Hud
হুদ: 50
11 হুদ Hud · 123 আয়াত هود
আরবি
وَإِلَىٰ عَادٍ أَخَاهُمْ هُودًا ۚ قَالَ يَـٰقَوْمِ ٱعْبُدُوا۟ ٱللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَـٰهٍ غَيْرُهُۥٓ ۖ إِنْ أَنتُمْ إِلَّا مُفْتَرُونَ
English Translations
And to ʿAad [We sent] their brother Hūd. He said, "O my people, worship Allāh; you have no deity other than Him. You are not but inventors [of falsehood].
And to 'Ad (people We sent) their brother Hud. He said, "O my people! Worship Allah! You have no other Ilah (God) but Him. Certainly, you do nothing but invent (lies)!
And to ‘Ād, (We sent) their brother Hūd. He said, “O my people, worship Allah. You have no god other than Him. You are nothing but fabricators.
And to 'Ad We sent their brother Hud. He said: 'My people! Serve Allah: you have no god save Him. (In attributing partners to Allah) you have merely been fabricating lies.
And unto (the tribe of) A'ad (We sent) their brother, Hud. He said: O my people! Serve Allah! Ye have no other Allah save Him. Lo! ye do but invent.
To the 'Ad People (We sent) Hud, one of their own brethren. He said: "O my people! worship Allah! ye have no other god but Him. (Your other gods) ye do nothing but invent!
বাংলা অনুবাদ
আর ‘আদ জাতির নিকট তাদের ভাই হূদকে পাঠিয়েছিলাম। সে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদাত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোন ইলাহ নেই। তোমরা তো শুধু মিথ্যে বানিয়ে নিয়েছ।
আর আদ জাতির কাছে (প্রেরণ করেছিলাম) তাদের ভাই হূদকে। সে বলেছিল, ‘হে আমার কওম, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের জন্য কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তোমরা তো কেবল মিথ্যা রটনাকারী’।
আর ‘আদ (সম্প্রদায়) এর প্রতি তাদের ভাই হুদকে (রাসূল রূপে) প্রেরণ করলাম। সে বললঃ হে আমার কাওম! তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর, তিনি ছাড়া কেহ তোমাদের মা‘বূদ নেই; তোমরা শুধু মিথ্যা উদ্ভাবনকারী।
‘আর আদ জাতির কাছে তাদের ভাই হূদকে পাঠিয়েছিলাম তিনি বলেছিলেন, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহ্র ‘ইবাদত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো সত্য ইলাহ্ নেই। তোমরা তো শুধু মিথ্যা রটনাকারী।
‘আদ জাতির নিকট তাদের ভ্রাতা হূদকে পাঠিয়েছিলাম সে বলেছিল: ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন সত্যিকার মা‘বূদ নেই। তোমরা কেবল মিথ্যা রচনাকারী।
৫০. আর আমি আদ জাতির নিকট তাদের ভাই হূদ (আলাইহিস-সালাম) কে পাঠাই। তিনি তাদেরকে বললেন, ওহে আমার স্বজাতি! তোমরা একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত কর এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করো না। তিনি ব্যতীত তোমাদের আর কেউ সত্য মাবূদ নেই। তাঁর শরীক রয়েছে তোমাদের এমন দাবিতে তোমরা শুধুই মিথ্যাবাদী।
তাফসীর
