবশ্যই আমি তোমাদের উপর কিতাব (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি যার মধ্যে তোমাদের জন্যে উপদেশ রয়েছে।”(২১:১০) ভাবার্থ এটাও যে, কুরআন ইযযত, সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী। কারো কারো মতে কসমের উত্তর হলো ... (আরবী) অর্থাৎ “প্রত্যেকেই রাসূলদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে।” (৩৮:১৪) কেউ কেউ বলেন যে, কসমের জবাব হলোঃ (আরবী) অর্থাৎ “নিশ্চয়ই ওটা সত্য।” (৩৮:৬৪) কিন্তু এটা খুব সঠিক বলে মনে হচ্ছে না।

কাতাদা (রঃ) বলেন যে, এর জবাব হলো এর পরবর্তী আয়াতটি। ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) এটাকেই পছন্দ করেছেন। কোন কোন আরবী ভাষাবিদ বলেছেন যে, এই কসমের জবাব হলো (আরবী) এবং এর অর্থ হলো সভ্যতা। একটি উক্তি এও আছে যে, সম্পূর্ণ সূরাটির সারমর্মই হলো এই কসমের জবাব। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ এই কুরআন তো হলো সরাসরি শিক্ষা ও উপদেশ। কিন্তু এর দ্বারা উপকার শুধু সেই লাভ করতে পারে যার অন্তরে ঈমান রয়েছে। কাফির লোকেরা এটা হতে উপকার লাভে বঞ্চিত থাকে। কেননা, তারা অহংকারী এবং এর চরম বিরোধী। তাদের উচিত তাদের ন্যায় পূর্ববর্তী লোকদের পরিণাম চিন্তা করা এবং নিজেদের পরিণাম সম্পর্কে ভীত-সন্ত্রস্ত থাকা।

পূর্ববর্তী উম্মতদেরকে এরূপই অপরাধের কারণে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। আল্লাহর আযাব এসে যাওয়ার পর তারা খুব কান্নাকাটি করেছিল। কিন্তু ঐ সময় সবই বৃথা হয়েছিল। যেমন আল্লাহ পাক বলেনঃ .... (আরবী) অর্থাৎ “যখন তারা আমার আযাব অনুভব করলো তখন তা থেকে বাঁচতে ও পালাতে ইচ্ছা করলো, কিন্তু তা কিরূপে সম্ভব ছিল?” (২১:১২) হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, এখন পালাবারও সময় নয় এবং ফরিয়াদেরও সময় নয়। তখন ফরিয়াদ কেউ শুনবে না এবং কিছু উপকারও করতে পারবে না। যতই কান্নাকাটি ও চীৎকার করুক না কেন সবই বিফল হবে। ঐ সময় তাওহীদকে স্বীকার করলেও কোন লাভ হবে না এবং তাওবা করেও কোন উপকার হবে না।

এটা হবে অসময়ের চীৎকার ও কান্না। এখানে (আরবী) শব্দটি (আরবী)-এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে (আরবী) টি অতিরিক্ত। যেমন (আরবী) কে (আরবী) এবং (আরবী) কে বলা হয়ে থাকে। এই দুই স্থানেও (আরবী) টি অতিরিক্ত।ইমাম ইবনে জারীর (রঃ)-এর উক্তি এই যে, এই (আরবী) টি (আরবী)-এর সাথে মিলিত রয়েছে। অর্থাৎ (আরবী) হবে। কিন্তু প্রথম উক্তিটিই সমধিক খ্যাত। জমহুর (আরবী)-কে যবরের সাথে পড়েছেন। ভাবার্থ হলোঃ এটা আক্ষেপ ও হা-হুতাশ করার সময় নয়। কেউ কেউ (আরবী)-কে যের দিয়ে পড়াকেও বৈধ বলেছেন। ভাষাবিদরা বলেন যে, (আরবী)-এর অর্থ হলো পিছনে সরে আসা এবং (আরবী) বলা হয় সম্মুখে অগ্রসর হওয়াকে।

সুতরাং অর্থ হলোঃ এটা পালাবার ও বের হয়ে যাবার সময় নয়। এসব ব্যাপারে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী একমাত্র আল্লাহ।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

সোয়াদ [১], শপথ উপদেশপূর্ণ কুরআনের!

