“কালাম কসমোলজিক্যাল আর্গুমেন্ট” – এর ব্যবচ্ছেদ

Table of Contents

সারসংক্ষেপ

ঐতিহাসিক ও দার্শনিক কথ্য্যে ‘কালাম কসমোলজিক্যাল আর্গুমেন্ট’ (Kalam Cosmological Argument — KCA) দীর্ঘকাল শক্তিশালী প্রতিপাদ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। মধ্যযুগীয় ইসলামী তর্কশৈলী থেকে লালিত—পরে আধুনিক খ্রিস্টীয় অ্যাপোলজেটিক্সে নতুন প্রাণ পেয়েছে—এই যুক্তি মহাবিশ্বকে সসীম ধরে নিয়ে তার পিছনে কোনো অনিত্য কারণ, অর্থাৎ একটি সৃষ্টিকর্তা দাবি করে। কিন্তু দাবিটা যত সরল, ততই প্রশ্নগুলো জটিল: কীভাবে ‘প্রসারণের শুরু’কে অটলভাবে ‘অস্তিত্বের পরম শুরু’ হিসেবে রূপান্তর করা যায়? কোন পর্যায়ে দৈনন্দিন কারণ-শৈলীকে বৈজ্ঞানিক সত্য হিসেবে গৃহীত করা যুক্তিযুক্ত?

এই প্রবন্ধের লক্ষ্য হলো তর্কটিকে কেবল আবেগ বা ঐতিহ্যের ভিত্তিতে নয়—বস্তুনিষ্ঠ বৈজ্ঞানিক ও লজিক্যাল মানদণ্ডে—পুনর্মূল্যায়ন করা। আমরা আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান, সমকালীন কসমোলজিক্যাল মডেল এবং মডাল লজিক ব্যবহার করে KCA-র মূল প্রস্তাবনাগুলো বিচ্ছিন্নভাবে পরীক্ষা করব। প্রাথমিক ফলাফলটি সরল: KCA-র কিছু কেন্দ্রীয় অনুমান কোয়ান্টাম মেকানিক্স ও সাম্প্রতিক কসমোলজির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বা অনিশ্চিত; বিশেষ করে ‘মহাবিশ্ব প্রসারণের সূচনা’ ও ‘মহাবিশ্বের অন্তিম সূচনা’ একবাবে মিলিয়ে দেওয়ার প্রবণতা এবং অংশ থেকে সমগ্রে লজিক্যাল ট্রান্সফার করার ফলে ঘটে যাওয়া কম্পোজিশন ফ্যালাসি—এই দুটি বিষয় যুক্তির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। সংক্ষেপে, KCA যতটা শাস্ত্রীয় প্রভাবশালী, ততটাই তা বৈজ্ঞানিক ও মডাল বিশ্লেষণে পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।


ভূমিকা

ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণের নামে যে কয়েকটি যুক্তি যুগে যুগে ‘অকাট্য’ বলে বাজারজাত হয়েছে, কালাম কসমোলজিক্যাল আর্গুমেন্ট তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রচারিত। এর শক্তি তার সরলতায়—বরং বলা ভালো, তার বিপজ্জনক সরলতায়। যুক্তিটির কাঠামো এমনভাবে সাজানো যে এটি সাধারণ বুদ্ধির সঙ্গে তাত্ক্ষণিক সাযুজ্য তৈরি করে; শুনলেই মনে হয়, “এ তো খুব স্বাভাবিক কথা।” কিন্তু দর্শনের ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, যা স্বাভাবিক বলে মনে হয়, তা প্রায়ই বিশ্লেষণে টেকে না।

ঐতিহাসিকভাবে এর দূরবর্তী সূত্র খুঁজে পাওয়া যায় গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল-এর কার্যকারণ ভাবনায়। তবে যুক্তিটির সুসংহত ধর্মতাত্ত্বিক রূপ নির্মিত হয় মধ্যযুগীয় ইসলামী তর্কচর্চায়। একাদশ শতকে আল-গাজালি তাঁর তাহাফুত আল-ফালাসিফা-তে অ্যারিস্টটলের অনাদি মহাবিশ্ব ধারণার বিরোধিতা করতে গিয়ে এই যুক্তিকে কেন্দ্রীয় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন [1]. বহু শতাব্দী পরে, বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে, আমেরিকান দার্শনিক উইলিয়াম লেন ক্রেগ এই যুক্তিটিকে আধুনিক কসমোলজির ভাষায় পুনর্গঠন করেন এবং একে সমকালীন খ্রিস্টীয় অ্যাপোলজেটিক্সের কেন্দ্রস্থলে নিয়ে আসেন [2]

গাঠনিকভাবে এটি একটি অবরোহী বা ডিডাক্টিভ সিলোজিজম। এর রূপ অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত:

১.

যা কিছুর অস্তিত্ব শুরু হয়, তার একটি কারণ থাকে।

২.

