Sad

সাদ: 71

38:71
টেক্সট কপি
38 সাদ Sad · 88 আয়াত ص

মূল আরবি

إِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَـٰٓئِكَةِ إِنِّى خَـٰلِقٌۢ بَشَرًا مِّن طِينٍ

English Translations

Sahih International

[So mention] when your Lord said to the angels, "Indeed, I am going to create a human being from clay.

Muhsin Khan

(Remember) when your Lord said to the angels: "Truly, I am going to create man from clay".

Taqi Usmani

When your Lord said to the angels, “I am going to create man from clay.

Abul Ala Maududi

When your Lord said to the angels: “Verily I am creating a human being from clay.

Pickthall

When thy Lord said unto the angels: Lo! I am about to create a mortal out of mire,

Yusuf Ali

Behold, thy Lord said to the angels: "I am about to create man from clay:

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

স্মরণ কর, যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদেরকে বললেন- আমি কাদা থেকে মানুষ সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।

রাওয়াই আল-বায়ান

স্মরণ কর, যখন তোমার রব ফেরেশতাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘আমি মাটি হতে মানুষ সৃষ্টি করব।’

শাইখ মুজিবুর রহমান

স্মরণ কর, তোমার রাব্ব মালাইকা/ফেরেশতাদেরকে বলেছিলেনঃ আমি মানুষ সৃষ্টি করছি কর্দম হতে।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

স্মরণ করুন, যখন আপনার রব ফেরেশতাদেরকে বলেছিলেন, 'আমি মানুষ সৃষ্টি করছি কাদা থেকে,

ফাতহুল মাজীদ

স্মরণ কর! যখন তোমার‎ প্রতিপালক ফেরেশতাদেরকে বলেছিলেন : আমি মাটি দিয়ে মানুষ সৃষ্টি করব।

মুখতাসার

৭১. আপনি স্মরণ করুন সে সময়ের কথা যখন আল্লাহ ফিরিশতাদের উদ্দেশ্যে বললেন, আমি অবশ্যই মানুষকে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করবো। এখানে আদম (আলাইহিস-সালাম) কে বুঝানো হয়েছে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

৭১-৮৫ নং আয়াতের তাফসীর: এ ঘটনাটি সূরায়ে বাকারা, সূরায়ে আ'রাফ, সূরায়ে হিজ্বর, সূরায়ে সুবহান, সূরায়ে কাহাফ এবং সূরায়ে সোয়াদে বর্ণিত হয়েছে। হযরত আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করার পূর্বে আল্লাহ্ ফেরেশতাদেরকে নিজের ইচ্ছার কথা বলেন যে, তিনি মাটি দ্বারা আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করবেন। তিনি তাদেরকে এ কথাও বললেন যে, যখন তিনি আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করবেন তখন যেন তারা তাকে সিজদা করেন, যাতে আল্লাহর আদেশ পালনের সাথে সাথে আদম (আঃ)-এরও আভিজাত্য প্রকাশ পায়। ফেরেশতারা সাথে সাথে আল্লাহর আদেশ পালন করেন। কিন্তু ইবলীস এ আদেশ পালনে বিরত থাকে। সে ফেরেশতাদের শ্রেণীভুক্ত ছিল না।

বরং সে ছিল জ্বিনদের অন্তর্ভুক্ত। তার প্রকৃতিগত অশ্লীলতা এবং স্বভাবগত ঔদ্ধত্যপনা প্রকাশ পেয়ে গেল। মহান আল্লাহ্ তাকে প্রশ্ন করলেনঃ “হে ইবলীস! আমি যাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছি, তার প্রতি সিজদাবনত হতে। তোমাকে কিসে বাধা দিলো? তুমি কি ঔদ্ধত্য প্রকাশ করলে, না তুমি উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন?” সে উত্তরে বললোঃ “আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। কেননা, আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন আগুন হতে এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি হতে। সুতরাং মর্যাদার দিক দিয়ে আমি তার চেয়ে বহুগুণে উচ্চ।” ঐ পাপী শয়তান হযরত আদিম (আঃ)-কে বুঝতে ভুল করলো এবং আল্লাহর আদেশ অমান্য করার কারণে নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিলো।