[১] ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, এই সূরার প্রাথমিক আয়াতগুলো কাফের-মুশরিক ও তাদের সেই মজলিসের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। অর্থাৎ আবু তালিব ও আবু জাহলসহ কুরাইশ কাফেরদের অন্যান্য নেতৃবর্গের প্রস্তাব সম্পর্কিত ঘটনা। যখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়েছিল [মুস্তাদরাকে হাকিম: ২/৪৩২] এ ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ হচ্ছে এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পিতব্য আবু তালেব ইসলাম গ্ৰহণ না করা সত্ত্বেও ভ্রাতুস্পুত্রের পূর্ণ দেখা-শোনা ও হেফাযত করে যাচ্ছিলেন। তিনি যখন রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লেন, তখন কোরাইশ সরদাররা এক পরামর্শসভায় মিলিত হল।

এতে আবু জাহল, আস ইবনে ওয়ায়েল, আসওয়াদ ইবনে মুত্তালিব, আসওয়াদ ইবনে আবদে ইয়াগুস ও অন্যান্য সরদার যোগদান করল। তারা পরামর্শ করল যে, আবু তালেব রোগাক্রান্ত। যদি তিনি মারা যান এবং তার অবর্তমানে আমরা মুহাম্মদ-এর বিরুদ্ধে কোন কঠোর ব্যবস্থা গ্ৰহণ করি, তবে আরবের লোকেরা আমাদেরকে দোষারোপ করার সুযোগ পাবে। বলবে: আবু তালেবের জীবদ্দশায় তো তারা মুহাম্মদ-এর কেশাগ্রও স্পর্শ করতে পারল না, এখন তার মৃত্যুর পর তাকে উৎপীড়নের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। তাই আমরা আবু তালেব জীবিত থাকতেই তার সাথে মুহাম্মদ এর ব্যাপারে একটা মীমাংসায় উপনীত হতে চাই, যাতে সে আমাদের দেব-দেবীর নিন্দাবাদ পরিত্যাগ করে।

সে মতে তারা আবু তালেবের কাছে গিয়ে বললঃ আপনার ভ্রাতুস্পপুত্র আমাদের উপাস্য দেব-দেবীর নিন্দা করে। আবু তালেব রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মজলিসে ডেকে এনে বললেন: ভ্রাতুস্পুত্র, এ কোরাইশ সরদাররা তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে যে, তুমি নাকি তাদের উপাস্য দেব-দেবীর নিন্দা কর। তাদেরকে তাদের ধর্মে ছেড়ে দাও এবং তুমি আল্লাহর ইবাদত করে যাও। অবশেষে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: চাচাজান, “আমি কি তাদেরকে এমনি বিষয়ের প্রতি দাওয়াত দেবো না, যাতে তাদের মঙ্গল রয়েছে?” আবু তালেব বললেন: সে বিষয়টি কি?

তিনি বললেন: আমি তাদেরকে এমন একটি কালেমা বলতে চাই, যার বদৌলতে সমগ্র আরব তাদের সামনে মাথা নত করবে এবং তারা সমগ্ৰ অনারবদের অধীশ্বর হয়ে যাবে। একথা শুনে আবু জাহল বলে উঠল: বল, সে কলেমা কি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ “লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ”। একথা শুনে সবাই পরিধেয় বস্ত্র ঝেড়ে উঠে দাঁড়াল এবং বললঃ আমরা কি সমস্ত দেব-দেবীকে পরিত্যাগ করে মাত্র একজনকে অবলম্বন করব? এ যে, বড়ই বিস্ময়কর ব্যাপার! এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে সূরা ছোয়াদের আলোচ্য আয়াতগুলো নাযিল হয়। [দেখুন, তিরমিয়ী: ৩২৩২. আত-তাফসীরুস সহীহ 8/২১৭]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা সোয়াদ (৩৮): আয়াত ১ থেকে ৩] পূর্ণ পৃষ্ঠা

চতুর্থ বিষয়- মহান আল্লাহর বাণী: "এবং রাসূলগণের প্রতি সালাম (শান্তি) বর্ষিত হোক" অর্থাৎ তারা যারা আল্লাহর পক্ষ থেকে একত্ববাদ ও রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন। আনাস (রা.) বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যখন তোমরা আমার প্রতি সালাম পেশ করো, তখন যেন রাসূলগণের প্রতিও সালাম পেশ করো। কারণ আমি তো রাসূলগণের মধ্য হতেই একজন রাসূল।" আরও বলা হয়েছে: "রাসূলগণের প্রতি সালাম" এর অর্থ হলো কিয়ামতের সেই মহাভীতির দিনে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য নিরাপত্তা। "এবং সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য" অর্থাৎ রাসূলগণকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণের জন্য।