মহাবিশ্বের অস্তিত্বের একটি শুরু আছে।

অতএব, মহাবিশ্বের একটি কারণ আছে।

এই সিদ্ধান্তকে আরও বিস্তৃত করে বলা হয়, সেই ‘কারণ’ অবশ্যই স্থান-কাল-পাত্রের ঊর্ধ্বে, অসীম শক্তিসম্পন্ন এবং ইচ্ছাশীল ব্যক্তিসত্তা—অর্থাৎ ঈশ্বর। কিন্তু এখানেই প্রশ্নের সূত্রপাত। একটি বিমূর্ত “কারণ” থেকে কীভাবে সরাসরি একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় ঈশ্বরের দিকে অগ্রসর হওয়া যায়? এই লাফটি কি যুক্তিগতভাবে বৈধ, নাকি এটি কেবলমাত্র ধর্মতাত্ত্বিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন?

প্রথম দৃষ্টিতে যুক্তিটি ত্রুটিহীন মনে হতে পারে। কিন্তু প্রতিটি প্রেমিস আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এগুলো অভিজ্ঞতার সীমিত পরিসর থেকে সংগৃহীত ধারণাকে সমগ্র মহাবিশ্বের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে—যেন আমাদের দৈনন্দিন কার্যকারণ বোধই চূড়ান্ত মেটাফিজিক্যাল সত্য। এই প্রবন্ধে আমরা দেখানোর চেষ্টা করব যে কালাম যুক্তির দৃঢ়তা মূলত ভাষাগত সরলতা ও ধারণাগত অস্পষ্টতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে; আর এর ভিত্তি অনেকাংশে অভিজ্ঞতার অতিরঞ্জিত প্রয়োগ ও বৈজ্ঞানিক তথ্যের নির্বাচিত পাঠের ফল। আধুনিক বিজ্ঞান ও দর্শনের আলোকে এটি কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এই প্রবন্ধে আমরা দেখাব যে, এই যুক্তিটি অভিজ্ঞলব্ধ জ্ঞানের ভুল প্রয়োগ এবং বৈজ্ঞানিক তথ্যের অপব্যাখ্যার ওপর দণ্ডায়মান।


প্রথম প্রস্তাবনার ব্যবচ্ছেদ: কার্যকারণ তত্ত্বের সীমাবদ্ধতা

প্রথম প্রস্তাবনাটি হলো: “যা কিছুর শুরু আছে, তার একটি কারণ আছে।” এটি আমাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি স্বজ্ঞাত ধারণা (Intuition)। একে দর্শনের ভাষায় ‘কজাল প্রিন্সিপাল’ (Causal Principle) বলা হয়। কিন্তু এই আপাত সত্যটি যখন মহাজাগতিক স্কেলে প্রয়োগ করা হয়, তখন এটি আর ধোপে টেকে না।

কার্যকারণ ধারণা ও সময়ের ওপর নির্ভরতা

কালাম কসমোলজিক্যাল আর্গুমেন্টে ‘কারণ’ শব্দটি সাধারণত এমনভাবে ব্যবহৃত হয় যেন এটি সময়ের বাইরে থাকা কোনো সম্পর্ককে বোঝায়। কিন্তু আমাদের প্রচলিত কার্যকারণ ধারণা মূলত সময়ের ভেতরের ঘটনাসমূহের মধ্যে সম্পর্ক নির্দেশ করে—একটি ঘটনা আগে ঘটে, আরেকটি ঘটনা পরে ঘটে, এবং আমরা বলি প্রথমটি দ্বিতীয়টির কারণ। কান্তসহ অনেক দার্শনিক দেখিয়েছেন যে, কার্যকারণ সম্পর্ক আসলে আমাদের অভিজ্ঞতার সময়-গঠিত কাঠামোর ভেতরে অর্থপূর্ণ [3].

যদি বিগ ব্যাং-এর সাথে সাথে সময়েরও সূচনা ঘটে থাকে, তবে “সময়ের আগে কী ঘটেছিল?” বা “সময়ের আগে কে কারণ হিসাবে কাজ করেছে?”—এই প্রশ্নগুলো স্ববিরোধী হয়ে যায়, কারণ ‘আগে–পরে’-র ভাষা নিজেই সময়ের ভেতরের সম্পর্ক ধরে নেয়। কালাম আর্গুমেন্ট সাধারণত এই সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে “অ-কালিক কারণ” (Atemporal Cause) কথাটি ব্যবহার করে, কিন্তু ‘কারণ’ ধারণাটিকে একদিকে সময়-নির্ভর (মহাবিশ্বের মধ্যে) এবং অন্যদিকে সময়ের বাইরে (ঈশ্বরের ক্ষেত্রে) প্রয়োগ করা একটি গুরুতর ধারণাগত দ্বৈততা তৈরি করে, যা স্পষ্ট যুক্তি দিয়ে সমর্থিত হয় না।