আল্লাহ্ তা'আলা তাকে বললেন:“তুমি এখান হতে বের হয়ে যাও, নিশ্চয়ই তুমি বিতাড়িত। তুমি আমার রহমত হতে দূর হয়ে গেলে। তোমার উপর আমার লা'নত কর্মফল দিবস পর্যন্ত স্থায়ী হবে।” সে বললোঃ “হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আপনি পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন।” মহান ও সহনশীল আল্লাহ্, যিনি স্বীয় মাখলুককে তাদের পাপের কারণে তাড়াতাড়ি পাকড়াও করেন না, ইবলীসের এ প্রার্থনাও কবুল করলেন এবং তিনি তাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিলেন। অতঃপর সে বললোঃ “আপনার ক্ষমতার শপথ! আমি আদম (আঃ)-এর সমস্ত সন্তানকে পথভ্রষ্ট করবো, তবে তাদেরকে নয় যারা তাদের মধ্যে আপনার একনিষ্ঠ বান্দা।” যেমন আল্লাহ্ তা'আলা অন্য আয়াতে ইবলীসের উক্তি উদ্ধৃত করেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তাকে যে আপনি আমার উপর মর্যাদা দান করলেন, কেন?

কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যদি আমাকে অবকাশ দেন তাহলে আমি অল্প কয়েকজন ব্যতীত তার বংশধরদেরকে কর্তৃত্ত্বাধীন করে ফেলবো।” (১৭:৬২) এই স্বতন্ত্ৰকৃতদের কথা আল্লাহ্ তা'আলা অন্য আয়াতে বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমার বান্দাদের উপর তোমার কোন ক্ষমতা নেই। কর্মবিধায়ক হিসেবে তোমার প্রতিপালকই যথেষ্ট।” (১৭:৬৫)(আরবী) এখানে (আরবী) শব্দকে মুজাহিদ (রঃ) পেশ দিয়ে পড়েছেন এবং ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন যে, এর অর্থ হলোঃ “আমি স্বয়ং সত্য এবং আমার কথাও সত্য হয়ে থাকে।” হযরত মুজাহিদ (রঃ) হতেই আর একটি রিওয়াইয়াতে রয়েছে যে, এর অর্থ হলোঃ “সত্য আমার পক্ষ হতে হয় এবং আমি সত্যই বলে থাকি।” অন্যেরা (আরবী) শব্দ দুটোকেই যবর দিয়ে পড়ে থাকেন।

সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, এটা হলো কসম, যার দ্বারা আল্লাহ কসম খেয়েছেন। আমি (ইবনে কাসীর রঃ) বলি যে, এ আয়াতটি আল্লাহ তা'আলার নিম্নের উক্তির মতঃ (আরবী) অর্থাৎ “কিন্তু আমার এ কথা অবশ্যই সত্যঃ আমি নিশ্চয়ই জ্বিন ও মানুষ উভয় দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করবো।” (৩২:১৩) আর এক জায়গায় মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আল্লাহ বললেনঃ যাও, তাদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে, জাহান্নামই তোমাদের সকলের শাস্তি- পূর্ণ শাস্তি।” (১৭:৬৩)।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

স্মরণ করুন, যখন আপনার রব ফেরেশতাদেরকে বলেছিলেন, 'আমি মানুষ সৃষ্টি করছি কাদা থেকে,

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা সদ (৩৮): আয়াত ৭১ থেকে ৭৪] পূর্ণ পৃষ্ঠা

এবং যারা বলেন যে, (এর দ্বারা উদ্দেশ্য) এমন উপাস্য যাদের ইবাদত করা হয়। এবং বলা হয়েছে: এখানে ‘উচ্চ পরিষদ’ (আল-মালাউল আলা) দ্বারা কুরাইশদের বুঝানো হয়েছে, অর্থাৎ তাদের নিজেদের মধ্যে গোপনে যে ঝগড়া-বিবাদ চলত তা-ই উদ্দেশ্য। অতঃপর আল্লাহ তাঁর নবীকে সে সম্পর্কে অবহিত করেন। “আমার নিকট কেবল এ বিষয়ই ওহী পাঠানো হয় যে, আমি একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র।” অর্থাৎ আমার নিকট ওহী পাঠানো হয় কেবল সতর্ক করার জন্য। আবু জাফর ইবনুল ক্বাক্বা ‘ইন্নামা’ শব্দটিকে হামযাহর নিচে যের (কাসরা) দিয়ে পাঠ করেছেন। কারণ ওহী হলো একটি বক্তব্য; যেন তিনি বলছেন: আমাকে বলা হচ্ছে যে ‘নিশ্চয় তুমি একজন স্পষ্ট সতর্ককারী’।