আরও বলা হয়েছে: অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা সমস্ত সৃষ্টির ওপর যে সকল নিয়ামত দান করেছেন তার জন্য প্রশংসা। আবার বলা হয়েছে: অর্থাৎ মুশরিকদের ধ্বংসের কারণে প্রশংসা; এর প্রমাণ হলো আল্লাহর বাণী: "অতঃপর জালেম সম্প্রদায়ের মূলোৎপাটন করা হলো এবং সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।" [আল-আনআম: ৪৫]। আমি (গ্রন্থকার) বলি: এখানে সবগুলো অর্থই উদ্দেশ্য হতে পারে এবং 'হামদ' বা প্রশংসা বিষয়টি ব্যাপক। আর "তারা যা বর্ণনা করে" এর অর্থ হলো তারা যা মিথ্যাচার করে; এর নিহিত অর্থ হলো তারা যে মিথ্যা বর্ণনা করে তা থেকে (আল্লাহ পবিত্র)। সূরা আস-সাফফাত-এর তাফসীর সমাপ্ত।

‌‌[সূরা সোয়াদ-এর তাফসীর]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সূরা সোয়াদ সকলের ঐকমত্যে মক্কী সূরা। এটি ছিয়াশিটি আয়াত বিশিষ্ট; মতান্তরে আটাশিটি আয়াত। ‌‌[সূরা সোয়াদ (৩৮): আয়াত ১ থেকে ৩]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামেসোয়াদ, শপথ উপদেশপূর্ণ কুরআনের। (১) বরং যারা কুফরি করে তারা অহংকার ও বিরোধিতায় লিপ্ত। (২) তাদের পূর্বে আমি কত মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করেছি! তখন তারা আর্তনাদ করেছিল, কিন্তু তখন পলায়নের কোনো সময় ছিল না। (৩)মহান আল্লাহর বাণী: "সোয়াদ" - সাধারণ পাঠরীতিতে এটি 'দাল' বর্ণে সুকুন বা জজম দিয়ে পড়া হয় বিরতির (ওয়াকফ) কারণে, যেহেতু এটি 'আলিফ-লাম-মীম' এবং 'আলিফ-লাম-রা' এর মতো একটি বিচ্ছিন্ন বর্ণ।

উবাই ইবনে কাব, হাসান, ইবনে আবি ইসহাক এবং নাসর ইবনে আসিম 'সোয়াদি' পাঠ করেছেন, অর্থাৎ 'দাল' বর্ণে কাসরা বা যের দিয়ে এবং তানভীন ছাড়া। তাঁর এই পাঠের দুটি ব্যাখ্যা রয়েছে: একটি হলো এটি 'সাদা-ইউসাদি' থেকে উদ্ভূত যার অর্থ মোকাবিলা করা বা সম্মুখে আসা। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর তুমি তার প্রতি মনোযোগ দিচ্ছ" [আবাসা: ৬] অর্থাৎ তুমি তার সম্মুখীন হচ্ছ। 'মুসাদাত' মানে হলো মোকাবিলা করা। এখান থেকেই 'সাদা' বা প্রতিধ্বনি শব্দটির উৎপত্তি, যা মূলত শূন্য স্থানে শব্দের প্রতিঘাত বা মোকাবিলা। সুতরাং এর অর্থ দাঁড়াবে: তোমার আমলের মাধ্যমে কুরআনের মোকাবিলা করো, অর্থাৎ কুরআনের আমল দ্বারা নিজেকে তৈরি করো এবং এর সাথে নিজেকে সমান্তরাল করো; এর আদেশগুলো পালন করো এবং নিষেধগুলো থেকে বিরত থাকো।

আন-নাহহাস বলেন: এই মতটি হাসান বসরী থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি তাঁর কিরাআতের এই ব্যাখ্যাটি একটি সহীহ বর্ণনার মাধ্যমে প্রদান করেছেন। তাঁর পক্ষ থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, এর অর্থ হলো—এটি পাঠ করো এবং এর তিলাওয়াতের সম্মুখীন হও। আর দ্বিতীয় মতটি হলো...

তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর

পূর্ণ পৃষ্ঠা পূর্ণ পৃষ্ঠা পূর্ণ পৃষ্ঠা

আবু শাইখ, ফযল ইবনে মারওয়ান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আল্লাহর বাণী "আর আমি তাদের প্রতি কোনো জুলুম করিনি" প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি জুলুম করার চেয়ে অনেক বেশি অমুখাপেক্ষী (অর্থাৎ মহান আল্লাহ জুলুমের ঊর্ধ্বে)।আবু শাইখ, আবু আসিম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে "তাদের উপাস্যগণ তাদের কোনো কাজে আসেনি" প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: তারা কোনো উপকারে আসেনি।ইবনে জারীর, ইবনুল মুনযির এবং আবু শাইখ, ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আল্লাহর বাণী "আর তারা তাদের ক্ষতি ছাড়া কিছুই বৃদ্ধি করেনি" প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে, এর অর্থ হলো ক্ষতিসাধন।ইবনে জারীর, ইবনুল মুনযির এবং ইবনে আবি হাতিম, মুজাহিদ থেকে আল্লাহর বাণী "আর তারা তাদের ক্ষতি ছাড়া কিছুই বৃদ্ধি করেনি" প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: (এর অর্থ) ক্ষতিসাধন।ইবনে আবি হাতিম এবং আবু শাইখ, কাতাদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আল্লাহর বাণী "আর তারা তাদের ক্ষতি ছাড়া কিছুই বৃদ্ধি করেনি" প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে, এর অর্থ হলো ধ্বংস।আবু শাইখ, ইবনে যায়েদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আল্লাহর বাণী "আর তারা তাদের ক্ষতি ছাড়া কিছুই বৃদ্ধি করেনি" প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: তারা তাদের অনিষ্ট বা মন্দ ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করেনি।

অতঃপর তিনি পাঠ করলেন—"আবু লাহাবের দুই হাত ধ্বংস হোক এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক" (সূরা মাসাদ, আয়াত ১)। তিনি আরও বলেন: 'তাব্ব' অর্থ হলো লোকসান বা ক্ষতি। আর 'তাতবীব' মানে তারা তাদের ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করেনি। এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন—"কাফিরদের কুফরি তাদের জন্য কেবল ক্ষতিই বৃদ্ধি করে" (সূরা ফাতির, আয়াত ৩৯)

সাঈদ ইবনে মানসুর, বুখারি, ইবনে মারদুওয়াইহ, ইবনে জারির, ইবনুল মুনজির এবং ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন "আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন" এবং আপনার একনিষ্ঠ পরিবারবর্গকে—এই আয়াত অবতীর্ণ হলো, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বের হলেন এবং সাফা পাহাড়ে আরোহণ করে উচ্চস্বরে ডাক দিলেন, "হে প্রত্যুষের বিপদ!" তখন তারা বলল, "এই আহ্বানকারী কে?" উত্তর এল, "মুহাম্মাদ।"অতঃপর তারা তাঁর কাছে সমবেত হলো। কোনো ব্যক্তি যদি নিজে আসতে সক্ষম না হতো, তবে কী ঘটছে তা দেখার জন্য সে একজন বার্তাবাহক পাঠাত।

আবু লাহাব ও কুরাইশরা সেখানে এল। তিনি বললেন, "আমি যদি তোমাদের বলি যে, এই উপত্যকায় একদল অশ্বারোহী বাহিনী তোমাদের ওপর আক্রমণ করতে উদ্যত, তবে তোমরা কি আমাকে বিশ্বাস করবে?" তারা বলল, "হ্যাঁ, আমরা আপনার নিকট সত্য ছাড়া আর কিছুই পাইনি।"তিনি বললেন, "নিশ্চয়ই আমি এক ভয়াবহ আজাবের পূর্বে তোমাদের জন্য সতর্ককারী।" তখন আবু লাহাব বলল, "তোমার সারাটা দিন ধ্বংস হোক! এ জন্যই কি তুমি আমাদের সমবেত করেছ?" তখন অবতীর্ণ হলো: "আবু লাহাবের দুই হাত ধ্বংস হোক এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক।" (সুরা আল-মাসাদ, আয়াত ১-২)।আবদ ইবনে হুমাইদ কাতাদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে "আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন" আয়াতের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাফা পাহাড়ের ওপর থেকে তাঁর বংশের প্রতিটি শাখাকে আলাদা আলাদাভাবে ডেকে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানিয়েছিলেন।তখন মুশরিকরা এ সম্পর্কে বলল, "এই লোকটি তো সারা রাত ধরে চিৎকার করে ডাকছে।"বর্ণনাকারী বলেন: হাসান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ওফাতের পূর্বে তাঁর পরিবারবর্গকে সমবেত করে বললেন, "শুনে রাখো, আমার আমল আমার জন্য এবং তোমাদের আমল তোমাদের জন্য।