‘এক্স নিহিলো’ বনাম পদার্থের পুনর্বিন্যাস

আমাদের অভিজ্ঞতায় আমরা যা কিছু ‘শুরু’ হতে দেখি, তা আসলে আগে থেকে বিদ্যমান পদার্থের রূপান্তর মাত্র। যেমন—একটি চেয়ারের অস্তিত্ব ‘শুরু’ হয় কাঠ মিস্ত্রির কাজের মাধ্যমে, কিন্তু কাঠের অণু-পরমাণুগুলো আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল। অর্থাৎ, আমাদের অভিজ্ঞালব্ধ কার্যকারণ সম্পর্ক সর্বদা ‘পদার্থের পুনর্বিন্যাস’ (Rearrangement of matter)-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু মহাবিশ্বের উদ্ভবের ক্ষেত্রে ধর্মতাত্ত্বিকরা দাবি করেন ‘শূণ্য থেকে সৃষ্টি’ (Creatio Ex Nihilo)। আমাদের অভিজ্ঞতার জগত থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানকে (যেখানে সব কিছুই রূপান্তর) এমন একটি ক্ষেত্রে (শূণ্য থেকে সৃষ্টি) প্রয়োগ করা, যেখানে আমাদের কোনো অভিজ্ঞতাই নেই—এটি একটি ক্যাটাগরি এরর বা শ্রেণীগত ভুল [4]


তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্র

তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্র স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, আমাদের মহাবিশ্বে শক্তি বা পদার্থ সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না, কেবল রূপান্তর করা যায়। কালাম আর্গুমেন্টের উপসংহার পরোক্ষভাবে “শূন্য থেকে সৃষ্টি” (Creatio ex nihilo) দাবি করে, যা পদার্থবিজ্ঞানের এই সুপ্রতিষ্ঠিত মৌলিক সূত্রের সরাসরি পরিপন্থী। মহাবিশ্বের প্রাথমিক ভর-শক্তি যদি সর্বদা বিরাজমান থাকে, তবে মহাবিশ্বের কোনো পরম “শুরু” ছিল না, কেবল এর অবস্থার রূপান্তর ঘটেছে। বিজ্ঞান শূন্য থেকে সৃষ্টির ধারণা সমর্থন করে না, বরং পদার্থের নিত্যতা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত সত্য; এর বিপরীতে শূন্য থেকে সৃষ্টির দাবি নিছকই প্রমাণহীন বিশ্বাস [5]


কোয়ান্টাম মেকানিক্স ও অ-কারণতা

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম স্তম্ভ কোয়ান্টাম মেকানিক্স কার্যকারণ তত্ত্বের ধ্রুপদী ধারণাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে। সাব-এটমিক লেভেলে বা অতি-পারমাণবিক স্তরে এমন অনেক ঘটনা ঘটে যার কোনো সুনির্দিষ্ট ‘কারণ’ নেই। যেমন, একটি তেজস্ক্রিয় পরমাণু ঠিক কখন ক্ষয় হবে, তা আগে থেকে বলা অসম্ভব এবং এর পেছনে কোনো বাহ্যিক কারণও নেই। হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতি (Heisenberg’s Uncertainty Principle) অনুসারে, শূন্যস্থানেও প্রতিনিয়ত ‘ভার্চুয়াল পার্টিকল’ (Virtual Particles) সৃষ্টি ও ধ্বংস হচ্ছে কোনো কারণ ছাড়াই [6]। বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী লরেন্স ক্রাউস দেখিয়েছেন যে, কোয়ান্টাম ফিল্ড থিওরি অনুযায়ী ‘কিছু না’ (Nothing) অস্থিতিশীল এবং সেখান থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মহাবিশ্বের উদ্ভব গাণিতিকভাবে সম্ভব [7]। সুতরাং, “সব কিছুরই কারণ থাকতে হবে”—এই দাবিটি সর্বজনীনভাবে সত্য নয়।


ফ্যালাসি অফ কম্পোজিশন

মহাবিশ্বের ভেতরের প্রতিটি বস্তুর একটি কারণ আছে, এই প্রাত্যহিক অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে সমগ্র মহাবিশ্বেরও একটি কারণ আছে দাবি করা যৌক্তিকভাবে “ফ্যালাসি অফ কম্পোজিশন” (Fallacy of Composition)। ইমানুয়েল কান্ট দেখিয়েছেন যে কার্যকারণ (Causality) নামক ধারণাটি কেবল স্থান-কালের ভেতরেই প্রযোজ্য; স্থান-কালের বাইরের কোনো কিছুর ওপর একে প্রয়োগ করা লজিক্যালি এবং বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন। একটি ইটের ওজন এক কেজি হওয়ার অর্থ এই নয় যে, ওই ইট দিয়ে তৈরি একটি বাড়ির ওজনও এক কেজি হবে। তেমনি, মহাবিশ্বের ভেতরের নিয়মনীতি সমগ্র মহাবিশ্বের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অযৌক্তিক এবং এর সপক্ষে কোনো বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ নেই [8]


দ্বিতীয় প্রস্তাবনার সমালোচনা: মহাবিশ্বের কি সত্যিই শুরু আছে?

