Hud

হুদ: 113

11:113
টেক্সট কপি

মূল আরবি

وَلَا تَرْكَنُوٓا۟ إِلَى ٱلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ فَتَمَسَّكُمُ ٱلنَّارُ وَمَا لَكُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ مِنْ أَوْلِيَآءَ ثُمَّ لَا تُنصَرُونَ

English Translations

Sahih International

And do not incline toward those who do wrong, lest you be touched by the Fire, and you would not have other than Allāh any protectors; then you would not be helped.

Muhsin Khan

And incline not toward those who do wrong, lest the Fire should touch you, and you have no protectors other than Allah, nor you would then be helped.

Taqi Usmani

And do not incline towards the wrongdoers, lest the Fire should catch you, and you have no supporters other than Allah, then you should not be helped.

Abul Ala Maududi

And do not incline towards the wrong-doers lest the Fire might seize you and you will have none as your protector against Allah; and then you will not be helped from anywhere.

Pickthall

And incline not toward those who do wrong lest the Fire touch you, and ye have no protecting friends against Allah, and afterward ye would not be helped.

Yusuf Ali

And incline not to those who do wrong, or the Fire will seize you; and ye have no protectors other than Allah, nor shall ye be helped.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

তোমরা যালিমদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না, তাহলে আগুন তোমাদেরকে স্পর্শ করবে, আর তখন আল্লাহ ছাড়া কেউ তোমাদের অভিভাবক থাকবে না, অত:পর তোমাদেরকে সাহায্যও করা হবে না।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর যারা যুলম করেছে তোমরা তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না; অন্যথায় আগুন তোমাদেরকে স্পর্শ করবে এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কোন অভিভাবক থাকবে না। অতঃপর তোমরা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।

শাইখ মুজিবুর রহমান

আর যালিমদের প্রতি ঝুকে পড়না, অন্যথায় তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে, আর আল্লাহ ছাড়া তোমরা কোন সাহায্যকারী পাবেনা, অতঃপর তোমাদেরকে কোন সাহায্যও করা হবেনা।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর যারা যুলুম করেছে তোমরা তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না; পড়লে আগুন তোমাদেরকে স্পর্শ করবে। এ অবস্থায় আল্লাহ্‌ ছাড়া তোমাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবে না। তারপর তোমাদেরকে সাহায্য করা হবে না।

ফাতহুল মাজীদ

যারা সীমালঙ্ঘন করেছে তোমরা তাদের প্রতি ঝুঁকে পড় না; পড়লে অগ্নি তোমাদেরকে স্পর্শ করবে। এ অবস্থায় আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোন অভিভাবক থাকবে না এবং তোমাদের সাহায্য করা হবে না।

মুখতাসার

১১৩. তোমরা তোষামোদ বা আন্তরিকতার কারণে জালেম কাফেরদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না। কারণ, ঝুঁকে পড়লে জাহান্নামের আগুন তোমাদেরকে দগ্ধ করবে। আর তখন আল্লাহ ছাড়া তোমাদের এমন কেউ অভিভাবক থাকবে না যারা তোমাদেরকে তা থেকে রক্ষা করবে। তাছাড়া তোমরা এমন কাউকেও পাবে না যে তোমাদেরকে সাহায্য করবে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

11:112

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর যারা যুলুম করেছে তোমরা তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না ; পড়লে আগুন তোমাদেরকে স্পর্শ করবে [১] এ অবস্থায় আল্লাহ্‌ ছাড়া তোমাদের কোন সাহায্যকারী থাকবে না। তারপর তোমাদেরকে সাহায্য করা হবে না।