জেনে রেখো, আল্লাহর পাকড়াও থেকে আমি তোমাদের বিন্দুমাত্র বাঁচাতে পারব না। শোনো, তোমাদের মধ্যে যারা মুত্তাকি (আল্লাহভীরু) তারাই আমার প্রকৃত আপনজন। সাবধান! কিয়ামতের দিন যেন আমি তোমাদের এমন অবস্থায় না দেখি যে, তোমরা তোমাদের ঘাড়ে দুনিয়ার বোঝা বহন করে আসছ, আর অন্যান্য মানুষ আখেরাতের পাথেয় নিয়ে আসছে।""হে আবদুল মুত্তালিবের কন্যা সাফিয়া! হে মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমা! তোমরা নেক আমল করো, কারণ আল্লাহর সামনে আমি তোমাদের কোনো উপকারে আসব না।"আবদ ইবনে হুমাইদ ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "হে বনু হাশিম এবং হে রাসুলুল্লাহর ফুফু সাফিয়া!

আল্লাহর সামনে আমি তোমাদের বিন্দুমাত্র সাহায্য করতে পারব না।""সাবধান! এমন যেন না হয় যে অন্য মানুষ আখেরাত নিয়ে আসবে আর তোমরা দুনিয়া নিয়ে আসবে। তোমরা যখন হাউজের কিনারায় আমার কাছে আসবে, তখন তোমাদের ডানে ও বামে সরিয়ে দেওয়া হবে। তখন তোমাদের মধ্য থেকে কেউ বলবে, 'হে আল্লাহর রাসুল! আমি অমুকের পুত্র অমুক।' আমি তখন তার বংশপরিচয় চিনতে পারব কিন্তু তার আমল বা অবস্থাকে অস্বীকার করব। সাবধান! তোমাদের কেউ যেন কিয়ামতের দিন পিঠে হ্রেষাধ্বনি করা ঘোড়া, কিংবা চিৎকার করা উট, কিংবা ডাক ছাড়তে থাকা ছাগল, অথবা চামড়ার স্তূপ বহন করে না আসে। তখন তাদের আমার সামনে থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে এবং আমাকে বলা হবে, 'আপনি জানেন না আপনার পরে তারা ধর্মে কী নতুন বিষয়ের উদ্ভাবন করেছিল'।""সুতরাং তোমরা নিজেদের আত্মা সংশোধন করো এবং আমার পরে পুনরায় পূর্বাবস্থায় (বিপথগামী হয়ে) ফিরে যাওয়া থেকে বেঁচে থাকো।" ইকরিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের উদ্দেশ্যে এই কথা তখনই বলেছিলেন যখন আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি এই আয়াত নাজিল করেন, "আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন।"

অতঃপর তিনি দুই বা তিন রাত জাগ্রত হয়ে ইবাদত করতে পারলেন না। তখন এক নারী তাঁর নিকট এসে বলল: হে মুহাম্মদ, আমি দেখছি তোমার শয়তান তোমাকে ছেড়ে গেছে, দুই বা তিন রাত ধরে তাকে তোমার নিকটবর্তী হতে দেখছি না। তখন আল্লাহ নাযিল করলেন: "শপথ পূর্বাহ্ণের এবং শপথ রাত্রির যখন তা নিঝুম হয়, আপনার প্রতিপালক আপনাকে পরিত্যাগ করেননি এবং আপনার প্রতি বিরূপ হননি।"ফিরইয়াবি, সাঈদ বিন মনসুর, আবদ বিন হুমাইদ, ইবনে জারির, ইবনুল মুনজির, তাবারানি এবং ইবনে মারদুওয়াইহ জন্দব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জিবরাঈল (আ.) নবী (সা.)-এর নিকট আসতে বিলম্ব করেন।