দ্বিতীয় প্রস্তাবনায় বলা হয়: “মহাবিশ্বের একটি শুরু আছে।” এই দাবির স্বপক্ষে সাধারণত বিগ ব্যাং থিওরি এবং এনট্রপি বা তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্রকে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু আধুনিক কসমোলজি এই সরলীকরণকে সমর্থন করে না।

প্রসারণের শুরু বনাম অস্তিত্বের শুরু (The Crucial Distinction)

কালাম আর্গুমেন্টের সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক দুর্বলতা হলো ‘প্রসারণের শুরু’ এবং ‘মহাবিশ্বের শুরু’কে গুলিয়ে ফেলা। বিগ ব্যাং থিওরি প্রমাণ করে যে প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে মহাবিশ্বের প্রসারণ শুরু হয়েছিল [9]। কিন্তু এটি মহাবিশ্বের অস্তিত্বের শুরু কি না, তা আমরা জানি না। বিগ ব্যাং-এর শুরুতে যে ‘সিঙ্গুলারিটি’ বা অতি-ঘন অবস্থার কথা বলা হয়, সেখানে আমাদের বর্তমান পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রগুলো ভেঙে পড়ে। ফলে সিঙ্গুলারিটির আগে মহাবিশ্ব অন্য কোনো রূপে (যেমন: কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন বা অন্য কোনো স্টেট) অনাদিকাল ধরে ছিল কি না, তা বর্তমান বিজ্ঞানে অমীমাংসিত। প্রসারণের একটি শুরু থাকা মানেই অস্তিত্বের শুরু থাকা নয়।


সময়ের প্রকৃতি: হকিং-হার্টল মডেল

স্টিফেন হকিং এবং জেমস হার্টল প্রস্তাবিত ‘নো বাউন্ডারি প্রপোজাল’ (No Boundary Proposal) অনুযায়ী, সময়ের কোনো শুরু নেই, ঠিক যেমন পৃথিবীর পৃষ্ঠের কোনো ‘শুরু’ বা ‘শেষ’ প্রান্ত নেই। আমরা যেমন দক্ষিণ মেরুর দক্ষিণে কী আছে তা জানতে চাইতে পারি না (কারণ দক্ষিণ মেরুই শেষ বিন্দু), তেমনি বিগ ব্যাং-এর ‘আগে’ কী ছিল—এই প্রশ্নটিও অর্থহীন। এই মডেলে মহাবিশ্ব সসীম হলেও এর কোনো সূচনা বিন্দু বা ‘Boundary’ নেই [10]। যদি সময়ের কোনো শুরু না থাকে, তবে ‘শুরু’ হওয়ার প্রশ্নটিই অবান্তর হয়ে পড়ে।


অসীমের ভীতি এবং গাণিতিক বাস্তবতা

কালাম আর্গুমেন্টের প্রবক্তারা দাবি করেন যে ‘প্রকৃত অসীম’ (Actual Infinite) বাস্তবে অসম্ভব, তাই অতীত সময় অসীম হতে পারে না। এর স্বপক্ষে তাঁরা ‘হিলবার্টের হোটেল’ (Hilbert’s Hotel) প্যারাডক্সের উদাহরণ দেন। তবে আধুনিক গণিত, বিশেষ করে জর্জ ক্যান্টরের ‘সেট থিওরি’ প্রমাণ করেছে যে অসীম বা ইনফিনিটি একটি সুসংজ্ঞায়িত গাণিতিক ধারণা এবং বাস্তবে এর অস্তিত্ব অসম্ভব নয় [11]। এছাড়া, পদার্থবিজ্ঞানের বহু মডেলে (যেমন ইটারনাল ইনফ্লেশন) অসীম সময়ের ধারণা ব্যবহার করা হয় [12]


সময়ের প্রকৃতি: এ-থিওরি বনাম বি-থিওরি

কালাম আর্গুমেন্ট সম্পূর্ণভাবে সময়ের ‘এ-থিওরি’ (A-Theory of Time)-এর ওপর নির্ভরশীল, যা মনে করে অতীত থেকে ভবিষ্যতে সময়ের প্রবাহ একটি বস্তুনিষ্ঠ সত্য এবং কেবল বর্তমানেরই অস্তিত্ব আছে। কিন্তু আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান, বিশেষ করে আলবার্ট আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব, সময়ের ‘বি-থিওরি’ (B-Theory of Time বা Block Universe) দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে। এই বৈজ্ঞানিক মডেলে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ একটি চতুর্মাত্রিক স্থান-কাল ব্লকে যুগপৎ অবস্থান করে। বি-থিওরি অনুযায়ী মহাবিশ্বের নতুন করে কোনো “আবির্ভাব” বা “শুরু” ঘটে না, বরং স্থান-কালের একটি নির্দিষ্ট সীমানা (boundary) মাত্র রয়েছে। যেহেতু পদার্থবিজ্ঞান বি-থিওরিকে সমর্থন করে, তাই মহাবিশ্বের পরম সূচনার দাবিটি বৈজ্ঞানিকভাবে অকার্যকর এবং এটি কেবল বাতিল দার্শনিক অনুমানের ওপর দাঁড়িয়ে আছে [13]