আর যারা হামযাহতে যবর (ফাতহা) দিয়ে পাঠ করেছেন, তারা শব্দটিকে রফ-এর স্থানে রেখেছেন, কারণ এটি ‘নায়েবে ফায়েল’ বা কর্মবাচ্যের কর্তা। ইমাম ফাররা বলেন: যেন আপনি বললেন ‘সতর্কীকরণ ছাড়া আমার কাছে কিছুই ওহী করা হয় না’। আন-নাহহাস বলেন: এটি ‘জন্য’ অর্থে নসবের স্থানে হওয়াও বৈধ। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। ‌‌[সূরা সদ (৩৮): আয়াত ৭১ থেকে ৭৪]স্মরণ করুন, যখন আপনার প্রতিপালক ফেরেশতাদের বললেন, ‘আমি মাটি থেকে একজন মানুষ সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।’ (৭১) অতঃপর যখন আমি তাকে সুঠাম করব এবং তাতে আমার রূহ থেকে ফুঁক দেব, তখন তোমরা তার প্রতি সিজদাবনত হয়ো। (৭২) অতঃপর ফেরেশতারা সবাই মিলে সিজদা করল।

(৭৩) কেবল ইবলিস ছাড়া; সে অহংকার করল এবং সে ছিল কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত। (৭৪)মহান আল্লাহর বাণী: “যখন আপনার প্রতিপালক ফেরেশতাদের বললেন”; এখানে ‘যখন’ শব্দটি ‘তারা বিতর্ক করছিল’ ক্রিয়ার সাথে অর্থগতভাবে সংশ্লিষ্ট। এর অর্থ হলো: উচ্চ পরিষদ যখন বিতর্ক করছিল তখনকার বিষয়ে আমার কোনো জ্ঞান ছিল না, যখন আপনার প্রতিপালক ফেরেশতাদের বললেন, ‘আমি মাটি থেকে একজন মানুষ সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।’ আবার বলা হয়েছে যে, ‘যখন বললেন’ বাক্যটি ‘যখন তারা বিতর্ক করছিল’ থেকে বদল বা স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। আর ‘তারা বিতর্ক করছিল’ শব্দটি একটি উহ্য বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, কারণ এর অর্থ হলো: উচ্চ পরিষদের বিতর্কের সময়কার কথাবার্তা সম্পর্কে আমার কোনো জ্ঞান ছিল না।

“অতঃপর যখন আমি তাকে সুঠাম করব”; এখানে ‘যখন’ শব্দটি অতীত কালকে ভবিষ্যৎ কালের অর্থে রূপান্তর করে, কারণ এটি শর্তবোধক অব্যয়ের সদৃশ এবং এর জবাবও তদ্রূপ। অর্থাৎ, ‘আমি তাকে সৃষ্টি করব’। “এবং তাতে আমার রূহ থেকে ফুঁক দেব”; অর্থাৎ সেই রূহ থেকে যার মালিকানা কেবল আমারই এবং অন্য কেউ এর মালিক নয়। এটাই হলো আল্লাহর দিকে এর সম্বন্ধের (ইদাফাত) অর্থ। এই বিষয়টি সূরা আন-নিসায় ঈসা (আ.) প্রসঙ্গে বর্ণিত “তার পক্ষ থেকে এক রূহ” আয়াতের ব্যাখ্যায় সবিস্তারে আলোচিত হয়েছে। “তখন তোমরা তার প্রতি সিজদাবনত হয়ো”; এখানে ‘সাজিদীন’ শব্দটি ‘হাল’ বা অবস্থা হিসেবে নসবের অবস্থায় আছে।

এটি ছিল সম্মানসূচক সিজদা, ইবাদতমূলক সিজদা নয়। এ বিষয়ে সূরা আল-বাকারায় আলোচনা অতিবাহিত হয়েছে। “অতঃপর ফেরেশতারা সবাই মিলে সিজদা করল”; অর্থাৎ তারা আদেশ পালন করল এবং তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রকাশে এবং আল্লাহর সম্মান প্রদর্শনের নিমিত্তে তাঁকে সিজদা করল। “কেবল ইবলিস ছাড়া”; সে তাকে সিজদা করতে অস্বীকার করল। সে মূর্খতাবশত বুঝতে পারেনি যে তাকে সিজদা করা মূলত আল্লাহরই আনুগত্য। আর অহংকারবশত আল্লাহর আনুগত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া কুফরী। এই কারণেই আল্লাহর আদেশের বিরুদ্ধে অহংকার করার কারণে সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হলো। এ বিষয়ে সূরা আল-বাকারায় পূর্ণাঙ্গ আলোচনা বিস্তারিতভাবে করা হয়েছে।(১).

প্রেক্ষাপটের প্রয়োজনে এটি সংযোজিত এবং আবু হাইয়ান তাঁর তাফসীরে এটি উল্লেখ করেছেন।(২). দেখুন: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ২২ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠা, প্রথম বা দ্বিতীয় মুদ্রণ।(৩). দেখুন: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৯৩, দ্বিতীয় বা তৃতীয় মুদ্রণ।(৪). দেখুন: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৯৬ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠা, দ্বিতীয় বা তৃতীয় মুদ্রণ।