[১] এ আয়াতে মানুষকে ক্ষতি ও ধ্বংস থেকে রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলা হচ্ছেঃ “ঐসব পাপিষ্ঠদের দিকে একটুও ঝুঁকবে না, তাহলে কিন্তু তাদের সাথে সাথে তোমাদেরকেও জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে।" এখানে তাদের প্রতি সামান্যতম ঝোঁকা বা আকৃষ্ট হওয়া এবং তাদের প্রতি আস্থা বা সম্মতি জ্ঞাপন করাও নিষেধ করা হয়েছে। এই ঝোঁকা ও আকর্ষণের অর্থ সম্পর্কে সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীগণের কয়েকটি উক্তি বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে পারস্পরিক কোন বিরোধ নেই। বরং প্রত্যেকটি উক্তিই নিজ নিজ ক্ষেত্রে শুদ্ধ ও সঠিক ইবন আব্বাস বলেন, যালেমদের চাটুকার হবে না।

অন্য বর্ণনায় তিনি বলেন, তাদের শির্কী কর্মকাণ্ডের পক্ষপাতিত্ব করবে না। [ইবন কাসীর] কাতাদাহ বলেন, এর অর্থঃ “পাপিষ্ঠদের সাথে বন্ধুত্ব করবে না, তাদের কথামত চলবে না।" [মা'আনিল কুরআন লিন নাহহাস; কুরতুবী] ইবন জুরাইজ বলেন, এর অর্থঃ “পাপিষ্ঠদের প্রতি আদৌ আকৃষ্ট হবে না। [কুরতুবী] আবুল আলিয়া বলেনঃ “তাদের কার্যকলাপ ও কথাবার্তা পছন্দ করো না।” [কুরতুবী ইবন কাসীর সুদী]’ সুদ্দী বলেনঃ “যালেমদের চাটুকারিতা করবে না।” ইকরিমা বলেনঃ “তাদের আনুগত্য করবে না।” [বাগভী] ইবন যায়দ বলেন, তাদের কুফরী কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করা পরিত্যাগ করবে না। [তাবারী] ইবন আব্বাস থেকে অপর বর্ণনায় এসেছে, তোমরা যালেমদের পক্ষ নিও না।

তাদের সাহায্য নিও না, তাহলে মনে হবে যেন তোমরা তাদের অন্যান্য কর্মকাণ্ডের সাথে সন্তুষ্ট রয়েছে। [ইবন কাসীর] তাছাড়া বাহ্যিক আকৃতি-প্রকৃতিতে, লেবাস-পোশাকে, চাল-চলনে তাদের অনুকরণও এ নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত হবে। ইবন যায়দ বলেন, এখানে যালেম বলে কাফেরদেরকে বুঝানো হয়েছে। [তাবারী] কিন্তু মুমিনদের মধ্যে যারা যালেম হবে তাদের সাথে সম্পর্ক বিভিন্ন অবস্থার উপর নির্ভরশীল হবে। [ফাতহুল কাদীর] যদিও সত্যনিষ্ঠ আলেমদের মধ্যে অনেকেই এ আয়াতটিকে সবার ক্ষেত্রেই ব্যাপক বলে মন্তব্য করেছেন। [দেখুন, ইবন তাইমিয়্যা, মাজমু ফাতাওয়া: ১৩/২০৩; মিনহাজুস সুন্নাহ: ৬/১১৭]।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা হুদ (১১): আয়াত ১১৩] পূর্ণ পৃষ্ঠা

[সূরা হুদ (১১): আয়াত ১১২]অতএব আপনি অটল থাকুন যেভাবে আপনি আদিষ্ট হয়েছেন এবং যারা আপনার সাথে তওবা করেছে তারাও; আর তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয় তিনি তোমরা যা করো সে বিষয়ে সম্যক দ্রষ্টা (১১২)।মহান আল্লাহর বাণী: (অতএব আপনি অটল থাকুন যেভাবে আপনি আদিষ্ট হয়েছেন) - এই সম্বোধন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং অন্যদের প্রতি। কেউ কেউ বলেছেন: এটি তাঁর প্রতি হলেও উদ্দেশ্য হলো তাঁর উম্মত, এটি সুদ্দী বলেছেন। আবার বলা হয়েছে: "ইস্তাকিম" (অটল থাকুন) মানে আল্লাহর কাছে দ্বীনের ওপর অটল থাকার প্রার্থনা করুন এবং তাঁর কাছে তা চান। এক্ষেত্রে 'সিন' বর্ণটি প্রার্থনাবাচক, যেমন আপনি বলেন: 'আস্তাগফিরুল্লাহ' অর্থাৎ আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