মডাল লজিকের আলোকে কালাম আর্গুমেন্ট

মডাল লজিক (Modal Logic) সম্ভাব্যতা ও অনিবার্যতার (Possibility & Necessity) ধারণা বিশ্লেষণের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। কালাম আর্গুমেন্টে সাধারণত এমনভাবে কথা বলা হয়, যেন “যা কিছু অস্তিত্ব শুরু করে, তা অবশ্যই (necessarily) কোনো কারণে নির্ভরশীল” এবং “ঈশ্বর অবশ্যই (necessarily) অনাদি ও কারণ-নিরপেক্ষ।” কিন্তু মডাল লজিকের ভাষায় এই দাবিগুলো সর্বোচ্চ ক্ষেত্রে কেবল contingently true—অর্থাৎ, কিছু সম্ভাব্য বিশ্বে সত্য হতে পারে, আবার অন্য সম্ভাব্য বিশ্বে মিথ্যা হতে পারে [14].


সম্ভাব্য বিশ্ব ও ‘অবশ্য সত্তা’র প্রশ্ন

থিয়িস্ট দার্শনিকরা প্রায়ই দাবি করেন, ঈশ্বর একটি “অবশ্য-সত্তা” (Necessary Being)—অর্থাৎ, সকল সম্ভাব্য বিশ্বেই ঈশ্বরের অস্তিত্ব আছে, কিন্তু মহাবিশ্ব কেবল “সম্ভব-সত্তা” (Contingent Being)—কিছু সম্ভাব্য বিশ্বে আছে, কিছুতে নেই [15]. কিন্তু এই পার্থক্যটি যুক্তির মাধ্যমে প্রমাণ না করে ধরে নেওয়া হয়। মডাল দৃষ্টিকোণ থেকে একই ধরনের প্রশ্ন উল্টো দিকেও তোলা যায়: কেন ধরে নেব যে মহাবিশ্ব কিংবা মাল্টিভার্সকে “অবশ্য-সত্তা” হিসেবে কল্পনা করা যাবে না, আর ঈশ্বরকে “সম্ভব-সত্তা” হিসেবে?

অন্যভাবে বললে, যদি আমরা স্বীকার করি যে অন্তত একটি সম্ভাব্য বিশ্ব আছে যেখানে কোনো ঈশ্বর নেই, কিন্তু তবুও কোনো না কোনো ধরনের বাস্তবতা বিদ্যমান, তবে “অবশ্যই ঈশ্বর থাকতে হবে, নইলে কিছুই থাকতে পারত না”—এই কালাম-ধর্মী দাবি মডাল লজিকের আলোকে দুর্বল হয়ে পড়ে। কালাম আর্গুমেন্ট সাধারণত এই মডাল প্রতিযোগিতাকে (modal competition) গুরুত্ব না দিয়ে সরাসরি ঈশ্বরকে একমাত্র সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে ধরে নেয়।


আন্ডারডিটারমিনেশন: একাধিক ব্যাখ্যা, একই তথ্য

মডাল লজিক ও বিজ্ঞানদর্শনের আলোচনায় ‘আন্ডারডিটারমিনেশন’ (Underdetermination) একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা—একই পর্যবেক্ষণ-তথ্য একাধিক তত্ত্ব সমানভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে। কালাম আর্গুমেন্ট তর্ক সাপেক্ষে যদি দেখাতেও পারে যে “মহাবিশ্বের কোনো এক ধরনের কারণ আছে”, তবুও সেই কারণটি হতে পারে একটি প্রাকৃতিক মাল্টিভার্স, একটি নিরাকৃতি কোয়ান্টাম গ্লোবাল স্টেট, বা আরও কোনো অজানা প্রাকৃতিক মেকানিজম। এই সবগুলোই লজিক্যালি এবং মডাল দৃষ্টিতে সম্ভব ব্যাখ্যা। এই পরিস্থিতিতে কেবলমাত্র নির্দিষ্ট এক ধর্মীয় ঈশ্বরকে একমাত্র ব্যাখ্যা হিসেবে ঘোষণা করা আরেকটি লজিক্যাল লীপ বা অযৌক্তিক উল্লম্ফন ছাড়া কিছুই নয়।


সিদ্ধান্তের অসঙ্গতি: কারণ কেন ‘ঈশ্বর’?