তখন মুশরিকরা বলতে লাগল: মুহাম্মদকে বিদায় জানানো হয়েছে। তখন আল্লাহ নাযিল করলেন: "আপনার প্রতিপালক আপনাকে পরিত্যাগ করেননি এবং আপনার প্রতি বিরূপ হননি।"তাবারানি জন্দব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জিবরাঈল (আ.) নবী (সা.)-এর নিকট আসা বন্ধ রেখেছিলেন। তখন তাঁর এক চাচাতো বোন বলল: আমি দেখছি তোমার সঙ্গী তোমাকে অপছন্দ করেই ছেড়ে দিয়েছে।তখন নাযিল হলো: "শপথ পূর্বাহ্ণের..." থেকে "আপনার প্রতি বিরূপ হননি" পর্যন্ত।তিরমিযি এটি বর্ণনা করেছেন এবং সহিহ বলেছেন, এবং ইবনে আবি হাতিমও বর্ণনা করেছেন—শব্দবিন্যাস তাঁরই—জন্দব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আঙুলে একটি পাথর লেগে জখম হলো।

তিনি বললেন: "তুমি তো একটি রক্তাপ্লুত আঙুল ছাড়া আর কিছুই নও, আর যা কিছু তুমি ভোগ করছ তা আল্লাহর পথেই।" এরপর তিনি দুই বা তিন রাত ইবাদতের জন্য দাঁড়াতে পারলেন না। তখন এক নারী তাঁকে বলল: আমি দেখছি তোমার শয়তান তোমাকে ছেড়ে গেছে। তখন নাযিল হলো: "শপথ পূর্বাহ্ণের এবং শপথ রাত্রির যখন তা নিঝুম হয়, আপনার প্রতিপালক আপনাকে পরিত্যাগ করেননি এবং আপনার প্রতি বিরূপ হননি।"হাকেম জায়েদ বিন আরকাম (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন "আবু লাহাবের হাত দুটি ধ্বংস হোক এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক, তার ধনসম্পদ কোনো কাজে আসেনি" (সূরা আল-মাসাদ, আয়াত: ১) থেকে "এবং তার স্ত্রীও, যে কাষ্ঠ বহনকারিণী" (সূরা আল-মাসাদ, আয়াত: ৪) পর্যন্ত নাযিল হলো, তখন আবু লাহাবের স্ত্রীকে বলা হলো: মুহাম্মদ তোমার নিন্দা করেছে।সে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট উপস্থিত হলো যখন তিনি এক সভায় বসা ছিলেন।

সে বলল: হে মুহাম্মদ, তোমরা কেন নিন্দা করছ? তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আমি তোমার নিন্দা করিনি; বরং আল্লাহই তোমার নিন্দা করেছেন।সে বলল: তুমি কি আমাকে কাঠ বহন করতে দেখেছ অথবা আমার গলায় কি পাকানো রশি দেখেছ? এরপর সে চলে গেল।অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) কয়েক দিন অতিবাহিত করলেন কিন্তু তাঁর ওপর ওহি নাযিল হলো না। তখন সে তাঁর নিকট এসে বলল: আমি দেখছি তোমার সঙ্গী তোমাকে বিদায় জানিয়েছে এবং তোমাকে অপছন্দ করেছে। তখন আল্লাহ নাযিল করলেন: "শপথ পূর্বাহ্ণের এবং শপথ রাত্রির যখন তা নিঝুম হয়, আপনার প্রতিপালক আপনাকে পরিত্যাগ করেননি এবং আপনার প্রতি বিরূপ হননি।"ইবনে জারির আবদুল্লাহ বিন শাদ্দাদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, খাদিজা (রা.) নবী (সা.)-কে বললেন: আমি দেখছি আপনার প্রতিপালক আপনাকে অপছন্দ করেছেন।

তখন আল্লাহ নাযিল করলেন: "শপথ পূর্বাহ্ণের এবং শপথ রাত্রির যখন তা নিঝুম হয়, আপনার প্রতিপালক আপনাকে পরিত্যাগ করেননি এবং আপনার প্রতি বিরূপ হননি।"ইবনে জারির এবং ইবনুল মুনজির উরওয়াহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জিবরাঈল (আ.) আসতে বিলম্ব করেন...