'ইস্তিকামাত' বা অটলতা হলো ডানে বা বামে না ঝুঁকে একদিকে নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে চলা; সুতরাং আল্লাহর আদেশ পালনের ওপর অটল থাকুন। সহীহ মুসলিমে সুফিয়ান ইবনে আবদুল্লাহ আস-সাকাফী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে এমন একটি কথা বলুন যেন আপনার পরে এ বিষয়ে আর কাউকে জিজ্ঞাসা করতে না হয়। তিনি বললেন: "বলো, আমি আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছি, অতঃপর অটল থাকো।" আবু মুহাম্মদ আদ-দারিমী তাঁর মুসনাদে উসমান ইবনে হাজির আল-আজদী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসের কাছে গিয়ে বললাম, আমাকে উপদেশ দিন!

তিনি বললেন: হ্যাঁ! আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং অটল থাকো; অনুসরণ করো এবং বিদআত করো না। (এবং যারা আপনার সাথে তওবা করেছে) অর্থাৎ আপনি এবং তাঁরা অটল থাকুন; এখানে তাঁর সেই সাহাবীদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে যারা শিরক থেকে তওবা করেছেন এবং তাঁর পরবর্তী অনুসারী উম্মত। ইবনে আব্বাস বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর এই আয়াতের চেয়ে কঠিন ও শ্রমসাধ্য আর কোনো আয়াত অবতীর্ণ হয়নি। এই কারণেই তিনি তাঁর সাহাবীদের বলেছিলেন যখন তাঁরা তাঁকে বলেছিল: আপনার তো খুব দ্রুত বার্ধক্য চলে এসেছে! তখন তিনি বললেন: "সূরা হুদ এবং এর সমজাতীয় সূরাগুলো আমাকে বৃদ্ধ করে দিয়েছে।" এটি সূরার শুরুতেই আলোচিত হয়েছে।

আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি আবু আলী আস-সাররীকে বলতে শুনেছি: আমি স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখে বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার থেকে বর্ণিত আছে যে আপনি বলেছেন: "সূরা হুদ আমাকে বৃদ্ধ করে দিয়েছে।" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" আমি তাঁকে বললাম: এই সূরার কোন বিষয়টি আপনাকে বৃদ্ধ করেছে? নবীদের কাহিনী নাকি জাতিসমূহের ধ্বংসের সংবাদ? তিনি বললেন: "না, বরং তাঁর এই বাণী: 'অতএব আপনি অটল থাকুন যেভাবে আপনি আদিষ্ট হয়েছেন'।" (আর তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না) এখানে সীমালঙ্ঘন করতে নিষেধ করা হয়েছে। 'তুগইয়ান' অর্থ সীমা অতিক্রম করা, এ থেকেই এসেছে "যখন পানি সীমালঙ্ঘন করেছিল (উপাচে পড়েছিল)"।

কেউ কেউ বলেন: এর অর্থ হলো তোমরা কারো ওপর অহংকার করো না। [সূরা হুদ (১১): আয়াত ১১৩]আর তোমরা জালেমদের দিকে ঝুঁকে পড়ো না, অন্যথায় আগুন তোমাদের স্পর্শ করবে। আর আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক নেই, অতঃপর তোমরা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না (১১৩)।(১). পাণ্ডুলিপি 'আ' থেকে।(২). মূল পাঠে ছিল 'আশ-শাতভী', যা 'আদ-দুররুল মানসুর' গ্রন্থ অনুযায়ী সংশোধন করা হয়েছে।(৩). দেখুন: খণ্ড ১৮, পৃষ্ঠা ২৬২।