তর্কের খাতিরে যদি মেনেও নেওয়া হয় যে মহাবিশ্বের একটি কারণ আছে, তবুও কালাম আর্গুমেন্ট যৌক্তিকভাবে সেই কারণকে প্রচলিত ধর্মের ‘ঈশ্বর’ হিসেবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়। এটি একটি বিশাল যৌক্তিক উল্লম্ফন (Logical Leap)।

ব্যক্তি-সত্তা বনাম যান্ত্রিক কারণ

যুক্তিটির উপসংহারে বলা হয়, এই কারণটিকে হতে হবে ‘ইচ্ছাশক্তিসম্পন্ন’ (Personal Agent)। যুক্তি হিসেবে বলা হয়, একটি চিরস্থায়ী কারণ থেকে কীভাবে একটি সসীম মহাবিশ্ব তৈরি হতে পারে? একমাত্র যদি সেই কারণের ‘ইচ্ছা’ থাকে সৃষ্টির। কিন্তু এটি একটি দুর্বল যুক্তি। কোয়ান্টাম মেকানিক্সে আমরা দেখি যে কোনো সচেতন ইচ্ছা ছাড়াই একটি অবস্থা থেকে আরেকটি অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে (যেমন স্পনটেনিয়াস সিমেট্রি ব্রেকিং)। কারণটি কোনো অন্ধ প্রাকৃতিক শক্তি বা ‘মাল্টিভার্স জেনারেটর’ হতে পারে, যার কোনো চেতনা নেই [16]


বিশেষত্বের কুযুক্তি (Special Pleading Fallacy)

কালাম আর্গুমেন্টের প্রবক্তারা বলেন, “সব কিছুরই কারণ আছে—শুধু ঈশ্বরের ছাড়া।” যখন প্রশ্ন করা হয়, “ঈশ্বরের কারণ কী?”, তখন উত্তর দেওয়া হয়, “ঈশ্বর অনাদি, তাই তার কারণ নেই।” এটি একটি ‘স্পেশাল প্লিডিং’ বা বিশেষ সুবিধাবাদকতা। যদি আমরা কোনো কিছুকে ‘অনাদি’ হিসেবে মেনে নিতে পারি, তবে সেই বৈশিষ্ট্যটি মহাবিশ্ব বা মাল্টিভার্সের ক্ষেত্রে প্রয়োগ না করে সরাসরি একটি কাল্পনিক সত্তার ওপর আরোপ করা ‘অকামস রেজর’ (Occam’s Razor) নীতির লঙ্ঘন। উইলিয়াম অফ অকাম-এর এই নীতি অনুযায়ী, অপ্রয়োজনীয় সত্তা বা ব্যাখ্যা বৃদ্ধি করা অনুচিত [17]


অসীম পশ্চাদপসরণ (Infinite Regress) এবং কারণহীন আদি সত্য

কালাম আর্গুমেন্টের মূল দাবি হলো, যা কিছুর অস্তিত্ব শুরু হয় তার একটি কারণ থাকতে হবে। কিন্তু ঈশ্বরের ক্ষেত্রে প্রবক্তারা দাবি করেন তাঁর কোনো শুরু নেই, যা ‘বিশেষ সুবিধা’ বা স্পেশাল প্লিডিং (Special Pleading) নামক যৌক্তিক ফ্যালাসি তৈরি করে। যদি কার্যকারণের শৃঙ্খল অসীম হয়, তবে তা অসীম পশ্চাদপসরণে (Infinite regress) পতিত হয়, যা প্রবক্তারা নিজেরাই অসম্ভব বলে মানেন। আর যদি একটি ‘কারণহীন প্রথম কারণ’ (Uncaused First Cause) থাকতেই হয়, তবে সেই আদি অবস্থানটি স্বয়ং মহাবিশ্ব বা কোয়ান্টাম শূন্যতা হওয়াই বেশি যৌক্তিক। মহাবিশ্বের অস্তিত্বকেই একটি ব্রুট ফ্যাক্ট (Brute fact) হিসেবে ধরে নেওয়া অকামের রেজর (Occam’s razor) নীতি অনুযায়ী বেশি গ্রহণযোগ্য; এর জন্য কোনো প্রমাণহীন অতিপ্রাকৃত সত্তার অবতারণা করা যুক্তিবিরুদ্ধ এবং অপ্রয়োজনীয় [18]

কালাম আর্গুমেন্টের মূল দাবি হলো, যা কিছুর অস্তিত্ব শুরু হয় তার একটি কারণ থাকতে হবে। ইনফিনিট রিগ্রেস বা অসীম পশ্চাদপসরণ এড়াবার জন্য এই আর্গুমেন্টের প্রবক্তারা একজন ‘অসীম’ ঈশ্বরের ধারণা নিয়ে আসেন।