৫০-৫২ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআ’লা হযরত হূদকে (আঃ) তাঁর কওমের কাছে রাসূলরূপে প্রেরণ করেন। তিনি তাঁর কওমকে তাওহীদের দাওয়াত দেন এবং আল্লাহু ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করতে নিষেধ করেন। তিনি তাদেরকে বলেনঃ যাদের তোমরা পূজা করছে তাদেরকে তোমরা নিজেরাই বানিয়ে নিয়েছে। এমনকি তাদের নাম ও অস্তিত্ব তোমাদের বাজে কল্পনা ছাড়া কিছুই নয়। তিনি তাদেরকে আরো বলেনঃ আমি যে তোমাদেরকে এই উপদেশ দিচ্ছি, এর বিনিময়ে আমি তোমাদের কাছে কিছুই চাচ্ছি না। এর প্রতিদান স্বয়ং আমার প্রতিপালক আমাকে দান করবেন, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তোমরা কি এই সহজ কথাটুকুও বুঝতে পারছ না যে, যিনি তোমাদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের পথ বাতলিয়ে দিচ্ছেন অথচ এর বিনিময়ে তিনি তোমাদের কাছে কিছুই চাচ্ছেন না? তোমরা তোমাদের অতীতের পাপের জন্যে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকো এবং আগামীতে পাপের কাজ থেকে বিরত থাকো। এ দুটো যার মধ্যে থাকবে তার জীবিকার পথ আল্লাহ সহজ করে দেবেন এবং তার কাজও সহজ হয়ে যাবে। আর সর্বক্ষণ তিনি তার হিফাযত করবেন। জেনে রেখোঁরেখো যে, তোমরা যদি আমার উপদেশ মত কাজ কর তবে মহান আল্লাহ তোমাদের উপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, যে বৃষ্টি হবে তোমাদের জন্যে খুবই উপকারী। আর তোমাদের শক্তিকে তিনি বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেবেন। হাদীসে রয়েছে যে, যে ব্যক্তি ক্ষমা প্রার্থনাকে নিজের জন্যে অবশ্য কর্তব্য করে নেয়, আল্লাহ তাআ’লা তার সমস্ত কষ্ট ও অসুবিধা দূর করে দেন, সঙ্কীর্ণতা থেকে প্রশস্ততা দান করেন এবং এমন স্থান থেকে তাকে রিয্ক দান করেন যা সে কল্পনাও করে না।
‘আর আদ জাতির কাছে তাদের ভাই হূদকে পাঠিয়েছিলাম [১] তিনি বলেছিলেন, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহ্র ‘ইবাদত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোন সত্য ইলাহ্ নেই। তোমরা তো শুধু মিথ্যা রটনাকারী [২]।
[১] সূরা হুদের ৫০ হতে ৬০ পর্যন্ত ১১ আয়াতে বিশিষ্ট নবী হুদ আলাইহিসসালামের আলোচনা করা হয়েছে। তাঁর নামেই সূরার নামকরণ হয়েছে। এ সূরার মধ্যে নূহ আলাইহিসসালাম হতে মূসা আলাইহিসসালাম পর্যন্ত সাত জন আম্বিয়ায়ে কেরাম আলাইহিমুসসালাম ও তাদের উম্মতগণের কাহিনী কুরআন পাকের বিশেষ বাচনভঙ্গিতে বর্ণনা করা হয়েছে। যার মধ্যে উপদেশ ও শিক্ষামূলক এমন তথ্যাদি তুলে ধরা হয়েছে যা যে কোন অনুভূতিশীল মানুষের অন্তরে ভাবান্তর সৃষ্টি না করে পারে না। তাছাড়া ঈমান ও সৎকর্মের বহু মূলনীতি এবং উত্তম পথনির্দেশ রয়েছে। যদিও এ সূরার মধ্যে সাত জন নবীর কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু সূরার নামকরণ করা হয়েছে হুদ আলাইহিস সালাম এর নামে। যাতে বোঝা যায় যে এখানে হুদ এর ঘটনার প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
[২] অর্থাৎ অন্যান্য যেসব মাবুদদের তোমরা বন্দেগী ও পূজা-উপাসনা করো তারা আসলে কোন ধরনের প্রভুত্বের গুণাবলী ও শক্তির অধিকারী নয়। বন্দেগী ও পূজা লাভের কোন অধিকারই তাদের নেই। তোমরা অযথাই তাদেরকে মাবুদ বানিয়ে রেখেছো। তারা তোমাদের আশা পূরণ করবে এ আশা নিয়ে বৃথাই বসে আছো। তোমরা আল্লাহকে ছাড়া অন্য ইলাহ গ্রহণের ব্যাপারে আল্লাহর উপর মিথ্যাচারই করে যাচ্ছ। তিনি ছাড়া তো কোন সত্যিকার ইলাহ নেই [তাবারী; কুরতুবী; সাদী]