🔄

যুক্তির ফাঁকি: আস্তিকরা মূলত অসংখ্য অসীম ইভেন্টগুলোকে যুক্ত করে একটি ‘ঈশ্বর’-এ পরিণত করেন। কিন্তু ঈশ্বর যদি সংজ্ঞানুসারেই অসীম অতীত থেকে অস্তিত্বশীল হয়ে থাকেন, তাহলে তো ইনফিনিট রিগ্রেসের সমস্যাটি একই থাকলো! এটি সমস্যার কোনো সমাধান করে না, বরং সমস্যাটিকে ঈশ্বরের আবরণে লুকিয়ে রাখে।

ঈশ্বরের ক্ষেত্রে “তাঁর কোনো শুরু নেই” দাবি করাটা ‘বিশেষ সুবিধা’ বা স্পেশাল প্লিডিং (Special Pleading) নামক যৌক্তিক ফ্যালাসি তৈরি করে। যদি কার্যকারণের শৃঙ্খল অসীম হয়, তবে তা অসীম পশ্চাদপসরণে পতিত হয়, যা প্রবক্তারা নিজেরাই অসম্ভব বলে মানেন। আর যদি একটি ‘কারণহীন প্রথম কারণ’ (Uncaused First Cause) থাকতেই হয়, তবে সেই আদি অবস্থানটি স্বয়ং মহাবিশ্ব বা কোয়ান্টাম শূন্যতা হওয়াই বেশি যৌক্তিক। মহাবিশ্বের অস্তিত্বকেই একটি ব্রুট ফ্যাক্ট (Brute fact) হিসেবে ধরে নেওয়া অকামের রেজর (Occam’s razor) নীতি অনুযায়ী বেশি গ্রহণযোগ্য; এর জন্য কোনো প্রমাণহীন অতিপ্রাকৃত সত্তার অবতারণা করা যুক্তিবিরুদ্ধ এবং অপ্রয়োজনীয় [18]

অসীম ঈশ্বরের ফ্যালাসি
-∞
অসীম অতীত
ইভেন্টগুলোকে যুক্ত করে সংজ্ঞায়িত ‘অসীম ঈশ্বর’
ইভেন্ট N
ইভেন্ট ১
বর্তমান / সৃষ্টি
অসীম অতীত পাড়ি দেওয়া এখানেও অসম্ভব
+∞
অসীম ভবিষ্যৎ
যুক্তি: আস্তিক্যবাদীরা ইনফিনিট রিগ্রেস এড়ানোর জন্য পেছনের অসীম ইভেন্টগুলোকে একটি বাক্সে ভরে তার নাম দেন ‘ঈশ্বর’ এবং দাবি করেন তিনি সংজ্ঞানুসারেই অসীম। কিন্তু চিত্রানুসারে, এই অসীম অতীত থেকে শুরু করে বর্তমান (০ বিন্দু)-এ পৌঁছানো যদি অসম্ভব হয়, তবে ইভেন্টগুলোর নাম বদলে ‘ঈশ্বর’ রাখলেও যৌক্তিক সমস্যাটির কোনো সমাধান হয় না। অসীম সময় পাড়ি দেওয়ার লজিক্যাল অসম্ভবতা একই থেকে যায়।

কালহীন ইচ্ছাশীল সত্তার ধারণাগত স্ববিরোধ

কালাম আর্গুমেন্টের প্রবক্তারা উপসংহারে দাবি করেন যে মহাবিশ্বের কারণ একটি কালহীন (timeless) এবং ইচ্ছাশীল ব্যক্তিসত্তা। কিন্তু এটি একটি চরম স্ববিরোধী (Self-contradictory) ধারণা। সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ইচ্ছা পোষণ একটি মনস্তাত্ত্বিক ও পরিবর্তনশীল প্রক্রিয়া, যার জন্য সময়ের প্রবাহ অপরিহার্য। সময়ের অস্তিত্ব সৃষ্টির পূর্বে কীভাবে একটি সত্তা পর্যায়ক্রমিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে বা মহাবিশ্ব সৃষ্টির ইচ্ছা পোষণ করতে পারে, তা যৌক্তিকভাবে অসম্ভব। সুতরাং, একটি কালহীন সত্তা কখনোই “ব্যক্তিগত” বা “ইচ্ছাশীল” হতে পারে না; এটি ধর্মতাত্ত্বিক আকাঙ্ক্ষা প্রসূত একটি দাবি, যার লজিক্যাল বা বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই [19]


উপসংহার

কালাম কসমোলজিক্যাল আর্গুমেন্ট, তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং দার্শনিক চাতুর্য সত্ত্বেও, বহুযুগ ধরে দর্শনের জগতে আলোচিত হয়েছে যা আধুনিক বৈজ্ঞানিক ও যৌক্তিক মানদণ্ডে মহাবিশ্বের উদ্ভবের ব্যাখ্যা হিসেবে অসম্পূর্ণ এবং ত্রুটিপূর্ণ। এর প্রথম প্রস্তাবনা কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের পর্যবেক্ষণের সাথে সামঞ্জস্যহীন এবং দ্বিতীয় প্রস্তাবনা মহাবিশ্বের আদি অবস্থার জটিলতাকে অতি-সরলীকরণ করে। সর্বোপরি, এই যুক্তিটি একটি ‘কারণ’ থেকে সরাসরি একটি ‘ব্যক্তিগত ঈশ্বরে’ পৌঁছানোর যে চেষ্টা করে, তা ‘গড অফ দ্য গ্যাপস’ (God of the gaps) বা অজানাকে ঈশ্বর দিয়ে ব্যাখ্যা করার নামান্তর। মহাবিশ্বের উৎপত্তির রহস্য উন্মোচনে আমাদের প্রয়োজন বিজ্ঞানমনস্ক অনুসন্ধান এবং প্রমাণের ওপর নির্ভরতা, মধ্যযুগীয় দর্শনের ওপর অন্ধ আস্থা নয়।

প্রথম প্রস্তাবনা: কোয়ান্টাম মেকানিক্সের অ-কারণতা (Quantum Indeterminacy) এবং স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনার সাথে এটি সরাসরি সাংঘর্ষিক।

দ্বিতীয় প্রস্তাবনা: মহাবিশ্বের ‘প্রসারণ’ এবং ‘অস্তিত্বের শুরু’কে এক করে দেখা একটি বৈজ্ঞানিক অতি-সরলীকরণ মাত্র।

⚠️

যৌক্তিক ভুল: কারণ থেকে সরাসরি ‘ব্যক্তিগত ঈশ্বরে’ পৌঁছানোর চেষ্টা একটি ‘গড অফ দ্য গ্যাপস’ বা যৌক্তিক উল্লম্ফন।

মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে আমাদের প্রয়োজন বিজ্ঞানমনস্ক অনুসন্ধান এবং প্রমাণের ওপর নির্ভরতা, মধ্যযুগীয় দর্শনের ওপর অন্ধ আস্থা নয়।


তথ্যসূত্রঃ
  1. Abu Hamid Al-Ghazali, The Incoherence of the Philosophers (Tahafut al-Falasifah), trans. Michael E. Marmura (Provo, UT: Brigham Young University Press, 2000), pp. 12–14 ↩︎
  2. William Lane Craig, The Kalām Cosmological Argument (London: Macmillan, 1979), p. 63 ↩︎
  3. Immanuel Kant, Critique of Pure Reason, trans. Paul Guyer and Allen W. Wood (Cambridge: Cambridge University Press, 1998), A189–A211 ↩︎
  4. Adolf Grünbaum, “The Pseudo-Problem of Creation in Physical Cosmology,” Philosophy of Science, Vol. 56, No. 3 (1989), pp. 373-394 ↩︎
  5. Sean Carroll, The Big Picture: On the Origins of Life, Meaning, and the Universe Itself, 2016 ↩︎
  6. Werner Heisenberg, The Physical Principles of the Quantum Theory (New York: Dover Publications, 1930), pp. 20-21 ↩︎
  7. Lawrence M. Krauss, A Universe from Nothing: Why There Is Something Rather Than Nothing (New York: Free Press, 2012), pp. 142-150 ↩︎
  8. Immanuel Kant, Critique of Pure Reason, 1781 ↩︎
  9. Planck Collaboration, 2018 ↩︎
  10. James B. Hartle and Stephen W. Hawking, “Wave Function of the Universe,” Physical Review D, Vol. 28, No. 12 (1983), pp. 2960-2975 ↩︎
  11. Georg Cantor, Contributions to the Founding of the Theory of Transfinite Numbers, trans. Philip E. B. Jourdain (New York: Dover Publications, 1955), pp. 85-90 ↩︎
  12. Alan H. Guth, “Eternal Inflation and Its Implications,” Journal of Physics A: Mathematical and Theoretical, Vol. 40, No. 25 (2007), pp. 6811-6826 ↩︎
  13. Paul Davies, About Time: Einstein’s Unfinished Revolution, 1995 ↩︎
  14. Brian F. Chellas, Modal Logic: An Introduction (Cambridge: Cambridge University Press, 1980), pp. 1-15 ↩︎
  15. Alexander R. Pruss and Joshua L. Rasmussen, The Principle of Sufficient Reason: A Reassessment (Cambridge: Cambridge University Press, 2018), pp. 64-71 ↩︎
  16. Graham Oppy, Arguing about Gods (Cambridge: Cambridge University Press, 2006), pp. 137-145 ↩︎
  17. William of Ockham, Summa Logicae, ed. Philotheus Boehner (St. Bonaventure, NY: Franciscan Institute, 1974), Part II, Chapter 15 ↩︎
  18. David Hume, Dialogues Concerning Natural Religion, 1779 1 2
  19. Michael Martin, Atheism: A Philosophical Justification, 1990 ↩︎